Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তেরোর ত্রাস – দীপান্বিতা রায়

    দীপান্বিতা রায় এক পাতা গল্প171 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাদামি চোখ

    মাথাটা আজ সকাল থেকেই ভীষণ রকম গরম হয়ে আছে মহিম সেনের৷ একটা

    সামান্য কাজ যদি দিনের পর দিন না হয়, তাহলে মেজাজ তো গরম হবেই৷ এমনিতেও মহিমবাবু যে খুব একটা মাথা ঠান্ডা মানুষ তা মোটেই নয়৷ তার ওপর আবার ভয়ানক জেদি৷ কিছু একটা যদি মনে করেছেন করবেন তো সেটা করেই ছাড়বেন৷ কেউ যদি ভালো-মন্দ কিছু বোঝায়ও তাহলেও তাতে কান দেবেন না মোটেই৷ মহিমবাবুর ছেলে-মেয়েরা এজন্য রীতিমতো তটস্থ থাকে৷ গিন্নিও তাঁর মেজাজকে ভয় পান তবে মাঝে-সাঝে বিরক্ত হয়ে চার-কথা শুনিয়েও দেন৷ কিন্তু মুশকিল হচ্ছে এই মুকুটপুরের লোকজন তো আর তাঁর রাগ-ঝালের সঙ্গে পরিচিত নয়৷ তাই তারা ভয় পাচ্ছে না মোটেই৷ আর তাতেই রাগটা আরও বেড়ে যাচ্ছে মহিম সেনের৷

    অবশ্য মুকুটপুরের লোকজনরা যেমন তাঁকে চেনে না, তেমনি মহিমবাবু যে মুকুটপুর জায়গাটা খুব ভালো চেনেন তেমনটা নয়৷ চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর, তাঁর মামা যতীন গুপ্ত জমি কিনে বাড়ি করেছিলেন মুকুটপুরে৷ মহিমবাবুর বাবা ছিলেন বর্ধমানের কাছে একটি গ্রামের স্কুলের হেডমাস্টার৷ মামা সরকারি দফতরে ভালো চাকরি করতেন আর থাকতেনও বর্ধমান শহরে৷ শালা-ভগ্নিপতিতে ভারী ভাব-সাব ছিল৷ বিশেষ করে সন্তানহীন মামা-মামি মহিমকে খুবই স্নেহ করতেন৷ মহিমবাবু সেটা জানতেনও ভালোমতোই৷ ছোটবেলা থেকেই তাঁর বুদ্ধিশুদ্ধি ছিল বেশ পাকা৷ মায়ের চোখ এড়িয়ে ভালোমানুষ মামিকে বোকা বানিয়ে প্রায়ই টাকা-পয়সা আদায় করে নিতেন৷ এমনকি মামার পকেট থেকেও যে দু-দশ টাকা সরাননি তাও নয়৷ সেসময় স্কুলে ছুটি-ছাটা থাকলেই মহিমবাবু এসে মামার বাড়িতে থাকতেন৷

    তবে পড়াশোনায় তাঁর কোনওদিনই তেমন মতি ছিল না৷ স্কুল পাশ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পরেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে কলকাতায় চলে আসেন৷ প্রথমে এক বন্ধুর বাবার ব্যবসায় খাটা-খাটনি করতেন৷ তারপর অল্প টাকা-পয়সা জোগাড় করে সিমেন্ট-বালি সাপ্লাইয়ের কারবার শুরু করেন৷ পড়াশোনায় ভালো না হলেও তাঁর ব্যবসাবুদ্ধি চিরকালই পরিষ্কার৷ তাই সাপ্লায়ার থেকে কন্ট্রাক্টর হয়ে যেতে খুব বেশি দেরি হয়নি৷ এখন মহিমবাবুর বড় কোম্পানি৷ অন্তত পঞ্চাশ-ষাট জন লোক তাঁর কাছে কাজ করে৷ কলকাতা এবং তার আশপাশে বড় বড় বাড়ি-আবাসন তৈরি করেন তিনি৷

    তবে কলকাতায় আসার পর বর্ধমানের বাড়ির সঙ্গে আর বিশেষ যোগাযোগ রাখেননি তিনি৷ ইস্কুল মাস্টার বাবার শাসন তাঁর পছন্দ হত না মোটেই৷ স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় থেকেই মামার সঙ্গেও যোগাযোগ কমে গেছিল৷ তারপর তো মা-বাবা দুজনে মারা যাওয়ার পর যোগাযোগের আর প্রশ্নও ওঠেনি৷ মামা যে রিটায়ার করে মুকুটপুরে বাড়ি করেছেন, সেটা তিনি জানতেন৷ তাঁর ঢাকুরিয়ার বাড়ি থেকে মুকুটপুর আসতে একঘণ্টার বেশি সময়ও লাগে না৷ তবু কাজের জন্য হিল্লি-দিল্লি ঘুরে বেড়ালেও মামার কাছে আসা হয়নি কোনওদিন৷

    কিন্তু মহিমবাবু মামা-মামিকে ভুলে গেলেও তাঁরা যে আদরের ভাগ্নেটিকে ভোলেননি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল সপ্তাহখানেক আগে৷ মহিমবাবু তখন অফিসের কাজে ব্যস্ত৷ একজন অচেনা লোক এলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে৷ কাজের সময় অপরিচিত লোকের হুটহাট আসা তিনি খুব একটা পছন্দ করেন না৷ কিন্তু ভদ্রলোক জরুরি দরকার বলাতে ঘরে এনে বসিয়েছিলেন৷ দু-চারটে কথা বলার পরে তো মহিমবাবুর চক্ষুস্থির৷ জানা গেল এই ভদ্রলোক হলেন তাঁর মামা যতীন গুপ্তের উকিল৷ মামি মারা গেছেন বছরখানেক আগে৷ মামাও মারা গেছেন সপ্তাহখানেক আগে৷ এই ভদ্রলোক মহিমবাবুকে জানাতে এসেছেন যে যতীন গুপ্ত তাঁর মুকুটপুরের বাড়িটি ভাগ্নে মহিম সেনগুপ্তের নামে লিখে দিয়ে গেছেন৷ মামা মারা গেছেন শুনে মহিমবাবু প্রথমটায় ভেবেছিলেন, নিশ্চয় শ্রাদ্ধ-শান্তির ব্যবস্থা তাঁকেই করতে হবে৷ এমন একটা উটকো ঝামেলা ঘাড়ে চাপল ভেবে বিরক্তও হচ্ছিলেন৷ কিন্তু সম্পত্তি প্রাপ্তি হবে জেনে মনে মনে একটু খুশিই হয়ে উঠলেন৷ যদিও মুখে সেটা প্রকাশ করলেন না৷ বরং মামার মৃত্যুসংবাদ শুনে যেন তিনি যারপরনাই শোকাহত হয়েছেন তেমনটাই হাবে-ভাবে বোঝাতে চাইলেন৷ উকিল ভদ্রলোক অবশ্য ঝানু-পেশাদার মানুষ৷ তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন শ্রাদ্ধ-শান্তির কোনও দায়িত্ব মহিমবাবুকে নিতে হবে না৷ যতীনবাবু বেঁচে থাকতেই সে বিষয়ে সব ব্যবস্থা কাছের একটি মঠের সঙ্গে করে রেখেছিলেন৷ তারাই যা করার করেছে৷

    মামার জমানো টাকা-পয়সাও তো কিছু ছিল নিশ্চয়৷ ভালো চাকরি করতেন, মোটা পেনশনও ছিল…..

    টাকা-পয়সা উনি বাসন্তীর অনাথ আশ্রমে দান করে গেছেন৷ আপনার জন্য শুধু বাড়িটাই আছে৷ আমি কাগজ-পত্র বুঝিয়ে, চাবি দিয়ে চলে যাচ্ছি৷ আপনি যে কোনও দিন গিয়ে বাড়ির দখল নিতে পারেন৷

    উকিলের কথা শুনে আপশোশ হল মহিমবাবুর৷ মামা মুকুটপুরে আসার পর যদি একটু খেয়াল করে যোগাযোগ রাখতেন, তাহলে টাকাগুলো এমন পাঁচ ভূতে লুটেপুটে খেতে পারত না৷ রিটায়ার করার পর বানিয়েছেন৷ বাড়ি আর কত বড় হবে! নির্ঘাত একতলা, সামনে-পিছনে বড়জোর একচিলতে বাগান৷

    তবু সম্পত্তি বলে কথা৷ বিশেষ করে মহিমবাবুর মতো ব্যবসায়ী মানুষের কাছে সম্পত্তি মানে তো লক্ষ্মী৷ তাই পরের সপ্তাহেই একদিন সকাল বেলা গাড়ি নিয়ে, ঠিকানা খুঁজে তিনি হাজির হলেন মুকুটপুরে৷ কিন্তু বাড়ি দেখে তো মহিমবাবুর চক্ষুস্থির৷ অন্তত দশ-বারো কাঠা জমির মাঝখানে দোতলা বাড়ি৷ চারপাশে বিশাল বাগান৷ আম-জাম-জামরুল থেকে শুরু করে হরেক রকম ফলের গাছে ভর্তি৷ বাড়ির ঠিক গায়েই একখানা মস্ত আমগাছ৷ এই চৈত্রের শেষে সেই গাছ কুশি কুশি আমে ভর্তি৷

    কলকাতার কাছে এতখানি জমি বিনা পয়সায় পাওয়া গেছে ভেবেই মহিমবাবুর প্রাণ একেবারে আনন্দে নেচে উঠল৷ তিনি মনে মনে হিসেব করে দেখলেন দুটো টাওয়ার করে অন্তত বত্রিশটা ফ্ল্যাটের আবাসন অনায়াসে তৈরি করা যাবে৷ তার থেকে যে কত টাকা তাঁর লাভ হবে সেটাও হিসেব করেও রীতিমতো পুলকিত হলেন৷

    মামার বাড়ির একতলার ঘরে বসে মহিমবাবু যখন এসব হিসেবপত্র করছেন, সেই সময় পার্বতী এসে তাঁর জন্য একগ্লাস ডাবের জল দিয়ে গেল৷

    খুব মিষ্টি জল বাবু৷ আমাদের বাগানের ডাবের জল৷ কাকাবাবু নিজে হাতে গাছ লাগায়ছিলেন…..

    পার্বতী হল কানাইয়ের বউ৷ বাড়িতে ঢোকার সময়ই এদের দুজনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে মহিমবাবুর৷ কথাবার্তায় বুঝে গেছেন কানাই ছিল মামার ম্যান-ফ্রাইডে৷ নামে মালি হলেও বাগান এবং বাইরের সব কাজই সে করত৷ আর ঘরের কাজ করত তার বউ পার্বতী৷ মামা মারা যাওয়ার পরও বাড়িটাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখে এরা দুজনেই৷ ডাবের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে মহিমবাবু ভাবলেন কনস্ট্রাকশনের কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তো তাঁর নিজের লোকজন চলে আসবে৷ তার আগে এ-দুটোকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে ভাগিয়ে দিতে হবে৷ মনের ভাব অবশ্য মুখে প্রকাশ পেল না৷ বরং হে হে করে হেসে বললেন, মামার বাগানে তো মেলা ফলের গাছ দেখছি৷ শিয়ালদা মার্কেটে ফল সাপ্লাই যেত নাকি?

    কথাটা শুনেই একহাত জিভ কাটল পার্বতী, না না, সেকী কথা! ফল বিক্কিরির কথা কাকাবাবুকে কে বইলবে গো৷ সারা পাড়ার লোককে ঝুড়ি ভরে ভরে ফল পাঠাতেন৷ বাড়িতে কেউ এল এক বুঁচকি ফল সাথে নিয়ে গেল৷ আর ফলের কি কোনও কমতি আছে! আম, জাম, জামরুল, পেয়ারা, কীসের গাছ নেই বলেন দিকিনি৷ পাড়ার ছেলেপুলেরা খায়৷ পাখি আর বাদুড়েও কত খেয়ে লষ্ট করে৷ ওসবে কাকাবাবু ভুরুক্ষেপ করতেন না৷ দেবতার মতো মানুষ কিনা৷

    এসব হল গিয়ে প্রথম দিনের কথা৷ তারপর আরও বেশ কয়েকবার মহিমবাবু এসেছেন৷ সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে এসেছেন৷ মাপ-জোক সব করা হয়েছে৷ কী যে হচ্ছে সেটা কানাই কিংবা পার্বতী বোঝেনি কিছুই৷ মহিমবাবুও ওদের কিছু বলেননি৷ কিন্তু কথাটা শেষ পর্যন্ত খোলসা করতে হল দিন পাঁচেক আগে৷ প্ল্যান হয়ে গেছে৷ কাজ শুরু হবে এবার৷ তার আগে গাছগুলো কেটে জমিটা পরিষ্কার করা দরকার৷ তাই কানাইকে বলেছিলেন একটা লোক ডেকে আনতে৷ গাছগুলো কেটে ফেলবে৷ তারপর লরিতে চাপিয়ে ডালা পালা দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে যাবেন৷ কথাটা শুনেই ভয়ানক চমকে উঠল কানাই, সে কী গো! গাছ কাটবেন কী গো! ফলন্ত গাছ৷ কাটলে পাপ লাগবে যে গো….

    আর্তনাদ করে উঠল পার্বতীও, ছেলেপুলে নিয়ে ঘর করি বাবু৷ এ যে বড় অলক্ষণে কাণ্ড….ফলন্ত গাছে হাত দিতে নাই….

    পাপ লাগলে আমার লাগবে৷ তোমাদের ও নিয়ে ভাবার দরকার নেই৷ যা করতে বলেছি করবে৷ গাছ কাটার জন্য লোক ধরে নিয়ে আসবে৷ কাল সকালে আমি আসব৷ টাকা-পয়সা কী লাগবে কথা বলে ঠিক করে নেব৷ ওসব তোমার বলার দরকার নেই৷

    কানাই তখনও গাঁইগুঁই করছে দেখে এবার আসল রূপ বেরোয় মহিমবাবুর৷ কড়া গলায় বলেন, মামার জমানা কিন্তু আর নেই৷ এখন যদি এখানে কাজ করতে হয়, তাহলে আমার কথা শুনেই কাজ করতে হবে আর নাহলে নিজের পথ দেখতে হবে৷

    গরিব মানুষ৷ কাজ চলে গেলে খাবে কী৷ কানাইয়ের তাই সাহস হয়নি মহিমবাবুর কথা অমান্য করার৷ হবে না, জানতেন মহিমবাবু৷ পরদিন সকালে এসে দেখলেন গাছ কাটার জন্য বিশ্বনাথ নামে একটা শক্তপোক্ত লোককে ধরে এনেছে কানাই৷ বিশ্বনাথের সঙ্গে কথাবার্তা হল৷ মহিমবাবু ভেবে দেখলেন, পাঁচিলের গায়ে যেসব গাছ, সেগুলো এখনই কাটার দরকার নেই৷ পুরোদমে কাজ শুরু হলে যখন যেরকম দরকার কাটলেই হবে৷ আজকাল আবার লোকজন আবাসনের ভিতর দু-চারটে গাছ থাকলে খুশি হয়৷ তাই তখন ভেবে-চিন্তে কয়েকখানা রেখে দিলেও হবে৷ কিন্তু বাড়ির আশপাশটা আগে পরিষ্কার করা দরকার৷ কাজ শুরু করতে হলে প্রথমেই বাড়িখানা ভেঙে ফেলতে হবে৷ ভাঙা বাড়ির রাবিশ জমা থাকবে৷ তা ছাড়া ইট, বালি, স্টোন চিপস নামবে৷ তারজন্যও জায়গা দরকার৷ মহিমবাবু বিশ্বনাথকে হুকুম দিলেন, বাড়ির পাশের মস্ত আমগাছটা আগে কেটে ফেলতে৷ তারপর তার চারধারের গাছগুলোও কেটে জায়গাটা পরিষ্কার করতে৷ পয়সা-কড়ি ঠিকঠাক করে চলে আসছেন, দেখেন গেটের মুখে হাতজোড় করে কানাই দাঁড়িয়ে, বাবু, ওই গাছটা এখনই কাটবেন না৷ গাছ ভরে আম এসেছে৷ ফল শেষ হোক তারপর নাহয় কেটে ফ্যালেন৷

    ফল শেষ হওয়া মানে তো মে মাসের শেষ৷ অতদিন আমার কাজ আটকে থাকবে? তুমি কি পাগল নাকি?

    কিন্তু কানাই ছাড়বার পাত্র নয়৷ ফের কাঁদুনি গাইতে লাগল, ও গাছখানা আপনের মামা-মামি দুজনেরই বড় আদরের ছেলে৷ পরথম আমখানা দেবতাকে উচ্ছুগ্গ করে তবে মুখে দিতেন ওনারা৷ কাকাবাবুর কাছে শুনেছি, এবাড়ি যার থেকে কিনেছিলেন, তেনার মায়ের নিজের হাতের লাগানো আমগাছ৷ গাছ ভরে মিষ্টি আম হয়৷ পাড়ার সব ছেলে-পুলেরা আসে…..

    পাড়ার ছেলেপুলেদের আম খাওয়ানোর জন্য আমার প্রজেক্ট আটকে থাকবে না কানাই৷ অন্যায় আবদার কোরো না৷ নিজের কাজে যাও৷ কাল সকালে গাছ কাটার কাজ শুরু হবে৷ আমি একটু বেলায় আসব৷

    কিন্তু বেলায় আসব বললেও পরদিন সকাল নটা নাগাদ কানাইয়ের জরুরি ফোন পেয়ে হুড়মুড় করে আসতে হল মহিমবাবুকে৷ এসে দেখেন কেলেঙ্কারি কাণ্ড৷ গাছ কাটবে বলে সঙ্গে আর গোটা দু-এক লোক নিয়ে বিশ্বনাথ ঠিক সময়েই এসে হাজির হয়েছিল৷ কিন্তু গাছের গুঁড়িতে কুড়ুলের এক ঘা বসাতেই, সেই কুড়ুল ছিটকে এসে লেগেছে তার পায়ে৷ রক্তারক্তি কাণ্ড৷ সবাই মিলে ধরাধরি করে কোনওরকমে বিশ্বনাথকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে৷

    এরকম আনাড়ি লোককে গাছ কাটার জন্য ধরে এনেছে বলে মনে মনে কানাইয়ের ওপর সাংঘাতিক চটলেন মহিমবাবু৷ কিন্তু তাঁর বাড়ির কাজ করতে গিয়েই আহত হয়েছে লোকটা৷ তাই বাধ্য হয়েই বিশ্বনাথকে দেখতে গেলেন হাসপাতালে৷ পায়ে একখানা মস্ত ব্যান্ডেজ বেঁধে সে শুয়ে আছে বেডে৷ মহিমবাবু হালকা ধমকের সুরেই বললেন, কীরকম অমনোযোগী লোক হে তুমি৷ একটু সাবধানে কাজ করবে তো৷ আর একটু হলেই তো পা-খানা গেছিল৷

    বিশ্বনাথ কাঁদো কাঁদো হয়ে হাতজোড় করে বলল, বাবু আমরা কাঠুরের বংশ৷ বিশ বচ্ছর ধরে গাছ কাটছি৷ কোনওদিন আমার হাত থেকে কুডুল ফস্কায়নি৷ কিন্তু আজ আমার মনে হল কে যেন আমার হাত-দুখান ধরে ঠেলে দিল৷ দ্যাখ না দ্যাখ কুড়ুল ছিটকে এসে পায়ে লাগল….

    যত্ত সব আজেবাজে কথা৷ কাজ না করে পয়সা আদায়ের মতলব৷ মনে মনে ভাবলেন মহিমবাবু৷ বিশ্বনাথকে দু-চারটে শুকনো সান্ত্বনাবাক্য বলে বাগানবাড়িতে ফিরেই কানাইকে হুকুম দিলেন গাছ কাটার অন্য লোক ডেকে আনতে৷

    কানাই চলে গেছে লোক ডাকতে৷ পার্বতী নিজের ঘরে কাজে ব্যস্ত৷ একতলার বারান্দায় চেয়ারে বসে হিসেবের নোটবুকটা উল্টেপাল্টে দেখছেন মহিমবাবু৷ হঠাৎ মনে হল কে যেন তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে৷ সোজা হয়ে বসে চারপাশটা দেখলেন ভালো করে৷ কোথাও কেউ নেই৷ বারান্দা থেকে আমগাছের গুঁড়িটা দেখা যাচ্ছে৷ বিশ্বনাথের কুড়ুলের ঘায়ে এক জায়গায় একটুখানি চোকলা উঠে গেছে৷ তার নীচে লাল লাল দাগ৷ রক্তের ছিটে লেগেছিল বোধহয়৷ কিন্তু ওপরের দিকে চোখের মতো ওটা কী? চমকে উঠেই নিজের মনে হেসে ফেললেন মহিমবাবু৷ পুরোনো গাছ৷ গুঁড়ির গায়ে এমনভাবে দাগ পড়েছে যেন মনে হচ্ছে দুখানা চোখ তাঁর দিকে চেয়ে রয়েছে৷

    হিসেবের খাতাটা আবার খুলে বসতে যাচ্ছেন এমন সময় কানাই এল লোক নিয়ে৷ বছর চল্লিশ বয়স৷ নাম বলল হাসেম আলি৷ এবার সতর্ক হয়েছেন মহিমবাবু৷ ভালো করে জেনে নিলেন গাছ কাটার অভ্যাস আছে কিনা৷ হাসেম অবশ্য জানাল যে গাছ কাটাই তার পেশা৷ গত কুড়ি-বাইশ বছর ধরে এই কাজই সে করে আসছে৷ খানিকটা নিশ্চিন্ত হয়ে তাকে সব বুঝিয়ে পরদিন আসতে বললেন মহিমবাবু৷ কানাইকে বলে দিলেন ঠিকঠাক দেখাশোনা করতে৷ কারণ পরের দিন তিনি নিজে আসতে পারবেন না৷ যাদবপুরের যে ফ্ল্যাটবাড়িটা তৈরি হচ্ছে সেখানে ছাদ ঢালাই আছে৷

    ঢালাই মানেই ঘড়ঘড় করে মিক্সার চলছে৷ চারদিকে কুলি-কামিনদের ছোটাছুটি৷ কানাইয়ের ফোনটা তাই শুনতেই পাননি মহিমবাবু৷ একটু পরে পরপর চারখানা মিসড কল দেখে ফোন করতেই কপালে গভীর ভাঁজ পড়ল তাঁর৷ হাসেম আলির অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে৷ ভারী অদ্ভুত অ্যাক্সিডেন্ট৷ সকালে গাছ কাটতে শুরু করতেই নাকি ওপর থেকে একখানা মোটা ডাল হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছে তার কাঁধের ওপর৷ কাঁধের হাড় ভেঙে গেছে৷ ডাক্তার বলেছে হাতখানাও অকেজো হয়ে যেতে পারে৷ হাসেমের বাড়ির লোক কান্নাকাটি করছে৷

    কথাগুলো শুনতে শুনতে চোয়াল শক্ত হয়ে গেল মহিমবাবুর৷ কানাইকে বলে দিলেন বিকেলে যাবেন মুকুটপুর৷ এরমধ্যে কানাই যেন গাছ কাটার জন্য নতুন লোক জোগাড় করে রাখে৷

    বিকেলে অবশ্য যাওয়া হল না৷ ঢালাই শেষ হওয়ার পর মহিমবাবু যখন মুকুপুরে পৌঁছলেন, তখন বিকেল সন্ধের দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে৷ পার্বতীকে চা দিতে বলে বারান্দায় বসলেন মহিমবাবু৷ কানাই গেল লোক ডাকতে৷ একলা হতে আপনা থেকেই মহিমবাবুর চোখ চলে গেল গাছের গায়ে সেই চোখদুটোর দিকে৷ আশ্চর্য ব্যাপার, চোখের মাঝখানে আজ মনে হচ্ছে যেন মণির মতো একটা কালো ছোপ রয়েছে৷ সেটা কি কাল ছিল? মনে করতে পারছিলেন না মহিমবাবু৷ একবার মনে হল উঠে গিয়ে দেখেন ওই কালো দাগটা কীসের৷ কিন্তু কেমন যেন সাহস হল না৷ বিশ্বনাথের কথাগুলো মাথার মধ্যে কাজ করছে বুঝতে পারছিলেন মহিমবাবু৷ বুঝতে পারছিলেন এবং বুঝে নিজের ওপরেই বিরক্ত হচ্ছিলেন৷

    পার্বতী চা দিয়ে যাওয়ার পরেই ফিরে এল কানাই৷ একা৷

    জগাইকে গাছ কাটার জন্য বলেছিলাম বাবু৷ রাজিও হয়েছিল৷ কিন্তু এখন বলল আসবেনি৷

    কেন, আসবে না কেন?

    ওর মেয়েটার খুব জ্বর৷ কাল ডাক্তারের কাছে নে যেতে হবে৷ জগাইয়ের ইস্ত্রি বলে দিল মেয়ের বাপ যেতে পারবেনি৷

    একদমে কথাগুলো বলে একটু থামল কানাই৷ তারপর খানিকটা যেন সাহস সঞ্চয় করেই বলল, আসলে ওরা ভয় পেয়েছে বাবু৷ পরপর দুখানা অ্যাক্সিডেন হল তো৷ গাছ কাটতে আসতে কেউ রাজি হচ্ছে না৷ ফলন্ত গাছ৷ ছেলে-পুলে নিয়ে ঘর করে তো সবাই….

    কানাইয়ের মতলবটা এবার পরিষ্কার হয়ে গেল মহিমবাবুর কাছে৷ দুটো নেহাত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাকে ক্যাশ করে সাবোটাজ করতে চাইছে৷ মহিম সেনকে ও চেনে না৷ বহু বাঘা বাঘা লোককে তিনি ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন আর এ তো কোথাকার কে কানাই মালি৷ এমাসের শেষে এদেরকে ঘাড় ধরে বিদেয় করে দেবেন ঠিক করে নিয়ে মহিমবাবু খুব শান্ত গলায় বললেন, ঠিক আছে৷ এখানে যখন কেউ গাছ কাটতে চাইছে না, তখন জোর করার দরকার নেই৷ আমি আমার লোকজন ডেকে নিচ্ছি৷ কালই ইলেকট্রিক করাত নিয়ে আসবে৷ একসঙ্গে যতগুলো দরকার গাছ কেটে ফেলা হবে৷

    কথাগুলো যে তাঁর ফাঁকাবুলি নয় মোটেই সেটা বোঝাতে কানাইয়ের সামনেই তাঁর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমল তপাদারের সঙ্গে কথা বললেন৷ আরও বেশ কয়েকটা জায়গায় ফোনাফুনি করতে হল৷ তবে অসুবিধা কিছু হল না৷ ইলেকট্রিক করাত সমেত গাছ কাটার লোক পরদিন সকাল নটা নাগাদ মুকুটপুরে হাজির হবে সেটা নিশ্চিত করা গেল৷ পয়সা অবশ্য অনেকটাই বেশি লাগবে৷ কিন্তু তা নিয়ে মহিমবাবু আর মাথা ঘামাতে রাজি নন৷ কাজটা হওয়া তাঁর কাছে বেশি জরুরি৷

    এইসব কথাবার্তার মধ্যেই সন্ধে নেমে গেছিল৷ আমগাছের ঝুপসি ছায়ায় ঢাকা বারান্দায় বসে মহিমবাবু কিংবা কানাই কেউই বুঝতে পারেননি আকাশে কখন ঘন কালো হয়ে মেঘ জমেছে৷ হুঁশ হল যখন নীলচে আলোয় আকাশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চিরে দিয়ে কড়কড় শব্দে বাজ পড়ল৷ তাড়াতাড়ি করে বেরোতে যাচ্ছিলেন মহিমবাবু৷ কিন্তু তার আগেই শুরু হয়ে গেল প্রবল ঝড়৷ প্রবল হাওয়া গাছের মাথাগুলোকে ঝুঁটির মতো মুঠোয় ধরে ঝাঁকাতে লাগল ইচ্ছেমতো৷ আর তার হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগল গাছগুলো৷ কিছুক্ষণ ঝড় চলার পর শুরু হল মুষলধারে বৃষ্টি৷

    ফোনে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে কথা বলে মহিমবাবু জানতে পারলেন ঝড়ে বেশ কয়েক জায়গায় গাছ আর ইলেকট্রিকের খুঁটি পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে৷ বৃষ্টি থামলে যদি বেরোন, কখন বাড়ি পৌঁছতে পারবেন তার কোনও নিশ্চয়তা নেই৷ কানাই আর পার্বতী দুজনেই বলল রাতটা মামার বাড়িতেই থেকে যেতে৷ তা ছাড়া পরদিন সকালেই তো তাঁর আবার আসার কথা৷ সবদিক বিবেচনা করে রাজি হলেন মহিমবাবু৷

    দোতলায় মামার ঘরেই বিছানা করে মশারি টাঙিয়ে দিল কানাই৷ বেশ বড় খোলামেলা ঘর৷ আমগাছটা ঘরের যেদিকে সেদিকে দুখানা বড় জানলা তো আছেই৷ রুজুরুজু জানলা আছে আরও দুখানা৷ তাই ঘরে হাওয়া খেলে দিব্যি৷ ঝড়-বৃষ্টিতে সন্ধে থেকেই কারেন্ট নেই৷ কিন্তু তাতেও অসুবিধা হবে না৷ পার্বতী রান্না করে ভালো৷ ভাত, ডাল, আলুসেদ্ধ আর ডিমের ডালনা দিব্যি তৃপ্তি করেই খেলেন মহিমবাবু৷ তারপর ঘরের ভিতর থেকে ছিটকিনি আটকে শুয়ে পড়লেন৷ কানাই একটা হারিকেন সলতে কমিয়ে দিয়ে গেছে৷ সেটা রাখলেন ঘরের কোণে৷ ততক্ষণে অবশ্য ঝড়-বৃষ্টি থেমে আকাশ পরিষ্কার হয়েছে৷ চাঁদের আলো আসছে ঘরে৷ চমৎকার ঠান্ডা হাওয়াও দিচ্ছে৷

    ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মহিমবাবু৷ হঠাৎ মাঝরাত্তিরে কেমন একটা অস্বস্তিতে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল৷ চোখ খুলেই তাঁর মনে হল ঘরটা যেন বড্ড বেশি অন্ধকার৷ যেমন ঝলমলে চাঁদের আলোয় তিনি শুতে গেছিলেন সেটা নেই৷ তাহলে কি আবার মেঘ করল? মাথার কাছের জানলার দিকে তাকিয়ে মহিমবাবু দেখলেন আকাশ দেখা যাচ্ছে না মোটেই৷ গোটা জানলাটাই যেন কেমন একটা ছায়া ছায়া অন্ধকারে ঢাকা৷ ভালো করে তাকিয়ে মহিমবাবু বুঝলেন জানলাটা আসলে ঢেকে গেছে আমগাছের ডালপালায়৷ কিন্তু আমগাছটা তো বাড়ির একেবারে গায়ে নয় মোটেই৷ ডালপালাগুলো জানলার এত কাছে এল কী করে? ভাবতেই ভাবতেই মহিমবাবুর মনে হল আমগাছের ডালপালার ফাঁক দিয়ে গাছের গুঁড়িটা দেখা যাচ্ছে৷ আর গুঁড়ির গায়ের সেই চোখদুটো স্থির দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে৷ এখন আর সেগুলোকে কালো দাগ বলে মনে হচ্ছে না মোটেই৷ বরং সেই স্থির চাউনিতে ফুটে উঠছে ভীষণ একটা তীব্র হিংস্র ভাব৷

    মহিমবাবুর মনে হল এক্ষুনি এখান থেকে পালানো দরকার৷ কিন্তু তাঁর পা দুটো কেউ যেন স্ক্রু দিয়ে বিছানার সঙ্গে এঁটে দিয়েছে৷ নড়বার ক্ষমতা নেই৷ এদিকে আমগাছের ডালপালাগুলো ক্রমশ জানলার ভিতর দিয়ে ঢুকে তাঁর দিকে এগিয়ে আসছে৷ পাতার খসখস শব্দ শুনতে পাচ্ছেন তিনি৷ সরু একটা ডাল সপাং করে এসে জড়িয়ে গেল তাঁর বাঁ হাতে৷ ডান হাত দিয়ে সেটাকে সরানোর চেষ্টা করতেই অন্য হাতটাও আটকে দিল আর একটা ডাল৷ গাছের গুঁড়িটা এখন তাঁর প্রায় মাথার কাছে৷ ডালের চাপে বিছানার সঙ্গে লেপ্টে গেছেন মহিমবাবু৷ চোখদুটো ধীরে ধীরে নেমে আসছে তাঁর মুখের দিকে৷ সরু একটা ডাল আড়াই প্যাঁচ দিয়ে চেপে বসেছে তাঁর গলায়৷ ক্রমশ চাপ বাড়ছে সেটার৷ নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে মহিমবাবুর৷

    জ্ঞান ফিরলে মহিমবাবু দেখলেন একজন অচেনা ভদ্রলোক তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন৷ গলায় স্টেথো ঝুলছে৷ তার মানে নিশ্চয় ডাক্তার৷ পাশে উদ্বিগ্ন মুখে কানাই আর পার্বতী দাঁড়িয়ে৷ দু-চোখের পাতা ভারী, সারা শরীরে অসম্ভব ব্যথা৷ তাও অতিকষ্টে উঠে বসার চেষ্টা করতেই বাধা দিলেন ডাক্তার ভদ্রলোক, উঠবেন না, উঠবেন না৷ শুয়ে থাকুন চুপচাপ৷ পার্বতী একটু দুধ গরম করে এনে অল্প অল্প করে খাইয়ে দাও৷ জ্ঞান যখন ফিরেছে তখন আর ভয়ের কিছু নেই৷

    কী হয়েছে আমার? ক্ষীণ গলায় জানতে চাইলেন মহিমবাবু৷

    সে তো আপনিই জানেন মশাই৷ আজ সকালে অনেক ডাকাডাকির পরও আপনি দরজা খুলছেন না দেখে কানাই বাইরে থেকে শিক ঢুকিয়ে ছিটকিনি খুলে ভিতরে এসে দেখে খাটের ওপর অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন৷ আমি থাকি দুটো বাড়ি পরেই৷ তাই আমাকেই ডেকে এনেছিল৷ আপাতভাবে মনে হচ্ছে কোনও কারণে শক থেকে হয়েছে৷ এখন বিশ্রাম নিন৷ পরে এসে সব শুনব৷ তবে কতগুলো চেক-আপ করিয়ে নিতে হবে মশাই৷ বয়সটা তো ভালো নয়৷ এবার না হয় অল্পের ওপর দিয়ে গেছে, সাবধান হওয়া কিন্তু দরকার৷

    পার্বতী দুধ আনতে গেছে৷ ডাক্তারবাবুকে নিয়ে কানাই বেরিয়ে যেতে খাটের ওপর উঠে বসলেন মহিমবাবু৷ ঘরময় আমপাতা পড়ে আছে৷ খাটের পাশে রাখা আয়নার দিকে তাকালেন মহিমবাবু৷ গলার ওপর স্পষ্ট দুটো লাল দাগ….

    বাবু, করাত নিয়ে লোক এসে গেছে৷ গাছকাটা কি তাহলে শুরু করে দিতে বলব?

    মুখের ওপর ঝুঁকে পড়েছে দুটো তীব্র চোখ৷ ধকধক করছে খয়েরি-বাদামি মণি৷ শিউরে উঠলেন মহিমবাবু৷ কোনওরকমে গলা স্বাভাবিক রেখে বললেন, না, আজ কাটার দরকার নেই৷ ওদের চলে যেতে বলো৷ পরে দরকার মতো আমি খবর পাঠাব৷

    পার্বতী গরম দুধ দিয়ে গেছে৷ গলাটায় বেশ ব্যথা৷ সাবধানে দুধে চুমুক দিতে দিতে মহিমবাবু ভাবলেন, আবাসনে দরকার নেই৷ বাড়িটাকে বরং একটা রিসর্ট বানিয়ে ফেলা যাক৷ মামার দোতলা বাড়িতে এমনিতেই বেশ কয়েকটা ঘর আছে৷ সাজিয়ে-গুছিয়ে নিলেই চলবে৷ কানাই আর পার্বতীই গেস্টদের দেখাশোনা আর রান্নাবান্না করতে পারবে৷ শুধু কাছাকাছি কোনও ছোটখাটো নদী আছে কিনা আর মেলা বসে কিনা খোঁজ নিতে হবে৷ এ-দুটো হলেই একেবারে ট্যুরিস্ট স্পট জমজমাট৷

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়
    Next Article শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    Related Articles

    দীপান্বিতা রায়

    মহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়

    August 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }