Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তেরোর ত্রাস – দীপান্বিতা রায়

    দীপান্বিতা রায় এক পাতা গল্প171 Mins Read0
    ⤶

    তেরোটার ঘণ্টা

    গাড়ি থেকে নেমে মস্ত গেটটার সামনে দাঁড়াল দেবল৷ গেট নয়, বলা উচিত সিংহ-দরজা৷ আক্ষরিক অর্থেই৷ কারণ গেটের বিশাল পিলারদুটোর ওপরে দুটো পাথরের সিংহ এখনও বসে আছে৷ একটার নাক ভাঙা৷ পা আর ল্যাজের বেশ খানিকটা অংশও খসে গেছে৷ অন্যটার মাথাটাই ভেঙে গেছে৷ তবু একসময় যে দুটো শ্বেতপাথরের কেশরওলা সিংহ থামের মাথায় জাঁকিয়ে বসে থাকত বুঝতে অসুবিধা হয় না৷ গেটের অবস্থাও তথৈবচ৷ কালো আর সোনালি রঙ ছিল বোধহয়৷ আবছা মনে পড়ে দেবলের৷ সেসব উড়ে গেছে অনেককাল৷ মাথার দিকে সূচালো শিকগুলোও মরচেয় ঝুরঝুরে৷ বড় গেটটা সম্ভবত খোলাও হয় না বহুকাল৷ দেউড়ির পাশের ছোট গেট দিয়েই যাতায়াত চলে৷

    গেট দিয়ে ঢুকে বেশ খানিকটা নুড়ি বেছানো পথ৷ অনেককাল আগে নিশ্চয় ফুলের কেয়ারি ছিল৷ এখন দুপাশে আগাছার জঙ্গল৷ বাগানের মাঝখানের ভাঙা ফোয়ারাটা থেকে দেবলও কখনও জল পড়তে দেখেনি৷ তবে ফোয়ারার মাঝখানে পরিটা আস্ত ছিল৷ এখন একটা মুণ্ডহীন ধড়ে ডানাদুটো লেগে আছে৷ মাঝখান থেকে কঙ্কালের হাতের মতো উঁকি মারছে জলের পাইপটা৷ দেখতে দেখতে দেবলের মনে হল গোটা চৌধুরী বাড়িটাই যেন ওরকম একটা মুণ্ডহীন কঙ্কালের চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ বাড়ি না বলে অবশ্য প্রাসাদ বলাই ভালো৷ বিশাল বিশাল খিলান, চওড়া টানা বারান্দা, ঘোরানো সিঁড়ি, কোথাও শ্বেত পাথরের, কোথাও আবার দাবার ছকের মতো সাদা-কালো পাথর বসানো মেঝে, মস্ত উঁচু সিলিং থেকে ঝুলে থাকা ঝাড়লণ্ঠন, মেঝে জোড়া নরম পার্সিয়ান কার্পেট পাতা বাড়িটাকে নয়নপুর আর তার আশপাশের মানুষজন রাজবাড়ি বলেই চিনত৷ যদিও রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী মোটেই রাজা ছিলেন না৷ তবে জমিদার ছিলেন৷ এই মৌজার অধিকাংশ জমি-জিরেতই ছিল তাঁর দখলে৷ দোর্দণ্ডপ্রতাপ এবং অত্যাচারী বলে পুরো পরগনাতেই কুখ্যাত ছিলেন তিনি৷ শুধু জমির ওপর নির্ভর করে পয়সা নয়৷ বংশানুক্রমিক জমিদারও ছিলেন না৷ ইংরেজদের সঙ্গে নুনের ব্যবসায় পয়সা করেছিলেন৷ সঙ্গে জাহাজঘাটার আরও দু-পাঁচটা ব্যবসাও ছিল৷ বিশেষ করে ঘড়ি মেরামতির কাজে বিশেষ নাম-ডাক ছিল তাঁর৷ সেসব থেকে পাওয়া টাকা আর সাহেবদের সঙ্গে দহরম-মহরমের সুবাদে জমিদারির পত্তন করতে অসুবিধা হয়নি৷ কলকাতায় বাড়ি ছিল৷ কিন্তু বয়স একটু বাড়ার পর ব্যবসার কাজ ছেলেদের হাতে তুলে দিয়ে নিজে চলে এসেছিলেন নয়নপুরে৷ জমিদারের যোগ্য নায়েব ছিলেন হরিহর পৈতুণ্ডি৷ দুজনে মিলে প্রজাদের গলায় গামছা দিয়ে খাজনার টাকা আদায় করতেন৷ সেই টাকায় জমিদারবাড়ির রমরমা বাড়ত৷ দোল-দুর্গোৎসবে মোচ্ছব হত৷ কলকাতা থেকে নাকি সাহেব-সুবোরাও আসতেন নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে৷

    এসব কথা ভাবতে ভাবতেই বাড়িটার ওপর আলগোছে চোখ বোলাচ্ছিল দেবল৷ এখন অবশ্য বাড়ির চেহারা দেখলে সেসব কথা কল্পনা করাও কঠিন৷ মস্ত কাঠামোটুকু শুধু টিকে আছে৷ তাছাড়া গোটা বাড়ির চেহারাটাই একটা দাঁত বের করা কঙ্কালের মতো৷ ইঁটের দেওয়াল বেয়ে ওঠা গাছের চারা রীতিমত ডালপালা মেলে দিয়েছে৷ দোতলার অনেকগুলো জানলারই খড়খড়ি ভেঙে ঝুলছে৷ পলেস্তারা খসে গেছে বহু জায়গাতে৷ শ্রীহীনভাবে বেরিয়ে থাকা ইঁটের ওপর পুরু শ্যাওলার আস্তরণ৷ একটা প্রাগৈতিহাসিক জন্তুর মতো গোটা বাড়িটাই যেন অতীতের গন্ধ গায়ে মেখে মাটিতে মুখ গুঁজে বসে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে৷ কথাটা ভেবেই নিজের মনে একটু হাসল দেবল৷ এই অপেক্ষাপর্বও শেষ হবে এবার৷ জমি-জিরেত অনেককাল গেছে৷ নয়নপুরের সঙ্গে সম্পর্ক বলতে ছিল জমিদার রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী মানে দেবলের ঠাকুর্দার ঠাকুর্দার আমলের এই বাড়িটা৷ সেটাও এবার বিক্রি হয়ে যাবে৷ এদিকগুলো ইদানীং টুরিস্ট স্পট হিসাবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে৷ দেবলের সৌভাগ্য যে একজন শাঁসালো প্রোমোটারের নজর পড়েছে বাড়িটার দিকে৷ তিনি একটা রিসর্ট বানাতে চান এখানে৷ দরদাম করেনি দেবল৷ এই ভাঙাবাড়ির জন্য যা পাওয়া যায় তাই ভালো৷

    প্রোমোটারের আসার কথা আজ বিকেলে৷ তার আগে একবার বাড়িটা ঘুরে দেখে নিতে হবে৷ আলাদা করে বিক্রি করার মতো জিনিসপত্র কিছু আছে কীনা৷ তাই আর দেরি না করে হর্ন বাজাল দেবল৷ বেশ কিছুক্ষণ পরে দূর থেকে একজনকে আসতে দেখা গেল৷ কাছে আসতে চিনল দেবল৷ নগেনদা৷ বয়স অনেকটাই হয়েছে৷ তবে সামনে একটু ঝুঁকে পড়লেও চেহারাটা এখনও শক্তপোক্ত৷ মাথার চুল যদিও বিলকুল সাদা৷ আর চোখের সেই চনমনে, তীক্ষ্ণ চাউনিটাও নেই, কেমন একটা শূন্য দৃষ্টি৷ চাবিটা হাতে নিয়ে গেটের কাছে এসে দেবলকে দেখে একটু যেন চমকে উঠল নগেনদা৷ দেবল যদিও গত কুড়ি বছরে নয়নপুরে আসেনি৷ কিন্তু নগেনদা মাঝে দু-একবার কলকাতা গেছে৷ তাই একেবারে না চেনার কথা নয়৷ তাছাড়া দেবলের আসার খবরও পেয়েছে৷ তাই নগেনদাকে চমকাতে দেখে একটু অবাক হয়ে দেবল বলল, কী হল নগেনদা, তুমি কি আমাকে চিনতে পারছো না নাকি?

    কথার উত্তর না দিয়ে মরচে ধরা তালাটা অতিকষ্টে খুলল নগেনদা৷ তারপর গেটের পাল্লাদুটো ধরে ঠেলা দিতে একটা বিকট কর্কশ আওয়াজ করে খুলে গেল সেদুটোও৷ পিলে কাঁপানো আওয়াজে চমকে গেছিল দেবল৷ নগেনদার মুখের ওপর দিয়েও একটা কালো ছায়া যেন খেলে গেল৷ ফ্যাঁসফ্যাঁসে গলায় বলল, তোমার না কাল আসার কথা ছিল? মানিকবাবুকে তো আমি বলেছিলাম, আজকের দিনটা বাদ দিতে৷ সে বলেনি তোমাকে?

    দেবল ততক্ষণে গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিয়েছে৷ তাই নগেনদার কথাটাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না৷ কিন্তু গাড়িবারান্দার নীচে দাঁড়িয়ে পিছনের বুট থেকে তাকে স্যুটকেস নামাতে দেখে নগেনদা ফের বলে, আজ রাতে থাকবে ভাবছো নাকি?

    এবার একটু বিরক্ত হয় দেবল৷

    রাতে থাকবো না তো যাব কোথায়? মানিকবাবু তো আসবেন বিকেলবেলা৷ কথাবার্তা শেষ হতে সন্ধে হয়ে যাবে৷ তারপর ফিরব কেমন করে? তোমার সমস্যাটা কী বলো তো নগেনদা? রাঁধা-বাড়ার কিছু নেই বুঝি? টাকা দিচ্ছি, আনিয়ে নাও৷ আজকাল তো নয়নপুরে রোজই বাজার বসে৷ আসার পথে দেখলাম৷

    স্যুটকেসটা তুলে নিয়ে ঘরের ভিতরে যেতে আপনমনেই গজগজ করে নগেন, অমাবস্যার দিন….ভালো নয়৷ তাই বলেছিলাম আজ না আসতে….

    অমাবস্যা-পূর্ণিমা তো প্রতিমাসেই হয়৷ তারসঙ্গে দিন ভালো-মন্দর কী সম্পর্ক বোঝে না দেবল৷ কিন্তু নগেনদা ততক্ষণে স্যুটকেস নিয়ে ভিতরে হাঁটা দিয়েছে৷ তাই গাড়িবারান্দা থেকে কয়েক ধাপ সিঁড়ি দিয়ে উঠে মস্ত বৈঠকখানাটায় একলা দাঁড়িয়ে চারপাশটা ভালো করে দেখে দেবল৷ দাদু মারা যাওয়ার পর দেবল আর তার মা যখন পাকাপাকিভাবে কলকাতায় চলে গেল, তখন তার বয়স বছর দশেক৷ দাদু মারা গেছিলেন বেশ অদ্ভূতভাবে৷ বৈশাখ মাস ছিল৷ রোজ বিকেলে হাঁটতে যেতেন দাদু৷ সেদিনও গেছিলেন৷ একটু পরেই কালবৈশাখী ঝড় উঠল৷ সঙ্গে বৃষ্টি আর ঘন ঘন বাজপড়া৷ বৃষ্টি থেকে বাঁচতে গাছের নীচে দাঁড়িয়েছিলেন বোধহয়৷ বাজে পোড়া শরীরটা কালো কাঠের মতো দেখতে হয়ে গেছিল৷ দেবল জানে লোকে মনে করে রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর কুকর্মের অভিশাপ আছে তাদের বংশে৷ এই বংশের পুরুষদের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হয় না৷ দাদু মারা গেছিলেন বজ্রপাতে৷ কারখানায় কাজ করার সময় মাথার ওপর ক্রেন ছিঁড়ে পড়ে দেবলের বাবা মারা গেছেন বছর পাঁচেক আগে ৷ তবে দেবল নিজে এসবে বিশ্বাস করে না৷ তার মতে দুর্ঘটনা যে কোনও সময় ঘটতে পারে৷ তার সঙ্গে অভিশাপের কোনও সম্পর্ক নেই৷

    তবে রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর নামটা মাথায় আসতে দেবলের মনে পড়ে এই বৈঠকখানা ঘরেই একটা মানুষপ্রমাণ ছবি ছিল রামেন্দ্রনারায়ণের৷ ঈগল পাখির মতো খাড়া নাক আর তীক্ষ্ণ-কুটিল চোখওলা লোকটার ছবিটা দেখলেই কেমন যেন অস্বস্তি হত ছোট্ট দেবলের৷ তাই এই ঘরটায় পারতপক্ষে একলা ঢুকত না সে৷ দরকারও তেমন হত না৷ কারণ এই ঘরে তখন দাদুর সঙ্গে দেখা করতে বাইরের লোকজনরা আসতেন৷ মায়ের সঙ্গে দেবল থাকত দোতলায়৷ কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই কেমন যেন একটা অস্বস্তি বোধ হল দেবলের৷ যেন কেউ আড়াল থেকে তার দিকে নজর রাখছে৷ একটু অবাক হয়ে পিছন ফিরে তাকাতেই চোখে পড়ল ছবিটা৷ রামেন্দ্রনারায়ণ যেন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন তার দিকে৷ অয়েল পেইন্টিং৷ কিন্তু এতবছর পরেও চোখদুটো অস্বাভাবিক জ্বলজ্বলে৷ ঘরের সব আসবাবপত্রই ধুলোয় মলিন৷ কিন্তু ছবিটায় যেন সময়ের ছাপ পড়েনি একটুও৷ গা-টা শিরশির করছিল দেবলের৷ তাই চোখ সরিয়ে নিয়ে এগোল সিঁড়ির দিকে৷ ঘর থেকে বেরিয়ে চওড়া বারান্দা৷ তার দুপাশ দিয়েই উঠেছে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি৷ সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতেই শুনতে পেল পুরোনো গ্র্যান্ডফাদার ক্লকের ঢংঢং আওয়াজ৷ ঘড়িটা দাদুর আমল থেকে বৈঠকখানার কোণে রাখা থাকত৷ কিন্তু কখনও ঘণ্টা বাজতে শোনেনি দেবল৷ ঘড়িটা তার মানে নগেনদা ঠিক করিয়েছে৷ সেক্ষেত্রে এটার জন্যও আলাদা দাম পাওয়া যাবে৷ হাজার হোক এরকম একটা অ্যান্টিক ঘড়ি৷ কথাটা ভেবেই মনটা খুশি খুশি হয়ে গেছিল দেবলের৷ কিন্তু সিঁড়ির মুখে নগেনদাকে দেখে খুশিটা উপে গেল৷ নগেনদার মুখটা ফ্যাকাসে৷ দুহাতে বারান্দার রেলিংটা এত শক্ত করে ধরে আছে যে হাতের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে৷ দেবলকে দেখে ফিসফিস করে বলল, শুনলে, শুনতে পেয়েছো?

    কী শুনব?

    শুনতে পেলে না, ঘণ্টা বাজল?

    হ্যাঁ শুনলাম তো৷ দাদুর গ্র্যান্ডফাদার ক্লক৷ আগে তো কোনওদিন শুনিনি৷ ঘড়িটা সারিয়েছো বুঝি?

    বিড়বিড় করে মাথা নাড়ল নগেনদা, না, এত কাল বাজেনি৷ ঠিক আজকেই বাজল৷ আমি ঠিক বুঝেছি….আজই সেইদিন…..

    আপন মনে মাথা নাড়তে নাড়তে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল নগেনদা৷ বুড়োর মাথাটা যে একেবারেই গেছে বুঝতে অসুবিধা হল না দেবলের৷ বাড়িটা বিক্রি হয়ে গেলে কোথায় যে যাবে কে জানে? সারাটাজীবন তো এই চৌধুরীবাড়িতেই কেটে গেল৷ আত্মীয়-স্বজন কেউ আছে কীনা জিজ্ঞাসা করতে হবে৷ নাহলে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে একটা ব্যবস্থাও করতে হবে৷ ভাবতে ভাবতেই ঘরে ঢুকে মনটা ভালো হয়ে গেল দেবলের৷ এই ঘরটাতেই মায়ের সঙ্গে থাকত সে৷ পূব-দক্ষিণ খোলা আলোয় ভাসাভাসি ঘর৷ নগেনদা যতই অকর্মণ্য হয়ে পড়ুক, এই ঘরটাকে অন্তত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রেখেছে৷ মেহগিনির পালঙ্কের ওপর ফর্সা চাদর পাতা৷ বালিশ-পাশবালিশ এমনকী একটা পাতলা কাঁথা পর্যন্ত পায়ের কাছে পরিপাটি করে গোছানো৷

    দুপুরের খাওয়াও ভালোই হল৷ ভাত-ডাল-দুরকম ভাজা-মাছ৷ শেষপাতে পায়েসও ছিল৷ রান্না নাকি নগেনদা নিজেই করে৷ যদিও নিজের সেদ্ধভাত ছাড়া কিছু লাগে না৷ দেবল এসেছে বলেই বিশেষ আয়োজন৷ রান্নাও ভালো৷ তৃপ্তি করেই খাচ্ছিল দেবল৷ যদিও নগেনদার মুখটা ফ্যাকাসে মতো হয়েই ছিল৷ মাঝে মাঝেই যেন চমকে আশপাশটা সতর্কভাবে দেখে নিচ্ছিল৷

    মানিকবাবু এলেন বিকেল পড়তেই৷ তখনও দিনের আলো রয়েছে ভালোমত৷ বাড়িটা ঘুরিয়ে দেখালো দেবল৷ বাড়ির লাগোয়া বেশ কয়েক বিঘে জায়গা৷ সামনে ফুলের বাগান৷ পিছন দিকে ফলের গাছ অনেক৷ সবজির চাষও নাকি হত একসময়৷ একপাশে বিশাল পুকুর৷ বাঁধানো ঘাট এখন ফেটে চৌচির৷ ঘুরে দেখতে দেখতে হঠাৎ চোখে পড়ল বাগানের একেবারে শেষপ্রান্তে, খিড়কির গেটের কাছে একটা ছোট্ট চালাঘরের মতো৷ নগেনদা পিছন পিছন আসছিল৷ জিজ্ঞাসা করতে বলল, ওটা তো হাসেম ফকিরের মাজার৷ মনে নেই? তোমার দাদুর সময় থেকেই ছিল৷ দাদুর বন্ধু ছিলেন হাসেম ফকির৷ মাজারখানা তিনিই বানান৷ ফকির অনেককাল দেহ রেখেছেন৷ মাজারের পাশেই ওনাকেও মাটি দেওয়া হয়েছিল৷ পাড়ার লোকজন আসে৷ মোমবাতি জ্বালিয়ে যায়৷

    কার্তিক মাস৷ দিন ছোট হতে শুরু করেছে৷ মানিকবাবু চলে যাওয়ার পরেই ঝুপ করে অন্ধকার নেমে এল৷ নয়নপুরে ইলেকট্রিসিটি আছে৷ কিন্তু ভোল্টেজের অবস্থা খুবই খারাপ৷ দেবলের ঘরের আলোটা জ্বলছে একেবারেই মিটমিট করে৷ টেলিভিশন নেই৷ ইন্টারনেটও থাকছে না বেশিরভাগ সময়৷ তাই ফেসবুক ঘেঁটে সময় কাটানোরও উপায় নেই৷ দেবল তাই ঠিক করেছিল, তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়বে৷ এমনিতেই ভোরবেলা বেরোতে হবে বলে রাতে ভালো ঘুম হয়নি৷ তাই একটা লম্বা ঘুম দিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেওয়াই ভালো৷ কালকের দিনটা পেরোলেই তো আবার সোমবার থেকে অফিসের কাজে জুতে যেতে হবে৷ নগেনদা আজ আসতে বারণ করেছিল ঠিকই কিন্তু দেবলের অফিস যে ছুটি দিতে রাজি নয় সেটা আর জানবে কী করে৷ যদিও নগেনদা কেন আসতে বারণ করেছিল, কেন হঠাৎ আজকের দিনটা ভালো নয় বলছিল বারবার, সেটা দেবলের মাথায় ঢোকেনি৷ রাতে খাওয়ার সময় কথাটা জিজ্ঞাসা করবে ভেবেও ভুলে গেছিল৷

    রাতে খাওয়ার ব্যবস্থা ঘরেই৷ ডিমের কষা, আলুর চোখা আর রুটি৷ খাটের পাশের ছোট টেবিলটায় খাবার গুছিয়ে দিয়েছিল নগেনদা৷ ভারী কাঁসার গ্লাসে জল দিয়ে, ঘরের কুঁজোটা ভর্তি আছে কীনা দেখে নিয়েছিল৷ তারপর বিছানাটা একটু ঝেড়েঝুড়ে দিয়ে, মশারি খাটিয়ে ঘর থেকে বেরোনোর সময় হঠাৎ বলল, খাওয়া সেরে শুয়ে পোড়ো৷ বাসন-কোসন এখানেই থাক৷ সকালে আমি নিয়ে যাব৷ জানলা-দরজা বন্ধ করে শোবে কিন্তু৷ আর শোনো আমি ছাড়া অন্য কেউ ডাকলে সাড়া দিও না যেন৷

    তুমি ছাড়া আর কে ডাকবে? আর কে এবাড়িতে আছে শুনি?

    অত জানিনা বাপু৷ যা বললাম মনে রেখো৷ দিনটা খারাপ৷ আজ আসতে বারণ করেছিলাম৷ সেকথা তো শুনলে না৷ এখন বড় ঘড়িতে তেরোটার ঘণ্টা না পড়লেই বাঁচি৷

    কথাগুলো বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল নগেনদা৷ আর এই তেরোটার ঘণ্টা, কথাটা শুনেই মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুতের ঝিলিক খেলে গেল দেবলের৷ আশ্চর্য এই ঘটনাটা তো সে জানত৷ নগেনদাই বলেছিল একদিন৷ জমিদার রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর নিষ্ঠুরতার গল্প৷

    পরপর দুবছর অজন্মা হয়েছিল নয়নপুরে৷ ক্ষেতের ফসল জ্বলে গেছে৷ মানুষ না খেতে পেয়ে মরছে৷ সেই সুযোগে চড়া সুদে টাকা ধার দিয়েছিলেন জমিদার৷ প্রজারাও বাধ্য হয়েছিল নিতে৷ দুবছর পরে যখন ধান হল, তখন জমিদার জানিয়ে দিলেন সুদে আসলে সেই ধারের টাকা শোধ করতে হবে প্রজাদের৷ ফসল কেউ ঘরে তুলতে পারবে না৷ সব ফসল তুলে দিয়ে আসতে হবে জমিদারের গোলায়৷ প্রজারা রাজি নয়৷ তারা ঠিক করেছে গোপনে রাতের অন্ধকারে ফসল কেটে নিয়ে যাবে৷ তারপর দরকার হলে সবাই মিলে নিজেদের গোলা পাহারা দেবে৷ প্রজারা যে এরকম মতলব আঁটছে সেখবর পৌঁছে গেছিল জমিদারবাবুর কানেও৷ গরীব চাষীদের এতবড় দুঃসাহস তিনি কী করে মেনে নেবেন? তাই তাদের জব্দ করতে এক ভয়ানক পরিকল্পনা করলেন জমিদার রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী৷ নিজের সব লাঠিয়ালকে চুপিচুপি ডেকে পাঠালেন জমিদার বাড়িতে৷ ঠিক হল রাতের অন্ধকারে তারা গিয়ে চাযীদের গোটা পাড়া ঘিরে ফেলবে৷ তাদের সঙ্গে থাকবে নায়েবমশাইও৷ জমিদারবাড়ির বিশাল গ্র্যান্ড ফাদার ক্লক তখন প্রতি ঘণ্টায় ঢংঢং করে বেজে সময় বলত৷ বহুদূর থেকে শোনা যেত সেই ঘণ্টার আওয়াজ৷ অমাবস্যার রাতে পরিকল্পনা মতো লাঠিয়ালরা ঘিরে ফেলল চাষীদের পাড়া৷ ঘড়ি মেরামতিতে দক্ষ রামেন্দ্রনারায়ণ এমন ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন যাতে ঠিক রাত বারোটায় ঘড়িতে তেরোটা ঘণ্টা পড়বে৷ আর এই তেরো নম্বর ঘণ্টার শব্দ শোনামাত্রই সব লাঠিয়ালরা একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়বে, যাতে চাষীরা তৈরি হওয়ার কোনও সময় না পায় এমনকী পালিয়ে যেতেও না পারে৷ সবাইকে মেরে, বাড়ি-ঘরে আগুন লাগিয়ে চলে আসবে লাঠিয়ালরা৷ জোয়ান-মদ্দ-বুড়ো-বাচ্চা কাউকে রেয়াত করা হবে না৷

    পরিকল্পনামাফিক কাজ হল৷ পুড়ে খাক হয়ে গেল চাষীদের পাড়া৷ অসংখ্য মানুষ মারা গেল৷ পুলিশ এসে জমিদারের বাড়িতে চা-জলখাবার খেয়ে চলে গেল৷ কোনও বিচার হল না৷ অপরাধীও ধরা পড়ল না৷ সবকিছুই আবার আগের মতো চলতে লাগল৷ কিন্তু সেই গ্র্যান্ড ফাদার ক্লক বন্ধ হয়ে গেল৷ তাতে আর ঘণ্টাও পড়ে না, কাঁটাও নড়ে না৷

    তার কিছুদিন বাদে একদিন জমিদারবাবু তাঁর ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে গেট দিয়ে বেরোচ্ছেন এমন সময় পথ আটকে দাঁড়াল এক পাগল বুড়ি৷ হাওয়ায় তাঁর পাকা চুল এলোমেলো উড়ছে৷ দু-চোখ দিয়ে ঠিকরে বেরোচ্ছে আগুন৷ জমিদারের মুখের সামনে আঙুল তুলে সে বলল, মনে করিস না তুই রেহাই পাবি৷ তারা সবাই আসবে৷ আবার আসবে৷ যেদিনে তাদের মেরেছিস সেইদিনেই ফিরে আসবে তারা৷ সেদিন তুইও রক্ষা পাবি না, তোর বংশের কেউ রক্ষা পাবে না….

    গেটের পাহারাদাররা তক্ষুনি বুড়িকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিল ঠিকই৷ কিন্তু সেদিন বাড়ি ফিরেই জ্বর আসে রামেন্দ্রনারায়ণের৷ জ্বরের ঘোরে সারাক্ষণ নাকি ভুল বকছিলেন৷ কোনও ওষুধ কাজ করেনি৷ সেই জ্বরেই তিনদিনের মাথায় মারা যান রামেন্দ্রনারায়ণ৷

    গল্পটা নগেনদা বলেছিল দেবলকে৷ আর এটাও বলেছিল, সেই দিনটা নাকি ছিল কার্তিক মাসের অমাবস্যা৷ সে বছর নাকি কোনও একটা মাসে দুটো অমাবস্যা পড়েছিল৷ তাই কার্তিকের ওই দিনটি ছিল বছরের অষ্টম অমাবস্যা৷ নগেনদার কেমন একটা ধারণা ছিল, কার্তিক মাসে, অষ্টম অমাবস্যায় যদি বড় ঘড়িতে তেরোটার ঘণ্টা পড়ে, তাহলে সেই পুড়ে মরে যাওয়া চাষীদের প্রেতাত্মারা জেগে উঠে এই জমিদারবাড়িতে হানা দেবে প্রতিশোধ নিতে৷

    মাসটা যে কার্তিক সেটা দেবল জানে৷ কিন্তু পূর্ণিমা-অমাবস্যা তো আর খেয়াল রাখা সম্ভব নয়৷ মোবাইলটা তুলে নিয়ে দেবল দেখল ইন্টারনেট রয়েছে৷ গুগুল-এ সার্চ দিতেই বোঝা গেল রাতটা অমাবস্যার৷ আর শ্রাবণে দুটো অমাবস্যা পড়েছে৷ তাই বৈশাখ মাস থেকে ধরলে এটাও বছরের অষ্টম অমাবস্যা৷ সবটাই একজন অশিক্ষিত মানুষের মনগড়া গল্প, জানে দেবল৷ তবুও সবই কেমন যেন মিলে যাচ্ছে দেখে শিরদাঁড়ার কাছটা শিরশির করে উঠল একটু৷ মনটা ঘোরানোর জন্য মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখল ইন্টারনেট চলে গেছে আবার৷ ঠান্ডা নেই তেমন৷ তবু জানলাগুলো বন্ধই করে দিল৷ ঠিক করল আলোটা নেভানোর দরকার নেই৷ এমনিতেই যেরকম নিভু নিভু আলো৷ ঘুমোতে অসুবিধা হবে না৷ কিন্তু মশারির ভিতর ঢুকে বালিশে মাথা রাখতেই দুবার দপদপ করে নিভে গেল আলোটা৷ মুহূর্তের মধ্যে জমাট বাঁধা কালো অন্ধকার যেন চারপাশ থেকে চেপে ধরল দেবলকে৷ সঙ্গে অদ্ভুত কানে তালা ধরা নৈঃশব্দ৷ একটা ঝিঁঝিঁর ডাকও কোথাও শোনা যাচ্ছে না৷ প্রাণপণে চোখ বন্ধ করে ঘুমোনোর চেষ্টা করে দেবল৷ একটু যেন ঝিমুনিও এসেছিল৷ কিন্তু হঠাৎ একটা প্রবল অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে গেল৷ রাত কটা বোঝার জন্য অভ্যাসে বালিশের পাশে হাতড়ে দেখল, মোবাইল জ্বলছে না৷ অথচ চার্জ যে ছিল সে একটু আগেও দেখেছে৷ ঘর আগের মতই নিশ্ছিদ্র অন্ধকার৷ কিন্তু দেবল স্পষ্ট বুঝতে পারছিল অতীতের পাতা উল্টে রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর জমিদার বাড়ি জেগে উঠেছে৷ গোপন ষড়যন্ত্রের ফিসফাস শোনা যাচ্ছে দেওয়ালের ওপারে৷ কারা যেন হেঁটে যাচ্ছে সতর্ক পায়ে৷ কথা বলছে চাপা গলায়৷ লাঠি-সড়কির ঠোকাঠুকির অস্পষ্ট শব্দ কানে আসছে৷ ঠিক দেবলের ঘরের সামনে দিয়ে কে যেন খুব তাড়াতাড়ি হেঁটে যেতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল দরজার সামনে৷ নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুয়ে আছে দেবল৷ না, পায়ের আওয়াজ এগিয়ে গেল সিঁড়ির দিকে৷ নীচের তলায় অনেক মানুষের অস্পষ্ট অস্তিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে৷ লোহার ওপর ঘষটানোর মৃদু আওয়াজ৷ সাবধানে সিংদরজা খুলে কারা যেন বেরিয়ে গেল৷ গোটা বাড়িটা দমবন্ধ করে কী এক সর্বনাশের জন্য অপেক্ষা করছে৷ কান খাড়া করে বিছানায় শুয়ে আছে দেবলও৷ হঠাৎ রাতের অন্ধকারের সব নৈঃশব্দ ভেঙে দিয়ে গ্র্যান্ড ফাদার ক্লকের ঘণ্টা বাজতে শুরু করল৷ ঢং ঢং ঢং৷ এক, দুই, তিন গুণছে দেবল৷ পাঁচ, ছয়, সাত…প্রতিটি ঘণ্টার শব্দ যেন চারপাশের পৃথিবীটাকে ঠেলে দিচ্ছে একটা অন্ধকার গহ্বরের দিকে৷ আট, নয়, দশ…ঘন্টার শব্দে জেগে উঠছে প্রেতলোকের প্রহরীরা৷ অবয়ব পাচ্ছে বাতাসে মিলিয়ে যাওয়া মানুষ৷ যে কোনও সময় খুলে যাবে মৃত্যুপুরীর দরজা৷ ঢং ঢং করে বারোটার ঘণ্টা বেজে থামল ঘড়ি৷ পর কয়েক মুহূর্তের নৈঃশব্দ৷ দমবন্ধ অপেক্ষা৷ তারপরেই আবার নড়ে উঠল পেন্ডুলাম৷ তেরোটার ঘণ্টা ঘোষণা করল অশনি সংকেত৷ একটা বিকট চিৎকার যেন ভেসে এল অন্ধকারের সমুদ্র থেকে৷ আতঙ্কে বিছানায় উঠে বসল দেবল৷ সব জানলা বন্ধ৷ কিন্তু তবু সে স্পষ্ট দেখতে পেল আগুনের লেলিহান শিখা ঘিরে ফেলছে অনেকগুলো বাড়িকে৷ দাউ দাউ করে জ্বলছে খড়ের চাল৷ প্রাণপণে ছুটে পালাতে গিয়ে ছিটকে পড়ছে মানুষ৷ আর্তনাদ করতে করতে লুটিয়ে পড়ছে মাটিতে৷ এসবই দেবলের জানা৷ কিন্তু একি একি! দেবলের দৃষ্টির সামনেই আর্তনাদ করতে করতে হঠাৎ আবার উঠে দাঁড়াতে লাগল মানুষগুলো৷ তাদের গোটা গায়ে আগুন৷ একদল জ্বলন্ত মানুষ ছুটে আসছে৷ দেবল জানে, তারা ছুটে আসছে জমিদার বাড়ির দিকেই৷ বহু যুগ আগে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে ছুটে আসছে মানুষগুলো৷ জমিদার রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর ওপর প্রতিশোধ নেবে তারা৷ দেবলের শরীরেও বইছে সেই বংশেরই রক্ত৷ তাই রেহাই নেই তারও৷ এখনই পালাতে হবে তাকে৷ কিন্তু কোথায়? আতঙ্কে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে দেবলের৷ মাথা কাজ করছে না৷ দরজায় ঠক ঠক শব্দ৷ নগেনদার গলা৷ দৌড়ে গিয়ে দরজা খোলে দেবল৷ আতঙ্কে দু-চোখ বিস্ফারিত নগেনদার, ওরা আসছে৷ এসে যাবে এক্ষুনি৷ পালাও তুমি৷ তোমাকে ছাড়বে না ওরা….

    দেবলের হাত ধরে টানছে নগেনদা৷ ছুটে সিঁড়ি দিয়ে নামে দুজনে৷ জ্বলন্ত মানুষগুলো পৌঁছে গেছে গেটের কাছে৷ গেট ধরে ঝাঁকুনি দিচ্ছি সবাই মিলে৷ যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে যাবে ঝুরঝুরে ফটক৷ দেবলকে সঙ্গে নিয়ে নগেনদা ছুটছে বাড়ির পিছনদিকে৷ গেট ভেঙে পড়ার শব্দ৷ স্রোতের মতো ঢুকে আসছে জ্বলন্ত মানুষের দল৷ দেবলকেও দেখতে পেয়ে গেছে তারা৷ ছুটে আসছে এদিকেই৷ পিছিয়ে গেছে নগেনদা৷ হাঁফিয়ে গেছে৷

    পালাও পালাও, মাজারে যাও, হাসেম ফকিরের কাছে….

    কোনওরকমে কথা কটা বলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল নগেনদা৷ পাগলের মতো ছুটছে দেবল৷ লোকগুলো কাছে এসে গেছে৷ যে কোনও সময় ধরে ফেলবে তাকে৷ তারার আলোয় মাজারের খড়ের চালাটা দেখতে পেয়ে প্রাণপণে ছুটে ভিতরে ঢুকে কোনওরকমে বেদিটা আঁকড়ে লুটিয়ে পড়ল দেবল৷ জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার আগে এক মুহূর্তের জন্য শুধু দেখতে পেল দুহাত ওপরে তুলে, তার শরীরটাকে আড়াল করে এসে দাঁড়িয়েছেন এক ফকির৷ তাঁকে দেখে থমকে গেছে জ্বলন্ত মানুষের দলটা৷

    ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে নয়নপুরের জমিদার রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরীর বাড়ি৷ বাড়ির সব আসবাব, রামেন্দ্রনারায়ণের ছবি, গ্র্যান্ড ফাদার ক্লক সবই পুড়ে খাক হয়ে গেছে৷ শেষ মুহূর্তে পালাতে পেরেছিলেন বলে বেঁচে গেছেন দেবল চৌধুরী৷ তবে বাড়ির পুরোনো চাকর নগেন সূত্রধর পুড়ে মারা গেছেন৷

    খবরটা স্থানীয় সংবাদপত্রে বেরিয়েছিল৷ মানিকবাবু অবশ্য বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বদলাননি৷ তবে জমিদারবাড়ি মেরামত করে হাভেলির ধাঁচে রিসর্ট বানানোর পরিকল্পনা তাঁকে বাদ দিতে হয়েছে৷ দেবল তাঁকে দিয়ে শুধু একটিই শর্ত দিয়েছে৷ মাজার আর তার চারপাশের এককাঠা জমি সে বেচবে না৷ সেখানে হাসেম ফকিরের কবরের পাশে রামেন্দ্রনারায়ণের অত্যাচারে মৃত নয়নপুরের চাষীদের স্মৃতিতে একটা সুন্দর শ্বেতপাথরের ফলকও সে লাগিয়ে দিয়েছে৷

    সমাপ্ত

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়
    Next Article শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    Related Articles

    দীপান্বিতা রায়

    মহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়

    August 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }