Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    সৌমিত্র বিশ্বাস এক পাতা গল্প257 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অবগাহন – সৌমিত্র বিশ্বাস

    অবগাহন

    এসি টু টায়ারের কামরায় বসে চোরা চোখে পিয়ালিকে দেখছিল রক্তিম। এইভাবে দেখাটা ঠিক হচ্ছে না বুঝেও নিজেকে সামলে রাখতে পারছিল না। ও যে শুধু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বউ তাইই নয়, মেয়েটাকে চেনে ক্লাস টেন থেকে, যখন থেকে শাশ্বতর সঙ্গে ওর প্রেম। কিন্তু ওর দিকে না তাকিয়ে উপায় ছিল না। অন্যদিকে মন দিতে গেলেই দুপুরের দৃশ্যটা ভেসে উঠছিল— কচুরীপানা সরিয়ে অলোক পাগলের মত সাঁতার দিয়ে ফেরার চেষ্টা করছে আর মাঝে মাঝে গলা থেকে যেটা বেরিয়ে আসছে সেটা মরণ আর্তনাদ। রক্তিম কুঁকড়ে যাচ্ছিল।

    ‘আমি তো ভেবেছিলাম এসে পৌঁছতেই পারব না,’ উত্তীয় বলল, ‘জিন্দেগীতে এরকম জ্যাম দেখিনি।’

    ‘একজ্যাক্টলি। আমি তো ঠিকই করে ফেলেছিলাম আর কিছুক্ষণ দেখে হাঁটা লাগাব’ শাশ্বত বলল।

    ‘সে তুই পারতিস! আমার হত না। অ্যাতো মালপত্র নিয়ে পুরো ব্রীজ হাঁটা’ উত্তীয় হাসল।

    ‘সত্যি গুরু চারদিনের জন্যে তুমি মালপত্র এনেছ বটে’ শাশ্বতও খ্যাক খ্যাক করে হাসল।

    ‘আমাকে কেন? যে এনেছে তাকে জিজ্ঞেস কর’ উত্তীয় ইশারায় বউকে দেখাল।

    রুমা পাত্তাও দিল না। হাই তুলতে তুলতে বলল, ‘চলো এবার শুয়ে পড়া যাক। কাল ভোরে উঠতে হবে!’

    গুমগুম শব্দ করে ট্রেনটা কোনও ছোটখাটো খাল পেরিয়ে যাচ্ছিল আর শব্দটা রক্তিমের কানে আছড়ে পড়ে গাঁইতির শব্দ হয়ে গেল। একশো লিটারের ড্রামটাকে কাটবে বলে কৃষ্ণ গাইঁতিটা তুলেছিল আর তখনই মেয়েটা ঝাঁপিয়ে পড়ে ওটাকে বাঁচানোর জন্যে।

    কেউ চেঁচিয়ে ওঠে, ‘ও মেয়ে সরে যাও, সরে যাও, লেগে যাবে।’

    শুনে আপনা থেকেই রক্তিমের চোখ বুজে যায়। দড়াম করে একটা শব্দ, ড্রাম ফেটে গলগল করে খানিকটা গুড় জল বেরিয়ে এল। কোমর-ছাপানো চুলে লাল ফুল সেইসময়ে জলের ধারে হেলে-থাকা শিরীষ গাছটার সামনে দাঁড়িয়ে দুলে দুলে হাসছে। হাসির মধ্যে এমন একটা কিছু ছিল যাতে গা ছমছম করে ওঠে। মুখটা চেনা চেনা লাগছিল। আগে কি ওকে দেখেছে নাকি কারও হালকা আদল রয়েছে যেটা ধরতে পারছে না।

    টু-টায়ার এসির বন্ধ দরজা জানলা ভেদ করে একটা বুনো গন্ধ ভেসে আসছিল। গোটা কামরা জুড়ে এখন ঘন অন্ধকার আর নিঃঝুম ঘুম। কিন্তু বুনো গন্ধটা কোথা থেকে আসছে? মেয়েটা কে?

    গন্ধটার ঘ্রাণ নিতে নিতে রক্তিমের মনে হচ্ছিল ও যেন অনন্ত সময়ধারার মাঝখানে একটা অদ্ভুত বিন্দুতে দাঁড়িয়ে। যদি সব ঠিকঠাক থাকে— না থাকার কোনও কারণ নেই, তবুও কি নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায়? বারবার খালি সেই মেয়েটার খিলখিল হাসি মনে পড়ছে আর গা ছমছম করে উঠছে। কার মত দেখতে ওকে? খুব চেনা একটা মুখ। অথচ মনেই পড়ছে না।

    যদি সব ঠিকঠাক থাকে তাহলে বারো ঘন্টা পরে দুই বন্ধু আর বন্ধুপত্নীর সঙ্গে সমুদ্রে দাপাবে। শুধুই কি দাপাবে? পিয়ালির কথা মনে হতেই ওর নিঃশ্বাস ঘন হয়ে এল। মেয়েটা দিন দিন বড্ড বেশি সুন্দরী হচ্ছে। মেয়েরা তো নাকি পুরুষের চাউনি দেখলে মনোভাব বুঝে ফেলে। তা, ও কি কিচ্ছু বোঝে না? নাকি রক্তিমকে খেলাচ্ছে? বারো ঘন্টা পরে ও পিয়ালিকে ভেজা পোশাকে দেখতে পাবে।

    আর ঠিক বারো ঘন্টা আগে ও মাতঙ্গীপুরের সরু আল দিয়ে যাচ্ছিল। দুপাশে ধানখেত রেখে এগিয়ে মাঠ ছাড়িয়ে গ্রামে উঠতেই বাঁশবাগান। রোগা চিমসে ক্যাঁকলাসের মত দেখতে লোকটা গত সপ্তাহেই খবরটা দিয়েছিল। মাতঙ্গীপুরে নাকি রমরমিয়ে চোলাই মদের কারবার চলছে।

    যেখানে পাকুড় গাছের গায়ে রাস্তা ধাক্কা খেয়েছে সেটাই প্রথম চিহ্ন। সেখান থেকে ডানদিকে মোটামুটি একশো ফুট গেলেই পুকুরের এক পাশে বাঁশবন। তার ভেতরেই কারবার চলে।

    পাকুড়গাছের কাছে পৌঁছতেই একঝাঁক টিয়াপাখি ডাকতে ডাকতে মাথার ওপরে চক্রাকারে কিছুক্ষণ ঘুরে তারপর ঝাঁক বেঁধে বসল পেয়ারা গাছের মাথায়। তুমুল স্বরে ডাকাডাকি। আর তখনই সেই মেয়েটা পেয়ারা গাছ থেকে এমনভাবে সড়াৎ করে নেমে এসেছিল, যেন ওই পাখিগুলোই ওকে সচেতন করে দিয়েছে। পেয়ারা গাছ থেকে নেমে সোজা দৌড় মেরেছিল মেয়েটা। পেছন পেছন টিয়াপাখিগুলো উড়ে যাচ্ছিল ডাকতে ডাকতে। আর অশোকবাবু চেঁচিয়ে উঠেছিলেন, ‘এই রে! মেয়েটা খবর দিয়ে দেবে। শীগগির চলো।’

    বয়স কত হবে? ষোল সতেরোর বেশি নয়। জংলা ডুরে শাড়িটা হাঁটুর ওপরে তোলা আর খালি গায়ে আঁচলটা ভালো করে জড়ানো। মুখটা মনে পড়তেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল রক্তিমের। কালোর ওপরে একটু অদ্ভুত ধরণের সুন্দরী। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের মধ্যে এমন কিছু ছিল যা পুরুষকে সরে থাকতে বাধ্য করে।

    বন্ধ কামরায় সেই বুনো গন্ধটা ক্রমশ আরও তীব্র হয়ে ওর নাকে লাগতে শুরু করল আর সেই সঙ্গে টিয়া পাখির ডাক। খুব অস্বস্তি নিয়ে চোখ খুলল রক্তিম আর বুঝতে পারল যে টিয়া নয়, ইঞ্জিনের হুইশল। কিন্তু এসি কামরার মধ্যে কি হুইশলের শব্দ শোনা যায়? শরীরটা আনচান করছে, ঢক ঢক করে জল খেল রক্তিম। তাও ঘুম আসছে না।

    পাশ ফিরল তাও অস্বস্তি কাটছে না। বুনো গন্ধটা বড্ড নাকে লাগছে। সাইড আপার থেকে নামল, টয়লেট যাবে। গায়ে লাগোয়া চারজনের খোপ থেকে তখন বন্ধুদের ঘুমন্ত নিঃশ্বাস। একদম নিচে পিয়ালি শুয়েছে। একটু দাঁড়াল রক্তিম। পিয়ালিকে একবার স্পর্শ করার ইচ্ছেটাকে প্রবল শক্তিতে দমন করে অন্ধকার প্যাসেজ ধরে টালমাটাল পায়ে গিয়ে কাচের দরজা ধরে টানল। সেই বুনো গন্ধটা আরো তীব্র এবং পরমুহূর্তে রক্তিমকে চমকে দিয়ে দরজার ফ্রেমে পিয়ালি। এতই আচম্বিতে যে রক্তিমের গলা দিয়ে একটা অস্ফুট আতঙ্ক ধ্বনি বেরিয়ে এল।

    পিয়ালি একটা অদ্ভুত গলায় জিজ্ঞেস করল, ‘কী হল? পায়ে লাগল?’

    ওর গা দিয়েই কি বুনো গন্ধটা আসছে? গলার স্বরটা কেমন যেন একটা। শুনলেই গা শিউরে ওঠে।

    ‘না ঠিক আছে’ কাষ্ঠ হাসল রক্তিম।

    পিয়ালিও হাসল এবং রক্তিম ফিরে এসে আবার বাঙ্কে উঠল। ওর ঘুম আসছিল না আর খালি মনে হচ্ছিল পিয়ালিও ঘুমোয়নি এবং অন্ধকারেও ওর চোখ জ্বলছে। ও যেন রক্তিমের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। ক্রমশ অনিচ্ছা সত্ত্বেও রক্তিম ফিরে যেতে থাকল মাতঙ্গীপুরে।

    ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ওরা বাঁশবনে ঢুকেছিল। আর তখনই প্রথম বুনো গন্ধটা এসে নাকে লাগে। লুকোনো ভেজাল মদের সন্ধানে রক্তিম বাঁশবাগানের যত ভেতরে ঢুকছিল তত বুনো গন্ধটা ঘন হয়ে আসছিল আর সব কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল। সঙ্গে আর কে আসছে তাও দেখেনি। আচমকা একটা ঝোপের আড়াল থেকে তীক্ষ্ণ হাসি ভেসে এসেছিল। এদিক ওদিক তাকাতেই চোখে পড়ল যে ওই মেয়েটা সাবধানে মুখ বাড়িয়ে দেখছে। চোখাচোখি হতেই ঝট করে লুকিয়ে পড়ল ঝোপের ভেতরে আর সেই দেখে রক্তিম নিশ্চিত হয়ে গেল যে ওখানে ডেফিনিটলি মদ লুকোনো আছে। নইলে মেয়েটা উঁকি মেরে ওদের দেখেই লুকিয়ে পড়ল কেন?

    হামিদকে পেছনে আসতে বলে রক্তিম ঢুকে গেল ঝোপের ভেতরে। কিন্তু কোথায় কী? মদের তো চিহ্ন নেইই, মেয়েটাকেও আর দেখা যাচ্ছে না। আরও দু-পা এগোলো রক্তিম।

    ‘স্যার আর যাবেন না, জায়গাটা মনে হচ্ছে ভালো না’ হামিদের অস্পষ্ট গলা শুনতে পেলেও রক্তিম ভ্রুক্ষেপ করল না। অন্ধের মত কেবলই এগিয়ে যেতে থাকল।

    একসময়ে মনে হল কে যেন পেছন থেকে ডেকে উঠল, ‘রক্তিম, রক্তিম!’

    কে ডাকল? অশোকবাবু কি? নাকি বিকাশদা? পেছন ফিরতে গিয়ে কাঁটার খোঁচা খেল গালে। বুনো ঝোপগুলো ওকে এমনভাবে আটকে ফেলেছিল যে কিছুতেই মাথা ঘোরাতে পারছিল না। ওর যেন দম আটকে আসছিল। পেছনটায় বড্ড কাঁটা, সামনে দিয়ে ঘুরে বেরোতে হবে। কিন্তু ওই কাঁটাঝোপ ভেদ করে ও সামনে এল কী করে সেটাই বুঝতে পারছিল না। হামিদই বা কোথায়?

    কোনও দিকে না তাকিয়ে এলোপাথারি পা ফেলে সামনের ঝোপ ভেদ করে পা ফেলতেই যেন শূন্য থেকে ভেসে উঠল একটা মুখ।

    প্রচণ্ড চমকে উঠেছে ও। সেই মেয়েটা। এখন আর গায়ে শাড়ি নেই। এলো চুলে নিজেকে ঢেকে রেখেছে। রক্তিমকে চমকে উঠতে দেখে তীক্ষ্ণস্বরে হেসে উঠল। আর সঙ্গে সঙ্গে মাথার ওপরে টিয়াপাখির ডাক। নিজের হৃৎস্পন্দন শুনতে পাচ্ছিল রক্তিম আর তখনই কেউ আবার ডেকে উঠল, ‘রক্তিম! আমরা এদিকে।’

    ডাকটা শুনে একটু অন্যমনস্ক হতেই মেয়েটা দু-হাত দিয়ে দুম করে গলা টিপে ধরল। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে রক্তিম বুঝতে পারছিল ওর দম বন্ধ হয়ে আসছে।

    মেয়েটা বলে উঠল, ‘তোর রক্ত খাব শালা।’

    সেই সময়ে পেছন থেকে খুব জোরে কেউ যেন টানল ওকে। আর মেয়েটাও গলা ছেড়ে দিয়ে বিচ্ছিরিভাবে হেসে উঠল। কেউ খুব জোরে ধাক্কা দিতে যেন দুঃস্বপ্নের মধ্যে থেকে জেগে উঠল রক্তিম।

    সামনে একটা আবছা চেনা মুখ। কুয়াশা কেটে যাবার মত করে ঘোরটা কেটে যেতে রক্তিম দেখল মুখটা শাশ্বতর।

    ওকে ঠেলে ঠেলে ডাকছে, ‘কী রে ওঠ, এসে গেলাম তো।’

    ট্রেন থেমে রয়েছে। লোকজন মালপত্র নিয়ে নামতে শুরু করে দিয়েছে। বাইরে থেকে কুলি আর পাণ্ডার হাঁকডাক। উত্তীয়র কী একটা রসিকতায় পিয়ালি হেসে উঠল খিলখিল করে আর রক্তিম চমকে উঠল।

    স্টেশনের বাইরে তখনও অন্ধকার। রাত্তিরের জড়তা ছাড়িয়ে শহরটা জাগব জাগব করছে। রাস্তার ধারে সার বেঁধে অটো, টোটো আর হোটেলের গাড়ি। একটু এগোতে না এগোতে সমুদ্রের মধ্যে থেকে ভোরটা আস্তে আস্তে লালচে চোখ খুলতে শুরু করল। আর স্বর্গদ্বার ছাড়িয়ে যাবার পর যখন ঢেউগুলো দুহাত বাড়িয়ে প্রায় ফাঁকা রাস্তার ওপরেই উঠে এল, তখনই ওর মনটা খুব ভালো হয়ে গেল। গতকাল যা কিছু ঘটেছে সবটাই দুঃস্বপ্ন। সত্য কেবল এই ফেনিল উর্মিমালা, অপার জলরাশি, আর রুমার গলায়— কী ওটা? ভৈরবী?

    অনেকটা জায়গা নিয়ে ছড়ানো ছিটোনো রিসর্টটা মোহনার দিকে ঘেঁসা। শহরের কেন্দ্র থেকে বেশ দূরে বলেই বীচটাও একদম ফাঁকা। রিসর্টে ওদের বাদ দিয়ে জনা পনেরো লোক। রেজিস্টারে নাম ঠিকানা লেখার সময়ে রুমার কী একটা কথায় পিয়ালি জোরেই হেসে উঠল আর অমনি রক্তিমের গা ছমছম করে উঠল। ও এরকমভাবে হাসে কেন? গজদাঁতের জন্যে লোকে পিয়ালিকে সুন্দরী বলবে, কিন্তু রক্তিম সেদিকে তাকাতে পারছে না।

    মালপত্র রেখে সকলেই দৌড়োল সমুদ্রে। গা ম্যাজম্যাজ করছে বলে রক্তিম যেতে চাইল না। সকলেই অবাক। এখানে এসে যে সমুদ্রে না গিয়ে ঘুমোতে চায়, এরকম প্রাণী ওরা জীবনে প্রথম দেখল। কিন্তু কেন ঘুমোতে চাইছে সেটা বলা যাবে না। ভোরে ট্রেনের স্বপ্নের মধ্যে সেই মেয়েটাকে নয়, রক্তিম দেখেছিল পিয়ালিকে। পিয়ালির গায়ে কোনও আবরণ ছিল না এবং রক্তিমের বুকে এসে পড়েছিল। রক্তিম চাইছিল স্বপ্নটাকে ফিরিয়ে আনতে।

    কিন্তু ঘুমের বদলে আলিস্যিটা আরও চেপে বসল। ফলে ও ঠিক করে ফেলল সমুদ্রে যাবে। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে সুইমিং পুল এবং তার পাশে গাছের ছায়ায় কাঠের হ্যামক দেখে আর লোভ সামলাতে পারল না। আরামে চোখটা বুজল আর অমনি না চাইতেই টুকরো টুকরো ছবি জেগে উঠল মাথায়।

    পাগলের মত সাঁতার দিয়ে ফিরছিল অলোক। ওপরে উঠেও কথা বলতে পারছিল না। তার আগে বাঁশবাগান খুঁজে দুই জার চোলাই বের করেছিল। তারপর আরো খুঁজতে খুঁজতে ওরা গ্রামের অনেকটাই ভেতরে একটা পুকুরের ধারে এসে পৌঁছয়।

    হেলে পড়া শিরীষ গাছের তলায় একটা ছোট ইঁটের পাঁজা। তার গা দিয়ে লতাপাতা উঠেছে। ওপরে একটা ওল্টানো খড়ের মূর্তি। কোন ঠাকুর ছিল কে জানে। আর চারপাশে স্তূপাকার এঁটোকাঁটা, রক্তমাখা ন্যাকড়া, মদের বোতল, শুকনো মালা। বেশ কটা সিঁদুর-মাখা ঘট ওল্টানো। বোঝাই যাচ্ছে যে এটা গ্রামের আঁস্তাকুড়। আর মেয়েটা ওই নোংরা থেকে শালপাতা তুলে চেটে চেটে কী খাচ্ছে। অসুখবিসুখও করে না এদের?

    দল ছেড়ে কখন যে সম্মোহিতের মত মেয়েটার দিকেই এগিয়ে গিয়েছিল রক্তিম খেয়াল ছিল না। ওর দিকে চোখ পড়তেই একটা অপার্থিব হাসি খেলে গিয়েছিল মুখে, তারপর আঙুল তুলে মেয়েটা তীক্ষ্ণ গলায় বলেছিল—

    ‘একলা একলা ভূতের মত কী করছ?’

    চমকে উঠেছে রক্তিম। তারপর দেখল পিয়ালি। ভিজে সালোয়ার কামিজ লেপ্টে রয়েছে গায়ে। ভিজে চুল মুখে এসে পড়েছে। আর সেইদিকে তাকিয়ে রক্তিমের বুক কেঁপে উঠল।

    ‘এই তো’ কাষ্ঠ হাসল রক্তিম, ‘চান হয়ে গেল?’

    ‘কই আর হল?’ আদুরে গলায় বলল পিয়ালি, ‘সবাই মিলে না নামলে মজা হয়? চলো তো তুমি?’

    হাত ধরে টানল রক্তিমের, ‘ওঠো না!’

    বালির ওপরে বিরাট ছাতা টাঙানো। তার নিচে একটা চেয়ারে ডাঁই করে ওদের জামাকাপড়। রুমা আর উত্তীয় ঢেউয়ের সঙ্গে লাফাচ্ছে। শাশ্বত বালিতে পা ছড়িয়ে বসে। পিয়ালি দৌড়ে নেমে গেল জলে। জোর করে চিন্তাটা সরিয়ে দিয়ে রক্তিম এসে দাঁড়াল শাশ্বতর পাশে। তারপর কখন যে অন্যমনস্কভাবে জামা ছেড়ে জলে নেমে পড়েছে খেয়াল নেই। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল পাড়ে। ছাতার নিচে উত্তীয়, শাশ্বত আর রুমা। তারপরেই ছাতাটা পাল্টে গিয়ে বাঁশের ছাউনি হয়ে গেল।

    চারটে বাঁশের খুঁটির ওপরে পলিথিনের ছাউনি। তার নিচে পোড়া উনুন, এখনও গরম। তার মানে একটু আগেও কাজ হচ্ছিল। একটা টিনের ড্রাম ভর্তি গেঁজে যাওয়া জল মেশানো গুড়, সঙ্গে রবারের সরু পাইপ। চোলাই তৈরির স্পষ্ট প্রমাণ। অথচ এখন ত্রিসীমানায় কেউ নেই। সম্ভবত মেয়েটা এসে খবর দিয়েছে বলেই আসল জিনিসটা সরিয়ে ফেলার সময় পেয়েছে। কৃষ্ণ গাঁইতি তুলেছিল ড্রামটা কেটে দেবে বলে। আর সেইসময়েই মেয়েটা এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল ড্রামটা দু হাতে ঢেকে।

    আর কেউ তখন চেঁচিয়ে উঠেছিল, ‘ও মেয়ে সরে যাও, সরে যাও, লেগে যাবে।’

    নিজে থেকেই রক্তিমের চোখ বন্ধ হয়ে যায়। যখন খুলল তখন একটু দূরে দাঁড়িয়ে মেয়েটা গালাগালির বন্যা ছোটাচ্ছে আর কাটা ড্রাম থেকে হুড় হুড় করে স্রোতের মত বেরিয়ে আসছে গেঁজে যাওয়া গুড়।

    ঢেউয়ের ধাক্কায় পিয়ালি এসে পড়ল রক্তিমের গায়ে। কিন্তু সরে যাওয়ার আগেই পরের ঢেউটা ঝাঁপ দিল ওদের লক্ষ করে এবং রক্তিম জড়িয়ে নিল পিয়ালিকে। কয়েক মুহূর্তের জন্যে হাতের তালুতে একটা অলৌকিক কোমল অনুভূতি।

    তারপরেই পিয়ালি ছিটকে গেল ওর কাছ থেকে, জলের দিকে ফিরতে থাকা ঢেউ ভেঙে গিয়ে বসে পড়ল বালিতে। রক্তিমের বুক ভালো-লাগায় এবং টেনশনেও ধড়াস ধড়াস করছে। যদি পিয়ালি শাশ্বতকে বলে দেয়! কিন্তু আমি তো ইচ্ছে করে করিনি। ঢেউয়ের ধাক্কায় ওই তো প্রথম গায়ে পড়েছিল! পরের ঢেউটা রক্তিমকে মাটিতে শুইয়ে দিল।

    কান থেকে বালি বের করতে করতে ও উঠে এল পিয়ালির কাছে।

    এই অবধি জল পৌঁছয়নি। ভিজে বালির ওপরে পিয়ালি একদম চুপ করে বসে আছে। রক্তিমকে দেখে একবার চোখ তুলে তাকাল। কী ছিল সেই চোখে, রক্তিম পড়তে পারল না।

    একটু পরে পিয়ালি খুব কাটা কাটা গলায় বলল, ‘এবার একটা বিয়ে করো, বুঝলে। বামুনের ঘরের এঁড়ে হয়ে কদিন কাটাবে?’

    লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল রক্তিম। বিড়বিড় করে বলল, ‘ভুল হয়ে গেছে। শাশ্বতকে প্লীজ কিছু বোলো না।’

    পিয়ালি কোনও উত্তর দিল না। আর একটা অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে রক্তিম মাথা নিচু করে বসে রইল ওর সামনে। একটু আগের ভালো লাগার পাশাপাশি একটা গ্লানিও আচ্ছন্ন করছিল ওকে।

    ‘বামুনের ঘরের এঁড়ে হয়ে কদিন কাটাবে? বামুনের ঘরের এঁড়ে?’ বলার সময়ে ধিক্কার মিশেছিল পিয়ালির কণ্ঠে। অথচ এই পিয়ালিই আগে বলত, ‘রক্তিমদার তাকানোটা খুব সুন্দর, খুব পবিত্র।’

    আর মেয়েটা আঙুল তুলে রক্তিমকে বলেছিল ‘চোখ গেলে দেব। তোর রক্ত খাব শালা।’

    তারপর সেই হেলানো শিরীষ গাছটা থেকে যে খোঁচা-মত ডালটা বেরিয়ে এসেছিল, তার ওপরে লাফ মেরে বসে পড়েছিল। পা তুলে দিয়েছিল আরেকটা ডালে। সেটা গুটলি পাকিয়ে ঠিক একটা মানুষের মুখের আদল। গাছটা ভর্তি টিয়াপাখি।

    ছাতার নিচ থেকে রুমা হাত তুলে ডাকল। এবার উঠতে হয়। প্রত্যেকেরই পেটে আগুন জ্বলছে। খাওয়ার টেবলে বাকি চারজন হাসিঠাট্টা শুরু করলেও রক্তিম একদম চুপ মেরে গেছে। যতবার চোখ তুলেছে পিয়ালির সঙ্গে চোখাচোখি হয়েছে এবং পিয়ালির ঠোঁটের কোণে একটা রহস্যময় হাসি জেগে থেকেছে। যেটা দেখে রক্তিমের ভয় করছিল। ও তখনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যে এদের সঙ্গে আর কোথাও যাবে না।

    খাবার পরে এড়িয়ে গড়িয়ে শেষ অবধি যখন ওরা বীচে এসে পৌঁছল ততক্ষণে সূর্য ডুবে গিয়েছে। কেবল সামান্য লালচে হলদেটে একটা আভা। তবে সামনেই পূর্ণিমা বলে একটু পরেই প্রত্যেকটা ঢেউয়ের মাথায় চাঁদ জেগে উঠল।

    ‘জায়গাটা হেব্বী নামিয়েছিস। খোঁজ পেলি কী করে?’

    ‘খবর রাখতে হয় ওস্তাদ! স্বর্গদ্বারে থাকলে তুই এই রকম ফাঁকা বীচ পেতিস?’ উত্তীয় হাসল।

    ‘উত্তীয়দা, পৃথিবীতে যদি স্বর্গ থেকে থাকে তবে তাহা এইখানে এইখানে এইখানে’ পিয়ালি বলে উঠল।

    ‘হুঁ এটাকে স্বর্গ হতেই হবে। এর একটু আগেই তো স্বর্গদ্বার’ রক্তিম হাসল।

    ঝিরিঝিরি হাসি বয়ে গেল। তারপর শাশ্বত বলল, ‘না রে স্বর্গ নয়, এটাই আসলে স্বর্গদ্বার।’

    ‘কেন? তীক্ষ্ণ গলায় পিয়ালি জিজ্ঞেস করতেই রক্তিমের গায়ে কাঁটা দিল।

    ‘স্বর্গ হবে কী করে? আসল জিনিস নেই তো’ উত্তীয়ের দিকে ফিরে শাশ্বত হাত দিয়ে ইঙ্গিত করল, ‘এনেছ? সোমরস।’

    অপ্রতিভভাবে উত্তীয় মাথা নাড়ল— আনা হয়নি।

    ‘ধুস!’

    শাশ্বতর মুখ দিয়ে হতাশাটা বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে সকলকে চমকে দিয়ে একটা অশুভ খ্যানখেনে গলায় পিয়ালি বলে উঠল, ‘তিনটে দামড়া ব্যাটাছেলে সোমরস যোগাড় করতে পারছ না?’

    প্রত্যেকের কানে কথাটা খুবই অদ্ভুত শোনাল। কেননা কালেভদ্রে কোনও অকেশনে রুমা ঠোঁটে ঠেকালেও পিয়ালি একদমই ছোঁয় না। আর বেড়াতে বেরিয়ে তো ওটা খাওয়ার ঘোরতর বিরোধী। শুধুমাত্র ওর কারণেই আনা হয়নি।

    উত্তীয় অবাক হয়ে বলল, ‘একী কথা শুনি আজ মন্থরার মুখে!’

    পিয়ালি কেমন ঘোর লাগা ভঙ্গিতে হাসল, ‘স্বর্গদ্বারের কাছে দোকান আছে তো! আসার সময়ে দ্যাখোনি?’

    ‘আমি আর শাশ্বতই বোধ হয় সরকারকে সবচেয়ে বেশি আবগারী রেভেনিউ দিই, সেই আমাদেরই চোখে পড়ল না, আর তুমি দেখতে পেয়ে গেলে? মাগো মা, পায়ের ধুলো দাও’ বলে উত্তীয় ওর পায়ের সামনে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল।

    পিয়ালি পা সরাল না। চোখ তুলে একবার তাকাল রক্তিমের দিকে। ওর পায়ের সামনে উত্তীয়র মাথা দেখেই রক্তিম আবার দৃশ্যটা দেখতে পেল। গাছের ডালে মেয়েটা বসে রয়েছে, পায়ের নিচে অন্য ডালটা ঠিক যেন মানুষের মাথা।

    ‘আমরা কি এই চারদিন এখানেই কাটাব? না কোথাও যাব? কিছু ভেবেছ?’ শাশ্বত জিজ্ঞেস করল।

    ‘কাল তো মন্দিরে যাব’ পিয়ালি বলল। গলায় অন্য রকম কোনও স্বর নেই তো এখন। তাহলে কি আমিই ভুল শুনছি? ভাবল রক্তিম, এই ট্রমা থেকে বেরোতেই হবে।

    জোর করে মনটাকে এইদিকে ফিরিয়ে এনে বলল, ‘সেই কোণারক আর উদয়গিরি-খণ্ডগিরি, সাক্ষীগোপাল? তার চেয়ে এখানেই রেস্ট আর আড্ডা, খারাপ কীসে?’

    ‘আমি একটা সাজেশন দিতে পারি। কাছেই রঘুনাথপুর বলে একটা জায়গা আছে। অসাধারণ পট—’

    উত্তীয় কথা শেষ করার আগেই রুমা লাফ মেরে উঠে পড়ল, ‘দুর সমুদ্রে এসে কেউ পাড়ে বসে থাকে নাকি?’

    পায়ে পায়ে উত্তীয় আর শাশ্বত গিয়ে দাঁড়াল জলের কাছে। ঢেউ এসে পা ভিজিয়ে দিচ্ছে। পাড়ে শুধু পিয়ালি আর রক্তিম। পিয়ালি উঠে দাঁড়াল। হাস্কি একটা গলায় বলল, ‘যাবে না?’

    ওই অলৌকিক জ্যোৎস্না, আছড়ে পড়া ঢেউ আর পিয়ালির গলা সব মিলিয়ে রক্তিমের তখন ভীষণ ভয় করছিল। কোনও কথা না বলে কেবল মাথা নাড়ল। পূর্ণিমা বলেই হয়ত ঢেউয়ের উচ্ছ্বাস একটু বেশিই মনে হচ্ছে।

    সেটা দেখেই পিয়ালি চেঁচিয়ে বলল, ‘অ্যাই কেউ জলে নামবে না।’

    বলার ভঙ্গিতে এমন কিছু ছিল যাতে রক্তিমের হাড় হিম হয়ে গেল। কেননা মেয়েটাও একটা কাঁচা গালাগাল দিয়ে লাফ মেরে নেমে অশোকবাবুর সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল, ‘শুয়োরের বাচ্ছা আমার পুকুরে নামবি না।’

    তার আগে গাঁইতি চালিয়ে ওরা অস্থায়ী কারখানাটা ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু চারপাশে খুঁজেও একফোঁটা চোলাই বা চিটে গুড়ের চিহ্ন না দেখে অশোকবাবু বলেছিলেন, ‘অলোক, মহাদেব, পুকুরটা দেখে নেবে নাকি?’

    ‘তোমার পুকুরে আমরা কিচ্ছু করব না। কেবল দেখব কিছু লুকোনো আছে কি না,’ চোখ জ্বলে উঠলেও অশোকবাবু ঠান্ডা গলায় উত্তর দিয়েছিলেন।

    ‘আমার পুকুরে ওসব নেই, চল, ফোট এখান থেকে,’ মেয়েটা আরেকটা গালাগাল দিল।

    সঙ্গে সঙ্গে অশোকবাবুকে আড়াল করে অলোক এসে দাঁড়াল, ‘মুখ খারাপ করছ কেন?’

    মেয়েটা আবার গাল দিতেই অলোক পাল্টা গালাগাল দিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত করেছিল। আর বিপদের গন্ধ পেয়েছিল রক্তিম।

    মেয়েটা ফুঁসে উঠে সমানে অবৈধ ইঙ্গিতবাহী গালাগাল দিতে থাকল। রাগে উত্তেজনায় নাকের পাটা ফুলে উঠেছে, আঁচল কিছুটা সরে গিয়ে যৌবন দীপ্যমান। রক্তিম চোরা চোখে তাকাচ্ছিল সেদিকে। অলোকও লুব্ধ দৃষ্টিতে সেই দিকে তাকিয়ে আঙুল তুলে আবার নোংরা ইঙ্গিত করতেই অশোকবাবু প্রচণ্ড ধমক দিয়েছিলেন ওকে। মেয়েটা তেড়ে এসেছিল ওর দিকে আর হ্যা হ্যা করে হেসে অলোক জলে ডুব দিল জার খোঁজার জন্যে।

    সাধারণত চোলাই কারবারীরা জালা বা কলসীতে গুড় ভরে মুখটা বেঁধে জলে ডুবিয়ে রাখে। এমনকি পলিথিনের জারিকেনে চোলাই ভরেও জলের নিচে লুকিয়ে রাখে। ওপর থেকে দেখে কেউ টের পায় না। কিন্তু অলোক আর মহাদেব তুখোড় সুইপার, বহুদিন আবগারীতে কাজ করছে। যেখানেই লুকোনো থাক, ওদের কাছে ধরা পড়বেই।

    কিচ্ছু পাওয়া যাচ্ছিল না আর ওদের রোখ চেপে যাচ্ছিল। সেইসময়ে ধীর পায়ে মেয়েটা জলে নেমে সাঁতরে এগিয়ে চলল মাঝপুকুরে যেখানে কচুরীপানার জঙ্গল সেইদিকে।

    পাড়ের কাছে খোঁজাখুঁজি করতে করতে অলোক তেরচা চোখে সেটা দেখল এবং বলল, ‘মেয়েটা ওদিকে গেল কেন? মনে হচ্ছে ওইখানেই লুকিয়ে রেখেছে। দেখে আসি।’

    অশোকবাবু ধমকের সুরে বললেন, ‘অলোক কোনও অসভ্যতা করবি না কিন্তু।’

    দাঁত বের করে হেসে অলোক ভেসে গেল জলে।

    বাকিদের সঙ্গে রক্তিমও দেখল যে অলোক গভীর জলে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ওর বুক তখন ধুকপুক করছে। কেননা মেয়েটা কিছুটা সাঁতরে গিয়ে ডুব দিয়েছে। আর দিয়েছে তো দিয়েছেই। রক্তিম দেখছিল ঘড়ির কাঁটা লাফিয়ে লাফিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু মেয়েটার ওঠার নাম নেই।

    ‘শীগগিরই উঠে এসো, ও বাবারা, ও পুকুরে নামতে নেই’ প্রাকৃতিক কাজ সারতে এসে একটা বুড়ো লোক ওদের দেখে কেমন ভয়ার্ত গলায় চেঁচিয়ে উঠেছিল।

    ‘কেন কী হয়েছে?’ হামিদ তেড়ে উঠেছিল, ‘তুমি নিজের কাজে যাচ্ছো যাও।’

    ‘আমি কি কোনও খারাপ কথা বললুম? অই পুকুর উচ্ছুগ্য করা আছে। নামতে নেই।’

    ‘এই চল তো এখান থেকে। মেরে না মালাইচাকি ভেঙে দেব’ সঞ্জিত হাতের লাঠি উঁচিয়ে ধরতে লোকটা টলমল পায়ে ঝোপের আড়ালে চলে গেল। তখনও শোনা যাচ্ছে ওর গলা যে ওই পুকুরে ঠাকুর আছে, নামতে নেই।

    আর সেইসময়ই অলোকের গলা ফেড়ে একটা মারণ চিৎকার।

    চমকে উঠে ওরা দেখল অলোকের মাথাটা জলের নিচে ডুবে যাচ্ছে। তারপর কোনওরকমে হাঁচোড়পাঁচোড় করে পাড়ের দিকে সাঁতরাতে থাকল। একটু এগোতেই ওর মাথা আবার ডুবে গেল। আবার অলোক মাথা ভাসিয়ে তুলল। কোনওরকমে ডাঙায় উঠে থরথর করে কাঁপছিল। কথা বলতে পারছিল না। রক্তিম তাকাল জলের দিকে। মেয়েটা এখনও ওঠেনি।

    অলোককে নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল। একটু দম পাবার পর ওর কথা শুনে তো উপস্থিত সকলেরই মাথা ঘুলিয়ে গেল। এরকম আবার হয় নাকি? ইতিমধ্যে মেয়েটা যে কখন জল থেকে উঠে এসেছে কেউ দেখেনি। জ্যালজেলে শাড়িটা জলে ভিজে গায়ে এমনভাবেই লেপ্টে রয়েছে যে থাকা না থাকা সমান। আচমকাই একদম সামনে দাঁড়িয়ে অপার্থিব ভঙ্গিতে হাসতে হাসতে বলল, ‘কী রে শালা আমাকে খাবার খুব শখ, না? আয় খাবি।’

    ‘যাও মেয়ে যাও’ অশোকবাবু হাতজোড় করেই বলেছিলেন।

    মেয়েটা রক্তিমের দিকে আঙুল তুলে বলেছিল, ‘তোর রক্ত খাব শালা।’

    ‘যাও মা যাও’ অশোকবাবু আবার হাতজোড় করেছিলেন।

    অলোক এত ভয় পেয়েছিল যে অফিসে এসে নেতিয়ে পড়ল। গল্পটা শুনে সকলেই বলছে নেশার ঘোরে কী দেখেছে তার ঠিক আছে? এরকম আবার হয় নাকি?

    অলোক জোর গলায় বলছে যে ও মদ খেয়ে নামেনি। নেশার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু ও যেটা বলছে সেটা হওয়া সম্ভব নয়। অথচ ওর মুখচোখে তো আতঙ্ক আঁকা ছিল, মৃত্যুভয় না পেলে ওভাবে লোকে চেঁচাতে পারে না। তাহলে? মানতেও পারছে না, উড়িয়েও দিতে পারছে না। রক্তিমের গা হাত ঠান্ডা হয়ে আসছিল। কেননা মেয়েটা ওকেও বলেছে ‘তোর রক্ত খাব’।

    ‘তোমার কী হয়েছে বল তো? থেকে থেকেই কীরকম হারিয়ে যাচ্ছ?’ পরের দিন শেষ দুপুরে রুমা জিজ্ঞেস করল।

    সকালে জগন্নাথ দর্শন করে ওরা বেরিয়েছিল রঘুনাথপুরের দিকে। রঘুনাথপুর ঘুরে বেশ কিছু পট কিনে তখন ওরা ফিরছে। যাওয়-আসার পথে অন্যরা নিজেদের মধ্যে গল্প খুনসুটি করলেও রক্তিম আগাগোড়াই চুপ। একে তো অলোকের ভয়ার্ত চিৎকার আর অবিশ্বাস্য কাহিনী কানে লেগে রয়েছে আর সেই সঙ্গে কিছুতেই মনে পড়ছে না যে মেয়েটাকে কার মত দেখতে। খুব চেনা একটা আদল, কিন্তু ধরা দিচ্ছে না। কেন যেন মনে হচ্ছে মেয়েটাকে পিয়ালির মতই দেখতে। ওই কালো গায়ের রং, ধারালো মুখচোখ এবং ভয়াল দুটো গজদন্ত। কিন্তু সমুদ্রের ঘটনাটার পর থেকে পিয়ালির দিকেও আর তাকাতে পারছে না। সব মিলিয়ে একটা ট্রমা।

    রুমার প্রশ্ন শুনে হাসার চেষ্টা করল, ‘কই? কিছু হয়নি তো?’

    ‘ভয় করছে কোনও কারণে?’ পিয়ালি প্রশ্নটা করলেও রক্তিমের মনে হল যেন সেই মেয়েটাই জানতে চাইছে। সেই একই রকমের কথা বলার ভঙ্গি।

    ‘ভয়? ভয় কেন?’ রক্তিম আমতা আমতা করল ।

    ‘সে তুমিই জানো,’ পিয়ালির গলা তীক্ষ্ণ, গজদাঁতদুটো হিংস্রভাবে বেরিয়ে এসেছে। এবার বুঝি রক্তপান করবে।

    ‘রঘুরাজপুরের এত বিখ্যাত পট, তাও ভালো করে দেখলে না। অথচ তুমি নাকি শিল্পরসিক। ব্যাপারটা কী?’

    বাইরে ধানক্ষেতের ওপরে দুপুরের রোদ ঠিকরে যাচ্ছে। রক্তিম কী উত্তর দেবে? সত্যিই যে ওর ভয় করছে সেটা তো আর বলা যায় না।

    ‘সামনেই একটা ছোট গাঁও আছে, বিরহা গাঁও। সেঠিকু কী যিবো?’ ওড়িয়া বাংলা মিশিয়ে ড্রাইভার প্রশ্ন করল।

    ‘কী আছে ওখানে?’

    ‘মন্দিরঅ অছি, অনেক পুরুনা। দ্বাপরঅ যুগের মন্দিরঅ। যিবো?’

    ‘দ্বাপর যুগের মন্দির? তাহলে তো দেখবই।’

    ‘কীসের মন্দির?’

    ‘মাতঙ্গী মাতা।’

    ‘কে রে?’ শাশ্বত ফিসফিস করল।

    উত্তীয় মাথা নাড়ল— জানে না।

    রাস্তা থেকে বেশ খানিকটা ঢুকে মন্দিরটা। বাইরে থেকে বোঝা যায় না যে ভেতরটা এত বড়। ওদের দেখে পাণ্ডা যেভাবে দৌড়ে এল তাতে বোঝাই যায় বাইরের লোকজন বিশেষ আসে না।

    মন্দিরে পা দিয়েই রক্তিমের বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। যদিও কোনও কারণ নেই, তবু ওর মনে হচ্ছিল এই রকম কোনও জায়গায় যেন ও আগেও এসেছে। অস্পষ্ট কিছুর একটা আভাস পাচ্ছিল, কিন্তু কী, সেটা বুঝতে পারছিল না। এই বিরহা গাঁও-এর কথা তো ড্রাইভার না বললে জানতেই পারত না। তাহলে এরকম মনে হচ্ছে কেন?

    সামনেই যে বাঁধানো পুকুর, সেটা নাকি শিব আর পার্বতীর ঘাম থেকে সৃষ্টি হয়েছে, সেই যখন ওঁরা চণ্ডাল-চণ্ডালিনী রূপ ধরে মৈথুন করছিলেন। পার্বতীর সেই চণ্ডালিনী রূপেরই নাকি পুজো হয় এখানে। সেই রূপেরই নাম মাতঙ্গী— দশ মহাবিদ্যার একজন। ওই পুকুরে নামা নিষেধ। রক্তিম একদৃষ্টে তাকিয়েছিল জলের দিকে।

    ‘কী হল? আসো।’ পাণ্ডার ডাকে সম্বিত ফিরে পেয়ে ও দেখল বন্ধুরা এগিয়ে যাচ্ছে মূল মন্দিরের দিকে। এগোতে যাবে, সাপের মত কী একটা পা জড়িয়ে ধরল। চমকে লাফিয়ে উঠেছে রক্তিম। তারপরে দেখল সাপ নয়, একখানা ছেঁড়া রক্তমাখা ন্যাকড়া। মাটিতে পড়ে ছিল, চলতে গিয়ে পায়ে জড়িয়ে রয়েছে। পা ঝাড়লেও গেল না বরং আরো জড়িয়ে গেল। কোনওরকমে দু-আঙুলে তুলে পাশে ফেলে দিল। বড্ড ঘেন্না করছে, আঙুল ভর্তি অস্বস্তি। একই রকম আরও রক্তমাখা কাপড় পাশে রেলিং এ ঝুলছে।

    ‘ঘ্রুনা করিবঅ নহি, ঠাকুরানি তমকু দেখা দেবে’ রক্তিমের মুখ দেখে পাণ্ডা বলল। আরো বলল যে এই সব কাপড় নাকি ঋতুমতী মেয়েরা মানতের জন্যে দিয়ে গিয়েছে। এতে দেবী প্রীত হন।

    শুনে পিয়ালির কোনও ভাবান্তর না হলেও রুমা মুচকি হেসে মুখটা নিয়ে এসেছিল ওর কানের কাছে। কী বলেছিল রক্তিম শুনতে পায়নি, কিন্তু তারপরেই পিয়ালির গজদন্তে ঝিলিক দেখা দিয়েছিল, ‘তাহলে কিছু একটা মানত কর।’

    হাসতে হাসতে রুমা চাপড় মেরেছিল ওর গায়ে।

    দুই সখীর হাসাহাসি দেখতে দেখতে পুরোহিত তখন মাতঙ্গী দেবীর এই বিশেষ রূপের আবির্ভাবের গল্প শুরু করেছিল।

    এক সময়ে নাকি শিব আর পার্বতী খেতে বসেছিলেন। হঠাৎ এক ষোড়শী কন্যা মাটি ভেদ করে উঠে এসে মেঝেতে যত এঁটোকাঁটা পড়েছিল সেগুলো সব খেতে চাইলেন। খেয়ে সব পরিষ্কার করার পর শিব নাকি বর দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি আমাদের উচ্ছিষ্ট খেয়েছ তাই তোমার নাম উচ্ছিষ্ট-মাতঙ্গী। যে তোমার পুজো করবে সে সব কিছুতেই সফল হবে।’

    কিন্তু এঁর পুজো করতে গেলে নাকি দুনিয়ার এঁটোকাঁটা আর ওই সব কাপড় দিয়ে পুজো করতে হয়।

    দর্শনার্থীরা যাতে মাথা নিচু করতে বাধ্য হয় তাই বোধ হয় গর্ভগৃহের দরজাটা খাটো রাখা হয়েছে। ভেতরে দুটো টিমটিমে প্রদীপ, দেওয়াল ভর্তি ভুসো কালি। চারপাশটা নোংরা, চিটচিটে। ভ্যাপসা গুমোট।

    একটা চৌকো পাথরের ওপরে সিংহাসনে পদ্মাসনে দেবী বসে রয়েছেন। অন্ধকারে ভালো করে মুখই দেখা যাচ্ছে না। বেদীতে প্রচুর রজোবস্ত্র আর খাবার ছড়ানো। গোটা ঘর মদের গন্ধে ভরপুর, মদ নাকি পুজোর প্রধান উপাদান। রক্তিমের গা ঘিনঘিন করছিল, দম আটকে আসছিল। একটু হাওয়া চাই। অলোকেরও কি এরকমই কষ্ট হচ্ছিল?

    পিয়ালি অন্যমনস্কের মত বলল, ‘ওই পুকুরে একটা কিছু হয়েছিল না?’

    চমকে উঠল রক্তিম। কাকে বলছে কথাটা? ও জানল কী করে? পাণ্ডা খুব উৎসাহের সঙ্গে সেই ঘুপচি ঘরে দাঁড়িয়েই বলতে শুরু করল যে দেবী নাকি ওই পুকুরে চান করতে নেমেছিলেন। সেই অবস্থায় তাঁকে দেখে এক অসুর কামমোহিত হয়ে তাঁকে ধরবে বলে জলে নেমেছিল। দেবী তখন অসুরকে জলে ডুবিয়ে মেরে ফেলেন।

    ‘খরাব চিন্তা করি জলে নামা মনা।’

    আর তখনই রক্তিমের মনে হল ও যেন ঢেউয়ে ভাসছে। দূর থেকে কারা যেন কথা বলছে। কী বলছে স্পষ্ট বোঝা না গেলেও একটা তীক্ষ্ণ গলা চিনতে ওর ভুল হয়নি। ছিটকে পড়ে যাবার আগেই উত্তীয় ওকে জড়িয়ে ধরল। তারপর শাশ্বত আর উত্তীয় ওকে ধরে বাইরে নিয়ে এল।

    ‘কী রে কী হল?’ ওদের গলায় উদ্বেগ।

    রক্তিম ফ্যাকাশে হাসল, ‘কিছু না। হঠাৎ মাথাটা ঘুরে গেল। চল ঠিক আছে।’

    ‘না না। তুই চাতালে একটু শুয়ে থাক। তাড়ার তো কিছু নেই।’

    ‘তমে এইঠি শুই রহ, সবঅ ঠিক হই যিব। ঠাকুরানি তমরঅ ভলঅ করিবেন,’ বলে পাণ্ডা রক্তিমকে চাতালে শুয়ে পড়তে ইশারা করল। রক্তিম রাজি হচ্ছিল না, কিন্তু বন্ধুরাও জোর করে ওকে শুইয়ে দিল।

    পাণ্ডা বলল, ‘তমরা উচ্ছিষ্ট-মাতঙ্গীর ফটো দেখিবঅ আসঅ।’

    পুরো সময়টা পিয়ালি একটাও কথা বলেনি, সামান্য উদ্বেগও ওর চেহারায় ছিল না। ওকে শুয়ে থাকতে দেখে শাশ্বতদের দিকে ফিরে বলল। ‘ওকে একা রেখে সবাই চলে গেলে কী করে হবে? আমি থাকছি ওর সঙ্গে।’

    রক্তিম প্রায় আর্তনাদ করে উঠল, ‘না না কাউকে থাকতে হবে না। আমাকে একটু একলা থাকতে দাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

    পিয়ালি অদ্ভুত চোখে তাকাল ওর দিকে, ‘শিয়র? আমার কিন্তু কোনও অসুবিধে হত না।’

    ‘না না’ রক্তিম পাগলের মত মাথা নাড়ল।

    পিয়ালি টেরা চোখে ওকে দেখল। তারপর কিছু না বলে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বেরিয়ে গেল উচ্ছিষ্ট-মাতঙ্গী দেবীর ছবি দেখতে। চেঁচানোটা হয়ত ঠিক হয়নি, কিন্তু রক্তিমের কিছু করার নেই। কেননা পিয়ালির ঠোঁটের কোণে ও একটা ক্রুর হাসি ফুটে উঠতে দেখেছে।

    ঠিক সেরকম হাসি আবার ফুটে উঠল সন্ধেবেলা, ট্যাব থেকে রক্তিমকে উচ্ছিষ্ট-মাতঙ্গীর ছবি দেখানোর সময়ে।

    তার আগে রুমা বলছিল, ‘যাই বলো মন্দিরটা বহুৎ নোংরা।’

    যেন তাতে সায় দিয়েই একটা ঢেউ ওদের সামনে একগাদা হীরের কুচি ছড়িয়ে দিল। আজকেও চাঁদটা খুব সুন্দর বলেই হয়তো একটার পর একটা ঢেউ সেটাকে মাথায় করে ওদের পায়ের কাছে রেখে যেতে শুরু করল।

    ‘ওই দেবী তো নাকি ওইভাবেই থাকতে পছন্দ করে’ শাশ্বত বলল।

    ‘কিন্তু ঠাকুরদেবতাকে ওরকম নোংরার মধ্যে রাখাটা’ রুমা আবার মাথা নাড়ল, ‘জাস্ট যায় না।’

    ‘দেবীর যদি ইচ্ছে হয় ওইভাবে থাকতে তোমার আমার কী?’

    ‘প্রচুর টিয়াপাখি কিন্তু মন্দিরে।’

    ‘উচ্ছিষ্ট-মাতঙ্গীর বাহন তো টিয়াপাখি। পাণ্ডা বলল শুনলে না!’

    এই সব কথার মধ্যেই হঠাৎই মনে পড়তে রক্তিম বলেছিল, ‘আচ্ছা শোন, পাণ্ডাটা তখন উচ্ছিষ্ট-মাতঙ্গীর ছবি দেখাবে বলল। দেখেছিস তোরা?’

    ‘হ্যাঁ।’ খ্যাক খ্যাক করে হাসল উত্তীয়, ‘একটা অসুর আছে, তার মুখটা না, কিছু মনে করিস না মামা, একদম তোর মত।’

    শাশ্বত হো হো করে হেসে উঠল, ‘হ্যাঁ মাইরি। দেখে হেসে বাঁচি না।’

    ‘আহা! আর দেবীর মুখটা নিজের বউয়ের মত’ রুমা বলল, ‘সেটা বলো। নইলে রক্তিমদা ভাববে আমরা ওকে নিয়ে মজা করছি।’

    ‘কী ভুলভাল বকছিস’ গলায় হালকা ঝাঁঝ থাকলেও রক্তিমের বুক ধুকধুক করছে। মনে হচ্ছে ছবিটা না দেখাই ভালো। এমন কিছু দেখবে যেটা ওর সহ্য হবে না।

    ট্যাবটা বাড়িয়ে দিতে দিতে পিয়ালি বলল, ‘তোমরা হাসছ। কিন্তু সত্যিই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডটা আমার ভীষণ চেনা লাগছে। কোথায় যেন দেখেছি।’

    নেবার সময়ে রক্তিমের আঙুলের সঙ্গে পিয়ালির আঙুলের ছোঁয়া লাগল এবং রক্তিম আক্ষরিক অর্থেই শক খেল। ওর হাত এরকম অস্বাভাবিক গরম কেন? আর ছবিটা দেখার সঙ্গে সঙ্গে রক্তিমের হৃৎপিন্ডটা ধড়াস করে উঠল।

    জলাশয়ের ধারে হেলে-পড়া একটা গাছের ডালে মাতঙ্গী দেবী বসে আছেন। শাড়িটা হাঁটুর ওপরে তোলা। পায়ের নিচে নরকরোটি। গাছ ভর্তি টিয়াপাখি। চারপাশে নোংরা ছড়ানো। আর পুকুরে একটা ডুবন্ত লোক।

    ‘ডুবন্ত লোকটাই অসুর,’ যেন বহু বহুদূর থেকে পিয়ালির কন্ঠস্বর ভেসে এল।

    কিন্তু রক্তিমের কানে কোনও কথা ঢুকল না। একদৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছে ছবিটার দিকে। দেবী আর অসুর দুজনের মুখই ওর চেনা। একটা অবিশ্বাস্য গল্প শুনিয়েছিল অসুর।

    ‘দম নিয়ে আবার ডুব দেব ভেবে যেই উঠতে গিয়েছি অমনি মনে হল কে যেন আমার মাথাটা জলের নিচে চেপে ধরছে। ছাড়াতে পারছিলাম না। কোনওরকমে ছাড়িয়ে ভেসে উঠেছি, অমনি পা ধরে টানতে শুরু করল। ধাক্কা যে মারব, কাকে মারব? কেবল চুড়ি পরা দুটো হাত। ধড় মাথা কিছু নেই। কেবল হাত!’

    এইবারে ও বুঝতে পারছে মেয়েটাকে কেন চেনা ঠেকছিল। কার আদল ছিল ওর মুখে। বন্ধুরা বলছে অসুরকে নাকি ওর মত দেখতে! তাহলে কি কোথাও অলোক আর ও নিজে এক হয়ে যাচ্ছে? পাণ্ডার কথাটা স্মৃতিতে আচমকা ঘা দিল, ‘খরাব চিন্তা করি জলে নামা মনা।’

    অলোকের মত ও নিজেও তো কাল সমুদ্রে—। আর ভাবতে পারল না রক্তিম। আর সেই সময়ে পিয়ালি হঠাৎই উঠে দাঁড়াল, ‘পাড়ে বসে থাকতে ভাল্লাগছে না। চলো জলের কাছে যাই।’

    কেউই উঠল না দেখে ও রক্তিমের হাত ধরে টানল, ‘এসো না! আমি একলা যাব নাকি?’

    রক্তিম কোনও প্রতিরোধ করতে পারল না। বুঝতে পারছে যে ওর চেতনা আবার লুপ্ত হয়ে আসছে। কিন্তু পিয়ালির অমোঘ ডাককে উপেক্ষা করার ক্ষমতা নেই। সম্মোহিতের মত উঠে দাঁড়াল রক্তিম।

    পিয়ালি ওকে টেনে নিয়ে গেল জলের দিকে। পেছন থেকে বাকি তিনজন কোনও কথায় হাসিতে ভেঙে পড়ল তখন। পিয়ালি যে ওকে কোথায় নিয়ে যেতে চলেছে, সেদিকে কারও লক্ষ্যই নেই। রক্তিম কোনওরকমে চোখ তুলে তাকাল পিয়ালির দিকে এবং সেও তাকিয়েছিল বলেই চোখাচোখি হল। জ্যোৎস্নালোকেও বোঝা যাচ্ছে মুখে একটা দুর্জ্ঞেয় অপার্থিব হাসি।

    ‘নিজেকে চিনতে পারলে?’ কেমন দুর্বোধ্য ভঙ্গিতে বলল পিয়ালি।

    ‘ক্ষমা করো’ বিড়বিড় করল রক্তিম, ‘আমাকে কিছু কোরো না, প্লীজ আমাকে ক্ষমা করে দাও।’

    শুনেছে কিনা বোঝা গেল না। টেনে নিয়ে গেল জলের কাছে। কিন্তু পায়ে ঢেউয়ের স্পর্শ পেতেই পিয়ালি দাঁড়িয়ে গেল। তারপরে বলল, ‘দুর জলটা বড্ড ঠান্ডা। আর যাব না। চলো ফিরে যাই।’

    ঢেউয়ের মাথায় তখন চাঁদ উল্লাসে ভেঙে যাচ্ছিল। হাওয়ায় ভাসছিল উচ্ছ্বাস। আর সিন্ধুতীরে বসে পাঁচ যুবক যুবতী ডুবে যেতে থাকল আলাপে প্রলাপে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিদুর – মিহির সেনগুপ্ত
    Next Article কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }