Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তেইল্যা চোরা – ওবায়েদ হক

    ওবায়েদ হক এক পাতা গল্প132 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তেইল্যা চোরা – ২

    ২

    রাত খুব বেশি হয়নি, কিন্তু অমাবস্যা হওয়ার কারণে মনে হচ্ছে অনেক রাত। আকাশ ফুঁড়ে ফুঁড়ে তারা জ্বলছে। ঝিঁঝিঁরা অবিরত ডেকে রাতটাকে করে দিয়েছে আরো গভীর। ফজর দাওয়ায় বসে গায়ে সরিষার তেল মাখছে। ফজরের ছেলে মজিদ ঘুমাচ্ছে, কিন্তু আমেনার চোখে ঘুম নেই, সে আজ ঘুমাতে পারবে না। এরকম অনেক রাত সে জেগে কাটিয়েছে, বিয়ের আগে তার বাবার জন্য আর বিয়ের পর স্বামীর জন্য।

    আমেনা বিছানা ছেড়ে স্বামীর পাশে এসে বসে। ফজর তেল মাখতে মাখতেই বলে, ‘কিছু কইবা?’

    আমেনা চুপ করে বসে মাথা নাড়ে। কিছু বলে না সে, বলতে পারে না। ফজর ঠিক জানে আমেনা কী বলতে চায়। তেল মাখতে মাখতেই পূর্বপাশের কদম গাছ দুটির দিকে নজর গেল তার। কদম গাছ দুটির নিচেই তার বাবা এবং মায়ের কবর। কসর আলী মারা যাবার পর ফজরের মা তাকে আমেনার না বলা কথাগুলোই বলেছিল, ‘বাপ আমার, তুই যাইস না এই কামে। তোর বাপে করছে, দুনিয়ায় মানুষ গাইল্যাইছে, কবরে আরো আজাব ভোগ করতাছে। ক্ষেতে কামলা যা, মাডি কাট। আমি মাচাত লাউ লাগাইছি, কুমড়া লাগামু, আমাগো দুইজনের সংসার চইল্যা যাইবো। এই পাপের কাম করিস না বাপ, দোহাই লাগে।’

    কিন্তু তাদের পাপের জীবন। মানুষ তাদের পাপ মনে করিয়ে দিতে কোনো কার্পণ্য করেনি। চোরের ছেলেকে কাজ দেয়ার মতো নির্বুদ্ধিতাও কেউ করেনি উল্টো ভূঁইয়াসাহেব কান মলে দিলেন, মিঞাসাহেব পিঠ চাবকে দিলেন। লাউয়ের মাচায় লাউ ধরে, ঘরে থেকে তা পঁচে যায়, কুমড়োগুলো ইঁদুরে খায় কিন্তু কেউ কিনে না। পেটে যখন জ্বালা শুরু হয়, তখন আর কবরের আজাবের কথা মনে থাকে না। ছেঁড়া কাপড়ে পর্দা করা যায় না। ভাঙা ঘরে শুয়ে পুণ্যের চিন্তা আসে না।

    ভূঁইয়া-মিঞারা শুনলে অবাক হবে, রেগে যাবে। গলা খেঁকিয়ে বলবে, ‘আমি বলেছি চুরি করতে?’ কিন্তু দায়টা তাদেরই। কসর আলী চোরের জন্ম দেয়নি, দিয়েছে এই ভূঁইয়া-মিঞাদের মতো ভদ্র মানুষেরা। একদিন রাতে ফজর বেরিয়ে গেল। সারারাত তার মা নির্ঘুম কাটালো। ফজর সকালে ফিরে এলো। হাতে নতুন পাটের শাড়ি, মাথায় বাঁশের ওড়া থেকে বড়ো মাছের আঁশটে গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, সাথে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী উঁকিঝুকি মারছে। খাদ্য-বস্ত্রের উৎস সম্পর্কে ফজরের মা কিছু জিজ্ঞাসা করেনি, সেই ক্ষমতা তার ছিল না। ফজরের বউ আমেনা ও এখন কিছু জিজ্ঞাসা করে না।

    ফজরের গা’টা ঘুটঘুটে অন্ধকারেও চকচক করছে। লুঙ্গিটা কাছা মেরে পায়েও তেল লাগালো সে। একটা কাপড়ের ঝোলা আর শাবলটা হাতে নিয়ে বাড়ির পূর্বদিকে কদম গাছগুলো পার হয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। যাওয়ার আগে গাছ দুটিকে একবার দেখে নিলো, এই কদম গাছ দুটোকে খুব বিষণ্ন দেখায় সবসময়, এমনকি ফুল ফুটলেও।

    ***

    বাড়িটা এক দফা জরিপ করে নিলো ফজর আলী। বেড়া দিয়ে ঘেরা দোচালা ঘর। তার পাশে গোয়াল ঘর আর রসুই ঘর। ঘরের পাশে গিয়ে কান পাতলো সে, ফিসফাস শব্দ শোনা যাচ্ছে। কদম হোসেনের ঘর এটা, তার ছেলের বিয়ে দিয়েছে কিছুদিন আগে। নতুন বিয়ে করা ছেলেরা রাতে সহজে ঘুমাতে চায় না, কিশোরীদের মতো ফিসফিস করে কথা বলে বউয়ের সাথে। ফজর আলী মনে মনে বলল, ‘ঘুমা শালা ঘুমা, রং-রসের কতা কাইল কইস।’ কিন্তু কদম হোসেনের ছেলে ফজরের মনের কথা শুনলো না, সে তার বউয়ের মন বুঝতেই ব্যস্ত। ফজর ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে লাগলো। এই পেশায় ধৈৰ্য্যই সবচেয়ে বড়ো শক্তি। ফিসফাস করে কথা বললেও রাতের নীরবতার কারণে সবই শুনছে ফজর। কদমের ছেলে বলছে,

    ‘বিয়ার দিন এত কানছিলা কেন, আমারে পছন্দ হয় নাই?’

    ‘তোমার মতো দাঁতলা বেডারে কার পছন্দ হইবো?’

    ‘দাঁতের দেখছো কী! কামড় দিলে বুঝবা।’

    ‘হেই দুঃখেই তো কানছিলাম।’

    বলেই ফিক ফিক করে হেসে উঠলো। সেই হাসিতে কদম হোসেনের ঘুম ভেঙ্গে গেল, সে বার কয়েক কৃত্রিম গলা খাঁকারি দিলো। ফিসফিসানিও বন্ধ হয়ে গেল।

    ফজরের আমেনার কথা মনে হলো, বিয়ের দিন একটুও কাঁদেনি সে। সবাই ছিঃ ছিঃ করলো। বলল, ‘চোরের মাইয়্যার দিল বহুত পাষাণ।

    আশ্চর্য হয়ে ফজর ভাবলো, সে কোনোদিন আমেনাকে কাঁদতে দেখেনি। তার চোখে সবসময়ই একটা বেদনা ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু তা সে বুকের মধ্যেই জমিয়ে রাখে, চোখ ফেটে কোনোদিন বের হয় না সেগুলো। বিয়ের রাতে গম্ভীর মুখে গুটি মেরে শুয়ে ছিল আমেনা। নতুন বউয়ের স্বভাব সূলভ ভীতি তার চোখে ছিল না। ফজর তাকে ডাকতেই সে উঠে বসেছিল। ফজর কে হতবাক করে দিয়ে বলেছিল, ‘ডাকেন ক্যান, কাপড় খুলবেন?’

    *

    কদম হোসেন এবং তার ছেলে একযোগে নাকডাকা শুরু করলো। ফজরের কাছে নাক ডাকার শব্দের চেয়ে মধুর শব্দ আর কিছু নেই। শাবল দিয়ে মাটি খোঁড়া শুরু করলো সে। খুব বেশি সময় লাগেনি মাটি খুঁড়ে ঘরের মধ্যে সংযোগ করতে। ঘরের ভেতরের অন্ধকারের সাথে চোখগুলোকে ধাতস্থ করতে একটু সময় নিলো সে। বেড়ালের মতো পা ফেলে নতুন বরের যৌতুক সামগ্রী খুঁজতে লাগলো। পিতলের কলসি, সিলভারের জগ, পিকদানির মতো কিছু ধাতব সামগ্রী খুঁজে পেলো, এগুলো বহন করা ভীষণ মুশকিল। এসব নিম্নবিত্ত ঘরে এর অতিরিক্ত কিছু খুঁজেও পাওয়া যায় না। যাদের ঘরে সোনাদানা আছে তাদের ভিটে ইট দিয়ে পাঁকা করা, তাদের ঘরে সিঁদ কাটা যায় না। পুরো ঘর জুড়ে নগদ টাকার কোনো সন্ধান পেলো না সে। কদম হোসেন হাত পা ছড়িয়ে ঘুমাচ্ছে, বাঁশের চৌকির একপ্রান্তে তার কঙ্কালসাড় রুগ্ন বউটি কোনোরকমে গুটিসুটি হয়ে শুয়ে আছে। কদম হোসেন এই বউটির মৃত্যুর অপেক্ষায় আছে, তাহলে আরেকটি জোয়ান মেয়ে দেখে বিয়ে করে কিছু নগদ অর্থের আমদানী করবে, সাথে জোয়ান শরীরকে ভালোই খাটিয়ে নিতে পারবে। এই বউয়ের সাথে আসা অর্থ অনেক আগেই শেষ, শরীরের শক্তিও ফুড়িয়ে এসেছে। তিন ডেকচি ধান সিদ্ধ করতেই হাঁপিয়ে উঠে। গতরের শক্তি কমার সাথে সাথে বউয়ের কদরও কমে গেছে। তিনবেলা খাবার দিয়ে এর আয়ু বৃদ্ধি করতে চায় না কদম, তাইতো বউটির এমন কঙ্কাল দশা।

    ফজর আলী কদমের ঘরে তেমন কিছুই পেলো না, এসব ঘরে টাকা-পয়সা সাধারণত গোলায় রাখা হয়। ফজর গোলায় উঁকি দিয়ে দেখলো, ধান একেবারে তলানীতে। কিন্তু একটি ছোটো কাঠের বাক্স দেখা যাচ্ছে। ফজর আলী গোলায় নেমে বাক্সটি খুলে হাবিজাবি কিছু কাগজ পেলো, কিছু পিতলের চুড়ি ছিল, সেগুলোর তেমন দাম পাওয়া যাবে না। একেবারে শেষে কিছু মলিন টাকা পাওয়া গেল। অন্ধকারেও গুনে ফেলল ফজর, পনেরো টাকা বারো আনা। তাই নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কদমের পুত্র বধুর গলায় রূপার একটা হার চোখে পড়ল। নিজের বিদ্যা কাজে লাগিয়ে সন্তর্পনে হারটা গলা থেকে খুলে নিলো। বেশ ভারী আছে, দুই ভরি তো হবেই। কলিম বেপারীর কাছে এই হারের জন্য বারো টাকা দাম হাঁকবে, চিন্তা করলো ফজর। হারটি একটু কাছে থেকে দেখতেই বুঝলো, রূপার হার বটে তবে অনেক পুরনো। বিয়ের সময় মেয়ের মা নিশ্চয় বাক্স থেকে খুলে দিয়েছে। তার আগেও তার মা হয়তো তাকে দিয়েছে চোখের জলে ভিজিয়ে। কত নারীর চোখের জল আর মমতা আছে এই পুরনো হারে। চোরদের এসব ভাবলে হয় না, কিন্তু ফজর কিছুতেই হারটা নিয়ে তার ক্ষুদ্র সুড়ঙ্গ গলে বেরিয়ে যেতে পারলো না। সে হারটা আবার মেয়েটির গলায় দিতে গেল। খুলে নেয়া বিদ্যায় ফজর আলী যত শিক্ষিত, পরিয়ে দেয়াতে ততটাই মূর্খ। হার ফেরত দিতে গিয়ে নতুন বধুর ঘুমই গেল ভেঙ্গে।

    সাক্ষাত যমকে কিংবা তেলাপোকা দেখেও কোনো মেয়ে এত জোরে চিৎকার দিতো না, যতটা ফজর আলীকে দেখে কদম হোসেনের ছেলের বউ দিলো। কদম হোসেনের ছেলে আর কিছু পারুক আর না পারুক, ঘুমাতে পারে। যেই চিৎকারে নদীর পাড়ে কবরস্থান থেকে দু- তিনটা মুর্দাও সম্ভবত জেগে উঠেছে, সে চিৎকারে তার ঘুমের বিন্দুমাত্র ব্যাঘাত ঘটলো না। কিন্তু কদম হোসেনের ঘুম ভেঙ্গে গেল। নিজের পুত্রকে গালি দিয়েই সে বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠলো, তার ধারনা তার পুত্রই কোনো কাণ্ড করেছে। কিন্তু এ ঘরে এসে বধুর দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখলো তেলত্যালে একটা শরীর ঘরের মেঝেতে অর্ধেক গলে গিয়েছে। তড়িঘড়ি করে করে সে লাফ দিয়ে ফজর আলীর পা চেপে ধরে চেঁচাতে লাগলো। কিন্তু তাতে বিশেষ সুবিধা হলো না, ফজর আলী পিছলে বেরিয়ে গেল। কদম হোসেন তখনো চেঁচিয়ে যাচ্ছে, ‘তেইল্যা চোরা, তেইল্যা চোরা।’

    আশেপাশের মানুষজন চুলায় হাত ঢুকিয়ে হাতে ছাই মেখে এলো তেইল্যা চোরাকে ধরার জন্য। কিন্তু দৌড়ে পালানোতে তেইল্যা চোরা তার বাবা কাইল্যা চোরাকেও হার মানিয়েছিল। মুহূর্তেই সে গায়েব হয়ে গেল।

    সকাল হতে হতেই কদম হোসেনের চুরি যাওয়া সম্পদের পরিমাণ বাড়তে লাগলো। পনেরো টাকা বারো আনা হয়ে গেল পঁচাত্তর টাকা। যেই রূপার হার পুত্রবধুর গলায় ছিল এবং এখনো আছে তা হয়ে গেল সোনার হার এবং তাও চুরি হলো। ডজন খানেক কাসার বাসন কোসন, এক হালি পিতলের কলস মিলিয়ে তার বিশাল সম্পত্তি চুরি হয়ে গেছে চুরি যাওয়া বস্তুর যে ফিরিস্তি সে দিচ্ছিলো তা শুনে জমিদার বাবুও মুখ লুকাবেন। কদম হোসেনের কঙ্কালসাড় বউ খুব কাজে এলো, শরীরে কিছু থাক না থাক তার গলার ধারেকাছেও কেউ নেই। স্বামীর বর্ণিত সম্পদের সাথে আরো কিছু যোগ করে গলা উঁচিয়ে মাটিতে আছড়ে আছড়ে বিলাপ করছিল সে। পুত্র হারানোর শোকেও কেউ এমন বিলাপ করতে পারে না।

    ***

    আমেনা ধুলো উড়িয়ে উঠান ঝাড় দিচ্ছে। ফজরের সাড়ে চার বছরের ছেলে মজিদ হাঁস-মুরগীদের দৌড়িয়ে বাড়ি ছাড়া করে এখন ছোট্ট পেয়ারা গাছের ডাল ধরে ঝুলছে। ফজর আলী দাওয়ায় বসে আছে অপেক্ষায়। তেল আর কলঙ্ক সবই পুকুরের জলে ধুয়ে শেষ রাতেই বাড়ি ফিরেছিল সে। সারা রাত জেগে থাকার পর সকালে পান্তা খেয়ে শরীরে বেশ ঝিমুনি ধরে গেছে। কিন্তু এখন ঘুমানো যাবে না।

    অতি কুৎসিত গালি দিতে দিতে মোল্লা বাড়ি কিংবা চোর বাড়িতে ঢুকলো কদম হোসেন। ফজর এতক্ষণ তাদের জন্যই অপেক্ষা করছিল। কদমের সাথে তার বৌ কামড়ানোর অভিপ্রায় রাখা দাঁতাল ছেলেটি, এবং আরো জনা পাঁচেক লোক এসেছে। উঠানে দাঁড়িয়ে ফজর আলীর দিকে তাকিয়ে কদম হোসেন বলল, ‘শালার পুত, আমার জিনিসপাতি সব বাইর কইরা দে, নাইলে লাখি দিয়া বিঁচি গাইলা দিমু।’

    এরকম সকালের সাথে আমেনা পরিচিত, সে আপনমনে রান্নাঘরে চলে গেল চুলা ধরাতে। মজিদ একটু ভয় পেয়েছে, সে দৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে তার মায়ের আঁচলে লুকালো। ফজর খুব অবাক হয়ে বলল, ‘কিয়ের কতা কন কদম ভাই? কিয়ের জিনিসপাতি?’

    দাঁতাল ছেলেটি বলে উঠলো, ‘শালা তেইল্যা চোরা, ঢঙ করস? কাইলকা রাইতে আমাগো বাইত যাস নাই চুরি করতে?’

    ফজর তার মুখভঙ্গি পরিবর্তন না করে বলল, ‘কসম, আমি রাইতে বাইত আছিলাম।’

    পেছনের লোকগুলোর মধ্যে একজন বলে উঠলো, ‘তেইল্যা চোরার ঘরে ঢুইক্যা দেখো না, জিনিসপাতি পাও কিনা।

    সমস্বরে বাকিরা সম্মতি জানালো, কিন্তু কদম হোসেনের সেরকম ইচ্ছা ছিল না। সে জানে তার পনেরো টাকা বারো আনা ছাড়া আর কিছুই চুরি হয়নি। কিন্তু পাশের লোকদের অতি উৎসাহে সে ঘর থেকে একবার ঘুরে এলো, পুরনো কলসি, আর কাপড় চোপড় উল্টিয়ে বেরিয়ে এলো। বাহিরে এসেই বলল, ‘চুরির জিনিস কেউ ঘরে রাখে নাকি? কই বেচসে কে জানে?’

    একজন বলে উঠলো, ‘তার বউরে জিগাও।’

    কদম হোসেন বিরক্ত হয়ে বলল, ‘ধুর মিয়ারা তোমরা কুনো কামের না, চোরের বউ কি হাচা কতা কইবো নাকি?’

    ফজর আলীর দিকে তাকিয়ে আরো ভয়ানক কুৎসিত কয়েকটা গালিসহ হুমকি দিয়ে কদম হোসেন চলে গেল। ফজর আলী এবার নিশ্চিন্তে ঘুমাতে গেল।

    কদম হোসেন ভুল বলেছিল, আমেনা কখনো মিথ্যা কথা বলে না। যদি সত্য বলতে না পারে তবে চুপ করে থাকে তবে মিথ্যা বলে না। চোরের মেয়ে, চোরের বউ হিসেবে এই দোষটি তার ছিল। তবে একটি গুণও ছিল, সব গঞ্জনা, অপমান প্রতিবাদহীনভাবে গ্রহণ করতো।

    গঞ্জনায় যদি পেট ভরতো তবে আমেনাকে কখনো অনাহারী থাকতে হতো না।

    চুরির দ্রব্যাদি না পেয়ে কদম গজরাতে গজরাতে চলে গেল। কিন্তু গালির কোটা তখনও পূরণ হয়নি, মোল্লা বাড়ি থেকে ভৎসর্না শুরু হলো তারপরেই। হাসমত মোল্লার ছেলে তরিকত মোল্লার স্ত্রী হুরমতি, বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে যার গলায় তেজের পরিমাণও বাড়ছে। সকাল হতেই মৃত শ্বশুরকে অভিশাপ দিয়ে শুরু হয় তার দিন। শ্বশুরের অপরাধ চোরদের সাথে বসবাসে তাদের বাধ্য করছে। তারপর ফজর আলী এবং তার চৌদ্দগুষ্ঠিকে গালি দিয়ে গলা গরম করে। অন্তিম আঘাতটা দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে আমেনার উপর। নারীরা সর্বদা নারীদের দোষই খোঁজে, হুরমতিও সব অশান্তির জন্য আমেনাকেই দোষী সাব্যস্ত করে। গ্রামেগঞ্জে প্রতিবেশী নারীদের মধ্যে কথার যুদ্ধ বেশ প্রচলিত, তা রীতিমতো মহাভারতের যুদ্ধ ছাড়িয়ে যায়। একপাশ থেকে কথার সুতীক্ষ্ণ তীর ছোড়ে তো অপর পাশ থেকে গালির ধারালো বল্লম। মাঝেমধ্যে তা চুলোচুলিতে গিয়ে শেষ হয়। তবে এই ক্ষেত্রে দৃশ্যটা ব্যতিক্রম। হুরমতি একের পর এক ব্রহ্মাস্ত্র ছোড়ে কিন্তু আমেনার নীরব কঠিন আবরণের ঢালে তা নিমিষেই নিস্ফল হয়ে যায়। পুকুরঘাটে পানি আনতে গেলে কত কটাক্ষবাণ ধেয়ে আসে তার দিকে, সে বিন্দুমাত্র আগ্ৰহ না দেখিয়ে কারো অনিষ্ট কামনা না করে কলসিতে পানি ভরে চলে আসে। পেছনে থেকে ভেসে আসে মুখ ভ্যাংচানো কিছু কথা, ‘চোরের বউয়ের দেমাগ দেখো না, লাজ শরম নাই, মুখ দেখায় কেমনে?

    দুপুর অতিক্রান্ত হয়ে গেল, সূর্যের তেজ কমে এসেছে কিন্তু হুরমতি অবিরাম বাণ ছুঁড়ে যাচ্ছে। আমেনা তার গাছের শুকনো ডাল চুরি করে রান্না করছে এই তার অভিযোগ। নিজের রান্না ঘরে ডাল ঘুটাতে ঘুটাতেই অভিশাপ দিয়ে বলল, ‘ও লো চুন্নি গলাত রক্ত উইঠ্যা মরবি, আমার গাছের ডাইল পুড়াইয়া যা রানছস সব যেন বিষ হইয়া যায়। বিষ খাইয়া বেবাক মর, আমার কইলজা জুড়াক।’

    ফজর আলী চোখ ডলতে ডলতে বাহিরে এলো। আমেনার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুই কিছু কইতে পারস না?’

    আমেনা ভাতের হাড়ি উল্টিয়ে মাড় গালতে গালতে বলল, “কী কমু, এইসব আমার কপালে আছে, আল্লায় লিখ্যা দিছে। আমি চোরের মাইয়া, চোরের বউ এইসব আমারে শুনতেই হইবো।’

    ফজর আলীর বুকে আমেনার এই নির্লিপ্ত ভঙ্গি শেলের মতো বিঁধে। মাঝেমধ্যে আমেনাকে বড়ো অকৃতজ্ঞ মনে হয় আবার কখনো কখনো নিজেকেই অপরাধী মনে হয় তার। মজিদ সকালের ঘটনার রেশ এখনো ভুলতে পারেনি। তার সামনেই তার বাবাকে সবাই বকে গেল অথচ তার বাবা কিছু বলল না। সে পাখির পেছনে দৌড়ানো এবং গাছে ঝুলাঝুলিতে ইস্তফা দিয়ে আপন মনে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মাটিতে বেত্রাঘাত করছে। সব দোষ যেন এই মাটির।

    ফজর আলী ছেলেকে ভুলানোর জন্য কাছে গিয়ে বলল, “কিরে টিয়া পাখির বাচ্চা ধরবি?’

    অন্য সময় হলে মজিদ এই প্রস্তাবে লাফিয়ে বাবার কাঁধে গিয়ে উঠতো কিন্তু এখন কেন যেন টিয়া পাখির বাচ্চাও তার মনকে আকৃষ্ট করছে না। সে বেত্রাঘাত অব্যাহত রাখলো। ফজর আলী ছেলের নিরাসক্ত ভাব দেখে বলল, ‘বৈকালে তোরে রতনপুরের মেলাত লইয়া যামু, মাডির ঘোড়া কিন্যা দিমু।’

    রতনপুরের মেলায় যাওয়ার প্রলোভনে মজিদের চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, মাটির শাস্তি স্থগিত রেখে উঠান জুড়ে লাফাতে লাগলো। তারপর বাবার গলায় ঝুলে বলল, ‘বাজান মায় যাইবো না?’

    ‘তোর মারে জিগা।’

    মজিদকে কষ্ট করে জিজ্ঞাসা করতে হলো না, রান্নাঘর থেকে আমেনা গম্ভীরভাবে বলল, ‘আমি যামু না, তোরা যা।’

    ফজর সম্ভবত না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করতে যাচ্ছিলো, ঠিক তখনি তালপাতার ওপাড় থেকে হুরমতির গলা ভেসে এলো, ‘বাপ পুতে কই যায়? কার ঘরের সিঁদ কাটবো?’

    ফজরের আর কিছু জিজ্ঞাসা করতে হলো না, উত্তর যেন হুরমতিই দিয়ে দিলো। ‘চোরের বউদের ঘরে মুখ লুকিয়েই থাকতে হয়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনীল পাহাড় – ওবায়েদ হক
    Next Article রুবাইয়্যাৎ – ওমর খৈয়াম

    Related Articles

    ওবায়েদ হক

    নীল পাহাড় – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }