Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গিরিগুহার গুপ্তধন – ৯

    নয়

    ভেলুয়া শুয়ে আছে চম্পার খাটিয়ার নীচে।

    দীপংকরের মনে ভয়। এই রকম দুর্যোগ চলতে থাকলে কাল কি যাওয়া সম্ভব হবে? অথচ যেভাবেই হোক চম্পার ওই অলংকার এবং গুপ্তধনের খোঁজ নিতেই হবে ওদের। কিন্তু দুর্যোগ যেভাবে চলছে তাতে তো কমবার কোনও আশাই নেই। এখন সবে সন্ধেরাত। দেখা যাক সারারাতে কী হয়।

    দুর্যোগ বেড়েই চলল। রাতও হল। সামান্য কিছু গুড়মুড়ি আর কলা খেয়ে শুয়ে পড়ল ওরা। এর বেশি এই দুর্যোগের রাতে আর কী-ই বা আশা করা যায়? অনেকক্ষণ ধরে দু’জনে জল্পনাকল্পনা করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়ল একসময়। রাত তখন কত তা কে জানে?

    চম্পার করস্পর্শে চোখমেলে তাকাল দীপংকর। ছোট চিমনি লণ্ঠনটা তখনও টিম টিম করে জ্বলছে। চম্পা সেটা অল্প একটু উসকে দিয়ে চাপা গলায় ডাকল, দীপ! এই দীপ! দীপংকর !

    চোখমেলে দীপংকর দেখল চম্পা ওর বুকে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ওর মুখের দিকে ঝুঁকে আছে। ওর ঘন নিশ্বাস পড়ছে গায়ের ওপর। দীপংকর বলল, কী!

    ওঠো।

    কেন?

    ওঠো না একবার।

    দুর্যোগ কমেছে?

    না আরও বেড়েছে।

    তবে? বাইরে যাবে?

    হ্যাঁ।

    দীপংকর উঠল। তারপর দু’জনে ঘরের দেওয়ালে পেরেকে ঝোলানো সেই ভালুকের মোটা লোমওয়ালা ছালদুটো পেড়ে নিয়ে দরজা খুলে বাইরে বেরোতেই, দমকা বাতাসে ঘরের সব কিছু যেন এলোমেলো হয়ে গেল। লণ্ঠনটাও নিভে গেল ধূপ করে। সে কী কাণ্ড। ওরা জালঘেরা বারান্দা থেকে নীচের দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে গেল। আশপাশের বড় বড় গাছগুলো ডালপালা ভেঙে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে উঠোনের ওপর। উঠোনের মাঝখানে কিছু না হলেও এক হাঁটু জল। একটা প্রকাণ্ড ময়াল সাপ রান্নাঘরের চালার ওপর থেকে পাশের একটি গাছের ডালে উঠতে যাচ্ছে। উঠানের শেষে পাঁচিলের গায়ে লাগানো দরজাটা পাঁচিল সমেত ভেঙে পড়ে আছে। এ যেন প্ৰলয়নাচন নাচছে প্রকৃতি।

    ওরা টর্চের আলো ফেলে নীচে নামার সময় ইকলুর ঘরের দরজাটা একটু ঠেলে দেখল। ও এখন বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। এমন সময় হঠাৎই দীপংকরের হাত ধরে টান দিল চম্পা। বলল, দীপ! ওই দেখো।

    ওরা সবিস্ময়ে দেখল বাইরে ধসে যাওয়া পাঁচিল ও ভেঙে পড়া দরজার কাছে কালো বর্ষাতিপরা চারজন আগন্তুক এসে দাঁড়িয়েছে। ওদের প্রত্যেকেরই হাতে একটি করে জোরালো টর্চ ও একটি করে রিভলবার। ওরা সেই টর্চের আলোয় পথ দেখে উঠোন পার হয়ে ঘরের দিকে এগোচ্ছে।

    কিন্তু ঘরের দিকে এগোলে কী হবে? দালানে ঢোকার মুখে যে দরজা সেটাও তো বন্ধ। ওরা এসে একবার একটু ঠেলে দেখল। তারপর ইশারায় কী যেন কথা হল ওদের নিজেদের মধ্যে। একজন পকেট থেকে একটি আংটা লাগানো দড়ি নিয়ে লটকে দিল বারান্দার কাঠের রেলিংয়ে। তারপর চুপিসাড়ে দড়ি বেয়ে একটু একটু করে উঠতে লাগল ওপরে।

    চম্পা চাপা গলায় বলল, নিশ্চয়ই লালজির লোক এরা। আমাদের খোঁজে এসেছে।

    আমারও তাই মনে হয়। দুর্যোগের রাতে বাধা পাবার ভয় নেই বুঝেই এসেছে ওরা।

    আমাদের এখুনি ইকলুভাইকে ডাকা উচিত।

    না। ডাকাডাকি করবার আর সময় নেই। ওরা সতর্ক হয়ে যাবে। পালাবে ওরা। তার চেয়ে চলো আমরাই ওদের উচিত শিক্ষা দিই। কী করে কী করবে?

    তুমি চুপিসাড়ে চট করে ঘরে ঢুকে বল্লমটা বার করে নিয়ে এসো। আমি ততক্ষণ এই ডান্ডাটা নিয়ে এগোচ্ছি। বলেই দরজার কাছে ঠেস দিয়ে রাখা দু’-চারটে লোহার রডের ভেতর থেকে একটা বেছে নিয়ে গুঁড়ি মেরে উঠে গেল সিঁড়ি বেয়ে।

    আগন্তুক ততক্ষণে দড়ি বেয়ে বারান্দার ওপরের রেলিংয়ে পা রেখেছে। কিন্তু বাধা দিল লোহার জাল। মানুষের অসাধ্য তো নেই। তাই সেই লোহার জালকেও কেটে ফেলল একসময়। এবার অল্প একটু একটু করে মাথাটা গলিয়ে ভেতরে ঢুকতে যেতেই দীপংকর সেই লোহার রডের বাড়ি সজোরে এক ঘা মেরে দিল লোকটার মাথায়। লোকটা চেঁচাতেও পারল না। করে একটা শব্দ করেই স্থির হয়ে গেল। একবার শুধু ‘ওঁক’

    নীচে যারা দাঁড়িয়ে ছিল তারা কিছুই বুঝতে না-পেরে বার বার টর্চের আলো ফেলতে লাগল ওপর দিকে। দীপংকর তখন বুকে হেঁটে লোকটার কাছে গিয়ে ওর চুলের মুঠি ধরে একটু ঠেলা দিতেই ধুপ করে নীচে পড়ে গেল লোকটা।

    ব্যাপারটা কী এরা ঠিক বুঝতে পারল না বোধহয়। কেন না ঝড় এবং জল এমনভাবে একটানা হচ্ছে যে কারও কিছু বোঝবার উপায় নেই। ওরা ভাবল নীচে পড়ে গিয়েই বুঝি মাথাটা ফেটে গেল লোকটার।

    তাই আর একজন ওঠার চেষ্টা করল।

    এর জন্যে বল্লম রেডি ছিল। ওপরে উঠে জালের ফাঁক দিয়ে মাথাটা গলাতেই, দীপংকর ওর চোয়ালের নীচ থেকে মুখের ওপর পর্যন্ত এফোঁড় ওফোড় করে দিল বল্লমটা। লোকটা অসহায় ভাবে ছটফট করতে লাগল দেখে নীচের লোক দু’জন এবার একটু ঘাবড়ে গেল। তারপর বেকায়দা বুঝেই এদের ফেলে রেখে পালাল ওরা।

    দীপংকর এ লোকটাকেও বল্লমমুক্ত করে ফেলে দিল নীচে। উঠোনে একহাঁটু জল। লোকটা তাতেই পড়ে দু’-একবার শূন্যে পা ছুড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরল। আগের লোকটা ততক্ষণে জলের ওপর কাছিমের মতো আধডোবা হয়ে ভাসছে। দীপংকর বলল, এইবার ইকলুভাইকে ডাকা যাক।

    চম্পা বলল, উহু। ওকে আরও ঘুমোতে দাও। এমন চমৎকার সুযোগ আর আসবে না দীপ।

    কীসের?

    পালাবার।

    পালাবে? কোন দুঃখে! কাল সকালে যাবে না ওই পাহাড়ে?

    না। আজই, এখনই যাব।

    চম্পা তুমি কি অপ্রকৃতিস্থ?

    না দীপ। এই ভয়ংকর দুর্যোগে কেউ কোথাও নেই। হিংস্ৰ শ্বাপদরা পর্যন্ত তাদের ডেরা ছেড়ে বেরোয়নি। আদিবাসীগুলোও বাধা দিতে আসবে না। এই সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে? চলো এই মুহূর্তে আমরা বেরিয়ে পড়ি। আর কী, সর্বাঙ্গ তো ভিজে গেছে। দু’-দুটো খুনও হয়ে গেল। তবে কেন দেরি? ওই দেখো দূরের পাহাড়গুলো আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। চলো। বেরিয়ে পড়ি।

    দীপংকর কিছুক্ষণ বিস্ময়ভরা চোখে চম্পার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। খুনের উত্তেজনায় এবং অভিযানের উন্মাদনায় শিরদাঁড়া টান করে বলল, চলো।

    ঝড়ের দাপট একটু কম হয়েছে তখন। কিন্তু বৃষ্টির বেগ আরও প্রবল।

    চারদিকে শুধু জল জল আর জল। এই জল হয়তো বেশিক্ষণ থাকবে না। এখন পাহাড়ধোয়া জলের ঢলে ঢেউ খেলে যায় চারদিকে।

    চম্পা এই দুর্যোগে ভেলুয়াকেও টেনে আনল। জেঠুর আদরের কুকুর ভেলু। চম্পার ভেলুয়া। শুরু হল অভিযান।

    ওরা নীচের দরজাটা খুলল না। ওপরের বারান্দা থেকেই সেই ছেঁড়া জালের ফাঁক দিয়ে দড়ি বেয়ে নামল। আগে দীপংকর। তারপর ভেলুয়াকে নিয়ে চম্পা। ওদের একজনের হাতে টর্চ! একজনের হাতে বল্লম।

    সেই হাঁটুজল পার হয়ে বাইরে এল ওরা। যেখানটা একটু ঢালু সেখান দিয়ে কী অসম্ভব বেগে জলের স্রোত যে ছুটছে তা না-দেখলে কল্পনা করা যাবে না!

    ওরা তবু দ্রুত পা চালিয়ে হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে ধারাগিরি বাঁদিকে রেখে জঙ্গলের পথ ধরল। ওদের হাতে আংটাওয়ালা সেই দড়িটাও আছে। পাহাড়ে ওঠার সময় হয়তো এটা খুবই কাজে লাগবে ওদের। ভাগ্যে এটা এনেছিল লোকগুলো।

    ক্রমশ ওরা উঁচুতে উঠতে লাগল। ওদের সঙ্গে সমানে পাল্লা দিয়ে ভেলুয়াও জলের বাধা অতিক্রম করে উপরে উঠল।

    কিন্তু উঠলে কী হবে? জলের হাত থেকে তো পরিত্রাণ নেই। পাহাড়ে ওঠার মুখে জল যেন আরও বেশি। ওপরের জল হুড় হুড় করে ওদের গায়ে এসে পড়তে লাগল। এখানে ওদের এমনই অবস্থা যে কী করবে ভালুকের ছাল?

    এইভাবে বেশ খানিকটা যাবার পর পাহাড় আরও খাড়াই হতে লাগল। সেই খাড়াই পাহাড়ে কাজে লাগল ওই দড়ির আংটা। আংটাটা দূরে নিক্ষেপ করে যে কোনও ঝোপেঝাড়ে আটকে দড়ি বেয়ে ওরা উঠতে লাগল ওপরে। কেন না জলস্রোত এখন এত বেশি যে পথঘাট কিছুই চেনা যাচ্ছে না। দেখাও যাচ্ছে না।

    এইভাবে বেশ কিছুক্ষণ ওপরে ওঠার পর হাঁপিয়ে পড়ল দু’জনেই। ভেলুয়াও হাঁপাচ্ছে। এমনি ওঠা আর জলের বেগ ঠেলে ওঠায় তফাত আছে বইকী। দীপংকর বলল, আমরা ঠিক পথেই চলেছি তো?

    হ্যাঁ। কিন্তু আর যে পারি না। শরীর যেন অবশ হয়ে আসছে।

    আর কত দূর !

    ওই তো। ওই পাহাড়টায়।

    তা হলে এসো,

    তুমি আমার হাত ধরো।

    দীপংকর চম্পার কোমল হাতখানি শক্ত করে ধরল। কী দারুণ ঠান্ডা। বরফের মতো শীতল।

    চম্পা বলল, পাদুটো জড়িয়ে পড়ছে যেন।

    ওরা তখন অনেকটা ওপর-ধাপে উঠে গেছে। বৃষ্টিতে সপ সপ করছে সর্বাঙ্গ। ভেলুয়া থর থর করে কাঁপছে।

    একটু করে চলতে লাগল। দীপংকর বলল, তোমার যদি খুব বেশি কষ্ট হয়, তুমি তা হলে আমার পিঠে উঠতে পারো।

    চম্পা দীপংকরের কাঁধে ভর দিয়ে একটু

    চম্পা হেসে বলল, ভারী বাহাদুর ছেলে তুমি। এই পাহাড়ি রাস্তায় আমাকে পিঠে নিয়ে কখনও উঠতে পারো?

    এসোই না, দেখি পারি কি না।

    দীপংকরের এখন দারুণ উৎসাহ। চম্পাকে পিঠে নিয়েই বল্লমে ভর করে, সে একটু একটু করে ওপরে উঠতে লাগল। যতটা সহজ ভেবেছিল দীপংকর ততটা নয়। খানিক ওঠার পরই মুখ লাল হয়ে উঠল ওর। অবশেষে একসময় ওপরে উঠে এল।

    চম্পা বলল, এবার আমায় নামিয়ে দাও। যেতে পারব।

    ওরা পা টিপে টিপে পাহাড়ের এক প্রান্তে এসে হঠাৎ এক জায়গায় জলের তোড়ের সঙ্গে একটি বড় সাপ দেখে থমকে দাঁড়াল। কী সাপ এটা। ময়াল? হয়তো তাই। কী প্রকাণ্ড তার চেহারা। আর কী দারুণ লম্বা।

    ভালুকের ছাল পরে থাকা সত্ত্বেও ওরা প্রবল বর্ষণে ভিজে কাকের মতো হয়ে গেছে।

    দীপংকর বলল, ভিজেই যখন গেলাম তখন আর এটাকে বয়ে লাভ কী?

    তা হোক। তবু তো কিছুটা বাঁচছে। পাহাড়ি ঢলে ভিজে গেলেও বৃষ্টির জল তো ততটা লাগছে না।

    ওরা কথা বলতে বলতে একটা বাঁকের মাথায় এসে থেমে পড়ল।

    চম্পা বলল, ওই যে দেখছ গ্রামখানা, ওটাই এখানকার আদিবাসীদের গ্রাম। আর এই দেখো পাহাড়ের চেহারা। সোনার লোভে পাহাড়কে কেটে কেটে কেমন শ্রীহীন করেছে। ওপাশের ওইসব গর্তগুলো দেখো। ওগুলো কিন্তু গুহা নয়। সবই পাথরকাটার ফল।

    এখন ওখানে সোনা নেই?

    আছে। যেসব পাথরে আছে, তাই থেকে সোনা বার করা খুব ব্যয়সাপেক্ষ।

    ও। তা আমাদের যেখানে প্রয়োজন সেই গুহাটা কোথায়?

    চলো, সেখানেই আগে যাই। বলে একধাপ নীচে নেমে একটি ছোট্ট গুহার কাছে এসে দাঁড়াল ওরা।

    গুহামুখের সামনে বড় বড় কয়েকটি পাথর আড়াল করা। সামনেটা ঝোপঝাড়ে ভরতি। জানা না থাকলে বোঝার উপায় নেই যে এটা গুহা।

    ওরা প্রথমে অনেকক্ষণ ধরে বল্লম দিয়ে নাড়া দিল সেখানটা, তারপর যখন বুঝল সাপখোপ কিছু নেই সেখানে, তখন পাথরগুলো একটু একটু করে সরিয়ে ফাঁক করল। এবার ভেতরটা টর্চের আলোয় বেশ ভাল করে দেখে, এক এক করে ঢুকে পড়ল ওরা। ভেলুয়া ঢুকল সর্বপ্রথম। তারপর ওরা।

    এ জায়গাটা খুব গড়ানো। যারা কখনও ঢোকেনি এর ভেতর, তারা ভাববে এই ঢাল বোধহয় পাতাল পর্যন্ত। কিন্তু না। বেশ কিছুক্ষণ হড় হড় করে নেমে আসার পরই ওরা পায়ের তলায় শক্ত পাথর পেল। এবার মাথা তুলে উঠে দাঁড়াল ওরা। উঃ সে কী দারুণ অন্ধকার। সেই অন্ধকারে টর্চের আলোয় পথ দেখে ওরা ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল।

    বেশ কয়েক পা যাবার পর দেখা গেল গুহামুখ সংকীর্ণ হয়ে আসছে। ওরা সেখানেও টর্চের আলো ফেলে ঘাড় নুইয়ে এগিয়ে চলল। তারপর আরও ঝুঁকে হামাগুড়ি দিয়ে এগোতে লাগল। এক জায়গায় বেশ কিছু নুড়িপাথর জমা করা ছিল। চম্পা দু’হাতে সরাতে লাগল সেগুলো। হঠাৎ একসময় কী দেখে যেন চিৎকার করে উঠল চম্পা। কী দেখল ও? দীপংকর টর্চের আলোয় দেখল সেই নুড়ি পাথরের ফাঁকে ফাঁকে কিলবিল করছে অজস্র কাঁকড়াবিছে।

    ওরা একটু পিছিয়ে এসে বল্লমের ডগায় করে সেই নুড়িপাথর সরাতে লাগল। দীপংকর জিজ্ঞেস করল, কামড়ে দেয়নি তো?

    চম্পা বলল, না।

    নুড়িপাথর সরাতে সরাতে হঠাৎ একটা লোহার চেন নজরে এল ওদের।

    চম্পা বলল, ওটা ধরে জোরে টান দাও।

    দীপংকর তাই করল। আর করার সঙ্গে সঙ্গেই মস্ত একটা গোসাপ উঠে এল তার ভেতর থেকে। অবশ্য সেটা সত্যিকারের নয়। রবারের। চম্পা সেটাকে ওপরে তুলেই তার বুকের চেন ধরে টানল। দেখল যেখানকার যা সেখানে তা ঠিকই আছে। কিন্তু সেটা এত ভারী যে, তাকে বয়ে নিয়ে যাওয়াও অসম্ভব। হবে নাই বা কেন? দীপংকর নিজে হাতে এক এক করে গুণে দেখল মোট সাতশো চল্লিশটা গিনি, একুশটা দুষ্প্রাপ্য মোহর এবং সোনা ও হিরের নেকলেশ পঁচিশটা। তা ছাড়া আরও অনেক অনেক অলংকার। দীর্ঘ দিনের লুটের মাল দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে জেঠু সঞ্চয় করে রেখে গেছেন এই বনবালার জন্যে।

    ওরা ওগুলো আবার যথাস্থানে রেখে, মানে সেই গোসাপের ভেতরে পুরে শক্ত করে যখন চেন আঁটল তখন বন্যার স্রোতের মতো জল ছুটে আসছে গুহার ভেতর। গুহামুখের পাথরগুলো সরে যাওয়ায় জল আসার সুবিধে হয়েছে। তাই ওরা আর একটুও বিলম্ব না করে বেরিয়ে আসবার চেষ্টা করল। অনেক চেষ্টার পর ধীরে ধীরে ওপরে উঠে এল ওরা। বহু কষ্টে বুকে হেঁটে যখন ওপরে উঠল ওরা, তখন সেই ভালুকের ছালগুলো যেন লোহার মতো ভারী ঠেকছে।

    দীপংকর বলল, আর এগুলোর মায়া নয়। এগুলোকে আর বয়ে বেড়াতে পারছি না। ভিজি ভিজব। পড়ে থাক ওগুলো। বলে গা থেকে খুলে ফেলে দিল। চম্পা বলল, হ্যা আমারও অসহ্য লাগছে। উঃ কী ভারী। তার ওপর এই গোসাপটাকে টেনে নিয়ে যেতে হবে।

    ওরা ওপরে জলস্রোতের ঢাল বহু কষ্টে পেরিয়ে যখন গুহামুখে এল, তখন আনন্দের আর অবধি রইল না ওদের।

    চম্পা নেচে উঠল, বলল ছর র রে। বৃষ্টি থেমে গেছে। দুর্যোগ কেটে গেছে আজকের মতো।

    দীপংকরও বেরিয়ে এল তখন সেই গোসাপটাকে টানতে টানতে। বেরিয়ে এসে বাইরের প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে সেও লাফিয়ে উঠল। আনন্দের আবেগে দীপংকর তো চম্পাকে জড়িয়ে ধরে বাঁই বাঁই করে ঘোরাতে লেগে গেল।

    চম্পা বলল, আরে ! আরে! এ কী করছ! ছাড়ো শিগগির। এখন এসবের সময় নয়। তা ছাড়া এইভাবে ঘোরালে মাথা ঘুরে যাবে যে।

    দীপংকর চম্পাকে নামিয়ে দিয়ে বলল, আমার মনে হচ্ছে তোমাকে এখুনি কাঁধে নিয়ে নাচি।

    চম্পা বলল, দীপ! ওই দেখো আকাশে চাঁদ।

    আরে তাই তো! দুর্যোগ যে একেবারেই কেটে গেছে।

    ওরা একটা বড় পাথরের ওপর বসে বর্ষণসিক্ত পাহাড় ও বনতলের অবস্থা

    দেখতে লাগল। বৃষ্টি থেমে গেলেও পাহাড়ধোয়া ঢল কিন্তু হদ হদ করে সামনে নামছে। তা নামুক। একটু একটু করে সব মেঘ কেটে যাচ্ছে। একটি দুটি করে তারাও ফুটে উঠছে আকাশে।

    চম্পা বলল, জানি দুর্যোগের শেষ হবেই।

    দীপংকর বলল, শুনেছি দুর্দিনও বেশিদিন থাকে না। কিন্তু আমার জীবনের মেঘ কি কাটবে চম্পা? তোমাকে পেলাম। তোমার গোপন সম্পত্তিও উদ্ধার হল। কিন্তু আমার কী হল? শহরে গেলেই তো পুলিশ আমার হাতে হাতকড়া পরাবে খুনের অপরাধে।

    চম্পা বলল, আমি বলি কী দীপ, এক কাজ করো। আমরা বরং এখানেই থেকে যাই। তুমি ইকলুর বাড়িতে কিছুদিন থাকো। আমি তোমার বাড়িতে গিয়ে চুপি চুপি তোমার মা-বাবাকে সব কথা জানাই। তারপর ওদের এখানে নিয়ে এসে এই জঙ্গলে ইকলুদের গ্রামেই একটা ছোট্ট ঘর করে দু’জনে থেকে যাই। তোমার মা-বাবাও যদি থাকতে চান তো থাকবেন। জেঠুর কৃপায় আমরা তো এখন কুবেরের ঐশ্বর্য পেয়ে গেছি।

    ঠিক বলেছ। আমি এখানেই থাকি। তুমি কালই গিয়ে বরং আমার বাবা-মাকে খবরটা দিয়ে এসো। কেমন?

    চলো তা হলে, আর দেরি করে কাজ নেই। আয় ভেলুয়া।

    দীপংকর বলল, না। এখুনি নয়। আমাদের এখন আরও একটা কাজ বাকি আছে।

    কী কাজ?

    সেই গুপ্তধনের গুহাটা আবিষ্কার করা।

    তুমি কি পাগল? এই গিরিগুহার গুপ্তধনের গল্প স্রেফ রূপকথা ছাড়া কিছু নয়। না না চম্পা। রূপকথা নয়। গুপ্তধন আছে। এই দেখো তার নকশা। জেঠুর ডায়েরি থেকে আমি পেয়েছি।

    তাই নাকি? কোথায় কোন গুহায়?

    এখানে যে গুহার মাথার ওপর শিবের ত্রিশূল আঁকা আছে সেই গুহায়। শিবের ত্রিশূল! ওই—ওই দেখো, ওই গুহাটার মাথার ওপর বড় পাথরের বুকে প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষেরা খোদাই করে রেখেছে শিবের ত্রিশূল।

    দীপংকর অবাক হয়ে সেইদিকে তাকিয়ে বলল, কী আশ্চর্য! ওই এত উঁচুতে ও ত্রিশূল খোদাই করল কী করে? এই তা হলে সেই যথার্থ রাক্ষসগুহা! চলো খুব সাবধানে আমরা ওর ভেতর ঢুকে দেখে আসি সেই গুপ্তধনের ভাণ্ডার। যদি পারি তো দু’হাত ভরে মুঠো মুঠো নিয়েও আসব।

    তাতে লাভ? এই গোসাপটার শরীরের ভেতর যা লুকনো আছে তাই কি পারব সারা জীবনে খরচ করতে? এর ওপর আবার লোভ? না না, এ ঠিক নয়। তা ছাড়া এই গুহায় আমি তো বহুবার এসেছি। কই এর ভেতরে, গুপ্তধনের কোনও নমুনাও তো কখনও পাইনি।

    ঠিক জায়গায় হয়তো যেতে পারনি তাই।

    ওরা ভেলুয়াকে সেই সুবিশাল গুহার বাইরে পাহারায় রেখে গোসাপটাকে ধরে টানতে টানতে ভেতরে ঢুকল। উঃ সে কী দারুণ অন্ধকার। টর্চের আলোতেও কাজ হচ্ছে না। চারদিকে শুধু কালো— কালো আর কালো পাথরের গোলকধাঁধা।

    চম্পা বলল, আর বেশি ভেতরে ঢুকো না দীপ। এই গুহার একদম ভেতর পর্যন্ত কেউ যায় না। এর শেষ নেই।

    দীপংকর বলল, আছে আছে। শেষ আছে। বলে অনেকদূর গিয়ে ওরা আর যাবার পথ পেল না-গুহা শেষ।

    চম্পা বলল, এই তো শেষপ্রান্তে চলে এলাম। কিন্তু কোথায় তোমার গুপ্তধন? দীপংকর কোনও কথা না বলে টর্চের আলো ফেলে সেই গুহার গায়ে কী যেন খুঁজতে লাগল। হঠাৎ এক জায়গায় আলোটা পড়তেই চিৎকার করে উঠল চম্পা, দীপু! আর নয়। চলো, চলো। এখান থেকে। ও দৃশ্য আমি দেখতে পাচ্ছি না।

    ওরা দেখল এক ভীষণাকৃতি রাক্ষসীর মুখ ওদের যেন হাঁ করে গিলে খেতে আসছে। সত্যিই সে ভয়াবহ হাঁ করা মুখ দেখা যায় না। দীপংকর সেই হাঁ করা মুখের একটি দাঁতের সঙ্গে গোসাপের চেনটা বেঁধে চম্পার হাত ধরে টানতে টানতে সেই মুখের ভেতর ঢুকে পড়ল।

    মুখগহ্বর পার হয়ে আর একটি গুহায় এসে পড়ল ওরা। এখানে এসেই চম্পাকে নিয়ে মেঝেতে বসে পড়ল দীপংকর। জেঠুর নির্দেশমতো এখানে চলা নিষেধ। ওরা তাই বসে বসে পা ঘষে ঘষে খানিক এগোতেই বুঝতে পারল একটা বিশাল গাড্ডা রয়েছে সেখানে। অর্থাৎ না-জেনে হেঁটে এলেই যে কেউ পড়ে যাবে এই গাড্ডার ভেতরে। গাড্ডাটা নেহাত কম নয়। দুশো ফুটেরও কিছু বেশি। এর চারদিকে চারটি পাথরের আংটা। আর সেই আংটার লাগোয়া শক্ত কাছির মতো কী যেন ঝুলছে। ওরা ওইরকম দুটো কাছি ধরে ঝুলে ঝুলে নামতে লাগল নীচের দিকে। নীচে নেমেই একটি হলঘরের মতো বড় ঘর দেখতে পেল ওরা। সেই ঘরে কী না নেই? একটা প্রকাণ্ড সোনার সিংহাসনে অন্তত চারফুট লম্বা এক জোড়া রত্নপাদুকা রয়েছে! কার তা কে জানে? এ ছাড়া কত রকমের মূল্যবান রত্ন ও পাথর আছে তার আর ইয়ত্তা নেই। এক জায়গায় একটি পাথরের মূর্তির গলায় হিরের একটি নেকলেশ রয়েছে। অত বড় হিরে সচরাচর দেখা যায় না। চম্পা ছুটে গিয়ে সর্বাগ্রে সেটাকে গলায় পরে নিল। আর এক জায়গায় হয়তো কোনও রাজপুত্রের গলার মণিমুক্তার মালা রয়েছে। দীপংকরও সেটাকে পরে নিল। তারপর দু’জনেই জোড় হাতে সেই অতুল ধনরাশিকে প্রণাম জানিয়ে উঠে এল ওপরে। ওপরে উঠে সেই রাক্ষসীর মুখ থেকে বেরিয়ে হার ও মালাগুলো গলা থেকে খুলে গোসাপের পেটের ভেতর ঢোকাল। তারপর সেটাকে টানতে টানতে গুহামুখের কাছাকাছি এসে চম্পা ডাকল, ভেলুয়া…!

    কিন্তু কোথায় ভেলুয়া? কেউ কোথাও নেই। ওদের কেমন ভয় হল। ওরা গোসাপটাকে এক কোণে সরিয়ে রেখে বাইরে বেরিয়ে এল ব্যাপারটাকে কী দেখতে। কিন্তু দেখতে এসেই যা দেখল তাতে ওদের বুক শুকিয়ে গেল!

    ওরা দেখল একটা তেজি ঘোড়ার পিঠে চেপে ওদের দিকে রিভলভার তাক করে দাঁড়িয়ে আছে এক ভয়ংকর চেহারার লোক। লোকটি বলল, কাল থেকে তোমাদের তন্ন করে খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি। আ তোমরা এইখানে এসে লুকিয়ে আছ?

    চম্পা ভয়ে ভয়ে বলল, কে তুমি?

    এখানে কী করতে এসেছিলে? গুপ্তধন নিতে? ওই যেটাকে টেনে আনছিলে কী আছে ওটার ভেতর?

    দীপংকর বলল, তোমার মুণ্ডু আছে।

    লোকটি বলল, ঠিক করে বলো, কী আছে ওর ভেতর? না হলে কিন্তু আমি তোমাদের গুলি করব।

    চম্পা বলল, কিছুই নেই ওতে।

    তা হলে ওটা দিয়ে দাও আমাকে।

    দীপংকর বলল, না। প্রাণ থাকতে নয়।

    বেশ এবার তা হলে মৃত্যুর জন্যে তৈরি হও। প্রথমে একজনকে মারব। তারপরও যদি কবুল না করো তা হলে দু’জনকেই মেরে ফেলব। রেডিএক— দুই – তিন।

    তিন বলার সঙ্গে সঙ্গেই দেখা গেল পাহাড়ের এক উচ্চস্থান থেকে হঠাৎ বাঘের মতো লোকটির ঘাড়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল ভেলুয়া। এই আকস্মিক আক্রমণে টাল সামলাতে না পেরে ঘোড়ার পিঠের ওপর থেকে ছিটকে পড়ে গেল লোকটা। রিভলভারটাও খসে পড়ল হাত থেকে।

    দীপংকর ছুটে গিয়ে সেটাকে কুড়িয়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল পাহাড়ের ঢালে। ঘোড়াটাও ভয় পেয়ে চিঁ হি-হি করে দৌড়ে পালাল।

    আর এদিকে কুকুরে-মানুষে চলল তুমুল লড়াই। ভেলুয়া আঁচড়েকামড়ে অস্থির করে তুলল লোকটাকে। যেখানে কামড়ায় সেখান থেকেই এক খাবলা করে মাংস তুলে নেয়।

    চম্পা বলল, চলো দীপ! এই সুযোগ। ভেলুয়া ওকে রাখুক। আমরা পালাই। বলে আবার গুহায় ঢুকে গোসাপটাকে বার করতে যাবে যেই, অমনি ঘটে গেল এক মারাত্মক দুর্ঘটনা।

    যে গুহার ভেতর ওরা ঢুকেছিল হঠাৎ এক ভয়ংকর ধসে সেই গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল।

    অসহায় দীপংকর ও চম্পা প্রাণভয়ে চিৎকার করে উঠল। কিন্তু না। কোনও লাভই হল না তাতে।

    দীপংকর বলল, কী হবে চম্পা। আমরা যে অক্সিজেনের অভাবে দম বন্ধ হয়ে মরে যাব। এই ভয়ংকর ধস বাইরে থেকে কেউ না সরালে আমরা তো মুক্তি পাব না।

    চম্পা বলল, ভবিতব্য তো কেউ খণ্ডাতে পারে না। তাই হয়তো আমাদের দু’জনকেই এই গিরিগুহার বদ্ধ জঠরে যক্ষ হয়ে পাহারা দিতে হবে। দীপংকর বলল, আমার তো এখুনি দম বন্ধ হয়ে আসছে।

    চম্পা বলল, এক কাজ করি এসো। মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা বাঁচার জন্য সংগ্রাম করে যাই। শেষ চেষ্টা একবার করে দেখি। কী করবে?

    ভেতরের দিক থেকে যতটা পারি পাথর সরাতে থাকি। এইভাবে যদি কোনওরকমে একটু ফাঁক হয় তা হলে হয়তো মুক্তি পেতেও পারি। আর দেরি কোরো না। এসো।

    দীপংকর ও চম্পা দু’জনেই তখন যথাশক্তিতে কাজ শুরু করল। উঃ কী ভয়ংকর পরিণতি। আলো নেই, বাতাস নেই, জল নেই, খাদ্য নেই। তবুও বাঁচার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে ওরা দু’জনে একটির পর একটি পাথর সরিয়ে চলল। এক অসহ্য গুমোটে দর দর করে ঘাম ছুটতে লাগল। তবু চেষ্টা করতে লাগল। শুধু মাটি আর পাথর। বড় বড় পাথরের চাঁই। এক একটা এত বড় যে বহু চেষ্টা করেও তাকে এতটুকু নড়াতে পারল না ওরা। বল্লমের খোঁচায় ছোট পাথরগুলোকে একটু আধটু ধসিয়ে ওরা পরিষ্কার করতে লাগল। কিন্তু যে ভয়াবহ ধস নেমেছে এই গুহামুখে, তা তো ওরা জানে না। তাই অযথা পরিশ্রম করতে লাগল দু’জনে। অল্প সময়ের মধ্যেই আলোবাতাসের অভাবে নেতিয়ে পড়ল ওরা। ধসের কাদামাটি সর্বাঙ্গে মেখে কিম্ভুতকিমাকার চেহারা হয়ে গেল ওদের! কিন্তু না। বৃথা চেষ্টা। কোনও লাভই হল না এতে।

    চম্পা বলল, আর কেন? এসো আমরা দু’জনে হাতে হাত রেখে মৃত্যুর উপাসনা করি।

    এমন সময় হঠাৎ একটা হিস হিস শব্দে সচকিত হল দু’জনে। টর্চের আলোয় ওরা দেখল গুহার একটি ফাটলের ভেতর থেকে এক অতিকায় ময়াল তার বিশাল দেহ নিয়ে পাথরে ছোবল মারতে মারতে আসছে। ওরা ভয়ে সরে গেল এক পাশে।

    ময়ালটা বার বার সেই ধস চাপা গুহামুখে ছোবল মারতে লাগল। তারপর আস্তে আস্তে করে তার মুখটা পাথর ও মাটির বুকে গুঁজে দিয়ে একটু একটু করে বাইরে বেরোতে লাগল।

    সাপটা লম্বায় প্রায় কুড়ি ফুটেরও বেশি। ওর অর্ধেকেরও বেশি শরীরটা যখন বাইরে চলে গেছে তখন চম্পা বলল, এই আমাদের শেষ চেষ্টা। ধরো, ধরো, সাপটাকে। শক্ত করে টিপে ধরো ওর লেজের দিকটা।

    ওরা ছুটে গিয়ে সাপটাকে ধরতে যেতেই কী যেন মনে হল দীপংকরের। বলল, না। কোনও দরকার নেই। বুঝেছি তুমি কী বলতে চাও। কে না ধরে কেমন কাজ হবে দেখো। বলেই বল্লমটা উঁচিয়ে সাপটার লেজের দিকে প্রায় একহাত গেঁথে দিল! এইবার শুরু হল খেলা। সাপটা তার শেষাংশ বার করতে না পেরে ওই বিশাল শরীর দিয়ে অসম্ভব রকমের ছটফটানি শুরু করল। পাক দিয়ে মোচড় দিয়ে, এমন কাণ্ড আরম্ভ করল যে ঝর ঝর করে মাটি-পাথর ঝরে একটা জায়গা সামান্য একটু ফাঁক হয়ে গেল।

    দীপংকর বলল, আর দরকার নেই। এবার স্বস্থানে প্রস্থান করো তুমি। বলে বল্লমটা খুলে নিতেই সর সর করে পালিয়ে বাঁচল সাপটা।

    সামান্য একটু ছোট্ট ফাঁক, এত সংকীর্ণ যে সেখান দিয়ে অল্প একটু আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু একটা মানুষ গলে বেরোতে পারে না। চম্পা বলল, এতেই হবে। অন্তত দম আটকে মরতে হবে না।

    এই বলে ওরা দু’জনে কিছু পাথর সাজিয়ে সেই গর্তের মুখ পর্যন্ত উঁচু করে তার ওপর বসে রইল। জল না থাক। খাদ্য না থাক। আলো আর অক্সিজেন তো আছে। আরও দু’-একটা দিন জীবনধারণ করা যাবে। যদিও জীবনের কোনও আশা নেই তবুও দু’জনে মুখোমুখি বসে ধসের গায়ে ঠেস দিয়ে সেই ফোকরের দিকে তাকিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে লাগল।

    এইভাবে কেটে গেল সারাবেলা। ক্ষুধায় তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ল দু’জনে। জোর করে শ্বাস টেনে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। ভাল করে কথাও বলতে পারছে না কেউ। চম্পা কেমন অবসন্ন হয়ে চুপ হয়ে গেছে। দীপংকরও নেতিয়ে পড়েছে। এই অন্ধকারে কেউ কারও মুখ দেখতে পাচ্ছে না ভাল করে। এভাবে আর কতক্ষণ? মৃত্যুর প্রহর গোনা বুঝি শেষ আর হয় না। সময়েরও কোনও হিসেব নেই। একটা প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটল বলে মনে হল। কোথায় ঘটল! গুহার একেবারে শেষপ্রান্তে। অর্থাৎ আবার একটা ধস নামল।

    হঠাৎ এক সময় চম্পা বলল, কিছু বুঝতে পারছ দীপ! কীসের কী?

    আমরা কী মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছি। আমাদের অস্তিমসময় এগিয়ে এসেছে এবার। আবার — আবার — ধস নামছে। এবার গোটা গুহাটা ভেঙে পড়বে আমাদের ওপর। দেখছ আমরা কেমন নীচে নেমে যাচ্ছি?

    সত্যিই তো, ওরা সেই মাটিপাথরের স্তূপ সমেত ক্রমশ ধসে যেতে লাগল। ওরা একটু একটু করে ধসে নেমে যাচ্ছে— উঃ— ভগবান! রক্ষা করো। দু’জনে দু’জনকে জড়িয়ে ধরে জ্ঞান হারাল ওরা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleCities of the Plain (Sodom and Gomorrah) – Marcel Proust
    Next Article পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }