Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প90 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে – ৫

    ৫

    কিছুদিন মন্ত্রিত্ব করলে বিস্মিত হবার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। মন্ত্রীরা কোনো কিছুতেই বিস্মিত হন না। জামিল সাহেবের ক্ষেত্রে তা ঘটে নি। তিনি সুরুজ মিয়ার কর্মক্ষমতায় বিস্মিত হয়েছেন এবং বিস্ময় চাপা দেবার চেষ্টা করছেন না। সুরুজ মিয়া যা করেছেন তা হল ময়মনসিংহ থেকে একটা ফ্রিজ নিয়ে এসেছেন। ফ্রিজের সঙ্গে মেকানিক। মেকানিক এখন খুটখাট করে থ্রি-পয়েন্ট প্লাগ বসাচ্ছে। সুরুজ মিয়া একটু দূরে দাঁড়িয়ে হাত কচলাচ্ছেন।

    জামিল সাহেব বললেন, ‘এই ফ্রিজ আপনি নিজে কিনে এনেছেন?’

    ‘জ্বি স্যার।’

    ‘কেন?’

    ‘ঐদিন শুনলাম বেগম সাহেবের ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার অভ্যাস। উনার কষ্ট হইতেছে। শোনার পর মনটা খারাপ হয়ে গেল।’

    ‘আমরা তো দুদিন পর চলে যাব, তখন ফ্রিজ কী করবেন?’

    ‘অসুবিধা কিছু নাই, স্যার। রেখে দিব। আপনারা হইলেন মেহমান। আমি থাকতে মেহমানের কষ্ট—এটা তো স্যার অচিন্তনীয়।

    ‘এরকম সেবাযত্ন সব মেহমানদেরই করেন?’

    ‘করার চেষ্টা করি, স্যার। তবে কেউ তো এদিকে আসেন না। রাস্তাঘাট ভালো না। তবু যাঁরা আসেন, যত্ন করার চেষ্টা করি। আমার ক্ষমতাও স্যার সামান্য। নাদান মানুষ।’

    ‘আপনার ক্ষমতা মোটেই সামান্য নয়। আমি বিস্মিত হয়েছি। আপনি কি কিছু চান আমার কাছে? আপনার কোনো তদবির আছে?’

    ‘জ্বি না স্যার, আমার কোনো তদবির নাই।

    ‘সত্যি বলছেন তো?’

    ‘জ্বি স্যার, সত্যি।’

    ফ্রিজ লাগানো হয়েছে। হালকা শোঁ শোঁ শব্দ আসছে। পানির বোতল ভর্তি করে রাখা হয়েছে। জাহানারা স্বস্তি বোধ করছেন। অনেকদিন পর আরাম করে পানি খাওয়া যাবে। তবে ফ্রিজের রং তাঁর পছন্দ হয় নি। কটকটে হলুদ রং। তাকালেই মাথা ধরে যায়।

    জাহানারা বাইরের লোকদের সঙ্গে কথাবার্তা বিশেষ বলেন না। সুরুজ মিয়ার সঙ্গে বললেন।

    ‘এত যন্ত্রণা করার কোনোই প্রয়োজন ছিল না। ঠাণ্ডা পানি আমাকে খেতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। যাই হোক, আপনাকে ধন্যবাদ।

    সুরুজ মিয়া বিনয়ে নিচু হয়ে বললেন, ‘যা দরকার হবে আমাকে বলবেন বেগম সাহেব। কোনো সংকোচ করবেন না।’

    ‘শাহেদ পাখি শিকারের কথা বলেছিল শীতের পাখি। সম্ভব হবে?’

    ‘অবশ্যই সম্ভব হবে। এটা পাখি শিকারেরই জায়গা। গত বৎসর কমিশনার সাহেব আর তাঁর স্ত্রী এসেছিলেন। পাখি শিকারের জন্যেই এসেছিলেন।

    জাহানারা বললেন, ‘ব্যবস্থা করতে হবে নবনীর বাবাকে না জানিয়ে। উনি শুনলে রাগ করবেন। অতিথি পাখি মারা আইনে নিষেধ।’

    ‘সব কথা স্যারকে জানানোর দরকার নাই। উনি কিছুই জানবেন না। আমি নৌকা, বন্দুক সব ব্যবস্থাই করে রাখব। ভোররাত্রে যাওয়া লাগবে। দুই আম্মাও কি সাথে যাবেন?’

    ‘হ্যাঁ, ওরাও নিশ্চয়ই যেতে চাইবে।’

    ‘কোনো অসুবিধা নাই বেগম সাব। আমি ব্যবস্থা করে খবর দিব।’

    ‘আপনি হুট করে চলে যাবেন না। নাশতা খেয়ে যাবেন।’

    ‘জ্বি আচ্ছা?’

    সুরুজ মিয়া নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে দু একটা কাজ করলেন। বিকেলের মধ্যে খুঁটি বসিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যবস্থা করলেন। ব্যাডমিন্টন খেলার সাজসরঞ্জাম ঘরেই ছিল। গত বৎসর কমিশনার সাহেব ব্যাডমিন্টন খেলতে চেয়েছিলেন। সব জিনিসপত্র যখন জোগাড় হল তখন তাঁরা চলে গেলেন। সুরুজ মিয়া যত্ন করে তুলে রেখেছিলেন। এখন কাজে লেগেছে। এ জগতে কিছুই নষ্ট হয় না। এক সময় না এক সময় কাজে লাগে। মিনিস্টার সাহেবের পেছনে তার শ্রমও বৃথা যাবে না। এক সময় কাজে লাগবে।

    .

    বিকেল। রোদ পড়ে এসেছে।

    শাহেদ খুব আগ্রহ্ নিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলছে। একদিকে শাহেদ, অন্যদিকে শ্রাবণী। নবনীকে খেলার ব্যাপারে রাজি করানো যায় নি। সে নাকি জীবনে ব্যাডমিন্টন খেলে নি। শাহেদ বলল, ‘এটা এমন কোনো খেলা না যে শিখতে হয়। র‍্যাকেট হাতে নিলেই খেলা যায়। সাহস করে র‍্যাকেটটা হাতে নাও।’

    নবনী বলল, ‘আমার এত সাহস নেই। আমি বরং দেখি। দেখতেই আমার ভালো লাগছে।’

    শ্রাবণী বলল, ‘দেখতে তোমার মোটেই ভালো লাগছে না। তুমি খুব বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে আছে।’

    ‘মোটেই বিরক্ত হয়ে তাকিয়ে থাকছি না। তুই যে হেরে ভূত হচ্ছিস, দেখে ভালো

    লাগছে।’

    ‘আপা, আমি হেরে ভূত হচ্ছি না। শাহেদ ভাই কেমন খেলে আমি বোঝার চেষ্টা করছি। যখন বোঝা হয়ে যাবে তখন বাজির খেলা খেলব। সিরিয়াস বাজি ধরে খেলা হবে।

    ‘কী বাজি?’

    ‘বাজির টার্মস এন্ড কন্ডিশানস পরে ঠিক করা হবে।’

    শাহেদ নবনীর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘প্রায় পনের বছর পর ব্যাডমিন্টন খেলছি। দারুণ লাগছে। আমি থরোলি এনজয় করছি।’

    নবনী বলল, ‘তাহলে এনজয় করতে থাক। আমি একটু ঘুরে আসি। খেলা শেষ হলে একসঙ্গে চা খাব।’

    ‘ঠিক আছে। চা-নাশতা খেয়ে ইংরেজ সাহেবের স্ত্রীর কবর দেখে আসব। কোথায় যেন কবরটা?’

    শ্রাবণী বলল, ‘জঙ্গলের ভেতর।’

    .

    ডাকবাংলো থেকে একা বেরুতে বেরুতে নবনীর ইচ্ছা করছিল না। সে রান্নাঘরে ঢুকে মাকে ধরল। আদুরে গলায় বলল, বলল, ‘মা, চল তো আমার সঙ্গে, ঘুরে আসবে। সারাক্ষণ রান্নাঘরে বসে থাকার জন্যে তুমি নিশ্চয়ই বেড়াতে আস নি। চল আমার সঙ্গে।’

    ‘কোথায়?’

    ‘পৃথিবীর সবচে’ বড় বটগাছ তোমাকে দেখিয়ে আনব।’

    ‘দিনের বেলা মনে করিস না কেন? এখন যাব কীভাবে? কাচ্চি বিরিয়ানি বসিয়েছি। এখন তো নড়াই যাবে না।’

    নবনী একা একাই বের হল। গেটের বাইরে সেন্ট্রি পুলিশ দুজন একসঙ্গে স্যালুট দিল। নবনীর জানতে ইচ্ছে করল, স্যালুট দেয়ার সময় এরা কী ভাবে। কিছু নিশ্চয়ই ভাবে। তাদের ভালো লাগে না নিশ্চয়ই। আচ্ছা, এরা কি শ্রাবণীকেও স্যালুট দেয়? শ্রাবণীকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

    ‘আম্মা, কোথায় যান?’

    নবনী থমকে দাঁড়াল। সুরুজ মিয়া ছুটতে ছুটতে আসছেন।

    সুরুজ মিয়ার মুখভর্তি পান। নবনীর কাছে এসে রাস্তার উপর পানের পিক ফেললেন।

    টকটকে লাল পিক। নবনীর মনে হল, মানুষটা রক্ত-বমি করছে।

    ‘কোথায় যান আম্মা?’

    ‘কোথাও না। হাঁটতে বের হয়েছি। দৃশ্য দেখছি।’

    ‘দেখার কিছু নাই। গণ্ডগ্রাম জায়গা। কিছু গাছপালা।’

    ‘গাছপালাই আমার কাছে খুব সুন্দর লাগছে।’

    ‘রাস্তা খারাপ। বড় ধুলা। হাঁটার চাইতে নদীপথে যাওয়া ভালো। নৌকা একটা তৈরি রেখেছি ঘাটে। দুজন মাঝি আছে। যখন বলবেন নিয়ে যাবে।’

    ‘থ্যাংক ইউ।’

    ‘থানার একটা স্পিডবোট ছিল। তার আবার ডিজেল নাই। মেশিনেও কি জানি গণ্ডগোল। আমি ওসি সাহেবরে বললাম মেশিন সারাই করতে। ডিজেল আনতে। প্রয়োজনে কাজে না লাগলে স্পিডবোটের ফায়দা কি।’

    ‘আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। বেড়াতে ইচ্ছা হলে নৌকা তো আছেই।’

    ‘নৌকা আম্মা চব্বিশ ঘন্টা আছে। তোশক দিয়ে বিছানা করা। যখন ইচ্ছা মাঝিকে বলবেন। আমাকেও বলতে পারেন। আমি হলাম আম্মা আপনার বুড়ো ছেলে।

    সুরুজ মিয়া সঙ্গে সঙ্গে আসছেন। নবনীর ভালো লাগছে না। সে একা একা হাঁটতে চাচ্ছিল। লোকটার মুখের উপর বলতেও পারছে না আপনি চলে যান। সুরুজ মিয়ার বোধহয় যাবার ইচ্ছাও নেই। হেলতে দুলতে আসছে। মনে হয় নবনীর সঙ্গে গল্প করে আরাম পাচ্ছে। নবনী লোকটাকে কী ডাকবে ভেবে পাচ্ছে না। শ্রাবণী কত সহজভাবে চাচা ডাকে। শ্রাবণীর মতো সহজভাবে চাচা ডাকতে পারলে মন্দ হত না।

    ‘চেয়ারম্যান সাহেব।!’

    ‘জ্বি আম্মা।’

    ‘ইংরেজ সাহেবের স্ত্রীর যে একটা কবর আছে সেটা কোথায়?’

    ‘কার কবর বললেন?’

    ‘ইংরেজ সাহেবের স্ত্রীর কবর। যে সাহেব এই ডাকবাংলোয় থাকতেন—তাঁর স্ত্রী। মহিলার নাম মারিয়া স্টোন।’

    সুরুজ মিয়া বিস্মিত হয়ে বললেন, ‘এই রকম কোনো কবর তো আম্মা এই অঞ্চলে নাই। কবরের কথা আপনেরে কে বলেছে?’

    নবনী ছোট্ট নিশ্বাস ফেলল। বোঝাই যাচ্ছে কবরের ব্যাপারটা শ্রাবণীর বানানো। কোনো বইয়ে পড়েছে বোধহয়।

    সুরুজ মিয়া বললেন, ‘কবরের বিষয়টা কে বলেছে?’

    ‘মনে পড়ছে না, কে যেন বলেছে।’

    ‘আচ্ছা, আমি খোঁজ নিয়া দেখব।’

    ‘আপনাকে খোঁজ নিতে হবে না। অন্য কোনো ডাকবাংলো সম্পর্কে শুনেছিলাম। এটার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছি।’

    নবনী সড়ক ছেড়ে পায়ে চলা পথ ধরল। সুরুজ মিয়া বিস্মিত হয়ে বললেন, ‘এই দিকে কই যান?’

    ‘একটা বটগাছ আছে। বটগাছটা দেখতে এসেছি।’

    ‘বটগাছ দেখার কী আছে, আম্মা?’

    ‘ঢাকা শহরে তো আর বটগাছ দেখার তেমন সুযোগ নেই। সুযোগ পাওয়া গেছে যখন, দেখে যাই।’

    বটগাছের সামনে এসে নবনী থমকে দাঁড়াল। আজো প্রথম দিনের মতো বলতে ইচ্ছা করল, ‘হ্যালো মিস্টার বটগাছ, কেমন আছেন? বলা হল না। সঙ্গে সুরুজ মিয়া আছেন। তাঁর সামনে চুপ করে থাকাই ভালো।’

    ‘এই বটগাছটার বয়স কত হবে?’

    ‘বলা মুশকিল, আম্মা। তবে খুব পুরোনো গাছ।’

    ‘গাছের গুঁড়ি বাঁধানো। কারা বাঁধিয়েছে জানেন?’

    ‘জ্বি না আম্মা, জানি না। আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখতেছি এই রকম।’

    নবনী বলল, ‘আসুন, ঐ খানে গিয়ে বসি।’

    ‘না যাওয়াই ভালো, আম্মা।

    ‘না যাওয়াই ভালো কেন?’

    ‘জংলা জায়গা। কেউ আসে না। সাপ-খোপ থাকতে পারে।’

    ‘শীতকালে সাপ থাকবে না। আসুন যাই।’

    বটের ঝুরির ফাঁক দিয়ে নবনী চট করে ঢুকে গেল। বাধ্য হয়ে পেছনে পেছনে সুরুজ মিয়া ঢুকলেন। তিনি খুব অস্বস্তি বোধ করছেন। মেয়েটার সঙ্গে এসে দেখি একটা সমস্যায় পড়া গেছে। না এসেও উপায় ছিল না। একটা মেয়েকে এভাবে একা একা ছেড়ে দেয়া যায় না।

    নবনী বটগাছের গুঁড়ির কাছে এসে অবাক হয়ে গেল। কী অদ্ভুত কাণ্ড! সে দাঁড়িয়ে আছে মাঝখানে। চারদিক বটের ঝুরি দিয়ে ঘেরা। যেন বৃক্ষের দেয়াল। মনে হচ্ছে সুন্দর একটা দুর্গ। এই দুর্গের ভেতরে কেউ আসতে পারবে না। ভেতরটা খুব পরিষ্কার। একটা শুকনো পাতাও পড়ে নেই। সিমেন্টের বাঁধানো অংশটি বেশ প্রশস্ত। ইচ্ছে করলে যে কেউ শুয়ে থাকতে পারে। কালো সিমেন্ট। দেখলেই হিম হিম ভাব হয়।

    নবনী বলল, ‘কী অদ্ভুত জায়গা দেখেছেন চেয়ারম্যান চাচা?’ এই প্রথম নবনী চাচা বলল, ‘তার খুব খারাপ লাগল না।’ সুরুজ মিয়া বললেন, ‘চলেন আম্মা যাই। ‘যাই যাই করছেন কেন? বসুন না।’

    ‘সন্ধ্যা হইতে বেশি বাকি নাই। চলেন যাই। আরেকদিন দিনের বেলায় আসলেই হবে।’

    ‘সন্ধ্যা হোক। দেখি এখান থেকে সন্ধ্যা হওয়া দেখতে কেমন লাগে।’

    সুরুজ মিয়া খুবই দুশ্চিন্তায় গলেন। এই মেয়ে মনে হচ্ছে সমস্যায় ফেলে দেবে। জংলা জায়গায় সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকতে চাইলে তো বিরাট সমস্যা হবে। স্যার শুনলে শুধু যে মেয়ের উপর রাগ করবেন তা না। তার উপরও রাগ করবেন। রাগ করবারই কথা।

    ‘চেয়ারম্যান চাচা!’

    ‘জ্বি আম্মা।’

    ‘একটা কাজ করতে পারবেন?’

    সুরুজ মিয়া শংকিত গলায় বললেন, ‘কী কাজ?’

    ‘আমি এখানে অপেক্ষা করি। আপনি শ্রাবণীকে নিয়ে আসেন। ও দেখুক কী সুন্দর জায়গা!’

    ‘আম্মা কী বললেন?’

    ‘আমি বলছি, যদি আপনার কষ্ট না হয় তাহলে শ্রাবণীকে একটু নিয়ে আসুন।’

    সুরুজ মিয়া চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লেন। ভালো যন্ত্রণায় পড়া গেল। মেয়েটার সঙ্গে আসা বিরাট বোকামি হয়েছে। এমন বোকামি তিনি সচরাচর করেন না। পনের বছর ধরে তিনি এই অঞ্চলের চেয়ারম্যান। বোকা লোকের পক্ষে এতদিন চেয়ারম্যান থাকা সম্ভব না। আজ মনে হচ্ছে তিনি নিজেকে যত বুদ্ধিমান মনে করেন আসলে তত বুদ্ধিমান নন।

    ‘আম্মা চলেন, আজ যাই। আরেকদিন দিনের বেলায় ছোট আম্মাকে নিয়ে আসবেন। বটগাছ তো চলে যাবে না আম্মা, এইখানেই থাকবে। গাছের তার জায়গা ছেড়ে যাওয়ার উপায় নেই। তাছাড়া সন্ধ্যাবেলা একা একা থাকা ঠিকও না। দুনিয়া তো ভালো জায়গা না। দুনিয়া খুবই মন্দ জায়গা। আপনি হইলেন মেয়ে মানুষ। আমাকে দেখেন, পুরুষ মানুষ, বয়শ পঞ্চাশের উপর—বলতে গেলে দিন শেষ। এই আমিই সন্ধ্যার পর একা বার হই না।’

    ‘কেন বার হন না? ভূতের ভয়?’

    ‘মানুষের চেয়ে বড় ভূত আর কিছু নাই। মানুষ হইল সবচে’ বড় ভূত। দুইবার আমারে মারার চেষ্টা করেছে। একবার বেড়া ভাইঙ্গা ঘরে ঢুইকা দাও দিয়া কোপ দিল সেই বছরই পাকা দালান দিলাম। আরেকবার সইন্ধ্যাকালে…’

    নবনী বলল, ‘থাক, শুনতে চাচ্ছি না। চলুন ফিরে যাই।’

    সুরুজ মিয়া স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বললেন, ‘চলুন আম্মা।’

    সারাপথ নবনী একটি কথাও বলল না। সুরুজ মিয়াও চুপ করে রইলেন।

    .

    নবনী গেট দিয়ে ঢুকেই থমকে দাঁড়াল।

    ডাকবাংলোর সামনে বেশ ভিড়। দুটা পাজেরো জিপ দাঁড়িয়ে আছে। একটা জিপের পেছনের চাকা পাংচার হয়েছে। চাকা বদল করা হচ্ছে। ডাকবাংলোর সামনে চেয়ার পাতা হয়েছে। চেয়ারেও দুটা দল। একটা দলের সঙ্গে আছেন জামিল সাহেব। অন্য দলটি খানিকটা দূরে। নবনীর মনে হল, বেশ উৎসব উৎসব ভাব। সন্ধ্যাবেলায় এত বড় দল কোথে কে এসেছে কে জানে। এরা কি এখানে থাকবে?

    নবনী সবাইকে পাশ কাটিয়ে যাওয়াই ঠিক করল। ডাকবাংলোর পেছনের দরজা দিয়ে ঢোকাই ভালো। কেউ দেখবে না। লাভ হল না। সবাই তাকে দেখল। আগ্রহ এবং কৌতূহল নিয়ে তাকাল। জামিল সাহেব বললেন, ‘ঐ দেখুন আমার বড় মেয়ে, ওর নাম নবনী।’

    নবনী স্লামালিকুম বলবে কি বলবে না কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করল। ঠিক করল, বলবে না। এতদূর থেকে স্লামালিকুম বলা অর্থহীন। চেঁচিয়ে বলতে হবে। এরচে’ মাথা নিচু করে হেসে ঘরে ঢুকে পড়াই ভালো।

    পেছনের দরজা দিয়ে ঢোকার সময় প্রথমই শ্রাবণীর ঘর পড়ে। ঘরে বাতি জ্বলছে। দরজা খোলা। শ্রাবণী মোড়ায় বসে আছে। টিনের বড় গামলা ভর্তি গরম পানিতে তার বাঁ পা ডুবানো। শ্রাবণীর হাতে বই, তবে গল্পের বই না। পাঠ্যবই। ফিজিক্সের বই।

    `নবনী বলল, ‘তোর কী হয়েছে?’

    ‘পা মচকে ফেলেছি। শাহেদ ভাইয়ের একটা রং সার্ভিস রিটার্ন করতে গিয়ে—পা পিছলে আলুর দম।’

    ‘বেশি ব্যথা পেয়েছিস?’

    ‘সিরিয়াস ব্যথা পেয়েছি। বিকট চিৎকার। মার ধারণা, পা ভেঙে ফেলেছি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বুক ধড়ফড় শুরু হল। ইন্টারেস্টিং এক সিচুয়েশন। শাহেদ ভাই এমন মন খারাপ করলেন যেন তিনি নিজেই ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট দিয়ে বাড়ি মেরে আমার পা ভেঙেছেন।’

    নবনী বলল, তোকে দেখে তো কিছু বোঝা মুশকিল। আসলে পা ভাঙে নি তো?’

    ‘না ভাঙে নি। ফোলা কমে গেছে। ভাঙলে এত তাড়াতাড়ি ফোলা কমত না।’

    কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে নবনী বলল, ‘আচ্ছা ভালো কথা ইংরেজ মহিলার কবরটা যেন কোথায়?’

    শ্রাবণী হাই তুলতে তুলতে বলল, ‘কাছেই।’

    ‘নিয়ে যাবি আমাকে?

    ‘পা ফেলতে পারি না। নিয়ে যাব কীভাবে?’

    ‘মহিলার কবর যে বুঝলি কী করে?’

    ‘নাম লেখা আছে। মারিয়া স্টোন না কি যেন। নারে শেষে কবিতা আছে।’

    ‘কী কবিতা?’

    ‘The bells will ring
    The birds will sing.’

    ‘রিং-এর সঙ্গে সিং-এর সহজ মিল।

    শ্রাবণী বলল, ‘স্বামী বেচারা নিজেই বোধহয় লিখেছে, ভালো মিল পায় নি। কবর নিয়ে এত কথা জিজ্ঞেস করছ কেন?

    ‘এমনি।’

    নবনী মার খোঁজে গেল। জাহানারা রান্নাঘরে ছিলেন না। বিছানায় শুয়ে ছিলেন। ঘর অন্ধকার। তাঁর মাথার কাছে মিলু বুয়া দাঁড়িয়ে আছে। সন্ধ্যার পর থেকে সে সব সময় মার কাছে থাকবে। নবনী বলল, ‘মা তুমি রান্নাঘর থেকে নির্বাসিত। ব্যাপার কি বল তো?’

    জাহানারা ক্লান্ত গলায় বললেন, ‘মাথাটা হঠাৎ ঘুরে উঠল। প্রেসার বেড়েছে বোধহয়।

    প্রেসার মেপে দেব?’

    ‘না। তুই আমাকে ঠাণ্ডা এক গ্লাস পানি খাওয়া।’

    নবনী ঠাণ্ডা পানি নিয়ে এল। জাহানারা পানি খেয়ে আবার শুয়ে পড়লেন। নবনী বসল মার পাশে। জাহানারা মেয়ের কোলে একটা হাত রাখলেন। নরম গলায় বললেন, ‘এতক্ষণ শাহেদ ছিল। তুই আসার একটু আগে গেল। তোর খোঁজেই বোধহয় গিয়েছে।’

    ‘আমাকে কোথায় খুঁজবে?’

    ‘কি না কি এক বটগাছ আছে। তোর সেখানে যাবার কথা। শ্রাবণী ওকে তাই বুঝিয়েছে।’

    ‘মা, শ্রাবণী যে প্রচুর মিথ্যা কথা বলে তুমি জান?’

    ‘এই বয়সে সবাই মিথ্যা বলে।’

    ‘আমি বলতাম?’

    ‘বলেছিস নিশ্চয়ই। এখন মনে নেই।’

    ‘শ্রাবণী বানিয়ে বানিয়ে বলেছে— এখানে কোন জঙ্গলের মধ্যে নাকি এক ইংরেজ মহিলার কবর আছে। মারিয়া স্টোন নাম।’

    ‘আমাকেও বলেছে।’

    ‘ওর হাবভাব আমার ভালো লাগছে না, মা।’

    ‘ওকে নিয়ে চিন্তা করিস না। ও ঠিকই আছে। আয়, আমরা অন্য কিছু নিয়ে কথা বলি।

    ‘কী নিয়ে কথা বলতে চাও?’

    ‘তোকে নিয়ে বলি। আজ শাহেদ তোর বিয়ের ব্যাপারে কথা বলল।’

    ‘নিজ থেকেই বলল, নাকি তুমি জিজ্ঞেস করলে?’

    ‘নিজ থেকেই বলল, তার মা খুব অসুস্থ। তার মা চাচ্ছেন বিয়েটা তাড়াতাড়ি হোক।’

    ‘সে তো তার মায়ের অসুখের কথা কিছু বলে নি।’

    ‘শাহেদ কখনো তার সমস্যার কথা বলে না। ও অনেকটা আমার মতো।’

    নবনী হাসতে হাসতে বলল, ‘তোমার কি কোনো সমস্যা আছে, মা?’

    ‘আছে।’

    ‘কী সমস্যা?’

    ‘শুনতে চাস?’

    ‘হুঁ চাই। আমার ধারণা, তুমি এই পৃথিবীর একমাত্র সমস্যাবিহীন মহিলা। একটা পরিষ্কার রান্নাঘর। রান্নার জিনিসপত্র এবং ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি। এই কটা জিনিস পেলেই তোমার হয়ে গেল।’

    জাহানারা বিছানায় উঠে বসলেন। নবনী লক্ষ করল, তার মা উত্তেজনায় অল্প অল্প কাঁপছেন। নবনী বলল, ‘কী ব্যাপার মা?’

    ‘না, কোনো ব্যাপার না। তুই আমার সমস্যার কথা শুনতে চেয়েছিস। সমস্যা শুনে যা।’

    ‘থাক মা, আমি কিছু শুনতে চাচ্ছি না। তুমি এরকম করছ, আমার ভালো লাগছে না। মিলু বুয়া, তুমি মাকে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি এনে দাও তো।’

    জাহানারা আবার শুয়ে পড়লেন। ক্লান্ত গলায় বললেন, ‘তোর এবং শ্রাবণীর বিয়ে হবার জন্যে আমি অপেক্ষা করছি। বিয়ে হয়ে গেলেই আমার দায়িত্ব শেষ—তখন…’

    ‘তখন কী?’

    জাহানারা বললেন, ‘এখন ঘর থেকে যা। কথা বলতে ভালো লাগছে না।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article নীল অপরাজিতা – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }