Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দর্শনের সহজ পাঠ – ভাষান্তর : কাজী মাহবুব হাসান

    কাজী মাহবুব হাসান এক পাতা গল্প641 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অধ্যায় ৩৭ : স্বাধীনতার যন্ত্রণা – জ্যাঁ-পল সার্ত্র, সিমোন দ্য বুভোয়া, আলবেয়ার্ট কামু

    যদি অতীতে, ১৯৪৫ সালের প্যারিসের একটি ক্যাফে, লে দো ম্যাগোতে কোনোভাবে যেতে পারেন আপনি, খুবই সম্ভাবনা আছে কোটর থেকে প্রায় ছিটকে বেরিয়ে আসছে এমনবড় বড় চোখবিশিষ্ট ছোটখাটো এক ব্যক্তিকে আপনি সেখানে আবিষ্কার করবেন, দেখবেন মানুষটি তার মুখে পাইপ দিয়ে ধূমপান করছেন আর একটি নোটবইতে একাগ্রচিত্তে লিখে যাচ্ছেন। এই মানুষটি ছিলেন জ্যাঁ-পল সার্ত্র (১৯০৫-১৯৮০), সবচেয়ে বিখ্যাত অস্তিত্ববাদী দার্শনিক। তিনি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও জীবনীকারও ছিলেন। তিনি তাঁর বেশিরভাগ জীবনই কাটিয়েছিলেন হোটেলে বাস করে, আর লেখালেখির বেশিরভাগই করেছিলেন ক্যাফেতে বসে। তাঁকে দেখে কোনো ধর্মগোষ্ঠীর আকর্ষণীয় গুরুর মতো মনে হয় না, তবে এর কিছুদিন পরই তিনি ঠিক তেমনই একটি চরিত্রে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। এবং প্রায়শই সেখানে একজন সুন্দরী এবং খুবই বুদ্ধিমান রমণী তার সাথে যোগ দিতেন, সিমোন দ্য বুভোয়া (১৯০৮-১৯৮৬), তারা পরস্পরকে চিনতেন কলেজজীবন থেকেই। সিমোন ছিলেন সার্ভের দীর্ঘদিনের বান্ধব, যদিও তারা কখনোই বিয়ে করেননি এবং কখনোই একসাথে বাস করেননি। তাদের অন্য প্রেমিক-প্রেমিকাও ছিল, কিন্তু তাদের পারস্পরিক সম্পর্কটাই ছিল দীর্ঘস্থায়ী। তারা এটি বর্ণনা করতেন আবশ্যিক সম্পর্ক হিসাবে, আর বাকি সম্পর্কগুলোকে চিহ্নিত করতেন contingent, বা আবশ্যিক নয় এমন কোনো সম্পর্ক হিসাবে। সার্ত্রের মতো তিনিও ছিলেন একজন দার্শনিক ও ঔপন্যাসিক। নারীবাদ নিয়ে শুরুর দিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইটি তিনি লিখেছিলেন। ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত সেই বইটির নাম The Second Sex।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বেশিরভাগ সময়ই প্যারিস দখল করে ছিল নাৎসিরা। ফরাসিদের জন্য জীবন তখন খুব সহজ ছিল না। কেউ কেউ বিদ্রোহীদের সাথে যুক্ত হতে পেরেছিল জার্মানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। অন্যরা নাৎসিদের হাতে হাত মিলিয়েছিল, নিজেদের বাঁচাতে বন্ধুদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। খাদ্য ছিল অপ্রতুল, রাস্তায় বন্দুকযুদ্ধ হতো নিয়মিত, মানুষ অদৃশ্য হয়ে যেত, যাদের আর কোনোদিনও দেখা যায়নি। প্যারিসের সব ইহুদিদের পাঠানো হয়েছিল নাৎসি কনসেন্ট্রশন ক্যাম্পে, যেখানে অধিকাংশকেই হত্যা করা হয়েছিল। মিত্রবাহিনী জার্মানিকে পরাজিত করার পর সময় আসে নতুন করে জীবন শুরু করার। এটি একই সাথে শান্তির সেই পরিস্থিতিও, যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এবং সেই অনুভূতি, এবার সেই অতীতকে পেছনে ফেলে আসতে হবে। এটি ছিল এমন একটি সময় তখন ভাবনার দরকার ছিল, ঠিক কেমন করে নতুনভাবে ফরাসি সমাজটি গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তবে এর অতীতকে মূল্যায়ন করে। যুদ্ধের সময় ঘটা ভয়াবহ ঘটনাগুলোর পর, নানাধরনের মানুষরা নিজেদের প্রশ্ন করেছে, যে-ধরনের প্রশ্ন সাধারণত দার্শনিকরা করে থাকেন। যেমন, বেঁচে থাকার অর্থ কী? আসলেই কি ঈশ্বর বলে কেউ আছেন? আমি কি অবশ্যই সেটাই সবসময় করব, যা অন্যরা প্রত্যাশা করে যে আমি করব?

    সার্ত্র ততদিনে একটি বড় আর কঠিন বই লিখে ফেলেছেন, Being andNothingness (১৯৪৩), যুদ্ধের সময়েই এটি প্রকাশিত হয়েছিল। এই বইয়ের মুল বিষয়টি ছিল স্বাধীনতা। মানুষ হচ্ছে স্বাধীন। নাৎসিদের দখল করে রাখা ফ্রান্সের জন্য এটি ছিল অদ্ভুত একটি বার্তা, যখন কিনা ফরাসিরা অনুভব করেছিল, অথবা আসলেই অনুভব করেছে, তারা তাদের নিজেদের দেশেই বন্দী। যদিও তিনি যা বোঝাতে চেয়েছিলেন, তাহলো, ধরুন, একটি ছুরির, ব্যতিক্ৰম, মানুষকে বিশেষ কোনো কাজ করার জন্যে এমন পরিকল্পিতভাবে সৃষ্টি করা হয়নি। সা বিশ্বাস করতেন না যে কোনো ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে, যিনি আমাদের পরিকল্পনা করে সৃষ্টি বা ডিজাইন করতে পারেন। সুতরাং তিনি সেই ধারণাটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যে আমাদের জন্য ঈশ্বরের বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য আছে। ছুরি এমনভাবে পরিকল্পনা করে বানানো হয় যেন এটি কিছু কাটতে পারে। এটাই তার মূল বা ‘এসেন্স’, যে বিষয়টি এটি যা, তাকে সেটি বানায়। কিন্তু মানুষকে কী কাজের জন্যে ডিজাইন করে তৈরি করা হয়েছে? মানুষের কোনো এসেন্স নেই। আমাদের কোনো কারণেই এখানে সৃষ্টি হয়নি, তিনি ভেবেছিলেন। এমন কোনো বিশেষ উপায় নেই মানুষ হবার জন্যে যা আমাদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। একজন মানুষ কী করবে, সেটি সে নিজে নির্বাচন করতে পারে। আমরা সবাই স্বাধীন। আর কেউ না, শুধুমাত্র আপনি পারবেন আপনার জীবন নিয়ে কী করবেন সেটি নির্ধারণ করতে। যদি আপনি অন্য মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে দেন, কীভাবে আপনি বাঁচবেন, সেটিও আবারো, আপনার নিজের ইচ্ছা, একটি চয়েস। অন্য কোনো মানুষ যা প্রত্যাশা করে তেমন মানুষ হওয়াটা আপনার নিজের নির্বাচিত সিদ্ধান্তেরই ফল, একটি চয়েস।

    অবশ্যই যদি আপনার পছন্দমতো কিছু করার জন্যে সিদ্ধান্ত নেন, আপনি হয়তো সবসময়ই সফল হতে পারবেন না সেটি করতে এবং যে-কারণে আপনি সফল হতে পারবেন না সেটি হয়তো পুরোপুরিভাবে আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু সেটি করার ইচ্ছা পোষণ করার জন্য আপনি নিজে দায়ী, আপনিই দায়ী সেটি করার চেষ্টার জন্যে, এবং সেটি করতে আপনার ব্যর্থতার প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করবেন সেটির জন্যেও আপনিও দায়ী। স্বাধীনতা খুব হালকা দায়িত্ব না, এর দায়িত্ব নেয়া বেশ কঠিন, এবং আমরা অনেকেই সেই স্বাধীনতা থেকে পালিয়ে বেড়াই। লুকিয়ে থাকার উপায়গুলোর মধ্যে একটি উপায় হচ্ছে ভান করা যে, আমরা আসলেই স্বাধীন না। যদি সার্ত্র সঠিক হয়ে থাকেন, আমরা তাহলে কোনো অজুহাত দেখাতে পারব না, আমরা পুরোপুরিভাবে দায়ী যা-কিছু প্রতিদিন করছি তার জন্যে এবং যা করছি সে-বিষয়ে যা অনুভব করি তার জন্যে। আমাদের সব আবেগ ও অভিব্যক্তির জন্যেই আমরা দায়ী। সার্ত্রের মতে, যদি আপনি এখন দুঃখিত হয়ে থাকেন, সেটি আপনার নিজের সিদ্ধান্ত বা চয়েস; আপনাকে দুঃখিত হতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যদি আপনি দুঃখিত হন, তাহলে তার জন্যে আপনি দায়ী। বহু মানুষের জন্যে এমন কোনো পরিস্থিতি খুবই ভীতিকর এবং কিছু মানুষের মুখোমুখি না-হওয়াই সমীচীন মনে করেন, কারণ এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক। আমাদের অস্তিত্বের দণ্ড হচ্ছে আমরা স্বাধীন, এ বিষয়েই তিনি লিখেছিলেন, তার ভাষায় আমরা condemned to be free, আমাদের শাস্তি হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা। আমরা এই স্বাধীনতার সাথে যুক্ত হয়ে আছি, আমাদের চাওয়া বা না-চাওয়ার উপর কিছু যায় আসে না। সার্ত্র ক্যাফেতে একজন ওয়েটারকে বর্ণনা করেছিলেন। এই ক্যাফে-ওয়েটার খুব ফ্যাশনদুরস্ত উপায়ে তার কাজ করে যাচ্ছিল, অভিনয় করছিল যেন সে একধরনের পুতুল। তার ব্যাপারে সবকিছুই ইঙ্গিত করছে যে, নিজেকে সে ভাবছে যেন তার দায়িত্ব দ্বারা সে পুরোপুরিভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে একজন ওয়েটার হিসাবে, অন্য কোনো ব্যাপারে তার নিজস্ব কোনো নির্বাচন বা বাছাই নেই। যেভাবে সে ট্রে ধরে থাকে, যেভাবে সে টেবিলের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করে, সবকিছু একটা নাচের মতো, যে নৃত্য পরিচালনা করছে ওয়েটার হিসাবে তার কাজটি, মানুষটি নয়, যে এখানে অভিনয় করছে একটি ভূমিকায়। সার্ত্রের ভাষায় এই মানুষটি একটি bad faith-এ আক্রান্ত, সার্ত্রের bad faith হচ্ছে স্বাধীনতা থেকে পালিয়ে বেড়ানো। এটি একধরনের মিথ্যা, যা আপনি নিজেকে বলবেন এবং প্রায় বিশ্বাসও করবেন: সেই মিথ্যাটি, ইচ্ছামতো আপনার জীবন নিয়ে যা করতে চান তা করার জন্যে আপনি আসলে স্বাধীন না, যখন সার্ত্রের মতে, আপনি পছন্দ করুন বা না করুন, আপনি আসলেই স্বাধীন।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই তিনি একটি বক্তৃতা দিয়েছিলেন, Existentialism is a Humanism, অস্তিত্ববাদ হচ্ছে মানবতাবাদ; যেখানে সার্ত্র বর্ণনা করেন, মানবজীবন পূর্ণ নানা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়। এই উদ্বেগ আসে সেই বোঝাপড়া থেকে যে, আমরা আসলেই কোনো অজুহাত দেখাতে পারব না, বরং আমরা যা- কিছু করছি তার সবকিছুর জন্যে আমরাই দায়ী। কিন্তু এই উদ্বেগ আরো খারাপ কারণ সার্ত্রের মতে, আমাদের জীবনের সাথে আমরা যা-কিছু করি না কেন, অন্যরাও তাদের জীবন নিয়ে করবে এটি তারও একটি টেমপ্লেট বা ছাঁচ। যদি আপনি সিদ্ধান্ত নেন বিয়ে করার জন্যে, আপনি প্রস্তাব করছেন যে সবারই বিয়ে করা উচিত, আপনি যদি অলস হন তার মানে আপনি প্রস্তাব করছেন সবাই সেটাই করুক আপনার মানব-অস্তিত্বের দৃষ্টিভঙ্গিতে। আপনার জীবনে আপনি যেসব চয়েসগুলো নির্ধারণ করবেন বা সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনি যেন একটি দৃশ্য আঁকেন যা প্রদর্শন করে অন্য মানুষের কী করা উচিত সে বিষয়ে আপনি কী চান। যদি আপনি সেটি আন্তরিকভাবে করে থাকেন তাহলে আসলেই এটি অনেক বড় দায়িত্ব। সার্ত্রে ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি anguish of choice বা কোনোকিছু নির্বাচন করার উদ্বেগ বলতে কী বোঝাচ্ছেন। তাঁর একটি ছাত্রের সত্যিকাহিনি বর্ণনা করেছিলেন, যুদ্ধের সময় যে উপদেশ নিতে তাঁর কাছে এসেছিল। এই তরুণের একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সে তার বাড়িতে থাকতে পারে তার মায়ের দেখাশুনা করার জন্য, অথবা সে পালিয়ে যেতে পারে ফরাসি বিদ্রোহীদের সাথে যুক্ত হবার জন্য, যেন সে জার্মানদের পরাজিত করে নিজের দেশকে স্বাধীন করতে পারে। এটাই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত এবং সে মনস্থির করতে পারছিল না কী করবে। সে যদি মাকে ফেলে চলে যায় তাহলে তার মা অসহায় হয়ে পড়বে। সে হয়তো জার্মানদের নজর বাঁচিয়ে ফরাসি বিদ্রোহীদের সাথে যুক্ত নাও হতে পারে, সে হয়তো ধরা পড়তে পারে। আর তখন তার মহৎ কিছু করার সার্বিক প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে এবং জীবনও নষ্ট হবে। কিন্তু যদি সে থাকে বাসায় তার মায়ের সাথে, সে তার হয়ে অন্যদের যুদ্ধ করতে দেবে। তার কী করা উচিত? আপনি হলে কী করতেন? আপনি তাকে কোন্ উপদেশ দিতেন?

    সার্ত্রের উপদেশটি ছিল বেশ হতাশাজনক। তিনি ছাত্রটিকে বলেছিলেন, সে স্বাধীন এবং তার নিজের সিদ্ধান্ততার নিজেকেই বাছাই করতে হবে। যদি সার্ত্র তাঁর ছাত্রকে কোনো ব্যবহার-উপযোগী উপদেশ দিতেন তার কী করা উচিত সে- বিষয়ে, তাহলে ছাত্রটির তারপরও নিজের থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া লাগত, সেটি সে অনুসরণ করবে কি, করবে না। কোনো উপায় নেই দায়িত্বের সেই ভারটিকে এড়ানো, মানুষ হবার কারণে যা আমাদের জীবনের অপরিহার্য একটি অংশ। সার্ত্রের দর্শনকে অন্য মানুষরা নামটি দিয়েছিলেন Existentialism বা অস্তিত্ববাদ; এই নামটি এসেছিল সেই ধারণা থেকে যে, প্রথম যে বোধটি আমরা অনুভব করি, তাহলো এই পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব আছে এবং তারপর আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমরা আমাদের জীবন নিয়ে কী করব। এটা অন্যরকমও হতে পারত: আমরা সবাই ছুরি হতে পারতাম, যাদের ডিজাইন করা হয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ করার কারণে। কিন্তু সার্ত্র বিশ্বাস করতেন, আমরা সেরকম কিছুনই। তার ভাষায় বললে, আমাদের অস্তিত্ব আসে আমাদের এসেন্স-এর আগে, কিন্তু পরিকল্পিত করে বানানো যে-কোনোকিছুরই অস্তিত্বের আগে আসে এর এসেন্স। দ্য সেকেন্ড সেক্স- এ সিমোন দ্য বুভোয়া এই অস্তিত্ববাদের একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এমন দাবি করে যে, নারীরা নারী হিসাবে জন্মায় না, তারা নারীতে রূপান্তরিত হয়। তিনি যা বোঝাতে চেয়েছিলেন, নারীদের প্রবণতা আছে একজন নারী বলতে কী বোঝায় সেই বিষয়ে পুরুষদের/বা সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিটি গ্রহণ ও আত্তীকৃত করে নেবার। কিন্তু পুরুষরা নারীর কাছে কী প্রত্যাশা করছে সেটি হওয়া কিন্তু নারীর জন্য একটি চয়েস, তার স্বাধীণ নির্বাচনের অংশ। নারী, স্বাধীন হবার কারণে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা কী হতে চায়। তাদের কোনো এসেন্স নেই, প্রাকৃতিকভাবে তাদের কোনো পথনির্দেশনা দেয়া নেই, তাদের যা অবশ্যই হতে হবে।

    অস্তিত্ববাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মূল ভাবনা ছিল আমাদের অস্তিত্বের অ্যাবসার্ডিটি বা অর্থহীনতা। জীবনের কোনো অর্থ নেই যতক্ষণ-না আমরা এটিকে একটি অর্থ দিচ্ছি আমাদের সিদ্ধান্ত আর নির্বাচন দিয়ে, এবং তারপর খুব তাড়াতাড়ি মৃত্যু আসে এবং সব অর্থকে অপসারণ করে যা আমরা একটি দিতে পারি। এই বিষয়টির সার্ত্রের সংস্করণ হচ্ছে মানুষকে a useless passion হিসাবে বর্ণনা করা। আমাদের এই অস্তিত্বের আসলেই কোনো অর্থ নেই, প্রত্যেকেই ‘চয়েস’ দিয়ে আমরা শুধুমাত্র যে অর্থগুলো সৃষ্টি করি সেগুলো ছাড়া।

    আলবেয়ার্ট কামু (১৯১৩-১৯৬০), ঔপন্যাসিক দার্শনিক, যার সাথে অস্তিত্ববাদের সম্পর্ক ছিল, তিনি সিসিফাসের পুরাণকাহিনিটি ব্যবহার করেছিলেন মানবজীবনের অদ্ভুত অর্থহীনতাটা প্রকাশ করতে। দেবতাদের প্রতারণা করার দণ্ড হিসাবে সিসিফাসকে শাস্তি দেয়া হয়েছিল যে সে একটি বিশাল পাথরের টুকরাকে ঠেলে ঠেলে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যাবে, কিন্তু যখনই সে চূড়ায় পৌঁছাবে, পাথরটি আবার গড়িয়ে পড়বে নিচে এবং সেটিকে নিচ থেকে উপরে তোলার কাজটি সিসিফাসকে আবার শুরু করতে হয়। সিসিফাসকে এই একটি কাজ বারবার করতে হয় আজীবন। মানুষের জীবনটা সিসিফাসের কাজের মতোই পুরোপুরি অর্থহীন। কোনো লক্ষ্য নেই এর, কোনো উত্তরই এটি ব্যাখ্যা করতে পারবে না সবকিছু, খুবই অদ্ভুত। কিন্তু কামু ভাবেননি যে আমাদের হতাশ হওয়া উচিত। আমাদের উচিত না আত্মহত্যা করা। পরিবর্তে আমাদের শনাক্ত করতে হবে যে সিসিফাস আসলে সুখী। কিন্তু কেন সে সুখী? কারণ পাহাড়ের উপর বিশাল পাথর ঠেলে তোলার মতো অর্থহীন সংগ্রামে কিছু আছে যা বেঁচে থাকাকে মূল্যবান করে তোলে। তারপরও এটি মৃত্যুর চেয়ে শ্রেয়।

    অস্তিত্ববাদ একটি একটি অনুসারী গোষ্ঠীদের সংগঠন বা কাল্টে রূপান্তরিত হয়েছিল। হাজার হাজার তরুণকে এটি আকর্ষণ করেছিল এবং গভীর রাত অবধি মানব-অস্তিত্বের অর্থহীনতা নিয়ে তারা আলোচনা করে কাটিয়েছিল। বহু উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র সৃষ্টির প্রক্রিয়া ও অভিব্যক্তিকে এটি অনুপ্রাণিত করেছিল। এটি এমন একটি দর্শন, যা দিয়ে মানুষ পথ চলতে পারে, তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে এটি ব্যবহার করতে পারে। সার্ত্র নিজেও রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং বয়স বাড়ার সাথে তিনি আরো বেশি বামপন্থী হয়ে উঠেছিলেন। তিনি মার্কসবাদের মূল বিষয়গুলোর সাথে তাঁর আগের ধারণাগুলোকে সংশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে কাজটি বেশ কঠিন ছিল। ১৯৪০-এর দশকে তার অস্তিত্ববাদ মূলত কেন্দ্ৰীভূত ছিল একক ব্যক্তিসত্তার উপর, যে নিজের জীবনের সিদ্ধান্তগুলো নিজে নেয়। কিন্তু তার পরের কাজে, তিনি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন কীভাবে আমরা আরো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং কীভাবে আমাদের জীবনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিয়ামকগুলো তাদের ভূমিকা পালন করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর লেখা আরো অবোধ্য হয়ে উঠেছিল, হয়তো কিছুটা তার কারণ বেশিরভাগ লেখাই তখন লেখা হয়েছে, যখন তিনি অ্যাম্ফিটামিনের নেশায় মত্ত। সার্ত্রের বাবা ছিলেন নৌবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন, কিন্তু শৈশবেই তাকে হারান সার্ত্র, মায়ের খুব সান্নিধ্যে তিনি বড় হয়ে উঠছিলেন, কিন্তু তার বারো বছর বয়সে এবং তাকে বেশ ব্যথিত করেই তার মা আবার বিয়ে করেন। সার্ত্র তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছিলেন প্যারিসে, যেখানে বিশেষ কিছু ক্যাফে এবং জার্দা দ্য লুক্সেমবুর্গে তাকে নিয়মিত দেখা যেত। তাঁর চোখের একটি সমস্যা ছিল, যাকে বলা হয় স্ট্রাবিসমাস, তার চোখগুলো কোনোকিছু দেখার সময় ঠিকমতো তাদের অবস্থানে থাকতে পারত না, বৈশিষ্ট্যসূচক ভারী কাঁচের একটি চশমা পরতেন তিনি। ১৯৬৪ সালে তাকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়, কিন্তু তিনি সেটি নিতে অস্বীকার করেন, কারণ তিনি মনে করতেন সেটি পুঁজিবাদী আর বুর্জোয়াদের পুরস্কার। তিনি লম্বায় বেশি দীর্ঘ ছিলেন না (পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি), এবং প্রায়শই নিজেকে বর্ণনা করেছেন কুৎসিত হিসাবে। ব্যাকব্রাশ করে চুল আঁচড়াতে তিনি পছন্দ করতেন। যখন ১৯৮০ সালে তিনি মারা যান (৭৪ বছর বয়সে), প্রায় ৫০ হাজার মানুষ তার শবযাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন। অস্তিত্ববাদী দর্শন আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসাবে তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন, দর্শন আর চিন্তাকে তিনি আকর্ষণীয় করে তুলেছিলেন তার জনপ্রিয়তার কারণে। তিনি খুব জটিল, সহজে অনুসরণ করা যায় না এমন একটি বই, Being and Nothingness লিখেছিলেন। অনেক দার্শনিক মনে করেন বইটি তাকে খ্যাতি এনে দিয়েছিল, মানুষ সেখানে বর্ণিত তার ধারণাগুলোর যতটা বুঝতে পেরেছিল তার জন্যে নয় বরং বইটি তার সুনাম বাড়িয়েছিল কারণ তারা বিষয়টি তখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি। সার্ত্র ছিলেন সেই সুফল ভোগকারীদের একজন, বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়াংশে যা ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, যে-সময় কোনো বইকে এর ধারণাগুলোর সুস্পষ্টতার জন্য নয়, বরং তাদের রহস্যময়তার জন্য শ্রদ্ধা করার প্রবণতা শুরু হয়েছিল।

    অস্তিত্ববাদ চারটি মূল অন্তর্দৃষ্টির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল

    এক. আমরা যতটা ভাবতে পারি সবকিছু তারচেয়ে আরো বেশি অদ্ভুত : সাৰ্ব খুব একাগ্রভাবেই মনোযোগী ছিলেন, সেইসব মুহূর্তগুলোর প্রতি, যখন পৃথিবী নিজেকে উন্মোচন করেছে আরো বেশি বিস্ময়কর আর অদ্ভুতরূপে, সাধারণত আমরা যতটা স্বীকার করি তারচেয়েও বেশি। যে মুহূর্তে প্রাত্যহিক দিনের সাথে যে-যুক্তিগুলো আমরা যুক্ত করি সেগুলো আর পাওয়া যায় না, সবকিছুই তখন খুববেশি অনিশ্চয়তাপূর্ণ এবং অর্থহীন আর ভীতিকর হয়ে ওঠে। সার্ত্রের প্রথম উপন্যাস Nausea প্রকাশ হয়েছিল ১৯৩৮ সালে। এই উপন্যাসটিতে এ-ধরনের বহু পরিস্থিতির বিবরণ দিয়েছে। একটি মুহূর্তে, বইটির নায়ক, রোকোঁতাঁ, ৩০ বছর বয়স্ক একজন লেখক, যিনি কাল্পনিক একটি সাগরের পাশে একটি বাসায় বাস করতেন, তখন ট্রামে বসে, সিটের উপর তিনি তার হাত রাখেন কিন্তু তারপরই খুব দ্রুত তিনি হাত সরিয়ে নেন। খুব সাদামাটা আর স্বাভাবিক ডিজাইনের অংশ হওয়ার বদলে, যার দিকে মুহূর্তের বেশি মনোযোগ দেবার দরকার নেই, তার কাছে সিটটিকে তাৎক্ষণিকভাবে মনে হয় খুব অদ্ভুত কিছু। ‘সিট’ শব্দটি বন্ধনচ্যুত হয়ে পড়ে এর অর্থের। সিট শব্দটি যে তথ্য নির্দেশ করে সেটি তার সব আদিম উদ্ভটতা নিয়ে প্রকট হয়ে ওঠে, যেন এমন কিছু সে কখনোই আর দেখেননি। এবং এর নির্মাণ উপাদান ও খানিক স্ফীতি সেটি তাকে মনে করিয়ে দেয়া মৃত গাধার ফুলে থাকা পেটের মতো। রোকোঁতা নিজেকে বাধ্য করেন মনে করাতে যে, তার পাশে এই জিনিসটা এমনকিছু যার উপর মানুষ বসে আছে। কিন্তু একটি ভীতিকর মুহূর্তের জন্যে, রোকোঁতা সেটি লক্ষ্য করেছিলেন, যাকে সার্ত্র বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর অর্থহীনতা’। এই মুহূর্তগুলোর অবস্থান আমরা দেখি সার্ত্রের দর্শনের কেন্দ্রে। সার্ত্রীয় হওয়া মানে আমাদের অস্তিত্ব সম্বন্ধে সচেতন হওয়া, আমাদের দিনযাপনে রুটিনের ফলে পাওয়া সবধরনের পূর্বসংস্কার আর স্থিতিশীল করার মতো ধারণাগুলো থেকে যখন সেটি অনাবৃত করা হয়। আমরা আমাদের জীবনের নানাক্ষেত্রে সার্ত্রের এই দৃষ্টিভঙ্গিটি ব্যবহার করতে পারি। চিন্তা করুন পরিচিত কারো সাথে রাতের খাবার খাওয়ার ব্যাপারটা, এই ধরনের বিবরণ, সবকিছুই যুক্তিসঙ্গত মনে হয়। কিন্তু সার্ত্রের উপরিপৃষ্ঠের স্বাভাবিকতাকে সরিয়ে ফেলেন দেখাতে যে কী পরিমাণ বিস্ময়কর অদ্ভুত বিষয় এর নিচে লুকিয়ে আছে। নৈশভোজনের মানে আসলে কী, যখন এই গ্রহের আপনার অংশটি বহুদূরের হাইড্রোজেন বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট শক্তির উৎস থেকে অর্ধেক ঘুরে গেছে, আপনি আপনার হাঁটু ঢুকিয়ে দিচ্ছেন গাছ কেটে বানানো তক্তার নিচে এবং মৃতপ্রাণী ও উদ্ভিদের কিছু অংশ আপনার মুখে নিয়ে চিবাচ্ছেন, যখন আপনার পাশে বসে আছে আরেকটি স্তন্যপায়ী প্রাণী, যার যৌনাঙ্গ আপনি মাঝে মাঝে স্পর্শ করেন, সেও ঠিক একই কাজ করছে। অথবা আপনার কাজকে সার্ত্রের দৃষ্টি দিয়ে দেখার চেষ্টা করুন: আপনি এবং অনেকে কাপড়ে শরীর আবৃত করে একটা বড় বাক্সে এসে উপস্থিত হন অনেকের মতোই, যেখানে আপনারা একে অপরের সাথে উত্তেজিত শব্দ বিনিময় করেন, আপনি বহু প্লাস্টিকের বোতাম চাপেন দ্রুততার সাথে কিছু কাগজের টুকরোর বিনিময়ে। তারপর আপনি থামেন ও চলে যান, পরে আবার যখন আকাশ আলোকিত হয়, আপনিও ফিরে আসেন। (হ্যাঁ, অফিসে)।

    দুই. আমরা স্বাধীন: এইসব অদ্ভুত মুহূর্তগুলো অবশ্যই আমাদের হতবিহ্বল, বরং খানিকটা শঙ্কিত করে। কিন্তু সার্ত্র চেয়েছিলেন সেই সবকিছু যেন আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি প্রধান কারণে: এইসব মুহূর্তগুলোর ক্ষমতা আছে আমাদের মুক্তির অনুভূতি দেবার জন্য। আমরা যা ভাবি জীবন তারচেয়েও অনেক বেশি অদ্ভুত (অফিসে যাওয়া, বন্ধুর সাথে ডিনার খাওয়া, পিতামাতার সাথে দেখা করা, এর কোনোটাই বোধগম্য নয় অথবা কোনোভাবে স্বাভাবিক না) বরং এটি আরো অনেক সম্ভাবনার পরিণতি। যেভাবে সবকিছু আছে ঠিক সেভাবে সবকিছু থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমরা আমাদের যতটুকু কল্পনা করার অনুমতিদিই সাধারণ প্রতিশ্রুতি আর দায়িত্বের চাপে, আমরা তারচেয়েও বেশি স্বাধীন। শুধুমাত্র গভীর রাতে, হয়তো অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে, অপরিচিত কোনো জায়গায় দীর্ঘ যাত্রাপথে আমরা আমাদের মনকে অনুমতি দিই অপেক্ষাকৃত কম প্রথাগত দিকে আমাদের দিবাস্বপ্নকে উড়তে। এই মুহূর্তগুলো একই সাথে অস্বস্তিকর, আবার নিজেদের মুক্তও করে। আমরা বাসা থেকে বের হয়ে যেতে পারি, সম্পর্ক ভাঙতে পারি এবং যে-মানুষগুলোর সাথে আমরা বাস করছি তাদের আর কখনো নাও দেখতে পারি। আমরা আমাদের চাকরি ছেড়ে দিতে পারি, অন্য দেশে চলে যেতে পারি, নিজেদের পুনরায় পুরোপুরি ভিন্ন কোনো একটি মানুষ হিসাবে আবিষ্কার করতে পারি।

    সাধারণত আমাদের কারণেরও কোনো অভাব নেই, কেন এর কোনোটাই সম্ভব হবে না তা ব্যাখ্যা করার জন্য। কিন্তু সার্ত্র তাঁর সংশয়পূর্ণ মুহূর্তগুলোর বিবরণের মাধ্যমে আমাদের নতুন ধরনের কিছু চিন্তা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। যা-কিছু স্বাভাবিক, থিতু হয়ে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি ধ্যানধারণা থেকে তিনি আমাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন আমাদের কল্পনাকে স্বাধীন করার জন্যে। আমরা হয়তো কাজে যাওয়ার জন্যে আবার বাসে উঠব, আন্তরিক নয় এমন কথাই বলব সেইসব মানুষদের সাথে যাদের আমরা পছন্দ করিনা, কিংবা নিরাপত্তার ভ্রান্ত ধারণার উপর আমাদের প্রাণশক্তিকে বিসর্জন দেব। আমাদের স্বাধীনতার পূর্ণ বাস্তবায়নের পথে সার্ত্র বলেছিলেন আমরা মুখোমুখি হব উদ্বেগ বা অস্তিত্বের উদ্বেগ বা anguish-এর। সবকিছুই (ভীতিকরভাবেই) সম্ভব কারণ কোনোকিছুরই পূর্ব-নির্দেশিত, ঈশ্বর-প্রদত্ত অর্থ বা লক্ষ্য নেই। মানুষ তাদের জীবনযাপনের সাথেই এগুলো মনের মতো বানিয়ে নেয়, এবং যে-কোনো মুহূর্তে চাইলে সেই শৃঙ্খলগুলো ছুড়ে ফেলতে পারে। বিবাহ কিংবা চাকরির মতো অমানবিক শৃঙ্খলা আর কিছুই নেই পৃথিবীতে। এগুলো শুধু নির্দেশিকা যা নানা জিনিসের উপর আটকে দিয়েছিল, আর সঠিক অস্তিত্ববাদীর মতোই, আমরা স্বাধীন সেগুলোকে আবার ফেলে দেবার জন্যে। এই সবকিছুই আতঙ্কিত করার মতোই নিদারুণ যন্ত্রণার, সেকারণেই anguish বা উদ্বেগ শব্দটির ব্যবহার। কিন্তু সার্ত্র এই anguish- কে দেখেছিলেন পরিণত হবার চিহ্ন হিসাবে, একটি চিহ্ন যে, আমরা পুরোপুরিভাবে বেঁচে আছি আর সঠিকভাবে বাস্তবতা সম্বন্ধে সচেতন আছি, সচেতন আছি এর স্বাধীনতা, এর সম্ভাবনা এবং এর গুরুভার সিদ্ধান্তগুলো সম্বন্ধে।

    তিন. আমাদের Bad faith নিয়ে বাঁচা উচিত না: স্বাধীনতাকে সঠিকভাবে ব্যবহার না করে বাঁচার বিষয়টিকে তিনি নাম দিয়েছিলেন, Bad faith; আমরা ব্যাড ফেইথে তখনই, যখন আমরা বলি সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট নিয়মে হতে হবে আর চোখ বন্ধ করে রাখি বিকল্প পথগুলোর দিকে। এই ব্যাড ফেইথই জোর করে যে, আমাদের অবশ্যই কোনো একটি বিশেষ ধরনের কাজ করতে হবে, বা কোনো একটি বিশেষ মানুষের সাথে বাস করতে হবে, কোনো একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসতি স্থাপন করতে হবে। Being and Nothingness বইটিতে আমরা সবচেয়ে বিখ্যাত Bad faith-এর উদাহরণটি পাই। যখন সার্ত্র একজন ওয়েটারকে লক্ষ্য করেছিলেন যাকে দেখে তার মনে হয়েছে সে বেশিমাত্রায় তার ওয়েটার হিসাবে ভূমিকায় নিবেদিত, যেন স্বাধীন মানুষ হবার চেয়ে বরং তিনি প্রথমে ও প্রধানত একজন ওয়েটার, তার নাড়াচাড়া দ্রুত এবং অগ্রসর, একটু বেশি নিখুঁত, সুনির্দিষ্ট, একটি বেশি দ্রুত। সে ক্যাফের অতিথির দিকে এগিয়ে আসে খানিকটা বেশি দ্রুত পদক্ষেপে, একটু বেশি আগ্রহে সে সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তার কণ্ঠে আর চোখের দৃষ্টি প্রকাশ করে যেন অতিথির নির্দেশ পালনের জন্য খানিকটা বাড়তি আগ্রহ। সার্ত্রে তাকে চিহ্নিত করেন Bad faith -এ আক্রান্ত হিসাবে। মানুষটি (তিনি সম্ভবত সাঁ-জার্মা’র ক্যাফে দো ফ্লোর-এর কেউ হবেন) তার নিজেকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয়েছে যে সে মূলত আবশ্যিকভাবে একজন ওয়েটার, কোনো স্বাধীন মানুষ নয়, যে-কিনা জাজ পিয়ানোবাদক অথবা উত্তর সাগরে মাছ ধরার জাহাজের কোনো জেলে হতে পারতেন। এই মনের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত, বিকল্পহীন দাসত্ব আজ হয়তো আমরা দেখতে পাই কোনো আইটি ম্যানেজার অথবা স্কুলে সন্তানদের নিতে আসা পিতামাতাদের মধ্যে। তাদের প্রত্যেকেই হয়তো অনুভব করেন: আমি যা করছি তা আমাকে করতে হবে, আমাদের আর কোনো চয়েস বা উপায় নেই, আমি স্বাধীন না, আমার ভূমিকা আমাকে বাধ্য করে করাতে যা আমি করছি। অস্তিত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে কারো স্বাধীনতা বাস্তবায়ন করার সাথে আমেরিকার নব্য সেলফ-হেল্প ধারণাটিকে নিয়ে কোনো সংশয়ে আক্রান্ত হওয়া উচিত না, যে আন্দোলন এখন দাবি করে যে আমরা সবাই চাইলেই যে-কোনোকিছু হতে আর করতে পারি, তার জন্যে কোনো আত্মত্যাগ বা কষ্ট সহ্য না-করেই। সার্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি আরো বিষণ্ন ও ট্র্যাজিক ছিল এই বিষয়ে। তিনি শুধুমাত্র আমাদের দেখাতে চেয়েছিলেন আমরা সাধারণত যতটুকু বিশ্বাস করি, তারচেয়ে বেশি বিকল্প আমাদের আছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রধান বিকল্প (যা সার্ত্র খুবই দৃঢ়ভাবে সমর্থনও করতেন) হতে পারে আত্মহত্যা করা।

    চার. পুঁজিবাদকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলার স্বাধীনতা আছে আমাদের: যে একটি নিয়ামক মানুষকে স্বাধীন হিসাবে ভাবতে নিরুৎসাহিত করে সেটি হচ্ছে টাকা। অধিকাংশ মানুষই সম্ভাব্য বেশকিছু বিকল্পকে বাতিল করে (বিদেশ গমন, নতুন কোনো পেশায় চেষ্টা করা, সঙ্গী পরিবর্তন) এমন কিছু বলে, ‘কাজটি আমি করতাম যদি আমার টাকা নিয়ে কোনো চিন্তা না থাকত।’ টাকার সামনে এই নিষ্ক্রিয়তা সার্ত্রেকে ক্ষুব্ধ করেছিল রাজনৈতিক স্তরে। তিনি পুঁজিবাদকে ভাবতেন একটি বিশাল যন্ত্র যা পরিকল্পিত হয়েছে একটি চাহিদার অনুভূতি সৃষ্টি করার জন্য, বাস্তবে আসলেই যার কোনো অস্তিত্ব নেই: এটি আমাদের নিজেদেরকে বলায় আমাদের কিছু নির্দিষ্টসংখ্যক ঘণ্টা কাজ করতে হবে, কোনো নির্দিষ্ট জিনিস বা সেবা কিনতে হবে, তাদের কাজের জন্য কিছু মানুষকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কম পারিশ্রমিক দিতে হবে। কিন্তু এই সবকিছুতেই শুধুমাত্র আছে স্বাধীনতাকে অস্বীকার করা এবং অন্যভাবে বাঁচার সম্ভাবনাকে আমাদের যতটা গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করা উচিত সেটি অস্বীকার করা। এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সার্ত্রের মার্ক্সবাদের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ ছিল (যদিও তিনি ফরাসি আর সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক ছিলেন)। তাত্ত্বিকভাবে মনে হতে পারে মার্ক্সবাদ মানুষকে তাদের স্বাধীনতা অনুসন্ধান করার সুযোগ দেয়, তাদের জীবনে বস্তুগত নানা চাহিদা, টাকাপয়সা আর সম্পত্তি যে-ভূমিকা পালন করে সেই ভূমিকাটি হ্রাস করে। যা অবশিষ্ট থাকে তা হলো লোভনীয় একটি ভাবনা: আমরা কি রাজনীতি পরিবর্তন করতে পারি আমাদের মৌলিক স্বাধীনতাগুলোর সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করার জন্যে? কীভাবে পুঁজির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিটি বদলাতে পারি আমরা? সপ্তাহে কত ঘণ্টা কারো কাজ করা উচিত? কীভাবে টেলিভিশনে যা দেখানো হচ্ছে, কোথায় মানুষ ছুটি কাটাতে যাচ্ছে অথবা স্কুলে কী পড়ানো আছে তার উন্নতি করা যায়? কীভাবে আমাদের বিষাক্ত আর প্রচারণায় পূর্ণ গণমাধ্যমকে পরিবর্তন করা যেতে পারে। অনেক বেশি পরিমাণ লেখা সত্ত্বেও (তিনি প্রতিদিন প্রায় পাঁচ পাতা করে লিখেছিলেন), সার্ত্র এই বিষয়গুলোয় তাঁর চিন্তা প্রসারিত করেননি। তিনি শুধু সম্ভাবনাগুলোকে দেখিয়ে গেছেন, কিন্তু বাকি কাজটা করার দায়িত্ব আমাদের।

    পরিশেষে, কোনোকিছু যেভাবে আছে সেটি সেইভাবে থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, সার্ত্রে তার এই অবস্থানের জন্য আমাদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন। তিনি বিশালভাবে উপস্থিত আমাদের সব অপূর্ণ সম্ভাবনায়, প্ৰজাতি হিসাবে এবং এককজীবনে। তিনি তাগাদা দিয়েছিলেন আমাদের অস্তিত্বের তরলতাটিকে মেনে নিয়ে এবং নতুন প্রতিষ্ঠান, অভ্যাস, দৃষ্টিভঙ্গি আর ধারণা সৃষ্টি করার জন্য। জীবনকে কোনো পূর্বনির্ধারিত যুক্তি হতে হবে এমন কোনো কথা নেই, এবং অন্তর্গতভাবে এটি অর্থময়ও নয়। আর এটি আমাদের জন্য বড় সান্ত্বনার কারণ হবে যখন প্রথা, ঐতিহ্য, অপরিবর্তনীয় পরিস্থিতি ভারে নিজেদের নির্যাতিত অনুভব করি। বয়ঃসন্ধিকালে সার্ত্র আমাদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী, যখন পারিবারিক ও সামাজিক প্রত্যাশা আমাদের নিষ্পেষিত করতে পারে এবং মধ্যবয়সের কৃষ্ণপর্বটির জন্য, যখন আমরা শনাক্ত করতে পারি এখনও কিছু সময় আছে পরিবর্তন করার জন্য, কিন্তু যদিও পর্যাপ্ত নয় সেই সময়টি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি – রিচার্ড ডকিন্স
    Next Article ধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – রিচার্ড হলোওয়ে

    Related Articles

    কাজী মাহবুব হাসান

    দ্য গড ডিল্যুশন – রিচার্ড ডকিন্স

    July 25, 2025
    কাজী মাহবুব হাসান

    দ্য সেলফিশ জিন – রিচার্ড ডকিন্স

    July 25, 2025
    কাজী মাহবুব হাসান

    ধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – রিচার্ড হলোওয়ে

    July 25, 2025
    কাজী মাহবুব হাসান

    দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি – রিচার্ড ডকিন্স

    July 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }