Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তেরোর ত্রাস – দীপান্বিতা রায়

    দীপান্বিতা রায় এক পাতা গল্প171 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বামাপদবাবুর ছবি

    বামাপদবাবু মিতব্যয়ী মানুষ৷ বিয়ে-থা করেননি৷ আত্মীয়-স্বজন-পুষ্যি কেউ নেই৷

    দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর অঞ্চলে একটি দোতলা বাড়ির একতলায় ভাড়া থাকেন৷ একা মানুষ৷ মেসে থাকলেই সুবিধা হয়৷ কিন্তু বামাপদবাবু একটু নিরিবিলিতে নিজের মতো থাকতে ভালো-বাসেন৷ লোকের সঙ্গে গা-ঘেঁষাঘেঁষি তাঁর মোটেই পছন্দ নয়৷

    বামাপদবাবুর ফ্ল্যাটটা ছোট হলেও ছিমছাম৷ একটা বসার ঘর, এক টুকরো খাবার জায়গা, রান্নাঘর আর শোবার ঘর৷ ঢোকার মুখে একটা ছোট গ্রিলে ঘেরা বারান্দাও আছে৷ একা মানুষ৷ এর বেশি কিছু দরকারও হয় না৷ গত দশ বছর এই বাড়িতে আছেন বামাপদবাবু৷ এরমধ্যে শুধু একবার পর্দা বদলানো ছাড়া আর কোনও পরিবর্তন আশপাশের লোকের চোখে পড়েনি৷ তেমন কোনও গণ্ডগোল না হলে আগামী দশ বছরেও বিশেষ কিছু বদল হবে বলে বামাপদবাবু নিজে অন্তত মনে করেন না৷ তাঁর বাড়িওলারও একই মত৷ এমন নির্ঝঞ্ঝাট ভাড়াটে তো আর সহজে পাওয়া যায় না৷ বছর তিনেক অন্তর শুধু একবার ঘরের কলি ফিরিয়ে দিতে হয়৷ এ ছাড়া আর কোনও চাহিদা নেই৷ অথচ মাস পয়লা ভাড়াটি ঠিক আসে৷ দু-বছর অন্তর ভাড়া কিছুটা বাড়ে৷ তাতেও কখনও আপত্তি হয় না বামাপদবাবুর৷ সকালে বেরিয়ে যান, সন্ধেয় ফেরেন৷ তাই জল-কল নিয়েও কোনও সমস্যা নেই৷

    সরকারি অফিসে আপার ডিভিশন ক্লার্কের চাকরি করেন বামাপদবাবু৷ মাইনে-কড়ি খারাপ নয়৷ অন্তত একা মানুষের পক্ষে তো বেশ ভালোই৷ শখ-শৌখিনতাও মোটেই নেই৷ তাই মাসের শেষে হাতে কিছু জমেও৷ বামাপদবাবু নিজে মনে করেন সেটা জরুরি৷ কারণ বিপদে পড়লে কিংবা অসুস্থ হলে টাকাই তো তাঁর ভরসা৷ যদিও গত দশবছরে তাঁর একবারের জন্য মাথাব্যথাও হয়নি৷ তবু মানুষের শরীর তো৷ কখন খারাপ হবে বলা কী আর যায়!

    এমনিতে বামাপদবাবুর জীবন একদম নির্দিষ্ট রুটিনে বাঁধা৷ রান্নাবান্না আর ঘরের অন্যান্য কাজকর্মের জন্য একটি মহিলা আছে৷ সে সকালে এসে বেল বাজালে তাঁর দিন শুরু হয়৷ প্রথমেই এক কাপ চা, সঙ্গে খবরের কাগজ৷ তারপর দাড়ি কামিয়ে, স্নান সেরে অফিসের জন্য তৈরি হওয়া৷ ততক্ষণে ওই মেয়েটি দু-বেলার রান্না সেরে, ঘরদোর পরিষ্কার, কাচাকুচি করে নেয়৷ বামাপদবাবুর খাওয়া হয়ে গেলে বাসনপত্রও ধুয়ে ফেলে৷ তারপর রাতের খাবার ফ্রিজে তুলে, বাড়ি তালাবন্ধ করে বেরিয়ে পড়েন৷ অফিসে টিফিন সারেন দুটি মাখন টোস্ট, একটি ডিমসেদ্ধ আর একটি কলা দিয়ে৷ সেগুলো অফিসের বেয়ারাই এনে দেয়৷ পাঁচটা নাগাদ কাজকর্ম শেষ করে অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা বাড়ি৷ সন্ধেটা আর এক কাপ চা, সকালের বাসি খবরের কাগজ আর টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে দিব্যি কেটে যায়৷ দশটায় রাতের খাওয়া সেরে সোজা বিছানায়৷ বন্ধু-বান্ধব তাঁর নেই৷ আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না৷

    এহেন বামাপদবাবুর কিন্তু একটা অদ্ভুত অভ্যাস আছে৷ প্রায় প্রতি রবিবার সকালেই তিনি পার্ক স্ট্রিটের অকশন হাউসে যান৷ কলকাতা শহরটা ইদানীং অনেক বদলে গেছে৷ বড় বড় শপিং মল, উড়ালপুল, তিন থাকের আলো, ডিস্কো থেক, সব মিলিয়ে একটা বেশ ঝাঁ-চকচকে ব্যাপার৷ কিন্তু তার মধ্যেও সাহেবপাড়া পার্ক স্ট্রিটে টিমটিম করে টিঁকে আছে কয়েকটা নিলামঘর৷ পুরোনো জিনিসে ভর্তি৷ কিছু প্রায় নতুন কিছু আবার প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য৷ প্রতি রবিবার সকালে নিলাম হয়৷ সস্তায় পুরোনো জিনিস কিনতে লোকজন আসে৷ অনেকে আবার আসে পুরোনো শৌখিন জিনিসের সন্ধানে৷ বামাপবাবুর অবশ্য শৌখিনতার বালাই নেই৷ আর কাজের জিনিসের খোঁজে যে যান তাও নয়৷ আসলে নিলামঘরের পুরোনো জিনিস, রং আর ধুলোর গন্ধ, হাঁকডাক সব মিলিয়ে তাঁর বেশ লাগে৷ সিনেমা-থিয়েটার দেখতে তিনি ভালোবাসেন না৷ টিভিতে সিরিয়াল দেখেন না৷ বই পড়ার নেশাও নেই৷ রবিবার সকালে রুটি আর আলুচচচড়ি খেয়ে বেরিয়ে পড়েন৷ নিলামঘরে ঘুরঘুর করে, এক কাপ ভাঁড়ের চা খেয়ে দুপুর-দুপুর বাড়ি ফিরে যান৷

    তবে নিয়মিত না হলেও নিলামঘর থেকে বামাপদবাবু একদম কিছু কেনেননি তাও কিন্তু নয়৷ তাঁর বসার ঘরে সস্তার বেতের সোফাসেটের সঙ্গে রয়েছে একটি কারুকাজ করা কাঠের টেবিল৷ একটা পায়া খানিকটা ভাঙা ছিল বলে টেবিলটা বিক্রি হয়নি৷ বামাপদবাবু জলের দরে সেটিকে কিনে, পায়ার নীচে ইট বসিয়ে দিব্যি কাজ চালাচ্ছেন৷ তাঁর রান্নাঘরে একটু ভারী সুন্দর কারুকাজ করা চিনামাটির টি-পটও আছে৷ ঢাকনা হারিয়ে গেছে বলে সেটিও অনাদরে নিলামঘরে পড়েছিল৷ বামাপদবাবু নিয়ে এসেছেন এবং ঢাকনা সমস্যার সমাধানও করেছেন৷ পটে চা-পাতা আর গরম জল দিয়ে মুখটা একটা বাটি বসিয়ে ঢেকে দেন৷ তাহলেই আর চা তৈরিতে কোনও সমস্যা নেই৷ শুধু কাপে ঢালার সময় একটু সতর্ক থাকতে হয়৷

    অভ্যাসমতো সেই রবিবারেও নিলামঘরে এসেছিলেন বামাপদবাবু৷ বর্ষা শেষ হয়ে গেছে৷ কিন্তু আকাশটা মেঘলা মেঘলা৷ বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় একবার ভাবলেন ছাতাটা নিয়ে বেরোবেন৷ কিন্তু তারপরেই মনে হল, শরৎকালের বৃষ্টি তো৷ হলেও এক পশলা ঝরেই থেমে যাবে৷ সেটুকু সময় রাস্তায় থাকলে কোথাও দাঁড়িয়ে নিলেই হবে৷

    নিলামঘরে সেদিন ভিড় নেই তেমন৷ মাসের শেষ৷ তাই খদ্দেরও কম৷ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে টুকটাক জিনিসপত্র রাখা আছে৷ বামাপদবাবুকে অবশ্য দোকানের সবাই চেনে৷ তিনি যে কিছু কিনবেন না তাও সবাই জানে৷ তাই তাঁকে নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না৷ তিনি নিজের মনে ঘুরে ঘুরে জিনিসপত্র দেখতে থাকেন৷ নীলামের ডাক তখনও শুরু হয়নি৷ জিনিসপত্র গোছগাছ চলছে৷ এই সময় হঠাৎ বামাপদবাবুর চোখে পড়ল একটা ছবি৷ ব্রাউন রঙের ফ্রেমে বাঁধানো৷ বোঝাই যাচ্ছে পুরোনো ফ্রেমটাকে খুলে পালিশ করা হয়েছে৷ জলরঙে আঁকা ছবি৷ বেশ ভালো ওয়াশের কাজ৷ ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটা বড় গাছ, যার তলাটা বাঁধানো৷ সেখানে বসে আছে একটা বুড়ো মতো লোক৷ পোশাক-পরিচ্ছদ আর দেহের গঠনেই স্পষ্ট যে লোকটি বেশ হোমরা-চোমরা মোড়ল জাতীয়৷ পাশেই একটা থালায় অনেক মিষ্টি রাখা৷ বুড়োর ঠিক সামনে একটা ঢাকা দেওয়া মস্ত জালা৷ তার ওপর জল দেওয়ার ঘটি লাগানো হাতা৷ বুড়োর পায়ের কাছে একটা কুকুর কিছু খাচ্ছে৷ একটু দূরে দুটো বাচ্চা খেলছে আর দুজন খুব করুণ মুখে হ্যাংলার মতো মিষ্টির দিকে তাকিয়ে বসে আছে৷

    ছবিটা খুব মন দিয়ে দেখলেন বামাপদবাবু৷ তাঁর কেবলই মনে হচ্ছিল ছবিটার মধ্যে যেন একটা গল্প আছে৷ কিন্তু ছবির মানুষগুলো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে বলে গল্পটা পুরো জানা যাচ্ছে না৷ বামাপদবাবু বেশ বুঝতে পারছিলেন যে তাঁর খুব ইচ্ছে করছে গল্পটা পুরোটা জানতে৷ অথচ এটা যে বেশ বে-আক্কেলে ইচ্ছে তাও তিনি ভালোমতো জানেন৷ কারণ ছবির মানুষগুলো তো আর কোনওদিনই নড়েচড়ে গল্পের শেষটা তাঁকে বলে দেবে না৷ কিন্তু তবু নিজের ইচ্ছেটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না তিনি৷

    বামাপদবাবু খেয়াল করলেন ছবির গায়ে দামের টিকিট ঝুলছে৷ তার মানে আজ এটা নীলামে উঠবে৷ একটু পরেই ডাক শুরু হল৷ এই প্রথম বামাপদবাবু বেশ একটু দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করতে লাগলেন৷ তাঁর ভয় লাগছিল এই বুঝি ছবিটা কেউ কিনে নিল৷ এই বুঝি ছবিটার দাম সাংঘাতিক চড়ে গিয়ে নাগালের বাইরে চলে গেল৷ যদিও কেন এমন হচ্ছে সেটা তিনি নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না৷

    কিন্তু ছবিটা তেমন কোনও বিখ্যাত শিল্পীর আঁকা নয়৷ যিনি এঁকেছেন তাঁর আঁকার হাত অকল্পনীয় কিছু নয়৷ তাই ছবিটার প্রতি খদ্দেরদের কোনও আগ্রহ ছিল না৷ নীলামের শেষদিকে তাই কোনও ডাকাডাকি ছাড়াই বামাপদবাবু কড়কড়ে পাঁচশো টাকা দিয়ে ছবিটা কিনে ফেললেন৷ তারপর ট্যাক্সি করে বাড়ি ফিরতে হল৷ কারণ ততক্ষণে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নেমেছে৷ জলে ভিজে ছবিটা পাছে নষ্ট হয়ে যায়, সেই ভয়ে ট্যাক্সিতে উঠেই কাচ তুলে দিলেন বামাপদবাবু৷ বৃষ্টির জন্য রাস্তায় জ্যামও হয়েছিল৷ ট্যাক্সি ভাড়া লাগল প্রায় দেড়শো টাকা৷ সব মিলিয়ে সাড়ে ছশো টাকা সম্পূর্ণ বেহিসাবি খরচ৷ এমনিতে এরকম খরচ করার কথা বামাপদবাবু ভাবতেই পারেন না৷ কিন্তু আজ এতগুলো টাকা পকেট থেকে বেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ছবিটা যে শেষ পর্যন্ত বাড়ি আনতে পেরেছেন সেজন্য তাঁর মনটা বেশ খুশি খুশি লাগছিল৷

    ছবিটা বামাপদবাবু টাঙিয়েছেন তাঁর শোবার ঘরে৷ ঠিক বিছানার পাশের খালি দেওয়ালের মাঝখানে৷ ঘুম থেকে উঠেই তাই ছবিটার দিকে চোখ যায় তাঁর৷ ঘুমোতে যাওয়ার সময়ও চোখ এড়ানোর জো নেই৷ এমনকী মাঝরাতে ঘুম ভাঙলেও উল্টোদিকের জানলা দিয়ে এসে পড়া রাস্তার আলোয় দিব্যি চোখে পড়ে ছবিটা৷ বামাপদবাবু অবশ্য সারাদিনে অনেকবারই ছবিটা দেখেন৷ ইদানীং তো অফিস থেকে ফিরে অনেকক্ষণ ধরে খুঁটিয়ে ছবিটা দেখা তাঁর প্রায় অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে৷

    ছবিটা বাড়িতে নিয়ে আসার ঠিক এক সপ্তাহ পরে বামাপদবাবু একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন৷ একটা গ্রামের রাস্তা৷ দু-ধারে চাষের খেত৷ একটু দূরে দূরে কুঁড়েঘর দেখা যাচ্ছে৷ রাস্তা দিয়ে হনহন করে হেঁটে আসছেন একজন বুড়োমতো লোক৷ জামাকাপড় আর ভাবভঙ্গি দেখেই বোঝা যায় যে তিনি গ্রামের মোড়ল ধরনের কেউ৷ এমন সময় দেখা গেল উল্টোদিক থেকে চার-পাঁচজন ছেলে-মেয়ের একটা দল আসছে৷ নিজেদের মধ্যে হুটোপাটি করতে করতেই তারা আসছিল৷ কিন্তু বুড়োকে দেখেই থমকে গেল৷ আর বুড়োও অমনি নাকে কাপড় দিয়ে চেঁচাতে লাগলেন, অ্যাই ছোটোলোকের দল….খবরদার আমার কাছে আসবি না৷ তোদের হাওয়া গায়ে লাগলে এক্ষুনি আবার চান করতে হবে আমাকে৷ সরকার রাস্তা বানিয়ে দিয়েছে বলে সবাই তার ওপর দিয়ে চলবে নাকি! কতবার বলেছি তোরা পাকা রাস্তায় উঠবি না৷ কথা কানে যায় না তোদের?

    বুড়োর চিৎকারে ভয় পেয়ে বাচ্চাগুলো নেমে গেল রাস্তার পাশের নীচু জমিতে৷ আর বুড়োও তাদের দিকে একবার আগুন চোখে তাকিয়ে ফের হনহন করে হেঁটে কোথায় যেন চলে গেলেন৷

    ঘুম ভেঙে বামাপদবাবু বুঝতে পারলেন স্বপ্নটা তাঁর হারিয়ে যায়নি৷ দিব্যি স্পষ্ট মনে আছে৷ আর বারবারই মনে হচ্ছে ওই বুড়ো লোকটা যেন চেনা চেনা৷ কোথায় যেন দেখেছেন৷ রহস্যভেদ হল সন্ধেবেলা৷ অফিস থেকে ফিরে অভ্যাসমতো ছবিটা খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে বামাপদবাবু বুঝতে পারলেন স্বপ্নে দেখা বুড়ো লোকটার সঙ্গে ছবির বুড়োর বেশ মিল আছে৷

    স্বপ্নটা কিন্তু বামাপদবাবুর পিছু ছাড়ল না৷ দু-দিন পরেই আবার ঘুমের মধ্যে সেই গ্রামটাকে দেখতে পেলেন তিনি৷ এবার স্বপ্নটা একটু বড়৷ বামাপদবাবু বুঝতে পারলেন দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে বৃষ্টি হয়নি৷ খরা চলছে৷ গ্রামের লোকেরা তাই একটা পুজোর আয়োজন করতে চাইছে৷ একটা আটচালার নীচে অনেকে বসে আলোচনা করছে৷ ওই বুড়োটা গ্রামের মোড়ল৷ তিনি বসেছেন মাঝখানে৷ ওদের থেকে একটু দূরে মাটিতে উবু হয়ে বসে আছে ছেঁড়া-ময়লা জামাকাপড় পরা কয়েকটা লোক৷ দেখেই বোঝা যায় তারা হতদরিদ্র নীচু জাতের মানুষ৷ তাদের পিঠের কাছে দাঁড়িয়ে আছে সেই বাচ্চা ছেলে-মেয়েগুলো৷

    সেদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বামাপদবাবুর মনে হল ছবিটা যেন একটু বড় হয়ে গেছে৷ কিন্তু সে তো আর সম্ভব নয়৷ তাই ব্যাপারটাকে মনের ভুল বলেই উড়িয়ে দিলেন তিনি৷

    স্বপ্নের গল্পটা এবার বামাপদবাবুকে ক্রমশ পেয়ে বসতে লাগল৷ তিনি নিজে গ্রামের ছেলে এবং নীচু জাতের৷ শহরে এখন আর জাত-পাত নিয়ে কেউ তেমন মাথা ঘামায় না৷ কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে নীচু জাতের মানুষকে অচ্ছুৎ করে রাখার প্রবণতা আছে৷ ছোটবেলায় তাঁকেও এজন্য অনেক অপমান, অবহেলা সহ্য করতে হয়েছে৷ অনেক কষ্টে নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা শিখে বড় হয়েছেন৷ তাই যেসব উচ্চবর্ণের মানুষের মধ্যে এরকম মানসিকতা থাকে তাদের প্রতি বামাপদবাবুর ভিতরে ভিতরে একটা রাগ আছে৷ স্বপ্নের বুড়ো কী করে জানার তাই তাঁর ভারী আগ্রহ৷

    ইদানীং রোজই স্বপ্ন দেখছেন বামাপদবাবু৷ স্বপ্নের ভিতর গল্পও এগোচ্ছে প্রতিদিন৷ গ্রামের লোকেরা পুজোর আয়োজন করে ফেলেছে৷ পুজো হবে৷ যজ্ঞ হবে৷ কিন্তু পুরোহিত বলেছে তারপর পুজোর প্রসাদী মিষ্টি আর জল নিয়ে রাস্তার মোড়ে বসতে হবে মোড়লকে৷ সারাদিন উপোসী থেকে তিনি তৃষ্ণার্ত মানুষকে জলদান করবেন৷ তবেই বৃষ্টি নামবে৷

    এদিকে বামাপদবাবুর রোজকার রুটিনেও ইদানীং বেশ পরিবর্তন হয়েছে৷ সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বপ্নের সঙ্গে মিলিয়ে ছবিটাকে খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে আজকাল প্রায় প্রতিদিনই তাঁর অফিসে লেট হয়ে যায়৷ কাজেও তেমন মন দিতে পারেন না৷ সারাক্ষণই মনে হয়, কতক্ষণে বাড়ি ফিরে আবার ছবিটা দেখবেন৷ ছবির আয়তনও রোজ একটু একটু করে বাড়ছে৷ ব্যাপারটা যে কাজের মেয়ে বাসন্তীরও নজরে পড়েছে সেটা সেদিন বুঝলেন বামাপদবাবু৷ ঘর মুছতে মুছতে বাসন্তী হঠাৎ বলল, ছবিটা কেমন যেন বড় বড় ঠেকছে না বাবু…….

    কই না তো৷ এরকমই তো ছিল….

    তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন বামাপদবাবু৷ কিন্তু তাঁর নিজের গলাটা নিজের কানেই কেমন যেন অস্বাভাবিক শোনাল৷ বাসন্তীও কেমন যেন অবাক হয়ে তাঁর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল৷

    সেদিনই অফিসে তাঁর সহকর্মী অতুল হঠাৎ ইয়ার্কির সুরে বলল, কী ব্যাপার বামাপদ, আজকাল মুখে কোনও বিদেশি ক্রিম-ট্রিম লাগাচ্ছ নাকি হে? বয়স তো মনে হচ্ছে কুড়ি বছর কমে গেছে৷ চুলেও তো দেখছি রং করে ফেলেছ৷

    বাড়ি ফিরে দাড়ি কামানোর আয়নায় নিজেকে খুঁটিয়ে দেখলেন বামাপদবাবু৷ সত্যিই বয়স কমে গেছে তাঁর৷ কপালের সামনের দিকের চুল বেশ খানিকটা উঠে গেছিল৷ সেটা আবার ফিরে এসেছে৷ পাকা চুল নেই একটিও৷ কপালের ভাঁজ-টাঁজ উধাও৷ সেদিন রাতে খাওয়া-দাওয়া সেরে ছবিটাকে খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে বামাপদবাবু বুঝলেন ছবিটা শুধু বড়ই হয়নি, বদলেও গেছে খানিকটা৷ বুড়ো লোকটা যে গাছের নীচে বসে আছে, তার পিছনে এখন বেশ খানিকটা খোলা জায়গা দেখা যাচ্ছে৷ হালকা হালকা ঝোপঝাড়ও রয়েছে৷

    …………………

    বামাপদবাবু অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন৷ যাওয়া সম্ভব নয়৷ তাঁর টেবিলের ড্রয়ারে প্রায় হলদে হয়ে যাওয়া একটা ছবি আছে৷ ক্লাস টেনের ফেয়ারওয়েলের ছবি৷ সেখানে আরও জনা পঁচিশেক ছেলের সঙ্গে সদ্য গোঁফ ওঠা তিনিও আছেন এক কোণে৷ তাঁর এখনকার চেহারাটা ঠিক ওরকম৷ শার্টের হাতা গুটিয়ে এখনও কোনওরকমে পরা চলছে৷ কিন্তু বয়স আর একটু কমলে লুকিয়ে বেরিয়ে পাড়ার দোকান থেকে বাচ্চাদের জামা-কাপড় কিনে আনতে হবে৷ বেড়াতে যাচ্ছেন বলে আপাতত বাসন্তীকে আসতে বারণ করেছেন৷ সে একেবারে মাস পয়লা আসবে মাইনে নিতে৷ নিজেই কোনওরকমে ভাতে-ভাত ফুটিয়ে খাচ্ছেন৷

    ছবির গল্পটা প্রতি রাতের স্বপ্নেই এখন দ্রুত এগোচ্ছে৷ মোড়লের মোটেই ইচ্ছে নেই গরমের মধ্যে উপোস করে জল-মিষ্টি বিলি করার৷ কিন্তু পুরোহিত বলেছে আর কেউ কাজটা করলে ফল হবে না৷ তাই গ্রামের লোকের চাপে তাঁকে রাজি হতে হয়েছে৷ এদিকে বাচ্চাগুলো ভারী খুশি৷ তারা ঠিক করে ফেলেছে ঘণ্টায় ঘণ্টায় গিয়ে জল-মিষ্টি চাইবে৷ পুরোহিত তো বলেই দিয়েছে সেদিন কাউকে ফেরানো চলবে না৷

    গল্পের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছবির আয়তনও ক্রমশ বাড়ছে৷ ছবিটা এখন প্রায় গোটা দেওয়ালটাই ঢেকে ফেলেছে৷ মোড়লের ধুতির ভাঁজ, ঠোঁটের কোণে তাচ্ছ্যিলের হাসি, দূরের বাচ্চাটার চোখের কোলে জল সবই এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে৷ আর তাতেই যেন ছবিটার আকর্ষণও অনেক বেড়ে গেছে৷ আজকাল কোনওরকমে স্নান-খাওয়া সেরে সারাদিনই ছবিটার সামনে বসে থাকেন বামাপদবাবু৷

    অবশেষে পুরোহিতের নির্দেশ মেনে সংক্রান্তির দিন পুজো-পাঠ-যজ্ঞের পর গাছতলায় জল-মিষ্টি নিয়ে বসলেন মোড়ল৷ গ্রামের লোকজন, পথচারী অনেকেই এসে জল-মিষ্টি খেল৷ নীচু জাতের বাচ্চাগুলো কিন্তু ঘুরঘুর করছে আশপাশেই আরা মাঝে মাঝেই লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে মিষ্টিগুলোর দিকে৷ জায়গাটা একটু ফাঁকা হতে, সাহস করে গুটিগুটি এগিয়ে এল তারা৷ তাদের আসতে দেখেই মুখটা শক্ত হয়ে গেল মোড়লের৷ তারপর কীরকম যেন একটা বিচ্ছিরি করে বলল, কী রে মিষ্টি খাবি? আয় আয় এদিকে আয়….

    বাচ্চাগুলো এগিয়ে আসতেই থালা থেকে মিষ্টি তুলে নিল মোড়ল৷ তারপর ছোট ছোট বাড়ানো হাতগুলোর বদলে মিষ্টিগুলো পায়ের কাছে বসে থাকা কুকুরটার মুখের সামনে ফেলে দিয়ে ভাঙা দাঁতে নিষ্ঠুর হেসে বলল, কী ভেবেছিলি, আমার হাত থেকে মিষ্টি খাবি? পুরোহিত বলেছে বলে তোদেরও জল দেব আমি! ছোটজাতের ছোঁড়াদের শখ কত! তোদের জল দিলে পুণ্যি হয় না রে, পাপ হয় পাপ….

    মোড়লের কথাগুলো শুনতে শুনতে ঘুমের মধ্যেই যেন মাথায় আগুন ধরে গেল বামাপদবাবুর৷ মাথার পাশে রাখা কাচের কাগজচাপাটা তুলে সোজা ছুড়লেন মোড়লের মাথা লক্ষ্য করে৷

    মাস পয়লা বেতন নিতে এসে বাসন্তীর অনেক ডাকাডাকিতেও দরজা খুললেন না বামাপদবাবু৷ শেষ পর্যন্ত পুলিশ ডাকলেন বাড়িওলা৷ কিন্তু দরজা ভেঙে দেখা গেল ঘরে কেউ নেই৷ শুধু শোবার ঘরের দেওয়াল জোড়া একটা মস্ত ছবি৷ তাতে একটা বটগাছের নীচে উপুড় হয়ে পড়ে আছে একটা বুড়ো লোক৷ মাথা থেকে রক্ত পড়ছে৷ তার সামনে রাখা থালা থেকে মিষ্টি তুলে খাচ্ছে কতগুলো বাচ্চা ছেলে-মেয়ে৷

    বাসন্তী বলার চেষ্টা করছিল যে এই ছবিটা নাকি আগে অনেক ছোট ছিল আর দেখতেও অন্যরকম ছিল৷ কিন্তু তার কথায় কেউ পাত্তা দেয়নি৷ বামাপদবাবু কোথায় গেলেন? কোনও চিঠিপত্র রেখে গেছেন কিনা, এসব খুঁজতেই ব্যস্ত ছিল সবাই৷ কেউ খেয়ালও করেনি ছবিতে বুড়োর পিছনে, ঝোপের পাশে একটা বাচ্চা ছেলে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ তার রাগি মুখটার সঙ্গে, টেবিলের ওপর বামাপদবাবুর পারিবারিক ছবি, যেখানে বাবার হাঁটুতে হাত রেখে দশ বছরের বামাপদবাবু বসে আছেন তার চেহারার অদ্ভুত মিল৷

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়
    Next Article শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    Related Articles

    দীপান্বিতা রায়

    মহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়

    August 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }