Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশন – অভিষেক সেনগুপ্ত

    লেখক এক পাতা গল্প174 Mins Read0
    ⤶

    পেলে

    পেলের সঙ্গে কবে প্রথম দেখা হয়েছিল ঋষির, একদম মনে পড়ছে না। সেই দুপুর থেকে মনে করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বারবার পথ হারিয়ে ফেলছে ওর স্মৃতি। কলকাতার ছেলেমেয়েরা বন্ধুত্বের প্রথমদিনটা রিমাইন্ডার নোটবুকে অ্যাড করে রাখে। কারণে-অকারণে পয়লা দিনটা তারা সেলিব্রেট করে। পিৎজা পার্লার বা কোনও রেস্ট্রোতে গিয়ে। এই মফস্বল শহরে এসবের রেওয়াজ নেই। তাই বলে দিনটা মনে থাকবে না!

    আজ পেলেকে ভীষণ দরকার ঋষির। বারো ইঞ্চি ক্রিস্টাল ট্রফিটা বুকে জড়ানোর পর সামনের অডিটোরিয়ামটা মুছে গেল চোখের সামনে থেকে। হুড়মুড়িয়ে ভেসে উঠল পেলের আবছা মুখ। ও না থাকলে এই দিনটা দেখা হত না ঋষির! স্বপ্ন জড়ানো এই মুহূর্তগুলো খুব দুর্লভ হয়। সুখ আর তৃপ্তি রোমকুপ দিয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে তার। আনন্দ হচ্ছে। চোখে জল আসছে। এই দিনটাই দেখতে চেয়েছিল সে। যার জন্য এখন এই আলো ঝলমলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঋষি, তার কথা ভিড় করে আসছে মনে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা নিতে নিতে বিড়বিড় করে সে বলল, ‘তোর জন্যই সব হল! থ্যাঙ্ক ইউ পেলে!’

    এক পরম ভালোবাসা অবরুদ্ধ করে তুলছে ঋষিকে। গলা আঁকড়ে ধরছে কৃতজ্ঞতা। অডিটোরিয়াম জুড়ে হাততালির ঝড়ে বিহ্বল হয়ে পড়ছে। ঋষি খুব ভালো করে জানে, পেলেকে এখানে দেখতে পাবে না। তবু ইলশেগুড়ি বৃষ্টিতে ভেজা ওর দুটো চোখ তন্নতন্ন খুঁজছে পেলেকেই!

    আশপাশের লোকজন এখনও অদ্ভুত চোখে দেখছে ঋষিকে। ভারী অস্বস্তি হচ্ছে ওর। সমবয়সীরা তো বটেই, এমনকি তাদের অভিভাবকরাও অবাক হয়ে গিয়েছে ঋষির খেলা দেখে। ছয় রাউন্ডের টুর্নামেন্টে একটাও গেম হারেনি। সবচেয়ে বড় কথা, কোনও গেমের আয়ু কুড়ি-তিরিশ মিনিটের বেশি ছিল না। যেন র‍্যাপিড চেস খেলছিল! গেমের শুরুতে ওর প্লেয়িং স্টাইল দেখে বোঝা যায়নি, অ্যাটাকিং না ডিফেন্সিভ, কোন মোডে খেলবে! এই দ্বিধাটাই বিভ্রান্ত করে ফেলেছে প্রতিপক্ষদের।

    ফাইনাল ডে-তে বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছেন নর্মদা চক্রবর্তী। উনি বাংলার প্রথম ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার। একসময় দেশজোড়া নাম ছিল। এখন সল্টলেকে একটা অ্যাকাডেমি চালান। তিনিও কিছুক্ষণ দেখেছেন ঋষির ফাইনাল রাউন্ডের গেম। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর যখন নিজের ব্যাগপত্র গোছাচ্ছিল, এমন সময় কানে এল অ্যানাউন্সমেন্ট, ঋষি রায়, তুমি যেখানেই থাকো, অডিটোরিয়ামে চলে এসো। নর্মদা ম্যাডাম তোমাকে খুঁজছেন!

    ঋষি অবাক হল। নর্মদা ম্যাডাম খুঁজছেন কেন ওকে? কোনও ভুল করেছে নাকি? দ্রুত ব্যাগপত্র তুলে ভয়ে ভয়ে নর্মদা চক্রবর্তীর সামনে গিয়ে ঋষি বলল, ‘আমাকে খুঁজছিলেন ম্যাডাম?’

    যেন ঘোরের মধ্যে রয়েছেন নর্মদা! চোখেমুখে অপারবিস্ময়। তাকে আপাদমস্তক দেখে বললেন, ‘মিশার স্টাইল তুমি শিখলে কী করে?’

    মিশা নামটা প্রথমবার শুনল ঋষি। তাকে ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকতে দেখে উনি ফের বলে উঠলেন, ‘মিখাইল তাল, রাশিয়ান দাবাড়ু। ওঁকে ম্যাজিশিয়ান বলা হত। নাম শোনোনি?’

    ঋষি মাথা নীচু করে নিল। কোনওরকমে মাথাটা ডানদিক-বাঁদিকে নাড়াল। দাবা খেলাটা মনপ্রাণ ঢেলে ভালোবাসে সে। বিশ্বনাথন আনন্দ আইডল তার।

    নর্মদাম্যাম এক নিঃশ্বাসে বললেন, ‘দশ-বারো চালের আগে তোমার খেলা ধরতে পারছে না অপন্যান্ট। মিশার মিস্ট্রিয়াস স্ট্র্যাটেজি এইরকম ছিল! তুমি শিখলে কী করে?’

    বর্ধমান সিএমএস হাইস্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ে ঋষি। মিশা বা মিখাইল তাল কোন রহস্যময় স্ট্র্যাটেজিতে খেলত, সে জানবে কী করে? স্কুলে একটু আধটু কম্পিউটারে দাবা খেলে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। তাকে কেউ দাবা শেখায়নি শুনে আরও অবাক হলেন নর্মদা। ব্যাগ খুলে ঋষির হাতে ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বললেন, ‘তোমার বাবা-মাকে বলো, আমাকে ফোন করতে।’

    দাবা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়া, নর্মদা চক্রবর্তীর ‘বাবা-মাকে ফোন করতে বলো’, সবটাই চেপে গেল ঋষি। সে খুব ভালো করে জানে, তার দাবা টুর্নামেন্ট খেলার কথা শুনলেই প্রচণ্ড রেগে যাবেন বাবা ও মা। হয়তো মারও জুটতে পারে।

    আলমগঞ্জকে বর্ধমান শহরের ম্যাঞ্চেস্টার বলা হয়। রাইসমিল, চিড়েমিল, লেদ কারখানায় ভর্তি। সেখানকার একটা রাইসমিলের ম্যানেজার ঋষির বাবা সম্বুদ্ধ রায়। নানা কোয়ালিটির স্পেশাল মিনেকিট, দুধেরসর, চামড়মণি, গোপালমণি, বাঁশকাটির মতো চাল মিলে তৈরির পর বিদেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু সম্বুদ্ধদের মতো কর্মচারিদের বিশেষ লাভ হয় না। হাড়ভাঙা খাটনির পর জোটে সামান্য মাইনে। টানাটানির সংসারে স্বপ্নগুলো বিলাসিতা মনে হয়। ঋষির দাবাড়ু হওয়ার ইচ্ছে তাই প্রশয় দিতে পারেন না সম্বুদ্ধ। চান, ছেলে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হোক। অন্তত তাঁদের মতো অভাবে যেন জীবনটা না কাটে।

    বাবাকে ছেলেবেলা থেকে রাগিই মনে হয়েছে ঋষির। একটু বড় হওয়ার পর থেকে ‘পড়তে বসো’, ‘অঙ্কের খাতাটা নিয়ে এসো’, ‘ক্লাস টেস্টের রিপোর্ট দেখি’, ছাড়া বাবার মুখে আর কিছু শোনেনি সে। তার মা সুরঞ্জনাও তাই চান। বইয়ের জঙ্গলে ডুবে থাকতে থাকতে ঋষি হাঁপিয়ে ওঠে। কষ্ট হয়।

    বাবা-মা জানলে রাগ করবে বলে লুকিয়ে অল বেঙ্গল ওপেন চেস টুর্নামেন্টে নাম দিয়েছিল ঋষি। তিনদিন স্কুলবাঙ্ক করেছে এর জন্য। বাবা যদি জানতে পারলে আস্ত রাখবেন না! বাড়িতে ঢুকে সোজা নিজের বেডরুমে চলে গেল সে। স্কুল ব্যাগের ভিতর ক্রিস্টাল ট্রফিটা মাথা উঁচু করে রয়েছে। ঘরের দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে ট্রফিটা বের করল ব্যাগ থেকে। ট্রফিটার গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল ঋষির। এটাকে লুকিয়ে রাখতে হবে কোথাও!

    বাথরুম বেরিয়েই চমকে গেল ঋষি। রিডিং টেবলের সামনে কাঠের চেয়ারে বসে রয়েছেন সুরঞ্জনা। তাঁর হাতে ঋষির প্রথম জেতা ক্রিস্টাল ট্রফিটা! সুরঞ্জনা পরম মমতায় হাত বোলাচ্ছেন ট্রফিটায়। যেন ঋষিকেই আদর করছেন। মায়ের ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে সম্বুদ্ধ! বাবাকে কখনও বিকেলে বাড়িতে দেখে না ঋষি। রাইসমিল থেকে বেরোতে বেরোতে রাত আটটা বেজে যায়। আজ অফিস যাননি নাকি? আশঙ্কায় পা ভারী হয়ে এল ঋষির। সে তাকিয়ে দেখল, বাবা মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন, টুর্নামেন্টে ফার্স্ট হওয়ার জন্য পাওয়া সার্টিফিকেটটা!

    তাহলে সব জেনে গিয়েছে ওঁরা? তিনদিন স্কুল না যাওয়া, দাবা টুর্নামেন্ট খেলা— সব! ভয়ে হাতের তালু ঘেমে গেল ঋষির। খুব জল তেষ্টা পাচ্ছে! প্রচণ্ড টেনশনে প্রায় কেঁদে ফেলল ঋষি। ঢোঁক গিলে কোনওরকমে বলল, ‘আর কোনওদিন খেলব না, কথা দিচ্ছি!’

    ঋষির কথা শুনে অদ্ভুতভাবে হাসলেন সম্বুদ্ধ। বাবা এগিয়ে আসছে তার দিকে, এক পা-এক পা করে। ভয়ে চোখ বন্ধ করে নিল সে। তখনই মায়ের শরীরের চেনা মিষ্টি গন্ধটা ঝাপটা মারল ঋষির নাকে। চোখ খুলে দেখল, মা জড়িয়ে ধরেছেন তাকে। আর বাবা হাত বোলাচ্ছেন মাথায়।

    সুরঞ্জনা বললেন, ‘কেঁদো না সোনা। আমরা বুঝতে পারিনি তোমার মনে কথা।’

    ঋষি অবাক চোখে তাকাল বাবা-মায়ের দিকে। এ যেন আশ্চর্য ঘটনা ঘটছে তার সঙ্গে। সে কি স্বপ্ন দেখছে?

    সম্বুদ্ধ বলে উঠলেন, ‘তুই যে দাবা টুর্নামেন্টে খেলেছিস, তাতে স্পনসর করেছেন আমাদের মিলের মালিক গৌতম হাজরা। তুই বিশ্বকর্মা পুজোয় আগে কয়েকবার মিলে গিয়েছিলি। তোর মুখটা দেখে গৌতমদার চেনা-চেনা লাগে। তোর মুখে আমার নাম শুনে নিশ্চিত হন।’

    সম্বুদ্ধ এ বার হেসে বললেন, ‘নর্মদা চক্রবর্তী এসেছিলেন তোদের ওখানে? উনি তোর কথা বলেছেন গৌতমদাকে। তুই নাকি খুব ট্যালেন্টেড! গৌতমদাকে উনি বলেছেন, তোকে স্পনসর করতে। গৌতমদা রাজি।’

    ঋষি এবার আর নিতে পারছে না। দাবা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই ওর কাছে বিরাট প্রাপ্তি। এখন আবার বাবা কীসব বলছে! তার জীবনটা কি হঠাৎ করে পাল্টে গেল?

    সম্বুদ্ধ বললেন, ‘রবিবার তোকে নিয়ে কলকাতা যাব। তোর নর্মদাম্যাডাম ফোন করে সব বুঝিয়ে দিয়েছেন। কী রে যাবি তো?’

    ঋষি এবার সত্যিই কেঁদে ফেলল। ভয়ে নয়। আনন্দে।

    ২

    পেলের সঙ্গে ঋষির প্রথম দেখা হয়েছিল মাসতিনেক আগে এক সন্ধেয়। সেদিন সকাল থেকে মুখ ভার ছিল আকাশের। ঝেঁপে বৃষ্টি পড়ছিল। রেনি ডে হয়ে যেতে পারে বলে স্কুলে যায়নি। দুপুরের পর বৃষ্টিটা ধরে এলেও বিকেলে কোচিংয়ে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না। এবার জন্মদিনে পিসি একটা ম্যাগনেটিক চেস উপহার দিয়েছে তাকে। সেটা নিয়ে ঋষি বসেছিল। ছোট ফোল্ডিং চেস বোর্ড। এটা স্কুল ব্যাগেই থাকে তার। কিন্তু একসময় মায়ের ধমক খেয়ে ছাতামাথায় কোচিংয়ে বেরোতেই হল ঋষিকে। তাদের পাড়া ছাড়িয়ে একটু এগোলে আরামবাগমুখী জাতীয়সড়ক। রাস্তা ক্রস করে বেশ কিছুটা গেলে ছোটোনীলপুর। হেঁটে অন্তত আধঘণ্টা লাগবে বিজনস্যরের কোচিংয়ে পৌঁছতে। হঠাৎই ঝাপসা হয়ে এল চারদিক। কালবৈশাখীর সময়। শুধু বৃষ্টি তাও সামলে দেওয়া যায়, ঝড়ের তাণ্ডব হলে কিছু করার থাকে না। সামলানোর আগেই ছাতাটা জ্যাভলিনের মতো হাত থেকে ছিটকে অদৃশ্য হয়ে গেল। ঝড়-বৃষ্টির দিনে রাস্তায় লোকজন নেই। বৃষ্টির প্রথম দমকেই চুপচুপে ভিজে গেল ঋষি। দিশেহারা হয়ে একছুটে একটা দোতলা বাড়ির রোয়াকে উঠে দাঁড়িয়েছিল সে।

    ঘোর কালো মেঘের জন্য আস্ত বিকেলটাকে রাত মনে হচ্ছিল তখন। দোতলা বাড়িটা বেশ পুরোনো। অনেকদিন কেউ থাকে না। বৃষ্টি বাড়তে থাকায় ঋষি ওই বাড়িটার ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। বৈঠকখানা যেমন হয়, এটাও তেমনই। দীর্ঘদিনের অব্যবহারের ফলে জানলা ভেঙে গিয়েছে। পলেস্তারা খসে পড়েছে ঘরের। পুরু ধুলো জমে মেঝেতে। দেওয়াল ফাটিয়ে বটঝুরি নেমেছে।

    মাঝেমাঝেই বাজ পড়ছিল। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল ঘনঘন। ঘরটা ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ফিল্মের মতো লাগছিল। ভয়ভয় করছিল ঋষির। কিন্তু বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে আর কোনও উপায় ছিল না। এমন সময় আলোর একটা ক্ষীণরেখা দেখতে পেয়েছিল ঋষি। অনেক ভিটেহারা মানুষ পরিত্যক্ত বাড়ি পেলে তাতেই আশ্রয় নেয়। এই বাড়িতেও তাহলে কেউ থাকে! ভিতরের ঘরের দিকে মুখ বাড়িয়ে সব ভয় মুছে গিয়েছিল তার। ভিতরের ঘরটার দশাও বৈঠকখানার মতো হলেও তুলনায় পরিষ্কার। ঘরের এক কোণে মাদুর বিছিয়ে বসে রয়েছে একটা ছেলে। রোগাপাতলা, শ্যামলা চেহারার একটা ছেলে। তার থেকে বয়সে ছোটই হবে। একপাশে লম্ফ জ্বলছে। শিখাটা কেঁপে কেঁপে উঠছে বাইরে থেকে ছুটে আসা হাওয়ায়। সেই আলোতেই ঋষি দেখেছিল, ছেলেটার সামনে কোনও বই নেই। রয়েছে একটা দাবার বোর্ড! সে এক মনে দাবা খেলছে!

    ঋষি কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল কে জানে। হঠাৎই তাকে হাতছানি দিয়ে ডেকেছিল ছেলেটা। পায়েপায়ে ছেলেটার কাছে পৌঁছনোর পর ছেলেটা বলেছিল, ‘দাবা খেলবে?’

    ‘কী নাম তোর?’ জিজ্ঞেস করেছিল ঋষি।

    ‘পেলে।’ মিহি স্বরে জবাব দিয়েছিল ছেলেটা।

    ঋষিকে তার ক্লাসের কোনও ছেলে দাবা খেলায় হারাতে পারেনি কখনও। তার অঙ্কের টিচার সাগ্নিকস্যরও। শ্যামলাটে ছেলেটা সঙ্গে দাবা খেলতে বসার সময় মনে মনে অবজ্ঞাই করেছিল তাকে। ঋষি শুধু অবাক হল না, রীতিমতো চমকে গেল পর পর তিনটে গেমে মাত্র সাতচালে চেকমেট হয়ে। পেলে ঠিক কীভাবে খেলছে, সেটাই বুঝতে পারছে না সে! জেদ চেপে গিয়েছিল ঋষির। পরপর কুড়িটা গেমে গো-হারান হল।

    এই বয়সে কেউ এমন দাবা খেলে কেউ, ঋষির জানা ছিল না। সত্যিই পেলে, ফুটবলের নয়, দাবার!

    ‘তোকে কে শিখিয়েছে দাবা খেলা?’ জিজ্ঞেস করেছিল ঋষি।

    পেলে হাসতে হাসতে জবাব দিয়েছিল, ‘কেউ না গো, নিজে নিজে শিখেছি।’

    সেই শুরু। গত তিনমাসে পেলের সঙ্গে নিয়মিত দাবা খেলেছে সে। প্রথম প্রথম বুঝতে না পারলেও ধীরেধীরে ধরতে পেরেছে। অল বেঙ্গল দাবা টুর্নামেন্টে ঋষি নাম দিয়েছে শোনার পর পেলে শিখিয়েছে, সে কীভাবে দাবা খেলে। বলেছে, ‘আমার মতো খেলার চেষ্টা করো। দেখবে তোমাকে কেউ হারাতে পারবে না।’

    তা-ই হয়েছে। পেলের মতো খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাই তো ঋষি বেরিয়ে পড়েছে পেলেকে খবরটা দেওয়ার জন্য।

    সন্ধের মুখে পুরোনোপল্লির সেই দোতলা পোড়ো বাড়িটাতে এসে পেলেকে খুঁজে পেল না ঋষি। এই বাড়িতে সে নিয়মিত এলেও পেলে ছাড়া আর কাউকে দেখেনি। সবচেয়ে অবাক করার হল, দিনেরবেলা কখনও পেলেকে দেখেনি ঋষি। সন্ধেবেলাতেই দেখা হয় দুই বন্ধুর। হয়তো ছেলেটা একাই থাকে এখানে। ঋষি অনেকবার জানতে চেয়েছে, ওর বাবা-মা কোথায়? পেলে মিটিমিটি হেসেছে। জবাব দেয়নি। বাড়িটার পিছনে একটা বড় মাঠ রয়েছে। পেলেকে ওখানে পাওয়া যাবে কী? মাঠের দিকে রওনা দিল ঋষি।

    বিকেলে ফুটবল খেলা হয় এই মাঠে। ক্রিকেট প্র্যাক্টিসের জন্য একটা কংক্রিটের পিচও আছে। কেউ একসময় ক্রিকেট কোচিং দিত। বন্ধ হয়ে গিয়েছে অনেকদিন। সন্ধে হয়ে গেলে এদিকে বিশেষ কেউ আসে না। বদনাম আছে জায়গাটার। মাঠে এসে ঋষি দেখল, চাপ চাপ অন্ধকার ঘিরে রেখেছে মাঠটাকে। এখানে আর কে থাকবে? তখনই শুনতে পেল, বটগাছের তলায় কংক্রিটের পিচ থেকে ঠকঠক আওয়াজ ভেসে আসছে। ডিউস বলে ব্যাটিংয়ের সময় ব্যাট-বলের সংঘর্ষে যেমন শব্দ হয়। সন্ধে প্রায় নেমে এসেছে। এখন কে প্র্যাক্টিস করছে এই মাঠে? কৌতুহল হল ঋষির। সে কয়েক পা এগিয়ে গেল মাঠের পশ্চিম কোণের পিচটার দিকে। তার কানে ভেসে এল দুটো বাচ্চা ছেলের গলা।

    আবছা অন্ধকারে ঋষি দেখল একটা ছেলে বাঁহাতে পেস বোলিং করছে। বেশ জোর রয়েছে ছেলেটার বলে। কিন্তু প্রায়ান্ধকারেও সেই বল অবলীলায় খেলে দিচ্ছে বছর সাত-আটের একটা ছেলে। বোলারটা খুব অবাক হচ্ছে। সে ফিরে যাচ্ছে রানআপে। পূর্ণগতিতে বল করছে আবার। কিন্তু ড্রাইভ অথবা কাট করে দিচ্ছে সেই বাচ্চা ছেলেটা। আশ্চর্যের বিষয় হল, সেই ছেলেটা প্যাড, গ্লাভস পরে নেই। তবু তার খেলতে অসুবিধা হচ্ছে না।

    —তুই কি অন্ধকারেও আমার বল দেখতে পাচ্ছিস?

    —কই, অসুবিধা হচ্ছে না তো!

    —বলটা কি ঠিকঠাক করতে পারছি?

    —হচ্ছে। তবে লাইন আর লেথে সমস্যা আছে। তুমি বলটা গুডলেংথ থেকে কোণাকুণি অফস্টাম্পের মাথায় রাখো। তাহলে খেলতে সমস্যা হবে।

    —চেষ্টা করছি তো। হচ্ছে না।

    —হবে, হবে।

    —স্কুল টিমে এবার চান্স পাবো তো রে?

    —আমি যেমন বলছি, করে যাও। স্কুল টিমে ঠিক চান্স পাবে।

    ছেলেটা আবার রানআপে ফিরছে। অন্ধকার ছেয়ে গিয়েছে চারদিকে। তবু বড্ড প্রত্যয়ী দেখাচ্ছে বাঁহাতি পেস বোলারটাকে। পেলের কাছে রোজ দাবায় হারতে হারতে এইরকম জেদ ফুটে উঠত ঋষির মধ্যেও।

    ঠান্ডা হাওয়া বইছে। আকাশের কোণে মস্ত কালো মেঘ ঝুলছে। বৃষ্টি আসছে। বাঁহাতি পেস বোলারটা রানআপে দৌড় শুরু করার ঠিক মুখে আকাশের এককোণে বিদ্যুতের চিলতে রেখা ঝলসে উঠেই মিলিয়ে গেল। ক্ষণিকের ওই আলোয় ঋষি দেখল, পিচে আবার স্টান্স নিচ্ছে শ্যামলা মতো রোগাপাতলা একটা বাচ্ছা ছেলে।

    পেলে!

    সমাপ্ত

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচন্দ্রলেখা অন্তর্ধান রহস্য – অভিরূপ সরকার
    Next Article আপনমনে – রবি ঘোষ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }