Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তিথিডোর – বুদ্ধদেব বসু

    বুদ্ধদেব বসু এক পাতা গল্প613 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২.৬ শিলঙে সুন্দর

    শিলঙে সুন্দর, কিন্তু কলকাতায় সবচেয়ে বিশ্রী-গরম গ্রীষ্মদিনের একটি। আকাশে নীল নেই। পাতলা…খুব পাতলা একটা ধোঁয়ারং ছড়ানো, হঠাৎ কখনো মেঘের মতো ছায়া-ফেলা, কিন্তু মেঘ নয়। মেঘের উল্টো কেননা বৃষ্টির আশাকেই সে দুরে সরায়, আর হাওয়া বন্ধ করে দিয়ে পৃথিবীর হাঁপ ধরায়। বাইরের দিকে তাকালে রোদ্রটা কড়া লাগে না, বরং মিনমিনেই। প্রথম গ্রীষ্মের মুড়মুড়ে ফিটফাট টাটকা-তাজা তাত—যা মনে হয়, হাতে তুলে বাক্সে ভরা যায় —তার বদলে একটা পিছল, প্যাচালো, নাছোড়, ধূর্ত তাপস্নানের জলে বোয়া যায় না, আবার উড়িয়েও তাকে নিতে পারে না ইলেকট্রিকের হাওয়া। তাকে ফাঁকি দেবার একটি মাত্র উপায় আছে কাজ… এমন কাজ, যা অন্তত মনটাকে আঁকড়ে রাখে। কিন্তু তেমন কাজ স্বাতীর কি আছে? স্নান করেছে সকালেই, বসে আছে তার বেতের চেয়ারটিকে পাখার তলায় টেনে এনে, পড়ছে রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা। কামড়ে-ধরা বই, তবু মন তার সরে যাচ্ছে মাঝে-মাঝে, মনে হচ্ছে পাখাটায় যেন জোর নেই আজ, মনে হচ্ছে শুধু বই পড়ে আর সময় কাটে কত? বিজন ডাকল ঘরে এসে তার নাম ধরে। স্বাতী তাকাল একবার, চোখে আগ্রহ ফুটল না। এই, মজুমদার এসেছে—ব্যস্ত বিজন মস্ত খবর দিল। স্বাতীর মুখ শক্ত হল একটু, অল্প একটু। ভাইয়ের দিকে না তাকিয়ে বলল—উনি বুঝি দুপুরবেলা ছাড়া কারো বাড়ি আসবার সময় পান না?

    দুপুর কী রে? মোটে তত দশটা!

    দশটা? এখনো এতগুলি ঘণ্টা পড়ে আছে দিনের? কী লম্বা দিন! বোনের এই চুপ-করাটুকুর সুযোগ নিল বিজন। তাড়াতাড়ি জুড়ল–বিশেষ একটা দরকারেই এসেছে। বিশেষ জোর লাগল বিশেষ কথাটায়।

    কিন্তু স্বাতী যেন শুনতেই পেল না, কিংবা শুধু শেষ শব্দটা শুনল। বই থেকে চোখ তুলে, কিন্তু এবারেও বিজনের দিকে না তাকিয়ে আস্তে-আস্তে বলল—এসেছেন তো আমি কী করব? বলেই মনে পড়ল, ঠিক এই কথাটাই আগে একদিন বলেছিল, সত্যেন রায় যখন এসেছিলেন। একই কথা কতই আলাদা করে বলি আমরা!

    কী করবি? বিজন চটপট জবাব দিল–বাড়িতে বন্ধুবান্ধব এলে সবাই যা করে তাই করবি। আমার কোনো বন্ধু এলে নিশ্চয়। বিজন একটু থামল, স্বাতী বুঝল যে মুখে প্রথম যে কথা এসেছিল সেটা বদলে নিল সে, হেসে বললো—আচ্ছা, আচ্ছা, আমার বন্ধুর সঙ্গেই না হয় দয়া করে একটু দেখা করলি।

    এখন ব্যস্ত আছি, স্বাতী চোখ নামাল ছেলেবেলায়। বিজনকে চটাতে চাইল, পারল না। হঠাৎ তার স্বভাবের আদিম সরলতায় ফিরে গেল বিজন। জানতে চাইল—ব্যস্ত কেন, পড়ছিস তে। স্বাতীকে বলতে হল—সেইজন্যেই ব্যস্ত। গম্ভীরভাবে, কিন্তু ঠোঁটের দূর-কোণে একটু হাসিও রেখে বিজন বলল-তাই-তো! তুই-যে এত বড়ো একজন ব্যস্ত মানুষ, মজুমদার তো আর জানে না। আর জানবেই বা কী করে সেদিন দুপুরবেলা বসে এক ঘণ্টা গল্প করলি। স্বাতী বই নামাল কোলে, বসল সোজা হয়ে, এতক্ষণ পরে বিজনের চোখে চোখ রাখল। বলল–ভুল করেছিলাম।

    আশ্চর্য! তক্ষুনি জবাব দিল বিজন—তুইও ভুল করিস! স্বাতী কথা বলল না।

    বিজন একটু দাঁড়াল—অন্তত দরকারি কথাটা শুনে আয়।

    আমার সঙ্গে দরকার?

    তোর সঙ্গেও।

    তাহলে তো তুই শুনলেই চলতে পারে–স্বাতী প্রশ্নের মতো আরম্ভ করল, কিন্তু শেষ করল সিদ্ধান্তের সুরে—মানে, তোর মুখে আমার শুনলে।

    তা পারে, কিন্তু তুই একবার চেহারাটাও দেখাবি না? বিজন একবার জিভটাকে ঘুরিয়ে আনল গালের মধ্যে। মুচকি হেসে রঙের টেক্কা ছাড়ল-মজুমদার আবার একা আসেনি, তার ভাগনিও এসেছে সঙ্গে।

    ভাগনি?

    হ্যাঁ, ভাগনি। বিজয়ী ভঙ্গি এবার বিজনের।

    ভদ্রলোকের আবার ভাগনিও আছে?

    থাকতে নেই? বিজন হাসল। তা হলে তুই একবার–বিজন কথা শেষ করল না; দৌত্য সমাধা করে বেরিয়ে গেল।

    তাহলে না গেলেই নয়? স্বাতী দেরী করল না। অনিচ্ছার কাজে তাড়াতাড়িই ভাল। যত শিগগির আরম্ভ, তত শিগগিরই শেষ। ভেবেছিল, অন্য-একজন মেয়ের প্রতি তার মেয়েলি কর্তব্য সেরে একটু পরেই ফিরতে পারবে। কিন্তু ভুল ভেবেছিল, উর্মিলা ঘোষ সহজে উঠল না। স্বাতী ঘরে দিয়ে দাঁড়ানো মাত্র আলাপ করিয়ে দেবার সবুরটুকুও না করে মেয়েটি সম্ভাষণ জানাল—আসুন, অনেকক্ষণ বসে আছি আমরা। এই যে এখানে বসুন-বেতের সোফায় নিজের পাশের জায়গাটি দেখিয়ে দিল। একটু দূরে বসতে যাচ্ছিল স্বাতী, কিন্তু এ-আদেশ অমান্য করতে পারল না। মুখ ঘুরিয়ে ছ-কোণ কাচের ঝকঝকে চশমার ভিতর থেকে স্বাতীকে বেশ মন দিয়ে একটু দেখে নিয়ে নবাগতা আবার বলল–আপনার কথা এত শুনেছি যে আলাপ করতে না এসে পারলাম না।

    আমার কথা কোথায় শুনলেন? অন্য কেউ হলে, হয়তো দিন-কয়েক আগে হলেও স্বাতী হেসে : বলত কথাটা, একটু খুশি-খুশি ঠাট্টা ধরনে। কিন্তু এখন কথাটা উচ্চারণ করল ঠিক সেই সুরে, যে সুরে রেলস্টেশনে লোকে জিজ্ঞেস করে—নৈহাটির গাড়ি আবার কখন?

    কেন? মামার কাছে! আর আপনার দাদার কাছেও দুজনের দিকে ছিমছাম দুটি হাসি ঝলসাল স্বাতীর অনুরাগিণী। প্রথমোক্তকে লক্ষ্য করে স্বাতী বলল—আপনাদের আলোচনার এর চেয়ে ভাল বিষয় কি নেই আজকাল?

    কীসের চেয়ে ভাল? মজুমদার হাসল। আর এই প্রশ্নের তাৎপর্য স্বাতীর অনুমানের অস্পষ্টতায় ছেড়ে দিয়ে আরো চওড়া হেসে আবার বলল-মিলুর কথা! যা বলতে ওর ভাল লাগে, তাই ও বলে..আমার ভাগনি, উর্মিলা। স্বাতী সৌজন্যসম্মত নমস্কারের ভঙ্গি আনল মাথায়। কিন্তু উদ্দিষ্টা তা লক্ষ্য না করে মামার কথার জবাব দিল–যা ভাল লাগে তাই বলি আমি? না, যাকে বলছি তার যা ভাল লাগবে, তাই বলতে চেষ্টা করি—কেমন, তা-ই ভাল না? উর্মিলা সদ্য আপিতার দিকে তাকাল অনুমোদনের জন্য। কিন্তু স্বাতী একটু হেসে বলল—এখানে কিন্তু হিসেবে আপনার ভুল হয়েছে।

    ভুল কেন? আপনাকে নিয়ে অন্যেরা কথা বলছে, এ-কথা শুনতে আপনার ভাল লাগে না? একেবারেই না—স্বাতী গম্ভীর হল।

    সে কী! ফেমাস হতে ভাল লাগে না আপনার?

    ফেমাস! স্বাতী যেন এই প্রথম শুনল, আলগোছে আওড়াল কথাটা। কিন্তু উর্মিলা স্পষ্ট জবাব চাইল-লাগে না?

    যা আমি হইনি, যা আমি হব না, তা হতে কেমন লাগবে ঠিক বুঝতে পারছি না।

    উর্মিলা সশব্দে হেসে উঠে কথাটাকে রসিকতা বানিয়ে দিল। চেয়ারের মধ্যে পিঠটাকে একটু ঢিল দিয়ে সবুজ জুতো-পরা পা-দুটো বাড়িয়ে দিল মেঝেতে, একটা হাত বুলিয়ে দিল চেয়ারের বাইরে। আর সেই হাতে তার জুতোর রঙেরই ব্যাগটাকে দোলাতে দোলাতে বলল—যদি ধরেই নেন যে হবেন না, তাহলে আর কী করে হবেন? ও তো আর কিছু না, লোকে যাকে নিয়ে কথা বলে, সেই ফেমাস। ভাল বললে ভাল, মন্দ বললেও ভাল। কিন্তু কথা বলবেনা বলে পারবে না। আর সেটা চেষ্টা করলেই হয়।

    চেষ্টা করলেই?

    ঠাট্টা করছেন আমাকে? কিন্তু আমি ঠিক করে নিয়েছি যে ফেমাস হব… হবই। এখন থেকেই চেষ্টা করছি সেজন্য—হব যখন, দেখবেন।

    আমি তো নগণ্যই থেকে যাব। তাই দেখব না, শুনব।

    কেন, ফেমাস লোকদের চোখে দেখতেও কি আপনার আপত্তি?

    দেখতে চাইলেই কি দেখা যায় তাদের?

    চেষ্টা করলেই যায়।

    চেষ্টা করার চেষ্টাই আমার আসে না।

    চড়া গলায়, পিছনে মাথা হেলিয়ে, উর্মিলা আবার হেসে উঠল। ব্যাগটা পড়ে গেল হাত থেকে। নড়েচড়ে বসল পায়ের উপর পা তুলে, ব্যাগটা স্থির করল হাঁটুর উপর, যেন হাসিঠাট্টার শেষে এবার আসল কথা পাড়ছে, এমনি একটা গাম্ভীর্য মুখে এনে বলল—যদি আমি বলি, একজন। ফেমাস মানুষের সঙ্গে আপনার দেখা করার জন্যই আমরা আজ এসেছি, তাহলে কি আপনি সুখী হন না?

    এর উত্তরে স্বাতী বলল—আমি এমনিতেই সুখী। উর্মিলার ছকোণাচে চশমা-আঁটা দৃষ্টি প্রায় কঠার হল স্বাতীর মুখের উপর। পাছে আবারও ঐ ফেমাস কথাটা কানে শুনতে হয়, সেই ভয়ে এর পরের কথাটাও স্বাতীই বলে ফেলল—তাছাড়া বিখ্যাতদের বেশি ভালও লাগে না আমার। বলবার সময় ভাবেনি, কিন্তু বলেই মনে পড়ল ধ্রুব দত্তকে।

    কাকে দেখেছেন? উর্মিলা জেরা করল।

    দেখিনি ঠিক কাউকেই, তবে মনে হয়—

    আপনার মনে হওয়াটাকে যাচাই করে দেখুন না একবার। কাল আসুন সন্ধেবেলা আমাদের ওখানে শশাঙ্ক দাসের গান শুনতে-শশাঙ্ক দাসের গান। আবার সাড়ম্বরে ঘোষণা করল উর্মিলা।–আপনাকে নিমন্ত্রণ করতেই এসেছি আমরা। উর্মিলা ধরেই নিল যে নিমন্ত্রণ করা মানেই অন্য পক্ষের গ্রহণ করা। কথা শেষ করে চোখে তাকাল পুরুষ দুজনের দিকে, হাসল, যেন নিজের উপর খুশি হয়ে, আর সারা মুখে হাসি ছড়িয়ে হাঁটু নাড়তে লাগল বসে বসে।

    সে দুজন একটিও কথা বলেনি এতক্ষণ। স্বাতী দু-একবার তাকিয়েছিল তাদের দিকে। তারা দ্যাখেনি। আর স্বাতী দেখেছিল তারা দুজনেই উর্মিলাকে দেখছে, আর চোখাচোখি করছে পরস্পরে। উর্মিলাকে উৎসাহ দিচ্ছে তাদের চোখে, বাহবা দিচ্ছে। দু-জনে যেন পরামর্শ করে পুরো রঙ্গমঞ্চটা ছেড়ে দিয়েছে তাকে। রঙ্গমঞ্চ কথাটাই এখানে ঠিক, একটা অভিনয় তাকে দেখানো হল। ভাল অভিনয়—ভালই। কিন্তু ওখানেই যেন শেষ নয়, তাকে একটা পার্টও দিতে চাচ্ছে, নামাতে চাচ্ছে রঙ্গমঞ্চেই। ভাগনির শেষ হবার পরে ঠিক সময়ে আরম্ভ করল মজুমদার। স্বাতীকে লক্ষ্য করে বলল—শশাঙ্ক হঠাৎ এসেছে কলকাতায়, আমি খবর পেয়েই পাকড়েছি। ততক্ষণে স্বাতী তার মনের মাকড়শা-বোনা কম আলোর কোণ খুঁজে খুঁজে শশাঙ্ক দাসকে উদ্ধার করেছে, তাই বলতে পারল—সেই ফিল্মের গাইয়ে?

    হ্যাঁ, ফিল্মের গাইয়ে বলেই শশাঙ্ককে লোকে চেনে আজ—স্বাতী যেন আশা করেনি মজুমদারের মুখে এই কথা, কথার এই সুর। ঈষৎ চমকাল, কিন্তু বক্তা সেটা লক্ষ্য না করে আগের কথার জের টানল-পরশু ও ফিরে যাবে, ভয়ানক ব্যস্ত। কিন্তু আমি তো ছাড়বার পাত্র নই। শেষ কথাটায় মজুমদার নিজে হাসল বড়ো-বড়ো দাত দেখিয়ে। কিন্তু স্বাতীর মনে হল না সেটা হাসির কথা।কলকাতার কেউ তো জানেই না উনি এসেছেন—যোগান দিল বিজন।

    তাহলে কি আর রক্ষে ছিল, ছেকে ধরত না চারদিক থেকে?

    মাত্র দু-একজনই জানে। বিজনের ভাষার ভুল শোধরাল স্বাতী–তাই অল্পেই রক্ষে পেলেন। তা নয়—স্বাতী ঠিক বুঝল না মজুমদার কোন কথার প্রতিবাদ করল-হাজার লোকের মধ্যেও আমি ঠিক ধরে আনতাম শশাঙ্ককে। তা আসবেন কাল। বেশি লোক বলিনি। বেশি বলবার মতো বাড়িও নয় আমার। আপনারা, আর অল্প কজন বন্ধুবান্ধব—বলতে বলতে মজুমদার উঠে দাঁড়াল–হ্যাঁ, আপনার বাবাকেও যদি বলেন…আমার আর সময় নেই, চলি। বিজন, তুমি মিলুকে পৌঁছিয়ে দিও ভাই শেষ কথাটা দরজার ধার থেকে ছুঁড়ে দিয়ে আচম্বিতে, অকস্মাৎ, অপ্রত্যাশিত প্রস্থান করল মজুমদার।

    আমাকে কারো পৌঁছিয়ে দেবার দরকার নেই–উর্মিলা আরম্ভ করেছিল মামাকে লক্ষ্য করেই, কিন্তু মামা তার কথা শোনার জন্য দাঁড়ালেন না। অগত্যা বিজনকেই তাক করল চশমা-চোখ–তবে আপনি যদি ইচ্ছা করেন, আমার সঙ্গে যেতে পারেন। ভাগনিকে রেখে, তাকে পৌঁছিয়ে দেবার ভার দাদাকে দিয়ে, মজুমদারের হঠাৎ চলে যাওয়ায় স্বাতী একটু অবাক হল। কেননা ব্যবহারের যে-সব ধারণা তার মনে বদ্ধমূল, তার সঙ্গে এটা মেলে না। যেন বিষয়টা বুঝে নেবার জন্য বলল—নিজেদের গাড়ি থাকার একটা সুবিধে এই যে পৌঁছিয়ে দিতে লোক লাগে না।

    গাড়ি না হলেই লাগে নাকি? উর্মিলার প্রতিবাদ উঠল তখনই—আপনি ভেবেছেন কি আমাকে?

    তবু, আপনার মামা গাড়িটা পাঠিয়ে দেবেন নিশ্চয়ই।

    কেন? গাড়ি পাঠাবেন কেন? ট্রাম-বাস আছে কী করতে?

    ও! কাছেই বুঝি? স্বাতী অন্য দিকে আলোর সন্ধান করল।

    আমরা কোথায় থাকি আপনি জানেন না?—উর্মিলা যেন অবাক হল। আর তার অবাক হওয়ায় অবাক হল স্বাতী, নিঃশব্দে মেনে নিল নিজের অজ্ঞতা! আমরা থাকি বেনেপুকুরে—উর্মিলা আলো ফেলল।

    সেটা কোথায়?

    ও মা, বেনেপুকুর জানেন না? খিলখিল করে হেসে উঠল উর্মিলা। স্বাতী লজ্জা পেল বিখ্যাত বুঝি জায়গাটা?

    না, না, সে রকম কিছু নয়, পাড়াটা বাজেই—তা ঠিক সুবিধেমতো পাওয়া গেল না আর কোথাও। অনেক ঘর চাই, গ্যারেজ চাই, গ্যাস চাই, আবার ফ্ল্যাট হলেও চলবে না। উর্মিলা প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনেক খবর উগরে দিল—এই সব হয়ে ওঠা ভাড়া-বাড়িতে তো শক্ত? এই একেবারেই সত্য কথাটায় উর্মিলা প্রশ্নের সুর লাগাল, আর এমনভাবে তাকাল যেন সে ভাবছে স্বাতী এ নিয়ে তর্ক করবে, স্বাতীকে তাই সায় দিতে হল—নিজের বাড়িতেও সহজ না। ঠিক বলেছেন, অনেকের পক্ষে তাই। তবে মামা যখন বাড়ি বানাবেন–এ-বিষয়ে এর বেশি বলা উর্মিলারও বোধহয় বাহুল্য লাগল, ফিরে এল আগের কথায়–তা এটাও মন্দ না। বড়ো বড়ো ঘর, চওড়া-চওড়া বারান্দা, আপনার ভালই লাগবে। উর্মিলা একবার চোখ ঘুরিয়ে আনল স্বাতীদের বসবার ঘরের চারটি কাছাকাছি দেয়ালে।

    আর কী-কী আমার ভাল লাগবে বলুন তো, শুনি আপনার মুখে। কিন্তু স্বাতীর এই আঘাত জলের উপর পড়ল। জলের মতো সহজে উর্মিলা জবাব দিল—তা তো জানি না, তবে গান যে ভাল লাগবে, এটা নিশ্চিতই।

    কিন্তু আমি তো এখনও বলিনি যে কাল যাব।

    ও আবার বলবেন কী—যাবেন তো? উর্মিলা মুখে বলল এ-কথা, আর চোখে বলল–শশাঙ্ক দাসের গান শোনার সুযোগ কেউ কি পেয়েও হারায়?

    স্বাতী কিছু বলল না। আপনি কি ভাবছেন যে যাবেন না? ইশ! হেসে তাকিয়ে ভুরু বাঁকিয়ে স্বাতীর একটি হাত ধরে উর্মিলা বলল—তোমাকে বড়ো ভাল লেগেছে আমার…সত্যি তারপরেই অন্য হাতে বাঁধা ছোট্টো সোনার ঘড়ির দিকে কোণ-চোখে তাকিয়ে, মুখ ঘুরিয়ে, প্রায় একই রকম মধুর সুরে বলল—আমার সঙ্গে বেরোবেন নাকি বিজনদা, আমি কিন্তু আর বেশিক্ষণ বসব না। বিজন এতক্ষণ মুগ্ধ হয়ে দেখছিল বোধহয় দুজনকেই। কথা শোনামাত্র তড়াক করে উঠল।

    তার চেয়েও কমক্ষণে আমার হয়ে যাবে—বলে দ্রুত বেরিয়ে গেল দ্রুত স্নানাহার সারতে। সেই কম-ক্ষণই স্বাতীর পক্ষে অনেকক্ষণ হল। কেননা, বিজন চলে যাওয়া মাত্র উর্মিলা ঘুরে বসল হাঁটুতে প্রায় হাঁটু ঠেকিয়ে। একেবারে দু-চোখভরা ঢলঢলে তাকিয়ে বলল—এস ভাই, এখন একটু মন খুলে কথা বলি দু-জনে। এর পরেও আরো মন খুলবেন ইনি? স্বাতী একটু সরে বসল, তুমি-টাকে যেন লক্ষ্য করল না। একটু বেশিই ভদ্রভাবে বলল—আপনাকে কিছু পানীয়? কথাটা উচ্চারণ করেই স্বাতী প্রায় জিভ কামড়াল। কেমন করে সে আগেই না-বুঝে পারল যে ওটা শুনে তার সঙ্গিনীর খিলখিলে-কলকলে হাসি আর উথলোবে? কিন্তু স্বাতী সবচেয়ে বেশি যা ভাবতে পারত, তার চেয়েও বেশি হল। হাসির অথৈ জলে পড়ে গেল উর্মিলা। অনেক ঠোক হাসি গিলতে গিলতে একটি একটি কথার বুদ্বুদ তুলল কোনোরকমে—পানীয়? নাভাই পানীয়-টানীয় কিছু চাই না আমার। স্বাতী অদম্যভাবে আবার বলল—কিছু না?

    না।–পানীয়!—উঃ! ড়ুবতে ড়ুবতে বেঁচে গিয়ে উর্মিলা এবার দুর্বলভাবে হাসির হেঁচকি তুলতে লাগল। দাদা বোধহয় খেতে গেল, আমি একবার উর্মিলা দৃষ্টিপাত করল ভিতরের দিকে কেন, চাকর নেই? তক্ষুনি উর্মিলা উঠে এল শুকনো ডাঙার কেজো ঘাটে।

    সে জন্য না—স্বাতী জরুরিভাবে উঠে দাঁড়াল।

    আরে বসো, বসো-উর্মিলা হাত ধরে সাধল, বাদ সাধল—দাদার অত যত্ন না করলেও চলবে। বসো, একটু গল্প করি। স্বাতী বিবর্ণভাবে বসে পড়ল। ভিতরে যাবার দরজাটায় রইল তার চোখ… চোখের তৃষ্ণা।

    তুমি বোধহয় আই. এ. পাশ করলে এবার।–উর্মিলা আরম্ভ করল মন-খোলা গল্প। স্বাৰ্তী মৌনভাবে বুঝিয়ে দিল যে অনুমানটা মিথ্যে না।

    এখন কী করবে?

    পড়ব।

    পড়াশুনো তো শেষ হবে একদিন।

    হোক তো।

    তোমার শিগগিরই শেষ হবে—– উর্মিলা প্রায় দৈবজ্ঞের মতো বলল।

    পড়াশুনোর কি শেষ আছে জীবনে? প্রায় আর্যভাবে উত্তর দিল স্বাতী।

    তুমি তাহলে তোমার জীবনটা নিয়ে বেশি কিছু ভাবনি?

    আপনি ভেবেছেন মনে হচ্ছে? স্বাতী বলতে চেয়েছিল, আমার জীবন নিয়ে আপনি ভেবেছেন, কিন্তু উর্মিলা উথলে উঠে বলল নিশ্চয়ই! আমার জীবন নিয়ে আমি যদি না ভাবি—কিন্তু ঐ আপনিটা আর কেন ভাই, মোটে ভাল শোনায় না। আর বয়সে বেশি বড়ো না আমি তোমার। এবার বি. এ. দিলাম, আর এর পরেই মুশকিল। পরীক্ষার আগে থেকেই মা চিঠি লিখছেন মামাকে-মা তো দেশে থাকেন, আর আমার বাবা নেই। কিসের জন্য বুঝতেই পারো, আর মামারও তাই মত। মনে মনে উনি বেশ সেকেলেই আছেন এখনও, আর আমাদের মতো মডার্ণ হবেনই বা কী করে মামাও কথাবার্তা এমন বলেন যেন বিয়ে ছাড়া মেয়েদের গতি নেই। আমি বলি—না, কখনো না, বিয়ে-বিয়ে করে চ্যাঁচামেচি কি এখনো শুনতে হবে, এই উনিশ-শো একচল্লিশেও? অবশ্য তোমার মতো মেয়ের কথা আলাদা, তোমাকে দেখেই বোঝা যায় তুমি বিয়ে করারই টাইপ। দ্যাখো না, কলকাতায় আছ তো জন্ম থেকেই, অথচ শহরটাই চেন না এখনও, একলা চলাফেরাও ভাবতে পার না। তাই বিয়েটাই তোমার পক্ষে ঠিক। কিন্তু সকলে তো আর লক্ষ্মী মেয়ে নয়, তোমার মতো, ইচ্ছা-অনিচ্ছাও অনেকের অন্যরকম। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করো বিয়েতে আমার মত নেই কেন? আমি কি কোনোদিনই বিয়ে করব না? মামা যদি এ কথা জিজ্ঞেস করেন আমাকে-আমি বলব, না, তা নয়, কোনো একদিন করব হয়তো। যেদিন ইচ্ছে হবে করব, আর সেদিনই করব কিন্তু তার একদিনও আগে না। এখন? এখন সে কথা ভাবতেও পারি না, এখন আমি জীবনটাকে দেখতে চাই, চাখতে চাই, সবচেয়ে বেশি চাই ফ্রিডম, পুরুষরা যেটা মনোপলি করে রেখেছে এতকাল। তাছাড়া আমার একটা প্ল্যানও ঠিক করা আছে—তখন যে বলছিলাম ফেমাস হব তারই প্ল্যান! আমি পলিটিক্স করব। পলিটিক্স ছাড়া আর কিছুতেই নাম নেই আজকাল, আর কিছুর দরকারও নেই বোধহয়। মোটামুটি একটা প্রোগ্রামও ভেবে রেখেছি। নেহাতই মেয়ে হয়ে জন্মেছি যখন, মেয়েদের নিয়েই হৈ-চৈটা তুলতে হবে। বাপের সম্পত্তির ভাগ দিতে হবে আইনে। পুরুষ যে-কটা ইচ্ছে বিয়ে করতে পারে, আর মেয়েরা নাকি কিছুতেই একবারের বেশি না। সব ঠিক করে ফেলেছি। বুঝতে পারছি না এখনও শুধু এইটুকু, যে কোন পার্টিতে যাব—প্রোগ্রেসিভ-ডেমক্র্যাট, না র্যাডিকল-লিবরল, না অ্যাডভান্স-গার্ড। সবচেয়ে জোরালোটাতেই যাওয়া উচিত নিশ্চয়ই, কিন্তু প্রত্যেকেই বলে আমরাই সবচেয়ে জোরালো। আবার ভুল পার্টির জন্য না জেলেই যেতে হয় কোনো সময়। ঐ একটা শুধু অসুবিধে আমাদের দেশে পলিটিক্স করার। হাত নেড়ে, পা নেড়ে, হাঁটু নেড়ে, হাঁটু ছড়িয়ে, চোখ ঘুরিয়ে, সমস্ত শরীরে কম্প তুলে, সমস্ত কথায় রঙ্গ ঢেলে, প্রত্যেকটি চীৎকার-চিহ্নকণ্ঠস্বরে পরিস্ফুট করে স্বতীর নতুন বন্ধু এই বিচিত্র বক্তৃতাটি তাকে শোনাল। মাঝে মাঝে একটু একটু থামল, যেন অন্যজনের কিছু বলবার কথা, যেন এমনকি সত্যিই অন্যজন কিছু বলেছে। আর স্বাতী অবশ্য কিছু বলল না, বলতে চাইল না, পারল না। চাইলেও পারত না, পারলেও চাইত না। শুনলও না সব, প্রায় কিছুই শুনল না। শুধু তাকিয়ে থাকল স্থির, কিন্তু খানিক পরে আর দেখলও না। শুধু তার কানের মধ্যে ঘনঘোর গোলমালের গোলাগুলি চলতে লাগল।

    উর্মিলার মনের কথা এখানেই হয়তো শেষ হয়নি, হয়তো মন খুলতে আরম্ভ করেছিল মাত্র। কিন্তু গভীরতর উন্মােচনের আর সময় হল না, বিজন ফিরে এল। সময় বাঁচাবার জন্য স্নানটা বাদ দিয়েছিল সে। হোক গরম, স্নানে গরম কমে এটা কুসংস্কার ছাড়া আর কী! রাস্তায় বেরোলে একই, আর একশো ডিগ্রির উপরে তাতা রাস্তাটাই তখন তার কাছে কল্লকাতার সুখস্থান। ঘরে পা দিয়েই বলল–চলুন। উর্মিলা এমন চিরস্থায়ীভাবে চেয়ারটায় বসেছিল যে তাকে উঠতে দেখে স্বাতী অবাক হল।

    আচ্ছা, আজ চলি ভাই, অনেক গল্প করলাম—হঠাৎ যেন নিজের ভাষার ভুল বুঝতে পেরে জুড়ে দিল—তুমি তো কথাই বললে না। আমাকে বোধহয় পছন্দ হল না তোমার—কী বলে? আমার কিন্তু তোমাকে খুব পছন্দ হয়েছে। উদার, উচ্ছল, বৎসলভাবে স্বাতীর পছন্দকারিণী। হাত রাখল তার কাঁধে। তারপর ব্যাগ খুলে, স্বাতীর ঠিক মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, প্রসাধনের ভাঙচুর মেরামত করে নিল। ভুরু কুঁচকে নিজেকে দেখল আয়নায়, নিজেকেই উপহার দিল মিষ্টি একটি হাসি। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বিজনকে বলল—চলুন। বিজন বলল—একটা ট্যাক্সি আনানো যাক।

    ট্যাক্সি কেন? বিজনের প্রস্তাবটা হাত ঘুরিয়ে উড়িয়ে দিল উর্মিলা–বাসে-ট্রামে সাত-রাজ্যি ঘুরে বেড়াই আমি!

    আপনার জন্য বলি–নিক্ষিপ্র উত্তর দিল বিজন—নিজের জন্যই বলেছিলাম। সম্ভবত নিজে বুঝল না কথাটা কত গভীর। কিন্তু উর্মিলা বুঝল।ঐ তো দোষ বিজনদার। বলতে বলতে কুলকুল করে হেসে উঠল বাজে খরচের রাজা। দাদাটিকে একটু শাসন করো ভাই, বড় বয়ে যাচ্ছে।

    ওকে আপনি নাম ধরে ডাকলেই পারেন, স্বাতী হঠাৎ নিজেকে বলতে শুনলও আপনার ছোটোই হবে।

    না ভাই, এটা কিন্তু ভাল বললে না। এতই কি বুড়ো দেখায় আমাকে? কিন্তু এ কথার উত্তরে সৌজন্যের প্রত্যাশাও স্বাতী মেটাতে পারল না, আর কিছু বলবারই শক্তি পেল না।

    তা এ কথা ঠিক—অকাতর উর্মিলা আবার বলল—যে অমুকদা-অমুকদির দিন আর নেই সকলেই এখন সমান, সকলেই সকলকে নাম ধরে ডাকবে। তা না হলে আর হল কী? কথাটা শেষ করল বিজনের দিকে জুলজুলে তাকিয়ে। আর এই আশ্চর্য স্বর্ণযুগ—তার আরো আশ্চর্য প্রমাণ—বিজনের মুখে স্বৰ্গসুখ উদ্ভাসিত করল।

    ******

    নিজের ঘরে, একলা বাড়িতে, স্তব্ধ দুপুরে স্বাতীর আচ্ছন্ন ভাবটা কেটে গেল আস্তে-আস্তে। তার চেতনা ফিরে এল। কিন্তু অভ্যস্ত আশ্রয়গুলিতে ঠিক যেন ফিরতে পারল না। ক্লোরোফর্ম থেকে জেগে উঠে এইরকম লাগে মানুষের নিজের এই ঘর যেন অচেনা, বইগুলি অর্থহীন, দিনটা জ্বরের মতো শূন্য। খানিক আগে বসে বসে ছেলেবেলা পড়ছিল, এখন আবার সেই চেয়ারটিতেই বসেছে, ছেলেবেলাও আছে, কিন্তু বই খোলার নিয়মরক্ষাটুকুও করছে না। এর মধ্যে কী যেন একটা সাতিক ঘটে গেছে, যেন একটা দেয়াল উড়ে গেছে তার ঘরের, কিংবা হঠাৎ তার ডান হাত আর নাড়তে পারছে না। এমন একটা সাতিক কিছু যা তার জীবনটাকে এক ধাক্কায় অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে, যেন একেবারে আরম্ভে, আবার প্রথম থেকে নতুন করে সব ভাবতে হবে। মনের তলার পাগলা-ঘোলা ঘূর্ণি থেকে যে কথাটি প্রথম স্পষ্ট হয়ে উপরে ভেসে উঠল তা এই যে তার মা নেই। কথাটা ভাবতেই-আর কোনোদিন এ রকম লাগেনি—অসহায় লাগল, ভয়-ভয় করল। যেন কোনো অদ্ভুত বিদেশে, কোনো ভীষণ ভিড়ের মধ্যে সবাই তাকে ফেলে চলে গেছে, বাবাও। বাবা যে এ সময়ে আপিশে, সেটাও মনে হল তার এখনকার কান্না-পাওয়া হারিয়েযাওয়ার অংশ। আর এখন এই লম্বা-লম্বা দমবন্ধ ঘন্টাগুলি ভরে বাবার জন্য বসে থাকা ছাড়া কিছুই তারকরবার নেই। স্বাতী একবার জোরে নিশ্বাস নিল,মুখ মুছল আঁচলে। বড়ো ঘাম—কিন্তু ঘামটা যেন ঠান্ডা, গরমটা যেন ভিতরে ভিতরে শীত। খুব চুপ করে, খুব মন দিয়ে ভাবতে চেষ্টা করল বাবা এলে কী বলবে। কী বলবে? এখন যদি থাকতেন তাহলেই বা কী বলত? কোন ভাবনাটা তার মনে পরিষ্কার, কোন ভাষাটা তৈরি? সে তো নিজেই এখনও জানেনা তার কী আছে। নিজেই জানে না এই ভয় কেন। আরো সেটা জানতেও তার ভয়। হঠাৎ তার শরীরটাই দুর্বল লাগল–ক্লান্ত, অবসন্ন, ঘুমিয়ে পড়ার মতো।

    রামের মা ঘরে এসে বলল–দিদিমণি, খাবে নি? রামের মা-র চেহারা, গলার আওয়াজ স্বাতীকে যেন সান্ত্বনা দিল। চেয়ারের মধ্যে একটুও না নড়ে বলল—তুমি বড়ো তাড়া দাও রামের মা।

    —এত্ত বেলা হয়ে যায়, খাবার জন্য মন বলে না তোমার? একটু চুপ করে থেকে স্বাতী জিজ্ঞেস করল—রামের মা, তোমার নাম কী?

    নাম! আমার নাম?

    হ্যাঁ, নাম কী তোমার?

    আমার নাম—যেন একটু চেষ্টা করে এই তথ্য মনে করতে হল—আমার নাম মনোরমা। তবে আমরা তোমাকে মনোরমা ডাকি না কেন?

    কী যে বলো, দিদিমণি! এমনভাবে শরীর বেঁকিয়ে হাসল যেন একটা লজ্জার কথা।

    তুমি তো আর জন্ম থেকেই রামের-মা ছিলে না। রাম জন্মাল, তবে তো হলে। এই যুক্তি অনুধাবন করতে পারল না রাম-জননী, ফাঁকা মুখে তাকিয়ে রইল। স্বাতী আবার বলল–রামের বাবা কী বলে ডাকত তোমাকে? মুখে আঁচল চেপে হাসি লুকোল রামের পিতার পুত্রের মাতা। তার শরীরে এমন একটা ভঙ্গির ঝিলিক দিল যে স্বাতী হঠাৎ বুঝল যে তার বয়স অত্যন্তই বেশি না। আধখানা মুখ ফিরিয়ে সে জবাব দিল–সে আমি বলতে পারব নি, দিদিমণি। বলো না। স্বাতী যেন জীইয়ে উঠল এই প্রাকৃত, পার্থিব কৌতুকে।

    সে বড় নাজের কথা, তোমাদের কানে সইবে নি। স্বাতী একটু ভেবে বলল–তবে তো ভালই। শুনলে ভাল বলতে না, দিদিমণি—এত বড়ো একটা স্বাধীন মন্তব্য শুনতে স্বাতী আশা করেনি, একটু বেশি মন দিল কথা শোনায়-আর্ধেক শুনলে মুছে যেতে। তা আমাকে যা বলে বলত, সোয়ামি যখন, বলতেই পারে, কিন্তু মা-বাপ তুলে যখন মুখ ছাড়ত–স্বাতী ভেবেছিল কথাটা শেষ হবে না, কিন্তু তার আশাতীত আর একটা কথা বলল তার পরিচারিকা—তখন আমিও ছাড়তাম না!

    স্বাতী দমে গেল। নাজের কথার সে অন্য মানে বুঝেছিল। এত বছর ধরে রোজ যাকে দেখছে, অথচ কিছুই যার জানে না, তার কথা আর একটু জানবার তার ইচ্ছে হল। জিজ্ঞেস করল— তোমার স্বামী মারা গেছে কদ্দিন?

    মরেছে কবে? প্রশ্নটা যথাযথ জেনে নিল, তারপর উত্তরও দিল যথাযথ–সে অনেক কাল হবে। সেবারে খুব আম হয়েছিল না? সারা জষ্টি বিষ্টি নেই এক হিটে। ভোররাতে কলিরা হল, আর মানুষটাকে যেন হিচড়ে টেনে নে গেল যমে। একটু থেমে স্বাতী এর পরের প্রশ্নটি করল—তোমার কষ্ট হয় না?

    মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে রামের মা প্রশ্নটা বোঝবার চেষ্টা করল। তারপর তৃতীয়বার স্বাতীকে তাক লাগিয়ে বলল–না দিদিমণি, মিছে বলব না, কষ্ট আমাকে তেমন দিত নি, খেতে পরতে দিত। ঐ-যা এক দোষ ছিল, মুখটা আস্তাকুঁড়। তা দোষ বিনে মানুষ হয়? আর মারধোরটা ছেল না তোত, রোজগারেও কামাই দেয়নি একদিন, একদিনের তরে ব্যামো হয়নি একটা–তা মরণে ডাকলে তার উপর তো কথা নেই! চুপ করে থাকল স্বাতী। মাথার কাপড়টা কথা বলতে বলতে পড়ে গিয়েছিল। সেটা যথাস্থানে তুলে দিয়ে রামের মা যথারীতি আবার প্রস্তাব করল—দিদিমণি, এখন খাবে চলো।

    চলো। স্বাতী উঠল তক্ষুনি, আর নিজেকে তার অনেক বেশি নিজের মতো লাগল খাবার পরে ঘোর দুপুরের মস্ত ঘন ঘণ্টাগুলিতে। হঠাৎ যদি কেউ চলতে চলতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়, রাস্তায় ভিড়, পাড়ায় হৈ-চৈ, অ্যাম্বুলেন্সে খবর, তারপর ডাক্তার বলে কিছু না, এক্ষুনি সেরে যাবে—এ যেন সেই রকম অনেকটা। এখন স্বাতী মনে করতে পারল সব, ভাবতে পারল সমস্তটা। উর্মিলার বকরবকরের বাছাবাছা অংশগুলিকে টেনেটেনে তুলে পর-পর সাজাতে পারল—তখন যদিও শুনছে বলেই মনে হয়নি। দাদার মুখ-চোখের ভঙ্গি মনে পড়ল স্পষ্ট মজুমদারের সঙ্গে তার চোখাচোখি, উর্মিলার দিকে তার তাকানো, উর্মিলার সঙ্গে তার বেরোনো… আর তাকে, স্বাতীকে, কেমন এড়িয়ে-এড়িয়ে চলা। এক মজুমদারেই কিষ্কিন্ধ্যা, তার উপর আবার ভাগনি, আর ঐ লম্বা-হাবা লেজুড় তার দাদা! আবার, মুহূর্তের জন্য, স্বাতী যেন শিউরে উঠল। মনে মনে বলল-মেয়েদের যেন কখনও মা না মরে, আর মা যদি-বা মরে, এমন ভাই যেন কখনও কোনো মেয়ের না হয়।

    কিন্তু দাদা-হঠাৎ গর্বের একটা ঢেউ উঠল স্বাতীর মনে, আর সেই সঙ্গে সাহসের হাওয়া লাগল। দাদা তার কী করতে পারে? দাদা কি একটা মানুষ? তাকে যন্ত্রণা দিতে পারে এমন সাধ্য কী দাদার? এইটাই তার ভুল হয়েছে যে সে আশ্রয় খুঁজছিল, মা-র আশ্রয়, বাবার। কিন্তু কেন? এই ব্যাপারটাকে একটা বিরক্তিকর বইয়ের মতো তাড়াতাড়ি পাতা উল্টিয়ে সে কি শেষ করে দিতে পারে না? নিশ্চয়ই পারে, নিজেই পারে। সে নিজেই তার আশ্রয়—আর আবার কে? সে যদি সোজা হয়ে দাঁড়ায়, চোখ তুলে তাকায়, যদি সে শুধু একবার মনস্থির করে নেয়, তাহলে কেউ কি তার কিছু করতে পারে? সঙ্গে সঙ্গে, আর একসঙ্গে, স্বাতীর মন দটি সিদ্ধান্তে পৌঁছল। প্রথম, বাবাকে কিছুই বলবে না এসব। দ্বিতীয়, কাল যাবে গান শুনতে। গান শুনতে অবশ্য নয়, যাবে উর্মিলাকে কয়েকটা কথা বলতে। অন্য কোথাও, অন্য কোনো সময়ে হলে ভাল হত, উপলক্ষটা ঠিক উপযুক্ত নয়। কিন্তু আবার সুযোগ পাবে কবে, আর যে-কোনো জায়গায়, যে-কোনো সময়ে কথাটা যখন অস্বস্তিকর, তখন একই কথা। আর উর্মিলাকে ঠিকমত বলতে পারলে বাবাকে আর বলতে হয় না, এ-বিষয়ে জানবারই দরকার নেই তার। এক দাদাই যা জ্বালাচ্ছে বাবাকে, তার উপর আরো অশান্তি?

    ছায়া লম্বা হল রাস্তায়, রোদের রং বদল হল, আর ঠিক যখন বর্ষার আগের দুরন্ত দিনগুলির আরো একটির শেষ হবার খবর ফুরফুর করে হাওয়ায় উড়ল, তখন স্বাতী উঠল চেয়ার ছেড়ে। জানলা খুলে দিল ঘরের, শেলফের সবগুলি বই নামিয়ে নতুন করে গোছাতে বসল। উর্মিলাকে কাল যা বলবে, তার প্রত্যেকটি কথা এতক্ষণ ধরে ভেবে-ভেবে সে ঠিক করেছে, অনেকবার আউড়েছে মনে মনে। এতক্ষণে পরীক্ষার পড়ার মতো প্রায় মুখস্তু হয়ে গেছে। উর্মিলা বারবার বাধা দেবে, বার-বার জিভ নাড়বে, চ্যাপ্টানো আমের রসের মতো চুইয়ে চুইয়ে গড়াবে তার আঠা-আঠা কথা। স্বাতী শুধু একটু দূরে সরে যাবে, হাত যাতে চিটচিটে না হয়, চোখ দিয়ে বিঁধে রাখবে উর্মিলাকে, বিধিয়ে দেবে তার কথাগুলি… সব… সমস্ত… প্রত্যেকটি। কথাগুলি বেশি না, কথাগুলি এই ও আপনার মামার বয়স হয়েছে, টাকা হয়েছে। এখন তার জীবনের একটি যোগ্যা সঙ্গিনীর সন্ধান করছেন আপনারা। তিনি নিজেও করছেন, কিংবা নিজেই করছেন। তিনি ভাবছেন–তাই আপনারাও ভাবছেন যে, এখন সেই সময় এসেছে যখন মনে করা যায় যে অনুসন্ধানের আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু না, আপনাদের অনুমান ভুল, সম্পূর্ণ ভুল। আর সেই ভুল অনুমানের অনুসরণ আরো যদি আপনারা করেন, সেটা শুধু পণ্ডশ্রমই হবে না অপ্রীতিকরও হবে। অনেকের পক্ষেই অপ্রীতিকর। আমি আজ এসেছি শুধু এই অপচেষ্টা থেকে আপনাদের বিরত করতে। দয়া করে আপনার মামাকে এই কথাটা বলবেন। বুঝিয়ে দেবেন, দয়া করে একটুও অস্পষ্টতা রাখবেন না। তার সঙ্গিনীর সন্ধান অন্যত্র করতে হবে। আপনাদের পারিবারিক বিষয়ে আমার মন্তব্য করা অশোভনতার চরম। কিন্তু এক্ষেত্রে নির্লিপ্ত থাকা আমার পক্ষে আর যে সম্ভব হল না, আপনারাও..আপনারাই তার কারণ। অতএব আশা করি আমার ভব্যতার এই ব্যতিক্রম মার্জনা করতে আপনারা অনিচ্ছুক হবেন না। আরো একটা কথা আপনাদের জানানো দরকার। আমার দাদা আর আমি এক বাড়িতে বাস করি, বাকি দুজনে দুই জগতে। দাদার বন্ধু আমার বন্ধু হতে পারে না কখনও। তাই আপনার মামার, কিংবা আপনার, আবার যদি অবসরের এমনই প্রসার কি প্রয়েজনের এমনই বাধ্যতা ঘটে যে আমাদের বাড়িতে আসতেই হয়, তাহলে দাদাকে লক্ষ্য করেই আসবেন, দাদাকেই… শুধু দাদাকে। এই কথাগুলি শুনতে আপনার ভাল লাগল না, বলতে আমার আরো অনেক খারাপ লাগল। কিন্তু না বললে খারাপ হত, তাই বলাই ভাল হল।–স্বাতীর মন এই ক্ষুদ্র নিবন্ধটি রচনা করে তার ভার নামাল। এখন বলতে পারলেই নিশ্চিন্ত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপিরানদেল্লোর গল্প – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব বসু
    Next Article ছায়া কালো কালো – বুদ্ধদেব বসু

    Related Articles

    বুদ্ধদেব বসু

    বোদলেয়ার: তাঁর কবিতা – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছোটগল্প – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    ছায়া কালো কালো – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    পিরানদেল্লোর গল্প – সম্পাদনা : বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    রাত ভ’রে বৃষ্টি – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    বুদ্ধদেব বসু

    আমার ছেলেবেলা – বুদ্ধদেব বসু

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }