Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ট্রেন টু পাকিস্তান – খুশবন্ত সিং

    খুশবন্ত সিং এক পাতা গল্প260 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.২ হেড কনস্টেবলের আগমন

    মানো মাজরায় হেড কনস্টেবলের আগমনের পর গ্রামের লোকেরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। এই বিভক্তি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেল তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে।

    মুসলমানরা নিজেদের বাড়িতে বসে আলাপ-আলোচনা করতে লাগল এবং ভবিষ্যত চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। পাতিয়ালা, আম্বালা ও কাপুরতলায় মুসলমানদের ওপর শিখদের নির্যাতনের যে কথা তারা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিল, সেই কথা এখন তাদের চিন্তায় এলো। ওরা শুনেছিল, মহিলাদের কাপড় খুলে বেত মারা হয়েছে এবং বাজারের রাস্তায় তাদের ঘুরিয়ে জনবহুল বাজারে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। সতীত্ব রক্ষার্থে অনেক মহিলা আত্মহত্যা করেছে। ওরা শুনেছে, মসজিদে শূকর হত্যা করে মসজিদকে অপবিত্র করা হয়েছে, বিধৰ্মীরা কোরআন শরিফ ছিড়ে ফেলেছে। আকস্মিকভাবে মানো মাজরার সব শিখ তাদের কাছে পরিগণিত হলো অসৎ উদ্দেশ্যে আগত আগন্তুক হিসাবে। ওদের লম্বা চুল ও দাড়ি, হিংস্রতা ও কৃপাণ মুসলিম বিদ্বেষের প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত হলো। এই প্রথমবার পাকিস্তান নামটি ওদের কাছে নতুন অৰ্থ বয়ে নিয়ে এলো-আশ্ৰয় লাভের এমন এক শান্তিময় স্থান-যেখানে কোন শিখ নেই।

    শিখরাও ছিল মুসলমানদের প্রতি বিরূপ ও ক্রুদ্ধ। কখনও মুসলমানদের বিশ্বাস করবে না। তারা বলে থাকে। সর্বশেষ গুরু ওদের সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মুসলমানদের কোন স্বদেশপ্ৰেম নেই। ভারতীয় ইতিহাসে মুসলমান শাসনামলে দেখা যায়, সিংহাসন লাভের জন্য পুত্ররা তাদের পিতাকে বদী বা হত্যা করেছে, ভাই ভাইকে অন্ধ করেছে। আর শিখদের প্রতি তারা কি করেছে? তাদের দুজন গুরুকে হত্যা করেছে, অন্য একজনকে খুন করেছে এবং তার শিশু সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ না করার অপরাধে তাদের হাজার হাজার লোককে তালোয়ার দিয়ে নিধন করা হয়েছে। তাদের মন্দিরে গরু জবাই করে মন্দির অপবিত্র করা হয়েছে, পবিত্র গ্রন্থ ছিড়ে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। মহিলাদের তারা কখনও সম্মান করেনি। শিখ উদ্বাস্তুরা অভিযোগ করেছে যে, মুসলমানদের কাছে ইজ্জত বিসর্জন দেয়ার আগে বহু মহিলা কুয়ায় ঝাঁপ দিয়েছে অথবা শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। যারা আত্মহত্যা করেনি, তাদের উলঙ্গ করে রাস্তায় নামানো হয়েছে, জনসমক্ষে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং শেষে হত্যা করা হয়েছে। এখন মুসলমানদের হাতে নিহত ট্রেনভর্তি শিখদের মৃতদেহ দাহ করা হয়েছে মানো মাজরা গ্রামে। পাকিস্তান থেকে হিন্দু ও শিখরা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে মানো মাজরায় এসে আশ্রয় নিয়েছে। তার ওপর খুন হলো রামলাল। তাকে কে খুন করেছে, তা কেউ বলতে পারে না। তবে রামলাল যে একজন হিন্দু, এ কথা সবাই জানে। সুলতানা ও তার দলের লোকেরা সবাই মুসলমান এবং তারা পাকিস্তানে পালিয়ে গেছে। একজন অজ্ঞাত পরিচয় লোক-যার মাথায় পাগড়ি নেই, মুখে দাড়ি নেই- গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কারও প্রতি ক্রুদ্ধ হওয়ার জন্য এসব কারণ যথেষ্ট। ফলে তারা মুসলমানদের প্রতি বিরূপ হয়েছে; মুসলমানদের ভিত্তি হলো অকৃতজ্ঞতা। শিখদের ক্ষেত্রে যুক্তি কখনও দৃঢ় বলে বিবেচিত হয়নি; তারা উত্তেজিত হলে যুক্তি কোন কাজেই আসে না।

    রাতটা ছিল বিষন্ন। যে মৃদুমন্দ শীতল বায়ু মেঘকে দূরে উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল, সেই বায়ু আবার ফিরে এলো। প্রথমে এলো সাদা কুয়াশার আকারে। ঐ কুয়াশার মধ্যে চাঁদের আলো মোটামুটি দেখা যেতে লাগল। কিন্তু এরপর এলো বড় বড় আকারে, উত্তাল তরঙ্গের মতো। চাঁদ হারিয়ে গেল আকাশে, সারা আকাশটা স্নান হয়ে গেল। ধূসর রঙের আবীরে। মাঝে মাঝে চাঁদের আলো যেন ঠিকরে পড়তে চাইছিল মেঘের আড়াল থেকে এবং ঐ চেষ্টা সফল হলে দেখা গেল, সমতল ভূমিতে চাঁদের আলো উজ্জ্বল রূপার মতো। পরে পুরো আকাশটা কালো মেঘে ছেয়ে পেল। বিদ্যুত চমকনি বা মেঘের গর্জন ছাড়াই আকস্মিকভাবে শুরু হল অবিরাম বৃষ্টি।

    একদল শিখ চাষী সর্দারের বাড়িতে বসে ছিল। একটা হারিকেনের চারপাশে তারা বসেছিল। কেউ ছিল চারপাই-এর ওপর, বাকিরা ছিল মেঝের ওপর। ঐ লোকদের মধ্যে মিত সিংও ছিলেন।

    অনেকক্ষণ ধরে কেউ কোন কথা বলল না। নীরবে প্রহর গুণলো সবাই। মাঝে মাঝে তাদের মুখ থেকে শুধু একটা কথাই বেরিয়ে এলো,

    সব কিছুই আমাদের পাপের শাস্তি।

    হ্যাঁ, খোদা আমাদের পাপের শাস্তি দিচ্ছেন।

    পাকিস্তানে অনেক জুলুম হয়েছে।

    এ কারণেই খোদা চান, আমাদের পাপ কাজের শান্তি হোক। মন্দ কাজের ফল মন্দই হয়।

    একজন যুবক উঠে বলল, এই ধরনের শাস্তির জন্য আমরা এমন কি খারাপ কাজ করেছি? মুসলমানদের আমরা ভাইবোনের মতো দেখেছি। আমাদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির জন্য। ওরা কেন লোক পাঠাচ্ছে?

    তুমি বলছ ইকবালের কথা? মিত সিং বললেন। তাঁর সাথে আমার অনেক কথা হয়েছে। তাঁর হাতে রয়েছে লোহার চুড়ি। যেমনটি থাকে, আমাদের মতো শিখদের হাতে। সে আমাকে বলেছে যে, ওর মা ওকে ওটা পরতে বলেছিল। এ কারণেই সে ওটা পরে। সে দাড়ি কামানো শিখ। সে ধূমপান করে না। লালার খুন হওয়ার একদিন পরেই সে এখানে আসে।

    ভাই, আপনি সরল মনে বিষয়টি দেখছেন, ঐ যুবকটি জবাব দিল। লোহার চুড়ি পরলে মুসলমানদের কোন ক্ষতি হয় না। কোন বিশেষ কাজের জন্য একদিন ধূমপান না করলেই বা কি এসে যায়?

    আমি একজন সরল ভাই হতে পারি, মিত সিং বেশ আস্থার সাথে প্রতিবাদ করলেন, কিন্তু তুমি আমি সবাই জানি, ঐ খুনের ব্যাপারে বাবুর কোন হাত নেই। তিনি যদি ঐ ব্যাপারে জড়িত থাকতেন, তাহলে খুন হওয়ার পর তিনি আর গ্রামে থাকতেন না। কোন বোকার কাছেও এ কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

    যুবকটি লজ্জা পেল।

    তা ছাড়া, আরও আস্থার সাথে মিত সিং বললেন, তারা ডাকাতির জন্য মাল্লিকে তো গ্রেফতার করেছে…

    মাল্লিকে কি অপরাধে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তা আপনি জানলেন কিভাবে? যুবকটি তাঁর কথায় বাধা দিয়ে বেশ দৃঢ়তার সাথে বলল।

    হ্যাঁ, ঠিক কথা। পুলিশ যা জানে তোমরা তা কিভাবে জানবে? তারা মাল্লিকে ছেড়ে দিল। বিচার ও নির্দোষ সাব্যস্ত ছাড়া তারা খুনীকে ছেড়ে দেয়, এমন কথা তোমরা কখনও শুনেছে? মিত সিং জিজ্ঞাসা করলেন উপস্থিত সকলকে।

    ভাই, আপনি সব সময় যুক্তি ছাড়া কথা বলেন।

    আচ্ছা, তোমরা তো যুক্তিগ্রাহ্য কথা বল। বলতো, জুঙ্কার বাড়িতে কে চুড়ির প্যাকেট ছুড়ে ফেলেছে?

    আমরা কিভাবে জানিব? উপস্থিত সকলে প্রায় এক সাথে বলল।

    আমি তোমাদের বলছি। ঐ লোকটা হলো জুগ্‌গার শত্ৰু মাল্লি। তোমরা জান, ওদের সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরেছে। ও ছাড়া জুগ্‌গাকে অপমানিত করার সাহস আর কাল্প আছে?

    এ প্রশ্নের উত্তর কেউ দিল না। মিত সিং তাঁর বক্তব্য সঠিক প্রমাণিত করার লক্ষ্যে আরও আস্থার সাথে বললেন, আর সুলতানার ব্যাপারে? সুলতানা। ঐ ডাকাতির ব্যাপারে ওর কি করার আছে?

    হ্যাঁ ভাইজি, আপনি হয়ত ঠিকই বলেছেন, অন্য এক যুবক বলল। কিন্তু লালা নিহত হয়েছে। তাকে নিয়ে টানাটানি করে কি লাভ? এ কাজ পুলিশই করবে। জুগ্‌গা, মাল্লি ও সুলতানা তাদের গোলমাল মিটিয়ে ফেলুক। বাবুর জন্য আমরা যা করতে পারি তা হলো তিনি তার মায়ের কোলে ফিরে যাক-এই প্রার্থনা। আমাদের সমস্যা অন্যটা। আমাদের সাথে যেসব শুয়োরের বাচ্চা (?) আছে, ওদের নিয়ে আমরা কি করব? তারা কয়েক পুরুষ ধরে আমাদের নুন খাচ্ছে। আর দেখুন তো, কি কাজটা ওরা করল! আমরা ওদের দেখেছি ভাইয়ের মতো। কিন্তু ওরা ব্যবহার করল। সাপের মতো।

    আলোচনা হঠাৎউত্তেজনাকর হয়ে উঠল।

    মিত সিং বেশ রাগ করেই বললেন, ওরা তোমাদের বিরুদ্ধে কি করেছে? ওরা কি তোমাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, না তোমাদের ঘর দখল করেছে? ওরা কি তোমাদের মেয়েদের সতীত্ব নষ্ট করেছে? বল আমাকে, কি করেছে। ওরা?

    উদ্বাস্তুদের জিজ্ঞাসা করে দেখুন, ওরা ওদের বিরুদ্ধে কি কাজ করেছে। প্ৰথমে যে ছেলেটি মিত সিং-এর কাছে উত্তর জানতে চেয়েছিল, সেই নির্দয় ছেলেটি উত্তর দিল, আপনি কি বলতে চান, গুরুদুয়ারায় আগুন দেয়ার সময় বা আমাদের লোকদের হত্যা করার সময় ওরা ঘুমিয়ে ছিল?

    আমি শুধু মানো মাজরার কথা বলছি। আমাদের প্রজারা আমাদের বিরুদ্ধে কি করেছে?

    ওরা মুসলমান।

    মিত সিং এই কথায় ঔদাসীন্য প্রদর্শন করে ঘাড় উঁচু করলেন।

    সর্দার অনুভব করলেন যে, ঐ বান্দানুবাদ মিটিয়ে দিতে তার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

    যা ঘটে গিয়েছে তা নিয়ে কথা বলে কি লাভ, প্রজ্ঞার সাথে তিনি বললেন, এখন আমরা কি করব সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মন্দিরে যে সব উদ্বাস্তু আশ্রয় নিয়েছে ওরা কিছু অঘটন ঘটাতে পারে। এতে গ্রামের সুনাম ক্ষুন্ন হবে।

    কিছু আঘটন, কথাটি উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে আলোচনার ধারাই পাল্টে গেল। নিজের গ্রামের লোকদের ওপর বহিরাগতরা কোন অত্যাচার করার সাহস পায় কি করে? যুক্তি এখানে বড় ধরনের একটা বাধা পেল। যুক্তির উর্ধে দলীয় চিন্তা। যে যুবকটি মুসলমানদের শুয়োর বলে গালি দিয়েছিল, সেই যুবকটিই উত্তেজিত হয়ে বলল, আমরা বেঁচে থাকতে আমাদের প্রজাদের ওপর কেউ হাত তুলে দেখুক না।

    সর্দার তাকে থামিয়ে দিলেন। তোমার মাথা গরম। কখনও কখনও তুমি মুসলমানদের, আবার কখনও কখনও উদ্বাস্তুদের হত্যা করার কথা বলছি। আমরা কিছু বলতে গেলেই তুমি অন্য আলোচনা করছি।

    ঠিক আছে, ঠিক আছে সর্দার, যুবকটি রাগে গর গর করতে লাগল, আপনার যদি ঐ বুদ্ধি থাকে তাহলে কিছু বলুন আমাদের।

    শোন ভাই সব, গলার স্বর নামিয়ে সর্দার বললেন, মেজাজ খারাপ করার সময় আর নেই। এখানে যারা আছে তারা কেউ কাউকে হত্যা করতে চায় না। কিন্তু অন্য লোকের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারে? এখন আমাদের এখানে আছে চল্লিশ বা পঞ্চাশ জন উদ্বাস্তু। গুরুর কৃপায় ওরা শান্তিপূর্ণ লোক। ওরা শুধু কথা বলে। আগামীকাল আর একদল উদ্বাস্তুকে আমরা পেতে পারি, যারা তাদের মাবোনকে হারিয়েছে। আমরা কি তাদের এ গ্রামে আসতে নিষেধ করব? আর যদি তারা সত্যি আসে, তাহলে কি তাদের সুযোগ দেব আমাদের প্রজাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে?

    আপনি লাখ টাকার একটা কথা বলেছেন, একজন বৃদ্ধ বলল, এ সম্পর্কে আমাদের চিন্তা করা দরকার।

    কৃষকরা তাদের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করল। ওরা উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দিতে অস্বীকার করতে পারে না। আতিথেয়তা অবসর বিনোদনের কাজ নয়। আশ্রয়হীন লোক যখন তা যায় তখন তাকে আতিথ্যে গ্রহণ করা একটা পবিত্র দায়িত্ব। আমরা কি মুসলমানদের চলে যেত বলব? অত্যন্ত জোরের সাথে বলতে হবে, না। সব কিছুর উর্ধে স্থান পাবে গ্রামের লোকদের আনুগত্য। অনেকে অনেক অযাচিত কথা বলেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেউ তাদের তাড়িয়ে দেয়ার, এমন কি শিখদের বৈঠকেও সাহস দেখাবে না। বৈঠকের মেজাজ ক্ৰোধ থেকে পরিবর্তিত হলো হতবুদ্ধিতে।

    কিছুক্ষণ পর সর্দার বললেন, আশপাশের সব গ্রামের মুসলমানদের বিতাড়িত করে চন্দননগরের পাশে উদ্ধাস্তু শিবিরে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে পাকিস্তানে চলে গিয়েছে। অন্যদের জলন্ধরে বড় উদ্বাস্তু শিবিরে নেয়া হয়েছে।

    হ্যাঁ, অন্য একজন বলল, কাপুরা ও গুজ্জুমাত্তা গ্রামের মুসলমানদের গত সপ্তাহে অপসারণ করা হয়েছে। মানো মাজরা গ্রামে মুসলমান আছে। কিন্তু এই গ্রামের মুসলমানদেরই কেবল অপসারণ করা হয়নি। একটা কথা আমার জানতে ইচ্ছা করে, গ্রামের বন্ধুপ্রতিম লোকদের চলে যাওয়ার কথা ওরা কিভাবে বলে। আমরা আমাদের ছেলেদের ঘর থেকে চলে যাওয়ার কথা বলতে পারব, কিন্তু আমাদের প্রজাদের কাছে অনুরূপ কথা কোনদিনই বলতে পারব না। এখানে কি এমন কোন লোক আছে, যারা মুসলমানদের বলতে পারবে, ভাইসব, মানো মাজরা থেকে তোমরা চলে যাও?

    এ কথার জবাব কেউ দেয়ার আগে একজন গ্রামবাসী ঘরের দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। সবাই তার দিকে তাকিয়ে দেখল। কিন্তু হারিকেনের স্বল্প আলোয় কেউ তাকে চিনতে পারল না।

    কে ওখানে? সর্দার জিজ্ঞাসা করলেন। হারিকেনের আলোর রশ্মি থেকে নিজের চোখ দু’টোকে হাত দিয়ে আড়াল করে তিনি বললেন, ভিতরে এসো।

    ইমাম বখশ ভিতরে এলেন। তাঁর সাথে এলেন আরও দুজন। ওরাও মুসলমান।

    সালাম চাচা ইমাম বখশ, সালাম খায়ের দিনা। সালাম, সালাম।

    শুভ রাত সর্দার সাহেব, শুভ রাত, মুসলমানরা জবাব দিলেন।

    উপস্থিত লোকেরা ওদের বসার জায়গা করে দিল। সবাই অপেক্ষা করল ইমাম বখাশের কথা শোনার জন্য।

    ইমাম বখশ দাঁড়িতে হাত বুলালেন।

    হ্যাঁ ভাইসব। আমাদের ব্যাপারে আপনাদের সিদ্ধান্ত কি? শান্তভাবে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।

    একটা অকল্পনীয় নীরবতায় আচ্ছন্ন হলো সমস্ত ঘরটা। সবাই সর্দারের দিকে মুখ ফেরাল।

    আমাদের জিজ্ঞাসা করছেন কেন? সর্দার বললেন, আমাদের মতো গ্রামটা আপনাদেরও।

    এখানে যা আলোচনা হয়েছে তা আপনারা জানেন। আশপাশের সব গ্রাম থেকেই মুসলমানদের অপসারণ করা হয়েছে। একমাত্র এ গ্রামটিই বাকি আছে। আপনারা ইচ্ছা করলে আমারাও চলে যাব।

    মিত সিং সশব্দ নিঃশ্বাস ফেললেন। তিনি মনে করলেন, এখন তার কথা বলা ঠিক নয়। তাঁর যা বলার তা তিনি আগেই বলেছেন। তা ছাড়া তিনি শুধু একজন ধর্মীয় ব্যক্তি। গ্রামবাসী তাঁকে যেখানে থাকতে দিয়েছে, সেখানেই তিনি থাকেন। একজন যুবক বলল:

    চাচা ইমাম বখশ। একটা কথা আজ আমরা স্পষ্টভাবে বলছি। আমরা যতদিন এখানে আছি ততদিন কেউ আপনাদের স্পর্শ করার সাহস পাবে না। আমরা মরে গেলে আপনারা নিজেদের রক্ষা করবেন।

    হ্যাঁ,আরও একজন ঐ কথার সমর্থন করুল উষ্ণভাবে, আগে মরব। আমরা, তারপর তোমরা। তোমাদের ওপর কেউ যদি চোখ উঁচু করে তাকায় আমরা তার মাকে অপদস্থ করব।

    মা, বোন ও মেয়ে, অন্যরা তার কথা শুধরে দিল।

    ইমাম বখশের চোখ দিয়ে দুফোঁটা অশ্রু নীরবে গড়িয়ে পড়ল। জামার কোণ দিয়ে তিনি তার নাক ঝাড়লেন।

    পাকিস্তানে গিয়ে আমরা কি করব? আমরা এখানে জনেছি। আমাদের পূৰ্বপুরুষরাও এখানে জন্মেছেন। তোমাদের সাথে আমরা বসবাস করছি ভাইয়ের মতো। ইমাম বখশ আর বলতে পারলেন না, কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। মিত সিং তাঁকে দুহাতে জড়িয়ে ধরলেন। তারও কণ্ঠ রোধ হয়ে এলো কান্নায়। উপস্থিত অনেকের কান্নার বাঁধ ভেঙ্গে গেল। অনেকে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল।

    সর্দার বললেন, হ্যাঁ, তোমরা আমাদের ভাই। আমরা তোমাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, তোমরা তোমাদের ছেলেমেয়ে ও পোতা-পোতনিসহ যতদিন ইচ্ছা এখানেই থাকবে। তোমাদের স্ত্রী, পুত্ৰ-কন্যাদের কেউ যদি রূঢ় ভাষায় কথা বলে, আমরা তার প্রতিবিধান করব। তোমাদের মাথায় একটা চুলও যেন কেউ স্পর্শ করতে না পারে, তার ব্যবস্থা আমরা করব। আমাদের স্ত্রী, পুত্র-কন্যারা তোমাদের স্ত্রী, পুত্ৰ-কন্যাদের নিরাপত্তা বিধান করবে। কিন্তু চাচা, আমরা সংখ্যায় অতি নগণ্য। পাকিস্তান থেকে হাজার হাজার উদ্বাস্তু আসছে। তারা যদি কিছু করে তাহলে তার দায়িত্ব কে নেবে?

    হ্যাঁ, অন্যরা এ কথা সমৰ্থন করল। আমাদের দিক থেকে তোমরা নিশ্চিন্ত। কিন্তু উদ্বাস্তুরা যদি কিছু করে?

    আমি শুনেছি যে, কয়েকটি গ্রাম হাজার হাজার উন্মত্ত লোক ঘিরে রেখেছে। তাদের হাতে আছে বন্দুক ও বর্শা। ওদের প্রতিরোধ করার কোন প্রশ্নই নেই।

    আমরা উন্মত্ত জনতাকে ভয় করি না, একজন বলল, ওদের আসতে দাও আগে! আমরা ওদের এমন ঠেঙ্গানি দেব যেন মানো মাজরায় আসার কথা আর কোনদিন চিন্তাও না করে।

    এই চ্যালেঞ্জকারীকে কেউ লক্ষ্য করল না। গর্বিত এই বক্তব্য এমনই শূন্য মনে হলো যে, কেউ এটাকে গুরুত্ব দিল না। ইমাম বখশ আবার নাক ঝাড়লেন। ধরা গলায় বললেন, ভাইসব, আমাদের এখন কি করতে উপদেশ দাও তোমরা?

    চাচা, গম্ভীর স্বরে সর্দার বললেন, আমার পক্ষে কিছু বলা কঠিন। তবে যে পরিস্থিতিতে আমরা এখন দিন কাটাচ্ছি, তাতে আমার মনে হয়। এই গোলমালের সময় তোমাদের উদ্ধাস্তু শিবিরে যাওয়াই উত্তম। তোমরা ঘরে জিনিসপত্রসহ তালা লাগিয়ে যাও। তোমরা ফিরে না। আসা পর্যন্ত তোমাদের গরু-বাছুর আমরা দেখাশোনা করব।

    সদারের এই পরামর্শে সবাই নির্বক হয়ে রইল। গ্রামবাসীরা যেন দম বন্ধ করে রইল। সর্দার নিজেই বুঝতে পারলেন যে, তিনি যে কথা বলেছেন তার প্রতি দূর করার জন্য তাঁকে অবিলম্বে আরও কিছু বলা দরকার।

    গতকাল পর্যন্ত, তিনি আবার শুরু করলেন, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা তোমাদের নদী পার করে দিতে সাহায্য করতে পারতাম। কিন্তু দুদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। নদী পার হওয়ার জন্য দু’টো উপায় হলো ট্রেন ও রাস্তার ব্রিজ। ঐ দুই জায়গায় কি হচ্ছে তোমরা জান। তোমাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমি পরামর্শ দিই, কয়েক দিনের জন্য ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে। পরে তোমরা চলে এসো পরিস্থিতি শান্ত হলো। আমাদের ব্যাপারে তোমরা নিশ্চিত থাকতে পোর। অত্যন্ত উষ্ণ আবেগে তিনি বললেন, তোমরা যদি গ্রামে থাকার সিদ্ধান্ত নাও, এ সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাব। আমাদের জীবন দিয়ে তোমাদের আমরা রক্ষা করব।

    সর্দারের ঐ কথার গুরুত্ব নিয়ে কারও মনে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ রইল না। তারা মাথা নিচু করে রইল। এমন সময় ইমাম বখশ দাঁড়ালেন।

    ঠিক আছে, বিষণ্ণভাবে তিনি বললেন, আমাদের যদি যেতেই হয় তাহলে আমাদের বিছানা ও জিনিসপত্র সাথে করে নিয়ে যাওয়াই ভাল। আমাদের বাপ-দাদা কয়েক শ বছরে যে ঘর সৃষ্টি করেন তা খালি করতে আমাদের এক রাতের বেশি সময় লাগবে না।

    সর্দার নিজেকে বড় ধরনের অপরাধী হিসাবে মনে করলেন। আবেগে তিনি বিভোর হয়ে পড়লেন। তিনি দাঁড়িয়ে ইমাম বখশকে জড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলেন। শিখ ও মুসলমান চাষীরা পরস্পরকে জড়িয়ে শিশুর মতো কাঁদতে লাগল। কাঁদতে কাঁদতে বললেন, কেঁদে কি হবে, বিশ্বের নিয়ম এটাই–

    সুগন্ধযুক্ত কুঞ্জের ছায়ায়
    চিরদিন বুলবুল পাখি গান করে না,
    চিরদিন বসন্ত থাকে না
    থাকে না ফুটন্ত ফুল,
    আনন্দ স্থায়ী হয় না চিরকাল,
    বন্ধুত্ব থাকে না চিরদিন,
    এ কথা যারা জানে না
    তারা জীবনকেই জানে না।

    এ কথা যারা জানে না, তারা জীবনকেই জানে না, দুঃখের সাথে এ কথা অনেকেই বলল। হ্যাঁ, চাচা ইমাম বখশ। এটাই জীবন।

    চোখের পানি মুছতে মুছতে ইমাম বখশ ও তাঁর সঙ্গীরা বৈঠক ত্যাগ করল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনোরা – হেনরিক ইবসেন
    Next Article পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }