Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লালবাজারে রাহাজানি – ৪

    চার

    রাত্রিবেলা ঘরের মধ্যে অস্থিরভাবে পায়চারি করতে করতে বাসববাবু স্ত্রীকে বললেন, তোমাদের ভালই জন্যেই এই ব্যবস্থা আমি করছি। বিশেষ করে ছেলেটাকে এখান থেকে সরাতে না পারলে আমার কোনও কাজে মন লাগবে না।

    বুঝলাম। কিন্তু এই রাহুর গ্রাসের মুখে তোমাকে একা ফেলে রেখে আমরাই বা যাই কী করে? আমাদেরও কি মন টিকবে? সবই বুঝি! তবে এ ছাড়া কোনও উপায় নেই। ওই দুর্ধর্ষ শত্রুর মুখোমুখি আমাকে হতেই হবে। ওর বিষদাঁত যদি ওপড়াতে না পারি তা হলে জেনে রেখো জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে কোথাও আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারব না।

    তুমি যেখানে পাঠাচ্ছ আমাদের, সেখানেই যে আমরা নিরাপদে থাকব তারই বা প্রমাণ কী?

    ওটা স্টেটের বাইরে। তা ছাড়া কাকপক্ষীতেও টের পাবে না কোথায় যাচ্ছ তোমরা। তোমাদের নিরাপত্তার জন্য ওখানেও সাদা পোশাকের নজরদারি পুলিশ থাকবে!

    ভুলে যেয়ো না ওর নাম কার্লস জ্যাকল। এই মুহূর্তে আমরা যে কী আলোচনা করছি সেটাও হয়তো সে জানতে পারছে।

    সে ভয় করলে আমাকে এখনই হাল ছেড়ে দিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে হয়। জানি বিপদ আমাদের পদে পদে। তবে যতটা পারি সতর্ক থাকি। সাবধানের মার নেই! আজ বাড়ির সামনে ওরা বোমা ছুড়েছে। কাল যে আরও কোনও বড় ধরনের বিস্ফোরণ কিছু ঘটাবে না, তাই বা কে বলতে পারে?

    কিন্তু ওই লোকটা কে? ওর পরিচয় কিছু পেলে?

    ওর নাম রহমত। মানিকতলার মোড়ে ফল বিক্রি করে। বাড়ি রাজাবাজারের বস্তিতে। লোকটা গুলি খেয়ে পুলিশ হাসপাতালে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। কার্লস জ্যাকলের হয়ে কাজ করতে এসেছিল লোকটা।

    তা হলে ওকে গুলি করল কে?

    বাসববাবু হেসে বললেন, যারা ওকে দিয়ে বোমা ছুড়িয়েছে হয়তো প্রমাণ লোপের জন্য তারাই করেছে এই কাজ। তাড়াতাড়িতে অথবা ধোঁয়ার জন্যে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গুলিটা বুকে না-লেগে কোমরে লেগেছে। তুমি গিয়েছিলে পুলিশ-হসপিটালে?

    গিয়েছিলাম বইকী। লোকটি কেমন যেন আচ্ছন্ন হয়ে আছে। মৃত্যুর সঙ্গে লড়বে কতক্ষণ তা কে জানে? তবু পুলিশি জেরার কাছে যেটুকু মুখ খুলেছে তাতেই ওর নাম আর ঠিকানাটা জানা গেছে।

    আর ওই লোকটার ব্যাপারে কোনও খোঁজ পেলে? কার কথা বলছ তুমি?

    যার কাটা মুণ্ডুটা এনে কার্লস জ্যাকল উপহার দিয়েছিল তোমাদের।

    হ্যাঁ। কালীঘাট স্টেশনের কাছে আজ ভোরের দিকে একজন লোক ট্রেনে কাটা পড়ে। তার মুণ্ডুটা পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু ধড়টা পড়েছিল লাইনের ধারে। এমন সময় পাশের ঘর থেকে হিরণ এসে দরজার কাছে দাঁড়াল। বলল, বাপি, লোকটা কাটা পড়েছে ঠিকই। এমনও তো হতে পারে লোকটাকে কেউ মেরে লাইনের ওপর ফেলে রেখেছে। না হলে কার্লস জ্যাকল সঙ্গে সঙ্গে নরমুণ্ডু পায় কী করে? ধড়ের সঙ্গে মুণ্ডুটা কি মিলিয়ে দেখেছ তোমরা?

    দেখেছি। আর সেই জন্যই তো পোস্টমর্টমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রিপোর্ট এলেই বোঝা যাবে ব্যাপারটা আসলে কী? তবে ইতিমধ্যে মৃত-র বাড়ির লোকেরাও সনাক্ত করছে দেহটিকে। এই লোকটি যে খুন হতে পারে, এমন সন্দেহ ওর বাড়ির লোকেদেরও কারও হয়নি। এমনকী মৃতের পকেটে আত্মহত্যার কারণ সম্বন্ধে কোনও চিঠিপত্তরও ছিল না। অতএব ধরা যেতে পারে কার্লস জ্যাকলের লোকেরা খেলাচ্ছলেই ঠান্ডামাথায় খুন করেছে লোকটিকে।

    কিন্তু এত লোক থাকতে ওই লোকটাকেই বা বেছে নিল কেন কার্লস জ্যাকল?

    যাকে হোক একজনকে নিতে তো হতই। হয়তো এই লোকটির ওপর পুরনো কোনও কিছুর হিস্যা নিয়েছে। লোকটা কোর্টের মুহুরি ছিল।

    না। লোকটি খুন হয়েছে রবিবার ভোরে। সেই সময় নিশ্চয়ই কোর্ট খোলা ছিল বাসববাবু বললেন, তোমার বুদ্ধির প্রশংসা করি। উনি একটা কাজে শিয়ালদহ হয়ে বনগাঁ যাবার জন্যে স্টেশনে আসছিলেন। শর্টকাট করবার জন্য রেলপথ ধরেই হাঁটছিলেন ! আর কোনও প্রশ্ন কোরো না। এবার শুয়ে পড়ো। কালই আমি এখান থেকে সরিয়ে দেব তোমাদের!

    হিরণ বলল, আমরা তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।

    তোমার ভালর জন্যেই বলছি বাবা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখো রাত বারোটা। যাও শুয়ে পড়ো।

    হিরণ আর কোনও কথা না বলে নিজের বিছানায় এসে শুল। শুয়ে অনেকক্ষণ ধরে এপাশ ওপাশ করেও যখন ঘুম ধরে না, তখন এক সময় উঠে বসল। তারপর ছাদের সিঁড়ি বেয়ে এক-পা এক-পা করে উঠে গেল ওপরে। খোলা আকাশের বুকে নক্ষত্রমালার দিকে তাকিয়ে তন্ময় হয়ে গেল সে।

    অসংখ্য চিন্তা ওর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে এখন। পরিস্থিতি ক্রমশ এমনই জটিল হয়ে উঠছে যে, কোনও কিছুই আর স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না! কার্লস জ্যাকল থাবা বাড়িয়েছে যখন, শিকার না-নিয়ে সে পিছু হটবে না। বাপি অত্যন্ত ভালমানুষ। মানুষকে কত সহজে বিশ্বাস করেন। উনি কি পারবেন এই শয়তানের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে? নাকি কার্লসের প্রথম শিকার ও নিজে? রহমত নামের লোকটা প্রকাশ্য দিবালোকে ওদের বাড়ির সামনে বোমা ছুড়তে এল কেন? লোকটা চাইছিল কী? প্যানিক সৃষ্টি করতে? না অপহরণ করতে? ও যদি কার্লস জ্যাকলেরই হয়ে কাজ করতে এসে থাকে তা হলে ওকে গুলিটা করল কে? বাপি ওদের দূরে সরিয়ে দিতে চাইছেন, হয়তো ভালই জন্যই। কিন্তু দূরে গিয়ে বাপির চিন্তায় গুমরে গুমরে মরার মতো কষ্টকর আর কিছু কি আছে। বাপিকে একা পেয়ে সত্যিই যদি কিছু করে ওরা।

    হিরণ কতক্ষণ যে নিজের মনে এইসব চিন্তা করল, তার ঠিক নেই। তারপর এক সময় ভাবল, মৃত্যু যখন শিয়রে, জীবনের যখন কিছুমাত্র নিশ্চয়তা নেই, তখন ওই কার্লস জ্যাকলের মুখোমুখি সে নিজেও কি হতে পারে না? আর সেইজন্য ওকে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে। কারও কোনও বাধা আর ও মানবে না। কাল থেকে ও নিয়মিতই স্কুলে যাবে। কখনও একা, কখনও বা বন্ধুদের সঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে। আর সেই সময় কার্লস জ্যাকল যদি ওর দিকে থাবা বাড়ায় তা হলে—।

    মতলবটা মাথায় আসা মাত্রই ধীরে ধীরে নীচে নেমে এল ও। বাপির ঘরের দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। বাপি তখন ঘুমোচ্ছেন। ঘরের ভেতর ডিম লাইটটা জ্বলছে। ও পা টিপে ঘরে ঢুকল।

    তারপর—?

    সকালবেলা স্ত্রীর কান্নাকাটিতে ঘুম ভেঙে গেল বাসববাবুর। ধড়মড়িয়ে উঠে বসে বললেন, কী ব্যাপার! হয়েছেটা কী?

    সর্বনাশ হয়ে গেছে। হিরণকে কোথাও দেখছি না।

    সে কী! গেল কোথায় সে?

    জানি না, শুধু দেখছি সে নেই।

    পাশের বাড়ির স্বপ্নাকে জিজ্ঞেস করেছ? যদি ওদের বাড়িতে গিয়ে থাকে? তুমি যে বললে ওর মামাতো বোন না কে যেন এসেছে?

    করেছি। ওদের বাড়িতেও নেই। মেয়েদুটো তো ছাদেই ঘুরছে দেখলাম।

    তা হলে তো ভয়ের ব্যাপার। দুশ্চিন্তার কালো মেঘ একটা ঘনিয়ে এল বাসববাবুর মুখে। উনি নিজেও তন্ন তন্ন করে চারদিক খুঁজলেন। হঠাৎ এক সময় বললেন, ছেলেটাকে কেউ এখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যায়নি, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিন্ত।

    কী করে বুঝলে?

    ও বাসি জামাপ্যান্ট ছেড়ে অন্যটা পরেছে। জুতোও পরেছে দেখতে পাচ্ছি। কাজেই কেউ ওকে নিয়ে গেলে নিশ্চয়ই জামাজোড়া পরিয়ে নিয়ে যেত না। তার মানে ও নিজে থেকেই কোথাও গেছে। হয়তো ফিরতে দেরি হবে। অথবা বাইরে বেরিয়েই বিপদে পড়েছে।

    কী হবে তা হলে?

    কখন গেছে, কীভাবে গেছে, কেন গেছে, এইসব না জেনে তো কিছু বলা যাবে না। আপাতত আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।

    এমন সময় হঠাৎ কী দেখে যেন বাসববাবু এগিয়ে গেলেন টেবিলের দিকে। দেখলেন ড্রয়ারটা ঠিকমতো বন্ধ হয়নি। কেউ যেন খুলেছিল ওটা। তারপর ঠিকভাবে না—এঁটেই চলে গেছে। এমনকী চাবিটাও সরিয়ে রাখতে ভুলে গেছে সে। চাবিটা লাগানোই ছিল। বাসববাবু ড্রয়ারটা খুলেই অবাক। ভেতরের জিনিসগুলো নেড়েচেড়ে দেখলেন। কী যেন না-পেয়ে অস্ফুট উচ্চারণ করলেন, স্ট্রেঞ্জ!

    মা বললেন, কী হল! কী দেখলে তুমি?

    বাসববাবু সে কথার উত্তর না দিয়ে টেলিফোনের নম্বর ডায়াল করে কথা বললেন নীহারবাবুর সঙ্গে

    ওদিক থেকে সাড়া আসতেই বললেন, ভাই! খুব একটা যা তা কাণ্ড হয়ে গেছে। ছেলেটাকে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাচ্ছি না। আর সেই সঙ্গে খুঁজে পাচ্ছি না একটা মূল্যবান জিনিস।

    কী জিনিস?

    একটা পিস্তল।

    সর্বনাশ। পিস্তল শুটিং জানে ও?

    শুধু জানে বললে ভুল বলা হবে। অব্যর্থ টিপ ওর। কিন্তু এটা ও কেন নিল তা ভেবে পাচ্ছি না।

    মনে হয় কাউকে ও ফলো করেছে।

    তা যদি হয় তা হলে তো ভয়ের ব্যাপার। একেবারে শিকারির মুখেই গিয়ে শিকার হয়ে ধরা দেবে।

    ওদিক থেকে উত্তর এল, আপনি কোনও চিন্তা করবেন না। আমি ওর খোঁজে লোক লাগাচ্ছি।

    বাসববাবু ফোন রেখে হিরণের ঘরে ঢুকে বইপত্তর ঘেঁটে তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখলেন যদি কোথাও একটুকু চিরকুটও রেখে দিয়ে থাকে ও। কিন্তু না। সেইসব কিছুই পেলেন না তিনি।

    এমন সময় স্বপ্না আর রিয়া এসে ঘরে ঢুকল, হিরণদা ফিরেছে কাকিমা? না না। কোথায় যে গেল ছেলেটা কে জানে?

    স্বপ্না বলল, ও পাড়ার বংশীদার সঙ্গে বাবার দেখা হয়েছে। বাবা বংশীদার মুখে শুনেছেন হিরণদা নাকি ভোরবেলা খুব জোরে হেঁটে কোনদিকে যাচ্ছিল। এটাকে মর্নিং ওয়াক ভেবে হিরণদাকে কিছু জিজ্ঞেস করেনি।

    বাসববাবু বললেন, দেখলে তো, আমার ধারণাটা ভুল নয়। কিন্তু এইভাবে কাউকে কিছু না বলে কোথায় গেল ও? কোথায় যেতে পারে? কেনই বা গেল? মা বললেন, কাল সারাদিন ও ঘর থেকে বেরোয়নি। চুপচাপ শুয়ে-বসে ছিল। ছাদে বসে বই পড়ছিল।

    বাসববাবু বললেন, অনবরত গল্পের বই পড়ে পড়ে এই রকমটা হয়েছে ওর। যত্ত সব গাঁজাখুরি গল্প পড়েই মাথাটা গেছে। এখন নিজেকেই ও একজন হিরো ভেবে নিয়েছে। আর সেই ভেবেই পিস্তলটা নিয়ে কোনও কিছুর মোকাবিলা করতে গেছে নির্ঘাত।

    রিয়া বলল, তা কেন, হিরণদা ওটা আত্মরক্ষার জন্যও তো কাছে রাখতে পারে।

    স্বপ্না বলল, তা অবশ্য পারে। কিন্তু এইভাবে কাউকে কিছু না জানিয়ে বেরোবার দরকারটা কী ছিল। জানে তো বাড়িতে ভাববে।

    মা বললেন, উঃ। কী সাংঘাতিক ছেলে। কী যে করি আমি। বাসববাবু বললেন, কী আর করবে? বসে বসে কপাল চাপড়াও।

    স্বপ্না আর রিয়া দু’জনেই তখন হিরণের শোবার ঘরে ঢুকে ওর বইপত্তর ঘেঁটে কাগজপত্তর খুলে দেখতে লাগল কোথাও কোনও চিরকূট বা ওই জাতীয় কোনও চিঠিপত্তর কিছু রেখে গেছে কি না। ওরাও হতাশ হল। ব্যাপারটা বেশ রহস্যময় বলেই মনে হল ওদের কাছেও। ওরা এ-ঘর ও-ঘর করে ছাদে উঠল। ছাদে উঠে এদিক সেদিক করে তাকিয়েই ওরা দেখল মোড়ের মাথায় একজন লোক দাঁড়িয়ে লক্ষ করছে বাড়িটার দিকে।

    রিয়া স্বপ্নাকে বলল, দেখেছিস সপু, লোকটা কেমন বাড়িটার দিকে একভাবে তাকিয়ে আছে?

    স্বপ্না বলল, আরে তাই তো! মনে হচ্ছে কোনও মতলব আছে ওর। শুধু তাই নয়, আমরা যে ওকে দেখছি সেটা টের পেয়েই ও চোখ নামিয়ে অন্য কোনও কিছুর দিকে মন দিচ্ছে।

    তা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে কেমন পটলচেরা চোখ মেলে তাকিয়ে দেখছে দেখ। চল তো নীচে গিয়ে লোকটাকে একটু চেজ করি।

    ওরা যখন নীচে নেমে এল তখন দেখল বাসববাবু ইউনিফর্ম পরে বাইরে যাবার জন্য তৈরি হচ্ছেন। ওরা একবার ভাবল বাসববাবুকে লোকটির কথা বলে। কিন্তু তা না বলেই বাইরে এল ওরা। তারপর দ্রুত পায়ে মোড়ের মাথায় এগিয়ে গেল। গিয়ে দেখল কোথায় কে? সেই বিশেষ লোকটির চিহ্নমাত্র নেই কোথাও।

    স্বপ্না বলল, অবাক কাণ্ড তো?

    রিয়া বলল, মোটেই অবাক কাণ্ড নয়। লোকটা আসলে বুঝতে পেরেছে আমরা ওর মতলব বুঝে ফেলেছি। তাই আমরা ছাদ থেকে নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গেই গা ঢাকা দিয়েছে।

    আমার মনে হয় ব্যাপারটা কাকাবাবুকে একটু জানিয়ে রাখা ভাল।

    কী হবে জানিয়ে? একেই ছেলের জন্যে ওঁর মন খারাপ তার ওপরে এইসব শুনিয়ে ওনাকে বিব্রত করে লাভ কি?

    ওরা আবার যখন ফিরে এল বাসববাবু তখন একদৃষ্টে সেদিনকার খবরের কাগজের হেডিংগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন। এক জায়গায় বড় বড় হরফে লেখা আছে, আবার কার্লস জ্যাকল! অপরাধজগতের কুখ্যাত নায়ক এখন কলকাতায়। জেলপলাতক কার্লস জ্যাকলের নতুন শিকার একজন নিরীহ নাগরিক। জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে গোয়েন্দা হানা।

    স্বপ্না আর রিয়া দু’জনেই এসে কাকাবাবুর সামনে এসে দাঁড়াল।

    বাসববাবু স্বপ্না বলল, একজন লোক অনেকক্ষণ থেকে এই বাড়িটার দিকে নজর রাখছিল। আমরা ছাদ থেকে নেমে লোকটাকে ধরব বলে যেই গেলাম, অমনি দেখি লোকটা ভ্যানিস হয়ে গেছে।

    কাগজের পাতা থেকে চোখ তুলে বললেন, কিছু বলবি মা?

    কতক্ষণ আগে?

    এই তো। এইমাত্র।

    লোকটাকে কী রকম দেখতে বলো তো?

    ওরা দু’জনেই চেহারার বর্ণনা দিল।

    বাসববাবু বললেন, লোকটাকে আবার কখনও দেখলে আমাকে জানাবি। কথা বলতে বলতেই অফিসের গাড়ি এসে গেল। বাসববাবু রিয়া আর স্বপ্নাকে বললেন, তোমাদের কাকিমাকে একটু দেখো। আর ছেলেটা যদি ফিরে আসে আমাকে একটা ফোন কোরো কেমন? কাকিমার কাছ থেকে নাম্বারটা জেনে নিয়ো।

    স্বপ্না বলল, আজ কি আপনার না গেলেই নয়?

    বাসববাবু বললেন, আজই তো আমি বেরোব মা। লেটা যদি কোনও বদ লোকের খপ্পরে পড়ে থাকে তা হলে সেখান থেকে ওকে উদ্ধার করে আনতে হবে তো।

    অবশ্যই। আপনি যান, আমরা দেখছি কাকিমাকে।

    বাসববাবু যাবার জন্যে যে মুহূর্তে এক পা এগিয়েছেন অমনি নীহারবাবু এসে হাজির। বললেন, এবার বোধহয় চাকরিটা ছেড়ে দিতে হল স্যার।

    বাসববাবু মুখ কালো করে বললেন, কেন কী হল আবার? কার্লস জ্যাকলের কাছে আমরা হেরে গেলাম।

    আবার নতুন কিছু?

    হ্যাঁ, অত প্রহরা সত্ত্বেও আমার বাড়ির বাথরুমের ভেতর থেকে – একটা কাটা মুণ্ড উপহার পেয়েছ। এই তো?

    ঠিক তাই।

    এবং তার কপালে পিনআঁটা কাগজে তোমার নামও লেখা আছে। ভয়ে আমার বুক কাঁপছে স্যার।

    ভয়ে পেয়ো না। সাহসে বুক বেঁধে এগিয়ে এসো, দেখবে ভয় কেটে গেছে। তা ছাড়া এখন ভয়কে জয় না করলে সমূহ বিপদ। আমাদের জীবনই এই। লোকে তো বোঝে না, তারা ভাবে গোয়েন্দাদের হাতে আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ আছে। তাই দিয়েই তারা গল্পের গোয়েন্দাদের মতো অপরাধীদের পটাপট ধরে ফেলবে। আমরা যে কত অসহায়, কী কঠিন মূল্য যে দিতে হয় আমাদের, তা কে বোঝে? কাজেই সমস্ত সংশয় মন থেকে দূরে সরিয়ে নির্ভয়ে এগিয়ে এসো।

    নীহারবাবু বললেন, আরও খারাপ খবর আছে। আমার হিরণকেও ওরা…।

    না না, তা নয়। একটু আগে পুলিশ-হাসপাতালে ঢুকে রহমতকে ওরা শেষ করে দিয়ে গেছে।

    বাসববাবু রেগে বললেন, ওখানে ওরা ঢোকে কী করে? সিকিউরিটি কী করছিল?

    পুলিশের দু’জন লোক পাহারায় ছিল। একজন বাথরুমে গেলে অপরজনকে ওরা কবজা করে ভেতরে ঢোকে। দলে ওরা তিনজন ছিল। সেই তিনজনের একজন অবশ্য এক অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছে। পিছনদিক থেকে কেউ যেন গুলি করেছে তাকে।

    লোকটাকে চিনতে পেরেছে?

    না। তবে চেহারা দেখে মনে হয় পেশাদার খুনে একজন। ডেড বডি মর্গে পাঠানো হয়েছে?

    যথারীতি।

    এমন সময় টেলিফোনটা বেজে উঠতেই বাসববাবু রিসিভার তুলে বললেন, হ্যালো, মি. মজুমদার বলছি।

    ওদিক থেকে উত্তর এল, গুড মর্নিং।

    গলাটা খুব চেনা চেনা মনে হচ্ছে।

    সে তো চিনবেনই। আমি যে আপনার পুরাতন বন্ধু। কার্লস জ্যাকল!

    ঠিক ধরেছেন। নীহারবাবু আপনার ওখানেই আছেন নিশ্চয়। আর খুব ভয় পেয়ে গেছেন। আমার লোক যে একেবারে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়বে এটা উনি ভাবতেও পারেননি। আসলে এও এক ধরনের খেলা। বুঝলেন কিনা, চোর-পুলিশ খেলা যাকে বলে। আজকের কাগজ দেখেছেন? কী সব কেচ্ছা-কেলেঙ্কারিগুলো ছাপা হয়েছে আপনাদের?

    রাগে বাসববাবুর মুখ দিয়ে একটা খারাপ কথা বেরিয়ে এল। ওদিক থেকে উত্তর এল, আপনি কিন্তু বড় বেশি রেগে যাচ্ছেন। আসলে আমি এখন চাইছি আপনার সঙ্গে আমার একটা দোস্তির সম্পর্ক গড়ে তুলতে। আসুন না আমার এখানে, একটু পায়ের ধুলো দিয়ে যান। তবে যাই বলুন না কেন, ছেলেটাকে কিন্তু খাসা তৈরি করেছেন। ওই রকম একটা ছেলে আমার খুব দরকার।

    ছেলেটা কোথায়?

    যাঃ বাব্বা। তা আমি কী করে জানব?

    তুমি সব জানো শয়তান।

    আপনি অকারণে এইসব যা তা বলছেন আমাকে। তাই তো বলছি একবার একটু পায়ের ধুলো দিন। আজ দুপুরে একটা দেড়টা নাগাদ বাবুঘাটে আসুন। অবশ্যই নিরস্ত্র এবং পুলিশবাহিনী না নিয়ে। আমার লোক সসম্মানে সেখান থেকে নিয়ে আসবে আপনাকে।

    বাসববাবু ফোন রেখে নীহারবাবুকে সব বললেন। তারপর বললেন, নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যাবে নাকি?

    প্রশ্নই ওঠে না।

    বাসববাবু বললেন, আমার এখন মনে হচ্ছে কী জান? ওর দলের লোকই বোধহয় এখন ওর পেছনে লেগেছে। না হলে কাল আমার বাড়ির সামনে রহমত বোমা ফাটাতে এলে ওকে গুলিই বা করল কে, আর আজ ওকে যারা হত্যা করতে এল তাদেরও একজনকে সরিয়ে দিল কে? কে করেছে এই কাজ? আমার মনে হয় একই লোকের কাজ এটা।

    নীহারবাবু বললেন, না। রহমতকে গুলি করেছে আমারই পাঠানো একজন লোক। সে সব সময় আপনার বাড়ির দিকে গোপনে নজর রাখত। আপনার অনুমতি না নিয়েই আমি তাকে নিযুক্ত করেছিলাম এই কাজে। ওর উচিত ছিল রহমতকে গুলি না করে হাতেনাতে ধরা। হয়তো বা বোমার শব্দে উত্তেজিত হয়েই গুলি করেছে। আর সেই রাগেই সম্ভবত কার্লস জ্যাকল আমার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে একটা কাটা মুণ্ডু উপহার পাঠিয়েছে কাউকে দিয়ে। তবে যাই হোক, লোকটার কিন্তু হিম্মত আছে। কিন্তু আজকের ঘটনার নেপথ্যে যে কে আছে তা কে জানে?

    নীহারবাবুর কথা বলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হিরণ এসে ঘরে ঢুকল। বলল, আমি জানি।

    বাসববাবু ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন। মা ছুটে এসে ধরলেন হিরণকে। স্বপ্না আর রিয়া ভর্ৎসনার সুরে বলল, তুমি কী বলো তো হিরণদা? এইভাবে না বলে কেউ যায়? একটা চিঠি অন্তত লিখে রেখে যাবে তো?

    হিরণ বলল, আরে বাবা, আমি তো একেবারেই চলে যাব বলে যাইনি। কাজেই চিঠি লেখার প্রশ্ন ওঠে না।

    বাসববাবু বললেন, তোমার জন্যে আমরা কত ভাবছিলাম জানো? এখন তোমার মুখ থেকেই শুনতে চাই কে গুলি করেছে লোকটাকে। হিরণ বলল, আমি।

    তুমি গুলি করেছ?

    হ্যাঁ। আমি ওকে গুলি করেছি। আমি তো তোমারই ছেলে, কাজেই তোমার কোনও কাজে সহযোগিতা করবার অধিকার আমার নিশ্চয়ই আছে?

    আছে। কিন্তু এ যে আগুন নিয়ে খেলা। এই চক্র বড়ই সাংঘাতিক। আমাদের এই পুলিশবাহিনী এক প্রচণ্ড সংগঠিত শক্তি। শয়তানের মারপ্যাচে আমরাই যেখানে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছি। সেইখানে কিনা তুমি গিয়ে ওদের ক্রোধানলে ঘি দিয়ে এলে?

    মা বললেন, যাবার আগে তোর কি উচিত ছিল না বাড়িতে বলে যাওয়া? বললে কি তোমরা যেতে দিতে?

    বাসববাবু বললেন, ঠিক ওই সময়েই পুলিশ-হসপিটালে তুমিই বা গিয়ে হাজির হলে কী করে?

    এটা একটা মিরাক্যাল বলা যেতে পারে। কাল রাত থেকেই আমার মনের মধ্যে একটা প্রচণ্ড ঝড় তোলপাড় করছিল। আর এও বুঝতে পারছিলাম তোমার সঙ্গে শত্রুতা মানেই ওদের টার্গেট আমিও। এবং সেইজন্যেই তুমি আমায় ঘর থেকে বেরোতে দিচ্ছ না। আজ হোক, কাল হোক, ওদের খপ্পরে পড়তে আমাকে হতই। আমাকে মেরে অথবা কিডন্যাপ করেই ওরা প্রতিশোধ নিত। তাই মরবার আগে ওদেরও একটা মরণকামড় আমি দিতে চেয়েছিলাম। কাল রাতে চুপি চুপি তোমার ঘরে ঢুকে সরিয়েছিলাম পিস্তলটা। তারপর ভোরবেলা ওটা সঙ্গে নিয়েই পথে বেরিয়েছিলাম। আমার ধারণা ছিল ওদের সতর্ক চোখ এই বাড়ির দিকে সব সময় তাকিয়ে থাকবে। তাই আমি বাইরে বেরোলেই আমাকে কিডন্যাপ করতে এগিয়ে আসবে ওরা। কিন্তু অনেকক্ষণ পথ চলার পরও যখন তেমন সন্দেহজনক কাউকে আমার পিছু নিতে দেখলাম না, তখন কেন জানি না, আমার মনে হল একবার রহমতের সঙ্গে দেখা করে আসি। যদি ওর মুখ থেকে কার্লস জ্যাকলের কোনও ঠিকানা আদায় করতে পারি, তা হলে যেভাবেই হোক লুকিয়ে ওকে খতম করে আসব।

    হিরণের কথায় শিউরে উঠল সকলে।

    মা বললেন, তার মানে নিজের মৃত্যু নিজেই ডেকে আনবে।

    হিরণ বলল, আমি যখন জানতে পেরেছি আমরা এখন কার্লস জ্যাকলের শিকার, তখন এই কাজ কেন করব না বলো? প্যাঁচার মতো ওর ভয়ে অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা বা পালিয়ে বেড়ানোর চেয়ে ওর সঙ্গে সংঘর্ষের পথেই চলে যাওয়াটা ঠিক নয় কি?

    বাসববাবু হিরণের পিঠ চাপড়ে বললেন, আমার ছেলের উপযুক্ত কথাই তুমি বলেছ। কিন্তু ব্যাপারটা কী জানো? কার্লস জ্যাকল সাধারণ ক্রিমিন্যাল নয়। ওর সামনে গিয়ে দাঁড়াবার আগেই ও তোমাকে শেষ করে দেবে।

    হিরণ বলল, বেশ, তুমি তা হলে আমার স্কুলের নাম কেটে দিয়ে এসো, আমি আজ থেকেই আর ঘরের বাইরে যাব না। নন্দলাল হয়ে চুপ করে বসে থাকব।

    মা বললেন, হ্যাঁ তাই করবে। আমি সব সময়ে তোমাকে চাবি দিয়ে রাখব ঘরের ভেতর। ওদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে যাবার বয়স তোমার হোক, তখন যা-ইচ্ছে করবে, এখন নয়।

    আমার প্রথম অভিযানেই আমি কিন্তু একটাকে চিরতরে সরিয়ে দিয়ে এসেছি।

    মা বললেন, ওটা একটা অ্যাকসিডেন্ট।

    বাসববাবু বুকে জড়িয়ে ধরলেন ছেলেকে। বললেন, তুমি যে ভেতরে ভেতরে কতটা বড় হয়েছ তা আমি বুঝিনি বাবা। তোমার গলায় আমি জয়ের মালা পরিয়ে দেব। পুলিশের চাকরি করছি বলে সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করবার দায়িত্ব শুধু আমার একার তা তো নয়। এ অধিকার সবার। শুধু আমার ছেলে হিসেবে যে তোমার তা নয়, তোমার মায়েরও আছে। আছে একজন সাধারণ নাগরিকেরও। বেশি সংখ্যক মানুষ যখন অসৎ হয়, বিভ্রান্ত হয়, তখন দেশের সামনে এমন এক সংকট পাহাড়ের মতো বাধা হয়ে দাঁড়ায় যে তাকে ঠেলে সরানোর কাজে এগিয়ে আসতে হয় সকলকেই। পুলিশ প্রশাসন বা একজন সরকারি কর্মচারীর ওপর যেমন অনেক দায়দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে, তেমনি সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও ঠিক একই দায়িত্ব সমানভাবে বর্তায়। আলাদাভাবে নয়, সকলকে এক হয়ে একজোটে কাজ করতে হয়। একতাবদ্ধ না হলে এ দেশকে রক্ষা করা অসম্ভব।

    মা ফোঁস করে উঠলেন এবার, তোমার লেকচার থামাও তো। কুখ্যাত দাগি আসামিগুলোকে ধরে আনছ, একদিন দু’দিন আটকে রাখছ, আর ছেড়ে দিচ্ছ। এই এলাকার মধ্যেই তোমার বাড়ির আশপাশে ওইরকম কত ঘুরে বেড়াচ্ছে তা তুমি জান না?

    কেন জানব না? সবই জানি। আমরা কাজ করি বলেই তো ওদের টুটিটিপে লকআপে পুরি। জানি বলেই তো নিজের জীবন বিপন্ন করেও ধরে আনি ওদের। তারপর তাদের ছেড়েও দিই। দিতে বাধ্য হই। সব চেষ্টা বিফল হয়ে যায়। অত পরিশ্রম, অত হানাহানি, মারামারি, দাপাদাপি সবই নাটক হয়ে যায় একসময়। এই নাটক তোমরাই তো সৃষ্টি করো।

    করতে বাধ্য হই। না করে উপায় আছে? আজ তুমি যাকে কুখ্যাত সমাজবিরোধী বলে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছ, কাল সকালে তাকে যদি অ্যারেস্ট করি তখন দেখবে তোমার পাশের বাড়িরই অমুকবাবু, তমুকবাবুরা তার সুনজরে থাকবার জন্যে দল বেঁধে তাকে ছাড়াতে যাবে। এ ছাড়াও সমাজের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তো যাবেনই, অথবা আবেদন নিবেদন করে তাঁদের যেতে বাধ্য করা হবে। তা হলে? তোমাকে, আমাকে, অমুকবাবুকে, তমুকবাবুকে নিয়েই তো আমরা। এবার বুঝেছ তো আমাদের ক্ষমতা কতটা সীমিত? যাক, ওসব কথা বুঝিয়ে বলতে গেলে সাতকাহন হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ যতদিন না একজোট হয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হবে, পরস্পর পরস্পরের পাশে এসে না দাঁড়াবে, ততদিন কিচ্ছু হবে না, চলতেই থাকবে এইসব। তা ছাড়া মানুষের অভাব অনটন দারিদ্র যত প্রবল হবে, শিক্ষার প্রসার যত কম হবে, ততই বাড়বে অপরাধের মাত্রা। একে রোধ করবে কে?

    নীহারবাবু বললেন, হিরণ, তুমি আজ যেভাবে নিজের জীবনকে বিপন্ন করে এক ভয়ংকর শত্রুর মোকাবিলা করতে গিয়েছিলে, তা তোমার মতো সব ছেলেরই আদর্শ হোক।

    হিরণ বলল, হওয়া উচিত। তবে, ভাগ্যিস আমি পিস্তল শুটিংটা শিখেছিলাম আর আমার বাবা একজন পুলিশ অফিসার, তাই হয়তো আমি এতটা দুঃসাহসী হতে পেরেছি।

    তাও ঠিক নয়। তুমি সাহসী ছেলে বলেই পেরেছ। না হলে পারতে না। অনেক পুলিশ অফিসারের অনেক ছেলেই আছে, তারা কি সবাই পারে তোমার মতন সাহসে ভর করে এগিয়ে যেতে? তোমার ভেতরে যে ওই বীজ ছিল বাবা।

    বাসববাবু বললেন, এবার আমাকে বেরোতে হবে। যে পর্যন্ত তুমি বলেছিলে তার পর থেকে বলো কীভাবে কী হল।

    হিরণ বলল, হ্যাঁ, আমি তো রহমতের সঙ্গে দেখা করব বলে গেলাম, যেই না গেছি অমনি দেখি সন্দেহভাজন দু’-তিনজন ঘোরাফেরা করছে সেখানে। দেখেই বুঝলাম গতিক সুবিধের নয়, একটু আড়ালে লুকিয়ে ওদের কথাবার্তা শোনবার চেষ্টা করলাম। টুকরো টুকরো কথা যা দু’-একটা কানে এল তাতেই বুঝলাম ওরা রহমতকে খুন করবার মতলব নিয়ে এসেছে। এই অবস্থায় আমি কী করব যখন ভাবছি, তখন হঠাৎ দেখি ওদের একজন চোখের পলকে হাসপাতালে ঢুকে গেল। তারপরই শোনা গেল গুলির শব্দ, আর হই-হট্টগোল। বুঝলাম অপারেশন সাকশেসফুল। রাগে তখন আমার হাত-পা কাঁপছে। লোকটা বেরিয়ে আসতেই আমি আড়াল থেকে গুলি করলাম লোকটাকে। ইচ্ছে ছিল পায়ে গুলি করবার। তা হলে লোকটা ধরাও পড়ত, ওকে মোচড় দিয়ে অনেক কথাও বার করা যেত। কিন্তু এই প্রথম টার্গেট তো আমার। আর গুলি ছিল মাত্র একটাই। পায়ে গুলি করতে গিয়ে যদি গুলিটা ফসকে যায়, তাই বডি লক্ষ্য করেই গুলি করেছি।

    বেশ করেছ। কিন্তু তুমি ভয়ানক রিস্ক নিয়েছ। যদি ওরা পালটা গুলি করত তোমাকে, তা হলে তুমি কী করতে?

    হয় পালাতাম, নয় মরতাম।

    স্বপ্না আর রিয়া চোখদুটো বড় বড় করে বলল, ওরে বাবা! তুমি যে দেখছি ক্ষুদে রবিনহুড।

    মা বললেন, তাই তো দেখছি। নাও, এবার হাতমুখ ধুয়ে একটু কিছু মুখে দাও।

    বাসববাবু বললেন, হ্যাঁ, সেই কোন সকালে বেরিয়েছ। এবার জলটল খেয়ে বিশ্রাম নাও। আমি না বলা পর্যন্ত এখন স্কুলে যাবার দরকার নেই। এই বলে নীহারবাবুকে নিয়ে যাবার জন্যে তৈরি হলেন।

    মা বললেন, দুটো খেয়ে গেলে হত না?

    দেরি হয়ে যাবে।

    বাসববাবু চলে গেলেন। যেতে তো হবেই। অপরাধীদের ধরার ব্যাপারে এখুনি তৎপর না হলে মুখ দেখানো যাবে না। এমনিতেই রাজ্যের বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতিগুলো নিয়ে পুলিশ দফতর হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। শুধু বাজে কাজ করতে গিয়েই সময় নষ্ট হচ্ছে কত। এরপর আছে ফুটপাত হকারমুক্ত করা। সকালে তাড়াও, বিকেলে আবার ঠিক বসে যাবে। পাবলিক যদি সাপোর্ট করে তো, রাজনৈতিক নেতারা বিরোধিতা করে। ঠিক কোনও-না-কোনও দাদা দাঁড়িয়ে যাবে ওদের হয়ে। তারপর আছে বেআইনি বাড়ি ভাঙা, যেখানে সেখানে গজিয়ে ওঠা মন্দির ভাঙা। মন্দির একটা গজাল তো পুজো দেবার সে কী ধুম। প্রতিরোধ করতে কেউ এগিয়ে আসবে না। কিন্তু গালাগালি দেবার সময় চায়ের দোকানে বসে ধুয়ে দেবে প্রশাসনকে। সব ক্ষেত্রে সকলের যেমন করবার কিছু থাকে না, তেমনি অনেক ক্ষেত্রেই তো এগিয়ে আসা যায়। দুঃখের বিষয় আসবে না কেউ। আর এই সব ডামাডোলের ভেতর দিয়েই চলতে থাকবে আরও অন্য অসামাজিক কার্যকলাপ। মাথাচাড়া দেবে মগ্ন মৈনাকের মতো কার্লস জ্যাকলের দল। জীবন বিপন্ন হবে বাসববাবুদের। ওদের কথা কেউ ভেবেও দেখবে না। ওরা হবে যূপকাষ্ঠের বলি। অপরাধ? ওরা যে পুলিশ।

    বাসববাবু চলে গেলেন। মা যে কখন কোন ফাঁকে ঠাকুরের মানসিক করে ফেলেছিলেন তা কে জানে? হিরণের কপালে একটা টাকা ঠেকিয়ে ঠাকুরের জায়গায় রেখে এসে মেতে উঠলেন ছেলেকে নিয়ে। তারপর স্বপ্না আর রিয়ার সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে ছেলের জন্য এটা ওটা সেটা কত কী করতে লাগলেন। হিরণ বাথরুমে ঢুকে ভাল করে মুখহাত ধুয়ে, ধপাস করে ওর বিছানায় এসে দেহটা এলিয়ে দিল। কুখ্যাত লোকগুলোর একটাকেও যে খতম করতে পেরেছে, এতেই ওর আনন্দ।

    রিয়ার মা কাল সন্ধ্যাবেলা চলে গেছেন।

    স্বপ্নার মা এলেন একটু পরে। সব শুনেটুনে কত বোঝালেন হিরণকে। বললেন, তুমি এখন ছেলেমানুষ বাবা। বড়দের কাজ কি তোমাকে সাজে?

    হিরণ বলল, ছেলেমানুষ হলেও বালক তো নই। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। তা ছাড়া আমার বাবা যেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, সেখানে তাঁর ছেলে হয়ে আমি কী করে নীরব থাকি?

    বুঝলাম। কিন্তু তোমার বাবা এইসব কাজে অভ্যস্ত। তুমি তো নও। তা ছাড়া যে কাজ তোমার বাবা করে থাকেন সে কাজ করার আইনগত অধিকারও তোমার নেই।

    আজ আমার হাতেখড়ি হল।

    মা বললেন, শুনেছ ছেলের কথা, এতটুকু ভয়ডর নেই।

    হিরণ বলল, ভয় কী। আঘাতের পালটা আঘাত না করলে ওরা আমাদের দুর্বল ভাববে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleCities of the Plain (Sodom and Gomorrah) – Marcel Proust
    Next Article পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }