Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দর্শনের সহজ পাঠ – ভাষান্তর : কাজী মাহবুব হাসান

    কাজী মাহবুব হাসান এক পাতা গল্প641 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অধ্যায় ৪৯ : অজ্ঞতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার – জন রলজ

    হয়তো আপনি বিত্তবান কেউ, হয়তো আপনি অতি-ধনী, যাদের বলা হয় সুপার- রিচ। কিন্তু আমরা অধিকাংশই তা নই, আর কিছু মানুষ খুবই দরিদ্র, এতই দরিদ্র যে তারা তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনের বেশিরভাগ অংশই কাটায় অনাহার, ক্ষুধা আর নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে। স্পষ্টতই যা ন্যায়বিচার অথবা নৈতিকভাবে সঠিক বলে মনে হয় না, আর অবশ্যই সেটি তা নয়। পৃথিবীতে যদি আসলেই সত্যিকারের ন্যায়বিচার থাকত,তাহলে কোনো শিশুই অভুক্ত থাকত না, যখন কিনা কিছু মানুষের এতবেশি পরিমাণ টাকা আছে যে তারা জানেনই না সেটি দিয়ে কী করবেন। অসুস্থ হলে প্রত্যেকেরই ভালো চিকিৎসা সেবা পাবার সুযোগ থাকত। যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের দরিদ্রদের চেয়ে আফ্রিকার দরিদ্ররা এত বেশি খারাপ অবস্থায় থাকত না। পশ্চিমের ধনীরা বহু হাজার গুণ বেশি ধনী হতেন না সেইসব মানুষদের তুলনায়, যারা নিজেদের কোনো দোষ ছাড়াই নানা প্রতিবন্ধকতা আর সমস্যাপূর্ণ সমাজে ও পরিবেশে জন্ম নিয়েছেন। ন্যায়বিচার হচ্ছে সব মানুষের সাথে পক্ষপাতহীনভাবে আচরণ করা। আমাদের চারপাশে বহু মানুষ আছেন, যাদের জীবন পরিপূর্ণ নানা ভালো জিনিস দিয়ে, আর অন্যরাও আছেন, নিজেদের কোনো অপরাধের কারণে নয়, যাদের খুব সামান্যই সুযোগ থাকে কীভাবে তারা বাঁচবেন তা বেছে নেবার ক্ষেত্রে : যে কাজ তারা করেন তারা সেই কাজ নিজেরা বাছাই করতে পারেন না, অথবা এমনকি সেই শহরটিও না, যেখানে তারা বসবাস করেন। কিছু মানুষ যারা এই অসমতা নিয়ে ভাবেন, তারা হয়তো শুধু বলেন, ‘বেশ, জীবন তো এরকমই, এটি ন্যায়বিচার করেনা’ এবং তারা তাদের কাঁধ ঝাঁকান। এরা সাধারণত সেইসব মানুষ যারা বিশেষভাবে ভাগ্যবান, অন্যরা অবশ্য তাদের সময় ব্যয় করেন ভাবতে কীভাবে সমাজকে আরো ভালোভাবে সংগঠিত করা সম্ভব এবং হয়তো চেষ্টাও করেন এটিকে আরো ন্যায়বিচারপূর্ণ করে তোলার জন্যে।

    জন রলজ (১৯২১-২০০২)ছিলেন তেমনই একজন নম্র, ভদ্র হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি একটি বই লিখেছিলেন, যা এইসব বিষয় নিয়ে মানুষের ভাবনাগুলো আমূল বদলে দিয়েছিল। ১৯৭১ সালে প্রকাশিত সেই বইটির নাম A Theory of Justice, এটি তাঁর দীর্ঘ বিশ বছরের গভীর ভাবনার ফসল। সত্যিকারভাবে বইটি আসলেই অধ্যাপকদের বই, যা লেখা হয়েছিল অন্য অধ্যাপকদের জন্য, খানিকটা শুষ্ক পাঠ্যপুস্তকের শৈলীতে। তবে এই ধরনের অন্য বইগুলোর ব্যতিক্রম, এটি লাইব্রেরির তাকে অবহেলায় ধুলো সংগ্রহ করেনি, বরং এটি বহুলপঠিত, বহুবিক্রীত বই হিসাবে খ্যাতি পেয়েছিল। এবং একটি উপায়ে এটি এতবেশি অসাধারণ যে বহু মানুষই বইটি পড়েছেন আর ভেবেছেন, আর এর মূল ধারণাগুলো এতবেশি কৌতূহলোদ্দীপক যে খুব শীঘ্রই বিংশ শতাব্দীর প্রভাবশালী বইগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সেরা বই হিসাবে সেটি বিবেচিত হতে শুরু করেছিল, যার পাঠক ছিলেন দার্শনিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদসহ বহু মানুষ। বইটি নিয়ে যদিও এমনকিছু রলজ নিজেই কখনো কল্পনা করেননি যে সম্ভব হতে পারে। রলজ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, ১৯৪৫-এর ৬ আগস্ট, যখন জাপানের হিরোশিমা শহরে পারমাণবিক বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তখন তিনি প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ছিলেন। তাঁর যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং বিশ্বাস করতেন যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা ভুল ছিল। অনেকের মতো যারা সেই সময় বেঁচেছিলেন, তিনিও চেয়েছিলেন একটি আরো ভালো পৃথিবী, আরো একটি উত্তম সমাজ গড়ে তোলার জন্যে। কিন্তু পরিবর্তন আনার জন্য তাঁর বাছাইকৃত পথটি ছিল চিন্তা ও লেখার মাধ্যমে কিছু করা, কোনো রাজনৈতিক দল বা আন্দোলন নয়। যখন তিনি ‘এ থিওরি অব জাস্টিস’ লিখছিলেন, তখন ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলছে, সারা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে তখন যুদ্ধবিরোধী প্রতিবাদ মিছিল চলছে। তাদের প্রত্যেকটি শান্তিপূর্ণ ছিল না। রলজ সেই মুহূর্তের সমস্যাগুলো না নিয়ে, বরং আরো বিমূর্ত ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্নগুলো নিয়ে লিখতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর কাজের কেন্দ্রে ছিল সেই ধারণাটি, আমাদের স্পষ্ট করে ভাবতে হবে কীভাবে আমরা একসাথে বাস করব এই সমাজে আর রাষ্ট্রে, এবংকীভাবে সেটি আমাদের জীবনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ আমাদের অস্তিত্বকে সহনযোগ্য করতে হলে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা করা প্রয়োজন, কিন্তু কীভাবে?

    কল্পনা করুন, আপনাকে একটি নতুন আরো বেশি উত্তম কোনো সমাজ পরিকল্পনা করতে হবে। একটি প্রশ্ন হয়তো আপনি জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে, সেই উত্তম সমাজে কে কী পাবে? যদি আপনি কোনো সুন্দর প্রাসাদে বাস করেন, যেখানে বাসার মধ্যেই সুইমিং পুল আছে, গৃহভৃত্য আছে এবং ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ আছে, আপনি চাওয়ামাত্র কোনো ক্রান্তীয় দ্বীপে আপনাকে যা উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে, আপনি হয়তো এমন কোনো পৃথিবীকে কল্পনা করতে পারেন যেখানে কিছু মানুষ খুবই বিত্তশালী, হয়তো তারা যারা সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করে, অন্যরা অনেক দরিদ্র। আর আপনি যদি এখন দরিদ্র পরিবেশে বাস করেন, আপনি হয়তো এমন একটি সমাজ পরিকল্পনা করবেন যেখানে কারোরই অতিমাত্রায় ধনী হবার সুযোগ নেই, যেখানে যা-কিছু আছে সম্পদ হিসাবে তার উপর সবারই সমান ভাগ থাকবে: কোনো ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ থাকার সুযোগ নেই সেখানে, বরং দুর্ভাগা মানুষদের জন্য ভালো একটি সুযোগ থাকবে সুন্দর একটি জীবন পাবার। মানুষের প্রকৃতি এরকমই : মানুষ সাধারণত নিজেদের অবস্থানের কথা ভাবে, যখন তারা একটি উত্তম পৃথিবীর বিবরণ দেয়, তারা সেটি অনুধাবন করুক বা না-করুক। এই পূর্বসংস্কার আর পক্ষপাতগুলো রাজনৈতিক চিন্তাকেও বিকৃত করে। রলজ-এর প্রতিভার সুস্পষ্ট প্রকাশ ছিল একটি চিন্তার পরীক্ষা উদ্ভাবনে, তিনি যার নাম দিয়েছিলেন The Original Position, যা-কিছু স্বার্থপর পক্ষপাতকে দমিয়ে রাখে যা আমাদের সবার মধ্যে বিদ্যমান। তাঁর মূল ধারণাটি ছিল খুব সরল: একটি উত্তম সমাজ পরিকল্পনা করুন, কিন্তু সেটি করতে হবে সেই সমাজে আপনি কোন্ অবস্থানটি পূর্ণ করবেন বা আপনার অবস্থানটি কোথায় হবে তা না-জেনেই। আপনি জানেন না যে আপনি বিত্তবান না দরিদ্র হবেন সেই সমাজে, আপনার কি কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতা বা প্রতিবন্ধিতা থাকবে কিনা, কিংবা সুদর্শন হবেন কিনা; পুরুষ, নারী, কুৎসিত, বুদ্ধিমান অথবা বোকা, প্রতিভাবান, দক্ষ অথবা অদক্ষ, সমকামী, উভকামী অথবা বিষমকামী ইত্যাদি নানা অবস্থান কোটি আপনার হবে তা আপনার জানা নেই। রলজ বিশ্বাস করতেন এই মূল অবস্থান বা অরিজিনাল পজিশনে দাঁড়িয়ে বা এই কাল্পনিক veil of ignorance বা অজ্ঞতার পর্দার পেছনে দাঁড়িয়ে সমাজ পরিকল্পনার প্রক্রিয়ায় আপনি আরো বেশি পক্ষপাতহীন মূলনীতি বাছাই করবেন, কারণ আপনি জানেন না সেই সমাজে আপনার নিজের অবস্থান কোথায় হবে, কী ধরনের মানুষ আপনি হবেন সেই সমাজে। নির্বাচন করার এই সরল কৌশল, যেখানে আপনার নিজের অবস্থান কী হবে সেটি জানা থাকবে না,তার উপর ভিত্তি করে রলজ তাঁর ন্যায়বিচারের তত্ত্বটি গড়ে তোলেন। আর সেটি দুটি মূলনিতির উপর দাঁড়িয়ে, যেগুলোকে তিনি মনে করেছিলেন সব যুক্তিসংগত মানুষ গ্রহণ করে নেবেন: স্বাধীনতা ও সাম্যর মূলনীতি।

    তাঁর প্রথম মূলনীতিটি ছিল লিবার্টি প্রিন্সিপাল; এটি দাবি করছে সবারই মৌলিক কিছু স্বাধীনতা থাকতে হবে এবং যা অবশ্যই কেড়ে নেয়া যাবে না, যেমন, বিশ্বাসের স্বাধীনতা, তাদের নেতা নির্বাচনে ভোট দেবার স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের ব্যাপক স্বাধীনতা। এমনকি যখন এই সবকিছু স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করলে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবন উন্নত হয়,তারপরও রলজ মনে করতেন, এটি এতবেশি গুরুত্বপূর্ণ যে এই স্বাধীনতাকে সুরক্ষা করা উচিত সবার আগে। সব উদারনীতিবাদীদের মতোই রলজ এইসব মৌলিক স্বাধীনতার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন অনেক বেশি, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে প্রত্যেকেরই এই অধিকার থাকা উচিত, কারোই সেগুলো কেড়ে নেয়া উচিত না। রলজের দ্বিতীয় মূলনীতি, দ্য ডিফারেন্স প্রিন্সিপাল, মূলত সাম্য বিষয়ক। সমাজকে এমনভাবে সংগঠিত করতে হবে যেন সেটি আরো সমপরিমাণ সম্পদ আর সুযোগ দেয় তাদেরকে, যারা সবচেয়ে বেশি সুযোগবঞ্চিত। যদি সবাই ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে, তাহলে সেই অসাম্যকে কেবল তখনই অনুমতি দেয়া যায় যদি সেটি যারা খারাপ আছে তাদেরকে সরাসরিভাবে সাহায্য করে। সর্বনিম্ন বেতন পায় এমন কোনো শ্রমিকের চেয়ে কোনো একজন ব্যাঙ্কার ১০,০০০ গুণ বেশি বেতন পেতে পারেন শুধুমাত্র তখনই যদি সেখানেকম বেতন পাওয়া শ্রমিক সরাসরি উপকৃত হয় এবং বেশি পরিমাণ অর্থ পায় তার পক্ষে কখনো যা আয় করা সম্ভব হতো না যদি ব্যাঙ্কারকে এর চেয়ে কম বেতন-ভাতা দেয়া হতো। যদি রলজ দায়িত্বে থাকতেন, তাহলে কারোরই আর অস্বাভাবিক মাত্রার বোনাস পাওয়া লাগত না, যদি-না সবচেয়ে দরিদ্রতমরা সেই পরিণতিতে বেশি টাকা পেতেন। রলজ মনে করতেন এমনই একটি পৃথিবী কোনো যুক্তিসঙ্গত মানুষের বেছে নেবার কথা, যদি তারা না জানেন তারা নিজেরা কি ধনী না গরিব হবেন। রলজ-এর আগে, দার্শনিক আর রাজনীতিবিদরা, যারা ভাবতেন কার কী পাওয়া উচিত, তারা প্রায়শই এমন কোনো পরিস্থিতির সমর্থন করেছেন যা সর্ব্বোচ্চ গড়পড়তা সম্পদ উৎপাদন করে। এর মানে হতে পারে যে, কিছু মানুষ সুপাররিচ হতে পারে, বহু মাঝারি ধনী হবে এবং অল্পকিছু খুব গরিব হতে পারে। কিন্তু রলজ মনে করতেন, এই পরিস্থিতি আরো খারাপ সেই পরিস্থিতির চেয়ে যেখানে কোনো সুপাররিচ নেই, কিন্তু সবারই অপেক্ষাকৃত কমবেশি সমান ভাগ আছে, যদিও গড় সম্পদের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম।

    এটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া একটি ধারণা, বিশেষ করে তাদের প্রতি, যারা পৃথিবী যেভাবে আছে সেখানে অনেক বেশি বেতন আয় করতে পারেন। রবার্ট নজিক (১৯৩৮-২০০২), আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন রাজনৈতিক দার্শনিক, রলজ-এর চেয়ে বেশি ডানপন্থী ছিলেন যিনি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। নিশ্চয়ই কোনো একজন ভক্ত, যিনি খুব ভালো একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড়কে দেখতে আসেন, টিকিটের মূল্য থেকে একটি অংশ সেই খেলোয়াড়কে দান করার স্বাধীনতা থাকা উচিত। এভাবে নিজেদের টাকা খরচ করার অধিকার তাদের আছে। আর যদি মিলিয়ন সংখ্যক দর্শক তাকে দেখতে আসেন, তবে নজিক মনে করতেন, সেই খেলোয়াড় মিলিয়ন ডলারই আয় করবে ন্যায়সঙ্গতভাবে। রলজ পুরোপুরিভাবে এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে ছিলেন। এই ধরনের কোনো সমঝোতার কারণে যতক্ষণ-না গরিবরা আরো বেশি ধনী হবে, রলজ যুক্তি দেন, তাহলে বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত আয়কে এত উচ্চমাত্রায় বাড়তে দেয়ার অনুমতি দেয়া উচিত না। বিতর্কিতভাবে, রলজ বিশ্বাস করতেন যে, প্রতিভাবান কোনো ক্রীড়াবিদ বা খুবই বুদ্ধিমান কোনো মানুষ হওয়া মানে এই না যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের অনেক বেশি টাকা আয় করার অধিকার আছে। আংশিকভাবে এর কারণ ছিল, তিনি বিশ্বাস করতেন, এই দক্ষতা আর যোগ্যতাগুলো শুধুমাত্র ভাগ্যের ব্যাপার। শুধুমাত্র আপনি বেশিকিছু পাবার যোগ্যতা রাখেন না কারণ আপনি যথেষ্ট ভাগ্যবান যে দ্রুত দৌড়াতে পারেন বা খুব ভালো বল খেলতে পারেন অথবা আপনি খুবই মেধাবী। খেলোয়াড়ি বা বুদ্ধিমত্তার প্রতিভা হচ্ছে প্রাকৃতিক লটারিতে জেতার পরিণতি মাত্র। বহু মানুষ অবশ্য দৃঢ়ভাবেই দ্বিমত পোষণ করবেন রলজ-এর সাথে এবংতারা মনে করেন যে এমনকিছু শ্রেষ্ঠত্বকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা উচিত। কিন্তু রলজ ভাবতেন কোনোকিছু খুব ভালো হওয়া আর আরো বেশি পারিশ্রমিক পাবার দাবির মধ্যে কোনো বাধ্যতামূলক স্বয়ংক্রিয় যোগসূত্রতা নেই। কিন্তু কী হতে পারে যদি অজ্ঞতার সেই পর্দা বা ভেইল অব ইগনোরান্সের পেছনে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ বাজি রাখা শ্রেয়তর মনে করেন? কী হতে পারে যদি সেই মানুষগুলো ভাবেন জীবন এমন একটি লটারি এবং তারা নিশ্চিত করতে চান সমাজে বেশকিছু সমাজে আকর্ষণীয় কিছু পদ থাকবে সেগুলো যেন দখল করা যেতে পারে? জুয়াড়িরা স্পষ্টতই সেই ঝুঁকিও নিচ্ছে যে তারা সমাজে দরিদ্র অবস্থানটিও পেতে পারেন, যদি তাদের একটি সুযোগ থাকে অত্যন্ত ধনী হবারও। সুতরাং তারা এমন একটি পৃথিবী চাইবেন যেখানে বৈচিত্রময় ব্যাপ্তির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকবে, রলজ যেমন চাইছেন তারচেয়েও বেশি। রলজ বিশ্বাস করতেন যে যুক্তিসঙ্গত মানুষ তাদের জীবন নিয়ে বাজি খেলতে চায়না এভাবে। হয়তো তার এই ধারণাটি ভুল ছিল।

    আমরা অনেকেই অনুভব করি যে আমাদের সমাজ খানিকটা, অথবা এমনকি পুরোটাই, অন্যায়ভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট। কিন্তু আমাদের জন্যে বেশ কষ্টকর হয়ে যায় যখন আমরা আমাদের অবিচারের সেই ধারণাটিকে ক্ষমতাবানদের কাছে এমন কোনো উপায়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যা শুনলে যৌক্তিক মনে হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত তিক্ততা বা ঘৃণা নেই সেজন্যেই আমাদের জন রলজকে দরকার, বিংশ শতাব্দীর এই মার্কিন দার্শনিক আমাদের চমৎকার আঁটসাঁট একটি মডেল দিয়েছিলেন সেগুলো শনাক্ত করার জন্যে যা আসলেই অনায্য হতে পারে এবং কীভাবে সেগুলো সমাধান করার আমাদের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করতে পারি। ১৯২১ সালে বাল্টিমোরে জন্ম নেয়া রলজ খুব অল্পবয়স থেকে আধুনিক পৃথিবীর অন্যায় আর অবিচারগুলো দেখেছিলেন ও প্রতিক্রিয়াও দেখিয়েছিলেন। শৈশবে তিনি দেখেছিলেন কীভাবে মেইন অঙ্গরাজ্যের দরিদ্র অঞ্চলে তার স্বদেশি আমেরিকাবাসীরা স্পষ্টতই বঞ্চিত হচ্ছে সেইসব সুযোগগুলো থেকে যে-সুযোগগুলো তার আইনজীবী বাবা আর সমাজকর্মী মা তাকে দিয়েছিল। রলজ একই সাথে যন্ত্রণার বা কষ্টের সেই স্বেচ্ছাচারী অযৌক্তিতায় অভিজ্ঞ হয়েছিলেন যখন তাঁর দুই ভাই সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, যে অসুখ তাদের সংক্রমিত করেছিল তার কাছে থেকেই, তার নিজের অজান্তে। এটি যদি যথেষ্ট না হয়ে থাকে, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখেছিলেন সৈন্য হিসাবে, বিশেষ করে মিত্রবাহিনীর ইউরোপীয় ক্যামপেইনে দ্বিতীয় পর্যায়ে। এই সবকিছুই তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল আদৌ রহস্যময় না এমন একটি মিশন নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার পেশাগত জীবন গড়ে তুলতে; তিনি চেয়েছিলেন চিন্তা আর ধারণার শক্তি ব্যবহার করে যে অন্যায়- পৃথিবীতে তিনি বাস করেন সেটি পরিবর্তন করবেন। হার্ভার্ড আর কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া মেধাবী রলজ তার সময়ের একজন বাস্তবমুখি দার্শনিকে রূপান্তরিত হন; ইসাইয়া বার্লিন, এইচ. এল. এ. হার্ট ও স্টুয়ার্ট হ্যাম্পশায়ারসহ তারা পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন তাদের কাজ দিয়ে (তারা পরস্পরের বন্ধুতেও পরিণত হন)। ১৯৭১ সালে এ থিওরি অব জাস্টিস প্রকাশিত হবার পর রলজ মূলত সুপরিচিত হয়ে ওঠেন, আর তিনি সেকারণে এখনও শ্রদ্ধেয়। ব্যক্তিগতভাবে সফলতা কখনো প্রভাবিত করেনি রলজকে। তিনি খুব বিনয়ী আর দয়ালু মানুষ ছিলেন, তিনি অন্যদের ভাবনাগুলোকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দুটি স্তরেই গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছিলেন। আধুনিক বিশ্বের ন্যায়বিচার সম্বন্ধে তিনি মূলত যা ভাবতেন :

    এক. সবকিছু এখন যেভাবে আছে সেটি পুরোপুরিভাবে অনায্য : সব পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে সমাজে কাঠামোগত অবিচার আছে। আয়ুষ্কাল ও আয়ের তুলনামূলক পরিসংখ্যান আমাদের একটি অনস্বীকার্য নীতিকথার দিকে নির্দেশনা দেয়। কিন্তু তারপরও দিনের পর দিন, আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে এই অন্যায্যতাকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করার জন্যে, বিশেষ করে আমাদের নিজেদের জীবনের সংশ্লিষ্টতায়। এর কারণ শতকণ্ঠ আমাদের সারাক্ষণই বলছে যে, আমরা যদি কাজ করি ও আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে, আমরা অবশ্যই পারব। রলজ খুব ভালো করেই জানতেন যে কীভাবে আমেরিকান ড্রিম রাজনৈতিক পদ্ধতি আর কাঠামো থেকে প্রবেশ করেছে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। এবং তিনি জানতেন এর ক্ষতিকর প্রভাবগুলো। নিশ্চয়ই, বহু মানুষ আছে তারা এই নিখুঁত এই নীতিবাক্যের কাহিনীর উদাহরণ হতে পারে, যেমন, নিঃস্ব থেকে প্রেসিডেন্ট, ধনকুবের কোনো বড় ব্যবসায়ী যারা দরিদ্র অনাথ ছিলেন। আনন্দের সাথে গণমাধ্যমগুলো তাদেরকে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। তাহলে কেন আমরা আমাদের ভাগ্য নিয়ে অভিযোগ করতে পারি যখন কিনা তারা উন্নতির শিখরে উঠতে পেরেছে? রলজ বিষয়টি কখনোই মেনে নেননি। নিশ্চয় তিনি জানতেন অসাধারণ কিছু সফলতার গল্প, কিন্তু তিনি একজন পরিসংখ্যানবিদও ছিলেন, যিনি জানতেন কপর্দকশূন্য থেকে ধনী হবার কাহিনী সার্বিকভাবে এতটাই পরিসংখ্যানগতভাবে তুচ্ছ যে এটি রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মনোযোগ প্রত্যাশা করে না। আসলেই, তাদের কথাবলা অব্যহত রাখা হচ্ছে শুধুমাত্র একটি ধূর্ত রাজনৈতিক চাল, যা পরিকল্পনা করা হয়েছে যেন ক্ষমতাবানদের সমাজকে সংস্কার করার প্রয়োজনীয় দায়িত্ব নিতে না হয়। যেমন রলজ আমাদের জোর করে মনে করিয়ে দেন, আধুনিক যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের অনেক অংশেও, যদি আপনি দরিদ্র হয়ে জন্মগ্রহণ করেন, আপনার দরিদ্র থাকার সম্ভাবনা (এবং অল্পবয়সে মারা যাবার) অনেক বেশি আর তর্কাতীত। কিন্তু আমরা কী করতে পারি এই পরিস্থিতিতে? রলজ রাজনীতিসচেতন ছিলেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, অন্যায্যতা আর অবিচার নিয়ে বিতর্কগুলো, এবং কী করা উচিত এমন প্রশ্নগুলো জটিলতা আর তুচ্ছ দ্বন্দ্বে বছরের পর বছর থমকে থাকে, কোনোকিছুই করা হয়না। সুতরাং রলজ যা করতে চাচ্ছিলেন, সেটি খুব সরল, অর্থনৈতিকভাবে ও বিবাদকুশলতার মাধ্যমে মানুষকে দেখানো কীভাবে তাদের সমাজগুলো অন্যায্য এবং তারা কী করতে পারে, আর এমনভাবে যেন এটি কোনো বিতর্কের জটিলতা অতিক্রম করে হৃদয় আর মনকে স্পর্শ করতে পারে (কারণ তিনি জানতেন রাজনীতিতে আবেগের জায়গা আছে)।

    দুই. কল্পনা করুন আপনি যদি আপনি না হন: কেন সমাজগুলো নায্য হয়ে ওঠে না, তার বড় একটি কারণ হচ্ছে বর্তমানে বিদ্যমান অবিচারের কারণে যারা সুবিধাপ্রাপ্ত হচ্ছে তাদের সেই প্রয়োজনীয়তা নেই এই বিষয়টি গভীরভাবে ভাবা যে, কেমন হতো যদি তাদের ভিন্ন কোনো পরিস্থিতে জন্ম হতো। তারা সাধারণত সব পরিবর্তনের বিরোধিতা করেন, কারণ তাদের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে আছে সংস্কার আর পক্ষপাতিত্ব। রলজ সহজাতভাবে বুঝতে পেরেছিলেন, আগে এই মানুষগুলোকে বোঝাতে হবে, তাদের দলে আনতে হবে, তারপর তাদের কল্পনা ও জন্মগত নৈতিকতার বোধের কাছে কোনো-না-কোনোভাবে বিষয়গুলোকে উপস্থাপন করতে হবে। সুতরাং তিনি রাজনৈতিক চিন্তার ইতিহাসে অন্যতম সেরা একটি চিন্তার পরীক্ষা উদ্ভাবন করেন, যা অনায়াসে হবস, রুসো আর কান্টের সমতুল্য হতে পারে। এই পরীক্ষাটি ছিল, veil of ignorance, অজ্ঞতার পর্দা, এর মাধ্যমে রলজ আমাদের নিজেদের জন্মের আগে সচেতন, বুদ্ধিমান সত্তা হিসাবে কল্পনা করতে আহ্বান জানান, কিন্তু আমাদের জানা থাকবে না যে, কোন্ ধরনের পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে আমরা জন্ম নিতে যাচ্ছি। আমাদের ভবিষ্যৎ ঢাকা অজ্ঞতার পর্দা দিয়ে। এই গ্রহের বাইরে দাঁড়িয়ে, আমাদের জানা থাকবে না, কী ধরনের বাবা-মা আপনি পাবেন, আপনার থাকার পরিবেশটি কেমন হবে, কেমন হবে আমাদের স্কুল বা স্থানীয় হাসপাতালে আমরা কীভাবে চিকিৎসা পাব, কীভাবে পুলিশ বা বিচারব্যবস্থা আমাদের সাথে আচরণ করতে পারে ইত্যাদি। যে প্রশ্নটি রলজ আমাদের সবাইকে ভাবতে বলেছিলেন, সেটি হচ্ছে : যদি আমাদের কিছুই জানা না থাকে, আমরা কোথায় জন্ম নেব, কোন্ পরিস্থিতিতে বেড়ে উঠব, তাহলে কোন্ ধরনের সমাজে প্রবেশ করার জন্য আমরা নিরাপদ বোধ করব? কোন্ ধরনের রাজনৈতিক পদ্ধতি যুক্তিসঙ্গত আর সুস্থ হতে পারে আমাদের বাঁচার জন্য, আর অজ্ঞতার পর্দা যে চ্যালেঞ্জটি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছে সেটির মোকাবেলা করার জন্য? বেশ, অন্তত একটা বিষয় স্পষ্ট, অবশ্যই আমেরিকা নয়। আমেরিকায় বহু আর্থসামাজিক পরিস্থিতি আছে যেখানে জন্ম নেয়া সুখকর হতে পারে, দেশে বহু অংশেই ভালো স্কুল আছে, নিরাপদ পরিবেশ আছে, কলেজে যাবার সুযোগ আছে, ভালো চাকরি পাবার উপায় আছে এবং কিছু চমৎকার অভিজাত কান্ট্রি ক্লাবও আছে। খুব বাড়িয়ে যদি বলা হয়, তাহলে এই বিশাল এবং সুন্দর দেশে শতকরা ৩০ শতাংশমানুষ এই সুযোগসুবিধা পায়। বিস্ময়ের কারণ নেই কেন এই পদ্ধতিটি বদলায় না: কারণ তাহলে অনেক বেশি মানুষ, বহু মিলিয়ন মানুষ, এর থেকে উপকার পায়। আর এখানে veil of ignorance কাজে আসে। এটি আমাদের সেই মানুষগুলো, যারা ভালো করেছে, তাদের নিয়ে চিন্তা করতে বাধা দেয় বরং আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেই ভয়াবহ ঝুঁকিটার দিকে যা সংশ্লিষ্ট থাকে অজ্ঞতার পর্দার আড়ালে কোনো লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে প্রবেশ করার সাথে, কোথায় আপনার জন্ম হবে সেটি না জেনেই, কোনো শিল্পপতির ঘরে, নাকি পিতৃহীন কোনো বস্তিবাসী মায়ের ঘরে। এই জন্ম-লটারিতে মানসিকভাবে সুস্থ এমনকি কোনো জুয়াড়ি আছেন যিনি কিনা আসলেই বাজি খেলবেন বাকি ৭০ শতাংশ মানুষের অংশ হিসাবে জন্ম নেবার জন্যে, যাদের জন্য আছে শুধুমাত্র নিম্নমানের স্বাস্থ্যসুবিধা, অপ্রতুল আবাসন, আইন আর শিক্ষাসুবিধা পাবার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা? নাকি সেই যৌক্তিক জুয়াড়ি দাবি করবেন পুরো খেলার নিয়ম বদলাতে, ভালো কোনো ফলাফলের জন্য যা সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেবে যে-কোনো একক খেলোয়াড়কে?

    তিন. আপনি যা জানেন সেটি ঠিক করতে হবে: রলজ এই প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন আমাদের হয়ে, যে-কোনো সুস্থ জুয়াড়ি যারা এই অজ্ঞতার পর্দার আড়ালে চিন্তার খেলাটি খেলবে, তারা এমন একটি সমাজ চাইবে যে কিছু জিনিস অবশ্যই জায়গামতো থাকতে হবে। তারা চাইবেন সব স্কুলগুলোর মান যেন খুব ভালো হয় (এমনকি সরকারি স্কুলগুলোও), হাসপাতালগুলো যেন চমৎকার চিকিৎসাসেবা দেয় (সবগুলো, এমনকি যেগুলো বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়), তারা সবাই এমন আইনকাঠামো চাইবে যা নিরপেক্ষ আর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, সবার জন্য উপযুক্ত বাসস্থান হবে। এই অজ্ঞতার পর্দা সবাইকে বাধ্য করে মেনে নিতে যে-দেশে তারা আসলেই চাইছেন জন্ম নিতে সেই দেশটি হয়তো ডেনমার্ক বা সুইজারল্যান্ডের মতো কোনো দেশ হবে, এর মানে এমন কোনো দেশ যেখানে আপনার যেখানেই জন্ম হোক না কেন আপনি খুব খারাপ কোনো পরিস্থিতিতে পড়বেন না। সেখানে যানবাহন ব্যবস্থা, স্কুল, হাসপাতাল এবং রাজনৈতিক পদ্ধতি থাকবে যেটি যথেষ্ট পরিমাণ ভালো, সমাজের কোন্ স্তরে আপনার জন্ম হচ্ছে তার উপর বিষয়টি নির্ভর করবে না। অন্যার্থে, আপনি জানেন কোন্ ধরনের সমাজে আপনি বাস করতে চান। কিন্তু সেই বিষয়টির উপর আপনি শুধু নজর দেননি এখন অবধি। রলজের এই চিন্তার পরীক্ষাটি আমাদের সুযোগ করে দেয় নৈর্ব্যাক্তিকভাবে ভাবতে, বিস্তারিতভাবে একটি ন্যায্য সমাজ কেমন দেখতে হতে পারে। যখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব আমাদের সম্পদ বণ্টনে, আমাদের নিজেদের পক্ষপাতিত্ব অতিক্রম করে আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, এই বিষয়টি নিয়ে আমি কীভাবে অনুভব করতে পারি যদি আমি অজ্ঞতার পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকি? আর ন্যায্য উত্তরটি আবির্ভূত হবে সরাসরি, যখন আমরা ভাবব সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও যদি আমাদের জন্ম হয়, তারপরেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকার জন্যে আমাদের আসলে কী দরকার।

    চার. এর পরে কী করতে হবে: অনেককিছু নির্ভর করছে আপনার সমাজের যা সমস্যা আছে তার উপর: এই অর্থে রলজ উপযোগীভাবে অন্ধবিশ্বাসী ছিলেন না, তিনি শনাক্ত করেছিলেন যে অজ্ঞতার পর্দার পরীক্ষা ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসবে ভিন্ন ভিন্ন প্রসঙ্গে। কারো জন্যে অগ্রাধিকার হবে বায়ুদূষণ বন্ধ করা, অন্যদের জন্য স্কুলপদ্ধতির পরিবর্তন। কিন্তু যখন তিনি বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে যুক্তরাষ্ট্রের কথা ভাবছিলেন, রলজ দেখতে পাচ্ছিলেন কিছু স্পষ্ট বিষয় আছে যেখানে কিছু করা প্রয়োজন: শিক্ষাব্যবস্থাকে রাতারাতি উন্নত করতে হবে। নির্বাচনের জন্যে ধনী যেমন সুযোগ পাবে, দরিদ্রদেরও তেমন সুযোগ থাকা উচিত, সব পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করতে হবে। রলজ আমাদের সেই উপকরণটি দিয়েছেন যা দিয়ে আমরা আমাদের সমাজকে সমালোচনা করতে পারি চমৎকার একটি সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে। আমরা জানি কখন আমাদের এই সমাজকে আমরা ন্যায়বিচারপূর্ণ একটি সমাজে রূপান্তর করতে পারব, যখন জন্মের আগে সব সততার সাথে একটি কাল্পনিক অজ্ঞতা পর্দার আড়াল থেকে আমরা বলতে পারব, আমরা আদৌ চিন্তিত নই আমাদের ভবিষ্যৎ পিতামাতার পরিস্থিতি যেমন হোক না কেন, বা যে-কোনো পরিবেশে আমাদের জন্ম হোক না কেন। আর আমরা যে এখন সেই চ্যালেঞ্জটা কোনোভাবেই মানতে পারবনা সেটি প্রমাণ করে ঠিক কতটা অন্যায্যতা আমাদের সমাজে এখন রয়ে গেছে, আর সেকারণে আমাদেরও আরো অনেক কিছু অর্জন করারও বাকি আছে।

    বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময়জুড়ে বহু দার্শনিকই অতীতের মহান দার্শনিকদের সাথে তাদের সংযোগটি হারিয়ে ফেলেছিলেন, কিন্তু রলজের ‘থিওরি অব জাস্টিস’ সেই শতাব্দীতে রাজনৈতিক দর্শন সম্বন্ধে লেখা হয়েছে অল্পকিছু বইয়ের একটি, যা অ্যারিস্টোটল, হবস, লক, রুসো, হিউম ও কান্টের সাথে একই নিশ্বাসে উচ্চারণ করার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। রলজ নিজে অবশ্যই খুবই বিনয়ী ছিলেন এই বিষয়টিতে একমত হবার জন্য। তার উদাহরণ যদিও অনুপ্রাণিত করেছে নতুন প্রজন্মের দার্শনিকদের যারা আজও লিখছেন, যেমন মাইকেল সান্ড্যাল, থমাসপজ, মার্থা নাসবম এবং উইল কিমলিকা, তারা সবাই বিশ্বাস করেন যে দর্শনের দায়িত্ব গভীর আর কঠিন প্রশ্নগুলোর মোকাবেলা করা : কীভাবে আমরা একসাথে বাস করতে পারি, কীভাবে আমাদের সবার একসাথে বাস করা উচিত, আর আগের প্রজন্মের কিছু দার্শনিকদের ব্যতিক্রম, তারা ভীত নন সেগুলোর উত্তর দেবার জন্য এবং সামাজিক পরিবর্তন আনার জন্য। তারা বিশ্বাস করেন শুধুমাত্র আমরা কীভাবে বাঁচব তা নিয়ে আলোচনাটিকে পরিবর্তন না করে দর্শনের আসলে উচিত আমরা কেমনভাবে বাঁচব সেটি পরিবর্তন করা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি – রিচার্ড ডকিন্স
    Next Article ধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – রিচার্ড হলোওয়ে

    Related Articles

    কাজী মাহবুব হাসান

    দ্য গড ডিল্যুশন – রিচার্ড ডকিন্স

    July 25, 2025
    কাজী মাহবুব হাসান

    দ্য সেলফিশ জিন – রিচার্ড ডকিন্স

    July 25, 2025
    কাজী মাহবুব হাসান

    ধর্মের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – রিচার্ড হলোওয়ে

    July 25, 2025
    কাজী মাহবুব হাসান

    দ্য ম্যাজিক অব রিয়েলিটি – রিচার্ড ডকিন্স

    July 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }