Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    কৌশিক মজুমদার এক পাতা গল্প38 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তৃতীয় অধ্যায়—রেলপথগামী

    দার্জিলিংয়ে যখন প্রথমবার বড়ো বড়ো টি এস্টেট গড়ে উঠল, প্রায় তখনই কলকাতা থেকে নিয়মিত তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত নির্দেশ আর চিঠি-চাপাটি পাঠানোর প্রয়োজন বোধ করলেন ইংরাজ বাহাদুর। বছর বিশেক হল দার্জিলিং মেল নামে এক ট্রেন সেইসব চিঠিচাপাটি আর বেশ কিছু সওয়ারি নিয়ে রোজ শিয়ালদহ থেকে শিলিগুড়ি যায়। যেদিনের কথা হচ্ছিল, সেদিন শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বিকেলে ট্রেন ছাড়তে মিনিট পনেরো দেরি হল। আসলে ছোটোলাট গ্রীষ্মাবকাশে সপরিবার দার্জিলিং যাচ্ছেন। তাঁরা তখনও এসে পৌঁছোননি। সুসজ্জিত সেলুনকার অপেক্ষা করছে তাঁদের জন্য। সস্ত্রীক যুবক বাক্সপ্যাঁটরা নিয়ে সেকেন্ড ক্লাসের এক কামরায় নিচের এক বেঞ্চি আর উপরের বাঙ্কে বিছানা পেতে গুছিয়ে বসল। গাড়ি ছাড়ার আগেই টিকিটচেকার এসে তাঁদের টিকিট চেক করে গেলেন।

    “শ্রীযুক্ত তারিণীচরণ রায় আর শ্রীমতী মাখনলতা রায়? ঠিক কি না?”

    “আজ্ঞে”, বললে যুবক।

    “তা স্ত্রীর জন্য আলাদা জেনানা কামরার ব্যবস্থা করতে পারতে। এখন তো সবার সঙ্গে যেতে হবে। করে দেব? চার সিকে পয়সা বেশি লাগবে।”

    আগে হলে সে কী বলত জানে না, কিন্তু স্টেশনে কিছু পূর্বে যে নাটক অভিনীত হল, তা মনে করে তারিণী আর স্ত্রীকে চোখের আড়াল করতে সাহস করল না।

    “আজ্ঞে না। উনি আমার সঙ্গেই যাবেন।”

    টিটিবাবুও আর কিছু না বলে বাকিদের টিকিট চেক করতে লাগলেন।

    ঢং-ঢং-ঢং। হি-স, হিস শব্দে ট্রেনের বাঁশি বাজল অবশেষে। গোটা স্টেশন যেন একসঙ্গে জেগে উঠে হুড়োহুড়ি, দৌড়াদৌড়ি, চেঁচামেচি শুরু করল। সব লোহার দরজা ঝনাৎ ঝনাৎ শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। চোঙামুখে ঘোষক সবাইকে লাইন থেকে সরে দাঁড়াতে বারবার অনুরোধ, উপরোধ, আদেশ করতে লাগলেন। প্লেগের ভয়ে গাড়ির সব ক্লাস লোকে পরিপূর্ণ। থার্ড ক্লাসে তিলধারণের সামান্য জায়গা থাকলেও লোকধারণের সত্যিই স্থানাভাব। কেউ চড়ে উঠতে গেলেই ভিতর থেকে আওয়াজ উঠছে”আর জায়গা নাই”। ভিতরে”আরে কোতায় বসচ?”

    “আমার বুচি? আমার বুচিকে দাও”, রবে মহা শোরগোল বেধেছে। এরই মধ্যে গাড়ি চলতে শুরু করতেই দুইজন ফিরিওলা সেকেন্ড ক্লাসের একদিকের দরজা খোলা পেয়েই লাফিয়ে উঠে ধপাস করে দরজা আটকে”হরকরা চাই মশাই! হরকরা সার, হরকরা”, “ডেলিনুস সার! ডেলিনুস” বলে পত্রিকা বেচতে শুরু করলে। অন্যজন নেচে নেচে গান গেয়ে ভিক্ষা করতে লাগল। গানের গলাটি ভারি মিষ্টি।

    হৃদয়মাঝে কল আছে
    নিচে কলের যোগ রয়েছে
    চার দিকি চার ডাল গেছে মানুষ
    নাশায় নাশায় পবন বইতেছে

    কামরায় সব মিলিয়ে চারজন। উপরের বাঙ্কে এক কাবুলি উঠেই পিছন ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছে। নিচে সোনার রিমওয়ালা চশমা, সরু ছাঁটা গোঁফ আর সাহেবি পোশাক পরা এক যুবক জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বার্ডস-আই সিগারেট ফুঁকছিল। খানিক গান শুনেই ‘ডিসগাস্টিং’ বলে এমন হাতঝাড়া দিলে, বেচারি কোনওমতে পালিয়ে বাঁচল। তারিণী একখানা সম্বাদ কৌমুদী কিনল আর সেই যুবক একটা স্টেটসম্যান মুখের সামনে ঝুলিয়ে বসল। শুধু পত্রিকার ফাঁক দিয়ে মাঝেমধ্যেই সিগারেটের ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উপরের দিকে উঠছিল।

    এদিকে গড় গড়, খড় খড়, ঝর ঝর, ঢং ঢং রবে ট্রেন ব্যারাকপুর, নৈহাটি জংশন, কাঁচরাপাড়া, রানাঘাট জংশন, দর্শনা, চুয়াডাঙা, পোড়াদহ জংশন পেরোতে লাগল। প্রতি স্টেশনেই হাঁকডাক, হাঁসফাঁস, হন হন, হট হট। তারিণীর বউটির জীবনে এই প্রথম রেলযাত্রা। সে অবাক বিস্ময়ে জানলা দিয়ে গাড়ির ডানে বামে কত মাঠ ঘাট, বন জঙ্গল, নদী নালা, গ্রাম শহর, মন্দির মসজিদ, কুটির ইমারত দুচোখ ভরে দেখতে লাগল। তারিণী বুঝল যে শোকের বাষ্প তার স্ত্রীর হৃদয়ে জমা হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে।

    দামুকদরিয়া ঘাটে পৌঁছোবার ঠিক আগে সামনের যুবক, যেন তারিণীর পিছনের জানলাকেই প্রশ্ন করছে, এমনভাবে জিজ্ঞেস করলে”গোয়িং ফার?” আর তারপরেই যেন নিজের ভুল বুঝে বললে, “বলি যাচ্ছেন কোথায়?”

    তারিণী একটু হেসে জবাব দিলে, “দার্জিলিং।”

    “প্রথমবার?”

    “আজ্ঞে।’

    “সেটাই মনে হচ্ছিল। তা বায়ু পরিবর্তন? প্লেগের ভয়? নাকি হানিমুন?” বলেই ফিচ করে যে হাসিটি দিল তাতে যে একটা অসভ্য নির্লজ্জ ভাব ছিল, তা বুঝতে তারিণীর বেগ পেতে হল না।

    “ওই একরকম।” তারিণীর বিরক্তি বাড়ছিল।

    “গিয়ে কোথায় থাকা হবে? এলগিন হোটেলে?”

    তারিণী কথার শেষটুকু ধরতে পারল। কোচবিহারের মহারাজার এই বিলাসবহুল প্রাসাদটি বছর কয়েক আগে ইংরেজ বাহাদুর লিজ নিয়েছেন তাঁদের বড়ো বড়ো অভিজাত আর উঁচুতলার অফিসারদের জন্য। নেটিভদের এই হোটেলে থাকা দূরস্থান, ঢোকাই নিষিদ্ধ। তারিণী তবু গায়ে না মেখে বলল, “আজ্ঞে না। বন্ধুর বন্ধুর বাড়ি আছে ওখানে। সেখানেই ঠাঁই নেব।”

    “সমস্যা হলে আমায় বলতে পারেন। মাথা গোঁজার বন্দোবস্ত করে দিতে পারি। আমি গ্লেনডেল টি এস্টেটের জুনিয়র ম্যানেজার, বুঝলেন কিনা। জর্জ উইলিয়ামসন সাহেবের চা-বাগান। নাম শুনেছেন তো?”

    তারিণী পাশাপাশি মাথা নাড়ল। শোনেনি।

    এক অবজ্ঞার হাসি ফুটে উঠল যুবকের মুখে।”মশাইয়ের কী করা হয়?”

    “আজ্ঞে তেমন কিছু না।”

    “আরে কিছু তো করেন। বিয়ে যখন করেছেন, নিশ্চয়ই সংসার চালাবেন ভেবেই করেছেন।”

    “বাঁধা কোনও কাজ নেই। যখন যেমন যা কাজ আসে, করি।

    “মশাইয়ের লেখাপড়া?”

    “আজ্ঞে ইন্টার পাশ করেছি।”

    যুবকটি ঝড়াক করে চামড়ার হাতব্যাগ খুলে একটা কার্ড বার করে বলল, “এটা রাখতে পারো। আমাদের চা বাগানের কুলি কামিনদের খাটানোর জন্য ওভারসিয়ার লাগে মাঝে মাঝেই। যদি অ্যাপ্লাই করো, আমি সায়েবকে বলে কয়ে তোমার একটা ব্যবস্থা করতে পারি।”

    আপনি থেকে তুমিতে নামতে যুবকের এক মুহূর্ত লাগল না। হাবেভাবে মনে হয় সে যেন এখনই তারিণীর বড়োসাহেব হয়ে বসেছে।

    “আমার নাম কুমুদরঞ্জন ভট্টাচার্য। ওখানে সবাই ভট্টবাবু বললেই একডাকে চিনবে। ভেবে দেখো, হাতে সময় আছে। চাই কি, দার্জিলিং থেকে আর কলকাতায় ফিরলেই না। আমার চা বাগানে এসে কাজে জুতে গেলে।”

    এই গোটা আলোচনা কতক্ষণ এভাবে চলত জানা নেই। কিন্তু দামুদরিয়া স্টেশনে এসে গাড়ি থামতেই যুবক, “এই রে! ঘাটে পৌঁছে গেছি!” বলে সাততাড়াতাড়ি জিনিসপত্র গুছিয়ে তড়াক করে ট্রেন থেকে নেমে গেল। তারিণীকে প্রিয়নাথ আগেই রাস্তার কথা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এই দামুদরিয়া ঘাটেই দার্জিলিং মেলের ব্রডগেজ যাত্রা শেষ। এবার পদ্মা নদী পেরিয়ে ওপারে সাঁড়াঘাট। ওপারেও এক দার্জিলিং মেল অপেক্ষা করছে। তবে সে ট্রেন মিটারগেজের। পদ্মার দু-পারে দরমার বেড়ার হোটেল। ভেসে আসছে ইলিশ মাছ ভাজার গন্ধ। এখানে সারা বছর ইলিশ মেলে। অন্যদিকে রান্না হচ্ছে দেশি মুরগির গরগরে লাল ঝোল। তারিণী সব মালপত্র লাগেজবাবুর কাছে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে খেতে ঢুকল এক হোটেলে। গরম সাদা ভাতের সঙ্গে কালোজিরে ভাসতে থাকা ইলিশ মাছের ঝোল। সঙ্গে ফিনফিনে করে কাটা দু-এক টুকরো আলু। পাশে মিষ্টি কুমড়োর সরু খণ্ড আর কাঁঠালের বীজ ভাজা। খেতে খেতেই আড়চোখে ভট্টবাবুকে ঘাটের এক কোণে দেখতে পেল তারিণী। ঘাটের একধারে দুটো মশাল গোঁজা। তার পাশে দাঁড়িয়ে বেশ উত্তেজিতভাবে একজনের সঙ্গে কথা বলছে। এই দ্বিতীয় লোকটি চেহারায় বাঙালি নয়। এর খাঁদা নাক আর বাঁকা চোখ দেখে সহজেই গোর্খা বা নেপালি বলে অনুমান করা যায়। ঘাটের ধারে হাত ধুতে গিয়ে ছেঁড়া ছেঁড়া কিছু কথাও কানে এল তারিণীর। এ ভাষা সে আগে কোনও দিন শোনেনি। দুজনেই সেই অবোধ্য ভাষায় তর্ক চালাচ্ছে। ভট্টবাবুর গলা চড়ছে। গোর্খা লোকটি বারবার বোঝানোর বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে। আচমকা হোটেল মালিক হেঁকে উঠল, “স্টিমারে হুইচেল দিছে কত্তা। হক্কলে ছুটেন।” কেউ সদ্য খেতে বসেছে। কেউ আধখাওয়া। কিছু লোক সেই শুনেই সাততাড়াতাড়ি পয়সা মিটিয়ে ছুটল স্টিমারপানে। মাখন খাওয়া থামিয়ে সভয়ে তারিণীর দিকে তাকিয়ে দেখল, সে এসবে ভ্রূক্ষেপ না করে মহানন্দে ইলিশের কাঁটা চিবুতে চিবুতে আরও একবার ভাত ঘুরিয়ে দিয়ে যেতে বলল। পাতে যতক্ষণ মাছ আছে, ভাত ফ্রি।

    মাখনের দিকে চেয়ে তার উদ্‌বেগের কারণ বুঝল তারিণী। একগাল হেসে বলল, “কি গো? ভয় করছে যে স্টিমার আমাদের রেখেই ছেড়ে দেবে? ও কিছু না। সব মিছে কথা। ওই দ্যাখো ও টেবিলে জনা পাঁচেক নিশ্চিন্তে বসে খাচ্ছে। ওরা সব আমাদের ট্রেনেই এয়েছেন। আনাড়ি যাত্রীরা পাছে বেশি খেয়ে ফেলে, তাই তাদের ঠকাতে মালিক এমন বলছে। তুমি নিশ্চিন্তে খাও।”

    .

    স্টিমার ভোঁ দিতে দিতে আরও আধাঘণ্টা। ওঠার সময় মহা হাঙ্গামা। ছোটো স্টিমারে জিনিসপত্র, লোকজন, এমনকী হাঁস মুরগি, ছাগল ইত্যাদি নিয়েও উঠে গেছে অনেকে। ফলে স্থান সংকুলান হওয়া ভার। চারিদিকে শুধু ডাকাডাকি আর হাঁকাহাঁকি। রাত্রি দশটা। নদী পেরিয়ে অপেক্ষাকৃত ছোটো এক রেলগাড়ির সেকেন্ড ক্লাসে উঠল তারিণীরা। রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ মিটারগেজ ট্রেন ছাড়ল। গাড়ি ছাড়ার ঠিক আগে প্রায় হাঁফাতে হাঁফাতে কামরায় ঢুকেই ভট্টবাবু সোজা বাঙ্কে উঠে শুয়ে পড়লেন। তারিণীদের দিকে দৃকপাতও করলেন না। তারিণীরাও শোবার উদ্যোগ করলে। মাখনলতাকে বাঙ্কে তুলে দিয়ে তারিণী নিচের বেঞ্চে শুয়ে আকাশপাতাল ভাবতে লাগল। নিশির ডাকের মতো, প্রেমিকার অমোঘ ডাকের মতো, পরপারে ফেরার ডাকের মতো ঘুম এসে জড়িয়ে ধরল এই নবদম্পতিকে। তাদের অজান্তেই একে একে পেরিয়ে গেল নাটোর, সান্তাহার, হিলি, পার্বতীপুর, নীলফামারি, হলদিবাড়ি, জলপাইগুড়ি। সকালে ঘুম ভাঙতেই তারিণী দেখল গাড়ি শিলিগুড়ি স্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছে। এখানে আবার গাড়ি বদলাতে হবে।

    এখান থেকে দার্জিলিং যে রেলগাড়ি যায়, সেগুলো ছোটো ছোটো ট্রামকারের মতো। ভালো করে বসবার সুবিধে নেই। বাক্সপ্যাঁটরা থাকলে আরও মুশকিল। জানলায় কাঠের পাল্লাও নেই। নেহাত বৃষ্টিবাদলা হলে তা থেকে রক্ষা পাবার জন্য একটা পর্দা কোনওমতে টাঙানো। কিছু দূরেই একটা কাঠের আসনে ভট্টবাবু বসে। দুই ভুরু কুঞ্চিত। মুখ রাগে থমথম করছে। তারিণীর সঙ্গে দুই একবার চোখাচোখি হতেই চোখ সরিয়ে নিলেন।

    এদিকে সুখনা স্টেশন অবধি সমভূমিতে যাবার পর ট্রেন যেন স্বর্গের উদ্দেশে রওনা হল। ইংরেজ বাহাদুরের ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কী অবাক করা কৌশল, মনে মনে ভাবল তারিণী। ছোটো একখানা ইঞ্জিন বীরদর্পে গাড়িগুলোকে নিয়ে এঁকে-বেঁকে উপরের দিকে উঠছে। যেন পিঁপড়ের সারি। হোল্ডঅল খুলে শ্রী হরিমোহন সান্যালের ‘দারজিলিঙ্গের ইতিহাস’ বইখানি খুলে পড়তে শুরু করল তারিণী। বইটি তার প্রয়াত বন্ধু শৈলচরণের কোনও এক আত্মীয়ের লেখা। তারিণীর কাছেই ছিল। এতদিন পড়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। পড়তে পড়তেই সে দেখল সমতল ক্রমে ছোটো হয়ে আসছে। নিচের সবুজ খেত ফেলে দুইদিকে পাহাড়ি ঝোরা, ফার্নের বন, উঁচু উঁচু নাম না জানা গাছ, বিচিত্র লতাপাতা, বাড়ি, পথ, বাগান পেরিয়ে পাহাড়ের বুকের উপর লোহার পথ বেয়ে গাড়ি ছুটে চলেছে। আচমকা স্ত্রীর মুখে “ওই দেখুন দেখুন” শুনে বাইরে তাকিয়ে দেখল একপাল বাঁদর গাছে গাছে ট্রেনটিকে প্রায় ধাওয়া করে চলেছে। মাখনলতা আগে কোনও দিন জঙ্গলের বাইরে বানর দেখেনি। তাই এই সাময়িক উত্তেজনা।

    তারিণী নিজেও যেন সব ভুলে এই প্রকৃতির মধ্যে ডুবে গেল। গাড়ি এক-একবার বাঁক নিচ্ছে, আর প্রতি বাঁকে নতুন নতুন দৃশ্যপট উন্মুক্ত হচ্ছে।”এই দ্যাখো এই পথ নিয়ে সান্যালবাবু কী বলছেন”, বলে তারিণী বই থেকে জোরে জোরে পাঠ করতে শুরু করল, “আমরা বিস্ময়পূর্ণ নেত্রে খমণ্ডলচারী বেলুন-বিহারীর ন্যায় নিম্ন প্রদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখিতেছি, বৃহৎ বৃক্ষের অগ্রভাগ এবং ক্ষুদ্র চা গাছের ডগা, অথবা ক্ষুদ্রতম তৃণ গুল্ম, সমস্ত সমোচ্চ বলিয়া বোধ হইতেছে। যেন পৃথিবী ছাড়াইয়া স্বর্গের তোরণদ্বারে প্রকৃতির রঙ্গভূমিতে সুকৌশলচিত্রিত নব নব দৃশ্যপট উন্মুক্ত দেখিতেছি…” বধূটি কী বুঝল কে জানে, কিন্তু তার স্বামী সব কাজ ফেলে তাকে কিছু একটা পড়ে শোনাচ্ছে, এই ভাবই তার মনকে বিহ্বল করে তুলল। সে অপলকে স্বামীর মুখপানে চেয়ে রইল।

    তিনদরিয়ায় দার্জিলিং রেলওয়ের কারখানার পর গাড়ি এসে দাঁড়াল কার্শিয়াং স্টেশনে। এই স্টেশন বেশ জাঁকালো। পাহাড়ে নানা আকারের সাহেবি বাড়ি, প্ল্যাটফর্মের ধারেই নানা কিসিমের জিনিস ঠাসা দোকান। দোকানে পুতুলের মতো দেখতে গোর্খা মেয়েরা হাসিমুখে বসে ট্রেনযাত্রীদের”কাম স্যার! কাম বাবু” বলে ডাকছে। ট্রেন এখানে বেশিক্ষণ দাঁড়াবে না বলে তারিণীরা আর নামল না, যদিও বধূটির ইচ্ছে ছিল ষোলো আনা। ঠান্ডা বাড়ছে। মাখনলতা বেতের ঝুড়ি খুলে তারিণীকে একটা পশমের সোয়েটার আর খসখসে বাঁদুরে টুপি দিয়ে নিজে একটা আলোয়ান জড়িয়ে বসল। বাঁদুরে টুপি পরার ইচ্ছে তারিণীর বিশেষ ছিল না।”এটা বরং থাক”, বলতেই মাখন এমন এক ভ্রূভঙ্গি করল, তাতে তারিণী আর কথা না বাড়িয়ে টুপি পরে গম্ভীর মুখে বইতে মন দিল।

    এর আধা মাইল পরেই ক্ল্যারেন্ডন হোটেল। এখানে কোনও স্টেশন নেই বটে, তবে সব ট্রেন থামে। সাহেবরা এখানে নেমে বেশ আহারাদি করেন। কিন্তু প্রায় প্রতিটা খাবারই বেশ সন্দেহজনক চেহারার। কোনটা নিষিদ্ধ আর কোনটা নয়, সেই দোনোমনায় শেষ পর্যও তারিণী শক্ত পুরি আর আলুভাজা কিনে নিয়ে এল। এবার গাড়ি ছাড়ার পর জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ল। কে বলবে চব্বিশ ঘণ্টা আগেও গরমে প্রাণ যায় যায়। চারিদিক যেন আপনা থেকেই স্তব্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোনও সাড়া নেই। শুধু ইঞ্জিনখানা গর্জন করে চলেছে, আর তার কুণ্ডলীকৃত ধোঁয়ায় ঢেকে আছে চারদিক। আকাশে মেঘ জমেছে। দূরে ধূসর পর্বতশ্রেণি আর নেমে আসা মেঘের দল। সামনের রাস্তা ধীরে ধীরে কুয়াশায় ঢাকছে। আর এরই মধ্যে দুপুর আড়াইটে নাগাদ গাড়ি ঘুম স্টেশনে পৌঁছাল

    ঘুমে গাড়ি থামতেই যে ঘটনাটা ঘটল, তার জন্য তারিণী কেন, কেউই প্রস্তুত ছিল না। গাড়ির দরজা খোলা মাত্র চার-পাঁচজন গোর্খা হুড়মুড় করে ভিতরে ঢুকে ভট্টবাবুকে প্রায় চ্যাংদোলা করে নিয়ে গাড়ির বাইরে বার করে আনল। ভট্টবাবু বিজাতীয় ভাষায় কী সব যেন বলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন। গোর্খারা আকারে ছোটো হলেও বলবান। তারা ভট্টবাবুকে ঘুম স্টেশনের মাটিতে ফেলে কিল চড় ঘুসি লাথি মেরে প্রায় হতচেতন করে ফেলল। সবার মতো তারিণীও জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখতে পেল, ভট্টবাবুকে একটা ঘোড়ায় টানা ব্রুহ্যামে চাপানো হচ্ছে। আরও কিছু দেখার আগেই সিটি দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিল।

    গাড়ির ভিতরে সবাই চুপ। যারা কথা বলছে, তারাও ফিসফিসিয়ে। এই অদ্ভুত প্রাকৃতিক পরিবেশ মাখনলতার মনে অনেকদিন বাদে যে আনন্দের সঞ্চার করছিল, তা সম্পূর্ণ মুছে গিয়ে সে আবার আগের মতো সংকুচিত হয়ে গাড়ির এক কোণে বসে ঠকঠক করে কাঁপছে। তারিণী নিজেও হতবাক। আর এই ভয়াবহ ঘটনার অভিঘাত কাটতে না কাটতে ট্রেন নিচে নেমে অবশেষে দার্জিলিং স্টেশনে এসে থামল। সবাই নিঃশব্দে গাড়ি থেকে নেমে যে যার মতো গন্তব্যে পাড়ি দিতে শুরু করল।

    স্ত্রীকে স্টেশনে নামিয়ে নিজে কামরা থেকে লটবহর সমেত নামার ঠিক আগে অদূরে সিটের তলায় কী একটা পড়ে থাকতে দেখে তারিণী কুড়িয়ে নিল সেটা। ভট্টবাবুর চামড়ার হাতব্যাগ। উপরে পিতলের তবকে তার নামের আদ্যক্ষর খোদাই করা। এখান থেকেই কার্ডটা বার করে সে তারিণীর হাতে দিয়েছিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল
    Next Article মায়াজাতক – অমৃতা কোনার

    Related Articles

    কৌশিক মজুমদার

    আতঙ্ক সমগ্ৰ – কৌশিক মজুমদার

    January 3, 2026
    কৌশিক মজুমদার

    নোলা : খাবারের সরস গপ্পো – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    সূর্যতামসী – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    আঁধার আখ্যান – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    নীবারসপ্তক – কৌশিক মজুমদার

    August 4, 2025
    কৌশিক মজুমদার

    অগ্নিনিরয় – কৌশিক মজুমদার

    August 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }