Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ডানাওলা মানুষ – বিনোদ ঘোষাল

    বিনোদ ঘোষাল এক পাতা গল্প253 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চক্ষুদান

    ‘কী? কীরকম?’

    ‘দা-রুণ…ওহ…খক খক… ওহ!’ ‘দারুণ’ শব্দটা শেষ করার আগেই গলায় থুতু আটকে খাবি-টাবি খেয়ে একশা হল শতাব্দী। ওর মাথায়-পিঠে থাবড়া মেরে-টেরে মোটামুটি পজিশনে নিয়ে আসতেই, বহুদিন পর বরুণকে ঝপাত করে ওর পেডি থেমে ম্যানি, টোটাল কিওর করা বডি নিয়ে জাপটে ধরল শতাব্দী। খুব সুন্দর হালকা একটা গন্ধ বেরোচ্ছে বরুণের সাঁইত্রিশ বছরের বউ শতাব্দীর শরীর থেকে। দুটো বেডরুম, কিচেন, টয়লেট সব ঘুরে-টুরে প্যারিস করা মসৃণ দেওয়ালে বার বার হাত বুলিয়ে আবার দৌড়ে এসে বরুণকে আস্ত একটা চুমু খেয়ে ফেলল শতাব্দী। এখন বোধহয় বরুণের মুখে গন্ধ নেই। তারপর রুমালে নিজের ঠোঁট মুছে জিগ্যেস করল, ‘কেমন অ্যাডভান্স পড়ল?’

    ‘ওটা তোমার জিগ্যেস করা বারণ।’ আদুরে গলায় বলল বরুণ।

    পাক্কা পঞ্চাশ হাজার টাকা অ্যাডভান্স দিয়েছে দমদম মেট্রো স্টেশনের ফ্ল্যাটটা ভাড়া নিতে। পাঁচতলা ফ্ল্যাট। বরুণ নিয়েছে চারতলায়। বেডরুমে দক্ষিণ-পশ্চিমে বড় বড় জানলা, ছোট ব্যালকনি। মোট সাড়ে ছ-শো স্কোয়ার ফুট। অফিস কলিগ সঞ্জয় খোঁজ দিয়েছিল ফ্ল্যাটটার। ফ্ল্যাটের মালিক ওর চেনাশোনা। শতাব্দীকে কিছু না জানিয়ে প্রায় মাস খানেক ধরে সত্তর হাজার অ্যাডভান্স আর তিন হাজার টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটের মালিককে অনেক ঝুলোঝুলি করে পঞ্চাশ আর আড়াইতে নামিয়েছে বরুণ। অবশ্য এর কিছু কৃতিত্ব সঞ্জয়ের প্রাপ্য। বরুণ নিশ্চিত ছিল শতাব্দীর ফ্ল্যাটটা পছন্দ হবেই। একে তো হাঁটাপথে মেট্রো স্টেশন। মেট্রোয় এসপ্ল্যানেডে নেমে ওর স্কুল হাঁটাপথে, বড়জোর পাঁচ-সাত মিনিট। বরুণকে অবশ্য এক্সাইডে নেমে বাস ধরে মিন্টো পার্ক যেতে হবে। সেও তো একটুখানিই।

    বরুণ একটি অটোমোবাইল কোম্পানির অ্যাকাউনট্যান্ট। শতাব্দী কলকাতার নাম করা একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের হিস্ট্রি টিচার। বরুণের চেয়ে মাসে হাজার চারেক বেশি পায়। বরুণ বাড়িতে সময় পেলে টিভি দেখে। ওই একটা মাত্র নেশা এযাবৎ টিকে আছে। শতাব্দীর নেশা বইয়ের। দর্শন, উপন্যাস, কবিতা থেকে শুরু করে চিত্রকলা, মনস্তত্বের বইয়ে বাড়ি ঠাসা। একটা মানুষ এত বই কী করে পড়ে ভাবলে অবাক হয়ে যায় বরুণ। অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ হয়েছিল দুজনের। তখন শতাব্দীর চেয়ে বরুণের মাইনে ছিল বেশি।

    ‘সামনেই একটা পার্ক আছে, নীলের অসুবিধা হবে না।’

     

     

    ‘খেলার সময় পায় কোথায়?’ গলায় একগাদা চিন্তা ঢেলে শতাব্দী বলল, ‘কিন্তু হ্যাঁ-গো, ওর স্কুল, টিউশন?’

    ‘স-ব ঠিক আছে।’ বরুণ বরাভয়ের ভঙ্গি নিল, ‘বি টি রোড দিয়ে ওদের স্কুলের বাস যায়। আমি খোঁজ নিয়েছি।’

    ‘বাব্বা, তুমি হঠাৎ…।’ চোখেমুখে একরাশ মুগ্ধতা ঝাঁপিয়ে পড়ল শতাব্দী। বিয়ের প্রথম দিকে বছর খানেক যেমন ছিল। বরুণ ভাবল আর একটা চুমু জুটবে, হল না। ওর কাঁধে হাত রেখে নিজের জুতো খুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল শতাব্দী।

    নীল বরুণ-শতাব্দীর একমাত্র ছেলে। ভালো নাম অগ্নিদেব। বয়স ছয় বছর। শ্রীরামপুরে একটা ভালো স্কুলে ক্লাস থ্রি-তে পড়ে। বরুণের পুরো নাম বরুণদেব। ‘দেব’টা ব্যবহার করে না, লেখে বরুণ চ্যাটার্জি। ওর বাবার নাম ছিল বাসুদেব। এমন নয় যে ওদের নিজের বাড়ি নেই, অন্য কোথাও ভাড়া থাকে। রিষড়ার বাগপাড়ায় আট কাঠা জমির ওপর বরুণের পৈতৃক ভিটে। সিক্সটি ফোরে বাবা বানিয়েছিলেন। বাড়ি থেকে আরও খানিক পিছনে গেলেই ধানখেত। ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে ধানখেত পার হতে গিয়ে বহুবার সবুজের মধ্যে হারিয়ে গেছে বরুণ। লোকে রাত্তিরে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে গেছে। মায়ের ঠ্যাঙানি তার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। কৈশোরেও বন্ধুদের সঙ্গে খেতের আলে লুকিয়ে বিড়ি খেয়েছে, আড্ডা মেরেছে। তারপর ধীরে ধীরে যেমনটা হয়। চাকরি-বিয়ে-ছেলে-স্কুল। কয়েকটা জিনিস অবশ্য পালটায়নি। এখনও সে বাড়ি থেকে রোজ সাইকেল চালিয়ে রিষড়া স্টেশনে আসে। দোকানে সাইকেল রেখে লোকাল ট্রেনে হাওড়া, তারপর বাস। পনেরো বছর ধরে এই চলছে। বরুণ বের হয় সকাল ন’টা নাগাদ। শতাব্দী আটটায়, কখনও সাড়ে আটটায়। কখনও রিকশা ধরে, কখনও অটো, যেদিন যা জোটে। বরুণের তো আরও দুর্ভোগ। ভিড় ট্রেনে উঠে কোনওদিন ভাগ্যে বসার সিটের একেবারে ধারে ছ-ইঞ্চি জায়গা জুটে গেলে ‘ও দাদা আর একটু চেপে বসুন না…আপনাকে বলছি…ও দাদা…’ এইভাবেই জীবনটা স্রেফ অ্যাডজাস্টমেন্টে চলে গেল।

     

     

    চাকরিজীবনের প্রথম দিকে রোজ ইস্ত্রি করা জামা, পালিশ করা জুতো পরত বরুণ। ক’দিন পরেই বুঝে গেছিল এসবের ভ্যালু নেই। ট্রেন-বাস উজিয়ে যখন অফিস টয়লেটে ঢুকে নিজেকে আয়নায় দেখত, তখন বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগে যেত নিজেকে চিনতে। অন্যের গায়ের ঘামে-কাদায় মাখা কোঁচকানো জামা, মাড়িয়ে দেওয়া জুতো। শতাব্দীর অবস্থাও প্রায় তাই। তুলনামূলক ফাঁকা লেডিজ কম্পার্টমেন্টের দিকে তাকিয়ে বরুণ আগে ভাবত মহিলা হওয়া সবচেয়ে সুখের। কী ফুরফুরে আরামে তেনারা আসেন-যান। বিয়ের পর শতাব্দীর কাছে শুনে বুঝেছে ওখানের অবস্থাও প্রায় একই।

    ‘জানো, সালোয়ারের ওড়নাটা যদি কারও গায়ে একটু লেগে থাকে, এমনভাবে খ্যাঁক খ্যাঁক করে সরিয়ে নিতে বলে, যেন আমার ঘর মোছার ভিজে ন্যাতাটা ওর গায়ে ঠেকিয়েছি!’ ঝগড়ার যে কত বিচিত্র বিষয় হতে পারে, তার কয়েকটা উদাহরণ শুনেই হাঁ হয়ে গিয়েছিল বরুণ।

    হেদিয়ে পড়ছিল দুজনেই। প্রথম দিকে দুজনেরই রোজগার কম ছিল। সঙ্গে বয়সটাও কম ছিল বলে চালিয়ে গেছে। এখন শতাব্দী একটু ভারী হয়েছে। বরুণও প্যান্টের হুক তলপেটে আটকায়। আর পোষাচ্ছিল না এই ভাতে মরা রৌদ্রে পোড়া জীবন। কলকাতায় থাকার প্ল্যানটা মাস ছয়েক আগে শতাব্দীই একদিন দিয়েছিল। বরুণ প্রথমটায় আঁতকে উঠেছিল শুনে। ওদের বাড়িটা বিশাল। ইংরেজি এল শেপের। ঘরের লাগোয়া লাল সিমেন্টের বারান্দা। বাড়ির সামনে তুলসীমঞ্চে ন্যাড়া শুকনো তুলসীগাছ। মোট ন-টা বড় বড় ঘর। সবক’টা একেবারে তৈরি হয়নি। বরুণের জন্মের আগে পাঁচটা ছিল, চারটে ঘর বরুণ নিজের চোখে হতে দেখেছে। বাবা আগে থাকত পাইকপাড়ায়, ভাড়াবাড়িতে। মায়ের কাছে শুনেছে বাবার ভীষণ স্বপ্ন ছিল নিজের, একেবারে নিজের একখানা বাড়ির। রোজগার কম ছিল বলে কলকাতার দরে কুলোয়নি। তাই এই রিষড়ার বাগপাড়ার জমি কিনে পেল্লায় একখানা বাড়ি বানিয়ে বরুণকে দিয়ে গেছেন। বরুণের এখনও মনে পড়ে প্রতিবছর শীতকালে বাড়ির সামনে লরি থেকে ইট নামত, বালি পড়ত। সিমেন্টের ভ্যান আসত পরপর। বাবা দিনের পর দিন অফিস কামাই করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতেন। নতুন ঘর উঠছে, কিংবা মস্ত মেরামত হচ্ছে। অনেক সময় নিজেই মিস্ত্রিদের সঙ্গে কাজে লেগে পড়তেন। বাবার অত্যন্ত প্রিয় ছিল এই বাড়ি। দেওয়ালের প্রতিটি ইট কেমন সব মুখস্থ ছিল বাবার। এই পাড়াটার জমি নীচু। বর্ষায় একহাঁটু জল জমে যায়। যার ফলে বছর বছর জমিতে মাটি ফেলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি বাবা। বাড়ির ভিত বসে যাচ্ছিল। লিংটেলে লম্বা ফাটা দাগ। কোনও রিপেয়ারিং বেশি দিন টিকত না। আজীবনের রোজগারের সিংহভাগ স্রেফ বাড়িটাকে খাইয়ে গেছেন বাবা। ইটে নোনা। চুন খসে পড়ে। ফাঁপা প্লাস্টার।

     

     

    ‘ঘর হচ্ছে লক্ষ্মী, বুঝলি। এর জন্যে খরচ করলে সঞ্চয় কখনও কমে না, বাড়ে।’ মারা যাওয়ার কিছুদিন আগেও বিছানায় শুয়ে বরুণকে বুঝিয়েছিলেন বাবা। তখন রোগটা গোটা শরীর বিষিয়ে তুলেছে। হাড়ের ক্যানসার। সেই খরচের চাপেই বরুণ আর শতাব্দী জেরবার। তার মধ্যেই বাবা ডেকে বললেন, ‘সামনের দিকে সবচেয়ে পুরোনো সুরকির গাঁথনিওলা ঘরটায় নোনা ধরে সিলিং, দেওয়াল থেকে প্লাস্টারের চাঙড় খসে পড়েছে। পুরো চটিয়ে আবার প্লাস্টার করতে হবে।’ বরুণ বোঝাল কোনও লাভ নেই। এই পুরোনো বাড়ি, বছর ঘুরতে ঘুরতে আবার হবে। বাবা শিশুর মতো অভিমানী গলায় বলেছিলেন, ‘লাভ নেই বললে হয়! তোরা তো জামাকাপড় কিনিস, পরিস, তো একটু সেলাই খুলে গেলে কি ফেলে দিস জামাটা, না সেলাই করে নিস?’ বল?’ বরুণ আর কথা বাড়ায়নি। রিপোয়ারিংও করেনি। কয়েক দিন পর মা বলতে এসেছিল বাবার হয়ে। ‘হ্যাঁরে মানুষটা এতবার করে বলছে, একবার দে না করে। আর ক’টা দিনই বা…’

    ‘দেখো মা, এই ভাঙা বাড়িতে টাকা ঢালার মতো ফালতু খরচ আর আমি করতে পরব না। এমনিতেই এত খরচ…’ কথাটা শেষ করেনি বরুণ। মা-ও বুঝে চুপ করে গেছিল। বাবাও চুপ হয়ে গেছিলেন একেবারে। তার পর থেকে বরুণের সঙ্গে আর প্রায় কথাই বলতেন না। মাস কয়েক পর চুপ থাকতে থাকতেই একদিন চলে গেলেন বাবা—যাঁর কাছ থেকে বরুণ শিখেছিল জলছাদ কাকে বলে, ছাদ ঢালাইয়ের দিন কেন মিস্ত্রিদের মিষ্টি খাওয়াতে হয়, নতুন মেঝে হওয়ার পরের দিন কেন দরজায় মাটির বেড় দিয়ে ঘরে গোড়ালি-জল করে রাখতে হয়। আরও অনেক কিছু।

     

     

    ‘মা জানে?’

    ‘উঁহু।’

    ‘বলোনি?’

    ‘বলব, সময় হলে। চলো এবার।’

    ‘আর একটু থাকি না?’ আদুরে গলায় বলল শতাব্দী।

    ‘আর ক’দিন পর থেকে পুরোটাই থাকতে হবে ম্যাডাম,’ গর্বিত গলায় বলল বরুণ, ‘চলো, চলো, আরও দেরি হলে নীল আবার চটে যাবে।’

    আজ নবমী। নীলকে ঠাকুর দেখতে নিয়ে যেতে হবে। দুপুরে দুজনে মা আর নীলকে ‘একটা কাজ আছে’ বলে বেরিয়েছিল। নীলকে ইচ্ছে করে নেয়নি বরুণ। ও ব্যাটা বাড়ি ফিরে ঠামকে ঠিক বলে দেবে সব। মা শুনলেই তুমুল আপত্তি, কান্নাকাটি শুরু করবে। পুজোর এই ক’টা দিন ছুটির মধ্যে ফালতু অশান্তি পোহাতে ভালো লাগে না।

     

     

    ‘ঘরটা যা সাজাব না! দেখবে হাঁ করে।’

    ‘বেশ, দেখব।’ হাসতে হাসতে বলল বরুণ।

    ‘তোমাদের বাড়িটা সত্যিই বাইরে থেকে দেখলেই মনে হয় হরপ্পার সঙ্গে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে।’

    ‘তোমাদের বাড়ি’। বিয়ের পনেরো বছর পরেও এই শব্দটা ব্যবহার করে শতাব্দী। কেন, কে জানে! প্রত্যেক বারই ঝিনঝিন করে ওঠে বরুণের কান দুটো।

    দুই

    আজ একাদশী। অনেক বেলায় ঘুম থেকে উঠল। মাথাটা ভার হয়ে আছে। কাল দশমীর রাতে পাড়ার বন্ধুরা মিলে ক্লাবে চুটিয়ে আড্ডা মেরেছে। শ্যামল দুটো সেভেন ফিফটির ব্লু লেবেল এনেছিল। ছ’জন মিলে মটন চাপ দিয়ে মেরে অনভ্যাসের টাল খেতে খেতে অনেক রাত্রে কোনওমতে বাড়ি ফিরেই বিছানায় ঝপাস। মাঝরাতে বমি করে বিছানা, ঘর ভাসিয়েছে বরুণ।

     

     

    ‘অভ্যেস নেই যখন কী দরকার ওসব ছাইভস্ম খাওয়ার।’ স্রেফ এইটুকু বলে শতাব্দী নিজে হাতে বমি সাফ করেছে। বরুণ জানে এর বেশি শতাব্দী এখন কিছুই বলবে না। বরুণের বহু দোষ হাসিমুখে বরণ করবে। নইলে ওই বমি বরুণকেই ন্যাতা-বালতি নিয়ে মুছতে হত। আজকে যদিও বরুণের অফিস খুলে গেছে, তবে ও যাবে না প্ল্যান করেই রেখেছিল। চার দিন টানা ছুটির পর যে একটা ছুটির রেশ জন্মায় সেটা কাটাতে আর একটা ছুটি লাগে।

    ‘উঠেছ?’ চায়ের কাপ নিয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, শতাব্দী, ‘ওদিকে শোনও তোমার ছেলের কথা।’

    ‘কী হল সাতসকালে?’

    ‘বাবু এবাড়ি ছেড়ে এক পাও অন্য কোথাও নড়বেন না বলেছেন। এখানকার বন্ধুরা না কি খুব ভালো। তারপর উত্তর মাঠটায় না কি পার্ক তৈরি হচ্ছে। আমি শিওর তোমার মা এসব শিখিয়ে দিয়েছে নীলকে।’

    মাথা গরম হয়ে গেল বরুণের, ‘তোমারই বা কী দরকার ছিল সক্কালেই ওদের এসব বলার! যা বলার আমিই বলতাম।’

     

     

    ‘তুমি বলতে! তাহলেই হয়েছে। বছর গড়িয়ে যেত তোমার বলতে। মা চোখ পাকালে এখনও তো ফ্যাক করে কেঁদে ফেলবে।’

    ‘ফালতু কথা বোলো না তো! নীলকে ডাকো।’

    শতাব্দী বেরিয়ে গেল। একথা অবশ্য ঠিক, বাবা ছিল বরুণের বন্ধুর মতন। জীবনে মারধর তো দূরের কথা, কোনওদিন বকাঝকাও করেননি। পিটুনি, শাসানি সব মায়ের কাছ থেকে। সংসার চালানোর পুরো দায়িত্ব ছিল মায়ের। বাবা শুধু মাইনের টাকাটা মা-র হাতে তুলে দিয়েই খালাস। যার ফলে এই সংসারের ওপর মায়ের একটা অদৃশ্য কর্তৃত্ব চলে এসেছিল বরাবর। বরুণের বিয়ের পরপরও সেটা ছিল। শতাব্দী চাকরি করা আপডেটেড মেয়ে বলে এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায়নি। এমনিতে শাশুড়ি-বউতে যেমন টক-ঝাল-মিষ্টি সম্পর্ক হয় তেমনই ছিল। ‘তোমার মায়ের খুব বড্ড বেশি’ কিংবা ‘ভদ্রমহিলা নিজেকে যে কী ভাবেন?’ এমন টুকটাক মন্তব্য ছাড়া বরুণকে বিশেষ আর কিছু পোহাতে হয়নি। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর কী এক অদ্ভুত কারণে মা ক্রমশ গুটিয়ে নিয়েছিল নিজেকে। নীল ছাড়া বরুণ আর শতাব্দীর সঙ্গে খুব বেশি একটা কথাবার্তা বলত না। ঠাকুরঘর আর নিজের ঘর নিয়েই ব্যস্ত থাকে সারাদিন। বরুণ রান্নার লোক রেখে দিয়েছিল বলে রান্নাঘরের দায়িত্বটা অনেকদিন আগেই মায়ের কাছ থেকে ছেড়ে গিয়েছিল।

     

     

    নীল হুড়মুড় করে ঢুকেই ঘোষণা করল, ‘আমি যাব না। কোথাও যাব না।’ ক্লাস থ্রি-তে পড়া ছেলের আপ্রাণ বিদ্রোহ। বরুণও ওর বাবার মতো চেষ্টা করে ছেলেকে বকাঝকা ছাড়া মানুষ করতে। শাসকের ভূমিকাটা শতাব্দীর। অবশ্য নীল এক কথায় ভালো ছেলে। শুধু একটু একগুঁয়ে, আজকালকার ছেলেমেয়েদের মতো।

    ‘এদিকে আয়, আমার পাশে বোস’, বলে নীলকে দু-হাতে তুলে নিজের পাশে বসাল বরুণ।

    নীল হাঁ করে বরুণের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর বলল, ‘কাল রাত্তিরে তোমার ভমিটিং হয়েছিল?’

    একটু চমকাল বরুণ, ‘কে বলল? মা?’

    ‘না, আমি দেখেছি।’

    ‘সে কী রে, উঠে গেছিলি!’

    ‘হুঁ। এখন আর করবে না তো?’

     

     

    ‘না-না।’ হেসে ফেলল বরুণ।

    ‘জানো, বিড্ডুর বাবা রোজ রাত্তিরে তোমার মতো ভমিট করে।’

    ‘অ্যাঁ, কে বলল?’

    ‘বিড্ডুই বলেছে।’

    নীলের বন্ধু বিড্ডুর বাবা অয়ন মুখার্জি, সিটিও। বউটা ব্যাপক দেখতে। লোকটা ঘুষখোর তা জানা, কিন্তু মালখোর জানা ছিল না। জেনে অদ্ভুত ভালো লাগল বরুণের।

    ‘আর কিছু বলেছে?’ জিগ্যেস করেই বরুণের মনে হল, ছি-ছি নিজের এইটুকু ছেলেকে এসব কী জিগ্যেস করছে!

    ‘তোকে কী বলেছে মা?’

     

     

    ‘আমরা এখান থেকে চলে যাব কলকাতায়। কিন্তু আমি যাব না বাবা, আমার বন্ধুরা সব এখানে। আমি যাবই না। তারপর উত্তর মাঠে…’

    ‘শোন শোন, আমরা যেখানটায় যাব, সেখানে আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি ওখানে তোর প্রচুর বন্ধু হবে। সবাই খুব ভালো। আমি নিজে কথা বলেছি। আর ফ্ল্যাটটায়, মানে আমাদের নতুন বাড়িটার একদম সামনেই দারুণ একটা পার্ক। ছ-খানা বড় বড় দোলনা আছে, সুইমিং পুল আছে।’

    নিজের ছয় বছরের ছেলেকে সাতসকালে বেমালুম ঢপ মেরে আড়চোখে তাকাল বরুণ। সোজাসুজি তাকাতে অস্বস্তি হচ্ছিল। বেগতিক পরিস্থিতি দেখলেই বরুণ চিরকাল এভাবেই ফেস করে এসেছে। শতাব্দী রেগে গেলে বলে ‘এসকেপিস্ট’, অবশ্য এখন বেশ কিছু দিন বলবে না।

    ‘কিন্তু আমাদের আমগাছ আর পেয়ারাগাছ দুটো?’

    ‘ওগুলো অবশ্য…’ থেমে গেল বরুণ। হিমসাগর আর পেয়ারাগাছ দুটো বাবার বসানো। সবক’টা গাছেরই ফলন বেশ ভালো, পেয়ারাগুলোর ভেতরটা লাল। বাবা লাগিয়েছিলেন। তখন বরুণ কলেজে পড়ে।

     

     

    ‘তবে আমরা তো আর পুরোটা চলে যাচ্ছি না।’

    ‘তবে?’

    ‘এ মা! মা তোকে সবটা বলেনি?’

    ‘না তো, কী?’ ছেলের চোখে চিকচিক করে ওঠা আশা মাখানো কৌতূহল।

    সেটাকে আরও চাগিয়ে দিয়ে বরুণ আয়েশ করে বলল, ‘আমরা তো এই বাড়িটা পুরোপুরি ছেড়ে দিচ্ছি না। এভরি উইকএন্ডে এখানে এসে থাকব।’

    ‘সত্যি!’

    ‘হ্যাঁ। তাহলে তোর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা হবে।’

    ‘কিন্তু বাবা…’

    ‘কী কিন্তু?’

    ‘ঠাম কাঁদছে।’ বিরক্ত লাগল বরুণের।

    ‘কেন, কাঁদার কী হল?’

    ‘আমরা এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাব শুনে।’

    ‘যা গিয়ে বল তালে সবটা।’ শুনেই বিছানা ছেড়ে লাফিয়ে নেমে দৌড়ে চলে যাচ্ছিল নীল, ‘এই শোন, শোন।’

    ‘কী?’

    ‘এখনই বলিস না, একটু পরে বলিস।’

    ‘কেন?’

    ‘এমনি…আচ্ছা যা।’

    বিছানার পাশে রাখা ঠান্ডা চায়ের কাপটা সুড়ৎ করে মেরে দিয়ে উঠল বরুণ। আজকে নীচের দিকে কোনও বেগ আসছে না। এমনিতেই কনস্টিপেশনের ধাত। তার ওপর কাল রাতে পেটে ওই জিনিস পড়ে বমি-ফমি হয়েছে। সুতরাং আজ হওয়ার নো চান্স। ভেবে বিষণ্ণ হয়ে উঠল মনটা। তবু নিয়মরক্ষার জন্য বসল গিয়ে।

    বাজারে আজকে মটন কিনবে ভেবেছিল বরুণ। কিনল না। চিকেন কিনল। পেটের ভেতর ক্রমাগত ভুটভাট করছে। বাড়ি ফিরে বাজার রেখে নিজের ঘরে ঢুকতেই নীল দৌড়ে এল। আজ রান্নার মাসি আসেনি। শতাব্দী রান্না শুরু করে দিয়েছে। খুব উৎসাহ নিয়ে করছে। এখন মায়ের জন্য নিরামিষ পদ হচ্ছে। এরপর ওদেরটা। মা ছোঁয়াছুয়িতে অত কঠোর নয়, হয়তো বাধ্য হয়েই। ঠিক জানা নেই।

    ‘ও বাবা ঠাম না গেলে আমিও যাব না।’

    ভালো লাগছে না সকাল থেকে এক প্রসঙ্গ। বিরক্তিটা চেপে রেখে বরুণ বললে, ‘কেন, কী হল?’

    ‘ঠাম যাবে না বলেছে।’

    ‘কেন যাবে না?’

    বরুণ মনে মনে বলল, বড় হয়ে ন-দশ ঘণ্টা অফিসে গাধার খাটুনির পর রোজ রোজ স্ট্র্যান্ড রোডে এক ঘণ্টা ধরে বালতি বালতি কালো ধোঁয়া গিয়ে যখন এই ভাঙা বাড়িতে ফিরবে তখন আর এই কথা বলবে না চাঁদ।

    ‘যা ঠামকে ডাক। আচ্ছা থাক, আমি যাচ্ছি। তুই যা নিজের ঘরে।’

    ‘কী করব?’

    ‘ছবি আঁক গিয়ে।’

    ‘ওয়াল পেন্টিং করব!’

    একটু থেমে বরুণ বলল, ‘বেশ কর গিয়ে।’ ছেলেটার অদ্ভুত শখ। কাগজে ছবি আঁকতেই চায় না। হয় মেঝেতে, না হয় দেওয়ালে বড় বড় ছবি আঁকবে। ওর নিজের ঘরের দেওয়ালটা তো প্যাস্টেল ঘষে প্রায় ভরিয়ে ফেলেছে। অন্যন্য ঘর-বারান্দাও রং পেনসিলের হাত থেকে খুব একটা রেহাই পাইনি। বাবা থাকতে বকা দিত খুব। এখন বকা দেওয়ার মতন তেমন কেউ নেই। শতাব্দী বলে নীল নাকি গতজন্মে ম্যুরালিস্ট ছিল। ম্যুরাল পেন্টিং করত। আঁকার স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছে বরুণ। এখন বেশ ভালোই আঁকে। কিন্তু যত প্র্যাকটিস ওই দেওয়ালেই। চুনবালি-খসা এবড়োখেবড়ো দেওয়ালে মানুষ, পাহাড়, গাছ, নদী।

    গুটিগুটি পায়ে মায়ের ঘরে ঢুকল বরুণ। মা ঘরের ঝুল ঝাড়ছিল।

    ‘মা।’

    থমকে দাঁড়াল মা। মুখটা ক্লান্ত, ভার। চোখ লাল। তাকাল বরুণের দিকে। ডান হাতে ঝুলঝাড়ু।

    গলা খাঁকরে নিয়ে বরুণ বলল, ‘কী ব্যাপার, নীল বলছে তুমি কান্নাকাটি করছ?’ যতটা সম্ভব ক্যাজুয়ালি বলল বরুণ।

    ‘নাহ কিছু হয়নি তো!’ বলে আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল মা।

    ‘শোনও, শোনও, আমি তোমাকে সব বলতামই। এই জাস্ট দু-দিন হল ঠিক করেছি। এখনও ফাইনাল কিছুই হয়নি। মানে…’

    মা নির্লিপ্ত গলায় বলল, ‘কবে যাচ্ছিস তোরা?’

    ‘তোরা মানে! তুমিও তো যাবে।’

    ‘নাহ।’ অনেকদিন পর মায়ের গলায় সেই পুরোনো ঝাঁঝ, ‘আমাকে ছেড়ে দে।’

    ‘ছেড়ে দে বললেই হবে! এই বড় বাড়িতে তুমি একা একা কী করবে? তাছাড়া…’

    ‘তাছাড়া কী?’ চমকে উঠল মা, ‘বিক্রি করে দিয়েছিস বাড়িটা?’

    ‘ধুস, তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেল না কি! খামোখা বিক্রি করতে যাব কেন?’ একটা কথা অবশ্য কারও জানা নেই, বিক্রির চেষ্টা বরুণ করেছিল। প্রাোমোটার এসে বাইরে থেকে দেখেও গেছিল বরুণের দাঁত খিঁচানো বাড়ি। দেখেশুনে যা দর দিয়েছিল তাতে বরুণ আর শতাব্দীর এক বছরের যাতায়াতের ভাড়াও উঠবে না।

    ‘দাদা, এমনিতেই তো আপনার বাড়ি স্টেশন থেকে এত দূরে যে ফ্ল্যাট বানানো যাবে না। দু-নম্বর এবাড়ির যা হাল কোনও ভ্যালু নেই। আছে শুধু জমিটুকু। এখানে আর জমির দাম কত বলুন না? আমি তো ঠিক দামই বলেছি। ভেবে দেখুন।’ দাঁত বার করে বলে গিয়েছিল প্রাোমোটার।

    বরুণ আশা করেছিল বাড়িটা ঠিকঠাক দামে বিক্রি হলে বাকি হোম লোন নিয়ে একটা ফ্ল্যাট কেনার ব্যবস্থা করবে। কিন্তু সে গুড়ে বালি। এসব অবশ্য শতাব্দীও জানে না। শুনলেই বলবে, ‘দেখেছ তো, আমি বললে শুনতে খারাপ লাগে। যা ধ্যাড়ধেড়ে জায়গায় বাড়ি বানিয়েছিল তোমার বাবা।’ এসব কথা বরুণ নিজে ভাবলেও অন্যের মুখ থেকে শুনতে খারাপ লাগে। যেখানেই হোক, যেমনই হোক, তবু একটা কিছু সম্পূর্ণ নিজের বানিয়েছিল মানুষটা। আপ্রাণ ভালোবেসে, নিজের স্বপ্নটুকু সফল করতে পারা কি কম বিস্ময়ের। ক’জন পারে?

    ‘শোনো, শোনো, আমার কথাটা শোনো,’ বলতে বলতে এগিয়ে গেল বরুণ, ‘এদিকে তাকাও, আমার দিকে’, মা-র ফেরানো চিবুকে হাত রেখে বরুণ নিজের দিকে ফেরাতেই ওকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল মা। অনেক, অ-নে-ক দিন পর। বাবা মারা যাওয়ার দু-দিন পরে আলমারি থেকে বাবার ধুতি-পাঞ্জাবিগুলো বের করতে গিয়ে এভাবে কেঁদেছিল মা।

    ভালো লাগছিল। অদ্ভুত ভালো লাগছিল বরুণের। মা-র মাথায় হাত রেখে বলল, ‘মা, আমার, শতাব্দীর প্রবলেমটাও একটু বোঝো প্লিজ। সারাটা জীবন এই নৃশংস ডেলি প্যাসেঞ্জারি, ষাট বছরও টিকব না এভাবে চললে।’

    ‘তোর বাবাও তো করেছে।’

    ‘সেদিন আর এদিন এক হল। তখন পপুলেশন এত ছিল না। এখন লোকাল ট্রেনে ওঠা যায় না। অফিস টাইমে হাওড়া স্টেশনে দু-তিনটে লোকাল একসঙ্গে ঢুকলে সাবওয়ে পর্যন্ত পৌঁছোতে আধঘণ্টা লেগে যায়। লোকের চাপে বুকের খাঁচা ভেঙে যাওয়ার অবস্থা হয়। বছরের পর বছর এভাবে আর পারা যায়, বলো? তারপর ঠাকুরের ইচ্ছায় আমাদের দুজনের রোজগার সব মিলিয়ে খারাপ নয়। একটু তো শখ হয় নিজেদের, বলো! মানে ঘরগুলো…একটা বাড়ি একটু মনের মতো সুন্দর করে সাজাই।’

    বরুণ জানে একথার পরেই মা বলবে, কেন, এই বাড়িটা কি সাজাতে পারিস না? সেজন্য সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘এ বাড়িটার যা অবস্থা, দেখেছ তো, বছর বছর সারিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। এত বড় বাড়ির অ্যানুয়াল মেনটেনেন্স যা তাতে…এই তো তোমার ঘরটাই দেখো। দেওয়ালের, ছাদের প্লাস্টার ফেঁপে গেছে, দুটো জোরে টোকা মারলে চাঙড় খসে পড়বে। সিলিংয়ের রডে জল ঢুকে ঝরঝরে হয়ে আছে, বিমটা লম্বা হয়ে দু-ভাগ। এমন সব ঘরে একটা ভালো ফার্নিচার পর্যন্ত শখ হলে কিনে সাজাতে পারি না। ভালো লাগে, বলো?’

    মা চুপ করে অসহায়ের মতো শুধু তাকাল বরুণের দিকে, ফোঁপাচ্ছিল। কেঁপে কেঁপে উঠছিল থিরথির করে। বরুণ বুঝতে পারছিল নীল এতক্ষণ ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে চুপচাপ দেখছিল এদেরকে। এইমাত্র সরে গেল। ওর নিজের ঘরের অরণ্যদেব আঁকা দরজা বন্ধ হল আলতো শব্দে। ও-ও কি কাঁদবে এখন?

    ‘আর তাছাড়া প্রত্যেক শনি আর রবিবার তো আমরা এবাড়িতে এসেই থাকব।’ মা জানে, বরুণও ভালোভাবে জানে এই প্ল্যানটায় আয়ু ক’দিনের।

    ‘কবে যাবি?’

    ‘দেখি, লক্ষ্মীপুজোটা যাক। ঠাকুরমশাইকে জিগ্যেস করে একটা ভালো দিন জেনে রেখো তো! আর কিন্তু কান্নাকাটি করবে না। ঠিক আছে?’

    মাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বরুণ নিজের ঘরের দিকে যাওয়ার সময় শতাব্দী রান্নাঘর থেকে মুখ বাড়িয়ে জিগ্যেস করল, ‘রাজি হল?’

    উত্তর দিল না বরুণ।

    বরুণ ছোট থেকে দেখে আসছে ওদের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজো হয় খুব ঘটা করে। বাবা বাজারে গিয়ে প্রায় তিন-চার ঘণ্টা ধরে খুঁজে সবচেয়ে সুন্দর দেখতে ঠাকুরটা নিয়ে আসতেন। বরুণও সঙ্গে যেত। অধৈর্য হয়ে উঠত শেষের দিকটায়। ঠাকুর কেনার পর শুরু হত পুজোর জিনিসপত্র, সবজি বাজার। একটু বড় হওয়ার পর বরুণ বুঝেছে বাবা খরচের দিক দিয়ে অন্যান্য সব ব্যাপারে খুব হিসেবি হলেও, এই পুজোটায় কোনও হিসেব করতেন না। দু-হাতে দেদার খরচ করতেন। নিজেই পুজোয় বসতেন বাবা। সেদিন বরুণদের বাড়িটা টুনি লাইটের চেন দিয়ে সাজানো হত। বাবা বলতেন লক্ষ্মী ঠাকুর অন্ধকার একদম পছন্দ করেন না। তিনি আলোয় আসেন। বরুণ ছোটবেলায় একবার নিজের কানে শুনেছে বাবা পুজোর আগের দিন রাত্রে বিছানায় শুয়ে মাকে বলেছিলেন, ‘আমার এই গৃহে সাক্ষাৎ মা লক্ষ্মী আছেন। আমি বুঝতে পারি।’

    বরুণ পারে না। অনেক চেষ্টা করেও পারে না। চোখ মেলে ভাঙাচোরা বাড়িটার দিকে তাকালেই কেমন শ্রীহীন মনে হয়। বাবা চলে যাওয়ার বছরটায় অশৌচের জন্য পুজো বন্ধ ছিল। তার পরের বছর বরুণও বাবার মতোই সুন্দর করে গুছিয়ে পুজো করার চেষ্টা করেছে। ঠাকুর কেনা থেকে শুরু করে বাজার করা, দশকর্মা, লাইট দিয়ে বাড়ি সাজানো, সব। ছোটবেলায় বরুণ আলপনা দিত। বারান্দা থেকে লক্ষ্মীঠাকুরের হেঁটে আসা পায়ে চিহ্ন ঠাকুরঘরে পাতা আসন পর্যন্ত আঁকত। এখন নীল আঁকে। বরুণের চেয়ে ভালোই আঁকে।

    পুজো কাল। আজকে অফিস থেকে একটু বিকেল বিকেল বেরিয়ে পড়েছিল বরুণ। স্টেশন বাজার ঘুরে অনেক ঘেঁটেঘুঁটে একটা মূর্তি কিনল। ভালোই দেখতে, বেশ বড় সাইজ। এ বাড়িতে এবছরই শেষ পুজো। দু-ব্যাগ ভর্তি সবজি বাজার, ফল, মিষ্টি, দশকর্মা, গামছা অমুক-তমুক সব কিনে রিকশায় চেপে রাত্রে বাড়ির সামনে এসে থামতেই চমকে উঠল বরুণ। বৃদ্ধ, বুকের পাঁজর বার করা শীর্ণ বাড়িটার গায়ে ঝলমলে আলোর চাদর ঢাকা দেওয়া। ইলেকট্রিশিয়ান টুনি বালবের চেন লাগিয়ে দিয়ে গেছে। মারা যাওয়ার ঠিক ক’দিন আগে, বাবা যখন প্রায় সংজ্ঞাহীন, হঠাৎ একদিন বরুণের ইচ্ছে হয়েছিল বাবাকে নিজে হাতে সাজাতে। আলমারি খুলে বাবার সবচেয়ে প্রিয় গরদের পাঞ্জাবি আর ধাক্কাপাড় ধুতিটা বার করে বাবাকে শোয়ানো অবস্থাতেই পরিয়ে দিয়েছিল। বিছানায় প্রায় মিশে যাওয়া স্রেফ চামড়ায় মোড়া কঙ্কাল শরীরটায় ঝকঝকে ধুতি-পাঞ্জাবিতে বাবাকে সেদিন ঠিক এই বাড়িটার মতোই দেখতে লাগছিল!

    ‘ভাড়াটা দেবেন?’

    ‘রিকশাওলার ডাকে সংবিৎ ফিরল বরুণের। ভাড়া মিটিয়ে মালপত্র নিয়ে ঠাকুরঘরে ঢুকল। নীল আর মা দুজন মিলে ঠাকুরের সিংহাসনে রাখা সব ছোট ছোট ঠাকুর-দেবতার ফটোগুলো জল-ন্যাকড়া দিয়ে পরিষ্কার করছে। বরুণদের বাড়িতে কোনও দেওয়ালে বাবার ফটো ঝোলানো নেই। শুধু একটাই ছোট্ট ফটো ঠাকুরের আসনে রাখা। বাবা নিজেই, তখনও রোগটা অত জেঁকে বসেনি, একদিন বলেছিলন, ‘আমি যদি চলে যাই, দেওয়াল লটকে রাখিস না যেন। ওতে আমারও কষ্ট, দেওয়ালেরও কষ্ট।’ বাবার এই ফটোতে কপালে রোজ পুজোর সময়ে চন্দনের টিপ দেয় মা। শতাব্দী ঘরদোর গুচোচ্ছে। মালপত্রগুলো ব্যাগ থেকে বের করতে করতে মাকে জিগ্যেস করল, ‘মূর্তি কেমন হয়েছে মা?’

    ‘ভালো। বেদিতে বসিয়ে দে। দাঁড়া শাঁখটা নিই।’

    কাঠের জলচৌকির ওপর লাল আসন পাতা বেদিতে মূর্তি বসানোর পরেই আবার কেঁদে ফেলল মা।

    ‘কী হল আবার? আরে, কাঁদছ কেন?’

    ‘ও ঠাম…ঠাম…’ নীলের গলাতেও সঙ্গে সঙ্গে…

    ‘না, এমনি’, চোখ মুছতে মুছতে বলল মা।

    ‘না, বলো কেন কাঁদছ?’ এগিয়ে গেল বরুণ, ‘অ্যাই নীল, ঘরে যা তো!’

    ‘আজকে ওই মানুষটা বেঁচে থাকলে তুই এই বাড়ি ছাড়তে পারতি?’ চিবুক কাঁপিয়ে প্রশ্ন করল মা।

    ‘আহ মা, থাক না এসব কথা। তোমাকে আর কতবার বোঝাব বলো তো? বাড়ি কি আমি বেচে দিয়েছি? আমাদেরই তো থাকবে।’

    আজ সারাদিন ধরে সবাই পুজোর জোগাড়ে ব্যস্ত। মা ঠাকুরঘরে। শতাব্দী রান্নায়। নীল পিটুলিগোলা আর তুলো নিয়ে এন্তার যেখানে পারছে আলপনা দিচ্ছে। আর বরুণের প্র্যাকটিকালি কোনও কাজই নেই। শুধু বার বার এঘর ওঘর করছে। দুবার মুদির দোকানে গেছে। কাজ না থাকলেও ব্যস্ত থাকার ভীষণ চেষ্টা করছে। এই বাড়িটায় এটাই শেষ লক্ষ্মীপুজো। পুজোটা যেন খুব সুন্দর আর সুষ্ঠভাবে হয়, তার জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল বরুণ। বার কয়েক মায়ের ঘরে গেল। বাড়ির সবচেয়ে পুরোনো ঘর দুটোয় একটায় একটা কালো কাঠের উঁচু খাটটাতেই ছোটবেলায় বরুণ বাবা-মা-র মাঝখানে শুত, এখন মা একা শোয়। টানটান চাদর পাতা। চারটে দেওয়ালেই নোনা। সেজন্য অনেকদিন হল আর রং করা হয় না ঘরটায়। পুরোনো চুন খসে প্লাস্টার বেরিয়ে গিয়ে কোথাও রবীন্দ্রনাথ, কোথাও কেশরওয়ালা সিংহের ছবি। মা একা থাকলেও এ ঘরটায় এখনও বড্ড বেশি বাবা বাবা গন্ধ। বরুণ বাইরে বেরিয়ে এল। অস্থির লাগছে শরীরটা। উপোসের জন্য কি না কে জানে। খালি পেটে থাকা খুব কঠিন। ঠাকুরঘরের তাক থেকে পুরোহিত দর্পণ খুলে লক্ষ্মীপুজোটায় বেশ কয়েকবার চোখ বোলাল, টিভি দেখল। দুপুরে অল্প সাবু খেয়ে খানিকটা ঘুমোল।

    সন্ধে হল। পুজো করার জন্য বাবার এক সেট গরদের ধুতি আর উত্তরীয় ছিল। ওই ধুতিটা পরে উত্তরীয় গায়ে দিয়ে ঠাকুরঘরে পাতা পুজোর আসনে গিয়ে বসল বরুণ। শতাব্দী রান্না সেরে গা ধুয়ে সুন্দর একটা শাড়ি পরে এসে বসেছে। ভালো লাগছে ওকে দেখতে। নীল ঠামের গা ঘেঁষে চুপ করে বসে। দেখে বেশ অবাক হল বরুণ। কোনওবার পুজোর সময়টায় ওকে ঠাকুরঘরে বসে থাকতে দেখা যায় না তো! পুরোহিত দর্পণটা বাঁ-থাইয়ের ওপর খুলে রেখে পুজো শুরু করল বরুণ। আচমন, জলশুদ্ধি, আসনশুদ্ধি পরপর এগোতে এগোতে পঞ্চদেবতা, পঞ্চপোচারে। শতাব্দী সময়মতো শাঁখ বাজাচ্ছে। এবাড়ি ওবাড়ি থেকেও শাঁখের শব্দ আসছে। মা স্থানুর মতো বসে।…’ইহ গচ্ছ ইহ গচ্ছ ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ’ প্রাণপ্রতিষ্ঠার পর চক্ষুদান। নীল এই প্রথম পুজো দেখছে। ‘এটা কী, ওটা কেন?’ জিগ্যেস করে শতাব্দীর মাথা খাচ্ছিল।

    বরুণ বলে উঠল, ‘পুজোর সময় কথা বলতে নেই। এখন দেখে রাখো, পরে জিগ্যেস করবে।’

    দেবীর চক্ষুদানের জন্য বেলপাতায় ঘি মাখিয়ে প্রদীপের শিখার ওপর ধরে রেখে কাজল বানাতে হয়। ধৈর্য নিয়ে ধরে রাখতে হয় বেশ কিছুক্ষণ। ছোট্ট থেকে বরুণ দেখেছে এই কাজটা মা-ই করে এসেছে। বরুণও মা-র দিকে বেলপাতা বাড়িয়ে দিয়ে ইশারায় ঘিরের শিশিটা দেখাল। পুজো করতে করতে বরুণ একবারের জন্যও বাবার ফটোটার দিকে তাকায়নি। প্রচণ্ড অস্তস্বি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল তাকালেই…ঠিক কী যে মনে হচ্ছিল। পুজোতে যতটা মন দেবে ভেবেছিল সারাদিনে, তার সিকি আনাও মন লাগছিল না। খালি মনে হচ্ছে কতক্ষণে শেষ হবে, আর ঠাকুরঘর ছেড়ে উঠে পালাবে। অন্য দিকে তাকিয়েও মনে হচ্ছিল বাবা যেন ওর দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন একদৃষ্টে। মায়ের ধরে রাখা প্রদীপের শিসের ওপর ঘি মাখানো বেলপাতায় কাজল জমে উঠেছে। ওই কাজলেই বেলপাতার বোঁটা ঠেকিয়ে দেবীর বীজমন্ত্র বলে প্রথমে বাম চক্ষু তারপর ডান চক্ষু স্পর্শ করিয়ে চক্ষুদান করতে হবে। কাজল জমে উঠতে মা বোঁটা আর পাতাটা দু-হাতে এমনভাবে বরুণের চোখের সামনে এগিয়ে দিতে থাকল যেন…।

    ‘অত উঁচু করে বাড়াচ্ছ কেন?’ আচমকা প্রায় অকারণে মাকে আলতো ধমকে উঠল বরুণ। তার পরেই কষ্ট করে হেসে বলল, ‘আমার চোখে ঠেকাবে না কি?’ প্রকাণ্ড ফাঁকা জায়গায় চিৎকার করে বলে ওঠা কথাটা যেন গমগম করে উঠল এমনি এমনিই।

    শরীরটা ভালো লাগছিল না। সোফাতে গা এলিয়ে জোরে টিভি চালিয়ে মনটা হালকা করার প্রাণপণ চেষ্টা করছিল বরুণ। শতাব্দী এসে সোফাতে বসল।

    ‘ওহ, এত জোরে টিভি চালিয়েছ কেন? আস্তে করো।’ বলে রিমোটটা নিয়ে নিজেই মিউট করে দিল।

    ‘বাবা বাবা, ঠাম বেলপাতা পুড়িয়ে কী করল?’ নীল দৌড়ে ঘরে ঢুকেই জিগ্যেস করল। বরুণ অসহায়ের মতো শতাব্দীর দিকে তাকাল।

    ‘বেলপাতার কালি দিয়ে মা লক্ষ্মীকে চোখ দেওয়া হয় বাবা।’ বলেই শতাব্দী বরুণের দিকে বেশ উৎসাহ নিয়ে ঘুরে বলল, ‘জান, এক ধরনের সাঁওতাল পট আছে সেগুলোর নাম চক্ষুদান পট।’

    ‘সাঁওতাল পট কী মা?’ নীলের চটপট প্রশ্ন।

    ‘সাঁওতালরা এক রকমের ছবি আঁকে যেগুলোকে সাঁওতাল পট বলে।’ নীলকে স্কুল টিচারের কায়দায় বুঝিয়ে শতাব্দী আবার বরুণকে নিয়ে পড়ল, ‘জানো, এই চক্ষুদান ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিং। লোকচিত্রের ওপর একটা বইতে পড়ছিলাম। শুনছ?…বাব্বা, আমিও তো সারাদিন খেটেছি, তোমার মতো এত এলিয়ে যাইনি তো!’

    ‘না-না, শুনছি, বলো না।’

    ‘সাঁওতালদের ফ্যামিলিতে যদি কেউ মারা যায় তখন তাদের পটুয়া, মানে পট আঁকিয়েরা সেই মৃত মানুষটার একটা ছবি আঁকে। হুবহু দেখতে হয় না, প্রতীকী আর কি। পুরো ফিগারটা আঁকে। শুধু মানুষটার চোখের তারা দুটো আঁকে না। তারপর সেই ছবি নিয়ে তারা সটান হাজির হয় মৃত লোকটার বাড়িতে। ওখানে গিয়ে তার আত্মীয়স্বজনকে বলে ওই মৃত ব্যক্তি দৃষ্টিহীন অবস্থায় পরলোকে ঘুরে ঘুরে খুব কষ্ট পাচ্ছে। এখন তারা কিছু ভুজ্জি পেয়ে ওই ছবিতে চোখের মণি দুটো এঁকে দিলে তবে মৃত ব্যক্তি দৃষ্টি পাবে। এই বলে বেশ টু-পাইস কামিয়ে নিয়ে চোখের তারা দুটো এঁকে দেয়। ভাবো রোজগারের কী বিচিত্র ধরন!’ বলে হাসল শতাব্দী।

    বরুণ বলল, ‘হুঁ।’

    নীল পুরোটা শুনল হাঁ হয়ে। তারপর সাঁই করে ছুটে বেরিয়ে গেল ঘর ছেড়ে।

    রাত্রে খাওয়াদাওয়া করে বিছানায় শুয়েছিল বরুণ। দুনিয়ার যত হাবিজাবি চিন্তা মাথায় গিজগিজ করছিল। শতাব্দী বাথরুমে গেছে।

    ‘বাবা, ও বাবা।’ ঘরে ঢুকল নীল।

    ‘কী?’

    ‘একবার এসো আমার ঘরে।’

    ‘কেন?’

    ‘এসো না!’

    ‘এখন না, কালকে যাব।’

    ‘না, এখনই চলো।’

    জেদটা আরও বাড়বে। অগত্যা উঠল বরুণ। নীলের ঘুরে ঢুকে দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখে সদ্য আঁকা একটা মানুষের ছবি। পাশে তিরচিহ্ন দিয়ে লেখা দাদান। চোখ দুটোয় তারা নেই।

    ‘ও বাবা, দাদান কিন্তু স্বর্গে খুব কষ্ট পাচ্ছে। কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছে না। আমি যা চাইব যদি দাও, তাহলে চোখ এঁকে দেব।’

    মাথাটা চড়াৎ করে গরম হয়ে গেল বরুণের। ঝাঁঝিয়ে উঠল, ‘এসব হাবিজাবি কী করছ এখন? চুপচাপ শোও।’

    ‘তুমি এবাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবে না বলো…ও বাবা, তাহলে দাদানের চোখ এঁকে দেব। বলো যাবে না? দিই চোখ এঁকে?

    ‘হা-রা-ম-জা-দা, কী ভেবেছিস শালা! সবাই মিলে আমাকে…’ থমকে গেল বরুণ।

    বরুণের ছ’বছরের জেদি ছেলে পেনসিল ধরা হাতটা দেওয়ালে আঁকা বাবার ছবির চোখের দিকে এগোতেই বরুণ গুটিয়ে কেন্নোর মতো হয়ে গেল।

    ‘আঁকিস না…চোখ দিস না…নীল প্লিজ…আমি পারব না…আমি পারব না…পারব না…’ বলতে বলতে ঘর ছেড়ে টলমল করতে করতে ছিটকে বারান্দায় বেরিয়ে এল বরুণ। গোটা পৃথিবীতে কোজাগরী আলো উপছে পড়ছে। বারান্দার মেঝেতে চোখ পড়ল। নীলের আঁকা আলপনায় মা লক্ষ্মীর পায়ের চিহ্ন জ্যোৎন্সার আলোয় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠে বারান্দা থেকে এই ভাঙা বাড়িটার ভেতর চলে গেছে।

    দেশ মার্চ

    ২০০৯

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল
    Next Article রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    Related Articles

    বিনোদ ঘোষাল

    রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    বিনোদ ঘোষাল

    কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }