Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ডানাওলা মানুষ – বিনোদ ঘোষাল

    বিনোদ ঘোষাল এক পাতা গল্প253 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আত্মবিষ

    কাছাকাছি কোথাও বৃষ্টি পড়ছে। ঠান্ডা ভেজা মাটির গন্ধ। চুপচাপ যেতে যেতে হঠাৎ রিকশাওয়ালাকে থামতে বলল ব্রজ। গাড়ি থামিয়ে রিকশার ছেলেটা বলল, ‘তাড়াতাড়ি সারবেন।’

    হাসি পেল ব্রজর। ভেবেছে ওর পেচ্ছাপ পেয়েছে। রিকশা থেকে নেমে মানিব্যাগ বার করে দশ টাকার একটা নোট বাড়িয়ে দিয়ে ব্রজ বলল, ‘আমি এখানেই নামব।’

    ছেলেটা অবাক হয়ে বলল, ‘বললেন যে হাউজিং যাবেন।’

    ‘যাব না।’

    টাকা নিয়ে রিকশা ঘুরিয়ে চলে যাওয়ার আগে বিড়বিড় করল ছেলেটা, ‘শাল্লা যত মালখোর আমার কপালেই জোটে!’

    মালখোর…! গত পনেরো-ষোলো দিনের মধ্যে এক ছিপিও মদ খাওয়া হয়নি, আশ্চর্য! নিজেই যেন আলতোভাবে একবার চমকে উঠল ব্রজ।

    রাত্রি দশটার দিল্লি রোড নির্জন। শুধু মাঝেমধ্যে তীব্র আলো আর গতি নিয়ে গাড়িগুলো হুশ হুশ করে চলে যাচ্ছে। রোডের ধারে খানিকটা ঢালু জমি, তারপর একটা খাল। আকাশের ফিকে আলোয় সাদা শাপলা ফুলগুলো দেখা যাচ্ছে। বহু দূরের আকাশ থেকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে চটি খুলে তার ওপর বসে পড়ল ব্রজ। পায়ের পাতায় শিরশিরে ঠান্ডা, অকারণ বসে রইল ব্রজ, অনেকক্ষণ। দূরের বিদ্যুৎ এখন ব্রজর মাথার ওপর চমকে উঠছে। আকাশ লাল। খেয়াল হল না। এমনকী বেশ জোরে বৃষ্টি এসে যাওয়ার পরেও স্থির হয়ে বসে রইল ব্রজ। বৃষ্টির জল গোটা শরীর চুঁইয়ে ঢাল বেয়ে নেমে যেতে থাকল খালে। একটু দূরে পাঁচিলঘেরা, বন-জঙ্গলে ভরতি কবরখানায় লম্বা বটগাছটার পাতাগুলো বিদ্যুতের আলোয় ঝিলমিল করতে লাগল। দৃষ্টি জলের ফোঁটায় ঝাপসা…। হঠাৎ একটা তীব্র আলো অবশ হয়ে আসা চোখের ওপর ঝলসে উঠল। ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল ব্রজ। কয়েক গজ দূরে একটা গাড়ি এসে থেমেছে। একজন নামল। গায়ে রেনকোট, মাথায় ছাতা। আবার সেই ঘোরটা শুরু হতে থাকল। দৃশ্যটা যেন আলতোভাবে ঘটছে।

    ‘এখানে কী করছেন?’

     

     

    ব্রজ তাকিয়ে থাকল শুধু।

    ‘কী হচ্ছে এখানে?’

    ‘কিছু বলবেন?’

    ‘বলছি কী হচ্ছে এখানে?’

    ‘কিছু না।’

    ‘কিছু না মানে?’

    ‘বসে আছি।’

    ‘সে তো দেখতেই পাচ্ছি। কেন?’

     

     

    ‘এমনি।’

    ‘ন্যাকামো হচ্ছে? উঠে দাঁড়ান।’ ব্রজ চুপচাপ উঠে দাঁড়াল।

    ‘বাড়ি কোথায়?’

    ‘ডানকুনি হাউজিং।’

    ‘কী করেন?’

    ব্রজ চুপ।

    ‘কী হল? কী করেন?’

    ব্রজ ফিসফিস করে বলল, ‘জানি না।’

     

     

    ‘কী?’

    ‘জানি না।’

    গাড়ির ভেতর থেকে একজন চেঁচিয়ে উঠল, ‘শালা ঢ্যামনামো হচ্ছে! দেব ভেতরে পুরে।’

    ‘গাড়িতে উঠুন।’ ব্রজ দাঁড়িয়ে থাকল।

    ‘আরে গাড়িতে উঠুন।’

    পুলিশের জিপটা বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার অনেকক্ষণ পর আস্তে আস্তে ঘোরটা কাটতে থাকল ব্রজ চক্রবর্তীর। বালিশ থেকে মাথাটা তুলতে গিয়ে আবার নামিয়ে নিল। অসম্ভব ভার লাগছে মাথা। গায়ে চাদর ঢাকা দেওয়া। নিশ্চয়ই আরতি দিয়েছে। চোখের পাতা দুটোতেও প্রচণ্ড ক্লান্তি।

    ‘কী গো!’

     

     

    ঘাড় ফেরাল ব্রজ, আরতি এসে দাঁড়িয়েছে।

    ‘তোমরা সবাই মিলে কেন এমন করছ?’

    ব্রজ চুপ।

    ‘কেন করছ?’ বিছানায় ব্রজর মাথার কাছে বসে কেঁদে ফেলল আরতি। চাদর থেকে হাত বার করে ধীরে ধীরে আরতির হাতের ওপর হাত রাখল ব্রজ। বাইরে বৃষ্টিটা ততক্ষণে থেমেছে।

    দুই

    সকালে আলফা সেরামিক থেকে ফোন করল ব্যানার্জি। গাড়িটা তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে বলল, ‘আপনার ছেলের কথা শুনেছি স্যার, ভেরি স্যাড। এখন কেমন আছে?’

    ‘ভালো।’

     

     

    ‘স্যার, কোথায় ভর্তি রয়েছে?’

    ‘একটা বেসরকারি হসপিটাল?’

    ‘ওহ, কোনও প্রবলেম হলে আমাকে জানাবেন স্যার।’

    ‘আচ্ছা রাখছি।’ বলে ফোনটা রেখে দিল ব্রজ। খেয়ালই ছিল না গাড়িটা তিন-চার দিন ধরে আটকে রেখেছে। এক্সাইজ ইনস্পেকটর হওয়ার সুবাদে মাস মাইনের বাইরে বিভিন্ন কর্পোরেট থেকে যেটা আসে, তা দিয়ে দু-দুটো গাড়ি কিনে অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু দরকার কী! শপিং থেকে শুরু করে কালনায় অসুস্থ কাকাকে দেখতে যাওয়া কিংবা দু-দিনের দিঘা ট্রিপের জন্য ফোকটে বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি পাওয়াটা কবে যেন অধিকারে এসে দাঁড়িয়েছে।

    গাড়িটা ছেড়ে দিল ব্রজ।

    আরতি জিগ্যেস করল, ‘ছেড়ে দিলে?’

     

     

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘কীভাবে যাবে তাহলে?’

    ‘সবাই যেভাবে যায়। ট্রেনে। তারপর বাসে।’

    ‘তুমি এরকম করছ কেন?’

    ‘আরতি আমি কিছু করিনি। কিচ্ছু করা হয়নি।’

    ‘প্লিজ তুমি একটু শান্ত হও। এই বিপদে তুমি এমন করলে আমি কী করব বলো তো?’

    ‘আমি ঠিক আছি।’

    ডানকুনি ডাউন প্ল্যাটফর্মে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে চারদিকে আবার তাকাল ব্রজ। কত বছর পর দেখল স্টেশনটাকে। অনেক বদলে গেছে। গাড়ির ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে মনে মনে তৈরি হল। যা ভিড়!

     

     

    ‘আরে ব্রজদা, ও ব্রজদা!’

    ব্রজ পিছন ফিরল। পাশের বাড়ির সমীর। ব্রজর থেকে বছর দুয়েকের ছোট। ছেলেবেলায় বন্ধু ছিল। এখন বাড়ির সামনে একটা স্টেশনারি দোকান খুলেছে। মোটামুটি চলে।

    ‘কী ব্যাপার! ট্রেনে?’

    ‘এই-ই!’

    ‘সজল এখন কেমন?’

    ‘আছে?’

    ‘কবে ছাড়বে কিছু বলেছে?’

     

     

    ‘নাহ!’

    ট্রেন ঢুকে গেল। ব্রজর ইচ্ছে ছিল সমীরকে এড়িয়ে অন্য কামরায় উঠবে। কিন্তু সমীরই হাত ধরে বলল, ‘চলো। ট্রেনে কথা বলব।’

    কয়েক সেকেন্ড প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি। ট্রেনে উঠে মনে মনে সমীরকে ধন্যবাদ দিল ব্রজ। সমীর না থাকলে দীর্ঘদিনের অনভ্যস্ত ব্রজ কোনও কালেই অফিস টাইমের ট্রেনে উঠতে পারত না।

    ভেতরে গুমোট গরম। সমীর তুখোড় কায়দায় পাঁকাল মাছের মতো ব্রজকে নিয়ে ভিড় কাটিয়ে চ্যানেলে গিয়ে দাঁড়াল। এখানটায় তবু স্বস্তি। বুকের ভেতরটা দপদপ করছে। আরতি বার বার বারণ করেছিল। ব্রজ শোনেনি, ইদানীং কী যে হয়েছে!

    ‘আজ হঠাৎ ট্রেনে যাচ্ছ কেন বললে না?’

     

     

    বহু পুরোনো স্মৃতি একবার ঘেঁটে দেখতে ইচ্ছে হল! না, নিজেকে বদলে ফেলা? নাহ! অতটা নয়! তবু কী যেন একটা…উত্তর ভেবে পেল না ব্রজ। শুধু আলতো হেসে বলল, ‘এমনিই!’

    ‘একদিন যে দেখতে যাব, কিছুতেই সময় করে উঠতে পারি না। এত ভালো ছেলেটা…’ থেমে গেল সমীর।

    ব্রজ অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে থাকল। ভালো ছেলে সজল। বোধহয় ক্লাস সেভেন যখন ব্রজর প্রমোশন হয়। এক্সাইজ ইনস্পেকটর। আনন্দের ঢেউয়ে ভেসে গেছিল সেদিন তিনজনের সংসার। তারপর থেকে সব যেন হু-হু করে পালটাতে শুরু করল। ঘরের আসবাবের সঙ্গে সঙ্গে মনগুলোও বদলে যেতে থাকল দিনে দিনে। ব্রজ যেদিন প্রথম ঘুষ খায় সেদিন পকেট ভর্তি টাকা নিয়ে প্রচণ্ড ভয়ে বাড়ি ফিরেছিল। খালি মনে হচ্ছিল কে যেন ওকে ফলো করছে। সে সব দেখেছে, সব কিছু। একা থাকলেই মনে হত একটা ছায়ামূর্তি পেছন থেকে সবসময় ওকে দেখছে।

    দিন দুয়েক পর আরতি খবরের কাগজ মোড়া টাকার গোছাটাকে তোশকের তলা থেকে বার করে ব্রজর সামনে বলেছিল, ‘এভাবে কেউ রাখে!’

     

     

    ধরা পড়ে থরথর করে সেদিন কেঁপে উঠেছিল ব্রজ। কিন্তু আরতি আর কিছু বলেনি।

    তারপর আর একটু, আরও একটু…একদিন পিছনে লেগে থাকা ছায়ামূর্তিটা উধাও হয়ে গেল। পাঁচটা-ছ’টা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আরতির নামে সল্টলেকে একটা ফ্ল্যাট, এখন ফাঁকা পড়ে থাকে। রিটায়ারমেন্টের পর শিফট করবে। প্রচুর সুখের নীচে কখন যে সজল অন্যভাবে বেড়ে উঠেছিল, টেরও পাইনি দুজনে। প্রথম ধাক্কাটা এল পুজোর সপ্তমীর রাত্রে। মাঝরাতে ডানকুনি থানার ওসি ফোন করেছিল। সজল লকআপে। পরদিন ভোরবেলায় ছাড়াতে দৌড়েছিল ব্রজ। হেড লাইট, ক্লাচ ভাঙা বাইকটা থানায় রাখা ছিল।

    ‘ছেলে এই বয়েসে নেশা করছে, একটু নজর দিন।’

    মাথা নীচু করে অপমান গিলে সজল আর ওর দুটো বন্ধুকে ছাড়িয়ে এনেছিল। বাড়ি ফিরে চড়টা সপাটে কষাতে গিয়ে ব্রজ দেখেছিল সজল বড় হয়ে গেছে, বেশ অনেকটা। হাত নেমে গেছিল। পরের কয়েক দিন অতিরিক্ত শাসন। তারপর আবার যে যার জগতে।

     

     

    ‘ব্রজদা এত ভেব না। সব ঠিক হয়ে যাবে।’

    ‘উঁহু…না না ভাবছি না।’

    ‘ছোটভাই হিসেবে একটা কথা বলছি কিছু মনে কোরো না, সজল এবার বাড়ি ফিরলে একটু খেয়াল রেখো। মানে ওর বন্ধু-বান্ধবগুলো…’ ইঙ্গিতটা দিয়ে থেমে গেল সমীর।

    বন্ধু! সজলের নতুন বন্ধুদের প্রথম দেখেছিল পার্ক স্ট্রিটের রেস্তোরাঁয়। সজলের জন্মদিনের পার্টি সেবার ওখানে হয়েছিল। প্রচুর উড়িয়েছিল ব্রজ। অফিস কলিগ, বন্ধু-বান্ধব আর দু-চারজন হাই র‌্যাঙ্কের অফিসার নিয়ে ভালোই জমে উঠেছিল সন্ধেটা। রাত্রি ন’টা নাগাদ তিনটে গাড়ি চেপে সজলের বন্ধুরা এল হইহই করে। কয়েক মুহূর্তে পরিবেশটা হুড়মুড় করে বদলে গেছিল। এরা কারা! সজলের বন্ধু?…সজল! কী বিচিত্র তাদের পোশাক, কথাবার্তা, হাবভাব, ‘হাই আংকল, হ্যালো আংকল।’ ব্রজ ঠোঁটে জোর করে হাসি টেনে ওদের উত্তর দিচ্ছিল। হঠাৎ একটা চাবুক যেন ওর গোটা শরীরে আছড়ে পড়েছিল। কী যেন নাম ছিল মেয়েটার? সিঙ্কি। হাঁটু পর্যন্ত কাটা লতপত করা জিনসের প্যান্ট আর বগলকাটা জ্যালজ্যালে শার্ট পড়ে ব্রজর সামনে এসে বলেছিল, ‘হাই! আমি সিঙ্কি।’

    ব্রজ উত্তর দিতে পারেনি। সাদা মশারির মতো জামার ভেতর দিয়ে ঝকঝকে কালো ব্রেসিয়ার, গভীর নাভি, ঠেলে আসা বুক। ছেলের বান্ধবীকে দেখে শরীরের নীচে একটা মোচড় খেয়েছিল ব্রজ। ভুরুর নীচে গয়না পরা, চোখে নীল কনট্যাক্ট লেন্স, বাঁ-হাতে চুড়ির মতো করে পরা রুদ্রাক্ষ আর ডান হাতে…।

    ‘এ কী!’ বলে শিউরে উঠেছিল ব্রজ। মেয়েটার ডান হাতে মোটা ট্রান্সপ্যারেন্ট প্লাস্টিকে ভরা একটা সাপ।

    ব্রজর পাশে থাকা আরতিও প্রায় চিৎকার করে উঠেছিল, ‘ও মা: ও কী!’

    ‘ডোন্ট ওয়ারি আন্টি, ইটস মাই লাভলি স্নেকি, জানিস সুজু আজ ইভিনিংয়ে বিজয় এটা গিফট করেছে। হোয়াট এ লাভলি সারপ্রাইজ!’

    প্যাকেটটা উঁচু করে তুলে ধরেছিল মেয়েটা। প্যাকেটে ভরা খানিকটা জলের মধ্যে মেটে রঙের প্রাণীটা নির্জীব হয়ে পড়ে আছে।

    আর একটু পরেই আরতি বলেছিল, ‘বাড়ি যাব।’

    ব্রজরও প্রচণ্ড অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু উপায় ছিল না। ছেলের রিকি মার্টিন, ব্রিটনি স্পিয়ার বন্ধুদের উদ্দাম নাচগান ওই সাপটার মতো পেঁচিয়ে ধরে রেখেছিল ওদের, যতক্ষণ না ছেলেমেয়েগুলো নিজেরা ক্লান্ত হয়।

    গভীর রাতে বাড়ি ফিরে আরতি প্রায় কেঁদে ফেলেছিল, ‘এরা তোর বন্ধু সুজু।’

    ‘হ্যাঁ, কেন?’

    ‘কেন মানে, এরা মানুষ!’

    ‘আশ্চর্য কথা বলছ! মানুষ নয়তো কী?’

    ‘আমি যেন ভবিষ্যতে তোকে এদের সঙ্গে মিশতে না দেখি।’

    ‘দেখো মা, আমার ব্যাপারে নাক গলাতে এসো না।’

    আরও গড়াত। ব্রজ তাড়াতাড়ি ব্যাপারটাকে সামলে নিয়েছিল। রাত্তিরে আরতিকে বলেছিল, ‘ওসব নিয়ে ভেব না। উঠতি বয়স। এখন একটু-আধটু এরকম হবেই। পরে ঠিক হয়ে যাবে।’

    ‘কী ঠিক হয়ে যাবে?’

    প্রশ্নটা উত্তরে আটকে গেছিল ব্রজ।

    ‘চলো ব্রজদা, এগোতে হবে।’

    সমীরের কথায় হুঁশ ফিরল ব্রজর। প্ল্যাটফর্মে নেমে দম আটকে এল। এত ভিড়! এত মানুষ! পা ঘষে ঘষে এগোতে এগোতে বুকের খাঁচাটা যেন চেপে আসতে লাগল।

    ‘কী হল ব্রজদা, শরীর খারাপ লাগছে?’

    ‘নাহ, ঠিক আছে।’

    ‘আর বোলো না। সারাদিন ধরে মানুষগুলো এইভাবেই ছুটছে, কোথায় যে আলটিমেট পৌঁছোতে চায়…!’

    ব্রজ উত্তর দিল না। কোনওরকমে গেটটা পার করে সফট ড্রিংকস কর্নারে এসে দাঁড়াল।

    ‘দুটো কোক দেখি।’

    ‘আমি খাব না ব্রজদা। তুমি খাও।’

    ‘কেন?’

    ‘ক’দিন ধরে টনসিলটা ভোগাচ্ছে।’

    ব্রজ পুরো বোতলটা ঢকঢক করে খেয়ে নিল। একটা ঢেঁকুর উঠল। এখন একটু আরাম লাগছে।

    ‘তুমি তো ট্যাক্সিতে যাবে। আমি তাহলে হাঁটা লাগাই।’

    ‘কোথায় যাবি?’

    ‘এই তো ক্যানিং স্ট্রিটে। মাল কেনার আছে কিছু।’

    ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’

    সমীর ভিড়ের মধ্যে মিশে গেল। ব্রজর ইচ্ছে ছিল বাসে যাবে। কিন্তু ট্রেনের মধ্যেই সেই সাহসটা উবে গেছে। কিছুতেই সম্ভব নয়। অত সহজে বোধহয় পুরোনো নিজেকে ফেরানো যায় না। স্টেশন পেরিয়ে ট্যাক্সিতে চেপে বসল ব্রজ।

    তিন

    ভিজিটিং আওয়ার শুরু হতে আরও মিনিট কুড়ি বাকি। চেয়ারে বসেছিল ব্রজ। এই হাসপাতালের ভেতরটায় এমন সুন্দর একটা নরম স্বপ্নের মতো মায়াবী আলো ছড়িয়ে থাকে, মনে হয় অন্য কোনও জগৎ। সজল কি আজকে কথা বলবে? এ ক’দিনের মধ্যে সজল ব্রজর সঙ্গে একটা কথাও বলেনি। অবশ্য শুধু কি ক’দিন! বাপ-ছেলের মধ্যে প্রকৃত কথা ধীরে ধীরে কবে বন্ধ হয়ে গেছিল! সজল কমার্স নিয়ে নাইট কলেজে ভর্তি হয়েছিল। প্রথম প্রথম রাত্রি সাড়ে ন’টা-দশটা। তারপর এগারো-সাড়ে এগারো-বারো। কখনও ফোন করে বলে দিত, ‘ফিরব না।’

    ‘কেন?’

    ‘বন্ধুর বাড়িতে পার্টি আছে। কাল কলেজ করে ফিরব।’

    নাগালের বাইরে চলে গেছিল। সজলের সেই বন্ধুদের আর একবার দেখেছিল ব্রজ নন্দন চত্বরে। সেবার শাঁসালো একটা পার্টি পাওয়া গেছিল। নন্দনের সামনে বিকেল চারটেয় টাইম ছিল ফাইনাল কথাবার্তার। একটু আগেই পৌঁছে গেছিল ব্রজ। গাছতলায় বসে সিগারেট টানছে হঠাৎ, ‘হাই আংকল!’

    দেখেই চিনেছিল ব্রজ। ভুরুতে গয়নাপরা সেই মেয়েটা। স্কিনটাইট কালো হাত কাটা গেঞ্জি আর হাঁটু পর্যন্ত জিনসের প্যান্ট। সঙ্গে একটা ছেলে। পনিটেল করা চুল, কাঁধে গিটার।

    ‘আপনি এখানে?’

    ‘অ্যাঁ…ওই…একজনের আসার কথা আছে। তারপর তোমাদের খবর কী?’

    ‘ফাইন!’

    ‘কী করছ এখন?’

    ‘জাস্ট এনজয়িং লাইফ।’

    ব্রজ হঠাৎ একটু মর্ডান কায়দায় উপদেশ দিয়ে ফেলেছিল। ‘বাট ডোন্ট ওয়েস্ট ভ্যালুয়েবল টাইমস।’

    সবুজ কনট্যাক্ট লেন্স লাগানো চোখে হাসির ঝিলিক দিয়ে মেয়েটা বলেছিল, ‘উই নেভার ওয়েস্ট টাইম আংকল, র‌্যাদার টাইম ওয়েস্টস আস।’

    পুরোপুরি চুপসে গেছিল ব্রজ চক্রবর্তী, যার কাছে বড় বড় কোম্পানির কর্তারা কুকুরের মতো লেজ নাড়ে, একটা হাঁটুর বয়েসি মেয়ের কাছে এমন সপাট শব্দের লাথি হজম করতে পারেনি। ওরা চলে যাওয়ার পরেই মুখ থেকে একটা কাঁচা খিস্তি বেরিয়ে এসেছিল। পরক্ষণেই মনে হয়েছিল, যাহ, হাজার হোক ছেলের বন্ধু সম্পর্কে…ধুস শালা ছেলে।

    ব্রজর পাশে বসে থোকা আধবুড়ো লোকটা বোধহয় খিস্তিটা শুনে ফেলেছিল। ঠোঁটের ফাঁকে মিটমিটে হাসি এনে জিগ্যেস করেছিল, ‘চেনেন এদের?’

    ‘হুঁ!’

    ‘পাশের ছেলেটাকেও চেনেন?’

    ‘না।’

    ‘সে কী? চেনেন না!’

    ভালো লাগছিল না কথা বলতে। কিন্তু তবু একটা কৌতূহল সুড়সুড় করছিল।

    ‘কেন? কে?’

    ‘হে, হে, ব্যাটাছেলে রক্ষিতা।’

    ‘মানে!’ ভুরু কুঁচকে উঠেছিল ব্রজর।

    ‘মেয়েটাকে তো জানেনই, কোটিপতি বাপের স্পয়েল্ট প্রাোডাকশন। আর ছেলেটা সাদিসুদা, হিন্দমোটরে বাড়ি। ও ব্যাটাকে এই হারামজাদি নিজের শখ মেটনোর জন্য ফুসলে তুলে এনে আলাদা ফ্ল্যাটে রেখেছে। যখন যা চায় তাই দেয় আর ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে, সেই আগেকার দিনের বাবুদের মতো। শালা ছেলে হয়ে…লজ্জাও করে না…ছ্যা:!’

    দোতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে ব্রজ টের পেল ওর হাতের তালু ঘামে ভিজে উঠেছে। ফলের প্লাস্টিকটা শক্ত করে ধরল। সজল আজকে কথা বলবে?

    সবুজ পর্দাটা সরিয়ে কেবিনে গিয়ে আবার বেরিয়ে এল ব্রজ। সজল বিছানার ওপর বেডপ্যানে বসে। দুজন আয়া ধরে রয়েছে ওকে। মিনিট দশেক পরে একজন আয়া বাইরে এসে বলল, ‘যান ভেতরে।’

    সজল চিৎ হয়ে শুয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়েছিল। ব্রজ ঢোকার পরেও একবার পাশ ফিরে তাকাল না। ফলের প্যাকেটটা মিটসেফের ওপর রেখে চেয়ারে নি:শব্দে বসল ব্রজ। দুজনেই বেশ কিছুক্ষণ চুপ। তারপর গলা খাঁকরে মিনমিন করে বলল ব্রজ, ‘কেমন আছিস আজকে?’

    কাঁপা হাতে সজলের হাতটা মুঠোয় নিল ব্রজ। ঠান্ডা হাত, সজল তাকাল না।

    ‘প্লিজ!’ শব্দটা গলা দিয়ে বেরোতে গিয়েও কীসে ধাক্কা খেয়ে ভেতরে চলে গেল।

    দিন পনেরো আগে রাত্রি সাড়ে এগারোটায় বাড়ি ফিরেছিল সজল। ব্রজ ভেবেই নিয়েছিল আজ একটা এসপার-ওসপার করতে হবে। সজলের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই ক্রোধটা বারুদের মতো দপ করে উঠেছিল। ‘শুয়োর, মদ খেয়ে মাঝরাতে বাড়ি ঢুকছ। বেরোও, বেরোও বাড়ি থেকে।’

    সজল ভালো করে তাকাতে পারছিল না। ‘কেন, খেয়েছি তো কী হয়েছে, তুমি খাও না?’

    ‘শাট আপ রাস্কেল, আমার পয়সায় এখানে এসব চলবে না।’ আরতি বাধা দিতে গিয়েছিল। এক ধাক্কায় সরিয়ে দিয়েছিল ব্রজ। ‘গেট আউট!’

    ‘আরে ধোর, চোখ রাঙাচ্ছ কাকে? এ-বাড়ির দরজায় আমি মুতি শালা।’

    ‘আরতি ওটাকে দূর করো। একটা নোংরা কুলাঙ্গারকে পয়সার শ্রাদ্ধ করে জান ঢেলে বড় করছি…’

    ‘এই শোনো’, আঙুলটাকে ব্রজর মুখের সামনে তুলেছিল সজল। ‘ওসব পয়সার গল্প শুনিও না।…শালা ঘুষের পয়সা তার আবার শ্রাদ্ধ…কী…কী করেছ আমার জন্য অ্যাঁ…? তোমরা সব শালা বিট্রে করেছ আমার সঙ্গে…’ বলতে বলতে বেরিয়ে গেছিল সজল। মোটরবাইকের শব্দটা মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ব্রজ চিৎকার করেছিল।

    রাত্রি একটা নাগাদ ফোন এসেছিল পিজি থেকে। কোনা এক্সপ্রেস ওয়েতে সজল অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। দু-দিন পর জ্ঞান ফিরেছিল সজলের। প্রাণে বেঁচে গেছে একটুর জন্য। কপালে তিনটে স্টিচ, কোমর আর হাঁটুতে ফ্র্যাকচার। ব্রজর কাঁধে হাত রেখে ডাক্তার বলেছিলেন, ‘ডোন্ট ওয়ারি, এখন আউট অব ডেনজার। তবে মাস ছয়েকের জন্য পুরো বিছানায় ধরে নিন।’

    ‘ছ’মাস!’

    ব্রজর অনুচ্চারিত প্রশ্নটা বোধহয় শুনতে পেয়েছিলেন ডাক্তার। মৃদু হেসে বলেছিলেন, ‘এটাকে একটা সুযোগ হিসেবেও ভাবতে পারেন। দেখুন বাড়িতে থাকলে হয়তো পালটে যেতে পারে, যা জেনারেশন এখন। বাপ-মা মুখে রক্ত তুলে খাটবে আর এরা সব…টোটালি ফিলিংলেস।’

    চার

    সন্ধে সাতটায় বাড়ি ফিরল ব্রজ। আরতি ব্যালকনিতে বসেছিল। দেখা মাত্র ছুটে এল।

    ‘কী গো কেমন?’

    ‘ঠিক আছে।’

    আরতি একটু চুপ করল। তারপর আস্তে আস্তে জিগ্যেস করল, ‘কথা বলেছে আজকে?’

    ব্রজ উত্তর দিল না।

    ‘বলেনি?’

    ‘আহ আরতি, ভালো লাগছে না। তোমার ছেলে কথা বলুক না বলুক কিস্যু এসে যায় না আমার। নিজে দোষ করেছে, ফল ভুগছে। আমি কী করতে পারি?’

    আরতি আর কিছু বলল না। পায়ে পায়ে কিচেনের দিকে গেল।

    ব্রজর মাথা দপ দপ করছিল। শাল্লা এখনও বাপের পয়সায় ট্রিটমেন্ট করতে হচ্ছে তার ওপর আবার রোয়াব দেখানো! থাকত পড়ে সরকারি হাসপাতালে, সব টেম্পার বেরিয়ে যেত।

    জামাকাপড় ছেড়ে বাথরুমে ঢুকল ব্রজ। বাথরুমটা দারুণ সাজানো। দেওয়ালে মেঝেতে দুধ সাদা মার্বেল। এক কোণে কাচ দিয়ে ঘেরা স্নান করার জায়গা। বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে বিশাল আয়নাটার দিকে তাকাল ব্রজ। চোখ সরিয়ে নিতে গিয়েও আবার তাকাল। খুঁটিয়ে দেখল নিজেকে। নিজের চোখের দিকে বেশ কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। রাগটা বন্ধ ঘরের ভেতর গুমগুম শব্দ করছে, মুখ বিকৃত করে বলে উঠল, ‘ধ্যার শা…হ’ তারপর কাচের দরজা খুলে হ্যান্ড শাওয়ার চালিয়ে দিল।

    ডাইনিং টেবিলের ওপর চা রেখে বসেছিল আরতি। ব্রজ বাথরুম থেকে বেরিয়ে সটান ফ্রিজ খুলে হুইস্কির বোতল, গ্লাস আর এক জগ জল নিয়ে এসে আরতির মুখোমুখি বসল। আরতি একবার তাকাল। কিছু বলল না।

    বড়সড়ো দুটো পেগ মেরে তিন নম্বরের বেলায় আরতির দিকে আড়চোখে তাকাল ব্রজ। হালকা হলুদ রঙের স্লিভলেস নাইটি পরে রয়েছে। ফরসা চকচকে নিটোল হাত টেবিলের ওপর জড়ো করে রাখা। এখনও আরতির চেহারা দেখার মতো। দেখে কে বলবে ছেলে কলেজে পড়ে! অফিস পার্টিতে আরতিকে নিয়ে গেলে ব্রজর দাম আরও বেড়ে যায়। মাথাটা একটু ঝিমঝিম করতে শুরু করেছে। ভার হালকা হচ্ছে ধীরে ধীরে।

    ব্রজ গলা খাঁকরে বলল, ‘আজ ট্রেনে সমীরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল।’

    আরতি চুপ।

    ‘অনেকদিন পর কথা হল। ভালো ছেলেটা। কিছু করে উঠতে পারল না।’

    ‘আর খেয়ো না।’

    ‘নাহ।’

    ‘খাবার বাড়ব?’

    ‘নাহ খেয়ে এসেছি।’

    আরতি উঠে দাঁড়াল। ব্রজ উঠতে গিয়ে টাল খেল একবার। ফ্রেশ রিমঝিমে আরাম লাগছে শরীরে।

    নরম সবুজ আলো জ্বলছে বেডরুমে। ব্রজ কিছুক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে আরতির দিকে ঘেঁষে এল। মুখের সামনে মুখ নিয়ে গিয়ে বলল, ‘কিচ্ছু চিন্তা কোরো না। সব ঠিক হয়ে যাবে।’ তারপর আরও একটা-দুটো অকারণ কথা বলে আরতির নাইটির বুকের বোতামে হাত দিতেই ছিটকে সরে গেল আরতি।

    ‘কী করছ!’

    ‘কী আবার করছি!’

    ‘তোমার…তোমার লজ্জা করে না?’

    ‘কেন?’

    ‘ছেলেটা হসপিটালে রয়েছে, আর…’

    ‘তার জন্য আমি দায়ী? আমার দোষ, অ্যাঁ?’

    ‘তুমি…সত্যিই…ছি:’ পাশ ফিরে কুঁকড়ে শুল আরতি।

    ‘হ্যাঁ, ছি: তো বলবেই।’ আহত বাঘের মতো গর্জে উঠল ব্রজ। এতদিন ধরে আরামে মায়েপোয়েতে খাচ্ছ, ওড়াচ্ছ যার জন্য, এখন তাকে ছি: বলবে না?…শাললা!’ কপালের রগ ছিঁড়ে পড়ছে যেন।

    ‘অ্যাই শোনো, এদিকে শুনে রোখো’, আরতিকে ধাক্কা দিল ব্রজ। ‘আমার আর টাকা নেই ছেলেকে বড় হাসপাতালে রাখার। কাল ওকে মেডিকেলে ভর্তি করে দেব।…ইয়েস আই উইল ডু ইট।’ বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল ব্রজ। গোটা শরীর কাঁপছে। টলতে টলতে বাথরুমে গেল।

    বাথরুমের পাশে সজলের ঘর। দরজা বন্ধ। কী মনে করে ব্রজ আস্তে আস্তে ওদিকে গিয়ে সজলের বন্ধ দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। কুটকুটে অন্ধকার ঘরটা। সুইচবোর্ডটা যেন কোন দিকে? বাঁদিকে হাতড়াল ব্রজ। পেল না। তারপর ডান দিকে দেওয়াল ছুঁয়ে ছুঁয়ে দু-পা যেতে সুইচবোর্ডে হাত পড়ল। প্রথম সুইচে শুধু খুট শব্দ। দ্বিতীয়টায় পাখা। তিন নম্বরে টিউব জ্বলে উঠল। পরিষ্কার করে পাতা বিছানা-বালিশ। খাটের পিছনে কাঠের দেওয়াল আলমারি। ব্রজ ওটার কাছে গেল। একটু থামল। তারপর বহুকাল পরে ছেলের নিজস্ব আলমারির দরজা খুলল। একটা র‌্যাক ভর্তি ম্যাগাজিন, বইপত্র। দ্বিতীয়টায় ক্যাসেট, সিডি। ব্রজ কেমন যেন ঘোরের মধ্যে অকারণ একটার পর একটা সিডি বার করে দেখতে থাকল! বেশির ভাগই ইংরেজি। কিছু হিন্দি, একটা রিকি মার্টিনের সিডি-অ্যালবাম। প্যাকেটের গায়ে লেখা, ‘উইথ বেস্ট উইশেস টু মাই সন অন হিজ বার্থ ডে—বাবা, টু থাইজেন্ট টু’। সিডিটাকে বিছানার ওপর রাখল ব্রজ। তারপর ক্যাসেটগুলো ঘাঁটতে শুরু করল। ম্যাডোনা, মাইকেল জ্যাকসন, দালের মেহেন্দি, কাঁটা লাগা, ধুম মচা দে সরাতে সরাতে একেবারে এক কোণে যেখানে টিউবের আলো পৌঁছোয়নি, সেখানে হাত বাড়াল ব্রজ। হয়তো সজলের একান্ত গোপন কিছু লুকোনো আছে। ক্যাসেটে হাত ঠেকল। বার করে আনল ব্রজ। প্লাস্টিকের কভার। দীর্ঘ দিনের অব্যবহারের ঝাপসা হয়ে গেছে। ক্যাসেট খুলে ভেতরের ছবিটা বার করে আনতে আনতে হাতটা শিরশির করে উঠল ব্রজর। কিশোরকুমারের রবীন্দ্রসংগীত। ভেতরে বিবর্ণ হয়ে আসা ঝরনা কলমে লেখা ‘সুজুর জন্মদিনে বাবা, উনিশো নিরানব্বই’।

    নিজের ঘরের দিকে এল ব্রজ। গলার কাছটা বিষ তেতো। ভেতরে কী যেন একটা দুমড়ে-মুচড়ে দলা পাকিয়ে রয়েছে। দরজা খুলে ঢুকতেই থমকে গেল। আরতি বিছানায় বসে রয়েছে। হাঁটু দুটো বুকের কাছে জড়ো করা।

    ব্রজ কিছু বলল না। পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল। এত অস্থির লাগছে।

    আরতি মিহি গলায় বলল, ‘কী গো?’

    ব্রজ উত্তর দিল না।

    ‘অ্যাই!’

    ‘উ:!’

    ‘রাগ করেছ আমার ওপর?’

    ‘না!’

    ‘হ্যাঁ করেছ!’ বলেই আচমকা কিশোরী মেয়ের মতো ব্রজর বুকে ঢলে পড়ল আরতি। ব্রজ ভুরু কুঁচকে আরতির দিকে তাকাল।

    ‘খুব রাগ না!’ আরতির গলায় আদুরে বেড়ালের মতো সোহাগ।

    ব্রজকে ঘাঁটতে শুরু করল আরতি।

    ‘আহ ভালো লাগছে না আরতি।’

    ‘হ্যাঁ ভাল্লাগছে।’

    ‘প্লিজ!’

    ‘না!’

    খানিকক্ষণের চেষ্টায় সফল হল আরতি। ব্রজ ধীরে ধীরে বাঁধল আরতিকে। আজকে আরতি যেন বেশি উচ্ছ্বল, ব্রজও আরতিকে প্রাণপণ আকঁড়ে ধরে শরীর নয় অন্য কী যেন অস্থিরভাবে খুঁজে যাচ্ছিল। চূড়ান্ত মুহূর্তটার দু-এক কদম আগে আরতি হঠাৎ থিরথিরে গলায় বলে উঠল, ‘হ্যাঁ গো, ছেলেটাকে ট্রান্সফার করবে না তো?’

    দেশ

    জুন ২০০৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল
    Next Article রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    Related Articles

    বিনোদ ঘোষাল

    রূপনগরের পিশাচিনী – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    বিনোদ ঘোষাল

    কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }