Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প343 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – ১৪

    চতুর্দশ অধ্যায়

    ‘স্যার, আমাদের একটা ছবি তুলে দেবেন?’

    গাছের ফাঁকে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাওয়ার উপক্রম করেছিলেন সঞ্জয়স্যার। এমন সময় পেছন থেকে মেয়েলি গলার ডাক শুনে ফিরে তাকালেন। ক্যামেরা বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা ক্লাস টুয়েলভের মেয়ে। মুখে হাসি। মেয়েটাকে চেনেন সঞ্জয়।

    ‘হ্যাঁ, কেন দেব না? দে…’

    ক্যামেরাটা স্যারের হাতে দিয়ে বাকি চারজন বন্ধুর সঙ্গে গিয়ে দাঁড়াল মেয়েটা। সঞ্জয় ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রেখে অন্য চোখ বন্ধ করতে যাচ্ছিলেন। গলা তুলে বললেন, ‘মুখগুলো গম্ভীর করে আছিস কেন? হাস সবাই। ভালো ছবি উঠবে।’

    মুখে মেকি হাসি ফুটিয়ে তুলল পাঁচজন। সঞ্জয় সাটার টিপে দিতে ছবি উঠে গেল।

    ‘থ্যাঙ্ক ইউ…’ বলে মেয়েটা ক্যামেরা নিয়ে চলে গেল ওর হাত থেকে। মাসখানেক আগে নোটিস দিয়ে জানানো হয়েছিল স্কুল থেকে পিকনিকে নিয়ে আসা হবে। এই বছরটায় ওদের স্কুলে শেষ বছর। সাম্য বহু ঝামেলা ঝঞ্ঝাট করে শেষে অনুমতি পেয়েছে।

    ভলভো বাস ভাড়া করে কল্যাণীর একটা বড়সড় পার্কে নিয়ে আসা হয়েছে ওদের। গোটা পার্কে ঘোরাঘুরি অবশ্য নিষিদ্ধ। একটা বিশেষ জায়গায় উনুন করে রান্নাবান্না হচ্ছে। স্যার আর ম্যাডামেরা মাঝে মাঝে তদারকি করছেন সেখানে। কেউ কেউ আড়ালে দাঁড়িয়ে টান দিচ্ছেন সিগারেটে।

    পার্কটার এক জায়গায় দাঁড়ালে শুরু শেষ বোঝা যায় না৷ আধা খয়েরি আর সবুজ গাছে ঢেকে আছে চারিদিক। যেন জঙ্গলের ছবি আঁকতে আঁকতে সবুজ রং শেষ হয়ে যাওয়ায় মন খারাপ করে গাছের গায়ে ধূসর রং বুলিয়ে দিয়েছে কেউ। নরম মাটি ঢেকে আছে হলদে ঝরা পাতায়। একদিকে একটা লম্বাটে ঝিল আছে। তার ধার দিয়ে সরু সরু গাছের সার। তবে এখানে এসেই ঝিলের ধারে কাছে যাওয়ার ব্যাপারে কড়া গলায় মানা করে দেওয়া হয়েছে।

    গোটা পার্ক জুড়েই ঘুরে বেড়াচ্ছে ছেলেমেয়ে দল। সবার গায়েই ইউনিফর্ম। কেউ কেউ খানিকটা ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিজেদের মধ্যে ব্যাডমিন্টন খেলছে। দূরে দাঁড়িয়ে গল্প করছে কেউ কেউ।

    বাকি ছেলেমেয়েদের থেকে ওরা পাঁচজন একটু আলাদা হয়েই বসেছিল। বিগত কয়েক মাসে ওদের জীবনটা অনেকখানি পাল্টে গেছে৷ কলকাতায় আসার পর মেঘার সঙ্গে আরও বারদুয়েক দেখা হয়েছে সাম্যর। আরও বেশি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই ঘটনার পর ওর বাড়িতে কড়াকড়ি আরও বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে মারধোরের পরিমাণও। মেঘা বলেছিল ওকে হাওড়া স্টেশনে সিঅফ করতে যেতে। সাম্য হাতে লেখা চিঠি দিয়ে এসেছে ওর হাতে। তাতে সিরিয়াল নম্বর লেখা আছে। বলেছে প্রতি পনেরোদিন অন্তর একটা করে খুলতে।

    মেঘা সে চিঠিগুলো হাতে পেয়েই আগে গুনে নিয়েছে, ‘এই, এখানে সতেরোটা চিঠি আছে৷ কিন্তু আমি তো ছয়মাস পরে ফিরে আসব। বাকি চিঠিগুলো কীসের জন্য?’

    ‘কয়েকটা সাদা পাতা আছে৷’

    ‘সাদা পাতা!’ অবাক হয়েছে মেঘা, ‘কেন?’

    ‘মন খারাপ হলে আমাকে চিঠি লিখবি বলে। মন খারাপ হলে আমাকে বলতে হবে সেটা বারবার আমি মনে করিয়ে দেব কী করে বল?’

    মেঘা হেসে ওর গাল টিপে দিয়েছে। তারপর মাথার গোল টুপিটা খুলে পরিয়ে দিয়েছে ওর মাথায়। ট্রেনের সময় হয়ে এলে প্লাটফর্ম ছেড়ে বেরোতে গিয়েও আবার এক দৌড়ে ফিরে এসেছে মেঘার জানলার কাছে।

    ‘তুই আবার কবে আসবি মেঘা?’ ট্রেন ছাড়ার আগে আচমকাই জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ওর হাতটা ধরে ফেলেছে সাম্য। অন্য হাত দিয়ে ছেলেটার চোখের জল মুছিয়ে দিয়েছে মেঘা৷

    ‘তুই হাত ধরে থাকলে আমি যেতেই পারব না৷’

    ‘তাহলে আমি হাত ছাড়ব না।’ কাঁদো কাঁদো গলায় বলেছে সাম্য। চোখ আবার ভিজে এসেছে ওর।

    ‘ওরকম করে না পাগল ছেলে…’ হেসে ওকে শান্ত করার চেষ্টা করেছে মেঘা।

    ‘আচ্ছা, প্রমিস কর, তুই এখানকার কলেজে পড়বি? এখানকার বাড়িতেই থাকবি…’

    সজোরে হুইসল দিয়ে উঠেছে ট্রেনটা। আলতো করে সাম্যর হাতে ঠোট ছুঁইয়ে দিয়েছে মেঘা, ‘যেখানকার কলেজেই পড়ি…’ একটা আঙুল ওর বুকের উপরে রেখে বলেছে, ‘এখানকার বাড়িতেই থাকব…’

    তারপর হুইসল দিতে দিতে ওকে নিয়ে চলে গেছে ট্রেনটা। অনেক দূর থেকে সে আওয়াজ শুনতে পেয়েছে সাম্য। তারপর আবার বাস ধরে ফিরে এসেছে বাড়ি। না বলে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আবার মার খেয়েছে।

    সাম্য জানে মেঘার সঙ্গে খানিক বাড়াবাড়িই করে ফেলেছে ও। অন্য সময় হলে হয়তো করত না। কিন্তু ইদানীং ওর মনটা সারাক্ষণই একটা দমচাপা কষ্টে ভরে থাকে। বিশেষ করে নহরের মুখের দিকে চাইলেই আর কিছু ভালো লাগে না।

    বেশিরভাগ দিন মেয়েটা প্রায় ধুঁকতে ধুঁকতে স্কুলে আসে। তবে স্কুলে আসার বাইরে তাকে খুব একটা বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হয় না। আগমনী কখনো কখনো ফোন করেছে ওকে। নহর একদিন ওকে বলেছিল, ‘আমার আর বাড়িতে থাকতে ভালো লাগে না মণি…’

    ‘তাহলে কোথায় থাকবি বল?’

    ‘তোর বাড়িতে গিয়ে থাকলে চাপ হবে?’

    আগমনী একটু ভেবে বলেছিল, ‘উঁহু, চাপ কীসের? তবে মাকে জিগ্যেস করতে হবে একবার।’

    মা সমস্ত শুনে আর আপত্তি করেননি।

    মাসতিনেক ধরে মাঝে মধ্যেই সন্ধের দিকে আগমনীর বাড়ি চলে আসে নহর। এখন আগমনী ওপরের তলায় শিফট করেছে। দুজনে সারা সন্ধে গল্পগুজব করে রাতে এক বিছানাতেই শুয়ে পড়ে। মাথার কাছে আগমনীর জানলাটা খোলা থাকে। সেদিকে চেয়ে অনেকক্ষণ জেগে থাকে দুজনে। সারারাত গল্প করে ওরা। ওর রোজকার দিনের কথা, কখন জ্বর এল, কখন ছেড়ে গেল, কখন ভোরের আলো চোখে এসে পড়ে ওর ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে৷ আরও কত রকম গল্প৷

    এক একদিন বাইরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কোথায় যেন হারিয়ে যায় নহর। কাঁচের জানলার বাইরে জমাট বাঁধা রাতের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে ‘মাঝে মাঝে মায়ের জন্য খুব মন কেমন করে, জানিস?’

    আগমনী পাশে ফিরে ওর দিকে তাকায়, ‘কাল সকালেই তো চলে যাবি বলে, বাড়ি।’

    ‘মাঝে মাঝে বাড়ি গেলেও মাকে পাওয়া যায় না।’

    নহরের কথায় ধাঁধা লাগে আগমনীর। মেয়েটা মাঝে মাঝে এমন সব উদ্ভট কথা বলে যে মাথামুন্ডু কিছুই বোঝা যায় না। জানলার বাইরে কুয়াশা জমে একটু একটু করে। ঘন হয় সেই কুয়াশা। তারপর একসময় কেটেও যায়। ঘুমন্ত নহরের পাশে শুয়ে আগমনী ভাবতে থাকে নহর চলে যাওয়ার পরেও এমন কুয়াশা জমবে ভোরে, নহর চলে যাওয়ার পরেও কুয়াশা কেটে সকাল নেমে আসবে। অথচ আজ ওই কুয়াশা আর ভোরটাকে কী অবাস্তব মনে হচ্ছে! একটা বন্ধু মরে গেলে কি দুপুরের কাক ডাকে না? বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আকাশে একটা ঘুড়ি কমে যায়? বাপুজি কেকের দাম বেড়ে যায়? ক্লাস ফাইভের বাচ্চা বাসের টিকিট জমানো ছেড়ে দেয়?

    নাঃ, এসব কিছুই হয় না বোধহয়। একটা বন্ধু মরে গেলে স্রেফ একটা বন্ধু মরে যায়। আমাদের উঠোনে তার শব রেখে যায় না কেউ৷

    নহরের মুখের দিকে তাকিয়ে ভয় করে আগমনীর। আর কোনোদিন কি ওর এমন কোনও বন্ধু হবে, যার পাশে ঘুমিয়ে এমন নিশ্চিন্ত লাগবে। গল্প করতে করতে কখন রাত কেটে যাবে বুঝতেই পারবে না? জীবনের বাকি একটা ফাঁকা ঘরে শুয়ে দিনের পর দিন ঘড়ির শব্দ শুনে কাটবে না তো? বড় হওয়াটা এতটাও ভয়ের নয় তো?

    ওর এই ভয়টা নহর কী করে বুঝতে পারে কে জানে, মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে, ‘মরে যেতে আমার ভয় করে না মণি, কিন্তু তোর কথা ভাবলে মন কেমন করে।’

    ‘আমার কী হল আবার?’

    ‘আমার তো একদিন, তোর যে সারাজীবন আমার জন্য মন কেমন করবে…. সারা জীবনের মতো এই ঘরে শুতে কষ্ট হবে!’

    বাইরে থেকে চোখ সরিয়ে এনে ওর মুখের দিকে তাকায় নহর, ‘কারো চোখে জল রেখে চলে যেতে খুব কষ্ট হয় মণি, আমি সবার চোখে জল রেখে চলে যাব, আমার খুব কষ্ট হবে…’

    আগমনীর মনে হয় কষ্ট একটা আদুরে বিড়াল হয়ে ওদের জানলার কার্নিশে ঘুমিয়ে থাকে মাঝে মাঝে। ইচ্ছা হলে সে জানলা ডিঙিয়ে আসে, খানিক আদর খায়, ঘরের এখানে ওখানে লোম ছড়িয়ে, আচড়কামড় দিয়ে নিজের মতো ছেলেখেলা করে আবার কার্নিশে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তাকে তাড়ানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। সে ঠিক অন্য কোনও কার্নিশ ডিঙিয়ে, অন্য কারো জানলার শিকল গলে আবার ঘরের ভিতর চলে আসবে অবলীলায়।

    বসন্তের হলুদ পাতা ঝরবে ইচ্ছা মতো। পূজাবার্ষিকীর ছেঁড়া কমিক্সের পাতা উড়ে বেড়াবে ঘরময়। ফেলে দেওয়া ফাটা বল নারকেলের মালার মতো বুকে জল নিয়ে পোকামাকড়ের জন্ম দেবে। বিছানার উপর এসে পড়া রোদ খেলা করবে। আর সেই বিড়ালটা রোদে ল্যাজ দুলিয়ে থাবা চাটবে। গৃহস্থকে ওই বিড়ালটার উপস্থিতি মানিয়ে নিতে হয়। তাকে ভালোবেসে ফেলতে জানতে হয়…

    আজকাল আগমনীও ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে শিখে গেছে৷ জেনে গেছে তার কোথায় হাত দিলে সে চোখ বুজে গায়ে মাথা ঘষবে। পেটের ঠিক কোন জায়গায় হাত দিলেই সে আঁচড়ে কামড়ে খতবিক্ষত করে দেবে। কেবল ও যখন নহরের ক্লান্ত রুগ্ন চোখের দিকে চেয়ে থাকে তখন বিড়ালটা থাবা চাটা ফেলে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে। বিড়ালটা রাগ দেখেছে, ঘৃণা দেখেছে, জল ছিটিয়ে দেওয়া দেখেছে, কেবল উপেক্ষা দেখেনি কোনোদিন। বিড়ালের উপেক্ষা দেখার অভ্যাস নেই।

    ‘প্রথম প্রথম তোকে আমার সত্যি প্রিন্সেস মনে হত, জানিস?’ নহরের মাথায় হাত রেখে কোনোদিন বলেছে আগমনী।

    ‘এখন মনে হয় না কেন? রোগা হয়ে গেছি বলে?’

    আগমনী ঠোঁট কুঁচকে হেসেছে, ‘আমার এখন নিজেকে প্রিন্সেস মনে হয়। যার কাজ তোকে বাঁচানো…

    খিলখিল করে হেসে ফেলেছে নহর, ‘তাই নাকি? কী করে বাঁচাবি?’

    ‘কী জানি, ব্যাদা বলছিল ও নাকি কীসব উপায় খুঁজে বার করবে।’

    ‘ব্যাদা তাহলে বাতেলাবাজির প্রিন্স নিশ্চয়ই…’

    দুজনেই হেসে ফেলেছিল। আগমনীর অবশ্য এখনও মনে হয় নহরের মধ্যে কিছু একটা আছে। ও ঘুমের মধ্যে হাত তুলে যখন চোখের উপর রাখে তখন সত্যি টিভিতে দেখা ওয়ান্ডার ওম্যানের মতো দেখায় ওকে। শুধু তাই নয়, সন্দেহটা বেড়ে ওঠার একটা কারণও আছে।

    মাসতিনেক আগে ওদের স্কুলে একটা বিচিত্র কাণ্ড ঘটে। একজন স্টুডেন্ট এবং স্যারের মধ্যে কিছু একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়। এবং সেই ঝামেলা থেকেই স্টুডেন্টদের বাড়ির লোকজন দলবল নিয়ে ওদের স্কুলে হামলা করে। সেদিন ঘটনাচক্রে নহর ছাড়া ওদের পাঁচজনের কেউই স্কুলে যায়নি। স্যার ক্লাস করাচ্ছিলেন। গুন্ডাগুলো ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। ভেতরে মারপিট শুরু হয়। তারপর যখন গুন্ডারা বেরিয়ে আসে তখন দেখা যায় স্যার অজ্ঞান হয়ে বেঞ্চে পড়ে আছেন। ছাত্রছাত্রীদের কারো কারো গায়ে আঘাতের চিহ্ন। একমাত্র নহরের গায়ে কোনও আঁচড় পড়েনি।

    আগমনী নহরকে একবার জিগ্যেস করেছিল, ‘হ্যাঁ রে, ভিতরে ঠিক কী ঘটেছিল বল তো?’

    নহর তেমন ভেঙে বলতে চায়নি, শুধু বলেছিল, ‘লোকগুলো আমাকে মারতে এসেছিল। একজন আমাকে একটা বেঞ্চের উপর চেপে ধরে। আমি খুব ছটফট করছিলাম…’

    ‘তারপর? তারপর কী হল?’

    নহর হেসে কাঁধ ঝাঁকিয়েছিল, ‘তারপর আর কী, লড়াই করলাম।’

    ‘অতগুলো লোকের সঙ্গে তুই একা লড়াই করলি।’

    ‘ওমা! আমি একা কেন, বন্ধুরা ছিল তো…’

    আগমনীর ব্যাপারটা বিশ্বাস হয়নি। ওই দুবলা জনাদশেক স্কুল ছাত্রের পক্ষে ওরকম পেশাদার গুন্ডাদের সঙ্গে লড়াই করা প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া সাম্য, খুঁটি, ব্যাদা কেউই সেই সময় ক্লাসের ভেতর ছিল না। বাকিদের নহরকে গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচানোর কোনও দায় পড়েনি। আগমনীর মাঝে মাঝে মনে হয়েছে ও নিজেই কোনওভাবে লোকগুলোকে শায়েস্তা করেছে। ওর কি সত্যিই কোনও বিশেষ ক্ষমতা আছে নাকি?

    আজ পার্কে আসার পর প্রথম প্রথম স্যারেরা হম্বিতম্বি করছিলেন। এদিকে যাবে না, ওদিকে গেলে গার্জেন কল হবে, ওখানে হাত দেবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। খানিকটা সময় যেতেই সেসব নিয়মের রাশ আলগা হয়ে গেছে। আপাতত যে যেদিকে পেরেছে ছড়িয়ে গেছে। স্যার ম্যাডামরা আপাতত রান্নায় জায়গায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, কেউ কেউ সাইড হয়ে গিয়ে টান দিচ্ছেন সিগারেটে।

    ‘ছোটবেলায় আমি খুব ভালো ব্যাডমিন্টন খেলতে পারতাম জানিস…’

    পার্কের একদিকে ব্যাডমিন্টন খেলছিল কয়েকটা ছেলেমেয়ে। সেদিকে চেয়ে থাকতে থাকতে বলেছিল নহর। জমির উপরে লুটিয়ে পড়ে থাকা একটা গাছের কাণ্ডের উপরে বসেছিল ওরা। খুঁটি বসেছিল ওর পাশে। ঠোঁট দিয়ে একটা শব্দ করে সে, ‘তো তুই এখন বড় হয়ে গেছিস নাকি?’

    ‘দেখছিস না একটু চলতে গেলেই হাঁপিয়ে যাচ্ছি…’

    সাম্যই ছুটে গিয়ে জোগাড় করেছিল র‍্যাকেট। তারপর নেট ছাড়াই দুটো দলে ভাগ হয়ে ব্যাডমিন্টন খেলেছিল ওরা। সাম্য খানিক লম্বা হওয়ার জন্য ওর খেলতে সুবিধা হয়। ওর দলে ছিল নহর। উলটোদিকে আগমনী আর খুঁটি। বেদান্ত খেলতে চায়নি। ওর মধ্যে গত মাসখানেক হল একটা বদল এসেছে৷ সারাক্ষণ গল্পের বই নিয়ে পড়ে থাকা ছেলেটা এখন ক্লাসের ফাঁকে সময় পেলেই ছবি আঁকে। অদ্ভুত সব ছবি। আর ওটা মোটা গল্পের বইয়ের বদলে গ্রোগ্রাসে গিলতে থাকে রূপকথার বইগুলো। একবার সাম্য জিগ্যেস করেছিল, ‘তুই আজকাল কী করিস বল তো সারাক্ষণ?’

    বেদান্তর মেজাজ মনে হয় খিঁচিয়েছিল তখন, বই থেকে মুখ না তুলেই বলেছিল, ‘তুই জেনে কী করবি?’

    সাম্য ফিরে আসছিল। বেদান্ত পিছু ডেকে জিগ্যেস করেছিল, ‘হ্যাঁ রে, তুই পিকনিকে যাচ্ছিস তো?’

    ‘জানি না, বাড়ির লোক ঝামেলা তো করবেই। কিছু একটা ব্যাবস্থা করতে হবে।’

    ‘গেলে একটা ক্যামেরা নিয়ে যাবি। তুই না নিয়ে গেলেও অন্য কাউকে নিয়ে যেতে বলবি, দরকার আছে।’

    ‘কীসের দরকার?’

    বেদান্ত উত্তর দেয়নি। তবে আজ সকালে বাসে চাপার আগে ক্যামেরাটার খোঁজ নিয়েছিল। সেটা আছে জানতে পেরে আগমনীকে বলেছিল, ‘আজ অবশ্যই আমাদের পাঁচজনের একটা ছবি তুলবি।’

    ‘সে তো তুলব। কিন্তু কেন বল তো? ‘

    ‘প্রিন্ট করানো হয়ে গেলে আমাকে দিবি ছবিটা, মনে থাকবে?’ আগমনী ব্যাপারটা তেমন বুঝতে পারেনি। চোখের সামনে একটু একটু করে নহরের শরীরটা ভেঙে পড়তে দেখে ব্যাপারটা জানার পর থেকে শুর হাবভাব কেমন যেন পালটে গেছে আগের থেকে। আগমনী জানে ওদের পাঁচজনই আর মাধ্যমিক পাস করা ইলেভেনের বাচ্চা নেই। হয়ত আরও কয়েক বছর পরে বড় হতো ওরা। কিন্তু মৃত্যুর পায়ের শব্দ, তার গায়ে লেগে বয়ে আসা হাওয়া, মানুষকে বুঝি হুট করে এক ধাক্কায় বড় করে দেয় অনেকটা।

    ব্যাডমিন্টন খেলতে খেলতে হাঁপিয়ে পড়ছিল নহর। মাঝে মধ্যেই কোমরে ভর দিয়ে নিচু হয়ে লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। সেভাবেই নিচু হতেই হঠাৎ ওর খেয়াল হল এতক্ষণ বেদান্ত যে বেঞ্চে বসে ছবি আঁকছিল সেই জায়গাটা ফাঁকা। তাতে অবশ্য আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নয়। পার্কে এসে কে-ই বা এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকে?

    মুখ ঘুরিয়ে নিতে গিয়েও একটু খটকা লাগল ওর। এত দূর থেকে দেখা যাচ্ছে ব্যাদার খাতাপত্রগুলো তেমনই বেঞ্চের উপরে খোলা পড়ে আছে৷ কেবল মানুষটা নেই।

    কেমন যেন সন্দেহ হয় ওর। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সাম্যর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। একবার জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে ক্লান্ত গলাতেই বলে, ‘হ্যাঁ রে, ব্যাদা কোথায় গেল?’

    ‘ওই তো বেঞ্চের উপরে…’ কথা শেষ না করেই সাম্যও চোখ তুলে তাকায় বেঞ্চের দিকে। ওর ভ্রুটা কুঁচকে যায়, ‘যাঃ শালা…’

    র‍্যাকেটটা হাতে ধরেই সেদিকে এগিয়ে যায় সাম্য। বাকি তিনজনও ওকে অনুসরণ করে।

    বেঞ্চের কাছে এসে উলটে পড়ে থাকা বইপত্রগুলো দেখে অদ্ভুত লাগে ওদের। ব্যাদার আঁকার খাতাটা খোলা অবস্থায় পড়ে আছে বেঞ্চের উপরে। মৃদু হাওয়ায় সে খাতার পাতা নিজে থেকেই উলটে যাচ্ছে মাঝে মাঝে। আগমনী এগিয়ে গিয়ে কয়েকটা পাতা উলটে দেখে পরপর বেশ কয়েকটা ছবি এঁকেছে বেদান্ত। ছবিগুলো ভারি অদ্ভুত। বেশিরভাগই হলদে স্কেচ পেনে আঁকা। এক নজরে দেখলে মনে হয় উপপাদ্যর ছবিগুলোই উলটে পালটে এঁকেছে। তার মধ্যে মধ্যে সরু সরু হাত পাওয়ালা মানুষ দেখা যাচ্ছে। তারা হেঁটে হেঁটে একদিক থেকে অন্য দিকে চলে যাচ্ছে।

    সেদিক থেকে মুখ তুলে বিড়বিড় করে খুঁটি, ‘মালটা আঁকার খাতায় অঙ্ক করছিল নাকি?’

    বাকি তিনজন উত্তর দেয় না। আগমনী আবার পাতা ওলটায়। আলগা হাতের টানে কয়েকটা মুখ আঁকা সেখানে। নহরের মুখটাও চোখে পড়ল। পরের পাতায় কালো স্কেচ পেন দিয়ে গোল গোল দাগ। স্পষ্ট করে মানে বোঝা গেল না কিছু৷

    সাম্য খাতাটা হাতে তুলে একবার উলটেপালটে দেখে, ‘কী এঁকেছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না…’

    ‘কিন্তু ও গেল কোথায়?’ নহরের মুখে অস্থিরতার ছাপ। নজর বুলিয়ে গোটা পার্কের যতটা দেখা যাচ্ছে ততটাই একবার দেখে নেয় ও। নাহ্, কোত্থাও নেই…

    ‘সিগারেটও তো খায় না, তাহলে…’ কথাটা বলতে গিয়েও থেমে যায় আগমনী। ওর চোখ গিয়ে আটকেছে মাটির উপরে। সেখানে হলদে ঝরা পাতার উপর পড়ে আছে কালচে রঙের কিছু একটা। জিনিসটা চিনতে পারে ও। একটা মোটা ফ্রেমের চশমা। বেদান্তর চশমা৷

    কাছে গিয়ে চশমাটা কুড়িয়ে নেয় ওরা। খুঁটির মুখটা থমথমে দেখায়, ‘চশমা ফেলে চলে যাবে…’

    ‘ও তো চশমা ছাড়া দেখতে পায় না…’ নহর হাত রাখে আগমনীর কাঁধে।’

    ‘ব্যাদা, এই ব্যাদা…’ চিৎকার করে ওঠে খুঁটি। চারদিক থেকে একটু আগে ছেলেমেয়েদের হইহল্লা যেমন ভেসে আসছিল তেমনই আসতে থাকে। বেদান্তর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না। ওদের মনের ভিতরে আশঙ্কার মেঘ জমে।

    ‘মণি, তুই নহরকে নিয়ে এখানে বস। আমি আর সাম্য খুঁজে আনছি ওকে…’ খুঁটি সাম্যকে নিয়ে পা বাড়ায়।

    খানিক দূর হেঁটে আসে ওরা। খয়েরি বাকলওঠা গাছের ফাঁক দিয়ে কিছু দূর অবধি স্পষ্ট হচ্ছে। তারপর অন্য কোনও গাছ এসে ঢেকে দিচ্ছে দৃষ্টি। তাও ভালো করে চারিদিকে চোখ বুলিয়ে হাঁটতে থাকে ওরা।

    ‘ব্যাপার কী বল তো? কেউ কি ধরে নিয়ে চলে গেল নাকি?’ খুঁটি সতর্ক দৃষ্টি বোলাতে বোলাতে জিগ্যেস করে।

    ‘কিডন্যাপ?’ সাম্য মাথা নাড়ায়, ‘ও শালাকে কিডন্যাপ করে কার লাভ আছে? মনে হচ্ছে নিজেই কোথাও চলে গেছে।’

    ‘তাও হতে পারে।’ খুঁটিকে চিন্তিত দেখায়, ‘ক’দিন ধরে ওর মাথাটা ঠিক নেই।

    ‘আমাদের কারোরই নেই। কিন্তু যদি কোনওভাবে ঝিলের দিকে গিয়ে থাকে…’ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় সাম্য, ‘চল, জলের দিকটা একবার দেখে আসি।’

    খুঁটিও সায় দেয়, ‘চল, কিন্তু সাবধানে, স্যারেরা দেখতে পেলে আবার গাতন দেবে।’

    ঝিলের দিকেই ঘুরতে যাচ্ছিল সাম্য। ঠিক এই সময়ে একটা বিচিত্র ব্যাপার ঘটে যায়। ও পিছনে ঘুরতেই মনে হয় উলটো দিক থেকে হেঁটে আসা কারো সঙ্গে যেন ধাক্কা লাগবে ওর। লোকটাকে জায়গা দিতে সাম্য একটু বাঁ পাশে সরে যায়। ওর জামায় কীসের যেন স্পর্শ লাগে। সঙ্গে সঙ্গে পেছন ঘুরেই অবাক হয়ে যায় সাম্য। কই, পেছন কেউ নেই তো। অথচ ওর চোখের দৃষ্টি বলছে এই মাত্র ওকে পাশ কাটিয়ে ওর পেছন দিকে হেঁটে গেছে কেউ। আচমকা তাহলে গেল কোথায় লোকটা?

    সাম্য কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় খুঁটি চিৎকার করে ওঠে, ‘ওই তো, ওই তো ব্যাদা…’

    সাম্য তাকিয়ে দেখে ঝিলের ধারে বসে আছে ব্যাদা। শরীরের সামনের অংশটা ঝুঁকে পড়েছে সামনের দিকে। এক নজর দেখলে মনে হয় যেন পুকুর ধারে বসে কিছু ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছে ছেলেটা। পেছন থেকে একটা টোকা দিলেই গড়িয়ে পড়বে নীচে।

    ‘শালা। এখানে বসে আছে কেন?’ খুঁটিই বিড়বিড় করে প্রশ্ন করে, ‘স্যারেরা দেখতে পেলে হালুয়া টাইট করে দেবে।’

    ‘ছবি আঁকছে মনে হয়…’ সাম্য ওর দিকে এগোতে থাকে।

    খুঁটি ওর দিকে অবিশ্বাসের দৃষ্টি ফেরায়, ‘চশমা না পরে?’

    ‘ব্যাদা… এক ছুটে ওর কাছে এগিয়ে যায় সাম্য। ঝরা পাতার উপর ওর পায়ের আওয়াজ শোনা যায়। তাতেও পেছন ফিরে তাকায় না বেদান্ত। সেইভাবেই ঝিলের দিকে চেয়ে বসে আছে ছেলেটা। চোখ দুটো খোলা। হাত দুটো পায়ের উপর জড়ো করা।

    কাছে গিয়ে ওর পিঠে ঠেলা দেয় সাম্য, ‘এই ব্যাদা…’

    সাম্যর মনে হয় ছেলেটা যেন ঘুমিয়ে পড়েছিল। হুট করে ঘুমের ঘোর কেটে যেতেই ওর দিকে ফিরে তাকায় সে, আচমকা ধাক্কায় চমকে ওঠে, ‘হ্যাঁ… হ্যাঁ…ক-কী, কোথায় ছিলি তুই?’

    ‘আমি! তুই এখানে বসে আছিস কেন?’ সাম্য রাগত মুখে জিগ্যেস করে।

    ব্যদার চোখ মুখ দেখে মনে হল ছেলেটা কেমন যেন ভেবলে গেছে৷ যেন আশপাশের কিছুই সহজে ঠাহর করতে পারছে না। একটু ধাতস্থ হয়ে বলে, ‘আমি…আমি তো ছবি আঁকছিলাম।’

    ‘তারপর এখানে চলে এলি কী করে?’ খুঁটি জিগ্যেস করে। এগিয়ে দেয় চশমাটা। সেটা চোখে পরে নেয় ছেলেটা।

    ‘কী করে বল তো?’ ব্যাদার চোখে অবোধের দৃষ্টি।

    ‘তোর মনে নেই?’

    ‘মনে? হ্যাঁ…আছে…একটা লোক…’

    ‘কোন লোক?’

    ‘মেরুন রঙের জামা পরেছিল। গাছের আড়াল থেকে দেখছিল আমাকে…. অনেকক্ষণ ধরে…তারপর আমার পাশে এসে বসল।’

    ‘তারপর?’

    ‘তারপর…তারপর…গল্প করল অনেকক্ষণ…কত কত গল্প বলল…’

    ছেলেটার পাশে বসে পড়ে সাম্য। এতক্ষণের বক্তব্যের মধ্যে অন্তত দুবার অনেকক্ষণ বলেছে বেদান্ত। ওরা ব্যাডমিন্টন খেলেছে বড়জোর পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট। তার মধ্যে দুটো অনেকক্ষণের জায়গা হয় না বললেই চলে।

    ‘তারপর কী হল?’ সাম্য কৌতূহলী গলায় জিগ্যেস করে, ‘এখানে এলি কী করে?’

    ‘আমায় ডাকল তো…বলল এখানে এলে আমাকে কীসব নাকি বলবে। কিন্তু বলল না…শুধু…’

    ‘শুধু কী?’

    ‘মাথায় হাত রাখল একবার…তারপর…তারপর…’ বেদান্তর মুখে আর কথা ফুটল না। সে সমস্ত স্মৃতি নিংড়েও হতাশ হল, ‘তারপর…আমার কিছু মনে পড়ছে না কেন বল তো?’

    সাম্য জলের দিকে চেয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর কী মনে পড়তে ওর দিকে খাতাগুলো এগিয়ে দেয়, ‘তুই এগুলো কী আঁকছিলি খাতায়?’

    তেমনই বোকা বোকা চোখে আঁকার খাতার পাতা ওলটায় বেদান্ত, মুখের রেখায় কোনও বদল আসে না তার, ‘আমি আঁকছিলাম?

    ‘হ্যাঁ, এগুলো আঁকতে আঁকতেই উঠে গেছিলি…’

    পাতা উলটে নহরের মুখটা আসতেই বেদান্তর চোখে একটা ঝিলিক খেলে মিলিয়ে যায়, ‘এটা তো ইনা। ওকে…ওকে নিয়েই মনে হয় কিছু ভাবছিলাম। এমন সময়…’

    ‘এমন সময় কী?

    ‘লোকটাকে গাছের আড়ালে দেখতে পেলাম। তারপর থেকেই আর কিছু মনে নেই…’

    সাম্য বুঝতে পারে খাতার পাতায় আঁকা আর লেখাগুলোর মানে বেদান্ত নিজেও আর বুঝতে পারছে না। চোখদুটো ঘোলাটে হয়ে আসছে ওর। আপাতত ওকে কিছু জিগ্যেস করে আর লাভ নেই। তার বদলে ফেরা দরকার। ওরা টেনশন করছে।

    ‘চলে আয়…’ ওর দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় সাম্য।

    সেদিন বিকেল পর্যন্ত গল্প করেছিল ওরা। ওদের জীবনে একটানা পাঁচ জনে মিলে অতক্ষণ গল্প তার আগে অবধি কখনও হয়নি। আসার সময় রোল কল হয়েছে, যতজন পার্কে এসেছিল তাদের মধ্যে সবাই ফিরে যাচ্ছে কিনা যাচাই করতে।

    সেই রোলকলের সময় খুঁটির মনে হয়েছিল যতজন এসেছিল সবাই ফিরে যাচ্ছে বটে, কিন্তু যারা এসেছিল তাদের কেউ কেউ আর ফিরে যাচ্ছে না। এই দুপুরটুকুনিতেই ধূসর হয়ে যাওয়া গাছে ঢাকা পার্কটা ওদেরকে পালটে দিয়েছে৷ ওদের সেই আপনভোলা মুখগুলো পড়েই আছে পার্কের আনাচে-কানাচে। বাস ছাড়ার আগে কাচের জানলা দিয়ে দেখতেও পেয়েছিল খুঁটি। অন্ধকারের পেটে চলে যাওয়া গাছের আড়াল থেকে ওদের ফেলে আসা ছায়াগুলো চিৎকার করে বলছে, ‘আমরা তো এখনো এখানেই রয়ে গেছি, আমাদের নিয়ে যাও।’

    শক্তিমান আর শাকালাকা বুম বুম কবে শেষ হয়ে গেছিল খুঁটির মনে নেই। শেষ এপিসোডে ঠিক কী হয়েছিল কে জানে। অনেক পরে কী খেয়াল হতে একবার ইউটিউবে সার্চ করে দেখেছিল। দেখতে দেখতে ওর মনে হয়েছিল আমাদের জীবনের খুশির দিন আর ছেলেবেলার লাস্ট এপিসোড দেখার কথা কারো মনে থাকে না। টিভি স্ক্রিনে সন্ধের খবর আর শেয়ার মার্কেট শুরু হওয়ার আগে কোনও হোস্ট এসে মিষ্টি গলায় বলে যায় না যে বাকি জীবনে হাজার আঁচলের স্পর্শের মধ্যে কোনওদিন মায়ের আঁচলের গন্ধ থাকবে না, যন্ত্রণাময় রাতে কাচের গ্লাসে সোনালী মদ থাকবে, কান্না ভেজা বালিশ থাকবে না, লাটাই ছেঁড়া ঘুড়ির মতো আদুরে ছেলেবেলা এ গাছ ও গাছে আটকাতে আটকাতে একদিন মরা মাছরাঙার পালকের মতো এঁদো পুকুরে মিশে যাবে।

    কিন্তু সেদিন বাস ছাড়ার আগে জানালা দিয়ে তাকিয়ে নিজেদের ছায়াগুলোকে দেখে ওর মনে হয়েছিল এক মুহূর্তের জন্য গাছগুলো যেন সেই হোস্ট হয়ে দাঁড়িয়ে বলছিল, ‘যাও, আর ফেরা হবে না কোনওদিন। এক জীবনের ছোটবেলা তোমাদের মুক্তি দিল।

    ওখান থেকে ফিরে আসার পর বেশিরভাগ দিন পড়াশোনা শেষ হয়ে গেলে বোবা হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকত খুঁটি। বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছা করত না। বন্ধুদের কাউকে ফোন বা মেসেজ করতে গেলেই নহরের কথা মনে পড়ে যেত। মেয়েটার চোখটা দিনদিন কেমন ফিকে হয়ে আসছে। শরীরটা পাকিয়ে যাচ্ছে দড়ির মতন। প্রথম প্রথম খুব কান্না পেত ওর। এখন আর পায় না। এখন এরকম বোবা হয়ে ও শুয়ে থাকে।

    এর মাঝে একদিন একটা আননোন নম্বর থেকে মেসেজ আসে, ‘হাই, কেমন আছিস খুঁটি, আমি মৌ…’

    খুঁটি একবার নিরুৎসাহ চোখে তাকিয়েছিল মেসেজটার দিকে। তারপর হাতের চাপে ডিলিট করে দিয়েছিল।

    ওরা জানতে পারেনি ওদের পাঁচ বন্ধুর আর কোনোদিন দেখা হবে না৷ একসঙ্গে স্কুলের ছাদে বসে সিগারেটের ধোঁয়া মাখা হবে না। একে অপরকে ছেড়ে যাওয়ার যন্ত্রণার মুখে দাঁড়িয়েছিল ওরা। ওরা জানত জীবনের হেরো খেলায় ‘ছেলেবেলা’ নামের একটা সোনালি দিনকে কাঁধে চাপিয়ে শ্মশানঘাট অবধি নিয়ে যেতে হবে ওদের। কেউ মানতে পারছিল, কেউ পারছিল না, দুই দলের মধ্যে মিল ছিল একটাই—দুই দলকেই মানতে হয়েছিল।

    নহর যেদিন মারা যায় সেদিন ওরা কেউ জানতেও পারেনি। শেষ একমাস একটা হসপিটালে ভর্তি ছিল। চিকিৎসাও চলছিল। আগমনীর রূপকথার রাজকন্যা মৃত্যুর আগে ভয় পেয়েছিল কিনা, যন্ত্রণায় কাঁপতে কাঁপতে বিছানায় পেচ্ছাপ করে ফেলেছিল কিনা, কিংবা শেষবেলায় কাঁদতে কাঁদতে ওদের কারো নাম ধরে ডেকেছিল কিনা কেউ জানে না।

    মারা যাওয়ার পরদিন সকালবেলা ওর বাড়ির লোক আগমনীকে ফোন করে জানায়। বাড়ির বারান্দায় মৃতদেহ রাখা ছিল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। আগমনী যায়নি। সারাদিন বিছানায় উলটো হয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়েছিল। জানলাটা খুলে দিয়েছিল হাট করে। কার্নিশের বিড়ালটা লাফিয়ে এসে শুয়েছিল ওর বুকের কাছে। ওর মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বুঝতে পেরেছিল বিড়ালটা আর ওকে ছেড়ে যাবে না৷

    সাম্য বেদান্ত আর খুঁটি জানতে পেরেছিল সেদিনই রাত্রিবেলা। পরেরদিন ওদের স্কুল ছুটি দেওয়া হয়েছিল। তারপরের দিন স্কুল যাওয়ার পথে রাস্তার উপর সেই কুকুরটাকে গোল হয়ে লেজ গুটিয়ে হয়ে শুয়ে থাকতে দেখেছিল ওরা।

    ওদেরকে দেখেই হাঁপাতে হাঁপাতে লেজ দুলিয়ে ছুটে এসেছিল সে। কিছুক্ষণ হাঁ করে থেকে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে তিনজনের মুখের দিকে পালা করে চেয়েছিল। নহরকে দেখতে পায়নি বলে কুঁইকুঁই করে অভিযোগ করেছিল কয়েকবার। সাম্য নিজের টিফিনবক্স খুলে খাবার দিয়েছিল কুকুরটাকে। তারপর তিনজন মিলে কুকুরটাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল খুব।

    যেসব প্রাণীরা মৃত্যুর অর্থ বুঝতে পারে, তাদেরকে মৃত্যু প্রথমে সজোরে স্পর্শ করে, তারপর একটু একটু করে ছেড়ে চলে যায়। আর যেসব অবলা প্রাণীরা মৃত্যুর অর্থ বুঝতে পারে না তাদেরকে সে প্রথমে একটু একটু করে স্পর্শ করে চিরকালের মতো জড়িয়ে ধরে…

    নহর উচ্চ মাধ্যমিক দিয়ে যেতে পারেনি। ওরা স্কুল করেছিল আরও মাসতিনেক। ওদের মধ্যে আর তেমন কথা হতো না। ছাদে গিয়ে বসত না কেউ। মাঝে মাঝে ছুটির পর স্কুল থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একবার পেছন ফিরে স্কুল বাড়িটার দিকে তাকালে বিকেল মুছে যাওয়া খোলা জানলার অন্ধকারের দিকে চেয়ে চোখ জলে ভরে আসত ওদের…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে
    Next Article কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }