Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তিমির বিদার – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প248 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তিমির বিদার – ২০

    ২০

    বেঁটেদাকে দেখে আমার চোখ ফেটে জল এল।

    বাঁ হাতটা ব্যান্ডেজ করা। কতটা কাটা গেছে বুঝতে পারছি না। বেঁটেদা এখন অ্যানেস্থেশিয়ার ঘোর থেকে জেগে উঠেছে। কিন্তু বিহ্বলতা কাটেনি। আমাকে দেখে কিন্তু হাসল। জড়িয়ে জড়িয়ে বলল— এখন থেকে ডান হাতেই খাওয়া, ডান হাতেই ছোঁচানো, বুঝলি রুণু! লোকে আমার হাত থেকে জিনিস কিনবে তো রে?

    আমি ওর ডান হাতটা ধরে চুপ করে বসে রইলাম। বেঁটেদার কেউ নেই যে দেখতে আসবে। জনরব শুনেছি বেঁটে হওয়ার অপরাধে বছর দশেকের ছেলে বাবা-মা কর্তৃক পরিত্যক্ত হয়েছিল। হিজড়েরা যেমন হয়। তারপর নানা ঘাটের জল খেতে খেতে আমাদের এই এলাকায়। খুব সম্পন্ন না হলেও বেঁটেদার জন্ম নাকি মোটের ওপর ভদ্র পরিবারে। কোনও শহরের উপকণ্ঠে। কোথায়, কী বৃত্তান্ত বলতে চায় না। অভিমান ভেতরে আছে কি না জানি না, মুখে বলে— ‘বেঁটে ছেলে, পা ছোট, ধড় বড়, এমন ছেলে আবার কেউ সংসারে রাখে? সংসারের অকল্যেণ হবে না?’ আমি যবে থেকে দেখছি বেঁটেদা সদানন্দ পুরুষ, লাল দোপাট্টা মলমল, ডম ডম ডিগা ডিগা… ববিতা-আ, ও মাই ডার্লিং এইসব ফিলমি গান হেঁড়ে কর্কশ গলায় গাইতে গাইতে নিস্তব্ধ শুনশান শীতের রাতে বাড়ি ফিরত। পরনে হাফ প্যান্ট, গায়ে গামছা। বেঁটেদা খুব সম্ভব শনিতলায় আর পাঁচজনের পাশাপাশি একটা ঝোপড়ি তুলে নিয়েছে। সবাই যা করছে তাই করেছে। একেক সময়ে আমার মনে হয় বেঁটেদা বাঙালিও নয়, বিহারি। কোনওদিন তো এসব খোঁজ করিনি, বাজারে অদ্ভুত কম্বিনেশনের সওদা নিয়ে বসেছিল তাই জিজ্ঞেস করেছিলাম, গান-টান গেয়ে গেয়ে অদ্ভুত ক্লাউন চেহারার লোকটা ঘুরত, মজা মারতাম, আজ বাঁ হাতটা কার বোমার ঘায়ে শেষ তাই খেয়াল হয়েছে বেঁটেদাও মানুষ, তার একটা শরীর আছে, ডান হাত বাঁ হাত আছে। বাঁ হাতটা যেতে বেঁটেদার প্রধান সমস্যা তাকে খাওয়ার হাতেই ছোঁচাতে হবে, সেই হাতেই আবার তার সওদা বেচতে হবে, এখন ডান বাঁ এক হয়ে গেলে, হকার হিসেবেও সে অচ্ছুত হয়ে যাবে কি না।

    —কত বড় বড় লোক যে আমাকে দেখতে আসছে। আমি তো কোথায় বসাব কীভাবে কী করব… একেবারে বোকা মেরে গেছি রে! প্রেথম এল বিশুদা এমেলে, তারপর জগন্নাথবাবু, বলরামবাবু, দুই ভাই, তারপর অরবিন্দদা, তুই আসার ঠিক আগেটায় কে এল জানিস?

    —কে?

     

     

    —এম পি সায়েব, নিতাইলাল ভটচায। বলতে বলতে বেঁটেদা কেঁদে ফেলল, —কী এমন হয়েছে বল যে এত বড় বড় মাথা আমার জন্যে ভাববে! তোরা ছোটভাই, আসবি বইকী! কিন্তু..

    —তা এঁরা কি শুধু দেখেই গেলেন, না কিছু বললেন টললেনও— আমি আমার গলার শ্লেষ গোপন করতে পারি না। কিন্তু বেঁটেদা সে-সব ধরতে পারে না। বলে সব্বাই প্রমিস করে গেল কমপেনসেট আদায় করে দেবে! এখন, সব্বাই যদি কিছু কিছু করে দেয়, তো সে তো অনেক টাকা রে রুণু, ব্যাংক-ট্যাংক আমার বড্ড ভয় করে, তুই যা করার করে দিস।

    আমি চুপ করে ছিলাম, বেঁটেদা বলল— দিবি তো? তোকেও কিছু দোব। নিয্যস। তার মানে বেঁটেদাও ভালই বুঝে গেছে, বিনা স্বার্থে, বিনা পারিশ্রমিকে কেউ কারও জন্যে কিছু করে না। ছোট স্কেলে বুঝতে পারছে। কিন্তু বড় স্কেলে অর্থাৎ জগা, বিশু, অরবিন্দ, নিতাইয়ের স্কেলে বুঝতে পারছে না।

    বেঁটেদার পাশের বেডেই আলম। তারও দেখলাম পায়ে প্লাস্টার, মাথায় ব্যান্ডেজ, ডান পাটা ট্র্যাকশনে রাখা। আমাকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিল।

     

     

    কেউ দর্শনীয়ভাবে মুখ ঘুরিয়ে নিলেও গিয়ে খোঁজখবর করব এতটা বুকের পাটা আমার নেই। তবু বুকের মধ্যে অনেকটা হাওয়া টেনে গেলাম।

    —আলম!

    —বলেন!

    —কেমন আছ?

    —যেমন রাখছেন! ডান পাটা বোধয় গেল গিয়া। আল্লার কিরা আমি এর শোধ নিয়া ছাড়ুম। এ আপনেরে কইয়া দিলাম।

    আলম হল ইনফিলট্রেশন। বাংলাদেশি মুসলমান, বনগাঁ বর্ডার দিয়ে এসেছে পশ্চিম বাংলায় যে বাংলা থেকে আলমের নানা-দাদারা স্বেচ্ছায় ভিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। তবু আলম এই বাংলাকেই বেশি বাসযোগ্য মনে করেছে। অনেক বাংলাদেশি মুসলিমও চলে এসেছে কাজ-কামের খোঁজে। র‍্যাশনকার্ড পেয়েছে, ভোটার লিস্টে নাম তুলিয়েছে। রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয় পেয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলই বোধহয় ওর পা-টা বাঁচাতে পারবে না। কেন না পা তো ভোট দেয় না! আমি ওর এই প্রতিহিংসা-বৃত্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কী বলব! ওর জায়গায় থাকলে আমি কী বলতাম! আমি পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছি, যেমন করে পারি আমি আমার অন্ন জোগাড় করে নেব, কারণ পেট মানবে না, ক্ষুধা, ক্ষুধা আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আমি এক চারণভূমি থেকে ভিন্ন চারণে প্রস্থান করেছি। নির্মায়ায়। পেরিয়ে গেছি মরু, নদী, পাহাড়, সাগর, শুধু এই জঠরের তাগিদে, শস্য বুনেছি, হাত দিয়ে তৈরি করেছি কারুমায়া, সব স-ব মূলত এই পেটের জন্যে। হে এম এল এ হে এম পি হে ক্ষমতাবান, হে বিত্তবান, তোমারও যেমন খিদে পায়, আমারও তেমনি খিদে পায়। খিদে মেটাতে আমি উঞ্ছবৃত্তিও করতে পারি, আবার দস্যুবৃত্তিও করতে পারি। খিদের কোনও দেশ কাল নেই। পাত্রাপাত্রভেদ নেই। সদুপায় কদুপায় নেই।

     

     

    কিছু ভাবিনি কী বলব, ভাবছিলাম চুপচাপ পেরিয়ে যাব, ও তো আমাকেই ওর দুরবস্থার জন্যে দায়ী করছে। সম্পূর্ণ না জেনে, যে ও আরও গভীর চক্রান্তের শিকার! যদি দীপুর ভয়েস সত্যি হয় অবশ্য। কিন্তু পেরোতে গিয়েও হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লাম, শুনলাম বলছি— তোমার বাঁ দিকে দেখো, বেঁটেদার বাঁ হাতটা গেছে, ডানদিকে তোমার পা জখম, কে কার বিরুদ্ধে লড়বে আলম?

    নিমকি এখনও অজ্ঞান, ওর মাথায় লেগেছে। খুব সম্ভব আরও বড় হাসপাতালে পাঠানো উচিত। অপারেশনের জন্য। কর্তারা না কি আশা দিয়েছেন পি জিতে পাঠাচ্ছেন। শিমকির চোট সে তুলনায় কম, বোমার শব্দে আর কাঁপুনিতে ওদের টালির ছাদ ধসে পড়েছিল। ওর চোট তার থেকেই। সারা শরীরে কাটাছেঁড়া, ব্যান্ডেজ, স্টিকিং প্লাস্টার।

    —শিমকি এখন একটু ভাল আছ!

    —জ্বলছে—শিমকি বলল।

    —যাই হোক, ওষুধ পড়েছে, ব্যান্ডেজ-টেজ হয়েছে, আগের চেয়ে তো অনেক…

     

     

    —শরীর নয়কো, মন…মন জ্বলছে…আপনি অন্য মেয়ের সঙ্গে পুড়কিবাজি করবেন, আর আমাদের ওপর বোম পড়বে! ভাল রে ভাল! কী ভদ্দরলোক! মা বলত না—অমন ভদ্দরের মুখে ঝাড়ু মারি। ঠিক বলত… বলতে বলতে, শিমকির দু’চোখ দিয়ে জলের ধারা নামল।— যে মা ও কথা বলতেন, তিনি আর নেই।

    আমি পাথরের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকি। কী বলব! কাকে বলব! কেনই-বা বলব!

    —যান, যান, দাঁড়িয়ে রইলেন কেন! কোথায় সেই পীরিতকে লুকিয়ে রেখে এসেছেন, যান তার সঙ্গে কেলি করতে যান।

    আমি আর চুপ করে থাকতে পারি না, বলি— তোমরা…তোমরা আমাকে ছোটবেলা থেকে জানো চেনো, ওই শনিতলাওয়ে কত সাঁতার কেটেছি সে সময়ে, তোমরাই যদি মিথ্যে রটনা বিশ্বাস করো তা হলে তো অন্যে করবেই। বোমটা এরপর সোজা আমার মাথার ওপর পড়বে। বিনা কারণে। খুশি হয়ো তখন।

    বেশ একদল নানা বয়সের বাচ্চাও ওয়ার্ডের এক ধারে রয়েছে। এদের অল্পস্বল্প চোট। সে সবের চিকিৎসা হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু এরা স-ব এই বোমবাজিতে অনাথ হয়ে গেছে। কারও কারও বাবা বা মা মৃত্যুমুখী, অজ্ঞান, যুঝছে। হেরে যাবে, সবাই বুঝছে।

     

     

    কয়েকটা ছোট কট-এ দুগ্ধপোষ্য শিশুদের স্থান হয়েছে। একজন সিস্টার দেখি একটা বড় বোতলে দুধ নিয়ে একটি শিশুর মুখে ধরলেন। পরম আগ্রহে সে যেই টানতে শুরু করেছে, এক মিনিট, তারপরেই বোতলটা টান মেরে খুলে নিয়ে আরেকটা বাচ্চার মুখে ধরলেন মহিলা, এইরকমই চলল কিছুক্ষণ। আমি বেকার, আমার অনন্ত সময়। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি।

    —কী করছেন এটা?—আর থাকতে পারি না, বলি।

    —কী?

    —এইভাবে একটু খাইয়ে টেনে নেওয়া, একই বোতল দশটা বাচ্চার মুখে…

    —এইরকমই ইনিস্ট্রাকশন আছে।

    —কে দিলেন?

     

     

    —কে দেয়?

    —ডাক্তার বা মেট্রনের বোধহয় দেবার কথা, কিন্তু আপনার ইনস্ট্রাকশন মনে হচ্ছে আরও ওপর থেকে এসেছে!

    —ওপর-টোপরের ভয় আমাকে দেখাবেন না। অত সহজে ভয় খাওয়ার মেয়ে আমি নই! তা ছাড়া, আপনি কে? এই বাচ্চাগুলোর বাবা?

    আমি বললাম—আপনিও যেমন ওদের মা নন, আমিও তেমনই ওদের বাবা নই। আপনি ইনিস্ট্রাকশন পালন করুন, আমি আপনাকে নমস্কার করে— আসি।

    ভেতরটা কীরকম একটা অক্ষম রাগে ফুঁসছে। যদি পাই, একবার হাতের কাছে ওই বেজম্মাগুলোকে, একবার কেউ বলে দিক, অকাট্য প্রমাণ দিক তারপরে দেখাচ্ছি কত ধানে কত চাল, ধম্মের কল কোন বাতাসে নড়ে। দেখছি আমি হিরো কি জিরো, ব্যায়াম করি কি করি না, টুঁটি টিপে ধরে বঁটিতে গলা কাটব। একবার, একবার শুধু কেউ বলে দিক। আমি একটা একদা উদ্বাস্তু-পরিবারের বেকার ছেলে, যেমন মস্ত কিছু ভাল নই, তেমনি মস্ত কিছু খারাপও নই। কারুর বিরুদ্ধে আমার নালিশ ছিল না, লোকের সাধ্যমতো উপকার করবার চেষ্টা করেছি। অপকার কারও করিনি কখনও। সেই আমাকে উপলক্ষ করে দাঙ্গা লাগবে? ধান্দাবাজরা তার সুযোগ নেবে? এতগুলো মানুষ ঘরছাড়া, অঙ্গহীন, অনাথ হবে, মরে যাবে? সত্যি কথা বলতে কি হাসির ওপর পর্যন্ত এবার আমার হেভি রাগ হতে লাগল। প্রেমে পড়েছে? প্রেম মাই ফুট। পালাত, আমাকে চিঠি লিখে পালাবার দরকারটা কী ছিল? বুড়ো ভামটা, আলুর বস্তাটা নিকাহ নিকাহ করে এগিয়ে আসছিল তো তার মুখে থুতু দিতে পারেনি! কাটারি নিয়ে তেড়ে যেতে পারেনি! একজন একজনকে বিয়ে করবে না বলে দাঙ্গা? নিরীহ মানুষের সম্পত্তিনাশ, প্রাণনাশ?

     

     

    ফুটতে ফুটতে রসিক ঘোষের মোড়ে পৌঁছেছি হঠাৎ দেখি একজন লম্বা রোগা দাঁড়িগোঁফঅলা লোক, একটা হাত স্লিং-এ ঝোলানো, মাথায় ব্যান্ডেজ, বিশ্রীভাবে খোঁড়াতে খোঁড়াতে আসছে। আমাকে খুব দুর্বলভাবে হাত তুলে থামতে ইশারা করছে। আমি দাঁড়িয়ে যাই। আর একজন দাঙ্গার ভিকটিম না কি? কী বলতে চায়? আরও নিকটবর্তী হল লোকটা। তারপর ভাঙামতো গলায় জিজ্ঞেস করল— সৈয়দ সৈফুল আলি রোডটা কোথায় বলতে পারেন? এখান থেকে কতদূর?

    —এই তো আর একটু, আপনি আসলে উল্টো দিক দিয়ে ঢুকেছেন। বড় রাস্তা থেকে স্ট্রেট এস এস আলিতে ঢুকতে পারতেন, ‘মহাজন হাউস’ বলে একটা বিরাট বাড়ি আছে ঢুকতেই…

    কীরকম অস্বাভাবিক উত্তেজিত হয়ে লোকটি বলল—আছে? আছে, এখনও আছে? ‘মহাজন হাউস’। ও থরথর করে কাঁপছে। তখন ভাল করে দেখি এ তো মহেন্দ্র? অদ্ভুত একটা গা ছমছমে চেনা চেনা মতো লাগছিল। কিন্তু এত দাড়িগোঁফ, রোগা কালো, ঝাঁকড়া মতো চুল!

     

     

    আমারও উত্তেজনা চরমে ওঠে— মহেন্দ্রদা আমি রুণু, রণধীর সরকার। চিনতে পারছেন না! তপোধীরের ভাই, আপনাদের বাড়ি থেকে আমাদের বাড়িটা দেখা যায়।

    কোনওরকমে আমার হাতটা ধরে ফেলে মহেন্দ্র— চুপ, একদম চুপ, কথা বললে দে উইল কিল মি। প্লিজ গাইড মি আ বিট। আমি কিচ্ছু চিনতে পারছি না। আই অ্যাম লাইক আ ব্লাইন্ড ম্যান ইন আ ব্লাইন্ড লেন… প্লিজ রুণু অর হোয়াটেভার…

    আমি একটা রিকশা ডাকি। গায়ের মধ্যে কী রকম শিরশির করছে। কোনওক্রমে মহেন্দ্রকে তুলি, পর্দা ফেলে দিতে বলি। তারপর ‘মহাজন হাউজ’-এ গিয়ে বেল দিই।

    ভেতরে সেই অ্যালসেশিয়ানটা ডাকছে গাঁউ গাঁউ করে। আস্তে আস্তে দরজাটা ফাঁক হল, কোনও কাজের লোক, চেনের ওপারে আলোর দিকে পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি বলি এ এস কিংবা জে মহাজন আছেন?

    —কী দরকার?

     

     

    —বলুন একটি চেনা ছেলে দেখা করতে এসেছে। একটা হারানো জিনিসের ব্যাপারে।

    একটু পরেই ভেতরে আলো জ্বলে উঠল। আরও একটা আলো, আরও একটা জোর আলো। প্রথমে জগদিন্দ্র, তারপরে একটি ইয়াং ম্যান আমি চিনি না, তারপরে এ এস, তারপরে বাড়ির মেয়েরা, বাচ্চারা। আমি সাবধানে রিকশার পর্দা তুলে মহেন্দ্রকে নামাই। দরজার ফাঁকে মুখ রেখে বলি— দেখুন, দরজা খুলে দিন, মহেন্দ্ৰদা। মহেন্দ্রদা এসেছেন।

    দরজা খুলে গেল, তীব্র একটা আর্ত মেয়েলি চিৎকার, সোনা রঙের একটি একহারা বউ আলুথালু অবস্থায় ছুটে এসে মহেন্দ্রকে জড়িয়ে ধরল। পাগলের মতো কাঁদছে, বুকে মাথা ঘষছে, কোনও অদৃষ্টকে অভিশাপ দিচ্ছে আবার আশীর্বাদ করছে…।

    আমার পেছনে দরজা বন্ধ হয়ে গেল। চোখভর্তি জল এ এস বললেন, মাই বয়, কোথায়, ওকে কোথায়, কীভাবে? তুমি কি সামহাউ কিডন্যাপার্সদের সঙ্গে জড়িত? বলো, আমি কিছু বলব না। আর কারও কাছে আমার নালিশ নেই। দে হ্যাভ কেপ্ট দেয়ার ওয়ার্ড। দে হ্যাভ রিটার্নড্‌ হিম। অ্যাট লঙ লাস্ট।

     

     

    আমি প্রমাদ গনি। দাঙ্গার সঙ্গে জড়িয়ে গেছি। এবার কি কিডন্যাপার্সদের সঙ্গেও জড়াব? খুলে বলি কীভাবে ওঁকে পাই।

    সবাই গোল হয়ে আমায় ঘিরে। একটা বিশাল ডিভানে মহেন্দ্রকে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে। কী রকম বেভ্‌ভুল ভাবে অসংলগ্নভাবে বলে যাচ্ছেন ওঁর অভিজ্ঞতা। আমাকে অন্ধকার ঘরে চোখ বেঁধে রাখত, পা, ওরা আমাকে শট দিত বার বার, আমি কত করে বলতাম আমি এমনিই ঘুমব। শট দেবার দরকার নেই। শুনত না। ওরা কিছুতেই শুনত না, শাসাত। পা, আমি আমার নাম ভুলে গেছিলাম। আমি কে, কোথায় আমার ঠিকানা, বেঁচে আছি না মরে গেছি। ভাবতাম আমি মরে গিয়ে নরকে এসেছি। ধস্তাধস্তিতে গাড়িতে গুলি খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাই, তো যখন জ্ঞান হল দেখলাম একটা অন্ধকার ঘরে মোম জ্বলছে। কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা কিছু লোক, তখনই বুঝি আমি মরে গেছি, নরকে এসেছি। এ এস বললেন— রেস্ট করো, রেস্ট করো সোনা, একসঙ্গে অত কথা বোলো না। তোমরা ওকে কিছু খেতে দাও। স্যুপ, দুধ, হালকা কিছু, সারদা তুমি আনো খাবার, শর্মিলা তুমি ওর কাছে থাকো, বান্টি, বুলা তোমরা বাবাকে ছেড়ে নড়বে না।

     

     

    আমি বললাম— একজন ডাক্তার তো এখখুনি ডাকা দরকার। যাব?

    —ফোনে ডাকছি, ব্যস্ত হয়ো না ভাই, —জগদিন্দ্র অন্য ছেলেটিকে ইশারা করলেন, সে বোধ হয় ফোন করতে চলে গেল। তারপর জগদিন্দ্র ক্রুদ্ধ চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন— পাঁচ কোটি টাকা নিয়ে সোনাকে এই কন্ডিশনে ফিরিয়ে দিয়েছে। হি ইজ অলমোস্ট আউট অফ হিজ মাইন্ড। গুলি করেছে, হাতুড়ে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছে। লুক অ্যাট হিজ ফিজিক্যাল কন্ডিশান। পা, আই’ল কিল দেম, কিল দেম অল। আই’ল নট স্পেয়ার আ সিঙ্গল ওয়ান।

    এ এস বললেন— দিস ইজ আনথিংকেবল, আমার দিকে চেয়ে বললেন, ইয়াং ম্যান, আমরা বহু অ্যাসেটস বিক্রি করে কোনও মতে টাকাটা জোগাড় করেছিলাম। আন্ড দে ট্রিটেড হিম লাইক দিস। আমি ওদের ছেড়ে দেব না। তুমি কী বলো?

    আমি যেন হঠাৎ ওঁদের পরামর্শের যোগ্য হয়ে উঠেছি। ওঁদের সমান সমান। বয়সে, অভিজ্ঞতায়, সামাজিক অবস্থানে।

    আমি বললাম— নেভার। দে শুড বি ব্রট টু বুক। এক্ষুনি পুলিশে এবং কাগজে খবর দেওয়া উচিত। তবে আপনারা কিন্তু আপনাদের সিকিওরিটি একটুও শিথিল করবেন না। একটু পরে বললাম, এবার আমি যাই?

    এ এস হঠাৎ আমার হাত দুটো ধরে বললেন— আরও একটু থাকো, ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, উই আর ওল্ড পিপল, খুব হেল্পলেস লাগে, বাবা! আইসোলেটেড, যেন আমাদের কেউ নেই। আমার মনে আছে, তুমি নিজে এগিয়ে এসে আমার স্ত্রীর শেষ যাত্রায়… চোখ মুছতে লাগলেন এ এস।

    —আমি বসছি। কী ভাবে আপনাদের সাহায্য করতে পারি, আমাকে বলবেন। আমি তো এই কাছেই থাকি।

    চুপচাপ বসে বসে পারিবারিক মিলন দৃশ্য দেখতে থাকি।

    —পা। তুমি আমার কাছে এসো। তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না কেন? মা কই? মা! শর্মিলা প্লিজ কিস মি, আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমি বাড়ি এসেছি। রুণুর সঙ্গে দেখা না হলে আমি খালি এই রাস্তাগুলোয় ঘুরতাম, ঘুরতাম, কিচ্ছু চিনতে পারতাম না, তারপর এক সময়ে পড়ে মরে যেতাম।

    জগদিন্দ্রর স্ত্রী দুধ নিয়ে ঢুকলেন।

    —সোনা পিয়ে নাও।

    —ওহ তুমি? ভাবি তুমি? আমি ভাবিনি আবার তোমাদের দেখতে পাব।

    জগদিন্দ্র বললেন— সারদা, দুধে একটু ব্র্যান্ডি মিক্স করে দাও।

    দুধটা খেল মহেন্দ্র। তার পর একেবারে নেতিয়ে পড়ল, মহেন্দ্রর স্ত্রী ও বাচ্চাগুলো ককিয়ে কেঁদে উঠল। জগদিন্দ্র বললেন, শর্মিলা— স্টে স্ট্রং, এরকম করলে চলবে না, ডক্টর সেন এক্ষুনি আসছেন।

    ডাক্তার এসে যাবার পর আমি চলে এলাম।

    পরের দিন জোর খবর। এরা বোধহয় বাতাসের মুখে খবর পায়। এত ডিটেল তো আমিও শুনিনি। মহেন্দ্রর ডান হাতে গুলি লেগেছে, অপটুভাবে অপারেশন করা হয়েছে, মাথার অবস্থা ভাল নয়। মাথায় ভারী কিছু দিয়ে মারা হয়েছে। ভদ্রলোক এমন একটা শক খাওয়া অবস্থায় আছেন যে মাঝে মাঝে হিস্টিরিক হয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার দিন গাড়িতে বসে ওঁর কেমন ঢুল এসেছিল। তারপরেই ড্রাইভার মদনলালের কানের পাশে পিস্তলটা দেখতে পান এবং দুই বাক্সের টিফিন কেরিয়ারটা ছুড়ে মারেন। তারপরেই গাড়ির দরজা খুলে দুষ্কৃতীরা ওঁকে ধরে। উনি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন, তখন ওরা গুলি করে এবং মাথায় আঘাত করে। তিন মাস হয়ে গেছে একটা অন্ধকার ঘর একটা বাতি জ্বলছে এ ছাড়া আর ওঁর কিছু চোখে পড়েনি। ঘরটা মাঝে মাঝে বদলে যেত। কিন্তু একই রকমের অন্ধকার। শেষটায় একটা অসহ্য গরম ঘরে ছিলেন। কালো মুখোশ পরা কয়েকজন লোক যাওয়া-আসা করত, খাবার দিত। ওই রকমই একজন তাঁর হাত থেকে গুলি বার করে। ইদানীং অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে সেখানে। দু’মাসের পরে এ এস একটা ফোন পান। পাঁচ কোটি টাকার দাবি করে কেউ। ওঁরা অনেক দরদস্তুর করেও টাকার অঙ্কটা কমাতে পারেননি। দুর্বৃত্তরা হয় জানত না নয়তো বিশ্বাস করেনি পাঁচ কোটি টাকা মুক্তিপণ দেবার ক্ষমতাসম্পন্ন ওঁরা নন। ওঁরা ভয়ে পুলিশকে কিছুই বলেননি। কিন্তু পুলিশ তলে-তলে তদন্ত করে চলেছে। অনেক কিছু জানতেও পেরেছে। আপাতত তদন্তের স্বার্থে কিছুই প্রকাশ করা হচ্ছে না। অজ্ঞান অবস্থায় বাড়ির কাছাকাছি রাস্তায় মহেন্দ্রকে ফেলে ওরা চলে যায়। উনি আকাশ দেখেন। কিন্তু বাড়ি চিনে ফিরতে পারেন না। একটি স্থানীয় ছেলের সাহায্যে বাড়ি পৌঁছন। সময় কতটা কেটেছে, তিন মাস না তিন বছর সে সম্পর্কে ওঁর কোনও ধারণা নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদিদিমাসির জিন – বাণী বসু
    Next Article ট্রেকার্স – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }