Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তেইল্যা চোরা – ওবায়েদ হক

    ওবায়েদ হক এক পাতা গল্প132 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তেইল্যা চোরা – ১০

    ১০

    মোটা উঁচু দেয়াল ভেদ করে মুক্ত পৃথিবীর অনেক খবরই পৌঁছায় না জেলখানায়। দেয়ালের ঐ পাশের খবরগুলো তাদের অজানাই থেকে যায়। কিন্তু যুদ্ধের খবরটা ঠিক পৌঁছে গেল জেলখানায়। ভেতরের পরিবেশ পরিবর্তন হয়ে যাওয়াতেই বুঝি ব্যাপারটা সবাই আন্দাজ করে নিলো। বাঙালি গার্ডের জায়গায় দেখা গেল পশ্চিম পাকিস্তানি উর্দি পরা বিশালদেহী সৈনিক। আগের মতো নিয়মিত গণনা করা হয় না। তাদের খাবারের প্লেট আগের মতো পূর্ণ হয় না, অর্ধেক খালি থেকে যায়। তিনবেলা নিয়মিত খাবারও জুটে না, হিন্দু কয়েদীদের আলাদা করে কোথায় যেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলছে তাদের মেরে ফেলা হয়েছে, কিন্তু এ কথা অনেকেই বিশ্বাস করেনি। সুজন মাস্টার ছিল জেলখানার রেডিও, তার কাছে সব খবর পাওয়া যেতো। একদিন এসে বলল, ‘ঢাকায় গোলাগুলি হইছে, বহুত মানুষ মরছে। এইবার বাঙালিরা আর সইহ্য করতো না, দেখাইয়া দিবো।’

    ইউসুফ মুন্সি শ্লেষমাখা কন্ঠে বলল, ‘কইথিকা পাও এইসব খবর? মানুষ মরে নাই, হিন্দু মরছে, ইন্ডিয়ার দালাল মরছে। এইডা মুসলমানগো দেশ, মুসলমানরা মুসলমানগো লগে যুদ্ধ করতো না। আমাগো যুদ্ধ একটাই ইসলাম রক্ষার যুদ্ধ।’

    সুজন গ্রাহ্য না করে আবার বলল, ‘শেখসাহেবরে ধইরা নিয়া গেছে পশ্চিমে।’

    বাচ্চু উৎফুল্ল হয়ে বলল, ‘ইয়ে আচ্ছা কাম হুয়া, বাঙালি ফকিন্নীর বাচ্চাগো খালি উসকাতা হায় ও।’

    ‘বাঙালি ফকিন্নীর বাচ্চা’ কথাটা শুনে নবাব পুত্র পাকিস্তানি বাচ্চুর দিকে সবাই সরু নজরে তাকালো, এমনকি ইউসুফ মুন্সিও।

    ***

    এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় ঢাকার আগুন মফস্বলেও ছড়িয়ে পড়েছে। মফস্বলের এই জেলখানাতেও তার ছোঁয়া লেগেছে। এখন আর কারো সাথে দেখা করতে স্বজনেরা আসে না। জেলের নতুন হাজতিরা যেই ঘরে থাকতো, সেটাকে বলা হতো আমদানী ঘর। আমদানী ঘর ততদিনে রপ্তানী ঘর হয়ে গেছে। ভেতরে তাকালে দেখা যেতো ভীত সন্ত্রস্ত একদল মানুষ, অধিকাংশ নগ্ন, তাদের দেহ রক্তাক্ত, তাদের কারো হাতে নখ নেই, সব নখ উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রতিদিনই সেখানে গুলির শব্দ পাওয়া যেতো, সেই ঘর থেকে কাউকে জীবন্ত বের হতে দেখেনি কেউ।

    মাঝেমধ্যেই সকালে লাইন ধরে গোনার সময়, মোটা গোফওয়ালা গার্ডটি কিছু লোককে লাইন থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতো, তারাও আর ফিরে আসতো না। কানাঘুষা চলতো, কিন্তু কেউ উচ্চবাচ্য করতো না। গুঞ্জন উঠতো, সেই লোকগুলো নাকি মুক্তি ফৌজের পক্ষের লোক। তারা জেলখানায় বসে অন্য কয়েদীদের ইন্ডিয়ার দালাল বানাচ্ছিল।

    সকাল বেলার গণনা হচ্ছে। পাঞ্জাবী অফিসার আজ নিজে কয়েদীদের দেখছেন। এই সময়টায় সবাই ভয়ে ভয়ে থাকতো, কোনো কারণে কারো ডাক পড়লেই শেষ। লাইনের সামনে হেঁটে হেঁটে গভীর মনোযোগ দিয়ে সেই অফিসার প্রত্যেকের দিকে তাকাচ্ছে। তার জুতার মচ মচ শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ হচ্ছে না। কেউ জোরে নিঃশ্বাসও ছাড়তে পারছে না, নিঃশ্বাস ছাড়লেই যেন সেটা নীরবতা ভঙ্গ করবে। পাঞ্জাবী অফিসার সুজনকে আঙুলের ইশারায় ডাকলো, তারপর সে আঙুল তুলল ফজর আলীর দিকে। ফজর আলীর মাথা ভন ভন করে ঘুরতে থাকলো, বুকটা ভেঙ্গেচুড়ে গেল। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হলো, যেন পৃথিবীর সব বাতাস ফুরিয়ে গেছে। সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে মজিদের চেহারাটা মনে করার চেষ্টা করলো, আশ্চর্য ব্যাপার হলো, সে মজিদের চেহারাটা মনে করতে পারলো না।

    আমদানী ঘরের পেছনে তাদের দাঁড় করানো হলো, জায়গাটা ঝোপঝাড় দখল করে রেখেছে। ফজর দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। একবার চিন্তা করলো, মাফ চাইবে, কিন্তু অপরাধ কী সেটাই জানে না, কীসের জন্য মাফ চাইবে? মাফ চেয়েও কি লাভ হবে? গুলির অপেক্ষা করতে লাগলো ফজর, হঠাৎ এক পাঞ্জাবীর গলা শোনা গেল, ‘খোদো!’ ফজর চোখ খুলে দেখলো, তাদের সামনে কোদাল। গর্ত করতে বলছে।

    *

    সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। ইউসুফ মুন্সি নফল নামাজে বসে গেছে। সে সুজন আর ফজর আলীর জন্য দোয়া করছে। যতবার হাত তুলছে ততবার চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে তার দাড়িগুলো ভিজে যাচ্ছিল। ফজর আলীকে আসলেই সে খুব ভালোবাসতো। বাচ্চু নির্বিকারভাবে বসে আছে, সে মনেপ্রাণে পাকিস্তানি হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত, পাকিস্তানিদের কাছে মৃত্যু ডালভাত ব্যাপার। প্রফেসর বইয়ে মুখ গুঁজে বসে আছে, মুখ বইয়ে থাকলেও তিনি বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছেন।

    সেলের লোহার দরজা খোলার শব্দ পাওয়া গেল, সুজন আর ফজর ঢুকলো। ইউসুফ মুন্সি ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর’ বলে ঝট করে উঠে দাঁড়ালো। দুই হাতে ফজরকে জড়িয়ে ধরলো, তার দাড়ি বেয়ে এখনো পানি ঝরছে। ফজর মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে, সুজন ধপ করে বসে পড়ল। প্রফেসরসাহেব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন, কাউকে কিছু না জিজ্ঞাসা করে আবার বইয়ে মুখ গুঁজলেন। বাচ্চু নাকের পশম টেনে ছিড়ছিল, সে তার কাজ অব্যাহত রেখে জিজ্ঞাসা করলো, ‘ছোড় দিয়া কিউ? কিল ঘুষি খায়া?’

    সুজন কিছু বলল না, ফজর বিড়বিড় করে বলল, ‘লাশ চাপা দিছি, অনেক, অনেক লাশ।’

    *

    নিত্যদিন ফজর আলীকে নতুন নতুন কবর খুঁড়তে হতো। লাশগুলোর হাতে একজন ধরতো আর পায়ে একজন, তারপর গর্তে ছুড়ে মারতো। হাতপা মুচড়ে ছড়িয়ে পড়ে থাকতো লাশগুলো। একটা গর্তে কয়েকটা লাশ। সুজন আমদানী ঘর থেকে ঝাড়ু দিয়ে নখ অথবা কাটা আঙুল জড়ো করতো, লাশগুলো ফেলার পর কোনো কোনোদিন এক ঝুড়ি নখ জমে যেতো। সেই নখগুলোও গর্তে ফেলে মাটি চাপা দেয় তারা। সুজন মাস্টার মাঝেমধ্যে রাতে চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠে যায়। ফজরও কেমন যেন নির্জীব হয়ে গেছে। এখন লাশগুলোকে শুধু লাশ মনে হয় তার। এই সব শরীরে এক কালে প্রাণ ছিল, নখবিহীন এসব আঙুল প্রেমিকার গাল ছুয়েছে অথবা সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়েছে তা একবারও মাথায় আসে না ফজরের

    আমদানি ঘরের পাশে বসে বিড়ি টানছিল ফজর। হঠাৎ মাথার উপরে জানালা দিয়ে কেউ একজন ডাকলো। কাতর গলায় বলল, “বিড়ি আছে?’

    ফজর মুখ তুলে চাইলো জানালায়, একটা পরিচিত মুখ, দেখে খুশি হবে নাকি কষ্ট পাবে বুঝতে পারছে না সে। এই সেই নাদির গুন্ডা। সে উচ্ছাসে বলল, ‘ভাই আমারে চিনতে পারেন নাই? আমি আপনের সাথে হাজতে আছিলাম কিছুক্ষণ, আপনে আমারে এক প্যাকেট সিকেরেট দিছিলেন।’

    নাদির গুন্ডা চিনতে পারলো। তার মুখেও উচ্ছ্বাস। সে বলল, ‘তোর সাজা হইছে? কয় বছর?’

    ফজর একটা নতুন বিড়ি ধরিয়ে নাদিরের হাতে দিয়ে বলল, ‘সাড়ে পাঁচ বছর দিসে। আপনে এইহানে ক্যান?’

    ‘পাঞ্জাবী মারছি, কত্তবড়ো সাহস আমার এলাকার মানুষ মারতে আইছে। গ্যাদা গুন্ডা ধরাইয়া না দিলে আরো দশ বারোডা মারতে পারতাম। জেলখানায় আছস ভালা আছস, এই পাকিস্তানি শুয়োরগুলা মানুষ না, যেমনে পারতাছে মানুষ মারতাছে, জোয়ান মাইয়াগো ধইরা নিয়া নষ্ট করতাছে, বাচ্চাপোলাপান ও ছাড়তাছে না। জানোয়ারের দল। আমারে ঢাকার থেইকা ধইরা এইখানে আনছে, আইজকাইলের মধ্যেই মাইরা ফেলবো, যত তাড়াতাড়ি মারে তত ভালা।’

    একটু থেমে আবার বলল, ‘একটু পানি খাওয়াইতে পারবি?’

    ফজর আলী দৌড়ে বের হয়ে গেল পানির সন্ধানে। একটা টিনের মগে পানি ভর্তি করে এসে দেখলো জানালাটা ফাঁকা। তারপর আর কোনোদিন সে নাদির গুন্ডাকে দেখেনি।

    .

    অন্ধকার ফজর আলীকে ঘুম পাড়াতে পারছে না। মেঝেতে উপুর হয়ে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে আছে সে, তার বুক ফেটে কান্না আসছে। প্রফেসর ফজরের পিঠে হাত রাখলো, জিজ্ঞাসা করলো, ‘কী হয়েছে ফজর?’

    ফজর কুর্তার আস্তিন দিয়ে চোখ মুছে বলল, ‘স্যার, আমি এইখানে থাকলে মইরা যামু।’

    ‘এখানের খাওয়াদাওয়া পরিশ্রম সব একসময় তোমার শরীর মানিয়ে নেবে।’

    ‘না স্যার, খাওনের কষ্ট সইহ্য করতে পারুম, আমগো জীবনে এর চেয়ে বেশি কষ্ট পাইয়া আইছি।’

    ‘তাহলে কী হয়েছে?’

    ‘আমার পোলাডার চেহারা ভুইল্যা গেছি স্যার, মনে করতে পারি না। আমি আমার মজিদের চেহারা মনে করতে পারি না।’

    ‘আমি জানি তোমার কেমন লাগছে। প্রিয়জনদের চেহারা বেশিদিন মনে রাখা যায় না, মন ভুলিয়ে দেয়, যাতে চোখ বার বার তাদের দেখে। সেজন্যই তারা প্রিয়জন।’

    ‘স্যার আমি এইখান থেইক্যা পলাইয়া যামু।’

    ‘সবাই আমাকে পাগলে বলে, কিন্তু এখন তুমি পাগলের মতো কথা বলছো। তেরোটা বুলেটের কথা মনে আছে?’

    ‘মরণের ভয় নাই, এইখানে পেত্যেকদিন মরি।’

    ‘হুট করে কোনো ভুল করো না।’

    ‘আপনে বুঝতাছেন না স্যার, আমার পরাণডা কেমন করতাছে।’ প্রফেসরের চোখ যেন জ্বলে উঠলো, বলল, ‘আমি বুঝবো না? তুমি আজ না হয় কাল এখান থেকে বেরুবে। তোমার ছেলেকে দেখবে, বউকে দেখবে। আমি এখান থেকে বের হলেও আমার প্রিয়জনদের দেখতে পারবো না। তার চেহারা মনে করার চেষ্টা করি প্রতিদিন কিন্তু পারি না, কোনোদিন পারবোও না, কারণ তাকে আর কোনোদিন দেখবো না আমি।’

    ফজর একটু লজ্জিত হলো, বলল, ‘স্যার আমার মনে হয় আপনে আপনার বউরে খুন করেন নাই।

    ‘তুমি বড়ো সরল লোক ফজর। আমি তোমাকে সাহায্য করবো পালাতে। তবে আমি যা বলবো সব মানতে হবে। যদি সব মানো তাহলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তুমি এই জেলের বাহিরে থাকবে।’

    ‘না স্যার এতো সুমায় নাই, নাদির ভাই কইছে, পাঞ্জাবীরা নাকি মাইয়াগো ধইরা ইজ্জত নষ্ট করতাছে, বাচ্চাগো বন্দুকের ছুড়ি দিয়া খুচাইয়া খুচাইয়া মারে। হাছা মিছা জানি না, আমারে তাড়াতাড়ি আমার আমেনা আর মজিদের কাছে যাইতে হইবো।’

    ‘ঠিক আছে এখন ঘুমাও, কাল এ ব্যাপারে কথা হবে।’

    হঠাৎ বাচ্চু নড়েচড়ে উঠলো, সে চোখ ডলে উঠে বলল, ‘হাম ভী যায়েঙ্গে। নেহী তো জেলারকো সব কইয়া দিমু।’

    *

    বাচ্চুর ভাবভঙ্গীতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে, সে ফজর আলীর সাথে আঠার মতো লেগে আছে। সে প্রফেসরকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না, তাকে ছাড়াও পরিকল্পনা করতে পারে, সে হলে তাই করতো। রাতে শোয়ার সময় সে নিজের জায়গা ছেড়ে ফজরের পাশে এসে শুয়েছে। তার আচরণে ইউসুফ মুন্সি একটু অবাক হলো।

    সুজন খবর নিয়ে এসেছে, সে রীতিমতো হাঁপাচ্ছে উত্তেজনায়। একটু দম নিয়ে বলল, ‘মুক্তিফৌজ হইছে, পাকিস্তানিগো লগে তারা যুদ্ধ করতাছে, সবাই দলে দলে মুক্তিফৌজে নাম লেখাইতাছে।’

    ইউসুফ মুন্সি মাথা দুলিয়ে বলল, ‘কই থেইক্যা ভুয়া খবর লইয়া আসো, সবাই নাম লেখাইতেছে না, হিন্দুরা মুক্তিফৌজ হইছে, লগে আছে ইন্ডিয়ার দালালেরা। দাড়ি কাইট্যা রাখছে মোছ নাম রাখছে মুক্তিফৌজ।

    সুজন ইউসুফ মুন্সির কথাটা কানে তুলল না, সে বলল, ‘গ্রামেগঞ্জে শান্তি কমিটি হইতাছে, রাজাকার বাহিনী হইতাছে, তারা পাঞ্জাবীগো সব চিনায়া দিতাছে।’

    ইউসুফ মুন্সি বেশ শব্দ করে উৎফুল্ল হয়ে বলল, ‘আলহামদুলিল্লাহ্, এইটা আসল খবর দিছো। বাঙালিরাও নামতাছে ইসলাম রক্ষার যুদ্ধে, মাশাল্লাহ। ইসশ আমি এহন জেলের বাইরে থাকলে আমিও রাজাকার হইতাম।’

    বাচ্চু মুখ ফসকে বলে ফেলল, ‘হাম বাইর হোকারই রাজাকার বানুংগা, এক মাহিনা কা মামলাই তো।’

    ইউসুফ মুন্সি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করলো, ‘কিন্তু তোর তো আরো দুই বছরের সাজা বাকি।

    বাচ্চু একটু ভড়কে গেল, ভড়কে গিয়ে আবোলতাবোল কী যেন বলতে বলতে ফজরের পাশে গিয়ে চোখ নামিয়ে বসলো।

    দুপুরের খাবারের আগেই ইউসুফ মুন্সি সব জেনে গেল। টিনের বাসনের পোকা আর কঙ্কর ভর্তি ভাত চাবাতে চাবাতে ইউসুফ মুন্সি ফজর আলীকে বলল, ‘তোর কি মাথা নষ্ট হইছে? তুই ঐ পাগলের কতায় নাচস? মরবি কইতাছি।’

    ফজর আলী বাচ্চুর দিকে তাকালো, বাচ্চু আবার অপরাধীর ভঙ্গিতে চোখ নামালো। ফজর ইউসুফের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘দেশে যুদ্ধ লাগছে, বউ পোলার কতা মনে হইলে কইলজাডা পুড়ায়। প্রফেসর সাবে আওলা মানুষ কিন্তুক হে গিয়ানী লোক, তার কতা হুনলে একটা ব্যবস্তা হইবো।’

    ‘যুদ্ধ লাগলে কী হইছে, আমরা মুসলমানের বেটা, আমাগো বউ পোলাগো কিচ্ছু হইবো না।’

    মুখে এই কথা বললেও ইউসুফ মুন্সি মনে মনে নিশ্চিন্ত হতে পারে না, পাঞ্জাবীদের নিয়ে তার চিন্তা নাই, তারা পক্ষের লোক। তার চিন্তা হচ্ছে মুক্তিদের নিয়ে, তারা যদি কোনো ক্ষতি করে তার পরিবারের। এমনিতেও অনেকদিন কোনো খবর পাচ্ছে না। ফজর আলী বলল, ‘আমি আর থাকমু না, আমি পলামু। আপনে গেলে আমাগো লগে থাকতে পারেন। কিন্তু আর কাউরে কইয়েন না।’

    জেলপালানো নিয়ে সবাই এতো উৎকণ্ঠায় ছিল যে, সুজনকে সারাদিন একবারও দেখা যায়নি, এটা কেউ লক্ষ্য করলো না। সন্ধ্যাবেলা শোয়ার সময় বুঝলো সবাই সুজন নেই। একজন আরেকজনের দিকে ভ্রু কপালে তুলে মুখ চাওয়া চাওয়ি করলো। বাচ্চু বলল, ‘শালে পলাইয়া গ্যায়া।’

    বাচ্চুকে না বলে পালানোতে সে ক্ষুদ্ধ, মেঝেতে একদলা থুতু ফেলে সে ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ করলো। ইউসুফ মুন্সি শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলল, ফজর অবাক হলো। প্রফেসর আগের মতোই বইয়ে মুখ গুঁজে আছে। ফজর প্রফেসরের কাছে গিয়ে বলল, “কী চিন্তা করলেন?’

    প্রফেসর বই থেকে মুখ বের করে বলল, ‘আমি চিন্তা করেছি কিন্তু কাউকে বলবো না। আমি যা যা বলবো তা করবে শুধু।’

    ইউসুফ মুন্সি মাথা নাড়িয়ে বলল, ‘এইটা কেমুন কথা?’

    প্রফেসর বলল, ‘কথা এটাই। পরিকল্পনা বলে বেড়ালে, তা সবার কানে ঘুরতে ঘুরতে জেলারের কানে যাবে।’

    তারপর বাচ্চুর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কানে কানে কথা বলার লোক তো আছেই।’

    বাচ্চু আবার মুখ লুকালো, ইদানিং সে খুব লাজুক হয়ে যাচ্ছে। ইউসুফ মুন্সি একটু চিন্তা করে বলল, ‘আইচ্ছা ঠিক আছে, এহন কী করুম, হেইডা কন?’

    ‘অপেক্ষা করো, আর চাইলে ঘুমাতে পারো।’

    ইউসুফ মুন্সি আর বাক্যব্যয় করলো না, আরেকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুয়ে পড়ল। ফজর দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে বসে সুজনের কথা চিন্তা করছে। বাচ্চু তার একদলা ঘৃণার বহিঃপ্রকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দুটি মাছি ভন ভন করছে।

    পরদিন আমদানি ঘরে আবার ডাক পড়ল ফজরের। আমদানি ঘরের বাহিরে একটা লাশ দেখলো ফজর আলী, মুখ থুবড়ে পরে আছে মাটিতে। কাছে যেতে হলো না, দূর থেকে দেখেই সুজনকে চিনে ফেলল ফজর। ফজর এগিয়ে গিয়ে দেখলো, না প্রাণ বাকি আছে, শ্বাস চলছে। ঠোঁট কেটে রক্ত লেগে আছে মুখে। সারা গা ফুলে গেছে। নিঃশ্বাসের গতি খুবই মৃদু। ঠোঁট ফাঁক করে একটা শব্দই বলল সুজন, “পানি”। তারপরই মূর্ছা গেল। সৈন্যটি বিরক্ত সহকারে বলল, ‘ইসিকো লে যাও, ছালে মুক্তি কো পানি পিলাতা হায়।’

    পর পর তিন মগ পানি খেয়ে ফেলেছে সুজন। ভাত খেতে পারছে না, একবার চেষ্টা করেছিল, হড়বড় করে ভেতর থেকে সব বেরিয়ে গেছে। ইউসুফ মুন্সি সেই বমি পরিষ্কার করেছে। সারারাত বন্দুকের বাট দিয়ে পেটানো হয়েছে তাকে, পানি কিংবা খাওয়াদাওয়া কিছুই দেয়া হয়নি। এত মার খাওয়ার পর বেঁচে আছে বলেই আর মারেনি। তার অপরাধ আমদানি ঘরে এক আসামীকে পানি খেতে দিয়েছিল।

    গায়ে এখন প্রচণ্ড জ্বর সুজনের। কম্বলের নিচে শুয়ে কাঁপছে। জ্বরে প্রলাপ বকছে, কী বলছে বুঝা যাচ্ছে না, শুধু কিছুক্ষণ পর পর চিৎকার করে মাকে ডাকছে। জ্বরের ঘোরে সে ভুলে গেছে, বুক ফাটিয়ে চিৎকার করলেও তার মা আর শুনবে না।

    সুজন ঘুমাচ্ছে অথবা জ্বরের ঘোরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। ফজর বারবার সুজনের কপালে হাত দিয়ে দেখছে জ্বর কমছে কিনা। ইউসুফ মুন্সি প্রফেসরের দিকে তাকিয়ে আছে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে, বাচ্চু উশখুশ করছে। প্রফেসর বলল, ‘আমি চিন্তা করে রেখেছি।’

    ইউসুফ জিজ্ঞাসা করলো, ‘কী চিন্তা?’

    ‘সেটা তো বলবো না।’

    ‘আমরা কী করতাম?’

    ‘কাগজ আর কাঠের টুকরা কুড়াবে। যত পাও তত, আমার কাছে রাতেরবেলা জমা দেবে।’

    ‘কাগজ, কাডের টুকরা দিয়া কী হইবো?’

    ‘সেটা আমি বুঝবো, আর আমাকে প্রতিদিন দুটো করে পাথর কিংবা ইটের টুকরা জোগাড় করে দেবে।’

    বাচ্চু বিড়বিড় করে বলল, ‘ইয়ে আদমি পাগল হ্যায়।’

    ইউসুফ মুন্সি কিছু বলল না, কিন্তু তার মুখ দেখে মনে হলো, বাচ্চুর সাথে তার এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই।

    প্রফেসরসাহেব বইয়ের ভেতর মুখ গুঁজে বললেন, ‘যদি এখান থেকে বের হতে চাও তবে আমার কথা শুনো, আর যদি মরতে চাও, তবে নিজেরা জেল ভেঙ্গে পালাও।’

    ফজর ইটের টুকরা খুঁজতে গিয়ে লক্ষ্য করলো, জেলখানায় এই জিনিসটা অতো সহজলভ্য নয়, অথচ সব দেয়ালই ইটের তৈরি শৌচাগারের গায়ের দেয়ালের কয়েকটা ইট নড়বড়ে। সেদিন ফজর শৌচাগারে গিয়ে বাচ্চুর চেয়েও বেশি সময় নিলো ফজর, বাহিরে রীতিমতো চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেছে। একটি ইট পেটের সাথে বেঁধে কুজো হয়ে বের হলো ফজর। তারদিকে তাকিয়ে একজন বলল, ‘তোরে কী কালকে ভাত বেশি দিছেনি?

    ফজর কিছু না বলে আড়ালে চলে গেল, গোসলের চৌবাচ্চার পেছনে গিয়ে দেয়ালে ইট ভাঙ্গলো। ঘাস দিয়ে ঢেকে রেখে দুটো টুকরো পকেটে নিয়ে নিলো। প্রফেসরসাহেব, তার পায়চারী শুরু করেছেন, আর বিড়বিড় করছেন। ফজর গিয়ে আড়াল করে তার হাতে দুটো টুকরো তুলে দিলো। প্রফেসরসাহেব এবার স্থান বদলালেন, পূর্ব দিকের দেয়াল ধরে হাঁটছেন তিনি। সবাই যখন গোসলের হুড়াহুড়িতে ব্যস্ত তখন তিনি একটি ইটের টুকরা ছুড়ে মারলেন উপরে। সেটা দেয়ালের ঐ পাশে গিয়ে পড়ল। ফজর কিছুই ভেবে পেলো না, এতো কষ্ট করে সংগ্রহ করা ইটের টুকরা কি বাচ্চাদের মতো ছুড়াছুড়ি খেলার জন্য?

    রাতে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেঁটে বাচ্চু ঢুকলো, ইউসুফ মুন্সির পকেট ফুলে আছে। বাচ্চু তার পাজামার ভেতর ভরে দুটো চ্যালাকাঠ নিয়ে এসেছে। ঘুমন্ত সুজনের দিকে তাকিয়ে সাবধানে চ্যালাকাঠ দুটো এগিয়ে দিয়েই বলল, ‘রসুই থেইক্যা চুরি করছি।’

    কাঠের টুকরা দুটো কম্বলে পেঁচিয়ে রাখা হলো। ইউসুফ মুন্সি পকেট থেকে বেশ কিছু পুরনো কাগজ বের করে দিলো। অধিকাংশই পুরনো খবরের কাগজের টুকরা। প্রফেসর কাগজগুলো ভাঁজ করতে লাগলেন, প্রত্যেকটা কাগজ তিনি পড়ে দেখছেন। ইউসুফ মুন্সি জিজ্ঞাসা করলো, ‘কাগজ কি পড়ার লাইগা আনাইছেন?’

    ‘এখানের সব বই পড়া শেষ, নতুন কিছু পেলে পড়তে ভালো লাগে।’

    ইউসুফ মুন্সি আর কিছু বলতে পারলো না, সে শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। আগে গোপনে ছাড়তো, এখন আর গোপন করতে পারছে না। ফজর সুজনের পাশে শুয়েছে, সুজনের কপালে হাত রেখেই কখন ঘুমিয়ে গেছে বলতে পারে না। সুজনের গলা শুনে জেগে উঠলো। সুজন ডাকছে, ‘ফজর ভাই, ও ফজর ভাই।’

    ‘কী হইছে সুজন? পানির তিয়াস লাগছে?’

    সুজন ফজরের হাত চেপে ধরে কাতর কন্ঠে বলল, ‘আমারে ফালাইয়া যাইও না ভাই, আমিও যামু তোমাগো লগে।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনীল পাহাড় – ওবায়েদ হক
    Next Article রুবাইয়্যাৎ – ওমর খৈয়াম

    Related Articles

    ওবায়েদ হক

    নীল পাহাড় – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }