Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গিরিগুহার গুপ্তধন – ২

    দুই

    ট্রাক প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলেছে। কখনও উঁচুতে কখনও ঢালু পথে। মাঝে মাঝে বড় বড় গাছের ডালপালা ট্রাকের মাথা ছুঁয়ে যাচ্ছে। সর সর করে আওয়াজ হচ্ছে।

    দীপংকর ধীরে ধীরে মাথাটা তুলে বসল। নাঃ, মাথাটা ঠিকই আছে। শুধু সর্বাঙ্গে ব্যথা। উঠে বসতেই অবাক হয়ে গেল। এ কোথায় এসেছে ও! কী বিশাল বনভূমি। চারদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। ওদের ট্রাকটা সেই পাহাড়ের ওপর দিয়ে পাকদণ্ডি পথ বেয়ে চলেছে। কিন্তু পাহাড়ের ওপরও এত জোরে ছুটছে কেন ট্রাক?

    এইভাবে আরও কিছুক্ষণ যাবার পর একসময় ট্রাকটা এক জায়গায় এসে থামল।

    লুঙ্গিপরা দু’জন লোক এসে উঁকি মেরে দেখল ওকে। তারপর বলল, আরে তুমি বসে আছ? আমরা তো ভাবলাম মরেই গেছ তুমি।

    দীপংকর লোকদুটোকে ভাল করে দেখে বুঝল বর্ন ক্রিমিন্যাল বলতে যা বোঝায়, এরা ঠিক তাই। কিন্তু এরা কারা? ওকে ট্রাকে করে এখানে নিয়ে এল কেন? কী ওদের অভিপ্রায়?

    দীপংকর বলল, আমি কোথায়?

    তুমি এখন কলকাতা থেকে অনেক দূরে। তা কাল হঠাৎ কী হয়েছিল? পকেট মেরেছিলে কারও? না হলে, সন্ধেরাতে অমন করে ছুটছিলে কেন? সময়মতো ব্রেক না কষলে যে গাড়ির চাকায় চেপটে যেতে বাবা। অযথা আমরা খুনের দায়ে দায়ী হতাম। আমি বাইশ বছর স্টিয়ারিং ধরছি, এখনও পর্যন্ত চাপা দিইনি কাউকে। শুধু তুমিই আমার বদনাম করে দিচ্ছিলে। বেশ ছেলে যা হোক।

    দীপংকর ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে রইল লোকটির মুখের দিকে।

    আর একজন বলল, চেয়ে দেখছ কী? এবার নেমে পড়ো। এখানে ঝরনার জলে মুখহাত ধুয়ে যা হোক কিছু খেয়ে নাও। আমরা তো ভেবেছিলাম লরির ধাক্কায় শেষই হয়ে গেছ। ওই জন্যে তুলে নিয়ে চলে এলাম। ভেবেছিলাম ডেড বডিটা পাহাড়ের জঙ্গলে যেখানে হোক ছুড়ে ফেলে দেব। তা যখন বেঁচেই গেছ তখন এসো। এসে কিছু মুখে দাও।

    ওরা দীপংকরকে ট্রাক থেকে নেমে আসতে সাহায্য করল।

    একজন বলল, তোমার নাম কী?

    দীপংকর বলল, নাম কী? কী জানি। নাম কী আবার?

    সে কী! নাম কী জান না? রাম, শ্যাম, যদু, মধু – এই হচ্ছে নাম। যেমন আমার নাম কালনেমি, ওর নাম ময়নিহান। তেমনি তোমার নাম? আমার কোনও নাম নেই।

    ময়নিহান হাঃ হাঃ করে হেসে বলল, বল না ব্যাটা তোর নাম রাজকাপুর। কালনেমি বলল, সত্যিই তোর কোনও নাম নেই? নাকি নকশা করছিস? সত্যি বলছি আমার কোনও নাম নেই।

    তোর বাবার নাম? বাবার নাম খগেন, না অন্য কিছু? মনে পড়ছে? কে আমার বাবা?

    আরে যে তোকে জন্ম দিয়েছে। তোর মা আছে? না কি মাও নেই। বল এবার আপনা থেকে কুমড়োর মতো খেত-এ গজিয়েছিস?

    দীপংকর কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, আমার কিছু মনে নেই। আমি কিছু মনে করতে পারছি না। তোমরা আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করো না।

    কালনেমি বলল, হুঁ। বুঝেছি। কাল রাতের কথা তোর কিছু মনে পড়ে? না আমার কিছু মনে পড়ছে না। কিছু মনে নেই আমার। আমি কোথায় ছিলাম, আমার কে কে ছিল, কিছুই মনে নেই।

    অ। তা এবার একটু মনে কর দিকিনি এই ট্রাকে তুই এলি কী করে? মনে কর। তাও মনে নেই।

    সে কী রে! আমরা কে বল তো?

    জানি না। আমি কিচ্ছু জানি না।

    কালনেমি আর ময়নিহান একটু সরে গিয়ে বলাবলি করতে লাগল, মনে হচ্ছে ছেলেটার স্মৃতি একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। ওর তো কারও কথাই মনে নেই।

    ময়নিহান বলল, বাঁচা গেছে। আমাদের ট্রাকেই যে ও ধাক্কা খেয়েছে এটা তা

    হলে ও জানবে না। ও শুধু আমাদের দু’জনকে ওর উদ্ধারকারী বলেই ভাববে। ভুল হল। যেখানকার জিনিস সেখানে ফেলে রেখে এলেই হত। কোনও ঝামেলাই থাকত না তা হলে।

    ঝামেলা থাকত না মানে? রাস্তায় এ অবস্থায় ছেলেটাকে ফেলে রাখলে দারুণ হইচই হত। কাছেপিঠে কোনও পুলিশের গাড়ি থাকলে তাড়া লাগাত আমাদের। এখন তা হলে কী করবি ছেলেটাকে নিয়ে?

    কী আবার করব? কাছাকাছি কোথাও লোকালয় দেখে ছেড়ে দেব। না হলে কে হুজ্জোতি পোহাবে? ওর বাবা-মা কি এতক্ষণে থানা-পুলিশ করেনি ভেবেছিস? চারদিকে খবর চলে গেছে হয়তো।

    দীপংকর তখন পাশেই একটি ঝরনার জলে গিয়ে মুখহাত ধুয়ে নিল।

    এইখানে এক জায়গায় পাহাড়ের কোলে ঘন জঙ্গলের ধারে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান ছিল! ছিটে বেড়ার ঘর। দোকানে নেড়ো বিস্কুট, আর চা ছাড়া কিছুই নেই। মুড়ি হয়তো আছে। দোকানের লোকটি বেসন ফ্যানাচ্ছে, গরম কিছু ভাজি তৈরি করবার জন্য।

    কালনেমি আর ময়নিহান কাঁধে গামছা নিয়ে জঙ্গলে চলে গেল। দোকানিকে বলে গেল দীপংকরের দিকে নজর রাখতে এবং একটু কিছু দিতে।

    দীপংকর চা-দোকানের বেঞ্চিতে বসে এদিক ওদিক চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগল। কী সুন্দর সকাল। বুনো গাছ-গাছালির সবুজ পাতার কী চমৎকার গন্ধ। আর কত যে পাখি ডাকছে গাছে। ওটা কী পাখি, ঠিক টিয়ার মতো দেখতে, লম্বা লেজ আর ঘন নীল গায়ের রং। মাথার কাছটা বাদামি।

    দোকানদার বলল, কী খোকাবাবু। মুলুক কাঁহা? কাঁহা সে ভাগাকে লে আয়া এ লোক?

    দীপংকর বলল, জানি না। আমার কিচ্ছু মনে নেই। আমি কিছু মনে করতে পারছি না।

    এ কেয়া বাত! কুছ ইয়াদ নেহি?

    না। আমার বাবা-মা কাউকে মনে পড়ছে না। কোথায় ছিলাম তাও মনে নেই। হুঁ। তো এ দোনো বদমাশ কো কাঁহা মিলা?

    তাও মনে নেই।

    কুছ ইয়াদ নেহি আয়েগা তো ক্যা কিয়েগা? ক্যায়সে ঘর যাওগে তুম?

    দীপংকর বলল, আমার খুব খিদে পেয়েছে। কিছু খেতে দেবে? হাঁ হাঁ জরুর দেগা। বইঠো। চা পিয়োগে?

    হ্যাঁ।

    লোকটি তাড়াতাড়ি টিনের বাক্স থেকে মুড়ি বার করে, একটু চানাচুর মিশিয়ে ওকে খেতে দিল। ততক্ষণে পিঁয়াজি ভাজা শুরু হয়ে গেছে। পিঁয়াজি ভাজা হলে

    তাও দিল শালপাতার ঠোঙায় করে।

    দীপংকর খেতে খেতে বলল, আচ্ছা আমি এখন কোথায়?

    তুমি এখন ছোটনাগপুরের জঙ্গলে।

    ছোটনাগপুর! সেটা কোথায়?

    সেটা এইখানে। তুম পড়িলিখি লেড়কা। ছোটনাগপুর মালুম নেহি? সিংভূম জিলা। ঘাটশিলা হিয়াসে দু’ মিল।

    ঘাটশিলা দু’ মাইল!

    হাঁ।

    এমন সময় কালনেমি আর ময়নিহান ফিরে এল। এসে বলল, কীরে ছেলে, ঘরবাড়ির কথা কিছু মনে পড়ছে?

    না।

    তোকে আমাদের ট্রাকে কে উঠিয়েছিল?

    বলছি তো আমার কিচ্ছু মনে নেই।

    ঠিক আছে। ওসব কথা মনে না-থাকাই ভাল। তা এখন কী করবি ঠিক করেছিস? আমরা তোকে এইখানেই ছেড়ে দেব। দিনের আলোয় তোকে নিয়ে যাবার দায়িত্ব নেব না আমরা।

    আমি তোমাদের সঙ্গে যাব।

    আমাদের সঙ্গে তো অনেকদূর এসেছ বাবা। এবার এখানেই থেমে থাকো, আর বেশি এগিয়ো না। আমরা ভাল লোক নই। বুঝলে?

    দীপংকর চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে বলল, কে বলে তোমরা ভাল লোক নও? তোমরা খারাপ লোক হলে তো আমাকে মেরেই ফেলতে!

    ময়নিহান বলল, অ্যা-অ্যা-অ্যাই দেখো। এসব কী উলটোপালটা বলে রে পাখি। ওরে আমরা হলুম জেল-ভাঙা কয়েদি। আমাদের কাজ হল লুটমার করা, মানুষের বুকে ছুরি মারা, আর চোরাই মাল পাচার করা। এখন আমরা অনেক দূর র্যাব। চক্রধরপুর থেকে মাল নিয়ে চাঁইবাসা। তারপর সেখান থেকে চলে যাব রাঁচিতে।

    বলো কী! আবার কবে ফিরবে?

    আমাদের ফেরার কোনও দিনক্ষণ নেই। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে যদি ধরা না-পড়ি তা হলে তিনদিন পর। আর ধরা পড়লে দশ বছর জেলের ঘানি টেনে তারপর।

    দোকানদার কালনেমি ও ময়নিহানকে গরম গরম পিঁয়াজি দিয়ে চায়ের ভাঁড় এগিয়ে দিল।

    ময়নিহান বলল, ঠাকুর সিং?

    দোকানদার বলল, বোলিয়ে।

    ছেলেটাকে রাখবে তোমার কাছে?

    জরুর। লেকিন কুছ ঝামেলা হো যায়েগা তো?

    কুছ নেহি হোগা বাবা। কিছু হলে ব্লবে কোথা থেকে কীভাবে এসেছে তুমি কিছুই জান না। তুমি শুধু ওর আশ্রয়দাদা।

    কালনেমি ও ময়নিহান চা খেয়ে গাড়িতে উঠে বসল। তারপর গাড়ি স্টার্ট করার আগে দশটা টাকা বার করে দীপংকরের হাতে দিয়ে বলল, এটা রাখো তোমার কাছে। কিছু কিনে খাবে। সব যখন ভুলে মেরে দিয়েছ তখন তোমার দুর্গতি দূর করে কে? ছিলে আদরের দুলাল। এখন রাস্তায় ঘুরে ভিক্ষে করো। বলে চলে গেল ওরা।

    দীপংকরের ইচ্ছে ছিল না টাকা নেবার। তবু ও নিল, না-নিলে চলবে কেন? ওর পকেটে তো মাত্র দুটো টাকা পড়ে আছে। এতে কী হবে? কাল রাত থেকে খাওয়া নেই। খিদেয় পেট জ্বলে যাচ্ছে একেবারে। এখন দু’মাইল হেঁটে ঘাটশিলায় পৌঁছোতে পারলে নিশ্চয়ই কোনও খাবার হোটেল পাওয়া যাবে। ওকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে ঠাকুর সিং বলল, আভি তুম ক্যা করোগে কুছ সোচা? কী

    আর করব?

    যাও দিন ভর ঘুমো। লেকিন স্যামকো হিয়া চলি আনা, সমঝা?

    দীপংকর বলল, হ্যাঁ। তা আমি একবার ঘাটশিলায় যেতে চাই। কোনদিক দিয়ে যাব?

    ইয়ে রাস্তা চলা গিয়া।

    দীপংকর বলল, ঠিক আছে ঠাকুর সিং। আমি যাচ্ছি। সন্ধেবেলা যদি কোথাও থাকার জায়গা না পাই তো, আপনার এখানেই চলে আসব।

    এমন সময় হঠাৎ একটা মারুতি গাড়ি উলটো দিক থেকে এসে ব্রেক কষল দোকানের সামনে। ভেতর থেকে এক ভদ্রলোক মুখ বাড়িয়ে বললেন, কুছ খবর আয়া ঠাকুর সাব?

    নেহি আয়া।

    গাড়িটা স্টার্ট দিতে যাবে এমন সময় ঠাকুর সিং বলল, এ লেড়কা কো ঘাটশিলা পর ছোড় দেনা লালব্জি, থোড়া সা মেহেরবানি।

    আরে মেহেরবানিকা কোই বাত নেহি। আও বাচ্চে।

    দীপংকর বেশ প্রফুল্ল চিত্তে মারুতির ভেতরে ঢুকে বসল। ঠাকুর সিং হাত নেড়ে বিদায় জানাল দীপংকরকে।

    মিনিট দশেকেরও কম সময়ের মধ্যে মারুতি গাড়িখানা ঘাটশিলায় এসে পৌঁছল। একেবারে স্টেশনের সামনে নামিয়ে দিয়ে আবার হুশ করে চলে গেল মোটরখানা।

    দীপংকর প্রথমেই একটা বাঙালির খাবারের দোকানে গিয়ে ঢুকল। এখানে নিশ্চয়ই খবরের কাগজ থাকবে। আর সেই খবরের কাগজের প্রথম পাতাতে নিশ্চয়ই থাকবে গত সন্ধ্যার ওর ওই কু-কীর্তির কথা।

    কিন্তু যা ভাবল তা হল না। পেট ভরে কচুরি-মিষ্টি খেয়ে যখন খবরের কাগজের পাতায় চোখ বোলাল, তখন দেখল এর সবক’টি খবরই ওর পড়া। অর্থাৎ এ কাগজ কালকের। আজকের কাগজ আসতে সেই বেলা দশটা। হাওড়া থেকে ইস্পাত এক্সেপ্রেস এসে না-পৌঁছুনো পর্যন্ত কাগজ পাওয়া যাবে না।

    যাক এখনও কিছু সময়ের জন্য নিশ্চিন্তে থাকা যাবে। কেন না ওর ওই হত্যাকাণ্ডের কথা এখানকার লোকদের জেনে ফেলার এখনও অনেক দেরি আছে।

    খুব চালাকি করে হাবাগোবা সেজে অভিনয় করে পার পেয়েছে ও কালনেমি আর ময়নিহানের হাত থেকে। এমনকী ঠাকুর সিংকেও জানতে দেয়নি ওর আসল পরিচয়। কী দরকার। অচেনা পরিবেশে ছদ্মবেশই ভাল। না হলে কে কখন গিয়ে টুক করে পুলিশের কানে খবরটা তুলে দেয় তার ঠিক কী? এখন সমস্যা যেটা দাঁড়াল সেটা হল ও তো এখানে মানিলেস। সামান্য এই ক’টা টাকায় ও কী করবে। এ যা টাকা এতে ওর একটা দিন চলবে খুব জোর, কিন্তু তারপর? তারপর কোথা যাবে? কী খাবে? কী করবে? ভেবে ভেবে কোনও কূলকিনারাই পেল না ও। পুলিশের ভয়ে একবস্ত্রে পালিয়ে এসেছে।

    যাই হোক। ঘুরতে ঘুরতে এক জায়গায় এসে একটা নদী দেখতে পেল ও। কী চমৎকার সব পাথর, যেন বাসুকি নাগের মতো ফণা উঁচিয়ে আছে নদীর গর্ভে। এমন ও কখনও দেখেনি। কাচের মতো স্বচ্ছ নদীর জলধারা। বালিতে অভ্ররেণু চিকচিক করছে। একজনকে জিজ্ঞেস করতে সে বলল, এই নদীর নাম সুবর্ণরেখা। ছোটনাগপুরের পাহাড়মালা থেকে উৎপন্ন হয়েছে এই নদী। এই নদীর বালিতে সোনার রেণু আছে।

    হঠাৎ ও দেখল দু’জন লোক ছোট কুলোয় করে বালি ছেঁকে হেঁকে কী যেন তুলছে।

    ও কাছে গিয়ে বলল, বালিতে তোমরা কী খুঁজছ গো?

    আমরা সোনা খুঁজছি।

    সোনা খুঁজছ!

    হ্যা গো। আমরা হলুম সোনাখোঁচা। এই থেকেই হেঁকেছুকে আমরা সোনার রেণু বার করব। তারপর সেগুলো জমিয়ে বিক্রি করব বাজারে।

    দীপংকর বলল, সব নদীতেই কি সোনা পাওয়া যায়? আমাদের দেশেও তো নদী আছে। কই সেখানে তো কেউ সোনা খোঁজে না।

    একজন হেসে বলল, সব নদীতে যে সোনা মেলে না বাবা। এ যে সোনার নদী। তাই এখানে মেলে।

    দীপংকরের বুকের ভেতরটা যেন কীরকম করে উঠল। বলল, সোনার নদী! এই তা হলে সেই কল্পনার সোনার নদী। অর্থাৎ যে নদীতে সোনা পাওয়া যায়? হ্যাঁ গোঁ হ্যাঁ। সোনার নদী সুবর্ণরেখা।

    দীপংকর অবাক হয়ে গেল। ওর জেঠু তা হলে মিথ্যে কিছু লেখেননি। বাড়িয়েও কিছু না। সোনার নদী তা হলে সত্যিই আছে।

    লোকটি বলল, কী নাম তোমার খোকাবাবু?

    আমার নাম? আমার নাম সোনাচাঁদ।

    সুনাচাঁদ ? বাঃ বেশ নাম তো?

    তোমার নাম কী?

    আমার নাম হাঁসুলি।

    কোথায় ঘর তোমার?

    আমার ঘর নদীর ওপারে! ওই যে দেখছ পাহাড়ের কোলে জঙ্গলের ভেতরে ছোট্ট গ্রামখানা ওই গ্রামেই আমার বাড়ি।

    আমাকে নিয়ে যাবে তোমার বাড়িতে?

    কেন গো বাবু? আমার বাড়ি গিয়ে কী করবে

    থাকি। তোমাকে বসতে দেব কোথায়?

    গরিব লোক আমি। মাটির ঘরে

    যেখানে হোক দিয়ো। তবু আমি তোমার সঙ্গে যাব।

    তোমার মা-বাবা বকবেন না?

    তাঁরা কেউ নেই এখানে। আমি একা।

    সে কী! বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছ নাকি তুমি?

    দীপংকরের চোখদুটো ছলছলিয়ে উঠল একবার। বলল, হ্যাঁ। পালিয়েই এসেছি।

    কেন পরীক্ষায় পাস করতে পারনি?

    তা নয়, আসলে আমার সৎ মা তো। মারধোর করেন খুব।

    তা বেশ করেছ। সৎ মায়ের মার খাওয়ার চেয়ে ঘর থেকে পালিয়ে আসা বরং ভাল। জীবনে দাঁড়াতে পারবে। বাড়ি কোথায় তোমার? বর্ধমানে।

    বর্ধমানের কোন জায়গায়?

    বসিরহাটে।

    বসিরহাটে? বর্ধমানে আবার বসিরহাট কোথায় পেলে গো? বসিরহাট তো চব্বিশ পরগনায়।

    আছে আছে। বর্ধমানেও আছে। যেমন ধর্মতলা কি শুধু কলকাতায়? ধর্মতলা সব জায়গাতেই আছে।

    লোকটি বলল, তুমি তা হলে সত্যিই আমার বাড়িতে যাবে খোকাবাবু? হ্যাঁ যাব।

    চলো তবে।

    কী বিচ্ছিরি কালো ভূতের মতো চেহারা লোকটার। অথচ কী চমৎকার কথাবার্তা। একটা যাত্রীবাহী নৌকোয় দীপংকরকে উঠিয়ে নিজে ছাঁকনি জাল আর মাটির হাঁড়ি নিয়ে অদ্ভুত কায়দায় সাঁতার কেটে ওপারে গিয়ে উঠল। এ নদীতে জল খুব কম। কোথাও এক হাঁটু, কোথাও এক কোমর, কোথাও বা এক বুক জল। …তার বেশি নেই। তবুও পারাপারের জন্য নৌকা বাওয়া।

    নৌকা ওপারে ভিড়তেই মাঝির হাতে দশটা পয়সা দিয়ে দিল দীপংকর।.

    লোকটি সঙ্গে সঙ্গে হাঁ হাঁ করে উঠল, না না। পয়সা দিয়ো না। এ নৌকা আমার, আর ওই মাঝি আমার ছেলে।

    দীপংকর অবাক। এই বাপ আর ওই ছেল! ছেলের হাতে দামি রিস্টওয়াচ। নৌকার খোলের মধ্যে ট্রানজিস্টার বাজছে। টেরিকটের পায়াগুটোনো প্যান্ট পরে আছে। আর পরে আছে নাইলনের গেঞ্জি। বেশ নধর গড়নের সুঠাম দেহ। কত তফাত।

    ওপারে নেমে বড় বড় ঘাসের বন, নল খাগড়া, কাশ ইত্যাদি ঠেলে উঁচু ডাঙায় উঠল ওরা। পাহাড়ি গাছপালা, বুড়ো মহুয়া, বেঁটে পলাশ সবই আছে ওখানে। ছোট ছোট টিলা দু’–একটা পেরিয়ে একটি ছোট্ট গ্রামে গিয়ে ওরা পৌঁছুল। গ্রামটি আদিবাসীপ্রধান। নিকানো মুছানো একটি উঠোনে দাঁড়িয়ে এক বুড়ি অপলকে তাকিয়ে রইল দীপংকরের দিকে। মাঠের রাখালরা লাঠির ওপর ভর দিয়ে ওর দিকে চেয়ে রইল। চাইবে নাই বা কেন? ওই কালো কুচ্ছিত সোনাখোঁচাটার সঙ্গে এমন টুকটুকেপানা ছেলেকে দেখলে বিস্ময় না-হবেই বা কার? শুধু মানুষ কেন, গোরুগুলো পর্যন্ত এই পাথর কাঁকরের দেশে খুঁজে পেতে যে দু’-এক কল ঘাস মুখে পুরেছিল, তারাও এই অচেনা কিশোরকে দেখে ঘাস চিবোতে ভুলে গেল যেন। মুখের ঘাস মুখেই রইল তাদের।

    দীপংকর যে সোনাখোঁচাটার সঙ্গে গিয়েছিল, আগেই বলেছি তার নাম হাঁসুলি। রাঙা মাটির নিকোনো মুছানো উঠোনের এক প্রান্তে খড়ের ছাউনি দেওয়া হাঁসুলির ঘর।

    হাঁসুলির বউ দাওয়ায় বসে রান্না করছিল। অবাক হয়ে বলল, ই ছেইলেটো কে বটেক?

    হাঁসুলি বলল, একটা ছেইলে বটেক। বাপ-মায়ের ওপর রাগ করে পালিয়ে এসেছে। দুটি ভাত খাবে। দু’-একদিন থাকবে। তারপর চলে যাবে। হাঁসুলির বউ বলল, কী নাম গো তোমার?

    আমার নাম সোনাচাঁদ।

    তা সুনাচাদের মতোই দেখতে বটে। বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছ? মা-বাবা কাঁদবে না?

    দীপংকর বলল, না! আমার তো সৎ মা। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে আমাকে।

    ও বুঝেছি। তা দেখো আমাদের এখানে দু’দিন থেকে। থাকতে পারো কি না। দীপংকর বলল, হ্যাঁ পারব।

    হাঁসুলির বউ তখনই ওকে মুখহাত ধোবার জল দিল। তারপর মুড়ি আর পিঁয়াজকুঁচো একটা বাটিতে করে খেতে দিল।

    দীপংকর সেই খেয়ে, এক গেলাস জল খেতেই তৃপ্তিতে ভরে উঠল ও। কী সুন্দর জলের স্বাদ এখানকার ! এমন জল তো হাওড়ায় নেই।

    দীপংকর দেখল হাঁসুলি যে সোনামাখা বালি কুড়িয়ে এনেছিল সেগুলি খুব যত্ন করে একটি বাঁশের চোঙায় ভরে দেওয়ালের পেরেকে ঝুলিয়ে রাখল। হাঁসুলির বউ বলল, তা সুনাচাঁদ। তোমরা কী জাত গো বাবা? আমরা বামুন।

    ও মা গো। তা আমাদের রাঁধা ভাত তুমি খাবে?

    কেন খাব না?

    আমরা যে জাতিতে ঝোরা। ওই ও বাড়ির ওরা হচ্ছে গণ্ড। আমরা হলুম সবচেয়ে ছোট জাত।

    দীপংকর বলল, কে বলল? মানুষের একটাই জাত। সে জাত হল মানুষ। হাঁসুলির বউ গলায় আঁচল দিয়ে প্রণাম করল দীপংকরকে। দীপংকর লাফিয়ে

    উঠল, এ কী করছেন! আমি আপনার ছেলের মতো।

    তা হোক বাবা। তুমি বামুনের ছেলে। দেবতা। আমাদের কত ভাগ্য যে, আজ তুমি আমাদের বাড়িতে এসেছ। তা বাবা একটা কথা বলি। ডিম খাও তুমি? আমি সব কিছুই খাই।

    হাঁসুলিও তখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে দু’ পা ছড়িয়ে মুড়ি খেতে বসেছে। দীপংকর বলল, আচ্ছা ওই সোনা তোমরা বালি থেকে হেঁকে বার করবে কী করে?

    সে অনেক হেফাজত গো। ছোট ছেলে তুমি। ওসব বুঝবে না। তবু লেখাপড়া জানা ভাল ভদ্রলোকের ঘরের ছেলে তো, তাই বলছি তোমাকে। বিশেষ করে তোমার যখন জানবার এত ইচ্ছে, তখন শোনো। প্রথমে আমরা সোনার রেণু মাখা বালি নদী থেকে অথবা পাথরের গা থেকে চেঁচে নিয়ে কুলোর মতো একটা পাত্রে রেখে বড় বড় পাথর ঢ্যালা কাঁকর বেছে ফেলে দিই। তারপর সেই কুলোটা নেড়ে চেড়ে ছোট কাঁকর ও অন্য পদার্থগুলো ফেলে দিই! এরপরে যে বালিটা পড়ে থাকে তাকে বেশ ভাল করে ধুয়ে নিই। এইভাবে বার বার ধুতে ধুতে কাদা-কাঁকর সব যখন ধুয়ে যায়, তখন কালো কালো বালি সামান্য কিছু পড়ে থাকে। তারই মাঝে মাঝে সোনার রেণুগুলো আমরা আলাদা করে নিই। ,

    হাঁসুলির বউ বলল, তবে কী জানো বাবা, এতে আমাদের মজুরি পোষায় না। এই মানভূম সিংভূম অঞ্চলের সোনাখোঁচাদের তাই দুঃখের শেষ নেই। কাজেই তিনশো বছর আগেও আমাদের যে অবস্থা ছিল। আজও তাই আছে।

    হাঁসুলি বলল, শুধু উপযুক্ত ব্যবস্থার অভাবে কত সোনা নষ্ট হয় এখানে। অথচ এই নদী সোনার নদী। এত সোনা এখানে আর কোথাও নেই। আর আছে আসামে। তবে ওখানকার ব্যবস্থাও ভাল। সেখানে যে নদীতে সোনা আছে, তার ধারে ধারে গড়ে উঠেছে সোনাখোঁচাদের বাস।

    দীপংকর বলল, আচ্ছা, কোথায় সোনা আছে ওরা খোঁজ পায় কী করে?

    এমন কিছু শক্ত নয়। সোনাখোঁচারা ঘুরে বেড়ায়। নদী যেখানে হঠাৎ বেঁকে গেছে, বা স্রোত খুব দ্রুত এবং পাড় উঁচু ও ভাঙা ভাঙা, তার অপর পাড়ে প্রচুর সোনা পাওয়া যায়। অবশ্য প্রথমে বাঁশে করে নদী থেকে কতকটা বালি তুলে তাইতে সোনা আছে কি না দেখতে হয়। সেই বালিতে দশ বারোটা সোনার রেণু চিক চিক করলেই বুঝে নিতে হবে এতে সোনা আছে। এরপর নদীর ওপর একটা বাঁধ দেওয়া হয়। এবং মনোনীত জায়গাটির ওপর দিয়ে বয়ে যেতে দেওয়া হয় স্রোতকে। এইভাবে স্রোতে কাদা প্রভৃতি ময়লা পদার্থগুলি ধুয়ে গেলে দেখা যাবে, সোনার রেণু মাখা বালি তলায় চিক চিক করছে। তা হলে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের এখানকার নিয়মের চেয়ে ওখানকার ওই নিয়মে অল্প মেহনতে ওইরকম পরিষ্কার সোনামাখা বালি পেয়ে যাচ্ছে ওখানকার লোকেরা।

    দীপংকর বলল, ওই নিয়ম এখানে খাটে না?

    না। এখানে সে সুবিধে নেই।

    তারপর?

    তারপর ওরা করে কী সেই বালি চেঁচে একটা বাঁশের চালুনির ওপর জমা করে। এবং লাউয়ের খোলায় করে তার ওপর ধীরে ধীরে জল ঢালতে শুরু করে, আর নাড়তে থাকে চালুনিটাকে। তার ফলে সোনামাখা বালি ধুয়ে নীচের একটি পাত্রে পড়ে। অবশ্য অল্প কাঁকর-পাথর যা থাকে সেগুলোকে ফেলে দেওয়া হয়। এইভাবে এক এক খেপে প্রায় চল্লিশ পঞ্চাশ ঝুড়ি বালি ধোয়া হয়। এইবার এই ছাঁকা বালিতে পারা মিশিয়ে দেওয়া হয়। পারা দিলেই সোনার রেণুগুলো জড়িয়ে যায় পারার গায়ে। তখন এতে অল্প অল্প ঢাললেই সেই বালি ধুয়ে যায় এবং পারামাখা সোনা আলাদা হয়ে যায়।

    দীপংকর বলল, বাঃ বেশ মজা তো। কিন্তু পারা থেকে সোনাগুলোকে বার করে কী করে?

    আর কোনও অসুবিধে নেই। সেই পারামাখা স্বর্ণখণ্ড এক-একটা শামুকের ভেতরে রেখে সেগুলো আগুনে পোড়ালেই শামুক পুড়ে চুন হয়ে যায়, আর পারা উঠে গিয়ে সোনাটা বিশুদ্ধ হয়ে পড়ে থাকে।

    দীপংকর বলল, ভাগ্যে তোমাদের সঙ্গে আমার পরিচয় হল। না হলে এসবের কিছুই তো জানতাম না আমি।

    হাঁসুলি বলল, আজকাল লোকজন বড় খারাপ হয়ে গেছে বাবা। তাই এ কাজে আর আনন্দ নেই। এই সোনা সোনা করে কত যে মারপিট, দাঙ্গা, খুন-খারাপি হয়ে চলেছে তা কী বলব।

    দীপংকরের চোখদুটো যেন কীসের আশায় চকচকিয়ে উঠল! ওর তিমিরাবৃত মনে সামান্য একটু আলোকপাত হল যেন। ওর জেঠুও তো খুন হয়েছেন এই সোনা সোনা করেই। এই সোনার জন্যই তো গুপ্তঘাতকের হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে তাঁকে। দীপংকর তাই অবাক হয়ে বলল, এই সামান্য একটু সোনার জন্য খুন !

    সামান্য সোনা নয় খোকাবাবু। এই নদী, ওই দূরের পাহাড় এসব হল স্বর্ণ-প্রসবিনী। ওই যে দেখছ পাহাড়গুলো, ওই পাহাড়ের চূড়ায় চূড়ায় সোনা। ওইসব সোনাই তো বৃষ্টির জলে ধুয়ে বয়ে আসে নদীর স্রোতে।

    ওই পাহাড়ে যদি অত সোনা তো তোমরা এত কষ্ট করে নদীর বালি ঘেঁটে সোনা বার করো কেন?

    এই দেখো। আমরা যে হলাম সোনাখোঁচার জাত। গণ্ড, ঝোরা। আর ওই পাহাড়ে সোনা নিতে গেলে পাহাড়িরা তা নিতে দেবে কেন?

    ওই পাহাড়ে অনেক সোনা!

    অনেক! সোনার গুহা পর্যন্ত আছে।

    বলো কী। সোনার গুহা! তা যদি সত্যি হয় তা হলে গভর্নমেন্টের লোকেরা এসে ওইসব সোনা নিয়ে যায়নি কেন?

    আরে সবাই কি সন্ধান জানে? ওই সন্ধান জানতে গিয়েই তো সেবার এক বাঙালিবাবু গভীর রাতে খুন হয়ে গেল। সোনার সন্ধান কেউ পেলে তার আর রক্ষে নেই। ওখানকার লোকেরা সঙ্গে সঙ্গে তাকে মেরে ফেলবে।

    দীপংকর বললে, উঃ কী ভয়ানক।

    হাঁসুলি বলল, সোনা যদি লোহার মতো সস্তা হত, তা হলে খুনখারাপি কিছুই হত না। ওই বাঙালিবাবু ছিলেন স্বর্ণ-সন্ধানী। পাহাড়ে-জঙ্গলে শুধু ঘুরতেন, আর সোনা খুঁজে বেড়াতেন।

    দীপংকর বলল, আচ্ছা ওই পাহাড়ে আমি যেতে পারি না?

    কেন পারবে না? তবে ওই পাহাড়গুলো এখান থেকে কাছে মনে হলেও ওগুলো কিন্তু অনেক দূরে। তা ছাড়া ওই পাহাড়ে গেলেই যে তুমি সোনা দেখতে পাবে তা তো নয়! কোথায় সোনা লুকিয়ে আছে খুঁজে বার করতে হবে। দুই পাহাড়ের মাঝের খাঁজে পাথরের মধ্যে সোনা থাকে। কালক্রমে যে পাথরে সোনা থাকে সেই পাথর পচে বর্ষার জলে নদীতে গিয়ে পড়ে। কোয়ার্টজ নামে এক ধরনের পাথরের মধ্যেই শুধু সোনা দেখতে পাওয়া যায়। এই পাথরের খাঁজে খাঁজে যেখানে সোনা থাকে তাকে স্বর্ণশিরা বলে। যে কোয়ার্টজ পাথরের খাঁজে সোনা থাকে, সেখানে শুধু কোদাল দিয়ে খুঁড়েই কত লোক বড়লোক হয়ে গেছে। ওই পাহাড়ে কখনও গেলে দেখবে কূপের মতো বড় বড় গর্ত। তা প্রায় পঞ্চাশ ষাট হাতের মতো গর্ত অনেক আছে। বহুকাল থেকেই মানুষ ওইখান থেকে সোনা সংগ্রহ করছে। এক এক জায়গায় সেই গর্ত এত বেশি যে, সেখানে বড় বড় গুহার সৃষ্টি হয়ে গেছে।

    দীপংকর বলল, আমি যাব।

    হাঁসুলি বলল, খবরদার খোকাবাবু! ওই কাজটি কোরো না।

    কেন করব না?

    ঘাঁটি ওখানে।

    ওখানকার লোকজন ভাল নয়। তা ছাড়া বড় বড় ডাকাতের কাজেই সোনার সন্ধানে ওখানে গেলে কেউ ফেরে না।

    দীপংকর বলল, আচ্ছা সেই যে বাঙালিবাবু খুন হয়েছেন বললে, ওই বাঙালিবাবুর নাম কী জান?

    না বাবু। নাম জানি না। ওই বাঙালিবাবুর একটা এদেশি চাকর ছিল। সেও আধা খুন হয়ে গেল। তবে প্রাণে বেঁচেছে সে লোকটা।

    লোকটা কোথায় থাকে।

    ও থাকে বাসাড়েরা গ্রামে। ওর নাম ইকলু।

    এমন সময় খাবারের ডাক পড়ল। হাঁসুলির বউ দাওয়ায় চাটাইয়ের আসন পেতে কলাইয়ের থালায় লাল মোটা চালের ভাত, ডাল, পোস্ত আর ডিমের ঝোল খেতে দিল দু’জনকে।

    দীপংকরের দারুণ খিদে পেয়েছিল। তাই সে পরম তৃপ্তির সঙ্গে খেয়ে নিল সেই ভাত, তরকারি। এরপর বিশ্রাম। একটি ছোট্ট টিলার গায়ে গাছের ছায়ায় শুয়ে শুয়ে দীপংকর ঠিক করে নিল আর এখানে নয়। বেলা পড়ে আসছে। ওকে যেভাবেই হোক ঠাকুর সিং-এর আস্তানায় গিয়ে পৌঁছতেই হবে। কেন না ওই পাহাড় জঙ্গল ওইখান থেকেই তো শুরু। ওখানে থাকলে ওর অভিযান খুবই সহজ হয়ে উঠবে। ওই জঙ্গল ভেদ করে পাহাড় টপকে ও যেভাবেই হোক পৌঁছে যাবে বাসাডেরায়। ইকলুদের গ্রামে। আর সেখানে গিয়ে ইকলুকে খুঁজে বার করতে পারলেই ও অনেক কথা জানতে পেরে যাবে।

    একটা খুন তো নিজের অজান্তেই হয়ে গেছে। পুলিশের খাতায় ওর নাম নিশ্চয়ই জ্বলজ্বল করছে এতক্ষণে। আর কয়েকটা খুন ওকে করতে হবে। ওর প্রথম টার্গেট কুন্দনলাল। যে ওর বাবাকে ভয় দেখিয়েছিল, যার জন্য টাটানগরের ওই বাড়িতে ওরা যেতে পারছে না। যে ওর বাবাকে সাকচি বাজারে মোটর বাইক চাপা দিতে গিয়েছিল। যদিও এ কাজ যে কুন্দনলালেরই তার কোনও প্রমাণ নেই, তবুও ওর মন বলছে এ কাজ ও ছাড়া আর কেউ করতে পারে না। কেন না জেঠু তো লিখেইছেন, ‘শয়তানের মৃত্যু নেই। ওর হাতে হয়তো আরও অনেকের মৃত্যু আছে।’ দীপংকরের স্থির বিশ্বাস ওর জেঠুর হত্যাকারীও কুন্দনলাল ছাড়া আর কেউ নয়। কিন্তু কীভাবে ধরা যায় লোকটাকে? এবং কী কৌশলে ওকে বধ করা যায়? ও তো নিরস্ত্র। আর যা কিছুই করুক না কেন, সবকিছুই করতে হবে ওকে খুব তাড়াতাড়ি। কারণ হত্যাকারীকে না-পেলে ওয়ারেন্ট বেরোবেই এবং যেখানেই গা ঢাক৷ দিয়ে থাকুক না ও, পুলিশ ওকে ধরবেই। তবে ভগবান সহায় তাই ও এইখানে অর্থাৎ এই সোনার নদীর দেশেই এসে পৌঁছেছিল। এই কথাটা মনে হতেই কেমন যেন শিহরিত হয়ে উঠল দীপংকর। তবে কি সত্যি সত্যিই ও ঈশ্বরের ইচ্ছায় এখানে এসেছে? না হলে ওর হাতে একটা মানুষ খুনই বা হল কেন? কেনই বা পালাতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটল? আর ঘটল যখন, তখন ওরা ওকে ট্রাকে না-তুলে রাস্তাতেই বা ফেলে দিয়ে এল না কেন? এবং এল যখন এই সোনার নদীর দেশে কেন? আসানসোল, দেওঘর অথবা বালেশ্বর, খুরদার দিকেও তো যেতে পারত? কিন্তু তা যখন হয়নি এবং ওর নিয়তিই যখন ওকে এই সোনার নদীর দেশে নিয়ে এসেছে, তখন তাঁর অভিপ্রায় কিছু একটা আছেই। অতএব হার ও মানবে না। তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে’র মতন ও-ই হয়তো ওর জেঠুর হত্যাকারীদের ব্রহ্মাস্ত্র।

    দীপংকর কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পর এইসব ভাবনাচিন্তা করে হাঁসুলির কাছ থেকে বিদায় নেবে বলে আবার ওদের ঘরে এল।

    হাঁসুলির ছেলে, মানে সুবর্ণরেখার সেই মাঝি তখন খেতে বসেছে। খেতে খেতেই সে বলছে, আমি বলি কী, চুপি চুপি ওকে পুলিশের হাতে তুলে দাও। না হলে পরে ঝামেলা হলে আমাদেরই কোমরে দড়ি পড়বে।

    হাঁসুলি দাওয়ায় শুয়ে বলছে, তাই কী হয়? তার চেয়ে পরশু তো আমি কলকেতা যাব। তখনই না-হয় ওর বাড়িতে একটা খবর দেব?

    আরে এটা বুঝছ না কেন? ওর বাড়ির লোকে কি থানা-পুলিশ করেনি? তার ওপর এখানে চারদিকে ঢি ঢি পড়ে গেছে, একটি ভদ্দর লোকের ছেলে আমাদের বাড়ি এসে উঠেছে বলে। এখন পুলিশের কানে গেলে কী অবস্থা হবে? তার চেয়ে এখনও সময় আছে। যদি বাঁচতে চাও তো পুলিশে খবর দাও। না হলে ছেলে চুরির দায়ে ফাঁসবে একথা কিন্তু বলে দিলাম।

    পুলিশের নাম শুনেই ভয়ে বুক শুকিয়ে গেল দীপংকরের। সর্বনাশ! এরা যদি পুলিশ ডাকে এবং ওকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়, তা হলে তো সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে। কেন না এখানকার পুলিশ ওকে আটক করেই খবর দেবে বেঙ্গল পুলিশকে। আর তারপরই জেল, হাজত, ফাঁসি।

    দীপংকর এক মুহূর্তও আর রইল না সেখানে। সামান্য একটু পিছু হটে এসে  নদীর পথ ধরল। ওর ইচ্ছে হল পালাতে। কিন্তু তা সে করল না। কেন না ছুটতে গেলেই ও পালাচ্ছে বলে জেনে যাবে সকলে। এবং তখন ধরেবেঁধে ওকে পুলিশের হাতে তুলে দেবে ওরা। ওর জেঠুর হত্যাকারীদের খুঁজে বের করবার আর কোনও সম্ভাবনাই থাকবে না তখন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleCities of the Plain (Sodom and Gomorrah) – Marcel Proust
    Next Article পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }