Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশন – অভিষেক সেনগুপ্ত

    লেখক এক পাতা গল্প174 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মিডিয়াম

    একেই বোধহয় বলে আকাশ ভেঙে পড়া। গলগল করে জল ঝরছে। খড়খড়ে, তীক্ষ্ণ শব্দে। পতনের তীব্রতায় এক-একটা জলকণা ভেঙে গিয়ে কুয়াশার মতো বলয় তৈরি করছে। একহাত দূরের কিছু দেখা যাচ্ছে না। সঙ্গে দাপিয়ে বইছে জোলো বাতাস। শনশন আওয়াজটা যেন বেড়েই চলেছে। হাওয়ার ক্রমাগত ঝাপটায় নুইয়ে পড়ছে লম্বা-লম্বা গাছগুলো। মটমট শব্দ তুলে সেগুলো ভারমুক্ত হচ্ছে ডালপালা খসিয়ে। টিনের চাল, জামাকাপড়, গাছের শুকনো ডাল, সাইনবোর্ড, ত্রিপল, ভাঙা চেয়ার, বালতি দলবেঁধে উড়ে যাচ্ছে বাতাসের তোড়ে। মানব সভ্যতা মুছে দিতে চাইছে যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পাড়াটা এখন প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকারে তলিয়ে। একচিলতে আলোর রেখাও দেখা যাচ্ছে না। মুহুর্মুহু বিদ্যুতের চমকে গুঁড়োগুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে কালচে রাত। ঘনঘন বিস্ফোরণ হচ্ছে মেঘের অস্থির ঘষটানিতে।

    লেক প্লেসের মোড়ে চায়ের দোকানটাতে গুটিসুটি মেরে বসে রয়েছে ‘দেখে নেবো’। একে ডিসেম্বরের রাত, তার ওপর অবিরাম বৃষ্টিতে আপাদমস্তক ভিজে ঠকঠক করে কাঁপছে সে। তার জট পাকানো চুল, দাড়িগোঁফের জঙ্গল থেকে টপটপ করে ঝরছে জল। চায়ের এই দোকানটা অনেক রাত অবধি খোলা থাকে। একটু দূরে লেকমার্কেট। একদিকে সাদার্ন অ্যাভিনিউ। অন্য দিকে গড়িয়াহাট। জায়গাটা সবসময় যে কারণে জমজমাট। ছেলে-ছোকড়াদের ভিড় লেগেই থাকে। দিন দুয়েক হল এই শহরে তীক্ষ্ণ নখ বসিয়েছে শীত। সন্ধের পর থেকেই মনে হচ্ছিল, তেড়ে বৃষ্টি আসছে। রাত ছোঁয়ার আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল চায়ের দোকানটা। বৃষ্টির তাণ্ডব শুরু হতেই চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়েছে দেখে নেবো। কালচে, ময়লাটে শতছিন্ন শার্টের ওপর ছেঁড়াখোড়া একটা পাতলা কম্বলে জড়ানো তার শরীর। ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে সে। ছেঁড়াফাটা চটের থলিটা বুকের কাছে আঁকড়ে ধরেছে দেখে নেবো। তার একজোড়া অস্থির লালচে চোখ কেঁপে কেঁপে উঠছে বিদ্যুতের চমকে। বিড়বিড় করে কিছু বলছে সে। ভয়ে মুখ লুকোচ্ছে দু’হাতের তালুতে। গাছের শুকনো ডালের মতো আঙুলের লম্বা কালো বাঁকা নখে কেটে যাচ্ছে তার মুখ।

    দেখে নেবো নতুন এসেছে এ পাড়ায়। চায়ের দোকানটার সামনে বসে থাকে সারাদিন। আর পাঁচটা পাগলের থেকে সে একটু আলাদা। তার মধ্যে উগ্রতা নেই। গায়ে পড়াও নয়। তার স্বভাব ঠান্ডা। শুধু হঠাৎ-হঠাৎ ‘দেখে নেবো’ বলে চিৎকার করে। তাই এ পাড়া তার নাম দিয়েছে ‘দেখে নেবো’। দিনভর ফুটপাথে কৃষ্ণচূড়া গাছটার তলায় বসে থাকে সে। রাত হলে চায়ের দোকানটায় ঢুকে পড়ে।

    তুমুল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে দেখে নেবো-র অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। মুখে তীব্র যন্ত্রণা। লাল চোখদুটো ঠেলে বেরিয়ে আসছে। তার দু’হাতের তালু থেকে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ঝরচ্ছে। দু’পায়ের চেটোতে যেন কাঁটা ফুটেছে। নাভির কাছটা প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছে সে। বুকে কিছু একটা বিঁধে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। গলার আপেলটা ভীষণ জ্বালা করছে। অসহায়, উদভ্রান্তের মতো এদিক-ওদিক তাকায় দেখে নেবো। যে তীব্রতা নিয়ে বৃষ্টি পড়ছে, অন্তত রাতভর থামার লক্ষণ নেই। অফুরন্ত বর্ষণে ডুবে গিয়েছে রাস্তা। ফুটপাথেও জল উঠে পড়বে আর কিছুক্ষণের মধ্যে। বিভ্রান্ত, দিশেহারা, ভয় পাওয়া দেখে নেবো বেরিয়ে পড়ে চায়ের দোকান থেকে। হুড়মুড় করে পড়তে থাকা তির্যক অসংখ্য জলকণা সঙ্গে সঙ্গে ঘিরে ফেলে তাকে।

    ২

    ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে রাতের কলকাতা দেখছে সুরজিৎ। এইরকম দুর্যোগের রাত খুব একটা নামে না পৃথিবীতে। ঘন কালো আকাশ ছেয়ে রয়েছে শহরের মাথায়। লেক রোডের এই তিনতলা বাড়ি থেকে শহরের অর্ধেকটা দেখা যায়। প্রবল বৃষ্টি, ঝড়ের তাণ্ডব আর শীতের প্রকোপে পুরো শহরটা এখন অন্ধকারে ডুবে। একবিন্দু আলো দেখা যাচ্ছে না। ধোঁয়ার একটা আস্তরণ পুরো শহরটাকে যেন গ্রাস করে ফেলেছে। এইরকমই একটা রাত তার দরকার ছিল।

    রিস্ট ওয়াচে এখন একটা বাজতে পাঁচ। তিনতলায় সুরজিৎ একা থাকে। দোতলায় দাদা অভিজিতের পরিবার নিয়ে বাস। তারা ঘুমিয়ে পড়েছে। নীচেরতলায় অফিস। তিনতলা থেকে সুরজিৎ নেমে এল একতলায়। এই বাড়ির প্রতিটা স্কোয়ার ফুট তার ছেলেবেলা থেকে চেনা। অন্ধকারে কোনও অসুবিধা হল না। কোণের দিকের ঘরটার সামনে এসে পেন্সিল টর্চটা জ্বালাল সুরজিৎ। প্রায় নিঃশব্দে দরজাটা খুলে ঢুকে পড়ল ভিতরে। এই ঘরের চাবি সুরজিতের কাছেই থাকে। সে ছাড়া অন্য কেউ ঢোকে না। ঘরটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। কোণে পরিপাটি করে গোছানো একটা টেবল ও চেয়ার ছাড়া আর কোনও ফার্নিচার নেই। এমব্রয়ডারি করা সাদা টেবলক্লথ পাতা। সুরজিৎ চেয়ারে এসে বসল। ড্রয়ার খুলে তিনটে মোমবাতি বের করে জ্বালাল। মোমের নরম আলোতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ঘরটা। আর একবার হাতঘড়িটা দেখে নিশ্চিত হল সে। ঠিক একটা বাজছে। উপযুক্ত সময় উপস্থিত। টেবলের সামনের দেওয়ালটাতে বড় সাইজের পিচবোর্ড ঝুলছে। ড্রয়ার থেকে একটা এ-ফোর সাইজের ছবি বের করল সুরজিৎ। জট পাকা চুল, দাড়ি-গোঁফের জঙ্গলে ভরা একটা মুখ। অস্থির, উদভ্রান্ত একজোড়া লালচে চোখ। গতকাল পাগলটার ছবি তুলেছে সে। চারটে পিন দিয়ে বোর্ডের সঙ্গে ছবিটা সেঁটে দিল সুরজিৎ। ড্রয়ার থেকে বের করল চার ইঞ্চি সাইজের একটা কাপড়ের পুতুল, ছোট আয়না, কিছু শুকনো ফুল ও সাতটা বড়মাপের পেরেক বা গজাল।

    গা থেকে টি-শার্টটা খুলে দেশলাই বক্সের মাপে ছোট আয়নাটা গলায় ঝুলিয়ে নিল সুরজিৎ। ব্লেড দিয়ে চিড়ল বাঁহাতের তালুটা। ফোঁটা ফোঁটা রক্ত জমা হচ্ছে বাঁহাতের তালুতে। একটা পেরেকের ডগা রক্তে ডুবিয়ে ছবির ওপর কাপড়ের পুতুলটার একটা হাত গেঁথে দিল। চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে সুরজিৎ বলে উঠল, ‘নিহোনো মাহো নিনগো’!

    আর একটা পেরেক দিয়ে গাঁথল পুতুলের আর একটা হাত। সুরজিৎ মন্ত্রের মতো ফের উচ্চারণ করল, ‘নিহোনো মাহো নিনগো’। দুটো পা, নাভি, বুক, গলায় পর পর গেঁথে দিল বাকি পেরেকগুলো। রক্তাক্ত বাঁ হাতটা বুলিয়ে দিল সারা পুতুলটায়। কাপড়ের ছোট্ট পুতুলটা রক্তে ভিজে গিয়ে চকচকে হয়ে উঠেছে। শুকনো ফুল গুড়িয়ে ছড়িয়ে দিল বোর্ডটার নীচে। গলায় ঝোলানো আয়নাটা সে তুলে ধরল পুতুলের সামনে। যেন পুতুলটা নিজের মুখ দেখবে আয়নায়! সুরজিতের ঠোঁট নড়ে উঠল আবার, ‘নিহোনো মাহো নিনগো। মেয়োসামাসু, মেয়োসামাসু, মেয়োসামাসু!’

    ঘরের বাতাস এই মুহূর্তে ভারী হয়ে উঠেছে। তিরতির করে কাঁপছে মোমবাতি তিনটের শিখা। একটা কালো ছায়া ক্রমশ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে ঘরের মধ্যে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মৃদু কম্পন দেখা গেল ছোট্ট পুতুলটায়। সুরজিৎ যেন এই মুহূর্তের অপেক্ষাতেই ছিল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল একচিলতে নিষ্ঠুর হাসি।

    ৩

    অঙ্গিরার আজ কিচ্ছু ভালো লাগছে না। এইসব দিনগুলোয় দিগন্তকে বড্ড মনে পড়ে। জীবন যে তাকে এতটা নিঃসঙ্গতা দেবে, কখনও ভাবেনি। মাঝেমাঝে মনে হয়, সব ছেড়েছুড়ে চলে যাবে কোথাও। যেখানে কোনও পিছুটান থাকবে না। যেখানে কেউ চিনবে না তাকে। ঢিলেঢালা একটা জীবন কাটিয়ে দেবে সে। এক-একসময় মনে হয়, মায়ার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে কোনও একটা বেসরকারি অ্যাসাইলামে বাঁধনকে রেখে দিলে ভালো করত। মাঝেমাঝে গিয়ে দেখে আসত। তারও তো নিজের জীবন আছে। অপ্রাপ্তি আছে, চাহিদা আছে। থমকে থাকা নির্বাক কিছু স্বপ্ন আছে। পরিমিত জীবন নিয়ে বড্ড হাঁপিয়ে উঠেছে সে। বাঁধনের জন্যই অঙ্গিরা চাইলেও নিজের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে পারে না। বাঁধনে বাঁধা পড়ে গিয়েছে সে। দিগন্ত তার পাগল বোনটাকে খুব ভালোবাসত। তার কথা ভেবেই বাঁধনের দায়িত্বটা এড়িয়ে যেতে পারে না অঙ্গিরা।

    রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে দুর্যোগটা বাড়ছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির সঙ্গে তুমুল ঝড়। ঘনঘন বাজ পড়ার শব্দ বন্ধ জানলা দিয়ে ছিটকে ঢুকে পড়ছে ঘরে। চার দেওয়ালের মধ্যে থইথই করছে মৃদু জোলো গন্ধ। এমন রাত অঙ্গিরা আর কখনও দেখেনি। এই রাতগুলো ডিপ্রেশন বাড়িয়ে দেয়। চারপাশের শূন্যতা যেন আরও নিঃস্ব করে দেয়। ইদানীং অঙ্গিরার ছটফটানি বেড়েছে। জীবনকে বড় বেশি মাত্রায় দমবন্ধ করা মনে হয় তার। একাকীত্ব প্রতিটা রাতে তাকে পোড়ায়, জ্বালায়, ছাড়খাড় করে। ঘুম খোঁজে অঙ্গিরা। এক দীর্ঘ শান্তির ঘুম।

    উত্তরদিকের যে ঘরটাতে আধশোয়া হয়ে রয়েছে অঙ্গিরা, সেটা তার আর দিগন্তের বেডরুম ছিল। এই ঘরে পা দিলে স্মৃতি ভিড় করে আসে। টেবলের ছোট ফটোস্ট্যান্ডে এখনও তাদের হানিমুনের ছবি রয়েছে। দিগন্তের রিস্টওয়াচের শখ ছিল। শোকেসে সার দিয়ে সাজানো ঘড়িগুলো এখনও টিকটিক করে সময় দিয়ে চলছে। শুধু তারই সময়টা থমকে গিয়েছে। চিরতরের জন্য। রোজ রাতে ফেলে আসা টুকরো টুকরো স্মৃতি ঘেঁটে ঘুমের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে অঙ্গিরা। কিন্তু আজ এই ঘরে পা দেওয়ার পর থেকে নিজেকে আর সামলাতে পারছে না। তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। মিহি জলের গুড়োয় ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে তার বর্তমান, তার অতীত।

    মাত্র আড়াই বছরের দাম্পত্য ছিল তাদের। তার আগে বছরখানেকের প্রেম। ভীষণ নরম স্বভাবের ছিল দিগন্ত। বিশ্বাস করত মানুষকে। ভালোবাসতে জানত। অচেনা যে কেউ খুব দ্রুত তার কাছের মানুষ হয়ে উঠত। একটা উচ্ছ্বল শিশু বাস করত ওর মধ্যে। দিগন্তের এই স্বভাবটাই চুম্বকের মতো টেনে ছিল অঙ্গিরাকে। স্বার্থপর এই দুনিয়াতেও এমন বিরল কেউ কেউ আছে! বিয়ের পর হইহই করে পেরিয়ে যাচ্ছিল দিনগুলো। ঘুরে বেড়ানো নেশা ছিল দিগন্তের। একটা ট্রলিব্যাগ সব সময় গোছানো থাকত। বিয়ের আগে অঙ্গিরা ততটা ঘোরার সুযোগ পায়নি। সেও দিগন্তের ফ্রিকোয়েন্ট ট্রাভেলার পার্টনার হয়ে উঠেছিল। অঙ্গিরার এখনও মনে হয়, বছরখানেক আগে সিমলা বেড়াতে যাওয়ার জন্য সে ঝোঁক না ধরলেই ভালো করত। তা হলে তার জীবনটা আর অন্ধকারে তলিয়ে যেত না।

    সিমলা যাওয়ার পথে রাস্তার ধারে একটা ছোট্ট ক্যাফে থেকে কফি আর স্ন্যাকস আনতে নেমেছিল অঙ্গিরা। গাড়িটা পার্ক করা ছিল রাস্তার ধারে। সেদিন শীত যেন অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছিল পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে। ক্যাফেতে দাঁড়িয়ে অঙ্গিরা দেখেছিল, গাড়িটা গড়িয়ে যাচ্ছে খাদে। সে ছুটে আসতে আসতে সব শেষ। দিগন্ত ছাড়া ওই গাড়িতে ড্রাইভার আর অনুলেখাও ছিল। ঘণ্টাখানেক পর রেসকিউ টিম এসেছিল। কিন্তু ওদের কাউকে বাঁচাতে পারেনি।

    একবছর পেরিয়ে গেছে ওই ঘটনার। তবু এই ঘরে এলে চোখ ভিজে যায় অঙ্গিরার। যে কারণে সে সাধারণত দক্ষিণ দিকের বেডরুমটাতেই শোয়। আজ বাঁধন কিছুতেই এই ঘরে শুতে চাইল না। দক্ষিণ দিকের বেডরুমটাই তার পছন্দ। মেয়েটা কোনও ঝোঁক ধরলে সামলানো যায় না। কাল সকালে কোম্পানির বোর্ড মিটিং। দিগন্ত মারা যাওয়ার পর কোম্পানিটা দেখতে হচ্ছে তাকে। ‘প্রাইড সিমেন্টস’ দেশের প্রথমসারির কোম্পানি। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর অঙ্গিরা বুঝতে পারছে, হিসেবে প্রচুর গরমিল রয়েছে। প্রোডাকশন যা দেখানো হচ্ছে, তার অর্ধেকও হয় না। অঙ্গিরা ঠিক করেছে তার ভাগের শেয়ার বিক্রি করে দেবে। কিন্তু সেটা নিয়েই দেখা দিয়েছে সমস্যার কালচে মেঘ। অঙ্গিরা কাল একটা হেস্তনেস্ত করবেই।

    ৪

    বিদ্যুতের চকিৎ আলোর ছটায় গোলাপি রংয়ের দোতলা বাড়িটাকে দুধসাদা মনে হচ্ছে। উঁচু, লম্বা পাঁচিলে ঘেরা বাড়িটা। ফুটপাথের ধারে বিশাল কালচে গেট। লাগোয়া ছোট গেটটা টপকে বাড়ির লনে এসে দাঁড়াল দেখে নেবো। বৃষ্টি আর শীতের জোড়াফলায় সিকিউরিটি গার্ড ঘুমিয়ে পড়েছে। কে-ই বা ঘর ছেড়ে বেরোতে চাইবে এই রাতে! দুর্যোগের জন্য পুরো পাড়াটা অন্ধকারে তলিয়ে। একটু আগে ট্রান্সফর্মাটা বার্স্ট করে যাওয়ায় পুরো এলাকায় কোত্থাও কারেন্ট নেই। এই বাড়ির চারদিক সিসিটিভিতে মোড়া থাকে। লোডশেডিং থাকায় দেখে নেবো-র গেট টপকে ঢুকে পড়া যান্ত্রিক নোটবুকে ধরা পড়ল না। সবুজঘাসের লনটা পেরিয়ে নিঃশব্দে বাড়ির দিকে হেঁটে গেল দেখে নেবো। হাতল ঘুরিয়ে আর্কডোরটা খুলে অবলীলায় বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ল দেখে নেবো। তার ফেলে যাওয়া পায়ের ছাপ একেএকে মুছে দিল বৃষ্টির অসংখ্য নতুন ফোঁটা।

    দরজা পেরিয়ে হলঘরে এসে দাঁড়াল দেখে নেবো। তার সারা গা থেকে চুঁইয়ে নামছে জলের ধারা। তার চোখ দুটো অস্বাভাবিক রকম বড় আর ঘোর লালচে দেখালেও এখন কোনও অস্থিরতা নেই। ধীরে, খুব ওঠানামা করছে তার বুক। ছোট্ট ছোট্ট শ্বাস নিচ্ছে দেখে নেবো। মনে হচ্ছে, সে যেন নিজের ইচ্ছেয় এই বাড়িতে আসেনি। তার মধ্যে বাসা বেঁধেছে কোনও চালিকাশক্তি। যাকে উপেক্ষা করা যায় না। যার নির্দেশ মেনে এগিয়ে চলেছে সে। দরজার মুখে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে সিঁড়ি বেয়ে তরতর করে দোতলায় উঠে আসে দেখে নেবো। নিঃশব্দে এগিয়ে যায় দক্ষিণদিকের বেডরুমের দিকে। ঘরের দরজা খোলা। ফিনফিনে রেশমি পর্দা মৃদু উড়ছে। দেখে নেব দরজার সামনে দাঁড়ায় কিছুক্ষণ। রুমের বাঁ দিকে কাচের শাটার দেওয়া জানলাটা একফালি খোলা। ডানদিকে মাস্টারবেড। বিদ্যুতের চমকে সে দেখতে পায়, চাদর ঢাকা দিয়ে বিছানায় গুটিসুটি শুয়ে রয়েছে একটা মেয়ে। নির্দ্বিধায় দেখে নেবো ঢুকে পড়ে ঘরে। নিশ্চিন্ত হেঁটে এসে দাঁড়ায় মাস্টারবেডের সামনে। শক্ত, সবল একটা হাত বাড়িয়ে চাদরের ওপর দিয়ে চেপে ধরে মেয়েটির মুখ। দূরে কোথাও সশব্দে বাজ পড়ল। মুহূর্তের চকিত আলোয় দেখা যায় দেখে নেবোর হাতে চকচকে, ধারাল উদ্ধত একটা ছুরি। মসৃণ তীক্ষ্ণ ফলা দিয়ে গড়াচ্ছে তরল খুনে মাদকতা। দেখে নেবো এলোপাথারি ছুরি চালাতে থাকে মেয়েটার বুকে, পেটে, গলায়।

    ভাঙাচোরা যন্ত্রণায় আচমকা ঘুম ভেঙে গিয়ে দুটো বিস্ফোরিত চোখ তাকিয়ে থাকে দেখে নেবোর দিকে। বিস্ময়, আর্তি, প্রার্থনা, আতঙ্ক মুছে গিয়ে সীমাহীন ক্লান্তি ভর করে আসে তাতে। ধীরে ধীরে চোখ দুটো আবার বন্ধ হয়ে যায়। চিরকালের জন্য।

    ৫

    মোমবাতির আলোয় উজ্জ্বল দেখাচ্ছে ঘরটা। ঘরের দরজা ও জানলা বন্ধ হলেও মৃদু কাঁপছে মোমের শিখা। হয়তো সুরজিতের নিঃশ্বাসে। হয়তো এতক্ষণের জমে থাকা উৎকন্ঠায়। প্রায় ঘণ্টাখানেক হল এই চেয়ারে বসে রয়েছে সে। অপেক্ষা করছে বিশেষ মুহূর্তের জন্য। একটা ইঙ্গিত, যা দেখে সে বুঝতে পারবে, লক্ষ্য পূরণ হয়েছে তার। এখনও টেনশন হচ্ছে তার। এরকম আগেরবার হয়নি। মোমবাতির আলোয় সুরজিৎ দেখতে পেল, যে সাতটা পেরেক দিয়ে বোর্ডের গায়ে, ছবির ওপর গাঁথা পুতুলটা, সেখান থেকে রক্তের ক্ষীণধারা গড়াতে শুরু করেছে। সুরজিতের মুখে আবার ফুটে উঠল নিষ্ঠুর হাসি।

    ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠে সুরজিৎ বলল, ‘আমি, আমি যা চাই, তা-ই পাই। কেউ পারবে না আমাকে আটকাতে। কেউ না। তুমিও না!’

    বছর তিনেক আগে বিজনেস ট্যুরে জাপানের সাপোরোতে গিয়েছিল সুরজিৎ। ওখানকার একটা কোম্পানির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করতে। বড় ডিল ছিল। ওটা নিয়ে সুরজিৎ নিজে কম টেনশনে ছিল না। কোম্পানির কী লাভ হবে, সে সব নিয়ে ভাবেনি। জাপানি কোম্পানির সঙ্গে সিমেন্ট সরবরাহের ডিলটা কনফার্ম করতে পারলে মোটা টাকার কমিশন আসত তার কাছে। সে জন্যই মরিয়া হয়ে উঠেছিল। অনেক জটিলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সব মেটাতে পেরেছিল সুরজিৎ। কাজ মেটার পর সাপোরো ঘোরার জন্য একটা দিন পেয়েছিল। এশিয়ার ওই দেশগুলো বড় রহস্যময়। যে শহর যত পুরোনো, তার আচারে, অনুষ্ঠানে আরও বেশি রোমাঞ্চ লুকিয়ে থাকে। উত্তর জাপানের অত্যন্ত প্রাচীন শহর সাপোরো। ওখান থেকেই এই পুতুলটা কিনেছিল। ফুটপাথ থেকে। লং নামে একটি অল্প বয়সী ছেলে কয়েকদিনের জন্য গাইড ছিল সুরজিতের। তোপো নামে একটা প্রান্তিক গ্রাম দেখাতে নিয়ে যাওয়ার সময় সে শুনিয়েছিল জাপানি পুতুলের অদ্ভুত গল্প। বহুযুগ আগে জাপানের কিছু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ছিল, মাসের একটা নির্দিষ্ট দিন বা সময়ে বিদেহি আত্মাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মন্ত্রবলে কোনও আত্মাকে এই পুতুলে বন্দি রাখতে পারলে, তাকে দিয়ে যে কোনও কাজ করানো যেতে পারে। এই বিশ্বাস ক্রমে উপাচারে পরিণত হয়েছিল। তোপো ছাড়িয়ে একসময় সারা সাপোরোতে ছড়িয়ে পড়েছিল ওই উপাচার। বিভিন্ন অনৈতিক কাজে ওই ধরনের পুতুল ব্যবহার করা হত। এখনও নাকি অনেকে প্রাচীন প্রথা বিশ্বাস করে।

    লং আধুনিক ছেলে। সে হেসে বলেছিল, ‘এখন ওই সব প্রথার চল আর নেই। আমার মনে হয়, পুরো ব্যাপারটাই জনশ্রুতি। পুতুলে আবার আত্মা বন্দি রাখা যায় নাকি!’ একটু থেমে মজা করে সে বলেছিল, ‘তবে আপনি পুতুল কিনতে পারেন। সুভেনির হিসেবে। কখনও ইচ্ছে হলে কাজে লাগাতে পারেন।’

    তোপো একফালি ছোট্ট একটা গ্রাম। একটা মাঝারি বাজার আর তাকে ঘিরে ছোট জনপদ। বাজারটার উল্টো দিকের ফুটপাতের এক কোণে বসে থাকা অশীতিপর বৃদ্ধের সামনে দাঁড়িয়েই লং শুনিয়েছিল তার অবিশ্বাসের কথা। বৃদ্ধ ইংরেজি জানত না। তবু সে কী বুঝেছিল কে জানে, মাথা নেড়ে অন্য কথা বলেছিল। বয়সে ভারে নুব্জ হয়ে পড়া ছোট্ট চেহারার বৃদ্ধ বোধহয় হাবেভাবে বুঝে নিয়েছিলেন লংয়ের কথা। নীচুগলায় জাপানিতে কিছু বলেছিলেন। লং ভাষান্তর করে বলেছিল, ‘উনি বলছেন, পুতুল এখনও কাজ করে। তবে এটাকে কাজে লাগাতে হলে কিছু নিয়ম মানতে হয়।’

    নেহাতই কৌতুহলবশত পুতুলটা কিনেছিল সুরজিৎ। বৃদ্ধ জাপানিতে লেখা একটা কাগজ দিয়েছিল হাতে। পুতুল ব্যবহারের পদ্ধতি লেখা ছিল তাতে। লং কাগজটা ইংরেজিতে অনুবাদ করে দিয়েছিল। ওতেই ছিল মন্ত্রটা— নিহোনো মাহো নিনগো, মেয়োসামাসু! যার অর্থ হল, জাগো জাদু পুতুল, জাগো! এই পুতুল সরাসরি কাজ করে না। একটা মিডিয়াম বা মাধ্যম লাগে। যাকে দিয়ে কাজটা করায়। যাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে, তার ছবির ওপরে এই পুতুলটাকে গেঁথে দিতে হয় সাতটা পেরেক দিয়ে। পেরেকগুলো গাঁথার সময় যে পুতুলকে জাগাচ্ছে, তার রক্তে ডুবিয়ে নিতে হয়। তিনটে মোমবাতি জ্বালতে হয় সামনে। যে পুতুলকে জাগ্রত করবে, তার গলায় থাকবে একটা বিশেষ মাপের আয়না। যে আয়নায় পুতুল দেখবে তার মাধ্যমের মুখ। যার গলায় এই আয়না থাকবে, তার সঙ্গে একটা যোগসূত্র তৈরি হয়ে যায় পুতুলের। মনে-মনে সে যাকে স্মরণ করবে, মাধ্যমকে দিয়ে তাকেই খুন করাবে এই পুতুল!

    সুরজিতের মনে এতক্ষণ একটা তীব্র ভয় কাজ করছিল। সাপোরোর ওই বৃদ্ধ যে পদ্ধতিতে পুতুল জাগাতে বলেছিল, সেটা এর আগেও সফলভাবে করেছে সে। তবে তাকে সতর্ক করে দিয়েছিল, আয়নায় যেন ব্যবহারকারীর মুখের প্রতিবিম্ব ধরা না পড়ে। তাহলে বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, তখন ওই দ্বিতীয় মুখের মালিককেও খতম করবে পুতুল। একটু আগে সেই কাণ্ডটাই উত্তেজনার বশে ঘটিয়ে ফেলেছে সুরজিৎ। পুতুলটা নড়ে ওঠার পর আয়নাটা উল্টে রাখতে হয়। গলা থেকে খুলে উল্টে রাখার সময় হাত ফস্কে টেবলে পড়ে যায় আয়নাটা। আর ওই কালচে দেশলাই খোলের মতো আয়নাটাতে সে নিজের প্রতিবিম্ব দেখছে। প্রাণ সঞ্চার হওয়া পুতুলটাও কি দেখেছে তার প্রতিবিম্ব? কিছুতেই নিশ্চিত হতে পারছে না সুরজিৎ। চাপা উত্তেজনা কাজ করছে তার মধ্যে।

    পুতুলটা দিকে এক মনে তাকিয়ে রয়েছে সুরজিৎ। যে সাতটা পেরেক দিয়ে গাঁথা, সব ক’টা ক্ষত স্থান দিয়ে তাজা রক্ত ঝরছে। তার মানে কার্যসিদ্ধি হয়েছে। সুরজিতের মুখে হাসি ফুটে উঠেই হারিয়ে গেল। শুধু পুতুল নয়, এখন মিডিয়াম, মানে ওই পাগলটার বড় বড় দুটো লালচে চোখ থেকেও রক্ত ঝরছে। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেল সুরজিৎ। এমন তো হওয়ার কথা নয়। আগের বার যখন ব্যবহার করেছিল সে, তখন তো হয়নি। অজানা আশঙ্কায় তার গায়ের সমস্ত রোম খাড়া হয়ে গেল। একটা ঠান্ডা ভয় ক্রমশ চেপে ধরছে তাকে। পুতুলটা কি আবার সামান্য নড়ে উঠল? নাকি চোখের ভুল তার? তাহলে কি সত্যিই এখন তার ওপর বদলা নেবে পুতুলটা? সে ঝট করে পাগলটার ছবির ওপর থেকে খুলে ড্রয়ারে ঢুকিয়ে ফেলল জাপানি পুতুলটাকে।

    জাপান থেকে আনার পর এই পুতুলটার কথা ভুলে গিয়েছিল সুরজিৎ। পুতুলটার কথা মনে পড়েছিল সেদিন, যেদিন তার চুরি ধরে ফেলেছিল দিগন্ত। সে আর দিগন্ত মিলে খুলেছিল ‘প্রাইড সিমেন্টস’। ডিরেক্টর্স বোর্ডে সে আর দিগন্ত ছাড়া আরও পাঁচ সদস্য রয়েছে। বাজারে অন্য কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তাদের কোম্পানি বেশ ভালোই চলছিল। একটি প্রতিযোগী সংস্থা বিপুল টাকায় কিনে ফেলেছিল সুরজিৎকে। সে জল মেশাতে শুরু করেছিল, হিসেবে, প্রোডাকশনে। শুরুতে কিছুই বুঝতে পারেনি দিগন্ত। একসময় ধরে ফেলে। দিগন্ত মানুষটা ভালো ছিল। বিশ্বাস করত তাকে। তার চুরি ধরে ফেলার পরও তার বিরুদ্ধে বড় কোনও স্টেপ নেয়নি। বন্ধুকে বোধহয় একটা শেষ সুযোগ দিতে চেয়েছিল। অঙ্গিরাকেও কিছু বলেনি তার সম্পর্কে। তাকে শুধু বলেছিল, সুরজিৎ যেন তার শেয়ারটা বিক্রি করে দেয়। দিগন্তই কিনে নেবে। কিছুদিন পরেই সিমলা বেড়াতে যায় দিগন্ত। অনুলেখা আর তাকেও যেতে বলেছিল অঙ্গিরা। সুরজিৎ নিজে না গেলেও অনুলেখাকে পাঠিয়েছিল ওদের সঙ্গে। সুরজিতের মাথায় তখন আগুন জ্বলছে। সে ঠিক করে ফেলেছিল, ছাড়খাড় করে দেবে দিগন্তের দুনিয়া। তাকে বাঁচতে দেবে না। জাপানি পুতুলটা ব্যবহার করার কথা তখন মাথায় এসেছিল তার। সুরজিৎ নিজে না গেলেও ওদের ট্রিপটা প্ল্যান করে দিয়েছিল। জুবারহাট্টি এয়ারপোর্ট থেকে যে গাড়িতে করে সিমলা শহরে যাওয়ার গাড়ি বুক করা হয়েছিল, তার ড্রাইভারের ছবি হোয়াটস অ্যাপে পাঠিয়েছিল কার এজেন্সি। বাকি কাজটুকু সারতে সমস্যা হয়নি তার। কিন্তু অঙ্গিরা বেঁচে গিয়েছিল। ওই সময় সে গাড়িতে ছিল না। এর জন্য কম আফসোস ছিল না সুরজিতের। কফি শপে অঙ্গিরা নেমেছে, যদি জানতে পারত, আর একটু পরে জীবিত করত পুতুলটাকে। তবে অনুলেখাকে মারতে চায়নি সুরজিৎ। সে দুর্ঘটনার শিকার।

    আজ এই দুর্যোগের রাতে আবার জাদু পুতুলটাকে জাগিয়েছে সুরজিৎ। কারণ, তার চুরি এবার ধরে ফেলেছে অঙ্গিরা। বোর্ডের বাকি তিন ডিরেক্টর সুরজিতের হাতে। কিন্তু অঙ্গিরা, সে এখন আর বিশ্বাস করে না সুরজিৎকে। দিগন্ত মারা যাওয়ার যখন অঙ্গিরা দায়িত্ব নিল কোম্পানির, তখন থেকেই একটা ব্যাপার মাথায় ঘুরছিল সুরজিতের, যদি অঙ্গিরাকে সে বিয়ে করতে পারে, তাহলে পুরো কোম্পানিটাই তার হবে। ওটাকে বিক্রি করে আবার অন্য ব্যবসা শুরু করবে। সুরজিতের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল মেয়েটা। দিগন্ত এখনও নাকি বাস করে তার মধ্যে। সে আর অন্য কাউকে আর বিয়ে করতে পারবে না। যত্তসব বাজে সেন্টিমেন্ট! সুরজিৎকে বোধহয় তখন থেকেই অবিশ্বাস করতে শুরু করেছিল অঙ্গিরা। সুরজিৎ যখন শুনল, কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে দিতে চায় অঙ্গিরা, সে-ই কিনে নিতে চেয়েছিল। অঙ্গিরা রাজি হয়নি।

    প্রকান্তরে সুরজিৎ সোজা কথাটা সেদিনই বলে দিয়েছিল তাকে, কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করলে তাকেই করতে হবে, অন্য কাউকে নয়। অঙ্গিরা রাজি হয়নি। বাধ্য হয়েই আজকের রাতটা বেছে নিয়েছে সুরজিৎ। অঙ্গিরাকে মারতে কষ্টই হচ্ছিল। সে একটু হলেও ভালোবেসে ফেলেছিল মেয়েটাকে। তার নরম, আলতো মিষ্টি মুখটা ভেসে উঠছিল বারবার। কিন্তু কিছু করার নেই। চরম সিদ্ধান্তটা নিতেই হত। এতদিন ধরে যে দাবার বোর্ডটা তিলতিল করে সাজিয়েছে সে, একটা সামান্য বোড়ে তাকে কিস্তিমাৎ দিয়ে যাবে, তা হতে পারে না। লেক প্লেসে দিগন্তদের বাড়ির প্রতিটা ইঞ্চি মুখস্ত সুরজিতের। সে খুব ভালো করে জানে বাঁধন এখন দিগন্তের বেডরুমে শোয়। সাউথএন্ড রুমটা অঙ্গিরার বেডরুম। পুতুলটাকে জাগানোর পর ওই রুমটাই ভেসে উঠেছিল তার চোখের সামনে। আর বিছানায় ঘুমে আচ্ছন্ন একটা মেয়েলি শরীরের অবয়ব।

    টেবলের ড্রয়ার থেকে খটখট আওয়াজ আসছে। পুতুলটা বোর্ড থেকে নামিয়ে একটু আগে ওখানে রেখেছে সুরজিৎ। ওটা কি বেরিয়ে আসতে চাইছে? প্রচণ্ড ভয় পেয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল সুরজিৎ। বাইরে এখনও প্রবল বৃষ্টি পড়ছে। শীতের শহরকে আরও হীমশীতল করে তুলেছে বৃষ্টি। তবু এই ঠান্ডাতেও সে রীতিমতো ঘেমে যাচ্ছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে তার। দু’হাতের তালু ক্রমশ ভিজে যাচ্ছে। মৃত্যুভয় জমাট কালো ছায়ার মতো ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলছে তাকে। সে কি দোতলায় গিয়ে অভিজিৎকে বলবে? বিশ্বাস করবে না হয়তো। বাইরে বৃষ্টিপাতের গতিবেগ আরও বেড়েছে। বাজ পড়ছে ঘনঘন। প্রাকৃতির তাণ্ডবের নিজস্ব সাউন্ড এফেক্ট থাকে। যে শোনে, তার বুকে আছড়ে পড়ে আদিম সুর। সুরজিৎ প্রতিবার ভয় পাচ্ছে। ঘরের অন্ধকার কোণ, টেবলের তলায় জমা নিবিড় নিকষ কালো, এমনকি তার অস্পষ্ট ছায়া পর্যন্ত চমকে দিচ্ছে তাকে। বৃষ্টির ধারাপাত আর বজ্রপাতের কোরাস ছাপিয়ে মৃদু ছপ-ছপ আওয়াজ শুনতে পেল সুরজিৎ। রাস্তায় এতক্ষণে নিশ্চয় হাঁটু জল জমে গেছে। সেই জল ভেঙে কেউ আসছে! দ্রুত পায়ে কেউ আসছে তার বাড়ির দিকে।

    সুরজিৎ কান খাড়া করে শোনার চেষ্টা করল। ছপ-ছপ শব্দটা এসে থেমেছে তার বাড়ির দরজায়। বাইরে কি কেউ এসেছে? এত রাতে? একটু কি সময় নিল সে? কাঠের দরজার ওপর ভারী হাতের আঘাতও শুনতে পেল কি?

    ঠকঠক ঢোঁক গিলে অস্পষ্ট স্বরে সুরজিৎ বলে উঠল, ‘কে?’

    নৈশব্দেরও নিজস্ব ভাষা আছে। ঘরের নীরবতা চুরমার করে দরজার বাইরে থেকে ভাঙাচোরা ঘষা গলা ভেসে এল, ‘দেখে নেবো!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleচন্দ্রলেখা অন্তর্ধান রহস্য – অভিরূপ সরকার
    Next Article আপনমনে – রবি ঘোষ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }