Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প343 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – ১০

    দশম অধ্যায়

    বাইকটাকে ক্যাফের সামনে দাঁড় করিয়ে থেকে কায়দা করে হেলমেট খোলে গৌরব। তারপর মুখটা ঘুরিয়ে একবার লুকিং গ্লাসে দেখে নেয়। দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা চিউইংগামে অকারণেই চাপ দেয়। জ’লাইন শক্ত হয়ে ওঠে তাতে। হেলমেটের চাপে সামনের চুলগুলো নুয়ে পড়েছিল। পকেট থেকে চিরুনি বের করে মাথার চুলগুলো ভুট্টার খেতের মতো খোঁচা খোঁচা করে। হ্যাঁ, এইবার খোলতাই লাগছে চেহারাটা। খুশি হয় গৌরব।

    গৌরব দেখেছে, মেয়েদের মুখে সুন্দর হওয়ার মতো বিস্তর যন্ত্রপাতি আছে। মেকআপের কলকাঠি নেড়ে নিজেকে ইচ্ছেমতো সাজিয়ে নিতে পারে তারা। ছেলেদের ক্ষেত্রে অস্ত্র মাত্র তিনটে, লম্বাটে চেহারা, খোঁচা হয়ে উঠে থাকা চুল আর একেবারে ছুরির ফলার মতো জ’লাইন। মুশকিল হল এই তিনটেই জন্মগত।

    ছবি তোলার সময় গৌরব দাঁতে দাঁত চেপে থাকে। কারো সঙ্গে ডেটে যেতে হলে মুখ টানটান করে থাকে। কথা যত পারে কম বলার চেষ্টা করে। তাতে একটা ভারিক্কি ভাবও আসে, আবার জ’লাইনও বিগড়োয় না৷

    বাইকের চাবি বন্ধ করে চারপাশটা দেখে নিল গৌরব। এই গরমের মধ্যেও লেদারের জ্যাকেট পরেছে বলে গায়ে বিশ্রী একটা অনুভূতি হচ্ছে। তবে বাইকের সঙ্গে এই জ্যাকেটটা যায় ভালো। ছোট পকেট থেকে পারফিউমটা বের করে গায়ে বুলিয়ে নেয়। ফার্স্ট ইমপ্রেশন ইজ লাস্ট ইমপ্রেশন। বিজ্ঞাপনে দেখা যুবরাজ সিং-এর মতো এক মানুষ পা তুলে বাইক থেকে নেমে আসে ও। তারপর কোমর দুলিয়ে ঢুকে যায় ক্যাফের ভেতরে। মেয়েটা কি ইতিমধ্যে এসে গেছে? ক্যাফেতে ঢুকেও মেয়েটাকে দেখতে পায় না গৌরব। পা বাড়িয়ে কাচের দেওয়ালের ধারে একটা সিটে গিয়ে বসে পড়ে৷

    ক’মাস আগে থেকেই ব্যাদা দিয়া সেন, দিয়া সেন করে একরকম মাথা খারাপ করে দিচ্ছিল। এই মুহূর্তে বেদান্তের জীবনে মোট দুটো টার্গেট। এক দিয়া সেন, আর দুই একটা গান শোনার এমপিথ্রি প্লেয়ার। সাম্য একবার দোকানে গিয়ে সে জিনিসের দামদস্তুরও করেছিল। কিন্তু দাম দেখে ছিটকে পালিয়ে এসেছে। এই বর্ষায় একবারও অনলাইন হয়নি মেঘা। ফলে সাম্যর মন এমনিতে খারাপই থাকে। তার উপর কানের কাছে ব্যাদার টিকির টিকির আর সহ্য হচ্ছিল না।

    মাসখানেক আগেই ইলেভেন পাস করে টুয়েলভে উঠেছে ওরা। নহর ওর শরীর খারাপের ব্যাপারটা আগমনী আর সাম্যকে জানাতে বারণ করেছিল। বলেছিল ওরা দুজন নাকি মনের দিক থেকে একটু নরম। অকারণে বেশি মন খারাপ করবে।

    বেদান্ত কথা চেপে রাখতে পারে ভালো৷ এমনকী সাম্য অবধি ওর পেটের ভেতর থেকে এই গোপন খবরটা বার করতে পারেনি। তবে এ বছর বেচারার পরীক্ষার রেজাল্ট আগেরবারের মতো ভালো হয়নি। সেটা নিয়ে অবশ্য ওর খুব একটা চিন্তাও নেই। ট্রয়লেভ পাস করে কোনওরকমে একটা টিউশনি ফট করে জোগাড় হয়ে গেলেই হল। বাদবাকি ও নিজে বুঝে নেবে।

    ইলেভেনের ফাইনাল পরীক্ষার পর মাসখানেক আর তেমন দেখা হয়নি ওদের। তবে নহর আর আগমনী মাঝে মধ্যেই নিজেদের মধ্যে দেখা করেছে। ওরা দুজনেই মেয়ে বলে রাস্তায় কেউ দেখে ফেলে সন্দেহ করার ভয় নেই।

    আগমনী নহরকে ওর মায়ের গল্প শোনায়, ওর তালদিঘির গল্প শোনায়। ওর বাবার কথা যেটুকু মনে পড়ে শোনায়। পুরোনো স্কুলের কথা বলে কখনও। নহর চুপ করে শুনে যায় সব। কখনও শুনতে শুনতে অন্যমনস্ক হয়ে কী যেন ভাবে। তবে আগমনী লক্ষ করেছে, নহর নিজের ব্যাপারে খুব বেশি কথা বলতে চায় না। জিগ্যেস করলে মিটিমিটি হাসে, কখনও তেমনই হাসির ফাঁকে বলে, ‘ধরে নে পরে বলব।’

    ‘আর কবে বলবি? এক বছরও নেই হাতে। তারপর তো স্কুল ছেড়ে দেব!’

    নহর কেমন রহস্যময় হেসে বলে, ‘তারপরেই বলব বলে জমিয়ে রাখছি সব।’

    মাঝে মাঝে নহরের কথার মানে বুঝতে পারে না আগমনী। তবে এটুকু বোঝে নহর শুধু শুধু কোনও কথা বলে না। ওর কথার আলাদা কিছু মানে আছে। কেবল সেটা বোঝার মতো বুদ্ধি এখনও হয়নি আগমনীর।

    তবে দিয়া সেনের দাদাকে খুঁজে বের করার এক অভিনব পন্থা বের করেছিল সাম্য। ব্যাপারটা হুট করেই ওর মাথায় আসে। ওদের ইলেভেনের টেস্ট চলার ঠিক আগেই ওর বাবা একটা নতুন এলআইসি পলিসি শুরু করেন। সেটার জন্য ভোটার কার্ডের নম্বর দরকার ছিল। এদিকে বাবা ক’দিন হল ভোটার কার্ড খুঁজে পাচ্ছেন না। এক অনলাইন থেকে ভোটার কার্ডের নম্বর বের করা ছাড়া আর উপায় নেই। কিন্তু সে উপায় জানা নেই বাবার। সাম্য একদিন সাইবার ক্যাফে থেকে ফেরার পথে একরকম কৌতূহলের বশেই বিকাশকে জিগ্যেস করেছিল, ‘আচ্ছা বিকাশদা, ভোটার কার্ড হারিয়ে গেলে নম্বর বের করা যায়?’

    ‘যাবে না কেন? নিজের আর বাপের নাম জানলেই হবে।’

    সাম্যর কৌতূহল আরও বেড়ে উঠতে বিকাশ ওকে সবটা বুঝিয়েছিল। সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গল বলে একটা সাইটে গিয়ে নিজের নাম আর বাবার নাম দিয়ে সার্চ করলেই ভোটার লিস্টে নিজের নাম আর ছবি চেক করা যায়। খুশি মনে বাড়ি ফিরে বাবাকে ভোটার নম্বর বের করে দিয়েছিল সাম্য।

    এবং তার পরেই বন্য আইডিয়াটা মাথায় আসে। বেদান্তর যখন দিয়া সেনের দাদা আর বাবার নাম মনে আছে তখন তাদের বাপের ভোটার কার্ডও বের করা যাবে। আর সেখান থেকে তাদের ছবি আর ঠিকানা। দিয়া সেনের অবশ্য আঠারো হয়নি, কিন্তু তার দাদার নির্ঘাত হয়েছে।

    আর দেরি করে না সাম্য। পরের দিন সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে খানিক খোঁজাখুঁজির পর মোট গোটাচারেক শাশ্বত সেনের ছেলে গৌরব সেন বের করে সাম্য। তাদের ঠিকানা আর ছবি মিলিয়ে মোট চারটে গৌরব সেনের অরকুট প্রোফাইল বের করে। ছবি মিলিয়ে বেদান্তকে একবারও জিগ্যেসও করেছিল, ‘হ্যাঁ রে, তোর এই দিয়া সেনের দাদাকে কেমন দেখতে?’

    ব্যাদা একটুও না ভেবে উত্তর দিয়েছিল, ‘পাক্কা শুয়োরের বাচ্চার মতো।’

    সাম্য হতাশ হয়ে উপায়ান্তর না দেখে বেদান্তকেই টেনে এনেছিল সাইবার ক্যাফেতে। তার মধ্যে ‘বাইকার গৌরব’কে দেখেই টেবিলের উপর ঘুষি মেরেছিল বেদান্ত, ‘এই তো শুয়োরের বাচ্চাটা, দেখলেই মনে হয় কেলিয়ে দিই।’

    কিন্তু ছেলেটার ছবি দেখে খানিক ঘাবড়েছিল সাম্য। দেখেই বোঝা যায় জিমফিম করে। তাছাড়া কোনও একটা বাইকার গ্যাং-এর মেম্বার। হাঁক দিলে আরও পাঁচটা এরকম গুমসো ছেলে তেড়ে আসবে। ওকে রাস্তাঘাটে বাংলা মার দেওয়া যাবে না।

    সাম্য অন্য একটা পন্থা নিল। আগমনীর একটা অর্কুট প্রোফাইল খোলা হল। তারপর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হল বাইকার গৌরবকে। সুন্দরী মেয়ের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকসেপ্টেড।

    কিছুদিন ধরে ছেলেটাকে খেলায় আগমনী। তার সঙ্গে একটা আধো প্রেম প্রেম টাইপের রসালাপ করে। সেই করতে করতে মাঝে মাঝে মেজাজ গরম হয়ে যায় আগমনীর। হচ্ছে, করছে, যাচ্ছে, সবেতেই এইচ-এর বদলে ছয় লেখে। এত ছয় চার শেহওয়াগকেও মাঠে মারতে দেখেনি আগমনী।

    একদিন বিরক্ত হয়ে ব্যাদাকে বলেই বসে, ‘এরকম আতাক্যালানে ছেলে জীবনে দেখিনি মাইরি। সারাদিন লং রাইডে যেতে চায় আর উইলির গল্প শোনায়।’

    ‘উইলি আবার কী?’

    ‘ওই যে বাইক চালাতে চালাতে একটা চাকা উপরে তুলে দেয়।’

    ব্যাদা মুখ বাঁকায়, ‘তাতে অত বড়াই করার কী আছে? আরে কুত্তাও তো মোতার সময় একটা পা উপরে তুলে দেয়, অহঙ্কার করতে দেখেছিস? তুই ওর বোনের কেসটা বোঝার চেষ্টা কর। কোনও বয়ফ্রেন্ড টয়ফ্রেন্ড হয়নি তো?’

    ‘আগে প্রেম করে ওই লেভেলের ক্যালানি খেলে কেউ দাদার কাছে আবার গিয়ে প্রেমের গল্প শোনায়? তবে একটা ঝামেলা হয়েছে বুঝলি?’ ‘কী?’

    ‘ছেলেটা বলছে বুকের বাঁদিকে আমার নামে ট্যাটু করবে।’

    ‘তাতে তোর কীসের সমস্যা?’

    ‘আরে, আমি তো ওর বোনকে তোর সঙ্গে সাল্টে দিয়ে হাওয়া হয়ে যাব। তখন ট্যাটুটার কী হবে?’

    ব্যাদার মুখ রাগত দেখায়, ‘ওই চামড়া কেটে এনে প্র্যাক্টিকাল খাতায় স্টিকার করে লাগাবি। শালা, তোর ওই মালটার জন্য এত সহানুভূতি কেন ভাই?’

    আগমনী হাসে, ‘আসলে আমার একবার শখ হয়েছিল ট্যাটু করানোর। কারো নাম-ফাম নয়, আঙুলের পাশে কালো তরোয়াল। মাকে ভয়ে বলতেই পারিনি।

    ব্যাদা কী যেন ভাবে। তারপর ব্যাগ থেকে কালো মার্কার পেন বের করে এনে বলে, ‘দে, হাতটা দে।’

    আগমনী হেসে ফেলে, বাঁ-হাতের বুড়ো আঙুলটা বাড়িয়ে দিতে দিতে বলে, ‘করে লাভ কী? স্নান করলেই উঠে যাবে তো।’

    ব্যাদা ওর হাতে তরোয়াল আঁকতে আঁকতে ভারিক্কি গলায় বলে, ‘আবার পরের দিন এঁকে দেব, একেবারে এটার মতোই হবে। দেখে বোঝা যাবে না৷ চিন্তার কী আছে?’

    ‘আর কলেজে ওঠার পর?’

    ব্যাদা প্রশ্নটায় তেমন আমল দেয় না, ‘যারা ট্যাটু করায়, তাদের দেড় বছরের বেশি এক ট্যাটু আর ভালো লাগে না। তখন অন্য কিছু এঁকে নিস।’

    আগমনীর মনে অবশ্য এই প্রশ্নটা হামেশাই আসে। এখন ওদের রোজ দেখা হচ্ছে। স্কুলের পরেও এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে বেশ খানিকটা সময় কাটায়। কিন্তু স্কুল শেষ হয়ে গেলে কলেজ তো আর এক হবে না। তখন কি যোগাযোগ কমে আসবে ওদের? একদিন খানিক চিন্তিত হয়েই খুঁটিকে জিগ্যেস করেছিল, —ভাই, তুই কোন কলেজে পড়বি?’

    খুঁটি অনেক খতিয়ে ভাবার পর পট করে উত্তর দিয়েছিল, ‘মৌসুমি যে কলেজে পড়বে।’

    কপাল চাপড়েছিল আগমনী, ‘শালা, এই পাগল প্রেমিকে নিয়ে আমি যাই কোথায়? ‘সাবজেক্ট এক না হলে কী করবি?’

    খুঁটি না ওঠা দাড়ি চুলকে গম্ভীর গলায় বলেছিল, ‘সাবজেক্টের মিলটা বড় কথা নয় মণি। মনের মিলটা…’

    ছেলেটা দিনদিন কেমন হ্যাল খেয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে বিরক্তি লাগে, আবার কখনও হাসিও পায়। এসব বিনোদন নিতে নিতেই বাইকার গৌরবের সঙ্গে চ্যাট করে আগমনী। ছেলেটা একেবারে বাপুজি কেকের থেকেও সস্তার ফ্লার্ট করে, ‘আজ বাইক চালাতে চালাতে তোমার কথা মনে পড়ছিল খুব। আহ্, তুমি যদি সামনে থাকতে…’

    আগমনী ঘাবড়ে যায়, ‘সেকী! অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে উড়ে যেতাম তো!

    ‘আহা, পেছনে বসার কথা বলছি৷’

    আগমনী দেখেছে কারো বাইকের পেছনে বসে তার পেটে কাতুকুতু দেওয়ার একটা উগ্র ভয়ঙ্কর ইচ্ছা থেকে থেকেই ওর মনে জাগে। স্বেচ্ছায় নিজের সর্বনাশ করার এমন ইচ্ছার সঙ্গে একমাত্র প্রেমে পড়ার ইচ্ছার তুলনা চলে। সেই জন্যেই মনে হয় সদ্য প্রেমে পড়া ছেলেরা প্রেমিকাকে বাইকের পেছনে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

    ছেলেটা ‘অনেকদিন ধরেই দেখা করার কথা বলছিল। আগমনী শেষে একদিন সম্মতি জানায়। ওদের স্কুলের মাঠের ঠিক সামনেই কিছুদিন হল একটা ক্যাফে খুলেছে। প্ল্যান হল সেখানেই ছেলেটার সঙ্গে দেখা করবে আগমনী। তারপর কিছু একটা লোভ টোভ দেখিয়ে সন্ধের দিকে স্কুলের মাঠে টেনে আনবে। সেখানে আগে থেকে নহর, খুঁটি, সাম্য আর ব্যাদা দাঁড়িয়ে থাকবে অস্ত্র হাতে অতর্কিতে পেয়ে ফেলে বাংলা মার দেওয়া হবে ছোকরাকে।

    সব কিছু ঠিকঠাক হলে আগমনী মিনমিন করে একটা মেসেজ পাঠায় তাকে, ‘শোনো না, তোমার বোনকেও সঙ্গে নিয়ে এসো।’

    ‘বোন!’ বাইকার গৌরব অবাক হয়, ‘প্রথম দিন দেখা হচ্ছে। ও কেন যাবে?’

    ‘ওমা! তোমার বোন মানে তো আমারও বোন। দেখতে ইচ্ছা করতে পারে না?’

    মেসেজটা দেখে এক চোট হেসে উঠেছিল সাম্য, ‘ওর ক্যালানিটা তোর ক্যালানি বলে খেয়ে নে। আমাদের ঝামেলা একটু কমে আর কী।’

    তবে শেষ পর্যন্ত বোনকে নিয়ে আসতে রাজি হয়েছে গৌরব। কথা ছিল শুরুতে ওরা দুজনে বসে গল্প করবে ক্যাফেতে। বোন এসে ঢুকবে খানিক পরে।

    মিনিটকুড়ি পরে ক্যাফের কাচের দরজাটা শব্দ করে খুলে যায়। আর সঙ্গে সঙ্গে গৌরবের মনটা তেল ভরা বাইকের ট্যাংকির মতো ভুটভুটিয়ে ওঠে। হ্যাঁ, এই মেয়েটাকেই তো অর্কুট ডিপিতে দেখেছে। এর সঙ্গেই তো রোজ কথা হয়। তবে দেখা করতে রাজি হলেও মেয়েটা এখনও অবধি ওকে ফোন নাম্বার দেয়নি৷ বাড়ির লোক কড়া, সব নাকি মেসেজ চেক করে।

    গৌরব আর একবার ফোনের স্ক্রিনে নিজের মুখটা দেখে নেয়। স্পাইকটা একটু ঘেঁটে গেছে কি? মুখ টেনে চোয়াল শক্ত করে নেয় সে। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে হাতটা মেয়েটার দিকে লক্ষ্য করে বাড়িয়ে দেয়, ‘হাই! আমি গৌরব।’

    লাজুক হাসে আগমনী। কাচের বাইরে একবার উঁকি মেরে দেখে নেয়৷ ক্যাফের ঠিক উলটোদিকের পাঁচিলের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে চারজন। মাঝে মাঝে উঁকি মেরে ভিতরের দৃশ্য দেখে নিয়েই আবার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আগমনী হাতের ইশারায় তাদের নিশ্চিন্ত করে। তারপর চেয়ারে বসে জলের গ্লাস থেকে খানিকটা জল খেয়ে আবার হাসে।

    ‘কী খাবে বলো?’ দাঁতে দাঁত চেপেই একটা অদ্ভুত স্বরে প্রশ্ন করে গৌরব।

    ‘তুমি যা খাবে…’ লাজুক হাসিটা মুখে মেখেই বলে আগমনী।

    ‘তুমি যা চাইবে, আমি তাই খাব…’

    ‘ক্যালানি।’ বিড়বিড় করে বলে আগমনী। ছেলেটা ভালো করে শুনতে পায়নি। মুখ তুলে বলে, ‘কী বললে?’

    আগমনী ম্যানেজ দেওয়ার চেষ্টা করে, ‘না না, আসলে জ্যাকেটে ভালো লাগছে তোমাকে, বেশ একটা ইয়ে ইয়ে…’

    জ’লাইন ভেঙে ছেলেটার মুখে একগাল হাসি ফোটে, ‘সত্যি? কী মনে হচ্ছে আমাকে দেখে?’

    ‘শুয়োর।’

    ‘অ্যাঁ!’

    ‘আই মিন পর্ক। পর্ক স্যান্ডুইচটা ভালো বানায় এরা। টেস্ট করে দেখতে পারো।’

    ছেঁদো গল্প করতে করতে আগমনীর মাথাটা ভিতরে ভিতরে গরম হয়ে যায়। ঘাড়ের পেছন চুলকাতে শুরু করে। থেকে থেকে রাস্তার দিকে চেয়ে সিগানালের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ও। মাঠ ঠিকঠাক অন্ধকার না হলে ছেলেটাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া যাবে না। তাছাড়া মারধোর করলে আশপাশের লোক দেখতে পেলে সমস্যা হতে পারে।

    মিনিট কুড়ি সেভাবেই মাথা গরম করার পর অবশেষে সিগনাল পায় আগমনী। মুখের ভিতরে পর্ক স্যান্ডুইচ চিবোতে চিবোতে বলে ওঠে, ‘ইয়ে, আমার তোমার সঙ্গে কিছু পার্সোনাল কথা ছিল।’

    ‘পার্সোনাল?’ ছেলেটার হাসি চওড়া হয়, ‘বলো না!’

    চারদিকে একবার তাকায় আগমনী, ‘আসলে এখানে এত লোকজন, মন খুলে কিছু বলা…’

    ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, চলো না একটু ফাঁকায় যাই।’

    স্যান্ডুইচের ভিতর থেকে এক খণ্ড পর্ক টেনে নেয় আগমনী, তারপর গভীর চোখে সেদিকে চেয়ে বলে, ‘এই শুয়োরটাকে কাটার আগেও এটাই বলা হয়েছিল মনে হয়…’ গলা তুলে বলে, ‘সামনেই একটা মাঠ আছে৷ লোকজন আসে না, চলো…’

    দুষ্টু হাসিতে ভরে যায় গৌরবের মুখ। ক্যাফের বিলফিল মিটিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে সে।

    আগমনীকে ছেলেটার সঙ্গে মাঠের দিকে আসতে দেখেই ক্যাফের বাইরে থেকে মাঠের দিকে হাঁটা দেয় চারজন। এতক্ষণে মাঠ একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে। সন্ধের অন্ধকার নামতে শুরু করেছে। ফাঁকা স্লিপটার গা বেয়ে সারাদিনের ধুলো ঝরে পড়ছে নিচে।

    এর আগে কোনওদিন ছুটির দিনে স্কুলটাকে দেখেনি ওরা। একবার দেখলেই মনে হয় গোটা স্কুল বাড়িটা বুঝি মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে। নহরের ইচ্ছা করে বাড়িটার গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে। ওর কানে কানে গিয়ে বলতে, ‘কাল আসব রে, চিন্তা করিস না।’

    নহর জানে একদিন আর বলতে পারবে না কথাটা। একদিন শেষবারের মতো আসবে স্কুলে। তারপর আর কোনওদিন আসা হবে না।

    একবার আগমনী বলেছিল, ‘অন্য কাউকে ছেড়ে আসা আর স্কুল ছেড়ে আসার মধ্যে বিস্তর ফারাক। খেলার মাঠ, প্রিয় মানুষ, প্রিয় খেলনা নিয়ে আমরা শেষ কবে খেলছি নিজেই বুঝতে পারি না। তারা হারিয়ে যাওয়ার অনেকদিন পরে বুঝতে পারি চলে গেছে। কিন্তু স্কুল ছেড়ে যাওয়ার একটা নির্দিষ্ট দিন থাকে। সেদিন শেষবারের মতো স্কুল ছেড়ে আসার সময় আমরা জানি আর কোনওদিন ফেরা হবে না। এই ইউনিফর্ম পরে ক্লাস করা হবে না। প্রেয়ার করা হবে না, প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে ফুটবল খেলা হবে না…এ যন্ত্রণা একদম আলাদা।’

    আপাতত সেই বিষণ্ণ স্কুল বাড়িটা পার করে মাঠের বেঞ্চগুলোর কাছে চলে আসে ওরা।

    আগমনী আর গৌরবের এগিয়ে আসা ছায়াদুটোর দিকে চেয়ে চাপা গলায় নির্দেশ দেয় খুঁটি, ‘ওরা আসছে, কভার নে সবাই।’

    নহরের পিঠ ব্যাগ থেকে চারটে হনুমান টুপি বের হয়। চারটেই সাম্য এদিক-ওদিক থেকে জোগাড় করে এনেছে। গরমের মধ্যে বিরক্ত মুখে সেই হনুমান টুপি পরতে পরতে সাম্য বলে, ‘লোকে বলে প্রেমে পড়লে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। তাই যদি হত তাহলে আজ আমাদেরকে হনুমান টুপি পরে ঘামতে হত না।’

    নহর ওর মাথার পেছনে খোঁচা মারে, ‘ছেলেরা প্রেমে পড়লে এমনিতেই সারা বছর বাঁদর নাচ নাচে। তুই এখন থেকে প্র্যাকটিস কর।’

    নিজের হাতের টুপিতে হালকা হাত বোলায় ব্যাদা, কিন্তু সেটা পরতে গিয়েই খুলে ফেলে, নাক সিটকে বলে ‘এহ্ কী দুর্গন্ধ! কাচিসনি নাকি?’

    সাম্য সেদিকে কাঁচুমাচু চোখে তাকায়, ‘ওটা আমার দাদুর টুপি। দাদু গুড়াকু দিয়ে দাঁত মাজে তো, সেই রস গড়িয়ে গড়িয়ে টুপিতে পড়ে একটু-আধটু…’

    ব্যাদা রেগে ওঠে, ‘এই দুর্গন্ধ মাল দিয়ে দাঁত মাজে। একটা ভালো টুথপেস্ট কিনে দিতে পারিস না?’

    ‘আহ্, ওটা একটা নেশা। গুড়াকু না পেলে দাদুর মন খারাপ হয়৷

    ‘বড় হওয়ার কী সুবিধা মাইরি…’ বিড়বিড় করে ব্যাদা, ‘আমরা দাঁত না মাজলে শুধু দাঁতে পোকা হত।’

    ব্যাদা আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল। সাম্য হাত তুলে থামিয়ে দেয়। দুটো ছায়া এখন প্রায় কাছে চলে এসেছে। আগমনী একটু পিছিয়ে হাঁটছে। ছেলেটা কী যেন বকবক করতে করতে এগিয়ে আসছে।

    ‘তোরা ব্যাকআপে থাক। আমি কল দিলেই চলে আসবি।’ কথাটা বলে এগিয়ে যায় খুঁটি, ‘হাতের সব তাস একেবারে খেলে দিতে নেই।

    ব্যাদা ঠোঁটের নিচে বিড়বিড় করে, ‘আমাদের হরতনের টেক্কাটা জোরে হাওয়া দিলেই না উড়ে যায়!’

    গৌরব বেঞ্চের দিকে আরও কিছুটা এগিয়ে এসেছিল। হঠাৎ হনুমান টুপি পরে একটা অল্পবয়সি ঢ্যাঙ্গা ছেলেকে এগিয়ে আসতে দেখে একটু অবাক হয়। পাশ কাটিয়েই যাচ্ছিল। এমন সময় হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে পড়ে ছেলেটা, দুহাতে আচমকা একটা ধাক্কা দেয়। অতর্কিত হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল না গৌরব। সে দু-এক পা পিছিয়ে যায়, একটু ভেবলে গিয়ে বলে, ‘কী রে ভাই!’

    ছেলেটা আবার ধাক্কা দিতে যায় ওকে। তার আগেই দুটো হাত ধরে নেয় গৌরব, ‘শালা, তুই গরমে হনুমানটুপি পরে আছিস কেন রে? পাগল ছাগল নাকি?’

    ‘তোর চোদ্দগুটি ছাগল…’ জোর গলায় কথাটা বলেই একবার পেছন ফিরে জিভ কাটে খুঁটি, আবার সামনে ঘুরে বলে, ‘ইয়ে…বোন বাদে৷ বোন ভালো…’

    ‘চাইটা কী তোর?’

    ‘কিছু পুরোনো হিসেব মেটানোর আছে তোর সঙ্গে।’

    ছেলেটা কী যেন ভেবে ওর হাতদুটো নামিয়ে রাখে। ভুরু কুঁচকে বলে, ‘তোর বাবার কি পানবিড়ির দোকান আছে নাকি? তা হনুমান টুপি পরে নাচনকোঁদন করলে কি পয়সা আদায় হবে?’ কথাটা বলে আগমনীর দিকে ঘোরে সে, ‘চলো, আজ ফালতু ঝামেলা করার মুড নেই আমার…’

    আগমনীর হাত ধরে পেছনে ঘুরতে যাচ্ছিল গৌরব। খুঁটি আবার ধাক্কা মারার চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই ঘুরে দাঁড়ায় ছেলেটা। হাতটা হাওয়ায় সাপের মতো বাঁকিয়ে সপাটে একটা চড় মেরে দেয় গালে। খুঁটি চোখে অন্ধকার দেখে। পা টলে যায় ওর। শরীর থরথর করে কেঁপে ওঠে।

    খুঁটিকে চড় খেয়ে কাঁপতে দেখে গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে ব্যাদা, ‘কল দেবে বলেছিল শালা। থাপ্পড় খেয়ে নিজেই ভাইব্রেশন মোডে চলে গেছে।’

    ওর দেখাদেখি বাকি দুজনও বেরিয়ে এসে গৌরবের সামনে দাঁড়ায়। গৌরব একটু অবাক হয়, আগমনীর দিকে চেয়ে বলে, ‘এ তো দেখছি বানরসেনা নিয়ে এসেছে!’

    সাম্য গর্জে ওঠে, ‘মুখ সামলে কথা বল শুয়োরের বাচ্চা। তুই জানিস

    আমি কোন ফ্যামিলির ছেলে?’

    ব্যাদা বিড়বিড় করে, ‘যে ফ্যামিলির দাদু গুড়াকু দিয়ে দাঁত মাজে।

    পরিস্থিতি হাত থেকে পিছলে যাচ্ছে দেখে নহর চেঁচিয়ে ওঠে, ‘এই শালা, মায়ের দুধ খেয়ে থাকলে সামনে আয়।’

    সাম্য ওর কাঁধে চাপড় মারে, ‘সামনেই তো আছে ভাই…তাছাড়া মায়ের দুধ কি মদ নাকি যে হেঁটে সামনে আসতে গেলে টলে পড়ে যাবে?’

    এতক্ষণে চারজনের উৎপাতে বিরক্ত হতে শুরু করেছে গৌরব। নাক টেনে বলে, ‘দেখ ভাই, সঙ্গে গার্লফ্রেন্ড আছে বলে কিছু বলছি না। একা থাকলে তোদের মতো জোকারদের দেখে নিতাম।’

    ‘এহ্’, নহর মুখ ভেংচায়, ‘দেখে নিতাম! হনুমান টুপিটা কি আমরা শুভদৃষ্টি করার জন্য পরেছি?’

    এইসব বাকবিতণ্ডার মধ্যে খুঁটির দিকে খেয়াল ছিল না কারো। সে আচমকা উঠে দাঁড়িয়ে ছেলেটার গলায় আক্রমণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু তার আগেই গৌরবের হাতটা আবার সচল হয়ে ওঠে। আর একটা হাই ভোল্টেজ চড় খেয়ে আবার মাটিতে খসে পড়ে ডুকরে চিৎকার করে ওঠে খুঁটি।

    সাম্যর কানে বিড়বিড় করে ওঠে নহর, ‘ওকে সামলা ভাই। নাহলে মৌসুমি বিয়ের আগেই বিধবা হবে।’

    সাম্যও বুঝতে পারে ছেলেটার গায়ে অসুরের মতো জোর। ওরা চারজন মিলে ডবলু ডবলু এফ লেভেলের ফাইট দিলেও এর কাছে কুপোকাত হয়ে যাবে। দু’পা পিছিয়ে দাঁড়ায় সাম্য। তারপর মাথা নিচু করে এগিয়ে গিয়ে খুঁটির হাত ধরে টান দেয়, ‘ভাই, চল পালাই…’

    খুঁটির মাথার আলুর মতো ফুলে গেছিল। সারা গায়ে ধুলোর পরত লেগেছে। হাত-পা ছড়ে গেছে জায়গায় জায়গায়। তাও সে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে, ‘পালাব? বীর কখনও যুদ্ধ ছেড়ে পালায় না।’

    সাম্য ধমক দেয়, ‘আর একটা চড় খেলে বীরের বিরবল দুটো থলি ছেড়ে পালিয়ে যাবে ভাই, চল।’

    খুঁটি তাও প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি নেয়, ‘ছো, তোরা এখনও চিনিসনি আমাকে…’

    ব্যাদা ওর পা ধরে টান দেয়, ‘আর একটু ক্যাল খেলে এমনিও তোর থোবড়া আর চেনা যাবে না, চল।’

    বানরসেনা ল্যাজ গুটিয়ে পিছিয়ে যেতেই অল্প হেসে মুখ ঘুরিয়ে নেয় গৌরব। একটা বাঁকা হাসি হেসে প্রেমিকার দিকে তাকায়, ‘কী ঝামেলায় ফেললাম বলো দেখি তোমাকে।’

    প্রেমিকা ততধিক গদগদ দৃষ্টিতে তাকায় ওর মুখের দিকে, ‘ইস, মুখটা একেবারে ঘেমে গেছে তোমার, কই দেখি…’

    হাতের ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে গৌরবের মুখটা মুছিয়ে দেয় আগমনী গৌরবের মনে হয় ও আনন্দে অজ্ঞান হয়ে যাবে। পরমুহূর্তে হয়েও যায়।

    চোখে অন্ধকার দেখে গৌরব। কাটা ঘুড়ির সুতোর মতো মাটিতে খসে পড়ে কয়েক সেকেন্ডে।

    ছেলেটাকে পড়ে যেতে দেখে ওরা চারজন আবার এগিয়ে আসে। অত বড় খোদার খাসির মতো পালোয়ানটাকে মাঠের ধুলোয় গড়াগড়ি খেতে দেখে খুঁটির বিগড়ে যাওয়া মুখেও হাসি ফোটে। আগমনীর দিকে চেয়ে উৎসাহী গলায় বলে, ‘ক্লোরোফর্ম! তুই পেলি কোথায়?’

    আগমনী হাতের উলটোদিক দিয়ে মুখের ঘাম মোছে, ‘হিন্দি সিনেমা থেকে শুধু সস্তার ডায়ালগই কপি করতে শিখেছিস। জানতাম, লাভের লাভ কিছুই করতে পারবি না তোরা…’

    ‘কিন্তু তুই পেলি কোথায়?’ নহর জিগ্যেস করে।

    ‘কেমিস্ট্রি ল্যাবে।’ কথাটা বলে গৌরবের মুখের উপর ঝুঁকে পড়ে আগমনী, ‘এবার এই আধদামড়া মালটাকে নিয়ে কী করবি? এ তো লাশ হয়ে পড়ে আছে এখানে…’

    ‘অজ্ঞান হয়ে আছে যখন মারধোর করাটাও উচিত হবে না।’ সাম্যকে চিন্তিত দেখায়।

    ‘মুখে জলফল ছিটিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে এনে ক্যালালে হয় না?’ খুঁটি হাঁপাতে হাঁপাতে বলে।

    ‘কিন্তু এখানে জল কোথায় পাব?’

    নহর কিছু বলতে যাচ্ছিল। তার আগেই থেমে যায়। এখান থেকে ক্যাফেটা দেখা যাচ্ছে। তার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ে। মেয়েটাকে দেখে একটু থেমে যায় নহর, বিড়বিড় করে উচ্চারণ করে, ‘দিয়া সেন…’

    বেদান্তর চোখটা সেদিকে ফিরে যায়। কয়েক সেকেন্ড সেইভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে সে। তারপর ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে শুরু করে সেদিক লক্ষ্য করে। সন্ধের আলো জ্বলতে শুরু করেছে একটা একটা করে। সাদা আলো জ্বলছে ক্যাফের সামনে। সেইদিক লক্ষ্য করে ছুটে যায় বেদান্ত। ওর পেছন পেছন ধাওয়া করে নহর, ‘আরে দাঁড়িয়ে যা, কী বলবি শোন… ‘

    কিন্তু ব্যাদা শোনে না। হরিণের গতিতে দ্রুত মাঠটা পেরিয়ে যায়। এক ছুটে গিয়ে দাঁড়ায় ক্যাফের সামনে। মেয়েটা আপাতত ওর দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাদা কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে মেয়েটার দিকে সন্ধের পল্কা হাওয়ায় ইতস্তত উড়তে থাকে চুলের ফিতে। কতদিন ওর টেস্ট পেপারে মেয়েটার হাতের স্পর্শ লাগেনি। কতদিন ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসা গলার আওয়াজ ওকে জিগ্যেস করেনি, ‘এই পড়তে আসবি আজ? তুই না গেলে কিন্তু আমিও যাব না।’

    সেই গলার আওয়াজ। সেই পরিচিত চোখের লাজুক দৃষ্টি। সেই ঠান্ডা হাওয়ার মতো স্নিগ্ধ হাতের স্পর্শ…

    কয়েক সেকেন্ড পর এগিয়ে গিয়ে মেয়েটার পিঠে সে, ‘দিয়া…’

    দিয়া ফিরে তাকায়। এতদূর ছুটে আসার জন্য ব্যাদার সমস্ত মুখ ঘামে ভিজে আছে। একটু আগের ধস্তাধস্তিতে ধুলো লেগে নোংরা হয়ে আছে জামাকাপড়। কিন্তু মুখে চওড়া হাসি খেলে যায় তার। দিয়া সেন অবাক হয়ে তাকায় ওর মুখের দিকে, ‘ব্যাদা, তুই এখানে কী করে…’

    মেয়েটার মুখ এখনও আগের মতোই আছে। এখনও সেই চোখের দিকে চেয়ে কেঁপে উঠল ব্যাদার বুকের ভিতরটা। বুকের ভিতর আটকে থাকা দমকা বাতাস জোলো হাওয়া হয়ে ঘিরে ধরল ওকে।

    ‘কত খুঁজেছি আমি তোকে…’ ব্যাদা কথাটা শেষ করতে পারে না৷

    নহর এসে দাঁড়িয়েছে ওর পেছনে। সে আর ডাকে না ওকে। একটু দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। কী যেন একটা গান চলছে ক্যাফের ভিতর। এতদূর থেকে ভেসে আসে সেই চেনা গানের শব্দ।

    ‘আসলে আমার দাদার আসার কথা ছিল এখানে…’

    ওর সামনে এগিয়ে গিয়ে দু’গালে হাত রাখে ব্যাদা, ‘তোকে কত খুঁজেছি আমি দিয়া…তুই কোথায় হারিয়ে গেছিলি! তোকে ছাড়া আমার আর কিচ্ছু ভালো লাগে না!’

    দিয়া সেন কয়েক পলক স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। বিড়বিড় করে বলে, ‘বাবা মা যখন অত মেরেছিল আমাকে, তোকে খুঁজেছিলাম আমি। তুই ছিলি না ব্যাদা…’

    ‘আমি ভীতু ছিলাম…’ ব্যাদার গলা ধরে আসে, ‘আমি আর ভীতু নেই দিয়া…ব্যাদা আর ভীতু নয়…’

    দিয়া সেন কিছু একটা উত্তর দিতে যাচ্ছিল। একটা বাইক এসে দাঁড়ায় একটু দূরে। বাইকের দিকে একবার তাকিয়েই ওর হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় দিয়া। চোখের জলটা সামলে নিতে নিতে বলে, ‘রকি ছাড়তে এসেছে আমাকে। আমার বয়ফ্রেন্ড। পরে কথা হবে, কেমন?’

    ওর হাত ছাড়িয়ে বাইকের দিকে এগিয়ে যায় দিয়া সেন। বেদান্ত দু’পা পিছিয়ে আসে। এখনও ক্যাফের ভিতর থেকে গানটা ভেসে আসছে৷ এখনও ধুলো লেগে আছে ওর সমস্ত শরীরে। শুধু বাতাসটা আর আগের মতো ঠান্ডা নেই। বাতাসটা কখন বদলে গেছে ও নিজেও বুঝতে পারেনি।

    নহর ওর কাছে এগিয়ে আসে। কবজি দিয়ে নিজের চোখটা মুছে নেয় ব্যাদা, ‘চল, ওরা কী করছে দেখি।’

    বেদান্ত মুখে কিছু বলে না। চশমার কাচটা আরও মোটা দেখায়। মাথার জমাট চুলের রাশি আরও বেশি করে ঝুঁকে পড়ে কপালের উপর। দুই বন্ধু চুপ করেই হাঁটতে থাকে মাঠের দিকে।

    ওর কাঁধে হাত রাখে নহর। তারপর ধীরে সুস্থে এগোতে থাকে মাঠের দিকে। এতক্ষণে পুরোপুরি সন্ধে নেমে গেছে। আড়াল থেকে একটানা ঝিঁঝি ডেকে চলেছে।

    বাকি তিনজন তখনও গৌরব সেনের বডির পাশেই বসেছিল। ওদের পাশে গিয়ে বসে পড়ল দুজনে।

    ‘কী হল ওখানে?’ জিগ্যেস করল সাম্য।

    ‘দিয়া সেনের বয়ফ্রেন্ড আছে।’ নহর হতাশ গলায় বলল।

    খুঁটি বিরক্ত হয়, ‘তো আমরা এতক্ষণ গো-অ্যাজ-ইউ-লাইক খেলছিলাম নাকি? দিয়া সেনকে সেই বয়ফ্রেন্ড অবধি টেনে আনার জন্যেই তো এতকিছু…’

    ‘ধুর বাবা! ব্যাদার কথা বলছি না। অন্য বাইক চালানো বয়ফ্রেন্ড আছে ওর।’

    পাঁচ জনের মধ্যেই একটা নীরবতা নেমে আসে। বেদান্ত হাঁটুর উপর হাত রেখে নিজের কোলে মাথা গুঁজে দেয়। কান্নার দমকে পিঠটা ফুলে ফুলে উঠতে থাকে বারবার।

    বাকি চারজন একবার নিজেদের মধ্যে চোখ চাওয়াচায়ি করে। এ রকম বিচিত্র অবস্থায় ওরা আগে পড়েনি কখনও। প্রপোজ করলে উলটোদিকের মেয়েটা হয় মিষ্টি করে হেসেছে, না হয় বাবাকে ডেকে এনেছে৷ আগে ভালোবাসত, এখন অন্য কাউকে ভালোবাসছে, এ ব্যাপারটা ওদের কাছে খুব একটা পরিচিত নয়। ব্যাদাকে এই মুহূর্তে কী বলা উচিত কেউই ভেবে পায় না। শেষে খুঁটিই ভেবেচিন্তে এগিয়ে আসে। ওর পিঠে হাত রেখে বলে, ‘আরে ভাই, আবার কান্নাকাটির কী হল? ওই বয়ফ্রেন্ড বাইক চালাতে পারে সেটা কোনও বড় কথা নয়, তুইও তো কত ভালো মুখ চালাতে পারিস, সেটা!’

    সাম্য এগিয়ে এসে ওকে পাশ থেকে জড়িয়ে ধরে, ‘আচ্ছা কাঁদবি যখন দিয়া সেনের দাদার মুখের উপর কাঁদ। মালটা জলের ছিটে পেয়ে উঠে গেলে গুছিয়ে ক্যালানো যাবে।’

    ‘আহ্, তোরা একটু চুপ কর তো।’ ওর পাশে এসে বসে আগমনী, ‘ছেলেটা কাঁদছে আর তোরা…’

    বেদান্তর এসব ভালো লাগছিল না। হাঁটুর ফাঁকে মুখ গুঁজে রেখেই একবার হাত দিয়ে নাক মুছল সে।

    একটা গানের সুর ভেসে আসতেই চমকায় ব্যাদা। ওর ঠিক সামনে থেকেই ভেসে আসছে আওয়াজটা। চন্দ্রবিন্দুর গান। ও চকিতে মুখ তুলে তাকিয়ে দেখে ওর ঠিক সামনেই বসে আছে নহর। আর তার পায়ের কাছে রাখা সিডি প্লেয়ার থেকে বেরিয়ে আসছে গানটা।

    ‘এটা কোথায় পেলি?’ চোখ মুছে জিগ্যেস করে ব্যাদা।

    নহর হাত রাখে ওর মাথায়, ‘আমরাই চাঁদা দিয়ে কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম তোদের আশীর্বাদে গিফট করব। বিয়ে যখন হচ্ছে না এখনই দিয়ে দিলাম।’

    চার বন্ধুর মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকায় ব্যাদা। ওর ভেজা চোখ আবার জলে ভিজে যায়। চোখ থেকে চশমাটা খুলে নিয়ে আবার জল মুছতে যায় ও। তার আগেই চারজনের সজোরে জড়িয়ে ধরে ওকে।

    খানিক পরে মাঠে ঘাসের উপরেই শুয়ে পড়ে ওরা পাঁচজন। তারপর ফুল ভলিউমে গান চালিয়ে দেয়।

    সেদিন অনেকক্ষণ পাঁচ জনে চুপ করে সেভাবেই শুয়ে থাকে মাঠের নরম ঘাসে। যে ঘাসে এতদিন টিফিনবেলায় ছুটে বেড়িয়েছে ওরা। পড়ে গিয়ে হাঁটু ছড়ে গেছে, রাগ হলে কাঠির ডগা দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে যে মাটির বুকে ক্ষত এঁকে দিয়েছে, যে মাঠের বুকে আর বেশিদিন দৌড়ানো হবে না ওদের, সেই মাঠের বুকে কিছুক্ষণ মিশে থাকে ওদের শরীর…

    ব্যাদার মনে হয়, ওর এই পনেরো বছর বয়সে পাওয়া প্রথম ব্যথা ঠিক সারিয়ে দেবে মাঠটা। মানুষ যে মাঠে, যে স্কুলে, যে নদীর ধারে, যে কাঁচা রাস্তায় ছোটবেলা কাটায় সেই মাঠ, স্কুলের রাস্তা—অনেক অনেকদিন পরেও সারিয়ে দিতে পারে মানুষকে। সেই স্নেহের স্পর্শে সেরে ওঠার একরকম আরাম আছে।

    নহরের দিকে ফিরে তাকায় ব্যাদা। অদ্ভুত গলায় অর্থহীন একটা প্রশ্ন করে বসে, ‘হ্যাঁ রে, তোকে এই মাটি সারিয়ে দিতে পারবে না?’

    নহরের চোখ ছলছল করে ওঠে, ‘না, মানুষ মরে গেলে আর মাটি তাকে সারিয়ে দিতে পারে না। তখন সে মাটি হয়ে যায়, আর অন্য কাউকে সারিয়ে দেয়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে
    Next Article কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }