Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ততোধিক – আশাপূর্ণা দেবী

    আশাপূর্ণা দেবী এক পাতা গল্প63 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. তাহলে ফিরে এলেন

    তাহলে ফিরে এলেন? আমি ভাবছিলাম রাগে-ঘেন্নায় বোধ হয় চলেই গেলেন। করুণাপদ পড়ে, ভেবে পাচ্ছিলাম না কাকে দিয়ে আপনার জিনিসগুলো স্টেশনে পাঠিয়ে দেব। ট্রেনের সময় অবধি থাকতেনই তো স্টেশনে।

    কমলাক্ষর এতক্ষণে মনে পড়ল তার হাটে যাওয়ার কথা ছিল। মনে পড়ল করুণাপদর জন্যে একটু ওষুধ আনবেন ভেবেছিলেন। কিচ্ছু করেননি। শুধু হাতে ফিরেছেন।

    লজ্জায় মাথাকাটা গেল। তবু লীলার ওই একঝাঁক কথার একটা উত্তর না দিয়ে পারলেন না। বললেন, এতগুলো কথা ভাবতে পারলেন, আর চলে যাওয়াটা সম্ভব কি না সেটা ভাবতে মনে পড়ল না?

    লীলার মুখটা কী ক্লান্ত বিবর্ণ শুকনো দেখাচ্ছে। প্রথম যেদিন এসে দেখেছিলেন, তার থেকে কত বদলে গেল। সাজ বদল করেনি, তবুও কী বদলানোই বদলেছে!

    তা হোক, শুকনো বিবর্ণ ক্লান্ত যাই হোক, হাসিটা ঠিক আছে। আর বোধ করি হেসে ভিন্ন কথা কইতেই পারে না লীলা। কে জানে, গগন গাঙুলীদের সাথে কথা বলতে হলেও লীলা এমনি হাসি মিশিয়ে কথা কয় কি না।

    লীলা হাসল। সেটা মনে পড়ানো উচিত ছিল বুঝি?

    ছিল।

    তবে আমারই অন্যায়। কিন্তু মানুষের হিসেব মতো আপনার তো চলে যাবারই কথা।

    কমলাক্ষ বললেন, মানুষের হিসেবে যখন মিলছে না, তখন বোধ করি অমানুষ। নইলে আর হাটে যাব বলে বেড়িয়ে এসে শুধু হতে বাড়ি ফিরি?

    হাটে যাবেন বলেই বেরিয়েছিলেন বুঝি?

    এখন তো তাই মনে হচ্ছে।

    তখন হচ্ছিল না?

    কি জানি।

    সহসা একটু গম্ভীর হয়ে যায় লীলা। গম্ভীর হয়ে বলে, কিন্তু কেনই বা আমাকে ঘেন্না করবেন না আপনি?

    তাই তো আমিও ভাবছি সেই থেকে।

    কমলাক্ষ তাকালেন বিচিত্র একটা দৃষ্টিতে। যে-দৃষ্টির খবর তিনি নিজেও জানেন না।

    আমার সব কথা শুনলে, এ-ভাবনা বজায় রাখা শক্ত হবে। ঘেন্না না করে পারবেন না।

    কমলাক্ষ মৃদু হাসলেন। সবই শুনেছি।

    সব? বলুন তো শুনি কতটা কি শুনেছেন।

    কমলাক্ষ আর একটু হাসলেন। বললেন, বেশি বলার দরকার কি? গগন গাঙুলীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, এইটুকু বললেই বুঝে নিতে পারবেন না?

    লীলা কিন্তু আর হাসে না। লীলা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে যায়। আর সেই গম্ভীর হয়ে যাওয়া লীলাকে দেখে মনে হয় এই বুঝি আসল লীলা। ওই হাসি মেশানে কথা কওয়া লীলা, সাজানো লীলা। ওটা লীলার ছদ্মবেশ। অত গভীরতায় তলিয়ে থাকলে, কেউ ওর নাগাল পাবে না বলে দয়া করে ওই হালকা হাওয়ার চাদরটা জড়িয়ে বসে আছে।

    এখন লীলা সেই ছদ্মবেশ ত্যাগ করেছে। নিজের আসল সুর আর স্বর নিয়ে বলছে, গগন গাঙ্গুলীই কি সব জানে?

    কমলাক্ষ উত্তর দিলেন না। এই গভীরতাকে হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেখবার ইচ্ছে হল না তার। চুপ করে থাকলেন।

    লীলাই ফের কথা বলল। জানে না। জানে কি, বামুনের মেয়ে হয়ে শূদ্রের ছেলের সঙ্গে, মনিবের মেয়ে হয়ে চাকরের সঙ্গে, পালিয়ে আসা ছাড়াও, আরও ভয়ঙ্কর অপবিত্রতা আছে আমার মধ্যে? জানে কি, বিখ্যাত সেই আপনাদের দাঙ্গার হাজার বলির মধ্যে আমিও একটা বলির পশু?

    কমলাক্ষ বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। অস্ফুটে একবার যে উচ্চারণ করেছিলেন চাকর? আর তার উত্তর পাননি, সে-কথা ভুলেই গেলেন।

    কিন্তু লীলা বুঝি ভোলেনি। তাই লীলা বলে ওঠে, লোকে বলে চাকর। পরিচয়টা তাই ছিল। বাবার প্রেস ছিল, আর ও ছিল সামান্য কম্পোজিটার। প্রুফ কারেক্টার নিমাইবাবু নাকি বলতেন, ছাপাখানার সব ভূত কি তোর মাথাতেই এসে অধিষ্ঠান করে ব্রজেন?…তা হয়তো তাই। খুব আস্তে আস্তে ফেলা একটা নিশ্বাস যেন চুপি চুপি বাতাসের সঙ্গে মিশে যেতে চাইল। যেন ওকে দেখতে পাওয়া গেলে লজ্জায় নীল হয়ে যাবে ও।

    ভূতই অধিষ্ঠান করেছিল ওর মাথায়। নইলে মেয়ে লুঠ হয়ে যাবার পর মা-বাপ পর্যন্ত যখন মনে করব মরে গেছে বলে নিশ্চিন্ত হয়েছিল, মাইনে করা চাকর ব্রজেন ঘোষের কি দরকার পড়েছিল জীবন মরণ তুচ্ছ করে তাকে খুঁজে বেড়ানোর? কী দরকার পড়েছিল বাঘের গুহা থেকে উদ্ধার করে এনে আজীবন তাকে মাথায় বয়ে বেড়ানোর?

    কমলাক্ষ এবার কথা বললেন বাড়িতে বুঝি আর গ্রহণ করলেন না?

    পাগল হয়েছেন? তাই কখনও করে? তাদের আরও সব রয়েছে না? একটা মেয়ের জন্যে সব খোয়াবে নাকি? থাক, ও তো একেবারে পচা গলা কথা। হাজার হাজার জনের একজন আবার নতুন কথা কি শোনাবে? নতুন শুধু ওই রোগা হ্যাংলা মুখচোরা কম্পোজিটারটার পাগলামীর গল্প। তার আগে লোকটা মনিবের মেয়ের সঙ্গে গুনে দশটা কথাও বলেছে কি না সন্দেহ! অথচ—সাধে কি আর বলছি ভূতাতি! নইলে ওইটুকুকে সম্বল করে দুর্জয় সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে? আর সারাজীবন একটা অশুচি অপবিত্র বোঝা মাথায় নিয়ে–

    কমলাক্ষ স্থির স্বরে বললেন, এ পর্যন্ত সবই বুঝতে পারলাম। বুঝতে অসুবিধে হল না। শুধু একটা কথা বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে—সংসার যখন আপনাকে ত্যাগ করেছিল, বিয়েটার বাধা ছিল কোথায়?

    লীলা মিনিট খানেক চুপ করে থেকে বলে, সে কথা এই খানিক আগেই ভাবছিলাম। বাধা ছিল হয়তো ওর নিজের মধ্যেই। নিজেকে বোধ করি মনে মনে কিছুতেই আর মনিবের মেয়ের পর্যায়ে তুলতে পারল না। তাই সমস্ত সাজানো পরিচয়, ড্রইং রুমের সাজের মতো বাইরেই পড়ে থাকল। ও শুধু সৃষ্টিছাড়া এক অস্বস্তি নিয়ে সারা জীবন পালিয়ে বেড়াল।

    কেন কে জনে কমলাক্ষ সহসা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। আরক্ত মুখে বলেন, বাধা শুধু তাঁর মধ্যেই ছিল না, ছিল আপনার মধ্যেও। নইলে সেই, সৃষ্টিছাড়া অস্বস্তির বাধা ধূলিসাৎ হতে দেরি হত না। আপনিও কোনোদিন তাকে মানুষ ভাবেননি। তাই–

    তা সত্যি–কথার মাঝখানেই উত্তর দেয় লীলা। আস্তে শান্ত গলায় বলে, সত্যিই মানুষ ভাবিনি! রক্তমাংসের মানুষ! পাথরের দেবতাই ভেবে এসেছি বরাবর।

    .

    জরাজীর্ণ দেহটা নিয়ে করুণাপদ যেদিন পোরের ভাত দিয়ে পথ্যি করতে বসল, সেদিন কমলাক্ষর ছুটির শেষ দিন।

    ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে তাকিয়ে সেই কথাই ভাবছিলেন কমলাক্ষ। আজ ফিরবার কথা ছিল। কলকাতা বলে একটা জায়গা আছে, সেখানে তার একটা কর্মর্জগৎ আছে, এসব যেন ঝাঁপসা হয়ে গেছে। আর প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের সেই ছোটো দোতলা বাড়িখানা? সেটাই কি স্পষ্ট আছে?

    সে-বাড়িতে কি কখনও কারও অসুখ করেনি? কই কমলাক্ষর তো মনে পড়ছে না, তিনি কোনোদিন নিজের হাতে বরফ ভেঙেছেন, ফলের রস করেছেন, পাখা হাতে রাত জেগেছেন। ব্রজেন ঘোষের চাকর করুণাপদর জন্যে এসব করেছেন কমলাক্ষ। ব্রজেন ঘোষের কাছে কত ধার ছিল কমলাক্ষর?

    তবে আশ্চর্য, খুব খারাপও কিছু লাগেনি। বরং কেমন একটা দৃঢ়তা আর উৎসাহের ভাবই মনে এসেছে। যে-রাত্রে তাঁর জাগার জন্যে লীলার একটু ঘুমোতে পেয়েছে, সে রাত্রিটা তো মধুর একটা গানের মতো লেগেছে।

    আর যে-রাত্রে রুগী বিকারের ঝেকে তেড়ে তেড়ে ওঠার জন্যে দুজনকেই জেগে বসে থাকতে হয়েছে?

    ও রকম ভীতিকর পরিস্থিতিটাও অমন ভালো লাগত কি করে ভেবে পাচ্ছেন না কমলাক্ষ। প্রবাস আবাসের এই বাড়িটার মোহময় জাদু? যে-জাদুর ছোঁয়ায় প্রথম দিনই কমলাক্ষ যেন আর এক জগতের খোলা দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন?

    .

    কিন্তু বড়ো বেশি ভালোলাগা সেই দক্ষিণের জানলাগুলো তো কতদিনই খোলা হয়নি। সে-ঘরে থাকাই হয়নি কতদিন।

    করুণাপদর জ্বরটা যেদিন চড়ে উঠে বিকারে দাঁড়াল, সেদিন কমলাক্ষ হাসপাতালের কথা তুলেছিলেন। লীলা বলেছিল, হাসপাতালে দেওয়া যাবে না। হাসপাতালে ওর বড়ো ভয়। একবার পক্স হয়েছিল, হাসপাতালের নাম শুনে হাউ হাউ করে কেঁদেছিল। ওর ধারণা যে ওখানে গেলেই মরে যাবে।

    কমলাক্ষ বলেছিলেন, ওদের ক্লাসের সকলেরই প্রায় ওই ধারণা। কিন্তু এখন তো ও টেরও পাবে না কোথায় আছি। দিলে ফল ভালো হত।

    লীলা হেসেছিল, ফল ভালো হবেই এমন গ্যারান্টি কে দিচ্ছে? খারাপও হতে পারে। তেমন হলে নিজেকে আমি কি জবাব দেব বলুন? মা বাপ ছেড়ে এসেছে, আমায় মা বলে ডাকে–

    কি একটা কাজের ছুতোয় তাড়াতাড়ি উঠে গিয়েছিল লীলা। আর কমলাক্ষ স্টেশনে ছুটেছিলেন বরফ আনতে। তারপর কে জানে কোথা দিয়ে কেটে গেছে এতগুলো দিনের দিনরাত। দিনগুলি যে এতগুলো, আজ ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে অনুভব হচ্ছে।

    পুণ্ডরীকের চিঠিখানা খুললেন কমলাক্ষ। সকালের ডাকে যেটা এসেছে ও জানিয়েছে, আজই যখন কমলাক্ষর ফেরার দিন, তখন আর বাড়তি ব্যস্ত করবার দরকার বিবেচনা করেনি সে, তবে জানিয়ে যাবার জন্যে জানাচ্ছে, কয়েকদিনের জন্যে দার্জিলিং যাচ্ছে সে আজ। আর যাবার আগে তার দিদিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনিয়ে বাড়িতে রেখে যাচ্ছে। খুব স্বাভাবিক আর সাধারণ চিঠি। শুধু শেষের একটা লাইন ঘুরে ফিরে চোখের সামনে এসে যেন তর্জনি তুলে দাঁড়াচ্ছে–

    লাইনটা পুনশ্চর–

    হ্যাঁ ভালো কথা—আপনার পলাশপুর থেকে একটা অদ্ভুত চিঠি এসেছে, অর্থ হৃদয়ঙ্গম হল না। লেখকের নামও নেই।

    কী সেই অদ্ভুত চিঠি? যার অর্থ হৃদয়ঙ্গম হয় না?

    কমলাক্ষ কি ছেলের এই চিঠির কথা লীলাকে বলবেন? বলবেন, দেখুন তো আপনাদের এখান থেকে আমরা ছেলের কাছে বেনামী চিঠি লেখবার দরকার কার পড়ল? কে আছে তেমন লোক?

    অবশ্য কে আছে সেটা বোঝা শক্ত নয়। কমলাক্ষ সনাক্ত করেছেন তাকে। গগন গাঙুলী ছাড়া আর কে?

    অপরের কথা ভিন্ন যারা থাকতে পারে না, অপরের একটু অনিষ্ট করতে পেলে যারা মনে করে জগতে এসে তবু একটা পরম কিছু করা হল—গগন গাঙুলী সেই জাতের লোক।

    কিন্তু কী লিখেছে সে? যার অর্থ হৃদয়ঙ্গম হয় না?

    পুণ্ডরীক লিখেছে, দিদিকে এনে রেখে যাচ্ছি। আর আপনি তো কালই এসে পড়ছেন। কমলাক্ষর খেয়াল হল পলাশপুরে এসে পর্যন্ত মেয়েকে তিনি একটাও চিটি দেননি। খুব বেশি চিঠি দেওয়ার অভ্যাস তাঁর না থাকলেও, এক আধটা দেওয়া উচিত ছিল। দেননি। দেবার কথা মনেও পড়েনি। কমলাক্ষ ভাবলেন, আজ আমার যাবার কথা ছিল।

    ভাবলেন, আজ আমি যাব কি করে?

    .

    আমার কথা ভাবছেন আপনি? লীলা সত্যি অবাক হয়ে গেছে। আমার কি হবে, সে-কথা আপনি ভাবতে বসবেন।

    কমলাক্ষ ইচ্ছে হল খুব ভালো একটা উত্তর দেন, কিন্তু মুখে জোগাল না কিছু। তাই বললেন, তা একজন কাউকে তো ভাবতে হবে?

    কেন? হবে কেন? ভগবানও যার জন্যে ভাবছেন না, এমন লোকেরই কি অভাব আছে সংসারে?

    বিশ্ব সংসারে সবাইয়ের ভাবনা ভাববার গরজ আমার সেই।

    কিন্তু আমার ভাবনা ভাববার গরজই বা কেন হচ্ছে আপনার, সেও তো এক রহস্য।

    কমলাক্ষ উত্তেজিত হলেন। বললেন, সেটা একটা রহস্য হল আপনার কাছে? ব্রজেনবাবু মদের বদলে স্পিরিট খেয়ে মরবেন, করুণাপদ দেশে যাবে বলে গোঁ ধরবে, আর

    হঠাৎ থেমে গেলেন। রাগের মাথায় ব্ৰজেনবাবুর মৃত্যু রহস্যটা এইভাবে উদঘাটিত করে ফেলে মরমে মরে গেলেন। চাবুক মারতে ইচ্ছে হল নিজেকে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা দিলে তিনি!

    গণ্ডমুখ্যু ব্রজেন ঘোষ যে লীলার কাছে কি, তা তো তার অবিদিত নেই। তার মৃত্যুর এই শোচনীয় কারণটা জানিয়ে লীলাকে নতুন করে আবার শোকের মধ্যে ফেললেন তিনি। রাগলে এত গোঁয়ার হয়ে ওঠেন তিনি, তা তো জানা ছিল না!

    কিন্তু কই, চমকে উঠল না তো লীলা! শুনে কাঠ হয়ে গেল না তো? সেই ওর নিজস্ব ভঙ্গিতে একটু ক্ষুব্ধ হাসি হেসে বলল, স্পিরিট খাওয়ার কথাটা জানা হয়ে গেছে আপনার?

    কমলাক্ষই চমকে গিয়ে চুপ করে থাকেন।

    লীলা আবার বলে, এ অভ্যাস ওর নতুন নয়। আমি টাকা বন্ধ করলেই ওই কাণ্ড করত। সেদিন বেশি খেয়ে ফেলেই—দোষ আমারই। দেবতা হবারও যে একটা মাশুল লাগে, সেটা কিছুতেই খেয়ালই করতাম না আমি। পুরোপুরি পাথরের দেবতাই দেখতে চাইতাম। তাছাড়া–হাসল লীলা, টাকাও তো–

    কমলাক্ষ ব্রজেন ঘোষকে ভালোবেসেছিল। তাই কমলাক্ষর কণ্ঠে ক্ষুব্ধ স্বর ফোটে, এ তো। একরকম আত্মহত্যাই। এ খবর আপনি জানেন, অথচ একদিনের জন্যে উচ্চারণ করেননি? আশ্চর্য!

    আশ্চর্য হচ্ছেন? এটাও আমার পক্ষে আশ্চর্য। আমি যে কত বড়ো নিষ্ঠুর সেটা বুঝি এতদিনও টের পাননি?

    না পাইনি। কারণ সত্যি নিষ্ঠুর আপনি নন। করুণাপদর ব্যাপারও তো দেখলাম। শুধু ওই হতভাগা ব্রজেন ঘোষের বেলাতেই—আপনি বলেছিলেন টাকা ছিল না। কিন্তু উনি যখন মারা গেলেন, অনেক টাকা ছিল আপনার কাছে। একগোছা নোট নিয়ে দিতে এসেছিলেন আমাকে–

    হঠাৎ হেসে ওঠে লীলা। খুব একটা কৌতুকের হাসি। বলে, এই আপনাদের মতো লোকদের দেখলে আমার বড়ো মায়া হয়। টাকার রহস্যটা বুঝি ফাঁস করিনি এখনও? তাহলে করেই ফেলি, কি বলুন? ঘরে নেই টাকা, অথচ চোখে আছে চক্ষুলজ্জা। দেখুন কী বিপদ? ভেবে দেখলাম এর একমাত্র সমাধান চুরি করা–

    চুরি করা। স্তম্ভিত হয়ে তাকিয়ে থাকেন কমলাক্ষ।

    লীলা তেমনি হাসতে হাসতেই বলে, না তো কি! বিশ্বসুদ্ধ লোকই তো কোনো না কোনো বস্তু চুরি করছে, ওতে আর দোষ কি? আর চক্ষুলজ্জার দায়ে চুরি ডাকাতি তো—যাক ওইসব ভেবে চটপট সমাধানটা করে নিলাম আর সেই চুরির টাকাটা আপনাকে দিতে এলাম।

    কক্ষনো না। কমলাক্ষ চটে ওঠেন, যা তা বোঝাতে এসেছেন আমাকে? সেই অবস্থায় আপনি গেলেন চুরি করতে? আর এ আপনার পলাশপুরের লোক এত বেহুঁশ যে দিন দুপুরে বাক্স আলমারি খুলে রেখে ঘুমোচ্ছিল আপনার সুবিধের জন্যে।

    লীলার চোখে কৌতুক। লীলার চোখে বিচিত্র এক দৃষ্টি। আর বুঝি বা লীলার চোখে জল।

    পলাশপুরের লোক বেহুশ একথা কে বললে আপনাকে? না পলাশপুরের লোক এত বেহুঁশ নয়। বেহুঁশ হচ্ছে কলকাতার লোক, যারা খোলা সুটকেসে, বইয়ের পেজ মার্কে নোটের গোছা রেখে দিয়ে চোরের সুবিধে করে রাখে।

    .

    বৃষ্টি পড়ছিল।

    গ্রীষ্মের আকাশে নতুন মেঘ। কমলাক্ষর জানালা দিয়ে ঝাঁপটা আসছিল, তবু খোলা রেখেছিলেন। আর ভাবছিলেন, এমন আশ্চর্য মেয়ে কি তিনি জীবনে কখনও দেখেছেন? যে-মেয়ে নিজের মুখে স্বীকার করতে পারে, যার সঙ্গে বসবাস করি আমি, সে আমার স্বামী নয়। স্বীকার করতে পারে একটা লুঠেরা তাকে লুটে নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করেছে, স্বীকার করতে পারে চক্ষুলজ্জার দায়ে চুরি করতে তার বাধে না। যার ধার ধারে তার বাক্স খুলে চুরি করেই ধার শোধ করতে আসতে পারে সে।

    আশ্চর্য! তা সত্যি। তবু মেয়ে। কমলাক্ষ কি করে পারবেন তার দায়িত্ব সম্পর্কে চিন্তা না করতে? অথচ লীলা কিছুতেই এই সহজ কথাটা বুঝতে চাইছে না। বলছে, আমার জন্যে আপনি ভাবতে যাবেন কেন?

    কেন কি! মানুষ মানুষের জন্যে ভাববে না?

    কমলাক্ষ ঠিক করলেন, লীলাকে কলকাতায় নিয়ে যাবেন, যাতে সেখানেই ওর কোনো একটা কাজকর্ম জোগাড় হয়, তার ব্যবস্থা করে দেবেন। একা থাকবে? তা একা তো ওকে থাকতেই হবে বাকি জীবনটা। তবু কমলাক্ষ তো কাছেই থাকবেন, দেখাশোনা করবেন।

    পলাশপুরের এই বাড়িটা! এ-বাড়িটা তো লীলার কাছে মিথ্যা হয়ে গেল। লীলা তো আর প্রবাস বোর্ডিং চালাবে না। বাড়িটা বিক্রি করে বরং লীলার কিছু টাকার সংস্থান করে দিতে পারলে–

    মনটা কেমন খচ্‌ করে উঠল। এই বাড়িটা আর লীলার থাকবে না? কমলাক্ষ জীবনে আর কোনোদিন ওই দক্ষিণের জানলাটা খুলে দিয়ে মাঠের অন্ধকারে চোখ ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পাবেন না?

    হঠাৎ মনে হল কমলাক্ষই যদি বাড়িটা কিনে নেন? মানুষ কি এমন মফঃস্বলে বাড়ি-টাড়ি কেনেন? ছুটির সময় মাঝে মাঝে হাঁফ জিরোতে? সেই বেশ। সেই ঠিক। ছুটির সময় লীলারও তো ছুটি-টুটি হবে?

    কমলাক্ষ বলবেন, চলুন কটা দিন পলাশপুরে কাটিয়ে আসা যাক।

    কল্পনার যৌক্তিক অযৌক্তিকটা মাথায় এল না, একটি জ্যোতির্ময় স্ফটিকের ভেলায় চড়ে সেই কল্পনার সমুদ্রে ভাসতে লাগলেন কমলাক্ষ।

    বৃষ্টির শব্দ বহির্জগৎকে আচ্ছন্ন করে দিয়ে বাজতে লাগল ঝিম্ ঝিম্ ঝির ঝির।

    মুখুজ্জেবাবু!

    একটা কম্বল মুড়ি দিয়ে দেওয়াল ধরে ধরে এসে দাঁড়িয়েছে লোকটা। ও যে করুণাপদ, তা বুঝতে সময় লাগল কমলাক্ষর। বুঝে চমকে উঠে বললেন, কিরে, তুই আবার এই ঠাণ্ডায় বাইরে এসেছিস কেন?

    কম্বল মুড়িয়েছি।

    তা বেশ করেছ। কিন্তু কি দরকার? কি বলতে এসেছিস?

    আজ্ঞে বলছিলাম কি, আমি আর দেশে যাবার জন্যে বায়না করব না।

    স্ফটিকের ভেলাটা একটা ঢেউয়ের ধাক্কায় উল্টে গেল, কমলাক্ষকে আছড়ে ফেলে দিল বালির চড়ায়। কমলাক্ষ সেই আছাড়ের ধাক্কায় ছিটকে উঠলেন।

    বায়না করবে না! চমৎকার! তা কেন করবে না সেটি শুনতে পাই না?

    আজ্ঞে তখন অসুখের ঘোরে বাড়ি বাড়ি মন করেছিল। এখন চিন্তা করে দেখছি চলে গেলে মায়ের অসুবিধে।

    মায়ের অসুবিধে! চিন্তা করে দেখছ! কমলাক্ষ চৌকী ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ওর কাছে সরে এলেন, ব্যঙ্গ আর বিদ্রূপ মিশ্রিত চড়া গলায় বলে উঠলেন, খুব যে চিন্তাশীল হয়ে উঠেছ দেখছি। বলি, আবার যদি তুমি জ্বরে পড়, মায়ের সুবিধেটা কোথায় থাকবে, সেটা চিন্তা করে দেখেছ?

    আবার জ্বরে পড়তে যাব কেন?

    যাবে কেন? :। যাবে, নিশ্চয় যাবে। এই এখন থেকে হাটে-ফাটে গেলে পড়তেই হবে। না, তুমি দেশেই চলে যাও।

    রাগ করছেন কেন বাবু? রোগের কেঁকে গোঁ ধরেছিলাম বই তো নয়। এখন মায়ের কথাটা তো ভাবতে হবে।

    ভাবতে হবে? কমলাক্ষ উত্তেজিতভাবে বললেন, না ভাবতে হবে না। কেন, তুমি ছাড়া তোমার মায়ের জন্যে ভাববার আর লোক নেই?

    কমলাক্ষর স্বভাব তো এমন ছিল না। কমলাক্ষ আজকাল বড়ো বেশি উত্তেজিত হচ্ছেন যেন। হঠাৎ স্বভাবটা এমন বদলে গেল কেন কমলাক্ষর?

    কী হচ্ছে? লীলার প্রশ্নটা প্রায় একটা ধমকের মতো এসে ধাক্কা দেয়। ও বেচারা রোগা মানুষ, ওকে বকাবকি করছেন কেন? আমিই তো ওকে বলেছি, এখন দেশে গেলে চলবে না বাপু। কে বোর্ডিং-এর দেখাশোনা করবে?

    কে দেখাশোনা করবে! কমলাক্ষ ফের চৌকীতে বসে পড়ে বলেন, তা হলে হোটেল চলবে? চালাতে হবে। পেটটা তো চলা চাই?

    পেট চালাবার জন্যে ওই করুণাপদকে ভরসা করে এই শত্রুরাজ্যে বসে হোটেল চালিয়েই চলবেন?

    তাই তো চালিয়ে এলাম এতদিন। করুণাপদই তো সব দেখেছে। মালিক আর কতই বা দেখেছেন! ইদানীং তো-

    তা হোক! কমলাক্ষ ভারী গলায় বলেন, তবু ব্ৰজেনবাবু ছিলেন। সেই থাকাটাই মূল্যবান। এখন এই নিরভিভাবক অবস্থায়—না না, সে তো একেবারেই হতে পারে না।

    ভাবছেন কেন? আমি ঠিক চালিয়ে নেব।

    চালিয়ে নেবেন! কমলাক্ষ বলে ওঠেন, নেবেন বলেই নিতে দেব? আমি বলছি এ-খেয়াল আপনাকে ছাড়তে হবে।

    লীলা একটুক্ষণ থেমে থেমে আস্তে বলে, আপনি বললে, ছাড়তেই হবে। কিন্তু আমার দায়িত্বটা আপনার কর্তব্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেলে আপনার জীবনেও তো অনেক জটিলতা এসে দেখা দেবে। কমলাক্ষ গম্ভীর হয়ে গেলেন। বললেন, জীবন যখন আছে, তখন তার জটিলতাও থাকবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article১. খবরটা এনেছিল মাধব
    Next Article ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    বিবাগী পাখি – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    কুমিরের হাঁ – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ঠিকানা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ১. খবরটা এনেছিল মাধব

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    নতুন প্রহসন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    আশাপূর্ণা দেবী

    ভালোবাসা চিরকালীন – আশাপূর্ণা দেবী

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }