Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প343 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – ৩

    তৃতীয় অধ্যায়

    কফির কাপটা একহাতে ধরে একটা সিগারেট ধরাল অপরাজিতা। তারপর বারান্দার রেলিং থেকে খানিক সরে এসে বলল, ‘সকালে আমি এসে না পৌঁছালে এতক্ষণে ওর বড়সড় কিছু হয়ে যেত।’

    অপরাজিতার ঠিক উলটোদিকেই দাঁড়িয়েছিল কৌশিক। সে কোনও উত্তর দেয় না। ওর কথার দিকে খুব একটা খেয়াল করছে বলেও মনে হল না৷ রেলিঙের বাইরে দিয়ে সতর্ক পায়ে একটা সাদা মেনি বিড়াল হেঁটে যাচ্ছিল। কৌশিক মন দিয়ে তার ল্যাজের দুলুনি দেখতে থাকে।

    ‘হঠাৎ করে কী হল বল তো মেয়েটার? মণি কি পাগল হয়ে যাচ্ছে?’ অপরাজিতা কপালে ভ্রুকুটি ফুটিয়ে জিগ্যেস করে।

    ‘হুঁ…’

    ‘হুঁ কী? তোকে আনলাম কী জন্য?’ ওর পেটে তর্জনী দিয়ে একটা খোঁচা দেয় অপরাজিতা।

    কৌশিক এতক্ষণে বিড়ালের দিক থেকে ওর দিকে মুখ ফেরাল, প্রসঙ্গটা একরকম উড়িয়ে দিয়েই বলল, ‘দেখ ভাই, মানুষ পাগল হয়েই জন্মায়, পাগল হয়েই মরে। মাঝখানের এই ষাট-সত্তর বছর স্রেফ পাগলামিটাকে ধামাচাপা দিয়ে রাখার খেলা। একটা বয়স অবধি পড়াশোনার চাপ, তারপর প্রেমের, বিয়ের, রোজগারের, তারপর ছেলেমেয়ের চাপ নিয়ে আসলে পাগলামিটাকে ভুলে থাকা। ও শালার মূল সমস্যা হল ঠিক বয়সে বিয়েটা হয়নি। লাইফে কোনও চাপ নেই; তাই পাগলামিটা বেরিয়ে পড়েছে।’

    বিরক্ত হয় অপরাজিতা, ‘তোর বাজে কথা রাখ। আমার জানি না কেন টেনশন হচ্ছে। একা একা থাকে মেয়েটা। কিছু একটা হয়ে গেলে…

    তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে মুখ বাঁকায় কৌশিক, ‘কী আর হবে? শরীর খারাপই হবে ম্যাক্সিমাম। চিন্তার কী আছে?’

    কৌশিকের পেটে আবার একটা চাপড় মারে অপরাজিতা, ‘উঁহু, সিরিয়াসলি, ওর সমস্যাটা ঠিক কোথায় হচ্ছে বল তো?’

    জানলার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাইরের দিকে তাকায় কৌশিক। বিড়ালটা এর মধ্যে কোথায় যেন লুকিয়ে পড়েছে। বিড়ালদের এই এক স্বভাব। এই আছে, এই নেই।

    ‘আমার মনে হয় একধরনের মিডলাইফ ক্রাইসিসে ভুগছে। সারাজীবন এ ঘাটের ও ঘাটের জল খেয়ে এখন জীবনে আর কিছুই পড়ে নেই। তাই স্কুল লাইফটা, আই মিন যখন ছেলেফেলে পটাত সেই সময়টাকে ফ্যান্টাসাইজ করছে।’

    নিজের মোবাইলটার দিকে তাকায় অপরাজিতা। টুং টুং করে মেসেজ আসছে সেখানে। আসারই কথা। সাত সকালে অফিস ফেলে হঠাৎ করেই ছুটে এসেছে৷ এখন অফিস থেকে ক্রমাগত ফোন আর মেসেজ আসছে। আপাতত ঘণ্টাখানেক সেগুলো ইগনোর করা ছাড়া উপায় নেই।

    কাল রাতে আগমনীর সঙ্গে কথা হওয়ার পর কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিল অপরাজিতা। মেয়েটার কথাবার্তা সকাল থেকেই কেমন যেন অসংলগ্ন। কখন কী বলছে নিজেই বুঝতে পারছে না। আজ সকালে ওর হাউস হেল্প শম্পা ফোন করে অপরাজিতাকে জানায় যে আগমনী নাকি ঘর খুলছে না। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ, ওপাশ থেকে কোনও আওয়াজ আসছে না।

    শেষে শম্পা চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখে আগমনী ঘরের মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। দিশেহারা হয়ে সে আগে অপরাজিতাকেই ফোন করে। অফিস যাওয়ার জন্যই বেরোচ্ছিল অপরাজিতা। ফোন পেয়ে অপেক্ষা না করেই ক্যাব বুক করে এখানে চলে আসে। আসার সময় কৌশিককে ফোন করে তুলে নেয়।

    কলেজ জীবনের শেষের দিকে ওদের তিনজনের একটা হালকা বন্ধুত্ব হয়েছিল। কৌশিকের মতো জাতআনাড়ি ছেলে আর দুটো হয় না। এইচএসের পর খুব খেটেখুটে জয়েন্ট এন্ট্রান্স দিয়ে মেডিকালে চান্স পেয়েছিল। পড়া শুরুও করেছিল। একদিন হুট করেই সেসব ছেড়ে দেয়। কেন ছেড়েছিল ও নিজেও জানে না। বছরখানেক বেকার হয়ে বসেছিল। শেষে আবার পড়াশোনা করে গোয়েন্দা দফতরে সরকারি চাকরি জোগাড় করেছে। অফিস একরকম যায় না বললেই চলে।

    শম্পার বয়ান অনুযায়ী অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার সময় আগমনীর মাথাটা টেবিলের কোণে ঠুকে গেছে। খানিকটা রক্ত বেরিয়েছে কপালের পাশ দিয়ে। এর মধ্যে ডাক্তার এসে একটা সিডেটিভ দিয়ে গেছেন। বলেছেন, যতক্ষণ ঘুমাচ্ছে ঘুমোক বিরক্ত করার দরকার নেই। আপাতত দিনতিনেকের রেস্ট দরকার। শম্পার সঙ্গে খানিক কথাবার্তা বলে নিশ্চিন্ত হয়েছে অপরাজিতা। তারপরেই দুজনে এসে দাঁড়িয়েছে বারান্দায়।

    অপরাজিতার প্রথম থেকেই মনে হয়েছিল আগমনীর সমস্যাটা যতটা না শারীরিক তার থেকে ঢের বেশি মাথার। তবে সেটা আসার সময় কৌশিককে বলেনি। শুধু মাথার সমস্যা হয়েছে বললে, ছেলেটা বিশেষ গা করত না।

    এর মাঝে আগমনী একবার চোখ খুলেছিল। আপাতত অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল।

    ‘ও বলছিল, ওর স্কুল লাইফের স্মৃতি কিছু মনে পড়ছে না। আমার কিন্তু বিশ্বাস হয়নি তেমন।’ অপরাজিতা ভুরু কুঁচকে বলল।

    ‘বিশ্বাস হয়নি কেন?’

    ‘কেন মানে? এ আবার হয় নাকি? অন্য সব কিছু মনে থাকল, পার্টিকুলারলি দেড়-দু’বছর গায়েব?’

    মাথা নাড়ায় কৌশিক, ‘অসম্ভব কিছুই না। তুই ক্লাস সেভেন আর এইটের কথা আলাদা করে মনে করতে পারবি? মানে কোন ক্লাসে কে তোর বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল, কোন ক্লাসে একশোয় একশো পেয়েছিলি, কোন ক্লাসে প্রথম কেউ প্রপোজ করেছিল…’

    একটু ভাবে অপরাজিতা, ‘উঁহু, সব একসঙ্গে জট পাকিয়ে যাচ্ছে।’

    একটু হাসে কৌশিক, ‘কারণ আমাদের ব্রেন দৃশ্য দিয়ে মনে রাখতে পছন্দ করে। শব্দ, গন্ধ, স্বাদ এসবের পেছনেও সে একটা দৃশ্য অ্যাটাচ করে রাখে। চেনা গন্ধ বা শব্দ পেলে ব্যাটা সেই দৃশ্যটাকে টেনে আনে৷ স্কুলের সমস্যা হল এখানে সব দৃশ্য প্রায় একইরকম। সবাই একই জামা পরে আছে, একই দেওয়াল, একই রঙের বেঞ্চ, একই ব্ল্যাকবোর্ড, একই সময়ে শুরু একই সময়ে শেষ। ফলে স্কুলের স্মৃতি মনে রাখতে গিয়ে মগজ একরকম গড়বড় করে ফেলে৷ তাই স্কুলের স্মৃতি সব থেকে গোলমেলে।

    ব্যাপারটা ভাবিয়ে তোলে অপরাজিতাকে, সে মাথা নেড়ে বলে, ‘তার উপর আমাদের স্কুল লাইফটা এমন একটা সময় যখন লোকে কথায় কথায় পঞ্চাশটা ছবি তুলে ফেলত না। এখন তো ছবি দেখেই বলে দেওয়া যায় কোনটা কোন বয়সের।’

    রেলিঙের দিকে আবার সেই বেড়ালের উঁচিয়ে থাকা ল্যাজটা দেখতে পায় কৌশিক। মুখ দিয়ে মিউমিউ আওয়াজ করে সেদিকে এগিয়ে যায়। অপরাজিতার গলা যেন দূর থেকে ভেসে আসে, ‘এতগুলো জেনারেশন, এতগুলো মানুষের ছেলেবেলা আর কয়েক বছর পর অতলে চলে যাবে। তাদের শৈশব, স্কুল, প্রথম সিগারেট, প্রথম প্রেম, ঘুড়ি লাটাই আর অ্যান্টেনার গল্প শুধু কয়েকটা ফ্ল্যাশ ক্যামেরায় তোলা ছবি রেখে হারিয়ে যাবে।’

    ‘খুঁজছে…’ অন্যমনস্ক গলায় বলে কৌশিক।

    ‘কে? মণি?’

    কার্নিশ থেকে মুখ সরিয়ে নেয় কৌশিক, ‘না না, বিড়ালটা প্রেগন্যান্ট। বাচ্চা দেওয়ার জন্য একটা ভালো জায়গা খুঁজছে। ভারি আশ্চর্যের ব্যাপার!

    ‘এর মধ্যে আশ্চর্যের কী আছে?’

    কৌশিক কিছু উত্তর দিতে যাচ্ছিল। শম্পাকে বারান্দায় ঢুকতে দেখে মুখ তুলে তাকাল।

    ‘দিদি উঠে পড়েছে, তোমাকে খুঁজছে৷’

    ওরা দুজন বারান্দা থেকে পা বাড়িয়ে ভিতরের ঘরে ঢুকে এল। আগমনীকে ওর বেডরুমে শোয়ানো হয়নি। পাশের ঘরের বিছানায় আপাতত উঠে বসে মাথার দুটো রগ চেপে ধরে আছে। ওর মুখ চোখে একটা আচ্ছন্ন ভাব। পায়ের আওয়াজ পেয়ে মুখ তুলে তাকায় সে।

    ‘শম্পা বলছিল তুই…’ কথাটা শেষ করে না আগমনী। তার আগেই ওর ঠিক পেছনে কৌশিকের দিকে চোখ পড়ে। এবং পড়তেই ওর চোখ মুখের ভাষা পালটে যায়।

    ‘ও এসেছে কেন এখানে?’ ক্লান্ত কিন্তু গনগনে গলায় প্রশ্ন করে আগমনী।

    একটু খাবি খায় অপরাজিতা। কলেজ জীবনে মোটামুটি ভালোই বন্ধুত্ব ছিল তিনজনের। কৌশিককে দেখে আগমনী এমন খেপে উঠতে পারে ও স্বপ্নেও ভাবেনি।

    ‘কেন আবার আসবে? আমি ডেকেছি তাই এসেছে।’

    ‘মাথা খারাপ হয়েছে তোর?’ এবার বিছানা থেকে প্রায় ছিটকে আসে আগমনী, কৌশিকের দিকে আগুন চোখে তাকায়, ‘বেরো শুয়োরের বাচ্চা, বেরিয়ে যা এখান থেকে।’

    অপরাজিতা পেছনে তাকিয়ে দেখে কৌশিক মাথা হেঁট করে দাঁড়িয়ে আছে। কেমন যেন একটু আগে দেখা বেড়ালটা মতোই ভাব চোখেমুখে। কেবল বাচ্চা দেওয়ার বদলে লুকানোর জায়গা খুঁজছে।

    ‘দুশ্চরিত্র লম্পট কোথাকার। ছোটলোকের বাচ্চা! বলেছিলাম না ভুলেও এ পাড়া মাড়াবি না?’ প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় আগমনী।

    ‘আরে, হলটা কী? উত্তেজনা তোর শরীরের পক্ষে ভালো নয়।’

    কোনওরকমে আগমনীকে শান্ত করে বিছানার উপর বসায় অপু৷ হিংস্র বাঘিনীর মতো ফুঁসতে থাকে সে। একবার কৌশিকের মুখের দিকে তাকায় অপরাজিতা। কিছু একটা আন্দাজ করতে পারে।

    উঠে এসে দ্রুত কৌশিককে নিয়ে দরজার বাইরে বেরিয়ে আসে অপরাজিতা। প্রায় দেওয়ালের সঙ্গে ঠেসে ধরে ওকে, ‘কী ব্যাপার বল তো? কী করেছিস ওর সঙ্গে?’

    ‘প্রেম, ওই ধর বছর দেড়েক।’ খাবি খেতে খেতে কৌশিক বলে৷

    ‘তো সেটা আমাকে আগে বলিসনি কেন?’ অপরাজিতার, গলার উত্তাপ বাড়ল।

    ‘কেন, তুই জয়েন্ট এন্ট্রান্স নিতিস?’

    দেওয়ালের উপরেই একটা চাপড় মারে অপরাজিতা, ‘অন্তত আজকে এখানে আসার আগে তো বলতে পারতিস।’

    ‘বলে লাভ কী হত?’ পালটা ফুঁসে ওঠে কৌশিক, ‘তুই যেভাবে বললি ক্রিটিকাল কন্ডিশন আমি ভাবলাম মরে টরে গেছে।’ অপরাধবোধে মাথা নত হয়ে আসে ছেলেটার, ‘ওর হোয়াটস অ্যাপে আমার কিছু পুঙ্গা পুঙ্গা ফটো আর সেক্স চ্যাট…’

    Romance

    ‘তোরা সেক্স চ্যাটও করেছিলি? আর আমি এদিকে কিছুই জানি না!’

    ‘আজব তো!’ এবার ওকে মৃদু ধাক্কা দেয় কৌশিক, ‘জানলে কি প্রুফরিড করে দিতিস?’

    দু’সেকেন্ড নিজের মাথার চুল খামচে দাঁড়িয়ে থাকে অপরাজিতা, তারপর বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, ‘দেখ, মেয়েটা অসুস্থ। এখানে তোকে দেখে আরও খচে গেছে। ভিতরে গিয়ে যদি আর একটা আলপটকা কথা বলেছিস তোর সব পুঙ্গা পুঙ্গা ফটো আমি টেনে বের করব।’

    কথাটা বলে ওর জামায় একটা টান দিয়ে ভিতরে নিয়ে আসে অপরাজিতা। আগমনী এখনও সেইভাবেই বিছানার উপরে বসে আছে। তবে মুখের রং খানিক ফিকে হয়ে এসেছে। প্রাথমিক রাগটা এতক্ষণে একটু প্রশমিত হয়েছে। একটু আগে আগমনীর চিৎকারে শম্পা ছুটে এসেছিল রান্নাঘর থেকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে আবার রান্নাঘরে ফিরে যায়।

    গুটিগুটি পায়ে আগমনীর কাছে গিয়ে বসে অপরাজিতা। তারপর ওর হাতের উপর একটা হাত রেখে বলে, ‘দেখ, ওর তো এই ব্যাপারে একটা এক্সপার্টিজ আছে…’

    ‘বালের এক্সপার্টিজ আছে।’ আবার তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে আগমনী, ‘অর্ধেক সেক্স করে বাচ্চা আর অর্ধেক পড়ে ডাক্তার হয় না! ওকে ঘাড় ধরে বের করে দে।’

    অপরাজিতা ঢোঁক গেলে, ‘সেটা কি উচিত হবে? অতিথি নারায়ণ। তাছাড়া আজকে যখন এসেই পড়েছে একেবারে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া মনে হয় না খুব একটা ভালো হবে।’

    আগমনী কোনও উত্তর দেয় না। স্থির চোখে বিছানার দিকে চেয়ে থাকে৷ অপরাজিতা আবার চেষ্টা করে, ‘দেখ, তোদের মধ্যে কী হয়েছে, আমি জানি না। কিন্তু আমরা তো একসময় বন্ধু ছিলাম, তাছাড়া তোরা ভালোবাসা…’

    ‘ভালোবাসা? বালের ভালোবাসা। ওটাকে ভালোবাসা বলে না অপু৷’

    ‘ইয়ে…তাহলে বন্ধুত্ব ধরে নে, সেক্স চ্যাট করা বন্ধুত্ব। সেটার কথা ভেবে আজ অন্তত ওকে…’

    ‘সেটা পাভেলকে কিস করার আগে ভাবা উচিত ছিল।’

    নিরুত্তাপ মুখে একটু পিছিয়ে আসে অপু। কৌশিকের দিকে না তাকিয়েই জিগ্যেস করে, ‘পাভেল কে?’

    কৌশিক জবাব দেয়, ‘আমার বন্ধু। আমার চেয়ে উঁচু র‍্যাঙ্কে আছে।’

    ‘তাকে তুই কিস করেছিলি কেন?’

    ‘মহা মুশকিল তো! আমি কেন কিস করতে যাব? ও আমাকে করেছিল।’

    অপরাজিতার বুকের ভিতরটা ছমছম করে ওঠে, ‘তুই বাই সেক্সুয়াল? দেখে তো মনে হয় না!’

    কৌশিক বিড়বিড় করে, ‘বাই সেক্সুয়াল হলে কি টু-ইন-ওয়ান আইসক্রিমের মতো দেখতে হবে ভেবেছিলি?’

    হাতের উলটোদিক দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নেয় অপরাজিতা। তারপর আগমনীর পাশে গিয়ে আবার বসে পড়ে। গলাটা আরও খানিক নরম করে বলে, ‘বাদ দে ওর কথা, রাতে তোর ঠিক কী হয়েছিল বল তো?’

    আগমনী মনে করার চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে বলে, ‘মাঝরাতে ভেঙে গেছিল ঘুমটা। চোখ খুলেই দেখলাম জানলা দিয়ে চাঁদের আলো আসছে৷ মনে হল কিছু স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু কী স্বপ্ন মনে পড়ছে না। ভীষণ ডিস্টার্বড লাগছিল। ঘাম দিচ্ছিল খুব। বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম, নিচে তাকিয়ে একটা ঘুমন্ত ভিখারিকে দেখতে পেলাম। চাদর মুড়ি দিয়ে থাকায় মুখটা দেখতে পাইনি। জল খেলাম, শুয়ে পড়লাম। তারপর থেকেই মাথাটা কেমন ঘুরতে লাগল। একবার মনে হল, আমি বিছানা থেকে উঠে পড়েছি। দেয়ালে কী সব যেন লিখছি। তারপর আর কিছু মনে নেই!’

    ‘দেওয়ালে কী লিখছিলি, সেটা মনে আছে?’

    এক হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরে আগমনী, ‘আমি লিখছিলাম কিনা মনে পড়ছে না। তবে আমি একা ছিলাম না…’

    ‘তাহলে আর কে ছিল সঙ্গে?’

    ‘কতগুলো বাচ্চা ছেলেমেয়ে। খানিকটা আমি লিখেছি, খানিকটা ওরা আমার খালি মনে হচ্ছিল ওরা কিছু বলতে চাইছে আমাকে। বিশেষ করে একটা মেয়ে…মেয়েটার নাম…নাম…’

    ‘নহর?’

    চমকে ওর দিকে তাকায় আগমনী, ‘হ্যাঁ, তাই হবে। কিন্তু তুই কী করে জানলি?’

    উত্তর দেয় না অপরাজিতা, উলটে প্রশ্ন করে, ‘তারপর কী হল?’

    ‘তারপর আর কিছু মনে নেই।’ আগমনীকে উদ্‌ভ্রান্ত দেখায়।

    ‘মাঝরাতে যখন উঠেছিলি তখন ক’টা বাজে?’

    আগমনী ভেবেচিন্তে কিছু উত্তর দিতে যাচ্ছিল। তার আগেই পেছন থেকে কৌশিক বলে ওঠে, ‘জিগ্যেস করে লাভ নেই। বলতে পারবে না।’

    Romance

    অপরাজিতা রাগত চোখে তাকায় ওর দিকে, ‘তোকে কে বলেছে বলতে পারবে না?’

    ‘কেউ বলেনি। বুঝতে পারছি।’

    ‘কী বুঝেছিস?’

    ‘মাঝরাতে ও যে উঠেছিল, সেটা ওর স্বপ্নেরই পার্ট। আর স্বপ্নে মানুষ সময় মনে রাখতে পারে না।’

    ‘ওটা স্বপ্নের অঙ্গ ছিল তোকে কে বলেছে?’

    একটা পায়ের উপর আরেকটা পা তুলে বসে কৌশিক, ‘ঘুম ভেঙেই ও দেখে জানলার দিকে মুখ করে শুয়ে আছে। কিন্তু আমি জানি, ও জানলার দিকে মুখ করে শোয় না। তাছাড়া বলল, ঘরের ভিতরে চাঁদের আলো আসছিল। ও ঘরের বিছানায় শুয়ে জানলা দিয়ে বাইরে তাকালে আকাশে চাঁদ দেখতে পাবার কথা নয়, তাছাড়া…’

    ‘ও জানলার দিকে মুখ করে শোয় না কে বলল?’

    মাথা নামিয়ে নেয় কৌশিক, ‘ও ভূতে ভয় পায় ছোট থেকে। যারা ছোটবেলায় ভূতে ভয় পায় তারা জানলার দিকে মুখ করে শোয় না। পরে বড় হয়ে ভূতের ভয়টা কেটে গেলেও মনের ভেতর সেই ডিফেন্স মেকানিজমটা রয়ে যায়। জানলার দিকে মুখ করে শুতে অস্বস্তি হয়।’

    কয়েক সেকেন্ড কেউ কোনও কথা বলে না। মিনিটখানেক পরে অপু একটু গলা খাঁকরে বলে, ‘বেশ, সেটা না হয় হল। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ানোটা স্বপ্নের পার্ট হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু তাতে আলাদা করে কী প্রমাণ হয়?’

    ‘ঘরে ওর গরম লাগছিল, আবার একটা ভিখারি চাদর চাপা দিয়ে শুয়েছিল। দুটো একসঙ্গে সত্যি হতে পারে না। অর্থাৎ স্বপ্নটা ও একদিন দেখেনি। বেশ কয়েকদিন দেখেছে। আর যে স্বপ্ন আমরা বারবার দেখতে থাকি, সেটা আমাদের আসলে কিছু বলতে চায়।’

    ‘তুই হাফ ডাক্তার না সাইকিয়াট্রিস্ট সেটা ঠিক করে নে আগে।’ অপরাজিতা ধমকের সুরে বলে, ‘একমাত্র পানু ভিডিয়োর হিরো ছাড়া আমি কাউকে এত তাড়াতাড়ি পেশা বদলাতে দেখিনি।’

    কৌশিক কিছু একটা উত্তর দিতে যাচ্ছিল। থমকে যায়। বুঝতে পারে এখানে মুখ খোলা ঠিক হবে না। এই ব্যাপারটাতে মজাই লাগছে অপরাজিতার। কৌশিক এমনিতে বেশ বাঁকাচোরা কথা বলতে পারে। বেশ একটা অ্যাংরি ইয়ং ম্যান গোছের ভাব আছে। কিন্তু আগমনীর সামনে কোনও কারণে কাঁচুমাচু হয়ে যাচ্ছে বারবার। মেয়েটার দিকে তাকায় অপরাজিতা, ‘একটু মনে করে দেখ তো, আর কী দেখেছিস স্বপ্নে?’

    ‘লাভ নেই।’ নরম গলাতেই বলে কৌশিক, ‘রিয়েলিটির সঙ্গে স্বপ্নের পার্থক্য হল, আমরা ব্রেন স্টরমিং করে ভুলে যাওয়া রিয়েলিটির কিছু মনে করতে পারি। অজেক্টের সঙ্গে রিলেটেড মেমোরি মনে পড়ে যেতে পারে। কিন্তু স্বপ্ন একবার ভুলে গেলে আর মনে করার কোনও উপায় থাকে না৷’

    চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ে কৌশিক, ‘খুব অর্ডিনারি স্বপ্ন। বারবার দেখে চলেছে মানে ওর মনের গভীরে এক্সট্রা অর্ডিনারি কিছু লুকিয়ে রয়েছে। যেটা বারবার ওভারলুক করে যাচ্ছে ও।’

    অপরাজিতা এতক্ষণে বিরক্ত হয়ে যায়, ‘এসব হাবিজাবি কথা নিজের কাছে রাখ তুই। এখন কী করব সেটা বল।’

    ‘একজন সাইকিয়াট্রিস্ট কনসাল্ট করা দরকার। এভাবে ব্যাপারটা বাড়তে বাড়তে…’

    ‘তোরা দুজন মিলে কি আমায় পাগল প্রমাণ করতে চাইছিস?’ এতক্ষণ চুপ করেছিল আগমনী। এলোমেলো হয়ে থাকা চুলগুলো রাগের চোটে মুখের সামনে চলে আসে। হাত দিয়ে সেগুলো সরিয়ে দেয়৷

    কৌশিক বিড়বিড় করে, ‘নতুন করে প্রমাণ করার কী আছে?’

    ‘ঠিক যেমন তুই লম্পট প্রমাণ করতে আমার দু’মিনিট সময় লাগবে না৷ দে তোর ফোনটা দে একবার!’

    বিপদ বুঝে অপরাজিতা আবার শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু লাভ হয় না। আগমনী গজগজ করতে থাকে, ‘একটা হাফ ডাক্তার হয়ে ফোন ভর্তি শুধু পানু আর পানু। লজ্জা করে না তোর?’

    Romance

    কৌশিক এতক্ষণে মুখ খোলে, ‘ডাক্তারির সঙ্গে পানুর কী সম্পর্ক। দেখ, আমাদের ভ্যাসেক্টমি শুধু পড়ানো হয়, করে দেওয়া হয় না।’

    ‘মানুষের শরীর তোদের কাছে একটা মন্দির, সেটা নিয়ে নোংরা চিন্তা করতে তোর লজ্জা করে না?’

    কৌশিক এতক্ষণে ফুঁসে ওঠে, ‘বেশ তো, আরশোলাদের পর্নহাবের লিঙ্ক দে। এক্ষুনি খুলে দেখছি। যতসব, পাগল ছাগলের পাল্লায় পড়েছি।’ ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অপরাজিতার দিকে চেয়ে গর্জে ওঠে সে, ‘একে নিয়ে গেলে মাথার ডাক্তারও পাগল হয়ে যাবে।’

    ‘জাস্ট শাট আপ!’ ভর্ৎসনা করে অপরাজিতা, ‘ওর চোখ মুখের অবস্থা দেখেছিস? মায়া লাগছে না তোর?’

    কৌশিক হাত ওলটায়, ‘দেখ ভাই, আমি হাফ ডাক্তার হতে পারি, হাফ বয়েল ডিম নই যে কথায় কথায় গলে যাব…ওকে পাগলের ডাক্তারের কাছে ভর্তি করে দে, ব্যস!’

    ‘হ্যাঁ, সেই তো!’ ছুটে ওর কলার ধরতে যায় আগমনী, ‘এখন তো আমি পাগল হবই। কিন্তু আমাকে পাগলের ডাক্তার কবে দেখানো উচিত ছিল বল তো? যখন তোর সঙ্গে প্রেম করেছিলাম! এখন ব্রেক আপ হয়ে গেছে মানে মাথা ঠিক আছে।’

    ‘আহ, কী ছেলেমানুষের মতো ক্যাচাল করছিস বল তো?’ অপরাজিতা হাত তুলে থামিয়ে দেয় দুজনকে। উত্তেজনার চোটে হাঁপানি শুরু হয়েছিল আগমনীর। ড্রয়ার থেকে বের করে ইনহেলার নেয়। কৌশিকও চুপ করে যায়।

    তিনজনে কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে থাকে। শান্ত হয়ে আগমনী পা বাড়িয়ে বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করে। হাত দিয়ে মাথা ঘষতে ঘষতে বলে, ‘দেখ, তোরা এখন আয়। আমার শরীরে বিশেষ কোনও সমস্যা নেই। মাথার সমস্যা তো একেবারেই নেই।’

    ‘আয় আমার সঙ্গে, উপর হাত রেখে মৃদু টান তোকে একটা জিনিস দেখানোর আছে।’ ওর হাতের দেয় অপরাজিতা, ‘পাশের ঘরে আয়।’

    ‘আগমনী বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে। ওকে নিয়ে অপরাজিতা বেরিয়ে আসে বাইরে। পাশের ঘরের দরজাটা ভেজানো ছিল। সেটা হাতের ঠেলা দিয়ে খুলে ফেলে।

    ভিতরে ঢুকে ঠাহর করতেই আঁতকে ওঠে আগমনী। জানলা দিয়ে আপাতত দুপুরের রোদ এসেছে। ঘরের টাইলসের মেঝেতে রিফ্লেক্ট করে আরও উজ্জ্বল হয়েছে সেই আলো। আর তাতেই দেখা যাচ্ছে গোটা ঘরের দেওয়াল জুড়ে ফুটে উঠেছে অসংখ্য সরু সরু লেখা৷ কাঁপা কাঁপা হাতে রংবেরঙের চক দিয়ে কয়েকটা লাইন লিখে রেখেছে কেউ। মধ্যে মধ্যে ছবি আঁকারও চেষ্টা করেছে।

    কিছুক্ষণ থ হয়ে সেদিকে চেয়ে থাকে আগমনী, তার ঠোঁটদুটো কেঁপে ওঠে অল্প, ‘এগুলো আমি লিখেছি? কাল রাতে?

    পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন কোনও উত্তর দেয় না। আগমনী ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় লেখাগুলোর দিকে। রঙিন দাগের উপরে আঙুল রাখে। বারবার একটাই কথা নানারকম হাতের লেখায় লিখে গেছে ও।

    ‘তোকে আমি ফিরিয়ে দেব নহর…’

    কখনও লিখতে লিখতে শব্দগুলো হারিয়ে গেছে। কোথাও আগে পরে হয়ে গেছে। তাও এই একটাই লাইন উপর থেকে নিচ অবধি লিখে গেছে আগমনী। সেই সঙ্গে অস্পষ্ট একটা মুখ আঁকার চেষ্টা।

    ‘নহর কে?’ পেছন থেকে জিগ্যেস করে অপরাজিতা।

    ‘আমি…আমি জানি না। আমার কিছু মনে পড়েছে না।’ আবার হাত দিয়ে নিজের মাথা চেপে ধরে আগমনী।

    জামার পকেট থেকে ছবিটা বের করে আনে অপরাজিতা, সেটা চোখের সামনে ধরে বলে, ‘এই ছবিতে তুই ছাড়া যে মেয়েটা আছে, সেই কি?’

    আগমনীকে উদ্‌ভ্রান্ত দেখায়, ‘আমি জানি না, আমি…আমি…’

    ওকে হাত তুলে থামিয়ে দেয় অপরাজিতা, ‘কাল ছবিটা পেলি আর কাল রাতেই কাণ্ডটা করলি, মানে দুটোর কিছু একটা লিঙ্ক আছে। ছবির মেয়েটার মুখটা এখনও চেনা লাগছে না তোর?’

    ‘না।’ লেখাগুলোর দিকে চেয়ে থাকতে থাকতেই বলে আগমনী, ‘নামটা কেন লিখলাম!…

    কিছুক্ষণ তেমন ভাবেই থম মেরে লেখাগুলোর দিকে চেয়ে থাকে ও। বাইরে দুপুরের ট্রাফিকের প্যাঁপোঁ আওয়াজ ভেসে আসে। একটা লম্বাটে চেহারার স্কুল বাস হর্ন দিতে দিতে রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলে যায়৷

    ‘তোরা আমাকে একটু একা থাকতে দিবি?’ কথাটা বলে দেওয়ালের একেবারে সামনেই বাবু হয়ে বসে পড়ে আগমনী। আগের মতোই ঠায় চেয়ে থাকে সেদিকে।

    কৌশিককে একটা চোখের ইশারা করে অপরাজিতা। ওরা দুজন বাইরে বেরিয়ে আবার বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। আগের হালকা হাওয়াটা আর বইছে না। ভিতরে রান্নাঘর থেকে মশলার ঝাঁঝালো গন্ধ আসছে। ভারি অস্বাস্থ্যকর হয়ে আছে পরিবেশটা।

    একটু আগের বিড়ালটাকে রেলিঙে দেখতে পায় অপরাজিতা। ভুরু কুঁচকে বলে, ‘বিড়ালটার কথা কী বলছিলি?’

    ‘বিড়ালটা ওর পোষা, তাও বাচ্চা দেওয়ার জন্য নতুন জায়গা খুঁজছে!’

    অপরাজিতার মুখের রেখাগুলো আরও খানিকটা কালো হয়ে আসে। একটা সিগারেট ধরিয়ে বলে, ‘ওকে যেভাবেই হোক একটা সাইকিয়াট্রিস্ট দেখানো দরকার।’

    ঠোঁট ওলটায় কৌশিক, ‘লাভ নেই। একবার বলেছে যখন কারো বাবার ক্ষমতা নেই, ওকে দিয়ে অন্য কিছু করাবে।’

    ‘আমার কিন্তু চিন্তাই হচ্ছে। একা একা থাকে…’

    ‘ফেসবুকে ওদের আলুমনিদের কোনও গ্রুপ আছে কিনা দেখ তো। ওদের ব্যাচের কাউকে যদি পাওয়া যায়…’

    ফোনটা বের করে স্কুলের নাম লিখে সার্চ করে অপরাজিতা। সারদামণি দেবী উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটা গ্রুপ পাওয়া যায়। তবে সেটার পোস্ট দেখে হতাশ হয়, ‘গ্রুপ তো হানাবাড়ি মনে হচ্ছে ভাই। দু-একটা গোঁফওয়ালা কাকা পোস্ট লাইক করেছে শুধু।

    ‘তাও একটা পোস্ট করে রাখ।’

    অপরাজিতা গ্রুপে পোস্ট করে, দু’হাজার নয়ের ব্যাচের কেউ আছিস? থাকলে পিং কর। আর্জেন্ট।

    সেদিকে একবার তাকিয়ে কৌশিক বলে, ‘এতে কোনও লাভ না হলে স্কুলে গিয়ে সেই সময়কার কোনও স্যার বা ম্যাডামকে খুঁজতে হবে।’

    Romance

    ‘তারা এন্টারটেইন করবে কেন আমাদের?’ কথাটা বলে কৌশিকের দিকে ফিরে তাকায় অপরাজিতা, ‘এই তোর সেই পাভেল না কী পুলিশের বড় র‍্যাঙ্কে আছে বলছিলি, তাকে দিয়ে একবার রেকমেন্ড করালে হয় না? আই মিন নিজেরা গেলে যদি পাত্তা না দেয়!’

    কৌশিককে ভাবুক দেখায়, ‘তাও হয়। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করাটাই সহজ উপায়। এক কাজ কর, ছবিটাই গ্রুপে পোস্ট করে দে। দেখ কেউ চিনতে পারে কিনা।’

    ‘তাতে লাভ হবে কী? ও যেরকম মেয়ে খুব একটা কারো সঙ্গে মিশত বলে তো মনে হয় না।’

    কৌশিক একটা মিচকে হাসি হাসে। কিছু বলে না৷

    ‘হাসছিস কেন শালা?’

    কৌশিক বাইরে তাকায়, ‘তুই কবে ফার্স্ট প্রেম করেছিলি অপু?’

    ‘স্কুলে, ক্লাস এইট মনে হয়। কেন?’

    জানলার গ্রিলে রাখা স্নেক প্লান্টের পাতায় হাত রাখে কৌশিক, ‘মেয়েরা যখন কিশোরবেলায় প্রথম প্রেমে পড়ে, তখন একটা আলাদা মানুষ থাকে। ফুলের বাগানে উড়ে বেড়ানো রঙিন প্রজাপতির মতো গায়ে বৃষ্টির গন্ধ থাকে, হাতে নরম ঘাসের স্পর্শ থাকে, পাহাড়ি ঝরনার মতো…তারপর সেই প্রেম ভেঙে যায়, নতুন প্রেম আসে। জীবনে সেকেন্ড, থার্ড, ফোর্থ প্রেমিক তার প্রেমিকার সেই পুরোনো রূপটাকেই খুঁজে যায় বারবার। সেই বৃষ্টি, ঘাস, ঝরনা…কিন্তু ততদিনে সে কেমন একটা পাথরের মতো হয়ে যায়…’

    ‘তোর ওকে পাথরের মতো মনে হত?’

    কাঁধ ঝাঁকায় কৌশিক, ‘কী জানি, তবে ওর সঙ্গে যে ক’টা দিন ছিলাম আমার মনে হত মণি একটা আলাদা মানুষ ছিল ছোটবেলায়। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছা হত ওর পুরোনো খেলনা নিয়ে বসে থাকি কিছুক্ষণ। ওর স্কুলের মাঠে হাঁটি, ওর প্রথম প্রেমিকের সঙ্গে গল্প করি, ওর ব্যাগের কোনায় পড়ে থাকা প্রেমপত্রগুলো পড়ি, ওর মায়ের খুন্তির বাড়ি খাই পিঠে…সেই মেয়েটাকে হয়তো সেভাবেই ছুঁয়ে ফেলব কিছুটা…’

    ‘চেষ্টা করিসনি?’

    ‘করেছিলাম। লাভ হয়নি। একটা পাথর দিয়ে যেন সুড়ঙ্গমুখ আটকে রেখেছিল ও।’

    ‘আর আজ আমাদের সেই সুড়ঙ্গটাই খুলতে হবে।’ কথাটা বলে নোটিফিকেশন চেক করে অপরাজিতা। একটা গোঁফওয়ালা কাকা কেয়ার রিয়াকশন দিয়েছে অকারণে। প্রোফাইলটা এক নজর দেখে নেয়, সাহিন আলি। নিউটাউনের কোন একটা গ্রামে থাকে যেন। বিরক্ত হয়ে কৌশিকের দিকে তাকায় অপরাজিতা। ছেলেটার চোখটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। অদ্ভুত ছেলে। মনের ভিতরে কী চলছে মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই।

    ‘তুই হঠাৎ ওর সঙ্গে প্রেমটা করতে গেলি কেন?’ হাসির ছলেই প্রশ্নটা করে বসে অপরাজিতা।

    ‘করতে চাইনি। কিন্তু…’ বারান্দার অন্য দিকে সরে আসে কৌশিক, ‘বাবা মারা যেতে সারাক্ষণ খুব ভয় লাগত।’

    ‘ভয়। কীসের?’

    ‘মৃত্যু জিনিসটা অদ্ভুত, জানিস। যতক্ষণ না তোর কাছের কেউ মারা যাচ্ছে মনে হয় মৃত্যু মঙ্গলগ্রহে থাকে। সে কোনওদিন তোর ধারে কাছে আসতেই পারে না। ওই সিনেমা টিনেমায় দেখা যায় বড়জোর। তারপর হুট করে একদিন এসে কাউকে টেনে নিয়ে চলে গেলে আর তাকে এলিয়েন ভাবা যায় না৷ তারপর রোজ তার সঙ্গে ঘর করতে হয়। মাঝরাতে কাউকে কাশতে শুনলে সে পেছনে এসে দাঁড়ায়, দু’দিনের ভাইরাল ফিভার হলে সে পাশে শুয়ে থাকে, সারাক্ষণ একটা বিচিত্র ভয়…’

    কয়েক সেকেন্ডের জন্য থামে কৌশিক, ‘একদিন রাতে ভয় লাগছিল খুব। ঠাম্মা আমার পাশে শুয়ে ঘুমাচ্ছিল। নিঃশ্বাসের আওয়াজটা খুব দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। মনে হচ্ছিল থেমে থেমে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। ঘুম আসছিল না। অনলাইন আছি দেখে ও পিং করল। বলল, ‘ফোন ধরে রেখে ঘুমিয়ে পড়, ঠাম্মার নিঃশ্বাসে কিছু গোলমাল হলে আমি ফোন কেটে রিং ব্যাক করে জাগিয়ে দেব।’

    ‘ব্যস? তাতেই প্রেমে পড়ে গেলি? ‘

    মিহি হাসে কৌশিক, ‘না, আশ্রয়ের নেশায় পড়ে গেলাম। শান্তিতে ঘুমানোর নেশায় পড়ে গেলাম। একটা বয়সের পর ওর থেকে বড় বদভ্যাস আর হয় না।’

    অপরাজিতার মনটা নরম হয়ে আসে, ধরা গলায় বলে, ‘কে জানে, এখন তোর উপর যতটা রাগ দেখায় ততটা আছে কিনা…

    আশেপাশে তাকিয়ে কী যেন দেখার চেষ্টা করে কৌশিক, তারপর বলে, ‘আগে এখানে অনেকগুলো পাখি আসত, জানিস? ও নিজে হাতে খাঁচা বানিয়ে রেখেছিল। এক একটা পাখির ছবি তুলে দেখাত আমাকে৷ নাম দিত তাদের। এখন বেড়াল ঘুরে বেড়ায় মানে পাখিগুলো আর আসে না।’

    ‘মণি পালটে গেছে, না?’

    ‘কাউকে আশ্রয় দেওয়ার ইচ্ছাটাও একটা অভ্যাসের মতো৷ পাখি হোক, কি মানুষ। এতদিনে ও মনে হয় সেটা কাটিয়ে ফেলেছে।’

    বারান্দার বাতাসটা যেন থমকে আছে অনেকক্ষণ। ঘরের ভিতর আগমনী এখন কী করছে কে জানে। তবে এই মুহূর্তে তাকে বিরক্ত করা উচিত হবে না।

    ‘ও যদি স্কুলে যায়, তুই যাস ওর সঙ্গে। ওখানে গিয়ে কিছু মনে পড়ে গেলে আবার হাইপারটেনশনে ভুগবে…’ অপরাজিতা মুখ তুলে বলে।

    ‘রাজি হবে না।’

    ‘রাজি করানোর দায়িত্ব আমার। শুধু একটা কন্ডিশন আছে।’

    ‘কী?’

    ‘আগের কোনও কথা তোলা যাবে না। প্রেম, চুমু, পাভেল, পানু, কোনও এক্সপ্ল্যানেশন, কিচ্ছু না। এটুকু তুই করলে আমি ওকে রাজি করাতে পারি।’

    কৌশিক কিছু বলে না। পকেটে ফটোটা ঢুকিয়ে রেখেছিল কিছুক্ষণ আগে। এতক্ষণে সেটা বের করে মুখের সামনে ধরে। কিছুক্ষণ এক মনে চেয়ে থাকে সেদিকে। হঠাৎ কী একটা দেখে ওর ভুরু কুঁচকে যায়। অপরাজিতার দিকে সরে এসে প্রশ্ন করে, ‘অপু, তুই ভালো করে দেখেছিস ছবিটা? ‘

    ছবিটা হাতে নিয়ে আবার দেখে অপু, গুনগুন করে বলে, ‘ভালো করে বলতে দেখেছি আর কী! কিন্তু…’

    ‘আলাদা করে কিছু চোখে পড়েনি?’

    ‘কী?’ অপু ছবিটা কাছে এনে ভালো করে দেখে। ধীরে ধীরে ওর ভুরুদুটো কুঁচকে গিয়ে আবার সোজা হয়ে যায়। বিড়বিড় করে বলে, ‘অদ্ভুত তো, ব্যাপারটা এত সহজে বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু ও দেখতেই পেল না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে
    Next Article কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }