Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    সায়ক আমান এক পাতা গল্প343 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – ৯

    নবম অধ্যায়

    গভীর ঘুমে ঢলে পড়েছিল আগমনী। সন্ধেবেলা ওর ফ্ল্যাটের ঠিক বাইরে একটা হলদে আলো জ্বলে। কাচের জানলা দিয়ে বিছানার উপর এসে পড়ে সেটা। এখন চোখ খুলতেই আলোটাকে বড় বেশি উজ্জ্বল মনে হল। মাঝেমাঝে অফিসে থাকতে আগমনীর মনে পড়ে আলোটার কথা। হয়তো ওর ফাঁকা ফ্ল্যাটের বিছানায় এসে শুয়ে আছে আলোটা। ওর বালিশের উপর মাথা রেখে ভাবছে কখন ও ফিরবে। কখন দরজা খোলার আওয়াজ শুনতে পাবে।

    মাঝে মাঝে এসব ভাবনায় নিজেই হেসে ফেলে ও। তাও বাড়ি ফিরে বিছানার চাদরে পড়ে থাকা আলোটার উপর হাত বুলিয়ে দেয়। কোনওদিন ক্লান্ত শরীরে জামাকাপড় না খুলেই সটান শুয়ে পড়লে আলোটাও ওর বুকের উপরে ঘুমিয়ে পড়ে। কখনও মনে হয় আলোটাই হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ওর মাথায়।

    আজ হাত বাড়িয়ে সেটাকে ধরার চেষ্টা করল আগমনী, কিন্তু তার আগেই ওর আঙুল ছুঁয়ে মিলিয়ে গেল আলোটা। ঘরে অন্য লোক আছে বুঝেই যেন জানলা গলে পালিয়ে গেল।

    আশেপাশে তাকিয়ে বিছানার উপর ধড়ফড় করে উঠে বসতে যেতেই একটা হাত ওর মাথার উপর দিয়ে থামিয়ে দিল কেউ। স্পর্শটা চেনা লাগল আগমনীর।

    ‘শুয়ে থাক, উঠিস না এখন! অপরাজিতার গলা।

    ‘কী…কী হয়েছে আমার?’ চোখে ঝাপসা দেখে আগমনী। শম্পা বসে আছে ওর একপাশে। আর কেউ নেই ঘরে। মাথার ভিতরে একটা তীব্র ঝিমঝিমে ব্যথা। বুকে হাত রেখে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। ক’টা বাজে এখন?’

    ‘ডাক্তারবাবু তোমাকে উঠতে বারণ করেছে।’ শম্পার গলা শোনা যায়।

    ‘কৌশিক? ও কোথায় গেল?’

    ‘কাল থেকে সারাদিন এখানেই পড়েছিল। আজ আমি বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। সন্ধেবেলা আবার আসবে।’ অপরাজিতা ওকে শান্ত করার চেষ্টা করে, ‘গাড়িতে আসতে আসতে আবার তোর নার্ভাস ব্রেক ডাউন হয়। এখন কোনও চাপ নেই৷ জাস্ট রেস্ট নে কয়েকটা দিন।’

    ‘তোমার শরীর এখন কেমন লাগছে দিদি?’ শম্পার হাতের স্পর্শে জলের ছোঁয়া লাগে ওর কপালে। ঘুম ভাঙার পর আচমকা ধড়ফড়ানিটা কমে এসেছে এতক্ষণে।

    মাথার চুল খামচে ধরে আবার ছেড়ে দেয় আগমনী, ‘ঠিক আছি এখন নর্থ বেঙ্গল যাবার কথা ছিল…’ মাথার ভিতর সমস্তটা সাজিয়ে নিতে সময় লাগে ওর, ‘কৌশিককে একটা ফোন করতে হবে, আমার ফোন…

    ‘আপাতত তোর শুধু রেস্ট নেওয়ার কথা। আমি অফিসে বলে দিয়েছি, ম্যানেজ হয়ে যাবে।’

    বিছানা ছেড়ে ওঠার চেষ্টা করে আগমনী। পরক্ষণেই গা গুলিয়ে ওঠে। গলার ভিতর থেকে বমি উঠে আসে। কপালটা চেপে ধরে বিছানাতেই বসে পড়ে আবার, ‘আমার মাথাটা…’

    এগিয়ে এসে ওকে ধরে নেয় শম্পা। অপরাজিতার মুখ লাল হয়ে ওঠে। পাশে বসে বলে, ‘তুই এগুলো কী পাগলামি শুরু করেছিস বল তো?’

    ‘পাগলামি?’ মাথাটা চেপে ধরে বিড়বিড় করে আগমনী।

    ‘নয়? আজ তিনদিন হল অফিসকাছারি ফেলে, খাওয়া ঘুম ফেলে সারাক্ষণ একটা ছবির পেছনে লেগে রয়েছিস। কী, ছোটবেলার হারানো বন্ধুদের খুঁজে বের করতে হবে। আদৌ তারা এ দেশে আছে কিনা জানিস না, সত্যি বন্ধুত্ব ছিল কিনা জানিস না, থাকলেও তোকে মনে রেখেছে কিনা জানিস না…’

    ‘তোর কীসের এত সমস্যা হচ্ছে?’ মাথার ব্যথাটা বেড়ে উঠেছে আগমনীর। কপাল চেপে ধরেই সে বলে।

    ‘আর কার সমস্যা হচ্ছে ভাই?’ অপরাজিতার গলা নরম হয়ে আসে, ‘তোর সমস্যায় আমি ছাড়া আর কার যায় আসে?’

    ‘দরকার নেই কারো।’ কপালে হাত বোলাতে বোলাতেই বলে আগমনী, ‘আমার লাগবে না কাউকে।’

    ‘এই চারজনের সঙ্গে যদি তোর প্রাণের বন্ধুত্বও থাকত না, তাহলে আজ এই ফ্রাস্ট্রেটেড ইগোইস্টিক মানুষটাকে দেখলে হতাশ হত তারা।’ ওর মাথায় হাত রাখে অপরাজিতা, নরম গলায় বলে, ‘তুই একটা ক্রাইসিসে ভুগছিস। তোর বর্তমান অবস্থাটাকে মেনে নিতে পারছিস না৷ আমি জানি, মানিয়ে নেওয়াটা সহজ নয়। কিন্তু তুই নিজের মধ্যে নেই মণি।’

    ‘কতদিন?’ টেবিলের পাশে পড়ে থাকা জলের বোতলটা তুলে নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে।

    ‘কতদিন মানে?’

    ‘কতদিন আমি নিজের মধ্যে নেই? একমাস? দু’মাস? পাঁচ বছর?’ উঠে দাঁড়ায় আগমনী, ‘আজ পনেরো বছর হয়ে গেল আমি বদলে গেছি। ঠিক আছে। তাতেও চাপ নেই, কিন্তু আমি জানি, এই বদলে যাওয়া মানুষটা আমি নই অপু এই স্বার্থপর, হতাশ, জীবনের সব ক্ষেত্রে হেরে গিয়ে শুধু পয়সার পেছনে ছুটে বেড়ানো মানুষটা আমি নই।’

    ‘ওটা আমাদের বড় হওয়ার একটা পার্ট মণি…’ অপরাজিতার গলা মৃদু হয়ে আসে, ‘আমাদের হাসিখুশি রোদ ঝলমলে দিন, দুর্গাপুজোয় ক্যাপ ফাটানোর দিন, নতুন গল্পের বই আর বোকা বোকা প্রেমের দিন হাত থেকে কেড়ে নিয়ে কে যেন পয়সা, ‘কর্পোরেট ল্যাডার আর ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের দিন হাতে ধরিয়ে দেয়। আমাদের স্বার্থপর হওয়া ছাড়া, হেরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না… কী করবি বল?’

    ‘জঙ্গলে চলে যাব শালা… সজোরে ঝাড়া মেরে বিছানা থেকে উঠে পড়ে আগমনী, ‘আমার কেউ নেই, আমি জঙ্গলে চলে যাব…

    অপু হাসে, ‘বাঙালি ওসব ভাবে মাঝে মাঝে। জঙ্গলে চলে যাব, পাহাড়ে বাড়ি বানাব, বরফের দেশে ইগলু বানিয়ে থাকব। পারে না, তার কারণ এই কনসেপ্টে একটা গোলমাল আছে৷ বাঙালি ভাবে সংসার ছেড়ে দিলে হয়তো শান্তি পাওয়া যাবে, বাট ফ্যাক্ট ইজ, সেই লেভেলের শান্তি মনে না থাকলে সংসার ছাড়া যায় না।’

    ‘আমার ছাড়বার মতো সংসার কই?’

    অপুর হাসিটা এবার আরও চওড়া হয়, ‘জ্ঞান ফেরার পর সবার আগে কার খোঁজ করেছিলি মনে আছে?’

    ঠোঁট ওলটায় আগমনী, ‘ওর প্রতি আমার আর কোনও ফিলিংস নেই। জাস্ট এদিক-ওদিক দৌড়ে বেড়াতে হয়…তাছাড়া…’

    ‘কী?’

    আগমনী হাসে, ‘ছেলেটা অত বোঝে ফোঝে না। একটু ক্যাবলা টাইপের। তাই মেজাজ গরম থাকলে ওর ওপর বের করা যায়। সেটা মন্দ লাগে না…’

    ‘বি কেয়ারফুল মাই লেডি…’ ভুরু কুঁচকে বলে অপু, ‘যে কোনও সময় বিপদ ঘটতে পারে।’

    ‘কীসের বিপদ?’

    অপু পকেট থেকে বের করে একটা সিগারেট ধরায়, ‘এই ধর, কুড়ির পর থেকে মেয়েদের আর হাইট বাড়ে না, রাগ বাড়ে। চতুর্দিকের সব কিছুতে হতাশ হয়, নয়তো রেগে যায়। এই জমা হওয়া রাগ মেয়েরা হাতের কাছে যাকে পায় র‍্যান্ডম বের করতে থাকে। একটু একটু করে সেই র‍্যান্ডম কেউ পার্টিকুলার কেউ হয়ে যায়। তারপর দিনের পর দিন সেই নিরস্ত্র ইন্দ্রজিৎকে বাণ মারতে মারতে অজান্তেই কখন বিভীষণের মনে সহানুভূতি জন্মায়। আর সেটাই তার কাল হয়…’ সিগারেটে আর একটা বড় টান দেয় অপু, ‘কুড়ি বাইশ পেরিয়ে যাওয়া মেয়েদের পটানো খুব সহজ। বুদ্ধি করে তার গোপন রাগের জায়গাটা খুঁচিয়ে দিয়ে কাঁচুমাচু মুখ করে বসে থাকো। এ জিনিস রোজ সকাল বিকেলে করতে পারলেই কেল্লা ফতে!’

    আগমনী কী যেন ভাবে। তারপর বলে, ‘মানে তুই বলতে চাইছিস ওকে রাগ দেখানো আমার উচিত হচ্ছে না?’

    ওর কাঁধে হাত রেখে ওকে বিছানায় শুইয়ে দেয় অপু, ‘আমি বলতে চাইছি তোর আপাতত রেস্ট দরকার। যা ভাবার গেদু আসার পর ভাবা যাবে। এখন শুয়ে পড় দেখি…’

    শম্পা বালিশটা ওর মাথার নিচে টেনে দেয়। আগমনী বাধ্য মেয়ের মতো আবার শুয়ে পড়ে বিছানায়। মাথার ঝিমঝিম ভাবটা সকালের হ্যাংওভারের মতো লেগেই রয়েছে। অবশ্য মাঝে মাঝে মনে হয় জীবন নিজেই কখনও কখনও হ্যাংওভার দিয়ে প্রমাণ করতে চায়, বেঁচে থাকাটাও একরকমের নেশা। সেটা মাত্ৰা বুঝে করতে হয়। যতটা দিয়েছে ততটা নিয়ে খুশি না থাকলে, যতটা কেড়ে নিয়েছে সেটা মানিয়ে না নিলে, ফেলে আসা সময়ের, যত্নের, স্নেহের খোঁজে অবেলায় বেরিয়ে পড়লে সে বুঝিয়ে দিতে চায় কাজটা ঠিক হয়নি।

    আজকাল চোখ বন্ধ করলেই চারটে বন্ধুর মুখ চোখের সামনে ভেসে ওঠে আগমনীর। গেল কোথায় ছেলে-মেয়েগুলো? ওদের কাছে কি কিছু রাখতে দিয়েছিল আগমনী?

    ঘরে উপস্থিত দুজন বাইরে বেরিয়ে যায়। আর সেই সুযোগে আলোটা আবার এসে পড়ে ওর বুকের উপর। ধীরে ধীরে সেই আলোর গায়ে হাত বুলিয়ে দেয় আগমনী। হাত বুলিয়ে দিতে দিতে হ্যাংওভারটা কমে আসে…

    বিকেল শেষ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। বারান্দার বিড়ালটা আজ রেলিঙের একদিকে ঘটি হয়ে বসে নিচের দিকে তাকিয়ে এক মনে কী যেন দেখে চলেছে। হাতের সিগারেটটা ঝাঁকিয়ে বাইরে ছাই ফেলে অপরাজিতা। শম্পার মুখে অনেকক্ষণ ধরে একটা প্রশ্ন ঝুলে ছিল, সেটাই করে বসে, ‘দিদির কী হয়েছে অপুদি?’

    অপুর মুখে ছায়া ঘনিয়ে আসে, ‘সব সিমটম শুনেটুনে ডাক্তার বলল অ্যালজাইমার্স সেট ইন করার প্রাইমারি স্টেজ হতে পারে। ভুলে যাওয়ার রোগ…’

    ‘মানে?’ শম্পাকে উদ্বিগ্ন দেখায়।

    ‘মানে ধর, ওর যত বয়স বাড়বে তত ও সব ভুলে যেতে থাকবে। লোকের নাম ধাম, পরিচয়, ঘটনা। জিনিসটা সবারই হয়, ওর ক্ষেত্রে একটু অল্প বয়সে…।’

    ‘মানে আমাকেও চিনতে পারবে না? ‘

    করুণ হাসি ফোটে অপুর মুখে, ‘তুই তো কাছেই থাকিস, রোজ একবার করে এসে চিনিয়ে দিস।’

    বারান্দার মেঝের উপর সার বেঁধে রাখা গাছের টবের দিকে চেয়েছিল শম্পা, হঠাৎ বলে, ‘ওই জন্যই মনে হয় দিদি মাঝে মাঝে কিছু কথা ভুলে যায়।’

    ‘কীরকম কথা?’ অপু ভুরু কুঁচকে তাকায় ওর দিকে।

    শম্পা একটু ভেবে বলে, ‘দিদি ছাড়াও ঘরে কেউ আসে। আমি তো সারাদিন থাকি না, তাই জানতে পারি না। কিন্তু জিগ্যেস করলে বলে কেউ আসেনি সারাদিন।’

    ‘আসে যে সেটা তুই জানলি কী করে?’

    ‘চোখে পড়ে। জানলায় কার যেন হাতের ছাপ থাকে, ঘরে একটা গন্ধ…।’

    ‘বটে। আর?’

    ‘মাঝে মাঝে বারান্দায় এসে দেখি টবের মাটি ভিজে। গাছগুলোতে কেউ জন্ম দিয়েছে। বৃষ্টি হলে হতে পারে, কিন্তু না হলে তো হওয়ার কথা না। দিদিকে জিগাস করলে বলে দেয়নি…এদিকে…’

    অপরাজিতা কিছু বলে না। টবের গাছগুলোর দিকে তাকায়। শেষ বিকেলের আলোয় সবুজ রং মরে আসছে।

    ‘বেড়ালটা আগে যখন তখন ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ত। আমি মাঝে মাঝে বারান্দায় ভাগিয়ে দিতাম। কিন্তু এখন ঘরের ভিতরে খেতে দিলেও আসতে চায় না।’ শম্পা বিড়ালের দিকে তাকিয়ে বলে।

    ‘এটার সঙ্গে তো ভুলে যাওয়ার সম্পর্ক নেই…’ অপু কী যেন ভেবে বলে, ‘জানলায় হাতের ছাপ কবে দেখেছিস?

    ‘মাঝে মধ্যেই দেখি। এই তো আজই ছিল। এসো না, দেখাচ্ছি।’

    সিগারেটটা জানলার বাইরে ফেলে দিয়ে ভিতরের ঘরে ঢুকে আসে ওরা। আগমনী আপাতত পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছে। হলুদ ডোরাকাটা একটা টি-শার্ট আর হাফপ্যান্ট পরে আছে ও। ওর ঘুম পাতলা। পায়ে কোনও শব্দ না করে দুজনের জানলার কাছে এসে দাঁড়াল।

    অপরাজিতা ঝুঁকে পড়ে দেখার চেষ্টা করে। হাতের ছাপটা খুব একটা বড় নয়। জানলার ওপাশে কেউ হাত রাখার ফলে কিছুটা অংশের ধুলো সরে গেছে। সেই আউটলাইনটুকু ছাড়া আর কিছুই বোঝা সম্ভব নয়।

    হঠাৎ একটা ব্যাপার চোখে পড়ে অপুর। হাতের আউটলাইনটা পারফেক্ট নয়। কড়ে আঙুলের পাশে অতিরিক্ত খানিকটা জায়গার ধুলো সরে গেছে। হ্যাঁ, অনামিকাতেও তাই। মধ্যমার পাশেও খানিকটা যেন বেঁকে গেছে লাইনটা। হাতটা তুলে নেওয়ার সময়ই কি….কিন্তু তাহলে তো একদিকেই বাঁকবে সব ক’টা লাইন… দুদিকেই বেঁকেছে মানে…

    চকিতে শম্পার দিকে ফেরে অপু, ‘এটা একটা হাতের ছাপ নয়। অপরাজিতার গলা থমথমে শোনায়, ‘একটা হাতের উপরে আরও একজন হাত রেখেছিল…’

    কৌশিক যখন বাড়ি ফিরল তখন দুপুর নামতে শুরু করেছে। গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় ঘুম হয়নি ওর। শরীরটাও ভয়ানক ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। মাথার ভিতরে একটা ঝিমঝিম ব্যথা৷

    বাড়িতে ঢুকে একবার স্নান করা দরকার। ভিতরের ঘর থেকে টিভির আওয়াজ আসছে। সাবিত্রী সম্ভবত সিরিয়াল দেখছেন এখন। অকারণেই ঠাম্মার মুখটা একবার দেখে স্নানে যেতে ইচ্ছে করল কৌশিকের।

    সাত-পাঁচ ভেবে আগে ঠাম্মার ঘরেই ঢুকে এল সে। ঠিক পাঁচটায় টিভিতে কী একটা সিরিয়াল শুরু হয়। সেটাই দেখছেন বৃদ্ধা৷ কৌশিক তার পাশে গিয়ে বসতে একটু সরে বসলেন সাবিত্রী। হাত দিয়ে সোফাতে পাশের জায়গাটা দেখিয়ে দিলেন, ‘বোস, খাবার ফ্রিজে রাখা আছে। গরম করে…’

    ‘আমি বাড়ি ফিরলেই সবার আগে খাবারের কথা বলো কেন?’ কৌশিক মৃদু গলায় অনুযোগ করে।

    ‘ছেলেপুলে বড় হলে অন্য ঝঞ্ঝাট ঝামেলার কথা কি মা বাপেরা বোঝে খাবারটুকুনি বোঝে, তাই ওটাই বলে বারবার।’

    কৌশিকের শরীর ঝিমিয়ে আসছিল, ঠাম্মার কোলেই মাথা রেখে শুয়ে পড়ে সে, ‘নিজেকেও একটু বোঝাও এবার, কবে থেকে বলছি, ডাক্তার বলেছে ছানির অপারেশনটা করিয়ে নাও…’

    ‘ময়নার মাও তো বলে নাতিটার একটা বিয়ে দিতে, আমি কান দিই? যতদিন তুই ডাক্তারের কথা শুনবি না ততদিন আমি ময়নার মায়ের কথা শুনব না।’

    কৌশিক এবার হেসে ফেলে। দু’হাতে ঠাম্মার কোমর জড়িয়ে ধরে, ‘তোমার আগমনীর কথা মনে আছে ঠাম্মা, কলেজে…’

    ‘সেই যে লম্বা করে মেয়েটা?’

    ‘ওর একটা রোগ হয়েছে। জানো, ছোটবেলার কথা ভুলে যাচ্ছে সব। আস্তে আস্তে সব ভুলে যাবে…’

    সাবিত্রীর মুখটা ঝুলে আসে, ‘আমারও তো কই মনে পড়ে না ছেলেবেলার কথা। তোর বাবার কথা পড়ে অবশ্য, তোর মায়েরও। তাও সব ফিকে হয়ে গেছে…’ তারপর নরম হাসি ফুটিয়ে বলেন, ‘একেবারে ভুলে গেলে আমার কাছে চলে আসতে বলিস। দুই ভুলো বুড়ি একসঙ্গে টিভি দেখব…’

    ঠাম্মার চোখ থেকে চশমাটা খুলে নিল কৌশিক। সেটা নিজের জামায় মুছতে মুছতে বলল, ‘চশমায় এত দাগ লেগে থাকে, দেখো কী করে?’

    ‘রোজ পরতে পরতে আর অসুবিধা হয় না। তাছাড়া, এই বয়সে যত না দেখি তত ভালো। ভালো কথা, তোকে উল এনে রাখতে বলেছিলাম, আনিসনি? জিভ কাটে কৌশিক, ‘দৌড়াদৌড়িতে একদম ভুলে গেছি। আজ রাতে এনে দেব, শিওর।’

    ঠাম্মার এই স্বভাবটা ছোট থেকে দেখে আসছে কৌশিক। সময় পেলেই ছাদে বসে উল বুনত ঠাম্মা। এখন বয়স হয়ে চোখের দৃষ্টি কমে আসতে খানিক বাধ্য হয়েই সে শখ ছাড়তে হয়েছে। তবে দিন কতক আগে আবার বায়না ধরেছেন তিনি। সামনে শীতকাল আসছে, কৌশিকের জন্য একটা সোয়েটার বানাবেন। উল বাকি থেকে গেলে একটা টুপি বানিয়ে দেবেন।

    কিছুক্ষণ সেভাবেই বসে থেকে উঠে পড়ে কৌশিক। স্নান করে খেয়ে নিতে হবে। ময়নার মা একটু পরেই চলে আসবে। তাকে ঠাম্মার পাশে রেখে বেরোতে হবে ওকে। পথে ঠাম্মার রিপোর্টগুলো তুলে নিতে হবে।

    বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাতিবাগানের আরসালনের মাটন বিরিয়ানি আর চিজ কাবাব তুলে নিল কৌশিক। তারপর বাইক ছুটিয়ে দিল আগমনীর ফ্ল্যাটের উদ্দেশে।

    সন্ধে আটটার দিকে আগমনীর ফ্ল্যাটে পৌঁছায় কৌশিক। ততক্ষণে অপরাজিতা বেরোনোর তোড়জোড় করছে। শম্পা কাজকর্ম সেরে বেরিয়ে গেছে বিকেলে।

    ‘ও কোথায়?’ অপুকে বসার ঘরে দেখতে পেয়ে জিগ্যেস করল কৌশিক।

    ‘ছাদে গেছে, বলল হাওয়া খেয়ে আসছে।’

    ছাদের দিকে পা বাড়াতে যাচ্ছিল, অপরাজিতা থামিয়ে দিল তাকে৷ সোফা ছেড়ে উঠতে উঠতে বলল, ‘গেদু শোন…

    অপরাজিতার গলায় স্বাভাবিকের থেকে গম্ভীর শোনায়। কৌশিক মনে মনে প্রমাদ গোনে। আবার বড়সড় মোনোলগ ঝাড়বে।

    ‘তোকে একটা কথা বলার ছিল।’

    ‘বল?’

    ‘দেখ, আমার পক্ষে কাজকর্ম ফেলে মাঝেমধ্যে এখানে এসে পড়ে থাকা সম্ভব নয়।’

    ‘সেটা ওকে বল, আমাকে বলছিস কেন?’

    অপু এগিয়ে আসে ওর দিকে, ‘ও আগে থেকেই জানে। না জানলে নিজের একটু যত্ন নিত।’

    কৌশিক কাঁধ ঝাঁকায়, ‘ঠিক আছে, আমার এক্স আমাকেই বুঝে নিতে হবে। তুই দূর হ এখন।

    অপু চোখমুখের উদ্বিগ্ন ভাবটা ঝেড়ে ফেলে, ‘গ্রো আপ গেদু। একটা মানুষের সঙ্গে প্রেম করা, লয়াল থাকা, মাঝে মধ্যে ফুল টুল দেওয়া, বিরিয়ানি খাওয়ানো, এদিক-ওদিক ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার থেকে খারাপ সময়ে তাকে সামলানো অনেক বেশি কঠিন কাজ। প্রথমটাতেই ডাহা ফেল করে বসে আছিস, পরেরটার ক্যান্ডিডেট লিস্টে একেবারে শেষে নাম এসেছে…তোকে আমি কী করে বিশ্বাস করি?’

    হাতে ধরা খাবারের প্যাকেটটা তুলে ধরে কৌশিক, ‘বিশ্বাস করতে হবে না, আমি খাবারগুলো দিয়েই চলে যাব।’

    অপু হাসে, ‘সেটাই বলছি। খাবারগুলো দিয়ে চলে যাস না। ওর খাবার যতটা দরকার তার থেকে বেশি খাবারগুলো দিয়ে চলে না যাওয়া একটা মানুষ দরকার। তুই কবে বুঝবি সেটা?’

    ইদানীং কৌশিকের মনে হয় আগমনীর ফ্ল্যাটের সবক’টা আলো একসঙ্গে লো-ভোল্টেজ হয়েছে। উজ্জ্বল হয়ে আর কোনওটাই জ্বলে না। সারাক্ষণ এক বিচিত্র বিষণ্ণতা ঘিরে রাখে জায়গাটাকে। তার মধ্যে অপরাজিতার মুখের আলোআঁধারি বাতাসকে আরও ভারী করে তুলেছে যেন।

    আমি ইয়ার্কি মারছি না গেদু। মণি আমার অনেক দিনের বন্ধু। সত্যি চিন্তা হয় ওকে নিয়ে। খেয়াল রাখার মতো কেউ নেই। আমি না থাকলে….

    কৌশিকের অস্বস্তিটা বেড়ে ওঠে। ও উত্তর দেয় না, অপু আর একটু এগিয়ে আসে ওর দিকে, ‘তুই ভালো রাখতে পারবি ওকে? এক্স-টেক্স বলে না, সুস্থ হয়ে গেলে আবার রাতে খাট কাঁপিয়ে সেক্স হবে বলে না, তুই নিজে একটা বেটার হিউম্যান বিয়িং হতে পারবি বলে না, ওর আর কেউ নেই বলে না, আমি বলছি বলেও না…জাস্ট ও ভালো থাকলে তোর ভালো ঘুম হবে বলে?’

    কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকে কৌশিক। তারপর হাতের উলটোদিক দিয়ে নাকের ডগা ঘষে নিয়ে ধীরে ধীরে বলে, ‘যদি খাট কাঁপিয়ে রাতে সেক্স হয়, তাহলে ভালো ঘুম হবে কী করে?

    অপরাজিতার মুখ রাগে লাল হতে যাচ্ছিল। খিস্তি করতে যাচ্ছিল। তার আগেই ওর গালে হাত রাখে কৌশিক, ‘চিন্তা করিস না। আমি আছি।’

    ‘দূর হ শালা ছোটলোক!’ পেটে ধাক্কা মেরে ওকে সরিয়ে দেয় অপরাজিতা।

    ছাদে এসে আগমনীকে দেখতে পায় কৌশিক। একদিকের সিমেন্টের পাঁচিল ধরে দাঁড়িয়েছিল আগমনী। কৌশিক যে ছাদে এসে পৌঁছেছে খেয়াল করেনি। একটু আগে অপুর মুখ থেকে ডাক্তারের কথাটা শুনেছে আগমনী। শুনেটুনে একটা বিচিত্র অনুভূতি হয়েছে ওর। নিজের মাথাটাকে একটা ব্যাঙ্কের ভল্ট বলে মনে হচ্ছে। তার ভিতর থেকে মিস্টার ইন্ডিয়ার মতো অদৃশ্য কোনও আততায়ী এসে একটা একটা করে নোট চুরি করে নিয়ে চলে যাচ্ছে। আগমনী ভাবার চেষ্টা করল ঠিক কোন ভল্টে সব থেকে দামি নোটগুলো আছে। ওর মাথায় কিছু এল না। শুধু নীচতলার কার্নিশ থেকে সাদা বিড়ালটা ডেকে উঠল একবার।

    ছাদে উঠে কৌশিক ধীর পায়ে ওর পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়, ‘শুনলাম তোর মাথা খারাপ হয়েছে?’

    আগমনী মুখে কিছু বলে না। ওর দিকে না ফিরেই আলগা হাসে।

    ‘ভাগ্যিস মাথা খারাপ হয়েছে, পেট খারাপ হয়নি। তাহলে ভালো মন্দ খাওয়া বন্ধ হয়ে যেত…’ কথাটা বলে হাসে কৌশিক, ‘তোর জন্য মাটন বিরিয়ানি আর কাবাব এনেছি ভাই, নীচে রাখা আছে, চল।’

    আগমনী কানের পাশে উড়ন্ত চুল গুঁজে নরম গলায় বলে, ‘উঁহু। কোলেস্ট্রল বেশি এসেছে, মটন বন্ধ।

    জিভ দিয়ে চুকচুক করে শব্দ করে কৌশিক, ‘এহ্, হার্টের কথা ভেবে তুই পাঁঠা খাচ্ছিস না জানলে পাঁঠাটা খুব হার্ট হতো!’

    হেসে ফেলে আগমনী, তারপর আদুরে গলায় বলে, ‘আচ্ছা খাইয়ে দে, তাহলে খাব।’

    এক ছুটে নীচ থেকে বিরিয়ানিটা নিয়ে আসে কৌশিক। তারপর আলুটা ভেঙে ওর মুখের সামনে ধরে। আগমনী সেটা চিবতে চিবতে বলে, ‘দুর্গাপুজো আসছে? নারে গেদু?’

    ‘হ্যাঁ, এই তো দু’মাস পরে।’

    বাইরের দিকে তাকিয়ে আগমনীর মনটা উদাস হয়ে যায়, ‘এবার আমার একটাও জামা হয়নি। আগে দুর্গাপুজো এলে নতুন জামা হত, এখন মন খারাপ হয়ে যায়।’

    ‘আচ্ছা তোকে একবার ঠাকুর দেখতে নিয়ে যাব…’ নিজের মুখে বিরিয়ানি তুলতে তুলতে বলে কৌশিক, ‘অষ্টমীর দিন ভিড়ে গুঁতোগুঁতি করে ঠাকুর দেখব।’

    ‘ধুর, আমার অত ভিড় ভালো লাগে না। দুটো দেখে পালিয়ে আসব…’ অন্য প্রসঙ্গে চলে যায় আগমনী, ‘এই বাংলা ঋতুর নামগুলো কী আদুরে ছিল, না? হেমন্তকাল, শরৎকাল, বসন্তকাল…শুনলেই মনে হত গ্রামের বাড়ির কোনও আমুদে দাদু মাথায় গামছা দিয়ে একগাদা ফলমূল, সোয়েটার আর পান্তুয়া নিয়ে বাড়ি আসছে যেন। এখন এই উইন্টার সামারের মধ্যে সেই আদর কোথায়?’

    ‘আমার ঠাম্মাকে উল কিনে দিয়েছি। একটা সোয়েটার বুনছে, জানিস? ওটা শেষ হলে তোকে দিয়ে দেব।’

    মৃদু হাওয়া খেলে যায় ওদের শরীর বেয়ে। বর্ষাকাল এখনও যায়নি। দূরে কোথাও বৃষ্টি হয়েছে। ঠান্ডা জোলো হাওয়া ভেসে আসছে থেকে থেকে৷ গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে নিয়েছে আগমনী।

    ‘ঠাম্মা কেমন আছে?’ সে জিগ্যেস করে।

    ‘ভালো আছে। ঠাম্মাকে তোর কথা বলছিলাম৷’

    ‘কী বললি? মেয়েটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে?’

    কৌশিক হাসে, ‘নাহ্, ঠাম্মা রিলেট করতে পারে তোর সঙ্গে। মানুষ কৈশোর, যৌবন, মধ্যবয়স সব মানিয়ে নেয় মোটামুটি। শুধু বার্ধক্যটা পারে না। তুই মিডল এজের আগেই হাঁফিয়ে গেছিস।’

    আগমনী উত্তর দেয় না। আগের মতোই নীচে পড়ে থাকা শহরের দিকে চেয়ে থাকে একটানা।

    ‘কী ভাবছিস বল তো?’ কৌশিক জিগ্যেস করে।

    আগমনী মুখ ফিরিয়ে নেয়। ছাদের আর একটু ভিতরের দিকে সরে আসে, গায়ের চাদরটা ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে মিহি গলায় বলে, ‘তোর মনে আছে গেদু, একদিন তুই আমায় বলেছিলি, আমি যা চাইব তাই দিবি?’

    ‘তখন বন্ধু ছিলাম, পটানোর জন্য বলেছিলাম।’

    আগমনী হাসে। রসিকতার মেজাজটাকে সযত্নে সরিয়ে রাখে। আগের মতোই মৃদু স্বরে বলে, ‘কয়েকটা বন্ধু খুঁজে দিবি আমাকে?’

    ‘সেই চেষ্টাতেই আছি তো সোনা। একটা নয় চারটে বন্ধু।’

    আগমনী কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে, ‘কী জানি, অপু বলছিল, এমনও হতে পারে আদৌ ওই চারজন আমার বন্ধু ছিলই না। জাস্ট একটা ফটো তুলেছিলাম। কিন্তু…’

    ‘কিন্তু কী?’

    আগমনীর মুখে একটা বিচিত্র হাসি খেলে যায়, ‘ওই চারজন বন্ধু ছিল কিনা জানি না। তবে একজন ছিল মনে আছে। তাকে হারিয়ে ফেলেছি তাও মনে আছে।’

    ‘কে?’

    ‘তুই…’

    বাঁকা হাসি হাসে কৌশিক, ‘আমার বন্ধুত্বটা এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমি জানতাম না। আমার কোনওদিন মনে হয়নি আমি ভালো বন্ধু হতে পারি বলে…’

    ‘বন্ধু হবার ওটাই মজা গেদু। ভালো হতে হয় না। বয়ফ্রেন্ডকে ভালো হতে হয়, সন্তান হলে বাবা-মা’র মুখ উজ্জ্বল করতে হয়। ভালো স্ত্রী, ভালো ভাইবোন হতে হয়। শুধু বন্ধু হলে ভালো হওয়ার দায় থাকে না। জাস্ট বন্ধু হলেই চলে…’

    কৌশিক উত্তর দেয় না। দুজনের মাঝে বেশ খানিকটা নিস্তব্ধতা মাথা গুঁজে থাকে। একসময় রেলিঙের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় কৌশিক। মনে হয় বহু দূর থেকে ভেসে আসে তার গলা, ‘আমাকে ভালোবেসেছিলি বলে আফসোস হয় না তোর?’

    ‘উঁহু, ভালোবাসার আগে দুম করে একদিন চুমু খেয়ে ফেলেছিলাম বলে আফসোস হয়। তারপরে নিজের কাছে আর এটা স্বীকার করতে পারিনি যে ঝোঁকের মাথায় একটা বন্ধুকে চুমু খেয়ে ফেলেছি। ছোট থেকে কেউ পবিত্র, দাগহীন, সতীলক্ষ্মী নারীর আইডিয়াটা মাথার মধ্যে বুনে দিয়েছিল। সেটাকে দাঁত কামড়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। নিজেকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেছি বারবার যে তোকে আমি ভালোবেসেছি বলে চুমু খেয়েছি। নিজের এই অন্যায়টা স্বীকার করতে পারিনি যে আমার একটা ইম্পারফেক্ট শরীর আছে, এবং সেই শরীরের একটা হরমনের বালছাল খেলায় জাস্ট একটা গান্ডুপনা করে ফেলেছি।

    ঠোঁট ওলটায় কৌশিক, কিছুক্ষণ সময়ে নিয়ে বলে, ‘ঠিক বলেছিস ভাই। শালা প্রেম করতে গিয়ে আমাদের বন্ধুত্বটাই যেন কোথায় হারিয়ে গেল।’

    মাটন চিবতে চিবতে আগমনী বলে, ‘তুই তো জানিস, আমার যখন অল্প বয়স তখন বাবা মরে যায়। মায়ের তখনও যৌবন ছিল। কিন্তু মা কোনওদিন কারো সঙ্গে প্রেম করেনি। পারতপক্ষে পুরুষ মানুষ দেখলেই এড়িয় যেত। এদিকে মা সুন্দরী ছিল, কবিতা লিখত, ভালো গান গাইতে পারত। শেষ বয়স পর্যন্ত দেখেছি, এটা মায়ের গর্বের জায়গা ছিল। মাঝে মাঝেই গর্ব করে বলত, কত বছর তাকে ছেড়ে কাটিয়ে দিলাম কারো সঙ্গে ভালো সম্পর্ক অবধি হল না।’

    ‘তাতে তোর ভালো লাগেনি? মা তোকে রেখে আর কারো সঙ্গে ঘুরে বেড়ালে তোর নিজের অপমানজনক মনে হত না সেটা?’

    ‘আমি সেই নিয়ে কাটিয়ে দিতাম গেদু। আমাকে সারাজীবন একটা দুঃখী মায়ের স্মৃতি বয়ে বেড়াতে হয়েছে৷’ দূরে ব্যস্ত শহরের দিকে আবার মুখ ফিরিয়ে নেয় আগমনী, ‘অন্য কাউকে ভালো রাখতে গেলে নিজের ভালো থাকাটা সব থেকে জরুরি। মা কোনওদিন সেটাই বুঝল না… অন্য কারো সঙ্গে শোয়া তো দূরের কথা, লোকে অন্য কারো সঙ্গে শুয়েছে বলবে, সেই সম্ভবনাতেই সারাজীবন দুটো মানুষকে অসুখী রেখে দিল…’ একটু থেমে বিড়বিড় করে আগমনী, ওর গলা উদাস শোনায়, ‘যে ভালোবাসা মানুষের শরীর মনে ফসল ফলাতে পারত, আমরা সেটাকে একটা মানুষকে অন্য কারো সঙ্গে না শুতে দেওয়ার পাকাপাকি ব্যবস্থা বানিয়ে দিলাম।’ কথাটা বলে কৌশিকের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলে, ‘বাদ দে ওসব। তুই সেই কিডন্যাপারের কিছু কনট্যাক্ট পেলি?’

    ‘ঠিক কন্ট্যাক্ট নয়। ব্যানার্জী বলল, কিডন্যাপটা করেছিল মোট তিনজন। তার মধ্যে দুজন একেবারে মার্কামারা ক্রিমিনাল। অন্য ছেলেটি, আই মিন গোরাচাঁদ সে এই ঘটনার পর আর কোনও ক্যাচালের মধ্যে থাকেনি। মনে হয় ভয় পেয়েছিল। তারই একটা ঠিকানা আছে ব্যানার্জীর কাছে।’

    ‘ফোন নম্বর নেই?’

    ‘উঁহু। ওই কেস খাওয়ার পর সে নর্থ বেঙ্গল চলে যায়। ওখানে বাড়িঘর ছিল। সেসব এখন মনে হয় আর নেই। আপাতত নর্থ বেঙ্গলেরই কোনও একটা হোমস্টেতে কাজফাজ করে। কারো সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ রাখে না। একটু আন্ডারগ্রাউন্ড থাকে আর কী।’

    আগমনীকে ভাবুক দেখায়, ‘আমাদের তাহলে এই গোরাচাঁদের সঙ্গেই কন্ট্যাক্ট করতে হবে। কিডন্যাপ হওয়ার পর নহরের কী হয়েছিল, সেটা ওর থেকে ভালো কেউ জানবে না। আমার আরও দিন পাঁচেকের ছুটি আছে। তার মধ্যেই নর্থ বেঙ্গল ঢুঁ মেরে আসতে হবে।’ বলে হাসে আগমনী।

    ‘হাসছিস কেন?’ ওর মুখে বিরিয়ানি গুঁজে দিতে দিতে বলে কৌশিক৷

    ‘নহর স্কুলে আসার জন্য মার অবধি খেয়েছে। ভেবে দেখ কত ভালো বন্ধুত্ব ছিল আমাদের…আর তোরা আমাকে বিশ্বাস করছিলিস না…’

    ‘আমি কখন বিশ্বাস করলাম না?’

    সারাদিন খালি পেটে থাকার পর একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছে আগমনী। ওর আর দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছা করে না। ছাদের মেঝেতেই চিত হয়ে শুয়ে পড়ে। কৌশিক ওর পাশে বসে কোলে তুলে নেয় মাথাটা।

    তারাভরা আকাশের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে আগমনী বলে, ‘আমি জানি, তুই কেন এতকিছু করছিস আমার জন্য…’

    ‘তাই নাকি! কেন?’

    ‘তোর মায়ের জন্য। মায়েরও মাথার রোগ ছিল, কিন্তু তোর তখন বয়স কম ছিল। কিছু করতে পারিসনি। তোর মনে হয় আমার রোগটা সারিয়ে দিতে পারলে তোর স্বপ্নের উৎপাতটা কমে যাবে, তাই না?’

    কৌশিক পেছন দিকে দু’হাত ভর দিয়ে বসে বিড়বিড় করে বলে, ‘সেদিন ঘর জুড়ে রক্ত আর মাছের আঁশটে গন্ধ ছিল। পরদিন লোক পাঠিয়ে ওরা সব পরিষ্কার করে নিয়ে চলে গেল। আঁশটে গন্ধের সঙ্গে সঙ্গে মায়ের গায়ের গন্ধটাও চলে গেল। সেদিন শিখেছিলাম মানুষ চলে গেলে স্মৃতি থেকে যেতে পারে তার গন্ধ আর পড়ে থাকে না। তখন ছোট ছিলাম, সামলে নিয়েছিলাম…’ মুখ নামিয়ে ওর দিকে তাকায় কৌশিক, ‘তোর গন্ধটা আমি হারাতে চাই না মণি। তোর নিঃশ্বাসের আওয়াজটা আমাকে শান্তি দেয়। বড় হলে শান্ত করার মতো বেশি কিছু আর পড়ে থাকে না। তোকে আমি হারাতে চাই না…’

    আকাশের দিকে তাকায় আগমনী। কলকাতার যে জায়গায় ওদের বাড়ি তাতে খুব বেশি খোলা আকাশ দেখা যাওয়ার কথা নয়। তাও মৃদু আলোয় জ্বলতে থাকা কয়েকটা তারা চোখে পড়ে ওর। আঙুল বাড়িয়ে সেই তারা গোনার চেষ্টা করে। তারপর ব্যর্থ হয়ে নীচে নেমে আসে হাতটা। কৌশিকের হাতের তালুতে আশ্রয় খুঁজে নেয়।

    ‘আমাকে আমার ছোটবেলাটা খুঁজে দিবি গেদু? এই বয়সের ভারে হাঁপিয়ে যাওয়া, রুগ্ন, কুৎসিত, হিসেব মেলাতে মেলাতে পাথর হয়ে যাওয়া মানুষটাকে তার মিষ্টি রোদের দিনগুলো খুঁজে দিবি?’

    আগমনীর মাথাটা ধীরে ধীরে কোল থেকে নামিয়ে কৌশিক শুয়ে পড়ে ওর পাশে। শক্ত করে ধরে ওর হাতটা। আকাশের তারার দিকে নিবদ্ধ হয়ে যায় ওদের দৃষ্টি। হঠাৎ করেই ওর মনের ভিতর একদলা অভিমানের মেঘ জমা হয়। আগমনীর ঘাড় ধরে ওর বলতে ইচ্ছা করে, ‘দিস ইস নট ফেয়ার গেম মণি। আমি তোর জীবনে শুধু ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার হয়ে রয়ে গেলাম। যার কাজ কেবল অন্য ব্রাউজার ডাউনলোড করে দেওয়া। তুই বন্ধু খুঁজলি, প্রেম খুঁজলি, শরীর, মন, শরীরের মধ্যে মন, মনের মধ্যে আস্ত শরীর, সব খুঁজলি, শুধু আমাকে খুঁজলি না…অথচ আমি এই সব ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য কী মারাত্মক ছটফটানি নিয়ে স্টেজের এক পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম…আমি সব চরিত্রগুলো মুখস্ত করেও কোনও চরিত্র পেলাম না…দিস ইজ নট ফেয়ার…’

    কিন্তু তারাভরা আকাশের দিকে চেয়ে সেদিন অভিমানটা ধূমকেতুর মতো দেখা দিয়েই মিলিয়ে গেল। ওর মনের ভিতরে কোনও গোঁয়ার বাচ্চা বলে উঠল, ‘বেশ করেছি। বেশ করেছি আমার শরতের আকাশ তোর বেখেয়ালী অ্যাসফাল্টের ধোঁয়ায় কালো করে দিয়েছি। আমার যত্নে বোনা গমের খেতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছি তোর ভবঘুরে উড়োজাহাজের চোখ টানতে। বেশ করেছি আমার ঘুমাপাড়ানি চাঁদের বুড়ির মুখে হাত চেপে ধরে তোর রাত জাগা বন্ধুত্বহীনতার গল্প শুনে, একাকীত্বের গল্প শুনে। বেশ করেছি…আমি এমন কিছু করেছি যা আমার চেয়ে ঢের বড়। আমার প্রেম, আমার যৌনতা, আমার ভালোবাসা, যন্ত্রণা, জন্ম, মৃত্যুর চেয়ে ঢের বড়। আমি শালা কোনও মানবীর প্রেম না পেয়ে বুক চাপড়ে হস্তমৈথুন করে ঘুমিয়ে যাওয়া লাফাঙ্গা নই…আমি তোকে মানবী হয়ে বাঁচতে দিইনি৷ আমি তোর পায়ের কাছে নিজের আয়ু বাজি রেখে অমরত্ব রেখে গেছি…বেশ করেছি আমি।’

    এত কথা বলা যায় না। চোখে তারার আলো মেখে আগমনীর দিকে চায় কৌশিক। প্রায় নিভে আসা স্বরে বলে, ‘আচ্ছা বেশ, আমি খুঁজে দেব। কিন্তু তারপর আমায় ভুলে যাস না… কেমন?’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে
    Next Article কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }