Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প121 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.২ একটা বড় টেবিলের একধারে

    ১.২

    একটা বড় টেবিলের একধারে চেয়ারে বসে আছে মহিলাটি।

    বয়েস বছর পঁয়তিরিশ-ছত্রিশ হবে। খয়েরি রঙের ব্লাউজ ও কস্তা ডুরে শাড়ি পরা। কপালটা অনেকটা চওড়া, এই সব মেয়েদের বলা হয় উঁচু কপালি।

    চেহারা কেমন? অভাব, দারিদ্র্য ও দুর্ভাগ্যে পোড়া মুখ সুন্দর কি অসুন্দর, তার বিচারই চলে না। চোখ, মুখ, নাক ঠিকঠাকই আছে, মুখে একটা সারল্যের ভাবও আছে। আর এত কাণ্ডের পরও তার স্বাস্থ্যটি খারাপ নয়। সেটাই তো তার বিপদের কারণ।

    হাজার খানেক বছর আগে এক কবি লিখেছিলেন, আপনা মাসে হরিণা বৈরি। হরিণীদের মতন মনুষ্যসমাজের নারীদেরও আজও পর্যন্ত প্রধান শত্রু তাদের শরীরের মাংস। এ রমণীর শরীরের গড়নটিও ভালো, বেশি লম্বাও নয়, বেঁটেও নয়। হাসলে তার বয়েস আরও কম দেখায়।

    টেবিলের এপাশে বলে আছেন এক দীর্ঘকায়, বলশালী সুপুরুষ। মাথায় অল্প টাক চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা, কোট-প্যান্ট পরা, কিন্তু গলায় টাই নেই। তাঁর সামনে একটা ফাইল ও হাতে পেন্সিল, মাঝে-মাঝে ফাইলের পাতা ওলটালেও তিনি কিছু লেখেন না, পেন্সিলটা টেবিলে ঠুকে টকটক শব্দ করেন।

    তার ডান পাশে একটু দূরে আর একটা চেয়ারে বসে আছেন আর একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি। ইনি তেমন কিছু সুপুরুষ নন, মাঝারি ধরনের চেহারা, বরং একটু মোটার দিকে ধাত। কলার দেওয়া পাঞ্জাবি ও পাজামা পরা, মাথার চুল নুন-গোলমরিচ রঙের, তীক্ষ্ণ নাক, গায়ের রং কালো নয়, বেশি ফরসা নয়। ইনি প্রায় নিঃশব্দ, একটার পর একটা সিগারেট টেনে যাচ্ছেন।

    উচ্চপদস্থ রাজপুরুষটি রমণীটিকে বললেন, শোনো, তুমি সরিফন না লক্ষ্মী, সে বিষয়ে আমি এখনও মনস্থির করতে পারিনি। ফাইলটাতে পরিষ্কার কিছু বোঝা যাচ্ছে না। সে যাই হোক, তোমার অভিজ্ঞতার কাহিনি খুব লম্বা করার দরকার নেই। আসল ঘটনাগুলো জানলেই হবে। আমি কতকগুলো প্রশ্ন করব, তার ঠিক-ঠিক উত্তর দেবে। প্রথম কথা, তুমি বলছ, তোমার দুটি ছেলেমেয়ে আছে। তারপর এর মধ্যে তুমি কি আবার প্রেগন্যান্ট হয়েছিলে? মানে, তোমার পেটে আবার সন্তান এসেছিল?

    না, সাহেব।

    ঠিক বলছ?

    জি সাহেব। আমার মায়ের দিব্যি বলছি।

    তোমার মা বেঁচে আছেন?

    আজ্ঞে না। আমার এগারো বছর বয়সে মা….

    যারা মারা গেছেন, তাদের নামে মিথ্যে দিব্যি কাটা সহজ। শোনো, তুমি বাড়িছাড়া হয়ে আছ প্রায় এক বছর। এর মধ্যে তোমার একবার অ্যাবর্শান হয়েছে, মেডিক্যাল রিপোর্টে তা আছে। তা হলে নিশ্চয়ই অন্য কারও সঙ্গে।

    না, না, স্যার। এক বছর না, বড়জোর সাত-আট মাস হবে। পেটে যদি কিছু এসে থাকে, তবে তা আগেই, আমার সোয়ামির, আমি অন্য কোনও…

    শোনো। তোমরা গ্রামের মেয়ে, তোমরা সরল ভাবে কিছু কিছু মিথ্যে কথা বলো আমি জানি। কোনও-কোনও ঘটনা মেনে নেওয়ার চেয়ে মৃত্যুও ভালো মনে করো, তাই না? কিন্তু তোমাকে বাঁচাবার জন্যই সব সত্যি কথা জানা আমাদের দরকার। তুমি যাই-ই বলো না কেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় আসল সত্য ধরা পড়ে যায়। তোমার একবার গর্ভপাত হয়েছে তিন মাস আগে। তখন তোমার গর্ভের ফুলটির বয়েস ছিল সাড়ে তিন মাস। সুতরাং সেটি তোমার স্বামীর সন্তান হতেই পারে না।

    রমণীটি মুখ নীচু করে রইল।

    রাজপুরুষটি তার ডান দিকের বন্ধুটির দিকে এক পলক তাকিয়ে নিজেও একটি সিগারেট ধরালেন।

    তারপর অত্যন্ত নরম গলায় বললেন, শোনো মেয়ে, তোমাকে কথার মারপ্যাঁচে বিপদে ফেলার কোনও উদ্দেশ্যই আমার নেই। এর মধ্যে যা-যা ঘটেছে, তার অনেক কিছুর জন্যেই তুমি দায়ী নও, আমি জানি। তোমাকে বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হয়েছে। পুরুষরা মেয়েদের কত কিছু মেনে নিতে বাধ্য করে। আবার অনেক মেয়ে বোকার মতন ভুলও করে। লোভের বশে। ফঁদে পা দেয়। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই বোঝে না। এ দেশ থেকে অনেক মেয়েকে আড়কাঠিরা মিথ্যে কথায় ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে যায়, চুরি করে, জোর করেও পাচার করে দেয়। আবার কিছু কিছু মেয়ে স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়ে। তারাই বেশি হতভাগ্য। যা আশা করে ঘর ছাড়ে, তা পায় না। তোমার বয়েসি কোনও মেয়ের স্বেচ্ছায় ঘর ছাড়া তেমন স্বাভাবিক নয়।

    এবার তুমি বলো, তুমি ঘর ছেড়েছিলে কি মেলা দেখতে যাওয়ার লোভে? একজনকে বিশ্বাস করে? নাকি তুমি ঘর ছাড়তেই চেয়েছিলে? একেবারে সত্যি কারণটা আমাদের জানা দরকার। যা বলবে, আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলবে। মুখ নীচু করে থাকবে না।

    বাবু, তাইলে আপনি আগে একটি কথা বলেন তো? অনেক মেয়ের তো বিয়াই হয় না। গরিব ঘরের মেয়েদের বিয়ে হওয়াটাই তো ভাগ্যের কথা। আমার বিয়া হয়েছিল। স্বামী পেয়েছি। সন্তান পেয়েছি। তবু আমি নিজের ইচ্ছায় ঘর ছাড়ব কেন? নিশ্চিন্ত আশ্রয় ছেড়ে কোনও মেয়ে কি বাইরে পা বাড়ায়। পুরুষরা যেতে পারে। মেয়েরা কি যায়? সন্তানের টানই তো বড় টান। তাদের ছেড়ে কেউ যায়?

    তোমার কথা পুরোটা ঠিক না হলেও অনেকটা ঠিক বলেছ। সাধারণত পুরুষরাই ঘর ভাঙে। বউকে ছেড়ে অন্য মেয়ের কাছে যায়। সন্তানের টানও পুরুষদের কম। তবু, এসব সত্ত্বেও কখনও কখনও মেয়েরা ঘর ছাড়ে, যদি অন্নে টান পড়ে। দু-বেলা যদি ভাত না জোটে, বাচ্চারাও খেতে না পায়। কিংবা স্বামী বা শাশুড়ি অত্যাচার করে মারে, তা বেশিদিন সহ্য করতে না পেরে…। তোমার শ্বশুরবাড়িতে তোমার ওপর কখনও অত্যাচার করা হত? মার খেয়েছ? তোমার স্বামী…

    না, সাহেব, সোয়ামির হাতে আমি কখনও মাইর খাই নাই। আর অন্নে টান, তা ছিল, গ্রীষ্মকালের তিন মাস দুই বেলা ভাত জুটত না, শুধু আমানি খেয়ে থেকেছি। তবু অসহ্য হয় নাই। নিজেরা আধপেটা থেকেও ছেলেমেয়েদের খেতে দিয়েছি। তা হলে ঘর ছাড়ব কেন, বলেন?

    তবে শুধু মেলা দেখার টানেই বেরিয়েছিলে?

    ইচ্ছা হয়েছিল, নিজের গেরামের বাইরেও কত গেরাম আছে, কত মানুষ আছে, যাই, একটু দেখে আসি। সোয়ামি রাজি হয়ে গেল, এমনকী শেষ পর্যন্ত পাঁচটা টাকাও দিয়েছিল।

    তোমার স্বামী আগে কখনও তোমাকে এরকম ভাবে অন্যদের সঙ্গে যেতে দিয়েছে?

    না।

    এবার যে এক কথায় রাজি হল, তাতে তুমি অবাক হওনি?

    একটু হয়েছিলাম। কিন্তু তখন বেড়াবার নামে এমন নেচে উঠেছিলাম যে অন্য কথা ভাবি নাই।

    তোমার স্বামী ঘরামির কাজ করে?

    জি। টালির কাজ জানে। তয় এখন টালির কাজ কমে গেছে, টিনের চাল হয়, ছাদ ঢালাই হয়, সে-সব পারে না। একটা পা-ও কমজোরি।

    ঠিক আছে, তোমার স্বামীর কথায় পরে আসছি। এখন বলো, আগে যে বলেছিলে ট্রেন থেকে নামিয়ে নেওয়ার পর ঘুমন্ত অবস্থায় যে ঘরটায় তোমাকে আর গোলাপিকে রেখেছিল, সেখানে তুমি মোটে দুরাত্তির ছিলে। তাই না?

    হ, দুই রাত্তির।

    ফাইলে রিপোর্টে লেখা আছে, সেখানে তুমি ছিলে মোট পাঁচদিন।

    তা হতে পারে, হিসাব মনে নাই।

    কোর্ট জানো তো? আদালত। সেখানে যখন তোলা হবে, তখন ঠিক-ঠিক উত্তর দিতে হবে। একবার দু-রাত্তির, একবার পাঁচদিন বললে চলবে না। অবশ্য, আমি জানি, মনে না থাকাও অস্বাভাবিক কিছু না। দ্বিতীয় রাত্তিরে যে লোকটি তোমার ওপর অত্যাচার করেছিল, সে কি তোমায় শেষ পর্যন্ত…

    না, না, না, হুজুর। মা কালীর দিব্যি। আমারে পারে নাই। গোলাপিরে প্রথমে ধরে ছিল।

    তোমাকে পারেনি সেই রাত্রে। তার পরেও আরও তিন রাত্রি। সে কি পরে পেরেছিল?

    হা ভগবান, হা ভগবান, আমারে বিষ দিলা না কেন?

    বুঝেছি। তোমার দোষ নেই। ভগবান এত ব্যস্ত থাকেন যে তোমার মতন মেয়েদের প্রার্থনা শোনার সময় পান না। তার বিষের স্টকও এখন কম। তোমাকে দোষ দিচ্ছি না, পুরুষদের গায়ে জোর বেশি, তারা অনেক কিছু করতে পারে। তোমাকে আমি এই কখানা ছবি দেখাচ্ছি। এর মধ্যে সেই রাতের গোরিলাটি আছে কি না দ্যাখো তো।

    …………

    কাঁদছ কেন? চোখের জল এখন খরচ কোরো না, পরে অন্য কোনও সময়ের জন্য তুলে রাখো। ছবিগুলো ভালো করে দ্যাখো। একজনকেও চিনতে পারছ?

    না, সাহেব।

    এরা সবাই একবার করে ধরা পড়েছে। তোমার কাছে যে এসেছিল, সে তা হলে আরও গভীর জলের মাছ। এদের মধ্যে প্রথা আছে, যেসব মেয়েদের এরা ভুলিয়ে ভালিয়ে কিংবা জোর করে নিয়ে আসে, দূরে কোথাও বিক্রি করে দেয়, তারা আগে, তারা মানে যে এদের পাণ্ডা, সে প্রত্যেকটি মেয়েকে একবার গুরুপ্রসাদী করে দেয়। তার প্রধান উদ্দেশ্য দুটি। এক তো, নিজেদের যৌন লোভ মেটানো, আর দ্বিতীয় হল, এই সব মেয়েদের মধ্যে একটা অপরাধ বা পাপবোধ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ সতীত্ব তো নষ্ট হয়ে গেলই, এখন আর বেশি তেড়িবেড়ি করে কী হবে। ফিরে যাওয়ার পথ যে বন্ধ, তা যে-কোনও গ্রামের মেয়েও জানে। ধরব, ওই পালের গোদাটাকেও ধরব। শোনো, ট্রেন থেকে নামিয়ে তোমাদের যেখানে রাখা হয়েছিল, সে জায়গাটার নাম সালার। মুর্শিদাবাদ জেলার সালার। ওখানে কিছুদিন পাচারকারীদের ঘাঁটি ছিল। কিছুদিন অন্তর-অন্তর এরা ঘাঁটি পালটায়। সালার থেকে বিহারে পাচার করা সহজ।

    হাঁ সাহেব, আমি সালার নামটা কয়েকবার শুনেছি।

    তোমাদের দলে ছিল এগারোটা মেয়ে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা থেকে সংগ্রহ করা। এদের মধ্যে কয়েকজনকে আগেই জড়ো করা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে। দুজন নেপালি। হিন্দু মুসলমানের কোনও ভেদ নেই, মেয়ে-বিক্রির বাজারে সবাই মেয়ে। তোমাদের এই দলটাকে সালার থেকে নিয়ে যাওয়া হয় কঁসি। পুলিশ সবই খবর জোগাড় করেছে, কিন্তু অনেক পরে। এখন ফাইল রেডি, অথচ পাখি হাওয়া। এই লক্ষ্মী ওরফে সরিফন ছাড়া আর একটি মেয়ের সন্ধান আমরা পেয়েছি, সে মেয়েটির কথা পরে হবে।

    সাহেব, গোলাপির কী হল? সে কোথায় গেল?

    ফাইলে তার কথা আর বিশেষ কিছু নেই। যতদূর মনে হয় তাকে পাচার করা হয়েছে সৌদি আরবে। তোমাকেও সেখানেই পাঠাবার সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল, একেবারে শেষ মুহূর্তে বোধহয় আটকে যায়। পুলিশের তাড়া খেয়ে পালায়। নইলে এতক্ষণে তুমি পা পর্যন্ত ঢাকা বোরখা পরে থাকতে আর আরব শেখদের পদসেবা করতে!

    সৌদি আরব কোথায়?

    তোমাদের গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে। ডায়মন্ড হারবার থেকেও দূরে। কলকাতা থেকেও…সে যাই হোক, আসল কথা হল, তুমি কতদূর গিয়েছিলে, আর কোথা থেকে ফিরলে।

    আমি এখন কোথায়?

    খুব ভয়ের জায়গায়। তোমাদের গ্রামে সবাই কলকাতার নাম শুনলেই ভয় পায় না?

    না, সাহেব। কত লোক কলকাতায় কাজ করতে আসে। আমি তো মুখ-সুখ মানুষ। কী করে এখানে এসেছি, তাও জানি না।

    তুমি জানো না। অথচ তুমি সারা দেশ ঘুরে এসেছ। এরকমই তো হয়। ঝাঁসির নাম শুনেছ তুমি? খুব সম্ভবত শোনোনি।

    আজ্ঞে না।

    একজন নারী, দারুণ তেজস্বী ছিলেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। নিজে ঘোড়ায় চড়ে লড়াই করতেন। লোকে বলে, সাহেবদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে যখন দেখলেন ধরা পড়া ছাড়া আর উপায় নেই, তখন একটা দুর্গ থেকে ঘোড়া শুদ্ধ ঝাঁপ দিলেন, তবু ধরা দিলেন না। এরকম স্মৃতি বিজড়িত এক অসাধারণ নারীর সেই জায়গা, যে আঁসির রানি লক্ষ্মীবাই দারুণ গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, মেরি আঁসি নেহি দেউঙ্গি, আজ সেখানেই নারী। পাচারের একটি কেন্দ্র! হয়তো এসব কিছুই তুমি বুঝবে না। তোমাকে বারবার ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায়। ওই কঁসিতে তুমি ছিলে পাঁচ সপ্তাহ। সেখানকার কথা কিছু মনে আছে?

    সেখানে কি পাহাড় ছিল?

    ঝাঁসিতে ছোট-ছোট টিলা আছে। পাহাড় ঠিক বলা যায় না। ঝাঁসিতে আমি গেছি অনেক দিন আগে, দুৰ্গটাও একটা টিলার ওপরে। তবে তোমাদের কাছে টিলাও তো পাহাড়।

    আমি ভাবতাম ম্যাঘ। আকাশের গায়ে ম্যাঘ। কয়দিন পর ভাবলাম, ম্যাঘ কি রোজ রোজ একইরকম থাকে? ম্যাঘ তো উইড়া যায়। তখন একজন কইল, ম্যাঘ না, ওইরে কয় পাহাড়।

    একজন বলল, সেই একজনটা কে? সে কি বাংলায় কথা বলেছিল?

    না, হিন্দিতে।

    তুমি হিন্দি বোঝ?

    একটু-একটু বুঝি। সে-ও একজন মেয়েলোক, দুই হাত ভরতি কাচের চুড়ি। একদিন। দেখি সব চুড়ির রং লাল, আর একদিন দেখি সব সবুজ। সে আমাদের খাবার দিত।

    আমাদের মানে? তোমরা কজন ছিলে সেখানে?

    পাঁচজন। তার মধ্যে দুইজন নেপালি। বাংলা বোঝে না। একজন বেশ ছোট, ষোলো সতেরো বছর বয়েস। সে খালি কান্দে। সব সময় কান্দে। তার কান্না শুনলে আমারও কষ্ট হয়। কান্না আসে। কিন্তু জোরে কান্দলেই একজন এসে মারে। চুলের মুঠি ধরে লাইথথ্যায়। তাই আমি পলাইলাম একদিন।

    এই সময় একজন আর্দালি এসে প্রশ্নকারী পুলিশ অফিসারটির হাতে একটা চিরকুট দিল।

    সেটা পড়ে নিয়ে অফিসারটি বললেন, নাঃ, আজ আর বসা যাবে না। আমাকে এক্ষুনি একবার রাইটার্স বিল্ডিংস যেতে হবে। কাল আবার সকাল সাড়ে দশটায়।

    আর্দালিকে নির্দেশ দিলেন লক্ষ্মী নামের স্ত্রীলোকটিকে কাস্টোডিতে রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। তারপর তার পাশে বসা ব্যক্তিটিকে বললেন, চলো, আমরা বেরোই, তুমি যদি চাও, তোমাকে পথে কোথাও নামিয়ে দিতে পারি।

    আলিপুরের ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠতে-উঠতে পুলিশ অফিসার হুমায়ুন কবির তার বন্ধু বিনায়ক ঘোষালকে বললেন, শুনছো তো সব, মেয়েটির কথা? গল্প নয়, একেবারে কঠিন বাস্তব।

    বিনায়ক বললেন, বাস্তব তো বটেই, ট্র্যাজিকও বটে। কিন্তু নতুনত্ব কী আছে? বহু মেয়ের জীবনেই তো এরকম ঘটছে?

    হুমায়ুন বললেন, নতুনত্ব না থাকতে পারে, তবু প্রতিটি মেয়েরই জীবনটা তো আলাদা।

    বিনায়ক গাড়িতে বসে বললেন, মাঝে-মাঝে আমার নিজেরই ইচ্ছে করছে দু-একটা প্রশ্ন জিগ্যেস করতে। কিন্তু তা বোধহয় উচিত হবে না।

    একদম উচিত নয়। তুমি বাইরের লোক, তোমাকে আমি বন্ধু হিসেবে এনেছি। যদি তোমার বিশেষ কিছু জানতে ইচ্ছে হয়, তুমি আমাকে ইংরিজিতে সেটা বলতে পারো। তারপর আমি ওকে জিগ্যেস করব, সেটা অফিশিয়াল হয়ে যাবে।

    –আমি একটা ব্যাপার বুঝতে পারছি না হুমায়ুন, তুমি এই লক্ষ্মীমণি আর সরিফন বিবির ব্যাপারটা পরিষ্কার করছ না কেন? এ মেয়েটিকে তো লক্ষ্মীমণি বলেই মনে হচ্ছে।

    –মুশকিল হচ্ছে কী জানো, লক্ষ্মীমণি নামে কারুর মিসিং ডায়েরিতে নাম নেই, কেউ তার নামে থানায় কিছু জানায়নি। অথচ সরিফন বিবির নামে ডায়েরি আছে, ওই একই জায়গা থেকে যে নিরুদ্দেশ হয়েছে। অথচ ঘটনা যা ঘটছে, মানে মেয়েটি যা বলছে, তাও ফাইলের রিপোর্টের সঙ্গে অনেকটা মিলে যাচ্ছে। এ মেয়েটি যদি সরিফন না হয়, তাহলে তার জীবনের সব ঘটনা এ জানবে কী করে?

    –তোমাদের রিপোর্টে নিশ্চয়ই নামের গন্ডগোল হয়েছে।

    –তা তো হতেই পারে। কিন্তু একটা ব্যাপার বোঝা যাচ্ছে, সরিফন বিবি মিশিং এটা যেমন ঠিক, আর এই লক্ষ্মীমণিও চালান হয়েছিল। দুজনের কাহিনি মিশে গেছে। সেইজন্যই আমি এর কাছ থেকে ডিটেইল্স জানতে চাইছি।

    –আচ্ছা, হুমায়ুন, আমাদের এই পশ্চিম বাংলা থেকে এত মেয়ে বাইরে চালান যায়, তোমরা পুলিশরা কিছু করতে পারো না? এটা তো তোমাদের পক্ষে একটা ডিসগ্রেস।

    শুধু পুলিশের দোষ দিচ্ছ, দোষ তো গোটা সমাজের। যে সমাজে মেয়েদের কোনও মর্যাদা নেই, শিক্ষা কিংবা জীবিকার সুযোগ এত কম, সেই সব সমাজে মেয়েদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা তো চলবেই। বহুকাল ধরে চলে আসছে। বাংলাদেশ থেকে, নেপাল থেকেও প্রচুর মেয়ে চালান হয়।

    –খবরের কাগজগুলোও এ ব্যাপারে বেশি উচ্চবাচ্য করে না। এইসব খবর চাপা দেওয়ার একটা চেষ্টা চলে মনে হয়।

    –আর তোমরা লেখকরাই বা কী করছ, বিনায়ক? তোমাদের কিছু দায়িত্ব নেই? এক সময় লন্ডন শহরে বেশ্যাবৃত্তির খুব রমরমা ছিল। সেই সময় জর্জ বার্নার্ড শ একটা নাটক লিখেছিলেন, মিসেস ওয়ারেন্স প্রফেশনস, তাতে উচ্চবিত্ত বিলিতি সমাজের মুখোশ খুলে দিয়েছিলেন। তোমরা বাঙালি লেখকরা সেরকম কিছু লিখতে পারো না? এই যে কলকাতা শহরে সোনাগাছি বলে বিরাট একটা পতিতাপল্লি আছে, তোমাদের কোনও লেখায় তার উল্লেখ থাকে? শরৎচন্দ্র তবু লিখেছিলেন একটুআধটু, তাও এমন একটা রোমান্টিক ভাব দিয়েছিলেন যে আসল ব্যাপারটা কিছুই ফুটে ওঠেনি।

    বিনায়ক বললেন, ব্যাপারটা অত সহজ নয়। পরে আলোচনা করব। তুমি আপাতত আমাকে রবীন্দ্রসদনের কাছে নামিয়ে দাও।

    হুমায়ুন বললেন, ঠিক আছে। তুমি কাল আসছ? আমি বরং অফিসে আসার সময় তোমার বাড়ি থেকে তুলে আনব। অ্যারাউন্ড টেন। আমি চাই তুমি এই মেয়েটির ঘটনা সবটা শুনে দেখো। তুমি এর থেকে তোমার লেখার মাল-মসলা পেয়ে যেতে পারো।

    বিনায়ক বললেন, ঠিক আছে, আমি দশটার সময় তৈরি থাকব।

    গাড়ি থেকে তিনি নেমে গেলেন।

    রবীন্দ্রভবনে এখন একটা নাট্য-উৎসব চলছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসেছে নাটকের দল। বড়-বড় সব ছবিওয়ালা হোর্ডিং চতুর্দিকে। লোকজন আসছে প্রচুর।

    বিনায়ক গেট দিয়ে ঢুকে একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন।

    এইসব নাটকে কত উচ্চাঙ্গের শিল্পের ব্যাপার থাকে। নারী স্বাধীনতা বিষয়ে বাণী দেওয়া হয়। দর্শকরা উপভোগ করে। আর এখান থেকে তিরিশ-চল্লিশ মাইল দূরে যে-সব গ্রাম সেখান থেকে গরিব ঘরের মেয়েরা আজও পাচার হচ্ছে, বিক্রি হচ্ছে মাংসের বাজারে। চালান যাচ্ছে আরব দেশে।

    এটাই বাস্তবতা। সেই সব মেয়েরা সারা জীবনে জানতেই পারে না, স্বাধীনতা কাকে বলে।

    বিনায়ক একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলে নাটক দেখার জন্য হলের মধ্যে ঢুকে গেলেন। তিনি এখানকার একজন কমিটি মেম্বার, তার টিকিট লাগে না।

    পরদিন ঠিক দশটা বেজে পাঁচ মিনিটে হুমায়ুন কবিরের গাড়ি এসে হাজির। প্রত্যেকদিন বাড়ি থেকে বেরুবার সময় হুমায়ুন স্নানটান করে ফিটফাট হয়ে বেরোন। বিনায়ক রোজ দাড়ি কামান না, কখনও তিন-চারদিনও বাদ পড়ে যায়। এক-একদিন স্নান করতেও ভুলে যান।

    বিনায়কের স্ত্রী একটি স্কুলে পড়ান, তিনি বেরিয়ে যান একটু আগেই। ওদের একটিমাত্র ছেলে কলেজে পড়ে। সে বলল, বাবা, তুমি বেরুচ্ছ। আমার আজ একশোটা টাকা লাগবে।

    বিনায়ক মানিব্যাগ রাখেন না, শার্টের বুক পকেট থেকে একশো টাকার একটা নোট বার করে দিয়ে হেসে বললেন, আমি যখন কলেজে পড়তাম, তখন আমার বাবা আমাকে সারা মাসের জন্য মোটে তিরিশ টাকা হাত খরচ দিতেন। আর তুই যখনতখন একশো টাকা চাস!

    বিনায়কের ছেলে সুপ্রতিম বলল, তোমাদের সে আমলে টাকার দাম কত বেশি ছিল। তুমিই তো বলেছিলে, সে সময় পাঁচ টাকায় একটা চিংড়ির কাটলেট পাওয়া যেত। এখন পঞ্চাশ টাকা।

    বিনায়কের মনে পড়ল, ছাত্র বয়েসে তিনি বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে একবার সোনাগাছি বেশ্যাপল্লিতে গিয়েছিলেন। ওই নিষিদ্ধ এলাকাটা সম্পর্কে কৌতূহল ছিল কৈশোর বয়েস থেকেই। বাসে করে ওই এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আড়চোখে তাকাতেন। কলেজে এসে অনেক সংস্কারই ভাঙতে ইচ্ছে করে।

    বেশ্যাপল্লিতে গিয়ে ঠিক অপরাধবোধ হয়নি, তবে কেন যেন একটু-একটু ভয় করছিল। গল্প-উপন্যাসে ওইসব জায়গার সঙ্গে গুন্ডা-বদমাশদের যোগাযোগের কথাও থাকে।

    সেদিন তিন বন্ধুতে মিলে একটি মেয়ের ঘরে গিয়ে কিছুক্ষণ গল্প-টল্প করেই চলে এসেছিলেন। একজন বন্ধু শুধু চলে আসার আগে হঠাৎ মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু খেয়েছিল। বিনায়ক মেয়েটিকে একবারও স্পর্শ করেননি।

    এক ঘণ্টা সেই মেয়েটির ঘরে সময় কাটাবার জন্য দিতে হয়েছিল পনেরো টাকা। সেটাই তার রেট। তিন বন্ধু ভাগাভাগি করে দিয়েছিল টাকাটা।

    তাঁর ছেলে কাটলেটের দাম বলা মাত্র বিনায়কের হঠাৎ যেন এক বেশ্যার এক ঘণ্টা রেটের কথা মনে পড়ল? স্মৃতির এই লেখা বোঝা খুব শক্ত। এখন ওদের রেট কত? বিনায়ক আর কখনও যাননি।

    একথাও তার অবধারিতভাবে মনে হচ্ছে, তার ছেলেও কি বন্ধুদের সঙ্গে বেশ্যাপল্লিতে গেছে কখনও? সরাসরি জিগ্যেস করা তো যায় না। তবে সম্ভাবনা কম। এখন ছেলে আর মেয়েদের মেলামেশা কত সহজ হয়ে গেছে। বিনায়কের যৌবনকালে মেয়েদের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক স্থাপন করতে হত অনেক সাবধানে, বন্ধু-বান্ধবদেরও না জানিয়ে। এখন কলেজের ছেলে আর মেয়েরা কলকাতার বাইরে একসঙ্গে বেড়াতে যায় দু-তিনদিনের জন্য। সুপ্রতিমই তো গত মাসে বাইরে ঘাটশিলা থেকে ঘুরে এল, তিনটি ছেলে আর দুটি মেয়ে, একটা বাংলোতে ওরা রাত কাটিয়েছে। আজকাল সব মেয়েদেরই বোধহয় বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কের অভিজ্ঞতা হয়ে যায়।

    বিনায়কের দেরির সময়টায় হুমায়ুন খবরের কাগজ পড়ছিলেন, বিনায়ক গাড়িতে ওঠার পর তিনি বললেন, আজ ইন্টারোগেশানটা শেষ করে ফেলব ভাবছি। সারাদিন লেগে যেতে পারে। দুপুরে কি তোমায় বাড়িতে ফিরতে হবে?

    বিনায়ক বললেন, না ফিরলে বাড়িতে ফোনে বলে দেব।

    হুমায়ুন বললেন, কাল সরিফনবিবির পুরো রিপোর্ট পেয়েছি। মুন্সিগঞ্জ আর নবীপুর এই দুটো পাশাপাশি গ্রাম। এই নবীপুরের কালু মির্জার তিন মেয়ের এক মেয়ে সরিফন। এক শনিবারের হাট থেকে সে আর বাড়ি ফেরেনি। আড়কাঠির দল তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়েছিল বলেই মনে হয়। তারপর তাকে বঁসিতে একবার ট্রেস করা গেছে। এই লক্ষ্মিমণিও ঝাঁসির কথা বলল।

    বিনায়ক বললেন, ওই সরিফনকে যে ঝাঁসিতে ট্রেস করা গেছে, তা তোমরা কী করে জানলে?

    সারা দেশেই তো এই সব চোরাচালানিদের ঘাঁটি আছে। পুলিশ যে একেবারে কিছু করে না, তাও তো নয়। হয়তো দেরিতে খবর পায়। তখন পুলিশের রেইড হয় ওইসব ঘাঁটিতে। পুলিশ কয়েকজনকে রাউন্ড আপ করে। কখনও আবার পুলিশ পৌঁছোবার আগেই পাখি উড়ে যায়। আগেই রেইড-এর খবর পেয়ে সেই দলবল পালিয়ে যায়।

    –আগেই খবর পায় কী করে? নিশ্চয়ই পুলিশেরই কোনও লোক তাদের খবর দিয়ে দেয়?

    –সেটাও মিথ্যে নয়। বাংলায় কথা আছে না, সর্ষের মধ্যেই ভূত। পুলিশের মধ্যেই এরকম অনেক ভূত আছে। আসলে তো প্রচুর টাকার খেলা। এইসব বদমাশরা এত বেশি ঘুষ অফার করে যে অনেকেই লোভ সামলাতে পারে না।

    –এখন আর বেশি কমের ব্যাপার নেই। তোমাদের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে নীচের তলায় লোকেরা তো দশ-কুড়ি টাকা ঘুষ নিতেও ছাড়ে না।

    –আপাতত ওই বিষয়টা থাক। আসল কথাটা বলি?

    –ঠিক আছে, বলো।

    –বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এইসব মেয়ে পাচারকারীদের ধরে যে-সব রিপোর্ট বানায়, সেগুলো আবার সব রাজ্যেই এক্সচেঞ্জ হয়। সবগুলো মিলিয়ে আমরা আবার একটা রিপোর্ট তৈরি করি। সেই অনুযায়ী, ঝাঁসিতে এক সরিফনের উল্লেখ আছে, যদিও সেখানে তাকে উদ্ধার করা যায়নি। লক্ষ্মীমণির কোনও কিছু উল্লেখ আমরা এ পর্যন্ত পাইনি। অথচ এর কাহিনিটাও মিথ্যে হতে পারে না।

    বোঝাই যাচ্ছে, তোমাদের রিপোর্টে ভুল আছে। আচ্ছা, তুমি কী করে লক্ষ্মীমণিকে বললে যে সে কঁসিতে পাঁচ সপ্তাহ ছিল?

    –পুলিশ যখন কোনও একটা পাচারকারীদের আখড়ায় গিয়ে রেইড করে, তখন যদি দেরি হয়ে যায়, যদি মেয়েদের নিয়ে দালালরা আগেই পালিয়ে যায়, সেখানেও কাছাকাছি কিছু লোককে পুলিশ জেরা করে। এমন কয়েকজনকে পাওয়া যায়, যারা ওইসব পাচারকারীদের সাহায্য করে, তাদের অ্যারেস্ট করতে হয়।

    তারা তো সব চুনোপুঁটি!

    হ্যাঁ, চুনোপুঁটি হলেও তাদের পেট থেকে অনেক খবর বার করা যায়। তাদের কাছ থেকেই কিছু কিছু মেয়ের নামও জোগাড় হয়। এইসব মিলিয়ে একটা কেস হিস্ট্রি তৈরি হয়। আরও দু-জায়গায় সরিফনের উল্লেখ আছে, একবার সে প্রেগন্যান্ট হয়েও পড়েছিল। শেষবার তার উল্লেখ আছে দিল্লির এক রিপোর্টে। তার থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সে আরব দেশে চালান। হয়নি। প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলে তার বাজারদর অনেক কমে যায়।

    –এমনও হতে পারে, ঝাঁসিতে দু-ব্যাচ মেয়ের মধ্যে সরিফন আর লক্ষ্মীমণি, দুজনেই ছিল?

    তবু কেউ কারুকে চিনবে না?

    –সেটাও অসম্ভব কিছু নয়।

    –দেখা যাক, জেরায় শেষ পর্যন্ত লক্ষ্মীমণি আর সরিফনের কাহিনির আলাদা কিছু বেরিয়ে আসে কি না। দিল্লিতে রেড করে অনেক মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও সরিফনকে পাওয়া যায়নি। একটা পিকিউলিয়ার ব্যাপার কি জানো, দিল্লিতে একজন লক্ষ্মীমণির উল্লেখ আছে। সে আর এই মেয়েটি একই কিনা তা এখনও বলা যাচ্ছে না। দেখা যাক, এর গল্প কোথায় গিয়ে পৌঁছোয়। দিল্লির লক্ষ্মীমণিকে কিন্তু রিপোর্টে মৃত বলা হয়েছে। সে খুন হয়।

    কাহিনির শেষটা আগে বলে দিও না। মনে তো হচ্ছে, দুটো লক্ষ্মীমণি আলাদা হওয়াই সম্ভব।

    দুই বন্ধু দুটি সিগারেট ধরালেন।

    একটুপরে বিনায়ক বললেন, কাল তো তুমি আমাকে রবীন্দ্রসদনে নামিয়ে দিয়ে গেলে। তারপর আমি একটা নাটক দেখলাম। নাট্য উৎসব চলছে তো। আমার গোড়ার দিকে মিনিটসাতেক বাদ গেছে। সেই নাটকটার কথা তুমি একটু শুনবে?

    হুমায়ুন বললেন, ইয়েস, অফকোর্স শুনব। কার নাটক?

    –বিজয় তেন্ডুলকরের। তুমি না শুনেছ?

    –বাঃ, শুনব না কেন? ওঁর ঘাসিরাম কোতোয়াল নামে একটা নাটক তো খুব নাম করেছিল, তাই না? উনি তো মারাঠি ভাষায় লেখেন।

    –আমি তো ভেবেছিলাম, পুলিশের লোকেরা নাটক-ফাটকের কোনও খবরই রাখে না। হা, নাটকটা মারাঠি ভাষায়, কিন্তু বুঝতে আমার কোনও অসুবিধে হয়নি। নাটকটার নাম কমলা। এক-একদিন বেশ মজার ব্যাপার হয়। কাল তোমার অফিসে বসে মেয়ে পাচারের কাহিনি শুনছিলাম, তারপর এসে একটা নাটক দেখলাম, সেটাও ওই একই বিষয়ে। তোমার তো মনে আছে, একবার রাজস্থানের একটা মেলা সম্পর্কে রিপোর্ট বেরিয়েছিল দিল্লির কাগজে, তাতে খুব হইচই পড়ে গিলেছিল?

    –হ্যাঁ, মনে আছে। এই তো বছর দু-এক আগের কথা। সরকার থেকে বলা হয়েছিল যে ওই রিপোর্টের সব কথাই মিথ্যে। মেয়ে বিক্রির ব্যাপার তো?

    রাজস্থানের সেই মেলায় গরু-ছাগল-উট যেমন বিক্রি হয়, তেমনি মেয়েও বিক্রি হয়, রিপোর্টে এই কথাই ছিল। প্রকাশ্যে, মেয়েরা সার বেঁধে বসে আছে, লোকেরা বেছে-বেছে দর দাম করে কেনে। একটা গরুর চেয়ে একটা মেয়ের দাম শস্তা পড়ে বোধহয়।

    এটা বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। সাংবাদিকের গিমিক। এখনকার দিনে এটা হতে পারে না। গোপনে মেয়ে পাচার হয় ঠিকই। কিন্তু প্রকাশ্যে মেয়ে বিক্রি? অ্যাবসার্ড!

    –এইরকমই তো অভিযোগ করা হয়েছিল সাংবাদিকটি সম্পর্কে? তাই নিয়েই নাটক। সাংবাদিকটিকে যখন দিল্লির অনেকে মিলে খুব অপমান করে, তখন সে সত্যি-সত্যি ওই মেলায় চলে গিয়ে সাতহাজার না কত হাজার টাকা দিয়ে সত্যি-সত্যি একটা মেয়েকে কিনে নিয়ে আসে। ওই মেয়েটিরই নাম কমলা। সে বিবাহিত, স্ত্রী আছে। স্ত্রীকে বুঝিয়ে মেয়েটিকে সে নিজের বাড়িতে এনে রেখেছিল। সে ঠিক করেছিল, পার্লামেন্ট খুললে সে মেয়েটিকে একেবারে পার্লামেন্টের সামনে হাজির করে দেখাবে যে দেশে মেয়েদের নিয়ে কত নৃশংস, অমানবিক কাণ্ড চলছে।

    তারপর সেই সাংবাদিককেই পুলিশ গ্রেফতার করে, তাই না? কারণ, মানুষ বিক্রি করা যেমন বে-আইনি, তেমনি মানুষ কেনাও তো সমাজে বে-আইনি!

    -হ্যাঁ, নাটকে অবশ্য একটু অন্যরকম ভাবে দেখানো হয়েছে। মোটকথা, তুমি কাল বলছিলে, এই সমস্যা নিয়ে সাহিত্যিকরা মাথা ঘামায় না কেন? এই তো একজন নাম করা নাট্যকার লিখেছেন, তা নিয়ে এক সময় কিছুটা হই-চইও হয়েছিল। তাতে কি সমস্যাটা একটুও কমল? সাহিত্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায় না। কাল যারা নাটকটা দেখলেন, তারাও একটা ভালো নাটক, ভালো অভিনয় এইসব নিয়ে মুগ্ধ হচ্ছেন, সমস্যাটা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। বার্নার্ড শ-এর যে-নাটকটার কথা বলছিলে, সেটাও ইংল্যান্ডের মেয়েদের অবস্থা নিশ্চয়ই কিছু বদলাতে পারেনি। লন্ডনে এখনও প্রচুর বেশ্যাবৃত্তি চলে।

    –তা বলে তোমরা দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারো না। বারবার লিখে মানুষকে সচেতন। করতে হয়।

    গাড়ি পৌঁছে গেছে ভবানীভবনে।

    নেমে দাঁড়াবার পর বিনায়ক বলল, আর একটা কথা শোনেনা। ওই নাটকে একটা দৃশ্য আমার বিশেষ ভালো লেগেছে। একটু দাঁড়াও।

    হুমায়ুন গেটের পাশটায় সরে এলেন। বিনায়ক বললেন, সাংবাদিক তো কমলা নামের মেয়েটিকে বাড়িতে এনে রেখেছেন। তার স্ত্রী বিদূষী, সুন্দরী, কোনও একটা কলেজে পড়ান। সমাজের আলোকপ্রাপ্তা মহিলা যাকে বলে। তিনিও এই মেয়ে বিক্রির ব্যাপারটাতে খুব উত্তেজিত। তিনি কমলার প্রতি সহানুভূতিশীল। ভালো শাড়ি দিয়েছেন, ভালো খেতে দিয়েছেন। তারপর খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে জিগ্যেস করতে লাগলেন, কমলার বাড়ির কথা, সংসারের কতটা অভাব, কেন তাকে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, এইসব। কমলাকে যে কিনে আনা হয়েছে, সে নিজে কিন্তু তা একটুও অস্বাভাবিক মনে করে না। একসময় সে খুব সরলভাবে প্রশ্ন করল, মাইজি, আপনার সাহেব আপনাকে কত দিয়ে কিনেছিলেন? সে মহিলা তো আঁতকে উঠে বললেন না, না, আমাদের এখানে…। ভদ্রমহিলা যাই-ই বলুন, প্রশ্নটা তো মিথ্যে নয়। তোমাদের মুসলমানদের মধ্যে কী সিস্টেম, ঠিক জানি না, হিন্দুদের মধ্যে, যতই বে-আইনি বলা হোক, তবু তো নানানভাবে পণপ্রথা চলছে! বাঙালি মেয়ের বাপ ছেলের বাপকে টাকা দেয়। উত্তরভারতে পাত্রপক্ষ টাকা দেয়। কেনাই তো হল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযেটুকু টুনটুনি সেটুকু ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ৪ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    স্বর্ণলতা

    March 27, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    স্বপ্নের নেশা

    March 27, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনার কাঠির স্পর্শ

    March 27, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনামণির অশ্রু

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }