Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অমরকণ্টক রহস্য – ৩

    তিন

    সারাটা দিন যে কীভাবে কাটল চাঁদুর তা সেই জানে। সন্ধের পর বাবা ওকে নিয়ে হাওড়া স্টেশনে এসে বম্বে মেলের বিলাসপুর কোচে চাপিয়ে দিয়ে গেলেন। প্রথম শ্রেণীর একটি কুপে কোচ অ্যাটেনডেন্টকে বলে ওর একটা ব্যবস্থা করে দিয়ে তবেই গেলেন তিনি।

    এই নিরানন্দ যাত্রায় চাঁদুর বুকের গভীরে যে কী দারুণ যন্ত্রণা তা বুঝবে কে? বাবা শুধু তাঁর নিজের স্বার্থটাই দেখলেন। কিন্তু এক কন্যাহারা জননীর মর্মবেদনা একবারও উপলব্ধি করলেন না। তাই দ্রুতগামী ট্রেনের কামরায় শুয়ে চাঁদু জুলির কথাই ভাবতে লাগল শুধু। জুলির এই বিপদের জন্য বার বার নিজেকেই অপরাধী মনে হতে লাগল ওর। কেন যে মরতে ওদের বাড়ি গিয়েছিল। যদি না যেত, দুর্ঘটনাটা যদি ওকে বাদ দিয়েই ঘটত, তা হলে কিন্তু এতটুকুও অনুশোচনা হত না। ভাবত জুলির এটা দুদৈব ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু যেখানে ও নিজে জড়িত সেখানে কি অন্য কিছু ভাবা যায়?

    এইসব ভাবতে ভাবতেই কখন একসময় ঘুমিয়ে পড়ল চাঁদু। ট্রেনের দোলানিতে সেই ঘুম আরও গভীর হল। ঘুম যখন ভাঙল তখন সকাল হয়ে গেছে। ট্রেন এসে থামল চম্পা স্টেশনে। কী সুন্দর নাম স্টেশনটার। এখানে বেশিক্ষণ থামল না গাড়ি। বোধ হয় দু’-পাঁচ মিনিট থেমেই আবার শোঁ শোঁ করে ঝড়ের গতিতে ছুটতে লাগল।

    চম্পার পরই বিলাসপুর। স্টেশনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই ও গেটের কাছে চেকারের পাশে সুজয়কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। জানালা দিয়েই হেঁকে ডাকল, সু-জ-য় !

    সুজয়ও হাত নাড়ল দুর থেকে, চাঁদু! তার মানে সেও ওকে দেখেছে এবং ওর ডাক শুনেছে। তা ছাড়া গাড়ির গতির সঙ্গে ছুটতে ছুটতে সুজয় এসে ওর কম্পার্টমেন্টের সামনে দাঁড়াল। চাঁদুও সুটকেশটা নিয়ে ঝুপ করে নেমে পড়ল স্টেশনে। বেশ জমকালো স্টেশন। হইহই করছে চারদিকে লোকজন। তার ওপর বম্বে মেল বলে কথা। যেমনি নামার ভিড়, তেমনি ওঠার। সেই ভিড়ের মধ্যেই মহামিলন।

    চাঁদু ট্রেন থেকে নামতেই সুজয় জড়িয়ে ধরল ওকে! বলল, শেষ পর্যন্ত এলি তা হলে?

    এলাম। তবে খুব একটা আনন্দ নিয়ে আসিনি। ওখানকার খবর শুনেছিস নিশ্চয়ই?

    শুনেছি। তোর বাবা ফোনে সব কথা আমার বাবাকে জানিয়েছেন। তা ওই কেলটিটা শেষপর্যন্ত খুন করতে গেল কেন?

    ছিঃ সুজয়। অন্যের বোন সম্বন্ধে এইরকম মন্তব্য কেউ করে? জুলির গায়ের রংটাই শুধু দেখলি, ওর চোখদুটো দেখিসনি? ওরকম পদ্মচক্ষু ক’টা মেয়ের হয়? তা ছাড়া ও তো আমাদেরও বোন। চোখের সামনে লাউ ডগাটির মতো কেমন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছিল।

    তোকে কাব্যরোগে পেল নাকি? একটা শুঁটকি কালটি মেয়ে…। আবার!

    আচ্ছা বাবা আচ্ছা। আর বলব না।

    জুলিকে তুই ভুল বুঝিস না রে। ওর মতো মেয়ে হয় না। ও কখনওই খুন করতে পারে না।

    সুজয় চাঁদুর সুটকেশটা হাতে নিয়ে গেট পার হয়ে বাইরে এল। তারপর একটা রিকশায় চেপে পাশাপাশি বসল দু’জনে। বলল, বেশ, তা না হয় না করল। কিন্তু গেল কোথায় মেয়েটা?

    সেইটাই তো রহস্য।

    আমার মনে হয় কী জানিস, রাজুটা তো ভেঁপো ছেলে। প্রথমে ভাল ব্যবহার করে পরে নিশ্চয়ই আড়ালে নিয়ে গিয়ে ওকে ভয়টয় দেখিয়েছে। আর জুলি তখন ওর অস্ত্রেই ঘায়েল করেছে ওকে। তারপর পালিয়েছে।

    আমি কিন্তু ও কথা একদম ভাবছি না। তুই জানিস না সুজয়, রাজুর গায়ে কী অসম্ভব জোর। রতন- আমি দু’জনে মিলে একবার ওকে পেটাতে গিয়ে হিমসিম খেয়ে গেছি। তা ছাড়া হাওয়াপুকুর তো ওখান থেকে অনেক দূরে। সেখান পর্যন্ত জুলিকে ও নিয়ে যাবে কী করে?

    তা হলে কী বলতে চাস তুই?

    আমার মনে হয় রাজুর এই ব্যাপারটা প্রি-প্ল্যানড মার্ডার। জুলি ঘটনাচক্রে জড়িয়ে পড়েছে। আসলে রাজুকে যারা মার্ডার করেছে, তারাই কিডন্যাপ করেছে জ্বলিকে।

    কী বলছিস তুই?

    ঠিকই বলছি। আর এই সংকটমুহূর্তে মেয়েটাকে যেখানে উদ্ধার করবার জন্য খোঁজখবর নেওয়ার দরকার সেখানে আমার বাবা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই আমাকে সরিয়ে দিলেন।

    তুই থেকেই বা কী করতিস? গোয়েন্দাগিরি? বই পড়ে সবাই কি পাণ্ডব গোয়েন্দা হয়? না হওয়া যায়?

    তা কেন? তবে চেষ্টা করবার মানসিকতা তো আসে? আর সেইজন্যই তো বই পড়া। না হলে বই পড়বার প্রয়োজনীয়তাই বা কী? পরের ব্যাপারে বেশি মাথা না ঘামানোই ভাল।

    ঘামাতাম না রে। যদি না মেয়েটাকে আমি নিজে পকেট থেকে টাকা বার করে কচুরি কিনতে পাঠাতাম। ওর মা-ও তো এখন ভাবতে পারে যে, এইরকম একটা বিচ্ছিরি ব্যাপার ঘটবে জেনেই আমি অসময়ে ওদের বাড়িতে গিয়েছিলাম বা ওকে কচুরি আনতে পাঠিয়েছিলাম। অর্থাৎ ওই দুষ্টুচক্রের চক্রীদের মধ্যে আমিও একজন।

    সুজয় কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, হুঁ। এরকম অবশ্য উনি ভাবতে পারেন। ভাবাটা অন্যায় নয়।

    রিকশা স্টেশন থেকে বেরিয়ে ডানদিকে বেঁকে রেল কোয়ার্টারের দিকে এগোতে লাগল। কী সুন্দর এলাকাটা। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। সাজানো গোছানো। এখানকার রাস্তাঘাট এবং পরিবেশ দেখে প্রথমদর্শনেই মুগ্ধ হয়ে গেল চাঁদু সুজয়রা এখানে কী সুখেই না আছে।

    রিকশা ওদের কোয়ার্টারের সামনে আসতেই ওর মা-বাবা হাসিমুখে বেরিয়ে এলেন, এসো বাবা, এসো। আসতে কোনও অসুবিধে হয়নি তো?

    সুজয়ের বাবা-মাকে প্রণাম করে ঘরে ঢুকল চাঁদু। ওইটুকু সময়ের মধ্যে কত কথাই না হল।

    সুজয়ের মা বললেন, কী সব আজকালকার ছেলেমেয়ে বাবা। কতই বা বয়স — এর মধ্যেই খুনখারাপি!

    বাবা বললেন, কিন্তু মেয়েটা গেলই বা কোথায়? ও না-পালালে তো তোমাকে কেউ সন্দেহ করত না।

    চাঁদু বলল, সন্দেহ তো করেনি কেউ। তবে কালচক্রে ঘটনাটার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছি আমি।

    সুজয় বলল, আসতে-না-আসতেই এসব কথা কেন? ওসব এখন ভুলে যাও। ওই প্রসঙ্গে কোনও আলোচনাই কেউ কোরো না তোমরা।

    চাঁদু প্রথমেই বাথরুমে গিয়ে দাঁত মেজে মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল। তারপর গাড়িতে পরে আসা জামাপ্যান্ট ছেড়ে পাজামা-পাঞ্জাবি পরল।

    এক বিদ্যুৎবর্ণা কিশোরী এসে লাজুক লাজুক মুখে দু’ কাপ চা আর টোস্ট এনে ওদের সামনে রাখল। তারপর চাঁদুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে যেতেই বাধা দিল চাঁদু, এ কী! আমাকে প্রণাম করছ কেন?

    মেয়েটি বলল, তাতে কী হয়েছে?

    সুজয় বলল, এ কে জানিস? আমরা মামাতো বোন গোলাপ। খুব ভাল মেয়ে। দারুণ স্মার্ট। এ বছর ফার্স্ট হয়ে ক্লাস নাইনে উঠেছে। এইট থেকে নাইন।

    চাঁদু বলল, এইবার মনে পড়েছে। যদিও ওকে দেখিনি এর আগে। তবে তোর মুখে ওর কথা অনেকবার শুনেছি। ওরা ধানবাদে থাকত না?

    এখনও থাকে । মামা-মামি এসেছিলেন। ওঁরা চলে গেছেন, ও আছে। থাকবে এখানে মাসখানেক। খুব সময়ে এসে পড়েছিস তুই। তিনজনে দাপিয়ে বেড়াব চারদিক। আজকের দিনটা যাক। কাল থেকে প্রথমেই শুরু করব সিনেমা দেখা।

    সে কী! তোর মা-বাবা কিছু বলবে না?

    এখানে কেউ কিছু বলে না। ছেলে, মেয়ে, বুড়ো, বুড়ি সবাই সিনেমা দেখে এখানে । ঘরে ঘরে টিভি। সবাই বুঝে গেছে এসবে ছেলেমেয়ে খারাপ হয় না! গোলাপ কি সিনেমা কম দেখে? তবুও ক্লাসে ফার্স্ট হয় । আসলে পড়াশুনাটা হল মেধার ব্যাপার! ও যার আছে তার কোনও কিছুতেই আটকাবে না। আমার তো মনে হয় যারা যত বেশি শাসনে থাকে তারা তত বেশি খারাপ হয়।

    চাঁদু বলল, ওখানে একদম সিনেমা দেখতে পাই না রে। টিভিই দেখতে পাই না বাড়িতে। অথচ কত দামি কালার টিভি বসানো আছে বড়ঘরে। টিভি শুরু হলে আর ঘরে ঢোকবার উপায় নেই আমার।

    এখানে ওসব নেই । দেখবি কী সুন্দর সব সাজানোগোছানো সিনেমা হল । ওরকম হল হাওড়া, কলকাতায় একটাও নেই। হল দেখলেই মাথা ঘুরে যাবে। সিনেমা দেখা তো দূরের কথা।

    গোলাপ ওদের জলখাবার দিয়ে চলে গেল।

    এরপর মাসিমা এলেন আরও কত খাবার নিয়ে । শিঙাড়া, জিলিপি, লাড্ডু, প্যাড়া— কত কী।

    চাঁদু তৃপ্তির সঙ্গে খেতে লাগল।

    খাওয়া হলে সুজয় বলল, চল তোকে আমাদের রেলওয়ে কলোনিটা ঘুরিয়ে আনি। এই কলোনির জন্যেই বিলাসপুর বিখ্যাত। কত রকমারি বাংলো আর কোয়ার্টার যে আছে এখানে তা দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। আর দেখবি নানান জাতের মানুষের মেলা। আসলে এই জায়গাটাকে মানুষের চিড়িয়াখানা বলতে পারিস।

    সুজয়ের কথা শুনে হাসল চাঁদু। বলল, কী সব আবোল-তাবোল বকছিস! চল কোথায় নিয়ে যাবি।

    ওরা যখন বেরোচ্ছে তখন পাকা গিন্নির মতো গোলাপ এসে দাঁড়াল দরজার কাছে। বলল, খুব বেশি দেরি কোরো না যেন। কত দূর থেকে এল ছেলেটা, আসতে-না-আসতেই তাকে নিয়ে চলল।

    ছেলেটা অর্থাৎ চাঁদু।

    সুজয় বলল, ছেলেটা তুই কাকে বলছিস? ও তোর চেয়েও দু’ বছরের বড় তা জানিস?

    গোলাপ চোখে তারায় ঝিলিক মেরে বলল, জানি। আমার বুড়ো দাদুর বয়সি তো নয়? বলে একবার তাকাল চাঁদুর দিকে। তাকিয়ে বলল, আপনার বন্ধুর পাল্লায় পড়ে ঘরের কথা ভুলে যাবেন না যেন। কাল সারারাত ট্রেন জার্নি করেছেন। আজ একটু সকাল সকাল খেয়ে শুয়ে পড়বেন। না হলে শরীর খারাপ করবে। বিলাসপুরের রেল কলোনি একদিনে ঘুরে দেখার নয়।

    সুজয়ের সাইকেল ছিল। সেই সাইকেলে চেপেই ওরা চলল পথপরিক্রমায়। চাঁদুকে সামনের রডে বসিয়ে ডবল ক্যারি করতে লাগল সুজয়। যেতে যেতেই বলল, এই যে আমার মামাতো বোনকে দেখলি। কী সুন্দর মেয়ে বল তো? অত ভাল চোখমুখের গড়ন, ফর্সা গায়ের রং সচরাচর দেখা যায় না। গোলাপ তো, গোলাপ। যেন সত্যিকারের একটি গোলাপ ফুল। তেমনি লেখাপড়ায়। অথচ ওর মধ্যে কোনও অহংকার নেই। কত সহজে মানুষকে আপন করে নেয় ও, তা ভাবতেও পারবি না। তুই আসবি শুনে আনন্দে কী যে করবে তার ঠিক নেই। ওইটুকু মেয়ে। রান্নার কাজ থেকে সব কাজই শিখেছে ও । বাপের একমাত্র মেয়ে। আদরিণী কিন্তু গরবিনী নয়।

    চাঁদু বলল, সেটা আমাকে যখন প্রণাম করতে এল তখনই বুঝেছি। আজ পর্যন্ত আমার পায়ে কেউ হাত দেয়নিরে। এই প্রথম ও দিল। যেহেতু তুই আমার বন্ধু।

    অনেক দুঃখ, বেদনা আর বিবেকের দংশন নিয়ে তোর এখানে এসেছিলাম। মনে হচ্ছে ক’টা দিন এখানে ভালই কাটবে।

    তুই না এলে আজই আমরা অমরকণ্টক যেতাম। মা, আমি আর গোলাপ। তোর বাবা দুপুরে ফোন করতেই যাওয়া বাতিল করে দিলাম। ঠিক হল তুই এলেই যাব। তবে মা হয়তো নাও যেতে পারেন। এখন তুই, আমি আর গোলাপ, এই তিনমূর্তিতে তোলপাড় করব চারদিক।

    কেন মাসিমা যাবেন না কেন?

    আসলে গোলাপ আমাদের কাছে যতই ছোট হোক, তবু বয়সের মেয়ে তো।

    চোদ্দো বছর বয়স হল। তাই একা আমার সঙ্গে ওকে পাঠাতে মা ঠিক ভরসা পাচ্ছিলেন না। বলা যায় না কখন কী বিপদ ঘটে। এখন তুই এসে পড়ায় আর কোনও দুশ্চিন্তা রইল না।

    তা হোক। তবু মাসিমার আমাদের সঙ্গে যাওয়া উচিত। মাথার ওপর একজন অভিভাবক থাকলে আমরা শান্তিতে ঘুরে বেড়াতে পারব। না হলে যতই ও আমাদের বোন হোক, তবু অনেকে অনেকরকম ভাবতে পারে। বাইরের লোকের মনে আমাদের সম্বন্ধে কোনও বাজে ধারণা আমরা জন্মাতে দেব কেন?

    যা তুই বলবি।

    কথা বলতে বলতে ওরা অনেক দূরে চলে এল । কাছেই একটা নদী দেখা যাচ্ছে। নদীতে জল একদম নেই বললেই চলে। শুধু বলি আর বালি। ওরা নদীতে নেমে বালির ওপর রুমাল পেতে বসল।

    এরপর অনেকক্ষণ চুপচাপ। একসময় সুজয়ই বলল, আজ কাল দু’দিন তুই রেস্ট নে। পরশু সকালের ট্রেনে আমরা রওনা হব।

    চাঁদু অবাক বিস্ময়ে বলল, কোথায় যাব?

    এতক্ষণ তা হলে কোথায় যাবার কথা হল? অমরকণ্টক।

    ও। সেখানে বুঝি ট্রেনে করে যেতে হয়?

    হ্যাঁ। বিলাসপুর থেকে ইন্দোর এক্সপ্রেসে পেনড্রা রোড নামে একটা স্টেশন আছে, সেখানে যেতে হবে। তারপর পেনড্রা রোড থেকে বাসে অমরকণ্টক। কালিদাসের মেঘদূতে যে মেকল পর্বতের নাম আছে, সেই মেকল পর্বতই হল অমরকণ্টক। ওইখানে শোন আর নর্মদার উৎস। ভারী মনোরম জায়গা।

    চাঁদ বালিতে আঁচড় কাটতে কাটতে অন্যমনস্ক ভাবেই বলল একসময়, তোদের এখানে বাংলা খবরের কাগজ পাওয়া যায় না?

    কেন যাবে না? কালকের কাগজটা আজকে পাবি।

    কালকেরটা তো দেখা।

    আজকের কাগজ পাবি কাল সকালে।

    আমাকে একটা কাগজ জোগাড় করে দিস তো কাল। আনন্দবাজার আনবি। আমাদের বেঙ্গলি ক্লাবে সব কাগজই যায়। তোকে সঙ্গে করে নিয়ে যাব। সেখানেই দেখে নিবি তুই।

    চাঁদু আর কোনও কথা না বলে দূরের দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবতে লাগল।

    সুজয় বলল, তুই আসলে জুলির ব্যাপারটা একদম মন থেকে মুছে ফেলতে পারছিস না, নারে?

    ঠিক তাই। আমার মনের ভেতরটা যে কী হচ্ছে সুজয় তোকে কী বলব?

    আমার কী মনে হচ্ছে জানিস, মনে হচ্ছে এখুনি যে কোনও একটা ট্রেন ধরে হাওড়ায় ফিরে যাই। তারপর ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকি কোথাও, আর ভেতরে ভেতরে খোঁজখবর লাগাই।

    সে তো খুব ভাল কথা। কিন্তু তাতে লাভ?

    হয়তো কোনও-না-কোনও সূত্র ধরে রাজুর হত্যাকারীর সন্ধান পাব। আর জুলিরও যদি ওইরকম কোনও মর্মান্তিক পরিণতি না হয়ে থাকে, তা হলে জুলিকেও উদ্ধার করতে পারব।

    তোর কি মনে হয় জুলি বেঁচে আছে?

    নিশ্চয়ই। না হলে ওর ডেড বডিটা তো পাওয়া

    যেত।

    আমি বলি কী, তুই এক কাজ কর। যা হবার তা হয়ে গেছে। দু’-চারদিন এখানে বসে খবরের কাগজগুলো লক্ষ কর। তারপর কী করবি-না-করবি সিদ্ধান্ত নে । ইতিমধ্যে পুলিশ যদি এই ব্যাপারে কোনও কিনারা করতে পারে তা হলে তো কথাই নেই। না হলে যা মন চায় করিস। তবে যাবার আগে তোর বাবাকে কিন্তু জানিয়ে যাস।

    বাবা জানতে পারলে আমাকে যেতেই মানা করবেন।

    উনি কিন্তু আমাদের ওপর ভরসা করেই ছেড়ে দিয়েছেন তোকে। এখন ওইসব গোয়েন্দাগিরি করতে গিয়ে তোর যদি কোনও বিপদ হয়, তা হলে আমরা তাঁর কাছে কী কৈফিয়ত দেব বল?

    কোনও বিপদই হবে না আমার।

    না হোক। তবু আমাদের স্বার্থে একাজ তোকে করতেই হবে ভাই।

    চাঁদু কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। তারপর বলল, বেশ। তাই হবে। বাড়িতে ফোন করেই আমি উধাও হয়ে যাব। কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি, কেউ কিছুই জানবে না। কাউকে কিছু জানাবও না।

    ওরা যখন নদীর বালিতে বসে এইরকম সব আলোচনা করছে, তেমন সময় একজন লোক স্কুটার নিয়ে ধুলোবালি উড়িয়ে ওদের পাশ দিয়ে চলে গেল। যাবার সময় কেন যেন এক রহস্যময় চোখে তাকিয়ে গেল ওদের দিকে।

    চাঁদু বলল, লোকটা কে রে?

    না। তবে চেনা চেনা লাগছে?

    চিনিস তুই?

    আমারও কেমন যেন চেনা চেনা লাগল। কেবলই মনে হচ্ছে কোথায় যেন দেখেছি।

    আমার কিন্তু খুব ভয় করছে।

    কীসের ভয়?

    তোর পিছনে সি আই ডি লাগেনি তো?

    চাঁদু ঘাড় নেড়ে বলল, না। তারপর বলল, সি আই ডি-দের তো আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই যে আমার পিছনে লাগতে যাবে। তা ছাড়া বাবা ওদিকটা সামলে নিয়েছেন।

    তা হলে?

    এমনি কেউ হতে পারে।

    সুজয় বলল, যেই হোক। এখন ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে চল দেখি?

    চাঁদু বলল, আর একবার যদি এসে পড়ে লোকটা, ফের ওইভাবে তাকায়, তা হলে দেব ওর চোখের মধ্যে বালি পুরে।

    সুজয় লাফিয়ে উঠল, তোর সাহস তো কম নয়। গায়ের জোরে পেরে উঠবি তুই ওই লোকটার সঙ্গে?

    খুব পারব। চোখে ধুলো পড়লে সবাই অন্ধ হয়। গায়ের জোর তখন কোন কাজে লাগবে শুনি?

    এমন সময় স্কুটারে চড়া লোকটি আবার ওদের দিকে এগিয়ে এল। বেশ ভারিক্কি এবং বলিষ্ঠ চেহারার লোক। লোকটি ওদের দিকে তাকিয়ে স্কুটার থেকে না-নেমেই বলল, তোমার নাম চাঁদু না?

    হ্যাঁ, ভাল নাম চন্দ্রকান্ত। এখানে বসে কী করছ?

    দেখতেই তো পাচ্ছেন এমনি বসে আছি।

    ও ছেলেটি কে?

    এত সব কথা জানবার কোনও অধিকার আপনার আছে কি? লোকটি হেসে বলল, মনে হচ্ছে এখানকার বি এস আই-এর ছেলে। সবই তো জানেন দেখছি। কিন্তু আপনাকে ঠিক চিনতে পারলুম না তো? আমাকে চেনার অসুবিধে আছে ভাই। আমাকে না চেনাই ভাল। তা হলে কেটে পড়ুন এখান থেকে।

    কেটে তো পড়বই। কিন্তু তোমার বাবা হঠাৎ এত ভয় পেয়ে তোমাকে সরিয়ে দিলেন কেন?

    সে কথাটা আমার বাবাকেই জিজ্ঞেস করবেন।

    খবরটা পেয়েই সকাল থেকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছি তোমাকে।

    চাঁদু বলল, আপনি মাথামোটা লোক তাই অযথা এত পরিশ্রম করলেন। সকালে বম্বে মেলের সময়ে স্টেশনে গেলেই তো দর্শন পেতেন আমার।

    হ্যা আমি খবর পেয়ে যখন স্টেশনে গেলাম বম্বে মেল তখন রায়পুরে পৌঁছে গেছে।

    এখন আপনি কী করতে চান?

    আমি তোমাকে সতর্ক করে দিতে এসেছি। তোমার মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে দু’জন লোক আজই মধ্যরাতে বিলাসপুরে এসে পৌঁছুবে। সম্ভবত ওরা গীতাঞ্জলিতে আসছে। কাজ হাসিল করলেই প্রচুর অর্থ পাবে ওরা। শিউরে উঠল চাঁদু, সত্যি! কিন্তু আমার অপরাধ? আমি তো ওদের কোনও ক্ষতি করিনি। ওদের কেন, কারও ক্ষতিই করিনি আমি। তা হলে? বাঃ রে। কেষ্ট মিত্তির তার পুত্রহত্যার প্রতিশোধ নেবে না?

    কেষ্ট মিত্তিরের ছেলের খুন হওয়ার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক? রাগটা তোমার বাবার ওপর।

    আমার বাবাও তো খুন করেননি।

    করাতে তো পারেন।

    না। আমার বাবা এ কাজ করতে পারেন না।

    জুলিও পারে না।

    আপনি চেনেন জুলিকে?

    তোমাকেও চিনি, তোমার বাবাকেও চিনি। যাক। আমার কাজ শেষ। তোমাকে যে খুঁজে পেয়েছি এতেই আমি খুশি।

    জুলি এখন কোথায়? আপনি যখন সবই জানেন তখন দয়া করে একবার বলুন না সে কোথায়? আমি ওকে ওর মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে নিশ্চিন্ত হই। তারপর খুন হই, যা হই কোনও কিছুতেই আমার আপত্তি নেই।

    লোকটি স্কুটারে স্টার্ট দিয়ে বলল, আমার সময় খুব কম। আজই রাত্রের মধ্যে যেখানে হোক পালিয়ে যেয়ো তুমি। শুধু বাড়ি যেয়ো না। গেলেই বিপদ। বিলাসপুরেও থেক না।

    পালিয়ে কোথায় যাব একটু বলে দিন না?

    কাকপক্ষীতেও যেন টের না পায়। ইন্দোর ভূপাল জব্বলপুর ইটারসি যে দিকে হোক কেটে পড়ো। আচ্ছা চলি । বাই বাই।

    লোকটা চলে যেতেই লাফিয়ে উঠল সুজয়। বলল, এ যে রীতিমতো নাটক জমে উঠল রে ভাই।

    তাই তো দেখছি।

    ওরা পায়ে পায়ে বালি হেঁটে ওপরে বাঁধে উঠে সাইকেল নিয়ে চলে গেল। দু’জনের কারও মুখে আর একটুও কথা নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleCities of the Plain (Sodom and Gomorrah) – Marcel Proust
    Next Article পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }