Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ট্রেন টু পাকিস্তান – খুশবন্ত সিং

    খুশবন্ত সিং এক পাতা গল্প260 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.০৪ রেল ব্রিজের উত্তর পাশে

    রেল ব্রিজের উত্তর পাশে অফিসারদের একটা রেস্ট হাউস থাকায় প্রশাসনিক দিক থেকে মানো মাজরার কিছুটা গুরুত্ব ছিল। ইটের তৈরী ঘরটার ছাদ সমান্তরাল, নদীর দিকে একটা বারান্দা। চারদিকে প্রাচীর দেয়া জমির মাঝখানে এই রেষ্ট হাউস। মূল গেট থেকে বারান্দা পর্যন্ত ইটের তৈরী একটা রাস্তা৷ রাস্তার দুধারে উঁচু করে কোণাকুণিভাবে ইট বসানো। রাস্তার দুপাশে বাগান। বাগানের মাটি শক্ত, আগাছা বলতে কিছু নেই। ফলে মাটিতে ফাটল ধরার প্রশ্ন নেই এবং মাটি একেবারে সমান। বারান্দার আশেপাশে ও রেষ্ট হাউসের পিছন দিকে সার্ডেন্ট কোয়াটারের কাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কয়েকটা জুই ফুলের গাছ। ব্রিজ নির্মাণের সময় রেস্ট হাউসটি বানানো হয়। যে প্রকৌশলী এ ব্রিজের নির্মাণ কাজ দেখাশোনা করতেন, তিনিই ওখানে থাকতেন। ব্রিজ নির্মাণ শেষ হওয়ার পর রেষ্ট হাউসটি সিনিয়র অফিসারদের সাধারণ সম্পত্তিতে পরিণত হয়। রেস্ট হাউসটি নদীর তীরে হওয়ার কারণে মোটামুটিভাবে সবার কাছেই আকর্ষণীয় ছিল। এর আশেপাশে আছে অনাবাদী মাঠ, বন-জঙ্গল ও বিভিন্ন ধরনের গাছ। এছাড়াও আছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিতির-পাখির ডাক। শীতকালে নদীর পানি কমে গেলে নদীতীরের জলাভূমিতে গজিয়ে ওঠে নল খাগড়ার গাছ। পুকুরটা তখন আলাদা অস্তিত্ব নিয়েই টিকে থাকে। রাজহাঁস, বুনো হাঁস, বালি-হাস এবং এমন ধরনের অনেক জলচর পাখির আগমন ঘটে। এখানে। বড় জলাশয়ে দেখা যায় রুই, মালি ও মাহসি মাছের প্রাচুর্য।

    সারা শীতকাল ধরে অফিসাররা তাঁদের ভ্ৰমণ তালিকা এমনভাবে তৈরি করেন। যেন মানো মাজরার রেক্ট হাউসে সাময়িকভাবে যাত্রাবিরতি করা যায়। সূর্যোদয়ের সময় তাঁরা বেরোন জলচর পাখি শিকারে, দিনে যান তিতির পাখি ধরতে এবং বিকেলে যান মাছ ধরতে। ভ্রমণ শেষে ফিরে আসার সময় তাঁরা সন্ধ্যার দিকে যান হাঁস শিকার করতে। বসন্তকালে আসেন আবেগপ্রবণ লোকেরা তাঁদের অতীত স্মৃতি রোমন্থন করতে। মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে দেখেন উজ্জ্বল কমলার মত বিনম্র সূর্যটক, উপভোগ করেন নদীর পানিতে ডুবন্ত সূর্যের গাঢ় লাল রঙের আভা। জলাভূমিতে ব্যাঙের ডাক ও চলন্ত ট্রেনের গুড়গুড় শব্দ শুনে তাঁরা সময় কাটান। ব্রিজের খিলানের মধ্য দিয়ে ওপরে চাঁদ ওঠার সময় তাঁরা দেখেন নল খাগড়ার বনে জোনাকি পোকার আলোর ঝালকানি। নিঃসঙ্গতা যাঁদের কাম্য, তাঁরাই কেবল মানো মাজরার রেষ্ট হাউসে আসেন গ্ৰীষ্মকালে। বর্ষাকাল শুরু হলেই পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তরঙ্গাকারে ফুলেফেপে ওঠা শক্রিয় নদীর প্রবাহিত স্রোতের দৃশ্য যেমন চমৎকার তেমনি তা ভয়াবহ।

    মানো মাজরায় ডাকাতি হওয়ার দিন সকালে রেস্ট হাউসকে সজ্জিত করা হল একজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথিকে বরণ করার জন্য। সুইপার বাথরুম পরিষ্কার করুল, ঘরের মেঝে মুছল এবং রাস্তায় পানি ছিটিয়ে দিল। বেয়ারা ও তার স্ত্রী আসবাবপত্রের ধুলো মুছে তা সুন্দর ও পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখল। সুইপারের ছেলে ঘরের ভিতর দিককার ছাদের সাথে বাধা হাওয়া পাখার দড়ির ছিড়ে যাওয়া অংশ ঠিক করে তা দেওয়ালের ছিদ্র দিয়ে বাইরে বের করে দিল বারান্দায় বসে পাখা টানার জন্য। নতুন লাল কাপড় পরে সে বারান্দায় বসে দাঁড়িতে গিট দিয়ে মাপ ঠিক করে নিল। বাবুর্চিখানা থেকে হাওয়ায় ভেসে আসতে লাগল মুরগী রান্নার গন্ধ।

    বেলা এগারটার দিকে রেস্ট হাউসে সাইকেল চেপে এল একজন পুলিশ সাবইন্সপেক্টর ও দু’জন কনস্টেবল। তাদের উদ্দেশ্য, রেষ্ট হাউসের আয়োজন ঠিকমত হয়েছে কিনা তা দেখা। এরপর এল সাদা ইউনিফরম পরা দু’জন চাপরাশি। তাদের কোমরে লাল ফিতা আর মাথায় সামনের দিকে উপচে পড়া চওড়া ফিতাসহ টুপি। ঐ চওড়া ফিতায় পিন দিয়ে আটকানো পাঞ্জাব সরকারের পিতলের প্রতীকঢেউখেলানো পাঁচটা রেখার ওপর দিয়ে সূর্য উঠছে। এই পাঁচটা রেখা হল পাঞ্জাব প্রদেশের পাঁচটা নদীর প্রতীক। তাদের সাথে এল কয়েকজন গ্রামবাসী। তারা বহন করে আনল বাক্স-পেটরা ও উজ্জ্বল ক্যালো ফাইলে মোড়া সরকারী চিঠিপত্র।

    আরও ঘন্টাখানেক পরে ধূসর রঙের একটা বড় মার্কিন গাড়ী রেস্ট হাউস চত্বরে প্রবেশ করল। চাপরাশি সামনের সীট থেকে নেমে পিছনের দরজা খুলে দিল তার প্রভুর জন্য। সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবলরা সামনে এসে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে তাঁকে সালাম জানাল। গ্রামবাসীরা দাঁড়িয়ে রইল সম্মানজনক দূরত্বে। চাপরাশি তারের জালিবিশিষ্ট দরজা খুলে দিল। এই দরজা দিয়েই যেতে হয় বসার ও শোয়ার ঘরে। জেলার ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কমিশনার মি: হুকুম চাঁদ তাঁর মাংসল দেহটা নিয়ে গাড়ী থেকে নামলেন। সারা সকাল ধরে তিনি গাড়ীতেই ভ্রমণ করছিলেন এবং এজন্য তিনি ছিলেন ক্লান্ত ও রুক্ষ। তাঁর দুই ঠোঁটের মাঝে আটকে পড়া সিগারেটের ধোঁয়া তাঁর চোখে গিয়ে ঢুকল। তাঁর ডান হাতে ছিল সিগারেটের টিন ও দেশলাই। তিনি কয়েক কদম এগিয়ে সাব-ইন্সপেক্টরের কাছে গেলেন এবং হৃদ্যতার সাথে তাঁর পিঠ থাপড়ে দিলেন। অন্যরা তখনও সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

    আসুন ইন্সপেক্টর সাহেব, আসুন, বললেন হুকুম চাঁদ। তিনি ইন্সপেক্টরের ডান হাত ধরে একেবারে কামরার মধ্যে নিয়ে গেলেন। চাপরাশি ও ডেপুটি কমিশনারের ব্যক্তিগত কর্মচারীরা তাদের অনুসরণ করল। ড্রাইভার গাড়ী থেকে মালপত্র বের করছিল। কনষ্টেবলরা তাকে সাহায্য করল।

    হুকুম চাঁদ সরাসরি বাথরুমে গিয়ে ঢুকলেন। মুখের ধুলোবালি পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে তিনি বাইরে এলেন। তখনও তিনি তোয়ালে দিয়ে মুখের পানি মোছার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। সাব-ইন্সপেক্টর পুনরায় উঠে দাঁড়ালেন।

    বসুন, বসুন, তিনি আদেশ দিলেন।

    তিনি বিছানার ওপর তোয়ালে রেখে আরাম কোদারায় বসলেন। পাখা আগে পিছে করতে লাগল। দেওয়ালের ছিদ্র দিয়ে দড়ি টানার ফলে বিরক্তিকর শব্দ হতে লাগল। একজন চাপরাশি ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের জুতা মোজা খুলে পা টিপতে শুরু করল। হুকুম চাঁদ সিগারেটের টিন খুলে সাব-ইন্সপেক্টরের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সিগারেট ধরিয়ে নিজেরটা ধরালেন। হুকুম চাঁদের সিগারেট টানার পদ্ধতি এমনই যে, তাতে প্ৰকাশ পায় তিনি নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। তিনি শব্দ করে সিগারেট টানেন, মুষ্টিবদ্ধ হাতে মুখ দিয়ে তিনি সিগারেট টানেন। তিনি আঙ্গুলো তুড়ি দিয়ে সিগারেটের ছাই ফেলেন। অপরদিকে যুবক সাব-ইন্সপেক্টরের সিগারেট টানার পদ্ধতি ছিল মোটামুটি আধুনিক।

    বলুন ইন্সপেক্টর সাহেব, দিনকাল কেমন চলছে?

    ইন্সপেক্টর সাহেব দুই হাত নমষ্কারের ভঙ্গী করে বললেন, স্ৰষ্টা দয়ালু। আমরা শুধু আপনার কৃপা প্রার্থনা করি।

    এ এলাকায় কোন সাম্প্রদায়িক সমস্যা নেই?

    এখনও পর্যন্ত ঐ সমস্যা থেকে আমরা মুক্ত আছি, স্যার। পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু ও শিখ উদ্বাস্তু দল এ পথ দিয়ে গিয়েছে। কিছু মুসলমানও এ পথ দিয়ে ওপারে গিয়েছে। কিন্তু কোন সমস্যার সম্মুখীন আমরা হইনি।

    আপনি সীমান্তের এপারে মৃত শিখদের আনতে দেখেননি? তাদের আনা হচ্ছে অমৃতসরে। তাদের মধ্যে কেউ বেঁচে নেই। ওপারে হত্যা চলছে। হুকুম চাঁদ তাঁর দুই হাত উচু করে জোরে উরুর ওপর ছেড়ে দিলেন হতাশভাবে। সিগারেটের আগুন থেকে একটা টুকরা তাঁর প্যান্টের ওপর পড়ল। সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব অতি দ্রুততার সাথে হাত বাড়িয়ে তা নিভিয়ে দিলেন।

    আপনি জানেন, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব বললেন, শিখরা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য একটা মুসলমান উদ্বাস্তু ট্রেনে আক্রমণ করে। প্রায় এক হাজারের বেশি লোককে হত্যা করে সব মৃতদেহ সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেয়। তারা ট্রেনের ইঞ্জিনের বগিতে লিখে দেয়, পাকিস্তানের জন্য উপহার।

    সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব চিন্তান্বিত হয়ে মাথা নত করলেন। তিনি উত্তরে বললেন, তারা বলে যে, সীমান্তের ওপারে হত্যা বন্ধ করার ওটাই একটা পথ। পুরুষের বদলে পুরুষ, মহিলার বদলে মহিলা, শিশুর বদলে শিশু। কিন্তু আমরা হিন্দুরা তাদের মত নই। সত্য সত্যই আমরা এই ছোরা খেলায় মেতে উঠতে পারি না। সামনাসামনি যুদ্ধ হলে আমরা যে কোন লোকের মোকাবিলা করতে পারি। আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের আর. এস. এস ছেলেরা সব শহরে মুসলমানদের পিটিয়ে দিয়েছে। শিখরা তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। তারা তাদের সাহস হারিয়ে ফেলেছে। তারা শুধু বড় কথা বলে। আমরা এখানে এই সীমান্তে দেখছি, শিখ অধুষিত গ্রামে মুসলমানরা এমনভাবে বসবাস করছে যেন কিছু হয়নি। মানো মাজরার মত গ্রামে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় মোয়াজ্জিন আজান দিচ্ছে। শিখরা এটা করতে দিচ্ছে কেন জিজ্ঞাসা করলে তারা জবাব দেয়, মুসলমানরা তাদের ভাই। আমি নিশ্চিত যে, তারা তাদের কাছ থেকে টাকা পায়।

    হুকুম চাঁদ তাঁর প্রশস্ত কপালে হাত দিয়ে মাথার চুলের দিকে নিয়ে গেল। টাক পড়ার জন্য তাঁর কপাল ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে প্রশস্ত।

    এ এলাকার কোন মুসলমান কি সচ্ছল আছে?

    বেশি নয়। স্যার। তাদের প্রায় সবাই তাঁতী নয়তো কুমোর।

    কিন্তু চন্দননগর তো একটা ভাল থানা বলে পরিচিত। এখানে অনেক খুন হয়, অবৈধ চোলাই মদের কারখানা বেশি আর শিখ কৃষকরা বেশ সম্পদশালী। আপনার পূর্বসূরীরা এখানে থেকেই শহরে বাড়ী তৈরি করেছে।

    আপনি বোধ হয় স্যার আমার সাথে কৌতুক করছেন।

    আপনিও যদি কিছু করেন তাতে আমার মনে করার কিছু নেই। যা পারেন নিয়ে নিন, অবশ্য সীমার মধ্যে। সবাই এ কাজ করছে। শুধু সতর্ক থাকবেন। এ ধরনের সব কিছু নির্মূল করার কথা নতুন সরকার খুব বড় গলায় বলছে। কয়েক মাস পরে তাদের উৎসাহ কমে যাবে এবং সব কিছু আগের মতই চলবে। রাতারাতি সব কিছু পরিবর্তন করার চেষ্টা বৃথা।

    তারাই শুধু একথা বলছে না। দিল্লী থেকে যারা আসছে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করে দেখুন, তারা বলবে যে, সব গান্ধীবাদীরা টাকার, পাহাড় গড়ে তুলছে। তারা সব সারস পাখীর মতো সাধু! তারা বকধার্মিকের মত চোখ বন্ধ করে থাকে। আর সাধনায় মগ্ন যোগীর মত এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে; হাতের কাছে মাছ আসলেই তারা খপ করে ধরে ফেলে।

    পা টেপায় রত চাকরকে হুকুম চাঁদ কিছু বিয়ার আনার আদেশ দিলেন। চাকর বাইরে গেলে তিনি তাঁর একটা হাত সাব-ইন্সপেক্টর সাহেবের হাঁটুর ওপর রাখলেন সস্নেহে।

    আপনি শিশুর মত হঠকারী কথা বলেন। এ রকম করলে একদিন আপনি বিপদে পড়বেন। আপনার নীতি হবে সব কিছু দেখা এবং কোন কথা না বলা। বিশ্ব খুব দ্রুত পালটে যাচ্ছে। আপনি চাইলেও কারও মতের সাথে নিজেকে মিশিয়ে দিতে পারবেন না বা আপনার দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের সাথে মিলবে না। কোন বিষয়ে আপনি দৃঢ়ভাবে কিছু বিশ্বাস করলেও চুপ থাকার শিক্ষা গ্রহণ করুন।

    সাব-ইন্সপেক্টর সাহেবের মন কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠল। তিনি কড়া সমালোচনামূলক পিতার মত উপদেশ আরও কামনা করলেন। তিনি জানতেন যে, হুকুম চাঁদ তাঁর সাথে একমত হবেন।

    অনেক সময় স্যার, কেউ নিজেকে সংযত রাখতে পারে না। দিল্লীতে বসে গান্ধী টুপি পরে তারা পাঞ্জাব সম্পর্কে কি জানে? সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানে কি ঘটছে তা তাদের কাছে কোন বিষয়ই নয়। তারা তাদের বাড়ী বা সম্পত্তি হারায় নি, তাদের মা, স্ত্রী, বোন, কন্যা রাস্তায় ধর্ষিতা হয়নি, খুন হয়নি। শেখুপুরা ও গুজরানওয়ালায় হিন্দু ও শিখ উদ্বাস্তুদের ওপর সবার চোখের সামনে মুসলমানরা কি করেছে তা কি আপনি শুনেছেন? ঐ হত্যাযজ্ঞে পাকিস্তান পুলিশ ও মিলিটারী অংশ নিয়েছে। তাদের কেউ বেঁচে নেই। মহিলারা নিজেদের সন্তানকে হত্যা করে ঝাঁপ দিয়েছে কুয়ার মধ্যে। কুয়া ভর্তি হয়েছে মৃতদেহে।

    হরে রাম, হরে রাম, গভীর দুঃখের সাথে বললেন হুকুম চাঁদ। আমি সব কিছু জানি। হিন্দু মহিলার বৈশিষ্ট্যই ঐ রকম। তারা এমনই পবিত্র যে, পরপুরুষে স্পর্শ করার চেয়ে তারা আত্মহত্যা করাকে শ্ৰেয় মনে করে। কোন মহিলার ওপর আমরা হিন্দুরা কখনও হাত তুলি না। কিন্তু দুর্বল মহিলাদের প্রতি মুসলমানদের কোন শ্রদ্ধা নেই। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের কি করা উচিত? এখানে ঐ রকম ঘটনা শুরু হওয়ার আগে এটা কতদিন চলবে?

    মানো মাজরা হয়ে কোন লাশভর্তি ট্রেন আসবে না বলে আমার বিশ্বাস। যদি আসে তাহলে প্রতিশোধ গ্ৰহণ ঠেকানো অসম্ভব হবে। আমাদের চারপাশে শত শত ছোট গ্রাম আছে মুসলমানদের। মানো মাজরার মত অনেক শিখপ্রধান গ্রামে বহু মুসলিম পরিবারও আছে, কিছুটা আশার বাণী শুনিয়ে বললেন সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব।

    হুকুম চাঁদ বেশ শব্দ করে সিগারেটে টান দিয়ে আঙ্গুলো তুড়ি দিয়ে ছাই ঝাড়লেন।

    কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বললেন, আমাদের অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। সম্ভব হলে মুসলমানদের শান্তিপূর্ণভাবে চলে যেতে দিন। রক্ত ঝরিয়ে সত্যিকারের কেউ লাভবান হয় না। অসৎ চরিত্রের লোকেরা লুঠতরাজ চালাবে আর সরকার আমাদের হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করবে না ইন্সপেক্টর সাহেব, তা হতে পারে না। আমাদের উদ্দেশ্য যা-ই থাক না কেন, একমাত্র সৃষ্টিকর্তা জানেন, সরকারী কর্মকর্তা না হলে এসব পাকিস্তানীদের আমি কি করতাম-আমরা কাউকে হত্যা করতে বা কারও সম্পত্তি ধ্বংস করতে দেব না। তারা চলে যাক। তবে খেয়াল রাখবেন, তারা যেন সাথে বেশি কিছু নিয়ে না যায়। পাকিস্তানের হিন্দুদের চলে আসার অনুমতি দেওয়ার আগে তাদের সব কিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানী ম্যাজিস্ট্রেটরা রাতারাতি কোটিপতি হয়েছে। আমাদের এখানকার কেউ কেউ কিছু করেছে, কিন্তু অতটা করতে পারেনি। যেখানে হত্যা ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে সরকার তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা বদলি করেছে। কোন হত্যাযজ্ঞ নয়। হবে শান্তিপূর্ণ উদ্বাসন।

    ভৃত্যটি এক বোতল বিয়ার এনে হুকুম চাঁদ ও সাব-ইন্সপেক্টর সাহেবের সামনে দু’টো গ্লাস রাখল। সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব গ্রাসটা হাতে নিয়ে প্রতিবাদের ভঙ্গিতে বললেন, না স্যার, আমি শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে আপনার সামনে বসে। বিয়ার পান। করতে পারিনে।

    ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব সরাসরি ঐ প্রতিবাদ নাকচ করে দিয়ে বললেন, আপনাকে আমার সাথে বসে বিয়ার পান করতে হবে। এটা আমার আদেশ। বেয়ারা, ইন্সপেক্টর সাহেবের গ্লাস ভরে দাও। তাঁর জন্য মধ্যাহ্ন ভোজেরও ব্যবস্থা কর।

    সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব তাঁর গ্লাস বেয়ারার দিকে এগিয়ে দিলেন। আপনি আদেশ দিলে আমি অমান্য করতে পারি না। তিনি তাঁর মাথার পাগড়ি খুলে টেবিলের ওপর রাখলেন। শিখদের পাগড়ি যেমন খোলার পর বাঁধতে হয়, এই পাগড়ি তেমন নয়। এটা হল তিন গজ লম্বা শক্ত খাকি মসলিনের কাপড়ের চারপাশে নীল বেষ্টনীবিশিষ্ট টুপি, যা টুপির মত যখন-তখন পরা ও খোলা যায়।

    মানো মাজরার পরিস্থিতি কেমন?

    এখনও পর্যন্ত সব ঠিক আছে। গ্রামের মোড়ল নিয়মিত খবর দিচ্ছে। এ গ্রামের মধ্য দিয়ে এখনও কোন উদ্বাস্তু আসেনি। আমি নিশ্চিত, মানো মাজরার কেউ এখনও জানেই না যে বৃটিশরা চলে গেছে এবং দেশটা পাকিস্তান ও হিন্দুস্থানে ভাগ হয়ে গেছে। অনেকে গান্ধীর নাম শুনেছে, কিন্তু জিন্নাহর নাম কেউ শুনেছে বলে আমার সন্দেহ আছে।

    খুব ভাল। মানো মাজরার ওপর আপনি দৃষ্টি রাখবেন। সীমান্তের কাছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম। এটা ব্রিজেরও খুব কাছে। গ্রামে কোন অসৎ চরিত্রের লোক আছে?

    মাত্র একজন স্যার। তার নাম জুগ্‌গা। আপনি দয়াপরবশ হয়ে তাকে গ্রামেই নজরবন্দী করে রেখেছেন। সে প্রতিদিনই মোড়লের কাছে রিপোর্ট করে এবং সপ্তাহে একবার থানায় হাজিরা দেয়।

    জুগ্‌গা? সে কে?

    আপনার বোধ হয় ডাকাত আলম সিং-এর কথা স্মরণ আছে, দুবছর আগে যার ফাঁসি হয়েছিল। জুগ্‌গাত্ সিং তারই ছেলে। বেশ লম্বা। এ এলাকায় সে-ই সবার চেয়ে লম্বা। ছ’ফুট চার ইঞ্চি তো হবেই। মোটাও তেমনি। শক্ত সমর্থ ষাঁড়ের মত।

    ও হ্যাঁ, আমার মনে পড়ছে। সে খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য কিছু করে? প্রতি মাসেই তো সে একটা না একটা মামলায় আমার সামনে হাজির হয়।

    সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব খোলা মনেই হাসলেন। স্যার, পাঞ্জাবের পুলিশ যা করতে পারেনি, ষোল বছরের একটি মেয়ের, দু’টো চোখের যাদুই তা করেছে।

    হুকুম চাঁদের উৎসাহ বেড়ে গেল।

    তার সাথে কি সম্পর্ক আছে? তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।

    হ্যাঁ, এক মুসলমান তাঁতীর মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক আছে। মেয়েটি কালো, তার চোখ দু’টো অধিক কালো। সে-ই জুগ্‌গাকে গ্রামে আটকে রেখেছে। ঐ মুসলমানের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই। মেয়েটির অন্ধ পিতা গ্রামের মসজিদের মোল্লা।

    বেয়ারা দুপুরের খাবার না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা দুজন বিয়ার পান করলেন এবং সিগারেট জ্বালালেন একটার পর একটা। খাওয়ার পরও তারা দুজনে বিয়ার পান করলেন, সিগারেট ধরালেন এবং জেলার পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করলেন বিকেল পর্যন্ত। বিয়ার ও বেশি খাবার খাওয়ার জন্য হুকুম চাঁদের চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসতে লাগল। সূর্যের কিরণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বারান্দার চিক নীচু করে দেওয়া হয়েছিল। টানা পাখা চলছিল ধীরে ধীরে। হুকুম চাঁদ ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন। তিনি তাঁর রূপার দাঁত খিচুনি বের করে দাঁতের ফাঁকে ঢোকালেন এবং টেবিলের ওপর পাতা কাপড়ে তা মুছলেন। এত কিছু করেও তিনি ঘুমঘোর থেকে অব্যাহতি পেলেন না। সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব লক্ষ্য করলেন যে, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব নাক ডাকছেন। তিনি বিদায় নেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন।

    আমাকে স্থান ত্যাগ করার অনুমতি দিন স্যার।

    আপনি বিশ্রাম নিতে পারেন, পাশেই একটা বিছানা আছে।

    আপনি মেহেরবান স্যার। স্টেশনে আমার কিছু কাজ আছে। আমি দুজন কনষ্টেবলকে রেখে যাচ্ছি। আপনি যদি আমার উপস্থিতি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তারা আমাকে ডেকে দেবে।

    ঠিক আছে, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ইতস্তত করে বললেন, আপনি কি রাতের জন্য কোন ব্যবস্থা করেছেন?

    ঐ ব্যাপারটা খেয়ালে না রাখা কি আমার পক্ষে সম্ভব? সে যদি আপনাকে খুশি করতে না পারে তাহলে আপনি আমাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করে দেবেন। আমি ড্রাইভারকে বলে দেব, কোথায় যেতে হবে এবং কাকে আনতে হবে।

    সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব তাঁকে সালাম জানিয়ে চলে গেলেন। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব বিছানায় গা এলিয়ে দিলেন এবং দিবানিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনোরা – হেনরিক ইবসেন
    Next Article পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }