Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তিতলি – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প110 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. মা

    ২. মা

    মাকে বৃদ্ধাবাসে রাখার আইডিয়াটা জিনার। মিতুল চেয়েছিল মাকে ফ্রাঙ্কফুর্টে রেখে দিতে। বাবার মৃত্যুর পরে মা শিবুদাদের ওই বাড়িতেই ছিলেন, সবাই চেনাশুনো—শিবুদারাও পরিবারের মতোই। ওখানেই সুবিধে স্বাচ্ছন্দ্য বেশি। মা ওখান থেকে কোথাও যেতে চান না। কিন্তু স্থানান্তরিত হতে হলই। শিবুদাদের পুরোনো বাড়ি প্রাোমোটারের হাতে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল ভায়েরা। বাড়ি ভেঙে নতুন চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট উঠবে—ভায়েরা একটা করে ফ্ল্যাট পাবে এবং কিছু নগদ টাকাও। যতদিন না নতুন ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে ততদিন প্রাোমোটারের ঠিক করে দেওয়া ভাড়া বাড়িতেই থাকবে ওরা। অতএব মায়ের জন্য নতুন নিরাপদ ঠিকানার ব্যবস্থা করা দরকার হয়ে পড়ল। তিতলি-মিতুল দুজনেই মাকে কাছে নিয়ে আসতে চাইল। বাবা নেই, মাকে একা কলকাতাতে রাখার কোনও যুক্তিই দেখল না তারা। মাকে রাজি করানো গেল এতদিনে। প্রথমে বড়মেয়ের সংসারে যাবেন, তারপরে ছোটর কাছে। দুই মেয়ের আনন্দের, উত্তেজনার অন্ত রইল না। মিতুল চলে এল কলকাতায়, মাকে সাহায্য করতে। কিছু ট্রাংক ছাড়া তেমন কোনও তো সম্পত্তি ছিল না—আসবাবপত্র বলতে একটা তক্তাপোশ, একটা আলমারি। শিবুদার মাকেই সেসব দিয়ে দেওয়া হল। ট্রাংক তিনটেও মাসিমার কাছে রইল। তাঁর জিম্মেদারিতে। একটায় বাসন, একটায় লেপ-কম্বল, একটাতে কিছু কাপড়চোপড়, কাগজপত্তর।

    মিতুল মাকে নিয়ে চলে গিয়েছিল ফ্রাঙ্কফুর্টে। মা সেখানে চারমাস ছিলেন। তারপর গিয়েছিলেন আমেরিকাতে, তিতলির কাছে। অ্যালাবামার একটা ছোট্ট শহরের ছোট্ট কমিউনিটি কলেজে। তিতলি বলেছিল মাকে, তার কাছে অ্যালাবামাতেই থেকে যেতে। ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রচণ্ড ঠান্ডা মায়ের পছন্দ হয়নি। কিন্তু অ্যালাবামাতে কখনও প্রচণ্ড শীত পড়ে না, দেশের মতোই গরম।

    না। মা’র অ্যালাবামাও ভালো লাগেনি। একটা বাংলায় কথা কইবার মানুষ নেই। সবাই যে যার জীবন নিয়ে ব্যস্ত। সবাই বিদেশি। তিতলি, রাহুল সকাল ৭ টায় বেরিয়ে যায়, রাত ৮টায় ফেরে। মা করবেনটা কী? টিভিতে মুখগুলোও সবই শুধু সাহেব আর মেমেদের। ফ্রাঙ্কফুর্টে তবু নাতি-নাতনিরা আছে। দিনে একবার অন্তত তাদের মুখগুলো চোখে দেখা যায়, ডিনার খাবার সময়ে একসঙ্গে সবাই মিলে বসে গল্পগুজব করা যায় বাংলাতে। কিন্তু তিতলি তো থাকে তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে। রাহুল ছেলেটি খুবই ভদ্র এবং মধুর স্বভাবের, কিন্তু বাঙালি নয়। ও-দেশেই তার জন্ম কর্ম ভাষা ইংরিজি।

    না, মার পছন্দ হয়নি বিদেশের প্রবাসজীবন। তার চেয়ে কাশীবাসী হওয়া ভালো। আফটার অল, বারাণসীধাম বলে কথা।

    ‘আমাকে তোরা কাশী পাঠিয়ে দে।’ মা বলেই ফেলেছিলেন তিতলিকে।— ‘কাশী-বৃন্দাবনই আমাদের পক্ষে ঠিকঠাক জায়গা তিতু। এসব বিলেত আমেরিকা-জার্মানি-টার্মানিতে কী আমাদের মানায় রে? নাকি আমরাই সুখ পাই? না বাবা, যেখানকার প্রাণী সেখানে ফিরিয়ে দে।’ দাদাকেও মা লিখলেন কাশী-বৃন্দাবনের কথা। দাদা তো একপায়ে খাড়া।

    বাধা দিল জিনা। ও তার আগেই কাশীর বাঙালি বিধবাদের বিষয়ে একটা শর্ট ফিল্ম দেখেছে। জিনার বম্বের ফিল্মি মহলের সঙ্গে খুব দহরম-মহরম আছে, ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নিমন্ত্রণ পায়, ছবি-টবি দ্যাখে।

    জিনা বলল, ‘নাথিং ডুইং। ওঁকে একটা মিডল ইনকাম গ্রুপের ওল্ড এজ হোমে রেখে দাও, শি উইল বি হ্যাপি। শি’ল হ্যাভ কোম্পানি।’

    কাশীবাসী বৃদ্ধাদের দু:খকষ্ট, অভাব-বেদনার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, বেঁচে থাকতে চেয়ে টিকে থাকা—সব কিছুই অতি সুষ্ঠভাবে প্রকাশ পেয়েছিল সেই ছবিটিতে। জিনা বলল, ‘সংকর্ষণের নিন্দে হবে। কবে কোন নিউজপেপার জানতে পারলেই স্টোরি করে দেবে—এত বড় করপোরেট এক্সিকিউটিভের মায়ের এই দশা। কাশী-বৃন্দাবনে পড়ে আছে! আনওয়ান্টেড হয়ে!’

    ‘ও: নো, ফাইন্ড আ সুটেবল প্লেস ফর হার ইন ক্যালকাটা। যেখানে সব কিছুই পরিচিত—সবই ফ্যামিলিয়ার—দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ, দ্য কালচার, দ্য ফুড হ্যাবিটস দ্য টিভি সিরিয়ালস।—শি মাস্ট নট ফিল সাডেনলি আপরুটেড জাস্ট বিকজ শি লস্ট হার হাজব্যান্ড। লেট হার বি ইন হার ঔন সিটি। অ্যামং হার ঔন পিপল।’

    অগত্যা মিতুল-তিতলিও মত দিল। অন্তত কাশীর চেয়ে ভালো। দাদা মা’র জন্যে ‘সন্ধ্যার কুলায়ে’ সিট ঠিক করে দিল বম্বে থেকেই। তিতলি মাকে নিয়ে ইউ এস এ থেকে ফিরে, মাকে সোজা পৌঁছে দিল ওই ‘সন্ধ্যার কুলায়ে’।

    আধা-অন্ধকার ঘর, জানালাটা খোলে পাশের বাড়ির ছাতলা-ধরা শ্যাওলা পড়া দেওয়ালের দিকে। পুবদিকে একটি ছোট বারান্দা আছে, এই রক্ষে। সুর্যোদয় দেখা যায়। পড়ার টেবিল-চেয়ার, টেবিল-ল্যাম্প আছে। খাট আর আলমারি আছে। একটা একস্ট্রা সোফাও আছে অতিথি আপ্যায়নের জন্যে। মা জীবনে এত পাননি। কিন্তু অতিথি আর আসছে ক’জন?

    .

    ঘরটা তিতলির পছন্দ হয়নি। আর ছ’মাস পরেই ওরা ঘরটা বদলে দেবে বলেছিল। নতুন একটা উইং হচ্ছে। কিন্তু ছ’মাস পরে তো তিতলি মাকে ফ্ল্যাটেই তুলে নিয়ে যেত। এইবারে তো সেইজন্যেই আসা। বাড়ির চাবি তো তার ব্যাগে। চাবিটা রাখা উচিত ছিল মা’র ব্যাগেই। হ্যাঁ, হ্যাঁ, মার ব্যাগেই রাখা উচিত ছিল চাবিটা। ভুল ডিসিশান হয়ে গেছে। সারপ্রাইজের আইডিয়াটা এত বয়েসে ঠিক নয়। মা-ই উলটে সারপ্রাইজটা দিলেন। আ ভেরি বিগ সারপ্রাইজ ইনডিড—কেন না মা’র বয়েস বেশি হয়নি। অসুস্থও ছিলেন না। কেন, ওঁর চেয়ে বেশি বয়েসেই তো আমাদের বাজপেয়ীমহোদয় ভারতের সিংহাসনে বসেছেন। এই সেদিন কে যেন সত্তর বছর বয়সে এভারেস্টেও চড়লেন। তবে মা কেন চলে গেলেন এত তাড়াতাড়ি?

    .

    এই জগতে কোনও কোনও মানুষের জীবন তো দেরিতে প্রস্ফুটিত হয়। যেমন মৌসুমির মায়ের। মৌসুমির মা তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পরেই যেন নবজীবন প্রাপ্তা হয়েছেন। এতদিনে তাঁর পুনর্জন্ম হয়েছে। লিখতে শুরু করেছেন। প্রথমে স্মৃতিকথা। তারপরে নানা চিন্তা-ভাবনার কথা। মৌদের একটা কাগজ ছিল, ‘উপমন্যু’, সেখানেই শুরু। স্মৃতিকথাটি এত চমৎকার হচ্ছিল যে সেটা এক বিখ্যাত প্রকাশক বই করে বের করে দিলেন বইমেলাতে। সেই বই বেস্ট সেলার হয়ে গেল। মাসিমাও লেখিকা হয়ে গেলেন। ছোট ছোট গদ্যের টুকরো লেখেন—নিজের জীবনে যাদের দেখেছেন, যা দেখছেন, যা কিছু ভাবছেন, খবরের কাগজের প্রতিক্রিয়া। একটা জনপ্রিয় সচিত্র মেয়েদের পত্রিকায় ‘কলম’ লিখছেন, ‘খাগের কলম’ নাম দিয়ে। আজকালকার মেয়েরা তো শব্দটাই চেনে না। মেয়েদের সভাসমিতিতে তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়, প্রধান বক্তা, বিশেষ অতিথি করে। রীতিমতো একটা পাবলিক লাইফ তৈরি হয়েছে মাসিমার। টিভি, রেডিও খবরের কাগজে ইন্টারভিউ দেন। মেয়ে-জামাইয়ের কাছেও থাকেন না আর। ছেলে-বউয়েরা তো মাদ্রাজে। মাসিমা একাই থাকেন। মাসিমার নাম যে কুসুমকানন চক্রবর্তী, সেটাও এতদিনেই জানতে পেরেছে সকলে। আগেকার মাসিমা আর আজকের মাসিমাতে চাঁদ-সূয্যির মতো তফাত। তিতলি চেয়েছিল তার মায়ের জন্যও অমনই একটা নতুন জীবন গড়ে দিতে। মাকে বলেছিল জার্মানিতে থাকার সময়ে একটা ডায়েরি রাখতে। প্রতিদিনকার ঘটনা, মনের কথা, স্মৃতিকথা, সবকিছু সেখানে লিখে রাখবেন বলে মাকে একটা মোটাসোটা বাঁধানো খাতা উপহার দিয়েছিল তিতলি।

    মা লিখতে শুরুও করেছিলেন। অ্যালাবামাতে তিতলির কাছে এসেও লিখতেন। মায়ের সেই খাতাটা তিতলি আমেরিকায় কিনেছিল, চাবি-দেওয়া খাতা। মা লিখতেন, তারপর চাবি দিয়ে রাখতেন কিনা, প্রশ্ন করেনি তিতলি। এবারে খোঁজ করতে হবে সেই খাতার। বৃদ্ধাবাসে এসেও মা রোজ ডায়েরি লিখতেন। তাঁর সময় ভরানোর জন্যে বই পড়া, গান শোনা আর ডায়েরি লেখা এই তিনটেই কাজ ছিল। ইদানীং বই পড়তে কষ্ট হত। তবু চোখের ছানিটা অপারেশন করার ডেট কেবলই পিছোচ্ছিলেন মা—তিতলি আসুক, তিতলি আসুক করে। মিতু জার্মানিতে, তিতু অ্যালাবামাতে, সংকু বম্বেতে। দাদা কিন্তু বারবার বলেছে, বম্বেতে নিয়ে গিয়ে মায়ের ছানি অপারেশান করিয়ে দেবে—জিনার তাতে আপত্তি নেই। উৎসাহই আছে বরং। তার আপত্তি শাশুড়িকে সংসারে এনে পুষে রাখতে। অথবা নিজেরা শাশুড়ির সংসারে গিয়ে থাকাতে। জিনা মেয়েটা খারাপ নয়, তার মানসিকতাটা ঠিক আমাদের সঙ্গে মেলে না বড্ডই পাশ্চাত্য-ঘেঁষা কালচার জিনাদের বাড়িতে। ওর মা তো সত্যি সত্যিই বিলিতি মেম। স্কটল্যান্ডের মেয়ে। বাবা-মা একবারও বম্বেতে জিনার সংসারে গিয়ে থাকেননি। দাদা যখন মস্ত চাকরি পেয়ে বম্বে চলে গেল, দুই বোনই তখন বিদেশে। বাবা একটা মস্ত ভুল করে ফেলেছিলেন। বাবা দাদাকে লিখেছিলেন—’সংকু, আমরা বুড়োবুড়ি আর একলাটি এখানে কেন পড়ে থাকব, আমাদের বরং তোর কাছে গিয়ে থাকতেই ভালো লাগবে। তোরও আমাদের জন্য ভাবনাচিন্তা কমবে। বাড়ি তো বড়ই পেয়েছিস, কাজের লোকজনও আছে, তোর মা’রও একটু আরাম হবে—আমাদের তোর কাছে নিয়ে যা। তোর মা তো অনেকদিনই সংসার করলেন—এবার ছুটি নিক একটু।’

    দাদা এখানেই এক বিখ্যাত বিজ্ঞাপন কোম্পানিতে কাজ করত। প্রায়ই বম্বে যেতে হত ওকে কাজে। তখনই জিনার সঙ্গে প্রেম। জিনার সঙ্গে থাকবে বলেই যে দাদা সেধে বম্বেতে ট্রান্সফার নিয়েছে, বাবা-মায়ের তো সেটা জানার কথা নয়? কোথায় দাদা আর জিনা লিভ-টুগেদার করবে বলে প্ল্যান করেছে, তারপর যদি দ্যাখে সংসারে ওদের দুজনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব হচ্ছে, তাহলেই জিনা ওকে বিয়ে করবে বলেছে—এর মধ্যে মা-বাবার ঠাঁই কোথায়? বাংলো যতই বড় হোক, কামরা যত ক’টাই থাকুক, আর কাজের লোক যতগুলিই ঘুরুক না বাড়িতে, মা-বাবাদের জন্যে সেখানে স্থানাভাব প্রকট।

    দাদা পারেনি বাবা-মাকে নিয়ে যেতে। জিনার সঙ্গে বিয়ের পরে, যখন ওরা বাবা-মাকে বম্বেতে নিমন্ত্রণ করল, ক’দিন ছুটিতে ঘুরে যেতে, ছেলের সংসার দেখে যেতে—বাবা গেলেন না। দাদার সমস্যাটা তো বাবা কোনওদিন জানতে পারেননি, আচরণের অর্থও বোঝেননি। আঘাত পেয়েছিলেন।

    .

    বাবার মৃত্যুর পরেও মার ‘ভার’ দাদা কাঁধে তুলে নিতে চায়নি। জিনার পক্ষে এত বছর পরে হঠাৎ শাশুড়ি নিয়ে ঘর করা সম্ভব নয়, জিনা স্পষ্টই বলে দিয়েছিল। জিনাই সাজেস্ট করেছিল বৃদ্ধাশ্রমে মাকে রাখা হোক। তিন ভাই-বোনেই শেয়ার করবে খরচ। দাদা কেন একা বইবে? বোনেদের বিদেশি পয়সার রোজগার কি কম? বাবা কি বোনেদের উচ্চশিঙার পিছনেও তাঁর অর্জিত ধন খরচ করেননি? ঋণশোধ করার দায় একা পুত্রেরই থাকবে কেন? এই লিঙ্গসাম্যের যুগে?

    মিতুল বলেছিল, মায়ের সম্পূর্ণ খরচ সেই দেবে। তিতলিও বলেছিল সম্পূর্ণ খরচ সে-ও দিতে রাজি। ভাগের মা-য়ে কাজ নেই তাদের। দাদাকে দরকার নেই, দুই বোনেই খরচা চালাতে পারবে মায়ের। ওই মাসিক চার হাজার টাকা কিছুই না। তবু, দাদা মত দেয়নি। জমা রাখার মোট তিন লাখ টাকাটা তিন ভাই-বোনেই নিয়েছিল। দাদা দায়িত্বের ভাগ ছাড়েনি। মাকে যখন তুলে আনা হবে, টাকাটা তখন রিফান্ডেবল। মাসিক খরচও তিন ভাগ হয়। এটা দাদা ওদের সমান-সমান দিতে দেয়নি। ওরা দুই বোনে দু-হাজার দেয়, দাদা দু-হাজার।

    মা বৃদ্ধাবাসে ভালোই ছিলেন মনে হয়। ফোন করলে বেশ হাসিখুশি শোনাত গলাটা। রেঁধে খেতে হচ্ছে না, বাড়া ভাত পাচ্ছেন, একটা একা ঘরে একটা খাটে একা শুচ্ছেন, বিছানাটাও কেউ করে দিয়ে যাচ্ছেন এবং একদম নিজস্ব একটা বাথরুম। এ সবই মায়ের কাছে লাক্সারি বইকি। মা নিরামিষ খেতেন, কিন্তু বৃদ্ধাবাসের বৃদ্ধারা খুব কমই নিরামিষাশী, অর্ধেক বিধবাই দেখা গেল মাছ-ডিম খাচ্ছেন, শুধু মাংসটা বাদ দেন অনেকে। দাঁতে লাগে। অথচ বাবা চলে যাবার পরে জার্মানিতে থাকার সময়ে মিতুই মাকে মাছ-মাংস-ডিম সবই খাইয়ে দিয়েছিল। তিতলির কাছে আমেরিকায় এসে মা আর কোনও বাছবিচারের চেষ্টাও করেননি। তিনজনে একই খাদ্য খেয়েছেন। শুধু ওই হ্যামটা, পর্কটা, বিফটা বাদে। মিতুও মাকে ওসব খাওয়ানোর চেষ্টা করেনি। দেশে গিয়ে যা খাবেন না, সেটা এখানে বৃথা কষ্ট দিয়ে খাওয়ানোর কী দরকার। মা’র লোভ ছিল না, কেবল ওদের খুশি করতেই আমিষ খেতেন। দেশে ফিরে আর আমিষ খাননি। কিন্তু নানাভাবে মা ক্রমশ পালটেছিলেন।

    বিদেশে আসার ফলে মায়ের হাঁটাচলার ধরনটা বদলেছিল। জুতোমোজা পরে হাঁটতেন।—তিতলির হঠাৎ মনে হল, ‘দানে মাকে নুতন জুতোমোজা দিলে হত!’ কে জানে ওরা কেমন ‘পাদুকা’ দিচ্ছে? মা বাইরে বেরিয়ে বেশ স্মার্ট হয়ে উঠেছিলেন। মিত্যু বলে, ওরা সকালে সবাই অফিসে আর ইস্কুলে বেরিয়ে যাবার পরে, মাও বাড়িতে চাবি দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়তেন। দোকানপাট দেখতে-দেখতে হাঁটতেন, তারপর একটা সবুজ পার্কের বেঞ্চিতে গিয়ে বসতেন। বসে বসে লোকজন, ছোটদের খেলাধুলো দেখতেন। কখনও কাঠবাদাম কিনে খেতেন, কখনও আইসক্রিম। আবার ওরা ফেরার আগেই বাড়িতে ফিরে আসতেন, দু-একটা পদ রান্না করে রাখতেন। বিদেশে রান্নাবান্নার এত সুবিধে পেয়ে মা’র বেজায় রান্নার শখ হয়েছিল। যে-মানুষটি সারাজীবন দু-বেলা তোলা উনুনে আর স্টোভে রান্না করেছেন—তাঁর ওই সাহেবি রান্নাঘরে একটুও অসুবিধে হয়নি, বরং পরম আহ্লাদেই রাঁধতেন মা জার্মানিতে। নিত্য নতুন পদের এক্সপেরিমেন্ট। তিতলির কাছে এসেও সেই অভ্যাস যায়নি মা-র। এখানে নাতি-নাতনিরা না থাক, তিতু তো আছে। রাহুল ছেলেটাও আছে। মা-র রান্না সেও দিব্যি আহ্লাদ করে খেত। সাধ এবং সাধ্য অবশেষে হাত মিলিয়েছে। মা মনের সুখে মেয়েকে খাওয়াতেন রেঁধে-বেড়ে। জীবনে প্রথম।—’ওটাই তো শিখেছি, ওটাই তো পারি, তোমরা কত কিছু পারো। আমরা তো আর কিছুই শিখিনি!’ মা বিনয় করে বলতেন।

    শিবুদাদের কাছে মা রেখেছিলেন একটা বড় ট্রাংক, একটা মাঝারি ট্রাংক আর বাবার কাগজপত্রের একটা ট্রাংক। তিতলির নতুন ফ্ল্যাটে তারাই গৃহপ্রবেশ করেছে। বাবা-মায়ের বদলে। ট্রাংকের চাবিগুলি তিতলির ব্যাগে। একটু হাতে সময় নিয়ে বসতে হবে। ট্রাংকগুলো খোলার সময়ে দাদা, মিতুল এদের থাকা সম্ভব হচ্ছে না—ওরা বলে দিয়েছে, তিতলি নিজে নিজেই খুলতে পারে। ওরা জানে, ওর মধ্যে গুপ্তধনের সন্ধান মিলবে না। ভাগ বাঁটোয়ারার মতন কিছুই নেই। ও বাক্স-প্যাঁটরা খুললেও যা, না খুললেও তাই। কিন্তু তিতলি ভেবেছে ওরা থাকতে থাকতেই ট্রাংকগুলো খুলবে। মাথামুন্ডু যাই থাকুক—সেটা দাদা-দিদিরও দেখা উচিত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleইহজন্ম – নবনীতা দেবসেন
    Next Article অন্যদ্বীপ – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }