Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প1153 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অভিশপ্ত তিড্ডিম – ১

    এক

    আমি তখন শ্রীপতি নাট্য কোম্পানি নামে একটা পেশাদার যাত্রাদলে চাকরি করি। আমাদের দল কোলিয়ারি অঞ্চল এবং আসামে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। সেবার আমরা হাফলঙে এলাম আমাদের দল নিয়ে। বড় মনোরম জায়গা। সেখানে গিয়ে আমাদের দল একেবারে জেঁকে বসল প্রায়। ওইটুকু জায়গায় পর পর কয়েকদিন ধরে আমাদের একটানা অভিনয় হল। এবং প্রায় প্রতিদিনই আমরা সেখানকার দর্শকদের মনজয় করে ঘন ঘন করতালি ও অভিনন্দন গ্রহণ করতে লাগলাম।

    এইখানে যে বাংলোতে আমরা থাকতাম সেখানে বাহাদুর নামে একজন নেপালি দারোয়ান ছিল। তার সঙ্গে কয়েক দিনের মধ্যেই আমার খুব ভাব জমে উঠল। বাহাদুর এক একদিন আমার অভিনয় দেখে আর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে। একদিন কথায় কথায় বাহাদুর আমাকে বলল, আচ্ছা বাবু, আপনি তো অনেক দেশ ঘুরেছেন। সত্যি করে বলুন তো, আপনাকে কোন দেশটা সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে?

    আমি কিছুক্ষণ ভাবলাম। এর কী উত্তর দেব বাহাদুরকে? তবু বললাম, দেখো বাহাদুর; জীবনে আমি অনেক দেশ ঘুরেছি একথা সত্যি। তবে কী জান, যখন যেখানে গেছি তখন আমার সেইখানটাই ভাল লেগেছে। তবুও ভালর চেয়েও ভাললাগা বলে একটা কিছু তো আছে, তা আপার হাফলং-এর এই সৌন্দর্য আমি জীবনে ভুলব না। এত ভাল আমাকে কোনও জায়গা লাগেনি। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সত্যিই আমি মুগ্ধ।

    বাহাদুর বলল, সত্যি বলছেন, বাবু?

    সত্যি বলছি। এমনিতেই পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল আমাদের শহরের লোকেদের প্রত্যেকেরই ভাল লাগে। তবে আমার কথা আলাদা। আমার ভাল লাগাটা আবার অন্যের চেয়েও একটু বেশি। কেন না ছোটবেলা থেকেই পাহাড়-পর্বতের ওপর আমার একটা সহজাত টান আছে।

    সব শুনে অত্যন্ত খুশি হয়ে বাহাদুর ব্লল, তা হলে আমাদের এই হাফলং, আপার হাফলং আপনার খুবই ভাল লেগেছে বলুন?

    খু-উ-ব ভাল লেগেছে। দেখছ না, আমি কেমন ফাঁক পেলেই এদিক ওদিক কেটে পড়ি।

    হ্যাঁ, আমি সেটা লক্ষ করেছি বাবু। তবে আপনি যদি চান তো, এই আপার হাফলঙের চেয়েও হাজার গুণ ভাল একটা জায়গায় আপনাকে আমি নিয়ে যেতে পারি। যাবেন আপনি সেখানে?

    বাহাদুরের আগ্রহ দেখে বুঝতে পারলাম, আমার অজানা নিশ্চয়ই এমন এক মনোরম জায়গা এখানে আছে, যার হদিস আমি কোনও দিনই পাব না। একে আমি ভ্রমণরসিক লোক, প্রকৃতির বৈচিত্র্য দেখবার জন্য আমার মনপ্রাণ সবসময়ে ব্যাকুল হয়ে থাকে, তার ওপরে বাহাদুরের এই আহ্বান, এ সুযোগ আমি ছাড়ি কখনও? বললাম, যাব না মানে? কিন্তু কোথায়?

    বাহাদুর একটু গম্ভীর হয়ে বলল, আপনি তিড্ডিমের নাম শুনেছেন?

    না। তবে নামটা শোনামাত্রই বুকের ভেতরটা ঢিপ ঢিপ করছে। বেশ ভাবগম্ভীর নাম। তিড্ডিমটা কোথায়? আমাদের মানচিত্রে আছে?

    আছে কি না-আছে তা বলতে পারব না। তবে যে কেউ ইচ্ছে করলেই সেখানে যেতে পারে না।

    আমার মন আনন্দে নেচে উঠল।

    যে জায়গায় ইচ্ছে করলেই কেউ যেতে পারে না, সেই জায়গায় আমি যাব। বাহাদুর যখন আছে তখন সে জায়গায় যাওয়া আমার আটকায় কে?

    বাহাদুর বলল, যেমন মনোরম জায়গা, তেমনি বিপদসংকুল। মরণ যেন পায়ে পায়ে ঘনিয়ে আসে। প্রাণ হাতে নিয়ে যেতে হয়। বলো কী !

    হ্যাঁ বাবু। যদি আপনার সাহস থাকে, আর যাবার ইচ্ছে থাকে, তবেই আমি সেখানে আপনাকে নিয়ে যেতে পারি। সেখানে গেলে এমন সব দৃশ্য আপনি দেখতে পাবেন, যা দেখলে মাথাখারাপ হয়ে যাবে। তবে একটা কথা—

    কী কথা বলো?

    শুধু আপনি আর আমি যাব। আর কেউ নয়। কার ভাগ্যে কী ঘটে কে জানে? আমরা কেন নিমিত্তের ভাগী হব?

    আমি বললাম, না না। গেলে তোমাতে আমাতে যাব। ওসব সঙ্গীসাথি আমি জড়াই না। ওরা হল পথের কাঁটা। তা যাক। কবে যাবে? কাল তো আমাদের শো বন্ধ। কাল গেলে হয় না?

    বাহাদুর হেসে বলল, না বাবু। সে অনেক দূরের পথ। ওখানে তো হেঁটে যাওয়া যায় না। টাঙ্গা করে যেতে হয়। অনেক টাঙ্গাওলা হয়তো রাজিই হবে না যেতে। সেসব ব্যবস্থা করে তারপর যাওয়া। অন্তত দিন পাঁচেক আমাকে সময় দিতে হবে।

    আমি হিসেব করে দেখলাম দিন পাঁচেক পরে আবার একদিন আমাদের শো বন্ধ আছে। ভালই হল। সেই দিনটাই আমরা তিড্ডিম যাবার জন্যে স্থির করলাম। কয়েকটা দিন যে আমার কীভাবে কাটল, তা ঠিক বলে বোঝাতে পারব না। অধীর আগ্রহে আমি সেই দিনটির জন্যে প্রতীক্ষা করতে লাগলাম। কতক্ষণে আসবে সেই দিন। কখন যাবার সেই ক্ষণটুকু এসে উপস্থিত হবে?

    যাবার আগের দিন রাত্রে বাহাদুর হতাশ হয়ে এসে বলল, নাঃ। অনেক চেষ্টা করেও কোনও টাঙ্গাওলাকে রাজি করাতে পারলাম না।

    শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেল, তা হলে উপায়?

    উপায় একটা বের করছি। যাওয়া আমাদের হবেই। আমার বন্ধুর একটা টমটম আছে। তাতে করেই যাব। বন্ধুও যেতে রাজি নয়। অগত্যা আমাকেই টমটম চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কাল খুব ভোরে উঠে আমরা দু’জনে রওনা হব। আপনি খাবারদাবার বেঁধে ঠিক করে রাখবেন, কেমন?

    যাক! আমার মনটা এতক্ষণে হালকা হয়ে গেল। যেই শুনেছি টাঙ্গা পাওয়া যায়নি, অমনি মনটা যে কী ভীষণ খারাপ হয়ে গিয়েছিল তা কী বলব। চোখফেটে যেন জল আসছিল। এখন যাবার আনন্দে কল্পনার পাখি হয়ে উড়ে চলল মন। বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি? সেই কতটুকুর এত্তটুকুও তো জানতে পারব কাল?

    পরদিন খুব ভোরে উঠে আকাশের তারা থাকতে থাকতে রওনা হলাম দু’জনে। আমি আর বাহাদুর। বাহাদুর নিজেই টমটম চালাতে লাগল। আপার হাফলঙের পথে ছুটে চলল আমাদের টমটম।

    ক্রমে আমরা লোকালয় ছেড়ে এক ঘন অরণ্যভূমির মধ্যে এসে পড়লাম। কত ছোট ছোট নদী ও ঝরনার পাশ দিয়ে যে আমাদের টমটম ছুটে চলল তার ঠিক নেই। আমার মনে হল যেন রূপকথার রাজপুত্র আমি। রথে চড়ে দিগ্বিজয়ে চলেছি। আর বাহাদুর আমার সারথি। ওঃ! সে যে কী আনন্দ!

    আমাদের সঙ্গে রয়েছে প্রচুর খাবার। আর দু’জনের জন্যে দুটো ধারালো কুড়ুল। আত্মরক্ষার জন্যে এ-দুটো সঙ্গে নিয়েছি আমরা। যদিও জানি সত্যিকারের বিপদ এসে সামনে দাঁড়ালে হাতের কুড়ল হাতেই থাকবে। তবুও নিয়েছি।

    যেতে যেতে ভোরের আলো মুছে গেল এক সময়।

    তরুণ রবির অরুণ আলোয় ঝলমলিয়ে উঠল। আহা কী অপরূপ। ফুলের গন্ধে অপরিচিত গাছগাছালির গন্ধে মনপ্রাণ ভরে উঠল। কত পাখির কণ্ঠস্বর কানে এল। কত সুন্দর হরিণ যে চোখে পড়ল, তা বলে বোঝাতে পারব না।

    যাই হোক। এইভাবে যেতে যেতে বেলা প্রায় দশটা নাগাদ টমটম এসে এক জায়গায় থামল।

    আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিড্ডিম আর কত দূরে

    বাহাদুর?

    বাহাদুর বলল, এই তো এসে গেলাম। এই হল তিড্ডিম। অবশ্য এবার আমাদের হাঁটাপথে আরও কিছুটা যেতে হবে। আমি যেখানে নিয়ে যেতে চাই, সেটা আরও গভীরে।

    বললাম, এটাই তো ফরেস্ট। আরও গভীরে?

    হ্যাঁ বাবু। এখানে সচরাচর কেউ আসে না।

    আর বাক্যব্যয় না করে দু’জনেই নেমে পড়লাম টমটম থেকে।

    বাহাদুর একটা শাল গাছের গুঁড়ির সঙ্গে টমটম বাঁধল। তারপর ঘোড়াটাকে মুক্ত করে অপর একটা গাছের সঙ্গে বেঁধে খেতে দিল তাকে।

    আমি বললাম, বাহাদুর! এবার আমাদেরও একটু জলযোগ সেরে নেওয়া কী বলো? যাক,

    হ্যাঁ। বেলা তো হয়েছে অনেক। এখনও হাঁটাপথ বাকি আছে।

    আমাদের সঙ্গে কলা, পাউরুটি, ডিম, সন্দেশ ইত্যাদি ছিল। পেট ভরে খেয়ে নিলাম দু’জনে। খাওয়া হলে দু’জনে দুটো কুণ্ডুল ঘাড়ে করে টর্চ ও খাবারের জায়গা নিয়ে এগিয়ে চললাম। একটা পিস্তলও ছিল আমার সঙ্গে। তবে সেটার কথা বাহাদুরকে বলিনি। খুব বিপদে না-পড়লে সেটা ব্যবহার করব না।

    যাই হোক, হাঁটাপথে যেতে যেতে নয়ন-মনোহর সৌন্দর্যে অন্তর ভরে উঠল। এ পথে যে বিপদ আছে, এই পথের প্রতিটি পদক্ষেপে যে মরণ হাতছানি দিয়ে ডাকে, তা আমার মনেই হল না।

    বাহাদুরের কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি।

    প্রকৃতির এমন সালংকারা রূপ এই প্রথম দেখলাম আমি।

    বেশ কিছু পথ এসেছি। হঠাৎ হাতে একটা হেঁচকা টান। এমন মারাত্মক টান যে, আর একটু হলেই ছিটকে পড়েছিলাম। বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করে উঠল। হল কী?

    বাহাদুর হিসস, করে উঠল। তারপর আঙুল দিয়ে দেখাল সামনের দিকে।

    আমি দেখলাম আমার ঠিক চোখের সামনেই সবুজ লতার মতো কী যেন একটা দুলছে। যেন কোনও লতানে গাছের শাখাগ্র একটি। বাহাদুর বলল, সাপ।

    সাপ?

    হ্যাঁ বাবু। পাহাড়ে যে কত রকমের সাপ আছে। নাম জানি না। আর একটু হলেই ওটা আপনার গায়ে ঠেকে যেত। আর ঠেকলেই সর্বনাশ। নিমেষের মধ্যে চুটিয়ে দিত একেবারে।

    আমার হাত-পা তখন হিম হয়ে গেছে। বললাম, ভাগ্যে ধরলে? যাক। ওর তলা দিয়ে না-গিয়ে বরং পাশ দিয়ে চলে যাই চলো।

    বাহাদুর বলল, এখন যাবেন কী বাবু? ওর কাছ দিয়ে গেলেই ও চুটিয়ে দেবে। বাহাদুরের কথা শেষ হতে না হতেই সেই লতার মতো সাপটা তিরের মতো সাঁত করে ছিটকে গেল একটা ঝোপের দিকে। যাক। আপদ গেল।

    বাহাদুর বলল, খুব সাবধান। ভাল করে চারদিক দেখে পথ চলবেন। তাড়াতাড়ি করবেন না। অযথা বেশি কথা বলবেন না। আসুন, যে কোনও মুহূর্তে বিপদ ঘটতে পারে।

    ভয়ে বুক ঢিপ ঢিপ করছে তখন।

    বাহাদুরকে আগে দিয়ে আমি ওর পিছু পিছু পথ চলতে লাগলাম।

    খানিকটা পথ আসার পরই দেখি পথ রুদ্ধ। একটা মস্ত গাছকে বেড় দিয়ে কতকগুলো পাহাড়ি-ময়াল সোঁ সোঁ শব্দ করছে। গাছের ডালে পাকিয়ে কোনও ময়ালের মুখ নীচের দিকে দুলছে। একটা ময়াল শিকার ধরেছে। সম্ভবত হরিণ শিশু। তার আধখানা গিলেছে, আর বাকি আধখানা গেলবার চেষ্টা করছে।

    আমরা পাশ কাটিয়ে একটু বাঁকা পথে সে রাস্তা পরিত্যাগ করলাম। এইভাবে অনেক পথ হেঁটে এক সময় এক জলাশয়ের ধারে পৌঁছলাম আমরা।

    আমি নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারলাম না। বিশ্বের অনন্ত সৌন্দর্য যেন এক সঙ্গে জমা হয়েছে এখানে। প্রকৃতির সে কী রূপ। চারদিকে পাহাড়— পাহাড় আর পাহাড়ের চূড়া। দূরদূরান্তেও পাহাড়ের রেখা। তারই গায়ে গায়ে পুষ্পিত বনভূমি। কত রঙের সমারোহ। আর যে জলাশয়ের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম আমরা, সেই জলাশয় পদ্মবনে ভরে আছে। জলাশয়ের আশেপাশে গোলাপের বন। আর জলাশয়ের মধ্যে বড় বড় অতিকায় পদ্মপাতার ফাঁকে ফাঁকে ছোট বড় পদ্মকুঁড়ি ও পদ্মফুলগুলি ফুটে আছে। কত পাপড়ি ঝরে জলের ওপর ভাসছে। যেন ছোট ছোট পাল তোলা নৌকো। দেখে মোহিত হয়ে গেলাম।

    সেই জলাশয়ের ধারে একটি পাহাড়ের গায়ে ছোট্ট একটি গুহা ছিল। গুহার মুখ এত সংকীর্ণ যে, হামাগুড়ি দিয়ে না-ঢুকলে এর ভেতরে ঢোকার কোনও উপায় নেই।

    বাহাদুর বলল, এই গুহার ভেতরেই আমাদের আশ্রয় নিতে হবে।

    আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, তা তো নিতে হবে। কিন্তু যদি এর ভেতরে কোনও জীবজন্তু বাসা নিয়ে থাকে তা হলে?

    যতদূর জানি গুহাটা নিরাপদ। তবু ঢোকার আগে একবার দেখে নেব বইকী। এই বলে গুহামুখের কাছে এগিয়ে গিয়ে মুখের দু’পাশে হাত রেখে ঝুঁকে পড়ে একটু চেঁচিয়ে উঠল বাহাদুর — আ— হু— আ—।

    বাহাদুরের সেই কণ্ঠস্বর পাহাড়ে-পর্বতে ধ্বনিত হয়ে কোথায় মিলিয়ে গেল। কিন্তু গুহামুখ থেকে কোনও প্রত্যুত্তর এল না। বাহাদুর তখন আমার হাত থেকে টর্চটা নিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকে গেল গুহার ভেতর। একটু পরেই হাসিমুখে আবার বেরিয়ে এল সে। এসে বলল, না। ভয় নেই। আসুন ভেতরে আসুন।

    আমি বাহাদুরের সঙ্গে গুহার ভেতরে ঢুকলাম। গুহামুখ সংকীর্ণ হলেও ভেতরটা প্রশস্ত। ভেতরে ঢুকে বেশ ভালভাবে গুছিয়ে বসলাম দু’জনে।

    একটু পরে আবার কী মনে করে গুহার বাইরে গেল বাহাদুর। তারপর দু’-একটা গাছের ডাল ভেঙে এনে বড় বড় পাথরের চাঁই গুহামুখে জড়ো করে ভেতরে এসে বলল—এবার নিশ্চিন্তে বসে বাইরের দৃশ্য দেখুন। একটু পরেই দেখবেন বুনো হাতির দল জল খেতে আসবে। সে যে কী দৃশ্য, তা আপনি ভাবতেও পারবেন না। সেই দৃশ্য দেখাবার জন্যই আপনাকে আমি এখানে নিয়ে এসেছি।

    গুহার ভেতরে বসে বাইরের জলাশয়ের দিকে চেয়ে রইলাম আমি। বুনো হাতির দল কখন জল খেতে আসবে কে জানে? ততক্ষণে আমরা আমাদের সঙ্গের বাকি খাবারগুলো উদরস্থ করতে লেগে গেলাম।

    অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর, এক সময় বুনো হাতির দলকে দেখা গেল। সামনের একটা খাড়াই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে দলে দলে বুনো হাতি সারিবদ্ধভাবে নেমে আসছে দেখলাম। কী চমৎকার তাদের আসবার ভঙ্গি। প্রথমে প্রকাণ্ড চেহারার একটা হাতি, তারপরে তার চেয়ে আকারে একটু ছোট একটি হাতি, তারপরে আরও একটি ছোট হাতি। এইভাবে ঠিক আকৃতি অনুযায়ী পরের পর লাইন দিয়ে আসছে সব। সবার পিছনে একেবারে ছোট্ট হাতিটি। শুঁড় দুলিয়ে সকলে সেই জলাশয়ে নেমে এল। মস্ত জলাশয়। জলে নেমে শুঁড়ে করে জল নিয়ে এ ওর গায়ে ফোয়ারার মতো ছিটোতে লাগল।

    এইভাবে সারাক্ষণ ধরে চলতে লাগল তাদের জলক্রীড়া।

    ক্রমে দুপুর গড়িয়ে এল।

    আমি বললাম, বাহাদুর, এবার ফেরা যাক।

    বাহাদুর বলল, এখন কী করে যাবেন? হাতির দল না যাওয়া পর্যন্ত বেরোবার উপায় আছে নাকি? ওরা বড় সাংঘাতিক। একবার যদি দেখতে পায় তো শেষ না করে ছাড়বে না।

    বলো কী!

    হ্যাঁ।

    হঠাৎ বনভূমির ভেতর থেকে একটি ক্রুদ্ধ গর্জন ভেসে এল। সে এমন এক ভয়ংকর ডাক যে রীতিমতো হৃৎকম্প শুরু হয়ে গেল আমাদের। অমন সাহসী বাহাদুরেরও বুক কেঁপে উঠল।

    সঙ্গে সঙ্গে রুখে দাঁড়াল হাতির দল। দু’পায়ে দাঁড়িয়ে দু’পা তুলে শুঁড় উঁচু করে প্রত্যুত্তর দিল, হ্যাররো—ও—ও—ও।

    বাহাদুর বলল, মনে হচ্ছে সাংঘাতিক একটা বিপদ ঘটবে এবার। জন্তুটা যদি

    গুহার ভেতরে আশ্রয় নিতে আসে তা হলে তো বিপদের শেষ থাকবে না। কেন, আমরা তো বেশ নিরাপদ আশ্রয়েই আছি। তা ছাড়া গুহার মুখও তো গাছের ডাল আর পাথর দিয়ে ঘেরা।

    তা হলেও ভেতরে ঢুকতে না-পেলে ও কি সহজে চলে যাবে ওর আশ্রয় ছেড়ে? আমরা বেরোলেই আমাদের আক্রমণ করবে।

    এবার রীতিমতো ভয় পেয়ে গেলাম আমি। বললাম, তা হলে উপায়? উপায় আর কী? লড়াইয়ের জন্য তৈরি হতে হবে।

    এমন সময় আবার সেই ডাক।

    হাতির দলও তখন রণং দেহি হয়ে তার প্রত্যুত্তর দিল। রাগে শুঁড় দুলিয়ে, অঙ্গ দুলিয়ে লড়াইয়ের প্রস্তুতি চালাতে লাগল।

    বাহাদুর হঠাৎ বলল, ওই—–ওই—ওই দেখুন।

    আমি দেখলাম পাহাড়ের এক উচ্চস্থানে একটা ভয়ংকর জন্তু দাঁড়িয়ে। বৃহদাকৃতির জানোয়ার সেটা। ঘন কালো গায়ের রং। খাড়া খাড়া লোম। চক্ষু রক্তবর্ণ।

    বাহাদুর বলল, বাঘ।

    বাঘ? বাঘ ওইরকম হয় নাকি?

    হ্যাঁ। হিমালয়ের ভয়ংকর অনেক রকমেরই হয়। বাঘের অনেক রকম জাত আছে।

    বাঘটা তখন চোখের পলকে সেই উচ্চস্থান থেকে সবচেয়ে বড় হাতিটার পিঠের উপর লাফিয়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে রক্তে ভেসে গেল হাতির দেহটা। লাল হয়ে উঠল জলাশয়ের জল।

    শুরু হল প্রচণ্ড দাপাদাপি আর আর্তনাদ। লেগে গেল ভয়ানক যুদ্ধ। বড় হাতিটা শুঁড়ে করে জড়িয়ে ধরবার চেষ্টা করল বাঘটাকে। কিন্তু পারল না।

    অন্যান্য হাতিগুলো তখন ছুটে এল। বাঘটা বেড়ালের মতো থাবা গেড়ে হাতির পিঠে বসে ফ্যাস ফ্যাঁস শব্দ করতে লাগল।

    উঃ। সে কী ভয়ংকর দৃশ্য।

    বাঘটা ততক্ষণে হাতিটাকে চিরে ফালা ফালা করে ফেলেছে।

    মাঝারি সাইজের একটা হাতি এসে ততক্ষণে শুঁড়ে করে জড়িয়ে ফেলল বাঘটাকে। তারপর পাকিয়ে ধরে বড় একটা পাথরের ওপর মারল এক আছাড়। সঙ্গে সঙ্গে অপর একটা হাতি এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাঘটার ওপর। তারপর সবাই মিলে লাথির পর লাথি।

    বাঘটা প্রচণ্ড চিৎকার করতে করতে নিস্তেজ হয়ে পড়ল একসময়। এবং অসহ্য যন্ত্রণায় মৃত্যুবরণ করল।

    বড় হাতিটাও ক্ষতবিক্ষত দেহে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে।

    হাতির দল অনেকক্ষণ ধরে চেয়ে রইল তাদের দলপতির প্রাণহীন দেহটার দিকে। তারপর সবাই মিলে শুঁড় উঁচিয়ে শেষ প্রণাম জানিয়ে, আবার সারিবদ্ধভাবে চলে গেল যে যার।

    আমরাও আর দেরি করলাম না। গুহামুখ থেকে বেরিয়ে আবার সেই পাহাড়িপথ বেয়ে টমটমের কাছে পৌঁছলাম। কিন্তু কে জানত যে এক বিপদ কাটিয়ে এলেও আর এক বিপদ অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্যে? গিয়ে দেখলাম শুধু টমটমটাই পড়ে আছে সেখানে। ঘোড়াটা নেই।

    বাহাদুর বলল, সর্বনাশ হয়েছে বাবু। ঘোড়াটাকে বাঘে খেয়েছে।

    বাঘ!

    হ্যাঁ দেখছেন না রক্তের দাগ আর পায়ের ছাপ?

    তা হলে ফিরব কী করে?

    কী করে আর ফিরব? এই বনের ভেতরেই কোনও একটা নিরাপদ জায়গা দেখে রাত্রিটা কাটাতে হবে। ফেরার কথা ভাবা যাবে কাল।

    আমি হতাশ হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লাম। সত্যি বলছি, এরকম বিপদে পড়ব জানলে এখানে আমি কোনও মতেই আসতাম না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous ArticleCities of the Plain (Sodom and Gomorrah) – Marcel Proust
    Next Article পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }