Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল – চিত্রা দেব

    চিত্রা দেব এক পাতা গল্প344 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. হেমেন্দ্রনাথের মেয়েদের কথা

    আবার হেমেন্দ্রনাথের মেয়েদের কথায় ফিরে আসা যাক। প্রতিভা ও প্রজ্ঞার আরো ছটি গুণবতী বোন ছিলেন। তাঁদের সেজ বোন অভিজ্ঞাসুন্দরী বেঁচে আছেন সকলের স্মৃতিকথায়। তাকে অনেকেই দেখেননি কিন্তু যারা দেখেছিলেন তারা আর ভোলেননি। সবাইকে অবাক করা এই মেয়েটিই রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে প্রিয় ভাইঝি অভি। তার গলায় নিজের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যেতেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। শিলাইদহে থাকতে থাকতে অভিজ্ঞার গান শোনবার জন্যে তার মন উঠত হু হু করে। ইন্দিরাকে লেখা চিঠিতেও সেই ব্যাকুলতার আভাস, অভির মিষ্টি গান শোনবার জন্যে আমার এমনি ইচ্ছে করে উঠল যে তখন বুঝতে পারলুম, আমার প্রকৃতির অনেকগুলি ক্রন্দনের মধ্যে এও একটা ক্রন্দন ভিতরে ভিতরে চাপ ছিল।

    কি ছিল অভিজ্ঞার কণ্ঠে?

    অকালে, নিতান্ত অসময়ে হারিয়ে যাওয়া এই কিশোরীর কণ্ঠে কোন অনির্বচনীয় মাধুরী ধরা পড়ত, কে দেবে উত্তর? যারা দিতে পারতেন তারা সবাই তো পরলোকে। শোনা গেছে, রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনের গানগুলি : অভিজ্ঞার কণ্ঠে মূতি লাভ করত। হিন্দী গানও অভিজ্ঞ মর্মস্পর্শী করে গাইতে পারতেন। ছায়ানটের ঠারি রহো মের আঁখন আগে গানটি কিশোরী অভির। কণ্ঠে শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন প্রমথ চৌধুরী। ঠাকুরবাড়িতে তখন সুবর্ণযুগ চলছে। রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টির আপন খেয়ালে তন্ময়। একের পর এক লিখে চলেছেন বাল্মীকিপ্রতিভা, কালমৃগয়া, মায়ার খেলা। আর ক্লান্তিহীন কণ্ঠে তাকে রূপ দিয়ে চলেছেন অভিজ্ঞ।

    করুণ গানে অভিজ্ঞার জুড়ি ছিল না। বাল্মীকি প্রতিভার পর কবি লিখলেন কালমৃগয়া! বিদ্বজ্জনসভায় আবার এলেন অতিথিরা। ১৮৮২ সালের ২৩শে ডিসেম্বর, জমাট কুয়াশাভরা শীতার্ত সন্ধ্যা। তাদের সামনে শুরু হল কালমৃগয়া। বাল্মীকিপ্রতিভায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন প্রতিভা, এবার মঞ্চে অবতরণ করলেন অভিজ্ঞ। লীলার ভূমিকায় অভিজ্ঞর অভিনয় দেখে অনেকেই সেদিন চোখের জল রাখতে পারেননি। এই অভিনয়ে রবীন্দ্রনাথ সেজেছিলেন অন্ধমুনি আর জ্যোতিরিন্দ্রনাথ দশরথ। কিন্তু অভিজ্ঞার অভিনয় সবার মনে যতটা দাগ কেটেছিল তার কাকারাও ততটা পারেননি। ভারতবন্ধু কাগজের সমালোচক লিখেছেন, লীলার গান শুনলে পাষাণ হৃদয়ও বিগলিত হয়।

    অভিজ্ঞার পাষাণ-গলানো গনি আর শোনা গেছে বাল্মীকি প্রতিভা অভিনয়ের সময়ে। হাত বাঁধা বালিকা সেজে তিনি যখন গাইলেন, হা কী দশা হল আমার তখন বাঙালী দর্শকরা কেঁদে ভাসিয়ে দিলেন–এ একেবারে অবনীন্দ্রনাথের নিজের চোখে দেখা। আরো কিছু দিন পরে অভিজ্ঞ একটু বড় হয়েছেন। কণ্ঠে মাধুরীর সঙ্গে মিশেছে দরদ। ভালবাসার কুঁড়ি ধরল তাতে রবীন্দ্রনাথ এবার লিখলেন মায়ার খেলা। কথা ও সুরের সত্যিকারের মিলন হল যেন। তাকে আরো সুন্দর করে তুলল অভিজ্ঞার কণ্ঠ। ইন্দিরা ও তার স্বামী প্রমথনাথের সাক্ষ্যে জানা যায়, অভিজ্ঞ এ,সনে বসে বাল্মীকিপ্রতিভা বা মায়ার খেলার সমস্ত গান গাইতে পারতেন। বাল্মীকি প্রতিভার সমস্ত গান অভিজ্ঞার মতো মর্মস্পর্শী করে গাইতে প্রমথনাথ আর কাউকে শোনেননি। অপর দিকে মায়ার খেলার গান শুনে বহু দিন পরে প্রায়-বৃদ্ধ অবন ঠাকুরের স্মৃতি উদ্বেল হয়ে ওঠে, হায়, যে ওসব গান গাইবে সে মরে গেছে। সেই পাখির মতো আমাদের ছোট বোনটি চলে গেছে।…সে সুরে যে গাইত সে পাখি মরে গেছে। অভিজ্ঞা তাই স্মৃতি হয়েও যেন স্মৃতি নন। যে একবার তার গান শুনেছে সে-ই তাকে মনে রেখেছে।

    মায়ার খেলায় অভিজ্ঞ নিতেন শান্তার ভূমিকা। শান্তার করুণ-মধুর বিষণ্ণতা অভিজ্ঞার কণ্ঠে জীবন পেত। পরে বির্জিতলায় আরেকবারের অভিনয়ে ইন্দিরা নিয়েছিলেন শান্তার ভূমিকা, কারণ শান্তার ভূমিকাভিনেত্রী তখন আর ইহলোকে নেই। অভিজ্ঞ ছিলেন শান্ত, গম্ভীর, রোদনভরা বিষণ্ণ। দেহ বলে তার কোন জিনিষ ছিল না, মুখের মধ্যে দুটি বড় বড় জীবন্ত চোখ ছিল। আর সে চোখ দুটি মাধুর্যপূর্ণ। নিষ্ঠুর শিকারীর অব্যর্থ লক্ষ্যভে েরিত হয়েছিল। বুঝি পাখির মতো কোমল হৃদয়। কালব্যাধি যে তলে তলে বাসা বেঁধেছে সে কথা কেউ বুঝতেই পারেনি। বিয়ের রাতে ঘটল অঘটন। অনুষ্ঠানের শেষেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হঠাৎ জ্বর, প্রবল জ্বর। দিনে দিনে অসুখ বেড়ে চলে এবং জানা যায় দুরারোগ্য ক্ষয় রোগ তাকে গ্রাস করে ফেলেছে। চিকিৎসার অসাধ্য। কৃশপাণ্ডুর চাঁদের মতোই একমাসের মধ্যে হারিয়ে গেলেন অভিজ্ঞ। মৃত্যু হল জোড়াসাঁকোর বাড়িতেই। চিকিৎসক স্বামী বধূকে আরোগ্য করবার সুযোগই পেলেন না।

    অভিজ্ঞার মৃত্যুতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে রবীন্দ্রসঙ্গীতের। সেই প্রথম পরীক্ষা-নিরীক্ষার যুগে অভিজ্ঞার মতো প্রতিভাময়ী গায়িকা বেঁচে থাকলে কবি প্রয়োগের দিক থেকেও রবীন্দ্রসঙ্গীতকে প্রতিষ্ঠা দিতে পারতেন। কিন্তু সে বুঝি হবার নয় তাই অকালে ঝরে পড়ল অস্ফুট কোরটি, অকালে নিভে গেল বাংলা দেশের একটি রত্নপ্রদীপ। অভিজ্ঞার মৃত্যুর পরে কবি চারটি সনেট লিখেছিলেন— নদীযাত্রা, মৃত্যুমধুরী, স্মৃতি ও বিলয়। নতুন করে কবির যেন মনে পড়েছিল মৃত্যুমাধুরীমাখা দুটি আশ্চর্য সুন্দর চোখ আর প্রভাত-পাখির মতো সুমধুর কণ্ঠের অধিকারিণী অভিজ্ঞাকে। এখানে একটা কথা বলে নিই। কবিমানসী গ্রন্থের লেখক জগদীশ ভট্টাচার্যের মতে এই সনেট চারটি কবির নতুন বৌঠানের স্মৃতিসুধায় ভরপুর। কিন্তু একথা মেনে নিতে পারিনি। ক্ষিতিমোহন সেনের ডায়রিতে যে চৈতালি কাব্য আলোচনার অনুলেখন রাখা আছে তাতেও দেখা যাবে কবি এই সনেটগুলো সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, আমার ভাইঝি অভির মৃত্যুর পরে লেখা। অভিজ্ঞার মৃত্যুর পরে আর একজনও তার কথায় উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলেন। তিনি আর কেউ নন, প্রমথ চৌধুরী, যিনি কোন রকম ভাবালুতাকে প্রশ্রয় দেওয়া অনাবশ্যক মনে করতেন। তার কাছেও অভিজ্ঞ একটি বিস্ময়! তার মনে হয়েছিল অভিজ্ঞ সেক্সপীয়রের কল্পিত আরিয়েলের সগোত্র। অর্থাৎ অশরীরী সঙ্গীত। বারো তেরো বছর বয়সের এই কিশোরী তার মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছিলেন, জীবনে কোন কোন লোক প্রথম থেকেই আমাদের মনে বিশেষ ছাপ রেখে যায়, যা কখনো বিলুপ্ত হয় না। অভি ছিল সেই দু-চারটি লোকের ভিতর একজন। প্রমথনাথের মনে হয়েছিল, ইংরেজরা বলে whoin the gods love die young। অভি ছিল সেই দেবানাং প্রিয় একটি বালিকা। কেননা সে কখনো কিশোরী হয়নি।

     

    সময় কারুর জন্যে বসে থাকে না; অভিজ্ঞার ঠিক পরের বোন মনীষাও বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর দিদির রবীন্দ্রসঙ্গীতে এত নাম কিন্তু তিনি বেছে নিলেন বিদেশী যন্ত্রসঙ্গীতকে। বড়দিদি প্রতিভার মতো তিনিও খুব ভাল য়ুরোপীয় গান এবং পিয়ানো বাজাতে পারতেন। পরে পিয়ানোর দিকেই ঝোঁক থাকায় এদেশের শ্রেষ্ঠ পিয়ানিস্টদের একজন হয়ে ওঠেন। তবে ভারতে মনীষা খুব পরিচিত ছিলেন না। কারণ আর কিছুই নয়, বিদেশী সঙ্গীতের চর্চা। অন্যান্য বোনেদের মত তিনিও লরেটোয় পড়তেন, বাড়িতে চলত ক্লান্তিবিহীন সঙ্গীতসাধনা। তবু দেশী গানের সঙ্গে তার অন্তরের যোগ ছিল না বললেই হয়। প্রতিভা গাইতেন বিলিতি গান, পিয়ানোয় বাজাতেন ওস্তাদি বাজনা, পরে তার ঝোঁক পড়ে হিন্দুস্থানী গানের ওপর। কিন্তু মনীষ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পিয়ানো চর্চা করেই কাটিয়েছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের পদপ্রান্তে রাখে সেবকে ও দু-তিনটি গানে গিয়ানোর সঙ্গত বসিয়েছিলেন কিন্তু সেগুলো তেমন জনপ্রিয় হয়নি। যেমন জনপ্রিয় হয়নি তমীশ্বরাণাং বেদমন্ত্রের পিয়ানো সংগত। এর ফলে মনীষা বাঙালীদের গানের জলসায় প্রায় অপরিচিতাই রয়ে গেছেন। আরো একটা কারণও আছে। এক সময় সাহেবিয়ানার অনুকরণে বাঙালীর ঘরে ঘরে পিয়ানোচর্চা শুরু হয়েছিল ঠিকই কিন্তু পিয়ানো কোনদিনই বাঙালীর ঘরের জিনিষ হয়ে ওঠেনি। এখন বিলিতি বাজনা সর্বস্বতার যুগ, তবু পিয়ানো, তার বিশাল আকার আর বিশাল দাম দিয়ে অভিজাত ড্রইংরুমের বাইরে বড় একটা এসে পৌঁছয়নি—তার স্থান নিয়েছে পিয়ানো-একর্ডিয়ান, গীটার প্রভৃতি ছোট ছোট বাদ্যযন্ত্র। তাই পিয়ানিস্টরাও সাধারণ সমাজে পরিচিত নন। মনীষা তার মোগ্য সম্মান পেয়েছিলেন বিদেশে।

    অভিজ্ঞার মৃত্যুর পরে তার স্বামী দেবেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মনীষার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের মাত্র একমাস পরেই বিদায় নিলেন অভিজ্ঞা তাঁর বাসরশয্যাই মৃত্যুশয্যায় পরিণত হল। দেবেন্দ্রের সেবা তাকে ফিরিয়ে আনতে পারল না। কিন্তু বোনের মৃত্যুর পর এই উদার উন্নতমনা যুবকটিকে ভালবেসে ফেলেছিলেন অভিজ্ঞার দাদারা। তারা প্রস্তাব করলেন তাঁদের বোন স্নেহবন্ধন ছিঁড়ে চলে গেছেন, কিন্তু দেবেন্দ্র যেন না যান। মনীষার সঙ্গে দেবেন্দ্রর আবার বিয়ে দেওয়া হোক। আপত্তির কারণ ছিল না। শুধু একটু বাধা। মহর্ষি নাতনীদের বিয়েতে তিন হাজার টাকা যৌতুক দিতেন। এবার দেবেন্দ্রকে নতুন করে যৌতুক দিতে তিনি রাজী হলেন না। মনে হয়, নাতজামাইকে পরীক্ষা করবার জন্যেই। বিব্রত হলেন হিতে-ক্ষিতীন্দ্র-ঋতেন্দ্র। তাঁরা দেবেন্দ্রকে অনুরোধ জানালেন এ বিয়েতে রাজী হতে, পরে যেমন করে হোক, তাঁরা এ টাকা জোগাড় করে দেবেন। দেবেন্দ্র এসব দাবি করেনইনি, তাই বিয়ে বন্ধ হল না। সব দেখে সন্তুষ্ট হয়ে, মহর্ষিও সমস্ত টাকা দিয়ে দিলেন। ক্ষিতীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত ডায়রি মহর্ষি পরিবারে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    মনীষা স্বামীর সঙ্গেই বিদেশে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর পিয়ানোয় নিখুঁত ইংলিশ কোটেশন শুনে য়ুরোপীয়রা যেমন মুগ্ধ হয়েছিলেন তেমনি বিস্মিত ইসছিলেন, পিয়ানোয় হিন্দু মার্গসঙ্গীতের ভাব প্রকাশের স্বাচ্ছন্দ্যে। বিদেশে যারা মনীষার পিয়ানো শুনেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন মনীষী ম্যাক্সমুলার। শীষাকে লেখা তার একটি উচ্ছ্বসিত প্রশংসাপূর্ণ চিঠি আজও রবীন্দ্রভারতী মিউজিয়ামে মনীষার নিখুঁত সুরসৃষ্টির নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। তাতে জানা যায় শুধু য়ুরোপীয় সঙ্গীত নয়, ভারতীয় সঙ্গীত বিশেষত হিন্দু মার্গসঙ্গীতের বিশুদ্ধ সুরসৃষ্টি দিয়ে মনীষা সমস্ত পশ্চিমী জগৎকে মুগ্ধ করেছিলেন।

    অবশ্য এদেশের সঙ্গীত-সমাজের সঙ্গেও যে মনীষার যোগ ছিল না তা নয়। প্রতিভা ও ইন্দিরা যেমন সঙ্গীত-সংঘের প্রাণকেন্দ্র ছিলেন তেমনি সঙ্গীত সম্মিলনীর প্রাণ ছিলেন প্রমদা চৌধুরী। মনীষা এই সঙ্গীত সম্মিলনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেও প্রমদার স্বামী বনোয়ারীলাল চৌধুরী পরিচিত। প্রমদার সঙ্গে ছিল মনীষার গভীর সখ্য। তাঁর স্মৃতিকথা থেকেই জানা যায়, প্রথমদিকে সঙ্গীত সম্মিলনী আনন্দ সভার মতোই একটা ক্লাব ছিল। সেই ক্লাবের সদস্যদের আগ্রহ আর ইচ্ছেতেই গড়ে ওঠে সঙ্গীত সম্মিলনী গানের স্কুল। স্কুলের পরিচালন-ভার গ্রহণ করে প্রমদা। মনীষ ছিলেন উৎসাহী সভ্য। মাঝে মাঝে যোগ দিতেন বিভিন্ন সঙ্গীত ও নৃত্যের অনুষ্ঠানে, বাজাতেন পিয়ানো কিংবা বেহালা। মনীষার লেখার হাতও বেশ ভাল ছিল যদিও তিনি খুব বেশি লেখেননি। তাঁর সাহিত্যচর্চার বিবরণ পাওয়া যাবে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার পুরনো ফাইলে। কয়েকটা প্রবন্ধ ছাড়াও তিনি লিখেছিলেন একটা নাটক। ছোটদের অভিনয় করার জন্যে। কিন্তু লেখার পরে সেটিও আর যত্ন করে তুলে রাখেননি। প্রমদার মৃত্যুর পরে লেখা স্মৃতিকথাটির ভাষাও ঝরঝরে। তিনি লিখেছেন :

    তারপর আমি শিলং বাস করাতে ক্ষণিক সম্বন্ধ ত্যাগ করতে হল। মাঝে মাঝে চিঠিতেও পরামর্শ দিতুম। সময় সময় প্রমদা সম্মিলনী ছাড়ি ছাড়ি করতেন। কিন্তু আমরা ছাড়তে দিইনি। সম্মিলনী যেন তার অঙ্গ ছিল।… তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। কিন্তু এই সম্মিলনীর ছেলেমেয়েরা তার সন্তান স্বরূপ ছিল। কেউ বা মিঠাপিসী, কেউ বা জেঠিমা, কেউ বা মিঠাদিদি বলে ডাকত। সকলেই তার আদরের ছিল! বিবাহ সম্বন্ধ পাকাতে তাঁর দ্বিতীয় আর কেউ ছিল না।

    মনীষা সাহিত্যচর্চার সঙ্গে সঙ্গে পুণ্য পত্রিকার মাধ্যমে মাঝে মাঝে সেলাইফোড়াইয়ের কাজও শেখাতেন। বিশেষ করে সেকালে বসবার ঘরে পুতির পর্দা ঝোলানো ছিল আভিজাত্যের লক্ষণ। ঠাকুরবাড়িতেও এ প্রথা ছিল। মনীষা সেই পর্দা সেলাইয়ের বা বোনার পদ্ধতি, নকশা প্রভৃতি ছবি এঁকে, ঘর গুণে সেলাই দিয়ে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন। হেমেন্দ্রনাথের অন্যান্য মেয়েদের মধ্যেও নানা গুণের সমাবেশ দেখা গেছে। ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা দেখিয়েছেন প্রগতির সঙ্গে শাশ্বতীকে বেঁধে রেখে কি করে সমাজকে গড়ে তোলা যায়। শুধু এই কারণেই বাঙালী মেয়েদের ওপর তারা যে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছিলেন আর কেউ তা পারেননি। লিলিয়ান পালিত, রমল সিংহ, রাণী নিরুপমা, সুনীতি দেবী, সুচারু দেবী, মৃণালিনী সেন ও আরো অনেকেই সেদিনকার ধনী সমাজে আলোড়ন জাগিয়েছিলেন, এনেছিলেন নতুন উদ্দীপনার জোয়ার কিন্তু তাদের প্রভাব কি পড়েছিল আমাদের সমাজে? না পড়ার কারণ, তারা ছিলেন আরো অনেক দূরবর্তিনী। বরং প্রভাব ফেলেছিলেন সরল৷ রায়, অবলা বসু, কুমুদিনী খাস্তগির, কাদম্বিনী গাঙ্গুলী, চন্দ্রমুখী বস্তু—দলে দলে মেয়েরা এগিয়ে এসেছিলেন তাঁদের মতো লেখাপড়া শিখতে।

     

    হেমেন্দ্রনাথের পঞ্চম কন্যা শোভনাসুন্দরী। তিনি আবার গান-বাজনার চেয়ে লেখাপড়াতেই বেশি উৎসাহী। ঠাকুরবাড়িতে তখন রসের উংসে ভাটা পড়তে শুরু করেছে, একেবারে শুকিয়ে যায়নি, এমনি সময়ে শোভনা বড় হয়ে উঠলেন আপন মনে। দিদিরা ব্যস্ত গান-বাজনা ছবি আঁকা নতুন রকমের খাবারদাবার তৈরি করতে, ছোট বোনেদেরও হয়ত ওদিকেই বেকি কিন্তু শোভনা স্বপ্ন দেখেন পিসীমার মতো বই লেখার। কি সুন্দর গল্প! কেমন অবলীলায় লেখা! কি করে লেখিকা হওয়া যায়? পড়তে পড়তে শোভনা ভাবেন আর তারই ফাঁকে ইংরেজী শেখার ভিত গাঁথা হয়। হঠাৎ বিয়ে হয়ে গেল নগেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে, সুদূর জয়পুরের ইংরেজীর অধ্যাপক। বাড়ি হাওড়ায়। চার ভাইয়ের বড় ভাই রায়বাহাদুর। নগেন্দ্রনাথ মেজ। সেজ ভাই যোগেন্দ্রনাথের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শোভনার সপ্তম বোন সুষমার। বিয়ের পর শোভনা গেলেন স্বামীর কর্মক্ষেত্রে। এক হিসেবে হয়ত ভালই হল। কলকাতার মেয়েরা তখন। এগিয়ে চলেছেন জোর কদমে। দুর্গামোহন দাসের মেয়েরা উঠে পড়ে লেগেছেন লোককল্যাণের কাজে। সরলা স্থাপন করেছেন গোখেল মেমোরিয়াল, অবলা খুলেছেন ব্রাহ্ম-বালিকা বিদ্যালয়। ঠাকুরবাড়ির মেয়েরা সমাজের মধ্যমণি। প্রতিভা, প্রজ্ঞা, ইন্দিরা তো আছেনই আরো আছেন হিরন্ময়ী ও সরলা। আছেন মহারাণী সুনীতি, মণিকা, সুচারু, এসেছেন হেমলতা, প্রিয়ংবদা আরো কতজন। এঁদের মধ্যে নতুন কিছু করার কথা ভাবতেই পারতেন না শোভনা। তাই অনেক দূরে, নিভৃতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পরিবেশে গিয়ে শোভনা সংগ্রহ করে আনলেন ডালি ভর্তি মরুকুসুম, সেই সঙ্গে তার লেখার হাতটি গেল খুলে। চোখ পড়ল এমন সব জিনিষের ওপর যাদের সবাই দেখেছে অথচ কেউ লেখেনি তাদের ওপর।

    পত্নীপ্রেমিক নগেন্দ্রনাথ উৎসাহ দিলেন। তার মধ্যেও একটি কবিমন লুকিয়ে ছিল। মাইকেলের অনুসরণে তিনি লিখেছিলেন যক্ষাঙ্গনা কাব্য। তার আরো অনেক লেখা পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে—কৃষ্ণা, মেনকানন্দিনী কাব্য, স্বর্গোদ্ধার কাব্য এবং সোনার ঢেউ নামে গল্পগুচ্ছ। কিন্তু সেসব এমন কিছু উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠেনি, তার চেয়ে শোভনার কৃতিত্ব অনেক বেশি। কি লিখবেন তিনি? স্বর্ণকুমারীর মতো গল্প? না না, সে যেন অসম্ভব। তার চেয়ে—তার চেয়ে হারিয়ে যাওয়া-লুকিয়ে থাকা উপকথা-রূপকথাগুলোকে সংগ্রহ করলে কেমন হয়? ঠাকুরবাড়ির মেয়ে, গ্রাম বাংলার সঙ্গে-লোকগাথার সঙ্গে পরিচয় কম। তার চেয়ে বরং জয়পুরের গল্প সংগ্রহ করা যাক। আর এমনি করেই শোভন সত্যিকারের পথ খুঁজে পেলেন। পুণ্য পত্রিকায় ছাপা হল ভিন্ন স্বাদের, ভিন্ন পরিবেশের কয়েকটা গল্প—ফুলাদ ডালিমকুমারী, গঙ্গাদেব, লুব্ধবণিক তেজারাম, দিলীপ ও ভীমরাজ, লক্ষটাকার এক কথা। সবই জয়পুরী গল্পের ছায়ায় লেখা। প্রথমটা মনে হল, স্বর্ণকুমারীর মতোই শোভন টডের রাজস্থান থেকে গল্প সংগ্রহ করেছেন। আসলে কিন্তু তা নয়। শোভনা মন দিয়েছিলেন উপকথা সংগ্রহে। পরে তিনি জয়পুরী প্রবাদ বা কছাবৎও সংগ্রহ করেন। সেই সঙ্গে মন দিলেন শিল্প ও সাহিত্য সম্পর্কেও। লেখার জন্যে লোকসাহিত্য থেকে উপকরণ নির্বাচন যে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও মনোজ্ঞ হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। তখনকার তুলনায় তার আগ্রহ বেশ নতুন ধরনের বলা বাহুল্য। কোন মহিলা তখনও লোককথা সংগ্রহ করবার জন্যে বেরিয়ে পড়েননি তবে রূপকথা সংগ্রহের কাজে হাত দিয়েছিলেন মৃণালিনী। সব কাজে অগ্রণী ঠাকুরবাড়ির মেয়ে শোভনাই বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? লোককথার সরণি বেয়েই তিনি পৌঁছলেন প্রাচীন ভারতের পৌরাণিক সাহিত্যের জগতে।

    জয়পুরী উপকথা সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে শোভনা সংগ্রহ করেছিলেন কহাবৎ বা জয়পুরী প্রবাদ। ১৯০০/১৯০১ সালে প্রবাদ সংগ্রহের দিকে অনেকেই নজর দিয়েছেন। রেভারেণ্ড লঙ এবং আরো কয়েকজন তখন বাংলা প্রবাদ সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ভিন্ন প্রদেশের প্রবাদ সংগ্রহ করে তার অর্থ উদ্ধার, অনুবাদ এবং বাংলায় সমার্থক প্রবাদ অনুসন্ধান করে শেভিনা সত্যিই একটা নতুনত্ব আনার চেষ্টা করেন। এইসব কহাবং-এ জয়পুর বা রাজস্থানবাসীর বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, ব্যঙ্গপ্রবণতা ও এ অঞ্চলের কিছু কিছু স্থানীয় বৈশিষ্ট্য ধরা পড়েছে। আজকের দিনে অর্থাৎ শোভনার কহাবৎ সংগ্রহের প্রায় আশি বছর পরেও এই ধরনের প্রবাদ সংগ্রাহকের সংখ্যা খুবই কম। এবার কয়েকটা কহাবং শোনা যাক :

    মূল : কাল কী জয়োড়ী গধেড়ী, পরসো কী গীত গাবে

    অনুবাদ : কাল জন্মেছে গাধা, পরশুর গীত গাচ্ছে।

    অর্থ : গর্দভ জন্মগ্রহণ করিয়াই পূর্বজন্মের অভ্যাসবশতঃ অমঙ্গল ডাক ডাকিতে থাকে।

    বঙ্গীয় প্রবচন : রাসভবিনিন্দিত স্বর

    ***

    মূল : জয়পুর কী কমাই ভাড়া বলিতা খাই

    অনুবাদ : জয়পুরের উপার্জন ভাড়া ও ঘুটেতে ব্যয় হয়

    অর্থ : জয়পুরে ঘর ভাড়া ও রন্ধনকাষ্ঠের মূল্য বেশি

    ***

    মূল : সীতলা কুনসা ঘোড়া দে, আপ হী গধা চড়ে

    অনুবাদ : শীতলা ঘোড়া কোথা থেকে দেবে, আপনিই গাধ চড়ে

    অর্থ : নিজেই পায় না পরকে দেবে।

    ***

    জয়পুরের উপকথা-রূপকথা-প্রবাদ-প্রবচন ছাড়াও শোভনাকে আকৃষ্ট করেছিল জয়পুরী শিল্প-একেবারে ঘরোয়া শিল্প। ছেড়া কাগজ দিয়ে তৈরি ধামা, চুপড়ী, থালা, বাটি, খেলনা, পুতুলকে ওখানে বলা হয় ডোমলা শিল্প। পুণ্যর পাঠিকাদের তিনি ডোমলার কাজও শিখিয়েছিলেন। কিন্তু এগুলি সবই উপক্রমণিকা, এরপর শোভনা নামলেন তার আসল কাজে।

    বাংলা ভাষা ছেড়ে তিনি ইংরেজীতে লিখতে শুরু করলেন ভারতের বেদপুরাণ-ইতিহাস-লোককথার গল্প। ব্যাপারটা খুলেই বলা যাক। শোভনা মনে করতেন গল্প লেখার ইচ্ছে থাকলেও তার কল্পনার দৌড় খুব নয়, কাজেই সৃজনশীল রচনার চেয়ে অনুবাদেই তার হাত খুলবে বেশি। তাই প্রথমে তিনি সাহস করে অনুবাদ করে ফেললেন স্বর্ণকুমারীর জনপ্রিয় উপন্যাস কাহাকে। ইংরেজী অনুবাদের নাম টু হুম। খুব যে ভাল হল তা নয়। অনুবাদকের তো কোন স্বাধীনতা নেই। স্বর্ণকুমারী নিজে যখন কাহাকের অনুবাদ করলেন এ্যান অ্যাফিনিস্ট সঙ নামে তখন সে অনুবাদ হয়ে উঠল নতুন বই। যাইহোক, একই সঙ্গে শোভনা অনুবাদ শুরু করেছিলেন পুরনো দিনের গল্পের। এই ধরনের চারটি বই ছাপা হয়েছিল লণ্ডনের ম্যাকমিলান কোম্পানী থেকে।

    প্রথম বই ইনডিয়ান্ নেচার মীথস। শোভনা লিখলেন ছোটদের মনের মতো ইংরেজীতে! ছোটদের মানে এই নয় যে রসরর্জিত নীতিসারসংগ্রহ আসলে ইংরেজী ভাষাটা লিখলেন সহজবোধ্য ও সবার উপভোগ্য করে। রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, বেদ, উপনিষদ এবং লোককথা থেকে পঞ্চাশটি গল্প সংগ্রহ করে শোভনা লিখেছেন নেচার মীথ্‌স্—অধিকাংশই সৃষ্টিতত্ত্বের দিকে তাকিয়ে লেখা। যেমন, দি অরিজিন অব তুলসী প্ল্যান্ট, দি অরিজিন অব ডেথ, দি অরিজিন অব ভলকানে, দি অরিজিন অব টোবাকো প্ল্যান্ট ইত্যাদি।

    ইনডিয়ান ফেবস্ এ্যাও ফোকলোর একই জাতের গ্রন্থ। শোভনা এ বইয়ের গল্প সংগ্রহ করেছেন মহাকাব্য, পুরাণ, কথাসরিৎসাগর, পঞ্চতন্ত্র ও ভক্তমাল থেকে। সবশুদ্ধ গল্প আছে উনত্রিশটা। তার মধ্যে মীরাজ, ব্রাইডগ্রম (ভক্তমাল), এ র‍্যাট স্বয়ম্বর (পঞ্চতন্ত্র, একলব্য এণ্ড দ্রোণ (মহাভারত), কাউ অব প্লেন্টি (রামায়ণ) নিশ্চয় বিদেশী পাঠকদের বিস্মিত করেছিল। প্রায় প্রতিটা গল্পেই শোভনা বিস্ময়ের সঙ্গে আনন্দের খোরাক জুগিয়ে গিয়েছেন।

    আর দি ওরিয়েন্ট পার্লস রূপকথা সংকলন। শোভনা জয়পুরী উপকথা সংগ্রহ দিয়ে যে সাহিত্য-জীবন শুরু করেছিলেন এখানেও তারই জের চলেছে। এবং এই চারটি বইয়েই ইতিহাস পুরাণ লোককথা সংগ্রহে অসামান্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। তবু সংস্কৃত সাহিত্য থেকে পৌরাণিক গল্প সংগ্রহ আর বাংলাদেশের লোকের মুখে মুখে ছড়ানো রূপকথা সংগ্রহ অন্য জিনিষ। শোভন। এ সব গল্প সংগ্রহ করেন এক অন্ধ ভৃত্যের কাছ থেকে। তিনি এই রূপকথাসংগ্রহ যদি বাংলাতেও লিখতেন তাও অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকত। সেকালে ইংরেজীতে বই লেখার চল্ মেয়েদের মধ্যে ছিল। কনভেন্টে পড়া, বিদেশিনী গভর্নেসের কাছে মানুষ হওয়া মেয়েরা য়ুরোপীয় ভাবাপন্ন হবেন এ আর বেশি কথা কি? তারকনাথ পালিতের মেয়ে লিলিয়ান, লর্ড সিনহার মেয়ে রমলা কিংবা কুচবিহারের তিন রাজকুমারী সুকৃতি, প্রতিভা ও সুধীরার কথাই ধরা যাক না কেন, তাদের চালচলনে সেদিন বিদেশিয়ানাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এঁরা লেখিকা হলে মনের কথা ইংরেজীতেই প্রকাশ করতেন তাতে সন্দেহ নেই। হেমেন্দ্রনাথের আট মেয়ে এবং ইন্দিরাও অভ্যস্ত ছিলেন বিদেশী চালচলনে। সুতরাং শোভনার পক্ষে ইংরেজীতে বই লেখা খুবই স্বাভাবিক। যেমন ইংরেজীতে কবিতা লিখেছিলেন তরু দত্ত কিংবা সরোজিনী নাইডু। সরোজিনী শোভনার সমবয়সী কিন্তু শোভনার চেয়ে অনেক বেশি পরিচিত, বিশেষ করে রাজনীতিক্ষেত্রে সরোজিনীর ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তার কবিতার বই তিনটি— দি গোল্ডেন থেসোল্ড, দি বার্ড অব টাইম, ও দি ব্রোকেন উইঙ খুব জনপ্রিয়। হয়েছিল। ১৯০৫ থেকে ১৯২০ এই পনেরো বছরে গোল্ডেন থেসোরে পুনর্মুদ্রণ হয়েছিল সাত-আট বার। শোভনা এভাবে খ্যাতির চূড়া স্পর্শ করেননি, হয়ত সে ক্ষমতা তার ছিল না। কিন্তু যেটুকু তিনি দিয়েছেন তারই বা মূল্য কম কী? একেবারে প্রথম থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত যে সব ভারতীয় রূপকথা সংগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে দি ওরিয়েন্ট পার্ল-এর স্থান বেশ ওপরে। বাঙালী মেয়েদের মধ্যে শোভনাই সবার পূর্ববর্তিনী। আরো আট বছর পরে ১৯২৩ সালে মহারাণী সুনীতি দেবীর ইনডিয়ান্ ফেয়ারি টে লণ্ডন থেকে প্রকাশিত হয়।

    শোভনার পূর্ববর্তী রূপকথা সংগ্রাহকের সংখ্যা যে খুব বেশি তা নয়। তাদের নাম—লালবিহারী দে ফোক টেল অব বেঙ্গল (১৮৮৩), রামসত্য মুখোপাধ্যায় ইনডিয়ান ফোকলোর (১৯০৪), কাশীনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় পপুলার টেস্ অব বেঙ্গল (১৯০৫), দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ঠাকুরমার ঝুলি (১৯০৭), উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী টুনটুনির বই (১৯১০), ম্যাক কুলক বেঙ্গলি হাউসহোল্ড টেস্ (১৯১২), ডি. এন. নিয়োগী টেস্ সেক্রেড এ্যাণ্ড সেকুলার (১৯১২ }। এর পরেই প্রকাশিত হয় শোভনার দি ওরিয়েন্ট পার্লস্ (১৯১৫)।

    শোভনার বইয়ে রূপকথা আছে আঠাশটি। সব গল্পই শুরু হয়েছে (Once upon a time বলে রূপকথার আমেজে। যে সব গল্প আছে তার মধ্যে আমাদের পরিচিত ও অপরিচিত উভয় ধরনের রূপকথাই পাওয়া যাবে। দি ওয়াক্স প্রিন্স, দি গোল্ডেন প্যারট, দি হারমিট ক্যাট, এ নোজ ফর নোজ, আঙ্কল টাইগার, দি ব্রাইড অব দি সোর্ড সকলের খুব ভাল লাগবে। তবে এসব রূপকথা যে বিদেশীদের একেবারে অপরিচিত তা হয়ত নয়, কারণ বিভিন্ন দেশের রূপকথার মধ্যে গল্পের অদৃশ্য যোগ চিরকালই ছিল।

    আপাতভাবে স্বল্প পরিচিত টেলস্ অব দি গডস্ অব ইনডিয়াতেও নতুনত্ব আছে। এখানে দেবতাদের গল্প নির্বাচন করা হয়েছে ভিন্ন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। ইদানীংকালে বাংলায় প্রেমকথা নাম দিয়ে কয়েকটি পৌরাণিক প্রেমকাহিনী সিরিজ প্রকাশ করা হয়েছে, যেমন-ভারত প্রেম কথা, রামায়ণী প্রেমকথা, গ্রীক প্রেমকথা, অরণ্য প্রেমকথা, বাইবেল প্রেমকথা ইত্যাদি। এই লেখকদের অনেকেই হয়ত জানেন না তাদের অনেক আগে রামায়ণমহাভারত-বেদ-পুরাণ থেকে যুগল প্রেমের উৎস সন্ধান করেছিলেন শোভন। ভারতের দেবদেবী সংক্রান্ত বইটির জন্যে শোভনা সংগ্রহ করেছেন তিরিশটি গল্প। তিনি কোথা থেকে কোন গল্প নিয়েছেন তার উংস নির্দেশ করতেও ভোলেননি। নাম নির্বাচনও সুন্দর। ঋগ্বেদ থেকে তিনি নিয়েছেন পাচটি গল্প–দ্য ও পৃথিবী, যম ও যমী, ঋভুভ্রাতৃদ্বয় ও উষা, অশ্বিনীকুমারদ্বয় ও সূর্যা এবং বিবস্বান ও সরণু। মহাভারত থেকে সংগ্রহ করেছেন আরো চোদ্দটি গল্প। সে গুলি আমাদের খুবই পরিচিত, যেমন, পুরুরবা ও উর্বশী, সংবরণ ও তপতী, রুরু ও প্রমঘরা, সোম ও তারা, বশিষ্ঠ ও অরুন্ধতী, ইন্দ্র ও শচী, সাবিত্রী ও সত্যবান, বিষ্ণু ও লক্ষ্মী, শিব ও সতী, মদন ও রতি, অর্জুন ও উলু সী, ভীম ও তার রাক্ষসী বধূ, বলরাম ও রেবতী, দময়ন্তী ও তার দেব পাণিপ্রার্থী। রামায়ণ থেকে নেওয়া হয়েছে রাম ও সীতার গল্প, এবং অগ্নি ও স্বাহার গল্প। শতপথ ব্রাহ্মণ থেকে নেওয়া হয়েছে চ্যবন ও সুকন্যা এবং মিত্র, বরুণ ও অসির আখ্যান! কালিদাসের কাব্য থেকে শোভনা নিয়েছেন কুমারসম্ভব, অভিজ্ঞান শকুন্তলম্ এবং মেঘদূতের গল্প। যম ও বিজয়ার কথা নেওয়া হয়েছে ভবিষ্যপুরাণ থেকে এবং বেহুলা ও লখীন্দরের কাহিনী মনসামঙ্গল থেকে তিনি সংগ্রহ করেন। কোন কোন গল্প দু-তিনটে বইয়ে আছে বলে তিনি তাদেরও উল্লেখ করেছেন, যেমন বিষ্ণু ও লক্ষ্মী আছে মহাভারত ও বিষ্ণুপুরাণে, আবার শিব ও সতী আছে মহাভারত ও ভাগবতপুরাণে। গল্প নির্বাচনে এবং তার উৎস নির্দেশে শোভনার এই সাবধানতা বিস্ময়কর। পরবর্তীকালে এই বইটি যতই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে এই জাতীয় গল্পের চাহিদাও ততই বেড়েছে।

    শুধু ইংরেজী বই লেখা নিয়েই ভুলে থাকেননি শোভন। শেষজীবনে আবার বাংলা রচনায় হাত দিয়েছিলেন য়ুরোপ ভ্রমণ সেরে ফিরে আসার পরে। তাঁর কয়েকটি ভ্রমণবৃত্তান্ত য়ুরোপে মহাসমরের পরে, লগুনে, রণক্ষেত্রে বঙ্গমছিলা ও মহাযুদ্ধের পর প্যারী নগরীতে নামে বিভিন্ন পত্রিকার প্রকাশিত হয়। তাছাড়া তিনি মেতে উঠেছিলেন স্কুল নিয়ে। ঠাকুরবাড়ির ছেলেমেয়েদের স্কুল খোলার নেশা এক আশ্চর্য নেশা। সেই নেশা ছিল শোভনারও। তার নিঃসন্তান জীবনের অনেকখানি কেটে যেত হাওড়া গার্লস স্কুলের তত্ত্বাবধানে। স্কুলে তিনি পড়াতেন ইংরেজী। এখনও ঐ স্কুলে তার নামাঙ্কিত একটি রৌপ্যপদক স্কুলের সেরা ছাত্রীকে প্রতিবছর দেওয়া হয়। এ ছাড়াও তিনি খুলেছিলেন একটা ছোট্ট গানের স্কুল। বেশ চলছিল। আকস্মিকভাবে সব শেষ হয়ে গেল। সন্ন্যাস বোগে মৃত্যু হল শোভনার। শোকার্ত পত্নীপ্রেমিক নগেন্দ্রনাথের লেখা একটি শোকগাথা প্রেমাঞ্জলি নামে ছাপা হল, রবীন্দ্রনাথ তার ভূমিকায় লিখেছিলেন একটি ছোট্ট কবিতা শোভনা।

     

    শোভনাসুন্দরী ও সুষমাসুন্দরী—দুটি কর্মব্যস্ত বোনের মাঝখানে একটু ক্ষীণ। যতির মতো ছিলেন সুনৃতা। হেমেন্দ্রনাথের মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে অপরিচিত। তাঁর জীবনদীপও নিভেছিল অভিজ্ঞার মতো নিতান্ত অসময়ে। তবে অভিজ্ঞার মতো ভাগ্যবতী নন তিনি! মৃত্যুর পরেও অভিজ্ঞ বেঁচে ছিলেন সবার স্মৃতিতে, সুনৃতাকে তার নিকট আত্মীয়রাও মনে রাখেনি। হয়ত দীর্ঘদিন বেঁচে থাকলে তিনিও কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিভার পরিচয় দিতে পারতেন। এখন তার সম্বন্ধে প্রায় কিছুই জানা যায় না। তার স্বামী নন্দলাল ঘোষাল ছিলেন বারুইপুরের প্রসিদ্ধ ঘোষাল পরিবারের সন্তান। পরে অবস্থা বিপর্যয়ে তাদের চলে যেতে হয় শ্যামনগরে। সুনৃতার সঙ্গে বাপের বাড়ির যোগ ছিন্ন হয় দারিদ্র্য ও দূরত্বে। তবে সুন্বত এখনও বেঁচে আছেন পুণ্য পত্রিকার পুরনো ফাইলে। আছেন নন্দলালও। তারা দুজনেই সাহিত্যানুরাগী এবং পুণ্যর লেখক-লেখিকা ছিলেন। তাঁদের প্রাকৃবিবাহপর্বে পূর্বরাগ-অনুরাগ ছিল কিনা জানা যায়নি। অবশ্য সুনৃতার মন ছিল প্রজ্ঞার মতো গৃহিনীপণার। তার ইচ্ছে ছিল পুণ্যর মাধ্যমে পাঠিকাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবেন নানারকম মুখরোচক আচার। আমের আচার, কুলের আচার, তেঁতুলের আচার প্রভৃতির প্রস্তুত প্রণালী প্রকাশ করতেন সুনৃতা। সাহিত্য জগতে তার ভীরুকুষ্ঠিত প্রবেশ একটিমাত্র রচনা নিয়ে ব্রহ্মে শূলীনাথ। বর্ষায় শূলীনাথ শিব খুব বেশি পরিচিত নন। তথাগত মন্দিরের প্রাধান্যের মধ্যে শূলীনাথ কোন রকমে নিজের অস্তিত্বটুকু বাঁচিয়ে রেখেছেন। সুন্বত তার খবর পেলেন কি করে? বৌদ্ধ-প্যাগোডার বদলে পুরনো মন্দিরের প্রতি আগ্রহ দেখে মনে হয় তিনি ঝুকেছিলেন মন্দির-শিল্প ও তার বৈশিষ্ট্যের দিকে। কিন্তু একটির বেশি প্রবন্ধ লেখা হয়ে ওঠেনি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআড়ালে আততায়ী : ১২টি খুনের রোমহর্ষক ময়না তদন্ত
    Next Article পোকা-মাকড় – জগদানন্দ রায়
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }