Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ট্রেন টু পাকিস্তান – খুশবন্ত সিং

    খুশবন্ত সিং এক পাতা গল্প260 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪.০১ কর্ম

    ঐদিন সকালে গ্রামের লোকেরা তাদের বাড়িতে বসে রইল। খোলা দরজার মধ্য দিয়ে উদাসভাবে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল এক দৃষ্টিতে। তারা দেখল, মাল্লির লোকজন ও পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুরা মুসলমানদের ঘরবাড়ি লুঠ করছে। তারা দেখল, গরু-ছাগলকে নির্দয়ভাবে পেটাতে পেটাতে নিয়ে যেতে তারা দেখল, শিখ সৈন্যরা যাচ্ছে, আসছে–যেন মাল্লির ইশারায় তারা কাজ করছে। যন্ত্রণাকাতর পশুগুলোর কাতর ধ্বনি তারা শুনতে পেল ঘরে বসেই। গৃহপালিত মোরগ-মুরগির আর্ত ডাক, ঝটপটানি ও ছুরির আঘাতের পর তাদের নীরবতা তারা উপলব্ধি করল। তাদের কিছুই করার ছিল না— শুধু দেখা আর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলা ছাড়া।

    মাঠ থেকে ছত্রাক তুলে গ্রামে ফিরে একটা রাখাল ছেলে জানোল যে, নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তার কথায় কেউ কান দিল না। তারা এই ইচ্ছা পোষণ করল যে, নদীর পানি আরও বাড়ক এবং পুরো মানো মাজরা গ্রামটাকে ডুবিয়ে দিক। তাদের স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পশু-পাখিসহ তারাও নিমজ্জিত হোক, ঐ পানিতে। কিন্তু তাদের শর্ত একটাই, ঐ পানিতে নিমজ্জিত হতে হবে মাল্লি, তার দলের লোক, পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তু ও সৈন্যদেরও।

    গ্রামের লোকেরা যখন দীর্ঘ নিঃশ্বাসের মধ্যে দিয়ে হতাশা ব্যক্ত করছিল এবং গভীর আর্তনাদে ফেটে পড়ছিল তখন বৃষ্টি ঝরছিল অঝোর ধারায়। শত্রুঘ্ন নদীর পানি বাড়ছিল ক্ৰমান্বয়ে। তীর ছাপিয়ে পানি আশপাশের জমি প্লাবিত করল, শীতকালে পানি সংরক্ষণের জন্য নির্মিত চ্যানেলের মুখে খিলানের ভাররক্ষক স্তম্ভের দুপাশে পানির ঢেউ এসে আছড়াতে লাগল। নির্মিত ঐ চ্যানেলের চিহ্ন আর দেখা গেল না, সব কিছুই ঢাকা পড়ে গেল বাড়তি পানির নিচে। এই পানির ঢেউ বিস্তৃত হলো বড় ব্রিজের পাশ পর্যন্ত। মানো মাজরা গ্রামের চাষাবাদী জমিতে যে বাঁধটি; প্রয়োজনের সময় পানি সরবরাহ করে, সেই বাধেও পানির ঢেউ এসে আছড়ে পড়তে লাগল। নদীর তীরে ছোট ছোট যে সব উঁচু টিলা ভূমি ছিল তাও ডুবে গেল। পানির ওপর দেখা গেল। আগাছার অগ্রভাগ। সামুদ্রিক পাখি ও শঙ্খ জাতীয় পাখি যে সব গাছে রাত কাটাত, সেই সব গাছের আশ্রয়স্থল ত্যাগ করে তারা উড়ে চলে গেল ব্রিজের ওপর। কয়েকদিন ধরে ঐ লাইন দিয়ে কোন ট্রেন যাতায়াত করেনি।

    বিকালের দিকে জনৈক গ্রামবাসী একাধিক বাড়ির কাছে চিৎকার করে বলতে লাগলঃ ওহে বানটা সিং, নদীর পানি বাড়ছে! ও দলিপ সিং, নদীর পানি বেড়ে গেছে! শোন তোমরা, বাঁধের কাছ পর্যন্ত পানি এসে গেছে৷ অবসন্ন দৃষ্টি মেলে। ওরা বলল: এ, খবর আমরা আগেই পেয়েছি। এরপর আর একজন লোক এসে খবর দিল, নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর আর একজন, পরে আরও একজন। সবাই বললঃ তোমরা কি জান, নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে!

    শেষে সর্দার সাহেব বেরুলেন সব কিছু নিজের চোখে দেখতে। হ্যাঁ, সত্যি সতি্যু নদীর পানি বেড়েছে। দু’দিনের বৃষ্টিতে এ অবস্থা হয়নি। পর্বতের বরফগলা পানির কারণেই এ অবস্থা হয়েছে। বন্যার পানি রোধ করার জন্য হয়ত খালের মুখের স্কুইন্সগেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে নদী ছাড়া পানি চলে যাওয়ার আর কোন পথ খোলা নেই। নদীর পানির মৃদু ঢেউ এখন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে, নদীর পাড় ভাঙ্গার কারণে সাদা পানির রং মেটে হয়ে গেছে। ব্রিজের স্তম্ভগুলো এখনও দৃঢ় থাকায় নদীর পানির উন্মত্ত ঢেউ ওখানে আছড়ে পড়ে ফিরে আসছে। আশপাশের ছোট ছোট পথে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে, স্তম্ভের ছুচালো শীর্ষে পানির প্রবাহ ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি করছে। বৃষ্টির পানি ফোঁটায় ফোঁটায় এখনও ঝরছে। নদী ও সমতল ভূমি একাকার হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির ফোঁটার দৃশ্য লক্ষ্য করা যায় সমগ্ৰ এলাকা জুড়ে। শত্রুঘ্ন নদীর এ দৃশ্য সত্যি ভয়াবহ!

    সন্ধ্যার দিকে মানো মাজরার লোকেরা মুসলমানদের কথা, মাল্লির অপকর্মের কথা ভুলে গেল। আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়াল নদীর পানি। ঘরের মেয়েরা ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে পশ্চিম দিকে তাকিয়ে দেখল। লোকেরা মাঝে মাঝে বাঁধের করতে লাগল। সূর্যাস্তের আগে সর্দার সাহেব। আবার নদীর অবস্থা দেখতে পেলেন। বিকালে তিনি যে অবস্থা দেখেছিলেন, তার চেয়ে পানি এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব ঝোপঝাড় আগে পানির অনেক ওপরে ছিল, এখন তার সবটাই ডুবে গেছে। ঐ সব গাছের পাতা ও পাতলা ডাল এখন পানির ওপর ভাসছে। গত কয়েক বছরে শত্রুঘ্ন নদীর পানি এত বেড়েছে কি না তাঁর মনে পড়ে না। বাঁধ থেকে মানো মাজরা এখনও অনেক দূরে। মাটির বাঁধটা এখনও দৃঢ় ও নিরাপদ আছে। তবু বলা যায় না, সারা রাত ধরেই সতর্ক থাকা দরকার। তিনজন করে চারটি দল সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত বাঁধে প্রহরায় থাকতে হবে এবং তারা এক ঘণ্টা অন্তর পরিস্থিতি সম্পর্কে গ্রামবাসীকে অবহিত করবে। বাকিরা সব তাদের বাড়িতেও থাকবে।

    সর্দারের ঐ সিদ্ধান্তে সবাই বাড়িতে আরামে ঘুমাল। নিরাপদে থাকার কারণে তাদের ঘুমের ব্যাঘাত হলো না। সর্দার সাহেব অবশ্য নিজে ভালমতো ঘুমাতে পারলেন না। মধ্যরাতের কিছু পরে পাহারারত তিনজন লোক ফিরে এসে চিৎকার করে কথা বলছিল। তাদের কথায় উত্তেজনা প্ৰকাশ পাচ্ছিল। নদীর পানি বেড়েছে কিনা, ধূসর চাঁদের আলোয় তারা বুঝতে পারেনি। তাদের কথায় এ সম্পর্কে কিছু ছিল না। তবে তারা শুনেছে, মানুষ সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে। পানির মধ্য থেকেই তারা ঐ আর্ত চিৎকার শুনেছে। নদীর ওপারে বা নদী থেকেই ঐ চিৎকার শোনা গেছে। সর্দার তাদের সাথে করে বেরিয়ে পড়লেন। তিনি তাঁর টর্চ লাইটটাও সাথে নিলেন।

    চারজন লোক বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে শক্রিান্ন নদীকে দেখলেন। কালো একটা খন্ডের মত দেখা যাচ্ছে নদীকে। সর্দারের হাতের টর্চের সম্মুখভাগের সাদা গোলাকার অংশ থেকে বিছুরিত আলো পুরো নদীটাি একবার নিরীক্ষণ করে এলো। চঞ্চল পানি ছাড়া আর কিছুই দেখা গেল না। তারা নিঃশ্বাস বন্ধ করে কিছু শোনার চেষ্টা করল। কিন্তু নদীর পানির ওপর পড়া বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ ছাড়া তারা আর কিছুই শুনতে পেল না। সর্দার তাদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, তারা কি মানুষের না শিয়ালের শব্দ শুনেছে। তারা যেন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল। একজন অন্য জনকে জিজ্ঞাসা করল, আমরা তো স্পষ্ট মানুষের চিৎকার শুনেছি। তাই না করনাইলা?

    হ্যাঁ। খুবই স্পষ্ট চিৎকার। হায়, হায় বলে কেউ যেন আর্তচিৎকার করছিল।

    ওরা চারজন হেরিকেনের চারপাশে একটা গাছের তলায় জড়ো হয়ে বসল। বর্ষাতি হিসাবে তারা যে চটের ছালা পরেছিল তা ভিজে গেছে। তাদের পরিধেয় জামা-কাপড়ও ভিজে গেছে। ঘন্টাখানেক পরে বৃষ্টির ধারা কমে এলো। প্রথমে ঝির ঝিরে বৃষ্টি এবং পরে একেবারে থেমে গেল। পশ্চিম দিগন্তে চাঁদ দেখা গেল মেঘের ফাঁক দিয়ে। চাঁদের আলো পানির ওপর প্রতিবিন্বিত হওয়ায় নদীর এপার-ওপার একটা আলো-পথের সৃষ্টি হলো। চাঁদের উজ্জ্বল আলোয় পানির ঢেউয়ের ফলে সৃষ্ট বুদ্ভুদ স্পষ্টভাবে দেখা যেতে লাগল।

    ডিম্বাকার আকারের একটা কালো বস্তু ব্রিজের খিলানের সাথে আঘাত খেয়ে মানো মাজরার দিকের বাঁধের দিকে স্রোতে ভেসে এলো। বস্তুটা দেখতে বড় ড্রামের মতো, এর চারপাশে লাঠি বাঁধা। বস্তুটা কিছুটা এগিয়ে গেল, কিছুটা পিিছয়ে গেল এবং এক সময় নদীর এক পাশে সরে গেল। স্রোতের টানে বস্তুটা চাঁদের আলোর পথে পৌঁছল এবং বাঁধের ওপর বসে থাকা ঐ চারজন লোক থেকে তা খুব দূরে ছিল না। এটা ছিল একটা মৃত গরু। এর পেটটা এমনভাবে ফুলে উঠেছিল যে, দেখতে অনেকটা বড় ব্যারেলের মতো। এর পা কাঁটা ছিল শক্ত এবং তা ছিল। ওপরের দিকে উত্থিত। এর পর ভাসতে দেখা গেল কিছু ঘাস-বিচালি এবং তারপর এক বোঝা কাপড়।

    এসব দেখে সর্দার বললেন, দেখে মনে হয় কোন গ্রাম বন্যায় ভেসে গেছে। চুপ করুন! শুনুন চাপা গলায় এক জন বলল। কারও বিলাপের মূৰ্ছিনা নদীর অপরদিকের কিনারা থেকে শোনা গেল।

    তুমি শুনতে পাচ্ছে?

    চুপ কর!

    তারা নিঃশ্বাস বন্ধ করে এ শব্দ শোনার অপেক্ষায় রইল।

    না। এ শব্দ কোন মানুষের হতে পারে না। ওটা ছিল গুড় গুড় শব্দ। ওরা আবার শুনল। হ্যাঁ, ওটা গুড় গুড় শব্দই। একটা ট্রেনের শব্দ। এর ছশ দুশ শব্দ ক্রমেই স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হতে লাগল। এর পর ওরা দেখল ইঞ্জিনের অগ্রভাগ এবং ক্ৰমে ট্রেনের পুরো অংশ। ইঞ্জিনের ধোঁয়া বেরুনোর ফাঁক দিয়ে এমনভাবে আগুনের ফুলকি বেরুচ্ছে, যেন মনে হয়, কেউ আতসবাজি পোড়াচ্ছে। ট্রেনের কামরায় কোন খভাগের লাইটও জুলছে না। ব্রিজের ওপর ট্রেনটা আসার পর ব্রিজের ওপর বসা সামুদ্রিক পাখি নীরবে নদীর দিকে আর শংখ। থামল। ট্রেনটা এলো পাকিস্তান থেকে।

    ট্রেনে কোন বাতি নেই।

    ইঞ্জিন থেকেও হুইসেল বাজল না।

    এটাও ভৌতিক ট্রেনের মতো।

    ভগবানের দোহাই, এ ধরনের কথা বলে না, সর্দার বললেন, এটা মাল ট্রেনও হতে পারে। এর যে সাইরেন আছে তা তোমরা শুনেছ। আমেরিকার তৈরি এই নতুন ইঞ্জিন এমনভাবে শব্দ করে যেন কেউ খুন হয়েছে।

    না সর্দার, আমরা প্রায় এক ঘণ্টা আগে শব্দ শুনেছি; একই শব্দ শুনলাম ট্রেন আসার আগে, একজন বলল।

    এখন আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। কারণ ইঞ্জিনটা এখন আর কোন শব্দই করছে না।

    রেল লাইনের উল্টো দিকে আগে যেখানে হাজার বেশি। মৃতদেহ পোড়ানো হয়েছিল থেকে একটা শিয়াল দীর্ঘ একটা বিলাপপূৰ্ণ ডাক দিল। ঐ ডাকের সাথে আরও শিয়াল ডেকে উঠল। এক্যোগে। লোকগুলো ভয়ে আঁতকে উঠল।

    শিয়ালের কান্না। কোন লোক মারা গেলে মেয়েরা যেমন কাঁদে ঠিক সেই ধরনের কান্না, সরদার বললেন।

    না না, একজন প্রতিবাদ করে বলল, না। এটা মানুষের কান্না। আপনার কথা। যেভাবে আমি স্পষ্ট শুনছি, ঠিক সেভাবেই ঐ কান্না শোনা যাচ্ছে।

    ওরা বসে শুনল, দেখল। বন্যার স্রোতে ভেসে আসছে পৃথক করা যায় না। এমন অদ্ভুত ধরনের বস্তু। আকাশের চাঁদ অস্তমিত হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য অন্ধকার ঘনিয়ে এ। এর পর পূর্বকাশ হলো ধূসর। লম্বা লাইন দিয়ে শব্দ করে বাদুড় উড়ে গেল নদীর ওপারে। কাকেরা তাদের ঘুমের মধ্যে থেকেও কা কা শব্দে মেতে উঠল। ঝোপের মধ্য থেকে কোয়েলের তীক্ষ্ণ ডাক ভেসে এলো। মনে হলো, সমগ্র জগতটাই যেন জেগে উঠেছে।

    মেঘ সরে গেল উত্তর দিকে। আস্তে আস্তে সূর্যের আলো। বৃষ্টিভেজা সমতল ভূমিতে সূর্যরশ্মি কমলা রংয়ের উজ্জ্বলতায় উদ্ভাসিত। সব কিছুই যেন সূর্যের আলোয় ঝলসে উঠল। নদীর পানি আরও বেড়েছে। এর কর্দমাক্ত পানিতে ভেসে যাচ্ছে গরুর গাড়ি, ফুলে-ফেপে ওঠা গরুর মৃতদেহ-তখনও গাড়ির সাথে বাঁধা। ঘোড়ার মৃতদেহ পানির মধ্যেই ওলট-পালট হয়ে স্রোতের টানে ভেসে যাচ্ছে। মনে হয়, ঘোড়া তার পিঠ ওপরের দিকে রাখার চেষ্টা করছে তখনও। পুরুষ ও মহিলার মৃতদেহও ভাসছে, কাপড় জড়িয়ে আছে ওদের নিম্প্রাণ দেহে। ছোট ছোট শিশু যেন উপুড় হয়ে শুয়ে আছে পানির ওপর, পানিতে হাত দুটা ভাসছে। পশ্চাৎ দিকটা মাঝে মাঝে ডুবছে, আবার ভাসছে। আকাশে অসংখ্য চিল ও শকুনের আনাগোনা শুরু হলো। নদীর পানির ওপরে ভাসমান মৃতদেহের ওপর তারা নিরাপদে এসে বসছে। মৃতদেহ উল্টে না যাওয়া পর্যন্ত তারা ঠুকরে ঠুকরে থাচ্ছে। এর পর মৃতদেহের কিছু টুকরা নিয়ে শোঁ শোঁ শব্দে উড়ে যাচ্ছে আকাশের দিকে। কিন্তু কিছু দূর যেতে না যেতেই পানির ওপর পড়ে যাচ্ছে ঐ সব টুকরা।

    দুঃখের সাথে সর্দার বললেন, রাতে বোধ হয় কিছু গ্রাম বন্যায় ভেসে গেছে।

    তার একজন সঙ্গী বলল, রাতে গাড়িতে গরু বেঁধেছে কে?

    ঠিক কথা। গরুগুলো গাড়ীর সাথে জোড়া থাকবে কেন?

    ব্রিজের খিলাদের দিক থেকে বহু লোকের বিকৃত মৃতদেহ ভেসে আসতে দেখা গেল। সেতুর ভার রক্ষার জন্য নির্মিত নির্মিত স্তম্ভে এসে ঐসব মৃতদেহ আঘাত খেয়ে থেমে গেল কিছুক্ষণের জন্য। এর পর ঘূর্ণায়মান পানির স্রোতে ঘুরতে ঘুরতে যাত্রা করল অনির্দিষ্ট ঠিকানার উদেশে। লোকগুলো ব্রিজের দিকে এগিয়ে গেল নদীর ধারে পড়ে থাকা কয়েকটি মৃতদেহ দেখতে।

    মৃতদেহগুলো ওরা পরখ করে দেখল।

    সরদার, ওরা ডুবে মরেনি। ওদের মারা হয়েছে।

    পানির ওপর সাদা দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধ সটান শুয়ে আছে। ওর হাত দু’টো দুদিকে এমনভাবে প্রসারিত ছিল যে, মনে হয়, ওকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে। হাঁ করা মুখের মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবে দাঁতের মাড়ি দেখা যায়, দাঁত নেই। কাপড় দিয়ে তার চোখ দু’টো বাঁধা, মাথার চুলগুলো এমন এলোমেলোভাবে আছে যেন মনে হয় সাধুর বেশ। তার ঘাড়ে একটা গভীর ক্ষত, ঐ আঘাতটা নেমে এসেছে বুক পর্যন্ত। বৃদ্ধের হাতের ওপর একটা শিশুর মাথা। ওর পিঠেও একটা গভীর ক্ষত। নদীর স্রোতে আরও মৃতদেহ ভেসে আসছে। পাহাডের ওপর গাছ কেটে তা সমতল ভূমিতে আনার জন্য যেমন নদীতে ভাসমান অবস্থায় আনা হয়, তেমনিভাবে ভেসে আসছে মৃতদেহ-মানুষ, পশুর। কিছু মৃতদেহ পুলের নিচের পানির মধ্য থেকে বেরিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কিছু মৃতদেহ পুলের খুঁটির সাথে আঘাত খেয়ে উল্টে-পাল্টে আশেপাশে সরে যাচ্ছে, যেন তাদের ক্ষত স্থান দেখাবার জন্য। অতঃপর স্রোতের আওতায় এসে তারাও চলে যাচ্ছে। কারও হাত-পা নেই, কারও পেট কার্ট অনেক মহিলার স্তন ধারালো অন্ত্র দিয়ে কাটা। সূর্যের কিরণসিক্ত নদীতে ওরা ভেসে যাচ্ছে। কখনও ডুব।ছে, কখনও ভাসছে। ওদের ওপরে আছে ছিল আর শকুন।

    সর্দার ও তাঁর সঙ্গীরা মাথার পাগড়ির একটা অংশ মুখে দিল। গুরু, আমাদের প্রতি দয়া করা, কেউ ফিসফিস করে বলল।

    কোথাও নির্মম খুনখারাবী হয়েছে। পুলিশকে আমাদের জানানো দরকার।

    পুলিশ? আর একজন লোক বিরক্ত প্রকাশ করে বলল, ওরা কি করবে? ওরা তো শুধু ডাইরীতে লিখে রাখবে।

    অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ওরা গ্রামে ফিরল। গ্রামের লোকদের ওরা কি বলবে ঠিক করতে পারল না। নদীর পানি আরও বেড়েছে? আরও গ্রাম বন্যা প্লাবিত হয়েছে? নদীর উজানে গণহত্যা হয়েছে? শত্রুঘ্ন নদীতে কি শয়ে শয়ে লাশ ভাসছে? না শুধু চুপ করেই থাকবে?

    ওরা যখন গ্রামে ফিরে এলো, ওদের কাছ থেকে কিছু শোনার জন্য গ্রামবাসীরা কোন আগ্রহ দেখাল না। ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে ওরা স্টেশনের দিকে তাকিয়ে দেখেছে। কয়েক দিন পর দিনে একটা ট্রেন মানো মাজরায় এসে থেমেছে। ট্রেনের ইঞ্জিন যেহেতু পূর্বদিকে, সেহেতু এটা পাকিস্তান থেকে এসেছে। ঐ সময়ও স্টেশনে বহু সৈন্য ও পুলিশকে দেখা গেছে। পুরো স্টেশন এলাকা ওরা ঘিরে রেখেছিল। বাড়ির ছাদ থেকেই ঐ লাশ দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা শিউরে উঠেছিল। শিশু ও মহিলার ওপর নির্যাতনের কথা লোকে আলোচনা করেছে। লাশগুলো কাদের তা কেউ জানতে চায়নি বা নদীর ধারেও ওরা যায়নি মৃতদেহ দেখতে। স্টেশনে আরও নতুন কিছু দেখার আগ্রহে ওরা বাড়ির ছাদ ছেড়ে যায়নি কোথাও। শেষ এই ট্রেনটার পর আরও তো ট্রেন আসতে পারে!

    ট্রেনের কামরায় কি আছে তা নিয়ে তাদের কারও মনে কোন সন্দেহ ছিল না। ওরা নিশ্চিত ছিল যে, এখনই সৈন্যরা বেরিয়ে আসবে তেল ও কাঠ সংগ্রহ করতে। দেয়ার মতো বাড়তি তেল তাদের কাছে নেই, যে কাঠ আছে তা ভেজা। ফলে সহজে তা জ্বালানো কষ্ট হবে। কিন্তু সৈন্যরা এলো না। দেখা গেল, ঐ স্থানে কোথা থেকে একটা বুলডোজার এলো। ক্টেশনের উল্টো দিকে মানো মাজরা গ্রামের পাশে মাটি খুঁড়তে শুরু করল ঐ বুলডোজারটি। মনে হলো মাটি খুঁড়ে সে খেয়ে ফেলল এবং এর পর পরই মুখ উঁচু করে চিবিয়ে তা এক পাশে ফেলে দিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে সে এ কাজই করল। প্রায় পঞ্চাশ ফুট লম্বা ত্রিকোণ বিশিষ্ট একটা গভীর খাদ সৃষ্টি হলো। খাদের দুপাশে মাটির পাহাড় দেখা গেল দূর থেকে। কিছুক্ষণের জন্য থামল বুলডোজারটি। যে সব সৈন্য ও পুলিশ অলসভাবে বুলডোজারের মাটি খোঁড়া দেখছিল, তাদের ডাকা হলো। লাইন করে ওরা প্লাটফর্মের দিকে এগিয়ে গেল। দেখা গেল, দুজন সৈন্য একটা করে স্ট্রেচার নিয়ে খাদের দিকে এগিয়ে আসছে। খাদের কাছে এসে স্ট্রেচার কাৎ করে সৈন্যরা স্ট্রেচার খালি করে আবার ছুটছে প্লাটফর্মের দিকে, স্ট্রেচার ভর্তি করে আরও কিছু আনতে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে একই কাজ করুল সৈন্যরা। এর পর আবার বুলডোজার গর্জে উঠল। মুখ খুলে সে তার নিজের খোড়া মাটি খের মধ্যে পুরে বমি করার মতো করে ঐ মাটি আবার উগরে দিল খোড়া গর্তের মধ্যে। সমতল ভূমির সাথে গর্তের মাটি সমান না হওয়া পর্যন্ত সে এ কাজ করল অত্যন্ত দ্রুত। আঘাতপ্রাপ্ত ও ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় দেখা গেল। ঐ গর্তের স্থানটি। শিয়াল ও অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তুর কবল থেকে রক্ষার জন্য স্থানটির পাহারায় নিযুক্ত রইল দুজন সৈন্য।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনোরা – হেনরিক ইবসেন
    Next Article পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }