Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    তেরোর ত্রাস – দীপান্বিতা রায়

    দীপান্বিতা রায় এক পাতা গল্প171 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ফ্রেমের বাইরে

    জানুয়ারি মাস৷ ঠান্ডাটাও এবছর জব্বর পড়েছে৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা অনুষ্ঠান ছিল৷ মন্ত্রী-সান্ত্রী, ভিআইপি-রা এসেছিলেন৷ সেখান থেকেই কাজ সেরে ফিরছিল প্রিয়ম আর সঞ্জীব৷ কলকাতার একটা বেশ নাম-ডাকওলা বাংলা চ্যানেলে কাজ করে দুজনে৷ প্রিয়ম রিপোর্টার আর সঞ্জীব ক্যামেরাম্যান৷ গাড়িতে উঠতে উঠতে সঞ্জীব ড্রাইভারকে বলল, কাচগুলো ভালো করে তুলে দে চাঁদু৷ আজ বড্ড ঠান্ডা৷

    সঞ্জীবের কথা শুনে প্রিয়ম হেসে ফেলল, তোর আবার বড্ড শীত শীত বাতিক৷ কলকাতায় আবার শীত পড়ে কবে! এই তো দশ-পনেরোটা দিন একটু কনকনে ভাব৷ তাতেই একেবারে অস্থির হয়ে গেলি৷ এই জন্য বললাম, একটা চা খেয়ে তারপর গাড়িতে ওঠ….

    না রে, আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে৷ মায়ের শরীরটা ভালো নেই৷ পাড়ার ডিসপেনসারিতে একবার দেখিয়ে আনব৷ একজন বয়স্ক ডাক্তার বসেন৷ ভালো লোক৷ মায়ের খুব ভরসা ওর ওপর৷

    কিন্তু তোর তো অফিসে ফিরে ক্যামেরা জমা দিয়ে বেরোতে বেরোতে রাত আটটা বেজে যাবে৷

    সেজন্যই তো এই অ্যাসাইনমেন্টটায় আসতে চাইছিলাম না৷ কিন্তু আর তো কেউ ছিল না৷ অসুবিধা হবে না৷ নাম লেখানো আছে৷ ডাক্তারবাবু দশটা অবধি চেম্বারে থাকে৷ মাকে বলেছি একদম তৈরি হয়ে থাকবে৷ আমি রাস্তা থেকে ফোন করে দেব৷ তক্ষুনি বেরিয়ে আসবে৷

    গাড়ি চলতে শুরু করেছে৷ মাফলারটা ভালো করে গলায় জড়িয়ে নিয়ে প্রিয়ম বলল, তুই কলকাতার ঠান্ডাতেই এরকম করছিস আর আমি তো সামনের শনিবার মালদা যাচ্ছি৷

    কেন রে?

    তোকে বললাম না সেদিন, পৌষসংক্রান্তিতে আমাদের বাড়িতে কালীপুজো হয়৷ আত্মীয়স্বজন সবাই আসে৷ দারুণ হৈচৈ ব্যাপার৷

    হ্যাঁ তোদের তো আবার জমিদারি ব্যাপার-স্যাপার৷ কী যেন একটা অদ্ভূত নাম তোদের গ্রামের?

    কুলি৷ নামটা শুনতে বেশ মজার রে৷ তবে অনেক পুরোনো গ্রাম৷ আর ওসব জমিদারি এখন আর কিছুই নেই৷ অনেককাল গেছে৷ বাবা-কাকারা সবাই মোটামুটি ভালো চাকরি-বাকরি করছে, জমি-জায়গাও কিছু আছে৷ তাই পুজোটা ধুমধাম করেই হয়৷ তাছাড়া জ্যাঠামশাই তো গ্রামের বাড়িতেই থাকেন৷ উনিই যোগাড়যন্ত্র সব করে রাখেন৷

    কাকু-কাকিমাও যাবেন তো তাহলে?

    মা-বাবা তো কালই চলে গেছে৷ আমি শনিবার যাব….সঞ্জু শোন, তুই যাবি আমার সঙ্গে পৌষকালীর পুজোতে?

    আমি! পাগল নাকি!

    আরে শোন না পাগলা, আমি বলছি চল৷ ওখানে আমাদের মস্ত বাড়ি৷ থাকার কোনও অসুবিধাই নেই৷ আর তোর ছবি তোলার অনেক মেটিরিয়াল পাবি৷

    কীরকম শুনি? এবার একটু কৌতূহলী হয় সঞ্জীব৷

    প্রথমত মূর্তিটা খুব ইন্টারেস্টিং৷ তাছাড়া নানারকম বেশ অদ্ভূত অদ্ভূত রিচুয়াল আছে৷ যেগুলো ভিস্যুয়ালি খুব ভালো৷ তাছাড়া আমাদের গ্রামে একটা মস্ত ঝিল আছে৷ সেখানে এই সময় অনেক মাইগ্রেটারি বার্ডস আসে….

    সেদিন রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময়ই সঞ্জীব মনে মনে ঠিক করে নেয় প্রিয়মের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে কালীপুজো দেখতে যাবে৷ এমনিতেই অনেকদিন কোথাও বেরোন হয়নি৷ তাই মনটা উসখুস করছে৷ প্রিয়মকে মা-বাবা ভালো করেই চেনে৷ অনেকবার সঞ্জীবের সঙ্গে তাদের বাড়িতে গেছে৷ তাই প্রিয়মের সঙ্গে যাব বললে ঝামেলা পাকাবে না৷ প্রায় চার বছর হয়ে গেল এই চ্যানেলে কাজ করতে ঢুকেছে সঞ্জীব৷ প্রথম থেকেই প্রিয়মের সঙ্গে দিব্যি জমে তার৷ হাসিখুশি খোলামেলা ছেলে৷ তাছাড়া ইদানীং স্টিল ফটোগ্রাফির নেশাটা ক্রমশ জোরালভাবে পেয়ে বসেছে সঞ্জীবকে৷ ছবি তোলা, তারপর সেটাকে ফটোশপে ঠিকঠাক করা৷ দু-একটা কম্পিটিশনে পাঠিয়ে প্রাইজও পেয়েছে৷ ভালো ছবি, ভালো সাবজেক্টের জন্য সঞ্জীব তাই এখন যে কোনও জায়গায় যেতে রাজি৷

    গৌড় এক্সপ্রেস ধরে প্রিয়ম আর সঞ্জীব ভোর ভোর পৌঁছে গেল মালদহ৷ স্টেশনের কাছেই বাসস্ট্যান্ড৷ সেখান থেকে বাস ধরতে হবে৷ মালদহ শহর থেকে কুলি গ্রামের দূরত্ব প্রায় সত্তর কিলোমিটার৷ বাসে ঘণ্টা তিনেক তো লাগবেই৷ দুজনে তাই স্টেশনেই হাত-মুখ ধুয়ে, চা-টোস্ট খেয়ে বাসে চেপে বসল৷ বেলা এগারোটা নাগাদ গ্রামের মুখে, বড় রাস্তার ওপর বাসটা নামিয়ে দিল তাদের৷ সেখান থেকে মিনিট দশেক হাঁটলেই বাড়ি৷ পৌঁছানো মাত্রই হৈহৈ করে ছুটে এল ভাই-বোনেরা৷ প্রিয়মের মা বেরিয়ে এসে আদর করে ভিতরে নিয়ে গেলেন সঞ্জীবকে৷ পরের দিনই পুজো৷ তাই আত্মীয়-স্বজন প্রায় সবাই এসে গেছে৷ বাড়ি একেবারে জমজমাট৷

    দুপুরের রান্না শেষ হতে দেরী হবে৷ তাই ব্যাগ-পত্তর রেখে হাত-মুখ ধুতে না ধুতেই জলখাবার খেয়ে নেওয়ার ডাক পড়ল৷ বিশাল খাবার ঘর৷ মাঝখানে মস্ত একটা শ্বেতপাথরের টেবিল৷ সিংহের থাবার মতো তারা পায়া৷ চারপাশে অন্তত গোটা দশেক চেয়ার৷ বাকীদের খাওয়া হয়ে গেছে আগেই৷ তারা দুজনেই তাই বসল তখন৷ গরম গরম ফুলকো লুচি, ফুলকফি-আলু ভাজা আর বাড়িতে বানানো দরবেশ৷ প্রিয়মের মা খেতে দিচ্ছেন৷ কাকিমা, জেঠিমা, পিসিরাও আসা-যাওয়া করছেন৷ প্রিয়ম প্রায় সবার সঙ্গেই সঞ্জীবের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে৷ এই সময় হঠাৎ সঞ্জীবের চোখে পড়ল, খাবার ঘর থেকে যে দরজাটা সম্ভবত রান্নাঘরের দিকে গেছে, তার ঠিক উল্টোদিকের দরজায় এক ভদ্রমহিলা দাঁড়িয়ে আছেন৷ বয়স খুব বেশি নয়৷ মাজা রঙ৷ লালপেড়ে হলুদ রঙের তাঁতের শাড়ি পরা৷ মাথায় হালকা ঘোমটা, কপালে বেশ বড় একটা সিঁদুরের টিপ৷ মহিলা কেমন যেন একটা অদ্ভূত বিষণ্ণ, মায়াময় চোখে একদৃষ্টে সঞ্জীবের দিকেই তাকিয়ে আছেন৷ একটু অস্বস্তিই লাগছিল সঞ্জীবের৷ প্রিয়ম অন্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেও, এনার সঙ্গে তখনও দেয়নি৷ কিন্তু সেকথা তো আর বলা যায় না৷ তাই চুপচাপ খাবারে মন দিল সঞ্জীব৷ একটু পরে অবশ্য চোখ তুলে আর মহিলাকে দেখতে পেল না৷

    তবে ভদ্রমহিলা যে বাড়িরই কোনও ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সেটা বুঝতে অসুবিধা হল না৷ কারণ দুপুরে খাওয়ার সময় আবার তাঁকে দেখতে পেল সঞ্জীব৷ বাড়িতে অনেক লোক বলে, ভিতরের টানা বারান্দায় সতরঞ্চি পেতে ছেলেপুলেদের খেতে দেওয়া হয়েছে৷ মা-কাকিমারাই পরিবেশন করছেন৷ সেই ভদ্রমহিলাও আছেন৷ যদিও পরিবেশনের কাজে খুব একটা হাত লাগাচ্ছেন না৷ সঞ্জীবের কেবলই মনে হচ্ছিল, তিনি যেন খুব মন দিয়ে শুধু তারই খাওয়া দেখছেন৷ ব্যাপারটা খুবই অস্বস্তিকর৷ অথচ কিছু করার নেই৷

    দোতলার লম্বা টানা বারান্দার শেষপ্রান্তের একটা ঘরে থাকার ব্যবস্থা হয়েছে প্রিয়ম আর সঞ্জীবের৷ বেশ বড় ঘর৷ দুপাশে দুটো সিঙ্গল খাট, টেবিল, জামাকাপড় রাখার আলনা, সবই আছে৷ রাতে ট্রেনে ভালো ঘুম হয়নি৷ তাই খাওয়া সেরে লেপ গায়ে দিয়ে শুতেই, ঘুমে চোখ জড়িয়ে এসেছিল সঞ্জীবের৷ কিন্তু বেশিক্ষণ ঘুমোনর কী জো আছে! একটু পরেই হাঁক-ডাক করে তাকে ঠেলে তুলল প্রিয়ম, শিগগির ওঠ৷ ক্যামেরা নিয়ে চল৷ এখন ঠাকুরকে গয়না পরানো হবে৷

    ক্যামেরার ব্যাগ, লেন্স, স্ট্যান্ড সব গুছিয়ে নিয়ে নীচে নেমে সঞ্জীব দেখে ঠাকুর দালানে জোরালো আলো জ্বলছে৷ এক-পাশে অনেকগুলো গয়নার বাক্স রাখা৷ প্রিয়মের জেঠিমা লিস্ট মিলিয়ে সব গয়না গুছিয়ে রাখছেন৷ দুই কাকা প্রতিমাকে সেই অলঙ্কার পরাচ্ছেন৷

    প্রিয়ম বলল, এইসব গয়নাই ঠাকুরের৷ কিছু তাদের পারিবারিক৷ তবে বেশিরভাগই মানতের গয়না৷ ঠাকুর খুব জাগ্রত বলে আশপাশের গ্রামের মানুষদের বিশ্বাস৷ তাই ঠাকুরের কাছে নানারকম মানত করে অনেকেই৷ মনস্কামনা পূরণ হলে সেই মানতি গয়না দিয়ে যায়৷ তবে সব গয়নাই সারা বছর ব্যাঙ্কের ভল্টে থাকে৷ পুজোর আগের দিন তুলে আনা হয়৷ আবার বিসর্জনের পরদিন দিয়ে আসা হয়৷ এই তিনদিন সেজন্য বাড়িতে বিশেষ পুলিশ পাহারারও ব্যবস্থা থাকে৷

    জেঠিমা গয়না গুছিয়ে রাখছেন৷ বাড়ির অন্য মহিলারাও আশপাশে বসে পুজোর নানা যোগাড়যন্ত্র করছেন৷ গল্পগুজব, ঠাট্টা, ইয়ার্কিও চলছে পুরোদমে৷ সঞ্জীব খেয়াল করল, দলের মধ্যে সেই মহিলাও আছেন৷ তবে বোধহয় একটু চুপচাপ স্বভাবের৷ তাই কথাবার্তা তেমন বলছেন না৷

    মন দিয়ে ছবি তুলছে সঞ্জীব৷ শুধু তো প্রতিমার ছবি নয়৷ এই যে মেয়েরা কাজ করছে, হাসছে, গল্প করছে, তাদের নানা মুড, মুখের ভঙ্গি এসবও তো ছবির বিষয়৷ এপাশ-ওপাশ ক্যামেরা ঘুরছে৷ হঠাৎ ফ্রেমের মধ্যে চলে এল সেই মহিলার মুখ৷ ভারী সুন্দর চোখ দুটো, মনে মনে ভাবল সঞ্জীব৷ তারপর আরও একটু ক্লোজ আপে ধরল মুখটা৷ সামনে অফ ফোকাসে জেঠিমা৷ শাড়ির লালপাড় মুখের চারপাশে একটা সুন্দর ফ্রেম তৈরি করেছে৷ ভালো হবে ছবিটা, ভাবতে ভাবতে শাটার টিপল সঞ্জীব৷ তারপর নানা অ্যাঙ্গেল থেকে মহিলার আরও কয়েকটা ছবি তুলল৷ কোনওটা একলা, কোনওটা অন্যদের সঙ্গে৷

    মহিলামহলে তখন গল্প চলছে পুরোদমে৷ প্রিয়মের জেঠিমা একটা মুক্তো বসানো নথ-টানা হাতে নিয়ে পিসিকে বললেন, এবার এই নথটাই পরাই, কী বলিস?

    পিসি একটু চুপ করে থেকে বলল, তাই পরাও৷ ঠাকুরের যে কী বিচার জানি না৷

    তা যা বলেছিস৷ একটা ছেলের জন্য ছোট ঠাকুরপো আর বিমলা দুজনেই যেন পাগল হয়ে গেছিল৷ কত মানত, ঠাকুরের দোর ধরা৷ ছেলে হল৷ মানতের নথও এল৷ অথচ সেই নথ পরিয়ে ঠাকুর দেখা আর হল না….

    জেঠিমার গলায় বিষণ্ণতার সুর৷ পারিবারিক কোনও কথা হচ্ছে বুঝে, সঞ্জীব সরে যায় সেখান থেকে৷

    ঘড়ির কাঁটায় রাত মাত্র দশটা৷ অথচ মনে হচ্ছে যেন কত রাত হয়ে গেছে৷ সন্ধে হতে না হতেই তো চারিদিক নিঝুম৷ রাতের খাওয়াও শেষ৷ ঠান্ডা পড়েছে জাঁকিয়ে৷ হাত-পা যেন শিরশির করছে৷ সঞ্জীব তাই লেপের তলায় ঢুকে পড়ার উদ্যোগ করছিল৷ প্রিয়মের আসতে দেরী হবে৷ জ্যাঠামশাই খাওয়ার পর বাড়ির সব ছেলেদের নিয়ে বসেছেন৷ সবার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে৷ কিন্তু শুতে ইচ্ছে করলেও ঘুম আসছিল না সঞ্জীবের৷ আসলে তার একটা বিচ্ছিরি অভ্যাস আছে৷ রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ না খেলে কেমন যেন ঘুম আসতে চায় না৷ অভ্যাসটার জন্য অবশ্য মা দায়ী৷ ছোটবেলা থেকে রোজ রাতে দুধ খাইয়ে এমনটা করেছে৷ কিন্তু লোকের বাড়িতে এসে তো আর ধেড়ে ছেলে বলতে পারে না, দুধ না খেলে ঘুম আসে না৷ তাই মনে মনে মাকে দোষারোপ করতে করতেই বিছানায় ঢুকতে যাচ্ছিল সঞ্জীব, এমন সময় দরজায় খুটখুট শব্দ হল৷ তাড়াতাড়ি উঠে বসতেই, দরজা ঠেলে ঢুকলেন সেই মহিলা৷ সঞ্জীব অবাক হয়ে দেখল, তার হাতে একটা প্লেটের ওপর কাচের গ্লাসে এক গ্লাস দুধ৷

    টেবিলের ওপর গ্লাসটা নামিয়ে বললেন, খেয়ে নাও৷ হালকা গরম আছে৷

    বিনা প্রতিবাদে দুই চুমুকে দুধটা শেষ করল সঞ্জীব৷ তারপর আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কী করে জানলেন, আমি রাতে দুধ খাই….

    আমি জানি৷ দুধ না খেলে ঘুম আসে না তোমার৷

    বলে একটু হেসে গ্লাসটা তুলে নিয়ে চলে গেলেন মহিলা৷ নির্ঘাৎ প্রিয়ম বলেছে৷ মনে মনে ভাবল সঞ্জীব৷ কখনও নিশ্চয় কথাবার্তায় বলেছিল, ব্যাটা ঠিক মনে করে রেখেছে৷ তাছাড়া বাইরে কোথাও অ্যাসাইনমেন্টে গেলেও যে সঞ্জীব রাতে দুধ খায় সেটা খেয়াল করেছে৷ বন্ধুর প্রতি ভালোবাসায় মনটা ভরে গেল সঞ্জীবের৷ খুশি খুশি মেজাজে লেপের ভিতর ঢুকে ঘুমিয়েও পড়ল তক্ষুনি৷

    পরের দিন পুজো৷ সারাদিন ধরে হইচই, হাঁকডাক৷ বাড়িভর্তি লোকজন৷ তার মাঝে সেই মহিলাকেও কয়েকবার চোখে পড়ল সঞ্জীবের৷ একবার ভাবল প্রিয়মকে ওনার পরিচয় জিজ্ঞাসা করে৷ কিন্তু প্রিয়মও নানা কাজে ব্যস্ত৷ তাই জিজ্ঞাসা করার আগে নানা গোলমালে সঞ্জীবের নিজের মাথা থেকেই ব্যাপারটা বেরিয়ে গেল৷

    ছুটি মাত্র তিনদিনের৷ তাই বিসর্জনের রাতেই ফেরার ট্রেন ধরতে হবে৷ এদিকে এখনও পাখির ছবিই তোলা হয়নি৷ কালীপুজোর পরদিন ভোরে সঞ্জীব তাই বেরিয়ে পড়ল ক্যামেরা নিয়ে৷ প্রিয়ম তখনও ঘুমোচ্ছে৷ অনেক রাতে পুজো শেষ হয়েছে৷ বাড়ির লোকদের প্রায় কারুরই ঘুম ভাঙেনি তখনও৷ তবে বড় জ্যাঠামশাই উঠে পড়েছেন৷ তাঁর কাছেই ঝিলের দিকে যাওয়ার রাস্তাটা জেনে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল সঞ্জীব৷

    তখনও ভালো করে আলো ফোটেনি৷ রাস্তার ধারের ঘাসগুলো সব ভিজে চুপচুপে৷ মাঝেমধ্যে গাছের পাতা থেকেও টুপটাপ জল ঝরছে৷ জ্যাকেটের পকেটে হাতদুটো ঢোকাতে ঢোকাতে সঞ্জীব ভাবছিল, ইসস মাফলারটা সঙ্গে আনলেই হত৷ ঠান্ডা না লেগে যায়৷

    মেঠোপথ৷ গাছের শুকনো পাতা জমে আছে৷ তাতেই শোনা গেল পায়ের শব্দ৷ সঞ্জীব পিছন ফিরে দেখে সেই মহিলা৷ হাতে তার চেককাটা উলেন মাফলার৷

    এটা পরে নাও৷ ঠান্ডা লেগে যাবে৷

    সঞ্জীবের হাতে মাফলারটা দিয়ে কেমন একটু অদ্ভূত চাপা স্বরে কথাগুলো বললেন মহিলা৷ তারপর একটু সময় সঞ্জীবের দিকে তাকিয়ে যেন মনের কথাটি পড়ে নিলেন, এই রাস্তাটা সোজা খানিকটা গিয়ে ভাগ হয়ে গেছে৷ বাঁদিকে ঝিলের রাস্তা৷ ডানদিকে একটু গেলেই চায়ের দোকান পাবে৷ ওটা ভোরবেলাতেই খুলে যায়৷

    একটু পরে দোকানের বেঞ্চে বসে গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে সঞ্জীব ভাবল, ভদ্রমহিলা কিন্তু ভারী বুদ্ধিমান৷ তার যে এখন চা দরকার সেটা ঠিক বুঝেছেন৷ তাছাড়া কেয়ারিংও খুব৷ জ্যাঠামশাইয়ের কাছে নিশ্চয় শুনেছেন যে আমি ঝিলে যাচ্ছি৷ মাফলার নিইনি দেখে সেটা আবার দিতেও এসেছেন৷

    প্রিয়ম মিথ্যে লোভ দেখায়নি৷ সঞ্জীব গিয়ে দেখল, ঝিলের জলে ডেরা বেঁধেছে নানা জাতের পরিযায়ী পাখির দল৷ সঞ্জীবের পাখি সম্বন্ধে জ্ঞান খুব বেশি নয়৷ কিন্তু তবু তার মনে হল, বেশ কিছু অচেনা পাখিও ঝাঁকের মধ্যে আছে৷ পাড়ের কাছেই একটা ঝোপের পাশে ক্যামেরা গুছিয়ে বসল সঞ্জীব৷ পাখিরা ইচ্ছেমত উড়ছে, বসছে, সাঁতার দিচ্ছে, গা ঝাড়ছে৷ ঝিলের পিছনে বড় বড় কয়েকটা বাবলা গাছের পিছন থেকে ধীরে ধীরে সূর্য উঠছে৷ সরে যাচ্ছে কুয়াশার চাদর৷ চমৎকার সব কম্পোজিশন৷ সূর্য বেশ খানিকটা মাথার ওপর উঠে যাওয়া পর্যন্ত মন দিয়ে ছবি তুলল সঞ্জীব৷ রোদ চড়া হতে পাখিরা খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়লে সেও ক্যামেরা গুছিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিল৷

    রাতের ট্রেন৷ কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোতে হয়েছে বিকেলেই৷ কারণ সন্ধের পর আর কুলি থেকে মালদহে আসার বাস পাওয়া যায় না৷ সন্ধের মুখে তাই স্টেশনে পৌঁছে ওয়েটিং রুমে ব্যাগ-পত্তর রেখে গুছিয়ে বসল দুজনে৷ রাতের খাবার সঙ্গেই আছে৷ প্রিয়ম দু-কাপ কফি নিয়ে এল৷ খুশি মনে কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে সঞ্জীব বলল, প্রিয়ম, ওই মহিলা তোর কে হয় বলতো? ওই যে বেশ সুন্দর দেখতে৷ বড় বড় চোখ৷

    কার কথা বলছিস, ছোটপিসি?

    দূর….ছোটপিসিকে তো আমি চিনি৷ রোগা মতন৷ উনি না৷ যিনি গয়না পরানোর সময় পাশে বসেছিলেন৷

    সে তো বড় জেঠিমা৷

    আরে বড় জেঠিমা গয়না গুছিয়ে রাখছিলেন৷ ওনার পাশে যিনি বসেছিলেন৷

    কার কথা বলছিস? বুঝতে পারছি না তো৷

    দাঁড়া দাঁড়া আমি তোকে দেখাচ্ছি…….

    ব্যাগ খুলে ক্যামেরা বার করে সঞ্জীব৷ তারিখ দিয়ে মার্ক করা আছে৷ পুজোর আগের দিনের ছবিগুলো বার করতে থাকে৷ একটার পর একটা ছবি আসছে৷ ঠাকুরের মুখ, গয়না পরানো হচ্ছে, জেঠিমার হাতে ধরা মস্ত ফাঁদি নথ, কাকিমা সলতে পাকাচ্ছেন, কী একটা কথায় পিসি হেসে গড়িয়ে পড়ছেন৷ কিন্তু কোথাও সেই মহিলার কোনও ছবি নেই৷ এমনকী যেখানে ক্লোজাপে তাঁকে ধরেছিল সঞ্জীব, সেখানেও ফ্রেম জুড়ে শুধুই অফ ফোকাসে জেঠিমার মুখ৷

    হতবাক হয়ে আঁতিপাঁতি করে খুঁজতে থাকে সঞ্জীব৷ পুজোর দিনের ছবিগুলোও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখে৷ নাঃ, কোথাও সেই মুখের একটু আভাস পর্যন্ত নেই৷ অবাক হয়ে গেছে প্রিয়মও, কার কথা বলছিস বল তো তুই? আর তো কেউ ছিল না৷ বাড়ির সব লোকই তো এখানে আছে৷

    ছিল৷ আমি বলছি ছিল৷ আমার সঙ্গে কথা হয়েছে৷ সেদিন রাতে আমাকে দুধ এনে দিলেন৷ আজ সকালে মাফলার দিলেন৷ চায়ের দোকানের রাস্তা পর্যন্ত দেখিয়ে দিলেন৷ কিন্তু এতগুলো ছবি তুললাম……

    কোনও কারণে হয়তো ফ্রেম থেকে বেরিয়ে গেছে, খেয়াল করিসনি……

    বন্ধুকে খানিকটা সান্ত্বনা দিতেই বলে প্রিয়ম৷

    ওরকম আমার হয় না প্রিয়৷ তুই তো জানিস৷ প্রেস কনফারেন্সে অত ধাক্কাধাক্কিতেও আমার ফ্রেম ঠিক থাকে৷

    প্রিয়মও সেটা খুব ভালোমতোই জানে৷ তাই অপ্রস্তুত হয়ে চুপ করে থাকে৷ কারণ ব্যাপারটা যে কী হয়েছে, কিছুই তার মাথায় ঢুকছে না৷ সঞ্জীবও কেমন যেন উদভ্রান্তের মতো ক্যামেরাটা কোলে নিয়ে বসে থাকে৷

    ট্রেন লেট আছে৷ কিন্তু কতক্ষণ লেট জানতে স্টেশনমাস্টারের ঘরে গেছিল প্রিয়ম৷ ফিরে এসে দেখে বেঞ্চের ওপর শুয়ে আছে সঞ্জীব৷

    কী হল রে, শুলি কেন?

    প্রিয়মের গলা শুনে চোখ খুলে তাকায় সঞ্জীব৷ টকটকে লাল চোখে৷ গায়ে হাত দিয়ে দেখে জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে৷ বিড়বিড় করে কী বলে আবার চোখ বুজে ফেলে৷ বন্ধুর অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যায় প্রিয়ম৷ তাড়াতাড়ি বলে, তুই শুয়ে থাক৷ আমি দেখি কোথায় ওষুধের দোকান আছে৷ প্যারাসিটামল কিনে আনি৷ এত জ্বর নিয়ে সারারাত ট্রেনে যাবি কী করে?

    আমি যাব না৷ আমি তোদের বাড়ি যাব৷ আমাকে জানতে হবে ওই মহিলা কে? ওনার ছবি তুলতে হবে৷

    স্পষ্ট গলায় বলে সঞ্জীব৷ তার কথা শুনে ঘাবড়ে যায় প্রিয়ম৷

    কী পাগলামি করছিস সঞ্জু৷ আমাদের টিকিট কাটা আছে…..

    টিকিট ফেরত দে৷ না হলে তুই চলে যা৷ আমি একাই কুলি ফেরত যাব৷ আমাকে যেতেই হবে৷ নাহলে আমার কনফিডেন্স নষ্ট হয়ে যাবে৷ আমি আর কোনওদিন ছবি তুলতে পারব না৷

    সঞ্জীবকে বোঝানোর চেষ্টা করে কোনও লাভ হল না৷ বাধ্য হয়ে শেষপর্যন্ত টিকিট ফেরত দিয়ে এল প্রিয়ম৷ কিন্তু রাতে কুলি ফেরত যাওয়ার কোনও উপায় নেই৷ স্টেশনেই থাকবে৷ তবে পরদিন সকালে যে তারা যাচ্ছে সেটা মাকে ফোন করে জানিয়ে দিল৷ সঞ্জীবের সমস্যাটাও বলল৷ সঞ্জীব অসুস্থ হওয়ায় যে তারা ফিরতে পারছে না সেটা অফিসে জানিয়ে সঞ্জুর বাবাকেও ফোন করল একটা৷ তিনি তো সব শুনে রীতিমত উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন, প্রিয়ম যেন সাবধানে বন্ধুকে নিয়ে যায়৷ পরদিন সকালের ট্রেনেই তিনি নিজেও মালদহ রওনা দেবেন৷

    সকালের প্রথম বাসেই সঞ্জীবকে নিয়ে রওনা দিল প্রিয়ম৷ সঞ্জীবের জ্বর এখন একটু কম৷ কিন্তু তার চোখ-মুখের উদভ্রান্ত চেহারা মোটেই ভালো লাগছিল না প্রিয়মের৷ বাড়িতে তো খবর দেওয়াই ছিল৷ দুই দাদা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষাও করছিল৷ তারাই সাইকেলে করে নিয়ে গেল ওদের দুজনকে৷ বসার ঘরে উদ্বিগ্ন মুখে বসে ছিলেন জ্যাঠামশাই৷ প্রিয়মের কাছে ভালো করে সব কথা শুনে তিনি তক্ষুনি বাড়ির সব মহিলাকে ডেকে পাঠালেন৷ আগের দিনই বিসর্জন হয়েছে৷ আত্মীয়-স্বজনরা সবাই তখনও রয়েছে৷ কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই সঞ্জীবের দেখা সেই মহিলা নন৷ এবার সঞ্জীবের অবস্থা দেখে জ্যাঠামশাই নিজেও একটু ঘাবড়ে গেলেন৷ তবে তিনি ঠান্ডা মাথার মানুষ৷ তাই ভেবেচিন্তে বললেন, এক কাজ করা যাক, সঞ্জীব এখন ওষুধ খেয়ে একটু ঘুমোক৷ ততক্ষণে আমি গ্রামের সবার বাড়িতে খবর পাঠাই৷ পুজোর জন্য তো অনেকেই এসেছিল৷ হয়তো তাদের মধ্যেই কাউকে দেখেছে সঞ্জীব৷

    মনে মনে অবশ্য তিনি ভাবছিলেন, বিকেলের মধ্যে যদি সঞ্জীবের বাবা এসে পড়েন, তাহলে তাঁরা একটু নিশ্চিন্ত হতে পারেন৷

    দোতলার সেই কোণের ঘরটাতেই সঞ্জীবকে নিয়ে এসে শুইয়ে দিলেন প্রিয়মের মা৷ তিনটে দিন এঘরে থাকলেও রোজই তো ভোরবেলা বেরিয়ে গেছে আর রাতে ঘরে ঢুকেছে৷ তাই ঘরটাকে ভালো করে দেখাই হয়নি৷ আজ খোলা জানলা আর আলো ভাসাভাসি ঘরটা দেখে কেমন যেন আরাম হল সঞ্জীবের৷ কিন্তু শরীরও আর দিচ্ছে না৷ বিছানায় শুতেই চোখ জড়িয়ে এল ঘুমে৷ কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিল জানে না৷ ঘুম ভাঙল বাবার গলার আওয়াজে৷ ছেলের কপালে হাত দিয়ে জ্বর কতটা বোঝার চেষ্টা করছিলেন সঞ্জীবের বাবা৷ প্রিয়মের বাবা আর জ্যাঠামশাইও ঘরে আছেন৷ একটু অপ্রস্তুত হয়েই উঠে বসল সঞ্জীব৷ আর বসেই স্তম্ভিত হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চেঁচিয়ে উঠল, ওই তো, ওই তো৷ আপনারা বলছিলেন উনি এই বাড়ির কেউ নন৷ ওই তো ওনার ছবি….

    সঞ্জীবের চোখ দেওয়ালের দিকে৷ সেখানে ঝুলছে এক সদ্যবিবাহিত দম্পতির ছবি৷

    কী বলছ তুমি পাগলের মতো! ওনাকে দেখেছো!

    জ্যাঠামশাইয়ের গলা রীতিমত কাঁপছে৷

    হ্যাঁ৷ ওনাকেই দেখেছি৷ উনিই আমাকে দুধ এনে দিয়েছিলেন৷ ওনারই ছবি আমি তুলেছিলাম৷ কোনও ভুল নেই…..

    ততক্ষণে ঘরে এসে জড় হয়েছেন বাড়ির অন্যরাও৷ সঞ্জীবের কথা শুনে আতঙ্কে শিউরে উঠে মুখে আঁচল চাপা দিলেন প্রিয়মের মা৷

    তুমি ওনাকে দেখতে পারো না৷ তোমার কোথাও ভুল হচ্ছে৷ মাথা ঠান্ডা করো বাবা৷

    জ্যাঠামশাইয়ের কথা শুনে এবার রীতিমত রেগে ওঠে সঞ্জীব, না ভুল আমার হচ্ছে না৷ আর আপনিই বা এত নিশ্চিত কী করে হচ্ছেন? উনি কি এবার আসেননি?

    ঘরের মধ্যে কিছুক্ষণ একটা অদ্ভূত নৈঃশব্দ, যেন পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে৷ তারপর জ্যাঠামশাই আস্তে আস্তে বললেন, সঞ্জীব, এনারা দুজন হলেন আমার সবথেকে ছোট ভাই আর তার বউ৷ বাইশ বছর আগে এক ট্রেন দুর্ঘটনায় দুজনেই মারা গেছেন৷ ঠিক এই কালীপুজোর সময়েই৷ খবর যখন এল, তখন ঠাকুরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে৷ তাই পুজো বন্ধ করা যায়নি৷ কিন্তু সে যে কী ভয়ানক পুজো….৷ তাই বুঝতেই পারছ, ওনাকে তুমি দেখতে পারো না৷

    সঞ্জীব স্তম্ভিত৷ ঘরের সবাই চুপ৷ হঠাৎ ভারী আশ্চর্যরকম শান্ত গলায় সঞ্জীবের বাবা বললেন, ওনারা যখন মারা যান তখন ওনাদের সঙ্গে আর কেউ ছিল?

    প্রিয়মের বাবা উত্তর দিলেন, হ্যাঁ ছিল৷ ওদের তিনমাসের সন্তান৷ ছেলে হতেই বউমা বাপের বাড়ি গেছিলেন৷ কালীপুজোর সময় আমাদের বাড়ির বউরা কেউ বাইরে থাকে না৷ তাই ছোটু গেছিল ওকে আনতে৷ দুটো ট্রেনের মুখোমুখি ধাক্কা লেগেছিল৷ সব তালগোল পাকিয়ে যায়৷ কাউকেই আর চেনা যাচ্ছিল না৷ বাচ্চাটাকে তো আমরা কেউ চোখেই দেখলাম না৷

    বাচ্চাটার কোনও ছবি আছে আপনাদের কাছে? কিছু শুনেছিলেন ওর সম্বন্ধে?

    এবার এগিয়ে আসে প্রিয়মের ছোট পিসি, ছবি তো নেই৷ তবে ছেলে হওয়ার পর বউরানি আমাকে লিখেছিল, খুব নাকি ফর্সা হয়েছে আর বাঁ হাতের ভিতর দিকে নাকি একটা লাল পদ্মফুলের মতো জরুল আছে৷

    ইলেকট্রিক শক লাগার মতো চমকে উঠে সঞ্জীব৷ তার জ্যাকেটের বাঁ-হাতটা গোটাতেই বেরিয়ে পড়ে লাল পদ্মফুলের মতো জরুল৷

    সন্তানের টানেই বউমা এসেছিল৷ আমরা কেউ ওকে চিনতে পারিনি….কিন্তু মা ঠিক সন্তানকে চিনেছে৷

    জ্যাঠামশাইয়ের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে৷

    সেদিন ওই ট্রেনে আমি আর আমার স্ত্রীও ছিলাম৷ ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাই৷ একটা ঝোপের মধ্যে সঞ্জীব পড়েছিল৷ আমার স্ত্রীই ওকে প্রথমে দেখতে পেয়েছিলেন৷ কাদের ছেলে জানার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলাম৷ কিন্তু সন্ধান পাইনি৷ তখন আমরাও নিঃসন্তান৷ তাই ভাবলাম ঈশ্বরই নিশ্চয় ওকে আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন৷ সঞ্জীব আমাদেরই ছেলে হয়ে গেল৷

    ভাগ্যিস হয়ে গেল…..

    সঞ্জীবের বাবার দু-হাত ধরে ডুকরে কেঁদে ওঠেন জেঠিমা,

    তাই তো শেষ পর্যন্ত ছোটুর বংশধরকে চোখে দেখতে পেলাম৷ ও আপনাদেরই ছেলে৷ আর এখন থেকে এটা আপনাদের সবার নিজের বাড়ি৷ আপনারা এখন আমাদের আত্মার আত্মীয়……

    জেঠিমার কথা শুনতে শুনতে সঞ্জীবের মনে হল, ফ্রেমিং তো তারমানে ঠিকই ছিল৷ ছেলেকে দেখতে এল কিন্তু তাকে চিরকালের জন্য ফ্রেমে বন্দি সে করতে পারল না৷ হারিয়ে যাওয়া মা ক্যামেরায় ধরা দিল না৷

    —

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়
    Next Article শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

    Related Articles

    দীপান্বিতা রায়

    মহীদাদুর এন্টিডোট – দীপান্বিতা রায়

    August 26, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }