Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    সৌমিত্র বিশ্বাস এক পাতা গল্প257 Mins Read0
    ⤶

    নাস্তিক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    নাস্তিক

    জয়দীপের পিসেমশায়ের নাকি অলৌকিক ক্ষমতা জন্মেছে। যাকে যা বলছেন সব মিলে যাচ্ছে।

    প্রথমে ভেবেছিলুম জয়দীপ ইয়ার্কি মারছে। তারপরে বিস্তারিত শুনে আমি থ! শেষপর্যন্ত ওর পিসেমশাই? ফিজিক্সের দিকপাল অধ্যাপক!

    পিসিমা চলে যাবার পর নাকি উনি চাকরি-বাকরি ছেড়ে দিয়ে কোন এক অঘোরীবাবা না কার কাছে তন্ত্রসাধনা শুরু করেছিলেন। অঘোরী কাদের বলে? ভেবেছিলুম বড়ো জেঠুকে জিজ্ঞেস করব। উনি এসব ব্যাপারে অথরিটি। তারপর ভুলে গেছি।

    যাই হোক, পিসেমশাই নাকি এক অতি অলৌকিক শক্তিকে নামিয়ে এনেছেন আর তার সাহায্যে যা খুশি তাই করতে পারছেন। অন্তত লোকের যা মত।

    প্রবল কৌতূহলে ওঁকে একদিন দেখতে গিয়েছিলাম। জয়দীপ কিছুতেই ভিতরে ঢুকল না।

    ‘পাশের বাড়িতে থেকে আমরা দিনরাতই ওর ওই পাগলামি দেখছি। তুই যা।’

    ‘গিয়ে কী বলব?’

    ‘তোকে কিচ্ছু বলতে হবে না। পাগলা নিজেই বকবক শুরু করবে দেখবি।’

    ভেতরে ঢুকতেই পিসেমশাই আধবোজা চোখ করে বলেছিলেন, ‘তোমার জীবনে একটা অভিনব ঘটনা ঘটতে চলেছে।’ স্পষ্টতই প্রথম থেকেই ভড়কি মেরে ইমপ্রেস করার বহুচর্চিত প্রচেষ্টা। শেষে আমাকেও?

    ওঁর বড়ো বড়ো জটা, টকটকে লাল আলখাল্লা, একমুখ দাড়ি, রুদ্রাক্ষ আর কীসের সব হাড়ের মালাকে পাত্তা না দিয়ে বলেছিলুম, ‘সে ঘটুক গে। ঘটনা তো ঘটেই থাকে।’

    ‘কিন্তু তোমার যেটা ঘটতে চলেছে, তা খুবই দুর্লভ।’ ইমপ্রেস করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা।

    আসনের পাশে একখানা খুলি, উলটো করে রাখা ক-টা মদের বোতল। বাঃ, কোনো গুণেরই কমতি নেই দেখি। মড়ার খুলি বাড়িতে রাখা বেআইনি না? ভাবতেই পারছি না যে, ছাত্রমহলে অসম্ভব জনপ্রিয় এই লোকটা এক সময়ে আমাদের আদর্শ ছিলেন।

    বন্ধুর পিসেমশাই বলে আগেই চিনতুম, কিন্তু পরে কলেজে ঢুকে ওঁর সান্নিধ্যে এসে আরও বহু ছাত্রের মতো আমিও ফ্যান হয়ে পড়লুম। সে এক দিন গেছে। ক্লাসের শেষে উনি নানা বিষয় নিয়ে কথা বলে চলেছেন, ফিজিক্স ছাড়াও অন্য বহু বিষয়েই ওঁর ঈর্ষণীয় পাণ্ডিত্য শুনতে শুনতে আমরা ভাবছি এটাই শেষ কথা। আর কিছু বলার থাকতেই পারে না। সেই মানুষটা আজ সস্তা ভড়কি মেরে আমাকে ইমপ্রেস করতে চাইছেন!

    সেই যা দেখা। যদিও বহুদিন কোনো যোগাযোগ ছিল না, তবু কেন জানি না, আজ দুপুরে ওঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে উপেক্ষা করতে পারলুম না। মনে হল এক বার শেষবারের মতো দেখেই আসি। কতক্ষণই বা লাগবে! শোকতাড়িত না হয়েও চলে এলুম। কেন, কে জানে?

    শ্মশানে পৌঁছে দেখি আমরা চার নম্বরে। আরও দুটো বডি অলরেডি চুল্লিতে রয়েছে। জয়দীপ, ওর বাবা আর এক কাকা বডির সঙ্গে এসেছেন। আমি আর শান্তনু ভাস্করের গাড়িতে। বাড়ি থেকে এখনও অবধি আর কেউ এসে পৌঁছয়নি, বা আসেনি। কেউই বোধ হয় শোকাহত হয়নি। আসলে তো উনি নিজেই কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি, তাই আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে তেড়ে বৃষ্টি। মাঝে মঝে একটু ধরলেও থামার কোনো লক্ষণ নেই। কাজেই আর ক-জন আসবে বা কেউ আসবে কি না সন্দেহ থেকে যায়।

    জয়দীপের মুখে একরাশ বিরক্তি। স্বাভাবিক, এই বৃষ্টিতে আর কার ইচ্ছে করে আসতে? কিন্তু যেহেতু পিসেমশাই নিঃসন্তান এবং ওঁর নিজের দিকে আর কোনো আত্মীয় নেই, তাই সম্পর্কটা আলগা হলেও বাধ্য হয়েই ওকে মুখাগ্নি করতে হবে।

    ‘দীপু আর ভাস্কর জয়ের সঙ্গে থাক, আমরা ফর্মালিটিগুলো সেরে আসি’, বলে বাবা আর কাকা শান্তনুকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। বৃষ্টিটা আপাতত একটু ধরেছে। আমরা খাটের পাশে বসে পড়লুম। আগে আরও যে তিনটে ডেডবডি তাদের সামনেও খুব বেশি লোকজন নেই। দু-একজন করে বসে রয়েছে। সিমেন্টের বেঞ্চিগুলো সবকটা ভিজে। কোণের দিকে পরিত্যক্ত দুটো গদির ওপরে কুণ্ডলী পাকিয়ে একটা পাঁশুটে বেড়াল। তিন-চারটে ডোমেদের শিশুসন্তান ঘুরে-ফিরে বেড়াচ্ছে। মৃত্যু দেখে দেখে ওরা অভ্যস্ত।

    ‘আপনি এগুলো কী শুরু করেছেন? এককালে না আপনিই এসবের ঘোর বিপক্ষে ছিলেন?’ আমার প্রশ্নের উত্তরে সেদিন উনি মুচকি হেসে চুপ করে বসেছিলেন। তারপর বলেছিলেন, ‘দৈব যাহারে সহসা বুঝায় সে ছাড়া যে কেহ বুঝে না কভু!’

    দৈব? এই লোকটা বলছে? এর বাকবিস্তারেই না মোহিত হয়ে আমি এবং আরও অনেকেই নিরীশ্বরবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ি। এর কাছেই না আমাদের মার্কসিয় দর্শনে হাতেখড়ি! সেই বাকপটুত্ব কোথায়? যত সস্তা ভাঁওতাবাজি!

    ‘ওঃ যা বৃষ্টি, কাল ভোগাবে মনে হচ্ছে। আবার শালা জল জমবে,’ বলতে বলতে ভাস্কর উঠে দরজার কাছে দাঁড়াল। বাইরের দিকে ঘাড় বের করে কী দেখল, তারপর ইশারা করতে জয়দীপটাও উঠে গিয়ে দাঁড়াল ওর পাশে। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দু-জনে কী গুজগুজ করল, তারপরে বৃষ্টিটা একটু ধরেছে দেখে আমাকে বলল, ‘দীপু তুই বোস, আমরা দু-মিনিটের মধ্যে আসছি।’ কিছু বলার আগেই দুই মক্কেল বেরিয়ে গেল।

    আমি তাকালুম পিসেমশাইয়ের দিকে। আমার সঙ্গে শেষ কথোপকথনটা খুব তিক্তভাবে শেষ হয়েছিল। দোষটা অবশ্য এক হিসেবে আমার। বার বার ওই ভাঁওতাবাজি শুনতে শুনতে বোর হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলুম, ‘আপনি যে অলৌকিক শক্তিকে এনেছেন বলছেন, তিনি কি ভগবান?’

    উত্তরে চুপ করে থেকে বলেছিলেন, ‘ভগবান বলতে চাইলে বলতে পার, ক্ষতি নেই।’

    বাঃ! অসাধারণ! এই লোকটাই না বলেছিল যে, বিজ্ঞানে যা প্রমাণিত নয়, তা কখনো ঘটতে পারে না। একটু উষ্মার সঙ্গেই বললুম, ‘তার মানে তিনি ভগবানও হতে পারে আবার জাম্বুবানও হতে পারেন?’ ভদ্রলোক প্রচণ্ড খেপে গিয়ে, ‘শুয়োরের বাচ্চা দেখবি তোর কি করি?’ বলে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই রক্তাম্বরশোভিত উগ্র মূর্তির সামনে থেকে আমি তখন পালাতে পারলে বাঁচি। দরজার সামনে হোঁচট খেয়েছিলুম মনে আছে।

    পিছন থেকে অকথ্য গালাগাল আর অভিশাপ উড়ে আসছিল। জয়দীপ হাসতে হাসতে বলেছিল, ‘যেমন বোর করতে গিয়েছিলি! দিব্যি নিজের মনে ছিল। এ আর কী? খিস্তির স্টক শুনলে মাথা খারাপ হয়ে যায়।’

    সেই শেষ। তবে কিছু আকর্ষণ ওঁর নিশ্চয় ছিল। নইলে এর পরেও তো মাঝে মাঝেই আমি জয়দীপের কাছে ওঁর খোঁজ করেছি। জয়দীপ বলত, ‘আছে নিজের মনে নিজের পাগলামি নিয়ে। রাত জেগে বসে থাকে, মাঝে মাঝে কোথায় হাওয়া হয়ে যায়।’

    ‘হাওয়া হয়ে যায় মানে? কোথায় যায়?’

    ‘কে জানে কোথায় যায়? ওই অঘোরীবাবার সঙ্গে ভাগে। তোর এত ইন্টারেস্ট কেন? খিস্তি খাবার ইচ্ছে হয়েছে?’

    আজকেও দুপুরে যেমন। যখন জয়দীপের এসএমএস-টা পেলুম যে উনি নেই, তখন তো আমি চিফ এডিটরের চেম্বারে। মিটিং চলছে। ক-দিন পরেই আমাদের চ্যানেলের বর্ষপূর্তি, সেইজন্যেই নানা প্রোগ্রাম নেওয়া হচ্ছে, প্রচুর চাপ। কিন্তু তবু আলোচনার মধ্যেই বার বার মনে হচ্ছিল যে, একবার ঘুরে আসা উচিত। অবশ্যই ঘুরে আসা উচিত। শেষপর্যন্ত চিফ এডিটরকে বলে বেরিয়ে এলুম এই বৃষ্টি মাথায় করে। কীসের আকর্ষণ কে জানে। ঠান্ডাটা না লাগলে বাঁচি। তবু বাঁচোয়া যে, কাল রোববার। বেলা অবধি ঘুমনো যাবে!

    নাস্তিক, যুক্তিবাদী, আমার একদা শিক্ষাগুরু এবং শেষ অবধি সত্যভ্রষ্ট মানুষটা সমস্ত কিছুর ঊর্ধ্বে অসীম প্রশান্তি নিয়ে শুয়ে আছেন। আর বড়ো জোর দু-ঘণ্টা। তারপরে কোথায় ওঁর গুণমুগ্ধ ছাত্ররা আর কোথায় অতি অলৌকিক শক্তি! পরম মমতায় আমি ওঁর দিকে তাকিয়ে রইলুম। সেই ফাঁকে বুড়িটা কখন ঢুকল টের পাইনি। হঠাৎই একটা চড়া মদের গন্ধে ঘাড় ফিরিয়ে দেখি ও আমার পাশ দিয়ে হেঁটে গেল।

    সাদাটে তামাটে মেশানো দড়ি দড়ি মতো চুল, খাড়া বেঁকানো নাক, গায়ের রংটা অদ্ভুত। কালোর দিকে ঘেঁষা, কিন্তু তার মধ্যে একটা নীলচে মতো আভাস রয়েছে। জীর্ণ ময়লা শাড়ি পরনে। ডান হাতে তেমনই নোংরা একটা ঝোলা। ভালো করে দাঁড়াতে পারছে না, সে বয়সের জন্যেই হোক আর মদেই হোক। সবচেয়ে অদ্ভুত লাগল ওর কাঁধের দিকে তাকিয়ে। কাক যে কেউ পোষে, তাইই আমার ধারণা ছিল না। তার ওপরে আবার একটা সাদা। সত্যি কত রকম পাবলিক যে আছে! কে এটা? হয় পাগল, নয় ওই ডোমেদের কেউ। বাচ্চাগুলোকে ডাকতে এসেছে। কী চায় পাগলিটা?

    ও সোজা প্রথম খাটটার দিকে এগিয়ে গেল। এক জনই বসে আছে পাশে, চেহারায় একেবারে নিম্নবিত্ত ছাপ। ওর সঙ্গীসাথীরা এদিক-ওদিক কোথাও নিশ্চয়ই আছে। বুড়ি এক বার তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে দেখল বডিটা, তারপরে হঠাৎ নিজের ঝোলা থেকে একটা কী বের করে ছড়িয়ে দিল ওটার ওপরে। তারপরে কথা নেই বার্তা নেই খাটটা ঘিরে ঘুরতে শুরু করল। আমার এমনিতেই পাগল দেখলে খুব অস্বস্তি হয়, আমি তাই অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে রইলুম। কিন্তু তবুও বার বার ওর দিকে চোখ চলে যাচ্ছে। ও পাক খাচ্ছে, বিড়বিড় করে কী বকছে, কিন্তু পাশে বসে থাকা লোকটা কিছুই বলছে না। নির্বিকার। হতে পারে ও হয়তো ওদের বাড়িরই কেউ হবে। কিন্তু আমিই বা ওই পাগলিকে নিয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছি কেন? দৃশ্যটার মধ্যে একটা কিছু অসঙ্গতি রয়েছে, আমি ধরতে পারছি না।

    কেন যে এলুম এখানে? একগাদা কাজ পড়ে রয়েছে। মিটিং ছেড়ে চলে এসেছি, শেষ অবধি কী ঠিক হল জানতে হবে। কী কী যেন কাজ ছিল? কোথায় একটা যাবার ছিল না? কোথায়? কিছুতেই খেয়াল পড়ছে না। ইতিমধ্যে একটা ছোট্ট শোরগোল।

    একটা দাহ শেষ হতে তার লোকজন সব এসে পাশের সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেল। প্রথমটা এবার ঢুকবে। তার লোকজনও এসে গেছে, শেষ বারের মতো বিদায়, কান্নাকাটি, চুল্লি খুলে গেল, ভেতরে গনগন করছে লাল আগুন। এইসব তালেগোলে পাগলিটা কোথায় সটকাল খেয়াল করলুম না। তবে সেয়ানা মাল। দ্বিতীয় বডিটাকে ঘিরেও ঘুরছিল। কিন্তু যেই ওর লোকজন সব এসে গেছে অমনি সটকেছে। এটাও চুল্লিতে ঢুকে গেল। লোকজন সব বেরিয়ে যেতে ঘরটা আবার ফাঁকা আর আরও বেশি শব্দহীন হয়ে গেল। এবার পিসেমশাই দু-নম্বর। এক নম্বরে একটা চিমসে বুড়ো। তার পাশে একটা অল্পবয়েসি ছেলে আর একটা মেয়ে। মেয়েটার মুখে একটা চটক আছে। ছোকরাটাকে ওর পাশে মানাচ্ছে না।

    হঠাৎ একটা তীব্র আর্তনাদ। ওই যে বেড়ালটা ঘুমোচ্ছিল সেটাই আর্তনাদ করে দৌড়ে পালিয়ে গেল। যেন কোনো কারণে খুব ভয় পেয়েছে।

    পাগলিটা আবার উদয় হয়েছে। এত আকস্মিকভাবে যে, মনে হল যেন মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে। এইবারে আমার একটু একটু ভয় ভয় করতে লাগল। ঘরের ভেতরে দুটো মড়া। আমার সঙ্গে জীবিত বলতে তো ওই চিমসের পাশে বসে থাকা ছেলে-মেয়ে দুটো। তাদের তো কোনো হুঁশ নেই, গল্পই করে যাচ্ছে। এর মধ্যে একটা পাগলি, কী করবে না-করবে ঠিক আছে! জয়দীপ বা ভাস্করের দেখা নেই।

    পাগলিটা আমার দিকে তাকালই না। এগিয়ে এসে চিমসের গায়ে গুঁড়ো ছড়িয়ে বিড়বিড় করে বকবক করতে করতে পাক খেতে শুরু করল। ছেলেটা আর মেয়েটা এতই মশগুল যে, কোনো বিকার নেই। মেয়েটার সেল বেজে উঠতে কাক দুটো ডানা ঝটপট করে উঠল। ফাঁকা ঘরের মধ্যে ডানার আওয়াজটা খুব কানে লাগে। পাগলি ওদের এক বার ছুঁয়ে দিতে আবার ঝিমোতে থাকল। ও সেই ফাঁকে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল। আমি চমকে উঠেছি ওর হাসি দেখে। কী বিচ্ছিরি হাসি। ও কি সত্যিই পাগল? কী জ্বলজ্বলে চোখ ওর। কে ও? যেন গোপনতম সব কিছু দেখে নিচ্ছে। এই বয়সেও ঠোঁট দুটো টকটকে লাল, তার পাশ দিয়ে দুটো গজদন্ত বেরিয়ে এসেছে। ডাইনিদের মতো লাগছে। আমার বুকের মধ্যে ধড়াস ধড়াস করছে। হে ভগবান, এদিকে যেন না আসে। ভয়ানক রাগ হচ্ছে জয়দীপের ওপর। আমাকে বসিয়ে দিব্যি কেটে পড়লি। আর বাড়ির লোকদেরই বা কী আক্কেল। আমার ঘাড়ে মড়া ফেলে রেখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেলফোনটা বের করলুম, শান্তনুটাই বা কী করছে। এই সময়েই সিগনালটা গেল? ধুত!

    বুড়িটা আমার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে হাসল। বুক হিম হয়ে যায় সেই হাসি দেখে। আমি সরে গেলুম খাটের পাশ থেকে, ও যা খুশি করে করুক। আমার বাধা দেবার ইচ্ছে বা ক্ষমতা দুটোর কোনোটাই নেই। ওর লাল লাল দুটো চোখ আমার বুক ভেদ করে একদম গভীরে ঢুকছে। আমাকে সরে যেতে দেখেই ও খুব আমোদ পেয়ে বিচ্ছিরি ভঙ্গিতে দুলে দুলে খলখল করে হাসতে শুরু করল। কাক দুটোও ওর কাঁধের ওপর থেকে কুতকুতে চোখে আমাকে দেখছে। ও যে ঘুরছে আর শব্দ করে হাসছে তাতেও ওই ছেলেটা আর মেয়েটার কোনো বিকার নেই, এতই প্রেম! বুড়ি ততক্ষণে যথানিয়মে পাক খেতে শুরু করেছে। প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে আমার মনে হতে লাগল এই বুঝি একটা কিছু ঘটতে চলেছে। অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে চলেছে। পিসেমশাইয়ের দিকে তাকাতে পারছি না। যদি দেখি যে মড়াটা নড়ছে! ঘোরা শেষ করে আমার দিকে ফিরে বুড়ি লম্বা সরু মতো আঙুলটা তুলে বলল, ‘কী রে তোকে একা বসিয়ে রেখে ও দুটো ফুটে গেছে?’ চমকে উঠেছি।

    তারপর দেখি শান্তনু। দরজার কাছে জয়দীপের বাবা আর কাকা, সঙ্গে আরও ক-জন।

    ‘তোদের এত দেরি?’

    ‘আর বলিস না, এখানে যে লোকটা রেজিস্ট্রি করে সে নেই। বসে আছি তো আছিই। মাল এল দেরি করে। হেভি দেখতে তো!’

    শেষ কথাটা ওই মেয়েটাকে লক্ষ করে। মেয়েটা শুনতে পেয়েছে বোধ হয়। আমিও ঘাড় ফেরালুম আর হৃৎপিণ্ড থেমে গেল। মেয়েটা চোখ তুলে আমাদের, বিশেষ করে শান্তনুকে দেখছে। কিন্তু বুড়িটা নেই, ম্যাজিকের মতো মিলিয়ে গেছে। কীভাবে গেল? আমি আগাগোড়া দরজার দিকে তাকিয়ে কথা বলেছি, এর ফাঁকে বেরিয়ে গেল? টেরই পেলুম না? বুকের ভেতরটা কীরকম করছে।

    সব শেষ করে যখন ভাস্করের গাড়িতে ফিরছি ফোনটা বেজে উঠল, ব্রজেনদা।

    ‘কোথায় থাকিস নট রিচেবল হয়ে? যাক গে শোন, পরশু সকাল সাড়ে পাঁচটায় প্রিয়া সিনেমার সামনে রেডি থাকিস। সারাদিনের প্রোগ্রাম। অতনুকে বলে দিস।’

    অতনু আমাদের ফোটোগ্রাফার, আর ব্রজেনদা রাজ্য সরকারের আমলা। ডায়মন্ড হারবারে পোস্টেড। আমার ভীষণ ঘনিষ্ঠ হওয়ার দরুন আমাদের চ্যানেল প্রচুর স্কুপ করতে পারে।

    ‘সাড়ে পাঁচটার সময়ে দাঁড়াব মানে? কোথায় যাব?’

    ‘অত কথায় তোর দরকার কী? এক্সক্লুসিভ খবর করার ইচ্ছে থাকলে আসবি। ছাড়ছি, বাই।’

    বাড়ি ফিরলুম। বুকের ভেতরটা কীরকম ভার হয়ে রয়েছে। কিচ্ছু খেতে ইচ্ছে করছে না। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কম্পিউটার নিয়ে বসা দরকার। তাও ভালো লাগছে না। তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লুম কিন্তু ঘুম আসতে চাইছে না। বুড়িটার চলে যাওয়াটা কীরকম অদ্ভুত। আমার দিকে আঙুল তুলেই বা কী করতে চাইছিল? তারপর ওই খাটগুলোকে ঘিরে ওর পাক খাওয়াটার মধ্যে একটা কী যেন অসঙ্গতি ছিল। কী সেটা? ভাবতে ভাবতে চোখের পাতা কখন জুড়ে গেছে।

    কোনো এক সময়ে রাস্তার কুকুরগুলো আচমকাই খুব জোরে আর্তনাদ করে উঠল আর আমার ঘুমটা ভেঙে গেল। বাথরুমে যাব বলে উঠে বসলুম আর তক্ষুনি মনে হল প্রথম খাটটার পাশে যে বসেছিল সে একটা হাত দিয়ে খাটটা ছুঁয়েছিল, না?

    বুড়ি যত বার পাক খেয়েছে, তত বার ওর বাড়ানো হাতের ওপর দিয়ে ডিঙিয়ে গেছে। ওকে এক বারও ছোঁয়নি। হাতের ওপর দিয়ে টপকে টপকে বুড়ি যাতায়াত করছে আর লোকটা নির্বিকার বসেছিল। এ আবার হয় নাকি? আর ওই প্রেমিকা যুগল তো খাট থেকে খুব বেশি হলে এক ফুট দূরে ছিল। ওই ফাঁক দিয়ে বুড়ি যাতায়াত করেছে আর ওরা বোঝেনি? হয় ওরা সবাই একসঙ্গে কানা, নইলে…, আমার কপাল ঘেমে উঠল। আলোটা যে জ্বালাব সে সাহসও নেই। আলো জ্বাললেই যদি দেখি যে বুড়িটা বসে আছে ঘরের মধ্যে! আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি যে ওকে ওরা কেউই দেখেনি। সারা গায়ে কাঁটা দিচ্ছে, বুকের মধ্যে ধড়াস ধড়াস করছে। এরকম কি হতে পারে কখনো? একটা আস্ত মানুষকে শুধু আমিই দেখতে পাচ্ছি? অসম্ভব জলতেষ্টা পেয়েছে তবু বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে রইলুম।

    দিনের আলোয় ভয়টা কেটে গেল। কাল বুড়ি মোটেই মিলিয়ে যায়নি। নিশ্চয়ই ওপাশের সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গিয়েছিল। ছেলেটা মেয়েটা তো প্রেম নিয়ে ব্যস্ত আর অন্য লোকটা জাস্ট ক্যালাস। মাঝে পড়ে আমি দুম করে ভয়টয় পেয়ে একসা। ভাগ্যিস ভাস্কর আর শান্তনুকে বলিনি। শুনলে তো আওয়াজের চোটে টিকতে দেবে না। মুখটুখ ধুয়ে চা নিয়ে, কাগজ ওলটাচ্ছি, শ্যামশ্রীর ফোন, ‘কোথায় ছিলে তুমি কাল সারা দিন? ফোন করলেই বলছিল নট রিচেবল।’

    ‘আমি শ্মশানে ছিলাম। আমার বন্ধু আছে না জয়দীপ? ওরই পিসেমশাই। একদম হঠাৎ। জানো তো উনি তান্ত্রিক ছিলেন।’

    একটু চুপ করে থেকে শ্যামশ্রী বলল, ‘ওঁর কথা তো আগে কোনোদিন শুনিনি।’

    ‘বলা হয়ে ওঠেনি আর কী। আসলে আমার সঙ্গেই তো বহু বছর যোগাযোগ ছিল না।’

    ‘তাই? অথচ তাতেও তুমি শ্মশানে চলে গেলে! আমার সঙ্গে কোথাও যাবার কথা ছিল না তোমার?’

    বিদ্যুৎচমকের মতো মনে পড়ে গেল। এই রে, কেলো হয়েছে! কাল তো ওর মামাতো বোন তৃণার জন্মদিন ছিল! গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে শ্যামশ্রী দাঁড়াবে, আমরা দু-জনে একসঙ্গে যাব, কথা ছিল। দেখেছ কাণ্ড, বেমালুম ভুলে গেছি।

    ‘সরি, ভেরি সরি। আসলে কাল এমন আটকে গেলুম যে—’

    ‘যে তুমি আমাকে জানাবার দরকার বোধ করলে না? তান্ত্রিক নিয়ে এতই ব্যস্ত!’

    ‘না, মানে করতুম, কিন্তু প্রথমে সিগন্যাল ছিল না, পরে চার্জ ছিল না। এনি ওয়ে…।’

    ও ফোন কেটে দিয়েছে। গুম হয়ে বসে থেকে তারপর আমি নিজেই ফোন করলুম। খুব বাজে হয়ে গেছে ব্যাপারটা।

    ‘হ্যালো, বলছি যে আমি ভেরি সরি। আজ সন্ধেবেলা যাব? তৃণাকে সরি বলে আসব?’

    ‘তুমি কি এটা তামাশা পেয়েছ?’ বলে ও ফোন কেটে দিল।

    আর তারপর থেকে ফোন করলেও ধরছে না। শেষে কেবলই বলছে সুইচড অফ। তৃণাকে ফোন করলুম। সে-ও ধরছে না। নির্ঘাত শ্যামশ্রী শিখিয়ে দিয়েছে। যা-তা হয়ে গেল ব্যাপারটা। কী আর করব?

    পরদিন পৌনে ছ-টা নাগাদ ব্রজেনদা তুলে নিল। রাসবিহারী হয়ে তারাতলা দিয়ে ডায়মন্ড হারবার। সেখান থেকে আরও কিছু লোকজন নিয়ে, পুলিশ ফোর্স নিয়ে কুলপি থেকে বাঁ-দিকে বেঁকে সোজা রায়দিঘি। দীর্ঘ রাস্তা। শেষ হয়েছে রায়দিঘি নদীর ধারে। রাস্তায় আসতে আসতেই টের পাচ্ছিলুম যে শরীরটা ঠিক জুতে নেই। চোখ জড়িয়ে আসছে আর সেইসঙ্গে গলা জ্বালা করছে। পরশু রাতেই ঠান্ডাটা লেগেছে।

    রায়দিঘিতে থামা হল। আমরা যাব ওপারে, কঙ্কণদিঘিতে চোলাই মদ অভিযান। ব্রজেনদারা নৌকো ঠিক করছে। শেষ মুহূর্তে আলোচনা করে নিচ্ছে কীভাবে কী করা হবে। আমরা দু-জনে এই ফাঁকে জায়গাটা ঘুরে দেখে নিচ্ছি। এই যে মাছের নৌকো এসে লাগছে, এই যে ছোট্ট ছোট্ট হাঙর উঠছে জালে, এসব নিয়েও তো একটা স্টোরি করা যেতে পারে।

    ওপারে পৌঁছে বেশ কিছুটা হেঁটে গ্রামের ভেতরে একটা খোলা জায়গায় সার সার ভাটি জ্বালিয়ে গুড় জ্বাল দিয়ে চোলাই মদ তৈরি হচ্ছিল। ব্রজেনদার লোকজনেরা সেসব ধ্বংস করতে শুরু করল। আমাদের আসতে দেখে আসামিরা ভেগেছে। গুড় জমে সমুদ্র থইথই। আমাদের ঘিরে লোকের ভিড় উপচে পড়ছে। সব মজা দেখতে এসেছে। ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে ব্রজেনদার বাইট নিলুম, আশপাশের দু-চার জন লোকের বাইট নিলুম। কিন্তু মাথায় ফট করে এত যন্ত্রণা হচ্ছে কেন? অসম্ভব যন্ত্রণা। ভালো লাগছে না। শেষ হলে বাঁচি।

    ফিরতি পথে ব্রজেনদার এক অনুচর একটা বাড়ি দেখাল।

    ‘ওই যে স্যার সাধুবাবার আখড়া। আগের বার ওইখান থেকে প্রচুর মাল পাওয়া গিয়েছিল। এক বার দেখে নিলে হয়।’

    ‘এখন আর ওখানে কেউ থাকে নে কো। সাধুবাবা চলে গেছে, এখন ভাঙা বাড়ি ছ্যার। কিছুই পাবেননি’, স্থানীয় একজন।

    ‘সাধুবাবা থাকেন না আর?’ এক অনুচরের আক্ষেপ, ‘ওঃ সে কী চেহারা! মাথা ভরতি জটা, লাল রঙের গেরুয়া পরা। গলায় কত রকমের মালা। দেখতে পেলে আপনারা ফাইন ফোটো পেতেন!’ এটা আমাদের উদ্দেশে।

    ‘অনেকদিন হল আর দেখচিনি ওঁকে। তবে জায়গাটা তো ভালো নয়। সন্ধে হয়ে আসছে, না যাওয়াই ভালো,’ আর এক স্থানীয় বাসিন্দা।

    তাতে কান না-দিয়ে ‘চলো চলো’ বলে প্রবল উল্লাসে ব্রজেনদা আল ধরে এগিয়ে গেল, পিছন পিছন আমরাও। এখানে কিন্তু মজা দেখতে কেউ পিছন পিছন এল না। সব মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে রইল। সাধুবাবার চেহারাটা শুনে থেকে আমার মনের মধ্যে খচ খচ করছে।

    ধানক্ষেতের শেষে তিনটে ডুমুর গাছ ত্রিভুজের মতো হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তার ঠিক মাঝখানে খোড়ো ভাঙা বাড়িটা দেখেই বোঝা যায় যে, এখানে কেউ থাকে না। ভাঙা বেড়ার গায়ে আটকানো ঝুলে পড়া গেট খুলে আমরা ভেতরে ঢুকলাম। প্রথমে ব্রজেনদা, আর দু-তিন জনে দিব্যি ঢুকে গেল, যেই আমি ঢুকতে গেলুম, অমনি কাঃ করে ডেকে বেড়ার পাশ থেকে এক এক করে তিনটে কাক উড়ে গিয়ে আমাদের মাথার ওপরে চক্কর কেটে ডাকতে শুরু করল। ভেতরে ঢুকে একটা উঠোন, পাশে একটু দাওয়া। ভেতরে ভাঙা দরজার পিছনে ঘর। ব্রজেনদারা ঝটপট উঠোন আর ঘরের ভেতরে দেখে নিয়ে আশপাশ খুঁজতে শুরু করল। মাথার যন্ত্রণাটা খুব বেড়েছে।

    ‘তোমরা দেখ। আমার মাথাটা খুব যন্ত্রণা করছে, আমি একটু বসছি’, বলে দাওয়াতে বসে পড়লুম।

    ‘তুই তাহলে এখানেই থাকিস, আমরা ওপাশটা দেখে আসছি।’

    আমাকে বসিয়ে রেখে ওরা এগিয়ে গেল। আর সঙ্গেসঙ্গে এক অলুক্ষুণে নৈঃশব্দ্য চরাচর ভরে দিল।

    বাড়িটাও তেমনি। উঠোন ভরতি জঙ্গল। একপাশে দুটো ভাঙা মালসা আর পোড়া ছাই। মাঝখানে একটা বোজা পাতকুয়ো, তার মধ্যে থেকে মানকচুর গাছ উঠেছে। কীসের একগাদা পালক ছড়ানো। ওদিকে খড়ের স্তূপ ডাঁই হয়ে রয়েছে। শেষ বিকেলের পড়ন্ত রোদে দাঁড়িয়ে আমার বোধ হল একা একা এখানে বসে না-থেকে ওদের সঙ্গে গেলেই উচিত হত। পরিবেশটা ভালো না।

    আমি একলা বসে আছি, চারপাশ হঠাৎই কীরকম নিঃঝুম হয়ে পড়েছে, কাকগুলোও আর ডাকছে না। কেমন মনে হল দাওয়ার ওপরে ভাঙা দরজার পিছনে ওই যে ঘরখানা রয়েছে, সেখান থেকে যেন একটা কোনো বউ আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে আর হাসি চাপবার চেষ্টা করছে। অবিকল সেরকম শব্দ। আমি মাথা ঘোরালুম আর স্পষ্ট বুঝতে পারলুম যে সে স্যাঁৎ করে মাথাটা দরজার আড়ালে টেনে নিল। কে রে ভাই! একলা এখানে বসে আছি পিছন থেকে মেরেফেরে না দেয়।

    ‘কে? কে ওখানে? ব্রজেনদা এখানে কেউ লুকিয়ে আছে’, বলতে বলতে আমি উঠে দরজার কাছে গেলুম। আমারই মনের ভুল। কারো পক্ষে ওখানে থাকা সম্ভব নয়। মাকড়সার ঝুল জমে দরজার মুখটা আটকে রয়েছে, আর তারই ভেতর দিয়ে দেখলুম যে ওপাশে দেওয়াল পড়ে গিয়ে শূন্যতা হা-হা করছে। গাছপালা দেখা যাচ্ছে। নিশ্চিন্ত হয়ে ফিরে এসে আবার বসলুম আর মনে হল এই এক মিনিটের মধ্যেই উঠোনটার মধ্যে যেন কী একটা পরিবর্তন ঘটে গেছে।

    উঠোনের ওপাশে ভাঙা মালসা দুটোর পাশে একটা পোড়া হাঁড়ি এল কোত্থেকে? গেটের মুখে দুটো পুরোনো ঝাঁটা পড়ে রয়েছে, এ দুটো এতক্ষণ দেখিনি তো! ছিল কোথায়? দাওয়ায় ওঠার সিঁড়িটার মুখটা এত ভিজে কেন? যে বাড়িতে কেউ থাকে না, সেখানে এত ভেজে কীভাবে? একী ভূতুড়ে ব্যাপার রে বাবা! সেইসঙ্গে মনে হতে লাগল ওই যে সাধুর কথা বলছিল তিনি জয়দীপের পিসেমশাই নন তো! এক্ষুনি যদি ওই ভাঙা ঘরটা থেকে লাল আলখাল্লা পরে বেরিয়ে আসেন একমাথা জটা নিয়ে! আমার সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল। ব্রজেনদারা এত দেরি করছে কেন? আমি এখানে আর বসতে পারব না। ভয়ের চোটে উঠে দাঁড়ালুম আর স্পষ্ট বুঝতে পারলুম সেই বউটা আবার তার মুখখানা দরজার আড়ালে টেনে নিল।

    সিঁড়ির নীচটা ভিজে ছিল খেয়াল নেই, তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে পা-টা গেল হড়কে আর বুকপকেট থেকে মোবাইলটা ছিটকে গিয়ে পড়ল পাতকুয়োর পাশে। এগিয়ে ওটাকে তুলে গেট দিয়ে বেরোতে গিয়ে এমনিই চোখ পড়ল ফাটা দাওয়াটার দিকে। এগোব কী, নিদারুণ ভয়ে আমার পা দুটো মাটিতে গেঁথে গেছে।

    এতক্ষণ আমি যেখানে বসেছিলুম, ঠিক তার পাশেই এখন দেখতে পাচ্ছি একটা কালো সুতো বাঁধা ছেঁড়া মাদুলি, দুটো রুদ্রাক্ষ আর কয়েক টুকরো ভাঙা শাঁখা। কোত্থেকে এল? কে বারবার আমাকে উঁকি মেরে দেখছে? সারা গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠেছে, বুকের মধ্যে হাতুড়ি পেটার শব্দ, পা দুটো বেজায় ভারী হয়ে পড়েছে।

    সেইসময়ে লোকজনের গলার আওয়াজ কানে এল। অতনু ডেকে বলল, ‘দীপু এদিকে আমরা। দেখে যা।’ মনে জোর ফিরে পেয়ে প্রায় দৌড়েই বাইরে এলুম। কিন্তু কোথায় অতনু? এই যে লোকজনের আওয়াজ পেলুম, তারা সব কই? এক বার শব্দ হওয়ার পরেই সব চুপ। চেঁচিয়ে ডাকলুম, ‘অতনু, কোন দিকে তোরা?’ অতনু কোনো সাড়া দিল না, কিন্তু বাড়িটার পিছন দিক থেকে এবার স্পষ্ট গলার আওয়াজ আসছে। আমাকে ডেকে ওরা এগিয়ে গেছে। আমি পাশ দিয়ে ঘুরে বাড়িটার পিছনে গেলুম।

    কিন্তু ব্যাপার কী? কোথায় ওরা? এখানেও তো সব ফাঁকা! কেউ কোথাও নেই! শব্দহীন চরাচর, ধু-ধু ভূমি। কী একটা পোকা ডাকছে। আর আশ্চর্য, বাড়িটার পিছনের দেওয়ালটা তো দিব্যি আস্তই রয়েছে। অথচ এই তো খানিক আগেই ভেতর থেকে দেখে এলুম যে, দেওয়াল একদম ভাঙা। বাইরের শূন্যতা দেখা যাচ্ছে। এই তো এই বাবলা গাছ দুটোকেই দেখতে পেয়েছিলুম ভেতর থেকে। কী দেখলুম তাহলে? অতনুরাই বা কোথায়? এ কি দিনদুপুরে নিশি ডাকল নাকি আমাকে? এখান থেকে এক্ষুনি পালাতে হবে। আসবার সময়ে লোকটা ঠিকই বলেছিল যে, জায়গাটা ভালো নয়। ওর বারণটা শুনলেই হত। ব্রজেনদার ফালতু গোঁয়ারতুমি!

    হনহন করে রাস্তাটা ধরে বেরোতে গিয়ে দেখি অন্য দিক দিয়ে আবার সেই বাড়িটার মধ্যে এসে ঢুকেছি। এদিকটা তখন লক্ষ করিনি। কিন্তু উঠোন জুড়ে এত হাড়গোড় ছড়ানো কেন? আমি যতক্ষণ বসেছিলুম ততক্ষণ ছিল না তো! পাতকুয়োটার পাশে এত মদের বোতলই বা কোত্থেকে এল? ঠিক যেন ওই দাওয়া থেকে ছুড়ে ছুড়ে ফেলা হয়েছে। পাতকুয়োর ওপরে এগুলিই বা কখন এসে জুটল? তিনটে কালো আর তাদের মুখোমুখি তিনটে সাদা কাক।

    আর ওদিকে ওটা কী দেখছি আমি? দাওয়ায় যেখানে আমি বসেছিলুম সেখানে খুঁটিতে হেলান দিয়ে পাশ ফিরে বুড়ি মতো কে একটা বসে রয়েছে না? খাড়া বেঁকানো নাক! ওকে তো পরশু দিন সন্ধেবেলা শ্মশানে দেখেছি। ওই যে ওর ঝোলাটা নীচে পড়ে রয়েছে। ঠোঁট দুটো এত লাল? রক্ত খেয়েছে নাকি? আমার সারা শরীরে ঘাম দিচ্ছে। মাথার ভেতরটা হঠাৎ খুব হালকা হয়ে গেছে। তারপর কী হয়েছিল বুঝতে পারিনি, শুধু মনে হয়েছিল আমি বুঝি পড়ে যাচ্ছি।

    বাড়ি ফিরলুম ধুম জ্বর নিয়ে। কোনো হুঁশ ছিল না। ঘোর জ্বরের মধ্যেও এক বার আমার চোখের পাতায় সেই শ্মশানের দৃশ্যটা ভেসে উঠেছিল, আর এক বার কঙ্কণদিঘির ছবি। দু-বারই আমি আর্তনাদ করে খাটে উঠে বসেছিলুম। পরে শুনেছি সে-দিন নাকি ব্রজেনদারা এসে দেখেছিল যে খুঁটিতে হেলান দিয়ে বসে আমি ফ্যাল ফ্যাল করে বাইরের দিকে তাকিয়ে রয়েছি আর গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। শরীরটা এত ভারী হয়েছিল যে বয়ে আনতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল।

    সেরে উঠলেও খুব দুর্বল। বাইরে যাবার অনুমতি এখনও নেই। শ্যামশ্রীকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। আমার জ্বরের খবর শুনলে ও এক বার আসবেই। ওর নম্বরটা ডায়াল করলুম। ও খুব ঠান্ডা গলায় বলল, ‘ফোন করলে কেন?’

    ‘তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। তুমি একটু আসবে প্লিজ?’

    ‘আসব মানে? কোথায় আসব?’

    ‘আমাদের বাড়িতেই এসো। আমার ক-দিন খুব জ্বর হয়েছিল, তারপরে…’

    কথা শেষ করতে না-দিয়ে ও বলল, ‘জ্বর হয়ে থাকলে শুয়ে থাকাটাই ভালো, অন্যদের বিরক্ত করার চেয়ে।’

    ‘তুমি কি বিরক্ত হচ্ছ?’

    ‘শোনো আমি রাখছি। তোমার অখণ্ড অবসর থাকতে পারে, আমার নেই।’

    এর থেকে দু-চার কথা বেড়ে যেতে ‘প্লিজ লিভ মি অ্যালোন’ বলে ও দড়াম করে ফোন কেটে দিল। সামান্য ব্যাপারে ঝগড়ার কোনো মানে হয়? আমার চোখে জল এসে গেল। ও আমার সঙ্গে এরকম করছে কেন?

    প্রবল অভিমানে বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে রইলুম। ধুর আমিও আর ফোন করব না। ফোন করা মানেই তো ঝগড়া। ও কিছু বুঝতেই কেন চাইল না?

    আরও দু-দিন পরে সুস্থ হয়ে বেরোতে পারলুম। শরীর এখনও দুর্বল, তবু অফিসে জয়েন করতে হল। গতানুগতিকভাবেই সব চলতে থাকল।

    আরও মাসখানেক পরে একদিন রাতে ঘুমোচ্ছি। মনটা ক-দিন ধরেই বিক্ষিপ্ত ছিল। কিচ্ছু ভালো লাগছে না। আমাদের চ্যানেলের জন্মদিনের বিশেষ প্রোগ্রামে যেহেতু আমি যেতে পারিনি, তাই নিয়ে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। জ্বরটা কোনো এক্সকিউজ নয় বলেই দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে আমাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টও দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে একটা সর্বভারতীয় প্রকাশনা সংস্থায় আমাকে ডেকেছিল, ইন্টারভিউটাও খুবই ভালো হয়েছিল, তবু কে জানে কেন সেটা হল না। শ্যামশ্রীর সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। সব মিলিয়ে মনটা ভালো নেই।

    নানান ভাবনায় তলিয়ে যেতে যেতে ঘুমিয়ে পড়েছি। আচমকা কীরকম একটা শব্দ হতে আমার ঘুমটা ভেঙে গেল। কোথাও অনেক লোক একসঙ্গে কিছু পাঠ করছে। একটানা মন্ত্রের মতো গুনগুন শব্দ। আমার এই ঘরের মধ্যেই যেন মন্ত্রপাঠ হচ্ছে। আমি ধড়মড় করে উঠে বসে দেখি রাত আড়াইটে। চরাচর শব্দহীন, নিদ্রামগ্ন। বাইরে তীক্ষ্ন স্বরে পেঁচা ডেকে গেল। তারপর আবার সব স্তব্ধ। সেই নিঃশব্দ বহমান রাত্তিরে বিভ্রমের মধ্যে আচমকা আমার মনে পড়ল ছোটোবেলায় কালীঘাট পার্কের কাছে সেই বাড়িটার কথা। কালী পুজো ছিল। যে দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল তার কী নাম ছিল বেশ? আমাদের পুরোনো বাড়িতেই কাজ করত, অনেক বয়স হয়েছিল। নামটা খেয়াল পড়ছে না। তার সঙ্গে এক বারই গেছি, ভুলেও গিয়েছিলুম। কিন্তু এখন অবচেতন থেকে ক্রমশ ছবির মতো সব ভেসে উঠতে লাগল। এও কি সম্ভব? ওই চেহারা তো আমি ভুল করিনি। করতেই পারি না। কিন্তু এটাও তো অবিশ্বাস্য!

    সত্য আর স্বপ্নের মাঝখানে যে আলো-আঁধারি তার মধ্যে মনটা দুলতে শুরু করল। কালকেই ও-বাড়িতে গিয়ে জেঠুর সঙ্গে বসে ব্যাপারটা ফয়সালা করতে হবে। এক আশ্চর্য অনুভূতিতে রাতটা কাটল।

    একটু বেলা হতেই দৌড়লুম জেঠুর কাছে। টেবিলে বসে কী লিখছিল, পাশে একগাদা বই ছড়ানো। ঘরে ঢুকতে ঢুকতে মনে হল আমি যে তাকে দু-দু-বার নিজের চোখে দেখেছি সেটা আপাতত না বলা ভালো। বিশ্বাস করবে না। আমি নিজেই তো বিশ্বাস করতে পারছি না। আস্তে আস্তে ব্যাপারটা জানতে হবে। কিছুক্ষণ এটা-সেটা বকবক করে তারপরে খুব ক্যাসুয়ালি চেহারার বর্ণনা দিলুম। বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ডের লাফানি শুনতে পাচ্ছি।

    জেঠু আমার কথা শুনতে শুনতেই বই ওলটাচ্ছিল, আন্ডারলাইন করছিল। উঠে গিয়ে আলমারিতে একটা বই খুঁজতে খুঁজতে বলল, ‘এর কথা তোকে কে বলল?’

    ‘জাস্ট কৌতূহল। বললুম না ছোটোবেলায় দেখেছিলুম, সেটাই হঠাৎ মনে পড়ল।’

    ‘তুই দেখেছিলি? তোর তো দেখার কথা নয়!’

    ‘তোমাদের ওই নন্দর মা-ই তো নিয়ে গিয়েছিল। জায়গাটা খুব ভালো মনে নেই, তবে সম্ভবত কালীঘাট পার্কের কাছে একটা বাড়িতে। যেটুকু মনে আছে।’ যত সময় যাচ্ছিল আমার ধুকপুকুনি তত বাড়ছিল।

    ‘কালীঘাট পার্কের কাছে একটা বাড়িতে তো? তুই তার মানে অঘোরীবাবার আশ্রমে গিয়েছিলি।’

    ‘তা তো জানি না।’

    ‘ওখানে এক অঘোরী সন্ন্যাসী থাকতেন। উনি কালীর এক-শো আট রূপের পূজা করতেন। দক্ষিণাকালী বাদে সবকটাই ভয়ংকর রূপ। ওঁর মতো শক্তিশালী সাধক ছাড়া সাধারণ মানুষ সাহসই করবে না ওইসব দেবীর পুজো করতে।’ জেঠু বলে যাচ্ছে।

    পণ্ডিত লোকদের এই মুশকিল, একটা প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে চলে যায়। আমার ছটফটানি বাড়ছে।

    ‘তবে কী জানিস, ওই ভয়ংকরেরও একটা আকর্ষণ আছে।’ জেঠু নিজের মনে বলে চলল, ‘ধর ছিন্নমস্তা। দশমহাবিদ্যার একজন। নিজের মাথাটা কেটে হাতে ধরে নিজেরই রক্ত খাচ্ছে! ভাবতে পারিস?’

    উঃ, জেঠু বড্ড বেশি প্রসঙ্গ পালটাচ্ছে। ওই সব দেব-দেবীর গল্প আমার কোনোকালেই ভালো লাগে না। আমার প্রশ্নের উত্তরটা দিয়ে দিলেই হয়। আমি কাষ্ঠ হেসে চুপ করে রইলুম।

    ‘অথবা ধর ধূমাবতী।’ এই রে আবার শুরু হল। আমি ঘড়ি দেখলুম, এখান থেকেই সোজা অফিস চলে যাব। জেঠু বলে চলেছে, ‘ঘোর অমঙ্গলের দেবী। লোকের মধ্যে ঝগড়া বাধায়, সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়, আরও নানা ক্ষতি করে। সাধ করে তার পুজো কে করবে বল? করবে যাঁরা ভীষণকে ভীষণ বলেই ভালোবাসে। যেমন ওই অঘোরী করত।’

    ধুত্তোর! অঘোরীর নিকুচি করেছে। আসল কথাটা বলে না কেন? আমাকে কথা বলার কোনও সুযোগ না দিয়ে জেঠু বলেই চলল, ‘আমি নিজের চোখে দেখেছি, এক ফিজিক্সের প্রফেসর— লোকটা যেমন কট্টর মার্কসবাদী, তেমনি পণ্ডিত। কিন্তু চাকরি-বাকরি সব ছেড়ে দিয়ে ওই অঘোরীবাবার কাছে পড়ে রয়েছে। ঘরে টিকতে পারেনি, ভাবতে পারিস?’

    শুনেই আমার বুকটা ধড়াস করে উঠল, ‘সেই প্রফেসর এখন কোথায়?’

    ‘জানি না। আমার সঙ্গে পরিচয়ও ছিল না। আমি ওই অঘোরীর আশ্রমে গেছি এক বার দু-বার। তখনই দেখেছি লোকটাকে। তবে ওখানে তোকে নিয়ে যাওয়া একদম উচিত হয়নি। কোত্থেকে কি ক্ষতি হয় বলা যায়?’

    ‘ছাড়ো! আমি যার কথা বলছি সে কে বলো না!’

    ‘এত ছটফট করছিস কেন? ভালো ভালো কথা বলছি পছন্দ হচ্ছে না? কী হয়েছিস তোরা। বইটা ধর!’

    বিনা বাক্যব্যায়ে নিলাম। পেটের কাছটা গুড়গুড় করছে।

    ‘এই যে দশমহাবিদ্যার চ্যাপটারটা, এর শেষ দিকটা দেখ। এক্ষুনি ধূমাবতীর কথা বললুম না, শেষ দিকে ধ্যানমন্ত্রের মধ্যে রূপবর্ণনা আছে। পড়!’

    মূল সংস্কৃতের নীচে বাংলা অনুবাদ, তার সঙ্গে দুটো ফুটনোটও রয়েছে। এক নিশ্বাসে পড়ে গেলুম— ‘কুরূপা, ধূম্রবর্ণা, খড়গ-নাসা ও মলিন শববস্ত্র শোভিতা, দেবী ধূমাবতীর ধ্যান করি।’ আমার বুকের মধ্যে ধড়াস ধড়াস করছে। রুদ্ধশ্বাসে পড়ে চললাম— ‘যা দেবী রক্তনেত্রা, তীক্ষ্নদন্তী, কর্মফল-পেটিকা যাঁর দক্ষিণ করের শোভা বর্ধন করে, যিনি মধ্যে ও মাংসপ্রিয়, শুক্ল ও কৃষ্ণ বায়সবাহিত রথে অরূঢ়া, শবপূর্ণ ভূমি বা পরিত্যক্ত গৃহ যাঁর প্রিয় আবাস, যিনি অমঙ্গল সাধনে তৎপর সেই কলহ-বিচ্ছেদ পটীয়সী জরতী মূর্তিধারিণী দেবী ধূমাবতীর ধ্যান করি, যাতে তিনি আমার অশুভ বিধান না করেন।’

    প্রথম ফুটনোটে রয়েছে, পেটিকায় বীজাকারে সংরক্ষিত কর্মফল তিনি মানুষের মৃত্যুকালে রোপন করেন। দ্বিতীয়টায়, সাদা ও কালো কাক, দিন ও রাতের প্রতীক।

    ‘পড়লি?’ জেঠু জিজ্ঞেস করল।

    ‘হ্যাঁ পড়লুম তো’, আমার গলায় আওয়াজ আটকে গেছে।

    ‘তোর উত্তর পেলি?’

    বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ আমি ঘাড় নাড়লুম।

    ‘তোর মেমরির প্রশংসা করতে হয়! কোন ছোটোবেলায় অঘোরীবাবার আশ্রমে এক বার তাঁর মূর্তি দেখেছিলি, এত বছর পরেও চেহারাটার নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছিস। মনে হয় যেন সদ্য দেখে এলি। ভেরি গুড।’

    আমার মাথায় কোনো কথাই ঢুকছিল না। কীরকম থম মেরে গেছি।

    ‘অঘোরী সন্ন্যাসী কারা জানিস তো’, জেঠু সে সম্বন্ধেও বলে যাচ্ছিল। আমি কিচ্ছু শুনছিলুম না। ছটফট করছি কতক্ষণে শ্যামশ্রীকে ঘটনাটা বলব। ও শুনলে চমকে যাবে।

    বাইরে বেরিয়েই ওকে ফোন করলুম। রিং হয়ে গেল, ধরল না। দ্বিতীয় বারও রিং হয়ে গেল, ধরল না। তৃতীয় বারে ধরে খুব নিস্পৃহ গলায় বলল, ‘বার বার ফোন করে বিরক্ত করছ কেন?’

    খারাপ লাগলেও আমি খুব আগ্রহ নিয়ে বললুম, ‘বিরক্ত আবার কী? কী সংঘাতিক ব্যাপার জানো?’

    ওপাশে কোনো শব্দ নেই। আমি বললুম, ‘গ্রেট এক্সপিরিয়েন্স। সব বলব। কখন আসতে পারবে?’

    ‘প্লিজ! আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই।’

    ‘মানে?’

    ‘মানেটা খুব পরিষ্কার। আমাকে বিরক্ত না করলে আমি বাধিত হব। আন্ডারস্ট্যান্ড?’

    যা বাব্বা, ফোন রেখে দিল? অহেতুক ঝগড়া করার কোনো মানে হয়? ও সম্পর্কটাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাইছে?

    ঠিক আছে, যত কষ্টই হোক, আমিও আর ফোন করব না। দেখি, কলহ-বিচ্ছেদ-পটীয়সী আমাকে আর কত কষ্ট দিতে পারে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিদুর – মিহির সেনগুপ্ত
    Next Article কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }