Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তেইল্যা চোরা – ওবায়েদ হক

    ওবায়েদ হক এক পাতা গল্প132 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তেইল্যা চোরা – ১৩

    ১৩

    সুজনের প্রলাপে ফজরের হুশ এলো। হাত বাড়িয়ে সুজনের কপালে হাত দিয়েই তার কপালে ভাঁজ পড়ল। জ্বরটা আবার ফিরে এসেছে। তার পাশে ইউসুফ আর বাচ্চু মরার মতো পড়ে রয়েছে। গতরাতে কত মাইল দৌড়েছে, কত দেশ পেরিয়েছে কেউ বলতে পারে না। এই নীরব তল্লাটে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে শুয়ে পড়েছিল চারজনই। ঘুমিয়েছিল কিংবা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। ফজর চোখ খুলে দেখলো, আলো ফুটেছে কিন্তু পাখি ডাকছে না। ভোরের আলোতে তাদের রাত্রী নিবাসের স্থানটি সমীক্ষা করতে গিয়ে বুঝলো, তারা একটি বাগানে আছে। বাগানে মেহগনী গাছ ভর্তি। বাগান পেরিয়ে একটা ঘর দেখলো, ছন দিয়ে ছাওয়া কুঁড়েঘর কিন্তু কোনো জনমানব কিংবা জনমানবের লক্ষণ চোখে পড়ল না।

    ইউসুফ আর ফজর সুজনকে টেনে সেই কুঁড়েঘরটাতে নিয়ে এলো। একটি চাঁটাই পাতাই ছিল ঘরে, চাঁটাইয়ে শুইয়ে দিলো তাকে। বাচ্চু এসব কর্মযজ্ঞে যোগ দিলো না, সেও সটান হয়ে শুয়ে পড়ল। শুয়েই অনুযোগের সুরে বলল, ‘ভুখ লাগি হ্যায়।’

    ইউসুফ আর ফজরের পেটও সে অনুযোগে সাড়া দিলো। ঘরে চোখ বুলিয়ে দেখলো, রান্না করার কোনো সামগ্রীই এখানে নেই। কয়েকটা লুঙ্গি কুর্তা ঝুলে আছে। এই ঘরটা হয়তো রাতে বাগান পাহারা দেয়ার জন্যই বানানো হয়েছে। এমনকি খাওয়ার জন্য পানিও নেই, একটি কলসি নির্লজ্জভাবে এক কোণায় উল্টে আছে। তারা মুখ চাওয়া চাওয়ি শুরু করলো, ফজর বলল, “আমি গিয়া দেখি, কোনো খাওন পাওন যায় নাকি?’

    বাচ্চু আসন্ন ভোজনের অপেক্ষায় চোখ মুদে বলল, ‘আচ্ছা বাত।’

    ইউসুফ মুন্সি ফজরকে থামিয়ে বলল, ‘এইখান থেইকা লুঙ্গি কোর্তা পইরা যা। সাবধানে যাইস। কেউ জিগাইলে কবি, মুসাফির।’

    ফজর ইউসুফ মুন্সির উপদেশ খুব ভালো করে মাথায় ঢুকিয়ে নিয়ে সন্তর্পণে এগুতে লাগলো গ্রামের দিকে। নিজের মুসাফির পরিচয় দেয়ার মতো কাউকে পাচ্ছে না সে। একটা মাঠ পেরুলো, মাঠে দাড়িয়া বান্ধা খেলার জন্য দাগ কাটা আছে, কিন্তু কোনো খেলোয়াড় নজরে এলো না। হাঁটতে হাঁটতে খালের পাড়ে চলে এলো। সুদূরে দৃষ্টি দিয়ে অবাক হয়ে গেল সে, অন্ধকার কালো নির্জীব এক গ্রাম দেখা যাচ্ছে। যেন গ্রাম নয়, গভীর নদীর কালো পানিতে গ্রামের ছায়া।

    ফজর হাঁটতে হাঁটতে পোড়া ঘরগুলি দেখছিল, কিছু কিছু ঘরের সামনে তুলসী গাছের বেদী এখনো অক্ষত আছে। এই কয়েকটা তুলসী গাছ ছাড়া গ্রামে জীবন্ত কিছু চোখে পড়ল না। এগুতে এগুতে পঁচা বোটকা একটা গন্ধ নাকে ধাক্কা মারলো। ফজর বুঝলো না গন্ধটাকে এড়াতে গিয়ে আরো কাছে চলে যাচ্ছে সে। বুকটা তড়াস করে উঠলো তার, জামরুল গাছের নিচে ঠেস দিয়ে আছে একটি উলঙ্গ মহিলা। তার পরনে শুধু চুলের সিঁথিতে দেয়া লাল সিঁদুর ছাড়া আর কিছুই নেই। কয়েকটি মাছি মহিলাটির নাকের সামনে ভনভন করছে, আরো কয়েকটি মাছি বুকের স্তনহীন ক্ষতে। দুদিন পুরনো এই লাশ থেকেই গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফজর চিৎকার করে ছুটে চলেছে, লাশটি থেকে যতদূর যাওয়া যায়। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই মহিলাটির ছবি ভেসে উঠছে, হাজার মাইল দৌড়েও মনের ভেতর থেকে এই বিভীষিকা থেকে দূরে যেতে পারবে না সে।

    ছুটতে ছুটতে কিছু একটার সাথে তার পা ধাক্কা খেয়েছে, সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়ল সে। মাথা তুলে দেখলো, নির্জীব একটা আট-নয় বছরের ছেলে স্থিরদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। ছেলেটির বুকে কালচে রক্ত। লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো সে, চারদিকে তাকিয়ে দেখলো, এক লাশ থেকে ছুটে পালিয়ে সে লাশের মিছিলে এসে পৌঁছেছে। চারদিকে লাশ আর লাশ। তাজা লাশ, গলা লাশ। কোনো লাশের চোখ খোলা, কোনো লাশের চোখই নেই। শিশু লাশ, বুড়ো লাশ, নারী লাশ, পুরুষ লাশ, সবাই একসাথে শুয়ে আছে। আবার ছুটতে লাগলো ফজর। মনে হচ্ছে অনন্তকাল ধরে ছুটছে সে, কিন্তু লাশের সে মিছিল পার হতে পারছে না।

    দরজায় বিধ্বস্ত ফজরকে দেখে ইউসুফ আর বাচ্চু দুজনেই চমকে উঠলো, সুজনের জ্ঞান থাকলে সেও চমকে উঠতো। ফজর শীতল গলায় বলল, ‘খাওন নাই, লাশ আছে।’

    কিছু কথায় আর বাকিটা হাতের ইঙ্গিতে ফজর তার বিভীষিকার বর্ণনা করলো। ইউসুফ মুন্সির মনে কোনো সন্দেহই রইলো না, এই জুলুম মুক্তিদের কাজ। সে ক্রুদ্ধস্বরে বলল, ‘হিন্দুগুলানের কইলজা দেখছো? মুক্তি হইয়া মুসলমান মারে।’

    ফজর বাধা দিয়ে বলল, ‘সব তো মনে হয় হিন্দু লাশই দেখলাম হুজুর।’

    ‘তুমি ঘোরে কী দেখতে কী দেকছো কে জানে! আর হিন্দু দুয়েকটা মরলে ভালোই!’

    বাচ্চু অসহিষ্ণু হয়ে উঠলো, শোয়া থেকে উঠে বলল, ‘ইসব আলাপের গুষ্ঠী কিলাতা হো, ইধার সে চলেন যাইগা। ভুখ লাগা হ্যায়।’

    ফজর বলল, ‘সুজন মাস্টারের জ্বর কমলে যামুনে, এহন তো হে উইঠ্যা খাড়াইতেই পারবো না।’

    বাচ্চু সুজনের দিকে খুব বিরক্ত হয়ে তাকালো, ‘ইসকে লিয়ে হাম কিউ মরে? আমার ভুখে জান বাহির হোতা হ্যায়। কেউ না গেলে, আমি একলা যায়েংগে।’

    ইউসুফ বাচ্চুর মূল সুর এড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এই ভুলভাল উর্দু কতা ক্যান কও। বাঙালি হইয়া ক্যান তুমি পাঞ্জাবী সাজতে যাও? হয় এক্কেরে উর্দুতে কতা কও নাইলে বাংলায় কও। নাইলে চুপ কইরা থাইকো।’

    কেউ যেন বাচ্চুর পরিধেয় কেড়ে নিলো, বাচ্চু যেন জনসম্মুক্ষে উলঙ্গ হয়ে গেল, সে ভাবতো তার উর্দু দক্ষতায় সবাই বিমোহিত এবং তার প্রতি সবার মনে একটা সম্ভ্রমের সিংহাসন হয়ে গেছে। এভাবে সিংহাসন বিচ্যুত হয়ে নগ্ন হয়ে যাওয়াতে সে যতটা না লজ্জা পেলো তার চেয়ে বেশি ক্ষুদ্ধ হলো। সে ইউসুফ মুন্সির দিকে অগ্নিদৃষ্টি দিলো, চোখ দিয়ে যদি সত্যই আগুন বের হতো এতক্ষণে সে আগুনে ইউসুফ মুন্সি ভষ্ম হয়ে যেতো। ইউসুফ মুন্সি বহাল তবিয়তে বসে আছে, ফজরও ইউসুফ মুন্সির কোনো প্রতিবাদ করেনি। বাচ্চু আর কিছু বলল না, হন হন করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। বের হয়ে যাওয়ার সময় অভিশাপ দিয়ে গেল, ‘মরো তোম বাঙালি লোক।’

    ফজরের ধারণা ছিল বাচ্চু ফিরে আসবে কিছুক্ষণ পর কিন্তু বাচ্চু ফিরলো না। ইউসুফ মুন্সি কোথা থেকে কাঁচা এক কাঁদি কলা নিয়ে এলো। আগুন জ্বালিয়ে সেগুলো পুড়ে খেলো দুজনে। সুজনকেও খাওয়ালো, কিন্তু সুজন খুব বেশিক্ষণ তা পেটে রাখতে পারলো না, বমি করে দিলো। জ্বর বাড়ছেই তার। কপালে হাত রাখলে হাত পুড়ে যায় অবস্থা। ফজর কাপড় ভিজিয়ে পানি পট্টি দিলো কপালে, কিন্তু কোনো লাভ হলো না, জ্বর কমে না।

    রাতে ফজর বসে বসে কীভাবে বলরামপুর যাবে সে চিন্তাই করছে। ইউসুফও হয়তো বাড়ি ফেরার কথা চিন্তা করছে। সুজনের গলার শব্দে দুজনেরই ধ্যান ভঙ্গ হলো। ফজর সুজনের কপালে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর কমেনি। সুজন বলল, ‘কেমন ঝম ঝমাইয়া বিষ্টি নামছে।’

    ফজর বৃষ্টির কোনো আলামত দেখলো না। সুজনের চোখগুলো কেমন ঘোলাটে দেখাচ্ছে।

    সুজন ফজরের দিকে তাকিয়ে কাতর ভরা গলায় বলল, ‘আমি মইরা যামু, তাই না ফজর ভাই?’

    ‘না মরবা ক্যান, তুমি আমার লগে আমার বাইত যাইবা। আমেনার হাতের শাপলা ছালুন খাওয়ামু তোমারে, তহন বুজবা বেহেশতী খানা কী জিনিস!’

    ‘না ভাই, আমি মুক্তি হমু।’

    ‘তুমি মুক্তি হোওনের লাইগা এতো ফাড়াফাড়ি লাগাইছো ক্যান?’

    ‘ভাই আমি দেখছি। আমদানি ঘরে যহন মুক্তিগো গুল্লি করে, তাগো চোউখ বাইন্ধা দেয়। গুলি চলনের আগে তারা শইল্যার সব শক্তি দিয়া একটা কতা কয়। হুইন্যা পশম খাড়াইয়্যা যায়।’

    ‘কী কয়?’

    ‘জয় বাংলা। তুমি দেহো নাই ভাই, মরণের পরেও তাগো মুহে কেমুন মায়া লাইগা থাহে। মনে অয় যেন, মার কোলে মরছে। আমিও মার কোলে মরবার চাই গো ভাই। মার কতা ভুইল্যা গেছি, মায়রে মনে করবার চাই। আমি মুক্তি হমু ভাই।’

    ফজর সান্ত্বনার সুরে বলে, ‘আইচ্ছা হইবা। এহন ঘুমাও বাই।’

    ‘না ভাই তুমি আমারে কও, ভালা কইরা কও, আমি মুক্তি হমু। তোমার পোলার কসম দিয়া কও, আমি মুক্তি হমু।’

    ফজর মাথা নিচু করে রইলো, তা দেখে সুজন যেন আরো ক্ষেপে গেল। বলল, ‘কও বাই কও, তাইলে একটু শান্তি লাগবো আমার।

    ফজর বলল, ‘আইচ্ছা, তুমি মুক্তি হইবা। তোমার নাম হইবো মুক্তি সুজন।’

    সুজনের মুখে প্রশান্তির আভা দেখা গেল। সে ঘুমিয়ে পড়ল।

    ইউসুফ মুন্সি বিরক্ত হয়ে ফজরকে বলল, ‘যেই কতা রাকতে পারবা না হেই কতা দিলা ক্যান?’

    ফজর মাথা নিচু করে বলল, ‘জানি না হুজুর।’

    শেষ রাতে সুজনের জ্বর একেবারে সেরে গেল। সে উঠে বসলো, ঠেলে ঠেলে ফজর আর ইউসুফ কে উঠালো। হাসিমুখে বলল, “খুব ভালা লাগতাছে এহন। সকাল সকাল বাইর হইয়া যামু আমরা। নালিন্দাবাড়িত মুক্তিগো ক্যাম্প আছে, হেদিকে গিয়া নাম লেখামু।’

    ইউসুফ মুন্সির খুব বিরক্ত লাগছে এসব শুনতে। সে বিরক্ত হয়ে শুধু বলল, ‘জয় বাংলা তোমার মাতা খাইছে।’

    ফজর হাসিমুখে বলল, ‘ঠিক আছে, বেইন্যারটা বেইন্যা দেহন যাইবো। অহন একটু ঘুমাও, শইলডা ভাঁজে পরুক।’

    সুজন শুয়ে পড়ল। ভোর হওয়ার আগেই সুজনের গায়ে প্রচণ্ড জ্বর এলো। এলোমেলো বকছে সে, শুধু ‘মা মা’ করছে। ফজর আলী কপালে হাত দিয়ে ভয় পেয়ে গেল। পানিপট্টি দিলো আবার। সুজন এরমধ্যে দুবার বমি করেছে, পেটে কিছু নেই তার, তবুও বমি হয়েছে। মাকে ডাকতে ডাকতে সূর্য উঠার আগেই মারা গেল সুজন। সকাল আর দেখা হলো না তার।

    ইউসুফ মুন্সি সুজনের জানাজা পড়ালো, তার পেছনে ফজর। ফজর আবার কোদাল হাতে নিলো, আবার কবর খুড়লো সে। সুজনকে শুইয়ে দিয়ে তারা বেরিয়ে পড়ল। বৃষ্টিতে পথে ঘাটে মাঠে সবখানে প্যাঁচপ্যাচে কাদা জমেছে। কাদাপথ মাড়িয়ে তারা হেঁটে চলেছে, পথের বুকে পদচিহ্ন এঁকে তারা এগিয়ে চলেছে। কিন্তু জেলখানায় যাওয়ার আগে তারা যে পৃথিবী রেখে গিয়েছিল এটা সেই পৃথিবী নয়। মাঠ থেকে কেউ হাঁক ছেড়ে ডাকছে না, গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাচ্চাদের কান্না আর মায়েদের শাসন শোনা যাচ্ছে না। রাস্তায় বৃদ্ধরা অকারণ কৌতূহল দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করছে না, ‘কেডা গো তোমরা? কোন বাড়ির কুটুম?’

    সবকিছু কেমন যেন অসম্ভব নীরব আর নিস্তব্ধ। রাস্তায় দুই একটি মানুষ যদিওবা দেখেছে কেউ ভয়ে কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করেনি। রতননগর পৌঁছালো তারা, অনেক নাম শুনেছে এই গ্রামের। জেলার সবচেয়ে বড়ো হাট বসে রতননগর গঞ্জে। হাটের দিন নাকি বড়ো বড়ো মানুষরাও হারিয়ে যায় এই গঞ্জে। হাটেরদিন ছাড়াও প্রতিদিন ভিড় লেগেই থাকে। স্টিমার ঘাট আছে একটা গঞ্জের পাশেই। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন পণ্য আসে। সুন্দরবনের বাঘের চামড়াও নাকি আসে এই গঞ্জে। জমিদার জোয়ারদারেরা শখের বসে কিনে নিয়ে যায়। গঞ্জের পাশেই পৌষ মাসে যাত্রাপালার দল আসে আর মাঘ মাসে আসে সার্কাস দল। অথচ এখন কে বলবে এটাই সে রতননগর গঞ্জ, আজ আবার হাটবার। দুই একটি কুকুর এদিক সেদিক ঘুরছে, তাদের আচরণে কোনো আলস্য নেই, কেমন ভীত একটা ভাব। মানুষজন চোখে পড়ছে না। সব মানুষ গেল কোথায়? গঞ্জের ঢুকার রাস্তায় একজন মানুষ দেখা গেল। মানুষ না বলে ময়লার আখড়া আর উকুনের কারখানা বলাই ভালো। চুল দাড়ি জট পাকানো লোকটির দাড়িতে ভালো করে লক্ষ্য করলে খালি চোখেই দুই একটি উঁকুন দেখা যায়। লোকটির গায়ের গন্ধে টের পাওয়া যায়, ইহজীবনে পানির স্পর্শ পায়নি তার শরীর। ইউসুফ মুন্সি লোকটা থেকে নিরাপদ দূরত্ব রেখে বলল, ‘মানুষজন সব কই? আইজ হাটবার না?’

    পাগল লোকটি ইউসুফের দিকে তাকিয়ে চক্ষু পাকিয়ে বলল, ‘বেবাক মানুষ ঘুমায়। তোর বন্দুক কই?’

    ‘বন্দুক নাই, বন্দুক থাকবো ক্যান?’

    ‘বন্দুক না থাকলে শুইয়া থাক, ঘুমাইয়া যা।’

    ‘কী আবোল তাবোল কতা!’

    ‘মুসলমানি হইছে তোর?’

    ইউসুফ মুন্সি আর কথা বাড়ালো না, লোকটির কথাবার্তা বিপদজনক দিকে মোড় নিচ্ছে। হন হন করে হেটে গঞ্জ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে তারা। লোকটি চেঁচিয়ে পেছন থেকে বলছে, ‘শব্দ করিছ না, মাইনষে ঘুমায়। আস্তে আস্তে যাইছ। মনা কাডা না থাকলে মুচির থেইক্যা কাইট্যা লইয়া আয়।’

    গঞ্জ পার হতেই বিকট এক দৃশ্যের সামনে উপস্থিত হলো তারা। খালের পাড়ে খেজুর গাছের নিচে গুড়ের দোকানের মতো মাছির মেলা বসেছে। উৎকট গন্ধ ভেসে আসছে সেখান থেকে। কিছু কুকুর আনন্দে ঘেউ ঘেউ করছে। আট দশটা মানুষকে চালের বস্তার মতো স্তুপ করে রাখা হয়েছে। একটা কুকুর গভীর অধ্যাবসায়ের সাথে এক বৃদ্ধের হাত কামড়াচ্ছে। হাতটা প্রায় টেনে ছিড়ে ফেলেছিল, কিন্তু জীবিত মানুষদের উপস্থিতিতে কর্ম সম্পন্ন করতে পারলো না। একটু দূরে গিয়ে জিহ্বা ঝুলিয়ে পা গুটিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো। ইউসুফ মুন্সির পেটে পাঁক দিলো, হাত পা অবশ হয়ে গেল। পেটে হাত রেখে হড়হড় করে বমি করতে লাগলো সে। কিন্তু ফজর চমকালো একটা পাঁচ বছরের বাচ্চার লাশ দেখে। মুখ থুবড়ে পরে আছে লাশটা, ফজরের বুকটা ঢিপ ঢিপ করছে। হাতদিয়ে উল্টালো লাশটি। মুহূর্তেই পেছনে সরে গেল। নাক ঠোঁট কিছুই নেই, নরম মাংস কুকুরেরা আগেই সাবাড় করেছে। ইউসুফ মুন্সি উদাস দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ লাশটির দিকে তাকিয়ে থেকে দাঁতে দাঁত ঘষে স্বগোক্তি করলো, ‘শালা মুক্তির বাচ্চারা।’

    ফজর আলী উপরে তাকিয়ে আছে, সম্ভবত আকাশ দেখছে। তুষ ঢালার পর চুলার আগুন যেমন বহুগুণে বেড়ে উঠে, তারপর আবার ধিকিধিকি জ্বলে, ফজরের বুকেও তেমন একটা আগুন সর্বদাই জীবন্ত। লাশটা দেখে তার বুকের আগুনটা যেন উসকে উঠলো। সুজন মৃত্যুর আগে বৃষ্টির শব্দ শুনেছিল, হয়তো তার বুকেও এমন একটা আগুন ছিল, তার আগুন নিভে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। ফজর আলী আকাশে তাকিয়ে আছে বৃষ্টির অপেক্ষায়।

    *

    বলরামপুরের পাশের গ্রাম নিশিকান্দিতে ইউসুফ মুন্সির বাড়ি। আড়াইদিন হেঁটে ইউসুফ মুন্সি আর ফজর নিশিকান্দি গ্রামের প্রান্তে এসে পৌঁছালো। উত্তেজনায় হাত পা কাঁপছে ইউসুফ মুন্সির। তার মেয়েটা বাজানকে দেখে কেমন খুশি হবে, ছেলেটা নিশ্চয়ই লাফ দিয়ে কোলে উঠবে, আর তার বউ ফাতেমা সে কি আঁচলে মুখ লুকিয়ে কেঁদে দেবে। তার বাবা ঝাঁপসা চোখে তাকে দেখে নিশ্চয়ই চিনতে ভুল করবে না। মা তো জড়িয়ে ধরেই বিলাপ করবে। মসজিদের পেছনে হিজল বনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কে যেন ইউসুফ কে ডাকলো। ইউসুফ গলা শুনেই বুঝলো তার বৃদ্ধা মায়ের গলা। হিজল বনের ভেতর থেকে মায়ের গলা শুনে অবাক হয়ে গেল সে। দিনের বেলাতেও এই বনে কেউ যায় না, এইখানে খারাপ জ্বীনদের বসবাস। কিন্তু মায়ের ডাককে অগ্রাহ্য করতেও পারছে না সে। ভেতর থেকে অনেকগুলো গুমোট ফিসফাস শব্দ ভেসে আসছে। ইউসুফ মুন্সি সুরা ইউনুস পড়ে বুকে ফুঁ দিয়ে ভেতরে ঢুকলো। তার মা এসে তাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। ইউসুফ অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো, গ্রামের অনেক মানুষ এখানে এসে জমায়েত হয়েছে। ভয়াল দৃষ্টিতে তারা তাকিয়ে আছে, প্রচণ্ড বিপদে কেউ কেউ অভ্যাসমতো ঘুমিয়ে আছে। মরলে ঘুমের মধ্যেই মরতে চায় তারা। ইউসুফের বৃদ্ধা মায়ের পাশে তার নয় বছরের ছেলেটিও আছে। সে তার ‘বাজান’ কে দেখে অবাক হয়েছে কিন্তু খুশি হয়েছে কিনা বুঝা যাচ্ছে না। বৃদ্ধা পুত্রদর্শনে আবেগ তাড়িত হয়ে কাঁদতে বসে গেল। কান্নাটা একটু জোর পেতেই সবাই মৃদু ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলো। ইউসুফ তার মা কে বলল, ‘কী হইছে মা, বেবাক মানুষ এই জ্বীনের আস্তানায় ক্যান?’

    ‘বাবাগো জানোয়ারের দল আইসা সব জ্বালাইয়া দিছে। আশ (হাঁস)-মুরগার লাহান মানু মারতাছে।’

    ইউসুফের চোখে এক রাশ রক্ত এসে ভর করলো, বলল, ‘মুক্তিরা এইহানেও আইয়া পড়ছে?’

    ইউসুফ মুন্সির মা পুত্রের কথা শুনে অবাক হয়ে গেল, কথার সুরটা ধরতে পেরে বলল, ‘মুক্তিরা না রে বাজান, পাকি জানোয়ারেরা সব জ্বালাইছে। মুক্তিরা তো সব আমাগো পোলাপান।’

    ইউসুফ কথাগুলো হজম করতে পারলো না, মাথার উপরে আকাশটা যেন খান খান করে ভেঙ্গে গেল। মায়ের কথাগুলো নিজের মনেই দুয়েকবার আওড়ে নিলো, ভুল শোনেনি তো? নিজেই নিজেকে বারবার অবিশ্বাসের সুরে বলতে লাগলো, ‘পাকিস্তানিরা মুসলমানের গেরামে আগুন দিছে? মুসলমান মারছে?’

    হঠাৎ তার মন চঞ্চল হয়ে উঠলো, বলল, “মা, ফাতেমা কই? আর আমার মাইয়া জুলেখা কই? আব্বারে দেহি না কেন?’

    ‘তোর বাপেরে মাইরা লাইছেরে পুত।’

    ইউসুফ মুন্সির নিঃশ্বাস আটকে এলো, কিন্তু শোক করার অবকাশ নেই, মাকে আবার বলল, ‘ফাতেমা আর জুলেখা কই?’

    বৃদ্ধা কেঁদে উঠলো, “তোর বউ আর মাইয়ারে ক্যাম্পে ধইরা নিয়া গেছে পাঞ্জাবীরা।’

    বৃদ্ধা জুলেখার পরিধেয় শাড়িটি গুটলি করে বুকে নিয়ে রেখেছিল, সেটা ইউসুফের দিকে এগিয়ে দিলো। এই শাড়িটিই পরে ছিল জুলেখা, এখনো তার গায়ের গন্ধ লেগে আছে তাতে। পাঞ্জাবীদের শাড়ির প্রয়োজন নেই। খুলে রেখে গেছে।

    ফজর চেয়ে দেখলো ইউসুফ মুন্সির চেহারাটা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। মুন্সির এই চেহারা ফজর আগে কোনোদিন দেখেনি। হিংস ভয়ানক একটা চেহারা, চোখ মুখ ফেটে যেন রক্ত ঝরে পড়বে। মুন্সির মুসলমানী বিশ্বাসের সাথে এতবড়ো প্রতারণা সে সইতে পারছে না। হাতের পেশীগুলো ফুলিয়ে, হিজল গাছের ভাঙা একটা ডাল হাতে নিলো ইউসুফ মুন্সি। পাগলের মতো গুল্ম, ডালপালা ভাঙ্গতে লাগলো, যেন একটা ঝড় সব লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে। ডালপালার উপর প্রলয় শেষ হতেই মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে বসে পড়ল। মেয়ের পরিধেয় শাড়িটি হাত বাড়িয়ে বুকে চেপে ধরে চিৎকার করে ছুটে বেরিয়ে গেল। পেছনে সবাই ‘হায় হায়’ করে উঠলো। বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে ছেলেকে ফেরানোর চেষ্টা করলো। কেউ কেউ বৃদ্ধাকে চুপ করার জন্য ধমক দিলো। কেউ কেউ বলে উঠলো, ‘আটকাও মুন্সিরে আটকাও।’ কিন্তু আটকানোর লক্ষণ কারো মধ্যে দেখা গেল না। ফজর আকস্মিক এসব ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে ছিল। সম্বিৎ ফেরা মাত্রই সে ছুটলো ইউসুফ মুন্সির পেছনে।

    নালিন্দাবাড়ি গ্রামের সীমানায় প্রকাণ্ড তেতুল গাছের নীচে এসে ফজর ধপ করে বসে পড়ল। ইউসুফ মুন্সির উন্মাদ পা জোড়ার কাছে পরাজিত হয়েছে সে। ইউসুফ মুন্সি মাঠ পেরিয়ে ঘন সবুজ বৃক্ষের আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। বৃক্ষ রাশির উপরে লম্বা বাঁশের মাথায় সাদা সবুজ পাকিস্তানের পতাকা উড়ছে। সেখানেই পাকিস্তানি আর্মিরা ক্যাম্প করেছে। ফজর আলী হাঁপাতে লাগলো, মাঠ পেরুলো না, সে ঘুরে চলল বলরামপুরের দিকে। দেশে সবাই বিপদে আছে, প্রাণ নিয়ে পথে পথে ঘুরছে। আমেনা আর মজিদ না জানি কেমন আছে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনীল পাহাড় – ওবায়েদ হক
    Next Article রুবাইয়্যাৎ – ওমর খৈয়াম

    Related Articles

    ওবায়েদ হক

    নীল পাহাড় – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }