Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ডানাওলা মানুষ – বিনোদ ঘোষাল

    বিনোদ ঘোষাল এক পাতা গল্প253 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মানুষীর কথা

    প্রথম দিকে অতটা কেউ খেয়াল করেনি। মণিই প্রথম দেখাল। ‘দেখ দেখ, ঢলানি দুটোকে দেখ একবার।’ সঙ্গে সঙ্গে তাস ফেলে চার দু-গুণে আট আর মণির নিজের দুটো মিলিয়ে মোট দশটা চোখ ঘুরে গেলে ছেলে-মেয়ে দুটোর দিকে। ছেলেটা বছর ত্রিশ-বত্রিশের। একটা লালচে হয়ে আসা শার্ট আর খয়েরি রঙের ফুলপ্যান্ট পরে পা তুলে সিটের ওপর বসে। ফুলপ্যান্টটা আবার হাঁটু পর্যন্ত গোটানো। লিকলিকে, কালচে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে ইয়াব্বড় গোল কালো রঙের একটা গুঁফো। মাথার চুল রক্ষ। তোবড়ানো গাল নিপুণভাবে সেভ করা। লালচে সরু গোঁফ। মেয়েটা কত হবে, খুব জোর চব্বিশ-পঁচিশ। তেল চকচকে শ্যামলা গায়ের রং। পরনে একটা টকটকে লাল রঙের ব্লাউজ আর লাল-সাদায় একটা শাড়ি। শাড়িটা বেশ নতুন নতুন। মেয়েটাও সিটের ওপর উবু হয়ে বসে। শাড়ির নীচ দিয়ে সায়ার খানিকটা বেরিয়ে রয়েছে। মুখটা বেশ।

    ছেলেটা ওর শিরা ওঠা হাত দুটো বাড়িয়ে মেয়েটার ডান হাতের তালু থেকে ব্লাউজের হাতার প্রান্ত পর্যন্ত সুড়সুড়ি দিতে দিতে একবার উঠছে আর নামছে। বেড়ালচুরি খেলছে বোধহয়। মেয়েটা সুড়সুড়ির চোটে ওর ডান কাঁধ উঁচিয়ে ঘাড় কাত করে খিলখিল করে হাসছে। কিন্তু হাত সরাচ্ছে না।

    দুজনের নিখুঁত বর্ণনাটা গোগ্রাসে গিলে নেওয়ার পর ইলা বলল, ‘ওভাবে দেখিস না, দেখছি বুঝলে আরও বাড়বে।’

    অনু ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল, ‘আদিখ্যেতা।’

    চোখ সরিয়ে নিয়ে আবার ফিস খেলায় মন দিল ওরা।

    এই দলটার নাম পঞ্চপাণ্ডবী। বয়সটা বছর খানেক বেশি বলে প্রথম পাণ্ডবী লক্ষ্মী। বাকিরা সব পঞ্চান্নর কোঠায়। পরিচিতদের দেওয়া এই খেতাবটার জন্য দলের পাঁচজনেরই বেশ একটা অহংকার রয়েছে মনে। অনু আর ইলা এক পাড়ার বন্ধু। বাকিদের সঙ্গে পরিচয় কলেজে আসার পর। লক্ষ্মী তখন বেথুন কলেজে জি এস। কলেজ সোশ্যালে দুর্গার অসাধারণ টপ্পা, অনুর ডেকরেশন, মণির আবৃত্তি আর ইলার হইহই স্বভাব পাঁচটা মাথাকে এক করে দিয়েছিল। তারপর কলেজ পালিয়ে এদিক-ওদিক যেতে-যেতে একেবার বাড়ির সঙ্গে প্রায় লড়াই করেই বসন্ত উৎসবে শান্তিনিকেতন। অনুর মামা বিশ্বভারতীতে চাকরি করতেন। তিনিই গেস্ট হাউসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সেই প্রথম এক অচেনা স্বাদ। তারপর থেকে প্রত্যেক বছরে দু-একবার করে দীঘা, শান্তিনিকেতন, পুরী, ডুয়ার্স। কলেজ শেষ হবার পর প্রথম লক্ষ্মীর বিয়ে। সেই-ই শিলিগুড়ি। তারপর সবার একে একে বিয়ে হয়ে এদিক-ওদিক ছিটকে গেল। বছর কয়েক শুধু ফোনে, ‘কী রে কেমন আছিস?’ একদিন লক্ষ্মীর পাঠানো ওর দ্বিতীয় ছেলের অর্ণবের অন্নপ্রাশনের নিমন্ত্রণ কার্ড। সঙ্গে একটা ছোট্ট হুমকি। ‘এবারে যদি কেউ না আসিস তাহলে জন্মের মতো…’

     

     

    বাকি চারজন পরামর্শ করে ঠিক করল এবার যেতেই হবে। দুর্গা স্কুল টিচারি করে। ছুটি পাবে কি না সেই নিয়ে একটু চিন্তা ছিল। মঞ্জুর হয়ে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়িতে কোনওমতে রাজি করিয়েই দে ছুট। তারপর দু-তিনটে দিন হই-হুল্লোড়, পুরোনো সেই দিনের কথা। সিদ্ধান্ত হয়ে গেল, আর নয়। এবার থেকে আবার বেরোতে হবে। অন্তত বছরে একবার। সেবছরেই ঠিক হল গ্যাংটক।

    তার পর কেদারনাথ, তারপর…তারপর করতে করতে প্রায় কুড়ি-পঁচিশ বছরে গোটা ভারতটাকেই চষে ফেলেছে দলটা। তারমধ্যে কয়েক বার যে-যার পতি পুত্র-কন্যা নিয়েও একসঙ্গে যাওয়া হয়েছে। মাঝেমধ্যে কয়েকটা বছর শুধু বাদ গেছে এর অসুখ কিংবা ওর মেয়ের পরীক্ষা অথবা তার ছেলের বিয়ে ইত্যাদি কারণে। শত্তুরের মুখে ছাই দিতেই যেন দলটা দিনে দিনে আরও মজবুত, আরও অন্তরঙ্গ হয়ে উঠেছে।

    ধীরে ধীরে বয়স বেড়েছে। ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। লক্ষ্মীর এক মেয়ে আর ইলার দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দুর্গার স্বামী মারা গেছে। বড় ছেলে চাকরি নিয়ে স্টেটসে চলে গেছে। ছোট ছেলের কাছে থাকে। মণির কোনও ইস্যু হয়নি। অনুর মেয়ে জেবিটি ট্রেনিং নিচ্ছে।

     

     

    এই এতগুলো বছরে পাঁচটা থালাবাটি-গ্লাসে কখনও ঠোকাঠুকি লাগেনি তা নয়। কিন্তু তা কখনওই সম্পর্কের অস্তিত্বে টান মারতে পারেনি।

    এবছর ওদের গন্তব্য পুরী। বয়স হয়ে গেছে বলে বাড়ির কেউ ছাড়তে চাইছিল না। বহু কষ্টে এবারেই শেষ বার ইত্যাদি বুঝিয়ে রাজি করিয়েছে। পুরীতে আগেও বার দুয়েক এসেছে ওরা। কিন্তু সমুদ্রের টান…।

    ‘কী রে খেয়ে নিবি না কি? সাড়ে আটটা বাজে’, মণি বলল।

    ‘দাঁড়া তো, ট্রেনে উঠলেই খালি খাই খাই,’ ইলা ধমক দিল।

    লক্ষ্মী বলল, ‘হ্যাঁ রে আমরা শেষবার পুরী এসেছিলাম তখন কি এটাতেই গেছিলাম?’

    মণি মাথা নেড়ে বলল, ‘উঁহু, পুরী এক্সপ্রেসে।’

    দুর্গা মন দিয়ে বনফুল পড়ছিল। অনু বলল, ‘এই যে দিদিমণি, বই পড়ার নাম করে ওদের খুব টেরিয়ে দেখছিস না?’

     

     

    ‘যাহ খালি ইয়ার্কি!

    ‘হি-হি।’

    দুর্গা বই বন্ধ করে জানলার বাইরে তাকাল। বাইরেটায় চোখে অস্বস্তি ধরিয়ে দেওয়া নিকষ অন্ধকার। মাঝেমধ্যে একটা-দুটো আলো নিমেষে জানলার সামনে ছুটে এসে পরক্ষণেই মিলিয়ে যাচ্ছে। তাস রেখে ট্রেনের দুলুনির সঙ্গে দুলতে দুলতে গল্প শুরু করল ওরা।

    জগন্নাথ এক্সপ্রেসের এস-ফাইভ কামরার সতেরো থেকে একুশ নম্বর স্লিপার ওদের। ওদের উলটোদিকের জানলার ধারে তেইশ-চব্বিশ নম্বর স্লিপারে ছেলেমেয়ে দুটো। লাগেজ বলতে একটা বিগ শপার, একটা জাফরিওলা বাকেট আর একটা ছোট সাইড ব্যাগ। ব্যাগটা ছেলেটার। ছেলেটা এখন খইনি বানাচ্ছে।

    মণি নাক টিপে বলল, ‘অসহ্য! এক্ষুনি থপথপ করে ঝাড়বে আর ডাস্টগুলো এদিকে আসবে।’

     

     

    মেয়েটা এবার বিগ শপার থেকে খাবার বার করল। এক পাউন্ড পাউরুটি গোটা কয়েক মর্তমান কলা আর একটা পুঁচকে সন্দেশের বাক্স।

    লক্ষ্মী ফিসফিস করে বলল, ‘রাত্রিবেলা কাঁচা পাউরুটি আর কলা! আমার তো দেখেই অম্বল হয়ে যাচ্ছে রে।’

    মণি বলল, ‘আমারও তালে বার করি।’

    অনু বলল, ‘হ্যাঁ বাবা কর, গতজন্মে না খেয়ে মরেছিলি না কি?’

    সাদা রুটি, পেঁয়াজ ছাড়া বাঁধাকপির তরকারি আর দুটো করে কালাকাঁদ কাগজের প্লেটে খেতে খেতে ইলা ছেলেমেয়ে দুটোর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সদ্য বিয়ে করেছে, বুঝলি, হনিমুনে যাচ্ছে বোধহয়।’

    মণি বলল, ‘কী করে বুঝলি?’

    ‘কপালে সিঁদুরটা দেখ, আনতাবড়ি লাগানো। শাঁখা-পলাটাও নতুন।’

     

     

    আবার সবাই তাকাল ওদিকে। মেয়েটার কালো হাতে শাঁখা ঝকমক করছে।

    অনু বলল, ‘সত্যিই! ব্যোমকেশের স্ত্রীলিঙ্গ কী হবে রে?’

    দুর্গা বলল, ‘ব্যোমকেশী।’

    ‘হি হি হি।’

    হাসির শব্দে ছেলেমেয়ে দুটো ওদের দিকে তাকাল একবার। তার পর আবার খেতে খেতে নিজের মধ্যে গল্প শুরু করল।

    খাবার পর প্লাস্টিকের বোতল খুলে ঢকঢক করে জল খেল ছেলেটা। মেয়েটাও খেল।

    লক্ষ্মী আবার আঁতকে উঠল, ‘কাঁচা পাউরুটির পর জল! মরবে।’

     

     

    ‘আরে দুর, থাম তো! ওদের কিছু হয় না।’

    খাওয়া হয়ে যাওয়ার পর প্লেট গুলো জানলা দিয়ে ফেলে হাত-টাত ধুয়ে বাথরুম সেরে আবার একপ্রস্থ তাস। তারপর শুয়ে পড়ল ওরা।

    ছেলেমেয়ে দুটো তখনও গল্প করছে। টিউব লাইট নেভানো। শুধু নীলরঙের ডিম লাইটটা জ্বলছে। আবছা অন্ধকারে মাঝেমধ্যে মেয়েটার—’অ্যাই ধ্যাত…হি-হি’, শোনা যাচ্ছে। কী বেলেল্লাপনা করছে কে জানে!…ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল ওরা।

    লক্ষ্মী আর দুর্গা লোয়ার বার্থে শুয়েছিল। অনেক রাত। হঠাৎ ‘ও মাসি, ও মাসি, উঠুন না।’

    আচমকা ঠেলা খেয়ে ‘কে কে’ বলে ধড়মড় করে উঠে বসল লক্ষ্মী। দুর্গাও জেগে উঠে টিউব জ্বালাল।

    মেয়েটা সামনে দাঁড়িয়ে। চোখে-মুখে প্রচণ্ড ভয়।

     

     

    কাঁচা ঘুম ভেঙে গেছে বলে লক্ষ্মী বেশ বিরক্তির সঙ্গে বলল, ‘কী হল কী?’

    ‘ও মাসি, ও উঠল না তো।’

    দুর্গা জিগ্যেস করল, ‘কে উঠল না?’

    মেয়েটা একটু ঢোঁক গিলে বলল, ‘দুলাল, আমার বর।’

    ট্রেনটা বোধহয় কোনও স্টেশনে থেমেছিল। আবার গতি নিচ্ছে। দুর্গা বলল, ‘এত রাতে হঠাৎ নামতে গেল কেন?’

    ‘বলল যে খাবার জল নিয়ে আসছি।’

    ‘অ। তাহলে দেখ নিশ্চয়ই অন্য কোনও কামরায় উঠে পড়েছে।’

    ‘যদি না উঠতে পারে!’ ভেউ ভেউ করে বাচ্চাদের মতো কেঁদে ফেলল মেয়েটা।

     

     

    লক্ষ্মী বলল, ‘আরে কী মুশকিল, জোয়ান ছেলে উঠতে পারবে না কেন? তুমিও যাও বসো গিয়ে। দেখবে একটু পরেই চলে এসেছে।’

    মেয়েটাকে তাও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে লাইট নিভিয়ে দিল দুর্গা। নীল রঙের আবছা আলোয় মেয়েটাকে ভূতের মতো লাগছে।

    লক্ষ্মী বলল, ‘আরে চিন্তার কিছু নেই। তুমি যাও না, বসো গিয়ে।’

    মেয়েটা চুপচাপ নিজের বার্থে গিয়ে বসল।

    দুর্গা খানিক বাদেই ঘুমিয়ে পড়ল। লক্ষ্মী শুয়ে কিছুক্ষণ এপাশ-ওপাশ করতে করতে মেয়েটার ফোঁপানো শুনতে পেল। আচ্ছা জ্বালাতন তো! আবার উঠে বসল লক্ষ্মী। পায়ে চটি গলিয়ে মেয়েটার কাছে গেল।

    ‘কী হল, আসেনি এখনও?’ বলে কী ভেবে মেয়েটার মাথায় হাত রাখল। মেয়েটা ডুকরে উঠল।

     

     

    লক্ষ্মী বসল মেয়েটার পাশে। ‘দুর বোকা, কাঁদার কী আছে? আমাদেরই কত বার এমন ঘটনা হয়েছে। ভয়ের কিছু নেই।’

    চোখের জল মোছা ভেজা হাতটা লক্ষ্মীর হাতের ওপর রাখল মেয়েটা, অনেক দূরের কোনও নিয়ন আলো জানলার শার্সিতে পড়ল। লক্ষ্মী মেয়েটার মুখ দেখতে পেল একঝলক। অন্যরকম সে মুখ। লক্ষ্মী বলল, ‘দাঁড়াও, ওদের তুলি।’

    টিউবটা আবার জ্বালিয়ে লক্ষ্মী ঠেলা মেরে তুলল অন্যদের। সবাইকে বলল ঘটনাটা। হাঁ হয়ে শুনল সকলে। সন্ধেবেলার বিরক্তি কারও মনে নেই।

    অনু বলল, ‘কী হবে তালে?’

    মণি বলল, ‘তাই তো বুঝতে পারছি না। উঠে থাকলে এতক্ষণে তো চলে আসা উচিত। এক যদি না জেনারেলে ওঠে।’

    ইলা মেয়েটাকে জিগ্যেস করল। ‘তোমরা যাচ্ছ কোথায়, পুরী?’

     

     

    ‘হুঁ’, কান্না চেপে গলা ভেঙে গেছে মেয়েটার।

    ‘তোমার নাম কী?’

    ‘সন্ধ্যা।’

    তারপর কথা চলল প্রায় সারারাত। খুব পরিচিত একটা গল্প। সন্ধ্যার বাড়ি বাগনানের কাছারিপাড়ায়। দুলালের বাড়ি মেচেদায়। দুজনেই জগন্নাথ ঘাটে এসে ফুল বেচত। পাশাপাশি বসার সুবাদে একদিন পরিচয় থেকে প্রেম। দুলালদের অবস্থা সন্ধ্যার থেকে ভালো। নিজেদের কিছু জমিজায়গা, একটা ফুলের বাগান আছে, জাতে গোপ। সেদিক থেকে সন্ধ্যা জাতে ছোট। অবস্থাও ভালো নয়। সুতরাং দুলালদের বাড়ির বিয়েতে অমত। বাপের সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে দুলালও কেঁচিয়ে দিতে চেয়েছিল। শেষে সন্ধ্যার অজস্র চোখের জলের বিনিময়ে রাজি হয়েছে। পরশু রাতে দুজনে পোঁটলাপুঁটলি নিয়ে গ্রাম ছেড়ে ধাঁ। সোজা কলকাতায় এসে উপস্থিত। মেছুয়াপট্টিতে দুলালের এক বন্ধুর বাড়িতে রাতটা কাটিয়ে সকালে কালীঘাটে বিয়ে সেরে এখন পুরীতে হনিমুনে যাচ্ছিল।

     

     

    সন্ধ্যার গল্প শুনতে শুনতে ব্যোমকেশী ইলাই প্রথম সন্দেহ করে অনুর কানে কানে বলল, ‘হ্যাঁ রে ছেলেটা আবার পালায়নি তো? আজকাল এসব তো আকছার।’

    দুই

    সকাল দশটায় স্বর্গদ্বারের সামনে সিন্ধু লজের দোতলার ঘাটে বসে লক্ষ্মী আর অনু খরচের হিসাব করছে। মণি দেওয়ালে টাঙানো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সারা গায়ে ক্রিম মাখছে। দুর্গা চেয়ারে বসে গল্পের বই পড়ছে। ইলা খাটের ওপর শুয়ে।

    গতকাল পুরী স্টেশনে নেমে প্ল্যাটফর্মে এদিক-ওদিক দুলালকে খুঁজেছিল ওরা। না পেয়ে ওখানে থেকে সোজা থানায় গেছিল। বড়বাবু ওদের লজের ঠিকানা নিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন কোনও খবর পেলেই জানাবেন।

    সন্ধ্যা বাথরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে এসে বলল, ‘চলো চলো আমার হয়ে গেছে।’

    দুর্গা বই নামিয়ে রেখে বলল, ‘এর মধ্যেই চান হয়ে গেল? এই তো ঢুকলি।’

    ‘ভিজে চুল এক পাশে এলিয়ে ভিজে গামছা দিয়ে ঝাড়তে ঝাড়তে সন্ধ্যা বলল, ‘হ্যাঁ, হয়ে গেল তো।’

    ‘সাবান মেখেছিলি?’

    ‘নাহ।’

    ‘হতচ্ছাড়া মেয়ে, নোংরা কোথাকার।’ বলে দুর্গা চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে সন্ধ্যার গলায়, ঘাড়ে আঙুল দেখিয়ে বলল, ‘এই দেখ, কত ময়লা জমে, চল সাবান মাখবি, নইলে আজ থেকে মাটিতে শুবি।’

    সন্ধ্যা ঠোঁট উলটে আবার বাথরুমে ঢুকল, পিছনে দুর্গা। বাথরুমের মেঝেতে উবু হয়ে বসল সন্ধ্যা। দুর্গা চৌকাঠে বসে সন্ধ্যার পিঠের কাপড় সরিয়ে বলল, ‘এই চান হয়েছে। দুনিয়ার নোংরা জমে, আদ্দেক জায়গায় ভালো করে জল পড়েনি। দে সাবান দে।’ সন্ধ্যা সাবান আর ছোবাটা পিছনে হাত বাড়িয়ে দুর্গাকে দিল, দুর্গা মগের জলে ছোবা ভিজিয়ে সাবান মাখিয়ে সন্ধ্যার পিঠে ঘষতে শুরু করল, কালচে ফেনা।

    দুর্গা বলল, ‘কদ্দিন সাবান মাখিস না বল তো?’

    ‘মেখেছি তো।’

    ‘কোন সালে?’

    হেসে উঠল সবাই। শুধু মণি গম্ভীর।

    ছোবা দিয়ে ভালো করে ঘষার পর দু-মগ জল ঢালতেই সন্ধ্যার শ্যামলা যুবতী পিঠ জানলা দিয়ে গলে আসা রোদ্দুরে ইলিশ মাছের মতো চিকচিক করে উঠল। কোমরের দু-পাশে আদুরের চর্বির ভাঁজ। দুর্গা একমুহূর্তের জন্য কোথায় যেন একটু হারিয়ে গেল। তার পরেই ওর চোখ পড়ল সন্ধ্যার ঘাড়ের পাশে নখের আঁচড়ের লাল কয়েকটা দাগ। দুর্গা বুঝল দুলালের সঙ্গে এক রাত্তির থাকার চিহ্ন। আলতোভাবে দুর্গা হাত রাখল সেখানে। তারপর মুখ টিপে হেসে ইশারায় মণিকে ডাকল। মণি এল। দুর্গা মণিকে নি:শব্দে সন্ধ্যার ঘাড়ের দাগগুলোকে দেখাল। মণি দেখতে পেল না। ও চেয়ে রইল সন্ধ্যার টানটান চামড়ার পিঠের দিকে। গোলগাল নরম দুটো হাত…একমাথা চুল…। সন্ধ্যা দু-হাঁটুর মাঝখানে মাথা গুঁজে রয়েছে।

    মণি ঠোঁট বেঁকিয়ে একটু হাসল শুধু। হাসিটা তাচ্ছিল্যের। কোনও প্রাণ নেই।

    ‘কী-ই গো মাসি, হল?’

    ‘দাঁড়া তো বাপু’, বলে দুর্গা সন্ধ্যার মাথায় শ্যাম্পু ঢালল। মণি সরে এসে আয়নাটার সামনে আবার দাঁড়াল। চোখের পাশে ভাঁজ, হাতের চামড়া ঢিলে হয়ে এসেছে। শাড়ি পরবার সময়ে নাভির চারপাশে দলাপাকানো কুঁচকে যোওয়া চর্বিটাকে দেখে ভিতরটা কেমন তীব্র বিস্বাদ হয়ে উঠল মণির।

    বাথরুমের দরজা বন্ধ। ভেতরে সন্ধ্যা আবার স্নান করছে। দুর্গা ঘরে এক কোণে বেসিনে হাত ধুতে ধুতে বলল, ‘বুঝলি লক্ষ্মী, ছেলেটা আসলে পালিয়েছে।’

    ইলা বলল, ‘আমারও তাই মনে হয়।’

    অনু বলল, ‘যাক গে, দুটো দিন আমাদের সঙ্গে যেমন রয়েছে থাকুক। তারপরে তো…’

    এই এক দিনের মধ্যেই মেয়েটা পাঁচটা প্রৌঢ়ার কাছে অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। সবাই মিলে ওকে বুঝিয়েছে দুলাল নিশ্চয়ই উঠতে পারেনি। তাই বাড়ি ফিরে গেছে। দু-দিন পর ফিরলেই আবার দেখা হবে। সরল মেয়েটা বিশ্বাসও করে নিয়েছে ওদের মিথ্যে আশ্বাস।

    মণি হঠাৎ বলে উঠল, ‘যাই বলিস, তোরা কিন্তু একটু বাড়াবাড়ি শুরু করেছিস মেয়েটাকে নিয়ে।’

    অনু বলল, ‘বাড়াবাড়ি আবার কোথায় দেখলি?’

    ‘নয়তো কী? সাবান মাখানো, পাশে নিয়ে শোয়া। লক্ষ্মী তো ওকে একেবারে নিজের মেয়ে বানিয়ে নিয়েছে।’

    মণির বাঁকা কথাগুলো শুনে লক্ষ্মী বলে ফেলল, ‘ওভাবে বলিস না মণি। নিজের একটা থাকলে বুঝতি।’

    মুহূর্তে মণির মুখটা কালো হয়ে উঠল। পরিবেশটা থমথমে, কারও মুখে কথা নেই। সেই সময় সন্ধ্যা বেরিয়ে এসে ঝপাং করে বাথরুমের দরজাটা বন্ধ করে বলল, ‘এবারে কিন্তু আমার সত্যি-সত্যি হয়ে গেছে।’

    গৌরবাটশাহী ধরে জগন্নাথ মন্দিরের দিকে হাঁটতে হাঁটতে যাচ্ছে সকলে। ইলা, দুর্গা, অনু আর সন্ধ্যা একটু এগিয়ে হাঁটছে। দিদিমণি দুর্গা নীলাচলের পৌরাণিক কাহিনি শোনাচ্ছে ওদের।

    মণি আর লক্ষ্মী ওদের কয়েক পা পিছনে। দুর্গার গল্প কানে আসছে মাঝেমধ্যে। দুজনে চুপচাপ পাশাপাশি চলতে চলতে লক্ষ্মী হঠাৎ মণির হাতটা ধরে বলল, ‘মণি, কিছু মনে নিসনি তো? আমি ওভাবে বলতে চাইনি রে কথাটা।’

    মণি লক্ষ্মীর দিকে তাকাল। সামান্য হেসে বলল, ‘ভুলটাই বা কী বলেছিস?’

    ‘প্লিজ মণি, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে রে। মাথাটা তখন হুট করে কেমন যেন হয়ে গেছিল। আসলে এই এক দিনেই এমন মায়া পড়ে গেছে মেয়েটার ওপর।’

    মণি এবার লক্ষ্মীর হাতের মুঠোয় আলতো চাপ দিয়ে আঙুলগুলো ধরল।

    লক্ষ্মী হেসে ফেলল। মণিও।

    ওদিকে দুর্গা বলে চলেছে, ‘বুঝলি তো এই জগন্নাথ হল আসলে নীলমাধবের অঙ্গচ্যুত রোম…।’

    সবাই মন দিয়ে দুর্গার গল্প শুনছিল। সন্ধ্যা হাঁ করে দুর্গার মুখের দিকে তাকিয়ে হাঁটার জন্য রাস্তায় বারবার হোঁচট খাচ্ছিল। মন্দিরের সিংহদ্বারের অরুণস্তম্ভের সামনে এসে দাঁড়াল ওরা। সেখানে একটু জিরিয়ে নিয়ে তারপর মন্দিরের ভেতর ঢুকল। সন্ধ্যা তিন বিগ্রহের সামনে দাঁড়িয়ে দু-হাত জড়ো করে কপালে ঠেকিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বিড়বিড় করে চলল।

    গর্ভমন্দির থেকে বেরিয়ে ওরা মন্দির পরিক্রমা শুরু করল।

    অক্ষয়বটের সামনে এসে দুর্গা সন্ধ্যাকে বলল, ‘এই দেখ, একে বলে কল্পতরু, ভগবান অনন্তদেবের গাছরূপী শরীর। সবাই এর কাছে তার মনের প্রার্থনা জানায়।’ ঈশ্বরের কাছে মানুষের অসংখ্য কামনা বটের ঝুরির মতো, সুতোয় বাঁধা ঢিল হয়ে ঝুলছে।

    সন্ধ্যা একদৌড়ে গেল সেখানে। তারপর অন্যদের দেখাদেখি গাছে মাথা ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ ঠোঁট নাড়িয়ে ফিরে এল।

    মণি বলল, ‘সব জায়গায় কী এত বর চাইছিস বল তো?’

    সন্ধ্যা এই প্রথম একটু লজ্জা পেয়েই বলল, ‘কী আর বর চাইব!’

    ‘কেন দুলালকেই আবার চাইতি। বরকে বর হিসাবেই বেশ চাওয়া হত।’ হেসে উঠল সবাই।

    সন্ধ্যা ফিকে হেসে বলল, ‘তাই তো চাইলাম। মানুষটা ভালোয় ভালোয় বাড়ি পৌঁছোলেই বাঁচি।’

    ইলা ধমক দিল। ‘খুব হয়েছে। আর পাকামো করতে হবে না। ভালোমতো না পৌঁছোনোর কী আছে শুনি!’

    পরিক্রমা শেষ করে পশ্চিম দিকে খাজাদ্বারের সামনে এসে বসে পড়ল সবাই। লক্ষ্মী বলল, ‘ওরে বাবা, আর আর পারছি না, অনেক হাঁটা হয়ে গেছে।’ সন্ধ্যা বসেনি। ও এদিক-ওদিক ঘুরছে দেখে অনু হাঁক পেড়ে বলল, ‘এই দেখিস, বেশি দূর যাস না। শেষে তুইও আবার না হারাস।’

    গল্প শুরু হয়ে গেল আবার। কেউ খেয়ালই করেনি গল্পের ফাঁকে ইলা কখন উঠে গিয়ে খাজাদ্বারের এক কোণে কী যেন খুঁজছে।

    অনু প্রথম দেখতে পেল। ‘এই ইলা, কী করছিস ওখানে?’

    ইলা এল।

    ‘কী খুঁজছিলি?’

    ‘ওখানেই কোথায় একটা ছিল জানিস।’

    ‘কী?’

    ‘ওর সঙ্গে বিয়ের বছর দুয়েক পর যখন এসেছিলাম, তখন ও চাবির রিং দিয়ে এই জায়গাতেই দাগ দিয়েছিল। খুঁজেই পাচ্ছি না।’ সবাই অবাক! ইলা বিশ বছর আগের স্মৃতি খুঁজছে!

    লক্ষ্মী বলল, ‘দুর পাগলি, এতদিন পরে দাগ থাকে নাকি!’

    লজে ফেরার সময় চুপচাপ হাঁটতে থাকে ইলাকে কাছে টেনে নিয়ে মণি বলল, ‘কী রে ইলা, অরুণের সঙ্গে আবার আসবি না কি?’

    ইলা তাকাল মণির দিকে, তারপর হাসবার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করে বলল, ‘ধু-র।’

    তিন

    আরও দুটো দিন এই মঠ, সেই মন্দির, সমুদ্র দেখতে দেখতে কেটে গেল হু-হু করে। যাওয়ার আগের দিন দুপুর থেকেই আকাশের মুখ কালো।

    বেলা দেড়টা নাগাদ হোটেলে খেতে বেরোবার সময় মণি বলল, ‘বাপ রে—কী কালো হয়ে এসেছে। মনে হয় খুব ঢালবে।’

    অনু আনন্দে ডগমগ হয়ে বলল, ‘হলে দারুণ হবে। বৃষ্টিতে সমুদ্র দেখার কত্তদিনের শখ।’

    ঠিক তাই। বিকেলের দিকে আকাশ কুচকুচে কালো। তারপর সন্ধে হতে না হতেই নামল বৃষ্টি। ওদের লজটা সমুদ্রের খুব কাছে। ব্যালকনিতে দাঁড়ালে দেখা যায়। ইলা, মণি আর দুর্গা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিল। সমুদ্রের কী অসম্ভব গর্জন। মনে হচ্ছে যেন হাজার হাজার বাঘ এক সঙ্গে হুংকার দিচ্ছে। সামনের নিকষ অন্ধকার চিরে নেমে আসা বিদ্যুৎ মুহূর্তের জন্য ভয়ংকর সুন্দরকে মূর্ত করে তুলছে। পাহাড়ের মতো বিশাল এক-একটা ঢেউ আছড়ে পড়ছে বালিতে। মনে হচ্ছে আজই যেন প্রলয়ের দিন। বুকের ভেতর একটা প্রচণ্ড ভয় মেশানো আনন্দ। এমন একটা অনুভূতি ওদের স্থান-কাল-পাত্র সব ভুলিয়ে দিচ্ছে।

    ‘কী রে সব বাইরে কেন? ভেতরে আয় না।’

    লক্ষ্মীর ডাকে সংবিত ফিরল ওদের। ঘরে এল, চোখে-মুখে তখনও ঘোর।

    অনু বলল, ‘বস না সবাই একসঙ্গে।’

    এমন একটা পরিবেশে সন্ধ্যা আনন্দের চোটে চড়ুই পাখির মতো ছটফট করছে।

    লক্ষ্মী বলল, ‘হ্যাঁ রে দুর্গা, একটা গান কর না। কতদিন শুনিনি।’

    দুর্গা প্রায় আঁতকে উঠে বলল, ‘না-না, আর পারি না কি!’

    ‘ঢং করিস না বাপু। না পারায় কী আছে?’

    ‘ও মাসি করো না, করো না গো।’ দুর্গার হাত চেপে ধরল সন্ধ্যা।

    সবার চাপাচাপিতে দুর্গা বলল, ‘ঠিক আছে করছি। কিন্তু হাসলে পরে ধরে ঠ্যাঙাবে বলে রাখলাম।’

    ‘আচ্ছা বেশ, কর এখন।’

    দুর্গা শুরু করল, প্রথমে রামকুমারের স্টাইলে ‘বিধি দিল যদি বিচ্ছেদ যাতনা,’ তারপর ‘কিশোরীর কী শরীর হল।’

    চড়ায় ওঠার সময় বার কয়েক হোঁচট খেল দুর্গা। কেউ কিছু বলল না।

    ইলা বলল, ‘সত্যি কী সুন্দর গলা তোর!’

    মণি বলল, ‘ওই গানটা একবার কর না। ওই যে—যে রাতে মোর।’

    ‘সবটা মনে নেই বোধহয়।’

    ‘ঠিক আছে, শুরু কর, আমি ধরিয়ে দেব।’

    দুর্গা শুরু করল—’সব যে হয়ে গেল কালো’ থেকে।

    বাইরের প্রবল হাওয়া জানলা দিয়ে ঢুকে বেডকভার, ওদের মাঝবয়সের কাঁচাপাকা চুল, আঁচল এলোমেলো করে দিচ্ছে। সবাই চুপ। ধ্যানস্থ যেন। ‘…অন্ধকারে রইনু পড়ে স্বপন মানি’ পর্যন্ত এসে থেমে পড়ল দুর্গা। ‘আর পারছি না রে।’

    দুর্গার চোখ-মুখ লাল। হাঁফাচ্ছে।

    ‘ঠিক আছে থাক, থাক।’

    এমন সময় সন্ধ্যা বলল, ‘মাসি, আমি একটা গাইব?’

    ‘তুই?—কী গান?’

    ‘রবীন্দ্রনাথের।’

    ‘অ্যাঁ, কোত্থেকে শিখলি?’

    ‘ইস্কুলে, প্রার্থনার সময় গাইতাম।’

    ‘বেশ, কর।’

    সন্ধ্যা তক্ষুনি চোখ বুজে শুরু করে দিল, ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে…’

    ‘বা রে, বেশ সুন্দর গলা তো মেয়েটার!’

    সন্ধ্যা গেয়ে চলল ‘…ব্যথা মোর উঠবে জ্বলে ঊর্ধ্বপানে…’ হঠাৎ উঠে পড়ল দুর্গা। ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল, অনুও এল ওর পেছনে।

    ‘কী রে দুর্গা উঠে এলি?’

    ‘এমনি।’

    ‘এখনও গলাটা কী সুন্দর রেখেছিস। গানটা ছেড়ে দিলি কেন?’

    দুর্গা একবার তাকাল অনুর দিকে। তারপর সমুদ্রের দিকে চোখ ফিরিয়ে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, ‘আমি আর ছাড়লাম কোথায়? সবাই তো আমাকেই ছেড়ে চলে গেল।’

    ব্যালকনির রেলিংয়ের ওপর রাখা দুর্গার পঞ্চান্ন বছরে পুরোনো হাতের ওপর সমবয়সি আর একটা হাত এসে আলতোভাব ছুঁল। বন্ধুর হাত। বাইরে প্রবল বৃষ্টি। হাওয়া।

    চার

    আজ রাতে ফেরার ট্রেন। বেলা এগারোটায় সমুদ্রের ধারে বালির ওপর বসেছিল পাঁচজনে। সন্ধ্যা সমুদ্রে চান করছে। মাঝেমধ্যে ছুটে এসে ওদের সঙ্গে গল্পে যোগ দিচ্ছে। আবার ছুটে যাচ্ছে সমুদ্রে। আজকের সকালটাও একটু মেঘলা।

    ইলা বলল, ‘এ বছরই তো শেষ, এর পরে যোগাযোগ রাখবি তো সবাই, না কি?’

    অনু বলল, ‘মেয়েটা কত সরল না রে, অথচ কপালটা দেখ।’

    দুর্গা বলল, ‘সত্যিই খুব কষ্ট লাগছে। ছেলেটা যদি ওকে না নেয়, কী যে হবে! সরল মেয়েটা।’

    ইলা আশ্বাস দিয়ে বলল, ‘যদি নাও নেয়, কিচ্ছু হবে না দেখিস। আর অমন হতচ্ছাড়া ছেলের কাছে না গেলেই ভালো। অল্প বয়স তো, ঠিক ভুলে যাবে এক সময়। দেখ না, এরই মধ্যে কেমন গেছোদের মতো হইহই শুরু করেছে।’

    লক্ষ্মী যেন ইলার কথায় বেশ আশ্বস্ত হয়েই একগাল হেসে বলল, ‘ওই বয়েসে তুইও কি কম হুল্লোড়বাজ ছিলি না কি।’

    সন্ধ্যা আবার দৌড়ে এল ওদের কাছে। হাঁফাতে-হাঁফাতে বালির ওপর ঝপাস করে বসে পড়ল। ভিজে শাড়ি ওর গোটা শরীরে লেপটে রয়েছে। আঁচল সরে যাওয়া ভারী বুক ওঠানামা করছে।

    একটু দূরে বসে থাকা কয়েকটা মেয়েকে সন্ধ্যার দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে দেখে মণি বলল, ‘লজ্জাশরমের মাথা খেয়েছিস না কি। ঠিক করে জড়া আঁচলটাকে।’

    সন্ধ্যা আঁচলটাকে টেনে ভালো করে গাছকোমর করল।

    দুর্গা বলল, ‘কী রে সন্ধ্যা, বরের সঙ্গে আবার এখানে আসবি তো?’

    ‘না-না।’

    ‘সে কী রে, কেন?’

    ‘আবার যদি হারিয়ে যায়।’ বলে হি-হি করে হেসে সন্ধ্যা আবার ছুট লাগাল স্নান করতে।

    ইলা বলল, ‘সন্ধ্যার গড়নটা ঠিক অল্প বয়সে অনুর মতো, না রে লক্ষ্মী?’

    অনু বলল, ‘কেন তুই-ই বা কম কী ছিলি?

    ‘অ্যাই থাম তো!’

    আবার হাসি।

    হাসতে হাসতে সমুদ্রের দিকে তাকাল ওরা। তাকিয়ে রইল। সন্ধ্যা স্নান করছে। ঢেউয়ের সঙ্গে লাফাচ্ছে, কখনও ডুবে যাচ্ছে। আবার উঠছে। সকলে অদ্ভুত চুপ। এক সময় মণি যেন নিজের খেয়ালেই বলে উঠল—’আমরা বুড়ি হয়ে গেলাম না রে।’

    উত্তর দিল না কেউ। শুধু তাকিয়ে থাকতে থাকতে ক্ষয়াটে আলোয় একসময় ওরা যেন স্পষ্ট দেখতে পেল সন্ধ্যা নয়, অন্য একটি অল্পবয়েসি মেয়েকে। কবেকার পুরোনো অথচ বড় চেনা সেই মেয়ে সমুদ্রে স্নান করছে হইহই করে।

    দেশ

    মার্চ ২০০৪

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল
    Next Article রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    Related Articles

    বিনোদ ঘোষাল

    রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    বিনোদ ঘোষাল

    কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }