Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গিরিগুহার গুপ্তধন – ৩

    তিন

    গ্রাম থেকে বের হয়ে উঁচুনিচু জমি পার হয়ে টিলা পাহাড়ের পরিবেশ ছেড়ে নদীর ঘাটে এসে পড়ল দীপংকর।

    সুবর্ণরেখার মাঝি এখন অন্য লোক।

    যাত্রী বোঝাই নৌকোটা ছাড়বার অপেক্ষায় ছিল। দীপংকর যেতেই ওকে তুলে নিয়ে তির তির করে ওপারের দিকে এগিয়ে চলল নৌকোটা। দু’ মিনিটও সময় লাগল না। নদীর গর্ভে একটি বড় পাথরের গায়ে এসে ঠেকল।

    দীপংকর নৌকো থেকে নেমেই ঠিক করে নিল আর কোনও দিকে নয়, একেবারে সোজা গিয়ে উঠবে ঠাকুর সিং-এর ডেরায়। কেন না ওই গভীর অরণ্যে ও পর্বতে অভিযান চালাতে গেলে ঠাকুর সিং-এর আশ্রয়টাই ঠিক। ঠাকুর সিং-এর মন জুগিয়ে দু’-চারটে দিন থেকে বাসাডেরায় গিয়ে ইকলুর সঙ্গে দেখা করবে ও। তারপর ইকলুর মুখ থেকে সেদিনের ঘটনার কথা কিছু শুনে খোঁজখবর করবে ওর জেঠুর হত্যাকারীর। এবং যে মুহূর্তে ও সব জেনে ফেলবে সেই মুহূর্তে যেভাবেই হোক জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে গিয়েও আঘাত হানবে হত্যাকারীকে। অর্থাৎ বদলা ও নেবেই। এবং বদলা নেবার পর নিজেই গিয়ে ধরা দেবে পুলিশকে। তখন আর লুকিয়ে থাকবার কোনও দরকারই হবে না।

    সুবর্ণরেখার পাড় থেকে উঠে এসে একটু উঁচুনিচু পথে চলার পর ঘাটশিলা শহরে ঢুকল।

    দীপংকরের মনে হল এখান থেকেই ওকে আবার অভিনয় শুরু করতে হবে। অর্থাৎ কিনা ওকে দেখাতে হবে ও একজন স্মৃতিহারা কিশোর। দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাবার পর থেকে ওর পূর্ব-স্মৃতি লোপ পেয়েছে। ওর কোনও নাম নেই, ঠিকানা নেই, এই ওর পরিচয়।

    দীপংকর একবার ভাবল একটা দোকানে বসে ও আজকের কাগজটা দেখে। আজকের কাগজে নিশ্চয়ই ছবিসহ গতকালের খুনের ঘটনাটা ফলাও করে ছাপা হবে। আর তাই থেকেই জানতে পারবে ওকে গ্রেপ্তার করবার জন্য পুলিশ কীভাবে চারদিকে তোলপাড় করছে। কিন্তু মনে হলেও সাহস হল না! যদি ওই গুরুত্বপূর্ণ খবরটা দেখবার সময় কেউ ওকে চিনে ফেলে? তা হলে? তা হলে কী হবে?

    না। তার চেয়ে ওসব কৌতূহল মনের মধ্যে চেপে রেখেই ঠাকুর সিং-এর ডেরায় চলে যাওয়া ভাল।

    দীপংকর আর অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা না করে ধীরে ধীরে পাহাড় ও জঙ্গলের পথ ধরল। দিনের আলো নিভে আসছে একটু একটু করে। পাখিরা কলরব করে ঘরে ফিরছে। হঠাৎই কেমন যেন বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল ওর। একটা চাপা কান্না যেন বুক থেকে হাহাকার করে বেরিয়ে আসতে চাইল। মা’র কথা মনে পড়ল। মনে পড়ল বাবার কথা। মা-বাবাকে ছেড়ে ও যে কখনও একা থাকেনি। কোথাও যায়নি। ওর অভাবে ওর মা-বাবার অবস্থাই বা কেমন? দীপংকরকে না পেলে তাঁরা কি বাঁচবেন? ওর কত ইচ্ছে হল এখুনি বাড়ি ফিরে যেতে। কিন্তু কী করে যাবে ও? যেতে পারলে মা-বাবাকে সব কথা খুলে বললে তাঁরা হয়তো সবই বুঝবেন। কিন্তু পুলিশ তো বুঝবে না। তারা ঠিক এসে ওকে ওর মায়ের বুক থেকে কেড়ে নিয়ে গিয়ে জেলে পুরবে। তারপর…।

    আরে! তুম আ গিয়া?

    দীপংকর চেয়ে দেখল পশ্চিমদেশীয় একজন দেহাতি লোক, হাঁটুর ওপরে কাপড়পরা, ওর দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটাকে ও চেনে না। বলল, কে তুমি? তুম ওহি লেড়কা যো নাম বতানে নেহি সতা? ক্যা নাম হ্যায় তুমহারা? জানি না।

    সমঝ গিয়া। হাম তো তুমকো দিন ভর চুঁড়নে লাগা। ঠাকুর সিং নে ভেজা হামকো।

    দীপংকর বলল, তুমি ঠাকুর সিং-এর লোক? ভালই হয়েছে জায়গাটা আমি ঠিক মনে করতে পারছিলাম না। আমি ঠাকুর সিং-এর কাছেই যাচ্ছিলাম। চলো তোমার সঙ্গেই যাই।

    দীপংকর লোকটির সঙ্গে কিছুটা পথ যেতেই চিনতে পারল সকালবেলার সেই জায়গাটিকে।

    সন্ধ্যার অন্ধকার বিভীষিকার মতো ঢেকে গেছে চারদিকে। অরণ্যের জন্য অন্ধকার আরও ঘন। আরও জটিল।

    ঠাকুর সিং-এর দোকানে টিম টিম করে আলো জ্বলছে।

    ওকে দেখেই ঠাকুর সিং পরমাদরে ডাকল, আও মুন্নে। কাঁহা গয়ে থে? খানা পিনা কুছু হুয়া?

    দীপংকর বলল, হ্যাঁ।

    লেকিন ঠারনে কা জায়গা নেহি মিলা। এহি তো—

    আমি আপনার এখানেই থাকব।

    আভি তক্ কুছ ইয়াদ আয়া?

    না। আমি কোনও কিচ্ছু মনে করতে পারছি না।

    ঠাকুর সিং বলল, ঠিক হ্যায়! তুম হিয়া ঠার যাও। বলেই ডাকল, চম্পা! এ চম্পা! কিউ?

    ও লেড়কা আ গয়া। উসকো লে কর ঘর চলা যা তু।

    দীপংকর দেখল ছোট একটি লণ্ঠন হাতে নিয়ে দোকানের ভেতর থেকে এক কিশোরী বেরিয়ে এল। চম্পা তো চম্পা। যেন সত্যিকারের চাঁপাফুল একটি। নামের সঙ্গে রূপের এমন সামঞ্জস্য সচরাচর দেখা যায় না। কথায় বলে দুধে আলতায় গোলা রং। ঠিক তাই। চাঁপার পাপড়ির মতো। ওর কালো কালো ভাসা ভাসা চোখদুটো কই মাছের মতো ছটফট করছে যেন।

    দীপংকরকে ওর মুখের দিকে অবাক হয়ে চেয়ে থাকতে দেখে ঠাকুর সিং বলল, আমার লেড়কি। যাও, উসিকি সাথ মেরা ঘর চলা যাও। হিয়া রহনা ঠিক নেহি।

    চম্পা ওর দিকে চেয়ে মিষ্টি করে হেসে বলল, আও মেরা সাথ। কী চমৎকার ডাক। যেন কত পরিচিত। কত দিনের ভাব ভালবাসা। কত আপনজন।

    দীপংকর চম্পার সঙ্গ নিল।

    অন্ধকার বনপথে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল ওরা। যেতে যেতে চম্পা বলল, ক্যা নাম তুমহারা।

    জানি না।

    আরে নাম ইয়াদ নেহি?

    না।

    চম্পা এবার থেমে দাঁড়াল একবার। তারপর ভাল করে দীপংকরকে দেখে বলল, বেচারা। পরে বলল, ঠিক আছে। হাম তুমহারা নয়া নাম দে দেগা।

    বেশ তো দাও। কী নাম দেবে?

    আমি তোমার নাম দেব বন্ধু।

    এ কী! তুমি বাংলা বলছ?

    আমি বাংলা বলতে পারি। থোড়া থোড়া।

    থোড়া থোড়া কেন, বেশ ভালই তো বলছ তুমি।

    আমি তোমার কাছে আরও ভাল বাংলা শিখে নেব।

    সেই অন্ধকারে ওরা যে কোনদিকে যাচ্ছিল তার কিছুই বুঝতে পারছিল না দীপংকর। তবে আলো হাতে সম্পূর্ণ অজানা অচেনা এক দেশে চম্পার সঙ্গে পথ চলতে খুব ভাল লাগছিল ওর। কতই বা বয়স চম্পার? খুব জোর তেরো কি চোদ্দো। দীপংকরের সমবয়সি। ভগবান যা করেন মঙ্গলের জন্যে।

    এক জায়গায় এসে থামল চম্পা। তারপর বলল,

    মেরা হাত পাকড়িয়ে। দীপংকর বলল, আবার হিন্দি বলে ফেললে তো?

    চম্পা হেসে বলল, স্যরি মিস্টার, স্যরি। আমার হাত ধরো।

    দীপংকর বলল, বাঃ। তুমি ইংরেজিও জান দেখছি। এই বনবাসে থেকে এত স্মার্ট কী করে হলে তুমি?

    তুমি কি মনে করো আমি একটা জংলি মেয়ে। জঙ্গলে থাকলেও পড়া-লিখা করি আমি। এই বছর আমি ক্লাস সেভেনে উঠেছি। তুমি?

    দীপংকর চুপ করে রইল।

    চম্পা করুণ চোখে ওর দিকে তাকিয়ে বলল, কী, মনে করতে পারছ না? দীপংকর ঘাড় নাড়ল।

    ঠিক আছে। দু’-চারদিন কে বাদ সব ইয়াদ আ যায় গা। এখন আমার হাতটা ধরে নেমে এসো একটু।

    দীপংকর চম্পার হাত ধরে একটু গড়ানে জায়গা থেকে নেমে চলে এল। তারপর ওরা দু’জনে আর একটু পথ এক সঙ্গে চলে একটি ছোট কুটিরে এসে হাজির হল।

    চম্পা বলল, হামারা মকান। তুমি হয়তো বড় লোকের ছেলে। পাক্কা মকানে থাক। গদি বিস্তারায় শোও। লেকিন হাম গরিব আদমি-

    দীপংকর সঙ্গে সঙ্গে চম্পার মুখে হাত রাখল। বলল, আর একবার ওই কথা

    বললে আমি কিন্তু রাগ করব খুব। চলে যাব এখান থেকে। গরিব আবার কী? চম্পা তেমনি মধুর করে হেসে বলল, তোমার কষ্ট হোবে না তো এখানে? দীপংকর বলল, হোবে নয়, হবে।

    চম্পা ফিক করে হেসে বলল, কষ্ট হলই বা করব কী? আমাদের আর কিছু নেই।

    তোমার মা নেই চম্পা?

    না। বাবা ছাড়া আমার কেউ নেই।

    তোমার বাবা খুব ভাল। উনি যদি আমাকে আশ্রয় না-দিতেন তো আমি কোথায় যেতাম বলো তো? তার চেয়েও বড় কথা সকালে এখান থেকে চলে গিয়ে আর যদি ফিরে না আসতাম, তা হলে তোমাকে পেতাম না। চম্পা, আমার বোন নেই। অথচ আমার বোনের খুব শখ। আমার একটি বোন থাকবে। সে আমাকে দাদা বলে ডাকবে। তুমি আমার সেই অপূর্ণ সাধ পূরণ করো চম্পা!

    তবে যে তুমি বললে তুমি কিছু ইয়াদ করতে পারছ না? এই তো, এই তো ইয়াদ হচ্ছে তোমার।

    আর একটু হলেই ধরা পড়ে গিয়েছিল আর কী। দীপংকর হঠাৎ দু’হাতে কপালটাকে টিপে ধরে বলল, না না না। কিছু মনে পড়ছে না আমার। সব কিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। চম্পা! আমাকে ধরো। একটু জল দাও আমাকে। উঃ। কী দারুণ ঘুরছে মাথাটা।

    চম্পা ওকে ধরে দাওয়ার ওপর বসিয়ে দিয়ে বলল, তুমকো কুছ ইয়াদ করনে নেহি হোগা। চুপচাপ বসো তুমি। ইয়াদ করতে গেলেই মাথার কষ্ট হবে। তবে আমার মনে হচ্ছে একটু একটু করে সবই মনে পড়বে তোমার। এই বলে এক গেলাস জল এনে দিল ওকে।

    দীপংকর এক নিশ্বাসে জলটা খেয়ে নিল। আঃ। কী অপূর্ব স্বাদ এখানকার জলের।

    চম্পা বলল, তুমি শোবে? যদি শুতে চাও তো বলো। দাওয়ায় চাটাই বিছিয়ে দিই। তারপর রাতের খানা বানাই।

    দীপংকর বলল, না। এখনই শোব না। তুমি খাবার তৈরি করো। আমি তোমার সঙ্গে বসে বসে গল্প করি।

    দীপংকর দাওয়ায় বসে ফুরফুরে হাওয়ায় দেহটাকে চাঙ্গা করে তুলল। কিন্তু ওর এখানে সবচেয়ে অসুবিধে যেটা হল সেটা হচ্ছে এই, পরে থাকা জামা আর প্যান্ট ছাড়া একটা কিছু তো নেই। টাকা-পয়সা বলতে ওর নিজের দু’ টাকা, এবং সকালে পাওয়া সেই দশটি টাকা আছে। এতে কী হবে? চম্পা যদি ছেলে হত তা হলে ওর কাছ থেকে একটা প্যান্টসার্ট চেয়ে নিয়ে পরতে পারত। কিন্তু ও তো মেয়ে।

    দীপংকর বসে বসে চম্পার কাজ দেখতে লাগল। কত কম বয়স। অথচ কী কাজের। আসলে মা নেই তো। তাই সব কাজই ওকে করতে হয়।

    একটু পরেই একটি আট-ন’ বছরের ছেলেকে একটা ঘটিতে করে দুধ নিয়ে আসতে দেখা গেল। ছেলেটি বাইরের গেটের কাছ থেকে ডাকল, চম্পাদিদি। আ যাও বাবুয়া।

    দুধের ঘটিটা নিয়ে ছেলেটি ঢুকতেই ইয়া কেঁদো বাঘের মতো একটা কুকুরও এসে ঢুকল। কুকুরটা দীপংকরকে দেখেই চিৎকার করে উঠল, ভৌ-উ-উ-উ-উ। চম্পা বলল, চেল্লাও মাৎ। দেখা নেহি মেহমান আয়া। যাও, উধার যাও। খানা খালো!

    বলতেই কুকুরটা সরে গেল একপাশে। তারপর একটি মাটির গামলায় রাখা এঁটো ভাত-ডাল ইত্যাদি খেতে লাগল।

    ছেলেটি দুধের ঘটিটা দাওয়ায় রেখে চলে গেল আবার।

    দীপংকর বলল, ছেলেটি কে গো?

    বাবুয়া। উধারবালা গাঁও কা এক গোয়ালাকি লেড়কা। খুব ভাল ছেলে। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চম্পা কিছু কাঠকুটো জোগাড় করে দাওয়ায় পাতা উনুনে কাঠের জ্বাল দিয়ে চায়ের জল বসাল। তুমি চা খাও?

    দীপংকর বলল, হ্যাঁ খাই।

    আমি চা না-খেয়ে একদম কাজ করতে পারি না।

    চা তৈরি হলে, উনুনে ডাল বসিয়ে রুটির ময়দা মাখতে লাগল চম্পা। আর সেই কুকুরটা হঠাৎ ওপরে উঠে এসে দীপংকরের গায়ে গা ঠেকিয়ে শুয়ে লেজ নাড়তে লাগল।

    দীপংকর চা খেতে খেতে বলল, তোমার মা কতদিন মারা গেছেন চম্পা? মালুম নেহি।

    সে কী! তুমি তখন খুব ছোট বুঝি? মায়ের কথা মনে পড়ে না তোমার? মনে পড়ে লাভ কী বলো? ও জিন্দা তো নেহি হোগা।

    তোমার বাবুজি কখন আসবেন?

    বাবুজি? বাবুজি আসবেন কেন? দোকান ফেলে কী আসতে পারেন বাবুজি। তা হলে তুমি একা থাকবে?

    চম্পা হেসে বলল, একা থাকব কেন? তুমি তো আছ।

    সে না হয় আজ। কিন্তু এর আগে কী করে থাকতে? পরে কী করবে?

    চম্পা মুখ তুলে দেখিয়ে দিল কুকুরটাকে। বলল, ও থাকত আমার কাছে। এখন তুমিও থাকবে। আমরা তিনজন হয়ে গেলাম। এখন থেকে তুমি, আমি আর ভেলুয়া।

    ভেলুয়া!

    হ্যা। কুকুরটার নাম। এক বাঙালিবাবুর কুকুর ছিল ও। কুকুরটা আমাকে খুব ভালবাসত। তা সেই বাঙালিবাবু মরে গেলে ও আমার কাছেই রয়ে গেল।

    এই ঘন অন্ধকারে যেন একটা আলোর শিখা দেখতে পেল দীপংকর। এই ভেলুয়াকে দিয়েই কাজ হবে। চম্পাকে দিয়েও হবে। একটু একটু করে কুরে কুরে সব কিছু জেনে নেবে ও।

    দীপংকর বলল, বাঙালিবাবু কী করে মরল? অসুখ করেছিল বুঝি? উঁহু। কুছ বুরা আদমি অচানক মার ডালা উনকো। সে কী! খুন !

    চম্পা ঠোটে তর্জনী রেখে বলল, চুপ। অ্যায়শা বাত মাৎ বোল না।

    দীপংকর চুপ করল।

    রান্না শেষ করে দীপংকরকে খেতে দিল চম্পা। তারপর ভেলুয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওর বাবার কাছে খাবার পৌঁছে দিতে চলে গেল। যাবার সময় দীপংকরকে বলে গেল ঘুম পেলে দাওয়াতেই শুয়ে পড়তে। দীপংকর ঘাড় নেড়ে ‘হ্যা’ বলল।

    খুব ভোরে যখন ঘুম ভাঙল দীপংকরের, তখন পাখিদের কলরবে চারদিক মুখ হয়ে উঠেছে। মাটির ঘরের মাটির দাওয়ায় শুয়ে পাহাড় আর জঙ্গলের পরিবেশে ভোরের গন্ধ শুঁকে ওর মনে হল সারাজীবন ও এই অরণ্যেই কাটাবে। দরকার নেই শহরের ইট, চুন, সুড়কির বিলাসবাহুল্যে। এই মন ভরানো, প্রাণ মাতানো প্রকৃতির কোলে উদ্দাম শিশুর মতো ছুটোছুটি করবে। আজ ও বুঝতে পারল কেন ওর জেঠু অত টাকার মালিক হয়েও অমন সোনার সম্পদ মাটিতে পুঁতে রেখে চির বনবাস যাপন করতেন। টাটানগরের সাকচিতে মস্ত দোতলা হাঁকালেও জেঠুর প্রাণ ছিল এই পাহাড়, নদী, ঝরনা ও গভীর বন। না হলে ভোগবিলাসী মানুষ হলেও কিছুতেই উনি তাঁবু খাটিয়ে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরতেন না।

    দীপংকর ঘুম ভেঙে আড়মোড়া ভাঙতেই ওর মাথার নীচে বালিশ এবং গায়ে চাদর অনুভব করল। আসলে ও ঘুমিয়ে পড়বার পর, যখন বাবুজিকে খাবার দিয়ে ফিরে আসে চম্পা, তখনই এই ব্যবস্থা ও করে। কিন্তু কোথায় চম্পা! চম্পা কই? ঘরের দরজায় তো শিকল দেওয়া। তার মানে ঘরেই ছিল। বাইরে কোথাও যাবার আগে শিকল দিয়ে গেছে।

    দীপংকর দাওয়া থেকে নেমে বাইরে এল। রাতের আঁধার সবে কেটেছে। এখানে চারদিকে শুধু টিলার পর টিলা আর কত মহুয়া গাছ। দীপংকর ধীরে ধীরে একটি টিলার কাছে এগিয়ে এল! কী নির্জন চারদিক। পাঁচ ছ’ ঘর মানুষের বসতি এখানে। তারপর শুধুই জঙ্গল। শুধুই পাহাড়। আহা! কী অপূর্ব পরিবেশ। দীপংকরের জীবনে এই প্রথম পাহাড় দেখা। এর আগে ছবিতেই যা পাহাড় দেখেছে। সেই পাহাড় এখন জীবন্ত।

    দীপংকর ধীরে ধীরে একটি টিলার ওপর উঠল। টিলা মানে ন্যাড়াটিলা নয়। গাছ-গাছালিতে ভরতি। টিলার ওপরে উঠেই দেখল দূরে একটি ছোট ঝরনার পাশ দিয়ে মাথায় কাঠের বোঝা নিয়ে চম্পা ঘরের দিকে আসছে। ওকে দেখে যেন বুকে বল এল দীপংকরের। সে দূর থেকেই ডাকল, চম্পা! এই চম্পাকলি! আমি যাব?

    চম্পা থমকে দাঁড়িয়ে উত্তর দিল, কিউ?

    তোমার কাঠের বোঝাটা আমি মাথায় নিয়ে আসব?

    চম্পা দূর থেকেই বলল, নেহি। তুম নেহি সকোগে। তুমি পারবে না। আমাদের ঘাড় শক্ত। তুমি এখনও কচি নরম আছ। বাচ্চা ছেলে।

    দীপংকর তখন দ্রুত পায়ে ছুটে টিলার ওপর থেকে নামতে লাগল নীচে। তাই দেখে চিৎকার করতে লাগল চম্পা, রুখ যাও। রুখ যাও। এ কী করছ। থামো! দীপংকর থেমে পড়ল।

    চম্পা বলল, এইবার আস্তে আস্তে নেমে এসো। পাহাড় থেকে, টিলা থেকে বা কোনও গড়ানো জায়গা থেকে কখনও অমন ছুটে নামতে যাবে না। তা হলেই পড়বে।

    দীপংকর চম্পার কথা মতো তাই করল। তারপর টিলা থেকে নেমে যখন ওর কাছে গেল তখন কী আনন্দ দু’জনের।

    চম্পা বলল, আমাকে ঘরে না দেখে তুমি খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলে না?

    খুব ভয় করছিল আমার!

    কেন, ভয় করছিল কেন? তুমি না ব্যাটাছেলে?

    বাঃ রে। আমি তোমাদের অতিথি। এখানে তুমি ছাড়া আমার আপনজন কেউ নেই। আমি কোথা থেকে এসেছি, আমি কে, কিছুই আমার মনে নেই। কাজেই ভয় করবে না? তোমাকে হারালে এই বনে-জঙ্গলে আমি কোথায় যাব? কার কাছে থাকব?

    চম্পা ওর উজ্জ্বল ঝকঝকে দাঁতের সারিতে ঝিলিক দিয়ে হাসল এবার। তারপর বলল, তোমাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না। এই ডাকাতের আস্তানায়—। বলেই থেমে গেল চম্পা।

    দীপংকর অভিনয় করে বলল, ডাকাতের আস্তানা? ডাকাত কী গো চম্পা? ডাকাত কাকে বলে?

    সে তুমি বুঝবে না। বোঝবার চেষ্টা করো না। যাক। মুখহাত ধুয়েছ? না।

    চলো ঝরনার কাছে। মুখ ধোবে। এখানেই আমি সব কিছু করি। বেলায় এখানে আমরা দু’জনে এসে চান করব।

    দীপংকর একটা আশ শ্যাওড়ার ডাল ভেঙে দাঁতন করতে করতে চলল। চম্পা ওর মাথার কাঠের বোঝাটা মাটিতে নামিয়ে দীপংকরের হাত ধরে উঁচুনিচু পাথরে পা রেখে ঝরনার কাছে এগিয়ে গেল। পাহাড়িয়া ঝরনা ঝিরিঝিরি বইছে। কী স্নিগ্ধ শীতল জল।

    দীপংকর সেই ঝরনার জলে বেশটি করে মুখ ধুয়ে কুলকুচি করে নিল। চম্পা বলল, চলো। ঘরে চলো। তোমাকে কিছু খেতে দিই গে। বাবুজির দোকান থেকে মুড়ি আর পিঁয়াজি আনতে হবে। চা খাবে তো? দীপংকর বলল, হ্যাঁ। আমার মা রোজ সকালে আমাকে চা করে খাওয়াতেন। এখন তুমি খাওয়াও।

    তোমার মায়ের কথা মনে পড়ছে এবার?

    উঁহু। শুধু চা খেতাম, রুটি খেতাম, ভাত খেতাম এই সব মনে পড়ছে। এ ছাড়া আর কিচ্ছু না।

    চম্পা বলল, জানো, তোমাকে দেখে আমার মনে হচ্ছে তুমি এক ভিনদেশি রাজপুত্তুর। আমাকে পাতালপুরী থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে বলে এসেছ।

    আমারও কী মনে হচ্ছে জানো, তুমি এক বন্দিনী রাজকন্যা। আমি যুদ্ধ করে তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি। তবে পাতালপুরী থেকে নয়। দুর্গম গিরিকাস্তার থেকে।

    চম্পা হোঃ হোঃ করে হেসে গড়িয়ে পড়ল। সেই হাসিতে দীপংকরও যোগ দিল।

    এমন সময় দূর থেকে ঠাকুর সিংকে আসতে দেখা গেল সেখানে।

    চম্পা তাড়াতাড়ি কাঠের বোঝাটা মাথায় তুলে নিয়ে বলল, বাবুজি আরহা হ্যায়।

    ঠাকুর সিং কাছে এসে বলল, আরে চম্পা! তু হিয়া ক্যা করতে হো?

    জঙ্গলমে গিয়া থা বাবুজি ! লকড়ি লেনে কে লিয়ে।

    ঠাকুর সিং এবার দীপংকরকে সস্নেহে বলল, হিয়া কুছ তকলিফ নেহি হোতি

    তো বেটা? হামারা চম্পা বিটিয়াক৷ সাথ রহো। আপনা বহিন সমঝো। উঁ? হামকো গ্যালুডি যা না হ্যায়। সামকো আপস আউঙ্গা।

    দীপংকর বলল, আপনি নিশ্চিন্তে যান বাবুজি।

    ক্যা কহা তুমনে? বাবুজি?

    হ্যাঁ। আপনি চম্পারও বাবুজি। আমারও। তা আপনি যেখানে যাচ্ছেন সেখান থেকে আমার জন্যে একটা প্যান্ট আর গেঞ্জি নিয়ে আসবেন? কেন না এই যা পরে আছি এর বেশি আমার কিছু নেই।

    ঠাকুর সিং বলল, জরুর লে শোয়েঙ্গে।

    চম্পা বলল, বাবুজি আমার জন্যে কাচের চুড়ি আর রঙিন ফিতে আনবে কেমন?

    ঠাকুর সিং ‘আচ্ছা, সব কুছ লেকে আয়েঙ্গে হাম’ বলে চলে গেল।

    দীপংকর আর চম্পা অনেকক্ষণ ধরে ঠাকুর সিং-এর চলে যাওয়া দেখল। তারপর দু’জনে গুন গুন ভোমরার মতো গান গাইতে গাইতে ফিরে এল ওদের  পর্ণকুটিরে। কুটির অবশ্য ফাঁকা ছিল না। দাওয়ার ওপর থাবা গেড়ে বাঘের মতো বসেছিল ভেলুয়া। ওরা যেতেই দাওয়া থেকে নেমে এসে ওদের পায়ের কছে শুয়ে কুঁই কুঁই করে গড়াগড়ি খেতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleCities of the Plain (Sodom and Gomorrah) – Marcel Proust
    Next Article পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }