Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ডানাওলা মানুষ – বিনোদ ঘোষাল

    বিনোদ ঘোষাল এক পাতা গল্প253 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    এক মানুষ, ছাই

    ইলেকট্রিক চুল্লির ভেতর শুয়ে আছি আমি। কিছুক্ষণ আগে আমাকে এর ভেতর ঢোকানো হয়েছে। ট্রলিতে করে ডোম যখন আমাকে এই লাল টকটকে হাঁ মুখটার ভেতর ঢুকিয়ে দিচ্ছিল তখন ভীষণ ভয় করছিল আমার। ইচ্ছে করছিল উঠে দৌড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু উপায় ছিল না। আমার গোটা শরীর ব্যান্ডেজে বাঁধা। মর্গে পোস্ট-মর্টেমের পর আমার পেটের নাড়িভুঁড়ি সব বার করে দিয়ে সেলাই করে ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আমার কপালেও সেলাই।

    ডোমটা আমার চোখদুটোও নিয়ে নিতে চেয়েছিল। পারেনি। কারা যেন বাধা দিয়েছিল। তাদের মুখগুলো অস্পষ্ট। চিনতে পারিনি। হয়তো বন্ধুরা হবে, কিংবা…অন্য কেউ। ঠিক জানি না। আমি যখন মর্গের বেডে শুয়েছিলাম তখন দেখেছিলাম আমার পাশের বেডে শোয়ানো একটি পনেরো-ষোলো বছরের মেয়ের চোখ দুটো ডোমটা নিজের বাঁ-হাতের কড়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে কী অদ্ভুত কায়দায় বার করে নিয়েছিল। তারপর সে আমার কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল। এত চোখ নিয়ে সে কী করে? বিক্রি? দৃষ্টি বিক্রি করে। তার মুখে ঝাঁঝালো মদের গন্ধ। আমার ডান পায়ের থাইয়ের মাংস খুবলে খাচ্ছিল যে ধেড়ে ইঁদুরটা, সেটাকে অলসভাবে সরিয়ে দিয়ে আমার চোখের দিকে আঙুল বাড়িয়েছিল, নিতে পারেনি…ভাগ্যিস! কারা যে আটকেছিল একটুও মনে পড়ছে না। শুধু মনে আছে সন্ধেবেলা রেললাইন দিয়ে হাঁটা, অনেক দূরের আলো…আরও কাছে…আরও কাছে…তীক্ষ্ণ হুইসেল…ট্রেনের ধাতব চাকার শব্দ আমার শরীরের ওপর দিয়ে। এতটুকু রক্ত পড়েনি। ট্রেনে কাটা পড়লে রক্ত পড়ে না। অদ্ভুত! সারারাত লাইনের ওপর একা শুয়েছিলাম। পেটের ওপরের অংশ দুই লাইনের মাঝে আর বাকিটুকু লাইনের বাইরে। চিৎ হয়ে শুয়েছিলাম আমি। হ্যাঁ, চিৎ হয়ে। হিমে ভিজে যাচ্ছিল শরীর আমার। আকাশভরতি তারা। ঘন কালচে নীল আকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া শিফন মেঘ। ভালো লাগছিল আমার অমনি করে শুয়ে থাকতে। কতকাল শুইনি ওভাবে। ছোটবেলায় বাড়ির পাশের মাঠটায় রাত্তিরে মাঝেমধ্যে ওভাবে শুয়ে থাকতাম একা। আর আকাশ দেখতাম। তারাগুলো থেকে আলো বইত। হাওয়া বইত। মন হু-হু করে উঠত আমার। খুব ইচ্ছে করত ওখানে চলে যেতে। এই তারা থেকে এই তারায়। ওই গ্রহ থেকে সেই গ্রহে।…সারা রাত হিম মেখে নিবিড়ভাবে রাতের সঙ্গে থাকার সঙ্গে থাকার পর ভোরবেলা লোক এসে বস্তায় ভরে ভ্যানে চাপিয়ে নিয়ে গেল আমাকে। মর্গে।

    আমার গায়ে জড়ানো ব্যান্ডেজ কখন পুড়ে ছাই। মাংসপোড়া গন্ধে নিশ্চয়ই ভরে গেছে এই একমানুষ আগুন কুঠুরিটা। আগুন আমার সমস্ত জুড়ে। অথচ তাপের দহনের অনুভব নেই আমার। চিৎ হয়ে শুয়ে আছি গতকাল থেকে। পাশ ফিরতে ইচ্ছে হল আমার। ফিরতেই চমকে উঠলাম। আমার পাশের চুল্লির ভেতরটাও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। ওখানেও একইরকম আগুন জ্বলছে গনগন করে। একজন মানুষ শুয়ে। আমারই মতো। বড় তৃপ্তির সঙ্গে পুড়ছে। পুরুষের শরীর। চেনা চেনা মনে হল…সত্যি কি? হয়তো মৃত্যুর পর কিংবা জ্বলতে থাকা সব মানুষকে একইরকম দেখতে লাগে। লোকটার বেরিয়ে আসা পাঁজরের হাড় আগুনের দমকে কেঁপে কেঁপে উঠছে। ওপরের দিকে তাকিয়ে ছিল লোকটা। হাই তুলল একবার। তারপর মুখ ফিরিয়ে আমার দিকে তাকাল। ‘বাবা…তুমি!’ প্রচণ্ড চমকে উঠলাম আমি। ‘এখানে…কেন?’ বাবা উত্তর দিল না। একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল আমার দিকে। যেভাবে মানুষটা আজীবন সব কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকত। বোবা দৃষ্টি। কথাহীন তাকানো। প্রথম দিকে খুব রাগো হত আমার। পরে কষ্ট লাগত। জিগ্যেস করলাম, ‘কষ্ট হচ্ছে তোমার?’

     

    আরও দেখুন
    বইয়ের
    বই পড়ুন
    বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বই ডাউনলোড
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    রেসিপি বই
    গল্প, কবিতা

     

    আমার প্রশ্নে সামান্য হাসার চেষ্টা করল বাবা। দীর্ঘ অনভ্যাসের ফলে হাসি এল না। ঠোঁট অল্প ফাঁক হল শুধু। সামনে তিনটে ধবধবে সাদা দাঁত দেখতে পেলাম। ওই তিনটে দাঁত অনেকদিন আগে থেকেই ছিল না। ফাঁকা ছিল। বাঁধিয়ে নেওয়ার ইচ্ছে ছিল লোকটার। করে উঠতে পারেনি। কবে বাঁধাল কে জানে? গোঁফদাড়িও নিপুণভাবে কামানো। দেখলেই মনে হয় সুন্দর আফটার শেভ লোশনের গন্ধ বের হচ্ছে। জিগ্যেস করলাম, ‘দাঁত বাঁধিয়েছ?’

    ঘাড় নাড়ল বাবা। তারপর হাড় বার করা সাদা হাতের মুঠোর তার জড়ানো ছোট্ট চৌকোমতো একটা জিনিস তুলে ধরে দেখাল। হিয়ারিং-এইড! আশ্চর্য এসব কখন কিনল? কাল বিকেল পর্যন্ত যতক্ষণ আমি বাড়ি ছিলাম এসব কিছুই দেখিনি তো। আমি যখন ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসি তখন বাবা বাটিতে জল-মুড়ি খাচ্ছিল বিছানায় বসে। দাঁতের জন্যে শুকনো মুড়ি চিবোতে অসুবিধা হত। জলে ভিজিয়ে চুষে খেত। বাবা আরও একটা কী যেন বাঁ-হাতে ধরে রয়েছে, চোখে পড়ল আমার। সোনালি ফ্রেমের চশমা। পালিশ ওঠা মোটা কালো ফ্রেমের ঘষা ঘষা লেন্সের চশমাটা আমি আজীবন বাবার চোখে দেখে এসেছি। কখন কিনল এত কিছু! আর আমাকে এভাবে এখন দেখাচ্ছে কেন? রাগ হয়ে গেল আমার। যা হোক কিছু একটা আমারও দেখাতে ইচ্ছে করল বাবাকে। কী দেখাব ভাবতেই দেখি আমার পুড়ে ছাই হয়ে আসা পায়ের কাছে একটা লাল টুকটুকে প্লাস্টিকের বল, ব্যাট। খেলনা রেলগাড়ি। আমার বুকের ওপর জড়ো করে রাখা আছে অজস্র গল্পের বই, দামি ক্যাডবেরি। আমার হাতের মুঠোয় ধরা তুলি, প্যাস্টেল রং, ড্রয়িং খাতা। চমকে উঠলাম আমি। এগুলো কখন এল এখানে? কীভাবে এল? আমার আশৈশবের না পাওয়া সুখগুলো কীভাবে চলে এল এখন! এই সব জিনিসগুলো কেউ আমরা কখনও পাইনি। পরস্পরকে দিতেও পারিনি। বাবা কি একদৃষ্টে এগুলোই দেখছিল এতক্ষণ? একটা লোকাল সিনেমা হলের লাইটম্যান ছিল আমার বাবা। সেই হলে আমি দুবার সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। নেতাজি সুভাষচন্দ্র আর আফ্রিকান সাফারি। একবার মায়ের সঙ্গে আর একবার সাধনামাসির সঙ্গে। হলের ভেতর ঘুটঘুটে অন্ধকারে কোথাও এতটুকু হোঁচট না খেয়ে আমাদের বসার চেয়ারে কী নিপুণভাবে একবার টর্চের আলো ফেলেছিল বাবা। অহংকারে ফুলে উঠেছিল সে দুদিন আমার ছোট বুক। এত অন্ধকারেও বাবা সব দেখতে পায়। সব অন্ধকার বাবার চেনা। সমস্ত কোণ, সমস্ত দিক। পরে একটু বড় হওয়ার পর বুঝেছি বাবার আসলে ওইটুকু অন্ধকারই চেনা ছিল। বাকি সব অন্ধকারে আমার মতোই হাতড়াত, হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ত। আমি যেমন প্ল্যানেটোরিয়ামের ঘন অন্ধকারের মধ্যেও কৃষ্ণার ঠোঁটে একেবারে চুমু খেতে পারতাম, ব্লাউজে হাত ঢুকিয়ে ব্রায়ের হুক খুলে ফেলতে পারতাম। আলো কিংবা অন্ধকার আসলে কিছুই নয়। সবটাই অভ্যাস।

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    বাংলা বই
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বুক শেল্ফ
    ডিকশনারি
    বই পড়ুন

     

    সিনেমা হলটা ধুঁকতে শুরু করেছিল। মফসসল অঞ্চলে কেবল লাইন ঢোকার পর থেকে হলগুলোতে আগের মতো ভিড় হত না। মালিক নতুন সিনেমা আনা বন্ধ করে ব্লু ফিল্ম দেখাতে শুরু করল পয়সা তোলার জন্য। হলের বাইরে হিন্দি ছবির পোস্টার। ভেতরে মালয়ালম কিংবা ইংলিশ টু বা থ্রি। ইয়ং ছেলেরা ভিড় করত। আমার বন্ধুরাও যেত। বাবা মাথা নীচু করে অন্যদিকে তাকিয়ে তাদের সিট দেখাত।

    ভেঙে যাচ্ছিল লোকটা। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছিল। আমি বুঝতে পারতাম। তবু শেষপর্যন্ত সিনেমাহলটা বন্ধ হয়ে গেল। অভ্যাস হয়ে গেল বাবার বাড়িতে বসে যাওয়া। মা-র সারাদিনের চিৎকার, অসুস্থতা বেড়ে যাওয়া আর সাধনামাসির সঙ্গে বাবার অদ্ভুত সম্পর্ক। মায়ের দূর সম্পর্কের বোন ছিল সাধনামাসি। ছোটবেলায় দেখতাম মাঝেমধ্যেই আমাদের বাড়ি আসত। আমার জন্য লজেন্স, বিস্কুট কখনও চানাচুর নিয়ে আসত। বাবার সঙ্গে গল্প করত মায়ের থেকে বেশি। মা প্রথম দিকে কিছু না বললেও পরের দিকে মুখ গম্ভীর করে থাকত। আমি মা-র সঙ্গে তখন কোনও কথা বলতে গেলে আমাকেও অকারণ ঝাঁঝিয়ে উঠত। তখন খুব রাগ হত আমার মাসির ওপর। আমি বুঝতে পারতাম ও বাড়িতে এসে বাবার সঙ্গে কথা বলছে বলেই আমাকে বকা খেতে হচ্ছে।

     

    আরও দেখুন
    গল্প, কবিতা
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    ই-বই পড়ুন
    নতুন বই
    Books
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ

     

    মাসি একটা অদ্ভুত রকমের কাজ করত। কলকাতার অফিসে গিয়ে গিয়ে টেলিফোন মোছার কাজ। বেশ কয়েকটা অফিস ধরা ছিল মাসির। প্রত্যেক জায়গায় সপ্তাহে একদিন করে। মাসে কোথাও তিনশো। কোথাও দুশো। সব মিলিয়ে পনেরোশোর মতো হত। সারা বছর ভোর চোরটেয় উঠত মাসি। সাড়ে পাঁচটার ট্রেন ধরত। রাত্তিরে শুতে শুতে সাড়ে এগারোটা থেকে বারো। এক বার জিগ্যেস করেছিলাম, ‘মাসি, তুমি বিয়ে করোনি কেন?’

    শত কোঁচকানো চামড়ায় ঢাকা তোবড়ানো গালের ভেতর থেকে ভাঙাচোরা দাঁত বার করে হেসে মাসি বলেছিল, ‘আমি বিয়ে করলে ও-দুটোকে কে দেখত?’

    মাসির ভাই একটা চাউমিন ফ্যাক্টরিতে কাজ করত। অ্যাজমার রোগ ছিল ছেলেটার। সে মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের বউ আর ছেলেকে টানত মাসি। আজীবন। নি:শব্দে। কথাগুলো বলার সময় মাসির চিবুক বেয়ে টুপটুপ আলো ঝরে পড়ছিল। এত আলো!

    আমি বুঝতাম বাবার সঙ্গে সাধনামাসির কোনওদিনই কোনওরকম শারীরিক যোগাযোগ নেই। বুকের বদলে মাসির কণ্ঠার হাড় উঁচু হয়ে থাকত। খনখনে মৃদু গলা। প্যাঁকাটি হাতে সেফটিপিন ঝোলানো দুটো চুড়ি আমার আজও মনে আছে। আর মাসির সেই ছেঁড়া ফাটা, জীর্ণ কালো ব্যাগটা, যার মধ্যে রাখত স্পিরিট, তুলো, ন্যাকড়া, কলিন—কাজের জিনিসপত্র। আমি বোতল খুলে স্পিরিটের গন্ধ শুঁকতাম। হাতে লাগাতাম। ঠান্ডা লাগত। বাবা দেখতে পেলে ধমক লাগাত—’অ্যাই, ছিপি বন্ধ কর।’ মাসি বলত, ‘আহা, বকছ কেন ওকে, থাক না।’

     

    আরও দেখুন
    রেসিপি বই
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বইয়ের
    বাংলা বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    গ্রন্থাগার
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বুক শেল্ফ

     

    আমার মায়ের মৃগী ছিল। হঠাৎ হঠাৎ দেখতাম দাঁতে দাঁত লেগে শুয়ে পড়ে ঠকঠক করে কাঁপত। ভীষণ ভয় করত দেখে। বাবা তখন মায়ের মুখে চামচ ঢুকিয়ে, পায়ে চাবি ঘষে, কখনও জুতোর গন্ধ শুঁকিয়ে ঠিক করত। একদিন মা দুম করে মরে গেল, দুপুরে একা পুকুরে চান করতে গিয়ে। হঠাৎ করে রোগটা চেপে বসেছিল। মা তখন জলের মধ্যে। বাবা কখনও মাকে পুকুরে চান করতে দিত না। মা-ও যায়নি কোনওদিন। সেদিন হঠাৎ একা একা কেন গিয়েছিল কে জানে! জলের ওপর উপুড় হয়ে মায়ের ভেসে থাকা শরীর আমি কতদিন স্বপ্নে দেখে ভয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরেছি। আমার মা আজীবন কী চেয়েছিল বাবার কাছে? আমার কাছে? কে জানে। মা সেদিন হঠাৎ পুকুরে চান করতে গিয়েছিল কেন তাও জানি না। মা মারা যাওয়ার পর সাধনামাসি আর ঠিক একদিন এসেছিল আমাদের বাড়িতে। আমার তখন ধড়া নেওয়া, অশৌচ। আর কোনওদিন আসেনি। স্টেশন-বাজারে একদিন সন্ধেবেলা বাবা আর সাধনামাসিকে মাছ কিনতে দেখেছিলাম। কাটাপোনা, বাবা খেতে ভালোবাসত। কার জন্য কে কিনছিল দেখতে ইচ্ছে হওয়ার আগেই সরে গিয়েছিলাম ওখান থেকে। কে যে কাকে কীভাবে চায়? আমাদের পাশের পাড়ায় বাড়ি ছিল মাসির। আমি জানতাম বাবা মাঝেমধ্যে যেত ওদের বাড়িতে। আমার ভালো লাগত। দুটো একলা মানুষ এত তীব্র অথচ নিষ্পৃহভাবে পরস্পরের কাছে থাকত দেখে ভীষণ ভালো লাগত আমার। অথচ আমি আর কৃষ্ণা কখনও এভাবে থাকতে পারিনি। কৃষ্ণার শরীর আমার কাছে মুক্তির মতো ছিল। জংলি গাছের মতো ওর গায়ের গন্ধে আমি অবশ হয়ে পড়তাম। এত আদিমতা, এত অরণ্য ছিল ওর শরীর জুড়ে। সময়ের পর সময় পার করে আমি খুঁজে যেতাম ওর উৎসকে। আমার পাগলামো দেখে ও হাসত। বলত, ‘এত কী খোঁজো বলো তো, সবই তো চেনা তোমার।’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    রেসিপি বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা অডিওবুক
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    কৌতুক সংগ্রহ
    লাইব্রেরি
    ডিজিটাল বই
    বুক শেল্ফ
    বইয়ের তালিকা

     

    ‘জানি না।’

    ‘পাগল কোথাকার!’

    সত্যিই…কী যে খুঁজতাম? স্তন, বাহুমূল, নাভি, ওর শরীরের প্রতিটি রোম আমার চেনা ছিল তবু কীই যে…কেন যে! শুধু কি আমিই? আমার শীর্ণ খোলা শরীরটায় কৃষ্ণা নরম আঙুলের ছোঁয়া রেখে বলত ফিসফিস করে, ‘তোমার শরীর বুদ্ধের মতো। এত সুন্দর রেখা, যেন চুঁইয়ে পড়ে।’ ওর কথায় আমি সত্যি সত্যি ঈশ্বর হয়ে উঠতাম তখন। কোনও নারী কোনও পুরুষকে বুদ্ধের শরীরের সঙ্গে…নিজেকে আকাশ মনে হত আমার। কৃষ্ণা ভালোবাসত আমাকে, আমার আঁকা ছবিগুলোকে। ছোটবেলা থেকে একটা ভালো পেনসিল, রং কিংবা কাগজ না পাওয়া সত্বেও দুর্ভাগ্যজনভাবে আমি ভালো ছবি আঁকতে পারতাম।

    রাজনীতি করত কৃষ্ণা। বোমা-বন্দুকের রাজনীতি, যে আঙুল ছুঁয়ে আমাকে ও ঈশ্বর করে দিত সেই আঙুলেই পিস্তলের ট্রিগার ধরত। অবাক লাগত আমার। বলতাম, ‘কী করে পারো তুমি?’

     

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    ডিজিটাল বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    গ্রন্থাগার
    বই
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম

     

    উত্তরে ও শুধু হাসত। আমি বলতাম, ‘তোমার সত্যি কি মনে হয় এই ভাবে সমাজ বদলানো যাবে?’

    ‘চেষ্টা করতে ক্ষতি কী?’

    ‘ক্ষতি চেষ্টার নয়, তোমার।’

    ‘তুমি কাওয়ার্ড।’ আমার চোখে চোখ রেখে বলেছিল ও।

    ‘শুধু আমি নয়। আমরা সবাই কাওয়ার্ড। সবাই ভয় পেয়ে বেঁচে আছি। পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমি ছবি আঁকছি, তুমি বন্দুক ধরছ। আমার বাবা সাধনামাসির কাছে যাচ্ছে। এই সব কিছু আসলে ভয়েতে। পালানোর জন্য।’

    ‘এগুলোকে পালানো বলে না।’

    ‘হ্যাঁ, বলে।’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    অনলাইন বুকস্টোর
    বই ডাউনলোড
    নতুন বই
    ডিজিটাল বই
    ই-বই পড়ুন
    রেসিপি বই
    পিডিএফ
    বাইশে শ্রাবণ
    অনলাইনে বই

     

    ‘বেশ। তুমি যেভাবে ভাবতে চাও।’

    ‘আমার সঙ্গে থাকবে কৃষ্ণা?’

    ‘আমি কি তোমার সঙ্গে নেই।’

    ‘আছো—ও, প্রতি মুহূর্তের জন্য চাই তোমাকে। বিয়ে করবে আমায়?’

    ‘…না।’

    ‘কেন নয়?’

    ‘…ভয় করে আমার।’

    ‘ভয়! কীসের?’

     

    আরও দেখুন
    ডিজিটাল বই
    PDF
    ই-বই পড়ুন
    Library
    নতুন বই
    বই ডাউনলোড
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বইয়ের তালিকা

     

    ‘জানি না…ঠিক জানি না…কিন্তু…’

    ‘ব্যাগের ভেতর পিস্তল রাখতে ভয় করে না। পুলিশের তাড়া খেয়ে দৌড়োতে ভয় করে না?

    ‘এগুলো আমাকে করতেই হবে। আমার যে আর কিছু জানা নেই। আর কিছু পারি না।’ কৃষ্ণার অবস্থাও প্রায় আমার মতোই ছিল। বাবা নেই। ভাই জন্ম থেকে পঙ্গু, মা আলসারের রুগি, পার্টি থেকে হাজার দেড়েক টাকা পেত। ওতেই সংসার চালাত।

    ‘পেটের দায়ে সমাজ সংস্কার করো তুমি! সোশ্যাল রিফর্মারের চাকরি। ছি:! লজ্জা করে না তোমার।’

    ‘না করে না। বাঁচতে লজ্জা করে না আমার।’

    এর পরেও আমাদের দেখা হত। আমরা কখনও গাদিয়াড়া গেছি। কখনও দিঘা। একবার রিম্বিক। মনে আছে, জঙ্গলের ভেতর বিশাল একটা গাছের গায়ে জমে থাকা শ্যাওলায় আলতোভাবে আঙুল রেখে চোখ বুজে ফেলেছিল কৃষ্ণা। আশ্লেষে। আমি স্পষ্ট দেখেছিলাম গাছ নয়, বিরাট এক পুরুষের চওড়া বুকের রোমে আঙুল ছুঁয়ে রেখেছিল ওই মেয়ে। চোখ বুজে থিরথির করে কাঁপছিল তখনও। পরে আমি সেই ছবি আঁকতে চেষ্টা করেছিলাম বারবার। পারিনি। কেন পারিনি, জানি না। একটুও পারিনি…। কী যেন নাম ছিল ছেলেটার—সৈকত। কৃষ্ণার সঙ্গে রাজনীতি করত। সুন্দর চেহারাটার মতো কথাও বলত সুন্দর। কৃষ্ণাই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল একদিন আমার সঙ্গে। ডাক্তারি পড়তে পড়তে ছেড়ে দিয়ে জঙ্গি রাজনীতি করতে চলে এসেছিল বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে। সুখের জীবনযাপন, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ—সব কিছু ছেড়ে দিয়ে কৃষ্ণার মতোই লুকোনো, পালানো জীবন বেছে নিয়েছিল। কার যে কোন জীবন ভালো লাগে? কে যে কেমনভাবে ঠিক বাঁচতে চায়?—এত কঠিন…পুরোনো সব কথাগুলোর মতো হারিয়ে গিয়েছিলাম আমি। সম্বিৎ ফিরতে দেখি বাবা চিৎ হয়ে শুয়ে থেকেই পায়ের ওপর পা তুলে খবরের কাগজ পড়ছে। চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমাটা। পাশে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ। মুখে দামি লম্বা সিগারেট। সুখী সুখী দেখতে লাগছে বাবাকে। এখন বাবার বুক জ্বলছে। পেটের পর থেকে নীচের বাকিটুকু নেই। সব পুড়ে খাক। নিজের দিকে তাকালাম আমি। আমারও তাই। বুকের কাছে আগুন। ডাকলাম ‘বাবা।’

     

    আরও দেখুন
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    নতুন বই
    বাংলা সাহিত্য
    গল্প, কবিতা

     

    বাবা মুখ ফেরাল। সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়লাম, ‘তুমি কি সাধনামাসিকে ভালোবাসতে?’

    বাবা কি শুনতে পেল না? আমার দিকে তাকিয়ে রইল শুধু। আমি আরও জোরে বললাম কথাটা। আরও জোরে—দু-তিনবার। বাবা চুপ থাকল তবু। সারাজীবন চুপ থাকলে কেন?—একটা কথার উত্তর দিতেও ভয় করে? অ্যাঁ, ভয় করে? কাপুরুষ। বলতে পারো না, হ্যাঁ ভালোবাসতাম। মিথ্যেই না হয় বলতে। সেটুকু সাহসও নেই? আমি কিছু জানি না, কিছু দেখেনি ভেবেছ? একদিন বিকেলে, মা তখন ঘরে ছিল না, সাধনামাসি আমাদের ঘরে কাঁদতে কাঁদতে তোমাকে বলেছিল, ‘আমি জ্বলেপুড়ে শেষ হয়ে গেলাম সুকুদা।’ মাসিকে সেই প্রথম কাঁদতে দেখেছিলাম আমি। তুমি তখন ওর শিরা ওঠা হাতের ওপর হাত রাখোনি? আমি স্পষ্ট দেখেছিলাম, খোঁচা খোঁচা শুকনো কাঁচা-পাকা দাড়ির ভেতর তোমার চিবুক কেঁপে উঠেছিল।…কথাগুলো বলতে পারলাম না। এতটা তুচ্ছ সামান্য মানুষের পরম গোপনীয় মুহূর্তটুকু চিৎকার করে উলঙ্গ করে দিতে ইচ্ছে করল না। উলটে প্রশ্ন করলাম, ‘তুমি বললে না তো কেন এসেছ এখানে? কীভাবে?’ বাবা আমার প্রশ্নে ঠোঁট নাড়াল। কথাগুলো কানে না পৌঁছোলেও বুঝতে পারলাম বাবাও আমাকে একই প্রশ্ন জিগ্যেস করছে।

     

    আরও দেখুন
    বই পড়ুন
    ডিজিটাল বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    গল্প, কবিতা
    স্বাস্থ্য টিপস
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বইয়ের

     

    ‘আমি ভেবেছিলাম না পাওয়াগুলো মানুষের বোধহয় একসময় অভ্যাস হয়ে যায়। যায় না। কিচ্ছু অভ্যাস হয় না আসলে। শুনতে পাচ্ছ? হয় না। কোনওদিন হয় না। আজীবন ধরে…’ আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই বাবা ওপাশ ফিরল। আমি চিৎকার করে উঠলাম, ‘তুমি এখনও এভাবে পিছন ফিরতে পারো না। আমার কথাগুলো শুনতে তুমি বাধ্য। আমার এই অবস্থার জন্য তোমারও কিছু কৈফিয়ত দেওয়া উচিত।’ কথাগুলো বলতে বলতেই আগুন আমার বাঁ-চোখ ছুঁল, ফটাস করে ফেটে গেল চোখটা। একটা চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাথাটা গরম হয়ে গেল আমার। জোর গলায় বললাম, ‘আর্ট কলেজে পড়তে পারিনি তোমার কথা ভেবে। টিউশন করে যেটুকু রোজগার করতাম তার প্রায় সবটাই দিয়ে দিতে হত সংসারে। কোনওদিন এতটুকু খোঁজ নিয়েছিলে, আমার কী চাই? তুমি কি এটুকুও জানতে কাল আমার বত্রিশ বছর পূর্ণ হয়েছিল। জন্মদিন ছিল আমার। কাল কতদিন পরে সারাদিন ধরে একটা ছবি এঁকেছিলাম আমি। কার ছবি জানো? সাধনামাসির। ওর মুখটা হঠাৎ কেন আঁকলাম জানি না। সাধনামাসি এখন কোথায় বলতে পারো? পেটে ক্যানসার ধরা পড়ার পর একদিন কাউকে কিছু না বলে কোথায় যে চলে গেল মাসি, কেন পালিয়ে গিয়েছিল, বাবা? মাসি তো পালিয়ে যাওয়ার মানুষ ছিল না। জানো না তুমি? মাসির ভাইয়ের বউ এখন ক’বাড়ির রান্নার কাজ করে। ছেলেটা ক্লাস এইট। ও যখন খুব ছোট, মাসি আমাকে বলেছিল, ‘জানিস, বাবুটার পড়াশুনোয় মাথা খুব ভালো। কী বলে শুনবি, বলে বড় হয়ে নাকি ইঞ্জিন হবে। মানে বুঝলি…ইঞ্জিনিয়র’ বলে মাসির সেদিনের হি-হি করে হাসি আমার আজও মনে আছে। কোথায় চলে গিয়েছিল বাবা, সত্যি কি জানতে না তুমি? কেন শেষপর্যন্ত পালিয়ে গিয়েছিল একটুও জানতে না? তাহলে মাসির চলে যাওয়ার পরেও, তোমাদের এতদিনের সম্পর্কের পরেও তোমার মনে এতটুকু দাগ কাটল না! তুমিও কি ভয় পেয়েছিলে? কীসের? একেকদিন ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করত মাসিকে। কোনওদিন বলিনি তোমাকে। কারণ জানতাম তোমাকে কিছু বলে কোনও কোনও লাভ নেই। তুমি কিচ্ছু পারো না। কিস্যু না। দিতেও না। নিতেও না। শুধু পালাতে আর না পারতে আর পেতে শিখেছিলাম তোমার কাছে। বাড়িতে যতটুকু সময় থাকতাম, দেখতাম কী একটা পরলোকতত্বের বই খুলে তুমি বসে আছ। তখন ভীষণ ঘেন্না হত তোমার ওপর। একটা গুটিয়ে যাওয়া কেন্নোর মতো মনে হত তোমাকে। ইচ্ছে হত কৃষ্ণার কাছ থেকে পিস্তলটা নিয়ে এসে তোমার হাতে গুঁজে দিয়ে বলি কিছু একটা করো, যা হোক কিছু। কোথাও পালিয়ে যাওয়া যায় না বাবা। কোনও জায়গা নেই। আমি অন্তত এটুকু বুঝেছিলাম, তুমি বোঝোনি। শুধু দৌড়ে বেড়ালে। ঘরে চুরি করতে আসা বেড়ালটাকে জানালা-দরজা সব বন্ধ করে দিয়ে তাড়া করলে ওটা যেমন দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে এলোপাথাড়ি ছোটাছুটি করতে থাকে, ঠিক তেমনিভাবে ছুটেছ তুমি। জীবনভর। এই উদাহরণটা অবশ্য আমার বানানো নয়। অংশু একদিন আমাকে মানুষ প্রসঙ্গে কথাটা বলেছিল। ও আপ্রাণ সরকারি চাকরির চেষ্টা করত। দিনরাত এক করে খাতা-বইয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকত। একটার পর একটা পরীক্ষা দিত। আমিও কিছুদিন পড়াশোনা করেছিলাম ওর সঙ্গে। ও পেয়ে গেল। আমি পাইনি। রাইটার্সে চাকরি করে এখন। পরশু বিকেলেও দেখা হয়েছিল ওর সঙ্গে। দোকানে নিয়ে গিয়ে এগরোল খাওয়াল জোর করে। তারপর চা খেয়ে পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বার করে নিজে একটা ধরিয়ে আরেকটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বেশ লাজুক গলায় বলল সামনের মাসে বিয়ে করছে। বর্ধমানের মেয়ে। আমাকে নাকি দু-দিন আগে থাকতেই হবে।…আরও কত কিছু বলে যাচ্ছিল গলগল করে। বিশ্বাস করো বাবা ওর মুখ দেখে আমি ভেবেছিলাম প্রচণ্ড হিংসা হবে আমার। জ্বলেপুড়ে যাব। স্যাঁতসেঁতে ড্যাম্প খাওয়া দেওয়ালের মতো। সেদিন সত্যি সত্যি আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সব কিছু হারিয়ে যাচ্ছিল আমার। হিংসাটুকুও…। অনেকক্ষণ ওপাশ ফিরে রয়েছ তুমি। তুমি কি ঘুমোচ্ছ? আমি জানি, তুমি ঘুমোচ্ছ না। আমার প্রতিটা কথা প্রতিটা শব্দ শুনছ। আজীবন যেভাবে না শোনার ভান করে উদাসীন সেজে শুনে গেছ সবার কথা। রাগের, দু:খের, ভালোবাসার, আনন্দের সব কথার একই অভিব্যক্তি ছিল তোমার মুখে। ‘একবার আমার দিকে ফিরবে?—প্লিজ! কিছু বলবে আমাকে?—বাবা…’ কথাটা শেষ করতেই আমার গলায় আগুন ধরল। পাশ ফিরল বাবা, ঠোঁটে আগুন জ্বলছে। বাবা কথা বলার জন্য সামান্য হাঁ করতেই ভলকে ভলকে মুখের ভেতর থেকে আগুন বেরোতে থাকল শুধু। কিছু শুনতে পেলাম না আমি।

     

    আরও দেখুন
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    লেখকের বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বইয়ের
    বইয়ের
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    ডিজিটাল বই
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ

     

    ‘আর একটু জোরে বলবে তুমি? আর একটু…’

    বাবা বলতে গেল প্রাণপণ। শুধু গলগল করে আগুন। বাবার দুটো চোখই ফট করে জ্বলে গেল একসঙ্গে।

    ‘কী হল বলো? কেন বলতে পারো না তুমি? বলো’—চিৎকার করে উঠলাম। দুটো চোখের কোটর দিয়ে, গলা দিয়ে আগুন বেরিয়ে আসছে। দুহাতে আগুনটা চেপে ধরে মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিল বাবা। তারপর হাতে তুলে ধরল একটা কাগজ। আমি কাগজটার দিকে তাকালাম। বিচ্ছিরিভাবে খাতা থেকে ছেঁড়া রুলটানা কাগজটায় আঁকাবাঁকা হাতে লেখা—’আমার আর কোনও উপায় ছিল না সুকুদা। বিশ্বাস করো। ওদের সামনে মরে যেতে আমার লজ্জা করত।’

    সাধনামাসি, তুমিও। তুমিও ভয় পেতে?—এসব তুমি এতদিন পরে কেন দেখাচ্ছ আমাকে?…আচ্ছা বাবা, তুমি আমাকেও ভালোবাসতে, না? আমি জানি বাসতে। মা যখন রেগে গিয়ে আমার ছবি আঁকার কাগজ, রং, তুলি সব ছুড়ে বাইরে ফেলে দিত তখন পরে সবার আড়ালে তুমি ওগুলো যত্ন করে কুড়িয়ে আবার তুলে রাখতে। আমি দেখেছি। তুমি মাকেও ভালোবাসতে, না? ভালোবাসতে এত ভয় করে কেন বলতে পারো?

    জানো কৃষ্ণা কনসিভ করেছিল। একদিন দেখা হয়েছিল ওর সঙ্গে। আমি জানতাম বাচ্চাটা নিশ্চয়ই সৈকতের। বিয়ে না করে মা হওয়ায় পার্টির ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলে ওকে বার করে দেওয়া হয়েছিল। আমি জানতাম কৃষ্ণা কিছুতেই পার্টির কাছে সৈকতের নাম বলেনি। ওকে আমি চিনি। আমার কাছেও বলেনি নামটা। আমিও জিগ্যেস করিনি। ওর সুন্দর চোখদুটো আরও সুন্দর লাগছিল সেদিন। বাঘ-সিংহ খেলনা বানানোর একটা কারখানায় কাজ পেয়েছিল ও। কৃষ্ণা চলে যাওয়ার পরেও আমি ওখানটায় একা চুপচাপ দাঁড়িয়েছিলাম অনেকক্ষণ। হাওয়া দিয়েছিল খুব। হাওয়াতে সত্যি সত্যি দুধের গন্ধ ছিল তখন।

    …আমার এইটার ভেতরে কতক্ষণ হল আছি? এক ঘণ্টা? আরও বেশি? পুরোটা কেন ছাই হচ্ছি না বাবা? ওই তো তোমার হাত-পা-পেট-বুক সব পুড়ে খাক। আমারও। শুধু মাথাটা…ওহ মাথাটা যে কখন…শুধু তুমি আর আমি কেন? আর কেউ নেই? তুমি কীভাবে এলে বললে না তো। বলবে না। আচ্ছা থাক। লজ্জা পাচ্ছ বলতে। ‘জানো বাবা, ট্রেনটা যখন আমার খুব কাছে চলে এসেছিল, যখন আমার আর সরে যাওয়ার উপায় নেই, তখন একমুহূর্তের জন্য ভীষণ বাঁচতে ইচ্ছে করেছিল আমার। সত্যি সত্যি। শা…ল লা হ! তোমারও তাই হয়েছিল কি? বলো না, হয়েছিল? নিশ্চয়ই হয়েছিল। অথচ জানো তার একটু আগে পর্যন্তও মরতে একটুও রাগ হয়নি আমার। তোমার?’—কথাগুলো বলতে বলতেই দেখলাম বাবার মাথাভর্তি আগুন ভরে গেছে। দাউদাউ করে জ্বলছে মাথা। আমারও জ্বলছে। অদ্ভুত শব্দ হচ্ছে আগুনের। অনেকটা ঝিঁঝির মতো। ঘিলু-শিরা-উপশিরা সব কিছু ধকধক করে জ্বলে উঠে আমার খুলিটা ফটাস করে ফেটে যাওয়ার শব্দে হতেই ধড়মড় করে আমি উঠে বসলাম বিছানায়। ঘেমে স্নান করে গেছি। চোখ খুলে দেখলাম আমাদের টিনের চালের ছোট্ট গুমটি ঘরটার মাঝখানে চৌকিতে বসে আছি আমি। একটা স্বপ্নে রাত ভোর হয়ে এসেছে। ছোট জানলার পরদা সরিয়ে ভোরের প্রথম আলো আর মিহি ঠান্ডা হাওয়া ঢুকছে ঘরের ভেতর। আমি পাশে তাকালাম। বাবা শিশুর মতো ঘুমোচ্ছে। বিছানা ছেড়ে সন্তর্পণে উঠতে যাচ্ছি শুনতে পেলাম পিছন থেকে বাবা ঘুমজড়ানো অলস গলায় বলে উঠল তোর পিঠে ছাইয়ের গুঁড়ো লেগে রয়েছে মুছে নিস।’

    আমার সময়

    জুলাই, ২০০৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল
    Next Article রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    Related Articles

    বিনোদ ঘোষাল

    রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    বিনোদ ঘোষাল

    কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }