Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দর্শনের সমস্যাবলি – বার্ট্রান্ড রাসেল

    বার্ট্রান্ড রাসেল এক পাতা গল্প181 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. পরিচিতির দ্বারা জ্ঞান এবং বর্ণনার দ্বারা জ্ঞান

    ৫. পরিচিতির দ্বারা জ্ঞান এবং বর্ণনার দ্বারা জ্ঞান

    পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আমরা দেখেছি যে দুরকমের জ্ঞান আছে-বস্তুর জ্ঞান এবং সত্যের জ্ঞান। এই অধ্যয়ে আমরা শুধুমাত্র বস্তুর জ্ঞান নিয়েই আলোচনা করবো, যার দুই প্রকারের পার্থক্য পরে আলোচনা করা হবে। বস্তুর জ্ঞান যখন পরিচিতির দ্বার জ্ঞানের গোত্রভুক্ত হয়, তখন সেই জ্ঞান সত্যের যে কোন জ্ঞানের থেকে সরল হয় এবং যৌক্তিকভাবে সত্যের জ্ঞান-নিরপেক্ষ হয়, যদিও এটা মনে করা অনুচিত হবে যে মানুষেরা কখনও বস্তুর জ্ঞান পেতে পারে একই সঙ্গে সেই বস্তু সম্পর্কে কিছু সত্য না জেনে। অপরপক্ষে, বস্তুর বর্ণনামূলক জ্ঞানের উৎস এবং ভিত্তি হিসেবে কিছু সত্যের জ্ঞানও সর্বদাই থাকে যা আমরা এই অধ্যায়ের আলোচনায় দেখতে পাব। কিন্তু সবার আগে আমাদের পরিষ্কার করে বুঝা দরকার যে পরিচিতি এবং বর্ণনা বলতে আমরা কি বুঝি।

    আমরা বলব যা কিছু আমরা প্রত্যক্ষভাবে জানি তার সঙ্গেই আমরা পরিচিত কোন অনুমান অর্থাৎ প্রক্রিয়ার মাধ্যম বা কোন সত্যের জ্ঞান ছাড়াই যা আমরা জানি। এভাবে আমার টেবিলের উপস্থিতি আমি ইন্দ্রিয়-উপাত্ত দ্বারা জানি যা আমার টেবিলের দৃশ্যমান সত্তা তৈরি করছে-এর রঙ, আকার, কাঠিন্য, মসৃণতা ইত্যাদি। এ সমস্ত বিষয়গুলো আমি তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞাত যখনই আমি আমার টেবিলকে দেখি এবং স্পর্শ করি। যে বিশেষ রঙের ছায়া আমি দেখছি তার সম্বন্ধে কিছুই বলা যায়-আমি বলতে পারি যে এটি হল বাদামি, এটি অপেক্ষাকৃত কালো ইত্যাদি। কিন্তু এই ধরনের মন্তব্যগুলো আমাকে রঙ সম্পর্কে সত্যতা জানালেও রঙের স্বরূপ সম্পর্কে যা আমি আগে জানতাম তার থেকে বেশি কিছু জানায় না। আমি রঙ সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জানি যখন আমি রঙ দেখি এবং তত্ত্বগতভাবে এর বেশি জ্ঞান এর সম্পর্কে পাওয়া সম্ভব নয়। রঙের স্বরূপের জ্ঞান সম্পর্কে যতদূর বলা যায়, সত্যের জ্ঞানের বিপরীতে। এবাবে ইন্দ্রিয়-উপাত্ত যা আমার টেবিলের দৃশ্যমান সত্তা তৈরি করে তা হল এমন বিষয় যার সঙ্গে আমার পরিচিতি আছে, এমন বিষয় আমি তাৎক্ষণিকভাবে জানি যেরকম তারা আছে।

    অপরদিকে, বাহ্য বস্তু হিসেবে টেবিল সম্পর্কে আমার জ্ঞান সরাসরি জ্ঞান নয়। এটি যেরকম আছে, তা ইন্দ্রিয়-উপাত্ত দ্বারা জানা যায়, যা টেবিলের দৃশ্যমান সত্ত্বা তৈরি করে। আমরা দেখেছি যে কোন অবাস্তবতা ছাড়াই সন্দেহ করা সম্ভব যে আদৌ কোন টেবিল আছে কিনা, কিন্তু ইন্দ্রিয়-উপাত্ত সম্পর্কে সন্দেহ করা সম্ভব নয়। টেবিল সম্পর্কে আমার জ্ঞান হল সেই প্রকারের যাকে আমরা বলতে পারি বর্ণনামূলক জ্ঞান। টেবিলটি হল বাহ্য বস্তু যা বিভিন্ন ইন্দ্রিয় উপাত্তের কারণ। এভাবে ইন্দ্রিয়-উপাত্তের সাহায্যে টেবিলটির বর্ণনা করা যায়। টেবিলটি সম্পর্কে কোন কিছু জানার জন্য আমাদের টেবিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সত্যতা অবশ্যই জানতে হবে, যার সঙ্গে আমাদের পরিচয় আছে। আমাদের অবশ্যই জানতে হবে যে এই-এই ইন্দ্রিয়-উপাত্ত একটি বাহ্য বস্তুর দ্বারা গড়ে ওঠে। এরকম কোন মানসিক অবস্থা নেই যার সাহায্যে আমরা টেবিলটি সম্বন্ধে সরাসরিভাবে জানতে পারি। টেবিল সম্পর্কে আমাদের সমস্ত জ্ঞান হল আসলে সত্যের জ্ঞান এবং আসলে যা টেবিল বলে পরিচিত তাকে আমরা কখনই যথাযথভাবে জানতে পারি না। আমরা একটি বর্ণনার সঙ্গে পরিচিত এবং আমরা জানি যে একটাই বিষয় আছে যাতে এই বর্ণনা প্রয়োগ করা যায়, যদিও বস্তুটি নিজের কখনও সরাসরিভাবে আমাদের কাছে জ্ঞাত হয় না। এ সমস্ত ক্ষেত্রে আমরা বলি যে বস্তু সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান হল বর্ণনামূলক জ্ঞান।

     

     

    আমাদের সমস্ত জ্ঞান-বিষয়ের এবং সত্যের জ্ঞান-নির্ভর করে উপর। এ কারণে এটি বিবেচনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের পরিচিত কি কি বিষয় আছে।

    আমরা পূর্বেই দেখেছি যে ইন্দ্রিয়-উপাত্ত হল সেই বিষয়গুলোর অন্যতম যার রঙ্গে আমাদের পরিচিতি রয়েছে। বস্তুত এগুলো পরিচিতির দ্বারা জ্ঞানের সব থেকে সুস্পষ্ট উদারহরণ। কিন্তু এগুলোই যদি একমাত্র উদাহরণ হত তাহলে আমাদের জ্ঞান যতটা আছে তার থেকে অনেক কম থাকত। আমরা তাহলে আমাদের ইন্দ্রিয়ের সামনে যা উপস্থিত আছে শুধুমাত্র তাকেই জানতাম-অতীত সম্পর্কে কোন কিছু জানতে সক্ষম হতাম না, এমনকি আদৌ কোন অতীত ছিল কিনা তাও জানতে পারতাম না, ইন্দ্রিয়-উপাত্ত সম্পর্কেও কোন সত্য জানতে পারতাম না, কেননা সমস্ত সত্যের জ্ঞানই সেসব বিষয় সম্পর্কে পরিচিতি দাবি করে যেগুলোর চরিত্র ইন্দ্রিয়-উপাত্তের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, যেগুলোকে কখনও কখনও বিমূর্ত ধারণা বলা হয় কিছু আমরা যাকে চিহ্নিত করব সামান্য বলে। সুতরাং ইন্দ্রিয়-উপাত্ত ছাড়া আমাদের অন্যান্য বিষয় সম্পর্কেও পরিচিত থাকতে হবে, যদি আমাদের জ্ঞান সম্পর্কে সঠিক বিশ্লেষণ করতে হয়।

    ইন্দ্রিয়-উপাত্ত ছাড়া যা আমাদের প্রথমেই বিবেচনা করতে হবে তা হল স্মৃতির দ্বারা পরিচিতি। এটি স্পষ্ট যে আমরা যা দেখেছি, শুনেছি বা অন্য কোনভাবে যা আমাদের ইন্দ্রিয়ের সামনে এসেছে, তা আমরা প্রায়শই মনে রাখি এবং এ সমস্ত ক্ষেত্রে আমরা যা মনে রাখি সে সম্পর্কে আমরা সচেতন থাকি-এটা জানা সত্ত্বেও যে যা আমাদের সামনে আসছে তা হল অতীত, বর্তমান নয়। আমাদের অতীত সংক্রান্ত সমস্ত জ্ঞানের উৎস হল এই স্মৃতির সাহায্যে তাৎক্ষণিক জ্ঞান। এটি ছাড়া অতীত সম্পর্কে কোন অনুমানও সম্ভব নয়, কেননা সেক্ষেত্রে আমরা জানতে সক্ষম হই না যে অনুমানযোগ্য কোন অতীত আদৌ ছিল কি না।

     

     

    পরবর্তী বিষয়টি হল অন্তদর্শনের সাহায্যে সাহাযে পরিচিতি। আমরা শুধুমাত্র বিষয় সম্পর্কেই জানি না, বরং প্রায়শই এদের সম্পর্কে জানাকেও জানি। যখন আমি সূর্যকে দেখি তখন আমি আমার দেখাকেও জানি। এভাবে আমার সূর্য দেখা হল এমন একটি বিষয় যার সম্পর্কে আমার পরিচিতি আছে। যখন আমি খাবারের ইচ্ছা করি, তখন খাবারের প্রতি এই ইচ্ছাকেও জানি, এভাবে আমার খাবার ইচ্ছা হল এমন একটা বিষয় যার সঙ্গে আমার পরিচিতি আছে। এভাবে আমরা সুখ বা দুঃখের অনুভূতি সম্পর্কেও যা আমাদের মনের মধ্যে ঘটে। আমাদের সমস্ত মানসিক জ্ঞানের উৎস হল এই ধরনের পরিচিতি, যাকে আত্মসচেতনতা বলা যায়। এটা স্পষ্ট যে যা আমাদের মনের মধ্যে ঘটে সেই সমস্ত বিষয়গুলোই তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়। অন্যদের মনে কি ঘটছে তা আমরা তাদের দৈহিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানতে পারি, অর্থাৎ আমাদের সেই সমস্ত ইন্দ্রিয়-উপাত্ত দ্বারা যা তাদের দেহের সঙ্গেও জড়িত। কিন্তু আমাদের নিজের মনের বিষয়ের সঙ্গে পরিচিতি থাকলেও অন্যের মন সম্পর্কে কল্পনা করতে আমরা অক্ষম, ফলত তাদেরও যে মন আছে এই জ্ঞানে আমরা কখনওই পৌঁছাতে পারি না। মনে করা স্বাভাবিক যে আত্মসচেতনতা হল সেসব বিষয়ের মধ্যে একটি মানুষকে পশুর থেকে স্বতন্ত্র করে। আমরা ধরে নিতে পারি যে ইন্দ্রিয়-উপাত্ত সম্পর্কে পশুদের পরিচিতি থাকলেও তারা এই পরিচিতি সম্পর্কে সচেতন নয়। আমি একথা বলতে চাইছি না যে তারা তাদের অস্তিত্ব সম্বন্ধে সন্দিহান, কিন্তু তারা আদৌ সচেতন নয় যে তাদের সংবেদন ও অনুভূতি আছে এবং এই সংবেদন ও অনুভূতির অভাবের ফলেই তারা নিজেদের অস্তিত্ব সম্বন্ধেও সচেতন নয়।

     

     

    আমদের মনের বিষয়বস্তুর সঙ্গে পরিচিতিকে আমরা আত্ম-সচেতনতা নামে অভিহিত করেছি,তবে তার অর্থ কিন্তু আমাদের আত্ম সম্বন্ধে সচেতনতা নয়। এর অর্থ হল নির্দিস্ট চিন্তা ও অনুভূতি সম্বন্ধে সচেতনতা। নির্দিষ্ট চিন্তা ও অনুভূতির বিপরীতে আমরা আমাদের নিজস্ব আত্মনের সঙ্গেও পরিচিত কি না, তা এক দুরূহ প্রশ্ন এবং এ সম্পর্কে ইতিবাচকভাবে কিছু বলা উচিত নয়। যখন আমরা নিজেদের গভীরে তাকানোর চেষ্টা করি তখন সর্বদাই আমরা কোন নির্দিষ্ট চিন্তা বা অনুভূতির সম্মুখীন হই এবং কখনোই সেই আমি কে পাই না যার মধ্যে এই চিন্তা বা অনূভূতি রয়েছে। তথাপি বিশ্বাস করার মতো কিছু কারণ আছে যে এই আমির সঙ্গে আমরা পরিচিত-যদিও এই পরিচিতিকে অন্যান্য বিষয়ের থেকে আলাদা করা খুবই কঠিন। কারণগুলো কি ধরনের তা নির্ণয় করার জন্য, নির্দিষ্ট চিন্তার সঙ্গে আমাদের পরিচিতি বলতে ঠিক কি বোঝায় তা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

    যখন আমি আমার সূর্য দেখার সঙ্গে পরিচিত হই, তখন আসলে আমি দুটি ভিন্ন বিষয়কে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত করেই তাদের সঙ্গে পরিচিত হই। একদিকে থাকে ইন্দ্রিয়-উপাত্ত যা সূর্যকে আমার কাছে উপস্থিত করে, অন্যদিকে থাকে সেই বিষয়টি যা এই ইন্দ্রিয়-উপাত্তকে দেখে। যে ইন্দ্রিয়-উপাত্ত সূর্যকে আমার কাছে উপস্থিত করে তার সঙ্গে আমার পরিচিতির মতো যাবতীয় পরিচিতিই হচ্ছে যে ব্যক্তিটি পরিচিত হচ্ছে এবং যে বস্তুটির সঙ্গে সে পরিচিত হচ্ছে এই দুয়ের মধ্যকার একটা সম্পর্ক যখন কোন পরিচিতির ঘটনা এমন হয় যার সঙ্গে আমি পরিচিত হতে পারি (যেমন যে ইন্দ্রিয়-উপাত্ত সূর্যকে উপস্থাপিত করে তার সঙ্গে আমার পরিচিতির সঙ্গে আমি পরিচিত), তখন এটা একান্তই স্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি পরিচিত হচ্ছে সে আসলে আমি নিজেই। অতএব যখন আমি আমার সূর্য দেখার সঙ্গে পরিচিত হই, তখন যে সমগ্র বিষয়টির সঙ্গে আমি পরিচিত হই তা হল ইন্দ্রিয়-উপাত্তের সঙ্গে আত্মপরিচিতি।

     

     

    উপরন্তু আমরা এই সত্যও জানি যে এই ইন্দ্রিয়-উপাত্তের সঙ্গে আমি পরিচিত। এই সত্য আমরা কিভাবে জানি তা বুঝে ওঠা, এমনকি এর অর্থটুকু বুঝে ওঠাও ততক্ষণ রীতিমতো দুরূহ থাকে, যতক্ষণ না আমরা আমি বলতে যা বুঝায় তার সঙ্গে পরিচিত হতে পারি। এটা ধরে নেয়া প্রয়োজনীয় নয় যে আমরা কমবেশি সুনির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত যে গতকাল যেমন ছিল আজও ঠিক তেমনই রয়েছে, কিন্তু যে বস্তুটি সূর্যকে দেখে এবং ইন্দ্রিয়-উপাত্তের সঙ্গে যার পরিচয় আছে, তার প্রকৃত যেমনই হোক না কেন তার সঙ্গে আমাদের পরিচিত হতেই হবে। সুতরাং কোন কোন অর্থে আমাদের নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার বিপরীতে নিজেদের আত্মনের সঙ্গেও পরিচিত হতে হবে আমাদের। তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুরূহ এবং এর উভয় পক্ষেই বিভিন্ন জটিল যুক্তি খাড়া করা যায়। অতএব যদিও আমাদের নিজেদের সঙ্গে পরিচিতি সম্ভবত ঘটে থাকে, তথাটি এমনটা জোর দিয়ে বলা উচিত হবে না যে তা নিঃসন্দেহেই ঘটে থাকে।

    অতএব অস্তিত্বশীল বস্তুর সঙ্গে পরিচিতি সম্পর্কে এতক্ষণ আমরা যা বলেছি, তার সারসংক্ষেপ করা যায় এভাবে। বাহ্য ইন্দ্রিয়ের উপাত্তের সাহায্যে সংবেদনে এবং আন্তরিন্দ্রিয়ের অর্থাৎ চিন্তা, অনুভূতি, আকাক্ষা ইত্যাদির উপাত্তের সাহায্যে অন্তর্দর্শনে পরিচিত ঘটে আমাদের। বাহ্য ইন্দ্রিয়ের অথবা আন্তরিন্দ্রিয়ের উপাত্তস্বরূপ বিভিন্ন বস্তুর সাহায্যে স্মৃতিতে পরিচিতি লাভ করি আমরা। সে সঙ্গে পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও একটি সম্ভাব্য বিষয় হল-আত্মনের সঙ্গেও পরিচিত হই আমরা, যে আত্মা বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সচেতন অথবা বিভিন্ন বস্তুর প্রতি যার আকাঙ্খ থাকে।

     

     

    অস্তিত্বশীল সুর্দিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে পরিচিতি ছাড়া আমান্যের (Universal) সঙ্গেও পরিচিতি ঘটে আমাদের, অর্থাৎ ধারনার সঙ্গে, যেমন শুভ্রতা, বিভিন্নতা, ভ্রাতৃত্ব ইত্যাদি। প্রতিটি পূর্ণ বাক্যে অবশ্যই অন্তত একটি শব্দ থাকতে হবে যা সামান্যকে সূচিত করে, কেননা প্রতিটি ক্রিয়াপদেরই একটি অর্থ থাকে যা সামান্য। সামান্য প্রসঙ্গে নবম অধ্যায়ে আলোচনা করব আমরা। আপাতত শুধু এই ধারনার বিরুদ্ধেই সতর্ক থাকা দরকার যে যা কিছুর সঙ্গে আমরা পরিচিত হতে পারি তাকে অবশ্যই নির্দিস্ট ও অস্তিত্বশীল হতে হবে। সামান্য সম্পর্কে সচেতনতাকে বলা হয় ধারণা করা এবং যে-সামান্য সম্পর্কে আমরা সচেতন তাকে বলে ধারণা।

    যে বিষয়গুলোর সঙ্গে আমরা পরিচিত তার মধ্যে বাহ্য বস্তুও নেই (ইন্দ্রিয় উপাত্তের বিপরীতে) অন্য ব্যক্তিদের মনও নেই। আমি যাকে বর্ণনামূলক জ্ঞান বলছি তার সাহায্যেই এসব বিষয়গুলো জানতে পারি আমরা। এই বর্ণনামূলক জ্ঞান নিয়েই এবার আলোচনা করব আমরা।

    বর্ণনা বলতে আমি বোঝাতে চাইছি এই সেই বস্তু বা অমুক ব্যক্তি–এই জাতীয় যে কোনও বিবৃতিকে। এই সেই বস্তু জাতীয় বিবৃতিকে আমি অনিদিষ্ট বিবৃতি বলব, কিন্তু অমুক ব্যক্তি (একবচনে) একটি সুনির্দিষ্ট বিবৃতি। এভাবে একজন মানুষ। একটি অনির্দিষ্ট বর্ণনা এবং লৌহমুখোশধারী মানুষটি হল একটি সুনির্দিষ্ট বর্ণনা। অনির্দিষ্ট বর্ণনার সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্ন জড়িত থাকে, কিন্তু আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত নয় বলে সেগুলো আমি এড়িয়ে যাচ্ছি। আমাদের বর্তমান আলোচ্য হল সেসব ক্ষেত্রে বিষয়বস্তু সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞানের প্রকৃতি, যেসব ক্ষেত্রে আমরা জানি যে একটি সুনির্দিষ্ট বর্ণনার ব্যাপারে প্রযোজ্য বিষয়বস্তু আছে-যদিও সেসব বিষয়বস্তুর সঙ্গে আমরা পরিচিত নই। এই বিষয়টি একমাত্র সুনির্দিষ্ট বর্ণনার সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট। এজন্য এর পর থেকে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা বুঝাতে শুধুমাত্র বর্ণনা শব্দটিই ব্যবহার করব আমরা। অতএব বর্ণনা বলতে বুঝানো হবে একবচনে অমুক ব্যক্তি ধরনের যে-কোনও বিবৃতিকে।

     

     

    কোনও বস্তুকে বর্ণনার দ্বারা জ্ঞাত বলা যায় একমাত্র তখনই যখন আমরা জানি যে এটি হচ্ছে অমুক বস্তু, অর্থাৎ যখন আমরা জানি যে সেই নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্র সম্পন্ন বস্তু মাত্র একটিই আছে, তার বেশি নেই। আর সেক্ষেত্রে ধরেই নেয়া যায় যে সেই বস্তুটি সম্বন্ধে আমাদের পরিচিতি মারফত কোনও জ্ঞান নেই। লৌহমুখোশধারী মানুষটির যে অস্তিত্ব ছিল তা আমরা জানি, তাঁর সম্বন্ধে নানান কথাও আমাদের জানা আছে, কিন্তু তিনি কে ছিলেন তা আমাদের জানা নেই। আমরা জানি যে প্রার্থী সর্বাধিক ভোট পাবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন এবং এসব ক্ষেত্রে সাধারণত প্রার্থীটির সঙ্গে আমরা পরিচিতও থাকি (একমাত্র যে অর্থে অন্য কারুর সঙ্গে আমরা পরিচিত থাকতে পারি, সেই অর্থে), কিন্তু প্রার্থীদের মধ্যে তিনি ঠিক কোন জন তা আমরা জানি না অর্থাৎ অ-বাবুই সর্বাধিক ভোট পাবেন এই জাতীয় কোনও বিবৃতি আমাদের সামনে থাকে না–যেখানে অনেক প্রার্থীর মধ্যে অ-বাবু হলেন একজন। আমরা বলতে পারি যে অমুক ব্যক্তিটির সম্বন্ধে আমাদের শুধুমাত্র বর্ণনামূলক জ্ঞানই আছে-যদিও আমরা জানি যে সেই ব্যক্তিটির অস্তিত্ব আছে এবং সম্ভবত সেই ব্যক্তিটির সঙ্গে আমরা পরিচিতও, তথাপি এমন কোনও বিবৃতি আমাদের জানা নেই যে অ হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যেখানে এই অ হচ্ছেন এমন একজন যার সঙ্গে আমরা পরিচিত।

     

     

    যখন আমরা বলি অমুক ব্যক্তির বা বস্তুর অস্তিত্ব আছে, তখন তার অর্থ হল এই যে সেই বস্তু বা ব্যক্তি বলতে কেবলমাত্র একটি জিনিস বা একজন ব্যক্তিই আছে। অ হচ্ছে সেই বস্তু বা ব্যক্তি বলতে বোঝায় যে সেই বস্তু বা ব্যক্তির গুণধর্ম একমাত্র অ-এরই আছে, অন্য কারুর নেই। অ-বাবু হচ্ছেন এই এলাকার ইউনিয়নপন্থী প্রার্থী বলতে বুঝায়-অ-বাবুই হচ্ছেন এই এলাকার ইউনিয়নপন্থী প্রার্থী, অন্য কেউ নন। এই এলাকার ইউনিয়নপন্থী প্রার্থীটি অস্তিত্বশীল বলতে বোঝায় এই এলাকার ইউনিয়নপন্থী প্রার্থী একজনই আছেন, অন্য কেউ নেই। এভাবে যখন আমরা কোনও নির্দিষ্ট বিষয়টি সঙ্গে পরিচিত হই তখনও আমরা জানি যে সেই বিষয়টি অস্তিত্বশীল। কিন্তু যখন আমরা সেই নির্দিষ্ট বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত নই তখনও আমাদের জানা থাকতে পারে যে সেই নির্দিষ্ট বিষয়টি অস্তিত্বশীল।

    সাধারণ শব্দসমূহ, এমনকি বিশেষ নামগুলোও, সাধারণত শুধুই বর্ণনামাত্র। অর্থাৎ, কোনও বিশেষ নামকে সঠিকভাবে ব্যবহার করার সময় একজন ব্যক্তির মনের ভাবনাকে যথাযথভাবে অভিব্যক্ত করা যায় সেই বিশেষ নামটির জায়গায় একটি বর্ণনাকে প্রতিস্থাপন করলে। তাছাড়া সেই ভাবনাকে অভিব্যক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় বর্ণনাটি বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হবে, এমনকি একই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম হবে। একমাত্র স্থির বিষয় (যতক্ষণ পর্যন্ত নামটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে) হল সেই বস্তুটি যার সম্বন্ধে নামটি প্রযোজ্য। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত এটি স্থির থাকছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যে বিবৃতিতে নামটি প্রযুক্ত হয়েছে তার সত্য বা মিথ্যার ব্যাপারে নির্দিষ্ট বর্ণনাটি কোনও পার্থক্য সূচিত করে না।

     

     

    কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। মনে করুন বিসমার্ক সম্বন্ধে কোনও মন্তব্য করা হল। নিজের সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরিচিতির মতো একটি বিষয় আছে বলে ধরে নিলে, বিসমার্ক নিজেই হয়তো তার নামটি প্রত্যক্ষভাবে ব্যবহার করতেন সেই বিশেষ ব্যক্তিটিকে চিহ্নিত করার জন্য যার সঙ্গে তার পরিচিত ছিল। এক্ষেত্রে, তিনি যদি নিজের সম্বন্ধে কোনও রায় দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি নিজেই সেই রায়ের একটি অংশ হতে পারেন। এখানে বিশেষ্যবাচক নামটির প্রত্যক্ষ ব্যবহার রয়েছে যা এই ধরনের ক্ষেত্রে সর্বদাই থাকে– অর্থাৎ কোনও একটি নির্দিষ্ট বিষয়কেই হাজির করে এটি, বিষয়বস্তুটির বর্ণনাকে নয়। কিন্তু বিসমার্কের সঙ্গে পরিচিত কোনও ব্যক্তি তার সম্বন্ধে কোনও রায় দিলে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিত। ওই ব্যক্তিটির যা কিছুর সঙ্গে পরিচিত তা হল কিছু ইন্দ্রিয়-উপাত্ত যেগুলোকে তিনি বিসমার্কের শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছেন (এবং আমরা ধরে নেব যে সঠিকভাবেই করেছেন)। বাহ্য বস্তু হিসেবে তার শরীর এবং আর বেশি করে তার মন ওই ব্যক্তিটির জানা ছিল এসব ইন্দ্রিয়-উপাত্তের সঙ্গে সংযুক্ত শরীর ও মন হিসেবেই। অর্থাৎ, এগুলোকে তিনি জানতেন বর্ণনার মাধ্যমে। কোনও ব্যক্তির কথা ভাবার সময় তার চেহারার কোন্ বৈশিষ্ট্যগুলো তার কোনও বন্ধুর মনে ফুটে উঠবে, সেটা অবশ্য নিতান্তই একটা আকস্মিক ব্যাপার। অতএব বন্ধুটির মনে ওই ব্যক্তিটির বর্ণনা একটা আকস্মিক ব্যাপার হিসেবেই থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল এই যে, সে জানে সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনাগুলো একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এমনকি উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটির সঙ্গে তার পরিচিত না থাকলেও প্রযোজ্য।

     

     

    আমরা, যারা বিসমার্ককে চিনতাম না, তারা যখন তার সম্বন্ধে কোনও রায় দিই তখন আমাদের মনের মধ্যে তার বর্ণনাটি ঐতিহাসিক জ্ঞান থেকেই গড়ে ওঠে–তাকে চিহ্নিত করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই জ্ঞান তার থেকে বেশিই হয়। কিন্তু উদাহরণের খাতিরে ধরে নেওয়া যাক আমরা তাঁকে জার্মান সাম্রাজের প্রথম চ্যান্সেলর বলে মনে করছি। এখানে একমাত্র জার্মান শব্দটি ছাড়া বাকি সবকটি শব্দই বিমূর্ত। আবার এই জার্মান শব্দটির অর্থও বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন রকম হবে। শব্দটি শুনলে কারুর মনে পড়বে জার্মানিতে ভ্রমণের কথা, কারুর মনে পড়বে মানচিত্রে জার্মানির অবস্থানের কথা ইত্যাদি। কিন্তু প্রয়োগযোগ্য কোনও বর্ণনা পেতে হলে এক সময় কোনও একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উল্লেখ করতে হবে, যেটির সঙ্গে আমরা পরিচিত। সেটি অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যতের (নির্দিষ্ট তারিখ ব্যতিরেকে) কোনও উল্লেখ হতে পারে, অথবা ইতস্তত কোনও উল্লেখ কিংবা অন্যদের কাছ থেকে শোনা কোনও বিষয়ে উল্লেখও হতে পারে। অর্থাৎ, কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে কোনও বর্ণনার মধ্যে আমাদের পরিচিত কোনও বিষয়ের যেকোনও ধরনের উল্লেখ কোনও না কোনওভাবে অবশ্যই থাকতে হবে যদি না বর্ণিত বিষয়টির সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান ওই বর্ণনার থেকে যৌক্তিকভাবে উদ্ভূত হয়ে থাকে। যেমন সব থেকে দীর্ঘজীবী মানুষ এই বর্ণনাটির মধ্যে শুধুমাত্র সামান্যই (Universal) জড়িত যা অবশ্যই কোনও একজন মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, কিন্তু ওই মানুষটির সম্বন্ধে আমরা কোন রায় দিতে পারি না, কারণ রায় দিতে গেলে এই বর্ণনাটুকু ছাড়া তার সম্বন্ধে আরও কিছু জানা থাকা দরকার। তবে, যদি বলা হয় জার্মান সাম্রাজ্যের চ্যান্সেলর ছিলেন একজন ধূর্ত কূটনীতিবিদ, তাহলে এক্ষেত্রে আমরা আমাদের বক্তব্যের সত্যতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে পারি এমন কিছুর সাহায্যে যার সঙ্গে আমরা পরিচিত সাধারণত শোনা বা পড়া কোনও বিশ্বাসযোগ্য সাক্ষ্যের সাহায্যে। অন্যদেরকে আমরা যে তথ্য দিচ্ছি বা বাদে, প্রকৃত বিসমার্ক সম্পর্কে প্রদত্ত তথ্য বাদে–যেগুলো আমাদের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে আমাদের মধ্যে যা কিছু চিন্তা থাকে তা এক বা একাধিক বিশেষের সঙ্গে জড়িত এবং অন্যথায় শুধুমাত্র ধারণার দ্বারাই গঠিত হয়।

     

     

    লন্ডন, ইংল্যান্ড, ইউরোপ, পৃথিবী, সৌরজগৎ–এককথায়, যে কোনও স্থানের নাম ব্যবহার করায় সময় তার সঙ্গে একইভাবে কোনও না কোনও বর্ণনা জড়িত থাকে, যে বর্ণনার সূচনা হয় আমাদের পরিচিত এক বা একাধিক বিশেষ থেকে। আমার ধারণা এমনকি সমগ্র মহাবিশ্বের (অধিবিদ্যা যেভাবে তাকে ধারণা করেছে) মধ্যও বিশেষের সঙ্গে এরকম একটি সম্পর্ক জড়িত থাকে। পক্ষান্তরে তর্কবিদ্যার ক্ষেত্রে, যেখানে আমরা যা কিছু অস্তিত্বশীল তার কথা তো জানি বটেই, এমনকি যা কিছু অস্তিত্বশীল হতে পারত বা হতে পারে সেসব বিষয়ের কথাও ভেবে থাকি সেক্ষেত্রে কোনও প্রকৃত বিশেষের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না।

    যখন আমরা কেবলমাত্র বর্ণনার দ্বারা জ্ঞাত কোনও কিছু সম্পর্কে মন্তব্য করি, তখন প্রায়শই আমরা আমাদের বক্তব্যকে প্রকাশ করতে চাই বর্ণিত প্রকৃত বিষয়টি সম্পর্কে, ওই বর্ণনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বক্তব্যের আকারে নয়। অর্থাৎ, যখন আমরা বিসমার্ক সম্পর্কে কিছু বলি, তখন আসলে আমরা এমনকিছু বলতে চাই যা একমাত্র বিসমার্ক নিজেই বলতে পারতেন–অর্থাৎ এমন একটি সিদ্ধান্ত যার একটি অংশ তিনি নিজেই। এই প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হতে আমরা বাধ্য, কারণ আসল বিসমার্ককে আমরা জানি না। কিন্তু আমরা জানি যে, বি একটি বিষয়, যার নাম ছিল বিসমার্ক এবং বি একজন ধূর্ত কূটনীতিবিদ ছিলেন। অতএব বক্তব্যটিকে আমরা আমাদের মনমতো করে এভাবে উপস্থাপন করতে পারি যে বি ছিলেন একজন ধূর্ত কূটনীতিবিদ, যেখানে বি হচ্ছে সেই বিষয় যিনি বিসমার্ক নামে পরিচিত ছিলেন। যদি আমরা বিসমার্ককে জার্মান সাম্রাজ্যের প্রথম চ্যান্সেলের হিসেবে বর্ণনা করি, তাহলে যে প্রতিপাদ্যটি আমরা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করব তা এরকম দাঁড়ায় জার্মান সাম্রাজ্যের প্রথম চ্যান্সেলর ছিলেন যে-প্রকৃত ব্যক্তিটি, তার সম্বন্ধে আমাদের বক্তব্য হল যে তিনি ছিলেন একজন। ধূর্ত কূটনীতিবিদ। বিভিন্ন ধরনের বর্ণনা ব্যবহার করা সত্ত্বেও আমরা যে, আমাদের বক্তব্য প্রকাশ করতে পারছি তার কারণ হল এই যে, জানি প্রকৃত বিসমার্ক সম্পর্কে একটি সত্য বিবৃতি আছে এবং বর্ণনাটিকে আমরা যতই পাল্টাই না কেন (যতক্ষণ পর্যন্ত বর্ণনাটি সত্য) বর্ণিত বিবৃতিকে একই থেকে যাবে। বর্ণিত এবং সত্য বলে জ্ঞান এই বিবৃত্তিটিই আমাদের আগ্রান্বিত করে। কিন্তু খোদ বিবৃতিটির সঙ্গে আমরা পরিচিত নই এবং সেটি আমরা জানিও না, যদিও আমরা জানি যে সেটি সত্য।

     

     

    দেখা যাবে যে বিশেষের পরিচিতি থেকে সরে আসার বিভিন্ন ধাপ আছেঃ এমন লোক রয়েছে যারা বিসমার্ককে জানত; ইতিহাসের মাধ্যমে কিছু লোক বিসমার্ককে জানে; লৌহমুখোশধারী ব্যক্তি; সব থেকে দীর্ঘজীবী মানুষরা। এই সমস্ত ধাপগুলো বিশেষের পরিচিতি থেকে ক্রমশ সরে আসছেঃ প্রথম ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তির পরিচিতির ক্ষেত্রে যা সম্ভব; দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আমরা জানতে চাইতে পারি বিসমার্ক কে ছিলেন; তৃতীয় ক্ষেত্রে লৌহমুখোশধারী ব্যক্তিটি কে ছিলেন তা আমরা জানি না, যদিও আমরা তাঁর সম্পর্কে বহু বচনই জানি যা এই তথ্য থেকে যৌক্তিকভাবে নিঃসৃত হয় না যে তিনি লৌহমুখশ পরতেন; চতুর্থ এবং সর্বশেষ ক্ষেত্রে আমরা মানুষের সংজ্ঞা থেকে যৌক্তিকভাবে যা নিঃসৃত হয় তার থেকে বেশি কিছু জানি না। একই ধরনের পরস্পরা রয়েছে সামান্যের ক্ষেত্রেও। অনেক সামান্যই অনেক বিশেষের মতোই বর্ণনার সাহায্যে আমাদের কাছে জ্ঞাত হয়। কিন্তু এখানে, বিশেষের ক্ষেত্রের মতোই, বর্ণনার দ্বারা যে জ্ঞান আমরা পাই তা শেষ পর্যন্ত পরিচিতির জ্ঞানেই পর্যবসিত হয়।

    বচনের বর্ণনামূলক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মূল সূত্র হল : যে সমস্ত বচন আমার বুঝতে পারি তা এমন অংশ নিয়ে গঠিত হওয়া উচিত যার সম্পর্কে আমাদের পরিচিতি আছে।

    আমরা এই অবস্থায় সেই সমস্ত আপত্তির উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব না যে আপত্তিগুলো এই মূল সূত্রের বিরুদ্ধে তোলা যায়। এখনকার জন্য আমরা শুধু এটুকুই বলব যে কোন না কোন উপায়ে এসমস্ত আপত্তির উত্তর দেয়া যায়, কেননা এটা মনে করা যায় না যে আমরা কোন বিধান বা মত গ্রহণ করছি সেই বিষয়টি সম্পর্কে কিছু না জেনেই, অর্থাৎ কি আমরা বিচার করছি বা কি বিষয়ে মত প্রকাশ করছি তা না জেনেই। আমরা অবশ্যই যেসব শব্দ ব্যবহার করি তাতে কিছু অর্থ যুক্ত করব যদি আমরা বিষয়টিকে ফাঁকা আওয়াজে পর্যবসিত না করে অর্থবহ করে তুলতে চাই এবং যে সমস্ত অর্থ আমরা ওই শব্দে যুক্ত করেছি তার সম্বন্ধে অবশ্যই আমাদের পরিচিত থাকা প্রয়োজন। যেমন, যখন আমরা জুলিয়াস সীজার সম্পর্কে কোন বক্তব্য রাখি, তখন এটা একান্তই স্পষ্ট যে জুলিয়াস সীজার নিজে আমাদের মনের সামনে উপস্থিত নেই, যেহেতু আমরা তাঁর সঙ্গে পরিচিত নই। আমাদের মনে জুনিয়াস সীজার সম্পর্কে কিছু বর্ণনা আছে : সেই ব্যক্তি যিনি মার্চ মাসের পনেরো তারিখে নিহত হয়েছিলেন, রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, বা হয়তো শুধুমাত্র সেই ব্যক্তি যার নাম ছিল জুলিয়াস সীজার (এই শেষ বর্ণনাটিতে জুলিয়াস সীজার হল একটি ধ্বনি বা আকার যার সঙ্গে আমরা পরিচিত)। এভাবে আমাদের বক্তব্য ঠিক তা বোঝাচ্ছে না যা সে বোঝাতে চায়, বরং এমনকিছু বোঝাচ্ছে যা জুলিয়াস সীজারের পরিবর্তে তাঁর সম্পর্কে কিছু বর্ণনা তুলে ধরে যেগুলো সম্পূর্ণভাবে বিশেষ এবং সামান্যের দ্বারা গঠিত যার সঙ্গে আমরা পরিচিত।

    বর্ণনামূলক জ্ঞানের প্রধান গুরুত্ব হল এই যে এটি আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বাইরে যেতে সাহায্যে করে। আমরা সত্য সম্পর্কে শুধুমাত্র তাই জানি যা সেই সমস্ত পদ দিয়ে গঠিত যার সম্পর্কে আমাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিচিতি আছে– এই তথ্যটি মনে রেখেও চলা যায় যে আমাদের বিষয়ের বর্ণনামূলক জ্ঞানও হতে পারে যার সম্পর্কে আমাদের কোন অভিজ্ঞতা নেই। আমাদের তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতার খুব স্বল্প পরিধি থাকার জন্য, এই ফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং যতক্ষণ পর্যন্ত এটা বোঝা না যায় ততক্ষণ আমাদের বেশিরভাগ জ্ঞানই রহস্যপূর্ণ তথা সন্দেহজনক থেকে যাবে।

    যেসব শব্দ আমরা ব্যবহার করছি তার অর্থও বুঝতে হবে, যদি আমরা বিষয়টিকে ফাঁকা আওয়াজে পর্যবসিত না করে অর্থবহ করে তুলতে চাই এবং যে সমস্ত অর্থ আমরা ওই শব্দে প্রয়োগ করছি তার সম্বন্ধে অবশ্যই আমাদের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এভাবে, উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা জুলিয়াস সীজার সম্পর্কে কোন বক্তব্য রাখি, তখন এটা স্বাভাবিক যে জুলিয়াস সীজার আমাদের মনের সামনে উপস্থিত নেই, যেহেতু আমরা তাঁর সম্বন্ধে জানি না। আমাদের মনে জুলিয়াস সীজার সম্পর্কে কিছু বর্ণনা আছে, যেমন–সেই ব্যক্তি যিনি মার্চ মাসে দন্ডিত হয়েছিলেন, রোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা বা হয়তো শুধুমাত্র সেই ব্যক্তি যার নাম জুলিয়াস সবজার (এই শেষ বর্ণনাতে জুলিয়াস সীজার হল একটি আওয়াজ বা আকার যার সঙ্গে আমরা পরিচিত)। এভাবে আমাদের বক্তব্য তা বুঝাচ্ছে না যা সে বুঝতে চায়, বরং জুলিয়াস সীজারের পরিবর্তে তার সম্পর্কে কিছু বর্ণনাকে বুঝাচ্ছে যা সম্পূর্ণভাবে বিশেষ এবং সামানে দ্বারা গঠিত, যার সঙ্গে আমরা পরিচিত।

    বর্ণনামূলক জ্ঞানের প্রধান গুরুত্ব হল এই যে এটি আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বাইরে যেতে সাহায্য করে। আমরা সত্য সম্পর্কে শুধুমাত্র তা-ই জানি যা সেই সমস্ত পদ দিয়ে গঠিত যার সম্পর্কে আমাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিচিতি আছে–এই ঘটনা আমাদের বিষয়ের বর্ণনামূলক জ্ঞানও হতে পারে যার সম্পর্কে আমাদের কোন অভিজ্ঞতা নেই। আমাদের তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতার খুব স্বল্প পরিধি থাকার জন্য, এই ফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং যতক্ষণ পর্যন্ত এটা বুঝা যাচ্ছে ততক্ষণ আমাদের বেশিরভাগ জ্ঞানই রহস্যপূর্ণ তথা সন্দেহজনক থাকবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমানুষের কি কোনো ভবিষ্যত আছে? – বার্ট্রান্ড রাসেল
    Next Article ধর্ম ও বিজ্ঞান – বার্ট্রান্ড রাসেল

    Related Articles

    বার্ট্রান্ড রাসেল

    কেন আমি ধর্মবিশ্বাসী নই – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    সুখের সন্ধানে – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    অপেক্ষবাদের অ, আ, ক, খ – বারট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    কর্তৃত্ব ও ব্যক্তিসত্তা – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    ধর্ম ও বিজ্ঞান – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    বার্ট্রান্ড রাসেল

    মানুষের কি কোনো ভবিষ্যত আছে? – বার্ট্রান্ড রাসেল

    October 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }