Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাকাহিগড় অভিযান – ৩

    ৩

    লাল মাটির কাকর-পাথর মেশানো পথ। তারই দু’পাশে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা আরও কত কী গাছ। একপাশে ফুলের, এক পাশে ফলের। একটা গাছের দিকে আঙুল দেখিয়ে চন্দন বলল, মামা, এটা কী গাছ গো?

    এটা তো ইউক্যালিপ্টাস।

    ও। আর ওই যে ফুলের গাছ ওগুলো? ওগুলোর নাম কি? একটার নাম অবশ্য আমি জানি, মাধবীলতা।

    তার পাশে মালতী, কুঞ্জলতা, অ্যান্টিগোনান আরও কত আছে।

    আর ওই যে ওই গাছগুলো?

    ওগুলো অবশ্য ফুল গাছ নয়। তবে নাম জানি না।

    অমনি পিছন থেকে কে যেন সুরেলা গলায় বলে উঠল, ওগুলো জলপাই গাছ। আর ওই হল পিচ, ফসলা, চালতা, আতা।

    ওরা দু’জনেই চমকে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল সেই কিশোরী মালা সামান্য একটু দূরত্ব বজায় রেখে কেমন নিঃশব্দে ওদের অনুসরণ করেছে। ভাস্করমামা বলল, আরে মালা।

    মালা হেসে বলল, হেন গাছ নেই যা আমাদের বাগানে নেই। সেইজন্যেই তো কত লোকের হিংসে। আগে দাদুর আমলে আরও কত গাছ ছিল। এই দিকটায় ছিল ইউক্যালিপ্টাসের সারি। বর্ষায় বৃষ্টি পড়লে ইউক্যালিপ্টাসের তীব্র গন্ধ যখন ছাপিয়ে উঠত চারদিকে, আর টুপটাপ করে ঝরে পড়ত ইউক্যালিপ্টাসের ফুল তখন আনন্দে ভরে উঠত মন।

    চন্দন বিস্ময়ের সঙ্গে সবকিছু দেখতে লাগল। তবে মালার কথাগুলো শুনেও না-শোনার ভান করতে লাগল ও। এমনকী ওর দিকে ফিরেও তাকাল না। ভাবটা এই, ও যেন নেই।

    ভাস্করমামা কথা বলতে বলতে আরও একটু এগিয়ে বলল, আচ্ছা ওগুলো কী গাছ বল তো?

    ও গাছ চেনেন না? ওটা তো বকুল গাছ। ওই বকুল, কামিনী, গন্ধরাজ, রক্তকরবী, ডলচি, মটুকঝাড়, হ্যামিলটোনিয়া, ম্যাগনোলিয়া, চাঁপা আর গ্রান্ডিফ্লোরা। ওদিকের গাছগুলোর পরিচয় নিশ্চয়ই দিতে হবে না—জুঁই, চামেলি, বেলি, গোলাপ।

    ভাস্করমামা বলল, থাক থাক। আর বলতে হবে না। মাথা এমনিতেই ঘুরে যাচ্ছে, আরও ঘুরবে। এত নাম মনে থাকে? কিন্তু এইসব গাছের যত্ন নেয় কে? আগে তো মালী ছিল। এখন বনমালীদাই দেখাশোনা করে। তা ছাড়া আমি যখন আসি তখন আমিও দেখি।

    তুমি তো আসো ন’মাসে ছ’মাসে।

    হ্যাঁ, তবু দেখি। আসলে বিশ্বাস করুন ধানবাদে আমার একটুও ভাল লাগে না। কী বাজে জায়গা। শুধু বাবা-মাকে ছেড়ে বেশিদিন কোথাও থাকতে পারি না-তাই থাকি। পুজো হয়ে গেছে। এবার কালীপুজোটা হয়ে গেলেই চলে যাব ভাইফোঁটার দিন।

    ভাইফোঁটার দিন?

    হ্যাঁ, আমার তো ভাই নেই। তাই থেকে আর কী করব! ওইদিনই চলে যাব। চন্দনের হঠাৎ অভিমানটা চাড়া দিয়ে উঠল। কেন না বাগান যখন এদের এবং এই মেয়েটি যখন ওকে ‘নেকু’ বলে অপমান করেছে তখন এইভাবে এদেরই বাগানে লোভীর মতো ঘুরে বেড়িয়ে লাভ কী? বরং মালা যখন থাকবে না-মানে দুপুরে ঘুমোবে তখন বরং চুপি চুপি ও একা এসে এই বাগানের সর্বত্র ঘুরে বেড়াবে এবং গাছপালার সঙ্গে মিতালি পাতাবে। তাই যেতে যেতে হঠাৎ বলল, আমার আর ভাল লাগছে না মামা, আমি যাই।

    সে কীরে! তোর বাগানে বেড়াতে ভাল লাগছে না, এও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?

    আসলে ট্রেন জার্নি করে না, ঘুমে আমার দু’চোখ জুড়ে আসছে।

    মালা যেন কতকটা নিজের মনেই বলল, আহারে, দুধের বাছারে। ইচ্ছে করছে মুখে একটা পুপসি এনে ধরি।

    চন্দন নীরবে আর একবার সহ্য করল এই মেয়েটির ঔদ্ধত্য। হাজার হলেও বাড়িটা এদের। তাই চোটপাট এখনি কিছু করা যাবে না। তবে আর একটা কোনওরকম বাজে কথা বললে, ও বাবাকে বলবে সোজা হোটেল উঠতে। বাবা ঠিকই বলেন, কোথাও বেড়াতে গিয়ে কারও বাড়িতে উঠতে নেই। তাতে স্বাধীনতা থাকে না।

    দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর তেড়ে ঘুম। ঘুম যখন ভাঙল তখন সন্ধে হয়ে এসেছে। চন্দন আড়মোড়া ভেঙে হাই তুলে উঠে বসল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে ঘর থেকে যেই বেরোতে যাবে অমনি বড় আয়নার নিজের মুখটা দেখে চমকে উঠল। এ কী! ওর কপালের ওপর এ কীসের ললাট লিখন। চন্দন কাছে গিয়ে ভাল করে লিখনটা পড়ে বুঝল এতে যা লেখা আছে তা হল ‘নেকু’। এ নিশ্চয়ই ওই দুর্বিনীত মেয়েটার কাজ।

    চন্দন তাড়াতাড়ি বাথরুমে গিয়ে ভাল করে সাবান দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলল। তারপর রান্নাঘরে ওর মা, রূপামাসি যেখানে বসে গল্প করছিল সেখানে এল।

    মাসি বলল, বাবা! তুই খুব ঘুমিয়েছিস তো? গাড়িতে ঘুম ঠিকমতো হয়নি বুঝি?

    দেবযানী বললেন, না না। গাড়িতে বেশ ঘুমিয়েছে ও।

    চন্দন বলল, মা, বাবা কোথায়?

    তোর মেসোর সঙ্গে বেরিয়েছে

    ভাস্করমামা?

    মাসি বলল, ওর কথা আর বলিস না। পাক্কা সিনেমাখোর একটা। ঠিক সিনেমায় গেছে।

    এমন সময় দেবযানী বললেন, আচ্ছা, মালাকে দেখছি না তো?

    ওর দেখা এখন পাবি। ও রকম ধিঙ্গি মেয়ে আমি জীবনে দেখিনি। দিনরাত শুধু টো-টো করে ঘুরছে। আগে এ রকম ছিল না। এই বারেই এরকম করছে। বড় হচ্ছে। কিন্তু কোনও ভয় ডর নেই। যা দিনকাল পড়েছে তাতে একা একা অত বড় মেয়ের ঘোরা কি ঠিক?

    কেন, কোথায় যায় ও?

    সে ও-ই জানে। ভোর চারটেয় ঘুম থেকে উঠে মাকে একটু চা করে দেয়— তোর শাশুড়িকে?

    হ্যাঁ। মা খুব ভোরে চা খান তো? তারপর সেই অন্ধকারেই ধিঙ্গি মেয়ে সাইকেলে চেপে মর্নিংওয়াক করতে যান। ফেরেন বেলা সাতটা-আটটা, কোনওদিন ন’টায়। সে কী!

    তবে আর বলছি কী। তারপর খেয়েদেয়ে দুপুরে ছাদে বসে বই পড়ে, বিকেলে আবার বেরোয়। ফেরে সন্ধের পর। কোথায় যে যায় ভগবান জানে। বাবা নতুন সাইকেল কিনে দিয়েছে, তাই নিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড চষে বেড়াচ্ছে। মা-ও কিছু বলেন না। আসলে বাপের এক মেয়ে তো, আদর পেয়ে মাথায় উঠেছে।

    রূপামাসি একটা ডিশে করে দুটো নিমকি আর দুটো প্যাড়া খেতে দিলেন চন্দনকে। চন্দন তাই খেয়ে নিজের ঘরে চলে এল। মানে এখানে যে ঘরে ও আছে। ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে পেরেকে ঝোলানো ওর ব্যাগটা নিয়ে এসে

    তক্তাপোশের বিছানায় গুছিয়ে বসল। ওর একমাত্র প্রিয় সঙ্গী বইগুলো খুলে ছুটির দিনগুলো কাটিয়ে দেবে ও। কিন্তু এ কী! ব্যাগের ভেতর থেকে এসব কী বেরোচ্ছে? কোথায় গেল পাণ্ডব গোয়েন্দা, কোথায় গেল ভূতের গল্প ভয়ংকর। নকুড়মামা, দুরন্ত তপাই, দিঘা সৈকতে আতঙ্ক, ভাঙা দেউলের ইতিকথা, কিশোর গল্প সংকলন একটা বই-ও নেই। তার জায়গায় বেরোতে লাগল পাতা ছেঁড়া ব্যাকরণ কৌমুদী, ইংলিশ গ্রামার অ্যান্ড কম্পোজিসন, ভূগোল ও বিজ্ঞানের বই। তার সঙ্গে বেরোল একটা চিঠি ‘প্রিয় নেকু, তোমার এখন লেখাপড়া করবার সময়। এই বয়সে এইসব বই না-পড়ে এই বইগুলো পড়ো। আখেরে কাজ দেবে। আপাতত বইগুলো আমার জিম্বায় রেখে দিলাম। বাড়ি যাবার আগে চেয়ে নিয়ো কেমন?’

    চন্দন ‘ওফ’ করে একবার লাফিয়ে উঠল। নাঃ এক্ষুনি এর একটা প্রতিকারের দরকার হয়ে পড়েছে। একবার ভাবল ও ছোটমাসিকে গিয়ে সব কথা খুলে বলে, আবার ভাবল বলেই বা লাভ কী? ছোট মাসির কথায় তো বোঝাই গেছে বাপের আদুরে মেয়েটি আউট অব কন্ট্রোল। ওকে অন্য উপায়ে জব্দ করতে হবে। কেন না ও বড়ই দুর্বিনীত।

    চন্দন আর না-দাঁড়িয়ে সোজা মালার ঘরের দিকে চলে গেল। ধিঙ্গি মেয়ে তো এখনও ফেরেনি। ও ব্যাকরণ, গ্রামার, ভূগোল ইত্যাদি বইগুলো ঘরের শিকল খুলে মালার বিছানায় রেখে একপাশে পড়ে থাকা একটি বাক্সর ডালা তুলে দেখল ওর বইগুলো সেখানে আছে কিনা। কিন্তু তুলেই দেখল সব ভোঁ ভোঁ। পাতা ছেঁড়া দু’–একটা পত্রপত্রিকা ছাড়া আর কিছু নেই। তবে একটা চিঠি ছিল। তাতে লেখা ছিল ‘হায় হায় নেকুরে, কী বুদ্ধু তুমিরে, কী দারুণ বোকারাম, তুমি একটি হাঁদারাম। আমি তোমার মতো অত বোকা নই যে বইগুলো তোমার হাতের কাছে রেখে যাব। যাও ঘরে যাও।’

    চিঠি পড়ে চন্দন প্রায় তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। কী ফাজিল মেয়েরে বাবা। এমন মেয়ে তো দেখা যায় না। এ যেন ধানবাদের ধানি লঙ্কা। কিন্তু একবার রেগে উঠলেও পরক্ষণেই নরম হয়ে গেল চন্দন। কেন না ও বুঝল এর ওপর রাগ করে কোনও লাভ নেই। এই মেয়ের প্রকৃতিই এইরকম। তবে হ্যাঁ, পাণ্ডব গোয়েন্দার বাচ্চু-বিচ্ছুকেও এ মেয়ে ছাপিয়ে যায়।

    চন্দন যখন কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না কীভাবে ও মালাকে জব্দ করবে, তেমন সময় ওর বাবার গলা শুনতে পেল। সঙ্গে মেসোরও।

    চন্দন ঘর থেকে বেরিয়ে ওর মা-বাবার কাছে এল।

    সুনন্দবাবু বললেন, আমরা একবার থানায় গিয়েছিলাম বুঝলে? রূপামাসি বলল, কী বলল ওরা?

    পুলিশ বলল, দেখুন সুরাহা আমরা কিছুই করতে পারিনি। তবু এটুকু বলতে পারি আপনারা অযথা আমাদের যেন ভুল বুঝবেন না। আসলে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু এমন ভাব দেখাচ্ছি যেন হাল ছেড়ে দিয়ে বসে আছি আমরা। কেন না আমরা আশা করছি ওই মূর্তিটা এই অঞ্চলের আশেপাশেই কোথাও আছে। এই এলাকার বাইরে মূর্তি পাচার হবার সবরকম রাস্তা এমনিতেই বন্ধ। তাই ওত পেতে বসে আছি ওদের ধরবার জন্য। আমরা যদি তৎপর হই তা হলে ওরা সাবধান হয়ে যাবে। আর আমরা যদি অলসতার ভান দেখাই, তা হলে আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি ভেবে এক সময় নিশ্চিত্ত হয়ে ওরা মাল পাচার করতে যাবে এবং ধরা পড়বে। আমরা দেখেছি এই পরিকল্পনায় অনেক সময় ক্রিমিন্যাল ধরা পড়েছে।

    নিরুপমবাবু বললেন, ওরা বলল আমরা শুনে গেলাম, তবে ওসব লালমাখানো কথায় কি চিড়ে ভিজবে? সব ব্যাটাদের বদমায়েশি। এদেরও ষড়যন্ত্র আছে।

    সুনন্দবাবু বললেন, না না। আমার কিন্তু এদের কথা শুনে তা বলে মনে হল না। সব সময় সবাইকে সন্দেহ করা উচিত নয়।

    রূপামাসি বলল, আসলে ব্যাপার কী জানেন জামাইবাবু, আমরা এখানে এই এতখানি সম্পত্তি ভোগ করছি তো, তাই এখানকার লোকেদের হিংসে খুব। এরা চাইছে আমাদের জ্বালাতন করে এখান থেকে তাড়াতে।

    সুনন্দবাবু বললেন, সে তো তোমরা মনে করছ। আসলে তা না ও তো হতে পারে?

    নিরুপমবাবু বললেন, তোমরা এখানকার লোককে চেনো না ভায়া, বড় স্বার্থপর এরা।

    দেবযানী বললেন, সে কোন জায়গায় নয়?

    এমন সময় দেওয়াল ঘড়িতে ঢং ঢং করে সাতটা বাজল।

    রূপামাসির শাশুড়ি একটু দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে বললেন, তাই তো, মেয়েটা এখনও এল না, গেল কোথায়?

    রূপামাসি বলল, মা, আপনি একটু শক্ত হন এবার। দিনকাল এখন খুব খারাপ পড়েছে। তার ওপর এইরকম একটা বিপর্যয় ঘটে গেল, এরপরেও কখনও রিস্ক নেয় কেউ? কী আছে কপালে তা কে জানে?

    নিরুপমবাবু বললেন, না না এ তো ভাল কথা নয়, ওর মা-বাবা যখন থাকে তখন যা করে করুক। এখন কিছু হলে সব দোষ আমাদের ঘাড়ে চাপবে। ও ফিরে এলে বেশ কড়া কথায় বারণ করে দাও ওকে। এসব এখানে চলবে না।

    বলতে বলতেই সাইকেল নিয়ে লম্বা বেণী দুলিয়ে ফ্রকপরা কিশোরী মালা গটগটিয়ে ঘরে ঢুকল।

    নিরুপমবাবু বললেন, এত সন্ধে অব্দি রোজ রোজ বাইরে থাকিস কেন রে? বাড়িসুদ্ধু লোক ভেবে সারা হয়ে যাচ্ছি আমরা।

    রূপামাসির শাশুড়ি বললেন, বড্ড বাড় বেড়েছ তুমি, দাঁড়াও। কী দস্যি মেয়েরে বাবা। এমন আমি বাপের কালে দেখিনি।

    মালা কারও কথায় ভ্রূক্ষেপও না করে সোজা কলতলায় গিয়ে মুখহাত-পা ধুয়ে এসে গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে এঘর ওঘর করল। তারপর এক সময় বলল, আচ্ছা কাকু! আপনি নিশ্চয়ই বলতে পারবেন কাকাহিগড় কোথায়?

    নিরুপমবাবু বললেন, কাকাহিগড়? কী জানি নাম শুনিনি কখনও।

    আছে আছে। একটা জায়গা আছে। কিন্তু কোনদিকে?

    যেদিকেই হোক। তোকে অত খোঁজ নিতে হবে না। কাল থেকে একদম ঘর থেকে বেরোবি না। কী ভেবেছিস কী? কিছু একটা হয়ে গেলে তোর বাবাকে কী কৈফিয়ত দেব বল তো?

    মালা সঙ্গে সঙ্গে রূপামাসির শাশুড়িকে জড়িয়ে ধরে বলল, ওঃ দিদা! তোমার ছোট ছেলেকে একটু চুপ করতে বলবে? কেবল শাসন আর শাসন। ভাল লাগে না বাবা। দু’দিন এলাম কোথায় বেড়াতে।

    রূপামাসি বলল, অন্য কিছু নয় মা। দিনকাল কীরকম খারাপ পড়েছে দেখছিস তো। কেউ যদি ধরে নিয়ে চলে যায় তখন কী করবি? আর কি কচিখুকিটি আছিস?

    মালা বলল, না গো না। দেওঘর এখনও অত খারাপ জায়গা হয়নি। এই বাড়িতে একবার একটা ডাকাতি হয়ে গেছে বলে তোমরা সব সময় আতঙ্কে আছ। না হলে এই দেওঘরে সারা বছর ধরে হাজার হাজার মানুষ তীর্থ করতে, বেড়াতে, হাওয়া বদল করতে আসছে। তা হলে সবার সব ছেলেমেয়েই চুরি হয়ে যেত।

    নিরুপমবাবু বললেন, দিনমানে হলে তো ভয় কিছু ছিল না। তুই তো অসময়ে যাস। রাস্তায় যখন কোনও লোক থাকে না। হয় ভর সন্ধেবেলা, নয় তো ভোরের অন্ধকার এই তো তোর বেড়াবার সময়।

    রূপামাসির শাশুড়ি বললেন, কাল থেকে একদম বাইরে বেরোবে না। ওই তো একটা ছেলে এসেছে বাড়িতে। ওর সঙ্গে গল্প কর, বাগানে ঘোর। এত বড় বাগান রয়েছে তা নয়, কেবল বাইরে ঘোরা। ছেলেটার সঙ্গে একবারও কথা বলেছিস তুই?

    মালা সে কথার কোনও উত্তর না দিয়ে একটা হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে বলল, বড্ড খিদে পাচ্ছে। কাকিমা প্লিজ আমি ঘরে গিয়ে একটু শুচ্ছি, তুমি আমাকে একটু হালুয়া করে খাওয়াও। বলেই চলে গেল মালা। গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করল।

    রূপামাসির শাশুড়ি বললেন, চোরা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনি। কী মেয়েই হয়েছ মা।

    চন্দনও মালার বকুনি শুনে ওর ঘরে ঢুকে দরজাটা আলতো করে ভেজিয়ে বিছানায় শুয়ে রইল চুপচাপ। ভাস্করমামা কখন আসবে কে জানে? যদি সত্যিই সিনেমায় গিয়ে থাকে তা হলে তো আসতে রাত হবে।

    বেশ কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পর হঠাৎ কী ভেবে যেন উঠে দাঁড়াল চন্দন। তারপর ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে সিঁড়ির পাশে কোণের ঘরের দরজাটা একটু ঠেলে ফাক করতেই দেখল এ বাড়ির চাকর বনমালী হেঁট হয়ে ঝুঁকে পড়ে কী যেন একটা ধর্মগ্রন্থ পাঠ করছে।

    চন্দন ভেতরে ঢুকতেই বনমালী বলল, আরে চন্দনবাবু, এসো এসো। সারাদিন তো কাজ কাজ করে তোমার সঙ্গে আলাপই করা হয়নি। এসো, ভেতরে এসো। চন্দন বলল, এই তোমার ঘর? খুব ছোট্ট, কিন্তু বেশ পরিষ্কার তো।

    বনমালী বলল, পরিষ্কার না হয়ে উপায় আছে? এতটুকু নোংরা দেখলে ঠাকুমা বকুনির চোটে ভুবন অন্ধকার করিয়ে দেবেন?

    ঠাকুমা অর্থে রূপামাসির শাশুড়ি।

    চন্দন বলল, উনি খুব বকেন বুঝি?

    না না। শুধু শুধু বকেন না। তবে এতটুকু নোংরাও যেমন উনি দেখতে পারেন না, তেমনি কোনও অন্যায়ও সহ্য করতে পারেন না। আর কথা না শুনলে খুব রেগে যান।

    কে বললে? আমি তো দেখছি ওনার নাতনির একটার পর একটা অন্যায় উনি সহ্য করে যাচ্ছেন। কই কিছু তো বলছেন না?

    ওই একটি জায়গাতেই উনি খুব নরম। আসলে মালা দিদিমণি তো বাপের এক মেয়ে। আর খুব অভিমানী। সেইজন্যে কেউ কিছুই বলে না ওকে।

    তা হলে তো মাথায় চেপে বসবে।

    আরে বসবে কী! বসেছে তো। তা যাক। ঠাকুমা বকাঝকা করলেও ঠাকুমার মতো মানুষ হয় না। আমার যখন আট বছর বয়স তখন উনি পুরী বেড়াতে গিয়ে আনন্দবাজার থেকে আমাকে কুড়িয়ে এনে মানুষ করেন। আমার তো কেউ কোথাও ছিল না। তাই ওনার শিক্ষায় মানুষ হয়েছি আমি। রোজ ভোরে উঠে স্নান করি। ঠাকুরের ফুল তুলি। ঘরের কাজ করি।

    ঠাকুরের ফুল? ঠাকুর তো এখন নেই।

    নাই বা রইল। ঠাকুমা যে ওই বেদিকেই ফুল দিয়ে সাজান। কত কাঁদেন ঠাকুরের জন্যে। ঠাকুমার বিশ্বাস তাঁর রাধাকৃষ্ণ আবার ফিরে আসবে ওই সিংহাসন আলো করে।

    চন্দন বলল, ঠাকুমার বিশ্বাস হলেও আমার তো মনে হয় না আসবে। অত দামি জিনিস, আজ কতদিন হল খোয়া গেছে। আর কখনও ফেরত পাওয়া যায়? বনমালী বলল, চন্দনবাবু, একটা কথা আছে জানো তো, ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর’, ঠাকুমার বিশ্বাস সন্ন্যাসীপ্রদত্ত এই ঠাকুর কখনওই চুরি যাবার নয়। কেন না এখনও তাঁরা এমন কোনও অনিয়ম বা অনাচার করেননি যাতে বিগ্রহ কুপিত হয়ে চলে যেতে পারেন। তবু চলে যখন গেছেন তখন ধরে নিতে হবে তাঁর প্রতি গৃহেস্থের আন্তরিকতা কতখানি তা পরীক্ষা করবার জন্যই হয়তো তিনি ছলনা করেছেন। কাজেই একান্তভাবে তাঁকে ডাকলে মনে হয় আবার তিনি ফিরে আসবেন।

    চন্দন সব শুনল। তারপর একসময় বলল, আচ্ছা বনমালীদা, বলতে পারো কাকাহিগড় কোথায়?

    কাকাহিগড় !

    হ্যাঁ, কাকাহিগড়।

    ও নাম তুমি কোত্থেকে শুনলে?

    যেখান থেকেই হোক শুনেছি। জায়গাটা কোথায়?

    কাছাকাছিই আছে। দেওঘর শহরের পশ্চিমদিকে। কিন্তু ওই জায়গার ওপর তোমার এত কৌতূহল কেন?

    এমনি। নামটা খুব পছন্দসই কিনা, তাই।

    ওটা বুনো জায়গা। ঝোপঝাড়, টিলা আর মস্ত একটা ঢিপি আছে। তার আশেপাশে আছে কিছু খেতি জমি। ইদানীং এক সাধুবাবা এসেছেন ওখানে। কিন্তু তুমি কার মুখে শুনলে?

    মালা জানতে চাইছিল কিনা, তাই!

    অ। মালাদিদিমণি। তাই বলো। ভারী দুষ্টু মেয়ে। তবে মন ওর খুব ভাল। চন্দন মনে মনে বলল ‘ছাই’, মুখে বলল, আমাকে একদিন নিয়ে যাবে সেখানে?

    বনমালী কীরকম যেন করুণ চোখে একবার তাকাল চন্দনের দিকে। তারপর বলল, চন্দনবাবু, তুমি আর যেখানে যেতে চাও আমি তোমাকে নিয়ে যাব। শুধু কাকাহিগড়ে যেয়ো না। দু’দিনের জন্য এসেছ। ভাল ভাল জায়গায় ঘুরে বেড়াও। খাও দাও। মন্দির দেখো, পাহাড় দেখো কিন্তু কাকাহিগড়। না না না।

    আমার মনে হচ্ছে ওটা খুব রহস্যময় জায়গা, তাই না?

    ঠিক তাই। আর তা ছাড়া ওখানকার যিনি সাধুবাবা তিনি খুব একটা সুবিধের লোক নন। শুনেছি ওখানে উনি চামুণ্ডাদেবীর কাছে নরবলি দেন। সে কী! এই সভ্য যুগে নরবলি! এত কড়া প্রশাসন সত্ত্বেও।

    বাবু, যারা ক্রিমিনাল তারা কি আইনকানুন মানে? না ভয় করে। তা যাক গে, ওসব কথা থাক। চলো কাল ভোরবেলা স্নান করে ঠাকুরের ফুলটুল তুলে দিয়ে তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় বেড়াতে যাই।

    কোথায় বনমালীদা ?

    নন্দন পাহাড়ে। ভোরের আবছায়ায় পায়ে হেঁটে নন্দন পাহাড়ে বেড়াতে যেতে কী ভাল যে লাগে তা কী বলব!

    ঠিক আছে যাব। যদি ঘুমিয়ে পড়ি তো আমাকে ডেকে নিয়ো কেমন? পারি তো ভাস্করমামাকেও সঙ্গে নেব।

    মামাবাবুকে? তুমি নেহাতই ছেলেমানুষ চন্দনবাবু। তোমার মামাবাবুকে যদি বেলা আটটার আগে ঘুম থেকে তুলতে পারো তো তোমাকে চারটে পাকা পেয়ারা খাইয়ে দেব আমি।

    এমন সময় রান্নাঘর থেকে রূপামাসি হাঁক দিলেন, চন্দন একবার এদিকে আয়।

    যাই মাসিমা। বলে চন্দন ঘর থেকে বেরিয়ে এল। যাবার আগে বলল, তা হলে ওই কথাই রইল, কেমন?

    হ্যাঁ গো, হ্যাঁ।

    চন্দন রান্নাঘরে ঢুকতেই দেখল সেই দুর্বিনীত মেয়ে মালা বসে মনের আনন্দে হালুয়া খাচ্ছে। রূপামাসি চন্দনের দিকেও এক প্লেট হালুয়া এগিয়ে দিলেন। চন্দন সবে হালুয়াটা খেতে যাবে এমনসময় বাইরে ভাস্করমামার চেঁচামেচি শোনা গেল, চোর— চোর–পাকড়ো— পাকড়ো— জামাইবাবু!

    নিরুপমবাবু এবং সুনন্দবাবু দালানে বসে গল্প করছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে একজন একটি লোহার রড এবং অন্যজন একটি দরজার খিল নিয়ে ছুটে বাইরে এলেন, কই, কোথায় চোর!

    খাবার ফেলে চন্দন, রূপামাসি, মা সবাই ছুটে এলেন বাইরে।

    ভাস্করমামা বলল, আমি পাঁচিলের গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকছি, হঠাৎ দেখি তিন চারজন লোক দৌড়ে পালাল।

    নিরুপমবাবু বললেন, কোনদিকে গেল?

    বাগানের দিকে।

    তা হলে বেরোতে পারবে না। দুটো টর্চ নিয়ে এসো তো দেখি? মালা সঙ্গে সঙ্গে টর্চ আনতে ঢুকল।

    রূপামাসি বলল, না না। বাগানে যেতে হবে না, এত রাতে অন্ধকারে। যদি পিছন থেকে লোহার রড-ফড মারে তখন? তা ছাড়া আজকাল ওদের কাছে বোমাও থাকে।

    তাই বলে চুপচাপ বসে থাকব? একটু তাড়াতুড়ি না করলে হয়? আর এখন তো আমি একা নই।

    এমন সময় ঘরের ভেতর থেকে মালা চিৎকার করে কেঁদে উঠল। তারপর টর্চ হাতে ছুটে এসে বলল, ও কাকা গো, আমার সাইকেলটা দেখতে পাচ্ছি না। রূপামাসি বলল, সে কী! কোথায় ছিল সাইকেল?

    দালানে, দরজার পাশে।

    সুনন্দবাবু এবং নিরুপমবাবু দু’জনে অবাক, দালানে! আমরা তো ঠায় বসে আছি। আমাদের নজর এড়িয়ে কখন কোন ফাঁকে নিয়ে পালাল ?

    রূপামাসি বলল, চাবি দিসনি সাইকেলে?

    না।

    নিরুপমবাবু বললেন, তা হলে তো দেখতেই হচ্ছে। বাগানের দিকে যদি ওরা গিয়ে থাকে তো সাইকেল নিয়ে পালাতে পারবে না।

    অতএব দলবদ্ধ হয়ে ওরা বাগানের দিকে এগোতে থাকল। চন্দন আর মালাও সঙ্গ নিতে ছাড়ল না। শুধু রূপামাসি ও দেবযানী রইলেন সদরের দিকে প্রহরায়।

    কিন্তু না, বাগানের একদম ভেতর পর্যন্ত ঢুকেও কারও পাত্তা পাওয়া গেল না। সেই সঙ্গে সাইকেলটারও কোনও হদিস মিলল না। অতএব ফিরে এল সকলে। মালার চোখ দিয়ে সমানে জল ঝরছে। মালার অবস্থা দেখে ওর প্রতি আর কোনও রাগ বা ক্ষোভ রইল না চন্দনের।

    একটু সান্ত্বনার সুরে বলল চন্দন, কী হবে কেঁদে? তোমার বাবাকে বোলো আবার নতুন সাইকেল কিনে দিতে।

    মালা ফুঁপিয়ে কেঁদে বলল, বাবা আর দেবেন না। তা ছাড়া এরকম সাইকেলও হবে না আর। একেবারে আমার মনের মতনটি ছিল। তা ছাড়া সাইকেলটা চুরি গিয়ে এই মুহূর্তে আমার যে কী ক্ষতি হয়ে গেল, তা তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না। আমার এত পরিশ্রম সব ব্যর্থ হয়ে গেল।

    একটা সাইকেলের জন্য তোমার এমন কী ক্ষতি হল যে, তুমি এত ভেঙে পড়ছ?

    সে তুমি বুঝবে না। কেউ বুঝবে না। কাউকে বলা যাবে না সে কথা। সাইকেল যদিও বাবা আবার কিনে দেন তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে।

    মালার বক্তব্য ক্রমশই যেন রহস্যময় হয়ে উঠল চন্দনের কাছে। তবে ও বুঝতে পারল এই ফুটফুটে কিশোরী মেয়েটি আর পাঁচটা মেয়ের মতো নয়।

    যাই হোক। ওরা সকলে ফিরে এসে খাওয়াদাওয়া করে যখন শুতে গেল রাত তখন এগারোটা।

    রাত তখন কত তা কে জানে? হঠাৎ দরজায় টক-টক শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে বসল চন্দন। ভাস্করমামা তখন অঘোরে ঘুমোচ্ছে। উঃ সে কী দারুণ নাক ডাকার শব্দ। এমন ঘুম কেউ ঘুমোতে পারে।

    চন্দন পা টিপেটিপে দরজার কাছে এসে সাড়া দিল, কে?

    একবার দরজাটা খুলবে?

    এ তো মালার গলা। এত রাতে মালা ওকে দরজা খুলতে বলছে কেন? তবে কি আবার নতুন করে কোনও বিপদ হয়েছে? কিন্তু তা যদি হত, তা হলে তো ভাস্করমামাকে ডাকত। যাই হোক, চন্দন এক মুহূর্ত দেরি না করে খুলে ফেলল দরজাটা।

    কী ব্যাপার!

    মালা ঠোটে তর্জনী রেখে চাপা গলায় বলল, চুপ, তারপর বলল, একবার এদিকে এসো তো।

    চন্দন দরজার কাছ থেকে একটু সরে এল। মালা ওর হাত ধরে প্রায় টানতে টানতে সিঁড়িভেঙে ওকে টেনে নিয়ে গেল ছাদে। তারপর ছাদের আলশের ধারে দাঁড়িয়ে বলল, ওই দেখো।

    চন্দন তাকিয়ে দেখল বহু দূরে বাগানের ঘন গাছপালার আড়ালে ছায়া ছায়া কালো কালো কারা যেন ঘোরাফেরা করছে। সামনেই কোজাগরি পূর্ণিমা। তাই জ্যোৎস্নায় ফুল ফুটে যাচ্ছে চারদিকে।

    চন্দন বলল, বেশ রহস্যময় ব্যাপার তো।

    মালা বলল, আমি ওদের অনুসরণ করতে চাই।

    চন্দন বলল, তুমি কি পাগল হয়েছ মালা? ওরা কারা? দলে ওরা কতজন তা কি জানো?

    চন্দন, তুমি যদি আমার পাশে থাক, তা হলে আমি কাউকে ভয় পাব না। তুমি না এলে আমি একাই যাব। এতদিন তো একা একাই সবকিছু করছিলাম আমি। কিন্তু তুমি যখন রয়েছ তখন…।

    একা একা কী করছিলে তুমি?

    সে অনেক কিছু। পরে সব বলব তোমাকে।

    তোমার সঙ্গে যেতে আমার একটুও আপত্তি নেই। কিন্তু তুমি জেনে রেখো যে আশায় তুমি যাচ্ছ, তা কিন্তু সফল হবে না। অর্থাৎ ওই সাইকেল তুমি আর ফিরে পাচ্ছ না।

    আরে না-না সাইকেলের জন্যে নয়। তা হলে তোমাকে সব কথা খুলে বলি শোনো। আমাদের বাড়ির এই মূর্তিচুরি এবং ডাকাতির ব্যাপারে আমি ভেতরে ভেতরে অনুসন্ধান করতে গিয়ে, অনেক কিছু আবিষ্কার করে ফেলেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের রাধাকৃষ্ণ মূর্তি দুষ্কৃতকারীরা পাচার করতে পারেনি। ওই সাইকেল নিয়ে আমি যে দিনরাত টো টো করে ঘুরে বেড়াতাম, তা ছেলেখেলা করতে নয়। আসলে আমি ওই মূর্তি উদ্ধারের জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যাক, এখন এসব কথা বলার মতো সময় নেই। পরে সব বলব। এখন বলো যাবে কি না?

    যাব। নিশ্চয়ই যাব! কিন্তু আমি ভেবে পাচ্ছি না, এত রাতে তুমি টের পেলে কী করে, যে ওরা ওখানে ঘোরাঘুরি করছে?

    ওরা প্রায়ই আসে, তবে কখন আসে তা জানতাম না। কারণ বাগানের ভেতরে যেখানে সেখানে সিগারেটের খোল, দেশলাই বাক্স ইত্যাদি দেখতে পাই আমি। তাতেই বুঝতে পারি এক বা একাধিক ব্যক্তির আসা যাওয়া আছে এখানে। আজ তোমরা সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আমি ছাদে উঠে যখন বাগানের দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম আমার সাইকেলটা কেউ লুকিয়ে রাখার পর নিয়ে পালাচ্ছে কি না, তখনই ওই আলো আমি দেখতে পাই। আমি একাই যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তোমার কথা মনে পড়ল। মনে হল তুমি তো আছ। তোমাকে ডাকলে নিশ্চয়ই তুমি ডাকে সাড়া দেবে এবং আমার সঙ্গে যাবে।

    আমি যাব। চলো আর একটুও দেরি কোরো না। এক্ষুনি চলো।

    ওরা তর তর করে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে এল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleCities of the Plain (Sodom and Gomorrah) – Marcel Proust
    Next Article পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }