Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প343 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – ১৭

    সপ্তদশ অধ্যায়

    সিটি স্ক্যানের ক্রশ সেকশন রিপোর্টটা টেবিলের উপর ফেলে মাথা তুললেন ডঃ বিশ্বাস। এই পেশায় নয় নয় করে চল্লিশ বছর কাটতে চলল। তাও বাপ মায়ের সামনে মেয়ের মৃত্যু পরোয়ানা ঘোষণা করতে এখনও গলা বসে যায় তার। মাথার উপর ঝুলন্ত বিপজ্জনক পাথরের মতো ঝুলে থাকা এসিটা ঘরের তাপমাত্রাকে অকারণে অতিরিক্ত নামিয়ে এনেছে৷ এর থেকে আগের মতো পাখা থাকলে সুবিধা হত। গলার আওয়াজ এতটা পরিষ্কার শোনা যেত না। একবার ঢোঁক গিললেন ডাক্তার বিশ্বাস।

    ‘দেখুন আপনাদের মিথ্যে বলে সান্ত্বনা দেওয়া আমার কাজ নয়। আপনাদের মেয়ে ঠিক নেই মিস্টার সেনগুপ্ত। ইটস আউট অফ আওয়ার হ্যান্ড।’

    ডাক্তার বিশ্বাসের সামনে বসে থাকা বছর পঞ্চাশেকের লোকটার শরীর ঝুঁকে এসেছে। মুখভর্তি কাঁচাপাকা দাড়ির জঞ্জাল। চোখদুটো চামচ দিয়ে উপড়ে নিয়েছে যেন কেউ। সেই অন্ধকার গর্ত থেকে বুঝি দুটো ইঁদুর চেয়ে আছে৷ একবার দেখলেই ভয় লেগে যায়৷

    ‘এসব আমরা আগেও শুনেছি ডাক্তারবাবু। আমি জাস্ট জানতে চাই আপনারা এতটা শিওর কী করে হচ্ছেন?’ লোকটার মিনমিনে গলার স্বর শোনা যায়।

    ‘এক্সপেরিয়েন্স।’ ডাক্তার বিশ্বাস জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, এসব কেসে পেশেন্ট হার্ডলি দু’বছর সারভাইভ করে। তার কম বই বেশি নয়। দেখুন, আপনাদের মনের ভেতর কী চলছে আমি বুঝতে পারছি…একটা পনেরো বছরের মিষ্টি মেয়ে এইভাবে…’

    সামনের লোকটা উত্তর দেয় না। গলকণ্ঠটা ওঠানামা করে তার। রুমাল বের করে মুখটা মুছে নেয়। ডাক্তার বিশ্বাসের মাথার ঠিক পাশেই দেওয়ালে গাঁথা আছে একটা ডিজিটাল ক্যালেন্ডার। তাতে আজকের তারিখটা দেখা যাচ্ছে। তার ঠিক পাশেই ডিজিটাল ঘড়ি। সে ঘড়ি চলার সময় টিকটিক আওয়াজ হয় না। নৃশংস খুনির মতো নিঃশব্দে এগিয়ে চলে।

    ‘ভালো কথা, আপনার স্ত্রী কেমন আছেন?’ জিগ্যেস করলেন ডাক্তার বিশ্বাস।

    ‘ভালো না। অসুস্থ হয়ে পড়ছে মাঝে মাঝে। ভুল বকছে। মাথার সমস্যাও হচ্ছে কখনও কখনও।’

    ‘মাথার সমস্যা বলতে?’

    ‘ডিলিউশনাল। হ্যালুসিনেট করছে কন্টিনিউয়াসলি। কতবার বোঝালাম তুমি এরকম করলে মেয়েটার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। কিন্তু…’

    কথা শেষ না করেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে লোকটা। ডাক্তার বিশ্বাসের খানিকটা মায়াই লাগে। অসুস্থ মেয়েটাকে উনি নিজেও দেখেছেন কয়েকবার। একমাথা কোঁকড়া চুল, ভরাট কৌতূহলী চোখ। কথা বার্তায় বুদ্ধির ছাপ, এদিকে বয়সেই মাথার ভিতর মারণ রোগ বাসা বেঁধেছে৷

    ‘বাড়ি গিয়ে আগে মিসেসকে সামলান মিস্টার সেনগুপ্ত। আপনার মেয়ের এখন সবার আগে তার মাকে দরকার। সেটা না পেলে…’

    কাঁধ ঝুঁকে পড়া লোকটার মুখে করুণ হাসি খেলে। ও কাজটা আজ তিরিশ বছর ধরে করে আসছে ও, সামলানো। এখন আর আলাদা করে এটাকে কাজ বলে মনে হয় না।

    কথা না বাড়িয়ে উঠে পড়ে কৌশিক সেনগুপ্ত। ডাক্তার বিশ্বাসের চেম্বার ছেড়ে বেরিয়ে আসে সে।

    গত কয়েকমাস ধরে নিজের স্ত্রীকে আমূল বদলে যেতে দেখেছে কৌশিক। হাসিখুশি প্রাণবন্ত মেয়েটাকে রাতারাতি বুড়িয়ে যেতে দেখেছে। আগমনীর চোখের দিকে আর তাকানো যায় না। সারারাত জেগে থাকে। এর মধ্যে দুবার সুইসাইড অ্যাটেম্পটও করেছে। কৌশিক কোনওরকমে সামলেছে।

    বিয়ের সতেরো বছর হয়ে গেল ওদের। দু’বছরের মাথায় ইনা আগমনীর গর্ভে আসে। মেয়েটা ছোট থেকেই মায়ের বেশি ন্যাওটা। আগমনীও প্রেগনেন্সির পর থেকে আর অফিস কাছারি করতে চায়নি। কৌশিক একরকম জবরদস্তি করেছিল, কিন্তু লাভ হয়নি তাতে। সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত মেয়েকে নিয়েই মেতে থাকত আগমনী। এমনকী প্রথম কয়েক বছর কৌশিকের সঙ্গেও তেমন প্রাণ খুলে কথাবার্তা বলত না৷

    ইনা বড় হতে কৌশিকের চাকরি বদলায়। আগের ফ্ল্যাট ছেড়ে নতুন ফ্ল্যাটে উঠে আসে। মা মেয়েতে মিলে বারান্দায় বাগান করে। একসঙ্গে কার্টুন দেখে, বিকেলে পার্কে গিয়ে গেম খেলে। রাতে আগমনী মেয়ের কাছেই ঘুমায়। ইনার মাকে ছাড়া সহজে ঘুম আসতে চায় না৷

    মাসখানেক আগে হঠাৎ অসহ্য মাথাব্যথা হওয়ায় মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় কৌশিক। তিনি কিছু একটা সন্দেহ করেই সিটি স্ক্যান করতে বলেন। তার রিপোর্ট আসতে দেখা যায় মেয়েটার ব্রেনের পিনিয়াল গ্ল্যান্ডের মধ্যে একটা ছোট টিউমার গজিয়ে উঠেছে। ডাক্তার আগেই বলেছিলেন ভালো কিছু আশা করা বৃথা। কৌশিক আগে এসব কথা আগমনীকে জানায়নি।

    কিন্তু এক ডাক্তার থেকে আর এক ডাক্তার, সেখান থেকে বিস্তর পয়সা খরচ করে বিদেশে চিকিৎসা। কোনও কিছুতেই লাভ হয়নি। কৌশিক জানে লাভ আর কিছু হওয়ারও নয়৷

    অপরাজিতা একদিন বলেছিল, ‘দেখ, ডাক্তারদের যতদূর করার করবে। কিন্তু আপাতত যতদিন মেয়েটা আছে ওকে ভালো রাখতে হবে তোদের। সব থেকে ভালো সময়টা উপহার দিতে হবে। তোরা আর কীই বা করতে পারিস, বল?’

    কিন্তু কৌশিক অপরাজিতাকে বোঝাতে পারেনি মৃত্যুপথযাত্রী মেয়ের বাবামার পক্ষে ভালো সময় উপহার দেওয়া সহজ কথা নয়। তাদের নিজের ঝুলিতেই ভালো সময় শেষ হয়ে গেছে। নিজের কাছে না থাকা জিনিস অন্য কাউকে দিতে গেলে যে অভিনয়টা করতে হয় সেটা ওদের স্বামী-স্ত্রী কেউই শেখেনি কোনওদিন।

    তাও স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল কৌশিক। লাভ হয়নি তাতে। ও লক্ষ করেছে আগমনী দিনদিন কেমন যেন উদাসীন হয়ে পড়ছে মেয়ের ব্যাপারে। সেভাবে আর কথা বলে না ইনার সঙ্গে। কাছে গিয়ে বসে না অবধি। এই আগমনীকে চেনে কৌশিক। বহু আগে থেকে চেনে। ও জানে, আগমনীর ভিতরের একটা ভীতু মানুষ ওকে মেয়ের থেকে দূরে নিয়ে চলে যাচ্ছে ক্রমাগত। যত দিন যাবে মেয়েটা ভালোবাসার বদলে শুধু অবহেলা পাবে…

    পার্কিং-এ এসে কৌশিক স্টার্ট দেয় গাড়িতে। বাড়িতে ওর বউ মেয়ে একা আছে। আগমনীর শরীর মনের যা অবস্থা, ওকে একা রেখে আসা কোনওভাবেই সুরক্ষিত নয়। বাড়ির উদ্দেশ্যে জোরে গাড়ি ছুটিয়ে দেয় কৌশিক….

    সোফায় বসে টুডি কার্টুন স্ক্রিন করছিল মেয়েটা। দরজায় বেল বাজতে ছুটে গেল সেই দিকে। বাবা সেই কখন বেরিয়েছে এখনও ফেরেনি। মায়ের সঙ্গে একা থাকতে ইদানীং কেমন অস্বস্তি হয় ওর। মা কীসব অদ্ভুতুড়ে কথা বলে৷ সব থেকে বড় কথা কিছুতেই ওর কাছে আসতে চায় না। মাঝে মাঝে মন কেমন করে ওর। কিন্তু মাকে সে কথা বলতেও পারে না৷

    ‘কে?’ দরজার কাছে গিয়ে হাঁক পাড়ে ইনা।

    ‘দরজাটা একটু খুলবে?’ ওপাশ থেকে একটা অপরিচিত কিন্তু নরম গলা শোনা যায়, ‘তোমার মায়ের সঙ্গে একটু দরকার ছিল।’

    ‘কে আপনি?’

    ‘আমি বন্ধু।’ আগের মতো নরম উত্তর আসে ওপাশ থেকে৷

    ইনা এত নরম গলার আওয়াজ আগে শোনেনি। একটু ভেবে নিয়ে জিগ্যেস করে, ‘কার? আমার না মায়ের?’

    ওপাশের গলাটায় হাসির রেশ মেশে, ‘দুজনেরই। মাকে একটু ডেকে দাও না।’

    ল্যাচ-কি টেনে দরজা খুলে দেয় ইনা৷ যা ভেবেছিল ঠিক তাই। লোকটার মুখটা ভারি আদুরে। তামাটে গায়ের রং। তিরিশের আশেপাশে বয়স হবে। গায়ে একটা মেরুন শার্ট আর কালো ট্রাউজার। মাথায় কুচকুচে কালো ঘন চুল যত্ন করে আঁচড়ানো। লক্ষ করে লোকটার হাতে পায়ে কয়েক জায়গায় কতগুলো বিচিত্র ট্যাটু করা আছে। তাদের মধ্যে কাক আর কুকুরটাকে ও চিনতে পারে।

    ‘মা ভিতরের ঘরে আছে, ঘুমাচ্ছে।’

    ‘বেশ, আমি জাগিয়ে নেব। তুমি চিন্তা কোরো না।’ মেয়েটার মাথায় হাত বুলিয়ে পাশের ঘরে নিঃশব্দে ঢুকে আসে লোকটা। ও আবার স্ক্রিনের সামনে গিয়ে বসে পড়ে। টম অ্যান্ড জেরি চলছে স্ক্রিনে। সোফার উপরে পা তুলে সেটাই দেখতে থাকে৷

    পাশের ঘরে বিছানার উপর পাশ ফিরে ঘুমাচ্ছিল আগমনী। মাথার চুলগুলো উসকোখুসকো হয়ে ছড়িয়ে আছে বালিশের উপর। মোটা ফ্রেমের চশমাটা রাখা বালিশের পাশে সাদা। বুক অবধি টানা চাদর, সেদিকে ভালো করে তাকালে চাদরের ভাঁজে বুড়িয়ে ছোট হয়ে যাওয়া শরীরটা বোঝা যায়। এক নজরে দেখলে মনে হয় কঙ্কালের উপরে মরা মানুষের শুকনো চামড়া জড়িয়ে রেখেছে কেউ। ঘরে ঢোকার ঠিক মুখে দরজার উপর একটা শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি হাতে ছবি ঝুলছে। সেটা হাওয়ার ধাক্কায় দুলে উঠছে মাঝে মাঝে।

    লোকটা তেমনই নির্লিপ্তভাবে গিয়ে তার পা স্পর্শ করে, ‘মিসেস সেনগুপ্ত, মিসেস সেনগুপ্ত, শুনছেন?’

    চোখটা খুলে যায় আগমনীর। চারপাশটা একবার ঠাহর করে উঠে বসতে গিয়ে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে সে, আগন্তুককে দেখতে পেয়ে গলার শির ফুলিয়ে চিৎকার করে একবার, ‘এ কী! কে আপনি! ভিতরে এলেন কী করে? বাবাই… বাবাই…’

    লোকটা হাত তুলে ওকে আশ্বস্ত করে, ‘আহা, ওকে ডাকতে হবে না। টিভি দেখছে মন দিয়ে। কেন খামোখা বিরক্ত করবেন?’

    ‘কে আপনি?’ হিসহিস করে ওঠে আগমনী। গলার উপরে চাপ পড়ায় ফুসফুস ঠেলে কাশির দমক উঠে আসে তার। একটা হাত বুকে চেপে ধরে কাশতে শুরু করে আগমনী। লোকটা টেবিলের উপরে রাখা জলের গ্লাসটা এগিয়ে দেয় ওর দিকে, ‘নিন, খেয়ে নিন জলটা।’

    কোনওরকমে হাত বাড়িয়ে ঢকঢক করে জল খায় আগমনী। বুকের ভিতর ধড়ফড়ানিটা কমে আসে। সেই সঙ্গে মাথাটাও শান্ত হয়।

    এতক্ষণে হাসি ফোটে আগন্তুকের মুখে। তেমনই অমায়িক গলা শোনা যায়, ‘আপনার সঙ্গে আমার পরিচয় অনেকদিনের। শুধু মুখ চেনেন না। অবশ্য চেনার কথাও নয়… অপরিচিত লোকটার হাসির মধ্যে অদ্ভুত একটা স্নিগ্ধতা আছে। মুহূর্তে বিশ্বাস করে ফেলা যায় তাকে৷

    ‘আসলে আপনার একটা জিনিস আছে আমার কাছে… সেটার জন্যেই আজ…’

    ‘কী জিনিস?’ মুখের উপর হাত চালিয়ে নিজেকে প্রকৃতিস্থ করার চেষ্টা করে আগমনী।

    ট্রাউজারের পকেট থেকে একটা পুরোনো ভেজা কাগজ বের করে লোকটা। প্যান্টের কাপড়ে মুছে নেয় একবার। তারপর এগিয়ে দেয় ওর দিকে। সেটা হাতে নিতে অবাক হয় আগমনী। একটা জলে ভেজা কাগজের নৌকা। লিফ্লেট ভাঁজ করে এককালে কেউ বানিয়েছিল নৌকাটা। পেনের কালিতে কী একটা লেখাও আছে নৌকাতে। কিন্তু জলে ভিজে এতই ঝাপসা হয়ে গেছে যে পড়া যাচ্ছে না।

    ‘এটা কী?’ অবাক হয়ে জিগ্যেস করে আগমনী।

    ‘ইচ্ছে।’

    ‘কার ইচ্ছে?’

    লোকটার মুখে রহস্যময় হাসি খেলে যায়, ‘আপনার। অনেক বছর আগে আপনিই ভাসিয়েছিলেন নৌকাটা।’

    আগমনীর চোখ থেকে ঘোর কাটতে চায় না, নিজেকে খানিক সামলে নিয়ে বলে, ‘অনেকদিন আগে…’ অক্ষম স্মৃতি হাতড়ে ও মনে করার চেষ্টা করে, ‘হ্যাঁ…আমার মা এসব উদ্ভট গল্প বলত। নৌকা ভাসানো, ইচ্ছাপূরণ। একটা বয়স অবধি আমি গবেটের মতো বিশ্বাসও করতাম। কিন্তু এটা কোনওদিন…’

    ‘মনে পড়ছে না৷ জানি, পড়ার কথাও নয়…কিন্তু কী জানেন মিসেস সেনগুপ্ত…’ লোকটা জামার হাতায় মুখ মুছে ওর পাশে এসে বসে পড়ে, মাঝে মাঝে এক আধটা অসম্ভব ইচ্ছা পূরণ হয়েও যেতে পারে। তালদিঘিতে যেসব নৌকা ভেসে যায় তার সবক’টার ভরাডুবি হয় না।’

    ‘আপনি কী বলছেন আমি বুঝতে পারছি না!’

    আগমনীর হাত থেকে নৌকাটা নিয়ে সেটা ভালো করে খুলে দেখায় লোকটা। তারপর ধীরে ধীরে বলে, ‘আমি চাই আপনার ইচ্ছাপূরণ করতে। দেখুন কী লেখা আছে…

    লোকটা একবার ভেজা কাগজটায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দেয়৷ ওমনি ফাঁকা চোখে চশমা পরার মতো উজ্জ্বল আর স্পষ্ট হয়ে ওঠে লেখাটা, ‘ইনা যতদিন থাকে, যেন খুব ভালো থাকে, সব থেকে ভালো থাকে…

    ওর চোখ থেকে অবাক দৃষ্টিটা মোছে না৷ সেটা লক্ষ করেই লোকটা আবার বলে, ‘আজ থেকে বত্রিশ বছর আগে আপনি চেয়েছিলেন একটা মানুষ তার বাকি জীবনটা সুখে থাক। আমি আপনার সেই ইচ্ছাটা পূরণ করতে এসেছি।’

    ‘কীভাবে?’ হতবাক হয়ে প্রশ্ন করে আগমনী।

    ‘আসুন আমার সঙ্গে।’

    লোকটা উঠে দাঁড়ায়। তারপর ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ডাইনিংয়ে চলে আসে। ইনা এখনও মন দিয়ে কার্টুন দেখে চলেছে। ওকে বিরক্ত না করেই তার পাশে গিয়ে বসে পড়ে সে। একবার আদর করে হাত রাখে মাথায় । আগমনী এসে দাঁড়ায় তার পেছনে। লোকটা মেয়েটার মুখের দিকে তাকায়, ‘ইনা, শরীর কেমন আছে তোমার?’

    ‘ভালোই আছে, মা শুধু শুধু চিন্তা করে।’

    আগমনী মেয়ের অন্যপাশে বসে পড়ে৷ খুঁতনিতে হাত রেখে বলে, ‘মা হলে চিন্তা করতে হয় বাবাই। আমার মাও আমাকে নিয়ে করেছে। তোর মাও তোকে নিয়ে করছে।’

    ‘কই, আমার বন্ধুরা তো করে না।’ মেয়েটা টিভি থেকে চোখ না সরিয়েই বলে, ‘কত গল্প করে, মজা করে। মা-ই শুধু মন খারাপ করে বসে থাকে।’

    ‘মা-ও তো একটা বন্ধু, তাই না বাবাই?’ আগমনীর গলায় বাষ্প মেশে হঠাৎ।

    মেয়েটা সজোরে দু’দিকে মাথা নাড়ায়, ‘উঁহু, তুমি একদম বন্ধুর মতো না। তুমি শুধু মা৷’

    আগমনী কিছু বলতে যাচ্ছিল, তার আগেই লোকটার গলা শোনা যায়, ‘আর মা যদি বন্ধু হয়?’

    কথাটা যেন একটু বেশিই জোরে শোনায়। ঘুরে বেড়ায় ঘরময়। টিভির আওয়াজ ছাপিয়ে যায় শব্দটা।

    ‘ধুর…’ মেয়েটা কাঁধ ঝাঁকায়, ‘মা কী করে বন্ধু হবে?’

    লোকটা আর একটু ওর দিকে সরে আসে, ফিসফিসে গলায় বলে, ‘ইচ্ছে, তুমি ইচ্ছে করলেই হবে।’

    ইনার মুখে হাসি খেলে যায়। উজ্জ্বল চোখে লোকটার দিকে তাকায়, ‘তাহলে তো আমি খুব খুশি হব।’

    ‘ভালো থাকবে?’

    ‘সব থেকে বেশি ভালো থাকব।’

    লোকটা আবার ইশারা করতে আগমনী মেয়ের পাশ থেকে উঠে পড়ে৷ ওকে অনুসরণ করে নিজের ঘরে ফিরে আসে। মাথাটা ধীরে ধীরে ঘুরতে শুরু করেছে ওর। ক্রমশ বাস্তব অবাস্তব সমস্ত কিছু গুলিয়ে যাচ্ছে। কৌশিক আর অপরাজিতা ক’দিন থেকেই বলছে ও নাকি কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগছে। এটাও কি তাহলে সত্যিই একটা মানসিক রোগ? লোকটা কি আদৌ এসেছে ওর বাড়িতে? নাকি সমস্তটাই ওর ভ্রষ্ট মনের কল্পনা। কৌশিককে ফোন করবে একবার? আচ্ছা, লোকটা যা বলছে তা কি বিশ্বাস করা উচিত? অন্য কোনও ধান্দা নেই তো?

    মাথাটা ঠান্ডা করে নিজেকে একটু শান্ত করার চেষ্টা করল আগমনী। বিছানার একদিকের কোণে বসতে বসতে বলে, ‘আপনি ঠিক কী বলতে চাইছেন?’

    লোকটা বড় করে শ্বাস নেয়। তারপর চেয়ার টেনে নিয়ে বসে বলে, ‘আমার মনে হয় আপনার মেয়ে আপনার কাছেই ভালো থাকবে মিসেস সেনগুপ্ত৷ তবে আজকের আপনার কাছে নয়। আজ থেকে বত্রিশ বছর আগের আপনার কাছে।’

    আগমনী কিছু বলে না। এখন আর নিজের অল্প বয়সের কথা মনে পড়ে না ওর। দিন দিন সব কিছু যেন ভুলে যেতে শুরু করেছে। ছোটবেলায় কি ভালো ছিল ও? সহজে বন্ধু হয়ে যেতে পারত? মিশতে পারত মানুষের সঙ্গে? ছেড়ে চলে আসার বাতিকটা তখনও পঙ্গু করে দেয়নি ওকে?

    কে জানে। কৌশিক বলতে পারবে এসব। কিংবা তারও আগের কোনও বন্ধু। নিজের খুব পুরোনো বন্ধুর কথা মনে করার চেষ্টা করে ও। কারো মুখ মাথায় আসে না। তাহলে কি একটা গোটা জীবন বন্ধুত্ব ছাড়াই কাটিয়ে দিল? ও কি একাই ভুগেছে এই রোগে? নাকি অনেকেরই হয়?

    ‘মানুষ মানুষকে ভালোবাসলে সবথেকে বড় কোন জিনিসটা দিতে পারে, আপনি জানেন মিসেস সেনগুপ্ত?’

    আগমনী উত্তর দেয় না। লোকটা নিজেই আবার বলে, ‘নিজেকে। বা আরও পরিষ্কার করে বলতে গেলে নিজের বেস্ট ভার্সনটা। নিজের বন্ধুত্বটা। যে মানুষটা আপনি আজ থেকে অনেকগুলো বছর আগে ছিলেন, সেই মানুষটা৷ আমি তার কাছেই রেখে আসব ওকে।

    এতক্ষণে মুখ তুলে লোকটার দিকে চায় আগমনী, ‘কিন্তু যে সময়টা আমি কাটিয়ে এসেছি সেই সময়টায় ও যাবে কী করে?’

    আগন্তুকের মুখে এবার বিচিত্র একটা হাসি খেলে যায়। চোখ, কান, ঠোঁট, স্পর্শ করে সমস্ত মুখে ছড়িয়ে পড়ে সেই হাসি, ‘অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ, এসবে সময়কে ভাগ করার দায় আপনার থাকতে পারে মিসেস সেনগুপ্ত। সময়ের নিজের এরকম কোনও দায় নেই। যতক্ষণ না তার নিয়মে কোনও অসঙ্গতি আসছে সে কোনও কিছুরই পরোয়া করে না।’

    ‘নিয়ম বলতে?’

    হুট করেই উঠে দাঁড়ায় লোকটা, ‘নিয়ম কেবল একটাই। আপনার মেয়ে মারা যাওয়ার পর, আপনার পনেরো থেকে সতেরো, অর্থাৎ ওকে প্রথম ও শেষ দেখা অবধি ওর কোনও স্মৃতি আপনার থাকবে না। ওর সঙ্গে কাটানো সমস্ত মুহূর্ত, যে সব মুহূর্ত মনে থাকলে ও আপনার স্মৃতিতে থেকে যাবে, তার সমস্তটা আপনি ভুলে যাবেন। শুধু আপনি কেন আপনার সঙ্গে আরও যারা মনে রাখলে আজকের সিদ্ধান্তটা আপনি নিতে পারবেন না, তারা সবাই ভুলে যাবে।’

    আগমনী ব্যাপারটা মন দিয়ে ভাবার চেষ্টা করে, ‘কিন্তু ভুলে যাব কেন?’ লোকটা হাত উলটে ঘড়ি দেখে, ‘কারণ মনে থাকলে আপনি আজকের এই মানুষটা হতে পারবেন না। আপনাকে প্রশ্নের উত্তর জেনে পরীক্ষা দিতে দেওয়ার মতো বোকামি তো আমি করতে দিতে পারি না, তাই না?’

    ‘আমি কিছু বুঝতে পারছি না।’ আগমনীকে উদভ্রান্ত দেখায়। চোখের মণি অস্থির হয়ে কাঁপতে থাকে ওর।

    লোকটা আগের মতো মিহি হেসে হাত রাখে ওর মাথায়, ‘এ জগতে প্রাণ সৃষ্টি হওয়ার অনেক আগে, বোধ সৃষ্টি হওয়ার অনেক আগে সময় সৃষ্টি হয়েছিল। তাকে বোঝা এত সহজ নয় মিসেস সেনগুপ্ত। এই মুহূর্তে অতটা দরকারও নেই। পরে মন দিয়ে ভাববেন না হয়…কেমন?’

    কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকে আগমনী। একবার নিজের গালে হাত রাখে। মুখ তুলে হঠাৎ প্রশ্ন করে, ‘ও ভালো থাকবে তো? সব থেকে বেশি ভালো থাকবে?’

    আগমনীর মনে হয় ও আবার হ্যালুসিনেট করছে। কাজ করছে না ওর মাথাটা। আজ শোয়ার আগে ট্যাবলেটটা খেয়েছিল কি? কৌশিককে এসব বলতে গেলে ধমক দেবে না তো?

    লোকটা ওর ঠিক সামনে এসে দাঁড়ায়, ‘সব থেকে বেশি ভালো থাকবে। ঠিক যেমন আপনি চেয়েছিলেন।

    ‘আমি ভালো মা হতে পারিনি, না?’

    ওর একটা হাত নিজের হাতে তুলে নেয় লোকটা। আগমনীর মনে হয় ধীরে ধীরে অসীম শূন্যে প্রবেশ করেছে হাতটা।

    ‘তা তো জানি না, তবে আপনি মা হতে চেয়েই ভুল করেছেন। বন্ধু হলে আর ভালো হওয়ার দরকার হতো না। শুধু বন্ধু হলেই হতো৷’

    নিস্পন্দ কয়েকটা মুহূর্ত কেটে যায়। ওপাশের ঘর থেকে টম অ্যান্ড জেরির শব্দ ভেসে আসে। ইনার হাসির আওয়াজ ভেসে আসে। আগমনী মন দিয়ে শোনে সেটা৷

    ‘আমি যদি রাজি না হই আপনি কি জোর করে নিয়ে যাবেন ওকে?’

    এবার ফিক করে হেসে ফেলে মানুষটা, ‘আমি একটা সতেরো বছরের মেয়ের ইচ্ছাপূরণ করতে এসেছি মিসেস সেনগুপ্ত। জোর করে তাকে দিয়ে কিছু করাব কেন?’

    ‘ও কেমন আছে আমি জানব কেমন করে? ওর কোনও ক্ষতি হলে?’

    দু’দিকে মাথা নাড়ে লোকটা, ‘ওর যখন যা হওয়ার তখন তাই হবে। তার আগে কেউ ওর ক্ষতি করতে পারবে না। আমার উপর বিশ্বাস রাখুন।’

    আগমনী আশ্বস্ত হয় কিনা বোঝা যায় না, ‘ওকে আর আমি দেখতে পাব না?’

    ‘এই প্রশ্নটা করেই মুশকিলে ফেললেন…’ লোকটা খিলখিল করে হাসতে থাকে, ‘কী উত্তর দিই বলুন দেখি?’

    হাসতে হাসতেই হাতঘড়ির দিকে আর একবার চেয়ে নেয় সে, আগমনীর ঘর থেকে বেরোনোর মুখে শ্রীকৃষ্ণের ছবিটা ঝুলছে। কৌশিকই একবার এনে লাগিয়েছিল। সেটার সামনে গিয়েই পেছন ঘুরে তাকায় মানুষটা, ‘আমাকে আর কখনও আপনি দেখতে পাবেন না। তবে হ্যাঁ, অনুভব করতে পারবেন। আপনার কাছে এসেছিলাম একদিন জন্ম নিয়ে। তারপর শৈশব, কৈশোর, ভালোবাসা, দুঃখ, আনন্দ, শোক, বার্ধক্য আমিই নিয়ে এসেছিলাম। একদিন আপনার মৃত্যুকে নিয়ে আসব। ততদিন আমাকে আর দেখতে পাবেন না৷’

    লোকটা দরজার দিকে অনেকটা এগিয়ে গেছে। আগমনী পেছন থেকে চিৎকার করে জিগ্যেস করে, ‘আমাকে কী করতে হবে?’

    ‘রেখে আসবেন।’

    ‘কোথায় রেখে আসব?’

    ‘যেখানে ইচ্ছাগুলোকে রেখে আসতেন…’

    ‘দেখ, তুই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফের গেদু, আগমনী ফোন করেছিল। আমার ব্যাপারটা সুবিধার ঠেকছে না।’

    ‘কী বলছে?’

    ‘জানি না। বলছিল কে নাকি ইনাকে নিয়ে চলে যেতে চেয়েছে।’

    ‘চলে যেতে চেয়েছে! মানেটা কী?’

    ‘জানি না৷ অন্য কোনও সময়ে…’

    গাড়ি চলাতে চালতেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কৌশিক। মাথাটা ভার হয়ে আসে ওর। আগমনীকে এক্ষুনি একটা ডাক্তার দেখানো দরকার।

    ‘তুই আমার বাড়ি আয়, আমি আধা ঘণ্টায় ঢুকছি।’ এক্সেলেটরে চাপ দেয় কৌশিক। আরও জোরে ছুটিয়ে দেয় গাড়িটা

    ‘কেমন আছে ও এখন?’ কৌশিক দরজা খুলতে সবার আগে এই প্রশ্নটাই ছুড়ে দেয় অপরাজিতা। তারপর খোলা দরজা দিয়ে ঢুকে আসে ঘরের ভিতরে।

    ‘মা মেয়ে দুজনেই আপাতত ঘুমোচ্ছে।’ আমি একটা ওষুধ দিয়েছি। আপাতত সেটাই খেয়ে…’

    ভিতরের ঘরটা একবার দেখে আসে অপরাজিতা। মেয়েকে বুকের কাছে নিয়ে জড়সড় হয়ে ঘুমাচ্ছে আগমনী। নিঃশ্বাসের ধাক্কায় ওর বুকটা ফুলে উঠছে বারবার। নীল আলোতে ভরে আছে ঘরের ভিতরটা। সেই সঙ্গে একটা ওষুধের গন্ধ। দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসে অপু। ডাইনিং-য়ে টিভি চলছিল। সেটা বন্ধ করে সোফায় বসে পড়ে দুজনে।

    ‘কী ব্যাপার বল তো, দিনদিন এতটা খারাপ কন্ডিশন হয়ে যাচ্ছে!’ অপরাজিতার গলায় দুশ্চিন্তার ছাপ।

    এক হাতে নিজের চুল খামচে ধরে কৌশিক, ‘আমার হাতে কিছু নেই অপরাজিতা। আই অ্যাম সো ফাকিং টায়ার্ড অফ দিস!’

    ‘তুই একটু শান্ত হ ভাই। এই অবস্থায় দুজনেই যদি ভেঙে পড়িস, মেয়েটার কী হবে বল তো? আজ ডাক্তারের কাছে গেছিলি না? কী বলল?’

    ‘কী আবার! যা বলেছিল তাই রিপিট করল। উইথ এমফ্যাসিস।’

    ঘরের চারিদিকে একবার তাকাল অপরাজিতা। দেওয়ালের গায়ে কোথাও বাচ্চা মেয়ের মোম রঙে আঁকা ভূতের মুখ। কোথাও গলা ছেঁড়া পুতুল, কোথাও ক্লাস এইটের জীবন বিজ্ঞান বইয়ের ছেঁড়া পাতা। বাচ্চা মেয়ের বেড়ে ওঠার চিহ্ন বহন করছে ফ্ল্যাটটা। একদিকের দেয়ালের গায়ে কৌশিক আর আগমনীর বিয়ের সময়কার ছবি ঝুলছে। ছবির মানুষটার সঙ্গে এখনকার আগমনীর মুখের কোনও মিল নেই। অন্তত পনেরো কেজি ওজন কমেছে তার। কণ্ঠার হাড় বেরিয়ে পড়েছে বিশ্রীভাবে। বয়স আর মানসিক যন্ত্রণা মানুষটাকে ধীরে ধীরে একটা কঙ্কালে পরিণত করেছে।

    সেদিকে তাকিয়ে অপরাজিতার চোখ ভিজে যাচ্ছিল। চোখটা ঘষে নিয়ে বলল, ‘তুই চাইলে ওকে কয়েকদিনের জন্য আমার ফ্ল্যাটে পাঠিয়ে দিতে পারিস। আমি যতক্ষণ থাকি…’

    ‘বাদ দে ওসব।’ টেবিলের নিচ থেকে হুইস্কির গ্লাসটা উপরে তুলে আনে কৌশিক, তাতে ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়ে বলে, ‘মেয়ে ওকে ছেড়ে থাকতে চায় না। এদিকে ও আজকাল কেমন একটা যেন উদাসীন হয়ে গেছে৷’ কথাটা বলে টেবিলে ফাঁকা গ্লাস নামিয়ে রাখে কৌশিক, ‘ভাগ্যটা খারাপ আসলে। সবকিছু আগের মতো চললে ওর মতো মা অনেক ভাগ্য করে পেয়েছিল মেয়েটা। রোজ স্কুল থেকে নিয়ে আসা, কোলে করে ঘুম পাড়ানো, মেয়ের পছন্দের খাবার…’

    অপু মুখ ঘুরিয়ে নেয়, ‘ভালো মা, ভালো স্ত্রী, ভালো বোন, সময় আমাদের কোথায় ভালো হতে দেয় বল তো?’

    ‘সময় না থাক, আমার মেয়েটার কাছে একটা মা তো ছিল। সেটাও দিনদিন…’

    চেয়ার ছেড়ে উঠে আসে অপরাজিতা, খোলা বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। কৌশিকদের ফ্ল্যাটটা বিল্ডিংয়ের একেবারে উপরে বলে এখানে এসে দাঁড়ালে কলকাতা শহরের ব্যস্ত রাস্তা চোখে পড়ে। মিহি যানবাহনের শব্দ কানে আসে। সেদিকে চেয়ে থাকতে থাকতে বলে, ‘আমরা বুড়ো হয়ে গেলাম, বল গেদু? দেখতে দেখতে ছোট থেকে বড় হয়ে গেলাম। আমাদের খামখেয়াল, আমাদের হাসি, কান্না, ছেলেবেলা, স্কুল, জয়েন্ট ফ্যামিলি সব কোথায় হারিয়ে গেল!’

    কৌশিক ওর পাশে এসে দাঁড়ায়। নিচের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে বলে, ‘একটা সময় ঠাম্মাকে নিয়ে খুব টেনশন হত। ভয় লাগত একদিন ঠাম্মাও আমাকে ছেড়ে চলে যাবে। কিন্তু জানিস যেদিন সত্যি চলে গেল সেদিন খুব একটা কষ্ট হল না। অনেক বছর ধরে ভুগছিল। বিছানা থেকে উঠতে পারত না। গোটা গায়ে বেডসোর হয়ে গেছিল। ডাক্তার এসে যখন বলল আর বেঁচে নেই আমার কষ্ট হল না। নিশ্চিন্ত হলাম…যাক, আর তো ভুগতে হল না!’ মদের গ্লাসে আবার চুমুক দেয় কৌশিক, ‘এখন ইনার জন্য মনটা খারাপ হয়ে থাকে সব সময়। কে বলতে পারে একদিন হয়তো ও এত কষ্ট পাবে যে চলে গেলে মন খারাপের থেকে শাস্তি হবে বেশি!’

    গ্লাসটা বারান্দার রেলিংয়ের উপর রেখে ওর দিকে তাকায় কৌশিক। চোখদুটো আরও বেশি যেন কোটরের ভিতর ঢুকে গেছে ওর, ধীরে ধীরে বলে, ‘সময় আজ যা যা কেড়ে নিয়েছে তার সবকিছুর জন্য ওকে ক্ষমা করে দিতে পারতাম অপু, বিশ্বাস কর। ক্ষমা করব না শুধু আমাদের অনুভূতিগুলোকে সস্তা করে দিয়েছে বলে…’

    অপরাজিতা বেরিয়ে যেতে আগমনীর ঘরে আসে কৌশিক। মা মেয়ের ক্লান্ত নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে ঘরময়। সেই সঙ্গে তীব্র ওষুধের ঝাঁঝালো গন্ধ। আগমনীর ওষুধের পাতাটা একবার হাতে নিয়ে দেখে কৌশিক৷ হ্যাঁ, আজ মনে করে খেয়েছে।

    নীল রাতবাতির আলোয় আগমনীর শুকিয়ে যাওয়া শরীরটা, গল্পের বইতে পড়া শীর্ণ দাঁতভাঙা চুলওঠা ডাইনির মতোই দেখাচ্ছে। খুব সন্তর্পণে মনিকে একহাতে জড়িয়ে পাশে দলা পাকিয়ে বিড়ালের মতো শুয়ে পড়ে কৌশিক। মৃদু গলায় ডাকে, ‘মণি, মণি ঘুমাচ্ছিস?’

    ঘুমন্ত রুগ্ন মানুষটা উত্তর দেয় না। বুকটা ধীরে ধীরে ওঠানামা করতে থাকে কেবল। ছোট মেয়েটার মুখে চাঁদের আলো এসে পড়েছে৷ ভারি নরম দেখাচ্ছে মুখটা। ঘুমন্ত স্ত্রী মেয়েকে একহাতে আগলে কৌশিকও চোখ বোজে।

    ইনাকে নিয়ে আহিরীটোলা ঘাটের ধারে এগিয়ে আসে আগমনী। একটু দূরেই অটো থেকে নেমেছে ওরা দুজনে। শীতকাল পড়তে শুরু করেছে। আগমনী নিজের গায়ে আলুথালু করে একটা খয়েরি চাদর জড়ানো। তার নিচে সোয়েটার। আজকাল রাস্তাঘাটে একটু হাঁটতে গেলেই হাঁফ লেগে যায় ওর। ইনা নাচতে নাচতে দ্রুত এগিয়ে চলে। ওর সঙ্গে তাল রাখতে গেলে আগমনীর বুক ধড়ফড় করে।

    এখন বিকেল নামতে শুরু করেছে। আকাশের বুক ফুঁড়ে মাঝে মাঝে উড়ে যাচ্ছে সটান ডানার কয়েকটা বাদুড়। তাদের ছায়া সরে যাচ্ছে মাটির উপর দিয়ে। দূর থেকে লঞ্চের আওয়াজ ভেসে আসছে। ইনার মন বারবার সজাগ হয়ে যাচ্ছে সেদিকে। একবার মুখ তুলে মায়ের দিকে আর একবার গঙ্গার দিকে চাইছে সে। লঞ্চে উঠতে ভীষণই ভালো লাগে তার। বছরখানেক আগে একবার লঞ্চে উঠিয়েছিল বাবা। তারপর থেকে আর ওঠা হয়নি। মা খুব একটা বাড়ি থেকে বেরোয় না অবশ্য। ইনা ছোট থেকেই দেখে আসছে বছরের বেশির ভাগ সময় মা কেমন যেন দুর্বল হয়ে থাকে। সারাদিন এক গুচ্ছের ওষুধ খেতে হয়।

    ‘আমরা লঞ্চে করে কোথায় যাচ্ছি মা?’ ঘাটের ধারে এসে প্রশ্ন করে ইনা।

    ‘খুব সুন্দর একটা জায়গায়…তুই খুব ভালো থাকবি এমন একটা জায়গায়।’

    ইনার মুখ দেখে মনে হয় সে খুশি হয়েছে, ‘তুমিও যাবে তো আমার সঙ্গে?’

    ওর মা দু’দিকে মাথা নাড়ায়, ‘আমাকে যেতে হবে না। আমি ওখানেই থাকব।’

    ‘আমি একা যাব?’ অবাক চোখে ওর দিকে তাকায় মেয়েটা, ‘একা গেছি জানলে বাবা রাগ করবে না?’

    ঠোঁটের উপর আঙুল রাখে আগমনী, ফিসফিস করে বলে, ‘তোর বাবা জানলে তবে তো রাগ করবে। তোর ভয় করবে নাতো?’

    দুপাশে মাথা নাড়ে ইনা। তারপর কী যেন ভেবে নিয়ে বলে, ‘তুমি ওখানে আমার আগেই পৌঁছে যাবে?’

    মা হাসে। কোনও উত্তর দেয় না। ওর জামার কলারটা ঠিক করে দেয়। গালের উপরে হাত রাখে একবার। বিকেলের কমে আসা আলোয় মায়াবি দেখাচ্ছে মেয়েটার মুখটা। একমাথা কোঁকড়া চুল ঝুঁকে আছে পিঠের উপরে। নরম দু’খানা চোখ ঘুরতে যাওয়ার খুশিতে জ্বলজ্বল করে উঠছে। তবে এই ছোট ঘাটখানাতে মা হঠাৎ এসে দাঁড়িয়েছে কেন সে বুঝতে পারছে না। এই ঘাটে তো লঞ্চ আসে না। তাহলে?

    ‘মায়ের কাছে থাকতে ভালো লাগে না তোর?’ মেয়ের মাথায় হাত রাখে আগমনী।

    ‘খুব ভালো লাগে। তোমার কী হয়েছে মা?’ একটু দুশ্চিন্তার ছাপ পড়ে মেয়েটার মুখে।

    ‘বয়স, বয়স হয়েছে রে মা…’ হতাশ ভঙ্গিতে ঠোঁট উলটে বলে আগমনী, ‘তোর মা বুড়ি হয়ে গেছে। যত বয়স দেখায় তার থেকেও বেশি বুড়ি হয়ে গেছে। কিন্তু জানিস বাবাই, তোর মা সবসময় এরকম ছিল না। এরকম বিচ্ছিরি, ঘ্যানঘ্যানে, ভয় পাওয়া একটা মানুষ ছিল না। মনে সাহস ছিল, পায়ে জোর ছিল। সবথেকে বড় কথা…’ একটু অন্যসময় জলের দিকে তাকায় আগমনী, ‘এটা বিশ্বাস করত যে তেমন করে চাইলে অসম্ভব ইচ্ছাও পূরণ হয়…’ কী যেন ভেবে আবার বলে, ‘তোকে আমার খুব হিংসা হচ্ছে, জানিস?’

    ‘কেন?’ ইনা অবাক হয়।

    ‘তোর একটা নিষ্পাপ শৈশব থাকবে, কৈশোর থাকবে, স্কুল থাকবে, ছোটবেলার বন্ধু থাকবে, অথচ বুড়ি হয়ে যাওয়া থাকবে না, হেরে যাওয়া থাকবে না, সবাইকে অসহ্য মনে হওয়া থাকবে না, প্রিয় মানুষের মরে যাওয়ার ভয় থাকবে না…তুই আমার মতো হয়ে যাবি না কোনওদিন!’

    দূর থেকে একটা শব্দ ভেসে আসে। লঞ্চের আওয়াজ। গঙ্গার ওপার থেকে এদিকেই ভেসে আসছে একটা লঞ্চটা। সেটা দেখে খুশি হয় ইনা, ‘ওটাতে করেই যাব আমি?’

    আগমনীর চোখ জলে ভরে আসে। উপরে নিচে মাথা নাড়ে সে। তারপর সজোরে মেয়েকে বুকে চেপে ধরে। মেয়েটা কিছু বুঝতে পারে কি? না মনে হয়।

    ‘আমি তোকে ছেড়ে থাকতে পারব না রে মা।’ আগমনীর গলার স্বর কেঁপে যায়। দূরে লঞ্চের আওয়াজ আরও এগিয়ে আসে। ঘাট বেয়ে জলের গন্ধ উঠে আসে। মেয়েটা বুঝতে পারে ওর জামার কাঁধের কাছটা ভিজে যাচ্ছে জলে।

    মেয়েটা ওর বুক থেকে মুখ তোলে, ‘তাহলে আমি না থাকলে কী করবে তুমি?’

    হাত দিয়ে চোখের জলটা মুছে নেয় আগমনী, ‘আবার একটা ইচ্ছার নৌকা ভাসিয়ে দেব জলে। কে জানে, যদি আবার কখনও সেই ইচ্ছা পূরণ হয়ে যায়….’

    কথাটা বলে উঠে দাঁড়ায় আগমনী, ‘তুই একটু দাঁড়া। আমি আসছি।’ মেয়েটা মিষ্টি করে হাসে, ‘আচ্ছা, তাড়াতাড়ি ফিরো কিন্তু। আমার একা একা থাকতে ভয় করে।’

    ঘাটের দিকে পা বাড়ায় আগমনী, ‘আমি থাকতে তুই একা হবি না কোনওদিন।

    পনেরো বছরের মেয়েটাকে গঙ্গার ধারে দাঁড় করিয়ে পেছন ফেরে আগমনী। তারপর সজোরে পা চালায়। সিঁড়ি বেয়ে বেশ খানিকটা উপরে উঠে আসে। গঙ্গার দিক থেকে হাওয়া বয়ে এসে লাগে ওর পিঠে। যেন পিছু ডাকতে চায়। উপর থেকে আইসক্রিমওয়ালা হাঁক কানে আসে। মন্দিরে ঘণ্টা বাজার শব্দ হয়। অল্পবয়সি ছেলেমেয়েদের কলকাকলি শোনা যায়৷

    ‘মা…’ পেছন থেকে কি ডাকল কেউ?

    মনটা কেঁপে ওঠে আগমনীর। এটা কী করছে ও!

    ‘না, না আমি ওকে নিয়ে যেতে দেব… উন্মাদের মতো চিৎকার করে কথাগুলো বলে চকিতে পেছন ফেরে আগমনী। আবার তাকায় জলের দিকে।

    নাহ, আর কেউ দাঁড়িয়ে নেই জলের ধারে। খাঁখাঁ করছে গঙ্গার ঘাট। কোথায় লুকিয়ে থেকে যেন একটা কাক কর্কশ গলায় ডেকে যাচ্ছে ক্রমাগত। একটা কালো কুকুর লেজ গুটিয়ে শুয়ে আছে নীচের ধাপে।

    আর কেউ কোত্থাও নেই।

    ঘাটের রেলিং ধরে কিছুক্ষণ ঠায় সেই দিকে তাকিয়ে থাকে আগমনী। সূর্যটা ঠিক সেই সময়ে ডুবে যায় দিগন্তের ওপারে। রাস্তার উপর দিয়ে ছুটে আসে।

    যাওয়া কোনও অল্পবয়সি শিশুর খিলখিল হাসির আওয়াজ কানে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ওঠে আগমনী। ওর রুগ্ন ক্লান্ত শরীর লুটিয়ে পড়ে মাটির উপরে। ঘাটের উপর ঝুঁকে থাকা গাছের একটা শুকনো পাতা ঝরে পড়ে সেই রুগ্ন দেহের উপর।

    ঘাটের উপর চিত হয়ে শুয়ে দু’হাতে মুখ ঢেকে হাউ হাউ করে কাঁদতে থাকে আগমনী…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে
    Next Article কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }