Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হিন্দোলসর্দারের কেল্লা – ৬

    ছয়

    একজন প্রবীন ডাক্তার এসে শবনমের ক্ষতস্থান দেখলেন। তারপর অভ্যস্থ হতে শুরু করলেন কাজ। দুটি গুলির টুকরো বিঁধেছিল ভেতরে। সেগুলো বার করে ওষুধ দিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে একটা ইঞ্জেকশান দিলেন। তারপর লালচাঁদের বুক থেকে বুলেট বার করতে গিয়েই থমকে গেলেন।

    শবনম বলল, কী হল?

    এনার তো একেবারেই শেষ অবস্থা।

    তা হলে?

    তা হলে আর কী? দেখি চেষ্টা করে। তবে মনে হয় বাঁচাতে পারব না।

    লালচাঁদ বললেন, আমাকে বাঁচতেই হবে ডাক্তার। যে ভাবেই হোক বাঁচান। এখনও আমার অনেক কাজ বাকি।

    কী করে বাঁচাব? এসব কাজ কি এইভাবে যেখানেসেখানে হয়? নেহাত তোমাদের ডাকাতের প্রাণ তাই। অন্য কেউ হলে মরেই যেত এতক্ষণ। মরতে আমিও চাই ডাক্তার। শুধু আজ রাতটুকুর মতো তুমি আমাকে বাঁচিয়ে দাও।

    মরলে তুমি এখুনি মরবে। রাত কাটলে আর তোমাকে মারে কে? দেখি চেষ্টা করে কতদূর কী করতে পারি।

    ডাক্তারের কাজ শেষ হলে শবনম বলল, আমরা এই মুহূর্তে আপনার পারিশ্রমিক দিতে পারলাম না। তবে আপনার কার্ডটা রেখে যান। আমাদের লোক যথাসময়ে গিয়ে আপনার টাকা পৌঁছে দিয়ে আসবে।

    ডাক্তারবাবু বললেন, টাকাই কী জীবনের সব মা? এসব কাজ পুলিশকে লুকিয়ে আমাদের প্রায়ই করতে হয়। তবে একটাই অনুরোধ, কখনও কোনও বিপদে যদি পড়ি, তখন তোমাদের সাহায্য চাইলে একটু পাশে এসে দাঁড়িয়ো।

    শবনম বলল, যদি বেঁচে থাকি আর ওইরকম দিন যদি সত্যিই কখনও আসে, তা হলে নিশ্চয়ই আপনার পাশে গিয়ে দাঁড়াব আমরা।

    ডাক্তারবাবু চলে গেলন।

    লালচাঁদকে বহু কষ্টে ঘোড়ায় বসিয়ে সবাই আবার সেই ঘনান্ধকারে কেল্লা-পাহাড়ের ওপরে উঠতে লাগল।

    সাধু ওদের জন্য হানটান করছিলেন এতক্ষণ।

    বিক্রমের মৃত্যুর কথা এবং লালচাঁদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা শুনে, একদিকে যেমন দুঃখ পেলেন, অপর দিকে তেমনি ক্রোধে ফেটে পড়লেন। এই ক্রোধ অবশ্যই ওই শয়তান দুর্জন সিং-এর ওপর। মংঘীরামের ওপর।

    যাই হোক। লালচাঁদকে পাহাড়িদের জিম্মায় রেখে সাধু বললেন, আর দেরি নয়। এই হচ্ছে প্রকৃত শুভক্ষণ। এইবার আমরা গোপন পথে কেল্লার ভেতরে ঢুকব।

    হিংলাজসর্দার বলল, আমিও আপনাদের সঙ্গে যাব বাবা। ওই শয়তানের শয়তানির উপযুক্ত জবাব আমিও দিতে চাই।

    বাইরে তা হলে নেতৃত্ব দেবে কে?

    লালচাঁদ অতিকষ্টে বললেন, বাইরেটা আমিই দেখতে পারব সর্দার। আপনি ভেতরে ঢুকুন। কেল্লা দখল হয়ে গেলেই আলোর সংকেত দেবেন। আমরাও তখন ভেতরে ঢুকব। কিন্তু যতক্ষণ তা না হয় ততক্ষণ যে ওই কেল্লার ভেতর থেকে বেরোতে যাবে তাকেই গুলি করে মারব। অতএব সাবধান। সংকেত না দিয়ে কেউ যেন সামনের ফটক দিয়ে বেরোতে যাবেন না।

    সাধু শবনমের একটি হাত ধরে টান দিলেন, আয় মা। দেবীর চরণস্পর্শ করানো এই বন্দুক আর একবার দেবীর পদতলে রেখে চল ওই দুষ্টুকে দমন করতে।

    সাধুবাবা, শবনম, হিংলাজ এবং লালচাঁদের দলের আরও জনা-চারেক যোদ্ধাকে সঙ্গে নিলেন। এদিকে পাহাড়ি বস্তির সবাই প্রায় তির, কাঁড়, টাঙি, বল্লম, কুণ্ডুল নিয়ে তৈরি। সবাই যেতে চায় সাধুর সঙ্গে ওই কেল্লার ভেতরে।

    সাধু একটু কী যেন চিন্তা করলেন। তারপর বললেন, ঠিক আছে, সবাই আয়। তবে এই গোপন পথের সন্ধান কাউকে দিবি না। বিশেষ করে পুলিশকে। আজ রাতেই হোক, আর কাল সকালেই হোক পুলিশ এখানে আসবেই। পুলিশ না যাওয়া পর্যন্ত আমি এই গুহার জঠরে লুকিয়ে থাকব। যদিও পুলিশ আমাকে চিনবে না। কেন না এখনকার নতুন নতুন পুলিশ আমার চেহারাটাই দেখেনি কখনও। তা ছাড়া আমি একজন তান্ত্রিক সাধু, এই হবে আমার পরিচয়। ভয় শুধু লালচাঁদকে নিয়ে।

    লালচাঁদ বললেন, ভয় নেই। পুলিশ এলে আমিও গা ঢাকা দেব। আমার লোকেরাও সরে পড়বে। তারপর পুলিশ চলে গেলে সাধারণ মানুষের মতো আমরা আবার এসে জুটে যাব ঠিক। তা ছাড়া আপনার আশীর্বাদে, মা ভবানীর কৃপায়, আমার দুর্বলতা একটু একটু করে কাটছে। মনে হচ্ছে এ যাত্রা হয়তো আমি বেঁচেও যেতে পারি।

    মা ভবানী তোমার ভাল করুন। কেল্লাটা দখল করতে পারলে ওর ভেতরে পেট ভরে একটু খাওয়াদাওয়া করতে পারবে। আরামে ঘুমোতে পারবে। প্রয়োজন হলে শহরের হাসপাতাল থেকে কাল সকালে যে কোনও ডাক্তারকে ডেকে এনে তোমার আরও ভাল চিকিৎসা করাতে পারব। ওষুধ-ইঞ্জেকশান দেওয়াতে পারব।

    ঠিক আছে সর্দার। এখন মায়ের নাম নিয়ে ঢুকে পড়ুন। আর দেরি করবেন না। রাত বাড়ছে। দেরি হয়ে আসছে ক্রমশ।

    সাধু হাত তুলে ইঙ্গিত দিলেন, জয় ভবানী। সবাই বলল, জয় ভবানী। ভবানী কসম।

    শবনম বলল, আল্লা কসম।

    সাধুর হাতে জ্বলন্ত মশাল।

    সেই মশালের আলোয় পথ দেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল সকলে। ভবানী মূর্তির পিছন দিকের একটি ত্রিকোণাকৃতি অংশের কাছে গিয়ে সাধু কয়েকজনকে বললেন, এইখানে একটু শাবলের চাড় দে তো।

    একজন খুব জোরে শাবলের চাড় দিতেই একটা আলকাতরা মাখানো কালো কাঠের দেওয়াল সরে গেল। পাটাতনের ওপাশে কিছু ভারী পাথর থাকে থাকে সাজানো। এবার সবাই মিলে সেই পাথরগুলো এক এক করে নামাতেই একটি অপরিসর সুড়ঙ্গমুখ নজরে এল।

    সাধু একজনের হাতে মশালটা দিয়ে সঙ্গে আনা রাইফেলটা উঁচিয়ে ধরলেন। তারপর পা টিপে টিপে এগিয়ে চললেন সামনের দিকে। এক জায়গায় গিয়ে হাতের ইঙ্গিতে সকলকে থামতে বললেন। তারপর নিঃশব্দে পাথরের দেওয়ালে গা ঘেঁষে একটু একটু করে এগোতে লাগলেন। কিছুটা পথ যাবার পরই পৌঁছে গেলেন সঠিক জায়গায়। দু’জন লোক যেখানে বসে দুর্গের বাইরের দিকে নজরদারি করছিল এবং ধারে কাছে কেউ এলে তাকে গুলি করবার জন্য অপেক্ষা করছিল, ঠিক সেইখানে।

    এমন নিঃশব্দ পদসঞ্চারণ যে, লোকদুটি টেরই পেল না কী চতুর পদক্ষেপে মর্মান্তিক মৃত্যু ধীরে ধীরে তাদের পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে।

    সাধুর দু’চোখে এখন প্রতিহিংসার আগুন। এই গুহার জঠরে পা দেওয়া মাত্রই তাঁর পূর্ব স্মৃতি যেন আবার ফিরে এল। সেই দস্যুসর্দারের মেজাজ আচ্ছন্ন করে ফেলল তাঁর দেহমনকে। তিনি আবার সেই বিশ বছর আগের হিন্দোলসর্দার হয়ে উঠলেন। বন্দুকটা উঁচিয়ে ধরে একবার শুধু বলে উঠলেন, জয় ভবানী।

    ডাকাত দুটি নিদারুণ ভয়ে চমকে উঠে ফিরে তাকাতেই সুনিপুণভাবে ট্রিগার টিপলেন, ডিস্যুম, ডিস্যুম।

    দু’দুটো প্ৰাণ লুটিয়ে পড়ে কবুতরের মতন ছটফট করতে লাগল।

    ওদের বুকের রক্তে তিলক কেটে ইঙ্গিতে সবাইকে চলে আসতে বললেন।

    বিনা যুদ্ধে আসল জায়গাটাই কবজা হয়ে গেছে। কেল্লা এখন হাতের মুঠোয়। সাধুর ডাক শুনে হই হই করে ছুটে এল সবাই।

    একজনের হাত থেকে মশালটা টেনে নিয়েই একেবারে বুরুজের মাথায় উঠে গেলেন সাধু। তারপর ঘন ঘন মশাল আন্দোলন করে চেঁচাতে লাগলেন, এসো,

    এসো, সবাই চলে এসো ভেতরে। এবার শুধু দেখো আর মারো।

    সাধুর ইঙ্গিত পেয়েই লালচাঁদ তার দলবল নিয়ে কেল্লার মুখে ছুটে এলেন। বিশাল তোরণ ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। তাই ঘন ঘন দরজায় লাথি আর ধাক্কা দিতে লাগল।

    সাধু ওপর থেেেক নেমে এসে ফটকের দরজাটা খুলে দিতে বললেন সকলকে।

    হিংলাজসর্দার নিজে গেলেন দরজা খুলতে। কিন্তু দরজার মুখেই বাধা। যমের মতন দু’জন লোক ঝাঁপিয়ে পড়ল হিংলাজের ওপর।

    সাধু চেঁচিয়ে উঠলেন, খবরদার। যানে দো উসকো।

    লোকদুটি সাধুর কণ্ঠস্বরে চমকে উঠল। একজন বলল, আপ— কৌন হ্যায়? তোদের বাবা। এই কণ্ঠস্বর তোরা অনেকদিন শুনতে পাসনি নারে? স—স —–সর্দার! আপ জিন্দা হ্যায়?

    হ্যা। আমি জিন্দা আছি। কিন্তু তোমরা এবার মরবার জন্য তৈরি হও। শবনম বন্দুক উঁচিয়েছিল।

    সাধু বললেন, না। ওভাবে নয়। টাঙ্গি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে কেটে ফেলো ওদের। কেউ গিয়ে দরজাটা খুলে দাও। লালচাঁদ ভেতরে ঢুকুক। ওর লোকজন বাইরে অপেক্ষা করছে।

    নির্দেশ পাওয়া মাত্রই হিংলাজের লোকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ল সেই লোকদুটির ওপর। টাঙ্গির কোপে কচুকাটা করে ফেলল আক্রমণকারীদের। ফটকের দরজায় খিল খুলে দিতেই লালচাঁদ তাঁর দলবল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লেন। তারপর হই হই করে ছুটে চললেন সামনের দিকে।

    লালচাঁদের এসবই তো পরিচিত। হিন্দোলসর্দারের সবচেয়ে প্রিয় পাত্র ছিলেন তিনি। কিন্তু ভবিতব্য এবং দুর্জনের বিশ্বাসঘাতকতায় দীর্ঘ কুড়িটা বছর এই কেল্লার মসনদ থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল। লালচাঁদ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চললেন। তিনি যে আহত। তাঁর এখন বিশ্রামের প্রয়োজন তা তিনি মনেই করলেন না।

    ওরা দলবল সমেত যেই কেল্লার মাঝামাঝি জায়গায় গিয়ে পৌঁচেছে অমনি দেখল চারদিক থেকে দুর্জন সিং-এর লোকেরা ঘিরে ফেলল ওদের।

    লালচাদের লোকেরাও তো নিরস্ত্র নয়। তাই বন্দুক উঁচিয়ে রুখে দাঁড়াল। শত্রুপক্ষের হাতেহাতে মেশিনগান। তারা এমনই মরিয়া যে লালচাঁদের লোকেদের আক্রমণ করবার কোনওরকম সুযোগ না দিয়েই শুরু করে দিলট্রা-রা-রা-রা-রা।

    লালচাঁদ মাঝামাঝি জায়গায় ছিলেন। তাই কোনওরকমে বসে পড়ে প্রাণ বাঁচালেন। কিন্তু তাঁর দলের লোকেদের দু’-তিনজন একেবারে চিরনিদ্রায় শুয়ে পড়ল।

    শত্রুপক্ষের লোকও মরল বইকী।

    একজন ছাড়া প্রায় সবাই শেষ।

    যে একজন বেঁচে ছিল, শবনমের গুলিতেও সেও লুটিয়ে পড়ল।

    কিন্তু আসল মাল কোথায়? সেই দুর্জন সিং?

    সাধু চিৎকার করে উঠলেন, কোথায় গেল সেই শয়তান কুত্তাটা। বেরিয়ে আয় আমার সামনে। বেরো বলছি।

    কারও কোনও সাড়াশব্দ নেই।

    সাধু বললেন, শোনো তোমরা! এই কেল্লার ভেতরে যেদিকে এতটুকু ফাঁক পাবে সে দিকেই ঢুকে পড়ো সবাই। চারদিকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখো কে কোথায় আছে। বুরুজের মাথায় উঠে যাও কয়েকজন। এখনও নিশ্চিন্ত হবার কোনও কারণ নেই। ওই শয়তান দুর্জন সিং আড়াল থেকে লুকিয়েও আক্রমণ করতে পারে।

    এমন সময় হিংলাজসর্দার ছুটে এসে বলল, সাধুজি! একটা জেলখানার মতো ঘরে কতকগুলো মেয়েকে আটকে রেখেছে ওরা। আমার মেয়েটাকেও বোধহয় ওইখানেই রেখেছিল।

    বার করে আনো।

    কিন্তু লোহার গরাদে তালা দেওয়া।

    ভাঙতে পারলে না? ভাঙো।

    আমার লোকেরা তালা ভাঙার কাজে লেগে গেছে বাবা। আর একজন ছুটে এসে বলল, আমরা এইমাত্র দুটো ছেলেকে মুক্ত করে আনলাম।

    ওদের তোমাদের জিম্মায় রাখো। আর তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখো দুর্জন সিং লুকল কোথায়? ওকে খুঁজে বার করতেই হবে।

    যে ঘরে বন্দিনী মেয়েদের আটকে রেখেছিল দুর্জন সিং-এর লোকেরা, শবনম সেই ঘরের দিকে গেল।

    মেয়েরা ভেতর থেকে চিৎকার করছে, আমাদের মুক্তি দিন। আমাদের বাঁচান।

    শবনম বলল, আমার মা-ভগিনীরা। আপনাদের কোনও ভয় নেই। এই কেল্লা আমরা দখল করেছি। এখন আপনারা মুক্ত। আমরা আপনাদের প্রত্যেককে যার যার ঠিকানায় পৌঁছে দেব।

    বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় তালা ভাঙা হতেই মেয়েরা বেরিয়ে পড়ল।

    এমন সময় হঠাৎ এক পৈশাচিক উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠল হিংলাজসর্দার, পেয়েছি পেয়েছি। শয়তানের বাচ্চাটাকে পেয়েছি। সাধুবাবা ছুটে এলেন, কাকে পেয়েছ হিংলাজ?

    এই দেখুন!

    বিশ্বাসঘাতক কোথায় লুকিয়েছিল এতক্ষণ?

    হিংলাজ বলল, এই চৌবাচ্চাটার ভেতর। আমি চারদিক দেখতে দেখতে হঠাৎ দেখি চৌবাচ্চার মাথায় একটা কাঠের তক্তা ঢাকা দেওয়া আছে। দেখেই সন্দেহ হল। যেই না ঢাকাটা সরিয়েছি অমনি শয়তানটা বন্দুক উঠিয়েছে। মারলুম মুখে এক ঘুসি।

    আর মেরো না। ওকে আমার হাতে ছেড়ে দাও।

    না। ওর জন্যে আমার মেয়েটা আত্মঘাতী

    আমি নিজের হাতে ওর গলার টুটি ছিঁড়ব।

    ও কাজটা আমাকে করতে দাও হিংলাজ।

    হয়েছে। ওকে আমি ছাড়ব না।

    দুর্জন সিং ভয়ে থর থর করে কাঁপছে তখন। তার আর পালাবার পথ নেই। চারদিক থেকে সবাই ছেঁকে ধরেছে ওকে।

    সাধু বজ্র নির্ঘোষে বললেন, মাথার ওপর হাত ওঠাও দুর্জন। অদ্যই তোমার শেষ রজনী। কিছুক্ষণ সময় দিচ্ছি শুধু নিজের প্রিয় মুখগুলিকে একবার চিন্তা করে নাও। তারপর তোমাকে আমি একটু একটু করে মৃত্যুর দরজায় ঠেলে দেব। তার আগে একবার ভাল করে তাকিয়ে দেখ আমায় তুমি চিনতে পারো কি না?

    দুর্জন একবার তাকিয়ে দেখেই বলল, সর্দার তুম!

    হ্যাঁ আমি।

    তুম আভি তক জিন্দা হ্যায়?

    না। আমি মরে গেছি। এটা আমার প্রেতাত্মা। তোমার সঙ্গে জীবনের শেষ দেখা করতে এসেছি আমি ছোরা, টাঙ্গি আর বন্দুকের গুলি নিয়ে। বলো এর মধ্যে কোনটা তোমার পছন্দ?

    দুর্জন কাঁপতে কাঁপতে বলল, এর কোনওটাই আমার পছন্দ নয়। তুমি আমাকে আর একবার জীবনের শেষবার, তোমার সঙ্গে দোস্তি করবার সুযোগ দাও সর্দার। –

    লালচাঁদও তখন দুর্জনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। বললেন, তোমার সঙ্গে দোস্তি করলে আমি আমার বউ-ছেলেকে ফিরে পাব?

    দুর্জন শিউরে উঠল লালচাঁদকে দেখে।

    লালচাঁদ দুটো পেরেক দু’হাতে নিয়ে এগিয়ে আসতে লাগলেন ওর হিংস্র চোখদুটোর দিকে।

    দুর্জন চিৎকার করে উঠল, নেহি। নেহি। নেহি।

    বল শয়তান, কীসের লোভে আমার ছেলেটাকে গুলি করে মারলি? কেন আমাদের অমন সর্বনাশ করলি? আমার বউকে খুঁজে পেলাম না কেন? কেন তুই সর্দারের সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করলি? বল, বল, কেন করতে গেলি ওইরকম বেইমানি?

    ম্যায় তুমহারা গোড় পাকড়তি হুঁ। মুঝে মাফ করো লালচাঁদ। এ সাজা মুঝে মাত দো।

    সাধু তখন সাধু নয়। আবার হিন্দোলসর্দার। বহুদিনের অভ্যস্ত পায়ে এক লাথি মারলেন দুর্জনকে। সে লাথি হজম করার শক্তি দুর্জন সিং-এর নেই। তাই দশ হাত দূরে ছিটকে পড়ল।

    ততক্ষণে হিংলাজসর্দার আবার ঝাঁপিয়ে পড়েছে দুর্জনের ওপর।

    ওদিক থেকে শবনমও ছুটে এসেছে তখন, ওকে ছেড়ে দাও, ওকে ছেড়ে দাও সর্দার। আমি যে ভীষণ প্রতিজ্ঞা নিয়েছি ওকে কুকুরের মতো গুলি করে মারবার। সাধু সাবধান করলেন। লালচাঁদও বাধা দিলেন।

    সেই সুযোগে শয়তান আবার নিজমূর্তি ধরল। হঠাৎ লাফিয়ে উঠেই এলোপাথাড়ি গুলি করতে লাগল চারদিকে। দু’-চারজন পাহাড়িয়া গুলি খেয়ে ছটফট করতে লাগল। তারপরই সব শেষ! গুলিও শেষ। আর যেই না শেষ হওয়া, অমনি প্রাণভয়ে ফটকের দিকে দৌড়ল দুর্জন।

    শবনম ওকে ভয়ংকরভাবে তাড়া করে চলল, পালাবি কোথায় শয়তান? আজ আমার হাতেই তোর মরণ। জয় মা ভবানী।

    দুর্জন তখন কেল্লার বাইরে। শবনমও বেরিয়ে এসেছে। কেল্লার ভেতরে থাকায় বুঝতেই পারেনি কেউ, কখন যে এক সময় ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। শবনমকে একা পেয়ে রুখে দাঁড়াল দুর্জন।

    আর শবনম তখন সেই অভিশপ্ত বন্দুকের গুলিতে ঝাঁজরা করে দিল দুর্জনের দেহটা। গুলির পর গুলির আঘাতে দুর্জনের দেহটা ছিটকে পড়ল পাথরের বুকে। একবার শুধু থর থর করে কেঁপে উঠল দেহটা। তারপর একেবারে স্থির হয়ে গেল।

    ক্লান্ত শবনম তখন সেইখানেই বসে পড়েছে। আঃ কী দারুণ শান্তি। ভোরের বার্তা নিয়ে প্রকৃতি ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে তার আপন বৈচিত্র্যে।

    সাধু এসে শবনমের মাথায় হাত রাখলেন।

    শবনম ডাকল, বাবা!

    মা!

    আপনি এবার আত্মগোপন করুন।

    কেন রে পাগলি? আমি চোর না ডাকাত? এখন আমি মা ভবানীর উপাসক। আমার অতীতও নেই। ভবিষ্যৎও নেই। আছে শুধু বর্তমান। আমার আসল পরিচয়টা কাউকে দিস না। তা হলেই হবে।

    সাধু ও শবনমের কাছে লালচাঁদও এসে

    দাঁড়ালেন।

    সাধু বললেন, ওদিককার কাজ কতদূর?

    হিংলাজের লোকেরা ধোয়ামোছার কাজে লেগে গেছে। ডেড বডিগুলোকেও বুরুজের মাথা থেকে ফেলে দিচ্ছে নীচের খাদে।

    বারুদ বন্দুক বা অন্যান্য মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র যা কিছু আছে, কেল্লার বাইরে দূরে কোথাও নিয়ে গিয়ে সব লুকিয়ে ফেলো।

    লালচাঁদ চলে গেলেন।

    এমন সময় বহু দূর থেকে সেই পরিচিত কণ্ঠস্বরটি আবার শোনা গেল শ ব—ন—ম!

    কে! কে ডাকে! রঞ্জন! রঞ্জন তুমি কোথায়?

    এই তো আমি এখানে।

    কী আশ্চর্য! তুমি ওখানে গেলে কী করে?

    আমি পথ ভুল করেছি শবনম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তোমার কাছে চলে এসেছি। আমার সামনে গভীর খাদ।

    তুমি ওইখানেই থাকো। যেন লাফিয়ে আসতে যেয়ো না। পড়ে যাবে। আমি হিংলাজসর্দারকে পাঠাচ্ছি। তোমাকে পথ চিনিয়ে নিয়ে আসবে। একটু অপেক্ষা করো তুমি।

    রঞ্জন বলল, মায়ের নাম নিয়ে একটা লাফ দেব?

    শবনম তখন খাদের কাছাকাছি চলে গেছে। বলল, খবরদার ওই কাজ করতে যেয়ো না। অযথা জীবনের ঝুঁকি কেন নেবে?

    কিন্তু দুরন্ত দুর্বার দামাল কিশোর কি পিছিয়ে থাকতে পারে? হঠাৎ একটু পিছিয়ে গিয়ে ছুটে এসে মারল এক লাফ।

    শবনম কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরল রঞ্জনকে। ওর গায়েমাথায় হাত বুলিয়ে বলল, তুমি ভাল আছ তো?

    আমি ভাল আছি। তোমার কাঁধে ব্যান্ডেজ কেন?

    ও কিছু নয়। একটা গুলি লেগেছিল। কিন্তু এই বিপজ্জনক পথে একা তুমি কীভাবে এলে?

    সে অনেক কথা। পরে বলব খন। এক অফিসারের ঘরে রাত্রিতে ছিলাম! শেষরাতে তোমার কথা ভেবে ভেবে আর থাকতে পারলাম না! কাউকে কিছু না জানিয়েই পালিয়ে এসেছি।

    এটা তুমি খুবই অন্যায় করেছ রঞ্জন। কী ভাববেন বল তো তাঁরা। তা ছাড়া এই বন্দুক তুমি পেলে কোথায়?

    পথে আসতে আসতে কুড়িয়ে পেয়েছি।

    বন্দুক কী করে চালাতে হয় তাই জানো না, অথচ বন্দুক ঘাড়ে নিয়েছ দুষ্টু কোথাকার।

    রঞ্জনকে দেখে সাধুবাবাও এগিয়ে এলেন।

    শবনম বলল, বাবা এই সেই। আমার রঞ্জন।

    বাঃ ভারী সুন্দর। তোমরা যে দেখছি একেবারে মাণিক-জোড়! ওকে যে আবার ফিরে পাব তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি বাবা।

    রঞ্জন বলল, আমাদের কেল্লাঅভিযান হয়ে গেছে?

    হ্যাঁ। যার নামে এই কেল্লা ইনিই তিনি। হিন্দোলসর্দার। সে কী! ইনি তো একজন সাধুবাবা।

    এঁর পরিচয় পরে দেব তোমাকে। পুলিশের ঝামেলাটা আগে চুকে যাক। তবে

    একটু জেনে রেখো আসল শয়তানকে আমি নিজেহাতে গুলি করে মেরেছি। এমন সময় হিংলাজসর্দার এসে রঞ্জনকে দেখেই উল্লসিত হয়ে উঠল, এই তো খোকাবাবু এসে গেছেন দেখছি। আসুন ভেতরে আসুন। মুখহাত ধুয়ে গরম গরম হালুয়া-পুরি খেয়ে শরীরটাকে একটু চাঙ্গা করে নিন।

    সাধু বললেন, ঠিক বলেছ। এইবার শরীরটাকে একটু চাঙ্গা করার দরকার। চলো ভেতরে চলো।

    ওরা যখন কেল্লার ভেতরে ঢুকল তখন পুবের পাহাড়গুলোর চূড়া ডিঙিয়ে সোনার বরণ তরুণ তপন রাঙামুখে উদয় হচ্ছে।

    ভবানী মন্দিরে আজ জোর পুজোর আয়োজন। আজকের এই পরিবেশ দেখলে কেউ ধারণাই করতে পারবে না যে এখানে একটা ডাকাতের ঘাঁটি ছিল বা এরাও মোস্ট ডেঞ্জারাস বলে। চারদিকে শুধুই পুজো পুজো গন্ধ। বন্দিনী মেয়েরা সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে শবনমের সাথে এক যোগে কাজে লেগেছে। সাধু একজন লোককে নীচে পাঠিয়ে কিছু নতুন বস্ত্র কিনে আনিয়েছেন। শবনমও ওর ডাকাতরানির পোশাক ত্যাগ করেছে। সাবান মেখে ঝরনার জলে স্নান করে রঙিন একটি ডুরে শাড়ি পরে প্রজাপতির মতো যেন উড়ে বেড়াচ্ছে। ওর চেয়ে সুখী বোধহয় আর কেউ নেই।

    রঞ্জনও শবনমের পরিবর্তনে অভিভূত। এই না হলে মেয়ে। কী ভাল যে লাগছে শবনমকে। এমন সুন্দর মেয়েটি কোথাও কিছু নেই হঠাৎ ফুলনদেবী হয়ে বসে রইল। এর চোখে গভীর প্রশান্তির কোলে ওই হত্যার ঝিলিক একেবারেই অসহ্য।

    আজ শুধু দেবীর গলায় নয়। সবার গলাতেই ফুলের মালা। রক্তচন্দনের টিপ। ভবানীমন্দিরের গুহার জঠরে শুধু ধূপধুনোর গন্ধ। কাটা ফলের সুবাস। হিন্দোলকেল্লার চূড়ায় আজ পত পত করে উড়ছে হলুদে ছোবানো পতাকা। কেল্লার ভেতর থেকে বড় বড় হাঁড়ি-কড়া ইত্যাদি এনে বাইরে ভিয়েন বসানো

    হয়েছে। বড় বড় কড়াইতে খিচুড়ি রান্না হচ্ছে।

    এরই মধ্যে সাধুর নির্দেশে কেল্লার ভেতরে গুপ্তকক্ষগুলিতে যাবার পথগুলো পাথর সাজিয়ে রুদ্ধ করে দিয়েছে সকলে। হিংলাজসর্দারের লোকেরা লালচাঁদের লোকেদের নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে এই কাজ করেছে। লালচাঁদের লোক অবশ্য দু’-চার জন। ওদের লোকই বেশি। এমনভাবে পথ রোধ করেছে যাতে অচেনা কেউ এর ভেতরে ঢুকলে ওদিকে যে যাবার রাস্তা আছে তা বুঝতে না পারে।

    বেলা প্রায় বারোটা নাগাদ পুলিশ এল।

    তরুণ পুলিশ অফিসার এসেই রঞ্জনকে বকাবকি করলেন, কী হে ছোকরা! তুমি যে ওইভাবে পালিয়ে এলে, তোমার সাহস তো কম নয়? আর একটু তর সইল না তোমার? এই জঙ্গলের পথে একা একা চলে এলে ভয় করল না? আমি তো ভাবলাম নিয়তি তোমাকে ডেকেছে। নির্ঘাত তুমি বাঘের পেটে গেছ।

    রঞ্জন বলল, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। আমি কিছুতেই থাকতে পারছিলাম না। জানি খুবই অন্যায় করেছি। তা আমাদের এস পি সাহেব কোথায়? তাঁকে দেখছি না কেন? ওঁর তো আসবার কথা ছিল।

    উনি হঠাৎ একটা অন্য কাজে আটকে পড়েছেন। তবে ওনার ইচ্ছে যে আমি তোমাদের দু’জনকে নিয়ে একবার ওনার বাসাতে যাই। বলে তাঁর লোকেদের বললেন, এই হাঁ করে সব দাঁড়িয়ে আছিস কেন? কেল্লাটাকে ঘিরে ফেল।

    এই কথা শুনে এক ডিশ পুজোর প্রসাদ নিয়ে হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে

    শবনম বলল, তার আর প্রয়োজন হবে না। এখন এগুলো খেয়ে নিন দেখি। তরুণ অফিসার মুগ্ধ হয়ে গেলেন শবনমকে দেখে। বললেন, তুমি কে মা? নিশ্চয়ই আমাদের নতুন ডাকাতরানি শবনমদেবী?

    সাধু নিজে এবার এগিয়ে এসে বললেন, না। শুধু দেবী।

    তরুণ অফিসার এগিয়ে এসে সাধুকে দেখে ভক্তিভরে প্রণাম করে বললেন, আপনি কে বাবা?

    আমি এক ভবঘুরে সন্ন্যাসী। ঘুরতে ঘুরতে এখানে এসে দেখি হঠাৎ এক কাণ্ড। তা এই সব পাহাড়ি লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে বহু কষ্টে মেরেধরে তাড়িয়েছি দুর্বৃত্তগুলোকে। কেল্লা এখন শত্রুমুক্ত। এইসব আদিবাসীরা আশ্রয়হীন হয়ে বড় কষ্ট পাচ্ছিল। আমি ওদের সবাইকেই ঢুকিয়ে দিয়েছি ওই কেল্লার ভেতর। এখানে এক জায়গায় মা ভবানীর একটি মূর্তিও রয়েছে দেখছি। তাঁরই আরাধনা করছিলাম এতক্ষণ।

    আপনার নেতৃত্বই এদের প্রেরণা জুগিয়েছে বাবা। আপনি তা হলে এক কাজ করুন না, এখানেই থেকে যান না বরাবরের জন্য।

    এরাও তাই বলছে। আমিও ভাবছি। আমরা দলবদ্ধ হয়ে এখানে বসবাস করলে এই কেল্লা চিরকাল শত্রুমুক্ত থাকবে।

    শুধু তাই নয়, এইসব লোকজনগুলোও মানুষ হয়ে যাবে। আপনি থেকে যান। আমিও এই বিদেশে একঘেয়ে দিন কাটাচ্ছি। মাঝেমধ্যে আপনার বউমাকে নিয়ে এখানে বেড়িয়েও যাব। চাই কী কেল্লার ভেতরে থেকেও যাব দু’-একটা দিন।

    সাধু বললেন, ভালই হবে।

    যাক। পুলিশের দায়িত্ব আপনারাই অনেকটা পালন করে দিয়েছেন। আপনাদের কখনও কোনও অসুবিধা হলে আমাকে জানাবেন। আমি সব রকমের সাহায্য করব। হ্যাঁ, একটা কথা। ওদের ঘাঁটি থেকে কোনও মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র কিছু পাননি?

    সাধু জানতেন পুলিশ একথা জানতে চাইবে। তাই কিছু অস্ত্র পুলিশকে দেবার জন্য হাতের কাছেই রেখেছিলেন।

    পুলিশের লোকেরা সেগুলো গ্রহণ করল।

    সাধু বললেন, অনেক অসহায় মেয়ে এখানে বন্দিজীবন কাটাচ্ছিল। তাদের যার যার বাড়িতে ফিরিয়ে দেবার ব্যবস্থাটা একটু তাড়াতাড়ি করে দিতে হবে কিন্তু।

    মেয়েরা সবাই বলল, না। আজ আমরা কোথাও যাব না। যা হবে কাল। আজ আমরা এখানে মাতৃ-আরাধনা করব।

    সাধু বললেন, শবনম তুমি কী করবে?

    রঞ্জন?

    রঞ্জন বলল, এখন এখান থেকে চলে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আরও দু’–একটা দিন থাকতেই হবে এখানে।

    শবনম বলল, না বাবা। ওকে যেতেই হবে। না হলে ওর মা-বাবা চিন্তা করবে খুব। আমি কিন্তু আপনাকে ছেড়ে যাব না। এই কেল্লা, ওই পাহাড়, এই অরণ্য এর চেয়ে মধুময় আমার কাছে আর কিছুই নেই। তা ছাড়া আমি চলে গেলে মা ভবানীর সেবা পুজোর জোগাড় করে দেবে কে?

    রঞ্জন বলল, কী পাগলের মতো বকছ যা তা! তোমার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। লেখাপড়া করবে। বড় হবে। যেতেই হবে তোমাকে। আমি তোমাকে নিয়ে যাব।

    সাধু বললন, ও ঠিকই বলেছে মা। এই বনবাস তোমার সাজে না। তা ছাড়া এখন তো আর তোমার জাতপাত নেই। তুমি এখন দেবী। তুমি আমার মেয়ে। মা ভবানীর মেয়ে।

    তবু আমি এখানেই থাকব। এই ভবানী মন্দিরে দেবদাসী হয়ে বেঁচে থাকব সারাজীবন। আপনাকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না। রঞ্জনকে যেতেই হবে। ও যাক। বরং আমাদের বন্ধুত্বকে স্মরণীয় করে রাখতে মাঝেমধ্যে ও চলে আসবে এখানে। পারলে ওর মা-বাবাকেও নিয়ে আসবে।

    রঞ্জনের চোখে যেন জল এসে গেল। বলল, তুমি যাবে না শবনম?

    শবনম স্মিত হেসে ঘাড় নাড়ল, না।

    পুলিশ অফিসার বিদায় নিলেন। পাহাড়িয়া মানুষগুলো আবার নতুন করে কাজে মেতে উঠল। শবনম রঞ্জনের হাত ধরে টানতে টানতে কেল্লার বুরুজের মাথায় উঠে গেল। অভিমানে রঞ্জনের বুক তখন ভরে উঠেছে।

    শবনম বলল, তোমার ভালর জন্যই আমি যাচ্ছি না। তুমি বড় হও। নিজের পায়ে দাঁড়াও। তারপরও যদি আমার কথা মনে থাকে তা হলে আমাকে এসে নিয়ে যেয়ো, আমি যাব। এই মুহূর্তে যদি তোমার মা-বাবা অরাজি হন আমি তা হলে যাব কোথায়? ওই পার্ল স্ট্রিটের ফ্ল্যাটে আমি আর ফিরছি না। তুমি আমাকে ভুল বুঝ না রঞ্জন। এখানে আমি সুখেই থাকব।

    রঞ্জন বুরুজের খাঁজে মাথা রেখে কাঁদছিল।

    শবনম আলতো করে পিঠে হাত রেখে ডাকল, রাজা।

    উঁ।

    জলভরা চোখে রঞ্জন তাকাল শবনমের দিকে। শবনম ওর আঁচলের খুট দিয়ে রঞ্জনের চোখের জল মুছিয়ে দিল।

    রঞ্জন বলল, আমি ফিরে গেলে তুমি আমাকে ভুলে যাবে না তো?

    আল্লার কসম। মা ভবানীর দিব্যি। আমার এই বন্ধু রাজাকে আমি কি ভুলতে পারি? তুমি ফিরে যাও। মাঝে মাঝে তোমার মা-বাবাকে নিয়ে এখানে বেড়াতে এসো। আমি তোমার স্মৃতি বুকে নিয়ে এখানে সুখে থাকি। রাজ্যপাট চালাই। তারপর যখন আমরা আরও বড় হব, তখন যা হয় হবে।

    হিন্দোলকেল্লার বুরুজের মাথায় ওরা দু’জনে হাতে হাত রেখে গঙ্গা-যমুনার ধারার মতো এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে বইতে লাগল। চারদিকের পাহাড় ও বনভূমিতে উজ্জ্বল দিন এবং আকাশের নীলিমায় সাদা মেঘের নিরুদ্দেশ যাত্রা উদাস করে দিল মনকে। নীচে ভবানী মন্দিরে ভোগারতির ঘণ্টা বাজল বুঝি। এক ঝাঁক রঙিন টিয়া, রঙের বাহার নিয়ে হারিয়ে গেল সুদূর বনরেখায়। এই বন, এই পাহাড়, সবই যেন কাব্যময় হয়ে উঠল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleCities of the Plain (Sodom and Gomorrah) – Marcel Proust
    Next Article পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }