Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ডানাওলা মানুষ – বিনোদ ঘোষাল

    বিনোদ ঘোষাল এক পাতা গল্প253 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ডানা

    ‘গত জানুয়ারিতে এবারের থেকে আরও বেশি ঠান্ডা ছিল, না?’ জিগ্যেস করল অনুষ্কা। নিজের হাতের তালুদুটো খুব করে ঘষে নিয়ে কৃষ্ণেন্দু সিগারেট বার করে ঠোঁটে নিল। দেশলাই জ্বালাতে গিয়ে দু-তিনবার ফসকাল। ঠান্ডায় ওর আঙুলগুলো কাঁপছে তিরতির করে। চোয়ালের অবস্থাও তাই। সিগারেটে আগুন দিয়ে একরাশ ধোঁয়া ছেড়ে বলল, ‘কী বলছ গো! আমার তো আগের বারের চেয়ে এবার আরও বেশি ঠান্ডা মনে হচ্ছে। হ্যান্ড গ্ল্যাভস দুটো কেন যে আনলাম না।’

    ‘ধুস! গতবার মনে আছে প্রায় হাঁটু অব্দি বরফ হয়ে গিয়েছিল হোটেলের সামনে। সারারাত স্নো ফল হল মনে নেই? এবার তো বরফই নেই।’

    ‘আরে ম্যাডাম বরফ পড়লে ঠান্ডা একটু কম হয় জানো না? বরং এই হাড়ে খটখটি লাগিয়ে দেওয়া হাওয়াটাই অবস্থা টাইট করে দেয়।’ গায়ে চাপানো দুটো সোয়েটারের ওপর লেদার জ্যাকেট, কানঢাকা ক্যাপ, গলায় প্যাঁচানো মাফলার—এসব কিছুর পরেও ঠকঠক করে কাঁপছে কৃষ্ণেন্দু।

    ‘তুমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছ।’ বলে হি হি করে হাসল অনুষ্কা! মুখ থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। ভোর হচ্ছে সান্দাকফুতে। ওরা দুজন সূর্যোদয়ের জন্য দাঁড়িয়ে। ওদের মতো আরও বেশি কিছু উৎসাহী চোখ পুবের আকাশে মেলে রাখা। প্রথমে পাহাড়ের কোলে জমে থাকা সারারাত ধরে ঘুমোনো মেঘ জেগে উঠে ওপরে আসতে থাকল একটু একটু করে। উঁকি দেওয়া মাত্র সূর্যের আলোর ঝলমল করে উঠল সেই মেঘ। রামধনুর রং খেলতে শুরু করল চোখের সামনে। তারপর যত একটু একটু করে সূর্য জাগল, আলোর পাগলামো চলল বেড়ে। এত রূপ! এত রং! মুগ্ধ হয়ে গেল দুজন। অনুষ্কার গলায় ঝোলানো ক্যামেরা গলাতেই ঝুলে থাকল। কৃষ্ণেন্দু ফিসফিস করে বলে উঠল ‘স্রেফ এই মুহূর্তটুকুর পর আমি মরে যেতেও রাজি।’ সামনে আকাশজোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা। তারপর কুম্ভকর্ণ, থ্রি সিস্টার থেকে খুব ছোট এভারেস্ট পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। পাশ থেকে একজন বলে উঠল, ‘উহ, কী কপাল আজকে!’

    ‘নিজেকে দেবতা মনে হয় এখন। না?’ কৃষ্ণেন্দু জিগ্যেস করল।

    অনুষ্কা অস্ফুটে বলল, ‘হুঁ।’ ঝকঝকে রোদ্দুরের সকাল হওয়া অব্দি নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল ওরা। তারপর কৃষ্ণেন্দু বলল, ‘চলো ফিরি।’

     

    আরও দেখুন
    ডিজিটাল বই
    কৌতুক সংগ্রহ
    PDF
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বই ডাউনলোড
    গল্প, কবিতা
    লাইব্রেরি
    Books

     

    ‘তোমার যে কোনটা প্রিয় আজও কিন্তু বললে না অনুষ্কা।’ সি বিচে বালিতে পা ছড়িয়ে বসে সন্ধেবেলা জিগ্যেস করল কৃষ্ণেন্দু।

    ‘কোনটা মানে?’

    ‘মানে সমুদ্র না পাহাড়?’

    ‘তোমার?’

    ‘উঁ…উঁ পরে বলছি, আগে তুমি বলো।’

    ‘পারব না বলতে।’

    ‘কেন?’

     

    আরও দেখুন
    বইয়ের
    ডিজিটাল বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    পিডিএফ
    বই পড়ুন
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    Books

     

    ‘সমুদ্র আমার হৃদয়।’

    ‘আর পাহাড় তোমার হৃদয়ের ওপরে অবস্থিত।’

    ‘এই, অসভ্যতা হচ্ছে।’ কপট রাগ দেখাল অনুষ্কা। তারপর সমুদ্রে চোখ ভাসিয়ে দিয়ে বলল, ‘হয়তো কথাটা ঠিকই বলেছ। পাহাড় আমার বুক…আর তোমার কে বেশি প্রিয় বলো?’

    ‘আমার তো সমুদ্র হল মন আর পাহাড় প্রাণ।’

    আলতো হাসল দুজনে। নোনা জলে ভেজা বালিতে রাখা হাতে হাত ছুঁল।

    ‘শূন্যতা তোমার খুব ভালো লাগে কৃষ্ণেন্দু?’

    ‘কোন শূন্যতার কথা বলছ?’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    বইয়ের তালিকা
    বইয়ের
    বাংলা কৌতুক বই
    লেখকের বই
    ই-বই পড়ুন
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    ডিকশনারি
    রেসিপি বই
    অনলাইনে বই

     

    ‘মানে, শূন্যতা আবার ক’রকমের হয়?’

    ‘শূন্যই তো পূর্ণ।’

    ‘বাব্বাহ, তুমি আবার এত ভারী ভারী কথা শিখলে কবে?’

    ‘আমার কথা নয়, উপনিষদের।’

    ‘আজকাল ওসব চর্চাও চলছে না কি?’

    ‘না-নাহ।’

    ‘এর আগের বার যখন মরুভূমিতে এসেছিলাম কীরকম ঝড়ের মুখে পড়তে হয়েছিল মনে পড়ে?’

    ‘পড়ে না আবার! বাপরে! এমন শান্ত হঠাৎ যে ওইরকম ভয়ংকর হয়ে উঠবে ভাবাই যায় না।’ বলতে বলতে অনুষ্কা তাকাল কৃষ্ণেন্দুর মুখের দিকে। পড়ন্ত বিকেলের আলো কৃষ্ণেন্দুর গোটা শরীর জুড়ে ছড়িয়ে। কী সুন্দর দেখতে লাগছে ওকে। সোনার জলে স্নান করছে গোটা পৃথিবী। কৃষ্ণেন্দু বলল, ‘প্রকৃতির প্রত্যেকটা রূপের একেকরকম সুর আছে, না? এই ধরো যখন পাহাড়ে যাই কিংবা কোনও ঝরনার পাশে, স্পষ্ট সন্তুর শুনতে পাই আমি, জঙ্গলে অদ্ভুত এক দ্রিমদ্রিম মাদল।’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    Books
    কৌতুক সংগ্রহ
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বুক শেল্ফ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    ডিকশনারি
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা সাহিত্য

     

    ‘এখন কী শুনতে পাচ্ছ?’

    ‘সারেঙ্গি। সুলতান খান বাজাচ্ছেন। চোখ বুজে শোনো একবার।’

    চোখ বুজে থাকল দুজনেই। আদিগন্ত বিস্তৃত আঁচড়কাটা বালির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়ার শোঁ শোঁ শব্দের মধ্যে সত্যি সত্যি যেন সারেঙ্গির ছড় টানার শব্দ। বুকে আঁচড়কাটা সুর ভেসে আসছে। দুজনে অনেকক্ষণ চোখ বুজে শোনার পর অনুষ্কা বলল ‘আজ পূর্ণিমা।’

    ‘মরুভূমিতে পূর্ণিমা আজ প্রথম দেখব। আবার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। সহ্য করতে পারব তো কৃষ্ণেন্দু?’ কথা বলতে বলতে সূর্য ঢলছিল। অন্ধকার চুঁইয়ে নামছিল। একটু একটু করে। ‘…পারব তো কৃষ্ণেন্দু; এত সুন্দরকে সহ্য করতে?…পারব তো?’ কৃষ্ণেন্দুর হাত শক্ত করে চেপে ধরল অনুষ্কা।

    আচমকা ঘন অন্ধকার গোটা অফিস ফ্লোরে। লোডশেডিং। সামনে কম্পিউটারে স্ক্রিন সেভারের স্লাইড শোয়ে একটার পর একটা ভেসে ওঠা অ্যামেজিং নেচারস-এর সিনগুলো ডুবে গেল অন্ধকারে। সেই সঙ্গে রোজ সকাল ন’টা থেকে রাত ন’টা-দশটা পর্যন্ত সল্টলেকে একটা নামকরা এমএনসির ব্রাঞ্চ অফিসে খুব ভালো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মুখ থুবড়ে কাজ করা ছেলেমেয়ে দুটো রোজ আধ ঘণ্টার লাঞ্চ আওয়ারে একসঙ্গে স্বপ্ন-ঘোরাটুকুও তলিয়ে গেল এক অদ্ভুত শূন্য অন্ধকারের ভেতর।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বই পড়ুন
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    কৌতুক সংগ্রহ

     

    ‘বাহ, গেল!’ কৃষ্ণেন্দু বলল, অনুষ্কা তখনও চুপ। ঘোরের মধ্যে।

    ‘তোমাকে এখনও নতুন ইউপিএস দিয়ে যায়নি?’ অনুষ্কা উত্তর দিল না। গোটা ফ্লোর জুড়ে পিঁক পিঁক শব্দ।

    ওদের দুজনের এই খেলাটা প্রায় রোজই হয় লাঞ্চের সময়। কৃষ্ণেন্দুই শিখিয়েছিল একদিন। শিখিয়ে দিয়ে বলেছিল ‘দেখবে ক’দিন পর নেশা লেগে যাবে।’ প্রথম দিকে ভালো লাগত না অনুষ্কার। এ আবার কেমন ছেলেমানুষি অসম্ভবের খেলা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ। তারপর অফিসের গাড়িতে গা এলিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে এসে যাহোক কিছু একটা মুখে গুঁজে ঘুম। শনি-রবি দু-দিন ছুটি। এই ছিল সপ্তাহের রুটিন। কৃষ্ণেন্দু বলত ‘চলো না কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসা যায় দু-দিনে। বকখালি কিংবা গাদিয়াড়া।’ ইচ্ছে করত না অনুষ্কার। পাঁচ দিনের অক্লান্ত কাজের ক্লান্তি কাটানো আর আগামী সপ্তাহের পাঁচ দিনের কাজের এনার্জি সঞ্চয়ের জন্য এই দুটো দিন ধরে স্রেফ শুয়ে ঘুমিয়ে, টিভি দেখে, ম্যাগাজিনের পাতা উলটে কাটিয়ে দিত। কখনও বা শুধুই এলোমেলো ভাবনায়। কনভেন্ট স্কুলে এইচ এস। তারপর শ্রীরামপুর থেকে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করে প্রেসিডেন্সিতে বি এস সিতে অনার্স। পার্ট টু-র রেজাল্ট বেরোবার আগের দিন বাবা মারা গেল। স্ট্রোক। পেনশন হাফ। দাদা সদ্য বিয়ে করেছে। কিছুদিন পরেই বউদির প্লাক করা সুন্দর দুই ভুরুর মাঝখানে সামান্য ভাঁজ। চুপচাপ চাকরির চেষ্টায়। সেই সময়টা ভীষণ টাফ গেছে। ইন্টারভিউ ‘এক্সপিরিয়েন্স নেই?’ ‘কোনও কোর্স করেননি?’—’না-না-না’—ভেঙে যাচ্ছিল অনুষ্কা। তখন এক বন্ধু জানাল এই এমএনসিতে ফ্রেশার নিচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপ্লাই। স্মার্টনেস, ফ্লুয়েন্ট ইংলিশ, লেগে গেল চাকরিটা। প্রথম মাস কয়েক অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে প্রায়ই লাস্ট ট্রেন। স্টেশনে নেমে বাড়ি ফেরার রিকশা পাওয়া যেত না। যাও বা কোনওদিন জুটত, রিকশাওয়ালা মদে চুর। খুব রিস্ক। ভয় করত ভীষণ। অফিসে আর পাঁচজনের সঙ্গে পরিচয়ের মতোই আলাপ হয়েছিল কৃষ্ণেন্দুর সঙ্গে। প্রায় ছ’ফিটের মতো লম্বা। রোগাটে গড়ন। শ্যামলা রং। টিকালো নাক, ঘন চুল ব্যাক ব্র্যাশ করা। চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে কথা বলা যেত না। গা ঝিমঝিম করত কেমন যেন! হাতের আঙুলগুলো খুব লম্বা। পরিচয়ের ক’দিন পরেই মনে হয়েছিল বড় অদ্ভুত ছেলেটা! মুখে সবসময় ছেলেমানুষের হাসি জড়িয়ে। কথাও বলে খুব মজার মজার। ইংলিশ অ্যাকসেন্ট পিওর অক্সফোর্ড। কিন্তু শুধু প্রয়োজন ছাড়া স্রেফ বাংলা। অনুষ্কার জয়েনিংয়ের দ্বিতীয় দিনে নিজেই এসে পরিচয় করেছিল কৃষ্ণেন্দু। অনুষ্কা বারবারই ইনট্রোভার্ট। যত কথা শুধু ওর নিজের সঙ্গে। ছেলেটা কখন যে অনুষ্কার অলক্ষ্যেই ওর জড়তার জালগুলো একে একে ছিঁড়ে ফেলছিল টেরই পাইনি ও। কৃষ্ণেন্দু কাছে এলেই বুকের ভেতর গুমগুম শব্দে কান বন্ধ হয়ে যেত। কোনও কথাই শুনতে পেত না তখন। ছেলেটার প্রাণখোলা হাসিটাই তখন ঝুড়মুড় করে বৃষ্টি ঝরিয়ে ভিজিয়ে দিত বুক। যত ইচ্ছে করত কথা বলতে ততই মুখ আটকে যেত। খুব কঠিন বিষয়ে নিয়েও কৃষ্ণেন্দু মাঝেমধ্যে এমন সহজভাবে গল্পচ্ছলে আলোচনা করত যে মুগ্ধ হয়ে শুনত অনুষ্কা। আর শুনত ওর বেড়ানোর গল্প। স্রেফ একা একা এই বয়সেই প্রায় গোটা ভারত চষে ফেলেছে ছেলেটা। কত বিচিত্র অভিজ্ঞতা এক এক জায়গায়। একদিন তো অনুষ্কা জিগ্যেসই করে ফেলল, ‘এভাবে একা একা অচেনা জায়গায় চলে যান, ভয় করে না?’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা অডিওবুক
    বই ডাউনলোড
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

     

    ‘ভয়? হ্যাঁ, করে তো। আবার এই যানজট, ভিড়ে, দশ-বারো ঘণ্টা ননস্টপ ডিউটিতে ফিরে আসতে ভয় করে।’

    ‘ফেরেন কেন তা হলে?’ বোকার মতো প্রশ্নটা করে ফেলেই ওর মনে পড়ে গিয়েছিল কৃষ্ণেন্দুর রিটায়ার্ড বাবা, আলসারের মা আর অবিবাহিতা বোনের কথা।

    ‘সময় আসুক, একদিন আর ফিরব না, ঠিক ফিরব না,’ বলে অদ্ভুত হেসেছিল কৃষ্ণেন্দু।

    সঙ্গে সঙ্গে হা-হা করে হাসি আর একটা লাইন ‘জানি বন্ধু জানি তোমার আছে গো হাতখানি।’ তীব্র মনস্তাপেও হঠাৎ চমকে উঠেছিল অনুষ্কা। এক অচেনা অনুভূতিতে। হাত! আমার হাত! চুপ করে গিয়েছিল। আর পারেনি সেদিন কথা বলতে। কৃষ্ণেন্দু কিন্তু সেকথা বলার পরেও একইরকম স্বচ্ছন্দ। ওই একদিন বলল, ‘অনুষ্কা এভাবে রিস্ক নিয়ে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি পারবে না। এদিকেই কোনও লেডিস হোস্টেল বা বাড়ি ভাড়া-টাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা দেখো।’ হোস্টেলে সবার সঙ্গে অসম্ভব। কোম্পানির স্কেল বেশ ভালোই হওয়ায় উলটোডাঙায় একটা সিঙ্গল বেডরুমের ফ্ল্যাট কৃষ্ণেন্দুর চেষ্টায়। ধন্যবাদ দেওয়ার আর দরকার ছিল না। কেননা দুজনের সম্পর্কটা আর ততদিনে সহকর্মীর প্রতি সৌজন্যমূলক নেই। তবু মাঝেমধ্যে আচমকা বড্ড একা মনে হয় অনুষ্কার। মা কখনও-সখনও এসে থেকে যায় কয়েকদিন। অনুষ্কার ইচ্ছে ছিল মাকে ওর নিজের কাছেই নিয়ে এসে রাখবে। মা-ও মোটামুটি রাজি ছিল। কিন্তু দাদার অনিচ্ছায় হয়ে ওঠেনি। একা একা মাঝেমধ্যে বড় ভয় লাগে। শরীর জুড়ে অস্বস্তি। কৃষ্ণেন্দু ওকে বোঝে। বলে, ‘ক’দিন বাড়ি গিয়ে রেস্ট নাও।’

     

    আরও দেখুন
    ই-বই পড়ুন
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    গল্প, কবিতা
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা অডিওবুক
    গ্রন্থাগার

     

    ‘না, না!’

    ‘তাহলে এমনিই ছুটি নিয়ে থাকো ক’দিন। ইদানীং প্রচুর লোড নিয়ে ফেলছ।’

    ভালো পারফরম্যান্সের জন্য অফিসে অনুষ্কার এরমধ্যেই যথেষ্ট সুনাম।

    ‘ওই দুটো ঘরের মধ্যে সারাদিন একা একা—অসম্ভব!’ প্রায় আঁতকে উঠেছিল অনুষ্কা।

    ‘তাহলে আমি গিয়ে থাকব তোমার সঙ্গে?’

    ‘যাবে?’

    ‘আপত্তি নেই।’ স্মার্ট উত্তর কৃষ্ণেন্দুর।

    একাকীত্ব কি এতটাই ভয়ের যে বাকি সমস্ত ভয় ভুলিয়ে দিতে পারে?’

     

     

    ‘শুধু অফিস আর বাড়ি, বাড়ি আর অফিস কী করে পারো বলো তো?’

    ‘উপায় নেই!’

    ‘উপায় নেই, না কি ইচ্ছে নেই?’

    ‘অনেক সময় উপায়ই তো ইচ্ছে তৈরি করে।’ কিন্তু কৃষ্ণেন্দুর শেখানো এই খেলাটা…এই অদ্ভুত খেলাটা খেলতে খেলতে ইদানীং কী যে হয়েছে! সবুজ জঙ্গল, পাহাড়, আকাশ সব যেন গুলিয়ে দেয়। তালগোল পাকিয়ে যায় কাজে। অনুষ্কা রোজ ভাবে আজ কৃষ্ণেন্দুকে কঠোরভাবে বলবে এ খেলা আজ থেকে বন্ধ। কিন্তু পারে না শেষ পর্যন্ত। কাজের প্রেশার বাড়তে থাকে দিনে দিনে। খেলার ইচ্ছেটাও।

    ‘একবার এদিকে এসো, এই যে ম্যাডাম, হ্যালো, আপনাকে বলছি।’ অনুষ্কা খেয়াল করেনি কৃষ্ণেন্দু ডাকছে। অনুষ্কা এখন প্রমোশন পেয়ে টিম লিডার। কয়েকজন ছেলেমেয়ে ওর আন্ডারে কাজ করে। নিজের কম্পিউটারের স্ক্রিনে চোখ রেখে কয়েকটা ডেটা নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিল। দ্বিতীয় ডাকে শুনতে পেল। ‘উঁ—ডাকছ?’

     

     

    ‘বহুযুগ ধরে। একবার চট করে শুনে যাও। তাড়াতাড়ি।’

    ‘এখুনি আসতে হবে?’

    ‘আসলে ভালো হয়।’

    অনুষ্কা উঠে এল। কৃষ্ণেন্দুর স্ক্রিন সেভারে একটা পাখি। সাদা রং, সরু লম্বা ঠোঁট। নীল রঙের জলের ওপর ঝাঁপিয়ে এসে পড়েছে ভাসবে বলে। ছড়ানো বিশাল ডানা দুটো ভাঁজ করেনি। এখনও।

    ‘কী বলছ?’

    ‘এটা দেখাতে ডাকলাম।’

    ‘ভালো।’

     

     

    ‘কী নাম বলো তো এর?’

    ‘জানি না।’

    ‘এর নাম আর্কটিক টার্ন। পরিযায়ী পাখি। এরা গোটা পৃথিবী উড়ে বেড়ায়। উত্তর থেকে দক্ষিণ। ভাবতে পারো শুধু এই ডানা দুটো দিয়ে। একবার তাকাও ভালো করে। দেখে মনে হয় না বরফ-বালি-ধুলো-জঙ্গল-সমুদ্র সব কিছুর গুঁড়ো-গন্ধ লেগে রয়েছে?…ইচ্ছে করে আমিও এরকম হয়ে যাই।’

    অনুষ্কা ভালো করে দেখল, তারপর হেসে ফেলে বলল ‘তোমার কবি হলে ভালো হত।’

    ‘কেন হঠাৎ কবি কেন?’

    ‘না, কবিরা শুনেছি সব কিছুই মানে ওই মনে মনে পাখি-টাখি হয়ে যেতে পারে।’

    ‘ভুল-ভুল। শুধু কবি নয়। ডানা আমাদের সবার আছে। শুধু মেলতে শিখতে হয়। শিখবে?’

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    রেসিপি বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা বই
    বাংলা অডিওবুক
    বইয়ের
    বই পড়ুন
    গল্প, কবিতা

     

    ‘আবার শুরু হল!’ বলে হেসে নিজের চেয়ারে চলে এল অনুষ্কা। একেবারে পাগল ছেলে! ভালো লাগে খ্যাপামোগুলো। এমনভাবে বলে কথাগুলো!…ই-ই-স অনেক কাজ রয়েছে, মাথা থেকে এখন বাদ—বাদ—বাদ।

    লাঞ্চ আওয়ারে কৃষ্ণেন্দু নিজের টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে অনুষ্কার ডেস্কে চলে আসে রোজ। আজকে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অনুষ্কা বলল, ‘আজ কিন্তু কোনও খেলা হবে না।’

    ‘বেশ।’ কারণ জানতে চেয়েই আগে নিজের স্বভাবমতো রাজি হয়ে গেল কৃষ্ণেন্দু। তারপর একটু চুপ করে বেশ অনুরোধের সুরে বলল, ‘ঠিক একটা কারণের জন্য মাত্র দশ মিনিটের জন্যও খেলা যায় না আজ?’

    ‘কারণটা আগে শুনি।’ হাসি চেপে চোখ-মুখ স্বাভাবিক রেখে জানতে চাইল অনুষ্কা।

    ‘কারণ আজ শুক্রবার। কাল-পরশু ছুটি এবং সোমবার থেকে আগামী দশ-বারো দিনের জন্য আমি রোজ এ সময়ে তোমাকে বিরক্ত করতে পারব না।’

    ‘কেন?’

    ‘ডানা মেলব।’

    ‘কোথায়?’

    ‘খুব বেশি দূর নয়। লাভা। বছর কয়েক আগে একবার গিয়েছিলাম। তখন ওয়েদার খুব খারাপ ছিল। এবার আশাকরি…’

    ‘একাই?’

    ‘কেন তুমি যাবে সঙ্গে?’

    ‘আমি চাইলেই কি তুমি নেবে তোমার ডানায়?’

    ‘আমার ডানা অনেক বড় আর খুব শক্তি আছে। শক্ত করে যদি ধরে থাকতে পারো পুরো দুনিয়া ঘুরিয়ে আনব।’

    ‘দরকার নেই উড়ে। আমার বাসাই ভালো।’

    ‘তাহলে খেলা কি বন্ধ আজকে?’

    ‘আচ্ছা হোক। কিন্তু ঠিক দশ মিনিট।’

    মাউসে হাত দিয়ে গিয়েও থেমে গেল কৃষ্ণেন্দু। ‘আচ্ছা অনুষ্কা, সত্যিই কি অফিস আর বাড়ি এই-ই তোমার ভালো লাগে?’

    ‘দেখো কৃষ্ণেন্দু। আমি অনেক কষ্টে আজকে এটুকু জায়গায় পৌঁছেছি, একটা সময় গেছে যখন আমার পাশে, পায়ের নীচে মাটি কিচ্ছু ছিল না। ওই বিপদের সময়েই চিনে নিয়েছি সবাইকে, কেউ এতটুকু হেল্প করেনি আমাকে। আজ যেটুকু প্ল্যাটফর্ম বাঁচবার জন্য পেয়েছি সেটুকু কোনওমতেই হারাতে চাই না।’

    কৃষ্ণেন্দু খুব মন দিয়ে শুনল কথাগুলো। তারপর বলল, ‘তোমার কথার সবটায় সম্মত হতে পারলাম না।’

    ভুরুতে প্রশ্ন রেখে তাকাল অনুষ্কা।

    ‘ওই যে বললে না বিপদের দিনের সবাইকে চিনতে পেরেছ। আসলে কী জানো, বিপদের সময় অন্য কাউকে নয়, নিজেকে চেনা যায়। তোমার কি মনে হয় তুমি নিজেকে পুরোটা চিনেছ?’

    ‘বোধহয়…হয়তো ঠিক জানি না। বাদ দাও এসব কঠিন কথা।’

    ‘বেশ বাদ দিলাম।…আচ্ছা গতবার যখন লাভা গিয়েছিলাম তখনকার ছবিগুলো তোমাকে দেখিয়েছি?’

    ‘উ…উ…মনে পড়ছে না।’

    ‘দাঁড়াও’ বলে দৌড়ে নিজের ডেস্কে গিয়ে একটা ফোল্ডার শেয়ার করে ফিরে এল কৃষ্ণেন্দু। অনুষ্কার পাশের চেয়ারে বসে ফোল্ডারটা খুলল। একটার পর একটা ছবি। বেশিরভাগই ধোঁয়াটে, অস্পষ্ট ঘন জঙ্গল। দু-ধারে লম্বা গাছে ঢাকা বৃষ্টিভেজা বেঁকে যাওয়া রাস্তা, মনাস্ট্রি। একটা ছোট্ট মিউজিয়াম। আবার একটা জঙ্গল। কুয়াশায় ঝাপসা। কৃষ্ণেন্দু পাশে বসে ফিসফিস করে বলে যাচ্ছিল—এটা লোলেগাঁওয়ের জঙ্গল। বৃষ্টি পড়ছিল টিপটিপ করে। প্রচণ্ড নিস্তব্ধতার মধ্যে শুধু গাছের পাতার ওপর বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। চারদিক কুয়াশায় অস্পষ্ট। অস্পষ্টতার রহস্যের যে কী সৌন্দর্য সেদিন প্রথম অনুভব করেছিলাম। দূর থেকে বরফে ঢাকা পাহাড় কিংবা ঝকমকে সবুজ আর ওপরে নীল অনেক দেখেছি। মুগ্ধ হয়েছি বার বার। কিন্তু একটু দূরের কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না, তারপরে কী আছে জানা নেই, এর যে একটা শিরশিরে অনুভূতি…আগে কখনও পাইনি। পাহাড়ের কিনারে খাদের একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল আকাশে দাঁড়িয়ে আছি। সামনে-নীচে ওপরে শুধু মেঘ আর মেঘ…’

    পরপর ছবি আর কথায় আবার ঘোর লেগে যাচ্ছিল অনুষ্কার। চুপ করে শুনছিল। ছবি-কথা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও কথা বলছিল না ও।

    ‘কেমন ঘুরলেন আজকে? দশ মিনিটে লাভা-লোলেগাঁওয়ের ট্যুর। ফুডিং ফ্রি।’ বলে সহজে হেসে নিজের ক্যারিয়ার খুলে একটা পরোটা আর খানিকটা আলুর দম তুলে প্লেটে রেখে অনুষ্কার দিকে ঠেলে দিয়ে বলল, ‘এ যে…এবার ফিরুন।’

    ‘তুমি তাহলে যাচ্ছ?’ খুব আস্তে আস্তে প্রশ্নটা করল অনুষ্কা।

    ‘সেরকমই তো কথা।’

    ‘তুমি খুব বাজে। আমার মাথাটা খাচ্ছ দিনে দিনে।’

    ‘কোথায় আর খেতে পারলাম। এতদিনে ডানাই মেলাতে পারলাম না তোমার। ছবিগুলোর ফোল্ডারটা সেভ করে নাও। আমি যে ক’দিন না থাকি সেই ক’দিন একটু কষ্ট করে একা একাই দেখো।’

    ‘মোটেও না। একটুও দেখব না। কিছুতেই না। আমার মাথা খারাপ না কি তোমার মতো।’ বলে প্রবলভাবে মাথা নাড়তে থাকল অনুষ্কা।

    ‘সে কী! নয়, আমার মতো?…আমি তো জানতাম…’

    ‘মার লাগাব কিন্তু এবার!’

    ছ’দিন-সাতদিন-আটদিন, সত্যিই আর ভালো লাগছে না অনুষ্কার। কৃষ্ণেন্দু নেই। ওখানে পৌঁছে একবার মাত্র ফোন করেছিল, ব্যস, তারপর আর কোনও যোগাযোগ করেনি। এমন ছেলে! কজের ফাঁকে, লাঞ্চের সময়, একা বাড়িতে মনে পড়ে ওর কথা। সঙ্গে একজন থাকা আর তার না থাকার পার্থক্যটা এত ভীষণ রকম! আচ্ছা, সত্যিই কি ডানা থাকে মানুষের? কেমন করে মেলতে হয়?…ধুৎ, যত পাগলের কথা! কিন্তু পাগলটা যে ওর মাথাটাকেও খেয়ে বসেছে। ক’দিন ধরে কাজেও মন দিতে পারছে না। কৃষ্ণেন্দু বোধহয় ঠিকই বলে, সারাদিনের মধ্যে খানিকটা অকাজ না করতে পারলে কাজটাও ঠিকঠাক হয় না। এবার ফিরুক, খুব করে ঝগড়া করতে হবে। এমনি এমনিই।

    আঠাশে ফেব্রুয়ারি অনুষ্কার জন্মদিন। কৃষ্ণেন্দুর কি মনে আছে সেকথা? আর দু-দিন বাকি। হয়তো ভুলেই গেছে। আজ কম্পিউটারে কাজ করতে করতে কেমন বেখেয়ালেই কৃষ্ণেন্দুর দেওয়া একটা ছবির ফোল্ডার খুলে ফেলল অনুষ্কা। একটার পর একটা ছবি। কৃষ্ণেন্দু যেমনভাবে ছবি দেখতে দেখতে বলে যায় ঘোর লাগানো ফিসফিস করে, ছবিগুলো নিজেই যেন সেভাবে বলে যাচ্ছিল নিজেদের…এই দেখো আমি সবুজ, লুকোবে? আমার নাম আকাশ, ভাসবে আমার মধ্যে দিয়ে? আমি জল, ডুববে আমার ভেতর?…নাহ? মাথাটা সত্যি সত্যি এবার পুরোটা যাবে! ফোল্ডার বন্ধ করে দিল ও। পাগলটাকে ছাড়া আরও একটুও থাকা যাচ্ছে না, যাচ্ছে না…উহ!

    তারপর আরও অসহ্য কয়েকটা দিন পার করে সাতাশ তারিখে অফিসে এল কৃষ্ণেন্দু। ওকে দেখেই কাজে খুব মন দিল অনুষ্কা। কৃষ্ণেন্দু কাছে এসে বলল, ‘এসে গেছি।’

    যতটা পারা যায় উদাসীনভাবে উত্তর দিল অনুষ্কা। ‘সে তো দেখতেই পাচ্ছি।’

    ‘এক দিন আগেই চলে এসেছি কিন্তু।’

    ‘কীসের এক দিন?’

    ‘বা রে! কাল আমার নেমন্তন্ন আছে না তোমার জন্মদিনে।’

    ‘মনে আছে?’

    ‘সে কী, থাকবে না!’

    ‘কিন্তু আমি তো নেমন্তন্ন করিনি তোমায়।’

    ‘তো কী আছে! বরং ঘটা করে বললে যেতাম কিনা সন্দেহ।’

    আর অভিমান ধরে রাখতে পারল না অনষ্কা, খিলখিল করে হেসে ফেলে বলল, ‘আচ্ছা, সত্যি সত্যি আসবে না কি?’

    ‘কেন, আপত্তি আছে?’

    ‘বেশ দেখা যাক কেমন আস।’

    ‘প্রচুর ছবি তুলছি। কাল দেখাব। এবারেরগুলো একেবারে অন্যরকম।’

    সকালে ঘুম থেকে উঠতেই অনুষ্কা বুঝতে পারল মনভর্তি আনন্দ টলটল করছে। সারারাত ধরে খেজুরের রসের মতো ফোঁটায় ফোঁটায় ভরে উঠেছে কলস। আজ ওর জন্মদিন। কৃষ্ণেন্দু আসবে বলেছে। কিন্তু সত্যি কি আসবে? এই ফ্ল্যাটটা ঠিক করে দেওয়ার পর থেকে কোনওদিনও আসেনি। অনুষ্কা দু-একদিন গোড়ার দিকে ওকে বলেওছিল আসার জন্য। উত্তর পেয়েছিল, ‘যাব, যাব। ঠিক দিনে ঠিক সময়ে যাব।’ আজ কি সেই দিন, সেই সময়? হয়তো এমনিই বলেছে যাব, আসলে আসবে না। তবু…। বিছানা ছেড়ে উঠে মোবাইল অন করল। তিনটে মিসড কলের মেসেজ। দাদা ফোন করেছিল। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর সৌজন্য। ভাবল একবার রিং ব্যাক করবে। তারপর মনে হল যেচে উইশ নেওয়াটা কেমন বোকাবোকা। ওর ছোটবেলায় মা পায়েস বানাত আজকে। একঝলক মনে পড়ল কথাটা। আজ অফিস অফ করবে ঠিকই করে রাখা ছিল। রান্নার মাসি আসবে একটু দেরি করে। কী কী রান্না করতে বলবে? কৃষ্ণেন্দু কী খেতে ভালোবাসে? মনে পড়ল না। আসলে খাওয়াদাওয়ার দিকে তেমন নজরই নেই ছেলেটার। খালি টো টো করতেই ভালোবাসে। ফ্রাইড রাইস আর চিকেনই যথেষ্ট। সারাদিন ধরে এঘর-ওঘর টুকটাক কাজ, রান্নার খবর নেওয়া, ঘড়ি দেখার ফাঁকে প্রতীক্ষার বুক ঢিবঢিব।…অস্থিরতা। আসবে?…সত্যি! বিকেল-সন্ধে সাতটা-আটটা-ন’টা। নিজের ওপর রাগ হতে শুরু করল অনুষ্কার। ফালতু অফিস কামাই করে সারাটা দিন নষ্ট হল। কত কাজ পেন্ডিং রয়েছে। রাত্রি প্রায় দশটা নাগাদ আচমকা কলিংবেল। এখন আবার কে? দরজা খুলতেই সেই হাসিমুখ।

    ‘এখন!’

    ‘বা রে! জন্মক্ষণ তো শুনেছিলাম রাত্রি এগারোটা পনেরো। বরং অনেক আগে এসে গেছি বলে একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য আমার।’

    ‘অত রাত্তির অব্দি থাকবে বুঝি?’

    ‘যদি রাখতে চাও।’

    বুকের ভেতর একদম অচেনা, অন্যরকম শিরশির করে উঠল অনুষ্কার।

    কৃষ্ণেন্দু ঘরে ঢুকতেই বলল, ‘বাহ, সুন্দর সাজিয়েছ ঘরটা।’

    ‘কী খাবে বলো এখন?’

    ‘স্রেফ চা।’

    ‘দু-মিনিট।’ ডাইনিং টেবিলে ফ্লাস্কে চা বানিয়ে রাখাই ছিল। কাপে ঢেলে ট্রে-তে করে নিয়ে এল। চা খেতে খেতে কৃষ্ণেন্দু কবজিতে ঘড়ি দেখে নিয়ে বলল, ‘আর ঘণ্টাখানেক পরেই তুমি জন্ম নেবে।’

    অনুষ্কা হুঁ বলেই বলল, ‘বেশ অনেকটা রোগা হয়ে গেছ। খুব অনিয়ম করে গেছ না একদিন?’

    ‘না-নাহ-ধুস…বাদ দাও ওসব, এবার বলো আমাকে ছাড়া কেমন কাটালে?’

    ‘দারুণ!’ ঠোঁট উলটে বলল অনুষ্কা।

    ‘সত্যি!’

    ‘তো মিথ্যে না কি? কেউ ডিসটার্ব করার ছিল না। স্রেফ কাজ করে গেছি।’

    ‘আর ছবিগুলো… দেখনি?’

    ‘ছবি…কীসের ছবি?’ নিপুণ অভিনয়ের চেষ্টা করল অনুষ্কা। কিন্তু মুখের অভিব্যক্তিতে সেই অভিনয় ছিল না। ধরা পড়ে গেল। কৃষ্ণেন্দু হেসে ফেলে বলল, ‘ভূতের।’

    কথায় কথায় রাত, অনুষ্কা মনে মনে অবাক হচ্ছিল কৃষ্ণেন্দু সত্যি সত্যিই বাড়ি ফেরার নাম করছে না। নিশ্চয়ই সারারাত থাকবে না।…তাহলে কত রাতে ফিরবে? ফিরবে কীভাবে? সুখ মেশানো এক অচেনা ভয় ভয় অনুভূতি।

    ‘এই, এগারোটা পাঁচ বেজে গেছে। চলো কেক রেডি করো।’

    ‘কেক…সে কোথায় পাব!’ অনুষ্কা অবাক।

    ‘ওহ হো, বার করতে ভুলেই গেছি।’ বলে সোফায় রাখা নিজের লেদার ব্যাগটা খুলে সুন্দর দেখতে একটা ক্যাথলিনের বাক্স অনুষ্কার হাতে দিয়ে বলল, ‘ক্যান্ডেল ক’টা কিনব…মানে তোমার বয়সটা বেয়াল্লিশ বা পঁযতাল্লিশ ঠিক খেয়াল পড়ছিল না, সেজন্য একটাই কিনেছি।’ বলে একটা নীল রঙের মোম বাড়িয়ে দিল। হাত বাড়িয়ে জিনিস দুটো নিতে গিয়ে অনুষ্কা ঠোঁট টিপে বলল, ‘সে কী, আমার এবার ঊনসত্তরে পা পড়বে ভুলে গেছ?’

    দুজনেই হেসে ওঠার পর কৃষ্ণেন্দু তাড়া লাগাল ‘কুইক, একটা প্লেট  আর ছুরি নিয়ে এসো।’ অনুষ্কা প্রায় দৌড়ে কিচেনে গিয়ে ছুরি, প্লেট নিয়ে এসে টেবিলে রেখে প্লেটের ওপর কেকটা বসাল, আনন্দে বুকের ভেতরটায় ঠিক কেমন যে করছে! কৃষ্ণেন্দু মোমবাতি জ্বালিয়ে কেকের সামনে রেখে বলল, ‘এবার হাতে ছুরিটা নিয়ে চোখ বন্ধ করে চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকো, আমি যখন বলত তখনই খুলবে।’

    কয়েক মুহূর্ত পরেই কৃষ্ণেন্দু, ‘নাও এবার আঁখিপল্লব মেলে কেক কাটো।’

    ‘তুমি এসো আমার সঙ্গে, দুজনে মিলে…’

    ‘কিন্তু আমার যে জন্মক্ষণ নয় এখন।’

    ‘হ্যাঁ তোমারও। আমাদের জন্ম একসঙ্গে’ তীব্র আনন্দে হাতের আঙুল কাঁপছিল অনুষ্কার।

    ‘বেশ।’ দুজনে একসঙ্গে আঙুল ছুঁয়ে কেক কাটল। হাততালি দেওয়া, হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ বলার কেউ ছিল না ঘরে, তবু যেন অনুষ্কা শুনতে পেল হাজার হাজার মানুষ উল্লাসে হাততালি দিচ্ছে, খুশিতে গান গাইছে, উইশ করছে…।

    কেক খেয়ে কৃষ্ণেন্দু বলল, ‘দাঁড়াও এবার তোমার গিফটটা দিই।’

    ‘আরও উপহার বাকি?’

    ‘হ্যাঁ, ব্যাগ থেকে সেলোফেন পেপারে মোড়া ছোট্ট একটা প্যাকেট অনুষ্কার হাতে দিয়ে বলল, ‘দেখো।’

    প্যাকেট খুলতে ছোট্ট একটা কাগজে লেখা ‘ডানা মেলার অপেক্ষার দিনে তোমায়।’ নাম নেই, তারিখ নেই, আর সঙ্গে একটা ব্ল্যাঙ্ক সিডি। এমন উপহার আশাই করেনি অনুষ্কা। ‘এটা কী? ব্ল্যাঙ্ক সিডি?’

    ‘দেখা যাক, তোমার কম্পিউটারটা কই?’

    ‘আগে ডিনার করে নাও।’

    ‘পরে হবে। আগে বলো কোথায় রয়েছে?’

    বেডরুমের এক কোণে অনুষ্কার পি সি রাখা। কৃষ্ণেন্দুর সঙ্গে ওই ঘরে ঢুকতে গিয়ে একবার গা ছমছম করে উঠল অনুষ্কার। পি সি অন করে সিডিটা ঢোকাল। কৃষ্ণেন্দু বলল, ‘তুমি চেয়ারে বসো আমি পাশে দাঁড়াচ্ছি।’ ফোল্ডারটা খুলতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল ঘন সবুজ পাহাড়, টুকরো টুকরো ভেসে যাওয়া মেঘ, তিস্তার উচ্ছলতা, গভীর জঙ্গল, সূর্যাস্ত, পাহাড়ি মেয়ের সহজ মুখ…কাঞ্চনজঙ্ঘা…পরপর দেখে যাচ্ছিল অনুষ্কা।

    ‘আমার শ্রেষ্ঠ মুহূর্তগুলো তোমাকে দিলাম,’ বলতে বলতে মাউসে রাখা অনুষ্কার হাতের ওপর আলতো করে হাত রাখল কৃষ্ণেন্দু। তিরতির করে কেঁপে উঠল অনুষ্কা। কিন্তু স্ক্রিন থেকে চোখ সরাল না। ‘এই ছবিগুলো সব কালিম্পঙের। এটা ডিলো পার্ক, এটা সুইসাইড পয়েন্ট।’ অনুষ্কা তাকিয়ে থাকল ছবিটার দিকে। খাদের একেবারে কিনার থেকে ওপাশের ছবি। মাঝে গভীর অতল। অসাধারণ ছবিটা। এত সুন্দর জায়গাটার এমন খারাপ নাম কেন?

    ‘এখান থেকে এই অঞ্চলের দুটি ছেলেমেয়ে সুইসাইড করেছিল। বিয়ে করবে ঠিক করেছিল ওরা। কিন্তু জাতের ভিন্নতা ছিল বলে বিয়েতে মত ছিল না দুই বাড়িরই। পালানোর উপায়ও ছিল না। সুতরাং…’

    ‘ইশস।’ হাতের আঙুলগুলো আবার কেঁপে উঠল অনুষ্কার।

    ‘ভাবো তো একবার সেই মুহূর্তটা, দুজনে পরস্পরের হাত চেপে ধরে যখন হু-হু করে শয়ে শয়ে ফুট নীচে নেমে যাচ্ছে।’

    ‘তখনও কি ওরা ভাবছিল পরস্পরের কথা? ওইটুকু সময়েও?’ অবশভাবে জিগ্যেস করল অনুষ্কা।

    ‘হয়তো…জানি না। আমি শুধু এইটুকু জানি আমরা যখন শূন্যে ঝাঁপাব তখন নীচে নামব না। দুজনে ডানা মেলে উড়ে বেড়াব আকাশে।’

    ‘আমার ভয় করে কৃষ্ণেন্দু,’ এই প্রথম কথাটা বলল অনুষ্কা। ‘যদি সব হারিয়ে ফেলি উড়তে গিয়ে…’

    ‘কী আছে তোমার যে হারাবে? আর সত্যিই যদি মানুষ কিছু পায় তাকে হারাতে পারে না। হারাতে চাইলেও নয়। সত্যি বলো তো এই যে তোমার…’

    ‘চু-উ-প!’ কৃষ্ণেন্দুর ঠোঁটে আঙুল দিয়ে থামিয়ে দিল অনুষ্কা। আঙুলগুলোয় মনে হল…ঠিক কী যে মনে হল…তার আগেই নিজের দু-হাত দিয়ে পিছন থেকে অনুষ্কার দু-হাত আলতোভাবে জড়িয়ে ধরেছে কৃষ্ণেন্দু। তারপর…তারপর…

    এ মাসে ডেট মিস হওয়াতে শরীরে অস্বস্তি হচ্ছিল অনুষ্কার। অনেকদিন পর এরকমটা হল। তলপেটে চাপ ব্যথা। কাজে মন বসতে চায় না। হঠাৎ কেন হল এরকম? সেই রাতের পর থেকে কৃষ্ণেন্দুর সঙ্গে কথা বলতে জড়তা লাগে। ও কিন্তু একইরকম রয়েছে। লাঞ্চ আওয়ারে ইচ্ছে করে আরও ব্যস্ত হয়ে পড়ে অনুষ্কা যাতে একসঙ্গে বসতে না হয়। কেমন একটা ঘোর সব সময় মাথার মধ্যে। মাঝেমধ্যে হঠাৎ নিজেকে অচেনা মনে হয়। ভালো লাগে না, কিচ্ছু ভাল্লাগে না, কাল এইচ ও ডি ডেকেছিলেন ওকে। সংক্ষেপে ভদ্রভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ইদানীং অনুষ্কার পারফরম্যান্স ভীষণভাবে ফল করছে। এটা তার কেরিয়ার এবং প্রমোশনের পক্ষে যথেষ্ট প্রতিবন্ধক। মোদ্দা কথায় হয় ঠিক করে কাজ করো নয়তো…। ভেতরে ভেতরে শিউরে উঠেছিল অনুষ্কা। ও নিজেও ভালো করে জানে এইসব জায়গায় কাজটাই প্রথম এবং শেষ কথা। করো অথবা ছাড়ো। ‘সরি স্যার’ বলে চেম্বার থেকে বেরিয়ে এসে চোয়াল শক্ত করে নিয়েছিল ও। চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে বার বার নিজেকে বুঝিয়েছিল—কাজ কাজ, বাকি সব কিছু চুলোয় যাক। তার আর কোনও ইচ্ছে নেই, কোনও বন্ধু নেই, কেউ নেই, কিছু নেই, নেই-নেই নেই।

    ‘তোমার কী হয়েছে বলো তো অনুষ্কা?’

    ‘কিছু না তো।’

    ‘তাহলে আমার সঙ্গে কথা বলছ না কেন ভালো করে?’

    ‘কাজের প্রেশার।’

    ‘শুধু কি সেজন্যই?’

    ‘হ্যাঁ’, বলে আচমকা কৃষ্ণেন্দুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠেছিল ‘চাকরিটা চলে গেলে আমাকে কেউ দেখার নেই কৃষ্ণেন্দু, কেউ নেই।’ কথাগুলোর ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল, মাথা নীচু করে চলে গিয়েছিল কৃষ্ণেন্দু। তারপর থেকে আর ধারেকাছে আসে না। কথাগুলো বলে খুব খারাপ লেগেছিল অনুষ্কার। কিন্তু ওই পাগলকে এভাবে ছাড়া আর অন্য কোনও উপায়ে বোঝানোর উপায় ছিল না। ক’দিন ধরেই পেটের ভেতর একটা অদ্ভুত অস্বস্তি হচ্ছে সারাদিন ধরে। সকালে অফিস এসে সারাক্ষণ কাজে প্রাণপণ ডুবে যাওয়ার মাঝেমধ্যেও অস্বস্তিটা টের পায়। ভাবে খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম। অতিরিক্ত কাজের চাপ। মানসিক অস্থিরতা…কিন্তু নিজের সাজানো যুক্তিগুলো নিজের অজান্তেই ছিঁড়ে ফেলে। রাত্রের বিছানায় শোওয়ার পর অস্বস্তিটা আরও বেড়ে যায়। ঘুম আসতে চায় না। একদিন রাত্রে কী খেয়াল হতে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে নিজেকে সম্পূর্ণ উন্মক্ত করে দাঁড়াল অনুষ্কা। এপাশ-অপাশ ফিরে ভালো করে আয়নায় নিজের পেটটা দেখল। ঈষৎ উঁচু! চোখের ভুল? একটু উঁচু! সত্যিই! কেঁপে উঠল থরথর করে। তবে কী! কিন্তু সে রাত্রে কী ঘটেছিল কৃষ্ণেন্দুর সঙ্গে? তেমন কিছু কি…? চোখ বুজে মনে করবার চেষ্টা করতে থাকে আপ্রাণ। পড়ছে না…কিছুতেই মনে পড়ছে না। কেমন যে পড়ছে না? এত অবশ বিহ্বল হয়ে পড়েছিল সেদিন যে কিছু মনে নেই, শুধু এক সংজ্ঞাহীন অনুভূতি ছাড়া। কৃষ্ণেন্দুকে জিগ্যেস করার প্রশ্নই আসে না। ওষুধের দোকান থেকে প্রেগটেস্ট কিনে নিয়ে এসে দেখে নেগেটিভ। তাহলে? তবু নিশ্চিন্ত হতে পারে না। এর রেজাল্টও তো সবসময় সত্যি হয় না শুনেছে। আর পেটটাও যে দিনে দিনে ফুলে উঠছে। স্পষ্ট বুঝতে পারে ও। কিন্তু সত্যি যদি কিছু হয়েও থাকে তাহলেও এত দ্রুত কী করে হচ্ছে মাথায় আসে না! গুলিয়ে তালগোল পাকিয়ে যায় সব। ডাক্তারের কাছে যেতেও লজ্জা লাগে। সম্ভাব্য প্রশ্নগুলোর সামনে দাঁড়াতে হবে ভাবলে লজ্জায় সিঁটিয়ে যায়। কুর্তা আর জিনসের প্যান্ট পরা ছেড়ে দিয়ে ঢিলেঢালা সালোয়ার পড়তে শুরু করে ও। অফিসে, পরিচিতরা সবাই অবাক। চোখের নীচে কালো ছোপ বাড়তে দেখে কলিগরা ওকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে রেস্ট নিতে বলে। শুধু কৃষ্ণেন্দু চুপ। কিচ্ছু বলে না, শুধু দূর থেকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। অনুষ্কাও চুপ। সালোয়ারের ওড়না দিয়ে দিয়ে বার বার পেটের কাছটা ঢাকা দেওয়াটা মুদ্রাদোষের মতো হয়ে ওঠে। সবসময় মনে হয় রাস্তাঘাটে, অফিসে-দোকানে সব মানুষ ওর পেটের দিকে জিজ্ঞাসা নিয়ে তাকিয়ে। কেউ যদি একদিন সত্যিই কিছু জিগ্যেস করে বসে…কী করবে তখন? বুঝতে পারে না। অ্যাবরশন?—অস্থির হয়ে ওঠে ও। প্রচণ্ড অস্থির। সবসময় শরীর ভারী লাগে। নড়তে-চড়তে কষ্ট, মাঝেমধ্যে গা গুলোয়, বমি পায়, পেটের খাবার হড়হড় করে বাইরে বেরিয়ে আসে। স্পষ্ট বুঝতে পারে পেটের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে। দিনে দিনে ফুলে উঠছে পেটটা। অবিশ্বাস্য দ্রুতভাবে। এরকম হয়! বিশ্বাস করতে না চাইলেও, এখন জোব্বার মতো ঢিলে সালোয়ার পড়লেও ওপর দিয়ে পরিষ্কার বোঝা যায় স্ফীত পেট।—না। আর নয়। বাড়ি থেকে সিক লিভের অ্যাপ্লিকেশন বসকে মেল করে দেয় ও। কৃষ্ণেন্দুকে কিছুই জানাবে না। সব পুরুষরাই কি তাহলে একইরকম? সব অনুভূতিই শেষে শুধু মাংসের খিদে? আগামী কালকেই যেতে হবে। লোকাল নয়, ইচ্ছে করে একটু দূরে নার্সিংহোম বুক করে নেয় ফোনে।

    আজ সারাদিন ধরে পেটের মধ্যে অস্বস্তিটা যেন বড় বেশি। অল্প অল্প ব্যথাও হচ্ছে। সকালে রান্নার মাসি কাজ করে চলে যাওয়ার পর সারাদিন ধরে একা। ইদানীং দিনের মধ্যে দশ-বারো বার কিংবা তারও বেশি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে পেটের স্ফীতির হার খেয়াল করাটা প্র্যাকটিসের মতো হয়ে গেছে। আজ আর দাঁড়াল না। কালকের মধ্যেই তো সব ধুয়েমুছে সাফ। কথাটা মনে আসতেই পরম নিশ্চিন্তির সঙ্গে সঙ্গে আরও কী একটা খোঁচা দিয়ে ওঠে। কাজটা হয়ে যাওয়ার পর আর এই অফিস নয়। অন্য কোথাও ট্রাই করতে হবে। ওই ছেলেটার সামনে যেন আর না দাঁড়াতে হয় কোনওদিন। এতটুকু খিদে নেই আজ। খেলও না। ঘুমও আসছে না। চাপা ব্যথাটা বিকেলের পর থেকে একটু একটু করে বাড়ছে যেন। সন্ধের পর সামান্য কিছু খেতেই সব বমি হয়ে গেল। ব্যথাটা বাড়ছে ক্রমাগত। ঘরের সব জানলা বন্ধ করে টিউব নিভিয়ে শুধু নাইট ল্যাম্প জ্বেলে বিছানায় বালিশ আঁকড়ে চুপচাপ শুয়ে থাকল। পেটের ভেতর থেকে কী যেন একটা ঠেলে বেরিয়ে আসছে আজকেই। তাকে বার করে দেওয়ার আগে নিজেই কি বেরিয়ে আসতে চাইছে সে? এত দ্রুত? সর্বনাশ! তাহলে কী হবে? কিন্তু কী করে সম্ভব এত কম দিনে…? যুক্তি আর ভয় একসঙ্গে মাখামাখি হয়ে যায়। আবার একবার মনে করতে চেষ্টা করে, সত্যিই কি এতটা বাড়াবাড়ি হয়েছিল সেদিন?…ওহ…কেন যে মনে পড়ে না। নিজের ওপর প্রচণ্ড রাগে গুঙিয়ে ওঠে অনুষ্কা।

    রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে যন্ত্রণা। ব্যথার সঙ্গে যুঝতে যুঝতে চিৎ হয়ে শুয়ে অনুষ্কা নিজের দু-পা ভাঁজ করে ফেলে। ড্রয়িংরুমে দেয়াল ঘড়িটা বেশ কিছুক্ষণ ধরে টুংটুং শব্দে কত রাত্রের জানান দিল খেয়াল নেই। ‘আঁ-আঁ-আঁ’ ব্যথায় প্রাণপণে বিছানা খামচে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরল। অসম্ভব এক অচেনা যন্ত্রণায় শরীর বেঁকিয়ে গোঙাতে থাকে ও। মুখ থেকে ফেনা বেরিয়ে আসে। ‘আঁ-আঁ-মাহ’ বুঝতে পারছিল জল ভেঙে গেছে, ভেসে যাচ্ছে বিছানা। একটু একটু করে অন্য এক অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসছে একটা কিছু। আসছে এই পৃথিবীতে। অনুষ্কার একান্ত শরীর থেকে।…এল সে। অনাস্বাদিত অসামান্য এক ক্লান্ত আরামে দু-চোখ বুজে অনেকক্ষণ একভাবে শুয়ে রইল। তারপর একটু একটু করে দু-হাতের কনুইতে ভর দিয়ে সামান্য মাথা উঁচু করে নিজের দু-পায়ের মাঝে তাকাল…এ কী! এ কী অদ্ভুত প্রাণ জন্ম নিয়েছে? শরীরটা পাখির মতো…কী যেন সেই পাখিটা? জলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিল বিশাল দুই ডানা মেলে। পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে উড়ে বেড়ায়। কী যেন নামটা! কিন্তু চোখদুটো মানুষের মতো অবিকল! চেনা, বড় চেনা চোখ দুটো! সদ্য জন্মানো প্রাণটা এরমধ্যেই বেশ কয়েকবার অনুষ্কার দিকে তাকিয়ে ছোট্ট ডানাদুটো ঝাপটাচ্ছে ওড়ার চেষ্টায়। অল্প অল্প সাদা পালক গোটা শরীরে। সে একবার নিজের চেষ্টা থামিয়ে স্থিরভাবে অনুষ্কার দিকে তাকাল। চেনা তাকানো…হ্যাঁ চেনা, মনে পড়ল অনুষ্কার। ভয় নয়, ঠিক কীরকম একটা অনুভূতি হচ্ছিল যেন। দমকে দমকে কাঁপুনি আসছিল। বার বার নিজের ডানাদুটো মেলে উড়ে যাওয়ার নিরলস চেষ্টা করছিল সে। আর পড়ে পড়ে যাচ্ছিল। সুতোর মতো নাড়ি দাঁত দিয়ে কেটে দিল অনুষ্কা। তার পর পরম সাবধানে আলতো করে দু-হাতের মুঠোয় তুলে ধরল নিজের আত্মজকে। ফিসফিস করে কানের কাছে মুখ ঠেকিয়ে বলল। ‘আমি চিনি তোকে।’ তারপর আরও কথা, আরও অনেক কথা বলতে বলতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ল কখন…।

    সকালে ঘুম ভাঙল কলিংবেলের শব্দে। ঘরের ভেতর তখনও আবছা অন্ধকার। ঘুম ভেঙেই বুঝল কলিংবেলটা অধৈর্যভাবে অনেকক্ষণ থেকে বাজছে, শরীর জোড়া ক্লান্তি। কিন্তু কী অদ্ভুত এক আনন্দ কিংবা একটা কিছু। মনে হচ্ছে মাথার ভেতর থেকে সব কিছু ধুয়ে সাফ হয়ে গেছে। কোনও ভার নেই, অতীত নেই, ভবিষ্যৎ নেই তার। বেলটা বাজছে। অনুষ্কা তাকাল তার জন্ম দেওয়া প্রাণের দিকে। সে এখন বন্ধ জানলার ধারে বসে। এক রাতেই বেশ খানিকটা বড় হয়ে উঠেছে। সারা গায়ে সাদা পালক। ডানা দুটোও এখন তার বেশ বড়, ঝাপটিয়ে জানলা দিল সে। ওড়ার জন্য সে অধৈর্য। অনুষ্কাকে জাগতে দেখে ঘরের এদিক থেকে ওদিক এক পাক উঠল। তারপর এসে বসল অনুষ্কার হাতের ওপর। ঠোঁট ছোঁয়াল আঙুলে। তারপর আবার উড়ে গিয়ে বসল বন্ধ জানলার শার্সির পাশে। যেন শুধু পাল্লা দুটো খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় সে। অফুরন্ত উড়ানের আশা শরীর জুড়ে। অনুষ্কা হেসে বলল, ‘দেব, একটু দাঁড়া। আমি জানি কে এসেছে আজ। তাকে একটি বার দেখিয়ে নিই তোকে।’ উঠে গিয়ে দরজা খুলল, বাইরে কৃষ্ণেন্দু, অনুষ্কার দিকে তাকিয়ে।

    ‘ভেতরে এসো।’

    ‘আমি শুধু একটা কথা বলার জন্যই এসেছি, তোমাকে বিরক্ত….’

    ‘তুমি ভেতরে এসো।’ ক্লান্ত গলায় বলল অনুষ্কা।

    ‘কেমন আছ তুমি?’ থিরথিরে গলায় জিগ্যেস করল কৃষ্ণেন্দু।

    ঠোঁটে আঙুল রেখে ওকে চুপ করতে ইশারা করল অনুষ্কা। তারপর বলল, ‘আমার সঙ্গে এসো এদিকে। শুধু তোমাকে একবার দেখাব বলেই এতক্ষণ তাকে আটকে রেখেছি।’

    ‘কাকে?’

    ‘এসো দেখবে।’ বলে কৃষ্ণেন্দুর হাত ধরে নিজের বেডরুমের দিকে নিয়ে গেল ও। বন্ধ দরজা খুলে অন্ধকার ঘরের ভেতর ঢুকল দুজনে। আঙুল তুলে জানলার দিকে দেখিয়ে বলল…’ওই দেখো…তোমার…কাল জন্ম নিয়েছে সে।’

    দুজনেই চুপ। অনেকক্ষণ…শুধু অন্ধকার, নৈ:শব্দ্য। কৃষ্ণেন্দু আবছা অন্ধকারে কী দেখল জানা নেই, শুধু সেই আগের মতো ফিসফিস করে বলে উঠল—’এবার জানলাটা খুলে দাও।’

    আমার সময়

    মে ২০০৯

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল
    Next Article রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    Related Articles

    বিনোদ ঘোষাল

    রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    বিনোদ ঘোষাল

    কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }