Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ট্রেন টু পাকিস্তান – খুশবন্ত সিং

    খুশবন্ত সিং এক পাতা গল্প260 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪.০২ প্রার্থনার জন্য গুরুদুয়ারায়

    ঐ দিন সন্ধ্যায় গ্রামের প্রত্যেক লোকই প্রার্থনার জন্য গুরুদুয়ারায় এসে উপস্থিত হলো। একমাত্র গুরুর জন্মদিন বা নববর্ষের দিন ছাড়া গুরুদুয়ারায় এমন উপস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। গুরুদুয়ারায় সাধারণত নিয়মিত যাতায়াত করে বৃদ্ধ লোক ও মহিলারা। অন্যরা সাধারণত আসে তাদের ছেলেমেয়ের নাম রাখতে, দীক্ষা নেয়ার জন্য, বিয়ের সময় বা অস্তুেষ্টিক্রিয়ার সময়। গ্রামের মহাজনের খুন {য়ার পর থেকে প্রার্থনার সময় লোকের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়তে থাকে। তারা যেন উ আর একা একা থাকতে চায় না। মুসলমানরা চলে যাওয়ার পর তাদের শূন্য বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের লোকেরা দ্রুত এগিয়ে যায়, ভায় ঘাড় ফিরিয়ে ঘরের দিকে তাকায় না। তাদের আশ্রয় নেয়ার একমাত্র স্থান গুরুদুয়ারা। এখানে আসার জন্য তাদের কারও কাছে কৈফিয়ত দিতে হয় না। ওরা এখানে এসে এমন ভান করে যেন এখানে ওদের প্রয়োজন হতে পারে। মহিলারা আসে তাদের সাথে। আর মহিলারা সাথে করে নিয়ে আসে তাদের ছেলেমেয়েদের। যে ঘরে পবিত্র গ্ৰন্থখানি রাখা আছে, সেই হল ঘর ও পাশের দুটি ঘর উদ্বাস্তু ও গ্রামের লোক দিয়ে ভরা। আঙ্গিনার বাইরে ওদের জুতা সারি দিয়ে রাখা আছে পরিচ্ছন্নভাবে।

    হারিকেনের আলোয় মিত সিং সান্ধ্য প্রার্থনার শ্লোক পড়লেন। একজন লোক তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে পশমের ফুলঝড় আন্দােলিত করল মৃদুভাবে। প্রার্থনা শেষে উপস্থিত স্তবগান করল। মিত সিং রুচিহীন, অথচ জাঁকালো সিন্ধা কাপড়ে পবিত্র গ্ৰন্থখানি ভাঁজ করে। সারা রাতের মতো তুলে রাখলেন। প্রার্থনাকারীরা উঠে দাঁড়াল, দু’হাত এক সাথে করে নীরব রইল। মিত সিং তাঁর জন্য নির্ধারিত স্থানে এসে সবার সামনে দাঁড়ালেন। তিনি দশ জন শুরু, শিখ শহীদ ও শিখদের মন্দিরের নাম বার বার উচ্চারণ করে তাঁদের আশীৰ্বাদ কামনা করলেন। উপস্থিত সবাই হে গুরু বলে মিত সিং-এর প্রতিটি কথার মাঝে মাঝে আমেন বলল। হাঁটু গেড়ে বসে তারা মাটিতে মাথা ঠেকাল। এভাবেই শেষ হলো সন্ধ্যার অনুষ্ঠান। মিত সিং নিজের স্থান ছেড়ে বাইরে লোকদের সাথে মিলিত হলেন।

    এটা ছিল একটা পবিত্র অনুষ্ঠান। শিশুরাই কেবল খেলায় মত্ত ছিল। ঘরের মধ্যে তারা একে অপরকে ছোয়াছুয়ি করে খেললো। হাসোহাসি করলো, কোন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি করলো। বয়স্করা শিশুদের তিরস্কারও করলো। পরে তারা . একে একে তাদের মায়ের কোলে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। পুরুষ ও মহিলারা ঘরের মেঝেয় যে যেখানে পারল হাত-পা ছেড়ে বসে-গুয়ে সময় কাটাল।

    সারা দিনের ঘটনার কথা ঘুমের মধ্যে কারও বিস্মৃত হওয়ার কথা নয়। অনেকে ঘুমাতে পারল না। অনেকে আধা ঘুমে রইল। পাশের কারও পা বা হাত দেহে লাগার সাথে সাথে তাদের কেউ কেউ চিৎকার করে উঠল। এমন কি যারা নাক ডেকে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাচ্ছিল বলে মনে হলো, তারও স্বপ্ন দেখল, দিনের ভয়াবহ দৃশ্য ওদের তাড়িয়ে ফিরল। তারা শুনল মোটর গাড়ির শব্দ, গরুর হাস্থা রব। শুনল মানুষের কান্না। ঘুমের মধ্যে তারা নিজেরাই কাঁদল। চোখের পানিতে তাদের দাড়ি ভিজে গেল।

    আরও একবার যখন তারা মোটর গাড়ির হর্ন শুনতে পেল, তখন যারা আধাঘুমে ছিল তাদের মনে হলো তারা স্বপ্ন দেখছে। যারা ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখছিল, তাদের মনে হলো স্বপ্নের মধ্যেই তারা ঐ শব্দ শুনছে। তোমরা সবাই কি মারা গেছ? এমন জিজ্ঞাসার জবাবে তারা ঘুমের মধ্যেই হ্যাঁ হ্যাঁ করে উঠল।

    শেষ রাতে এলো একটা জীপ। জীপের যাত্রীরা চলার পথের ঐ গ্রাম সম্পর্কে কিছু জানতে চায়, এক ঘর থেকে অন্য ঘরের দরজার কাছে গিয়ে তারা জিজ্ঞাসা করল, ঘরে কেউ আছে? উত্তরে কুকুর শুধু ঘেউ ঘেউ করল। এরপর ঐ জীপ এলো মন্দিরের কাছে। আঙিনায় উঠে জিজ্ঞাসা করল, এখানে কেউ আছে? নাকি সবাই মারা গেছে?

    সবাই সচকিত হলো। শিশুরা কান্না শুরু করল। মিত সিং তাঁর হারিকেনের সলতে বাড়িয়ে দিলেন। তিনি ও গ্রামের সর্দার আগন্তুকদের সাথে কথা বলতে বাইরে গেলেন। আগন্তুক দুজন প্রত্যক্ষ করল, তারা কি ধরনের ভীতি সৃষ্টি করেছে। তারা মিত সিং ও সর্দারের উপস্থিতি উপেক্ষা করে হল ঘরের দরজার কাছে এলো। ভীতবিহব্বল ঐ লোকদের দিকে তাকিয়ে একজন বলল :

    তোমরা কি সবাই মরে গেছ?

    তোমাদের মধ্যে কি কেউ বেঁচে নেই? অপর লোকটি যোগ করল।

    ক্রুদ্ধভাবে জবাব দিলেন সর্দার, এ গ্রামের কেউ মারা যায়নি। আপনার কি চান? তারা কিছু জবাব দেয়ার আগেই খাকী পোশাক পরা আরও দুজন শিখ তাদের সাথে যোগ দিল। তাদের ঘাড়ে রাইফেল ঝুলানো।

    গ্রামটিকে মৃত বলেই মনে হয়, তাদের একজন অন্যজনকে বলল।

    গুরু এই গ্রামের প্রতি দয়াবান। এখানে কেউ নিহত হয়নি। আস্থার সাথে মিত সিং এর শান্ত জবাব।

    ঠিক আছে, এখানে কেউ মারা না গেলে সবার মরে যাওয়া উচিত। তাল গাছ সমান পানি ঢেলে গ্রামটিকে ডুবিয়ে দেয়া উচিত। এ গ্রামে সব হিজড়াদের বাস, হাত উঁচু করে বেশ দৃঢ়তার সাথে বলল একজন।

    আগন্তুকেরা তাদের জুতা খুলি হল ঘরের মধ্যে ঢুকাল। সর্দার ও মিত সিং তাঁদের অনুসরণ করলেন। লোকগুলো দাঁড়িয়ে তাদের পাগড়ি দুহাতে চেপে ধরল। মহিলারা তাদের কোলের শিশুকে জাপটিয়ে ধরে তাদের ঘুম পাড়াবার চেষ্টা করল।

    দলের মধ্য থেকে একজনকে নেতার মতো মনে হলো। সে ইশারায় সবাইকে বসতে বলল। আচরণে আক্রমণাত্মক ভাব লক্ষ্য করা গেল। তার বয়স খুব বেশি নম্ন। তার চিবুকে দাড়ির চিহ্ন বেশ উজ্জ্বলভাবেই দেখা যাচ্ছে। বেঁটে ও চিকন তার গড়ন। সব মিলিয়ে তাকে হীনবল মনে হয়। নীল পাগড়ি পরা নেতার কপালের ওপর (পাগড়ির অংশ) উজ্জ্বল লাল রঙের ফিতা। তার গোলাকার ঘাড়ের ওপর চিলে-ঢালা খাকী রঙের সামরিক শার্ট ঝুলে আছে। পায়ে কালে চামড়ার জুতা। তার বুকের ওপর দিয়ে পাঁচানো বেল্টের ফাঁকে ফাঁকে বুলেট সাজানো। কোমরে কালো চওড়া বেল্ট বাঁধা, তার কোমর যে চিকন তা সহ ই অনুমান করা যায়। বেল্টের এক পাশে থাপের মধ্যে রিভলবারের বাঁট, অপরদিকে একটা ছোরা ঝুলানো। তার চেহারা দেখতে এমন, যেন তার মা তাকে মার্কিন কাউবয়ের মতো করে সাজিয়েছে।

    ছেলেটি ছেলেটি রিভলবারের খাপের ওপর হাত বুলিয়ে গুলির অগ্রভাগে আঙ্গুল দিয়ে নাড়াচাড়া করল। তারপর পূর্ণ আস্থার সাথে চারদিকে একবার তাকিয়ে দেখল।

    এটা কি শিখ অধ্যুষিত গ্রাম? ঔদ্ধত্যের সঙ্গে সে জিজ্ঞাসা করল।

    গ্রামের লোকদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছিল যে, লোকটি লেখাপড়া জানা শহুরে লোক। কৃষকদের সাথে এসব লোক যখন কথা বলে তখন একটা ফাঁপা আভিজাত্যের ভাব তাদের আচরণে লক্ষ্য করা যায়। বয়স বা মর্যাদার প্রতি তাদের কোন শ্ৰদ্ধা নেই।

    হ্যাঁ স্যার, সর্দার জবাব দিলেন। এ গ্রামটায় আগে থেকেই শিখরা বাস করে। আমাদের কিছু মুসলমান প্রজা ছিল, ওরা চলে গেছে।

    তোমরা কি ধরনের শিখ? ছেলেটি জিজ্ঞাসা করল। তার অঙ্গভঙ্গিতে একটা তাচ্ছিল্যের ভাব প্রকাশ পেল। সে তার প্রশ্নের বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলল, তোমরা মরদ না হিজড়া শিখ?

    এ তোমরা এ প্রশ্নের জবাব কি, তা কেউ বলতে পারল না। গুরুদুয়ারায় দাঁড়িয়ে মহিলা ও শিশুদের সামনে এ ধরনের অশ্লীল কথারও কেউ প্রতিবাদ করল না।

    তোমরা কি জান, কয়টা ট্রেন ভর্তি হিন্দু ও শিখের মৃতদেহ এসেছে? রাওয়ালপিন্ডি, মুলতান, গুজরানওয়ালা ও শেখুপুরায় যে গণহত্যা হয়েছে তার খবর তোমরা রাখো? এ ব্যাপারে তোমরা কি করেছ? তোমরা শুধু খাচ্ছ, ঘুমাচ্ছ আর নিজেদের শিখ বলে দাবি করছ? হায়রে সাহসী শিখ! বীরের জাতি! সে আগের কথার সূত্র ধরে বলল, আর তাচ্ছিলের সঙ্গে হাত নাড়াল। তার কথার প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পায় কি না, সে তার তীক্ষ্ম চোখ দিয়ে চারদিকে তাকিয়ে নিরীক্ষণ করল। লোকগুলো লজ্জায় মাথা হেট করে রইল।

    কিন্তু আমরা কি করতে পারি সর্দারাজী? সর্দার প্রশ্ন করলেন। আমাদের সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে আমরা যুদ্ধ করব। মানো মাজরায় বসে বসে আম্নরা কি করব?

    সরকার! অবজ্ঞা ভরে ছেলেটি বলল, তোমরা আশা কর সরকার সব কিছু করে আগে পাকিস্তানের মুসলমানরা কি সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য দরখাস্ত করেছিল। ট্রেন থামিয়ে যুবক, বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশুদের হত্যু করার আগে ওরা কি সরকারের কাছে দরখাস্ত দিয়েছিল? তোমরা চাও সরকার সব কিছু করে দিক বাহ! সাবাস ব্ৰেভো! ছেলেটি রিভলবারের খাপটি দৃঢ়তার সাথে চেপে ধরল।

    কিন্তু সর্দার সাহেব, আমতা আমতা করে সর্দার বললেন, আমরা কি করব বলে দিন।

    ভাল কথা, ছেলেটি বলল, আমরা আলোচনা করতে পারি এ বিষয়ে। শোন, মন দিয়ে শোন আমার কথা। ছেলেটি থামল। চারদিকে একবার তাকিয়ে দেখল। প্রতিটি বাক্যই সে হাতের বুড়ো আঙ্গুল দুলিয়ে স্পষ্ট করে বলল দৃঢ়তার সাথে, ওরা একজন হিন্দু বা একজন শিখকে মারলে তোমরা অপহরণ করবে। দুজনকে। প্রতিটি ঘর লুঠ করার বদলে তোমরা দু’টো লুঠ করবে। একটা ট্রেন ভর্তি মৃতদেহের পরিবর্তে তোমরা পাঠাবে দু’টো ট্রেন ভর্তি মৃতদেহ। রাস্তায় একটা গাড়ি আক্রমণের শিকার হলে তোমরা আক্রমণ করবে। দু’টো গাড়ি। এ কাজ করলে সীমান্তের ওপারে। হত্যা বন্ধ হবে। ওরা বুঝতে পারবে যে, আমরাও হত্যা ও লুঠের খেলায় মেতেছি।

    তার কথায় কি ফল হলো তা অনুধাবনের জন্য সে থামল। তার কথা লোকগুলো অতি আগ্রহভরে শুনেছে। একমাত্র মিত সিং-ই তার কথায় প্রভাবিত হয়নি বলে মনে হলো। গলা পরিষ্কার করে তিনি কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেলেন।

    হ্যাঁ ভাই, চুপ করে রইলেন কেন? ছেলেটি যেন তাঁকে চ্যালেঞ্জ করে বলল।

    আমি বলতে চাই, থেমে থেমে মিত সিং বললেন। আমি বলতে চাই, একই কথা তিনি আবার বললেন। এখানকার মুসলমানরা আমাদের ওপর কি করেছে যে পাকিস্তানের মুসলমানদের জন্য তাদের ওপর আমরা প্রতিশোধ নেব? তাদের আমরা খুন করব? যারা দোষ করেছে তাদেরই কেবল শাস্তি পাওয়া উচিত।

    ছেলেটি ক্রুদ্ধভাবে মুক্ত সিং-এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। পাকিস্তানে হিন্দু ও শিখরা কি অপরাধ করেছিল যে, তাদের হত্যা করা হয়েছে? তারা কি নির্দোষ ছিল না। মহিলারা কি কোন অন্যায় কাজ করেছিল যে, তার জন্য তাদের ইজ্জত দিতে হয়েছে? শিশুরা কি কাউকে খুন করেছিল যে, তাদের পিতা-মাতার সামনে নির্বিচারে খুন করা হলো?

    মিত সিং বিচলিত হলেন। ছেলেটি তাঁকে আরও বিচলিত করতে চাইল। কেন। ভাই? কথা বলুন। কি করতে চান এখন তা-ও বলুন।

    আমি একজন বৃদ্ধ ভাই। কারও ওপর আমি হাত তুলতে চাই না। যুদ্ধেই হোক আছে কি? মহিলাদের ব্যাপারে আমাদের শেষ গুরু গোবিন্দ সিং কি বলেছিলেন তা তো আপনি জানেন। সবাইকে তিনি প্রতিজ্ঞা করিয়েছিলেন যে, কোন শিখ কোন মুসলমান মহিলাকে স্পর্শ করবে না। অথচ খোদা জানেন, মুসলমানদের হাতে তিনি কীভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন! ওরা তাঁর চার ছেলেকেই খুন করেছিল।

    এ ধরনের শিখবাদ অন্য কাউকে শেখাবেন, ঔদ্ধত্যের সাথে ছেলেটি বলল, তোমাদের মতো লোকই দেশের জন্য অভিশাপ। মহিলাদের সম্পর্কে গুরুর বাণী তুমি আমাদের শোনালে। মুসলমানদের সম্পর্কে তিনি কি বলেছিলেন তা তো বললে দু:স্ব সম্প্রদায়ের লোক মারা গেলে তুর্কদের সাথে বন্ধুত্ব করবে। একথা কি হাঁ। মৃদু স্বরে জবাব দিলেন মিত সিং। কিন্তু কেউ তো আপনাকে তাদের সাথে বন্ধুত্বের কথা বলছে না। তাছাড়া গুরুর সামরিক বাহিনীতে মুসলমানরাও ছিল….।

    গুরু যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন তাদেরই একজন তাঁকে ছুরিকাঘাত করে।

    মিত সিং অস্বস্তি বোধ করলেন।

    গুরু যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন তাদেরই একজন তাঁকে ছুরিকাঘাত করে, একই কথা আবার বলল ছেলেটি।

    হাঁ… খারাপ লোক সব জায়গাতেই আছে…।

    একজন ভাল লোকের উদাহরণ আমাকে বলুন।

    ছেলেটির সরস আলোচনায় মিত সিং পরাজয় বরণ করলেন। তিনি মাথা নিচু করে পায়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর নীরবতায় প্রমাণিত হলো যে, তিনি পরাজিত হয়েছেন।

    উনি নিজের মতে থাকুন। উনি একজন প্রবীণ ভাই। উনি প্রার্থনা নিয়েই থাকুন, উপস্থিত লোকদের মধ্যে অনেকেই একথা বলল।

    ছেলেটি খুশি হলো। সে সবাইকে উদ্দেশ্য করে আনন্দের সাথে বলল, সাবধান। আমি আবার বলছি সাবধান। মুসলমানরা তরবারি ছাড়া কোন যুক্তি জানে না। একথা কখনও ভুলবে না।

    উপস্থিত লোকদের মধ্যে মৃদু গুঞ্জন শোনা গেল। ঐ গুঞ্জন ধ্বনির মধ্য দিয়ে তারা ছেলেটির কথায় সমর্থন জানাল।

    গুরুর প্রিয় এমন কেউ কি এখানে আছে? শিখ সম্প্রদায়ের জন্য কেউ কি নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছে? সাহসী কেউ আছে কি? প্রতিটি বাক্যই সে চ্যালেঞ্জের মতো ছুড়ে দিল।

    গ্রামবাসীরা ভীষণ অস্বন্তি বোধ করল। ছেলেটি তার বক্তব্যের মাধ্যমে সবাইকে উত্তেজিত করতে পেরেছে এবং তারা তাদের বীরত্ব প্রমাণ করতে চায়। একই সাথে তারা মিত সিং-এর উপস্থিতির কারণে অস্বস্তি বোধ করল। তারা মনে করল, মিত সিং-এর সাথে তারা বেইমানী করছে।

    আমাদের কি করা উচিত? সর্দার জিজ্ঞাসা করলেন।, নিজের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে ছেলেটি বলল, আমাদের কি করতে হবে তা আমি বলে দেব। সে কাজ করতে তোমাদের অবশ্যই সাহসী হতে হবে। একটু থেমে ছেলেটি আবার বলল, আগামীকাল একটা ট্রেন মুসলমানদের নিয়ে ব্রিজ অতিক্রম করে পাকিস্তান যাবে। তোমরা যদি সত্যি সাহসী হও তাহলে তোমরা যত মৃতদেহ ট্রেন থেকে নামিয়েছিলে, ততু মৃতদেহ ট্রেনে করে ওপারে পাঠিয়ে দেবে।

    শীতল নীরবতার অনুভূতি উপস্থিত সবার মনেই ছড়িয়ে পড়ল। ওরা যেন কিংকৰ্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল!

    ঐ ট্রেনেই থাকছে মানো মাজরার মুসলমানরা, মাথা উঁচু না করেই মিত সিং বললেন।

    ভাই, আপনি বোধ হয় সব কুছুই জুনেন, তাই না? উত্তেজিত হয়ে যুবকটি বলল। আপনি কি ওদের ট্রেনের টিকিট দিয়েছন-না আপনার ছেলে রেলের বাবু? ট্রেনে যারা যাবে তারা কোথাকার মুসলমান আমি জানি না। আমি জানতেও চাই না। তারা মুসলমান, একথা জনাই আমার জন্য যথেষ্ট। জীবিত অবস্থায় তারা এ নদী পার হবে না। তোমরা যদি আমার সাথে একমত হও, তাহলে আলোচনা হতে পারে। যদি তোমরা ভয় পাও, তাহলে সে কথা এখনই বল। তোমাদের শুভ বিদায় জানিয়ে আমরা অন্য লোক খুঁজব, যারা সত্যি সাহসী।

    সবাই চুপ করে রইল। দীর্ঘ নীরবতা। ছেলেটি তার রিভলবারের খাপে একটা চাপড় দিয়ে ধীরে ধীরে তার চারপাশের উদ্বিগ্ন মুখগুলো নিরীক্ষণ করল।

    ব্রিজে সৈন্যরা পাহারা দিচ্ছে। মাল্লি বলল। সবার পিছনে অন্ধকারের মধ্যে সে দাঁড়িয়ে ছিল। মানো মাজরা গ্রামে এক আসার সাহস তার ছিল না। তবু সে এসেছে। সাহসের সাথে সে গুরুদুয়ারায় পা রেখেছে। দরজার কাছে তার দলের কয়েকজনকে দেখা গেল।

    সৈন্য বা পুলিশ নিয়ে তোমাদের চিন্তা করতে হবে না। কেউ তোমাদের কাজে বাধা দেবে না। এ ব্যাপারটা আমরা দেখব, ছেলেটি বলল। পিছন দিক তাকিয়ে সে আবার বলল, স্বেচ্ছাসেবক কেউ আছে। এখানে?

    আমার জীবন আপ্পনার হাতে, মাল্লি বীরের মতো বলল। জুগ্‌গা তাকে মেরেছে, এ খবর গ্রামের সবাই জানে। তার নিজের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা দরকার।

    সাবাশ, ছেলেটি বলল। শেষে একজন লোক পাওয়া গেল। শিখ ধর্ম প্রবর্তনের সময় গুরু পাঁচজনের জীবন প্রার্থনা করেছি। তাঁরা মানুষ নন, মহামানব। আমাদের প্রয়োজন পাঁচজনের চেয়ে অনেক বেশি। আর কে তার জীবন বিসর্জন দিতে আগ্রহী?

    মাল্লির চারজন সঙ্গী বারান্দায় উঠে এলো। তাদের অনুসরণ করল আরও অনেকে। এদের অনেকেই উদ্বাস্তু। গ্রামবাসীদের মধ্যে অনেকেই যারা গ্রামের মুসলমানদের চলে যাওয়ার কারণে চোখের পানি ফেলেছিল, তারাও স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াল। স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার জন্য যারাই হাত উঁচু করছিল,। ছেলেটি তাদের সাবাশ ধ্বনি দিয়ে উল্লসিত করে এক পাশে বসার আহবান জানাচ্ছিল। উদ্ধৃঙ্খল ঐ অভিযানে পঞ্চাশ জনেরও বেশী যোগ দিতে সম্মত হলো।

    যথেষ্ট হয়েছে, ছেলেটি বলল। আরও স্বেচ্ছাসেবীর প্রয়োজন হলে আমি তোমাদের বলব। আমাদের অভিযান সফল হওয়ার জন্য এসো আ৷ প্রার্থনা করি।

    সবাই দাঁড়াল। যে স্থানটিতে পবিত্র গ্ৰন্থখানি রাখা আছে, সেই স্থানের দিকে সবাই মুখ করে দু’হাত এক করে প্রার্থনা করল।

    ছেলেটি মিত সিং-এর দিকে ফিরে কটাক্ষ করে বলল, ভাইজি, আপনি কি প্রার্থনা পরিচালনা করবেন?

    এটা আপনার অভিযান সর্দার সাহেব, বিনয়ের সাথে মিত সিং বললেন, আপনিই প্রার্থনা পরিচালনা করুন।

    ছেলেটি গলা পরিষ্কার করে চোখ বন্ধ করল এবং তারপর গুরুদের নাম উচ্চারণ করল। এই অভিযানে গুরুর আশীৰ্বাদ কামনা করে সে প্রার্থনা শেষ করল। সমবেত লোকেরা নতজানু হয়ে বসে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে উচ্চ স্বরে ঘোষণা করল:

    গুরু নানকের নামে
    সবার মনে বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হোক
    এই আশায়
    দয়াময়ের রহমতে
    এই বিশ্বে আমরা প্রতিষ্ঠিত করি
    শুধু শুভ কামনা।

    সমবেত সবাই দাঁড়িয়ে ঘোষণা করল:

    শিখ জাতি শাসন করবে
    তাদের শক্ররা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হবে
    কেবল তারাই রক্ষা পাবে
    যারা আশ্ৰয় প্রার্থনা করবে!

    ছোট এই অনুষ্ঠানটি শেষ হলো শুভ সকাল ধ্বনির মধ্য দিয়ে। ছেলেটি ছাড়া আর সবাই আবার বসল মেঝের ওপর। এই প্রার্থনা ছেলেটিকে বিনম্রর ছদ্মবেশ পরিয়ে দিয়েছে। সে হাত জোড় করে সমবেত লোকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলল :

    ভাই ও বোনেরা গভীর রাতে আপনাদের বিরক্ত করার জন্য আমাকে ক্ষমা করবেন। ভাইজি ও সর্দার সাহেব, আপনারও ক্ষমা করবেন। এই অসুবিধার জন্য এবং আমি কোন কটু কথা বলে থাকলে আপনারা দয়া করে মাফ করবেন। সব কিছু করা হচ্ছে গুরুর সেবায়। স্বেচ্ছাসেবীরা, তোমরা পাশের কামরায় যাও। আপনারা বিশ্রাম গ্ৰহণ করুন। শুভ বিদায়।

    শুভ বিদায়, উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বলল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনোরা – হেনরিক ইবসেন
    Next Article পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }