Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তিথি – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প72 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫-৮. দ্বিতীয় খদ্দের এল

    দ্বিতীয় খদ্দের এল পরের রবিবার সকালে। মিলি আগেভাগেই সোমনাথকে বলে রেখেছিল, আমি বাড়ি দেখাতে পারব না। তুই-ই দেখাস। ভদ্রতা যেটুকু করার করব।

    প্রথমটায় মিলি তাই মুখোমুখিই হল না খদ্দেরের।

    তবে তিন ভাই-বোন যথারীতি হাজির তাদের বাবার ঘরে। তারা লক্ষ করছিল কে আসে বাড়ি কিনতে। বুক্কাই প্রথম দেখে চাপা গলায় বলল, আ গিয়া, হালুওয়ালা আ গিয়া।

    দুই বোন বুক্কার কাঁধের ওপর দিয়ে ঝুঁকে দেখতে পেল, একখানা কনটেসা গাড়ি থেকে তিনজন নামল। সঙ্গে এক পেল্লায় সাইজের কুকুর। কুকুরটার অবশ্য শেষ অবধি নেমে পড়া হল না। একটা মেয়ে-গলার ধমক খেয়ে ফের গাড়িতে উঠে গেল। কুকুরটা উঠে যাওয়ার পর নামল চতুর্থ জন। পুরুষ।

    চারজনের দু-জন মেয়ে, সঞ্চারির বয়সি। আর তাদের প্রৌঢ় মা বাবা। চারজনই দেখার মতো সুন্দর। টকটক করছে ফরসা রং, বেশ লম্বা এবং মেদহীন চেহারা।

    সঞ্চারি মুগ্ধ হয়ে চেয়েছিল, বলল, মেয়ে দুটো নিশ্চয়ই নাচে। কী ফিগার!

    বুক্কা নাক কুঁচকে বলে, স্টিংকিং রিচ। নিশ্চয়ই আবুধাবি বা কুয়েত থেকে এদের ইনকাম হয়।

    সঞ্চারি বলে, আমেরিকাও হতে পারে।

    মামা বলছিল ইণ্ডাষ্ট্রিয়ালিস্ট। আমাদের সেকটরে ওদের অনেক আত্মীয়স্বজন থাকে। সবাই কাছাকাছি থাকবে বলে বাড়ি কিনতে চাইছে। নইলে আগের পার্টির মতো এদেরও কলকাতায় কয়েকটা বাড়ি আছে।

    তিথি কোনো কথা বলল না। দাঁতে দাঁত চেপে সামান্য শক্ত হয়ে এক বিদ্রোহী চোখে কনটেসা গাড়িটার দিকে চেয়েছিল। গাড়ির ভিতরে থেকে অভিজাত কুকুরটা গম্ভীর গলায় একবার ধমকে উঠল–হাউপ।

    চারজন ওপরের ঘরে ঢুকতেই চারজনের সৌন্দর্যে ঘর যেন আলো হয়ে গেল। পোশাকে ছড়ানো বিদেশি সুবাসে ম-ম ম-ম করতে লাগল বাতাস। আজও খুব শীত। দীর্ঘকায় প্রৌঢ়ের গায়ে উটের রঙের একখানা পুলওভার। চুল কাঁচায়-পাকায়। কিন্তু শক্ত কাঠামোর পোক্ত চেহারা। মহিলা এদেশি না-বিদেশি তা বোঝা যায় না। চুল কালো, চোখের তারা কালো, তবু যেন ভারতীয় ভাবটা নেই। পরনে শাড়ি, গায়ে একখানা কাশ্মীরি গরম-কোট। মেয়ে দু-জনের বয়স আঠারো-উনিশ এবং পিঠোপিঠি। দু-জনেই লম্বা এবং চমৎকার জোরালো চেহারা। মেয়ে দু-জনের চোখে একটু অবাক চাউনি, চারদিক ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘরের সাজসজ্জা দেখছে। মহিলা একটু অহংকারী মুখ নিয়ে তাচ্ছিল্যের চাউনি হানল এদিক-ওদিক। লোকটি খুব ভাবুক মুখে বসে রইল সোফায়। আড়াল থেকে সবই দেখল মিলি। পর্দার সামান্য ফাঁক দিয়ে। চট করে সামনে এল না।

    সোমনাথ গদগদ হয়ে বলল, একটু কফি?

    সকলেই প্রায় একযোগে মাথা নেড়ে মানা করল। লোকটি পরিষ্কার বাংলায় বলল, ওসব দরকার নেই।

    মেয়েদের মধ্যে একজন একটু যেন ছেলেমানুষ। ঠ্যাং নাচাচ্ছিল। হঠাৎ সোমনাথের দিকে চেয়ে বলে উঠল, ইজ ইট এ হন্টেড হাউস?

    সোমনাথ একটু হকচকিয়ে গিয়ে বলল, নো নো, হোয়াই উড ইট বি হন্টেড?

    মেয়েটি তার মায়ের চোখের শাসন উপেক্ষা করে বলল, আমি ভূতুড়ে বাড়ি খুব ভালোবাসি। কিন্তু কোথাও আসল ভূতুড়ে বাড়ি দেখিনি।

    সোমনাথ কথাটার কী জবাব দেবে ভাবছিল।

    লোকটা একটু আগ বাড়িয়ে বলল, আমার ছোটো মেয়ে একটু ইমাজিনেটিভ। কিছু মনে করবেন না। এবাড়িতে একটা আনন্যাচারাল ডেথ হয়েছিল শুনেই– এনিওয়ে আই অ্যাম সরি।

    সোমনাথ হেসে বলে, আরে না না, ছেলেমানুষ তো।

    লোকটা উঠল, চলুন বাড়িটা দেখি। জুতো খুলতে হবে কি?

    সোমনাথ বলে, না না, তার দরকার নেই।

    ঠিক এই মুহূর্তে মিলি ঘরে ঢুকল। আজও তার সামান্য সাজগোজ। মুখ সপ্রতিভ। জোর করে হাসছে। অত্যন্ত আড়ষ্টভাবে হাতজোড় করে একটা নমস্কার করল, কিন্তু কাকে করল তা সে নিজেও জানে না, অন্যরাও বুঝতে পারল না। তবে মিলি এটা বুঝল, সে ঘরে ঢোকামাত্র মহিলার মুখখানা কঠিন হয়ে গেল। মেয়েদের বিদ্বেষ মেয়েরাই সবার আগে টের পায়।

    মিলি যে ছোটোখাটো, মিলি যে তিন ছেলে-মেয়ের মা এটা গৌণ হয়ে যায় তার দিকে পুরুষেরা যখন তাকায়। পুরুষটির তীব্র উত্তপ্ত চোখ যে পাগলের মতো তার সর্বাঙ্গে তদন্ত করছে তা টের পেতে তার পুরুষটির দিকে তাকাতেও হল না।

    মেয়ে দু-টিও তার দিকে হাঁ করে চেয়েছিল। ছোটো মেয়েটি হঠাৎ বলেই ফেলল, ওঃ ইউ আর বিউটিফুল।

    কামুক পুরুষ আর ঈর্ষাপরায়ণা নারীর চোখের সামনে থেকে সরে যাওয়ার জন্যই পিছিয়ে গেল মিলি। অস্ফুট স্বরে বলল, আপনারা সব দেখে নিন, তারপর কথা হবে।

    সোমনাথ অত্যন্ত ব্যগ্রভাবে বড়োলোক খদ্দেরকে বাড়ি দেখাতে নিয়ে চলল। ঘর থেকে ঘরে। ছাদে, ব্যালকনিতে। সবশেষে নীচের ঘরে।

    লোকটি সর্ব প্রথমেই সঞ্চারিকে লক্ষ করল।

    হার ডটারস অ্যাণ্ড সন?

    ইয়েস ইয়েস।

    সঞ্চারির দিকে চেয়ে লোকটি বলে, তোমার নাম কী?

    সঞ্চারি দত্ত।

    আর তোমাদের?

    তিথি তার নাম বলল না। বুক্কা বলল। তিথি টের পেয়েছিল, শুধু সঞ্চারির নামটা জেনে নেওয়াই লোকটার দরকার ছিল। তাদের নাম না-জানলেও ওর চলবে।

    মহিলা অত্যন্ত কঠিন চোখে সঞ্চারিকে দেখল, কথা বলল না। শুধু ছোটো মেয়েটি তিথির দিকে চেয়ে বলল, অ্যাথলেটিকস?

    তিথি মাথা নাড়ল।

    মেয়েটি বলল, আমি খুব নাচি, ভরতনাট্যম। এঘরটা কার?

    আমার বাবার।

    ও গড! দিস ইজ দা রুম হোয়ার দি ইনসিডেন্ট টুক প্লেস!

    তিন ভাই-বোন মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। বুক্কা বলল, হ্যাঁ।

    লোকটি সঞ্চারিকে বলে, বাগানটা একটু দেখাবে? চলো না।

    সঞ্চারি সাগ্রহে বলল, চলুন।

    মহিলা স্বামীর দিকে সাপিনীর চোখে তাকিয়ে ছিল। লোকটা নিঃসঙ্কোচে হাত বাড়িয়ে সঞ্চারির একটা হাত ধরে বলল, চলো।

    মহিলা তার দুই মেয়ের দিকে তাকিয়ে দ্রুত হিন্দিতে যা বলল তার অর্থ বুঝতে তিথির অসুবিধে হল না, আমরা গাড়িতে গিয়ে বসি। নাটক শেষ হোক।

    প্রকৃত নাটক শেষ হল আরও দশ মিনিট বাদে। সোমনাথ ওদের গাড়িতে তুলে দিয়ে এসে ছুট-পায়ে দোতলায় উঠে বলল, ছোড়দি! বিগ অফার। বারো লাখ। তার চেয়েও ভালো খবর, লোকটা এখনই পেমেন্ট করবে, কিন্তু তোদের আরও এক বছর এ বাড়িতে থাকতে দেবে।

    মিলি ফ্যাকাশে মুখে সামনের ঘরে বসেছিল। স্তিমিত গলায় বলল, থাকতে দেবে? কেন থাকতে দেবে?

    আসলে বোধহয় তোদের অবস্থা শুনে লোকটার সিমপ্যাথি হয়েছে। ভালো লোক।

    অফারটা আমার ভালো লাগছে না।

    কেন বলো তো!

    সব তোকে বলা যায় না। ভালো লাগছে না, ব্যস।

    বিকেলের দিকে আরও একজন আসবে, কথা আছে। নীচের ঘরে বুক্কা তিথি আর সঞ্চারি বসে আছে। বুক্কা বলল, এ লোকটা বাঙালি। এ খুব দরকষাকষি করবে, দেখিস।

    তোকে কে বলল, বাঙালি। সঞ্চারি বিরক্ত হয়ে বলে।

    আমি সব জানি। অ্যাপয়েন্টমেন্ট চারটেয়। মামা অবশ্য এ লোকটাকে তেমন ইম্পর্ট্যান্স দিচ্ছে না।

    তিথি তার দাদা ও দিদির কথার মধ্যে নেই। সে শুনছে, বাইরে এই শীতের দুপুরে সেই কোকিলটা হঠাৎ ডেকে উঠল। আর হাওয়া এল উলটোপালটা। গাছের মরা পাতা, একটা পোড়া গন্ধ আর বিষণ্ণতা নিয়ে হাওয়া ছুটছে এদিক-সেদিক।

    সিঁড়ির মুখ থেকে বাসন্তী ডাকল, তোমরা খেতে আসবে না? মা আর মামা বসে আছে তোমাদের জন্য।

    খাওয়ার কথা তাদের মনেই ছিল না। জিভ কেটে সঞ্চারি ছুট লাগাল। পিছন পিছন বুক্কা।

    তিথি বসে রইল খানিকক্ষণ।

    খাওয়ার টেবিলেই কথাটা তুলল তিথি, আমাদের প্রাইভেসি নষ্ট হচ্ছে মা। যে খুশি এসে আমাদের ঘরে ঢুকে পড়বে কেন?

    সোমনাথ মুরগির ঝোল দিয়ে ভাত মাখছিল। বলল, বেশি দিন নয়। আজকের বিকেলটা শুধু। যে তিন পার্টি এনেছি এরাই কেউ প্রসপেকটিভ বায়ার।

    এরা যদি কেউ না-কেনে?

    সোমনাথ মাথা নাড়ল, কিনবেই। আজ সকালে যে এসেছিল সে হল সিং এন্টারপ্রাইজের মালিক। এক বছর বাড়ি ক্লেম করবে না। আমি তো বলি, ইটস এ ভেরি গুড অফার।

    কেন কে জানে মিলির খাওয়া থেমে গেল। বড়ো টেবিলের এক প্রান্তে বসে সে তার নিরামিষ বিস্বাদ ভাত-তরকারি ফেলে হঠাৎ উঠে গেল। মাছ মাংস বড্ড প্রিয় ছিল মিলির। বিপ্লব দত্ত মারা যাওয়ার পর থেকে সে পাট উঠেছে। মিলির খাবারে এখন কেবলই বিস্বাদ।

    মিলির পরেই উঠে গেল তিথি। সে অবশ্য খুব মেপে খায়। ক্যালোরি হিসেব করে। সেদ্ধ ছাড়া কিছুই খেতে চায় না। সে নীচের ঘরে এসে একা চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে রইল। হঠাৎ বসে থাকতে থাকতেই তার মাথায় চিড়িক দিল একটা।

    নিঃশব্দে সে ফের দোতলায় উঠে এল। সকলের খাওয়া শেষ হয়ে গেছে। রান্নাঘরে বসে একা খাচ্ছে বাসন্তী।

    বাসন্তীদি!

    বাসন্তী মুখ তুলে বলে, কী বলছ?

    একটা কথা সত্যি করে বলবে?

    কী কথা?

    তুমি সত্যিই বাবাকে দেখতে পাও?

    ও মাগো! আবার ওসব কথা কেন?

    পাও কিনা বলো না!

    পস্ট করে দেখিনি বাবা, তবে দেখেছি।

    ঠিক দেখেছ?

    ঠিক দেখেছি। ভাবতে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে এখনও। দেখো না আমার গা।

    তবে আমি দেখতে পাই না কেন?

    তোমার বুকের পাটা আছে বাপু। ও ঘরটায় একা একা কী করে থাকো? আমি হলে তো ভয়ে মরে যেতুম। তোমার বাবা এখনও এবাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। মায়ার টান তো।

    তিথি ঘরে এসে অনেকক্ষণ ভাবল। তারা ছেলেবেলা থেকে ভূতটুত মানে না। তবে ভূতের গল্প পড়া বা শোনা-এর একটা মজার দিক আছে। তার বেশি কিছু নয়। আজ সে কী করে বিশ্বাস করবে যে, বাবা এখনও অন্য এক ধরনের অস্তিত্ব নিয়ে আছে? যদি থাকত তাহলে তিথি ভয় পেত না। বরং তার কিছু উপকার হত।

    বিকেলে যে-লোকটা এল সে এল একা। এল বাসরাস্তা থেকে পায়ে হেঁটে। বয়স ত্রিশ বা তার ওপরে। খেটে-খাওয়া মানুষের মতো চেহারা। পোশাকের তেমন পারিপাট্য নেই। ধুতি পাঞ্জাবি চপ্পল। তাকে কেউ অভ্যর্থনা করেনি। ফটকের বাইরে থেকেই উঁচু গলায় জিজ্ঞেস করল, কে আছেন?

    তিথিই উঠে গেল, কাকে চান?

    এটা বিপ্লব দত্তের বাড়ি তো!

    হ্যাঁ, এটাই।

    বাড়িতে কুকুর নেই তো!

    না।

    আমার নাম অমিত গুহ। ভিতরে আসতে পারি?

    তিথি বুঝল এ লোকটারই আসবার কথা ছিল। মামার কাছে যেন নামটাও শুনেছে। তিথি লোকটাকে দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ঘ্যাম সব লোক এসে গেছে বাড়ি কিনতে। এ তো পুঁটিমাছ। বুক্কা ঠিকই বলেছিল, এ খুব দরকষাকষি করবে। শেষ অবধি হালে পানি পাবে না।

    তিথি অবহেলাভরে বলল, আপনি দোতলায় উঠে যান। ওখানে আমার মামা আছেন। তিনিই কথা বলবেন।

    লোকটার গমনপথের দিকে চেয়ে একটু হাসল তিথি। নার্ভাস, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এবং অবশ্যই অ্যাডভেঞ্চারাস। নইলে দশ থেকে পনেরো লাখ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে যে বাড়ির দর, তার ডাউন পেমেন্টের কথা মাথায় রেখেও বাঙালিটা সাহস পায় কী করে?

    ওপরতলাতেও তার অভ্যর্থনা তেমনতরো হল না। সোমনাথ এই প্রথম গম্ভীর মুখে একজন হবু খদ্দেরকে রিসিভ করল। বলল, আসুন।

    অমিত গুহর হাবভাব নিতান্তই মধ্যবিত্ত বাঙালির মতো। মুখে সংকোচ, দ্বিধা, ভয়মিশ্রিত বিনয়ী একটু হাসি, আত্মবিশ্বাসের অভাব। আগের খদ্দেরদের যে আভিজাত্য এবং দম্ভমিশ্রিত তাচ্ছিল্য ছিল এর তা তো নেই-ই, বরং যেন অপরাধী ভাব। গরিবরা বড়োলোকদের বাড়িতে ঢুকে যেমনটা বোধ করে তেমনই সংকোচ।

    সোমনাথ একটু নীচু নজরেই যুবকটিকে লক্ষ করে বলল, আপনার শীত করে না?

    অপ্রতিভ অমিত গুহ একটু হেসে বলে, কলকাতায় আর তেমন শীত কই? গরম জামা আনিনি বলে বলছেন? গায়ে উলিকট আছে। বেশ গরম।

    সোমনাথের একটু ভাতঘুম হয়েছে। হাই উঠছিল। বলল, বলুন। বাড়িটা সত্যিই কিনতে চান? দাম কিন্তু অনেক উঠে গেছে। আমরা অপেক্ষা করছি আরও একটু বাড়ার জন্য।

    কত উঠেছে?

    সোমনাথ নিঃসংকোচে মিথ্যে কথাটা বলে ফেলল, পনেরো লাখ।

    ছেলেটা সোফায় বসে পকেট থেকে রুমাল বের করে মুখটা মুছে বলল, এরকমই ওঠার কথা। আজকাল কিছু মানুষের পকেটে অঢেল টাকা।

    বাড়িটা কি দেখবেন?

    অমিত গুহ মাথা নেড়ে বলে, না না। বাড়ি দেখার দরকার নেই।

    না দেখেই কিনবেন?

    অমিত মাথা নেড়ে বলে, না না। তবে এবাড়ি আমার দেখা।

    দেখা!

    হ্যাঁ। কনস্ট্রাকশনের সময় আমি নিজে সুপারভাইজ করেছিলাম। বি সেন অ্যাসোসিয়েটস এর প্ল্যান করেছিল। প্ল্যানিং-এর ব্লু প্রিন্ট আমার এখনও মনে আছে।

    বিস্মিত সোমনাথ বলে, তাই বলুন! তাহলে অবশ্য বাড়িটি আপনার অদেখা বাড়ি নয়। চা খাবেন?

    খাব। তার আগে একটু জল। ঠাণ্ডা হলেই ভালো। আমি ঠাণ্ডা জল খুব ভালোবাসি।

    এই শীতেও?

    আজ্ঞে।

    সোমনাথ বাসন্তীকে হুকুম দিয়ে এসে বসল, এ বাড়ি সম্পর্কে আপনার এস্টিমেট কী?

    দর বলছেন? না কি ভ্যালুয়েশন?

    দর। কত হতে পারে এ বাজারে? আপনার লিমিট?

    অমিত গুহ মলিন মুখে মাথা নেড়ে বলে, ভেবে দেখিনি। তবে খারাপ হবে না। আপনাদের দলিলটা কই?

    সোমনাথ মাথা নেড়ে বলে, দলিলটা বের করা হয়নি এখনও। সার্টিফায়েড কপি আছে।

    ছেলেটি মাথা নত করে বলে, যতদূর জানি দলিলটা বের করেছিলেন বিপ্লববাবু।

    তাহলে আছে কোথাও। দলিল নিয়ে ছোড়দির সঙ্গে কথা বলিনি। ওর কাছেই থাকবে তাহলে। সার্চিং-এর জন্য তো?

    না না। সল্ট লেক-এ সার্চিং-এর দরকার হয় না সেটা আমি জানি। এখানকার জমি-বাড়ি আউটরাইট সেল করাও যায় না।

    সোমনাথ বুঝদারের মতো মাথা নেড়ে বলে, এসব তো আপনার জানাই।

    ট্রেতে এক গেলাস হিমশীতল জল আর চা নিয়ে বাসন্তী ঘরে এল। অমিত সাগ্রহে জলটা নিয়ে ছোটো ছোটো চুমুকে খেতে লাগল। তারপর ঢকঢক করে। চা শেষ করার আগে সে কোনো কথাই বলল না। অনেকটা সময় ভাবুক দৃষ্টিতে চেয়ে রইল। সে চাউনির মধ্যে একটা স্মৃতিচারণের ভাব রয়েছে। যেন অনেক কিছু মনে পড়ছে তার। অমিত গুহর চোখে কিছুক্ষণ পলক পড়ল না।

    তারপর সোমনাথের দিকে চেয়ে বলল, এ বাড়িটা করার সময় বিপ্লববাবুর খুব অর্থকষ্ট যাচ্ছিল। মিলিটারি থেকে আরলি রিটায়ারমেন্ট পেয়েছিলেন, কিন্তু হাতে টাকা ছিল না। বোধহয় জানেন উনি সে-সময়ে একটা পুরোনো ছোটো কারখানা কিনেছিলেন। অভিজ্ঞতা ছিল না বলে অনেক টাকা নষ্ট হয়, জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়।

    –হ্যাঁ, জানি। আমরা জামাইবাবুকে সেজন্য বেশ বকাবকিও করেছি।

    আপনারা হয়তো এটাও জানেন যে, উনি ফিলম প্রোডাকশনেও কিছু টাকা ঢেলেছিলেন। সেটাও জলে গিয়েছিল।

    সোমনাথ অবাক হয়ে বলে, না তো, এটা জানতাম না।

    আমাকে উনি সবই বলতেন। দুঃখের কথা বলার মতো একজোড়া ধৈর্যশীল কান তো আজকাল পাওয়া যায় না। সিমপ্যাথি দেখানোরও দরকার নেই, শুধু শুনলেই মানুষ খুশি হয়, হালকা হয়। আমি শুনতাম। এই বাড়ি তখন তৈরি হচ্ছে। উত্তর দিকে মালপত্র রাখার একটা শেড ছিল। সেখানে একটা বেঞ্চে বসে উনি অনেক কথা বলে যেতেন। হয়তো সেসব কথা ফ্যামিলিতে বলার অসুবিধে ছিল বা বললেও তা শোনার মতো ধৈর্য কারও ছিল না।

    সোমনাথ বিরক্ত হয়ে বলল, তা কেন? ফ্যামিলির কাছে উনি যথেষ্ট ফ্র্যাঙ্ক ছিলেন বলেই তো জানি। কিন্তু এসব কথা এখন আর বলেই বা লাভ কী?

    অমিত মাথা নেড়ে বলল, না, লাভ নেই। বরং ক্ষতি। আমি শুধু বলতে চাইছি সে-সময়ে এরকম একখানা বাড়ি তৈরি করার মতো টাকা ওঁর হাতে ছিল না।

    সেটাও কিন্তু আমাদের অজানা নয়। জামাইবাবু ধার করেছিলেন। কিছু ধার এখনও রয়ে গেছে। বিক্রি করে সেগুলো আমরা শোধ দেব।

    কেমন যেন একটা কাষ্ঠ হাসি হেসে অমিত বলল, বিক্রি করবেন।

    সোমনাথ অবাক হয়ে বলে, হ্যাঁ, বিক্রি করব বলেই তো আপনি এসেছেন।

    অমিত কেমন যেন অসহায় চোখে চেয়ে থেকে বলল, তা জানি। কিন্তু আপনারা আরও একটু ভাবুন।

    কী ভাবব? ভাববার কী আছে বলুন তো! এত বড়ো বাড়ির ট্যাক্স, মেনটেনেন্স, লোন এত সব মিট আপ করা তো সহজ কথা নয়। জামাইবাবু তো কেটে পড়লেন লাইক এ কাওয়ার্ড। পড়ে রইল শুধু লায়াবিলিটিজ।

    খুবই নরম গলায় অমিত বলে, কাওয়ার্ড আমরা সবাই।

    চা শেষ করে অমিত তার পকেট থেকে একটা ভিজিটিং কার্ড বের করে সেন্টার টেবিলে রেখে বলে, যা দাম উঠেছে তা আমার পক্ষে বড্ড হাই। তবে যদি কোনো কারণে বায়াররা না-নেয় তাহলে আমাকে একটা খবর দিলে খুশি হব।

    আপনি তো কোনো দর দিলেন না!

    অমিত যেন খুব লজ্জা পেয়ে বলল, সেটা বলতেও লজ্জা পাচ্ছি। পরে দেখা যাবেখন।

    অমিত গুহ হঠাৎ উঠে পড়ল। সামান্য ভদ্রতাসূচক কী একটু অস্ফুট গলায় বলে বেরিয়ে গেল।

    মিলি শুয়েছিল, উঠে এল এঘরে। বলল, কে রে লোকটা?

    পাগল! পাগল! জামাইবাবুর চেনা, এবাড়ি কনস্ট্রাকশনের সময়ে সুপারভাইজ করত। তুই দেখেছিস কখনো? নাম অমিত গুহ।

    মিলি মাথা নেড়ে বলে, কনস্ট্রাকশনের সময় আমি মাত্র তিন-চারবার এসে দেখে গেছি। ও নামের কাউকে মনে নেই। ও কি বিপ্লবের বন্ধু?

    না। বয়সের তো অনেক তফাত, বন্ধু হয় কী করে? তবে ভাব ছিল, ওকে নাকি দুঃখের কথাটথা বলত। আচ্ছা, তুই কি জানিস জামাইবাবু কখনো ফিলম করতে গিয়ে টাকা নষ্ট করেছিল?

    মিলি গম্ভীর মুখে মাথা নেড়ে বলে, না। আমাকে ও কোনও কথা বলত নাকি? কোনো ব্যাপারে কোনো পরামর্শও নিত না। নিজে যা ভালো বুঝত করত। আমাদের জীবনটা ওই কারণেই তো বিষ হয়ে গেল। কত টাকা নষ্ট করেছে বলল?

    চিন্তিতভাবে সোমনাথ বলে, অ্যামাউন্ট বলেনি। তবে ফিলম ইজ এ বিগ বিজনেস। টাকাটা কম হবে না।

    আর কী বলছিল?

    ওরিজিন্যাল দলিল আছে কিনা জিজ্ঞেস করছিল। আছে তোর কাছে?

    না। শুধু সার্টিফায়েড কপি।

    দলিলটা তাহলে কোথায়?

    যতদূর জানি ওরিজিন্যালটা এখনও আমাদের হাতে আসেনি। ও যেন ওরকমই বলেছিল।

    কিন্তু এ ছোকরা তো বলে গেল দলিল আছে, অনেক আগেই জামাইবাবু বের করেছে। তাহলে দলিল গেল কোথায়? জামাইবাবুর ঘরে নেই তো?

    দাঁতে ঠোঁট চেপে অভিমানে কান্নায় রাঙা হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল মিলি। আজ কতখানি অপমানিত সে, কতখানি অসহায়। একজন মানুষের সঙ্গে এতদিন ঘর করে, তার ছেলে-মেয়ে গর্ভে ধারণ করে, একই ছাদের তলায় বসবাস করেও লোকটার প্রায় কিছুই সে জানে না। লোকটা তাকে জানায়নি। মিলি সহজে কাঁদে না। আজও কান্নার ভঙ্গুর সীমানায় দাঁড়িয়ে টলমল করতে লাগল। ভেঙে পড়ল না শেষ অবধি।

    সোমনাথ টয়লেটে গিয়েছিল। ফিরে এসে সোফায় বসে বলল, খুঁজে দেখিস তো। সল্টলেক-এর জমির ভেণ্ডার হচ্ছে সরকার। দলিল নিয়ে কোনো গণ্ডগোল থাকার কথাই নয়।

    ছেলেটা আর কী বলল?

    সোমনাথ মাথা নেড়ে বলল, আর ওই পুরোনো কথাটথা বলছিল আর কী। ফ্যামিলিতে জামাইবাবু মনের মানুষ পায়নি, দুঃখের কথা শোনার কেউ ছিল না, এইসব আর কী।

    বাড়ি কিনতে এসে ওসব কথা কেন?

    কে জানে কেন। তবে মনে হচ্ছিল, আরও কিছু বলতে চায়। সেটা শেষ অবধি চেপে গেল। টাকা-ফাকা বিশেষ নেই ছোকরার। শুধু আম্বা আছে। দর শুনে ভয় পেয়েছে মনে হল।

    মিলি ভাবছিল অন্য কথা। ওই ছেলেটার কাছে বিপ্লব দত্ত আর কী বলেছে? আর কোন গোপন কথা জানে ওই অমিত গুহ? একজন স্ত্রীর পক্ষে এটা কতখানি অপমানের তা যদি অন্যে বুঝত!

    দ্বিতীয় শোওয়ার ঘরে বড়ো খাটে সঞ্চারি আর বুক্কা ঘুমোচ্ছ। বুক্কা একখানা স্পোর্টস ম্যাগাজিন পড়ছিল বোধ হয়, এলানো হাতে সেটা এখনও ধরা। সঞ্চারির নাইটি হাঁটুর ওপর উঠে গেছে। মিলি ম্যাগাজিন সরিয়ে নিল, নাইটি ঠিক করল, তারপর ওদের ঘুমন্ত মুখগুলি দেখল। এগুলো কোনো জরুরি কাজ নয়। মিলি তার সন্তানদের দিকে চেয়ে ভাবছে, এরা তার কতখানি আপনজন? বিপ্লব দত্তের কিছুটা আর মিলির কিছুটা নিয়ে মিলেমিশে এরা তৈরি। তবু এরা আসলে কার? আপনজন কথাটাই এখন ভাবছে মিলি। সন্দেহ হচ্ছে, বিপ্লব দত্তের মতো এরাও তার ঠিক আপনজন নয়।

    সোমনাথ সামনের ঘরে সোফায় একটু কেতরে শুয়ে চোখ বুজে আছে। বোধহয় ভাতঘুম।

    মিলি ধীরে ধীরে নীচে নেমে এল। তিথি তার বাবার চেয়ারে বসে একখানা বই পড়ছে। ছুটির দুপুরে তিথি ঘুমোয় না।

    কী করছিস?

    মা! এসো। তোমাকে এরকম ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে কেন?

    আমাদের বাড়ির দলিলটা কোথায় জানিস?

    না তো! তোমার কাছে নেই?

    না। তোর বাবা আমাকে যেটা দিয়েছিল তা সার্টিফায়েড কপি।

    তাহলে ওরিজিন্যালটা কোথায়?

    জানি না। এঘরে আছে কিনা খুঁজে দেখবি একটু? ডেসকে বা বুক কেসে?

    দেখব মা। জমি আর বাড়ির কি দুটো আলাদা দলিল?

    আমি অত জানি না। আমাকে একটা ফাইল দিয়েছিল, তার মধ্যে ছিল। আমি কি ওসব কচকচি বুঝি? যতদূর মনে হয়, দুটো দলিল। তোর বাবা বলেছিল, ওগুলো ওরিজিন্যাল নয়, তবে অ্যাজ গুড অ্যাজ ওরিজিন্যাল।

    একটা লোক এসেছিল একটু আগে।

    দেখা হয়েছে?

    অমিত গুহ তার নাম। আমার সঙ্গে হয়নি। সোমনাথের সঙ্গে কথা বলে গেছে। সেই ছেলেটাই দলিলের খোঁজ করছিল। সে নাকি তোর বাবাকে চিনত। এবাড়ি তৈরির সময় নাকি ছেলেটা সুপারভাইজ করত।

    তিথি চুপ করে রইল। তার গম্ভীর মুখটার দিকে চেয়ে রইল মিলি। এ মেয়েটা তার আরও পর। তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিথির সঙ্গেই তার সম্পর্ক সবচেয়ে আলগা, সবচেয়ে দূরত্বের। তিথি কখনো দুর্ব্যবহার করে না তার সঙ্গে, কথা শোনে এবং ভদ্র ব্যবহারও করে। কিন্তু কোনো উত্তাপ নেই। যেন পাশের বাড়ির মেয়ে। বিপ্লব দত্ত মারা যাওয়ার পর সন্তানদের মধ্যে এই অনাত্মীয়তা বড্ড বেশি টের পায় মিলি। অথচ উলটোটাই তো হওয়ার কথা! বাবা মারা গেলে সন্তানেরা কি আরও আঁকড়ে ধরে না মাকে?

    মিলির একটু কথা কইতে ইচ্ছে করছিল তিথির সঙ্গে। কিন্তু লাভ কী? অতিশয় ভদ্র গলায় এবং শান্তভাবে তিথি তার প্রশ্নের জবাব দেবে, যতটুকু বলার ততটুকু বলবে, কিন্তু কখনো কোনো আবেগ দেখাবে না।

    মিলি তাই ভাবতে ভাবতে ফিরল। সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠতে উঠতে সে কেবল তার ছেলে-মেয়ের কথাই ভাবে। বুক্কা ছিল নেই-আঁকড়ে, মায়ের কোল-ঘেঁসা। বাবা চলে যাওয়ার পর সে যেন রাতারাতি সাবালক হল। সঞ্চারি আগে মিলির সঙ্গে বসে সাতকাহন বকত। কলেজের কথা, বান্ধবীদের কথা। আজকাল সে কেন মুখে কলুপ এঁটেছে?

    সোমনাথ পোশাক পরে তৈরি। মিলিকে দেখে বলে, আজ চলি রে ছোড়দি। দলিল-টলিল একটু খুঁজে রাখিস।

    মিলি কিছু বলল না। সোমনাথ চলে গেলে সে সেন্টার টেবিলে পড়ে থাকা ভিজিটিং কার্ডটা তুলে দেখল। কী হবে আর এ কার্ডটা দিয়ে? আনমনা মিলি কার্ডটা দু-ভাগে ছিঁড়ল। চার ভাগে অবশ্য চেষ্টা করেও ছেঁড়া গেল না। শক্ত জাতের কার্ড। আর মিলিও দুর্বল। ফেলে দিল টেবিলের ওপরেই।

    .

    ০৬.

    তিথির চুয়িংগাম থাকে ফ্রিজে। ঠাণ্ডা চুয়িংগাম মুখে নিয়ে দাঁতে পিষতে পিষতে সে বিকেলে দৌড়োয়।

    চারটে বেজে গেছে। তিথি তার ট্র্যাক সুট আর দৌড়ের জুতো পরে নিয়ে তর তর করে লঘু পায়ে উঠে এল দোতলায়। ফ্রিজ খুলে চুয়িংগাম বের করে সে মোড়ক খুলল। তিথি খুব ডিসিপ্লিন মানে। কখনো যেখানে-সেখানে জিনিস ফেলে না। রান্নাঘরের দরজায় ট্র্যাশবিন রাখা আছে। সেখানে মোড়কের কাগজটা ফেলে সে বেরোনোর সময় দেখতে পেল সেন্টার টেবিলে ছেঁড়া দোমড়ানো কার্ডটা পড়ে আছে। বিরক্তিতে ভ্রূ কোঁচকাল তার। এবাড়ির সকলেই একটু অসতর্ক। সে টুকরো দুটো তুলে ট্র্যাশবিনে ফেলতে গিয়েও ফেলল না। অমিত গুহ। টিকটিক! অমিত গুহ! টিকটিক। কিছু একটা মনে পড়ছে। এ লোকটার পরিচয় ছিল বাবার সঙ্গে। এমনও তো হতে পারে…

    ট্র্যাক স্যুটের পকেটে টুকরো দুটো ভরে নিয়ে তিথি লঘু পায়ে বেরিয়ে পড়ে।

    খোলা আকাশের নীচে চওড়া পথ ধরে ছুটতে কী যে ভালো লাগে তিথির তা বলার নয়। আর দৌড়। দৌড়ের মতো এমন মন-ভোলানো ব্যাপার আর কিছুই নেই তার কাছে। যখন সে দৌড়োয় তখন বিভোর হয়ে যায়। তার শরীরে গতির জোয়ার বয়ে যেতে থাকে। এক শিহরিত আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বাঙ্গে। হরেক অ্যাথলেটিকস মিট-এ হাত ভরে প্রাইজ পায় তিথি। দোতলায় একখানা ঘর তার প্রাইজে বোঝাই। কিন্তু প্রাইজটা তার কাছে বড়ো জিনিস নয়, ফার্স্ট সেকেণ্ড হওয়াও নয়। দৌড়ের মধ্যে যে আনন্দ সে পায় তার তুলনায় প্রাইজ আর কতটুকু?

    বিপ্লব দত্ত প্রায়ই বলত, আগের জন্মে তুই বোধহয় হরিণ ছিলি। এত ভালো দৌড়োস কী করে? যখন দৌড়োস তখন ঠিক মনে হয় একটা হরিণ ছুটছে।

    এইসব রাস্তায় একসময়ে তার বাবার সঙ্গে দৌড়োত তিথি। বিপ্লব দত্ত অবশ্য এত জোরে দৌড়োত না। বয়স, সামান্য মেদজনিত মন্থরতা ছিল। তবু মেয়ের সঙ্গে খানিকটা দৌড়োতে রোজই যেত বাবা। পরনে সাদা শর্টস, গায়ে সাদা টি শার্ট, পায়ে দৌড়ের মোটা সোলের নরম জুতো। আজও তিথির মাঝে মাঝে মনে হয়, বাবা বুঝি একটু পিছনেই আসছে।

    সল্টলেক-এ এখনও বেশ কিছু ফাঁকা জমি। পক্ষীনিবাস, পার্ক, গাছপালা, সবুজ মাঠ, বিশুদ্ধ কুয়াশা, তারা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল এখানে। এ জায়গা ছেড়ে কোথাও যে কখনো চলে যেতে হবে তা তো ভাবেনি। এখন কোথায় যাবে তারা? কোন গলিঘুজির মধ্যে, খুপরি খুপরি ঘরে?

    বেলা ডুবে যাচ্ছে দ্রুত। তিথি যেন তার শেষ দৌড় দৌড়োচ্ছে। লম্বা লম্বা পায়ে, জোরালো পদক্ষেপে। ঘন শ্বাস, পেশিতে পেশিতে টানটান ব্যথা। তবু দৌড়োয় তিথি। যতদূর যাওয়ার কথা নয় তত দূর দূর চলে যেতে থাকে। যেন আর ফিরে যাওয়া নেই।

    যখন ফিরল তিথি তখন তার শরীর ভেঙে আসছে ক্লান্তিতে। ট্র্যাক সুট এই শীতেও ভিজে ন্যাতা হয়ে গেছে ঘামে। ঘরে এসে পোশাক পালটে সে ফ্যান চালিয়ে হাওয়ায় বসল কিছুক্ষণ। ট্র্যাক সুটের পকেট থেকে কার্ডের টুকরো দুটো বের করে টেবিলের ওপর রেখে, জুড়ে, নাম আর ঠিকানাটা আর একবার দেখল। তার স্মৃতিশক্তি ফোটোগ্রাফের মতো তীক্ষ্ণ। সবটাই মুখস্থ হয়ে গেছে।

    তাদের ফোনটা ডাউন হয়ে আছে বেশ কিছুদিন। অথচ তিথির মনে হচ্ছে লোকটাকে একবার টেলিফোন করা দরকার। পাশের ব্লকে তিথির এক বন্ধু থাকে। ওদের ফোন আছে।

    তিথি আবার পোশাক পালটে বেরিয়ে পড়ল।

    মিনিট দশেক বাদে টেলিফোনে সে সেই গলাটা শুনতে পেল।

    কে বলছেন?

    তিথি বলল, আমি বিপ্লব দত্তের ছোটো মেয়ে তিথি। একটা কথা জানতে চাই।

    হ্যাঁ, বলুন।

    আমার বাবাকে আপনি চিনতেন বোধহয়!

    ভালোই চিনতাম। একসময়ে তাঁর সঙ্গে খুব ভাব ছিল।

    আপনি এবাড়িটা কিনতে চান কেন?

    কিনতে চাই কে বলল?

    চান না?

    লোকটা একটু চুপ করে থেকে বলল, মানেটা সেরকমই দাঁড়ায় বটে। কিন্তু…

    তিথি সামান্য ধৈর্যহারা হয়ে বলে, আপনি কিছু একটা বলতে চাইছেন না! তাই না?

    অমিত একটু দোনোমোনো করে বলে, সবটা ঠিক বলবার মতোও নয়। থাকগে।

    দেখুন, আমরা বাড়িটা বিক্রি করতে চাইছি না। বিক্রি করতে হচ্ছে বলে আমাদের খুব মন খারাপ। কেউ নেই যে, আমাদের এ ব্যাপারে হেল্প করতে পারে। আপনার যদি কিছু জানা থাকে তাহলে বলে দিন না। প্লিজ!

    অমিত গুহ আবার দোনোমোনো করে বলে, বিপ্লববাবু অনেক কষ্ট স্বীকার করে বাড়িটা করেছিলেন। কষ্টটা আমি চোখের সামনে দেখেছি।

    আমরা জানি। বাবাকে লোন নিতে হয়েছিল।

    আপনি তো বোধহয় সেই ছোট্ট মেয়েটি! আমি যখন আজ বিকেলে আপনাদের বাড়ি গিয়েছিলাম তখন তো আপনার সঙ্গেই দেখা হয়েছিল!

    হ্যাঁ। আমাকে তুমি করেই বলুন না। আমি কিন্তু খুব ছোট্ট নই।

    ঠিক আছে, ঠিক আছে, তুমি খুব ছোট্ট নও মানছি। কিন্তু এই বিষয়-সম্পত্তির ব্যাপারে তুমি কী-ই বা করতে পারবে? এসব বেশ জটিল ব্যাপার। তোমার মামা তো চিন্তা করছেনই।

    মামা ঠিক আমাদের সেন্টিমেন্ট তো বুঝবে না। এবাড়িটাকে যে আমরা কত ভালোবাসি। মামা শুধু বিপদটা দেখছে। আর বিপদ থেকে আমাদের বাঁচাতে চাইছে।

    বিপদ! কীরকম বিপদ তা কি তোমার জানা আছে?

    শুনেছি বাবার অনেক লোন আছে, অনেক পেমেন্ট বাকি আছে। এইসব আর কি। অ্যাসেট বলতে শুধু বাড়িটা।

    বাড়ির জন্য যেসব লোন নেওয়া হয়েছিল তার হিসেব আছে কি?

    আমি অত জানি না।

    তোমরা কি দলিলটা খুঁজে পেয়েছ?

    না। তবে মা আমাকে খুঁজতে বলেছে।

    অমিত গুহ একটু চুপ করে থেকে বলল, খোঁজবার দরকার নেই। কারণ ওটা তোমাদের কাছে নেই।

    তবে কার কাছে আছে?

    আছে কারো কাছে।

    আপনি কেন ফ্র্যাঙ্কলি বলছেন না?

    অমিত গুহ একটু দুর্বল গলায় বলল, ওটা আমার কাছে আছে। তবে ওটা কিন্তু আমি চুরি করিনি।

    আপনার কাছে কেন?

    বিপ্লববাবুই ওটা আমাকে দিয়েছিলেন। মর্টগেজ কাকে বলে জান?

    জানি। বাঁধা রাখা তো!

    হ্যাঁ। বিপ্লববাবু একসময়ে ওটা আমার কাছে বাঁধা রেখে টাকা নিয়েছিলেন। ঠিক আমার কাছেও নয়। আমার বাবার কাছে।

    কত টাকা?

    সে অনেক টাকা।

    আপনাদের কাছে! তাহলে তো বাড়িটা আপনাদেরই হয়ে গেছে।

    ঠিক তা নয়। আমরা তো ক্লেম করিনি।

    এম্মা! তাহলে কী হবে?

    আমি বলি, তোমার মামা আর কোনো বায়ারকে না-ডাকলেই ভালো হয়।

    আপনি মামাকে কিছু বলেননি কেন?

    আমার খারাপ লাগছিল। তোমরা বাড়িটাকে এত ভালোবাসো!

    ভালো তো বাসিই। কিন্তু বাঁধা থাকলে তো কিছু করার নেই।

    শোনো তিথি, এ ব্যাপারটা এখনই কাউকে বলার দরকার নেই। তোমাকে বলে ফেললাম তোমার নার্ভাসনেস দেখে।

    আপনি এখন কী করবেন, বলুন তো! আমরা যদি টাকাটা শোধ দিতে না-পারি?

    আমাদের কোম্পানি সেটা ঠিক করবে। ইট উইল বি এ করপোরেট ডিসিশন। তোমরা হয়তো একটা নোটিশ পাবে। এটা রিমাইণ্ডার। প্রথম নোটিশটা বিপ্লববাবুকে মাস ছয়েক আগে দেওয়া হয়েছিল।

    আমরা তো তা জানি না।

    জানবার কথাও নয়। উনি নোটিশের জবাবে সময় চেয়েছিলেন। ওঁকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল।

    কত টাকার লোন বলতে পারেন?

    লোনটা বড়ো কথা নয়। ইন্টারেস্টটাই মারাত্মক। যত দেরি হয় তত বাড়ে। লাফিয়ে লাফিয়ে।

    অমিত গুহ যেন মজা করছে এমনভাবে বলল। তিথি চারদিকে চেয়ে দেখে নিল একবার। রাকাদের এই ঘরে কেউ নেই। রাকাদের বাড়িতে এমনিতেই লোক কম। রাকা আর তার মা-বাবা। রাকা পাশের ঘরে পড়ছে। তিথি সুতরাং একা। তবু সে একটু চাপা গলায় বলে, আপনি আজ কেন এসেছিলেন বলুন তো! এলেন তবু কিছুই বলে গেলেন না। আমাদের এখন কী ভীষণ অবস্থা!

    অমিত গুহ একটু চিন্তিত স্বরে বলে, আমি ঠিক অফিসিয়ালি যাইনি।

    তাহলে?

    বাড়িটা বিক্রি হবে একরকম একটা গুজব শুনে আমি কন্ট্যাক্ট করি বায়ার হিসেবে। ইচ্ছে ছিল কত দরদাম উঠছে তা আনঅফিসিয়ালি জেনে নেওয়া। আমাদের কোম্পানি যে লোন রিপেমেন্ট ক্লেম করবে সেটার সঙ্গে বাড়ির দামের কত তফাত হচ্ছে সেটা আঁচ করা। কিন্তু এসব অত্যন্ত কমার্শিয়াল ব্যাপার। তোমার বয়স তো বোধহয় বারো-তেরোর বেশি নয়।

    চোদ্দো প্লাস। এ যুগে চোদ্দো অনেকটাই বয়স।

    তাই দেখছি।

    একটা কথা বলবেন? সুদে আসলে কত দাঁড়িয়েছে?

    সঠিক হিসেবে কষা হয়নি। সেটা যাই হোক, ইট ইজ এ ভেরি ভেরি বিগ অ্যামাউন্ট।

    যদি আমরা আরও একটু সময় চাই, দেবেন?

    সময় নিয়ে কী করবে? টাকা শোধ!

    যদি চেষ্টা করি?

    অমিত এ কথায় খুব গলা ছেড়ে অট্টহাসি হেসে উঠতে পারত। হাসিরই কথা। তিথিও টের পাচ্ছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, অমিত হাসল না। বরং খুব সিরিয়াস গলায় বলল, যত সময় নেবে তত চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ বাড়বে। এই কারবারে টাইম ইজ মানি। ভেবে দেখো। টাকাটা কম হলে সুদ গায়ে লাগে না, কিন্তু বিগ অ্যামাউন্ট মানে সুদও অনেক। পারবে?

    চেষ্টা করতে দোষ কী? পার্ট বাই পার্ট যদি দিই?

    এসব অ্যামাউন্ট পার্ট বাই পার্ট দিয়ে সুবিধে নেই। যা শোধ করবে পরের বছর সুদে আসলে আবার ব্যাক টু দি স্কোয়ার ওয়ান হয়ে যাবে। বাঁদরের অঙ্ক কষোনি, তিন হাত ওঠে তো দু-হাত নামে! এখানে তিন হাত উঠলে তিন হাতই নেমে যেতে হবে। লাভ হবে না তিথি।

    তাহলে আমরা কী করব? বাড়ি বিক্রি করে যদি–?

    বাড়ি বিক্রির প্রশ্ন ওঠে না। ওটা যে বাঁধা আছে। তোমার মামা জানতেন না বলে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন।

    আমরা খুব গরিব হয়ে গেছি, তাই না?

    না, তা কেন?

    আজও আমাদের বাড়িতে মুর্গির মাংস হয়েছিল। দু-দিন পর থেকেই হয়তো শুধু ডালভাত।

    না, তোমরা এখনও ততদূর গরিব নও। আরেকটা কথা হল, বিপ্লববাবুও কিন্তু কখনোই বড়োলোক ছিলেন না। তবে উনি বড়োলোকদের মতো থাকতে ভালোবাসতেন।

    আচ্ছা আপনারা বোধহয় খুব রিচ, তাই না?

    আমি নই। তবে আমার বাবা-কাকারা ঝানু ব্যবসাদার।

    আপনাদের কি সুদের কারবার?

    অমিত সামান্য হেসে বলে, তা কেন? আমাদের রোলিং মিল আছে, স্প্রিং তৈরির কারখানা আছে, ডিস্ট্রিবিউটরশিপ আছে, আবার একটা ফিনানসিয়াল চিট ফাণ্ডও আছে।

    আমার বাবা কোনোদিন টাকাকে টাকা বলেই মনে করল না। তবু আমি কিন্তু আমার বাবাকে ভীষণ ভালোবাসি।

    মনে আছে উনিও তোমার কথাই বেশি বলতেন।

    বলতেন? কী বলতেন?

    তুমি যে বাবাকে ভীষণ ভালোবাসো এই কথাটাই বলতেন।

    হ্যাঁ, বাবাকে ভীষণ ভালোবাসি। কিন্তু আমার বাবার কয়েকটা ড্র-ব্যাক ছিল সেটা অস্বীকার করি না।

    ড্রব্যাক আমাদের সকলেরই আছে।

    আচ্ছা দেউলিয়া বলে একটা কথা আছে না? আমরা কি তাই এখন?

    না, এখনও নও। তোমাদের মস্ত অ্যাসেট ওই বাড়িটা। বিপ্লববাবুর অবশ্য একটা কনসালটেন্সি ছিল। সেটার কী অবস্থা জানি না অবশ্য।

    খুব খারাপ। বাড়িভাড়া বাকি পড়েছে। আরও কী কী সব যেন। বোধহয় লায়াবিলিটিজ অনেক বেশি।

    তবু একটু খোঁজ নিতে বোলো তোমার মামাকে কোথাও কোনো বিল ওঁর ডিউ হয়েছে কিনা।

    বলব।

    অবশ্য সাকসেশন সার্টিফিকেট না-পেলে তোমরা কিছুই ক্লেম করতে পারবে না।

    আচ্ছা, এমন কথাও তো কেউ ভাবতে পারে যে আমার বাবা টাকার প্রবলেমে পড়েই সুইসাইড করেছে।

    ভাবাটাই স্বাভাবিক।

    আর সেই প্রবলেমের জন্য আপনারাও খানিকটা দায়ী!

    অমিত সামান্য হাসির শব্দ করল, রাগল না। বলল, আদালত অবশ্য তা বলবে না। এ হল ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ। তবে তোমার কথাটা মর‍্যালি আমি মানছি। বিপ্লববাবু যদি টাকার চিন্তায় আত্মহত্যা করে থাকেন তবে তাতে খানিকটা পরোক্ষ ইন্ধন আমাদেরও ছিল। কিন্তু তুমি এই পয়েন্টটায় বেশি জোর দিও না।

    না, আমি এমনি বললাম। দোষ তো আমার বাবারই।

    তুমি একটা কাজ করো। তোমার বাবার ঘরে খুঁজলে কিছু কাগজপত্র পাবে। আমাদের কাছ থেকে উনি যে টাকা নিয়েছিলেন তার কিছু দলিলপত্রের কপি। ওতে আসল টাকা আর রেট অফ ইন্টারেস্ট আছে। বাড়িতে ক্যালকুলেটর থাকলে তাতে হিসেব করে নিতে পারবে। ওঁর লোন-এ প্রতি তিনমাস অন্তর ইন্টারেস্টটা লোন অ্যামাউন্টে যোগ হত, আরও তিন মাস পর সেই অ্যামাউন্টের ওপর সুদ হয়ে সেটা আবার আসলে যোগ হত। বুঝলে?

    ইস, সে তো সাংঘাতিক ব্যাপার।

    খুব সাংঘাতিক। আমাদের কাছে বড়ো ব্যবসায়ীরা ডেইলি ইন্টারেস্টেও টাকা নেয়।

    বাবার লোনটা কত দিনের পুরোনো?

    বোধহয় সাড়ে তিন বা চার বছর।

    তাহলে বাবা আপনাদের জন্যই সুইসাইড করেছে।

    অমিত একটু ব্যথিত গলায় বলে, পৃথিবীটা দুর্বলদের জায়গা নয়।

    আমার বাবা কিন্তু দুর্বল ছিল না।

    তোমার বাবার কথা বলিনি। আমার কথা বলছি।

    আপনার কথা! আপনার কথা কেন বলছেন?

    কে জানে কেন বলছি। তবে একটা কারণ বোধহয় এই যে, আমি এ ব্যাপারে কিছু করতে পারি না। সবটাই আমার হাতের বাইরে।

    বুঝতে পারছি। আপনার সত্যিই কিছু করার নেই। শুনুন, একবারটি আমাদের বাড়িতে আসবেন তাড়াতাড়ি একদিন?

    কেন বলো তো!

    মুখোমুখি একটু কথা বলব।

    লাভ হবে কিছু তাতে?

    হবে না?

    বোধহয় না। আমার বাবা আর কাকাদের চিট ফাণ্ডের সঙ্গে আমি যুক্ত নই। আমি আলাদা চাকরি করি।

    আমরা কোনো সুবিধে চাইব না।

    তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি সেরকম মেয়েও নয়। আমিও ওসব সুদ-আসলের কারবারে নেই। সত্যি বলতে কি আমি আজ তোমাদের দেখতে গিয়েছিলাম, কোনো সাহায্যে আসতে পারি কিনা সেটাই কনসিডার করতে। কিন্তু মনে হচ্ছে, তোমাদের জন্য আর কিছুই করার নেই। তবে আমি একবার যাব। ডেট দিতে পারছি না। তবে হুট করে একদিন–

    আপনি কি খুব ব্যস্ত মানুষ?

    আমি ইরেকশন ইঞ্জিনিয়ার। হিল্লি-দিল্লি করতে হয়।

    বিদেশেও যান?

    প্রায়ই। আমাদের কাজই বাইরে বাইরে।

    কী তৈরি করেন আপনি?

    বেশির ভাগই বাঁধ। পাগলা নদীকে বাঁধি, জলাধার তৈরি করি। একবার এক আরব শেখ নিয়ে গিয়েছিল তার সুইমিং পুল তৈরি করতে। তাও করেছি হাসিমুখে।

    সুইমিং পুল?

    অবাক হওয়ার কিছু নেই। শেখদের অনেক টাকা। তারা বাকিংহাম প্যালেসও কিনতে চেয়েছিল একবার। চোদ্দো বছরের মেয়ে, তুমি এখনও পৃথিবীর কত কী জান না!

    হঠাৎ কেন চোদ্দো বছরের খোঁটা দিলেন বলুন তো!

    ভাবছি তুমি কত ছোটো। পৃথিবী তোমার কাছে কতই না কঠিন হয়ে উঠেছে! তোমার এখন আনন্দের বয়স, ফুর্তির বয়স। এই বয়সে কোনো মেয়ের এরকম সমস্যা আর দুশ্চিন্তায় পড়া উচিত নয়।

    তিথি একটু চুপ করে রইল। তারপর বলল, বাবার সঙ্গেসঙ্গেই আমার সব আনন্দ চলে গেছে। টাকা নয়, আরাম বা বিলাসিতাও নয়। বাবাই ছিল আমার আনন্দের সবচেয়ে বড় কারণ।

    বুঝেছি।

    আচ্ছা, আপনি কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানেন?

    জানি। কেন?

    আমি জানি না।

    শিখবে?

    খুব তাড়াতাড়ি কি শেখা যায়?

    না। একটু সময় লাগে।

    তাহলে লাভ নেই।

    সব শিক্ষারই একটা বাড়তি সুবিধে আছে। মানিটারি ওয়ার্ল্ডে কখন যে কাকে দরকার হয়।

    চাকরির জন্য নয়।

    তাহলে?

    শুনেছি আমার বাবার অফিসে একটা কম্পিউটার আছে। তাতে বাবা কোন ডাটা ভরে রেখেছে তা জানতে ইচ্ছে করে।

    খুব অবাক হয়ে অমিত বলে, তোমার বাবার কম্পিউটার ছিল নাকি? জানতাম না তো!

    কম্পিউটারটা এখনও আছে, যদি-না বাড়িওয়ালা তালা ভেঙে জিনিসপত্র সরিয়ে দিয়ে থাকে।

    না, তা দেবে না। তাহলে কেস হয়ে যাবে ট্রেসপাসিং-এর জন্য। তোমার ইনফর্মেশনটা নতুন। কম্পিউটারটা আমারও দেখতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কালই আমাকে বোধহয় দুবাই যেতে হবে।

    আপনার কাজটা বেশ, তাই না? আজ এখানে, কাল সেখানে।

    যত মজার বলে মনে হচ্ছে তত মজার নয়, কিন্তু কাজ নিয়ে যাদের ঘুরতে হয় তাদের বেড়ানোটাও হয় কাজের মতো। একবার আফ্রিকায় একটা জলপ্রপাত দেখতে গিয়েছিলাম। গিয়ে সারাক্ষণ কী করলাম জান? শুধু ক্যালকুলেট করলাম। কীভাবে জলটাকে বেঁধে একটা বেসিন তৈরি করে চমৎকার একটা হাইডেল-প্রোজেক্ট বানানো যেত! হিসেব কষতে কষতে জলপ্রপাতটার সৌন্দর্য লক্ষই করলাম না। ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধানই ভানে। বুঝলে?

    বুঝলাম। আপনার সঙ্গে টেলিফোনেই আমার বেশ ভাব হয়ে গেল দেখছি।

    টেলিফোন জিনিসটা অতিচমৎকার। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ইকুইপমেন্ট।

    কম্পিউটার তাহলে কাল হচ্ছে না? কবে ফিরবেন?

    দাঁড়াও। আমার যাওয়াটা কিছু অনিশ্চিত। ওখান থেকে একটা ট্রাঙ্ক কল বা ফ্যাক্স মেসেজ আসার কথা। এলেই বুঝতে পারব যাওয়ার কতটা দরকার। বিপ্লববাবু হঠাৎ একটা কম্পিউটার কিনলেন কেন জান?

    না। বোধহয় বড়ো বিজনেস করবেন বলে।

    আমাদের দেশে কম্পিউটারের দিকে মানুষকে আকৃষ্ট করার একটা কায়দা হয়েছে দেখেছ? কথায় কথায় কম্পিউটার দেখাচ্ছে। কম্পিউটারে নাকি প্যাথলজির পরীক্ষা হয়, কম্পিউটারে চোখ পরীক্ষা হয়, কম্পিউটারে ভাগ্যগণনা অবধি হচ্ছে। সব বোগাস। বোঁদা কম্পিউটারগুলো আসলে ডাটা ব্যাংক। ইনফমেশন স্টোর করা ছাড়া আর র‍্যাণ্ডম অ্যাকসেস দেওয়া ছাড়া কী করতে পারে বলো তো।

    আমি কিন্তু কম্পিউটারের কিছুই জানি না।

    ঠিক আছে, কাল দুবাই গেলেও আমি তো যাব রাতের প্লেনে। দিনের বেলা একটু সময় করে নেওয়া যাবে। অফিসের চাবি কি তোমাদের কাছে আছে?

    আছে।

    তাহলে আমি কাল সকালে তোমাকে ফোন করব।

    আমাদের ফোন খারাপ। আমি বন্ধুর বাড়ি থেকে ফোন করছি আপনাকে।

    তাহলে?

    কাল আমার স্কুলও আছে।

    স্কুল কখন ছুটি হয়?

    সাড়ে চারটের।

    ও কে। স্কুল থেকে সোজা তোমার বাবার অফিসে চলে এসো।

    .

    ০৭.

    বিপ্লব দত্তের ভূত জেগে উঠল মধ্যরাতে। প্রথমে বাতাসের মধ্যে একটু ফিসফাস। তারপর অন্ধকারে একটু মন্থন। আবহ গাঢ় ঘনীভূত হয়ে ধীরে ধীরে জেগে উঠল একটা অস্তিত্ব। শরীর নয়, যেন দীর্ঘশ্বাস আর গভীর অনুভূতি দিয়ে তৈরি এক অস্পষ্ট উদ্ভাস। সে নেই, তবু আছে।

    বিপ্লব দত্তের ভূত ছাদ থেকে ধীরে নেমে এল দোতলায়। এক ঘরে তার মেয়ে এবং বাড়ির পরিচারিকা। অন্য ঘরে তার স্ত্রী এবং ছেলে। বিপ্লব দত্ত এক তীব্র আকুলতা নিয়ে লক্ষ করল তাদের। ফিসফিস করে বলল, ছিল, ছিল, সব ছিল।

    মিলি পাশ ফিরল অস্বস্তিতে। ঘুমের মধ্যে সঞ্চারি বলে উঠল, উঃ মা গো!

    বুক্কা মাথা চুলকালো, একটু ছটফট করল।

    বিপ্লব দত্ত ধীরে ভেসে ভেসে কাটা ঘুড়ির মতো লাট খেতে খেতে নীচে নেমে এল।

    এই তার ঘর। তিথি ঘুমে নিঝুম। বিপ্লব দত্ত চারদিকে ভেসে বেড়াতে লাগল। কিছু অস্থির, উদভ্রান্ত। তার বই, তার চেয়ার, তার বিছানা, চারটে দেয়াল, দক্ষিণের জানালা, সামনের বাগান কিছুই এখন তার আর দরকার হয় না। তখন এক দীর্ঘশ্বাসই যেন বলে উঠল, ছিল, ছিল, সব ছিল…

    ও কি বিপ্লব দত্ত? না কি এ শুধু তার অস্থিরতা, তার জ্বালা তার উদবেগও অপূর্ণতারই এক ঘনক!

    বিপ্লব দত্তের ভূত বাগানে গেল। আকাশের দিকে চেয়ে তার দীর্ঘশ্বাস বলতে লাগল, ছিল…নেই…ছিল…নেই…

    তিথি আজ প্রথম তার বাবাকে স্বপ্ন দেখল। বাবা যে মারা গেছে এটা তার মনেই হল না। বাবা দিব্যি তরতাজা। ঘরের মধ্যে বাবা কী যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে। পাচ্ছে না। হাঁটকাচ্ছে টেবিল, বইয়ের শেলফ, তাক।

    উঃ বাবা, কী যে করছ ঘরটাকে! কী খুঁজছ বলবে তো।

    খুঁজছি! হ্যাঁ, কী যেন।

    কী খুঁজছো তাও জান না?

    জানি। কিন্তু কী যে হয় মাঝে মাঝে হঠাৎ এইমাত্র ভুলে গেলাম। যেই তুই জিজ্ঞেস করলি অমনি ভুলে গেলাম।

    তোমাকে নিয়ে আর পারি না। এখন অগোছালো ঘর আবার আমাকে গোছাতে হবে। দেখো তো কী কাজ বাড়ালে আমার।

    আহা তোকে কেন গোছাতে হবে। কাল সকালে একাদশী এসে গুছিয়ে দেবে।

    একাদশীর কথায় হঠাৎ তিথির একটা কথা মনে পড়ে গেল। সে বলল, হ্যাঁ বাবা জান, তোমার সেই সুইসাইড নোটটা পাওয়া গেছে। কী পাগল বলো তো তুমি।

    কোথায় পেলি?

    তুমি তো ওল্ড পোসামস বুক অফ প্র্যাকটিক্যাল ক্যাটস, বইটার মধ্যে গুঁজে রেখেছিলে। একাদশী বই তুলে রেখেছিল বুক-কেসে। তারপর একদিন…আচ্ছা বাবা, তুমি একটা কী বলো তো! ওরকম করলে কেন?

    বিপ্লব দত্ত ম্লান একটু হাসল, কী করলাম?

    সুইসাইড করতে গেলে কেন?

    ওঃ, সে একটা ব্যাপার আছে।

    সবাই যে তোমার নিন্দে করছে। বলছে লোকটার একদম দায়িত্ববোধ ছিল না।

    ঠিকই বলে রে, ঠিকই বলে। কী যে সব গন্ডগোল পাকিয়ে ফেললাম!

    মায়ের সঙ্গে তোমার বনিবনা হত না, তাই?

    বউ একটা ফ্যাক্টর। ভীষণ ফ্যাক্টর। বউরা বোঝেই না যে তারা কীভাবে একজন পুরুষকে প্রতিদিনকার নির্দয়তা দিয়ে, শোষণ দিয়ে, অবহেলা দিয়ে মেরে ফেলে।

    ওসব কথা থাক বাবা। জান তো, তোমাদের দুজনের ঝগড়া হলে আমার মন খারাপ হয়।

    আমারও হত। যখন আমার মা-বাবার ঝগড়া হত। ওফ, মনে হত, আমি মরে যাই না কেন।

    তাহলেই বোঝো।

    বিপ্লব দত্ত মাথা নেড়ে বলে, বুঝি না, কিছু বুঝি না। এই যে বাড়িটা বানাতে এত টাকা ধার করতে হল, ব্যবসা করতে গিয়ে মার খেতে হল, এসব কার জন্য বল তো!

    মায়ের জন্য?

    একজ্যাক্টলি। আমাকে তিষ্ঠোতে দিত না। কেবল বড়োলোক হতে বলত। কেবল…যাকগে, তুই তো পছন্দ করিস না।

    তুমি মরতে গেলে কেন বাবা! আমার যে সব আনন্দ চলে গেল।

    ভুলে যাবি। সবাই ভোলে। কোনো শোক কি চিরস্থায়ী হয়?

    আর আমাদের অবস্থাও দেখো। কত গরিব হয়ে গেছি আমরা।

    বিপ্লব দত্ত তার চেয়ারে বসে লম্বা চুলে অস্থির আঙুল চালাতে চালাতে বলে, তোমরা কোনোকালে বড়োলোক ছিলে না। বড়োলোকি করেছো অ্যাট দি কস্ট অফ এ ম্যান। এবার তার গুনাগার দিতে হবে।

    তুমি এমন নিষ্ঠুর কথা বলতে পার?

    পারি। আমি এক নিষ্ঠুরতারই শিকার। দ্যাট বীচ, দ্যাট লিটল উওম্যান…ওফ, আবার বলতে যাচ্ছিলাম।

    তিথির চোখ ভরে জল এল।

    বিপ্লব দত্ত অস্থিরমতির মতো উঠে ঘর জুড়ে সিংহবিক্রমে পায়চারি করতে করতে বলে, কাঁদিস না। আমি ছেলে-মেয়ের চোখের জল সইতে পারি না।

    তুমি আমাদের এত ভালোবাসো বাবা, আর মাকে পারলে না?

    এ কোশ্চেন অফ রেসিপ্রসিটি। যাকগে। আমি ও নিয়ে অনেক ভেবেছি। কার দোষ কে বলবে? জন্মানোটই দোষ, বেঁচে থাকাটাই দোষ।

    তাহলে কি আত্মহত্যাই ভালো বাবা?

    না না। একদম ভালো নয়। আই ফিল লোননি। ভেরি লোনলি। কেউ নেই যেন, কিছু নেই যেন, অদ্ভুত নিঃসঙ্গতা। ঘুম নেই, জেগে ওঠা নেই, খিদে পায় না, তেষ্টা পায় না। বড্ড বোরিং।

    তুমি কেন বোজ আসো না বাবা।

    রোজ আসি। রোজ। তোদের ডিস্টার্ব করি না।

    আমাদের কী হবে বলো তো বাবা?

    কে জানে! কত লোক তো আছে। তাদের কী হয়? অত ভাবিস কেন?

    আমাদের বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। বাড়ি বিক্রি হবে।

    বাড়ি! ইট কাঠ পাথর! ও দিয়ে কী হয়!

    আমরা যে বাড়িটাকে ভীষণ ভালোবাসি বাবা!

    বাড়িকে! দূর পাগলি, বাড়িকে ভালোবাসবি কেন? মানুষগুলোকে বাস। তবে বাড়িটা বাড়ির মতো হবে। এবাড়ির জন্যই না আমার এত লাঞ্ছনা, অপমান, এত কষ্ট, এত…এত…

    বাবা, অত অস্থির হচ্ছ কেন?

    এবাড়িটা…এর জন্য আমাকে নিংড়ে দিতে হয়েছে। …টাকা গেল, প্রেস্টিজ গেল, প্রাণটা অবধি…তিথি!

    কী বাবা?

    সুইসাইড নোটটা কোথায়?

    আমার কাছে আছে। দেব?

    দে তো।

    তিথি নোটটা বের করে দিল।

    বিপ্লব দত্ত সেটা পড়ে মাথা নেড়ে বলল, কত কথা এখানে লেখা নেই। কত কথা লেখার ছিল! এটা একটা বোগাস জিনিস। আসল সুইসাইড নোট হবে উপন্যাসের মতো বিরাট জিনিস। তাতে সব কথা থাকবে। কী করে একটা লোক অবধারিত মৃত্যুর দিকে হেঁটে যাচ্ছে। আসলে তাকে ঠেলে দিচ্ছে কিছু লোক, কিছু কারণ, কিছু পরিস্থিতি। খুব জটিল, বুঝলি?

    বুঝলাম না বাবা। তবে তুমি সুইসাইড করার পর আমারও কয়েকবার আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে হয়েছে।

    দূর পাগলি! তুই কেন মরবি? কোনো মজা নেই।

    মরে তোমার কাছে তো যেতে পারব।

    বিপ্লব দত্ত মাথা নাড়ে, না। মরে কেউ কারো কাছে আসতে পারে না। দেখছিস না আমি কেমন একা! বোরিং। অ্যাবসোলিউটলি বোরিং।

    ধূপকাঠি নিবে গেলে যেমন গন্ধের রেশ থেকে যায়, মাঝরাতে আচমকা ঘুম ভেঙে বাবার উপস্থিতির একটা রেশ যেন টের পেল তিথি। স্বপ্ন স্বপ্নই। ভূতে সে কখনো বিশ্বাস করেনি। তবু অন্ধকারে সে স্বপ্নটার স্মৃতি উপভোগ করছিল। অন্তত স্বপ্নেও তো এসেছিল বাবা! সে উঠে বাতি জেলে বিপ্লব দত্তের অব্যবহৃত একটা ডায়েরি খুলে তারিখ আর সময়সহ স্বপ্নের একটা বিবরণ লিখে রাখল। স্বপ্নের কথা মনে থাকতে চায় না বলেই লিখল। এ স্বপ্নটা সে ভুলতে চায় না।

    .

    ০৮.

    সকালে ব্রেকফাস্টের সময় তিথি বলল, মা, আজ আমার স্কুল থেকে ফিরতে অনেকটা দেরি হবে।

    কেন, কোথায় যাবি?

    বাবার অফিসে। অফিসের চাবিটাও নেব।

    সেখানে কী আছে?

    একবার যাব। দেখব।

    কে নিয়ে যাবে তোকে?

    তিথি একটু হেসে বলে, শোনো মা, এখন কিন্তু আমাদের মাথার ওপরে কেউ নেই। তাই না? আমাদের কেউ কোথাও নিয়ে যাবে না। এখন থেকে আমাদের একা-একাই যেতে হবে। একটু তাড়াতাড়ি সাবালকও হয়ে উঠতে হবে। হার্ড ডেজ অ্যাহেড।

    মিলি মেয়ের দিকে চেয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর হঠাৎ চোখ নামিয়ে নিয়ে বলল, তাড়াতাড়ি এসো। নইলে ভাবব। আজকাল আমার অল্পেই ভীষণ টেনশন হয়।

    বিকেলে যখন বিপ্লব দত্তের অফিস-বাড়িতে একাই পৌঁছে গেল তিথি তখন শীতের ঘোর সন্ধ্যে। ল্যাণ্ডিং-এ একজন সুট পরা লোক দাঁড়িয়ে। বেশভূষার পার্থক্যে লোকটিকে এত অন্যরকম লাগল যে প্রথমে চিনতেই পারেনি তিথি।

    আমি দশ মিনিট অপেক্ষা করেছি মাত্র। তুমি খুব টাইমলি এসেছ!

    তিথি লোকটাকে তখন ভালো করে দেখল, ওঃ আপনি! বাঁচা গেল। একা একটা অচেনা বাড়িতে ঢুকে ভয়-ভয় করছিল। কেউ যদি চোর বলে ভাবে!

    চোরেরা অন্যরকম হয়, তারা তোমার মতো হয় না।

    লোকটাকে দেখতে বেশ। একটু যেন নার্ভাস, একটু যেন সরল, আবার যেন মিটমিটে দুষ্টুমি বুদ্ধিও আছে।

    বিপ্লব দত্তের অফিস-ঘর খুলে যখন আলো জ্বালালো তিথি তখন চারদিকটা ঝলমল করে উঠল। বোধহয় ভালো ইন্টিরিয়র ডেকরেটরকে দিয়ে সাজিয়েছিল তার অফিস-ঘর বিপ্লব দত্ত। আসল সেগুন কাঠের প্যানেল করা ঘর, ক্যাবিনেট, সেগুন কাঠেরই অত্যাধুনিক টেবিল এবং ভালো জাতের গদিওয়ালা চেয়ার।

    এয়ারকুলার বসানো ঘরটা একটু ভেপসে আছে। অমিত কুলারটা চালু করে দিল। একদিকে আলাদা কম্পিউটার টেবিল। যন্ত্রটা প্লাস্টিকের ঢাকনা দেওয়া।

    অভ্যস্ত দক্ষ হাতে অমিত কম্পিউটার চালু করল। টেবিলের টানায় পাওয়া গেল কম্পিউটারের তথ্যাবলি। অমিত সম্পূর্ণ মগ্ন হয়ে যন্ত্র নিয়ে মেতে গেল। তিথি তার বাবার চেয়ারটায় গিয়ে বসল। লোকটা তাকে এত তাচ্ছিল্য করছে কেন? চোদ্দো বছর বয়সটা কি এতই তাচ্ছিল্য করার মতো? তার বুঝি বয়স হবে না?

    প্রায় আধঘণ্টা একনাগাড়ে একটার পর একটা তথ্য খুঁটিয়ে দেখল অমিত। একটাও কথা বলল না, একবারও ফিরে তাকাল না। লোকটা কাজ-পাগল নাকি?

    আধঘণ্টা বাদে অমিত চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে একটা বড়ো শ্বাস ছাড়ল।

    তিথি ব্যগ্র গলায় বলল, কী দেখলেন?

    অমিত ডাইনে-বাঁয়ে মাথা নেড়ে বলে, কিছু আশাব্যঞ্জক পাওয়া যায়নি এখনও। আরও একটু দেখতে হবে।

    দেখুন, আমি বসছি। আপনার দুবাই যাওয়ার কী হল?

    আজ হচ্ছে না। সাত দিন পরে যেতে হবে।

    মনে মনে কেন খুশি হল তিথি? এ লোকটা দুবাই না-গেলে তার কী এমন উপকার হবে? ভ্রূ কুঁচকে ব্যাপারটা একটু ভাবতে চেষ্টা করল সে। লোকটা আবার কম্পিউটার নিয়ে মগ্ন হয়ে গেছে।

    কাল টেলিফোনে আপনি আমাকে চোদ্দো বছরের মেয়ে বলে ডেকেছিলেন কেন?

    দাঁড়াও। সামথিং ইজ কামিং আপ।

    আমি কিন্তু আপনার ওপর একটু রেগে আছি।

    অমিত কোনো জবাব দিল না। পলকহীন চোখে চেয়ে রইল কম্পিউটারের পর্দার দিকে।

    শুনেছেন! আমি কিন্তু রাগ করেছি।

    এটা একটা আনরিয়ালাইজড বিল দেখছি! সামান্য উত্তপ্ত গলায় বলে অমিত। বিল!

    কীসের বিল!

    তুমি বুঝবে না। একটু চুপ করে বোসো তো!

    ধমকাচ্ছেন! এমনিতেই আমার মন খারাপ।

    প্লিজ! হোল্ড ইওর টাং ফর এ মিনিট। অ্যানাদার বিল। চেক বাউন্স করেছিল। কেস কোর্টে।

    আমাকে কম্পিউটার হ্যাণ্ডলিং শিখিয়ে দেবেন?

    কোনো জবাব পাওয়া গেল না। লোকটার বাহ্য চৈতন্য নেই।

    চুপচাপ একটা বন্ধ ঘরে কাঁহাতক বসে থাকবে তিথি। সে হাতের কাছে একটা বেশ ঝকঝকে পুশ বাটন ফোন দেখে বন্ধু রাকাকে ফোন করল। তরল আলাপ।

    রাকা, বল তো কোথা থেকে ফোন করছি!

    কোত্থেকে রে? বাড়ি?

    পারলি না। বাবার অফিস থেকে। ঘ্যাম অফিস।

    ও মা! সেখানে কেন?

    কাজ আছে। আমরা একটা কম্পিউটার বাস্ট করছি।

    আমরা মানে! তোর সঙ্গে কে?

    একজন কম্পিউটার এক্সপার্ট। একটু গোমড়ামুখো।

    অমিত একটা ধমক দিল, একটু নীচু গলায় কথা বলো। আমি মোটেই গোমড়ামুখো নই।

    রাকা সভয়ে বলল, কে রে?

    চাপা গলায় তিথি বলল, ওই লোকটা।

    তোকে ধমকাচ্ছে কেন?

    জোরে কথা বলছি বলে।

    রাকা খিলখিল করে হাসল, ও বাবা, দারুণ রাগী তো। কম্পিউটারটা কি তোদের?

    ছিল তো আমাদেরই। এখন কী হবে কে জানে। তুই তো ইনসাইড স্টোরি জানিস। শুনছি বাবার অনেক লায়াবিলিটিজ। কিছুই থাকবে না। কিন্তু আমার বাবার অফিসটা যদি তুই দেখতিস! ফ্যান্টাস্টিক। ছোটোর মধ্যে দারুণ সাজানো, আসবি একদিন?

    গিয়ে কী হবে?

    আরও দু-চারজনকে জুটিয়ে দারুণ আড্ডা। ওপাশের ফুটে একটা ভালো রেস্টুরেন্ট আছে। বললেই চা-খাবার সব দিয়ে যাবে।

    এ গুড আইডিয়া।

    অমিত ফের মৃদু শাসনের স্বরে বলে, আস্তে। আমার কনসেনট্রেশন নষ্ট হচ্ছে।

    এই রাকা, ছাড়ছি রে। পরে কথা বলব।

    কাল চলে আয় না।

    আচ্ছা দেখব।

    তোর কম্পিউটার এক্সপার্টের বয়স কত রে?

    তা আছে। নিয়ারিং থার্টি।

    ওঃ হেল। আরেকটু কম হলে–হ্যাণ্ডসাম?

    মন্দ নয়। বলেই ফোনটা রেখে দিল তিথি। তার হঠাৎ মেজাজটা খিঁচড়ে যাচ্ছে কেন? কেনই-বা বুকটা দুরদুর করছে? তিথি চুপ করে পাথর হয়ে বসে রইল। টিকটিক, টিকটিক, সামথিং রং?

    অনেকক্ষণ কম্পিউটারটাকে ব্যবহার করে অমিত চেয়ারে হেলান দিয়ে বসল। তারপর একটা ক্লান্তিসূচক শব্দ করল, হাঃ।

    তিথি পেছন থেকে ওকে দেখছিল। স্থির চোখে।

    অমিত রিভলভিং চেয়ারটা ঘুরিয়ে তিথির দিকে তাকিয়ে বলে, লায়াবিলিটি আছে, ধারও আছে, বকেয়া আছে অনেক পেমেন্ট। তবু আমি ভাবছি এ কোম্পানি চালু করা যায়।

    কীভাবে?

    আর মাত্র হাজার পঞ্চাশেক টাকা ঢাললেই। অবশ্য টাকা ঢাললেই হবে না। ইট নিডস এ গুড ম্যানেজমেন্ট। বুদ্ধি আর ধৈর্য থাকলে কোম্পানিকে টেনে তোলা যাবে।

    কে টেনে তুলবে বলুন।

    অমিত হাত উলটে একটা অসহায় ভঙ্গি করে বলে, সেটা তোমার ব্যাপার। তুমি বুঝবে। ইচ্ছে করলে তুমি কাউকে অ্যাপয়েন্ট করতে পার, ইচ্ছে করলে নতুন পার্টনার নিতে পার।

    আমি! আমি কী করে করব?

    অমিত কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, তবে যে বড় চোদ্দো বছরের মেয়ে বলায় রাগ করছিলে?

    সে তো ঠিকই করেছি। কিন্তু আমি কাউকে অ্যাপয়েন্ট করব কী করে? কোম্পানি তো বাবার।

    অমিত একটু অবাক হয়ে বলে, তুমি তো এ কোম্পানির একজন পোটেনশিয়াল শেয়ারহোল্ডার অ্যাণ্ড পার্টনার।

    আমি! সে কী?

    অমিত ফের কম্পিউটারের কয়েকটা চাবি টিপল। পর্দায় একটা এগ্রিমেন্টের ছবি ভেসে উঠল। অমিত বলল, এসো, দেখে যাও।

    ভীরু, দ্বিধাজড়িত পায়ে এগিয়ে গেল তিথি। পর্দার দিকে চেয়ে সে ছবিটা দেখল, কিন্তু কিছু বুঝতে পারল না।

    অমিত একটা পেনসিলের ডগা একটা ডটেড লাইনের ওপর রেখে বলল, এটা তোমার নাম, দেখতে পাচ্ছ?

    তিথি দেখতে পেল।

    অমিত বলল, এ ভেরি লিগালাইজড ডকুমেন্ট। তুমি আর বিপ্লব দত্ত পার্টনার।

    তিথি হাঁ করে রইল বিস্ময়ে। বলল, বাবা কখনো বলেনি তো আমাকে।

    বলেনি! কিন্তু তোমার সই রয়েছে যে!

    সই! একটু ভেবে তিথি বলল, অনেকদিন আগে বাবা একটা কাগজে সই করতে বলেছিল। সেটাই কি এটা?

    অনেকদিন বলতে তেমন বেশি দিন নয় কিন্তু, মাত্র একবছর আগে।

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, তাই হবে। আমি সত্যিই এই কোম্পানির পার্টনার?

    না, এখন আর পার্টনার নও।

    তিথির মুখ শুকনো, এই যে বললেন।

    কী বললাম? আচ্ছা বোকা মেয়ে তো! চোদ্দো বছরের খুকি, তোমার বাবা যতদিন বেঁচেছিলেন ততদিন তুমি পার্টনার ছিলে বটে।

    এখন আর নই?

    না। কারণ এখন তুমিই এই কোম্পানির মালিক।

    তিথি ঝলসে উঠল, মালিক! ইউ মিন প্রপাইটর?

    হ্যাঁ, তবে এ সিংকিং কোম্পানি। টেনে তোলা যায়, কিন্তু বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে। খাটুনি আছে।

    তিথি চারদিকে অবাক চোখে চেয়ে দেখল, এসব আমার!

    বিরক্ত অমিত বলল, অত উতলা হওয়ার কী আছে? এখন মাথা ঠাণ্ডা রাখো। আজ বেশ রাত হয়ে গেছে। আজ আর কিছু হবে না। তুমি কাল একটু বেলাবেলি চলে এসো। দরজার গায়ে ওই যে মস্ত লেটারবক্স ওটা খুলে দেখো কোনো চিঠিপত্র এসেছে কিনা। বিশেষ করে দেখবে চেক। কয়েকটা পেমেন্ট তুমি পেয়ে যাবে। ড্রয়ার, ক্যাবিনেট এগুলোও ভালো করে সার্চ করবে। মনে হচ্ছে কম্পিউটারে আরও ইনফর্মেশন ভরা আছে। সেগুলোও দেখা দরকার।

    কাল আপনি আসবেন না?

    আমি! আমি কেন আসব?

    আমি যে এসব কিছুই বুঝি না।

    বোঝবার কথাও নয়। আমি বলি কি, তুমি তোমার মামার হেল্প নাও।

    মামা তো কেবল সব বেচে দেওয়ার কথা বলে। মামা কিছুতে কোম্পানি চালাতে দেবে না।

    চালানো সহজও নয়।

    তাহলে কী হবে?

    অমিত ঘড়ি দেখে বলল, আমার একটা জায়গায় আজ রাতেই যেতে হবে। সময় নেই। এসব নিয়ে পরে কথা হবে।

    পরে মানে কবে?

    এসো, আমার গাড়ি আছে। তোমাকে নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছি।

    কিন্তু কোম্পানি?

    একটু ভাবতে দাও। বলব।

    দায়িত্ব নিচ্ছেন তো।

    না। দায়িত্ব নয়। আমার ভূমিকা হবে অ্যাডভাইজারের। তার বেশি কিছু নয়।

    বাঃ রে, আমি সবে একটা কোম্পানির মালিক হলাম, আর আপনি আমার উৎসাহে জল ঢেলে দিচ্ছেন।

    আমার তো খুব বেশি কিছু করার নেই তিথি। তবে তুমি ঘাবড়ে যেও না। চেষ্টা করলে পারবে। তোমাদের তিনটে বিল-এর সন্ধান পাওয়া গেছে। ওটা আদায় হলে আপাতত কোম্পানি বেঁচে যাবে। মনে হয় আনরিয়ালাইজড আরও কয়েকটা বিল-এর খোঁজ পাওয়া যেতে পারে। তবে আদায় করা শক্ত।

    মৌলালি থেকে সল্ট লেক–তিথিকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার পথে গাড়ি চালাতে চালাতে খুব কম কথাই বলল অমিত। তাকে ভীষণ গম্ভীর আর অন্যমনস্ক দেখাচ্ছিল। লোকটাকে কেমন ভয়-ভয় লাগছিল তিথির। গতকাল ধুতি পাঞ্জাবি পরা নার্ভাস, কুণ্ঠিত, ভীতু যে লোকটাকে দেখেছিল এ তো সে নয়। পোশাক পালটালে কি লোকের ব্যক্তিত্ব পালটে যায়? নাকি এ লোকটা নানারকম রোল-এ অভিনয় কয়তে পারে।

    লোকটা এমনকি ভালো করে একটা বিদায় সম্ভাষণও জানাল না তিথিকে নামিয়ে দেওয়ার পর। শুধু দায়সারা ভাবে বলল, চলি। এবং চলে গেল।

    তিথিকে পাত্তা দিল না। একদম পাত্তা দিল না। আট মাস আগে সে চোদ্দো পূর্ণ করেছে। বয়স কম নয়। তবু পাত্তা দিল না একদম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদিন যায় – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article জীবন পাত্র – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }