Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দর্শনের সহজ পাঠ – ভাষান্তর : কাজী মাহবুব হাসান

    কাজী মাহবুব হাসান এক পাতা গল্প641 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অধ্যায় ৪ : দার্শনিকদের থেকে সাবধান – ডায়োজেনিস ও প্রাচীন সিনিক দর্শন

    [প্রাচীন সিনিক দর্শন : আমি ‘সিনিক’ শব্দটি অনুবাদ করছি না, কারণ ‘হতাশাবাদ’ শব্দটি সিনিক দার্শনিকদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না।]

    ১৯৬৭ সালে ডিজনির অ্যানিমেটেড ফিল্ম ‘দ্য জাঙ্গল বুক’-এর একটি চরিত্র, ভালুক ‘বালু’ গানে গানে একটি দার্শনিক ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করেছিল, শুধুমাত্র অবশ্য প্রয়োজনীয় কিছুর উপর সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বালু দর্শকদের সব চিন্তা আর কষ্ট ভুলে যেতে বলেছিল। বালু তাদের শুধুমাত্র অবশ্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে জীবন কাটাতে বলেছিল, কারণ সে সবাইকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রকৃতি মায়ের রেসিপিগুলোই জীবনের অবশ্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোকে বের করে আনে। অবশ্যই বালু কোনো দর্শন পড়েনি, তার জীবনের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি সেখানে আমরা যেমন দেখি, আর যদি সে দর্শন পড়ত তাহলে অবশ্যই সে তার দর্শনের সাথে মিল পেত ডায়োজেনিস অব সিনোপের দর্শনের। ডায়োজেনিস ভালুক ছিলেন না যদিও, তিনি ছিলেন কুকুর ( হ্যাঁ, তাকে সে নামে ডাকা হতো)।

    কুকুরের গ্রিক শব্দ kuon, আর ডায়োজেনিস ও তাঁর সেই দর্শনের অনুসারী দার্শনিকদের বলা হতো, সিনিকস বা Cynics; আর নামটি এসেছে এই প্রাণীটির সম্মানে। মনে রাখা দরকার যে প্রাচীন গ্রিসে কুকুর তেমন পছন্দের কোনো প্রাণী ছিল না। অবশ্য তাদের এই নামে ডাকার আরেকটি কারণ মনে করা হয় প্ৰথম সিনিক দার্শনিক অ্যান্টিসথেনিস এথেন্সে যে জিমনেশিয়ামে পড়াতেন, তার নাম ছিল Kznosarges, যে নামটির অর্থ : place of the white dog; এছাড়াও নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, প্রথম সিনিকদের অপমানসূচক অর্থে কুকুর বলা হতো, কারণ তারা তাদের মতো নির্লজ্জভাবেই সামাজিক সব রীতিনীতি অস্বীকার এবং রাস্তায় বসবাস করতেন বলে। বিশেষ করে ডায়োজেনিসকে কুকুর হিসাবে সম্বোধন করা হয়েছে প্রায়শই। তিনি অবশ্যই এমন খেতাব পছন্দ করতেন, তিনি বলতেন : ‘অন্য কুকুররা তাদের শত্রুদের কামড়ায় আর আমি আমার বন্ধুদের কামড়াই, তবে তাদের সুরক্ষা করতে।’ যাই হোক, ডায়োজেনিস কারো প্রশংসার জন্য কখনোই চিন্তিত ছিলেন না। তিনি রাস্তার কুকুরের মতো জীবনযাপন করতেন, ভিক্ষা করে খাবার সংগ্রহ করতেন এবং যদি মনে করতেন কারো দরকার আছে, আসলেই তাকে লক্ষ্য করে চিৎকার করতেন, হয়তো উপদেশ দিতেন।

    ডায়োজেনিস ও অন্য সিনিক চিন্তাবিদরা এমন একটি শিক্ষা দেবার চেষ্টা করেছিলেন, যার সাথে আমরা ভালুক বালুর সেই গানের মিল পাব। সিনিকরাও ভাবতেন শুধুমাত্র অবশ্য প্রয়োজনীয় কিছু নিয়ে প্রকৃতির নিয়ম মেনেই আমাদের বাঁচা উচিত। তাদের ক্ষেত্রে এটি ছিল, এমনকি জঙ্গলে গাছ থেকেও কোনো ফল না-পেড়ে বরং সামান্য পরিমাণ ডাল খেয়ে বাঁচা; একটি লাঠি বা চামড়ার থলে ছাড়া যাদের আর কোনো সম্পদ ছিল না, এবং তারা থাকতেন কোনো-না-কোনো ভাবে গড়ে নেওয়া আশ্রয়ে। যেমন ডায়োজেনিস থাকতেন একটা বিশাল আকারের মাটির কলসে। কোনো চিন্তা আর সমস্যা ছাড়া বাঁচা শেখাতে সবকিছু থেকে বিচ্যুত জীবনাচরণের উপদেশ দিয়েছিলেন তারা। গ্রিক দর্শনের কিছু চিন্ত াধারার মতো তাদেরও সর্ব্বোচ্চ উদ্দেশ্য ছিল সবধরনের ataraxia আর apatheia: গ্রিক ভাষায় অ্যাটারাক্সিয়া শব্দটির মানে সব উদ্বেগ আর চিন্তা থেকে চলমান অব্যাহত মুক্তি, একটি শক্তিশালী স্থিরতা, আর অ্যাপেথিয়া হচ্ছে মনের সেই অবস্থা যা কোনো প্যাশন বা তীব্রতম আবেগ বিচলিত করতে পারেনা, তবে এটি নির্বিকার কোনো পরিস্থিতি বলা যাবে না, বরং মনমেজাজে বিরাজমান প্রশান্তি।

    কোনো সমস্যা এড়ানোর জন্যে সিনিকদের বৈপ্লবিক উপায়গুলো অনেককেই ভাবতে বাধ্য করেছে সিনিকদের নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে, যেন তারা নিজেরাই মনে হয় আক্রান্ত নানা অস্থিরতায়। ধারণা করা হয়, প্লেটোই ডায়োজেনিসকে বলেছিলেন, ‘পাগল হয়ে যাওয়া এক সক্রেটিস’। তিনি সেই সময়ের পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যদিও প্লেটোর সময়ে না হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই অ্যারিস্টোটলের সময়। অ্যারিস্টোটলও তার কথা বলেছিলেন ও এমনকি তাঁকে ডেকেছিলেন ‘কুকুর’ নামে। কিন্তু সিনিকদের অ্যারিস্টোটল-পরবর্তী কোনো আন্দোলন হিসাবে ভাবা যাবে না, বরং বলা যেতে পারে সক্রেটিস-পরবর্তী একটি আন্দোলন। এমনকি ডায়োজেনিস-এর আগেও সিনিক ছিলেন অ্যান্টিসথেনিস তিনি তার পেশা শুরু করেছিলেন বিখ্যাত সোফিস্ট গর্গিয়াসের সাথে। কিন্তু সক্রেটিসের সাথে তার দেখা হবার পর তিনি বক্তৃতা ছেড়ে, নিজের লেখা পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। জেনেফোন এবং ডায়োজেনিস লেইয়ারশিয়াস তাকে একধরনের চরমপন্থী সক্রেটিসবাদী হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন (ডায়োজেনিস লেইয়ারশিয়াস Lives of the Philosophers নামে দার্শনিকদের জীবনী সংকলন লিখেছিলেন, তিনি ডায়োজেনিস দ্য সিনিক নন)।

    অ্যান্টিসথেনিস শুধুমাত্র সক্রেটিসপন্থী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আদি বা প্রোটো-সিনিক। তিনি তাঁর দরিদ্রতাকে সম্মানসূচক একটি চিহ্ন হিসাবে ধারণ করতেন, দাবি করতেন এটাই সত্যিকারের সম্পদ। তিনি বলেছিলেন, ‘আনন্দ অনুভব করার চেয়ে বরং পাগল হয়ে যাওয়া ভালো’। সম্পদ আর আনন্দের এই অস্বীকার সিনিসিজমের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অ্যান্টিসথেনিসই সমাজের সব ভণ্ডামি আর অহংকারগুলোকে ঠাট্টা করার সিনিকবাদী আচরণটির অগ্রদূত। এথেন্সবাসীদের গর্ব যে, তারা মাটি থেকে জন্ম নেওয়া মানুষের বংশধর, এমন অহংকারকে শ্লেষ করে তিনি বলতেন, ‘পোকামাকড় আর শামুকের জন্য এটা প্রযোজ্য।’ তিনি আরো প্রস্তাব করেছিলেন যে, তাদের একটি গণতান্ত্রিক সম্মেলন করা উচিত এবং গাধাদের ঘোড়া হিসাবে ঘোষণা দিয়ে একটি আইন পাস করা উচিত, আর যাই হোক, তারা তো ভয় পায় না বোকাদের বুদ্ধিমান ভেবে সেনানায়ক হিসাবে ঘোষণা করতে’।

    ডায়োজেনিস লেইয়ারশিয়াসের মতে, তিনি সেই পরিচিত সিনিক-সজ্জায় ঘুরে বেড়াতেন, হাতে লাঠি আর ছোট একটি ব্যাগ নিয়ে, পাতলা কাপড় ছাড়া যাদের পরনে কিছুই থাকত না, শীতের সময় যা তারা আরেক ভাঁজ করে নিতেন, এছাড়া দাড়ি-গোঁফ তো ছিলই, যা কখনোই কাটতেন না। কিন্তু ডায়োজেনিস দ্য সিনিকের নানা গল্প আর বিস্তারিত বিবরণ কতটা পূর্বদৃষ্টিতে প্রযোজ্য ছিল অ্যান্টিসথেনিসের ক্ষেত্রে সেটা নিয়ে ভাবনার অবকাশ আছে। কিন্তু ডায়োজেনিস দ্য সিনিকের গল্পও এসেছে একই জায়গা থেকে, হতে পারে বিশাল একটি অংশ‍ই হয়তো কাল্পনিক। অ্যান্টিসথেনিসের যতটুকুই ভূমিকা থাকুক না কেন এই দর্শনের আন্দোলনটি শুরু করার জন্য বা সিনিক নামটি দেবার জন্য, ডায়োজেনিস অব সিনোপে মূলত সিনিসিজমের প্রতিভূ হয়ে আছে প্রাচীন সেই স্বপ্নে। তাঁকে নিয়ে নানা ঘটনা মাত্র কয়েক হাজার শব্দে সীমাবদ্ধ করা কারো পক্ষে সম্ভব না। শুধুমাত্র সেই ঘটনাগুলো বর্ণনা করা যেতে পারে যে-ঘটনাগুলোর দার্শনিক অর্থ আমরা আলোচনা করতে পারি। তাঁর সম্বন্ধে সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনাটি দিয়ে শুরু করতে পারি আমরা, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট ডায়োজেনিস সম্বন্ধে শুনেছিলেন তার শিক্ষক অ্যারিস্টোটলের কাছে এবং তাঁকে খুঁজে বের করেছিলেন দেখা করার জন্য। এই দার্শনিককে তিনি দেখেছিলেন একটি মদ রাখার মাটির বড় পাত্রের সামনে বসে রোদ পোহাচ্ছেন, এই মাটির বড় পাত্রটিকে তখন তিনি ঘর হিসাবে ব্যবহার করতেন। তাঁর সামনে এসে আলেকজান্ডার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনার জন্য আমি কী করতে পারি? ডায়োজেনিস উত্তরে তাঁকে তাঁর সামনে থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছিলেন, আলেকজান্ডার যেন তাঁর সূর্যের আলো উপভোগ করতে কোনো দিক থেকে বাধা সৃষ্টি না করেন। আরেকটি গল্প অনুযায়ী আলেকজান্ডার নাকি বলেছিলেন, যদি তিনি আলেকজান্ডার না হতেন তাহলে ডায়োজেনিস হতেন। যৌথভাবে এই দুটি কিংবদন্তীর কাহিনী ডায়োজেনিস সম্বন্ধে আমাদের মনে একটা সুস্পষ্ট একটি ধারণা দেয়। তিনি দরিদ্র এবং তাঁর কিছু ছিল না, কিন্তু তারপরও তিনি পুরোপুরিভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলেন। প্রাচীন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাজার ও তাঁকে দেবার মতো কিছু নেই, কারণ প্রকৃতি, এই ক্ষেত্রে সূর্যের আলো ছাড়া, আর কিছুর দরকার নেই তার। তাঁর প্রজ্ঞা মূলত সেটাই, এমন কিছু কামনা না-করা যা কারোর দরকার নেই। ডায়োজেনিসের প্রতি আলেকজান্ডারের এই তথাকথিত মুগ্ধতাও একই সাথে অনেক কিছু বলছে। এমনকি বিত্তবান, শক্তিশালী মানুষরাও সিনিকদের প্রশংসা করতে পারে, কারণ তারা একধরনের স্বাধীনতা উপভোগ করে, আত্মনিয়ন্ত্রণ, যা অর্জন করতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়, যদি আদৌ সেটি কেউ করতে পারে।

    একজন বিখ্যাত স্টয়িক বা বৈরাগ্যবাদী দার্শনিক মন্তব্য করেছিলেন, ‘সিনিসিজম হচ্ছে ভার্চু বা সদ্‌গুণ অর্জন করার সংক্ষিপ্ততম উপায়।’ সে-কারণেই ডায়োজেনিস ও তাঁর অনুসারীদের আবেদন চিরন্তন। এমনকি সেটি পৌছেছিল ফ্রিয়েডরিখ নিচাহ অবধি, যিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘সিনিসিজম হচ্ছে একটি মাত্র রূপ, যেখানে নিম্নমানের কোনো আত্মা সততার নিকটে পৌঁছাতে পারে।’ প্রাচীনকালেই ডায়োজেনিস বাস্তবের চেয়ে আরো বেশি কাহিনি হয়ে উঠেছিলেন। সিনিক সাহিত্যের একটি বিশাল ক্ষেত্র গড়ে উঠেছিল, যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন তিনি। এমনকি মধ্যযুগীয় আরব-সাহিত্যে মাটির পাত্রে বাস করা এই অদ্ভুত দার্শনিকের কথা এসেছে, যদিও একটি ঐতিহাসিক সংশয়ের কারণে তাঁকে সেখানে মনে করা হয়েছে সক্রেটিস। ডায়োজেনিসের জীবনী সম্বন্ধে খুব বেশি তথ্য নেই। তবে তিনি অবশ্যই সিনোপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কৃষ্ণ সাগরের তীরের এই শহরটি বর্তমানে তুরস্কের অংশ। তাঁর বাবা শহরের মুদ্রা তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। কোনো অদ্ভুত কারণে তাঁর বাবা মুদ্রার উপরের খোদাই কাজ নষ্ট করতেন। আরেকটি গল্পে এই দোষটি দেয়া হয়েছে ডায়োজেনিসকে। সিনিক আন্দোলনে এটি প্রতীকীরূপ পেয়েছে ‘মুদ্রা নষ্ট করা’। এর মানে সামাজিক প্রথাকে আক্রমণ করা। এখানে একটি তথ্য দেয়া যেতে পারে যে, মুদ্রা বা কয়েন- এর গ্রিক শব্দ nomisma, প্রথার জন্য ব্যবহৃত শব্দ nomos এর মতোই শুনতে এবং প্রত্নতত্ত্ববিদরা আসলেই সিনোপে এমন মুদ্রা খুঁজে পেয়েছেন যেখানে মুদ্রার উপর খোদাই-কাজ নষ্ট-করা, এদের সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব মধ্য চতুর্থ শতাব্দী।

    যাই হোক না কেন, ডায়োজেনিস তাঁর জন্মশহর থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন, তিনি অবশ্য সেকারণে কোনো অনুশোচনা করেননি। বলেছেন, নির্বাসনই আমাকে দার্শনিক বানিয়েছে।’ আরেকটি বেশ কল্পনাপ্রবণ কাহিনী বলছে, দেশ ছেড়ে পালাবার সময় তাঁকে দাস হিসাবে বিক্রি করার জন্য নিলামে তোলা হয়েছিল, তিনি তার বিক্রেতাকে কে বলেছিলেন, “তাকে এমন কারো কাছে বিক্রি করতে, যার মনিব দরকার।’ তবে ডায়োজেনিসের ভৌগোলিক অবস্থানগুলো চিহ্নিত করা কঠিন, মনে করা হয় আলেকজান্ডারের সাথে তাঁর সাক্ষাৎকারের ঘটনাটি ঘটেছিল করিন্থে। অন্যরা এই ঘটনায় তাঁকে রেখেছেন এথেন্সে; যেখানে তিনি সক্রেটিস যেমন করে থাকতেন সেভাবে থাকার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, যেমন অ্যান্টিসথেনিসও করেছিলেন। যেমনটা ভাবা সম্ভব, প্রাচীন তথ্যসূত্রগুলো তাকে অ্যান্টিসথেনিসের ছাত্র হিসাবে উল্লেখ করেছে, কারণ প্রতিটি বিখ্যাত দার্শনিক আরেকজন বিখ্যাত দার্শনিকের ছাত্র হবে এমনভাবে ভাবার একটি প্রবণতা ছিল সেই সময়। তবে তিনি যেখানে ছিলেন সেখানেই তিনি অনন্য ছিলেন। তিনি তাঁর নিজের আইনে চলেছেন। তিনি যেভাবে পছন্দ করেন, সেভাবেই আচরণ, কথাবলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বাকস্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা মানুষের সবচেয়ে সেরা সম্পদ, এবং তিনি এই স্বাধীনতা ব্যবহার করেছিলেন গ্রিকদের বিরুদ্ধে, তাদের ভণ্ডামিগুলোকে তিরস্কার করতে। একটি বিখ্যাত গল্পে আমরা তাঁকে বাজারে লণ্ঠন হাতে আবির্ভূত হতে দেখি। কী করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, ‘তিনি আসলে মানুষ খুঁজছেন’, যেন এই কথায় শহরের লোকদের যথেষ্ট অপমানিত করা হয়নি। তিনি আরো যোগ করেন, ‘গ্রিসের কোথায় সৎ আর ভালো মানুষ খুঁজে পাবেন, কেউ কি বলতে পারবেন’?

    কিন্তু স্বদেশি গ্রিকরা তার এত ঘৃণার কারণ কেন হয়েছিল? একটি উত্তর হচ্ছে তারা আসলে দরিদ্রতাকে গ্রহণ করে নেয়নি, সেইসাথে এর সঙ্গে অদ্ভুতভাবে যুক্ত থাকা স্বাধীনতা আর স্বনির্ভরতাকেও তারা অর্জন করতে পারেনি। যদি নির্বাসন তাঁকে একজন দার্শনিক বানিয়ে থাকে, এর কারণ নির্বাসন তাঁকে একটি অমূল্য উপহার দিয়েছে, তাঁর দারিদ্র্য। ডায়োজেনিস লেইয়ারশিয়াস থিওফ্রাসটাসকে উদ্ধৃত করে বলেন যে, “ইঁদুর যেমন কোনোকিছু ছাড়াই তাদের জীবন গড়ে নেয়, সিনিকরা তেমনি একটি জীবন মেনে নেয়।’ এমন একটি গল্পে আমরা তাঁকে দেখি লাঠি, থলে আর খাবার জন্যে একটি পেয়ালা ছাড়া কিছু তার নেই, আর যখন তিনি একটি শিশুকে দুই হাত দিয়ে পানি খেতে দেখেছিলেন, তিনি তার পানি পান করার পেয়ালাটাও ফেলে দিয়েছিলেন। ডায়োজিনিস তাঁর এই কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের উপরও আরোপ করেছিলেন, নিজের উপরে যেমন করেছিলেন। একবার তিনি এক ধনীব্যক্তির বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন, তিনি সেই বিলাসবহুল বাসার নানা জায়গা ঘুরে মালিকের মুখের উপর থুতু ছুড়ে মারেন। তিনি হতভম্ব হয়ে যাওয়া সেই মালিককে ব্যাখ্যা করেন যে, তার বাসার সবকিছু এত সুন্দর যে, তিনি কোথাও থুতু ফেলতে পারছিলেন না। তাকে নিয়ে আরো অনেক গল্প আছে, যেমন তিনি টাকাপয়সা সহ্য করতে পারতেন না, তিনি বলতেন, ‘সোনার রং হলুদ কারণ এটি ভয় পেয়েছে এত মানুষের লালসার কারণ হবার জন্যে।’ তিনি অর্থলালসাকে সব অশুভ কাজের জননী হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন (একই রকম বাক্য আমরা পরে গসপেল বা যিশুর জীবনকাহিনিতেও পাই); অ্যান্টিসথেনিসের মতোই তিনি তাঁকে তাঁর দরিদ্রতায় সমৃদ্ধ মনে করতেন।

    সবকিছুই কিন্তু একটি প্রশ্নের জন্ম দেয়, কেন অ্যান্টিসথেনিস আর ডায়োজেনিস, তবে না-খেতে পেয়ে মারা যাননি কেন? ধনীব্যক্তিদের অপমান করা ঠিক আছে, কিন্তু খাদ্যঘাটতির সম্ভাবনা তার চেয়েও অনেক বেশি। তাহলে তারা কীভাবে বেঁচে ছিলেন। অন্ততপক্ষে ডায়োজেনিসের ক্ষেত্রে এর উত্তর হচ্ছে, ভিক্ষা করে। বিষয়টি খানিকটা ভণ্ডামি মনে হতে পারে, যখন কিনা সিনিকরা তাদের স্বনির্ভরতার দাবি করছে। কিন্তু ডায়োজেনিস অন্য মানুষের সম্পদের উপর তাঁর দাবি সমর্থন করতেন এমন একটি শ্লেষাত্মক সিলোজিজমের বাক্যচাতুরী ব্যবহার করে, ‘সবকিছুর উপর দেবতাদের অধিকার আছে, আর বিজ্ঞব্যক্তিরা দেবতাদের বন্ধু, বন্ধুরা সবকিছু নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করেন, সুতরাং সবকিছুই বিজ্ঞব্যক্তিদের।’ ভিক্ষুক হিসাবে তাঁর জীবন অবশ্যই আরো কিছু কাহিনির জন্ম দিয়েছে। যেমন এক ব্যক্তি যখন তাকে ভিক্ষা দেবার জন্য সময় নিচ্ছিলেন, তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ভিক্ষা চাইছি, আমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য খরচ চাইছি না।’ মাঝে মাঝে কোনো মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে ভিক্ষা করতে দেখা যেত, মানুষ প্রশ্ন করলে বলতেন, আসলে তিনি অনুশীলন করছেন, ভিক্ষা দিতে কেউ অস্বীকার করলে, সেই প্রত্যাখ্যান কীভাবে সামাল দিতে হয়। আর প্রাচীন গ্রিসে এইসব মূর্তি মূলত ছিল ধর্মীয় প্রকৃতির, যা আমাদের সিনিকদের সামাজিক প্রথাবিরোধী আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নিয়ে আসে। ধর্মের চেয়ে আর কিছুই গ্রিকসমাজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আর সিনিকরা জেনোফেনেস আর প্লেটোর পথ অনুসরণ করেছিলেন জনপ্রিয় ধর্মবিশ্বাসকে সমালোচনা করার মাধ্যমে।

    অ্যান্টিসথেনিসের সাথে একবার এক যাজকের সাক্ষাৎ হয়েছিল, যিনি দাবি করেছিলেন যে, তার মতো ধর্মবিশ্বাসীরা মৃত্যুর পর বিশেষভাবে পুরস্কৃত হবেন। উত্তরে তিক্তভাবে তিনি জানতে চাইছিলেন, ‘বেশ তাহলে তুমি এখনই মরছ না কেন?’ ডায়োজেনিস একবার এক চোরকে মারধোর করতে দেখেছিলেন মন্দিরের প্রহরীদের, বলেছিলেন, ‘দেখো বড় চোররা ছোট চোরদের ধরছে।’ কিংবা একবার এক মন্দিরে সমুদ্রেঝড়ে বেঁচে যাওয়া নাবিকদের দেবতার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিবেদন করা উপহার দেখে তিনি বলেন, ‘যারা বাঁচেনি তারা যদি নিবেদন করত, পরিমাণ আরো বেশি হতো।’ কিন্তু তার মানে আবশ্যিকভাবে সিনিকরা নাস্তিক ছিলেন না। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায় যে তিনি নাস্তিক ছিলেন না। সিনিকরা স্বর্গীয় সত্তার ধারণাটিকে পরিত্যাগ করেননি ঠিকই, তবে এর সম্বন্ধে মিথ্যা ধারণাগুলো তারা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ঠিক যেভাবে সম্পদ আর স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারণা তারা বাতিল করেছিলেন, কিন্তু সত্যিকারের সম্পদ আর সত্যিকারের স্বাধীনতা তারা কখনো পরিত্যাগ করেনি।

    সিনিকরা বেশ বৈপ্লবিক উপায়ে তাদের ধারণাগুলো প্রচার করতেন, কিন্তু তাদের ধারণাগুলো কি আসলেই বৈপ্লবিক ছিল? বহু দার্শনিকই কিন্তু অবাক হবেন না শুনে যে, সম্পদ হচ্ছে মূল্যহীন, এমনকি অ্যারিস্টোটল সম্পদকে জায়গা দিয়েছিলেন ভালো জীবনে, শুধুমাত্র সদ্‌গুণের উপকরণ হিসাবে। আর সক্রেটিস তো এমন জীবনই কাটিয়েছিলেন। এছাড়া বহু দার্শনিক নিজেদের সাধারণ প্রথাগত ধর্মীয় আচার থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। সিনিকরা বেশি বৈপ্লবিক যদিও আনন্দের ব্যাপারে। যদিও প্লেটো কিংবা অ্যারিস্টোটল ভোগবাদী ছিলেন না, কিন্তু পুরোপুরি তারা সেটি বাদও দেননি। কারণ যে দর্শন দাবি করে আমরা সব আনন্দ বিসর্জন দেব, তা অনুসরণ করা বেশ কঠিন। সিনিকরা এর বিরোধী ছিলেন, যেমন ডায়োজেনিস নিজেই বলেছিলেন, ‘আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখার কাজটাই তো আনন্দের।’ খুব প্রচলিত একটি সিনিক-প্যারাডক্স এটি, আপনি হয়তো ভাববেন, কিন্তু তিনি সেটি অনুসরণ করতেন। সাধারণ খাবারের মধ্যে একবার মিষ্টি কিছু খুঁজে পেয়ে তিনি সেটি ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন, বলেছিলেন, ‘এই অত্যাচারীর কাছ থেকে দূরে থাকো।’ আর অ্যান্টিসথেনিসকে আমরা দেখেছি বলতে, ‘পাগলামিও আনন্দের চেয়ে ভালো।’ আনন্দের বদলে সিনিকরা পরিশ্রম আর সংগ্রামের জীবনকে উৎসাহিত করতেন, গ্রিকরা যাকে বলত, ponos, তবে এর মানে কিন্তু শারীরিক পরিশ্রমের কাজ নয়। ডায়োজিনিস তো ভিক্ষা করে বাঁচতেন, কোনো কাজ করতেন না। এর মানে হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে ইচ্ছা করেই কঠোর জীবন বেছে নেয়া। যেমন একটিমাত্র চাদর আর খালিপায়ে হাঁটা এমনকি শীতের সময়। তাহলে কি সিনিকরা আমাদের বলছেন, আনন্দ শুধু ভালো থেকে আলাদাই নয়, আসলেই খারাপ কিছু? এটি ভোগবাদবিরোধী দার্শনিকদের চেয়েও বেশি দূর হয়ে যাবে, যারা মনে করতেন আনন্দ নিজেই ভালো বা মন্দ কিছু না, তাহলে আমরা তাদের সাথে মিল পাব এমনকি প্লেটোর, যিনি ভালো একটি জীবন থেকে আনন্দকে বাদ দিয়েছিলেন।

    সিনিকদের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হলে তারা কী বর্জন করছেন শুধু সেটি দেখলে হবে না। তারা সামাজিক নিয়মকানুনকে উপেক্ষা করেছেন, তারা কোনো আনন্দ অনুসন্ধান করা থেকে বিরত থেকেছেন, তারা এমনকি নিজেদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে কোনো মাথা ঘামাতেন না এমন সন্দেহ করা যেতে পারে। তবে এই সবকিছুই একটি ইতিবাচক ধারণার খাতিরে, সেটি হচ্ছে জীবনে আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান, যা একটি মাত্র শব্দে প্রকাশ করা যাবে : প্রকৃতি। এখানে আমরা সিনিকদের সাথে অ্যারিস্টোটলের একটি কৌতূহলোদ্দীপক তুলনা করতে পারি। অ্যারিস্টোটলও মনে করতেন যে মানুষের জন্য ভালো একটি জীবন নির্ধারণ করে প্রকৃতি। কিন্তু তিনি মনে করতেন যে আমরা আমাদের প্রকৃতিকে ত্রুটিহীন করতে পারি শুধুমাত্র অসাধারণ প্রচেষ্টায় আমাদের ক্ষমতার সম্পূর্ণ ব্যবহার করে। সিনিকদের মতামত ছিল ভিন্ন। তারা সমাজকে প্রকৃতিবিরুদ্ধ মনে করতেন এবং তারা এমনভাবে আচরণ করতেন যেন সেই সামাজিক প্রথাকে অপমান করা যায়। তাদের কাছে সদ্‌গুণ হচ্ছে প্রাকৃতিক কোনো অস্তিত্ব যেমন, কুকুরদের কাটানো জীবন যেমন। সম্পদ এবং এমনকি যথেষ্ট পরিমাণ কাপড়ও এই প্রাকৃতিক জীবনের পরিপন্থী হতে পারে। আমরা যেমন সেই কাহিনি শুনেছি, ডায়োজেনিস নাকি একবার তাঁর নিজের ভিতরের কুকুরটাকে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন কাঁচা মাংস খেয়ে দেখে। সিনিকদের জীবনাচরণের অদ্ভুত কিছু বৈশিষ্ট্য এটি ব্যাখ্যা করে; যদিও তারা আনন্দকে বর্জন করেছেন কিন্তু তারা প্রাকৃতিক তাড়নাকে পূরণ করতেন যখন ও যেখানে তারা সেটি করার জন্য ভাবতেন। যেমন একবার ডায়োজেনিসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন তিনি বাজারের মধ্যে বসে খাচ্ছেন, তিনি বলেছিলেন, ‘কারণ আমার এখানেই ক্ষুধা পেয়েছে।’ কুখ্যাতভাবে তিনি নিজে বাজারের মধ্যে হস্তমৈথুন করেছিলেন, কিন্তু যখনই তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে এর কারণ, তিনি তার অমর একটি বাণী উপহার দিয়েছেন, ‘হায়, যদি শুধু আমার পেটের উপর হাত বুলিয়ে ক্ষুধা দূর করতে পারতাম আমি।’ অথবা আলেকজান্ডারের সাথে তার সেই বিখ্যাত সাক্ষাৎটির কথা ভাবুন। ডায়োজেনিস কিন্তু সেই মাটির পাত্রের উপর মাথা ঠুকে নিজের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছিলেন না, তিনি রোদ পোহাচ্ছিলেন। মূলত এসব প্রমাণ করে সিনিকরা এভাবে আনন্দবিরোধী ছিলেন না, তারা শুধু সেই আনন্দবিরোধী ছিলেন যা প্ৰকৃতি দেয় না। যদি কোনো কষ্ট ছাড়াই আনন্দ পাওয়া যায়, উপভোগ করুন, যেমন কুকুররা করে,কিন্তু আপনার সুখকে এমন কোনো আনন্দের উপর নির্ভরশীল করে ফেলবেন না যা অর্জন করা কঠিন।

    প্রকৃতি যা দিতে পারে না এমন কিছু প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে সিনিকরা নিজেদের কার্যত অনাক্রম্য করে তোলেন। অথবা সেই আদর্শের কাছে মানুষের পক্ষে যতটুকু যাওয়া সম্ভব। একারণে ডায়োজেনিস বলতেন, ‘দর্শন আপনাকে ভাগ্যের যে-কোনো উত্থান-পতনের জন্য প্রস্তুত করবে, এটি আপনাকে সমৃদ্ধ করবে কোনো সম্পদ না-থাকা সত্ত্বেও।’ সমসাময়িক অনেকেই, সন্দেহ নেই সিনিকদের কাহিনি পড়তেন ও সংগ্রহ করতেন, কারণ সেগুলো আমাদের প্ররোচিত করে। ডায়োজেনিসের পরে বিখ্যাত সিনিক ছিলেন ক্রেটিস, যদিও সিনিকদের সেরা উক্তিগুলো সব অ্যান্টিসথেনিস আর ডায়োজেনিসের, কিন্তু ক্রেটিস সিনিকদের একটি মন্ত্র উচ্চারণ করেছিলেন, ‘দর্শন হচ্ছে এক বস্তা সীমের বিচি, আরো কিছু সম্বন্ধে কোনো চিন্তা না-করা’, এই আদর্শের অনুসন্ধানে তিনি সব সম্পদ বিলিয়ে চূড়ান্ত দরিদ্রের জীবন বেছে নিয়েছিলেন ডায়োজেনিসের মতো। যৌনতার ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন, ক্ষুধা কামনাকে ধ্বংস করবে, যদি না করে, তবে কাজটি করবে সময়, আর যদি আপনি এই দুটির কোনোটাই ব্যবহার না করতে পারেন, তাহলে দড়ি ব্যবহার করতেন পারেন। কিন্তু তাঁর এই কঠোরতা তাঁর জন্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি ভালোবাসা খুঁজে পাবার জন্য। প্রাচীন সাহিত্যের বিষয় হওয়া তাঁর প্রেমকাহিনির নায়িকা ছিলেন উচ্চবংশে জন্ম নেওয়া হিপপারকিয়া, যিনি ক্রেটিসকে বিয়ে করে যোগ দিয়েছিলেন তাঁর সিনিক জীবনে। এমনকি তাঁর ভাইও তাদের সঙ্গী হয়েছিল। আমরা হিপপারকিয়ার দর্শন সম্বন্ধে এখন তেমন কিছু জানিনা, কারণ তারা কেউ কিছু লিখে যাননি। যদিও একটি রিপোর্ট আছে সেখানে তিনি নারী হিসাবে রমণীয় নানা কর্মকাণ্ডে জীবন কাটানোর চেয়ে দার্শনিক হওয়া শ্রেয়তর মনে করেছিলেন। তাঁকে লেখা ক্রেটিস-এর কিছু চিঠিও তথ্য দিয়েছে, সেখানে গৃহস্থালি ও শিশু-প্রতিপালন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তারা আলাপ করেছেন। এছাড়া আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব এমন কিছু কারণে হিপপারকিয়াকে শুধুমাত্র যৌনবস্তু হিসাবে রূপান্তর করার চেষ্টাও করা হয়েছে, যেখানে দাবি করত ক্রেটিস আর হিপপারকিয়া প্রকাশ্যেই সঙ্গম করতেন ডায়োজেনিসের আত্মমৈথুনের পথ অনুসরণ করে।

    আপনি যদি ভেবে থাকেন যে ইন্দ্রিয়পরায়ণ গ্রিকরা এই ঘটনায় আদৌ বিচলিত হয়নি, আবার ভেবে দেখুন। তারা আসলেই বিচলিত হয়েছিল। এবং সেটাই সিনিকরা করতে চেয়েছেন, যখন সক্রেটিস সবাইকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছেন তাদের সাথে কথোপকথন আর যুক্তিতর্ক দিয়ে। সিনিকরা চেষ্টা করেছেন তাদের জীবনের উদাহরণ দিয়ে, সম্পদ ত্যাগ করে এবং তাদের চারপাশের সমাজকে আরো তীব্রভাবে সমালোচনা করার মাধ্যমে। একসময় তাদের বক্তব্য প্রসার করার জন্য তারা কলমও ধরেছেন। ডায়োজেনিস হয়তো কিছু লিখে যাননি, তবে ক্রেটিস সম্ভবত একটি বই লিখেছিলেন; In Praise of Lentil Soup (ডালের প্রশংসায়) ক্রেটিস-এর লেখা বলে মনে করা হয়। এটাই সিনিকদের প্রিয় সাধারণ খাদ্য ছিল। সিনিক-মতাদর্শ রোম সমাজেও প্রবেশ করেছিল, তবে অবশ্যই তাদের সমালোচক ছিল অনেক বেশি। রোমের দার্শনিকদের মধ্যে যিনি সিনিক হিসাবে নিজেকে পরিচিতি দিয়েছিলেন, তিনি ডেমেট্রিয়াস; তিনি একবার ভয়ংকর সম্রাট ক্যালিগুলার দেয়া উপহার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, পরে যখন ক্যালিগুলা সবচেয়ে সুন্দর একটি গোছলখানা বানান, তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘ওখানে যারা গোছল করতে যায়, তারা নিজেদের আরো নোংরা করে।’ খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে আমরা বেশকিছু সিনিক রচনা দেখতে পাই, যারা ডায়োজেনিসের সেই বন্য বুদ্ধিমত্তাটিকে ধরতে চেয়েছিলেন তাদের লেখায়, যা সিরিও-কমিক বলা চলে, যেখানে হাস্যরসের মোড়কে গুরুগম্ভীর ধারণাগুলোকে উপস্থাপন করার চেষ্টা হয়েছিল, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিওন ও মেনিপপাস, যাদের ব্যঙ্গাত্মক শৈলী রোমের সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছিল। সিনিকদের প্রতি রোমান দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল মিশ্র। সিসেরো তাদের পছন্দ করতেন না, কিন্তু এপিকটিটাস, সেনেকা ও অন্যান্য বৈরাগ্যদর্শনবাদীরা তাদের প্রতি খানিকটা শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সিনিকদের অনেকেই ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, কারণ অন্তত তারা ভোগবাদী নন বা তারা আনন্দ অনুসন্ধান করেন না। তাদের ব্যতিক্রম ছিলেন এপিকিউরিয়ানরা, যাদের নিয়ে আমরা পরের অন্য এক অধ্যায়ে কথা বলব। তাদের জীবনযাত্রা সিনিকদের চেয়ে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিল অনেক, কিন্তু অন্য দার্শনিক ধারার অনুসারীরা তাদের প্রতি কেবল ঘৃণা প্রদর্শন করেছে, আংশিকভাবে তার কারণ, তারা ছিলেন ভোগবাদী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি – রিচার্ড ডকিন্স
    Next Article ধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – রিচার্ড হলোওয়ে

    Related Articles

    কাজী মাহবুব হাসান

    দ্য গড ডিল্যুশন – রিচার্ড ডকিন্স

    July 25, 2025
    কাজী মাহবুব হাসান

    দ্য সেলফিশ জিন – রিচার্ড ডকিন্স

    July 25, 2025
    কাজী মাহবুব হাসান

    ধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – রিচার্ড হলোওয়ে

    July 25, 2025
    কাজী মাহবুব হাসান

    দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি – রিচার্ড ডকিন্স

    July 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }