Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ডানাওলা মানুষ – বিনোদ ঘোষাল

    বিনোদ ঘোষাল এক পাতা গল্প253 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ডানাকাটা পরি

    আমি পরি নামাতে পারি। মন্ত্র আছে আমার কাছে। রোজ রাত্রে আমার ডাকে পরি আসে। যাকে চাই সেই-ই আসে। মন্ত্রটা অসংখ্য লাল-নীল কাগজে লেখা। কাগজগুলো সবসময় আমার সঙ্গে রাখি। এক এক পরির এক এক মন্ত্র। যে পরি আসে সে সারারাত আমার কাছে থেকে তার মন্ত্রলেখা কাগজ নিয়ে চলে যায়। তাতে আমার মন্ত্রভাণ্ডার এতটুকু কম পড়ে না। আমার কাছে অমন অজস্র আছে। নিযুত কোটি…আমি ঠিক নিজেও জানি না কত। আমার ঘরে বসে রাত্রে আমি মন্ত্রোচ্চারণ করি আর তারা এসে যায়। তারা এই শহরেব ওপর দিয়ে উড়তে উড়তে কেউ জানালা দিয়ে আমার ঘরে ঢোকে, কেউ বা দরজা দিয়ে। তাদের এক এক জনের এক এক মাপের ডানা। কারও বড়, কারও মাঝারি, কারও বা ছোট। কেউ কাছাকাছি থাকে, কেউ বা আসে বেশ দূর থেকে। তারা প্রত্যেকে আমায় শ্রদ্ধা করে, ভয় পায়। আমি সব পারি এই মন্ত্রের জোরে। যা চাই স-ও-ব।

    ওদের কেউ গান গায়, কেউ নাচ দেখায়, আবার কেউ বাঁশি বাজিয়ে শোনায় আমাকে। আমি জানি ওরা সবাই ভালোবাসার ভান করে শিখে নিতে চায় আমার মন্ত্র জানার উপায়। উঁহু সেটি হচ্ছে না! সে ব্যাপারে আমি সাংঘাতিক সেয়ানা। ওদের মধ্যে অনেককেই আমার বেশ ভালোই লাগে, তবে একসময় প্রিয় পরি ছিল লিলি। এটাও ওর আসল নাম কি না জানি না। তবে এই নামটা ভালো লাগত বলে ওকে এ নামেই ডাকতাম। কোনও এক দেবতার সভায় রোজ সন্ধেয় নাচ-গান করে আনন্দ দিত। তো আমি মাঝেমধ্যেই লিলিকে ডাকতাম। যদিও এক পরি আমার দ্বিতীয় বার পছন্দ নয়, তবু কেন যে ওকে বার বার ডাকতাম! লিলির গায়ের চামড়া থেকে অদ্ভুত একটা ঘাস ঘাস গন্ধ বের হত। শীতের বিকেলের মস্ত মাঠে একা চুপচাপ দাঁড়ালে হিমে ভেজা মাঠের থেকে যেমন একটা গন্ধ পাওয়া যায় ঠিক সেইরকম গন্ধ। তবে লিলির জিভে মাখানো লালাতে অন্যান্য পরির মতোই একইরকম স্বাদ ছিল। এই কারণটা আমি বুঝি না, সব পরির কী একইরকম লালা নি:সৃত হয় জিভে? সবসময়ই কি আমার মতো দেবতাদের সান্নিধ্যে থাকার সময়? ওর বাড়ি ছিল…নাহ জায়গার নামটা আর মনে নেই। তবে মফসসল। আমি সবুজ ডিম লাইট জ্বালিয়ে সুরাপাত্রে চুমুক দিতাম আলস্যে। আর ও আমার চোদ্দোশো স্কোয়ার ফিটের একাকী ফ্ল্যাটে ঘুরে ঘুরে নেচে নেচে গান গাইত। আমি আনন্দ পেলে মন্ত্র ছেটাতাম ওর গোটা শরীরে। ও আবেগে শিউরে শিউরে উঠত সেই মন্ত্র-স্পর্শে। সপাটে জড়িয়ে ধরত আমাকে। ওর ঘাসের গন্ধ মাখা, চামড়া ঢাকা শরীর দিয়ে। আমার তখন ওই গন্ধে আরও ঘন নেশা হয়ে যেত।

    অন্য সব পরির ডানার রং ছিল সোনালি, রুপোলি, লাল-নীল-গোলাপি। একমাত্র লিলির ডানা ছিল ঘন সবুজ রঙের। এর কারণ ওকে জিগ্যেস করলে ও হেসে উত্তর দিত, ‘জানি না। আমার জঙ্গল ভালো লাগে।’ ডানা ঝাপটে যখন বসত আমার পাশে তখন দু-একটা পালক খসে পড়লে আমি দেখেছি ওগুলো অবিকল গাছের পাতার মতো। অবশ্য পরিরা যখন ফিরে যায় কিচ্ছু ফেলে যায় না। একটা পালকও নয়। এটাই ওদের দস্তুর। ঘন সবুজ রং আমার সব চেয়ে প্রিয়, সেই ছোটবেলা থেকে। ছেলেবেলার স্মৃতি যদিও আমার কাছে অনেকটা ঝাপসা। তবু টুকরো ছবির মতো মনে পড়ে গ্রামের কথা। গ্রামের শেষ মাথায় আমার খড়চালার বাড়ির কথা। বাড়ির পিছনে দাঁড়ালেই হু-হু সবুজ মাঠ, ধানখেত। হাওয়া বইলে ধানগাছের ঝিনঝিন শব্দ। হাওয়ার রংও যে সবুজ হয়, গন্ধও যে সবুজ রঙা হতে পারে সেই ছোটবেলায় দেখতে পেরেছিলাম, বুঝতে পেরেছিলাম আমি। বাবা-মা-দিদি-আমি-আমার শৈশব-কৈশোরের বন্ধুরা…সবাই যেন সবুজ সবুজ রঙের দেখতে ছিল। ইশকুলের মাস্টারমশাই আমার ছবি আঁকার খাতা টেনে নিয়ে হো হো করে হেসে বলত, ‘গাছও সবুজ, গরুও সবুজ, আকাশও সবুজ! করেছিস কী?’ কিন্তু কী করব, আমি যে ওই রংই দেখতে পেলাম সব কিছুতে। সত্যি কথা বলতে মাস্টার মশাইয়ের হো হো হাসিটাও তখন সবুজ রঙের দেখতে লাগত। পড়াশোনায় খুব মাথা ছিল আমার। ইশকুলে বরাবর ভালো রেজাল্ট। স্কুল পাশের পর কলেজে ভর্তি হয়ে কলকাতায় মেসে থাকতে শুরু করলাম। আমার নতুন জীবনের প্রসূতি ঘর ওই মেসে। চোখের সবুজ রং একটু একটু করে ঘষটাতে শুরু করল তখন থেকে। কলেজের মেসের বন্ধুদের সঙ্গে সিদ্ধ-নিষিদ্ধ অনেক জায়গায় যেতে যেতে ঘুরতে ঘুরতে চোখের রং পালটাতে শুরু করে দিল দ্রুত। গ্রামের আলো নিজেকে দেখায় না, দেখতে দেয় সব কিছুকে। শহরের আলো শুধু নিজেকেই দেখায়। তীব্রতা মন কাড়ে তাড়াতাড়ি। নিজের গ্রামের বাড়িতে আর ফিরতে ইচ্ছে করত না। টান কমছিল। তবে এত কিছুতেও পড়াশোনা থেকে মন সরাইনি কিছুতেই। একটা জিনিস খুব ভালো করে শিখিয়ে দিয়েছিলাম নিজেকে, এশহরে একদিন আমি শুধু টিকে থাকব না, দাপিয়ে বেড়াব, তার জন্যে ভিত চাই, ভিত। কলেজেও ভালোভাবে পাশ করে আর ঘরে ফিরে যাইনি। দু-চার জায়গায় কিছুদিন টুকটাক চাকরি করতে করতে বড় একটা জায়গায় লেগে গেল। তারপর নিজের এই দুই মুঠি আর মাথাটাকে প্রাণপণ খাটিয়ে চড়চড় করে ওপরে উঠতে উঠতে একেবারে শহরের দক্ষিণে একটা বারোতলা ফ্ল্যাটের সবচেয়ে টপ ফ্লোরের চোদ্দোশো স্কোয়্যার ফিট পুরো আমার। ব্যালকনি থেকে নীচে তাকালে অনেক দূরের কোনও গ্রহের দিকে তাকিয়েছি মনে হয়। মানুষগুলোকে সুড়সুড়ি পিঁপড়ের মতো দেখতে লাগে। দারুণ মজা হয়!

     

     

    আমার ইতিহাস আমাকে খুব বেশি দূর তাড়া করতে পারেনি। এত দ্রুত গতি আমার। সে কিছু দূর পর্যন্ত আমার পিছনে দৌড়ে হাঁপিয়ে পিছিয়ে পড়েছে। আমি তাকে ফেলে অনেক অ-নে-ক এগিয়ে গেছি। পিছনে তাকালে কাউকে দেখতে পাই না। ভাগ্যিস!

    আমার আসলে মনে হত লিলির সঙ্গে আমার কোথাও খানিকটা মিল আছে। ভালোবাসার অন্যতম ছুতোই হল মিল খোঁজা। সেজন্যই কি? লিলিও কি মিল খুঁজত? ঠিক জানি না, বুঝি না। লিলিকে আমি কখনও আহ্লাদে জিগ্যেস করে ফেলেছি ওর পুরোনো ফেলে আসা কথা। আর প্রতিবারই ও এক এক রকমের ইতিহাস বলেছে নিজেকে, যার কোনওটার সঙ্গে আগেরটার মিল নেই। সবটাই বানানো এবং সুখের। আমি ধরে ফেলতাম মনে মনে। কিন্তু বলতে বাধা দিতাম না ওকে। কেমন ঘোরের মধ্যে ও বলে যেত, ওর শৈশব-কৈশোর-ভিটে…জন্মদাগ…তবে প্রতিটি গল্পে ওর পুরোনো বাড়ির জায়গার নাম, ভাই-বোনের সংখ্যা পালটে গেলেও বাড়ির পাশে একটা মস্ত জঙ্গল ঠিক থাকত। সেটা হয়তো সত্যিই। ‘আমার বাড়ির ঠিক পাশেই একটা বি-শা-ল জঙ্গল ছিল’ দু-হাত টান করে ছড়িয়ে চোখ বড় করে আপ্রাণ বিশালত্ব বোঝাতে চাইত লিলি। তা হলে শুধু একমাত্র জঙ্গল ছাড়া বাকি সব কথা কি ওর স্রেফ মিথ্যে? হয়তো ঠিক মিথ্যে নয়, ওগুলো ওর স্বপ্ন-কথা। স্বপ্ন কি মিথ্যে না সত্যি? মানুষ যা পেয়েছে সেটাই কি একমাত্র সত্যি আর যা আজীবন চেয়েছে সেটা কি সত্যি নয়?

     

     

    যাই হোক লিলির ইতিহাস জানার থেকে ওর ভূগোলের প্রতিই স্বাভাবিকভাবে আমার আকর্ষণ ছিল অনেক বেশি। এভাবেই চলতে চলতে জানি না কীভাবে কখন প্রেমে পড়ে গেলাম। ওর গন্ধটা…কিংবা ডানার রং…না কি সেই মিথ্যে গল্পের জন্যে…কে জানে? প্রেমই বলব অবশ্য। নইলে রোজ রোজ হরেক কিসিমের পরি নামানোর মন্ত্র জানা সত্বেও আমি কী করে একদিন পানপাত্রে একটি চুমুকও না দিয়ে ওর হাতের আঙুলে আঙুল রেখে বলে ফেলেছিলাম ‘থাকবে?’

    লিলি ওই শব্দ শোনা মাত্র দুই ডানা মেলে উড়ে গিয়েছিল। তারপর আমি অনেক এই সভা, ওই সভায় খোঁজ করেছি ওর, পাইনি। সারারাত ধরে প্রচণ্ড জেদে, ক্রোধে আমার সমস্ত মন্ত্র ঢেলে ডেকেছি ওকে। কাজ হয়নি মন্ত্রে। অবাক হয়েছি নিজের পরমপ্রিয় মন্ত্রের অক্ষমতায়। কোথাও কি আনন্দও পেয়েছি মন্ত্রের অসহায়তা দেখে?…মনে পড়ে না।

    অনেক সময় পার হয়ে গেছে তার পর। অন্য সব পরিদের কাছে ভাসাভাসা খবর পেয়েছি লিলির। আমার সঙ্গে না থাকলেও লিলি থাকে। অন্য একজনের সঙ্গে। বিয়ে হয়েছে লিলির। ঠিক দু:খ কিংবা রাগ অথবা বিস্ময় কিছুই হয়নি সেকথা শুনে। লিলিকে ছাড়াই পার করছিলাম আমার জীবন। তারপর হঠাৎই একদিন ওকে দেখতে পেয়ে গেলাম গড়িয়াহাটে একটা জুতোর দোকানে। বাচ্চাদের জুতো পছন্দ করছিল। ওর কোলে ছোট্ট একটা শিশু। আর সঙ্গে রোগাটে, লম্পাপানা টিপিক্যাল ছাপোষা প্যাটার্নের কালচে রঙের বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবক। বুঝে গিয়েছিলাম লিলির সঙ্গে ও কে। আর আবাক হয়ে গিয়েছিলাম লিলির পিঠের সেই সবুজ ডানা দুটো নেই দেখে। একটুও নেই। কেটে ফেলেছে, নাকি খসে গেছে? একেবারে মেয়েদের মতো তেল চকচকে চাঁছাপোঁছা পিঠ। আমি ওর দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছি বুঝতে পেরে লিলি একবারের জন্যে স্রেফ আলগোছে আমার দিকে দৃষ্টি ফেলেছিল। চিনতে পারেনি। আমি বুঝেছিলাম ও সত্যি সত্যিই চিনতে পারেনি। কিন্তু ওকে আরও অনেক বেশি সুন্দর লাগছিল আগের থেকে। কোলের বাচ্চাটা যখন এমনি এমনি হঠাৎ হেসে উঠছিল তখন অদ্ভুত এক আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল লিলির শরীর থেকে। সুন্দর! ডানাকাটা পরি…উঁ…ডানাকাটা বউ পরি…নাহ মা পরি…ধ্যাস!

     

     

    আমার অন্যান্য সব পরি জানিয়েছিল লিলির বর আর্টিস্ট, ছবি আঁকে। তবে রোজগারপাতি তেমন কিছু নয়। কোনওমতে চলে আর কি। লিলির পুরোনো পরি-জীবন কি সে লোক জানে? তার উত্তরে পরিরা বলেছিল, তাদের সেকথা জানা নেই। কিন্তু আগের সেই সুখের, প্রাচুর্যের জীবন ছেড়ে কীসের জোরে ওই চ্যাটচ্যাটে একঘেয়ে জীবনে চলে গেল লিলি? লোকটাকে দেখলেই মনে হয় গায়ে সবসময়ে ঘামের দুর্গন্ধ, নির্লোম শরীর, হাত-পায়ের নখে কালো ময়লা, ফাটা গোড়ালি, সস্তায় জাঙ্গিয়া পরে। দু-এক জায়গায় ছেঁড়া এবং সেটা নিজে কখনওই কাচে না। লিলিকে কাচতে হয়। এসব ভেবে আমি আরও অবাক হয়ে গিয়েছিলাম—’কেন-ও?’ স্রেফ এই উত্তরটা জানার জন্যে লিলিকে আমি তারপর আবার বহুবার মন্ত্রে ডেকেছি এবং সে একবারও আসেনি। অনেক দিন আগে আমি একবার ওকে জিগ্যেস করেছিলাম, ‘তুমি খুব ভালো আছো তাই না? ডানায় ভর করে যেখানে ইচ্ছে খুশি ঘুরে বেড়াও। কোথাও ফিরে আসার দায় নেই।’ শুনে হেসেছিল ও। আমার চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলেছিল, ‘জানি না ভালো আছি কি খারাপ আছি। তবে একদিন নিশ্চয়ই নিজের মতো থাকব। আর ফেরার দায়ের কথা বলছ, ফিরে আসার দায় যে কত সুখের, যাদের ফেরার কোথাও নেই তারা বোঝে।’

     

     

    বড় অদ্ভুত ঠেকেছিল ওর কথাগুলো। ভালোও নয়, খারাপও নয় নিজের মতো থাকা। সেটা কেমন ধরনের? কতটা সুখের? কথাটাকে ভুলে যাওয়ার জন্যে একা রেখে দিয়ে আমি রোজ আরও আরও পরি নামাতাম। আমার ভালো থাকার একক জগতে ফিরে গিয়েছিলাম। অজস্র ডানাওয়ালা পরি ভিড় করত আমার কাছে। কিন্তু তাদের শরীরে সব নকল ফুলের গন্ধ। ওদের খোলা গায়ে প্রাণপণে নাক ঘষে আমি এতটুকু ঘাসের গন্ধ পেতাম না। ক্রোধে দূর করে দিতাম ওদের। আবার ডাকতাম, আবার তাড়িয়ে দিতাম ঘৃণায়।

    আর এর মধ্যেই চুপিসারে বয়েস কখন হুড়মুড় করে ঝুঁকতে শুরু করেছিল আমার দিকে। আমার মন্ত্রের ভাণ্ডার আরও ফুলেফেঁপে উঠতে থাকলেও মন্ত্র উচ্চারণ করতে গেলে জিভ জড়িয়ে যেত, আলস্য আর অচেনা ভয় জড়িয়ে থাকতে শুরু করল আমাকে। সেই ভয়টাও আমার মতোই একা। আমার মতোই ভিতু, কোণঠাসা। কিচ্ছু ভালো লাগত না আমার। ভুঁড়ি, চোখের কোল, দৃষ্টি, হাঁটাচলা স-ও-ব ঢিলে আর নতমুখী হয়ে উঠছিল। চোদ্দোশো স্কোয়্যার ফিটের পুরোটা আর আগের মতো ‘আমি’-তে ভর্তি হচ্ছিল না। গুটিয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছিলাম। মেঝেতে সারারাত পা ঠুকে ঠুকে দুমদুম শব্দ করে হাঁটতাম। ‘আমি আছি’ এই প্রমাণ করার জন্যে। লোকের সঙ্গে গায়ে পড়ে ঝগড়া করতাম, ‘আমি রয়েছি’ জানানোর জন্যে। মানুষের আসল ভয়টা হল মৃত্যুভয়। আমার মধ্যে কেঁচোর মতো নি:শব্দে গর্ত খুঁড়ে ঢুকতে শুরু করেছিল সে। কোঁকড়ানো কেন্নোর মতো হয়ে উঠেছিল আমার আত্মা। চোখের সামনে সবকিছুর রং ফ্যাকাশে আর একইরকম মনে হত। ঘুম হত না কোনওদিনই। কড়া ঘুমের ওষুধ খেতাম। আচমকা একদিন স্বপ্নে দেখলাম একটা বিস্তৃত সবুজ আকাশের মধ্যে দিয়ে উড়ছি। শোঁ-ও শোঁ-ও শব্দ হচ্ছে আমার উড়ানে। উড়তে উড়তে পাশে তাকিয়ে দেখি একটি মেয়েও আমার সঙ্গে সঙ্গে উড়ছে। মুখটা দেখতে পেতাম না। অস্পষ্ট ঘষা ঘষা। বার বার চিনতে, ভালো করে দেখতে চেষ্টা করেছিলাম, কিছুতেই পারছিলাম না। উদ্বেগে ঘুম ভেঙে উঠে বসতেই এতদিন পর হঠাৎ লিলির কথা মনে এল। আবার খুব ইচ্ছে হল ওর সঙ্গে কথা বলতে। আর ওর গায়ের সেই গন্ধটা…সেই অদ্ভুত গন্ধটা একবারের জন্যে প্রাণপণে নিতে। আমি আমার সর্বস্ব ঢেলে দিনরাত এক করে ডাকতে থাকলাম ওকে। জানতাম ও আসবে না। তবু ডাকতে ডাকতে আমার গলা বসে গেল। এল না। খুব আনন্দ হচ্ছিল আমার। কেন কে জানে! কিন্তু আমি থামতেই আচমকা ও এল। আমাকে অবাক করে দিয়ে, নিরাশ করে দিয়ে ছাদের কার্নিশ ধরে বুক ঘষটে কোনও মতে হিঁচড়ে ঘরে ঢুকল আমার, বহুকাল পরে। অপুষ্টির আলগা থলথলে চেহারা, অনেক দিনের অনভ্যস্ত রং মাখা দুই গাল, ঠোঁটে কড়া লাল লিপস্টিক, ঝলমলে বেমানান শাড়ি আর ব্লাউজের ভিতর ঢিলে দুই বুক নিয়ে আমার ঘরে এসে এমনভাবে হাঁ করে হাঁফাতে থাকল যেন পৃথিবীর সব অক্সিজেন এই মুহূর্তে ওর চাই। বললাম ‘বসো।’ ও বসল সোফাতে, টেবিলের জলের বোতল তুলে অনেকটা জল খেয়ে চোখ বুজে বসে রইল কিছুক্ষণ। ডিম লাইটে ওর আঁচল সরে যাওয়া খোলা স্ফীত পেটটা দেখে ক্লান্ত ব্যাঙের মতো মনে হচ্ছিল। সরাসরি জিগ্যেস করলাম ‘এলে যে?’

     

     

    ‘তুমিই তো ডাকলে।’ হাসল লিলি। কালচে ছোপ পড়া দাঁত, পান খায় এখন!

    ‘আবার আসছ তাহলে আজকাল?’ গলায় ঘৃণা মিশিয়ে বললাম আমি।

    ‘হ্যাঁ-এ-হ্যাঁ-হ’ হাই তুলল ও। ঠোঁট চেটে হেসে বলল, ‘আমি তো ভাবলাম তুমি বুঝি ভুলেই গেছ আমাকে।’

    ভুলতে পারলে খুব ভালো হত বিশ্বাস করো। না বলে চুপ থাকলাম। জানতে ইচ্ছে করছিল, তোমার গায়ের সেই গন্ধটা আছে এখনও?

    বললাম, ‘তোমাকে একেবারে লোমওঠা ধ্যাসড়ানো সস্তার পরিদের মতো দেখতে লাগছে।’

    শুনে গায়ে না মাথা আলস্যের হাসি হাসল লিলি। ‘তাই বুঝি?…অ্যাই তোমার তো প্রচুর চেনাশোনা, আমাকে দাও না একটা সভায় ঢুকিয়ে। আমি এখনও নিশ্চয়ই সব ভুলিনি বলো?’

    ‘সেটা আমি কী করে জানব? যাক গে তোমার হাজব্যান্ডের খবর কী?’

     

     

    ‘ও থাকে না আমার সঙ্গে, অ-নে-ক দিন!’

    ‘তাই-ই!’

    ‘হ্যাঁ।’ একই ক্লান্তি ওর গলায়।

    ‘তাহলে তোমার বাচ্চাটা?’

    ‘ও কোথায় যাবে, আমার কাছেই আছে।’

    ‘কত বয়েস এখন?’

    ‘এবছর ক্লাস থ্রি হল। পড়াশোনায় খুব মাথা।’ জিতে যাওয়ার সামান্য আলো পড়ল ওর চোখ-মুখে। ‘তবে ভীষণ দুরন্ত।’

     

     

    আমি ওর মুখোমুখি এসে বসলাম। ‘তোমাদের অনেক দিন আগে একবার একটা জুতোর দোকানে দেখতে পেয়েছিলাম। সেদিন তোমার পিঠে ডানা ছিল না। আবার কি নতুন করে গজাল না কি?’ তাচ্ছিল্য নিয়ে হেসে বললাম আমি। সঙ্গে সঙ্গে দু-হাতে নিজের মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে উঠল লিলি। সামনে ঝুঁকে কেঁপে কেঁপে উঠতে থাকল। আর আমি কষ্ট পেতে পেতে দেখতে থাকলাম ওর পিঠে জোর করে ফুটিয়ে গোঁজা দুটো নকল ছোট ডানা, যা ওর নিজের নয়। পিঠে হাত রেখে একটানে ডানা দুটো উপড়ে ফেলে দিলাম আমি। পিঠ থেকে খানিকটা বদরক্ত বেরিয়ে এল। ওর ঘাড়ের কাছে মুখ রাখলাম। লিলির কানের লতির কাছ থেকে ফিকে…খু-উ-ব হালকা ঘাসের গন্ধ আসছে। অনেক দূর থেকে যেন। একবুক গুড়গুড় শব্দ নিয়ে আমি ওর কানে ফিসফিস করে বললাম—’আমিও আর মন্ত্র পরি নামাতে পারি না। তুমি আজ এমনিই এসেছিলে!’

    সানন্দা

    জুন ২০০৯

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল
    Next Article রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    Related Articles

    বিনোদ ঘোষাল

    রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    বিনোদ ঘোষাল

    কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }