Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প166 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তিল থেকে তাল – ৪

    ৪

    …কুলদা গোস্বামী বীরপুর বারের নামকরা মোক্তার। বেঁটেখাটো গোলগাল ঘৃতপক্ষ গৌরবর্ণ দেহ, মাথায় একগাছি চুলও আর নেই সবটা জুড়ে তেলাল একটি টাক। লোকে বলে— বুদ্ধির তাপে গোঁসাই প্রভুর মাথার চুলগুলোও অন্তর্হিত হয়েছে। ওর শুভনাম কুলদারঞ্জন গোস্বামী। চলতি কথায় হয়ে গেছে গোঁসাই প্ৰভু!

    প্রভুই বটেন। কপাল আর মাথা এ দুটোর মধ্যে সীমারেখা এখন বিলুপ্ত। তবু ওইস্থানে বিরাজ করে তিলক ছাপ, নাক অবধি নেমে এসেছে, গলায় কন্ঠি, মুখে হরিনাম, নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব, বিনয়ী আর তেমনি ওর চোখের চাহনি। সারা গোল দেহটা জেরার সময় আদালতে লাট্টুর মতো বনবনিয়ে ঘোরে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিত হয় তার দু’চোখ, ওর ভরাটি গলা আর শাণিত বাক্যবাণ প্রতিপক্ষের সাক্ষীর সব সাহসকে তছনছ করে দেয়, সে তখন উল্টোপাল্টা বকতে থাকে। আর সেই ফাঁকে গোঁসাই প্রভু তার নিজের যুক্তি সমর্থন করিয়ে নেয় আদালতে।

    পাশকরা উকিলরাও ওকে সমীহ করে, আর ছোকরা উকিলদের তো ট্যাকে গুঁজে রাখে কুলদা গোঁসাই, মায় ছোকরা মুন্সেফ হাকিমরাও ওকে মানে গণে, সমঝে চলে ওর মামলার রায় দেবার সময়।

    গুপি মিত্তিরের পাশের গ্রাম মীরপুরের মৌজায় একলপ্তে বাইশ বিঘে জমি আর একটা পুকুর আছে। এতকাল সেই পুকুর থেকে মীরপুরের চাষিরাও তাদের জমিতে সেচের জল পেয়েছে, ইদানীং গুপি মিত্তির সেই মাঠের দিঘিকে কায়েম করে কাটিয়ে পোক্ত বাঁধ দিয়ে নিজের জমিতেই পাম্প বসিয়ে জল তুলে বিরাট চাষবাড়ি করেছে, গ্রামের অন্য গরিব চাষিদের সেচের জল নিতে দেয়নি। তাদের সারা মাঠের ফসল মরতে বসেছে। মুখের গ্রাস চলে যাবে তাদের। তারা মামলা করেছিল লোয়ার কোর্টে সেখানে বড় উকিল লাগিয়ে অনেক ঘটা করে গুপি মিত্তির জয়ী হয়েছে। মীরপুরের সাধারণ মানুষ গত্যন্তর না দেখে সদরে আপিল করেছে, কেঁদে এসে পড়ে কুলদা গোঁসাই-এর কাছে।

    কুলদা মোক্তারের সময় নেই। বিশেষ করে ফৌজদারি মামলায় ওকে সবাই পেতে চায়। টাকা ঢেলে দেয় কুলদার চরণে—জানে তাদের জিতিয়ে দেবেই গোঁসাই প্রভু। সদরের সে সবচেয়ে ব্যস্ত মোক্তার। মীরপুরের লোকদের কান্নাকাটি দেখে কুলদা মোক্তার রাজি হন।

    —ঠিক আছে, যা দাঁড়াব। তবে বাবা মামলা বড় কাঁচা-ফৌজদারি করে এলে ঠিক জল বের করে দিতাম, এটা কি হবে জানি না। দেখা যাক প্রভু কি করেন!

    গোঁসাই প্রভু শিবনেত্র হয়ে স্মরণ করেন—নিতাই হে, তোমারই দয়া!

    গুপি মিত্তির সকালে সদরে এসেছে। ভজন আর গিরিধারীকে নিয়ে ওর উকিলের বাড়িতে গিয়ে নথিপত্র নিয়ে বসেছে, প্রসন্ন উকিলও বারের নামী উকিল। তিনিই বলেন,

    —ওদিকে দাঁড়িয়েছি কুলদা মোক্তার! সাক্ষীদের একটু তালিম দিতে হবে মিত্তির মশাই জলসেচ তো এতকাল ছিল ওতে, এতবড় প্রমাণটা যেন ওরা হাতে না পায়!

    ভজন গ্রামের পাকা সাক্ষীদার। যতই মামলা হোক ভজন দাসকে কাঠগড়ায় দেখা যায়, মিথ্যাকে সে নিপুণভাবে সত্যে পরিণত করতে পারে মাত্র দশটাকা আর মাংস ভাতের বদলে। গুপি মিত্তিরের সে বাঁধা সাক্ষী।

    ভজন বলে—ওসব ভাববেন না উকিলবাবু, গোঁসাই প্রভু এর আগেও দু-তিনটে মামলায় আমাকে বাজিয়ে নেছে। হড়কায়নি।

    গিরিধারীকেও যোগ্য তালিম দেওয়া হয়ে গেল কী-কী বলতে হবে আদালতে। গুপি মিত্তির তবু সাবধান করে।।

    —হুঁশিয়ার বাবা।

    …ভজন কাঠগড়াতে দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিয়ে চলেছে অকম্পিত স্বরে, ওই দিঘিতে সে ছেলেবেলায় হুইলে রুই মাছ ধরেছে, একটা তো আট কেজি ছিল—এই গিরিধারীও দেখেছে। কোনো কালেই ওই দিঘিতে জলসেচ হতো না, পদ্মবন ছিল, ভুবন কবরেজ চোখের চিকিৎসা করত ওই পদ্মবনের পদ্মমধু দিয়ে।

    ভজন বিশদভাবে বর্ণনা করে চলেছে, প্রসন্ন উকিল দেখছে হাকিমও নোট করলেন, ওই আটসের রুই মাছ ধরার কথা, আর পদ্মমধুর কথা।

    গোঁসাই প্রভু নির্বিকার।

    আদালতে আসেন প্যানটুল আর কালো কোট পরে, তবু ললাটে তিলক গলায় কণ্ঠি ঠিকই থাকে। নিবিষ্ট মনে হরিতকি চিবিয়ে চলেছেন।

    মীরপুরের লোকেরাও ঘাবড়ে গেছে এমন সাক্ষীর নিবিড় কথার বাঁধুনিতে।

    ওরা বলে—প্রভু কিছু বলুন!

    ইঙ্গিতে ওদের থামিয়ে দিয়ে গোঁসাই নির্লিপ্তভাবে শুনেছেন সাক্ষীদের কথা। হতাশ হয়ে পড়ে মীরপুরের লোকজন। তাদের সর্বনাশ হয়ে গেল! অতীতে তারা অনেক ফসল করেছে। এগজিবিশনে প্রাইজ পেয়েছে ওই জমিতে জলসেচ দিয়ে ফসল করে। আজ গুপি মিত্তির পয়সার জোরে তাদের সেই জলস্বত্ব কেড়ে নিতে চলেছে। ভজনও সাক্ষ্য দিয়ে গুপি মিত্তিরের দিঘি যে পবিত্র জলাশয়, জলসেচ হতো না, পদ্মবন ঘেরা দিঘি এটা নথিভুক্ত করেছে। গুপি মিত্তির বেশ খুশি। দুই সাক্ষীই মজবুত সাক্ষী দিয়েছে।

    নামছে কাঠগড়া থেকে ভজন।

    স্তব্ধ-আদালত, হঠাৎ লাটুর মতো বোঁ পাক দিয়ে সিধে হয়ে উঠে কুলদা মোক্তার হাঁক পাড়ে—মহামান্য ধর্মাবতারের অনুমতি নিয়ে সাক্ষী ওই ভজনদাসকে দু’ একটা প্রশ্ন করতে চাই হুজুর!

    ভজনদাস ওই ধমকে থমকে দাঁড়িয়েছে।

    পেশাদার সাক্ষী সে। তাই কাঠগড়ায় উঠে দাঁড়াল।

    কুলদা মোক্তার ফর্দ বের করে বলে ওঠে—হুজুর, এই ভজনদাস এই মাসে এবং গতমাসে মিলিয়ে এই আদালতে তেইশটা মামলার সাক্ষী ছিল হুজুর! সতেরোটা ফৌজদারি আর ছটি দেওয়ানি কেসের সাক্ষী, তার আগের দুই মাসে ছিলেন—একুশটি কেসের, এবং এই বৎসরে সাকুল্যে তিনি একশো ছটি কেসের সাক্ষী দিয়েছেন।

    আমার বক্তব্য—ওনার চোখের সামনেই কি সব মামলা ঘটে দৈবক্রমে, তাহলে ওর চোখ এবং অস্তিত্ব ক’টি?

    গুপি মিত্তির ঘাবড়ে যায়। ওর উকিল বলে ওঠে—আই অবজেক্ট। এখানে এ প্রশ্ন অবান্তর। কুলদা গোঁসাই ফর্দের কপিটা ধরিয়ে দিয়ে বলে,

    —এটা তদন্ত সাপেক্ষ হুজুর। এতে প্রমাণ হবে সাক্ষী শ্রীভজনদাস পেশাদার সাক্ষী কি না? ভজন একটু ঘাবড়ে গেছে।

    এবার গোল দেহটি নিয়ে সার্চলাইটের মতো দৃষ্টি মেলে গোঁসাই প্রভু ভজনকে দেখে হুঙ্কার ছাড়েন,

    —মহামান্য আদালতের কাছে আমার আবেদন, সাক্ষী ভজনদাসকে চাদর খুলে দাঁড়াতে বলা হোক।

    গুপি মিত্তির এখনও ঠিক বুঝতে পারেনি ব্যাপারটা। তবু প্রসন্ন উকিল প্রতিবাদ করে আই অবজেক্ট। সাক্ষীকে অপমান করার অধিকার ওর নেই।

    কুলদা মোক্তার হেঁকে ওঠে—প্রয়োজন আছে হুজুর। আর কি প্রয়োজনে সেটা দেখতে চাচ্ছি—সেটাও ধর্মাবতার বুঝতে পারবেন।

    কাঁপছে ভজনদাস, এতক্ষণ ধরে সাজানো কথাগুলো বলে গেছে, ভাবে নি যে এভাবে মূলে আঘাত করবে ওই জাঁহাবাজ মোক্তার। ভয়ে ভয়ে চাদরটা খুলে দাঁড়াতেই চমকে ওঠে অনেকে। চাদরহীন এই ভজনদাসকে অনেকেই দেখেনি। কুলদা মোক্তার এবার ডবল তেজে হুঙ্কার করে বলে,

    —হুজুর ধর্মাবতার, সাক্ষী ওই ভজনদাসের ডান হাতটি জন্ম থেকেই পঙ্গু। একটু আগেই তিনি সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেছেন যে—ওই মীরপুরে দিঘি থেকে তিনি নিজে দশ সের রুই মাছ ছিপে তুলেছেন, মহামান্য আদালতের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, ওই ব্যক্তি বাঁ-হাতে কি করে দশ সের তাজা রুই মাছ তুলবেন—সেটা যেন ভেবে দেখেন! কথাটা সত্য না মিথ্যা!

    গুঞ্জন ওঠে আদালতে।

    এবার ভজনদাস ঘামছে। গুপি মিত্তিরের টাক ঘামছে। বেকায়দায় পড়েছে প্রসন্ন উকিলও। সাক্ষীকে পড়াবার সময় তিনিও এটা লক্ষ্য করেননি। একেবারে ভরাডুবি হয়ে গেছে।

    ভজন ঘামতে থাকে কাঠগড়ায়।

    কুলদা মোক্তার হুঙ্কার করে ওঠে সাক্ষী বলেছেন পদ্মবন ছিল। পদ্ম ফুটত—

    ভজন এবার যে পায়ের নিচে মাটি পেয়েছে। সে বলে ওঠে—হ্যাঁ ধর্মাবতার। আমি দেখেছি পদ্ম ফুটতো—নীলপদ্ম হুজুর!

    —ইয়োর অনার! সাক্ষী বলেছেন নীলপদ্ম ফুটত! উনি দেখেছেন! কুলদা মোক্তারের কথাতে ভজন জোরে বলে—হ্যাঁ হুজুর!

    কুলদা মোক্তার এবার গর্জে ওঠে—ধর্মাবতার, সাক্ষী দেখেছেন ওখানে নীল পদ্ম ফুটত। ধর্মাবতার, নীলপদ্ম দেখেছিলেন স্বয়ং শ্রীরামচন্দ্র সেই ত্রেতা যুগে, তাই দিয়ে দেবীর পূজা করেছিলেন। তারপর ত্রেতা-দ্বাপর যুগ চলে গেল—এই কলিকালে নীলপদ্ম আবার দেখেছেন ওই সাক্ষী ভজনদাস মিত্তির মশাই-এর ওই পুকুরে! ধন্য ভজনদাস-ধন্য তুমি! আর ধন্য ওই গুপি মিত্তির।

    ধর্মাবতার, রামায়ণের এই অধ্যায়টা একটু অ্যামেন্ড করে নতুন নীলপদ্মদর্শনের কাহিনিকে জুড়ে দিয়ে গুপি মিত্তিরের দীঘিতে জলসেচ দেবার হুকুমই তাহলে দিতে আজ্ঞা হয়।

    সারা আদালতে কলরব, হাসিতে ফেটে পড়ে! ভজন আদালতে দাঁড়িয়ে এবার কাঁপতে থাকে। গুপি মিত্তিরের কাঁপ-ছটকানো অবস্থা।

    মামলা ডিসমিস হয়ে যায় এক কথাতেই।

    আনন্দে জয়ধ্বনি করে ওঠে মীরপুরের লোকজন। সাক্ষী রইল পড়ে। গুপি মিত্তির হটপট করে কোর্টঘর থেকে বের হয়ে এসে ধপাস করে বাইরের বাঁধানো বটতলায় বসে পড়ে!

    প্রসন্ন উকিলের মহুরি তখনও সম্যক টাকা—ফিজ পায়নি। সে হন্যে হয়ে খুঁজছে মিত্তির মশায়কে! ভজনও এসে পড়ে।

    মিত্তির মশায় ভজনকে দেখে এবার লাফ দিয়ে ওর টুটি ধরে গর্জায়—

    —শেয় করে দেব তোকে!

    নিতাই কোনরকমে ছাড়িয়ে দেয়—হায় কর্তা। করছ কি? জলসেচ ওরা পেতনা হয় আবার পাবে। তাই বলে খুনখারাপি করবে নাকি!

    গুপি গর্জায় উঃ। ওই কুলদা মোক্তারই হাঁড়ি ভেঙে দিলে হাটে! কি সাংঘাতিক লোকরে বাবা।

    .

    কুলদা গোঁসাই-এর দপ্তর ওদিকের একটা চালাঘরে। তিনজন মুহুরি হিমশিম খেয়ে যায় নথিপত্র আর্জি, মক্কেল-সামলাতে। গোঁসাই প্রভু নির্বিকিার চিত্তে ওদিকে বসে হুঁকো টানছেন। আজ শনিবার কোর্ট সেরে তাকে মেয়ের ওখানে যেতে হবে। একমাত্র কন্যা ওই নিত্যকালী। তাকে দেখতে যেতে হয়।

    তাড়া দেন গোঁসাই প্রভু—ওরে আর কেস নিস্ না নিরু! কাঁচা মামলা নিবি না। আর আমাকে আজ বেরোতে হবে বাবা, নেত্যকে দেখতে যাব। ফিরব কাল সন্ধ্যায়, ওদের বলে দে।

    হঠাৎ সেকেন্ড মুনসেফের বেয়ারাকে আসতে দেখে তাকালেন গোঁসাই প্ৰভু!

    বেয়ারা বলে-হুজুর একবার নমস্কার জানিয়েছেন গো!

    গোঁসাই প্রভু বলে ওঠে, ওই হয়েছে জ্বালা। আরে কলেজে পাশ করেই হাকিম হয়ে এসেছে, ছেলেগুলো ভালো। কিন্তু মামলা বোঝে না। চল—যাচ্ছি।

    ছোকরা সেকেন্ড মুনসেফ আইনের একটা কূট চাপে পড়ে পথ পাচ্ছে না। সে শুধোয়—গোঁসাই প্রভু কী হবে এটার?

    কুলদা গোঁসাই আর্জিটা দেখেই বুঝতে পারে। চেনে বাদীপক্ষকে। এ দিগরের কুষ্ঠি ঠিকুজি তার জানা। বলে ওঠেন তিনি।

    —ওরা তিন ভাই। দাবি করছে দুই ভাই—ছোট ভাইয়ের ওয়ারিশানদের পক্ষ করেনি। এ মামলায় সত্য গোপন করে পক্ষদুষ্ট করা হয়েছে। খারিজ করে দেবেন!

    এককথায় বিধান দিয়ে বের হয়ে এলেন গোঁসাই প্রভু! তাড়া দেন—ওরে নিরু, রিক্শা ডেকে দে। বাড়ি হয়ে ইস্টিশানে যেতে হবে। বলি মামলার নরকেই কি দিন কাটবে? জয় প্রভু!

    গুপি মিত্তির রাগে টং হয়ে ফিরছে লাউগঞ্জে। ট্রেনে মীরপুরের দলও রয়েছে। জয়ের উল্লাসে তাদের মুখ ঝলমলে। গুপি মিত্তির এ কামরা ছেড়ে অন্য কামরায় উঠে গুম হয়ে বসে থাকে। বৈকাল নামছে, ট্রেনটা লাউগঞ্জে এসে থেমেছে। ওরা নামছে। হঠাৎ নিতাই বলে ওঠে—কর্তা! দেখেছ?

    গুপি মিত্তির ক’দিনেই অনেক দেখেছে। নতুন আর কিছু দেখার শখ-সাধ আর তার নেই। তাই বিরক্তি-ভরে বলে—কী আর দেখব? চলো—বাড়ি চলো। সেখানে কী হচ্ছে কে জানে!

    হঠাৎ তারও দৃষ্টি থেমে যায়, পাশের কামরা থেকে নামছে স্বয়ং কুলদা গোঁসাই। অবশ্য কোর্টের পোশাক এখন আর নেই। পরনে লোমবস্ত্র, গায়ে ফতুয়ার উপর নামাবলি, মাথায় পগ্‌গ, কাঁধে বৈষ্ণব বাবাজিদের মতো একটা সুতির ঝোলা, কাঁধ থেকে দু’দিকে ঝোলানো, দোরখোর মতো। যেন কোন বিনয়ী-বৈষ্ণব—জয় প্রভু, জয় নিতাই!

    ভজগোবিন্দ শ্বশুর মশায়কে দেখে এগিয়ে এসে প্রণাম করে,

    —সব কুশল তো? জয় প্রভু!

    কুলদা গোঁসাই-এর হঠাৎ নজর পড়ে গুপির দিকে।

    কুলদা গোঁসাই সহজ বিনীত ভঙ্গিতেই বলে,

    —নমস্কার মিত্তির মশাই। বাড়ি ফিরছেন বুঝি!

    গুপি মিত্তির যেন রাগে-ফেটে পড়বে এবার। তারই এলাকায় এসেছে লোকটা।

    তবু রাগ চেপে বলে—আজ্ঞে! এখানে?

    বলে ওঠেন গোঁসাই প্রভু–আমার জামাই মেয়েকে দেখতে এলাম!

    গুপি মিত্তির চমকে ওঠে। ওই বাপের ওই মেয়েটিকে বিলক্ষণ চিনেছে সে।

    বাপটিকেও এবার সমীহ করে।

    গুপি মিত্তির চলে,

    তখনও হাসছেন কুলদা গোঁসাই। ভজগোবিন্দকে বলেন,

    কি ব্যাপার হে, মিত্তির ভালো করে কথাও বলল না। মামলায় হেরে গিয়ে কি মাথা খারাপ হয়ে গেল ওর।

    ভজগোবিন্দ বলে—তা নয়, অন্য ব্যাপারও আছে। শুনবেন আপনার মেয়ের কাছে। গুপি মিত্তির আমাকেও বদলি করার জন্য চেষ্টা করছে।

    —তাই নাকি! কুলদা মোক্তারের বিস্তীর্ণ কপালের আঙিনায় একটু কুঞ্চন জাগে।

    .

    এর মধ্যে রতন বকুলও আসতে শুরু করেছে নেত্যকালীর এখানে। সকালের চা-জলখাবার খেয়ে যায় দুজনে। দুপুরে তরি-তরকারি মাছ থাকে। বৈকালে এসে খায়। দু’দিনেই সন্তানহীনা নেত্যকালী ওই দুজনকে ভালোবেসে ফেলেছে।

    সুলতাদিও বসে নেই। বকুলের মাস্টারির কাজটা হয়ে গেছে। সকালেই বকুল এসে প্রণাম করে, হাতের ভাঁড়ে মিষ্টি!

    নেত্যকালী বলে—কী ব্যাপারে রে। মিষ্টি হাতে?

    বকুল বলে—তোমার জন্যই আজ পায়ের তলে মাটি পেলাম মাসিমা, স্কুলের চাকরিটা হয়ে গেল। কাল রবিবার, পরশু থেকে জয়েন করতে হবে। এতদিন তো তোমার গলগ্রহ হয়েছিলাম। নেত্য বকুলকে বুকে টেনে নিয়ে বলে—দূর পাগলি। ছেলেমেয়ে কখনও মায়ের গলগ্রহ হয় রে! তা সেটা কোথায়? সেই লাটের ব্যাটা!

    রতনও এসে পড়েছে।

    ওদিক থেকে জানান দেয়—এসে গেছি মাসিমা!

    হাসতে নেত্যকালী। বলে সে-শোন, এবারে তোদের বিয়ে-থা দিতে পারলে নিশ্চিন্ত। রতন বলে—ওটাই কঠিন কাজ মাসিমা। বাবাটিকে দেখেছ তো! তিনি কি সহজ ছাড়বেন! আমাদের জন্য তোমাদেরই না বিপদ হয়!

    —কেন? বকুল ভাবনায় পড়ে।

    রতন জেনেছে খবরটা। বলে সে–বাবা তো গঞ্জে—বাজারে তাবৎ লোকের কাছে মেসোমশাই-এর বদলির জন্য দরখাস্ত নিয়ে ফিরছেন। জয়েন্ট পিটিশন দিয়ে–মিথ্যা বদনাম দিয়ে মেশোমশাইকে এখান থেকে ট্রান্সফার করাতে চান!

    বকুল বলে—তোমরা চলে গেলে আমাদের কি অবস্থা হবে মাসিমা? আর তো কেউ নেই আমার!

    কথাটা শুনেছে নেত্যকালীও। ভাবনার কথা।

    তবু বলে সে—থাম তো। বদলি এতই সোজা! দরকার হয় তখন অন্য ব্যবস্থাই হবে।

    বকুলকে কাছে টেনে নিয়ে বলে নেত্যকালী-তোদের ছেড়ে যাব না রে। তাতে কর্তাকে চাকরি ছাড়তে হয় সেও ভালো!

    বকুল মাসির মধ্যে কি যেন পরম আশ্বাস পেতে চায়!

    হঠাৎ কথাটা মনে পড়ে নেত্যকালীর—আজ বৈকালে বাবা আসবেন লিখেছেন তোরা দু’জনে রাত্রে এখানে প্রসাদ পাবি। বাবার সঙ্গে জানাশোনাও হবে।…আর এসব নিয়েও আলোচনা হবে!

    .

    নেত্যকালী বাবার জন্য আয়োজনের ত্রুটি রাখেনি।

    বাবা নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব। নিরামিষ খান। তাই নানা উপাদানই করেছে। ইস্টিশানের ওদিকে ওই পড়ো জায়গায় কয়েকটা লাউগাছ গজিয়েছে। আর হাড়গোড়ে লাউ ফলেছে। ওখান থেকে একটা কচি লাউ কেটে এনেছে বিমলি! বাবার প্রিয় খাদ্য দুধ-লাউ তাও করেছে নেত্য!

    ভজগোবিন্দ যথাসময়ে মান্যবর শ্বশুরকে নিয়ে ঢুকল বাড়িতে। নেত্য গড় হয়ে প্রণাম করে। ওদিকে রতন-বকুলও এসে গেছে। তাদের প্রণাম করতে দেখে গোঁসাই প্রভু হাঁক পাড়েন—কল্যাণমস্ত! এ দুটি কে-রে নেত্য?

    নেত্যকালী পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলে—এখন ওরা বড় বিপদে পড়েছে বাবা। আমারই ভরসায় রয়েছে। আর আমার ভরসা তো তুমিই বাবা!

    গোঁসাই প্রভু রসিক ব্যক্তি। শুধু বুদ্ধিমানই নন—দূরদর্শীও। তাই বলেন।

    —কী কেস রে?

    হাসে নেত্য–তোমার ওই খালি মোকদ্দমা-কেস ছাড়া কথা নেই বাবা?

    গোঁসাই প্রভু হেসে ওঠেন—জয় প্রভু! বুঝলি মা—কোর্টের বাইরেই তো কেসের গোড়াপত্তন হয়। তাই সময় থাকতে তার প্রতিকার করা উচিত। শুনলাম ওই গুপি মিত্তির নাকি তোদের পিছনে লেগেছে। লোকটা কিন্তু সুবিধের নয়!

    নেত্য বাবার হাত-মুখ ধোবার জল গামছা এনে পা ধুয়ে দিয়ে বলে।

    —ওই রতন আর বকুলকে নিয়েই তো ব্যাপার। এই মিত্তির মশায়ের ছেলে রতন—

    গোঁসাই প্রভু বলেন—অ্যাঁ! এ যে দৈত্যকুলের প্রহ্লাদ রে। কি ভায়া? বাবার সঙ্গে ছোড় ছাড় করে চলে এসেছ—তা কারণটি কি উনি? শ্রীরাধিকে?

    নেত্যকালী সব কথাই বলে, বকুলের উপর অত্যাচারের কথা। মায় গুপি মিত্তির, চোরাকারবার, ওই মদ চোলাই-এর কথা—সব কিছু।

    গোঁসাই-প্রভু নিবিষ্টভাবে হুঁকো টেনে যেন বুদ্ধিতে বালিশান দিয়ে চলেছেন। এবার বলে ওঠেন,

    —ঠিকই করেছ রতন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত ভায়া।

    রতনও সায় দেয়—বাবার ওইসব অন্ধকারের কারবারকে মেনে নিতে বিবেকে বেধেছে। তাই চলে এসেছি।

    গোঁসাই প্রভু বলেন,

    —তাই তোদের পিছনে লেগেছে গুপি মিত্তির?

    নেত্যকালী চিন্তিতভাবে বলে—যদি ওকে বদলি করে দেয় বাবা, এখান থেকে চলে যেতে হবে। আর এ দুটো ছেলেমেয়ের দশা কি হবে ভেবে দেখেছ? আমার মুখ থাকবে না বাবা।

    গোঁসাই প্রভু কি ভাবছেন। হঠাৎ বলেন তিনি।

    —তুই এখানেই থাকবি। লাউগঞ্জের বুকে বসে ওর জবাব দিবি। দরকার হয় কাছাকাছি একটা জায়গা দেখে আমি তোর নামে বায়নাপত্র করে রাখছি। এখানেই বাড়ি তুলে দেব। ভজগোবিন্দকে বদলি করে—ও যাতায়াত করবে, না হয় চাকরি ছেড়ে এখানেই থাকবে। সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে! আর গুপি মিত্তিরকেও দেখছি ওষুধ দিতে হবে! পরে ভাবা যাবে ওসব। এখন সন্ধ্যা-আহ্নিক করে নাম-গান সারতে হবে মা। জয় প্রভু!

    .

    আজ নেত্যকালীর স্টেশন কোয়ার্টার একা কুলদা গোঁসাই-এর হুঙ্কারে ভরে ওঠে। হাঁক পাড়ছে সে বেদম খঞ্জনি পিটিয়ে।

    —জয় নিতাই গৌর রাধে শ্যাম!

    সুজির গন্ধে দীনু পাগলও ইস্টিশানের টাঙানো একতারা নিয়ে এসে জুটেছে। আজ সেও গৌরচন্দ্রিকা শুরু করে।

    —চল যাই গৌর দরশনে,
    এমন আপনজন আর কে আছে
    গৌরাঙ্গ ধন বিনে—

    বকুল রতন সুলতানি মালতী মায় কুসুম অবধি এসে জুটেছে। বকুলও বৈষ্ণব পদাবলী গান ধরেছে। চোখ-বুজে গোঁসাই প্রভু মাথা নাড়েন

    —আহা! জয় প্রভু—জয় নিতাই! অপূর্ব গান তোমার!

    বলেন তিনি–নেত্য, বড় আনন্দ পেলাম মা। সদরে দিনরাত ওই পোড়া মামলার নরকে পড়ে থাকি রে। বড় ভালো লাগল এখানে এবার। তুই এখানেই থাকবি—মহিলা সমিতি থেকে হরি কীর্তনও হবে। ওই বাড়ি ঘর-মন্দিরও করে দেব। এ বড় শান্তির-ঠাঁই রে!

    নেত্যকালী বলে—কিন্তু বাবা ওই গুপি মিত্তির যে পেছনে লেগে আছে। হুঙ্কার ছাড়েন গোঁসাই প্রভু—ওকে ঠাণ্ডা করব! কুলদা মোক্তার ইচ্ছে করলে ওকে জব্দ করতে কতক্ষণ।

    কুসুমও প্রণাম করে গোঁসাই প্রভুকে। নেত্যকালী পরিচয় করিয়ে দেয়,

    —গুপিবাবুর স্ত্রী! তৃতীয় পক্ষ!

    –বেঁচে থাকো মা!

    গোঁসাই প্রভু বলেন—সব অস্ত্র তোর হাতে মা। এতগুলো লোকের শুভেচ্ছার গুপি মিত্তিরকে নস্যি করে দেব। জয় প্রভু!

    দীনু পাগলা বলে—তাই করেন গো, উ বড্ড ঠ্যাঁটা!

    .

    রতন বকুল ভজগোবিন্দ গোঁসাই প্রভু খেতে বসেছে। পরিবেশন করছে নেত্য। কুলদা গোঁসাই ঘৃতপক্ব লুচি ছোলার ডাল-তরকারি ভাজা পর্ব শেষ করে এবার লাউয়ের পায়েস নিয়ে পড়েছেন।

    বলেন—কই হে রতন খাও। এর নাম দুগ্ধ লকলকি—মহাপ্রভুর প্রিয় খাদ্য।

    রতনও বলে—সত্যি এ জিনিস আগে খাইনি মাসিমা। লাউ আমার খুব প্রিয় খাদ্য। এটার স্বাদও হয়েছে অপূর্ব!

    বকুলও মাথা নাড়ে—মাসিমা আমাকে এইটা আর একটু দাও। রাখো তোমার সন্দেশ।

    নেত্য খুশি হয়ে বলে—আর একদিন করব তোদের জন্যে। ভারি তো লাউ-এর পায়েস!

    গোঁসাই প্রভু পরদিন কিছু খোঁজ-খবর নিয়ে—ইস্টিশানের আশপাশের জায়গাগুলো দেখে ফিরে যান। ভজগোবিন্দও ঘাবড়ে গেছে গুপি মিত্তিরের দাপটে। শ্বশুরমশায় সান্ত্বনা দেন।

    —কোনো ভয় নেই বাবাজি। কোনো গোলমাল দেখলে যেন খবর পাই। চলিরে নেত্য নেত্যকালী বাবাকে প্রণাম করে। গোঁসাই প্রভু বৈকালের লোকালে গদিয়ান হয়ে সদরে ফিরলেন!

    .

    গুপি মিত্তিরও বসে নেই।

    গোঁসাই প্রভু থাকাকালীন ইস্টিশান চত্বরে সে আসেনি, কিন্তু খবরগুলো ঠিকই পেয়ে যায়। সে-ও এবার গঞ্জে জনমত সংগ্রহ করছে ভজগোবিন্দকে হঠাবার জন্য।

    মতিয়া—বুধুয়ার দল ক’দিন মালিকের কথায় চুপচাপ রয়েছে। ওদের আড্ডাটাও জমে না। গদাই বলে,

    —পয়সা দিয়ে মাল খাব চোরের মতো?

    মতিয়া ফুঁসে ওঠে—তোরা কিছু করতে পারবি? তাহলে সব দুরস্ত করে দিব হামি!

    মটরা, যতীন গর্জে ওঠে—জান্ লড়িয়ে দেব।

    বুধুয়া গজগজ করে—দেখব ক্যামন মরদ তোরা! একদম কারবার বন্ধ করে দিল। লাউ শ্লা-চাকরি করো। কি হবে এতে!

    যতীন বলে—একটা কিছু কর মতিয়া।

    মতিয়া ভাবছে কথাটা। এরা যেন ধূমায়িত আগ্নেয়গিরির মতো ফুঁসছে, করার কিছু নেই। চুপ করে মাস্টার-গিন্নির দাপট-সয়ে কাজ-কারবার—স্ফূর্তি-আর্তি বন্ধ করে ধুঁকছে। মতিয়া গর্জে ওঠে,

    —চুপ করে থাক তোরা, কুত্তার দল। হামি কুছু করলে তোরা সঙ্গে থাকবি না। চুকলি খাবি। গদাই খুব চাপড়ে বলে—কভি নেই। বাপকা বেটা আমি।

    মটরা সায় দেয়-কসম! লড়ে যাব তুর সাথে। নেত্যকালী দু’একদিন শান্তিতেই রয়েছে। সব চুপচাপ! মনে হয় ভয় পেয়েছে গুপি মিত্তির, আর ওই মতিয়া বুধুয়ার দলও।

    এবার নেত্যকালী মহিলা সেবাসমিতির কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। আর মাথায় রয়েছে রতনের বিয়ে, নিজের ছেলেমেয়ে নেই। বকুলটার জন্যই দুঃখ হয়। তবু চাকরিটা পেয়েছে এবার বকুল।

    আজ ওদের দু’জনকে খেতে বলেছে এখানে। দুপুরে টিফিনের সময় এসে দু’জনে খেয়ে যাবে। সেই রাত্রে লাউয়ের পায়েস খেয়ে ওরা খুর খুশি। আজ তাই লাউয়ের পায়েসটাই করবে নেত্য।

    দুধও বেশি করে আনিয়েছে।

    বিমলি আর নেত্য বের হয়েছে। তরি-তরকারি লাউ-কুমড়োর ছড়াছড়ি বাড়িতে। কে খাবে? কিন্তু লাউয়ের পায়েস, যে সে লাউ দিয়ে হবে না। কচি অথচ পুরুষ্ট লাউ চাই, সবে ফুল খসেছে অথচ বেশি শক্ত বিচি হয়নি, এমনি নধর লাউয়ের সন্ধানেই এসেছে আদাড়ের এদিকে।

    জায়গাটা অনেকদিন ধরে পড়ে আছে, ইস্টিশানের লাগোয়া। এখানে অনেক লাউ ঝুলছে কয়েকটা গাছে। ওদিকটায় মতিয়াদের বসতি ঝুপড়ি, এপাশ এসে নেত্যকালী বিমলিকে হুকুম করে।

    —ওই লাউটা কাট বিমলি, দেখিস যেন আছড়ে ফেলিস না। বেশ কচি লাউটা, নিয়ে আয়।

    বিমলি উদ্যত বঁটি হাতে জঙ্গল ভেঙে এগিয়ে চলেছে ওই লাউয়ের দিকে, নেত্যকালী দাঁড়িয়ে আছে। শান্ত-স্তব্ধ চারিদিক। এসময় ওদিকের প্ল্যাটফর্মে ফার্স্ট লোকাল আসছে—তারপর ছাড়বে সেটা সেকেন্ড আপ হয়ে। লোকজন ওদিকেই রয়েছে।

    লাউটা সবে কেটেছে বিমলি এমন সময় ঘটনাটা ঘটে যায়। প্রতিপক্ষ বোধহয় অদূরেই অপেক্ষা করছিল—সুযোগ বুঝে এবার বেড়া-টপকে লাফ দিয়ে পড়ে বিমলির উপর মতিয়া।

    তারস্বরে চিৎকার করে ওঠে মতিয়া কাহে কাটবে আমার লাউ?

    মতিয়া লাউটা কেড়ে নেবার চেষ্টা করে, বিমলিও ছাড়বার পাত্রী নয়। সেও লাউটা আঁকড়ে ধরে কোনো রকমে মতিয়ার জবরদস্ত দেহের বাঁধন এড়িয়ে বের হয় আসার চেষ্টা করছে, মতিয়াও ছাড়বে না, জাপটে ধরে সামনে তারস্বরে চিৎকার করে চলেছে,

    —আমার গাছ কাটবে, লাউ ছিনিয়ে লেবে, মারবে কাঁহে? নেত্যকালীও অবাক হয়, বলে সে,

    —অ্যাই মতিয়া, আদাড়ে ও গাছ আপনা থেকেই হয়েছে, গোরুতে ওর লাউ খায়, সবাই নেয় ওই লাউ। ও কি তোর গাছ, না তোর জায়গায় গাছ যে লাউ দিবি না? ছেড়ে দে, ছেড়ে দে লাউ।

    —কভি নেহি। ই লাউ আমি দিব না। জুলুম করবে কাহে? আরে এ বুধুয়া—এ গদাই যতীনয়া—

    নেত্যকালী চিৎকার করে—ডাক তার বাবাদিকে। খবরদার ও লাউ ছাড়বি না বিমলি।

    বিমলিও ছাড়বে না, হঠাৎ মেয়েটা ফস্ করে কামড়ে দিয়েছে বিমলির হাতে। অতর্কিত আক্রমণে লাউটা ছিটকে পড়ে, ধারালো দাঁতের কামড়ে মাংস কেটে গেছে, রক্ত পড়ছে বিমলির হাতে। বিমলিও রক্ত দেখে এবার মারমুখী হয়ে বঁটি তুলেছে।

    নেত্যকালী চিৎকার করে—অ্যাই মতিয়া, ছাড়। দেখবি—

    মতিয়া প্রমাদ গুনেছে। নেত্যকালীও এগিয়ে আসছে, এদিকে বিমলিও বঁটি তুলেছে। খুন-খারাবিই হয়ে যাবে। মতিয়া এমনিতেই বুধনের সঙ্গে ঘর করতে গিয়ে মারামারি কিছুটা রপ্ত করেছে। দু’চার-ঘা মার খেতেও পারে আবার মার দিতেও পারে তাক মতো। বিমলির সেই কৌশলটা জানা নেই। তাই মতিয়া এবার হাতের বিরাট দাঁতওয়ালা রুপোর ইয়া মোটা বালা দিয়ে বিমলির মাথাতেই সজোরে এক-ঘা জমিয়েছে, আর তাতেই বিমলি—নক আউট।

    কপাল দিয়ে রক্ত ঝরছে, বঁটি পড়েছে ছিটকে।

    বিমলি চিৎকার করে ওঠে—খুন করে ফেললে গো দিদিমণি।

    নেত্যকালীও রক্ত দেখে এবার রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়ে মতিয়াকে চুলের মুঠি ধরে টেনে সারাবার চেষ্টা করছে।

    মতিয়া কিন্তু সব অ্যাকসনের সঙ্গে তাল রেখে সমানে চিৎকার করে চলেছে।

    এবার তার ভাষা আর নিনাদ আরও বেড়ে ওঠে।

    বিকট-স্বরে চিৎকার করছে মতিয়া—খুন করে দিল, বুধন, আবে গদাই—

    ইস্টিশানে বুধন তখন তোলা আদায়ে ব্যস্ত। পাগলা দীনু ওদিকে গিয়েছিল প্রাকৃতিক ক্রিয়া সম্পন্ন করতে। সে গাছাগাছালির আড়াল থেকে ওই গজকচ্ছপের লড়াই দেখে মুক্তকচ্ছ অবস্থায় দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে—হায় বাবা। অ্যাই বুধন, শালা তোর মাগ ওইখানে কি করছে দ্যাক গে! একাই লড়ে যাচ্ছে মাইরি। উঃ—কি ত্যাজরে।

    বুধনের কানে আসে কাতর চিৎকারটা। মতিয়ার চিৎকার। বুধনও হাতের কাজ ফেলে দৌড়ালো ওই দিকে। মনমেজাজ তার ভালো নেই। রাতের রোজগার-বন্ধ। এখন পয়সা দিয়ে মাল কিনতে হয়, বাড়িতে যা-এক আধটু চোলাই করে তাতে শানায় না।

    বুধনকে দেখে মতিয়া আরও সপ্তমে গলা তুলে কাঁদতে থাকে।

    —দেখ কি করছে। লাউ কাটল—গাছ তোড়ল—হামাকে দুনো মিলে অ্যাইসা মারলো—তু না এলে বঁটিসে কেটে দিত জরুর। আয় বাপরে-

    নেত্যকালী ধমকে ওঠে—অ্যাই! কে মেরেছে তোকে? তুই-ই তো বিমলির হাতে কামড়ে মাংস তুলেছিস, মাথায় চোট মেরে রক্তগঙ্গা করলি। ছাড়াতে গেলাম বলে কিনা মারল?

    সান্টিং ড্রাইভার গদাধর আর মটরু ওরা সাইডিং-এ কয়েকটা ওয়াগন টেনে নিয়ে গিয়ে ওদিকে রাখছিল, ইঞ্জিনটা মেন লাইনের পয়েন্টের মুখে এসেছে, এতক্ষণ ইঞ্জিনের বিকট শব্দে ওরা মোতিয়ার ওই চিৎকার শুনতে পায়নি, এবার ইঞ্জিনটা এদিকে আসতেই মটরার নজরে পড়ে ব্যাপারটা। সেই-ই দেখায়—ওই যে, ওই দ্যাখ ওস্তাদ। কি হচ্ছে গো।

    গদাধরও দেখেছে মতিয়া একাই লড়ে যাচ্ছে দু’জনের সঙ্গে। আর ওদের চিরশত্রু সেই নেত্যকালীই এবার যেন মতিয়ার উপর চড়াও হয়েছে। চরম বিপদের মুহূর্ত।

    মটরা ইঞ্জিনের সিটির নারকেল দড়িটা ধরে জোরে জোরে টানতে থাকে। স্টেশন প্ল্যাটফর্ম চারিদিক সচকিত করে ইঞ্জিনের তীক্ষ্ণ বাঁশিটা বাজছে কি এক চরম বিপদের সঙ্কেতের মতো।

    সকলেই বের হয়ে আসে। সাড়া পড়ে যায় প্ল্যাটফর্মে—ওদিকে পাম্প রুমে ছিল যতীন। জল উঠছে, পাম্প চালু রয়েছে। ওই বিকট বাঁশির শব্দে সেও দৌড়ে আসে রড হাতে।

    গদাধর ড্রাইভার ততক্ষণ ইঞ্জিন থেকে লাফ দিয়ে নেমে অকুস্থলের দিকে দৌড়েছে, মটরাও চলেছে পিছুপিছু। তাদের পিছুপিছু দৌড়েছে যতীন পাম্পরুম ছেড়ে, ওর-হাতে একটা লোহার ছাই ঝাড়া রড।

    গদাইকে দেখে মতিয়া উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে ওঠে।

    —দ্যাখ, ক্যা হাল করেছে দ্যাখ গদাই। তোরা না এলে আমাকে খুন করে দিত। কত কষ্ট করে লাউ গাছ লাগালাম, পানি দিলাম, উ জোর করে লাউ কাটল। বলতে গেলাম বঁটিসে কাটতে এল!

    নেত্যকালী ধমকে ওঠে—আ মলো, কি হয়েছে যে পাড়াশুদ্ধ নাগরদের ডেকে কাঁদতে হবে? তুই মেরে তো বিমলিকে ঘায়েল করেছিস। আবার ন্যাকামি।

    গদাই এবার যেন করার মতো কোনো কাজ পেয়েছে।

    বুধনও ফুঁসে ওঠে—মারলেন দেখলাম। কাহে মারবেন ওকে?

    নেত্যকালী যে এতদিন ধরে তাদের মদবিহীন করে রেখেছে কৌশলে আজ তাকে এমন কায়দায়

    পেয়ে কেউ ওরা ছাড়তে রাজি নয়।

    তাই গদাই বলে—জরুর মারলেন।

    মটরা গর্জে ওঠে—এ জুলুমবাজি সইব না। এর বিহিত করতে হবে।

    যতীন এর মধ্যে পাম্পরুমেই বেশ খানিকটা মদ গিলে তৈরি। সে টলতে টলতে বলে—জরুর করতে হবে। আভি করতে হবে।

    নেত্যকালী বিমলিকে ওরা ঘিরে ফেলেছে। নেত্য এবার বলে—চলে আয় বিমলি।

    ওরা চলে যাচ্ছে দেখে মতিয়া এবার চিৎকার করে,

    —অ্যাই মরদ। ও মেরে যাবে জুলুম করবে, তোরা কিছু বলবি না? ও কেঁদে ওঠে কচি খুকির মতো-মারলো হামাকে—গদাই এর দু’চোখ ওর দুঃখে ছলমল করে ওঠে। গদাই সান্ত্বনা দেবার জন্যই বলে—জরুর, এর বন্দোবস্ত হবে। এ মাজি আপনি কাহে মারলেন?

    মটরাও গলা তোলে—কাহে মারবেন?

    নেত্য এবার ধমকে ওঠে—জবাব দিতে হবে ওই মদো-মাতালদের?

    অ্যাই মতিয়া ঢের নষ্টামি করছিস, ওদের থামতে বল না হলে তোর কসবিগিরি ছুটিয়ে দেব। সর—অ্যাই মুখপোড়া

    এহেন সময় ভজগোবিন্দ এখানে এসে পড়ে।

    প্ল্যাটফর্মের লোকজনও বেশ কমে গেছে। আটটা বাইশের সেকেন্ড লোকাল ছাড়তে হবে, যাত্রীরা ট্রেনে উঠে বসেছে। কোর্টপ্যাসেঞ্জারও কিছু আছে। আর আছে রাজ্যের তরিতরকারি মহাজনদের টিন বন্দি দুধ ছানা—মাছ। সব সদরে যাবে। বিয়ে লগনসা। দু’তিনটে বর—বরযাত্রীর দলও রয়েছে ট্রেনে। সময় হয়ে গেছে। ওদিকে পয়েন্ট দেবার লোক নেই, হোমসিগন্যালের মুখেই শান্‌টিং ইঞ্জিনখানা ফেলে রেখে পথ-বন্ধ করে গদাই-মটরা এখানে জুটেছে।

    ভজগোবিন্দ ভেবেছে এটা সামান্য ঝগড়াই–নাহয় বুধুয়া মতিয়ারা মারপিট লাগিয়েছে মদ গিলে, প্রায়ই লাগে। এ এমন নতুন কিছুই নয়। ধমকে ধামকে থামতে হয় তাকেই।

    সেই ভেবে ওখানে গিয়ে ভজগোবিন্দবাবু ওই মদ্যপ বাহিনী বেষ্টিত হয়ে তার গিন্নি আর রক্তাক্ত-হাত কপাল সমেত বিমলিকে দেখে চমকে ওঠে।

    —তুমি! কী ব্যাপার?

    নেত্য ভজগোবিন্দর কথার জবাব দেবার আগেই প্রতিপক্ষ এবার গর্জে ওঠে।

    —এর বিচার করুন মাস্টারবাবু, ওই মাজি এসে জুলুম করে মতিয়ার গাছের লাউ কাটল—মারল—বঁটি দিয়ে খুন করতে গেলে কাহে?

    মটরা বলে ওঠে—এ জুলুমবাজি সইব না। মাফি মাঙতে হবে ওকে মতিয়ার কাছে!

    গদাধর এর মধ্যে দু’ঢোক গলায় ঢেলেছে। মতিয়া এই ফাঁকেই তার গুপ্ত সঞ্চয় থেকে ক’বোতল মদ চালু করে দিয়েছে। সেই খুশিতে গদাই গর্জে ওঠে—জরুর মাফি মাঙতে হবে।

    বুধুয়া যোগ দেয়—হ্যাঁ। নইলে কোই কাম করব না।

    মতিয়াও খুশি হয়। আরও জোরে সে কচি আহ্লাদি খুকির মতো ভ্যা-করে কেঁদে ওঠে—ওরা জুলুম করল—মারল হামাকে।

    নেত্যকালী হাড়ে-হাড়ে জ্বলে গেছে। সেও বুঝেছে ওই মেয়েটার মতলব। তাকে জড়িয়ে এবার প্যাঁচে ফেলতে চায়। সেও লক্ষ্য ঠিক করে নিয়েছে! ভজগোবিন্দ পড়েছে আরও বিপদে! তাকে লোকাল ছাড়তে হবে। মদো-মাতালগুলো মদ খেয়ে আবার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবু তাদের নরম সুরেই বলে ভজগোবিন্দ।

    —ওরে বুধন, অ্যাই গদাই, চল বাবা। লোকাল ট্রেন চলে যাক। ওটা ছেড়ে দে। তারপর এর মীমাংসা হবে। চল দেরি হয়ে গেছে ট্রেনের।

    বুধুয়া গর্জে ওঠে—ট্রেন ছাড়বে পরে, আগাড়ি এর মীমাংসা করতেই হবে।

    গদাইও বলে—ঠিক বাত। আগে মাফি মাঙতে হবে ওনাকে মতিয়ার কাছে। জবান দিতে হবে কভি কুচু বলবে না—তব্ উ শানটিং ইঞ্জিন হটাব, না-তো ওই ইঞ্জিন ওখানেই পড়ে থাকবে।

    চমকে ওঠে ভজগোবিন্দ—ট্রেন যাবে না যে রে!

    বলে ওঠে মটরা—যাবে না। ব্যস। চাকা বন্ধ হোয়ে যাবে।

    যতীনও সায় দেয়—পাম্পভি পুরা বন্ধ হবে!

    ভজগোবিন্দ এটা ভাবতেই পারে না। এই লাইট রেলওয়েতে তার বাইশ বছরের চাকরি, এর মধ্যে কোনোকালে এর চাকা বন্ধ হয়নি। বন্যাও নেই এদিগরে। আন্দোলনও নেই। গাড়ি চলেছে ঠিক মতো। আজ তার এখানেই এই কোম্পানির রেলের চাকা বন্ধ হবে এটা ভাবতেই পারে না। পিদ্রু সাহেব কাঁচাখোকা সাহেব, জ্যান্ত-গিলে খাবে তাকে।

    ভজগোবিন্দ চমকে ওঠে— ওরে বাবা! এসব করিস না বুধন! চাকরি চলে যাবে!

    গদাই তখন মদের নেশায় বীর হয়ে উঠেছে। সে শহিদ হবার জন্যই যেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বলে সে জান্ যায় যাক্—বাত টলবে না। গাড়ি চলবে না। পহেলি মাফি মাঙতে হবে। এই জুলুমের বিহিত করতেই হবে।

    ভজগোবিন্দ স্ত্রীর দিকে তাকাল।

    নেত্য দেখছে মতিয়ার খেলাটা। মেয়েটা গদাই-এর গায়ে ওর আধআদুড় গা-ছুঁইয়ে কি বলছে। গদাই মতিয়ার চোখমুছিয়ে দিচ্ছে আদর করে। বিমলির কপালে রক্ত ঝরছে। বেশিক্ষণ ওকে এভাবে রাখা ঠিক নয়। ডাক্তারি করাতে হবে। ইনজেকসন দিতে হবে।

    এমন সময় ভজগোবিন্দের কথায় নেত্যকালী ফুঁসে ওঠে।

    —কি বললে?

    ভজগোবিন্দ মিনমিন করছে—ওগো। চাকরি থাকবে না ট্রেন না ছাড়লে। দোহাই তোমার, মতিয়ার কাছে মাফ চেয়ে নাও। নাহলে আমিই বিপদে পড়ব।

    নেত্যকালী তাকাল ওই লোকটার দিকে। তার স্ত্রীকে অযথা মাতালগুলো অপমান করছে, বিমলিকে এভাবে মেরে সমস্ত ব্যাপারটা অন্যায়ভাবে ঘুরিয়ে অন্যপথে নিয়ে যেতে চাইছে ওরা। ভজগোবিন্দ তা নিয়ে ওদের একটা কথা বলেনি। উল্টে বলছে তাকে মাপ চাইতে ওই নষ্টা মেয়েটার কাছে!

    নেত্যকালী এবার কঠিন স্বরে বলে,

    —অন্যায় আমি করি নি। মাপ চাইব না। তাতে তোমার যা হয় হোক। মদো-মাতালদের খুশি রাখতে নিজের ঘরের বউকেও অপমান করো—জানো কার-মেয়ে আমি?

    —ওগো, ভজগোবিন্দের টাক ঘামছে।

    নেত্যকালী গর্জে ওঠে—এমন মাতাল চরানোর চাকরিতে তোমার দরকার নেই। যাক্ ও চাকরি। তবু কুলদা মোক্তারের মেয়ে ওই নষ্টা-মদবেচা মাগির কাছে মাপ চাইবে না।

    গদাধর প্রতিবাদ করে—ঝুট বলবে না, মাপ চাইতেই হবে।

    নেত্যকালী জবাব না দিয়ে বলে—চল বিমলি, তারপর দেখছি তোদের।

    ভজগোবিন্দের সামনে দিয়ে তড়বড় করে নেত্যকালী আহত বিমলিকে নিয়ে বের হয়ে গেল। মতিয়া ফুঁসে ওঠে।

    —ক্যায়সা গালি দিয়ে গেল, মারল গদাই?

    আবার ভ্যাঁ-করে কেঁদে ওঠে মেয়েটা।

    গদাধর ওকে কাছে টেনে নিয়ে বলে–রো মাত মতিয়া।

    ভজগোবিন্দ তবু অনুনয় করে ওদের—বাবা বুধন, ওরে গদাই—

    বুধন ততক্ষণে মাটিতে বসে পড়েছে মদের তেজে, গদাই তখন এ যুদ্ধের সেনাপতিত্ব নিয়ে ফেলেছে। মটরাও ফুঁসছে।

    —ওরে! ভজগোবিন্দ যেন কঁকাচ্ছে—ট্রেনটা ছেড়ে দে বাবা।

    গদাধর গর্জন করে ঘোষণা করছে—ট্রেন যাবে না।

    মটরা ধ্বনি প্রতিধ্বনি তোলে—চাকা বন্ধ! জুলুমবাজি সইব না।

    যতীন তখন বটগাছের নিচুকার ডালে উঠে শূন্যপ্রায় বোতল সমেত হাতটা শূন্যপথে আন্দোলিত করে বিশ্বজোড়া আহ্বান তুলেছে,

    —দুনিয়ার মজদুর—এক হো!

    লাউগঞ্জের রেলের চাকা—চলছে না। চলবে না।

    ওই সমবেত চিৎকারে বটগাছের ডালে-বসা কয়েকটা ঘুঘু পতপত করে উড়ে গেল আকাশে ওদের বেতালা চিৎকারে ভয় পেয়ে।

    .

    স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে বীরপুরগামী সেকেন্ড লোকাল। যাত্রীরা উঠে বসেছে। তরকারি ভেণ্ডাররা তাড়া দেয়—জলদি ছাড়েন গো গাড়ি, কালিপুরের হাট পাব না। সদরেই বা যাব কখন হে!

    গোয়ালারা বিপদে পড়েছে। এত দুধ-ছানা বরবাদ হয়ে যাবে।

    মতি ঘোষ ইস্টিশানের বড়বাবুকে খুঁজছে। ওদিকে গিরিশ চেকারকে ঘিরে ধরেছে অনেক যাত্রী—মামা গাড়ি ছাড়বে কখন গো?

    মামা ডাকে জ্বলে ওঠে গিরিশ।

    গর্জে ওঠে সে—মামা কোন্ শালার রে। ট্রেন ছাড়লে টিকিট দেখার দায় আমার, ট্রেন ছাড়ার দায় আমার নয়।

    তবুও জেরার-চোটে গিরিশ ট্রেন ছেড়ে রতির দোকানে ঢুকে বসেছে।

    দীনু পাগলা তখন ইস্টিশানে গলাফেড়ে বাউল গাইছে,

    —ওরে ঘণ্টা হলো পাখা পড়ল
    টিকিট কাটলি কই।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজন-অরণ্য – শংকর
    Next Article পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }