Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    সৌমিত্র বিশ্বাস এক পাতা গল্প257 Mins Read0
    ⤷

    হাড় – সৌমিত্র বিশ্বাস

    হাড়

    ‘বাবা ওই দুর্গম পাহাড়ে উঠব’ বলে রাজা, আমার সাত বছরের ছেলে, এমন চেঁচামেচি জুড়ল যে বাধ্য হয়েই গাড়ি থামাতে হল। নইলে খোলা মাঠের মাঝখানে একটা উঁচু মাটির ঢিবি দেখে কে আর সাধ করে নামতে যাবে?

    অন্য সময় হলে হয়তো রাজাকে এক ধমকে থামিয়ে দেওয়া যেত, কিন্তু ওর ছোট্ট করুণ মুখটা দেখে বড্ড মায়া লাগল। মোটে তো এই পাঁচটা দিন আমার কাছে খোলামেলা পরিবেশের মধ্যে থাকবে। কাজেই যা ইচ্ছে করে করুক। তাছাড়া আমাদেরও তো ঘরে ফেরার তাড়া নেই। ঢিবির চুড়োয় বসে সূর্যাস্ত দেখে ফিরলেই বা ক্ষতি কী?

    সরকারি চাকরির একটু উঁচু পদে থাকলে একটাই মুশকিল। গোটা পশ্চিমবঙ্গের যে কোনও জায়গায় বদলি হবার জন্যে তৈরি থাকতে হয়। সেই রীতি অনুযায়ীই আমাকেও কলকাতার বাড়ি আর সংসার ছেড়ে আপাতত মালদাবাসী হতে হয়েছে। সানি পার্কে একটা একতলা ভাড়া নিয়ে একলাই থাকি। এদিকে বিশাখার অফিস আর রাজার স্কুল দুইই কলকাতায়। ফলে ওরা যে আমার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরবে সে উপায় নেই।

    যদিও আমি চেষ্টা করি শুক্রবার রাত্তিরে গৌড় এক্সপ্রেস ধরার কিন্তু প্রতি সপ্তাহে তো আর হেড কোয়ার্টার ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই ফাঁকফোকর পেলেই ওরাও চলে আসে। এখনই যেমন, স্কুলে খৃষ্টমাসের ছুটি পড়তেই দিন পাঁচেকের ছুটি ম্যানেজ করে বিশাখা রাজাকে নিয়ে চলে এসেছে। পরশু রাত্তিরে ওদের ফেরার ট্রেন। গত দুদিনে ওদের নিয়ে প্রচুর ঘুরেছি।

    যাই হোক, বায়না শুনে ছোটু গাড়ি দাঁড় করাতেই একলাফে নিচে নেমে তীরের বেগে রাজা দৌড় দিল ঢিবিটার দিকে। পাছে পড়ে যায়, তাই পেছন পেছন আমিও দৌড়োলাম। বিশাখা ধীরেসুস্থে আসছে।

    দূর থেকে যাইই মনে হোক, কাছে এসে দেখি ঢিবিটা একদম খাড়া নয়, বেশ হেলানো। ফলে ওপরে উঠতে অসুবিধে হবে না। তবে বেশ উঁচু, অন্তত আট দশ মিটার তো বটেই আর এমনভাবে মাঠটাকে দ্বিধাবিভক্ত করে উত্তর-দক্ষিণে চলে গিয়েছে যে ঠিক যেন একটা পাঁচিল।

    আবাদ জমি নয়, এমনিই ফাঁকা মাঠ একটা। মাঝে মাঝে বিবর্ণ নেতানো ঘাসের গুচ্ছ আর শুকনো পাতা। একপাল ছাগল আর গোটা ছয়েক গোরু চরে বেড়াচ্ছে। বাড়িঘর তো দূরের কথা, ত্রিসীমানায় কোনও লোক নেই, এমনকি একটা পাখিও ডাকছে না। যেখান দিয়ে রাজা ওপরে উঠছে, তার খানিকটা আগে একটা বিশাল আমগাছ। মালদার আমবাগানগুলো ইতিমধ্যেই আমার ঘোরা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এত বড় একটা গাছ আমার চোখে পড়েনি আগে।

    রাজা তো দৌড়ে উঠে গিয়েছে আর ওকে ধরার জন্যে পেছন পেছন উঠতে গিয়ে সম্পূর্ণ অকারণেই আমার মনে হল ঢিবিটার ওপরে ওঠা বোধ হয় ঠিক হচ্ছে না, নেমে আসি। জায়গাটা হয়তো ভালো নয়। কেমন যেন একটা ভ্যাপসা গন্ধ এসে দম বন্ধ করে দিচ্ছে। এই যে উঁচুতে উঠছি অথচ গায়ে একটুও হাওয়া লাগছে না, এরকম আবার হয় নাকি? হতে পারে যে ওঠার পরিশ্রমে বাতাস টের পাচ্ছি না, কিন্তু তাও কেমন যেন একটা লাগছে।

    আর তারপরে ওপরে উঠে সামনে তাকাতেই চোখ জুড়িয়ে গেল। ঢিবিটার অন্য দিকে একটা বিশাল সরোবর আর তাতে অজস্র অপার পরিযায়ী পাখি ভাসছে। তারও পেছনে আবার আমের বাগান। সেই সব বৃক্ষচূড়ার আড়ালে সূর্য তখন অস্ত যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমাকে ঘিরে চারপাশে সবুজ ঘাস। অথচ ভালোলাগার এই যে অনুভূতি, এটা মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্যেই। তার পরেই আমি বুঝতে পারলাম যে আমার জায়গাটা ভালো লাগছে না। গোটা ছবিটা কোথাও যেন একটু বেখাপ্পা। এমন কিছু যেন একটা রয়েছে এই দৃশ্যপটের মধ্যে, যার জন্যে পরিবেশটা অন্যরকম ঠেকছে, বড্ডই অস্বস্তি হচ্ছে। সেটা কি সারাদিনের পরিশ্রমে নাকি জায়গাটার জন্যে?

    ‘বা-আ বা-আ-আ’ একটু দূর থেকে রাজা হাতে একটা কী তুলে ডাকল, ‘এই দ্যাখো একটা প্যালিওলিথিক জিনিস পেয়েছি।’

    ইতিহাসে প্রাচীন প্রস্তরযুগ পড়ার ফল আর কী। কিন্তু কাছে গিয়ে যেই দেখলাম যে ওর হাতে একটা হাড়ের টুকরো, আমি হাঁ হাঁ করে উঠলাম, ‘কীসের না কীসের হাড়, ফেলে দে, শীগগির ফেলে দে।’

    হঠাৎ ধমক খেয়ে ও ঘাবড়ে গিয়ে হাড়টা ফেলে দিল। আর অমনি আমার মুখে কে যেন চাপড় মারল। চমকে উঠে দেখি কী একটা পাখি এত সামনে দিয়ে উড়ে গেল যে মুখে তার ডানার ঝাপট এসে লেগেছে। হয়তো কাকতালীয় কিন্তু আমার গা ছমছম করে উঠল। পা দিয়ে ঠেলে হাড়টা ঢিবি থেকে নিচে গড়িয়ে দিতে যাব, চোখ আটকে গেল তার ওপরে। ভারি আশ্চর্য তো!

    নিচু হয়ে হাড়টা তুলে চোখের সামনে এনে ভালো করে দেখি খুদে খুদে লাল অক্ষরে খোদাই করে কী যেন লেখা রয়েছে তার ওপরে। হরফটা চিনতে না পারলেও একটা কিছু যে লেখা রয়েছে সেটা বুঝতে পারছি। কী লেখা? হাড়ের ওপরেই বা কে লিখল আর কেনই বা লিখল? কীসের হাড় এটা? কোনও জন্তু জানোয়ারের? জন্তুর হাড় কি এরকম হয়? নাকি—?

    আর সেই সময়ে নিচ থেকে চিৎকার, ‘শীগগির ওখান থেকে নেমে এসো।’

    চমকে তাকিয়ে দেখি বিশাখা মরিয়াভাবে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আর ওর পাশে একটা বুড়ো। কে বুড়োটা? হাত নেড়ে নেড়ে নেমে যেতে বলছে কেন?

    বিশাখা আবার চেঁচিয়ে বলল, ‘জুতো পরে ওখানে উঠতে উনি বারণ করছেন। শীগগির নেমে এসো।’

    আমি চট করে হাড়টা পকেটে পুরে বিনা বাক্যব্যয়ে রাজার হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নামতে থাকলাম। এটা পরে ভালো করে দেখতে হবে।

    ‘নিচে যাব না আমি’ রাজা চেঁচিয়ে উঠল।

    আমি ওকে সামলানোর জন্যে বললাম, ‘তাড়াতাড়ি চল। মাম্মাম জানতে পারলে হাড়টা ফেলে দিতে বলবে। কিছু যেন বলিস না।’

    ‘না না’ রাজার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠল, ‘ওটা আদিম মানুষের হাড়, তাই না বাবা?’

    ‘হ্যাঁ। তুই খুঁজে বের না করলে কেউ জানতেই পারত না। মাম্মামকে যেন বলিস না।’

    একগাল হেসে রাজা ঘাড় নাড়ল, ‘না না।’

    নিচে এসে আমি থমকে গেলাম। আমগাছের নিচে বুড়োটা যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার পেছনে ওই ঝুপড়িঘরটা কোথা থেকে এল? যখন ওপরে উঠছিলাম তখন তো বটেই, এমনকি বিশাখা যখন নেমে আসতে বলল, তখনও তো চোখে পড়েনি। চোখের পলকে একটা ঝুপড়ি হঠাৎ গজিয়ে উঠল কী করে? নাকি ওটা গোড়া থেকেই ছিল, আমিই খেয়াল করিনি?

    ‘দুমদাম করে ওপরে যাবার কী ছিল?’ খুব ঠান্ডা গলায় বিশাখা বলল, ‘সন্ধে নেমে আসছে, ওরকম একটা অজানা জায়গায় না গেলেই নয়?’

    আমি আমতা আমতা করে বলতে গেলাম যে রাজা দৌড়লো বলেই না—

    কিন্তু কথা শেষ করতে না দিয়ে ও ঝাঁঝিয়ে উঠল, ‘তুমিও কি রাজার বয়েসী? ও দৌড়ে উঠে গেল তো তুমি নামিয়ে আনতে পারোনি? শীগগির চলো এখান থেকে। আমার জায়গাটা একদম ভালো লাগছে না।’

    ইতিমধ্যে কখন যে রাজা জুতো খুলে ফেলেছে খেয়াল করিনি। আমাদের কথা চলছে এই ফাঁকে হঠাৎই আমার হাত ছাড়িয়ে আবার দৌড় দিল ঢিবির মাথায়।

    ‘রাজা, খবরদার ওদিকে যাবে না, রাজা’ বলে বিশাখা চেঁচিয়ে উঠলেও কে কার কথা শোনে! ফলে জুতো খুলে রেখে আমিও ছুটলাম ওপরে এবং রাজার হাতের নড়া ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিচে নামতে থাকলাম।

    আর তখনই পায়ে খোঁচাটা লাগল। আর্তনাদ করে বসে পড়েই দেখি সামনে মাটিতে একটা ব্যাঁকানো লোহার মত কিছু গোঁজা রয়েছে যেটাতেই আচমকা পা লেগে কেটে গিয়েছে। ফোঁটা নয়, রক্তের ধারা বেরিয়ে আসতে শুরু করল। আমাকে ওভাবে বসে পড়তে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে বিশাখা জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছে?’

    ইশারায় ‘কিছু হয়নি’ বলে ক্ষতস্থানে রুমাল চেপে আছি আর সেই ফাঁকে রাজা চেঁচিয়ে ওর মায়ের কাছে চুকলিটা কাটল। ওর বিশ্বাসঘাতকতা দেখে আমি ব্যথিতচোখে একবার ওর দিকে তাকালাম তারপর কোনওরকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নামতে থাকলাম।

    নিচে নেমে দেখি বুড়োটা হাওয়া হয়ে গিয়েছে আর তার বদলে ঝুপড়ির সামনে একটা মেয়ে। বুড়োটার সঙ্গে মুখের এমন আশ্চর্য মিল যে বোঝাই যাচ্ছে ওই বুড়োরই মেয়ে। কিন্তু পরের মুহূর্তেই আমি বুঝতে পারলাম যে মুখের মিল টিল নয়, বরং ওই বুড়োটা নিজেই কোনও বিচিত্র উপায়ে কমবয়সী মেয়ে সেজে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা কী করে সম্ভব আমি জানি না। কিন্তু আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।

    মেয়েটার গায়ের রং ময়লা হলেও চোখদুটো সাংঘাতিক রকমের উজ্বল। তাকালে মনে হয় শুধু যে ভেতর অবধি দেখে ফেলছে তাইই নয়, সেইসঙ্গে একদম পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে।

    আমাদের দেখে রাগত গলায় বলল, ‘ওপরে কেন উঠেছিলেন? জানেন না এটা রাজার-মায়ের-ঢিবি?’

    আমি কোনওরকমে বলতে গেলাম, ‘জানতাম না আমরা। ভুল হয়ে গিয়েছে। চলে—‘ কিন্তু মেয়েটা তার আগেই বিশাখার দিকে আঙুল তুলে একটা অদ্ভুত হিসহিস স্বরে বলল, ‘ওইটুকু রক্তে কী হবে? রাজার মায়ের খিদে কি অত সহজে মেটে?’

    বিশাখা কোনও কথা না বলে রাজাকে ধরে হাঁটা দিল গাড়ির দিকে। পেছনে খোঁড়াতে খোঁড়াতে আমি। হাঁটছি আর কেবলই মনে হচ্ছে একবার পেছন ফিরে দেখি মেয়েটা কী করছে। দেখিই না একবার। কিন্তু একই সঙ্গে মনের গভীরে কেউ যেন বলতে থাকল, ‘ঢের হয়েছে। আর বোকামি কোরো না। চলে যাও। চলে যাও এই জায়গা ছেড়ে।’

    গাড়িতে ওঠার মুখে অন্তরের বাণীকে উপেক্ষা করে আমি পেছনে ফিরে তাকালাম আর দেখলাম মেয়েটা তাকিয়ে রয়েছে আমার দিকেই। ওর থেকে আমরা কিছু না হোক পঞ্চাশ ষাট মিটার দূরে। অথচ তাও ওর মুখে একটা অদ্ভুত হাসি আমি দেখতে পেলাম। এমনকি ওর দুই চোখে যে গনগন করছে রাগ, এতদূর থেকেও সেটা স্পষ্ট দেখতে পেলাম।

    ফেরার পথে গোটা রাস্তা বিশাখার মুখ গম্ভীর। কথাবার্তাও বেশি হচ্ছে না। তার মধ্যে ছোটু ম্যাও ধরেছে, ‘ওখানে না গেলেই পারতেন স্যার। খারাপ হাওয়া লেগে গেলেই তো মুশকিল। নইলে আপনিই বলুন না আপনার পা-টা কাটল কেন?’

    আমি বললাম, ‘একটা লোহার গোঁজ মত কিছু ছিল, তাইতে হঠাৎ লেগে গেল।’

    ‘কিন্তু আপনি একবার নেমে আসার পরেও আবার উঠলেন কেন? আর ঠিক ওই লোহার গোঁজেই পা পড়ল? আসলে খারাপ হাওয়া লেগে গিয়েছে মনে হয়।’

    ‘খারাপ হাওয়া মানে? বিশাখা প্রশ্ন করল।

    ছোটু চুপ করে থাকল যেন শুনতেই পায়নি। আসলে দর বাড়াচ্ছে বা বানাচ্ছে যে কী বলবে। তারপর বলল, ‘শুনেছি ওটা নাকি পুরোনো দিনের কবরখানা।’

    বিশাখা ভয়ের শ্বাস টেনে আমার উদ্দেশ্যে বলল, ‘শুনলে তো!’

    ‘এখনও মাটি খুঁড়লে হাড়গোড় পাওয়া যায়। তার ছোঁয়া লেগে অনেকের নাকি অনেক বিপদ হয়েছে।’

    আমি বুঝতে পারলাম খুব ঠান্ডা একটা কিছু আমার শিরদাঁড়া বরাবর চলে যাচ্ছে।

    ঝাঁঝিয়ে উঠে বললাম, ‘যদি জানোই তো প্রথমেই বারণ করলে না কেন?’

    ‘বারণ করার আগেই তো আপনি নেমে গেলেন স্যার’ খুবই বিনীতভাবে ছোটু বলল।

    ‘তুমি গাড়ি থামাতে গেলে কেন?’ আমি ধমকে উঠলাম, ‘গাড়ি না থামিয়ে তো বলতেই পারতে যে ওটা কবরখানা।’

    এর মধ্যে রাজা কী একটা প্রশ্ন করতেই বিশাখা ঠাসঠাস করে চড়িয়ে দিল। আচমকা মার খেয়ে ছেলেটা কেমন থতমত হয়ে তাকিয়ে রইল মায়ের দিকে আর সেই মুহূর্তে আমার মনে পড়ল মেয়েটার কথাটা— ‘রাজার মায়ের খিদে কি অত সহজে মেটে?’

    একহাতে রাজাকে জড়িয়ে ধরতেই ও আমার বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে শুরু করল। অন্য হাতে আমি পায়ে রুমাল চেপে আছি। রক্তটা কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না।

    তারপর ডাক্তারখানায় গিয়ে ছোট্ট সেলাই, ব্যান্ডেজ আর টিটেনাসের পালা মিটিয়ে যখন বাড়ি ফিরলাম তখন রাত নটা। আর ঠিক পনেরো মিনিট পরেই রাজা বলল যে ওর নাকি খুব শীত করছে এবং কিছু বোঝার আগেই থার্মোমিটার দেখিয়ে দিল টেম্পারেচার ১০২।

    আমার তো হাঁটার ক্ষমতা নেই, কাজেই আবার ছোটুকে ফোন। ওর সঙ্গে রাজাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল বিশাখা। ফিরে এসে ওষুধ খাইয়ে দিয়ে রাজার মাথায় জলপট্টি দিতে থাকল এবং মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে থাকল লাভা। আমি মাথা গুঁজে রেখেছি বালিশে। কোনও কথা বলার তো মুখ নেই।

    তারপর জ্বরটা একটু কমতে ও গেল রাতের খাবারের ব্যবস্থা করতে। আমি আধশোয়া হয়ে ঘুমন্ত রাজার কপালে হাত বোলাচ্ছি। হঠাৎ রাজা চোখটা খুলে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘বাবা, ওই হাড়টা কী করলে?’

    জিভ কাটলাম আমি। একদম ভুলে গিয়েছিলাম ওটার কথা। পকেট থেকে বের করে অফিসের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখতে হবে। এই পা নিয়ে তো আর কাল মিউজিয়াম যাওয়া যাবে না। পরে সময় করে মিউজিয়ামের কিউরেটর সাধনবাবুকে দেখাতে হবে।

    রাজাকে বললাম, ‘আমার কাছে আছে। মাম্মামকে কিছু বলোনি তো?’

    রাজা জড়ানো গলায় বলল, ‘বাবা ওটা কি মানুষের হাড় ছিল? ওই মাসিটা হাড়টা ফেরৎ চাইছে।’

    আমার সর্বশরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল। কোনওরকমে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোন মাসির কথা বলছ?’

    ‘ওই যে মাসিটা আমাদের বকছিল’ রাজা আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেও ওর দৃষ্টি অন্য কাউকে দেখছে, ‘বলো না বাবা ওটা কি মানুষের হাড়?’

    ‘জানি না বাবা’ আমার গলা থেকে স্বর বেরোতে চাইছে না।

    ‘মাসিটা বলছে যে ওটা নাকি মানুষের হাড় ছিল। খুব বকছে আমাকে। বলছে আমার হাড় ফেরৎ দে, নইলে তোর হাড় নিয়ে নেব। ওটা ফেরৎ দিয়ে দাও, বাবা।’

    শুধু গায়ে কাঁটা দেওয়া নয়, আমার বুক ঠেলে তখন কান্না আসছিল। কেন উঠতে গেলাম ওই ঢিবিতে? কী করব এবারে? কে ওই মেয়েটা? কোন অতৃপ্তি নিয়ে আবির্ভূত হচ্ছে রাজার সামনে? দিব্যি তো খেলছিল, হঠাৎ এরকম জ্বর এল কেন? মেয়েটা কেন বলল যে রাজার মায়ের খিদে সহজে মেটে না? খিদে মেটে না বলে তো আসলে অন্য একটা ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ও কি সেরকম কিছু বলতে চেয়েছে? আর ভাবতে পারছি না আমি। রাজার হাতটা টেনে নিজের গালে রেখে বললাম, ‘তুমি মাসিকে বলো যে বাবা বুঝতে পারেনি। তাই ভুল করে নিয়ে এসেছে। আবার ফেরৎ দিয়ে আসবে। আর শোনো, মাকে যেন কিছু বোলো না। মা ভয় পাবে। রাজা রাজা!’

    কিন্তু সে আবার নেতিয়ে পড়েছে। আর সেইসঙ্গে আমার পায়ের ব্যথাটাও খুব বেড়েছে। সারারাত বিশাখা ঘুমোলো না। স্থির হয়ে বসে রইল রাজার মাথার কাছে। বুঝতে পারছি নিঃশব্দে কাঁদছে। একবার শুধু আমাকে বলল, ‘কী দরকার ছিল ওই সব জায়গায় যাবার? মেয়েটাই বা কে?’

    রাজা অস্ফুটে ডাকল, ‘মা! মাগো, মা!’

    ডাকের ভঙ্গিটা এমন যে শুনলেই ভয় করে। আর মাম্মাম ছেড়ে হঠাৎ ‘মাগো’ কেন? ডাকটা কে শেখালো ওকে? বিশাখা ঝুঁকে পড়ল ওর ওপরে,

    ‘কী বলছ সোনা?’

    আমি কাঁটা হয়ে রয়েছি। এক্ষুণি হয়তো হাড়ের কথা বলে বসবে। কিন্তু তার বদলে যেটা বলল তাতে আমাদের দুজনেই একসঙ্গে কেঁপে উঠে পরস্পরের দিকে তাকালাম। বিশাখা ডুকরে কেঁদে উঠেই আমার চুল ধরে ঝাঁকাতে শুরু করল, ‘কেন? কেন গেলে ওখানে? কেন আমার ছেলেটাকে ওখানে নিয়ে গিয়ে ফেললে?

    আমার ততক্ষণে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে কেননা রাজা জিজ্ঞেস করছে, ‘মাগো তোমার খুব খিদে পেয়েছে, না?’

    কিন্তু গলার স্বর একদম বয়স্ক মহিলার।

    ২

    সারারাত বিশাখা ঠায় বসে রইল ওর মাথার কাছে। ব্যথা কমানোর জন্যে আমাকে কড়া ওষুধ দিয়েছে, ফলে মাথাটা খুবই ঝিমঝিম করছে। কিন্তু চোখ বন্ধ করে রাখলেও ঘুম আসছে না। আর যদিই বা তন্দ্রামত আসছে অমনি চোখের পাতায় দুটো রাগী গনগনে চোখ ভেসে উঠছে এবং আমি চমকে জেগে উঠছি। এই করতে করতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছি। হঠাৎ বিশাখার আর্তনাদ শুনে চমকে চোখ খুলে দেখি খাটের ওপরে বজ্রাসনে বসে রাজা বিছানায় হাতড়ে হাতড়ে কী যেন খুঁজছে আর বিড়বিড় করছে।

    বিশাখা রাজাকে ধরে ঝাঁকুনি দিতে দিতে বলছে, ‘কী হয়েছে সোনা? কী হয়েছে?’

    কিন্তু রাজার কোনও বিকার নেই। হাতড়েই চলেছে আর বিড়বিড় করে বলছে, ‘এইখানেই তো ছিল। কোথায় গেল?’

    তারপর আবার ধুপ করে শুয়ে পড়ল। আমি উঠে জল খেলাম, তারপর আস্তে আস্তে খাট থেকে নেমে দাঁড়ালাম। উদ্বিগ্ন কন্ঠে বিশাখা বলল, ‘কী হল?’

    ‘বাথরুম থেকে আসছি।’

    ‘দাঁড়াও আমি ধরি তোমাকে।’

    ‘দরকার নেই, পারব। তুমি ছেলেটার কাছে থাকো’ বলে আমি বেরিয়ে এলাম ঘর থেকে।

    ‘সাবধানে যেও। পায়ে যেন আবার না লাগে’ পেছন থেকে বিশাখা বলল।

    বাথরুমের কাছে গিয়ে মনে হল ভেতরে যেন জলের শব্দ হচ্ছে। বিশাখা কি আসার সময়ে কল বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছে? আলোর সুইচটা দরজার ঠিক পাশে। সেটাতে আঙুল রাখতে যাচ্ছি, দরজাটা নিজেই খুলে গেল এবং মনে হল পাশ দিয়ে যেন কেউ বেরিয়ে গেল, একটা সুগন্ধ ছড়িয়ে। ভয়ের একটা স্রোত আমার শরীর বেয়ে নেমে গেল। একটু চুপ করে থেকে আমি যুক্তি দিয়ে ভাববার চেষ্টা করলাম। সুইচ টিপতে গিয়ে হয়তো অজান্তেই হাতটা দরজার ওপরে পড়ে গিয়ে দরজা খুলে গিয়েছে। নইলে কে আর খুলবে?

    তারপর আলো জ্বেলে ভেতরে ঢুকলাম আর পা দুটো যেন জমে গেল। শাওয়ার থেকে ওভাবে জল পড়ছে কেন? ঠিক যেন খোলা শাওয়ার, আমাকে দেখেই বন্ধ করা হয়েছে। গোটা মেঝেতে এমনভাবে জল ছড়ানো যে মনে হচ্ছে যেন কেউ সদ্য চান করে বেরিয়েছে। সাবান এখনও ভিজে এবং তাতে ফেনা লেগে। বেসিনের ওপরের আয়নায় যে টিপটা লাগানো, সেটা কি বিশাখার? কিন্তু আয়নার কোণে না লাগিয়ে ঠিক মাঝখানে তো ও লাগাবে না। এরকম টুকটুকে লাল, চোখের মত দেখতে টিপ তো ও পরে না। সারা ঘরে অদ্ভুত একটা কর্পূরের গন্ধ। শুধু কর্পূর নয়, তার সঙ্গে আরও অনেক কিছু মিশে আছে। আমি নড়তে পারছিলাম না। হয়তো গোটা রাতই ওখানে কেটে যেত, কিন্তু সম্বিত ফিরল বিশাখার আর্তনাদে,

    ‘কে? ও কে? কে এসেছে আমাদের ঘরে?’

    পায়ের ব্যথা ভুলে দৌড়ে গেলাম ঘরে আর সঙ্গে সঙ্গে সেই গন্ধটা যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল আমার ওপরে। বিশাখা আলমারির দিকে তাকিয়ে বলে যাচ্ছে কথাটা আর আমার মাথার চুল খাড়া হয়ে যাচ্ছে। আলমারির পাল্লাটা ওরকম আধখোলা কেন? ওর মধ্যেই তো ভেতরের ড্রয়ারে অফিসের ব্যাগে হাড়খানা রাখা আছে।

    আমাকে দেখেই বিশাখা কেমন আতঙ্কগ্রস্থের মত বলে উঠল, ‘ওগো কিছু একটা করো। কেউ ঢুকেছে ঘরে।’

    আমার নিজের গা শিরশির করতে থাকলেও আমি জোর করে মুখে হাসি ফুটিয়ে বললাম, ‘কে আবার ঢুকবে? কাউকে দেখতে পাচ্ছ?’

    ‘জানি না’ বিশাখার গলা কাঁপছে, ‘আমি এখানে বসে বসে দেখলাম আলমারির দরজাটা নিজে নিজেই খুলে গেল। ঠিক মনে হল যেন কেউ খুলছে।’

    শুনে আমার সারা শরীর কেঁপে উঠল। পায়ে কোনও জোর নেই মনে হচ্ছে। তবুও ওকে সাহস দেওয়ার জন্যে বললাম, ‘নিশ্চয় ঠিকমত বন্ধ করা হয়নি, তাই খুলে গেছে। দাঁড়াও আলোটা জ্বালি।’

    বিশাখা প্রবল আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠল, ‘আলো জ্বেলো না। আলো জ্বাললেই তাকে দেখতে পাই যদি!’

    ‘কাকে?’ আমি কম্পিত গলায় জিজ্ঞেস করলাম।

    হেঁচকি তুলতে তুলতে বিশাখা বলল, ‘সেই মেয়েটাকে!’

    আমি কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। কী করব ভাবছি। তারপর মনে হল যত ভয় তো অন্ধকারে, আলোতে তো আর কোনও ভয় নেই। সুইচ টেপার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের মধ্যে যেন সূর্য ঝলসে উঠে তার ঝলকানিতে আমার চোখ অন্ধ করে দিল। প্রচণ্ড উত্তাপে গা যেন পুড়ে যাচ্ছে। চোখ বন্ধ হবার আগে একঝলক দেখলাম সেই মেয়েটাকে। আলমারির সামনে থেকে সরে এসে দরজার দিকে যাচ্ছে। তার আঁচলের ঝাপটা হাতে লাগতেই সেখানটা যেন পুড়ে গেল।

    একটু ধাতস্থ হয়ে যখন চোখ খুললাম তখন কেউ কোত্থাও নেই। মাথার ওপরে টিউব লাইট জ্বলছে। আলমারির দরজাটা এখনও খোলা। আর রাজা আবার উঠে বসেছে বিছানায়। চোখ বন্ধ, কিন্তু হা-হা করে হাসছে। আর আমাদের মাথার চুল খাড়া হয়ে গেল। কেননা ওর গলা দিয়ে একটা বুড়োটে খ্যানখেনে হাসি বেরিয়ে আসছে।

    ‘এসব কী অলক্ষুণে জিনিস হচ্ছে বাড়িতে’ বিশাখা ভালো করে কথা বলতে পারছে না, ‘তুমি ছোটুকে বলে ব্যবস্থা করো, আমি কালকেই জহুরা মায়ের কাছে পুজো দেব।’

    জহুরা কালীর কাছে পুজো দিতে চাইছে দিক। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি যে তার আগে অন্য একটা কাজ আমাকে করতে হবে।

    ৩

    ‘আসুন’

    বুড়োটা এমনভাবে বলল যেন ও জানত যে আমি আসব। অথচ আমি গোটা রাস্তা ভাবতে ভাবতে এসেছি যে গিয়ে হয়তো দেখব ঝুপড়ি সমেত সেই বুড়ো বা মেয়েটা উধাও। সবটাই হয়তো স্বপ্ন।

    ‘ছেলে কেমন আছে?’

    আমি অবাক হয়ে তাকালাম ওর দিকে। রাজার জ্বরের কথা ও কেমন করে জানল?

    ‘এবার সেরে যাবে’ খুব প্রত্যয় নিয়ে বলল, ‘আজ থেকেই সেরে যাবে।’

    ‘যদি দোষ হয়ে থাকে ক্ষমা করবেন! আমি জানতাম না যে এটা আসলে’ আমতা আমতা করে ঢিবিটার দিকে আঙুল দেখিয়ে বললাম, ‘পুরোনো কবরখানা। আসলে আমি তো একদম নতুন, মানে—’

    ‘পুরোনো কবরখানা মানে?’ বুড়োটা অবাক হয়ে আমাকে থামিয়ে দিয়ে হা হা হা হা করে হেসে উঠল। কিছুক্ষণ হাসার পরে বলল, ‘ওটা তো রাজার-মায়ের ঢিবি।’

    আমি চুপ করে তাকিয়ে রইলাম ওর দিকে।

    ‘নৈরাত্মা, বুঝলেন নৈরাত্মা। মানে বোঝেন?’

    ‘যাঁর আত্মা নেই। জগৎকারণ, নিঃস্বভাব স্বভাবশুদ্ধ অনাদি অনন্ত শূন্য,’ আমি নই, আমার মুখ দিয়ে যেন অন্য কেউ বলল। নইলে আমি আর এসবের কী জানি? কাল রাত্তিরে হাতের যেখানটা জ্বালা করে উঠছিল সেখানকার চামড়া পুড়ে কুঁচকে রয়েছে। যদিও কোনও ফোস্কা পড়েনি। সামনেই মাটিতে আমার আর বুড়ো দুজনেরই ছায়া মিলেমিশে রয়েছে।

    ‘এই সব জায়গা ছিল রাজা মহেন্দ্রপালের। তখন পাশ দিয়ে নদী বইত। ওই যে পেছনে সরোবর দেখছেন, ওটা আসলে নদীর অংশ। আর ওখানে ছিল—’ ঢিবির দিকে আঙুল দেখিয়ে বুড়ো বলল, ‘—দেবী নৈরাত্মার মন্দির। নীল বর্ণ, গলায় মুন্ডমালা। পায়ের নিচে মড়া। এক হাতে খড়্গ আর অন্য হাতে মানুষের খুলি ভরা রক্ত। ওই মড়ার ওপরে তিনি নৃত্য করেন আর রক্তপান করেন। বৈশাখী পূর্ণিমার রাতে তাঁর একটা বিশেষ পুজো হত। তার আগের অমাবস্যায় নরবলি দিয়ে, সেখান থেকে ১০৮টা হাড় নিয়ে তাদের ওপরে বীজমন্ত্র লিখে বৈশাখী পূর্ণিমা থেকে রোজ একটা করে মায়ের চরণে দেওয়া হত। ওই ১০৮ হাড়ের মধ্যে মায়ের আশীর্বাদে কোনও একটা হাড় হঠাৎই জেগে উঠত। যিনি সত্যিকারের সাধক, তিনি ওই হাড়ের সাহায্যে সিদ্ধিলাভ করতেন। কিন্তু হেঁজিপেঁজি লোকের হাতে পড়লে ওই হাড় তাদের সর্বনাশ করে ছাড়ত।’

    আমার বুক ঢিবঢিব করছিল। মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। তবুও বললাম, ‘যে হাড় সিদ্ধিলাভ করায়, সে-ই আবার ক্ষতি করে?’

    বুড়ো খুকখুক করে হাসল। তারপর বলল, ‘ষাট পাওয়ারের আলোর জন্যে যদি তুমি ছশো ভোল্ট কারেন্ট দাও, আলোটা কী হবে? কেটে যাবে না?’

    আমি মাথা নাড়লাম—হ্যাঁ।

    ‘যে হাড় তাঁর আবির্ভাব ঘটাতে পারে, সে তো ছ’হাজার ভোল্ট। আর তুমি? জিরো পাওয়ার।’

    আমার মুখ দিয়ে একটাও শব্দ বেরোলো না।

    ‘তারপর একদিন নদীতে বান এল, তুমুল বান,’ বুড়ো আবার বলতে শুরু করল, ‘সমস্ত ভাসিয়ে দিল। জল নেমে যাবার পরে দেখা গেল মন্দির ভেঙে পড়েছে। কেবল মা নৈরাত্মা যেমনকার তেমনিই রয়েছেন। রাজা মহেন্দ্রপাল আবার নতুন করে মন্দির তৈরি করে দিতে গিয়ে রাত্তিরে স্বপ্নাদেশ পেলেন যে মা ওইভাবেই থাকতে চান। সেই থেকে ওভাবেই খোলা আকাশের নিচে মা রয়ে গেলেন। তারপর দিন গেল, তাজা ফুল বাসি হল, মাটি জমে জমে ঢিবি এসে মাকে ঢেকে ফেলেছে। পুজোও হয় না। কিন্তু মাঝে মাঝে মায়ের রক্তপানের ইচ্ছে হয়। তখন অদ্ভুতভাবে মাটি সরে গিয়ে খড়গের খানিকটা বেরিয়ে আসে।’

    বুড়ো থেমে গিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইল অদ্ভুত দুটো চোখ মেলে। তারপর আবার বলল,

    ‘সামনে দেখুন শুখা মাঠ। কিচ্ছু নেই। ওপরে সবুজ ঘাস। তবুও কোনও ভেড়া ছাগল গোরু ওপরে ঘাস খেতে ওঠে না। নিচে দেখবেন ছাতারের মেলা। কিন্তু ওপরে একটাও পাখি বসবে না। বলা তো যায় না হঠাৎ যদি মায়ের রক্তপিপাসা জেগে ওঠে। তারাও বোঝে সব।’

    বলার ভঙ্গিটা এত সুন্দর যে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বসে আছি। বিশ্বাস আর অবিশ্বাস দুপাশ থেকে দুজনেই তখন আমায় ধরে টানাটানি করছে।

    তারপর বুড়ো ঝুপড়ি দেখিয়ে আমাকে বলল, ‘আপনার জন্যে ও জিনিস নয়। যান ফিরিয়ে দিয়ে আসুন।’

    কাঁচুমাচু মুখে সেলফোন দেখিয়ে বললাম, ‘একটা ছবি তুলব?’

    বুড়ো উদাসভঙ্গিতে মাথা নেড়ে সম্মতি দিল, ‘তুলুন। তবে ভেতরে গিয়ে কোনও ছবি তুলবেন না।’

    ব্যাগ থেকে হাড়টা বের করে আস্তে আস্তে ঝুপড়ির সামনে গিয়ে চটি খুলেও দাঁড়িয়ে পড়লাম। ভেতরে ঢুকতে রীতিমত ভয় করছে। কী দেখব কে জানে! ঘাড় ঘুরিয়ে আবার পেছনে তাকালাম। বুড়ো ভেতরে ঢুকে যাবার জন্যে ইশারা করল। চটি খুলে মাথা নিচু করে ভেতরে ঢুকলাম। খোলা জায়গায় দিনের আলো থেকে হঠাৎ করে ভেতরে ঢোকার জন্যেই প্রথমটায় কিচ্ছু দেখতে পেলাম না। তবুও বুঝতে পারছি সামনে একটা বেদীর ওপরে কোনও মূর্তি বসানো রয়েছে। সামনে হাড়খানা রেখে নিচু হয়ে প্রণাম করলাম। মনে মনে বললাম, ‘তোমার জিনিস নিয়ে ভুল করেছিলাম, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো আমায়। আমার একমাত্র সন্তানকে ক্ষমা করো।’

    প্রণাম করে মাথাটা তুললাম আর চোখ সয়ে গিয়ে সামনের দৃশ্য দেখে একটা বিকট আর্তনাদ বেরিয়ে এল আমার মুখ থেকে। এটা কী দেখছি আমি? মাটির বেদীতে একটা মালা, ধবধবে সাদা খুলির মালা— এত ছোট যে বোঝাই যায় বাচ্চাদের মাথা। আর তাদের কেন্দ্রে প্রায় ফুট তিনেক উঁচু মা কালীর মুখ। গোটা শরীর নয়, কেবল মুখটুকু।

    ওই বসে থাকা অবস্থাতেই ছিটকে বেরোলাম ঘর থেকে। বাইরে ঝকঝক করছে দিনের আলো। আমের ডালে হাওয়ার দোলা। দূরে দাঁড়িয়ে মিঠু, মানে যে ড্রাইভারকে নিয়ে আমি এসেছি, সেলফি তুলছে। কিন্তু আশপাশে কোথাও বুড়োটাকে চোখে পড়ল না। ছিল হয়তো, কিন্তু আমার তখন কোনওদিকে তাকানোর অবস্থা নেই। পড়ি-কি-মরি করে ছুটে এসে মিঠুকে বললাম, ‘শীগগির চলো। শীগগির বাড়ি চলো।’

    তারপরেই ফোন করলাম বিশাখাকে। ও কোথায়? রাজাকে নিয়ে জহুরা মায়ের কাছে পুজো দিতে বেরিয়েছে সকালে। কিন্তু পৌঁছেছে কি? ফোন বেজেই যাচ্ছে, ও ধরছে না। আর আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। টেনশনের চোটে মাথাতেই এল না যে হয়তো মন্দিরের ভেতরে রয়েছে বলে মোবাইলটা সাইলেন্ট রয়েছে। খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু আমার তখন পাগলের মত অবস্থা। ছোটুকে ফোন লাগালাম। ও-ই তো নিয়ে গিয়েছে ওদের। কিন্তু এই সময়ে ওর মোবাইলও পরিসেবা সীমার বাইরে।

    ‘শরীর খারাপ লাগছে স্যার?’ উদ্বিগ্নস্বরে মিঠু জিজ্ঞেস করল।

    ‘না ঠিক আছে। তুমি যত তাড়াতাড়ি পারো বাড়ি নিয়ে চলো।’

    আমি অবসন্নের মত পড়ে রইলাম সীটে আর সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যটা মাথায় বারবার ফিরে আসতে থাকল। বেদীতে আর কিচ্ছু নেই, শুধুমাত্র মা-কালীর মুখটুকু। জিভটা খাড়া বেরিয়ে রয়েছে মাটির সমান্তরাল হয়ে। সামনে পোঁতা দুটো ত্রিশূলের ওপরে ভর দিয়ে রয়েছে সেই জিভ, আর থেকে ঝরে পড়ছে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত। গলা ঘিরেও জমে রয়েছে টাটকা রক্ত, যেন এক্ষুনি মাথাটা কাটা হয়েছে। আর, আর মাথাটা কিন্তু মাটির নয়, স্পষ্ট রক্তমাংসের এবং যার মাথা তাকে নিয়ে গত দশ বছর আমি ঘর করছি।

    বাড়ি পৌঁছে পাগলের মত বেল দিচ্ছি, কিন্তু কেউ দরজা খুলছে না। অনন্তকাল পরে বিশাখা দরজা খুলতেই ওকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লাম। আমার মাথায় স্নিগ্ধ হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ও বলল,

    ‘সব ঠিক হয়ে যাবে। রাজার আর জ্বর নেই। ফেরার পথে ডাক্তার দেখিয়ে এসেছি, উনিও বললেন আর চিন্তার কিছু নেই। আজ আর কাল সারাদিন রেস্ট নিলেই হবে। আমাদের ট্রেন তো রাত্তিরে। তোমার পায়ের ব্যথার কী অবস্থা?’

    ও বলে যাচ্ছে আর আমি উদভ্রান্তের মত ওর মাথায় গলায় মুখে হাত বোলাচ্ছি। বিশাখাই তো? কোনটা সত্যি, যে আমার দু বাহুর মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে নাকি বেদীর ওপরে যাকে দেখে এসেছি? সেইসময়ে ছোট্ট পায়ে ধুপধুপ শব্দ করে রাজা এসে আমাকে জড়িয়ে ধরল।

    ৪

    দিন তিনেক বাদে দুপুরে কনফারেন্স হলে ডি-এম চোরাচালান নিয়ে মীটিং করছেন, হঠাৎ মোবাইলটা বেজে উঠল, দেখি সাধনবাবুর ফোন। ডি-এম কড়া চোখে তাকালেন। পরে কল করছি জানিয়ে মেসেজ করে ফোনটা সাইলেন্ট করে দিলাম।

    বিশাখারা যে রাত্তিরে চলে গেল, তার পরদিনই সাধনবাবুর সঙ্গে দেখা করে হাড়ের ছবিটা দেখিয়েছিলাম। উনি অনেকক্ষণ ধরে দেখে বলেছিলেন যে ওটা নাকি প্রাচীন সিদ্ধমাতৃকা হরফে লেখা কোনও বীজমন্ত্র। ওই হরফটা নাকি পালযুগে ব্যবহার করা হত।

    ‘কোথায় পেলেন?’

    নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাটুকু বাদ দিয়ে বাকি সবই বললাম। শুনতে শুনতে উত্তেজিত হয়ে সাধনবাবু ঘুসি মেরেছিলেন টেবলে,

    ‘ওটাকে তো স্থানীয় লোকজন রাজার-মায়ের-ঢিবি বলে। আমার বহুদিনের সন্দেহ যে খনন চালাতে পারলে ওর নিচ থেকে কিছু না কিছু বেরোবেই। গোটা মালদা জেলা তো প্রত্নতত্বের আকর। কিন্তু কাকে বলব? আর্কিওলজিকাল সার্ভেকে অনেকবার চিঠি দিয়েছি কিন্তু…’ হাতের ভঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন যে কোনও কাজ হয়নি।

    আমি একটু ইতস্তত করে বলেছিলাম, ‘ওই বুড়ো বলেছিল যে ওর নিচে নাকি নৈরাত্মাদেবীর মন্দির চাপা পড়ে আছে!’

    ‘নৈরাত্মা? আর ইউ শিয়র?’ সাধনবাবু আরও উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলেন, ‘নৈরাত্মার মূর্তি খুব রেয়ার। বৌদ্ধতন্ত্রের দেবী। পালযুগে তো বৌদ্ধতন্ত্রের রমরমা, কাজেই নৈরাত্মার মূর্তি থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ওই বুড়ো জানল কোত্থেকে যে এর নিচে কী আছে, না আছে? স্মাগলিং ফাগলিং করে নাকি?’

    এইবারে কিন্তু আমার বেশ খটকা লাগল। সত্যিই তো বুড়ো অত কিছু জানবে কী করে? আমরা হয়তো বৃথাই ভয় পেয়েছিলাম। একটা বাচ্চার জ্বর আসবে এবং জ্বরের ঘোরে ও ভুল দেখবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। আর আমারও তো একে ঘুম হয়নি, তায় কড়া ওষুধ এবং সেইসঙ্গে রাজাকে নিয়ে টেনশন। কাজেই মনের অবচেতন থেকে কোন ভাবনা বেরিয়ে এসে কোন চেহারা ধরেছিল কে বলতে পারে?

    ‘অনেকেই মনে করেন হয়তো বা নৈরাত্মার রূপ থেকেই পরবর্তীকালে মা-কালীর ধারণা এসেছে। তবে প্যান্ডেলে ট্যান্ডেলে যে রূপ দেখেন, সেটা নয় কিন্তু। বরং কালীর ভয়ঙ্করী রূপ। এক হিসেবে তো ঠিকই। নৈরাত্মার মতই কালীও তো মহাশূন্যেরই প্রতীক। কোনও রূপ নেই বলে গায়ের রং কালো। কালীপুজোয় যদি থাকেন আপনাকে ঘুরিয়ে দেখাব। অনেক জায়গায় সেই রূপের পুজো হয়। তবে ওখানে যদি সত্যিই ওরকম কিছু থাকে তাহলে বিরাট ব্যাপার হবে। গিয়ে দেখতে হবে তো!’

    ডি-এম আলোচনা করছেন কীভাবে চোরাচালান আটকানো যায় আর আমার মাথায় সাধনবাবুর কথাই ঘুরছে তখন। সত্যিই কি ওই হাড়ের কোনও ক্ষমতা আছে? অদ্ভুত কিছু কি সত্যিই ঘটেছিল সেই রাত্তিরে? নাকি বুড়োটা এবং মেয়েটাও কোনও চক্রের সঙ্গে যুক্ত? কিন্তু বেদীতে সজ্জিত সেই কালীর মুখমন্ডল মনে পড়লে তো এখনও কেঁপে উঠি। ওটাও কি সত্যিই দেখেছিলাম, নাকি ওষুধের ঘোরে হ্যালুসিনেশন দেখেছি?

    মীটিং যে শেষ হয়ে গিয়েছে সেটা খেয়ালই নেই। হঠাৎই দেখি কনাফারেন্স রুমে আমি একলা। মোবাইল খুলে দেখি মেসেজ ডেলিভারি হয়নি। বরং সাধনবাবুর আরো কয়েকটা মিসডকল। তার মানে ভদ্রলোক হন্যে হয়ে আমাকে খুঁজছেন। কাজেই ওঁকে পাল্টা ফোন করলাম।

    ‘মশাই ঢিবিটা খুবই ইন্টারেস্টিং। আমার সঙ্গে আর্কিওলজিকাল সার্ভের দুজন অফিসারও রয়েছেন,’ ওঁর উত্তেজিত কন্ঠস্বর ভেসে এল, ‘আমরা এখন ওই ঢিবির মাথাতেই দাঁড়িয়ে রয়েছি। ইতিমধ্যেই একটা স্কালের টুকরো পেয়েছি। তাতেও সেই সিদ্ধমাতৃকা হরফে বীজমন্ত্র।’

    আমার মুখ দিয়ে আপনা থেকেই বেরিয়ে এল, ‘জুতো খুলে উঠেছেন তো?’

    ‘দুর মশাই, জুতো খুলতে যাব কোন দুঃখে? খালি পায়ে কিছু ফুটে টুটে গেলে? যাকগে, যে জন্যে আপনাকে ফোন করা। আপনার সেই বুড়োর কোনও টিকি দেখতে পেলাম না। আর, আপনি আমগাছের তলায় যে ঝুপড়ির কথা বলেছিলেন, সে কোথায়? আমগাছ তো দূরের কথা, একটা আমপাতাও তো দেখছি না।’

    মানে? আমগাছ আর ঝুপড়ি উধাও? কী বলছেন উনি? ওঁর কথা শুনে আমার হাত কাঁপতে শুরু করল। আর সেইসময়ে আমাকে একদম অসাড় করে দিয়ে উনি বললেন,

    ‘এদিক দিয়ে যে নদী যেত, তার পুরোনো মরা খাত আন্দাজ করা যাচ্ছে। কিন্তু আপনি যে সরোবর আর পাখির কথা বলেছিলেন, সেসব তো দেখতে পাচ্ছি না। সঠিক লোকেশনটা বলতে পারবেন? এ হে হে, কী করে লাগল?’

    শেষ বাক্যটা অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করে। কিন্তু ওই বাক্যটা কানে যেতেই আমার বুকটা ধড়াস করে উঠল।

    ইতিমধ্যে সাধনবাবু বললেন, ‘আর বলবেন না। মাটিতে একটা লোহার গোঁজমত রয়েছে। ভাদুড়িবাবু না দেখে তাতে খোঁচা খেয়েছেন। এঃ! পা কেটে খুব রক্ত বেরোচ্ছে। দাঁড়ান, পরে ফোন করছি আপনাকে।’

    ফোন রেখে দেবার পরেও অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। ভাদুড়িবাবু কে, আমি জানি না। কিন্তু যেহেতু তাঁর পা কেটেছে, তাই এরপর কী ঘটবে আমি জানি। সাধনবাবুকে ফোন করে লাভ নেই, কথা বলতে পারবেন না। কাজেই একটা মেসেজ করে দিলাম,

    ‘বুড়োকে যদি দেখতে না-ও পান, চিন্তা করবেন না। ও নিজেই আপনাকে খুঁজে নেবে।’

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিদুর – মিহির সেনগুপ্ত
    Next Article কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }