Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সব্যসাচীর গোয়েন্দাগিরি – ১০

    দশ

    এবারে সব্যসাচীর কথায় আসা যাক। বেচারি সব্যসাচী। বাপিকে জয়ার মান ভাঙাবার জন্য ভেতরে পাঠিয়ে মন্দিরের বাইরে গিয়ে নিজে দাঁড়িয়ে রইল চুপচাপ। হঠাৎ মনে হল পেছন দিক থেকে কে যেন মুখে একটা রুমাল চাপা দিয়ে টেনে নিল ওকে। তারপর চোখের সামনে সবই যেন অন্ধকার।

    না। ক্লোরোফর্ম বা ওই জাতীয় কোনও রাসায়নিকের প্রভাবে ও চোখে অন্ধকার দেখেনি। আসলে কালো কাপড় দিয়ে ওরা ওর মুখ ঢেকে দিয়েছিল। আর সেই রুমালের মিষ্টি গন্ধ নাকে যেতেই নিশ্বাস বন্ধ করেছিল সে। গোয়েন্দা গল্প পড়ে পড়ে ওর ভেতরটা এমনই তৈরি ছিল যে ও জানত এই অবস্থায় কী করতে হয়। পাণ্ডব গোয়েন্দার বাবলু বিলু ভোম্বল কিংবা বাচ্চু বিচ্ছু অথবা সোনার গণপতি হিরের চোখের বিল্টু তিন্নি শুভঙ্কর মউ ওর আদর্শ হয়ে উঠেছে।

    তাই দম বন্ধ করে দু’-একবার ছটফট করার ভান করে স্থির হয়ে রইল।

    ওরা ওকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে চলল কোথায় যেন। মন্দিরের পেছন দিকের একটা মাঠে সকালের সেই মারুতিটা রাখা ছিল। ওরা তাইতে করে নিয়ে চলল ওকে।

    সব্যসাচীর প্যান্টের পকেটে তখনও ছিল সেই মূল্যবান জিনিসটা। ও ভাবল, এবার নিশ্চয়ই ওরা সার্চ করে কেড়ে নেবে জিনিসটা। কিন্তু সেটা যে ওর কাছেই আছে তা কি জানতে পেরেছে ওরা?

    কিন্তু না। ওরা কিছুই করল না ওর।

    সব্যসাচী সজ্ঞানে থেকেও অজ্ঞান হওয়ার ভান করে শুনতে লাগল ওদের কথাবার্তা।

    মারুরিতে দু’জন ছিল। একজন বলল, তোমরা কি ভুলের পর ভুল করে যাবে? আমি বারবার বলেছিলাম এটাকে স্টেটের বাইরে পাচার করে দাও, কিন্তু শুনলে না। এখন—।

    এখন কী? পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে এই গাড়ি নিয়ে উধাও হয়ে যাব, পুলিশও টেরও পাবে না।

    ওইরকম চালাকি করতে গেলে ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকতে হয়। কিন্তু এইসব ফাঁকা জায়গায় বিপদের সম্ভাবনা যে কত তা কি তোমাদের বুঝিয়ে বলতে হবে?

    সেটা অবশ্য ঠিক। এখন ছেলেটাকে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়েই এটাকে একটা ট্রাকে উঠিয়ে ঢাকাঢুকি দিয়ে পাচার করা হবে।

    কিন্তু ছেলেটাকে কিডন্যাপ করার আদৌ কি কোনও প্রয়োজন ছিল?

    না। তবে যে মুহূর্তে শুনতে পেলাম ছেলেটি এইদিকে এসেছে তখনই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

    তার মানে পুলিশ এবং তদন্তকারী গোয়েন্দাদের ঢাকঢোল পিটিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল যে আমরা এই অঞ্চলেরই আশপাশে আছি।

    এছাড়া কোনও উপায় ছিল না।

    কেন, আসল মালটিকে ধরে আনলে ক্ষতিটা কী ছিল?

    ক্ষতি ছিল বইকী। তার কাছ থেকে ওই জিনিসটা কি উদ্ধার হত তা হলে? এখন এই ছেলেমেয়েদুটোকে আটকে রেখে ওকে বাধ্য করাব জিনিসটা আমাদের হাতে তুলে দিতে।

    প্রথম লোকটি এবার দারুণ রেগে বলল, তা হলে কেন ওই দুর্ঘটনা ঘটালে। লোকটা যদি মরেই যেত?

    আপদ চুকে যেত তা হলে।

    ও। লোকটা মরে গেলে জিনিসটার পা গজাত আর সেটা হেঁটে এসে আমাদের পকেটে ঢুকত, তাই না?

    দ্বিতীয় লোকটি এ কথার কোনও উত্তর দিল না। গাড়ি এসে থামল একটা বনময় প্রান্তরে।

    গাড়িতে দু’জনই মাত্র লোক ছিল। একজন ছিল চালকের আসনে, আর একজন সব্যসাচীর কাছে। ওরা গাড়ি থেকে নেমে ছোট্ট একটি টিলার পাশ দিয়ে ওকে কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলল। তারপর একটি পুরনো ধরনের বাড়ির কাছে এসে থামল।

    ভেতর থেকে কে যেন একজন বেরিয়ে এসে বলল, এটা আবার কে? সম্ভবত বিজুর ভাইপোটাইপো কেউ হবে।

    সবই তা হলে আন্দাজের ওপর চলছে? এদিকের খবর জানো তো, বীর সিং শ্যামাকে জ্যান্ত কবর দিয়েছে।

    ওর অপরাধ?

    সামান্য একটু ভুল। তদন্তকারী অফিসার মি. ভারতীর ছেলে শুভমের বদলে অন্য একটি ছেলেকে ধরে এনে সমস্ত পরিকল্পনাকে ভেস্তে দেওয়ার ফল। শ্যামা নেই!

    না। তার চেয়েও মারাত্মক খবর, বীরাপ্পানের দল আইনজীবী জয়শংকরপ্রসাদকে কিডন্যাপ করেছে এবং পুলিশের সন্দেহ ওটা আমাদেরই কাজ।

    সেই মেয়েটা এখন কোথায়?

    ওকে এখানেই রাখা হয়েছে।

    ছেলেটাকে তা হলে কী করব?

    আপাতত জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত এইখানেই রাখো, দিনের বেলা কিছু করতে যেয়ো না। রাত্রিবেলা ওর পরিচয় জেনে ছেড়ে দিয়ে এসো দূরে কোথাও।

    সব্যসাচী কানখাড়া করে শুনল সব। ওর অভিনয়ে কেউ জানতেও পারল না ও সচেতন আছে বলে। ওরা ওকে নীচের তলার একটি ঘরে তক্তাপোশের বিছানায় শুইয়ে মুখের ঢাকা সরিয়ে যেমন এসেছিল তেমনি চলে গেল। অবশ্য যাবার আগে দরজায় শিকল দিয়ে যেতে ভুলল না।

    ওরা চলে যেতেই উঠে বসল সব্যসাচী। যা ভেবেছে তাই। তক্তাপোশেই একপাশে শুয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছে লিপি। মেয়েটা কেমন বিশ্রীরকমের বেঁকে কাত হয়ে শুয়ে আছে। দেখে মনে হয় ওষুধের প্রভাবে আচ্ছন্ন ভাবটা হয়তো একবার কেটেছিল, পরে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে।

    সব্যসাচী উঠে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করে দেখতে লাগল এখান দিয়ে পালাবার কোনও পথ পায় কি না। কিন্তু না। এই ঘরটি এতই ছোট যে, এই ঘরে দেওয়াল ছাড়া কিছু নেই।

    একটা আলোবাতাস আসার মতন ব্যবস্থা আছে। দেওয়ালের উপরিভাগে মোটা মোটা লোহার রড দিয়ে ভেন্টিলেটারের মতো করা। তাতে পাল্লা নেই। কিন্তু সেটা এমনই উঁচুতে যে সব্যসাচী চেষ্টা করেও তার নাগাল পেল না। তাই প্রাকৃতিক অবস্থান চোখে না দেখেও অনুমান করা গেল। অর্থাৎ ঘরটা নীচের তলায় হলেও ঠিক আন্ডারগ্রাউন্ডে নয়। জায়গাটা উঁচুনিচু হওয়ার জন্য সামনের দিক থেকে যেটা একতলা বলে মনে হয় আসলে সেটাই দোতলা। এটা হল নীচের তলায়। বাড়িটা বহু পুরনো। এককালে হয়তো কোনও বড়লোকের বাগানবাড়ি ছিল। এই ঘরটা এত ছোট যে এখানে হয়তো ঘুঁটেকয়লা ইত্যাদি রাখা হত। কিন্তু মুশকিল যেটা, সেটা হল, ওই একটি মাত্র দরজাকে ভেঙে না বেরোতে পারলে এখান থেকে পালানো অসম্ভব।

    সব্যসাচী অকারণেই ঘরময় পায়চারি করল। একপাশে ছোট একটি টি-টেবিলে কয়েকটা মাখনটোস্ট রাখা ছিল। আর ছিল এক কলসি জল। লিপির জন্যই রেখেছিল নিশ্চয়ই। ও খায়নি। ওষুধের প্রভাবে ও এখনও আচ্ছন্ন হয়ে আছে।

    বেল৷ তো এখন অনেক হয়েছে। ওরা কি ওর জন্যও কিছু আনবে না? খিদেও পেয়েছে ওর। কলসিটা তুলে দেখল জল বেশ ভরতি আছে। ও দ্বিধা না করে দুটো টোস্ট চিবিয়ে খেয়ে ঢক ঢক করে জল খেল এক গেলাস। তারপর পকেটের জিনিসটা বার করে বারবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল সেটাকে। কী এটা? কী আছে এর ভেতরে? বিজুদা কেন এটাকে লুকিয়ে রাখছেন। ওই দলের সঙ্গে কী সম্পর্ক বিজুদার? দুর্ঘটনায় বিজুদার আঘাত কতটা মারাত্মক? জয়া আর বাপিদা কি ওর খোঁজ করছে? নাকি ফিরে গিয়ে খবর দিয়েছে ওর বাবা-মাকে? কিছুই ভেবে পেল না সব্যসাচী।

    দরজার পাল্লার কাঠ পুরনো। তবে বেশ মজবুত। ও দু’-একবার টেনে দেখার চেষ্টা করল। কিন্তু না। ওদিক থেকে শিকল থাকার জন্য একটুও ফাঁক করতে পারল না।

    ও আবার লিপির কাছে এল। ওকে একটু টেনে ধরে সোজা করে শুইয়ে দিল। কী জ্বালা। মেয়েটা যদি সজ্ঞানে থাকত, তা হলেও ওর সঙ্গে কথা বলে সময় কাটত। কিন্তু এমনই আচ্ছন্ন যে—।

    হঠাৎ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দেহটাকে টান করে পাশ ফিরে শুল লিপি। সব্যসাচী ওর মুখের কাছে ঝুঁকে পড়ে আস্তে করে ডাকল, লিপি! লিপি! তন্দ্রার ঘোরেই লিপি একবার সাড়া দিল, উঁ।

    একবার উঠে বসো। চেয়ে দেখো আমি কে? আমি সব্যসাচী। লিপি অবচেতন মনেই একটু হেসে আবার ঘুমোতে লাগল।

    সব্যসাচী ওর হাতদুটো নিয়ে নাড়াচাড়া করল একটু। চোখ টেনে দেখল। কপালের ওপর হাত বুলিয়ে অবিন্যস্ত চুলগুলো ঠিক করে দিল। তবুও লিপির ঘুম আর ভাঙে না। সত্যি, কারা পাপ করে, কারা শাস্তি পায়। হঠাৎ বাইরে কার যেন পায়ের শব্দ।

    সব্যসাচী এক মুহূর্তও দেরি না করে তক্তপোশের বিছানায় দেহটা এলিয়ে দিয়ে ঘুমের ভান করল। কে যেন একজন এল। চোখটা বুজে থাকায় চেহারাটা দেখা গেল না। সে এসে ওদের গায়ের কাছে ঝুঁকে পড়ে কী যেন দেখল। অর্থাৎ ওরা সজ্ঞানে কি অজ্ঞানে দেখল তাই। তারপর টেবিলের ওপর কী সব নাড়াচাড়া করে আবার চলে গেল দরজায় শিকল দিয়ে।

    সে চলে যেতেই সব্যসাচী উঠে বসল। তারপর টেবিলের কাছে গিয়ে দেখল দুটো প্লেটে ওদের দু’জনের জন্য সামান্য কিছু ভাত আর বেগুনপোড়া রেখে গেছে। রাগে সব্যসাচীর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল, কচুপোড়া খাও অনামুখোরা।

    হঠাৎ ওর কানে দূরাগত কিছু ঘণ্টার ধ্বনি ভেসে এল। তার মানে এই নির্জনে নিশ্চয়ই কোথাও কোনও আশ্রম অথবা দেবস্থান আছে।

    সব্যসাচীর মাথায় এবার বুদ্ধি এল একটা। কলসি থেকে এক গেলাস জল নিয়ে একটু একটু করে ঝাপটা দিতে লাগল লিপির মুখে।

    এই ওষুধেই কাজ হল। দু’-একবার জলের ঝাপটা দিতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে

    বসল লিপি। কেমন যেন ভয়ার্ত স্বরে বলে উঠল, আমি কোথায়? তোমরা আমাকে কেন এখানে নিয়ে এসেছ? আমাকে ছেড়ে দাও। সব্যসাচী হঠাৎ ওর মুখ চেপে ধরে বলল, চু—উ—প।

    এতক্ষণে ঘোর কাটল লিপির। চোখের সামনে সব্যসাচীকে দেখে সবিস্ময়ে বলল, সব্যসাচী তুমি! তুমি এখানে কেন? ওরা কী তোমাকেও ধরে এনেছে এখানে?

    হ্যাঁ। তবে বলতে পারো আমি নিজেই ধরা দিয়েছি।

    তুমি ধরা দিয়েছ?

    ওরা তোমাকে গুম করল। তোমার কাকা, বিজুদাকে হত্যার চেষ্টা করল। আমি এই খবর হলিডে হোমে পৌঁছে দিলে তোমার বাবা-মা সবাই ছুটোছুটি করছেন। থানা-পুলিশ হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাপিদা আর আমি তোমার খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম। লোকনাথ মন্দিরের কাছে ওরা আমাকে আচমকা তুলে নিল। তারপর এইখানে এই ঘরে—।

    লিপি এবার উঠে বসল।

    সব্যসাচী বলল, শোনো, ওরা আমাদের দু’জনের জন্য সামান্য কিছু খাবার রেখে গেছে। আগে খেয়ে নিই এসো। পরে এখান থেকে পালাবার একটা মতলব করা যাবে।

    কীভাবে কী করবে?

    সেটা ঠিক করব পরে। আপাতত পেটায় নমো করা

    যাক।

    ওরা আর বাক্যব্যয় না করে বেগুনপোড়া দিয়ে মোটা চালের ভাত বেশ গোগ্রাসেই খেয়ে নিল। তারপর কলসির জলেই মুখহাত ধুয়ে সেই জল আকণ্ঠ পান করে তক্তপোশে এসে বসল দু’জনে।

    সব্যসাচী বলল, দেখো লিপি, এই মুহূর্তে তোমার আমার দু’জনেরই জীবন বিপন্ন। কয়েকটি কথার তুমি ঠিক ঠিক উত্তর দাও। তুমি নেহাতই ছেলেমানুষ নও। আগে বলো কোন ক্লাসে পড় তুমি?

    আমি ক্লাস নাইনে পড়ি।

    এবার বলো তো, তোমার কাকা অর্থাৎ বিজুদা লোকটি কেমন? কী করেন? তাঁর সঙ্গে এই দলের এত বিরোধ কেন? তোমার কাকার দেওয়া একটা মূল্যবান জিনিস আমার কাছে এখনও আছে। এটার ব্যাপারে তুমি কী কিছু জান?

    লিপি বলল, সব বলব তোমাকে। কিন্তু এত কাগুর পরও ওই জিনিসটা তোমার কাছ থেকে খোয়া যায়নি কী ভাগ্যিস।

    আসলে ওদের কথাবার্তা শুনে আমার মনে হয়েছিল আমাদের দু’জনকে আটকে রেখে মুক্তিপণ হিসেবে ওই জিনিসটা ওরা তোমার কাকার কাছ থেকে আদায় করতে চায়।

    সেজন্য তো আমাকে ওরা গুম করেছে। কিন্তু তোমাকে নিয়ে এল কেন?

    হয়তো ওরা আমাকেও তোমাদের পরিবারের কেউ বলে মনে করেছিল। তা যাকগে, এখন আসল কথাটা বলো।

    লিপি বলল, শোনো তবে, আমার কাকা বরাবরই একটু ডানপিটে এবং একরোখা ধরনের। বাবার মুখে শুনেছি কাকার মনের মধ্যে সবসময়ই কেমন যেন একটা বিদ্রোহী সত্তা কাজ করত। অন্যায় উনি কখনও বরদাস্ত করতেন না। এখনও করেন না। কারও মধ্যে কোনও বেয়াদপি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পিটিয়ে ঠান্ডা করে দিতেন। আসলে কাকার চেহারাটাও তো ভারিক্কি।

    সব্যসাচী বলল, বিশেষ করে চাপ দাড়ির আড়ালে ওনাকে অত্যন্ত কঠিন পুরুষ বলেই মনে হয়।

    অথচ ভেতরে উনি শিশুর মতো সরল।

    এই ধরনের লোকেরা এইরকমই হয়।

    তবে কাকার একটা ব্যাপারে আমি কিন্তু অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। কোন ব্যাপারে?

    কাকা বরাবরই লেখাপড়ায় খুব ভাল। আমার কাকা ইংলিশে অনার্স এবং একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট।

    বলো কী!

    হ্যাঁ। সত্যিই উনি একজন আদর্শবাদী যুবক। বিয়ে করেননি। আমাকেও অত্যন্ত ভালবাসেন। বলতে গেলে ওই কাকার আদরেই আমি মানুষ। তা কাকা একসময় যে দলের সঙ্গে মিশতেন সেটা একটা রাজনৈতিক দল। সেই দলের জন্য উনি নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু পরে যখন বুঝলেন দল বিভ্রান্ত এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে এমন কোনও জঘন্য কাজ নেই, যা তারা করতে পারে না, তখনই উনি সতর্ক হন এবং ওদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। কাকা আমার কাছে এক বিস্ময়। একজন ব্যাড টেম্পারমেন্টের মানুষ লেখাপড়ায় কী করে যে এত ভাল হয়, তা আমার ধারণারও বাইরে।

    তারপরে বলো।

    এইবারে যা বলব সেটা তুমি মন দিয়ে শোনো। তোমার কি মনে আছে বেশ কিছুদিন আগে রামেরাম আগরওয়ালা নামে কলকাতার একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি খুন হন?

    হতে পারে। আমার মনে নেই।

    ওই দলটি এই শিল্পপতিকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেল করে। ইতিপূর্বে নিজের ব্যবসার সুরক্ষার খাতিরে মাঝেমধ্যেই প্রচুর টাকা ডোনেশান হিসেবে ওই দলটির হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। পরে বিরক্ত হয়ে তিনিও হাত গুটিয়ে নেন। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে আমার কাকার যোগাযোগ ছিল। কাকা রামেরামবাবুর ব্যবসার কাগজপত্তর দেখতেন। ইনকাম ট্যাক্সের হিসেব রাখতেন। আর এই দলকে কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায় সে সম্পর্কেও পরামর্শ দিতেন। ইতিমধ্যে ওই দলের পাণ্ডারা আমার কাকাকে বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছে। আর ওই ব্যবসায়ীকেও শাসিয়েছে তাদের সঙ্গে অসহযোগিতা করলে পরিণাম ভাল হবে না বলে। হলও তাই।

    উঃ কী সাংঘাতিক।

    আমার কাকা ওদের চেয়েও সাংঘাতিক। তাঁর বুদ্ধির চালে ফেঁসে গেল ওরা। দলের যারা রাঘববোয়াল তারা বুদ্ধি করে কোনওরকমে টিকে থাকলেও ছুটকোছাটকারা গা ঢাকা দিল। কাকা বুদ্ধি করে ওই ব্যবসায়ীকে সবসময় তাঁর ঘরে আসা-যাওয়া করত যারা তাদের কথাবার্তা টেপ করে রাখার পরামর্শ দিতেন। ফলে যে যখন যা বলে হুমকি দিত সবই ধরা আছে তাতে। বিশেষ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত এমন কিছু মানুষের কথাবার্তা টেপ করা আছে যা প্রকাশ হলে অনেকেরই মুখোশ এমনভাবে খুলে যাবে যে কেলেঙ্কারি রাখবার জায়গা থাকবে না। সেইসব টেপের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো অবশ্য আর একটি ক্যাসেটে বন্দি হয়ে আমার কাকার কাছে আছে। এবং সেই ক্যাসেটই এখন তোমার কাছে রয়েছে। ওই ক্যাসেট আদালতে পেশ করলে কী হবে আর কী যে হবে না তা কল্পনাও করা যাবে না। বিশেষ করে ওই ক্যাসেটে রামেরামজির মৃত্যুকালীন জবানবন্দিও ধরা আছে। দুষ্কৃতীরা সেদিন রাতে যখন তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে আসে, তখনই উনি তাদের চিনতে পারেন এবং টেপ চালিয়ে কয়েকজনের নাম ধরে চেঁচান। ওরা তাঁকে গুলি করে পালায়। আর রামেরামজি তাঁর শেষ কথাগুলো টেপ করে রাখেন। ঘটনাক্রমে আমার কাকা সে রাতে সেখানে গিয়ে পড়লে সেই ক্যাসেটটি তিনি উদ্ধার করেন। ইতিমধ্যে ওই ব্যবসায়ীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে দু’জন জেল পলাতক। এরাও আবার এদেরই আর একটি বিরুদ্ধ দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

    সব্যসাচী সবিস্ময়ে বলল, এ যে দেখছি রীতিমতো গোয়েন্দা গল্পের প্লট।

    ইতিমধ্যে ওই মামলার তদন্তকারী ইনস্পেক্টর মি. ভাগবকে ওরা টাকা দিয়ে কেনবার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি ওদের টোপ গেলেন না। ওই মামলার প্রখ্যাত আইনজীবী জয়শংকরপ্রসাদও ওদের আক্রমণের বলি হন। সম্প্রতি এই জয়শংকরের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

    স্ট্রেঞ্জ। কিন্তু একটা ব্যাপার আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না এই পুরীতে কলকাতার ওই হত্যাকাণ্ড বা তার পরবর্তী ঘটনাবলীর বদলাবদলির ব্যাপারস্যাপারগুলো এমন নাটকীয়ভাবে ঘটছে কী করে?

    আসলে ওই ব্যবসায়ী রামেরাম আগরওয়ালার একটি হোটেল আছে রাজধানী ভুবনেশ্বরে। সেইটার ব্যাপারেও কিছু কাজ ছিল। সম্বলপুরের কাছে টিটলাগড় এবং বেরহামপুরের কাছে পলাশাতেও তদন্তের ব্যাপার ছিল একটু। আমাদের পুরী আসার আর এক কারণ ছিল আমার কাকার এই ব্যাপারে কিছু তদন্ত এবং খাতাপত্তরের কাজ করা। সেই তদন্তকারী ইনস্পেক্টর মি. ভার্গবও তাঁর ছেলেবউ নিয়ে এখানে এসেছেন। এসেছিলেন জয়শংকরপ্রসাদ। তবে ভুবনেশ্বরে না থেকে তাঁদের কাজকর্ম এই পুরীতে বসেই করতে চেয়েছিলেন। আমাদের এই হলিডে হোমে থাকার মেয়াদ শেষ হলে আমরা অন্যত্র চলে যেতাম। সেই মর্মে ঘরও বুক করা আছে।

    সব্যসাচী ওর পকেট থেকে চামড়ার খাপে মোড়া বস্তুটা বের করে বলল, বুঝেছি। এই তা হলে সেই ক্যাসেট, যার জন্য এত। ভগবান রক্ষে যে এতকাণ্ডতেও হাতছাড়া হয়নি জিনিসটা।

    এখন আমাদের চেষ্টা করতে হবে এটা যেন কোনওরকমেই হাত ছাড়া না হয়। সব্যসাচী বলল, তোমার মুখে সব শুনে আমার ভুল ধারণাটা ভাঙল। আমি কিন্তু তোমার কাকাকে অন্যরকম ভেবেছিলাম।

    স্বাভাবিক। কিন্তু সব্যসাচী, এখন আমাদের এখান থেকে পালাবার কী হবে? সব্যসাচী বলল, আক্রমণ। আক্রমণ ছাড়া পথ নেই।

    কীভাবে আক্রমণ করবে? কাকে করবে?

    যে লোকটা আমাদের খাবার দিতে আসবে তাকে। ওই লোককে কবজা করতে না পারলে এখান থেকে আমাদের পালানো অসম্ভব।

    আমরা কি পারব ওকে কবজা করতে?

    পারতেই হবে। একাজে আশাকরি সফল হব আমরা। কেন না লোকটা একাই আসে এবং দু’হাতে খাবার নিয়ে। ও যখন ঘরে ঢুকবে তখন ওর দু’হাতে থাকবে খাবার। আমরা শিকল খোলার শব্দ পেলেই দু’জনে দরজার দু’পাশে লুকিয়ে পড়ব। তারপর আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ল ওর ঘাড়ে।

    লিপির মুখে হাসি ফুটল এবার।

    সব্যসাচী বলল, আর দু’চার ঘণ্টা। বেলা গড়িয়ে আসছে। সন্ধেবেলা কিংবা সন্ধের পর রাতের খাবার নিয়ে আসবে ও। তখনই পালাব আমরা।

    তুমি পথ চেন? কোথায় কোনদিকে যাব কিছু ঠিক করতে পারবে?

    এই ঘরের বাইরে যদি একবার যেতে পারি তা হলে আর আমাদের ধরে কে? কিন্তু মুশকিল হল আমরা কোথায় আছি কীভাবে আছি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি যদি হেঁট হই তুমি আমার কাঁধে পা দিয়ে উঠে বাইরেটা একবার দেখে নিতে পারবে?

    লিপি বলল, যদি পড়ে যাই? তার চেয়ে তুমি বরং আমার কাঁধে ওঠো। সব্যসাচী বলল, আমার ভার তুমি রাখতেই পারবে না। যদি তোমাকে সামান্য একটু চাগিয়ে ধরি?

    তা হলে অবশ্য হতে পারে।

    বলেই কী মনে হতে সব্যসাচী বলল, দাঁড়াও, আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। এই টি-টেবিলটাকে কাজে লাগানো যাক। বলে টেবিলটাকে টেনে আনল সব্যসাচী। কিন্তু না। তাতে উঠেও কোনও লাভ হল না। ওপরের ফাঁকটা তখনও নাগালের বাইরে।

    লিপি বলল, তুমি আমাকে একটু তুলে ধরো। তা হলেই বাইরেটা দেখতে পাব আমি।

    সব্যসাচী তাই করল। লিপিকে একটু তুলে ধরতেই লোহার রডগুলো ধরে ওর কাঁধে ভর করে উঠে দাঁড়াল লিপি। তারপর বাইরের দিকে তাকিয়ে বলল, কী নির্জন। চারদিকে বন-জঙ্গল। আর বালির পাহাড়। সমুদ্র নেই?

    না। সমুদ্র তো দেখতে পাচ্ছি না।

    এবার তা হলে নেমে এসো।

    লিপি নামলে সব্যসাচী বলল, তুমি কি পারবে একটু কষ্ট করে আমাকে একবার তুলে ধরতে?

    এ আর এমন কী? খুব পারব।

    সত্যিই পারল। ছিপছিপে চেহারা হলে কী হবে। শরীরে শক্তি রাখে বেশ। সব্যসাচীকে ধরে সামান্য একটু চাগিয়ে তুললেই বিপর্যয়। সবসুদ্ধু হুড়মুড়িয়ে পড়ল দু’জনে। পুরনো টেবিলের পায়াটা ভেঙে গিয়েই এই কেলেঙ্কারি। আর ঠিক তখনই দরজা খোলার শব্দ।

    সেই শব্দের সঙ্গে সঙ্গেই লিপি আর সব্যসাচী দু’জনেই ছুটে এল দরজার দু’পাশে। দিনের আলো এখনও আছে। তাই পালাতে অসুবিধে হবে না ওদের। কোনওরকমে একবার শুধু বেরোতে পারলে হয়। যদিও পড়ে গিয়ে দারুণ চোট পেয়েছে দু’জনেই। তবু ওরা তৈরি।

    একজন নয়, দু’জন এল ওরা।

    দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল সব্যসাচী। তারপর লিপিকে নিয়ে বাইরে বেরিয়েই ঘরের দরজায় শিকল দিয়ে ছোট্ট একটা পাঁচিল টপকে লাফিয়ে পড়ল পাশের বালিয়াড়িতে।

    কাজুবাদামের বন যেখানে আরও গভীর, ওরা দু’জনে প্রাণপণে ছোটা শুরু করল সেইদিকে। ছুটতে ছুটতে সন্ধে হয়ে এল। কতদূরে একটা পাতার ঘর দেখা যাচ্ছে। ওরা সেই ঘরখানাই ওদের নিরাপদ আশ্রয় ভেবে এগিয়ে চলল।

    ঘরের কাছে গিয়ে দেখল বালির ওপরে তালপাতার ছোট্ট একটা ঝোপড়ি এটা। কোনও ভিখিরির ডেরা ছিল বোধহয়।

    এখন এ ঘর কাজে লাগে না, তাই পরিত্যক্ত। তবে আপাতত একটা রাত এখানে কাটানো যায়।

    লিপি বলল, সব্যসাচী! আর আমি পারছি না। আমার মনে হয় আজকের রাতটা আমাদের এইখানেই কাটিয়ে দেওয়া উচিত।

    সব্যসাচী বলল, এখানে এক রাতও নয়। সাময়িকভাবে কিছুটা সময় আমরা এখানে বিশ্রাম নিতে পারি। কেন না বনের মধ্যে ঘর। ওরা যদি রাতের অন্ধকারে আমাদের খুঁজতে বেরোয় তা হলে সহজেই ধরা পড়ে যাব আমরা। তাই বলি একটু বিশ্রাম নিয়ে অন্ধকারেই পালাই চলো।

    লিপি বলল, যা তুমি বলবে। এখন তুমিই আমার বন্ধু, আমার অভিভাবক।

    আমার সব। তোমার দেখা না পেলে এই বিপদে কী যে করতাম, কিছু ভেবে পাচ্ছি না। কিন্তু সব্যসাচী, ওই বেগুনপোড়া দিয়ে দুটো শুকনো ভাত খেয়ে পেট তো ভরেইনি, উপরন্তু তেষ্টায় বুকের ছাতি ফেটে যাচ্ছে। একটু জলের কি ব্যবস্থা করা যায়?

    এখন চোখের জলই আমাদের একমাত্র সম্বল। এই সৈকতমরুতে জল কোথায়? তবে দূরে কয়েকটা ছোট ছোট নারকোলগাছ দেখা যাচ্ছে। দেখি যদি কোনও একটা গাছে উঠে হাত বাড়িয়ে দু’–একটা ডাব পাড়তে পারি।

    তাই যাও। আমি বরং এইখানে বসে হাঁফ ছাড়ি একটু। এই বলে ঘরের ভেতর থেকে একটা ধুলো পড়া ময়লা শতরঞ্জি নিয়ে এসে বালির ওপরে পেতে বসে রইল লিপি।

    সব্যসাচী গেল ডাব পেড়ে আনতে।

    লিপি বসে বসে বালিতে কত আঁকিবুকি কাটল। নাম লিখল দু’জনের। বালির ঘর করল। ও যখন এইসব নিয়ে ব্যস্ত তখন হঠাৎই বুকটা কেঁপে উঠল ওর। দেখল ভারী বুট পায়ে দীর্ঘদেহী একজন একটু একটু করে এগিয়ে আসছে ওর দিকে। লিপি তার মুখের দিকেও তাকাতে পারল না। মনে হল ওর মধ্যে ও যেন আর নেই।

    এদিকে কিছু সময়ের মধ্যে ডাব নিয়ে যখন ফিরে এল সব্যসাচী তখন লিপিকে না দেখে দারুণ অবাক হয়ে গেল। সূর্য তখন অস্তাচলে। প্রকৃতির যবনিকা ক্রমশ ধূসর হয়ে আসছে। চারদিকে আবছায়া। কিন্তু যার জন্য আনা সে কই? ও দেখল বালির ওপর বেশ বড় বড় হরফে ওদের নাম লেখা। একটা বালির ঘর অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ও ছুটে সেই ঘরের ভেতরে গিয়ে ঢুকল। কিন্তু না, লিপি সেখানেও নেই। তা হলে গেল কোথায় মেয়েটা? ও চিৎকার করে ডাকল লিপি। তুমি কোথায়?

    কেউ সাড়া দিল না। ওর ডাকের কোনও প্রত্যুত্তরও ভেসে এল না কোথাও থেকে। ও বালির ওপরে লক্ষ করে দেখল মোটা সোলের জুতোর ছাপ। আর সেই সঙ্গে বালির ওপর দিয়ে কাউকে টেনে নিয়ে যাওয়ার মতো একটা দাগ। ডাবগুলো বালির ওপর ফেলে দিয়ে সেই পদচিহ্ন ধরেই এগিয়ে চলল সব্যসাচী। শেষপর্যন্ত লিপিটা আবার ধরা পড়ে গেল?

    সব্যসাচীর বুকের ভেতরটা যেন ক্ষোভে ফেটে পড়তে লাগল। একসময় অন্ধকার এমন ঘনিয়ে এল যে পদচিহ্নও আর নজরে এল না। শুধু বন-জঙ্গল আর তারই বুক চিরে বয়ে আসা এক নদী ওর নজরে এল। এটা সেই নদী নয়তো? যে নদীর মোহানায় এই কাহিনির প্রথম পর্বর সূত্রপাত হয়েছিল? সব্যসাচী নিঃশব্দে নদীর ধারে ধারে এগিয়ে চলল। একবার কোনওরকমে মোহানায় পৌঁছতে পারলে হলিডে হোমের পথ ঠিকই খুঁজে নেবে ও।

    এইভাবে বেশ কিছুক্ষণ আসার পর এক জায়গায় এসে থমকে দাঁড়াল ও। দেখল চার-পাঁচজন লোক চারদিকে টর্চের আলো ফেলে কী যেন খুঁজছে। নিশ্চয়ই সব্যসাচীর খোঁজ করছে ওরা। সব্যসাচী ধরা পড়বার ভয়ে একটা কাজুগাছের মোটা ডালে বসে পাতার আড়ালে লুকিয়ে রইল। ভাগ্যে এই গাছগুলো একটু বেঁটেখাটো হয়।

    সব্যসাচী অনেকক্ষণ ধরে স্থির হয়ে বসে থেকে সেই লোকগুলোর গতিবিধি লক্ষ করতে লাগল। ও যখন বসে বসে নিজেকে আড়াল করে ওদের কীর্তিকলাপ দেখছে ঠিক তখনই দেখতে পেল একটা ছোট নৌকোয় চেপে মুখে কালো কাপড় বাঁধা দু’-চারজন সশস্ত্র লোক এইদিকে আসছে। ওদের প্রত্যেকেরই হাতে পাইপ গান, পিস্তল ইত্যাদি।

    ভয়ে বুকের ভেতরটা ঢিপ ঢিপ করতে লাগল ওর। তার চেয়েও ভয়াবহ ব্যাপার যেটা সেটা হল ওরা একে একে সবাই এসে হাজির হল ও যে গাছে ছিল সেই গাছেরই নীচে।

    ওদের চাপা কথাবার্তা ও শুনতে পেল।

    জল্লাদের মতো চেহারার একজন বলল, বীরাপ্পান আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেরে ভাল্লা। সমস্ত সোনা নিয়ে সে গা ঢাকা দিয়েছে। আমি নিজে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সেই সোনার হদিস পাইনি।

    তা হলে জানেমন, ওর জন্যে একটা বুলেট আমাদের খরচ করতেই হবে, এই তো?

    ইয়া আল্লা। মার কা বদলা মার হ্যায়, খুন কা বদলা খুন। দেখলে না জয়শংকরপ্রসাদের হাল ক্যায়শা কর দিয়া হামনে? একেবারে গলা পর্যন্ত বালিতে পুঁতে এমনভাবে রেখে এসেছি যে সারারাত ধরে শেয়াল-কুকুরে ছিড়ে খাবে ওকে। শিবেটা বেশি দরদ দেখাচ্ছিল বলে একটা গুলিতে ওরও মুখ আমি বন্ধ করে এলাম।

    কিন্তু এদিককার খবর?

    বীরসিংও পুলিশের তাড়া খেয়ে ভাগছে। ওর লোকজনরা লুকোবার জন্য ইঁদুরের গর্ত খুঁজছে। আমরাও অবশ্য না-লড়ে বাঁচব না। হয়তো আজকের রাতই আমাদের শেষরাত। শয়তান বিজুটা নিজেই এবার ফিল্ডে নেমেছে। ইনস্পেক্টর ভাগবকে নিয়ে শিকার করতে আসছে আমাদের। কিন্তু ও জানে না যে ওরাই এখন আমাদের শিকার।

    সব্যসাচী সব শুনে শিরদাঁড়া টান করে স্থির হয়ে রইল। তা হলে একটু আগে যাদের উপস্থিতি ওর ভয়ের কারণ হয়েছিল তারা তা হলে পুলিশের লোক? আর তাদের পুরোভাগে ছিলেন ইনস্পেক্টর ভার্গব ও বিজুদা! ভগবান রক্ষে যে ওর সঙ্গে ওদের দেখা হয়নি। তা যদি হত, তা হলে কিছুতেই এই গাছের আশ্রয়ে ওকে থাকতে হত না আর টেরও পেত না এই দুষ্কৃতীদের মতলব। কিন্তু এখন কীভাবে কী করা যায় ?

    হঠাৎই ওরা সতর্ক হল। দেখা গেল সেই টর্চের আলো ঘুরেফিরে আবার এইদিকেই আসছে।

    ওরা বলল, রেডি হো যাও। আর এক কদম এগোলেই আলোর মুখ লক্ষ্য করে ফায়ার। তার আগে গাছের গুঁড়ির আড়ালে লুকিয়ে পড়ো সবাই।

    সব্যসাচী যে গাছের পাতার আড়ালে ছিল ঠিক তার নীচেই ছিল একজন। লোকটার হাতে ছিল পাইপগান। সেটা সে চাগিয়ে ধরে আলোর দিকে তাগ করতেই সব্যসাচী নিজের জীবনে পরোয়া না করে আচমকা লাফিয়ে পড়ল তার ঘাড়ে।

    লোকটা বিকট চিৎকার করে হুমড়ি খেয়ে পড়তেই ওর পাইপগান চলে এল সব্যসাচীর হাতে। জীবনে কখনও এই যন্ত্র হাতে নেয়নি সে। তবুও সেটাকে বাগিয়ে ধরে চেঁচিয়ে উঠল, হ্যান্ডস আপ। বলেই একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল।

    ওদিক থেকে তখন ছুটে এসেছে পুলিশের গুলি।

    একজন আর্তনাদ করে লুটিয়ে পড়ল।

    সব্যসাচী ওর আক্রমণে পড়ে যাওয়া লোকটার পেটে পাইপগানের নল ঠেকিয়ে বলল, নড়েছ কী মরেছ।

    ওদিক থেকে বিজুদার কণ্ঠস্বর শোনা গেল, এখনও যদি বাঁচতে চাস তো ধরা দে ভাল্লা। এখানে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে চারদিকে আমরা ছড়িয়ে আছি। আর তোদের পালাবার কোনও পথই খোলা নেই।

    গাছের আড়াল থেকে কে যেন বলল, আমরা তোদের মেরে নিজেরা মরতে এসেছি বিজু। কাজেই পালানোর প্রশ্নই ওঠে না।

    বিজুদা সত্যিই সাংঘাতিক। ওদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে চতুর বেড়ালের মতো এসে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়লেন একজনের ঘাড়ে। বাকি ছিল একজন। সে তখন উপায়ন্তর না দেখে বিজুদাকে লক্ষ্য করে ট্রিগার টিপল টিস্যুম।

    চাপা একটা আর্তনাদ ভেসে এল বিজুদার দিক থেকে। তবে সে আর্তনাদ বিজুদার নয়। বিজুদা শুধু হেসে বললেন, তোদের দলের লোককেই শেষ পর্যন্ত খুন করলি? আমি তো জানি, এই ভুলটাই করে বসবি তোরা, তাই ওকে ধরেই আমার বুকের কাছে রেখেছিলাম।

    অন্যান্য পুলিশ গিয়ে তখন সেই লোকটিকে ধরে ফেলল।

    সব্যসাচী তখন গাছের আড়াল থেকে আত্মপ্রকাশ করে বলল, বিজুদা! আমি একটাকে ধরে আছি। মরা ইঁদুরের মতো পড়ে আছে ব্যাটা। ধরো একে। সব্যসাচীর গলা শুনেই ছুটে এলেন বিজুদা, সব্যসাচী তুমি! তুমি এখানে কী করে এলে? লিপি কোথায়?

    আমি লিপিকে নিয়ে পালিয়ে আসছিলাম। লিপি আবার ওদের খপ্পরে পড়ে যায়।

    পড়লেও পালাতে পারবে না। এখন চলো, আগে তোমাকে তোমার বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে আসি। আর একটা কথা, সেই জিনিসটাকে তুমি কি রক্ষা করতে পেরেছ?

    নিশ্চয়ই। সেটা এখনও আমার কাছে।

    বিজুদা সানন্দে সব্যসাচীকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তারপর দারুণ উল্লাসে চেঁচিয়ে উঠলেন, মি. ভার্গব ! এই সেই সব্যসাচী। ওর কাছে এখনও আছে সেই অমূল্য ধন।

    সব্যসাচী ক্যাসেটটা বিজুদাকে দিয়ে দিল।

    পুলিশ তখন হত-আহত চারজন দুষ্কৃতীকে বেঁধে ফেলেছে।

    এমন সময় হঠাৎ একজন কনস্টেবল ছুটতে ছুটতে এসে বলল, স্যার, ওই দেখুন কারা আসছে।

    সবাই দেখল মশালধারী একজন মাল্লার সঙ্গে বীরদর্পে এগিয়ে আসছেন প্রখ্যাত আইনজীবী জয়শংকরপ্রসাদ ও সেই দস্যিদামাল ভীষণ জেদি ও একরোখা মেয়েটা, যার নাম জয়া। জয়া এসেই অন্তরের আবেগে সব্যসাচীর হাত দুটো মুঠো করে ধরল। তারপর সে কী কান্না তার।

    অনেক পরে কান্না থামলে বালিয়াড়ি ও বনাঞ্চল্ পেরিয়ে ওরা একসময় পুলিশের গাড়িতে চেপে যখন থানায় এল তখন আর এক চমক। দেখল লিঙ্গরাজ মিশ্রর একজন পোষাগুন্ডা লিপিকে উদ্ধার করে জমা দিয়েছে পুলিশের হাতে। সব্যসাচীর বাবা-মা, জয়ার মামা সবাই ছিলেন থানায়।

    স্নেহাংশুবাবু সব্যসাচীকে বুকে জড়িয়ে বললেন, কাল দুপুরে পুলিশের গাড়িতে করে একটি কিশোরের লাশ সনাক্ত করতে গিয়েছিলাম। ভাগ্যে সেটা তুই নয়। ওঃ কী ভয় যে পেয়েছিলাম।

    বিজুদা বললন, আপনার এই ছেলেটি কিন্তু বড় হলে একজন ঝানু গোয়েন্দা হবে।

    সকলের শুভেচ্ছায় তাই যেন হয়।

    লিপি বলল, জানো তো কাকা, আমরা যেখানে বন্দি ছিলাম সব্যসাচী না-থাকলে সেখান থেকে কখনওই বেরোতে পারতাম না।

    জয়শংকরপ্রসাদ বললেন, আর এই যে মেয়েটি, জয়া! এ না-থাকলে আমিও প্রাণে বাঁচতাম না।

    বিজুদা বললেন, এখন তা হলে আর কোনও ভয় বা আতঙ্ক নেই। অল কোয়ায়েট অন দা ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট। দুষ্কৃতীরা যে যেখানেই থাকুক ধরা পড়বে। পুলিশ অফিসার বললেন, এখন একটু চা-পর্ব সেরে বাসায় ফিরতে চান নিশ্চয়ই?

    বিজুদা বললেন, কখনওই না। চা-পর্ব এখন থাক। আপনারা আমাদের স্বর্গদ্বারে পৌঁছে দিন। আজ আমরা মনের আনন্দে এবং নির্ভয়ে নতুন দিনের সূর্য ওঠা দেখব।

    বিজুদার প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে সবাই পুলিশের গাড়িতে স্বর্গদ্বারে এলেন। ভোর হতে তখনও একটু দেরি ছিল। তবু সমুদ্রসৈকতে যাত্রীর অভাব ছিল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleCities of the Plain (Sodom and Gomorrah) – Marcel Proust
    Next Article পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }